Home Blog Page 179

Out-of-Body Experience ও Electronic Voice Phenomena এর অজানা জগৎ

মানুষের চেতনাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে কয়েকটি ঘটনা রহস্যময় ও ব্যাখ্যাতীত বলে বিবেচিত হয়। এর মধ্যে Out-of-Bodz Experience বা OBE এবং ইলেকট্রনিক ভয়েস ফেনোমেনা (Electronic Voice Phenomena বা EVP) বিশেষভাবে আলোচিত। এই দুটি বিষয় রহস্য, বিজ্ঞান, এবং অতিপ্রাকৃত জগতে গবেষকদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। Out-of-Bodz Experience হলো এমন একটি মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা যেখানে ব্যক্তি অনুভব করেন যে তারা তাদের শারীরিক দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন এবং চারপাশে অন্যরকমভাবে ঘোরাফেরা করতে পারছেন। এটি প্রায়শই ঘুম, গভীর ধ্যান, মৃত্যু-সন্নিকট অভিজ্ঞতা (Near Death Experience – NDE), অথবা ট্রমাজনিত পরিস্থিতিতে ঘটে।

OBE-এর সাধারণ লক্ষণ গুলো হলো, শারীরিক দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার অনুভূতি, বাতাসে ভাসার অনুভূতি, নিজের দেহকে বাইরে থেকে দেখার অভিজ্ঞতা, আলোর ঝলকানি বা অদ্ভুত শব্দ শোনা ও সময় ও স্থানের অনুভূতিতে পরিবর্তন। অনেকেই বলেন তারা OBE-এর সময় তাদের শারীরিক অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন এবং এমন স্থান দেখতে পান যেখানে তারা বাস্তবে উপস্থিত ছিলেন না। কিছু ক্ষেত্রে, ব্যক্তি দাবি করেন যে তারা ঙইউ-এর সময় দূরবর্তী স্থানে গিয়ে সেখানকার ঘটনার বিবরণও দিতে পেরেছেন। OBE-এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় বিজ্ঞানীরা মনে করেন, OBE হলো মস্তিষ্কের একধরনের বিভ্রম যা ঘুম ও সজাগ অবস্থার মধ্যবর্তী পর্যায়ে ঘটে। মস্তিষ্কের টেম্পোরাল লোব এবং প্যারাইটাল লোব সংক্রান্ত ক্রিয়াকলাপে বিঘ্ন ঘটলে এই অভিজ্ঞতা হতে পারে।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে OBE-এর সময় মস্তিষ্কের ভেস্টিবুলার সিস্টেমে পরিবর্তন ঘটে, যা ভারসাম্য ও স্থানিক সচেতনতার জন্য দায়ী বলে মনে করা হয়। এছাড়া OBE সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা সেরিব্রাল কোর্টেক্সের অস্বাভাবিক কার্যকলাপের ফলাফলও হতে পারে।এবার ইলেকট্রনিক ভয়েস ফেনোমেনা (EVP) কি? এটি হলো এমন একধরনের শব্দ বা কণ্ঠ যা অডিও রেকর্ডিং ডিভাইসে ধরা পড়ে।কিন্তু রেকর্ডিংয়ের সময় মানুষের কানে শোনা যায় না। এটি সাধারণত অতিপ্রাকৃত গবেষণা ও ভূত-সংক্রান্ত অনুসন্ধানে ব্যবহৃত হয় ।এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সাধারণত অডিও ফ্রিকোয়েন্সির নিম্ন স্তরে ধরা পড়ে। শব্দগুলো প্রায়ই অস্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত হয়।
অনেকে দাবি করেন EVP-তে প্রশ্নের উত্তর বা উদ্দেশ্যপূর্ণ বার্তা পাওয়া যায়। বিভিন্ন গোপন সংস্থাগুলো এটি ব্যাবহার করে তথ্য আদায় করে বলেও গুজব আছে।

বিজ্ঞানীরা EVP-এর সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। পারেডোলিয়া যেখানে মানুষ এলোমেলো শব্দের মধ্যে অর্থ খুঁজতে অভ্যস্ত। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির মাধ্যমে অনেক সময় রেকর্ডিং ডিভাইস কাছাকাছি রেডিও তরঙ্গ ধরে ফেলে। যারা EVP পরীক্ষা করেন, তারা অবচেতনভাবে শব্দগুলোর মধ্যে অর্থ খোঁজেন। বৈদ্যুতিক তরঙ্গ ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ত্রুটির কারণে কিছু শব্দ তৈরি হতে পারে। অনেকেই মনে করেন, Out-of-Bodz Experience হলো আত্মার মুক্তির প্রমাণ এবং Electronic Voice Phenomena আত্মাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম। তবে বৈজ্ঞানিক গবেষকরা এখনও এই দাবিগুলোর সুস্পষ্ট প্রমাণ পাননি।

কিছু ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস অনুযায়ী, OBE আত্মার শরীর ত্যাগ করে ভিন্ন মাত্রায় প্রবেশ করার ক্ষমতা। অন্যদিকে EVP অনেক ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিদের আত্মার বার্তা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়। রবার্ট মনরোর অন্যতম বিখ্যাত ঙইউ অভিজ্ঞতার একটি উদাহরণ পাওয়া যায় তার বই “Journeys Out of the Bodz”-তে। সেখানে আছে একবার তিনি গভীর শিথিল অবস্থায় ছিলেন, তিনি অনুভব করেন তার দেহ থেকে একধরনের শক্তি বিচ্ছুরিত হচ্ছে। হঠাৎই তিনি নিজের শারীরিক দেহের বাইরে চলে যান এবং নিজেকে বিছানার ওপরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। প্রথমদিকে তিনি আতঙ্কিত হয়ে চেষ্টা করেন দেহে ফিরে যেতে কিন্তু ধীরে ধীরে এই অবস্থার প্রতি অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন।

