Home Blog Page 178

রোহিঙ্গাদের খাবারে বরাদ্দ অর্ধেকের বেশি কমাল জাতিসংঘ

জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মাসিক খাবারের বরাদ্দ সাড়ে ১২ ডলার থেকে কমিয়ে জনপ্রতি ৬ ডলারে নামিয়ে এনেছে। আগামী এপ্রিল মাস থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। রেশন কমানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে গতকাল পাঠানো চিঠিতে ডব্লিউএফপি উল্লেখ করেছে, তারা রেশনের পরিমাণ সাড়ে ১২ ডলার অব্যাহত রাখার জন্য তহবিল জোগাড়ের চেষ্টা করেছে, কিন্তু প্রয়োজন অনুসারে দাতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। ডব্লিউএফপি বলেছে, ‘আমরা স্বীকার করে নিচ্ছি, শরণার্থীরা মানবিক ত্রাণের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। যার ফলে, শরণার্থী পরিবারগুলো তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণে হিমশিম খাবে এবং শিবিরে অস্থিরতা বেড়ে যেতে পারে।

রেশন কমে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণ – শরণার্থীদের সহায়তায় শীর্ষ দাতা দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র। এমন একটি সময়ে ডব্লিউএফপি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে ইউএসএআইডির অর্থায়ন বাতিল করেছে। যদিও জানুয়ারিতে এ বিষয়ক প্রাথমিক ঘোষণায় জরুরি খাদ্য ত্রাণকে আওতার বাইরে রাখার কথা বলা হয়েছিল। জাতিসংঘের তথ্য থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালেও মাসিক রেশন কমিয়ে আট ডলার করা হয়েছিল। সে সময় সেখানে ক্ষুধা ও অপুষ্টির মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। পরবর্তীতে রেশনের পরিমাণ আবারও আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। খাদ্য সহায়তা সীমিত হয়ে পড়লে রোহিঙ্গারা শিবির থেকে বের হয়ে এসে স্থানীয়দের জীবিকার উৎসগুলো দখল করার চেষ্টা করবে বলে অনেকের আশংকা। উল্লেখ্য, কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করেন।

গণপিটুনি বাড়ছে , ৭ মাসে নিহত ১১৯ জন

অন্তর্বর্তী সরকারের ৭ মাসে দেশে গণপিটুনির অন্তত ১১৪টি ঘটনা ঘটেছে। এতে ১১৯ জন নিহত এবং ৭৪ জন আহত হয়েছেন। বুধবার মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এসব তথ্য জানিয়েছে। তাদের হিসাবে গত ১০ বছরে গণপিটুনিতে মারা গেছেন কমপক্ষে ৭৯২ জন। আহত হয়েছেন ৭৬৫ জন। এইচআরএসএসের তথ্যমতে, গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২০১টি গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে গত বছরে। গত বছর গণপিটুনিতে মারা গেছেন ১৭৯ জন। আহত হয়েছেন ৮৮ জন। দেশে গণপিটুনির ঘটনা আগে ঘটলেও ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পর এ ধরনের ঘটনা নতুন মাত্রা পায়। আগে চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা বেশি ঘটলেও এ সময় দলবদ্ধভাবে হামলার ঘটনা বেড়েছে, যা ইতিমধ্যে ‘মব’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।

দেশে এ ধরনের সহিংসতা বৃদ্ধির পেছনে ছয় ধরনের কারণের কথা বলেছেন এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক ক্ষোভের কারণে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে গণপিটুনির ঘটনা ঘটাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষত পুলিশ ও র‍্যাব এখনো পুরোপুরি কার্যকর নয়। আবার চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে ক্ষোভের কারণে অনেকে সন্দেহ করে গণপিটুনির ঘটনা ঘটাচ্ছে। ইজাজুল ইসলাম বলেন, গণপিটুনির ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির নজির তেমন নেই, তাই অনেকেই আইন হাতে তুলে নিচ্ছে। এ ছাড়া স্বার্থান্বেষী কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অরাজকতা তৈরির চেষ্টা এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতার অভাবে রয়েছে। এসব কারণে গণপিটুনির ঘটনা বেড়েছে।

