Home Blog Page 180

AI – এর পক্ষপাত সমাজে বৈষম্য অন্যায় বাড়াবে !

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর‍্যন্ত সবখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সিস্টেমের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সিস্টেমগুলি সাধারণত ডাটা ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু এসব ডাটার মধ্যে পক্ষপাতিত্ব (bias) থাকা AI সিস্টেমের সিদ্ধান্তের উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। AI সিস্টেমের কাজ হল ডাটা সংগ্রহ এবং সেই ডাটা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। কিন্তু এই ডাটা যে কোনো প্রকৃতির হতে পারে এবং অনেক সময় মানুষের পক্ষ থেকে অসম্পূর্ণ, অগোছালো বা পক্ষপাতমূলক হয়। পক্ষপাতিত্ব তখন আসে যখন ডাটা সংগ্রহের সময় কিছু নির্দিষ্ট দৃষ্টিকোণ, সামাজিক গ্রুপ, বা ক্ষেত্রের প্রতি পক্ষপাতিত্ব থাকে।

উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো AI সিস্টেমকে চাকরি প্রদান সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়, এবং সেই সিস্টেমে পুরুষদের এবং মহিলাদের সম্পর্কিত পক্ষপাতিত্বপূর্ণ ডাটা ব্যবহার করা হয় তবে সিস্টেমটি মহিলাদের জন্য সুযোগ কম হতে পারে। পক্ষপাতিত্বপূর্ণ ডাটা AI সিস্টেমের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাজে বৈষম্য সৃষ্টি করতে পারে। ২০১৮ সালে Amazon একটি AI সিস্টেম ব্যবহার করেছিল, যা চাকরি আবেদনকারীদের রেজ্যুমে বিশ্লেষণ করত। সিস্টেমটি নারীদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছিল, কারণ এটি পুরুষ প্রার্থীদের বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করত এবং নারীদের চাকরি সম্পর্কিত রেজ্যুমে কম গুরুত্ব দিত। তারা সিস্টেমটি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।

যখন AI সিস্টেম পক্ষপাতিত্বপূর্ণ ডাটা ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত নেয়, তখন এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনও করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু দেশে AI সিস্টেমের মাধ্যমে পুলিশি নজরদারি বা সামাজিক শ্রেণীবিভাজন করা হয়, যার ফলে কিছু জনগণ অসংগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ২০১৬ সালে, যুক্তরাষ্ট্রে কিছু পুলিশ বিভাগের AI সিস্টেম দ্বারা অপরাধী শনাক্তকরণে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে। যেখানে কৃষ্ণাঙ্গ জনগণের বিরুদ্ধে বেশি সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল। এই ধরনের পক্ষপাতিত্ব মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন সৃষ্টি করতে পারে।

AI সিস্টেমের মাধ্যমে যে সমস্ত ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সেগুলি পক্ষপাতিত্বপূর্ণ ডাটার উপর ভিত্তি করে সঠিক ফলাফল দিতে পারে না। ২০১৯ সালে কিছু ব্যাংক অও সিস্টেম ব্যবহার করে ঋণ প্রদান করছিল, কিন্তু সিস্টেমটি অভ্যন্তরীণ ডাটার কারণে গরীব গ্রাহকদের ঋণ অনুমোদন করতে সমস্যায় পড়ে। এভাবে AI সিস্টেমে ব্যবহৃত পক্ষপাতিত্বপূর্ণ ডাটা সঠিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তেও বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। AI এর পক্ষপাতিত্ব কমানোর প্রথম পদক্ষেপ হলো বৈচিত্র্যময় ডাটা সংগ্রহ করা। ডাটার মধ্যে যেন সকল সামাজিক, সাংস্কৃতিক, লিঙ্গভিত্তিক এবং জাতিগত বৈচিত্র্য অন্তর্ভুক্ত থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। যদি কোনো স্বাস্থ্য সম্পর্কিত AI সিস্টেম তৈরি করা হয়, তবে ডাটাতে বিভিন্ন ধরনের রোগী, বিভিন্ন বয়স, লিঙ্গ এবং জাতিগত ব্যতিক্রম অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