কিছু ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাস অনুযায়ী, OBE আত্মার শরীর ত্যাগ করে ভিন্ন মাত্রায় প্রবেশ করার ক্ষমতা। অন্যদিকে EVP অনেক ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তিদের আত্মার বার্তা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়। রবার্ট মনরোর অন্যতম বিখ্যাত ঙইউ অভিজ্ঞতার একটি উদাহরণ পাওয়া যায় তার বই “Journeys Out of the Bodz”-তে। সেখানে আছে একবার তিনি গভীর শিথিল অবস্থায় ছিলেন, তিনি অনুভব করেন তার দেহ থেকে একধরনের শক্তি বিচ্ছুরিত হচ্ছে। হঠাৎই তিনি নিজের শারীরিক দেহের বাইরে চলে যান এবং নিজেকে বিছানার ওপরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। প্রথমদিকে তিনি আতঙ্কিত হয়ে চেষ্টা করেন দেহে ফিরে যেতে কিন্তু ধীরে ধীরে এই অবস্থার প্রতি অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন।

কনস্ট্যান্টিন রাউডিভ EVP গবেষণার জন্য প্রখ্যাত গবেষক, যিনি বহু উঠচ রেকর্ড করেছেন। রাউডিভের অন্যতম বিখ্যাত উঠচ রেকর্ডগুলোর মধ্যে একটি হলো যখন তিনি এক অডিও রেকর্ডিংয়ে রহস্যময় কণ্ঠস্বর শুনতে পান, যা বলে: “Here is Konstantin” (এখানে কনস্ট্যান্টিন)। রাউডিভ বিশ্বাস করতেন এটি মৃত ব্যক্তিদের আত্মার কণ্ঠস্বর, যারা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে যোগাযোগ করছে। তার গবেষণার সময় তিনি হাজার হাজার উঠচ রেকর্ড করেছিলেন, যেখানে বিভিন্ন ভাষায় অস্পষ্ট কিন্তু অর্থবোধক অনেক বার্তা পাওয়া গেছে। তিনি দাবি করেন এই কণ্ঠস্বরগুলো প্রায়ই প্রশ্নের উত্তর দিত এবং অনেক ক্ষেত্রে পরিচিত মৃত ব্যক্তিদের স্বর শনাক্ত করাও সম্ভব হতো।

তিনি তার কাজগুলোর সংকলন “Breakthrough: An Amazing Experiment in in Electronic Communication with the Dead” বইতে প্রকাশ করেন, যা উঠচ গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে বিবেচিত হয়। Out-of-Bodz Experience ও ইলেকট্রনিক ভয়েস ফেনোমেনা রহস্যে ঘেরা দুটি বিষয়। বিজ্ঞানীরা এগুলোর ব্যাখ্যা খুঁজতে চেষ্টা করছেন, কিন্তু এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। যদিও কিছু গবেষণা এই ঘটনাগুলোর সম্ভাব্য বৈজ্ঞানিক কারণ ব্যাখ্যা করেছে, তবুও অতিপ্রাকৃত বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতা বহু মানুষের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে থেকে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে উন্নত প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে হয়তো OBE ও EVP-এর প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত এগুলো গবেষণা ও বিতর্কের বিষয় হিসেবেই রয়ে যাবে।







শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পুনর্বাসন ভারতের পক্ষে সম্ভব নয় : শ্রীরাধা দত্ত

শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আওয়ামী লীগের হাল ধরতে পারবেন কি না- এই প্রশ্নে ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক শ্রীরাধা দত্ত মনে করেন, কাজটা অসম্ভব কঠিন তো বটেই ভারতের পক্ষেও তাকে এক্ষেত্রে সাহায্য করাটা খুব মুশকিল। ড. দত্ত বিবিসিকে বলেন, “ইন্ডিয়া ওনাকে রাখবে। উনি যতদিন এখানে থাকতে চান এবং আমরা যতদিন ফিল করি যে উনি ওখানে ফেরত গেলে নিরাপদ নন, ততদিন ওনাকে রাখা হবে। কিন্তু রিহ্যাবিলিটেশনের যে একটা কথা উঠছে আমরা জানি না ভারত সরকার কী ভাবছে, কিন্তু আওয়ামী লীগের সেরকম একটা চেষ্টা তো অবশ্যই আছে। তবে আমার মনে হয় না সেরকম পরিস্থিতি বাংলাদেশে এখন আর পসিবল!”