আইন অনুযায়ী কোনো অপরাধী ধরা পড়লে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। গণপিটুনিতে কোনো ব্যক্তি মারা গেলে ওই ঘটনায় অংশগ্রহণকারী সব ব্যক্তি সমানভাবে দায়ী থাকবেন। অপরাধী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না।আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কারও প্রতি নির্যাতন, অত্যাচার, নিষ্ঠুরতা ও অমানবিক আচরণ করা যাবে না।


অস্থিরতার কারণে এ বছর নির্বাচন কঠিন হবে : রয়টার্সকে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম

অন্তর্বর্তী সরকার এখনো পুরোপুরি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি এবং এ বছর জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হবে – রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘গত সাত মাসে আমরা সবাই আশা করেছিলাম, স্বল্পমেয়াদি সংস্কারের মাধ্যমে পুলিশিং ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যাবে। এটা একটা মাত্রায় ঘটেছে, কিন্তু আমাদের প্রত্যাশামতো হয়নি।’ এনসিপিপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশিং ব্যবস্থায় আমি মনে করি না, একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে।’ নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন যখনই হোক, তার জন্য প্রস্তুত থাকবে এনসিপি (যে দলটি গেল সপ্তাহেই গঠিত হয়েছে)।

অবশ্য নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, নির্বাচনের আগে ‘জুলাই বিপ্লবের প্রোক্লেমেশন’ নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছানো জরুরি। এটা একটা সনদ হবে, যেটা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা যদি এক মাসের মধ্যে মতৈক্যে পৌঁছাতে পারি, তাহলে আমরা দ্রুত নির্বাচনের আহ্বান জানাতে পারব। কিন্তু এর জন্য যদি আরও সময় লাগে, তাহলে নির্বাচন বিলম্বিত হবে।’ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশজুড়ে অনেক সম্পদশালী ব্যক্তি তাঁদের দলকে অর্থ দিয়ে সহায়তা করছেন। তিনি আরও বলেন, দলের জন্য নতুন কার্যালয় চালু এবং নির্বাচনের জন্য একটি তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে তাঁরা শিগগির ‘ক্রাউডফান্ডিং’-এর (সাধারণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ) দিকে যাবেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চলতি মাসেই বলেছেন, অস্থিরতা চলতে থাকলেও ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। নাহিদ ইসলামই প্রথম রাজনীতিক, যিনি নির্বাচন আয়োজন নিয়ে ড. ইউনূসের দেওয়া সময়সীমা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করলেন।


এমির কুস্তুরিকা সিনেমার জাদুবাস্তব দার্শনিক

এমির কুস্তুরিকা শুধুমাত্র একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা নন, তিনি একজন দার্শনিক। যুগোস্লাভিয়া তথা সার্বিয়ার এই নির্মাতা তাঁর চলচ্চিত্রে জীবন, মৃত্যু, রাজনীতি, যুদ্ধ ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে অনন্য শৈলীতে তুলে ধরেন। তাঁর সিনেমা যেন এক বিশাল কার্নিভাল, যেখানে বাস্তব ও মিথ, ইতিহাস ও সমসাময়িকতা একাকার হয়ে যায়। ১৯৫৪ সালে সারাজেভোতে জন্ম নেওয়া কুস্তুরিকা চলচ্চিত্র শিক্ষার জন্য ফ্রান্সের বিখ্যাত FAMU (Film and TV School of the Academy of Performing Arts in Prague) পড়াশোনা করেন। তাঁর ছাত্রজীবনের চলচ্চিত্রগুলোই ভবিষ্যতের দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দিয়েছিল।

তিনি মূলত একাধারে পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, সংগীতজ্ঞ এবং অভিনেতা। তাঁর চলচ্চিত্রের সংলাপ, চরিত্র, সংগীত ও ভিজ্যুয়াল পটভূমি একধরনের দার্শনিক গভীরতা বহন করে, যা যুগোস্লাভিয়া অঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক সঙ্কটকে বহুমাত্রিকভাবে উপস্থাপন করে। কুস্তুরিকার সিনেমাকে বোঝার জন্য তাঁর দার্শনিক ভিত্তি বোঝা জরুরি। তিনি একাধারে সুররিয়ালিস্ট, পলিটিক্যাল রিয়ালিস্ট এবং অস্তিত্ববাদী চিন্তাবিদ। কুস্তুরিকার সিনেমা প্রায়ই জাদুবাস্তবতাকে আশ্রয় করে। তার বিখ্যাত Underground (১৯৯৫) সিনেমায় যুগোস্লাভ যুদ্ধের বাস্তবতাকে একধরনের রাজনৈতিক ব্যাঙ্গাত্মক ফ্যান্টাসিতে পরিণত করা হয়েছে।