তাছাড়া পক্ষপাতিত্বের আর একটি বড় কারণ হল অপরিষ্কৃত ডাটা। AI সিস্টেমে ব্যবহৃত ডাটা পরিষ্কার করা এবং পক্ষপাতিত্বের সমস্ত উপাদানকে চিহ্নিত করে তা বাদ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিছু কোম্পানি তাদের AI সিস্টেমের ডাটা থেকে বয়স, লিঙ্গ, বা জাতিগত তথ্য বাদ দিতে পারে, যাতে সিস্টেমটি কেবল কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অ্যালগোরিদমের স্বচ্ছতা এবং মনিটরিং করে অও অ্যালগোরিদমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে আমরা জানি যে কীভাবে ডাটা এবং অ্যালগোরিদম কাজ করছে। অ্যালগোরিদমের কার্যকলাপ নিয়মিত মনিটর করা এবং তা সঠিকভাবে পর্যালোচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিস্টেমে কোথাও পক্ষপাতিত্ব থাকলে তা দ্রুত চিহ্নিত করা এবং সংশোধন করা যেতে পারে।

ফিডব্যাক লুপ এবং সমন্বয়ে AI সিস্টেমের মধ্যে একটি সঠিক ফিডব্যাক মেকানিজম স্থাপন করা উচিত যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা বা বাস্তব সময়ের ফলাফল দ্বারা অ্যালগোরিদমকে সংশোধন করা যায়। এই প্রক্রিয়ায় পক্ষপাতিত্বের প্রবণতা কমানো সম্ভব হতে পারে। AI তৈরি করার সময় এথিক্যাল গাইডলাইন এবং নীতিমালা অনুসরণ করা উচিত। এমনকি বিভিন্ন সরকার এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উচিত এই বিষয়ে নির্দিষ্ট নীতিমালা এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গঠন করা যা AI সিস্টেমের পক্ষপাতিত্ব কমাতে সাহায্য করবে।

AI সিস্টেমের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে ডাটা এবং অ্যালগোরিদমের পক্ষপাতিত্ব একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ালেও পক্ষপাতিত্ব নিয়ন্ত্রণ করা এবং সিস্টেমগুলোকে আরও নিরপেক্ষ ও মানবাধিকার সংরক্ষণকারী করে তোলা সম্ভব। যদি আমরা সঠিকভাবে ডাটা সংগ্রহ, পরিষ্কারকরণ এবং অ্যালগোরিদমে নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া গ্রহণ করি তবে অও সিস্টেমের মাধ্যমে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো আরো সুবিবেচিত এবং নিখুঁত হবে।

‘হাসিনা যেখানেই থাকুন বিচার তার হবেই’ , স্কাই নিউজকে সাক্ষাৎকারে : ড. ইউনূস

বিগত সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে উপস্থিত থাকুন বা না থাকুন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, “বিচার অবশ্যই হবে। শুধু তিনি নন, তার সঙ্গে যারা জড়িত, তার পরিবারের সদস্য, তার সহযোগী ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাও বিচারের আওতায় আসবেন।”স্কাই নিউজ লিখেছে- গোপন বন্দিশিবিরের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করার অভিযোগ রয়েছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, যেখানে ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের নামে’ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আটকে রাখা, নির্যাতন, গুম ও হত্যার মত ঘটনা ঘটত বলে অভিযোগ রয়েছে।

‘আয়নাঘর’ নামে কুখ্যাতি পাওয়া শেখ হাসিনার আমলের কয়েকটি বন্দিশালা সম্প্রতি ঘুরে দেখার কথাও সাক্ষাৎকারে বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তার ভাষায়, সেখানে তিনি যা দেখেছেন, তাতে শিউরে উঠেছেন।সেসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে সময় লাগছে জানিয়ে ইউনূস সাক্ষাৎকারে বলেন, “এতে সবাই জড়িত ছিল। পুরো সরকারই এর সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাই কারা নিজেদের আগ্রহে এটা করেছে, কারা সরকারের আদেশে এটা করেছে, আর কারা বাধ্য হয়ে করেছেড় এটা নির্ধারণ করা কঠিন।”স্কাই নিউজ লিখেছে- আন্দোলনে হতাহতদের পরিবার যেন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়, সেই প্রত্যাশার চাপ রয়েছে অধ্যাপক ইউনূসের ওপর। অন্তর্বর্তী সরকার থাকতে থাকতেই যাতে সেই বিচার করা যায়, সেই চেষ্টা ইউনূস করছেন।