শ্রীরাধা দত্ত অবশ্য এটাও মানেন, আওয়ামী লীগ কিছুটা ‘সহানুভূতির হাওয়া’ পেয়েছে ৩২ ধানমন্ডি ভাঙার পরে এবং তার ভাষায় আরও যেসব ‘অকারণ মাইন্ডলেস ডেসট্রাকশন’ বা অর্থহীন ভাঙচুরগুলো হলো তার পরে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তাতে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক পুনর্বাসনের পথ প্রশস্ত হবে। তাঁর কথায়, “আসলে শেখ হাসিনার ওপরে যে রাগ, যে বিতৃষ্ণা মানুষের স্বাভাবিকভাবেই এত বছরের একটা ব্যাপার, আমার মনে হয় না এত তাড়াতাড়ি তারা ভুলে যাবে। আওয়ামী লীগ অবশ্যই একটা ঐতিহাসিক দল, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ল্যান্ডস্কেপে তারা নিশ্চয়ই একটা বিশেষ জায়গা দখল করে কিন্তু তাই বলে শেখ হাসিনাকে যে এরপরও সবাই আওয়ামী লীগের নেত্রী বলে মেনে নেবে, সেটা নিয়ে ঘোরতর প্রশ্ন আছে বলেই আমার মনে হচ্ছে।”

দিল্লিতে পর্যবেক্ষকদের মন্তব্য থেকে একটা জিনিস খুব পরিষ্কার – দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনাকে হয়তো ভাষণ দিতে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তার মানে এই নয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক চালচিত্রে তাকে ভারত আবার হাতে করে বসিয়ে দিতে চাইবে। বাস্তবতা হলো, পরিস্থিতি অনুধাবন করেছে বলেই ভারতের এখন সে ইচ্ছাও হয়তো নেই, হয়তো ক্ষমতাও নেই !



ভুল তথ্য ও অপতথ্য কারা , কেন ছড়ায় !

সংবাদমাধ্যমসহ প্রচলিত মাধ্যমগুলোর বাইরে তথ্যের অবাধ প্রবাহের জায়গায় পরিণত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। যে কারও তথ্য দেওয়ার সুযোগ থাকায় এবং এসব তথ্য যাচাইয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় এটি ভুল ও অপতথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার বড় মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রড়প্রায় সব জায়গায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এমনকি ভুল ও অপতথ্যের কারণে জাতিগত ও ধর্মীয় দাঙ্গার মতো প্রাণঘাতী সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে। বিবিসি বলছে, ভুল তথ্য হলো ভুয়া খবর, যা কেউ ভুলবশত করে থাকেন এবং ছড়িয়ে থাকেন, যিনি বুঝতে পারেন না এটি ভুয়া।

অপতথ্য হলো ভুয়া খবর, যা কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করে এবং ছড়িয়ে দেয়। ওই ব্যক্তি জানে, এটি ভুয়া খবর। মূলত সমস্যা সৃষ্টি করার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যখন কেউ ভুয়া খবর তৈরি করে এবং ছড়ায়, সেটি হলো অপতথ্য। এর সঙ্গে ব্যক্তি বা কোনো বিষয়কে অসম্মান বা সমালোচনার বিষয়টি জড়িত থাকতে পারে। ৭০টি দেশে একটি গবেষণা চালিয়েছিল অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউট। ২০২০ সালে প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, এর মধ্যে ৬২টি দেশেই জনমত পাল্টে দিতে অপতথ্য ব্যবহার করেছিল সরকারি সংস্থাগুলো। সংবাদমাধ্যমের ৫৫ হাজার প্রতিবেদন, ৫০ লাখ টুইট ও ৭৫ হাজার ফেসবুক পোেস্ট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ‘মেইল ব্যালটের’ মাধ্যমে ভোেট কারচুপি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভিত্তিহীন দাবি ছড়িয়ে দিতে মূল ভূমিকা পালন করেছিল মূলধারার সংবাদমাধ্যমগুলো।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর একটি জরিপ চালায় রয়টার্স ইনস্টিটিউট। এতে ইন্টারনেটে কোনটি ‘সঠিক’ আর কোনটি ‘ভুয়া’ খবরড়এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ৬৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় রাজনৈতিক পক্ষ ও সাংবাদিকদের ছড়ানো ভুল ও অপতথ্য নিয়ে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা বিদেশি সরকারের চেয়ে নিজ দেশে সরকারের ছড়ানো অপতথ্য নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন। মতাদর্শিক এজেন্ডা আছে, এমন গোষ্ঠীগুলো অপতথ্য ছড়িয়ে থাকে। যেমন জলবায়ু পরিবর্তন তত্ত্ব অস্বীকারকারী ও টিকাবিরোধী গোষ্ঠী। রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে ভিন্নমত পোষণকারী গোষ্ঠীগুলোরও অপতথ্য ছড়ানোর নজির আছে। এসব ক্ষেত্রে সরকারের সম্পৃক্ততাও থাকে।

রাজনৈতিক বা মতাদর্শিক এজেন্ডা ছড়িয়ে দিতে কিংবা আর্থিক সুবিধা পেতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিক, তারকা ব্যক্তিত্ব ও ইনফ্লুয়েন্সাররা অপতথ্য ছড়ানোর কাজটি করে থাকতে পারেন। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এক চিকিৎসক কোভিড-১৯-এর টিকাকে ‘চিকিৎসা জালিয়াতি’ আখ্যা দিয়ে ৬০০টি কলাম লিখেছেন। সেগুলো বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আর্থিক সুবিধার জন্য বিভিন্ন কোম্পানি অপতথ্য ছড়াতে পারে। যেমন ওপেন ডেমোক্রেসি নামের একটি সংবাদমাধ্যম অভিযোগ করেছে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে ভুল তথ্য ছড়াতে কিছু চিন্তন প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সুবিধা দিয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠান।

অপতথ্য ছড়ানোর মূলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এর বৈশ্বিক নেটওয়ার্ককে দায়ী করে থাকেন গবেষক, সরকার ও শিল্প খাতের পক্ষগুলো। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ১৬ দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ওপর জরিপ চালায় গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ইপসোস। এতে দেখা যায়, তাদের ৫৬ শতাংশেরই খবর পাওয়ার প্রধান উৎস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। আর ৬৮ শতাংশই জানায়, এখানে অপতথ্যের ছড়াছড়ি। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও অপতথ্য ছড়ানো হয়। কিছু ওয়েবসাইট তৈরি করাই হয় অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে। এসব সাইটের খবরের ধরন এবং খবরের বরাত দেখে প্রথাগত সংবাদমাধ্যমের খবরের মতোই মনে হয়। নিউজগার্ড নামের একটি ওয়েবসাইট ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অপতথ্য ছড়ানো ৪৭১টি ভুয়া নিউজ সাইট শনাক্ত করেছে।