তাঁর চলচ্চিত্রগুলো অস্তিত্ববাদী সংকটকে তুলে ধরে। When Father Was Away on Business (১৯৮৫) সিনেমায় দেখা যায়, কিভাবে ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবন রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের মধ্যে দিয়ে বিকৃত হয়ে যায়। যুগোস্লাভিয়ার পতনের পর কুস্তুরিকার সিনেমায় জাতীয়তাবাদের একটি গভীর প্রভাব লক্ষ করা যায়। তিনি সার্ব জাতিসত্তার প্রতি একধরনের আবেগ দেখান, যা অনেক সময় বিতর্কিতও হয়েছে। তার When Father Was Away on Business (১৯৮৫) সিনেমায় ১৯৫০ – এর দশকের যুগোস্লাভ সমাজতন্ত্রের কঠোর বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একজন কমিউনিস্ট পার্টি কর্মীর রাজনৈতিক শুদ্ধিকরণের ফলে তাঁর পরিবারের ওপর কী প্রভাব পড়ে, সেটাই ছিল গল্পের মূল প্রতিপাদ্য।

Black Cat, White Cat (১৯৯৮) একটি উচ্ছ্বাসপূর্ণ কমেডি, যেখানে ভালোবাসা, প্রতারণা, সংঘর্ষ ও সাংস্কৃতিক বিশৃঙ্খলা একসঙ্গে বিদ্যমান। কুস্তুরিকার অন্যান্য সিনেমার মতো এটিও কার্নিভালিজম ধারণাকে অনুসরণ করে, যেখানে বাস্তবতার মধ্যে অযৌক্তিকতা প্রবেশ করে। কুস্তুরিকা শুধুমাত্র চলচ্চিত্র নির্মাতা নন, তিনি একজন সংগীতশিল্পীও। তাঁর ব্যান্ড “Emir Kusturica & The No Smoking Orchestra” বলকান ফোক ও রক মিউজিকের এক মিশ্রণ তৈরি করে। তাঁর সিনেমার সাউন্ডট্র্যাকেও এই সংগীতের স্পষ্ট প্রভাব রয়েছে।

তিনি সার্ব জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতি অনুরাগী হওয়ায় বহু বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তাঁর সমর্থকরা বলেন, তিনি যুগোস্লাভিয়ার ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে সংরক্ষণ করছেন। আর সমালোচকরা বলেন, তিনি একরৈখিক সার্ব জাতীয়তাবাদের প্রচারক। কুস্তুরিকার কাজ পরবর্তী প্রজন্মের বলকান ও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রভাবিত করেছে। তাঁর সিনেমার শৈলী, গল্প বলার পদ্ধতি ও রাজনৈতিক দর্শন চলচ্চিত্র ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। তাঁর চলচ্চিত্রগুলি বিদ্রুপ, প্রেম, রাজনীতি ও অস্তিত্ববাদী প্রশ্নের মিশ্রণে গঠিত, যা দর্শকদের চিন্তায় প্রভাব ফেলে এবং চেতনায় গভীর ছাপ রেখে যায়।


আন্দোলনে দমন না চালাতে সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছিলাম : ভলকার তুর্ক

জুলাই – আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে জাতিসংঘ সতর্ক করেছিল যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দমনের পথে গেলে শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের অংশগ্রহণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিবিসির টকশো হার্ডটকে সম্প্রতি এ কথা বলেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং মানবিক সহায়তা নিয়ে এই হার্ডটক গত বুধবার প্রচার করে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাক্ষাৎকারভিত্তিক এই অনুষ্ঠানে ফলকার টুর্কের সঙ্গে কথা বলেন বিবিসির উপস্থাপক স্টিফেন সাকার।অনুষ্ঠানে গাজা, সুদান, ইউক্রেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে স্টিফেন সাকার ফলকার টুর্ককে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও মূল্যবোধ মেনে এসব পরিস্থিতি সমাধানে জাতিসংঘকে ক্ষমতাহীন মনে হচ্ছে। এর জবাব দিতে গিয়ে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন ফলকার টুর্ক।