তার ভাষায়, “কিছু অপরাধীর বিচার হবে, কিছু বিচারের প্রক্রিয়ায় থাকবে, আর কেউ কেউ হয়ত ধরাছেয়ার বাইরেই থেকে যাবে।”স্কাই নিউজের রিপোর্টটিতে বলা হয়েছে দেশের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাপক ইউনূসকে নানামুখি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যার মধ্যে শেখ হাসিনার আমলের দুর্নীতির তদন্তও রয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, তাদের মধ্যে ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকও আছেন, যিনি শেখ হাসিনার ভাগ্নি।ইউনূস সাক্ষাৎকারে বলেন, টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘গুরুতর’। দেশে তার ‘বিপুল সম্পদসহ সবকিছুই’ খতিয়ে দেখা হবে।

পারফরম্যান্স আর্ট শিল্পের অন্তরাল থেকে ভবিষ্যতের আলোতে

পারফরম্যান্স আর্টের শিকড় খুঁজতে গেলে আমরা দেখতে পাই প্রাচীন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে পারফরম্যান্সের বিভিন্ন উপাদান বিদ্যমান ছিল। গ্রীক নাট্যশালা, ভারতীয় কুথু, জাপানের নোহ ও কাবুকি থিয়েটারসহ মধ্যযুগীয় ইউরোপের ক্যার্নিভাল ও ধর্মীয় রিচুয়ালগুলোর মধ্যে পারফরম্যান্স আর্টের পূর্বসূরি হিসেবে চিহ্নিত করার মতো অনেক উপাদান পাওয়া যায়।তবে আধুনিক পারফরম্যান্স আর্টের সূচনা হয় ১৯শ ও ২০শ শতকে, যখন শিল্পীরা প্রচলিত শিল্পধারার গণ্ডি ভেঙে নিজেদের দেহ ও পারফরম্যান্সকে শিল্পের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন।পারফরম্যান্স আর্টের ইতিহাস ও বিবর্তনের গল্পে প্রথম পর্যায়ে আসে দাদা ও স্যুররিয়ালিজম। ১৯১০ থেকে ১৯৩০ সালের ইতিহাস।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় দাদা আন্দোলনের শিল্পীরা প্রচলিত সমাজ ও রাজনীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। তাঁরা থিয়েটার, কবিতা, সংগীত এবং চিত্রকলার সমন্বয়ে পারফরম্যান্স তৈরি করেন। ১৯১৬ সালে হুগো বল জুরিখের ক্যাবারে ভলতেয়ারে তার ব্যঙ্গাত্মক এবং আপাতদৃষ্টিতে অর্থহীন কবিতা পরিবেশন করেন, যা ছিল পারফরম্যান্স আর্টের একটি প্রাথমিক নিদর্শন। এরপর স্যুররিয়ালিস্ট শিল্পীরা স্বপ্ন ও অবচেতন মনের উপর ভিত্তি করে পারফরম্যান্স আর্টের একটি নতুন ধারা সৃষ্টি করেন।স্যুররিয়ালিজম আন্দোলনের অন্যতম প্রধান শিল্পী সালভাদর ডালি। ১৯৩৯ সালে নিউ ইয়র্ক ওয়ার্ল্ড ফেয়ারে তার করা “Dream of Venus” ইনস্টলেশনটি ছিল পারফরম্যান্স আর্ট ও পরিবেষ্টিত শিল্পের এক ব্যতিক্রমী নিদর্শন। এছাড়া তার জীবনযাত্রা, পোশাক-পরিচ্ছদ ও জনসমক্ষে উপস্থিতির ধরন নিজেই একধরনের পারফরম্যান্স হয়ে ওঠে। তিনি প্রায়ই নাটকীয় ও অতিরঞ্জিত ভঙ্গিমায় প্রকাশ্যে আবির্ভূত হতেন, যা স্যুররিয়ালিজমের আত্মা বহন করত।