ছাপা পত্রিকা ও সম্প্রচারমাধ্যম, রাজনীতিবিদদের বক্তৃতা-বিবৃতি, আলাপ-আলোচনাসহ বিভিন্ন মাধ্যমেও অপতথ্য ছড়াতে পারে। যেমন কোনো গোষ্ঠী অন্যদের হেয় করতে প্রচারপত্র ও স্টিকার বিতরণ করতে পারে। অফলাইনে ছড়ানো অপতথ্য রোধ করাও কঠিন। কারণ, অনলাইনে তথ্য যাচাই-বাছাই করার কিছু ব্যবস্থা থাকলেও অফলাইনের অপতথ্যের বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। অপতথ্য মোকাবিলায় একটি বড় উপায় হতে পারে সঠিক তথ্যের প্রবাহ বাড়ানো। সঠিক ও নির্ভরযোগ্য উৎসের বরাত দিয়ে অপতথ্যটিকে মিথ্যা প্রমাণ করতে হবে। তথ্য যাচাই ব্যবস্থা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে অপতথ্য ও এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

সুদানের গৃহযুদ্ধ কোকাকোলা ও দামি চকলেটের মূল উপাদান সরবরাহ ঝুঁকিতে

গাম অ্যারাবিক – একাশিয়া গাছ থেকে প্রাপ্ত একধরনের প্রাকৃতিক পদার্থ। এটি কোকা-কোলা, এমঅ্যান্ডএমের তৈরি মিষ্টি চকলেট, ল’রিয়েলের লিপস্টিক, নেসলের পশুখাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের উপাদান মিশ্রণ স্থিতিস্থাপক ও ঘন করতে ব্যবহৃত হয়। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ গাম অ্যারাবিক উৎপাদনকারী দেশ সুদান। সম্প্রতি এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের বাণিজ্য সুদানের গৃহযুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই গাম অ্যারাবিকের উৎপাদন অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে এবং পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর জন্য এই পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিতের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলছে।

২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় দেশটির আধা সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। এই বাহিনী গত বছর সুদানের প্রধান গাম সংগ্রহ এলাকা কর্দোফান ও দারফুরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। আশঙ্কার বিষয় হলো, এই গাম প্রায়শই অনানুষ্ঠানিক চ্যানেল ও সীমান্ত বাজারের মাধ্যমে সঠিক সার্টিফিকেশন ছাড়াই পাচার করা হচ্ছে। সংঘাত শুরুর আগে কাঁচা গাম রাজধানী খার্তুমে বাছাই করা হতো এবং এরপর পোের্ট সুদান থেকে সুয়েজখালের মাধ্যমে জাহাজে করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হতো। কিন্তু আরএসএফ মূল উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে পশ্চিম কর্দোফান এবং দক্ষিণ সুদানের সীমান্ত বরাবর চোরাচালান বাজারে বিপুল পরিমাণে গাম অ্যারাবিক দেখা যাচ্ছে।

আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে থাকা বেশির ভাগ গাম অ্যারাবিক উৎপাদন কোনো কার্যকর সরকারি কর্তৃপক্ষ তদারকি করে না। এই অবস্থায় ক্রেতারা ক্রমশ সতর্ক হয়ে উঠছেন সেডেক্স সার্টিফিকেশন ছাড়া সরবরাহ গ্রহণ করতে। সেডেক্স সার্টিফিকেশন সরবরাহকারীদের টেকসই এবং নৈতিক মানদণ্ড পূরণের মূল নিশ্চয়তা। এই অনানুষ্ঠানিক বাণিজ্য পদ্ধতি, সীমান্ত পাচার এবং অনলাইন বিক্রি বিশ্বব্যাপী বৈধভাবে গাম অ্যারাবিক কেনা কোম্পানিগুলোর জন্য জটিল চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সুদানের সংকট বিশ্বব্যাপী গাম অ্যারাবিকের বাজারকে অবৈধ চ্যানেল এবং সন্দেহজনক অনুশীলনের এক গোলকধাঁধায় পরিণত করেছে।


সভ্যতার বিকাশে ধর্মের ভূমিকা

ধর্ম মানব সভ্যতার বিকাশের একটি মৌলিক উপাদান হিসেবে চিহ্নিত। ধর্ম কেবল আধ্যাত্মিক জীবনকেই নয়, বরং সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আইনগত এবং রাজনৈতিক কাঠামোকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। পৃথিবীর প্রধান ধর্মগুলির মধ্যে হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, খ্রিস্টান ধর্ম এবং ইসলাম। প্রত্যেকটি ধর্ম বিশ্ব সভ্যতার বিভিন্ন দিক যেমন আইন, স্থাপত্য, সাহিত্য, শাসনব্যবস্থা, সামাজিক আচরণ এবং নৈতিকতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তেমনি এই ধর্মগুলির প্রত্যেকটির নিজস্ব ধর্মীয় তত্ত্ব, আচার-প্রথা এবং সামাজিক কাঠামো সভ্যতার গঠন এবং উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল।