ফলকার টুর্ক বলেন, ‘আমি আপনাকে উদাহরণ দিচ্ছি, যেখানে এটা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল। আমি গত বছরের বাংলাদেশের উদাহরণ দিচ্ছি। আপনি জানেন জুলাই – আগস্টে সেখানে ছাত্রদের ব্যাপক বিক্ষোভহয়।’বাংলাদেশে তখন শেখ হাসিনার সরকার আমলে ছাত্রদের আন্দোলন দমনে ব্যাপক নিপীড়ন চালাচ্ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের জন্য বড় আশার জায়গা ছিল আসলে আমরা কী বলি, আমি কী বলি, আমরা কী করতে পারি এবং আমরা ওই পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করি। আমরা প্রকৃতপক্ষে সেনাবাহিনীকে সতর্ক করি, যদি তারা এতে জড়িত হয়, তার অর্থ দাঁড়াবে তারা হয়ত আর শান্তিরক্ষী পাঠানোর দেশ থাকতে পারবে না। ফলশ্রুতিতে আমরা পরিবর্তন দেখলাম।’

ফলকার টুর্ক বলেন, ‘অধ্যাপক ইউনূস যখন অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিলেন, তিনি আমাকে তাৎক্ষণিকভাবে বললেন, আপনি কি একটি তথ্যানুসন্ধানী দল পাঠাতে পারেন, পরিস্থিতির ওপর গুরুত্ব দিতে পারেন এবং সেখানে যা ঘটছি, তা তদন্ত করতে বললেন। আমরা এগুলোই করেছিলাম। এবং এটা কার্যত সাহায্য করেছিল।’তিনি আরও বলেন, ‘আমি গত বছর বাংলাদেশে গিয়েছিলাম। আমরা একটি অবস্থান নেওয়ায়, আমরা কথা বলায় এবং তাদেরকে সহযোগিতা করায় ছাত্ররা আমাদের প্রতি খুব কৃতজ্ঞ ছিল।’

প্রেক্ষিত ইউক্রেন যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র – রাশিয়া – ইউরোপ সম্পর্কে নতুন মোড়

  • যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউক্রেনে আপাতত কোনো সামরিক সহায়তা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে রাশিয়ার ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পরিকল্পনা করছে তারা।
  • যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তের পর গতকাল মঙ্গলবার জেলেনস্কি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ইউক্রেনে টেকসই শান্তির লক্ষ্যে তিনি ট্রাম্পের শক্তিশালী নেতৃত্বে কাজ করতে চান। ওয়াশিংটনের সঙ্গে খনিজ চুক্তি করতেও প্রস্তুত আছেন।
    যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নে মস্কোর সঙ্গে বড় পরিসরে আলোচনা শুরু করতে চায় ট্রাম্প প্রশাসন।
  • ট্রাম্প ইউক্রেনকে রাশিয়ার দাবিগুলো মেনে নেওয়ার চাপ দিচ্ছেন।
  • ইউরোপের প্রতিরক্ষা খাতকে শক্তিশালী করতে এবং সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ৮০০ বিলিয়ন পাউন্ডের একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন। গতকাল ব্রাসেলসে ‘ইউরোপকে নতুন করে অস্ত্র সজ্জিতকরণ’ নামের পরিকল্পনা সম্পর্কে উরসুলা বলেন, ‘এটি ইউরোপের সময়। আমরা সামনে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত।’
  • জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব কিয়েলের হিসাবমতে, ইউক্রেনকে ইউরোপের দেওয়া সামরিক সহায়তার পরিমাণ ৬২ বিলিয়ন ইউরো, যা ৬৪ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। আর যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে দিয়েছে ৬৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ার পর সেই অভাব পূরণ করতে ইউরোপকে দ্বিগুণ অর্থ ঢালতে হবে।