হিন্দু ধর্মের প্রভাব –
হিন্দু ধর্ম ভারতের একটি প্রাচীন এবং সুপ্রচলিত ধর্ম। এই ধর্মের তত্ত্বাবধান ও আচার-প্রথা ভারতীয় সমাজ এবং সংস্কৃতির বিকাশে অমূল্য ভূমিকা পালন করেছে। হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, জীবনের উদ্দেশ্য হলো মোক্ষ বা মুক্তি লাভ। এই ধর্মের সামাজিক শ্রেণী ব্যবস্থা তথা ‘বর্ণ ব্যবস্থা’ (Caste Szstem) ভারতীয় সমাজে একটি সামাজিক শৃঙ্খলা তৈরি করেছে। যদিও এটি এখন এক ধরনের বিতর্কিত বিষয়। তবে প্রাচীনকালে এটি সমাজের কর্মবিভাগ এবং সামাজিক দায়িত্ব নির্ধারণে সাহায্য করেছিল। হিন্দু ধর্মের প্রধান তত্ত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মোক্ষ। এ সমস্ত তত্ত্ব সমাজের নৈতিক ও সামাজিক জীবন গঠন করেছে। হিন্দু মন্দিরগুলো ছিল শুধুমাত্র পূজার জায়গা নয়, বরং শিক্ষার কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক মিলনমেলা এবং রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্য যেমন খাজুরাহো, কুম্ভলগড়, কংসাবতী মন্দির ইত্যাদি দেব-দেবীর মূর্তির মাধ্যমে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিকে ও সমাজের শৃঙ্খলাকে দৃঢ় করেছে।
বৌদ্ধধর্মের প্রভাব
বৌদ্ধধর্ম গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা থেকে উদ্ভুত, শান্তি, অহিংসা এবং মনস্তাত্ত্বিক মুক্তির উপরে গুরুত্ব দেয়। বৌদ্ধ ধর্মের ধারণা, বিশেষত ‘অষ্টাঙ্গিক পথ’ এবং ‘চার মহাযাতি’ (চারটি মহত্তম সত্য) মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও সামাজিক সম্পর্ককে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। বৌদ্ধধর্মের চেতনা সমাজে অহিংসার বার্তা প্রচার করেছে। যেগুলো পরবর্তীতে বিভিন্ন আইন ও দর্শনের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছে। বৌদ্ধধর্মের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীন, কোরিয়া, জাপান ও তিব্বতসহ অন্যান্য অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে।বৌদ্ধধর্মের মঠ ও বুদ্ধস্তূপ গঠনশৈলী যেমন স্তুপ, গুম্ফা, বুদ্ধমূর্তি, শুধুমাত্র ধর্মীয় পণ্য নয়, বিশ্বের অন্যতম সাংস্কৃতিক ও স্থাপত্য ঐতিহ্যও সৃষ্টি করেছে। অজন্তা ও এলোরা গুহাগুলির অঙ্কিত চিত্রকলা এবং মন্দিরগুলো বৌদ্ধধর্মের সাংস্কৃতিক প্রভাবকে চিরকালের জন্য প্রতিষ্ঠিত করেছে।

খ্রিস্টান ধর্মের প্রভাব –
খ্রিস্টান ধর্মে যিশু খ্রিস্টের শিক্ষা পশ্চিমা সভ্যতার ইতিহাসে অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাব রেখেছে। খ্রিস্টান ধর্মের মূল শিক্ষা প্রেম, দয়া, সৎপথ অনুসরণ এবং ঈশ্বরের প্রতি পূর্ণ আস্থা স্থাপন। খ্রিস্টান ধর্মের মাধ্যমে গির্জা এবং ধর্মীয় আইনগঠন পশ্চিমা সভ্যতায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। খ্রিস্টান ধর্ম সভ্যতার অগ্রগতির জন্য নৈতিক ভিত্তি প্রদান করেছে, যেগুলো আইন, শাসনব্যবস্থা এবং শিক্ষা পদ্ধতির জন্য আদর্শ তৈরি করেছে। খ্রিস্টান ধর্মের অন্যতম দিক ছিল ‘এগাপি’ (অবর্ণনীয় ভালোবাসা) এবং ‘দয়ালুতা’, যা ইউরোপীয় আইন ও নৈতিক কাঠামোতে বিশাল প্রভাব ফেলেছিল। খ্রিস্টান ধর্মের মাধ্যমে ইউরোপীয় সমাজে শিক্ষা ও বিজ্ঞানচর্চা বাড়তে শুরু করে এবং গির্জার মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা হয়।

ঐতিহাসিকভাবে খ্রিস্টান ধর্মের প্রভাব ইউরোপে গথিক স্থাপত্যশৈলীর প্রসার ঘটায়, বিশেষত বিখ্যাত গির্জা এবং ক্যাথেড্রালগুলোর মধ্য দিয়েড়যেমন, নটর ডেম, সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা ইত্যাদি। ইসলামের প্রভাব – ইসলাম ধর্ম ৭ম শতকে আরব উপদ্বীপে আবির্ভূত হয় এবং তা দ্রুত পশ্চিম, পূর্ব, দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে ওঠে। ইসলামের ভিত্তি আল্লাহর একত্ববাদ, তাঁর ইচ্ছার প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস, এবং মানবজাতির কল্যাণের জন্য একে অপরকে সহায়তা করা। ইসলাম ধর্মে সমাজের প্রতিটি দিকের জন্য নির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ রয়েছেড়যেমন, রোজা, হজ, দান ইত্যাদি যা সমাজে ন্যায়-সঙ্গত আচরণ এবং মানবিক সহানুভূতি প্রচার করেছে।ইসলাম ধর্মের প্রভাব ধর্মীয় আইন শাসন শরিয়া আইন ইসলামী রাষ্ট্রের পরিচালনায় দৃঢ়ভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ইসলামের বৈশ্বিক পরিসরে তার স্থাপত্যশৈলীও অনন্য, যা মসজিদ, মিনার, ডোেম এবং সুফী স্মৃতিসৌধের মাধ্যমে বিশ্বের স্থাপত্য ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। মক্কা এবং মদিনার মসজিদ, কায়রোর আল-আকসা মসজিদ এবং তুরস্কের আয়া সোফিয়া মসজিদগুলো ইসলামী স্থাপত্যের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