K – pop সংস্কৃতি , রপ্তানি ও আন্দোলন

K-pop বা কোরিয়ান পপ মিউজিক এক সময়ে কেবল দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীত শিল্প হিসেবে সিমাবদ্ধ থাকলেও আজ তারা পৃথিবীজুড়ে একটি সাংস্কৃতিক শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কেপপের উত্থান শুধু সংগীতের ক্ষেত্রে নয়, এটি বিশ্বব্যাপী একটি নতুন ধারার সংস্কৃতি, ফ্যাশন, চলচ্চিত্র এবং সামাজিক আন্দোলনের সূচনা করেছে। এই শিল্পের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া শুধুমাত্র তার গান নয়, একটি সম্পূর্ণ সাংস্কৃতিক প্যাকেজ বিশ্বকে উপহার দিয়েছে, যার প্রভাব ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে। কেপপের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে, যখন দক্ষিণ কোরিয়ার সংগীতদল Seo Taiji and Boys তাদের প্রথম অ্যালবাম প্রকাশ করে। এই দলটি ওয়েস্টার্ন পপ, হিপ-হপ, র‍্যাপ এবং আরবি শৈলীর মিশ্রণ নিয়ে কোরিয়ান মিউজিকে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। এর পর থেকে, কোরিয়ান পপ সঙ্গীতের উপর প্রভাব বাড়তে থাকে, এবং কয়েকটি বড় মাইলফলকে কেপপের বিস্তার ঘটে।

কেপপের বর্তমান বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার মূল চালিকাশক্তি হল BTS (Bangtan Boys)। তাদের সংগীত, মিউজিক ভিডিও এবং সামাজিক বার্তা সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৭ সালে তাদের অ্যালবাম “Love Yourself: Her” ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়, এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের Billboard 200 চার্টে প্রথম স্থান অর্জন করে। “Dynamite” এবং “Butter” গান দুটি বিশেষভাবে বিশ্বব্যাপী ভীষণ জনপ্রিয় হয়, এমনকি এই গানগুলো ইউটিউবে বিলিয়ন ভিউ ছাড়িয়ে যায়। BTS-এর মতো প্রভাবশালী গ্রুপের জনপ্রিয়তা কেপপের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। এছাড়াও BLACKPINK, এক দারুণ কেপপ গার্ল গ্রুপ, যা “DDU-DU DDU-DU” গানটির মাধ্যমে ইউটিউবে প্রথম বিলিয়ন ভিউ অর্জন করে এবং এর সঙ্গে তাদের ফ্যাশন স্টাইলও বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে। BLACKPINK-এর সদস্যরা বর্তমান বিশ্বের ফ্যাশন আইকন হিসেবে পরিচিত, যা কেপপের সাংস্কৃতিক প্রভাবের অন্যতম দিক।

কেপপের মাধ্যমে কোরিয়া তার সংস্কৃতি বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল কোরিয়ান ড্রামা (K-drama)। “Crash Landing on You”, “Squid Game”, এবং “Vincenzo” এর মতো শো বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কোরিয়ান ভাষার প্রতি আগ্রহ বাড়ছেস এবং অনেকেই কোরিয়ান ভাষা শিখতে আগ্রহী হচ্ছেন। প্রজন্ম কোরিয়ান চলচ্চিত্রের মাধ্যমে নতুন এক সাংস্কৃতিক দিগন্তের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। কেপপের সংগীত ভিডিওতে একটি শক্তিশালী ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনাও রয়েছে, যা শুধুমাত্র গান নয়, একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা তৈরি করে। প্রতিটি মিউজিক ভিডিও এক ধরনের ছোট চলচ্চিত্রের মতো, যেখানে গান, নাচ, ফ্যাশন এবং কোরিওগ্রাফি একত্রিত হয়ে সাংস্কৃতিক গল্প তুলে ধরে।

কেপপ শুধু বিনোদন নয়, সামাজিক আন্দোলনও তৈরি করেছে। BTS তাদের “Love Myself” প্রচারণার মাধ্যমে আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস, এবং মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রদান করেছে। তাদের গান “Spring Day” এবং “Not Alone” যুবকদের মানসিক চাপ এবং একাকীত্বের বিরুদ্ধে কথা বলে, যা বিশেষভাবে তরুণদের মধ্যে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করেছে। কেপপের গানে এবং স্টাইলের মধ্যে একটি সমাজসংক্রান্ত বার্তা প্রকাশ পায়। যেখানে তারা বৈষম্য, অবিচার এবং মানবাধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করে। Stray Kids, ATEEZ, এবং TXT এর মতো অন্যান্য গ্রুপও তাদের গানে সামাজিক সমস্যা এবং মেন্টাল হেলথ বিষয়ক আলোচনা তুলে ধরছে।

কেপপের অন্যতম আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাদের ফ্যাশন এবং নাচ। EXO, Red Velvet TWICE এবং GOT7 এর মতো গ্রুপগুলোর শৈলী বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলেছে। কেপপের আইকনিক ফ্যাশন ট্রেন্ডগুলি এখন শুধুমাত্র কোরিয়া নয়, বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে পরিধান করা হচ্ছে। কেপপের সংগীত ভিডিওতে নতুন স্টাইল এবং আভিজ্ঞান এক ধরনের “ভিজ্যুয়াল আর্ট” হিসেবে পরিচিত কেপপ নাচের কোরিওগ্রাফিও অনেক জনপ্রিয় এবং তাদের নাচের প্রতিটি স্টেপ সামাজিক মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। কেপপের ভবিষ্যত আরও উজ্জ্বল হচ্ছে দিনে দিনে। নতুন গ্রুপগুলোর আগমন, যেমন ENHYPEN, ITZY, এবং TREASURE কেপপ শিল্পে আরও বৈচিত্র্য আনছে। বিশ্বের প্রতিটি কোণায় আজ কেপপের অনুরাগী রয়েছে। এখন এটি আর শুধুমাত্র কোরিয়ান শিল্প নয়, একটি বৈশ্বিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।




জাতিসংঘে আলোচনা বাংলাদেশে সুবিচার ও পুনর্মিলনের তাগিদ

বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে বাংলাদেশে জুলাই-আগস্ট বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নির্যাতনের ওপর মানবাধিকার তথ্য অনুসন্ধান প্রতিবেদন নিয়ে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সুবিচার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন। জবাবদিহি নিশ্চিতের বাইরেও ক্ষত নিরাময়, সত্য বলা, পুনর্মিলন, জুলাই-আগস্ট স্মরণ ও সংস্কারের মতো বিষয়গুলোতে জোর দেওয়ার জন্য বলেন হাইকমিশনার। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশের জন্য অতীতকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ফলকার টুর্ক বলেন, ‘ধর্মীয় বা জাতিগত নিজেদের মধ্যে যে মতানৈক্যই থাকুক না কেন, বাংলাদেশ একটি দেশ, সবারই নাগরিকত্ব বাংলাদেশি, আমার মনে হয়, সংস্কারচেষ্টার মাধ্যমে এখন এ চেষ্টাই চলছে। ফলে আমাদের সবাইকে সংস্কার কার্যক্রমকে সহযোগিতা করতে হবে।’ আলোচনায় ফলকার টুর্ক ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকার ও দলটির সদস্যদের নির্যাতন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে বিগত ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদেরসহ পুলিশ ও সংখ্যালঘুদের ওপর গুরুতর প্রতিশোধমূলক সহিংসতার কথা উল্লেখ করেন। প্রসঙ্গত গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে অভ্যুত্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের প্রতিবেদন জেনেভা থেকে প্রকাশ করা হয়।

গতকাললের অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা বেশ কিছু প্রশ্ন ও মতামত ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে সংখ্যালঘু ইস্যু ও পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্বাচন ইস্যুতে করা প্রশ্নের উত্তর দেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কিছু রাজনৈতিক সহিসংতার ঘটনা ঘটেছে আওয়ামী লীগ রেজিমের নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে। তবে এসব হামলার ঘটনা অধিকাংশই ঘটেছে মুসলিমদের ওপর। সামান্য কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে। এটিকে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে নির্বাচন প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষের ভোটের অধিকারের ব্যাপারে আমাদের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেটা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল হোক বা যেকোনো স্থানই হোক। আমরা এরই মধ্যে একটি কমিশন গঠন করেছি, যারা স্থানীয় সরকার ইস্যু নিয়ে কাজ করছে।



গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আরব পরিকল্পনাস্বাগত জানিয়েছে হামাস – পিএলও

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া প্রস্তাবের বিকল্প প্রস্তাব গ্রহণ করেছে আরব দেশগুলো। মঙ্গলবার কায়রোতে অনুষ্ঠিত জরুরি আরব সম্মেলনে মিসরের দেওয়া এ পরিকল্পনা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে। সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্যে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি এ কথা জানিয়েছেন। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজা পুনর্গঠনে ৫ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের প্রয়োজন হবে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে গাজার বাসিন্দাদের বাস্তুচ্যুত করার প্রয়োজন হবে না। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজার বাসিন্দাদের মিসর ও জর্ডানে পাঠিয়ে গাজায় উপকূলীয় পর্যটন শহর গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন।

গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন হলো, কারা এ উপত্যকা শাসন করবে? এ ছাড়া পুনর্গঠনের কাজে প্রয়োজনীয় শত শত কোটি ডলার কোন কোন দেশ জোগান দেবে? মিসরের প্রেসিডেন্ট বলেন, গাজায় প্রশাসন পরিচালনা করবেড়স্বতন্ত্র, পেশাদার টেকনোক্র্যাটদের সমন্বয়ে এমন একটি কমিটি গঠনে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে কাজ করে আসছেন তিনি। সিসি বলেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) হাতে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাময়িক সময়ের জন্য মানবিক সহায়তা তদারকি এবং উপত্যকাটির বিভিন্ন বিষয় দেখভাল করবে এ কমিটি।

মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানান – ছয় মাসের জন্য গাজার প্রশাসন পরিচালনায় গঠিত এ কমিটির প্রধান যিনি হবেন, তাঁকে মনোনীত করা হয়েছে। তবে তাঁর নাম প্রকাশ করা হয়নি। আরব লিগের মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইত বলেন-ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আলাপ – আলোচনা করে মিসরের দেওয়া প্রস্তাবটি সম্মেলনে অনুমোদন পাওয়ায় এখন এটি আরব পরিকল্পনায় পরিণত হয়েছে। এ পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। ‘ফিলিস্তিনের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তোলার’ পদক্ষেপকে সমর্থন জানানোর পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। এর মধ্য দিয়ে কার্যত গাজার শাসনভার ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে হামাস। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও মিসরের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন।


সাফল্যের জন্য জরুরি ৪টি স্কিল

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি কিছু ব্যক্তিগত গুণাবলী এবং ক্ষমতারও প্রয়োজন রয়েছে, যেগুলো সত্যিকার অর্থে দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য নিশ্চিত করে। এই স্কিলগুলো শুধু কর্মক্ষেত্রেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, সেই কালজয়ী ও অমূল্য দক্ষতাগুলো সম্পর্কে:

  • সহযোগিতা এবং টিমওয়ার্ক
    অন্যদের সঙ্গে মিলে কাজ করার মানসিকতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কেবল প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব নয়, সহযোগিতামূলক মনোভাবও সফলতার চাবিকাঠি। যখন আপনি একটি টিমে কাজ করেন, তখন একে অপরকে সহযোগিতা করা এবং পরস্পরের দক্ষতা ও দুর্বলতাগুলো বোঝার ক্ষমতা আপনাকে আরও দক্ষ করে তোলে। সফল মানুষরা সহযোগিতার মাধ্যমে বড় অর্জনগুলো করে থাকেন।
  • সমস্যা সমাধানের দক্ষতা
  • সমস্যা এলে বিচলিত না হয়ে ঠান্ডা মাথায় তার সমাধান করার ক্ষমতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমস্যা সমাধানের দক্ষতা আপনাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। কারণ এই দক্ষতা সবার থাকে না। যে ব্যক্তি যেকোনো সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারে, সে কর্মক্ষেত্রে এবং ব্যক্তিগত জীবনে শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতি পায়। এটি অর্জন করতে হলে পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, ধৈর্য এবং সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটাতে হবে।
  • ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স
  • ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা হলো নিজের আবেগ বোঝা, নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যদের আবেগের প্রতি সংবেদনশীল হওয়া। এটি একজন ব্যক্তিকে শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি করতে সাহায্য করে, চাপ সামলাতে সক্ষম করে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। উচ্চ উছ সম্পন্ন ব্যক্তিরা সাধারণত কর্মক্ষেত্রে এবং ব্যক্তিগত জীবনে বড় সাফল্য অর্জন করেন। তারা ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে পারেন এবং অন্যদের সঙ্গেও ভালো বোঝাপড়া গড়ে তুলতে পারেন।
  • কমিউনিকেশন স্কিল
  • যার যোগাযোগ দক্ষতা যত উন্নত তার সফল হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি। কারণ মানুষের সঙ্গে সঠিকভাবে মিশতে পারার ক্ষমতা অনেক বড় যোগ্যতা। এটি আপনাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সুস্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত এবং কার্যকর যোগাযোেগ কৌশল আপনাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে এগিয়ে রাখবে। তাই সফল হতে চাইলে আপনার কমিউনিকেশন স্কিলের উন্নতি করা অত্যন্ত জরুরি।