ধর্ম যুগে যুগে মানব সভ্যতার অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। যা শুধু আধ্যাত্মিক দিকেই নয়, বরং সামাজিক, সাংস্কৃতিক, আইনগত ও স্থাপত্য দিকেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। হিন্দু ধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, খ্রিস্টান ধর্ম এবং ইসলামড়এই ধর্মগুলো সমাজের নৈতিকতা, আইন, শিল্প, স্থাপত্য এবং শাসনব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী অবদান রেখেছে। তাদের শিক্ষার মাধ্যমে মানবজাতি শৃঙ্খলা, সমতা, সহানুভূতি এবং ন্যায়বিচারের জন্য নতুন পথপ্রদর্শক পায়। পৃথিবীজুড়ে এই ধর্মগুলির প্রভাব আজও দৃশ্যমান এবং তা মানব সভ্যতার অমূল্য ঐতিহ্য হিসেবেও পরিগণিত।




শ্বেতপত্র ও টাস্কফোর্স অর্থনীতি সংস্কারে আগ্রহ কম

অর্থনীতি নিয়ে সংস্কারের দুটি প্রতিবেদন জমা পড়ে আছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সুপারিশ বাস্তবায়নে জোরালো কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে অর্থনীতিতে কাঠামোগত সংস্কারের প্রত্যাশা পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অর্থনীতিতে দুর্নীতি – অনিয়ম এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক কৌশল নির্ধারণ নিয়ে আলাদা দুটি প্রতিবেদন তৈরি করিয়েছে বর্তমান অন্তর্বতী সরকার। একটি হলো বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন কমিটির তৈরি শ্বেতপত্র। অন্যটি বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদের নেতৃত্বাধীন টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন।

শ্বেতপত্র জমা পড়ে ১ ডিসেম্বর। টাস্কফোর্স প্রতিবেদন জমা দেয় ৩০ জানুয়ারি। এর মধ্যে দুই প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় কমিটির সদস্যদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তিন মাস কাজ করে শ্বেতপত্র কমিটি ৩৯৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাট, অর্থ পাচার, ব্যাংক খাতের অনিয়ম, বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতিসহ নানা ধরনের অনিয়ম উঠে এসেছে। পাশাপাশি অর্থনীতির সংস্কারে সুপারিশও তুলে ধরা হয়েছে। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের মতে- এখন আলোচনায় সামনে চলে এসেছে নির্বাচন। তাই সরকারের ‘কাউন্টডাউন’ শুরু হয়ে গেছে। সংস্কারের জন্য যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, সেই সুযোগ নেওয়ার সময় পার হয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে অর্থনীতির সংস্কারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন।

অর্থনৈতিক কৌশল পুনঃনির্ধারণ টাস্কফোর্সের ৫২৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে অর্থনীতি ও আর্থসামাজিক বিষয়ে নানা ধরনের সুপারিশ করা হয়। তার মধ্যে অন্যতম ছিল প্রগতিশীল করব্যবস্থা চালু, যেখানে ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর আদায় করা হবে। টাস্কফোর্স শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং সেবা সহজলভ্য করার ওপর জোর দিতে বলেছে। প্রতিবেদনটি নিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আলোচনা হয়। তখন সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিবেদনে থাকা সুপারিশগুলো থেকে একটি সুপারিশ বাছাই করে অন্তর্বতী সরকারের আমলেই তা বাস্তবায়ন করবে প্রতিটি মন্ত্রণালয়। কিন্তু এক মাসে এর তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। কেন উদ্যোগ নিতে পারছে না সরকারড়এ প্রসঙ্গে শ্বেতপত্র প্রণয়ন ও টাস্কফোর্স উভয় কমিটির সদস্য সেলিম রায়হান বলেন, আমলাতন্ত্রের সহযোগিতা নেই। উপদেষ্টাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় সংস্কার নেই। সংস্কারের সঠিক সময় পার হয়ে যাচ্ছে। সবাই নির্বাচনমুখী কথা বলছেন


শিক্ষা বিরতিতে বাড়ছে শিখন ঘাটতি , ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র পরিবারের শিশুরা

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার নানা সমস্যার মধ্যে ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া অন্যতম বিষয় হলো শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি। সম্প্রতি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নওশিন জাহান (ছদ্মনাম) এবং তার মতো অনেক শিক্ষার্থী পড়েছেন দীর্ঘ ছুটির শিকারে। বছরের শুরুতে শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী বই পেতে না পারা এবং অতিরিক্ত ছুটির কারণে শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ করা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

নওশিনের মা বলেন, “আমার স্বামী একজন কম্পিউটার অপারেটর। বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ে সিলেবাস শেষ করতে হলে গৃহশিক্ষকের দ্বারস্থ হতে হবে। কিন্তু তার জন্য যে পরিমাণ টাকার প্রয়োজন তা আমাদের মতো পরিবারের পক্ষে জোগানো সম্ভব না।” ফলে ছুটির কারণে তার মেয়ে অনেকটা পিছিয়ে পড়বে, যা তার পরিবারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এধরণের ঘটনা শুধু নওশিনের ক্ষেত্রেই নয়, দেশের সাধারণ শিক্ষাক্রমের আওতাধীন প্রায় সব শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রেই ঘটছে।

২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ২৬১ কর্মদিবসের মধ্যে প্রায় ১১০ দিন ছিল ছুটি। এটি প্রায় অর্ধেক সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দরিদ্র পরিবারের শিশুরা, যাদের কাছে গৃহশিক্ষক কিংবা কোচিং করানোর সুযোগ নেই। অন্যদিকে ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয় এবং কিন্ডারগার্টেনগুলোতে পাঠদান অব্যাহত থাকায় বিত্তবান পরিবারের সন্তানরা কিছুটা এগিয়ে থাকছে। করোনার পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ঘরবন্দি ছিল এবং তখন থেকেই শিখন ঘাটতির প্রভাব পড়তে শুরু করে। শিক্ষা সংক্রান্ত বেসরকারি সংস্থা গণসাক্ষরতা অভিযানের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে ৯৮ শতাংশ প্রাথমিক শিক্ষক এবং ৯৬ শতাংশ মাধ্যমিক শিক্ষক জানাচ্ছেন, করোনার কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় ধরনের শিখন ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুরা কোচিং এবং গৃহশিক্ষকের মাধ্যমে কিছুটা ঘাটতি পূরণ করছে, তেমনি নিচু-মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুরা শিখন সংকটে পড়ছে। বিশেষত যারা গ্রামাঞ্চলে থাকেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি আরও প্রকট। এই প্রেক্ষাপটে সমাজের সামাজিক বৈষম্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারণ বিত্তবানরা উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের সন্তানদের শিখন ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হলেও কিন্তু দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা এ পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন। তারা বলছেন, সরকারি স্কুলগুলোর ছুটি কমানো উচিত এবং শিখন ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার জন্য কোচিং কিংবা অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সেইসাথে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের শিক্ষাদানে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। বেসরকারি স্কুলগুলোর মতো সরকারি স্কুলগুলোরও শিক্ষার্থীদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে, যেন তারা ভবিষ্যতে কোন ধরনের বৈষম্যের শিকার না হয়। নতুন শিক্ষাপঞ্জি তৈরি এবং শিক্ষা কার্যক্রমের সময়সীমা পুনঃনির্ধারণের দাবি উঠেছে যাতে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি মোকাবিলা করা যায়। এটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে সরকারকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে।




দেশে বন্যপ্রাণী হত্যা ও পাচারের ক্রমবর্ধমান বিপর্যয়

বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী হত্যা ও পাচারের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গার মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের দীননাথপুর গ্রামে এক কৃষক ফসল রক্ষা করতে বিষ প্রয়োগ করলে পাঁচ – সাতটি শেয়াল, একটি গন্ধগোকুল, একটি বেজি, একটি পোষা কুকুরসহ বহু বন্যপ্রাণী প্রাণ হারায়। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে বন অধিদপ্তর অভিযুক্ত কৃষকের বিরুদ্ধে মামলা করে। দেশে বন্যপ্রাণী নিধনের এ প্রবণতা শুধু চুয়াডাঙ্গা নয় সারাদেশে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্যপ্রাণী আক্রান্ত হওয়ার ৩,৩০৪টি ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২৬৯টি প্রাণী মৃত্যুবরণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। বেঙ্গল ডিসকভারির একটি গবেষণায় দেখা যায়, আগস্টে বন্যপ্রাণী আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ছিল ৪৪টি, কিন্তু ডিসেম্বরে তা বেড়ে ১,৭১৬টি হয়েছে। এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। যেখানে মোট আক্রান্তের ২৬ শতাংশ ঘটেছে, আর ঢাকা বিভাগের পরিমাণ ১৮ শতাংশ। সবচেয়ে কম আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, সেখানে মাত্র ২ শতাংশ।

দেশের অন্যতম পাহাড়ি বনাঞ্চল রেমা-কালেঙ্গা, যা হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত। সেখানে বন্যপ্রাণী হত্যার একটি ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে। ২৩ জানুয়ারি, হাতিমারা চা বাগানে গাছ কাটার পর আগুন ধরানো হলে, সেখানে বসবাসকারী হনুমান, মায়াহরিণ, বিরল প্রজাতির কাঠবিড়ালী, পাখি সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী পুড়ে মারা যায়। এ ঘটনায় বেশ কিছু প্রাণী আহত হয়। বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে প্রসাশনের কাজ থেমে নেই। বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক অবৈধ চিড়িয়াখানায় বন্যপ্রাণী আটকে রাখা হয়, যা উদ্ধার করার জন্য অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগে বন্যপ্রাণী পাচার ও হত্যা বেড়েছে। গত ৭ নভেম্বর কক্সবাজারের মহেশখালী শাপলাপুর এলাকায় ১২টি বিলুপ্তপ্রায় হনুমান পাচারের ঘটনা উদঘাটিত হয়, আর জানুয়ারিতে ঢাকা থেকে বিপন্ন প্রজাতির ৮টি মুখপোড়া হনুমান উদ্ধার করা হয়।

বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী অপরাধের হটস্পটগুলোতে নজরদারি বাড়ানো গেলে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে বন্যপ্রাণীর মধ্যে স্তন্যপায়ী প্রাণী সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে, যার হার ৩৭শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাখি, আক্রান্তের হার ২৯ শতাংশ, সরীসৃপের হার ২৫ শতাংশ, এবং জলজ প্রাণী ৯ শতাংশ। বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের কর্মকর্তা রথীন্দ্র কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, বন্যপ্রাণী রক্ষা ও পাচার প্রতিরোধে সরকার নিরলস কাজ করছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও মনোযোগী হতে হবে, যাতে বন্যপ্রাণী পাচার, শিকার ও হত্যার ঘটনা কমানো যায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বন্যপ্রাণী অপরাধের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার ফলে, পরিবেশকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। তাদের মতে এসব অপরাধ দমনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নজরদারি বৃদ্ধি ও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আরও কার্যকরী হবে।

পুলিশ সক্রিয় না হওয়ার নেপথ্যে ৮ কারণ

> গণ-আন্দোলনে নিপীড়ন-হত্যার কারণে মানুষের নেতিবাচক ধারণায় পুলিশের মধ্যে সৃষ্ট ট্রমা এখনো কাটেনি। এ কারণে পুলিশ তার কর্মকাণ্ডে শতভাগ সক্রিয় নয়।

> অভিযানে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলার আশঙ্কায় পুলিশ অনেকক্ষেত্রে ঘটনাস্থলে যাচ্ছে না। ফলে অপরাধীরা গ্রেপ্তার হচ্ছে না।

>সরকার পতনের পর মানুষ অনেক থানা-গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ায় যানবাহন সংকটের কারণে জরুরি ভিত্তিতে পুলিশ অপারেশনে যেতে পারছে না।

>রাজনৈতিক পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা ও নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় অনেক পুলিশ সদস্য পূর্ণ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন না।

  • পুলিশের স্পটভিত্তিক চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়ায় টহলে ঢিলেমি। এতে সেখানে চাঁদাবাজ চক্র অতি সক্রিয় হয়েছে।
  • ঢাকাসহ তৃণমূল পর্যায়ে বদলির প্রভাব
  • উশৃংখল জনতা দমনে বল প্রয়োগ বা অ্যাকশনে গেলে শাস্তির ভয়।
  • ডিএমপির ক্রাইমবেজ না বোঝা ও বদলি হওয়ার পর নতুন স্থানের পথঘাট না চেনার কারণে পুলিশ পুরোপুরি সক্রিয়ভাবে কাজ করছে না ।পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, ৫ আগস্টের পর থেকে মানুষ বেপরোয়া হয়ে গেছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি খুনোখুনিতে জড়িয়ে পড়ছে। মানুষের মধ্য থেকে পুলিশের ভয় কেটে গেছে। পুলিশ টহলে গেলে তাদের ওপর আক্রমণ করতে দ্বিধা করছে না। এতে পুলিশ ম্যারাথন টহলে ভয় পাচ্ছে। যাদের টহলে পাঠানো হচ্ছে, তারা টহল না দিয়ে সড়কের এক পাশে বসে থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। এরা কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার পর তাদের লোকজনও সক্রিয় হয়েছে। এতে গ্রুপের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ফলে দখল, চাঁদাবাজি ও খুনোখুনির ঘটনা ঘটছে । এসব কারণে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘গণপরিষদ’ ও ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ নাগরিক পার্টির সাথে ইসলামী দলগুলোর ভিন্নমত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের সঙ্গে অনেক বিষয়েই ঐকমত্য দেখা গেছে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ মূলধারার ইসলামপন্থী দলগুলোর। তবে সংবিধানের আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘গণপরিষদ’ গঠন ও ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠায় ছাত্র-তরুণদের নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যে রাজনৈতিক লক্ষ্য প্রকাশ করেছে, তাতে সবাই একমত নয়। জামায়াত মনে করে, ‘গণপরিষদ’ ও ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ কীভাবে হবে, সেটার কোনো ব্যাখ্যা আসেনি। এই পদক্ষেপ বিতর্ক তৈরি করতে পারে। ইসলামী আন্দোলন মনে করে, সংবিধানের ব্যাপক সংস্কার অনুমোদনে ‘গণপরিষদ’ হতে পারে। ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠায়ও তাদের আপত্তি নেই। তবে এসব করতে গিয়ে যাতে কোনোভাবেই জাতীয় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়।

জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের বাইরে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। দলটি ছাত্রদের ‘গণপরিষদ’ ও ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’-এর মতো তাত্ত্বিক বিষয়ে সম্পৃক্ত হতে চায় না। জমিয়তের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা জানিয়েছেন, তাঁদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। তাঁরা প্রয়োজনীয় সংস্কার করে ২০২৫ সালের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান চান। বরং দলটি ছাত্রদের সাম্প্রতিক তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘এসব কাজ (গণপরিষদ ও সেকেন্ড রিপাবলিক) করতে গিয়ে নির্বাচন প্রলম্বিত হওয়ার আশঙ্কার যে বিষয়টা, সেটাকে আমি বড় ধরনের কোনো সমস্যা মনে করি না। সমস্যা যেটা, সেটা হলো বর্তমান সরকারের নানা দুর্বলতা দৃশ্যমান। এটা দূরে করে আমূল সংস্কারের মাধ্যমে চলমান রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনার হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে গিয়ে নির্বাচন যদি একটু বিলম্বিতও হয়, সেটাকে দেশের স্বার্থে মেনে নিতে আমরা প্রস্তুত।’