দ্বিতীয় পর্যায়ে হ্যাপনিংস ও ফ্লাক্সাস আন্দোলন (১৯৪০-১৯৬০)। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এলান কাপ্রো (Allan Kaprow) ‘Happenings’ ধারণার প্রচলন করেন। যেখানে শিল্প ও জীবনের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনা হয়। এটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত, অপ্রচলিত এবং দর্শকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার একটি নতুন ধারা। একই সময়ে ফ্লাক্সাস (Fluxus) আন্দোলনের মাধ্যমে ইয়োকো ওনো, নাম জুন পাইক এবং অন্যান্য শিল্পীরা বহুমাধ্যমিক পারফরম্যান্স তৈরি করেন, যা পরবর্তীতে সমসাময়িক পারফরম্যান্স আর্টের ভিত গড়ে তোলে।এরপরে আসে শরীরকেন্দ্রিক ও রাজনৈতিক পারফরম্যান্স (১৯৭০-১৯৯০)। ১৯৭০-এর দশকে পারফরম্যান্স আর্ট আরও চরম ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। এই সময়ে মারিনা আব্রামোভিচ তার “Rhythm 0” (১৯৭৪) পারফরম্যান্স করেন, যেখানে দর্শকদের ৭২টি বস্তু দিয়ে তার শরীরে যা খুশি তা করার অনুমতি দেওয়া হয়।

কোন দিকে যাচ্ছে রাজনৈতিক মেরুকরণ : সালেহ উদ্দিন আহমদ লেখক, শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

“… প্রথমে বিভিন্ন উপদেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী নেতাদের বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছিল, যত সব সংস্কার তাঁরা দরকার মনে করেন, সেগুলো সম্পন্ন হওয়ার আগে তাঁরা নির্বাচন সমর্থন করবেন না। এটা অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কিন্তু বড় দলগুলোর অধৈর্য টের পেয়ে সরকার সম্ভবত সেই অবস্থান থেকে ফিরে এসেছে। এ বছরের ডিসেম্বর বা আগামী বছরের মার্চের মধ্যে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।বিএনপি কখনো অস্থায়ী সরকারকে সমালোচনা, কখনোবা সমর্থন জানিয়ে অস্থায়ী সরকারের সঙ্গে একটা স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রেখেছে। কিন্তু শিগগিরই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারকে ক্রমাগত চাপ দিয়ে আসছে।

প্রথমে তারেক রহমান চাইছিলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের নিয়ে বা তাঁদের সঙ্গে সমঝোতা করে জাতীয় সরকার বা নতুন নির্বাচনের একটা পরিকল্পনা বা রোডম্যাপ করতে। বিএনপি এরই মধ্যে আ স ম আবদুর রব, নুরুল হক নুরু, জোনায়েদ সাকি ও মাহমুদুর রহমান মান্নার দলের কিছু নেতার জন্য নির্বাচনী সমঝোতামূলক আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা করেছে। কিন্তু বৈষম্যবিরোধীরা এ ধরনের সমঝোতায় আগ্রহী বলে মনে হয় না। তারা এরই মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে।জামায়াতে ইসলামী প্রথম থেকেই নিজেদের শক্তিকে সংহত করার কাজে চেষ্টা শুরু করে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তাদেরকে কিছুটা বিএনপির ছায়ায় থেকে রাজনীতি করতে হয়েছে।

৫ আগস্টের পর জামায়েত গা ঝাড়া দিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে রাজনীতি করার ঘোষণা দেয়। বিএনপিও জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে দূরত্ব বজায় রাখতে চেয়েছে। জামায়াতের অনেক কথাবার্তা বিএনপির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।… সবকিছু মিলিয়ে রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াত ভিন্ন ও বলা যায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক অবস্থান নিয়েছে।… নতুন দল ঘোষণার সময় নাহিদ বলেন, এই দল ভারত ও পাকিস্তানকে তোষণের রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করবে। এর আগে ছাত্রনেতারা পরিবারভিত্তিক রাজনীতি ও চাঁদাবাজি-দখলের সমালোচনা করেন। এসব থেকে আঁচ করা যায়, পরবর্তী রাজনৈতিক বিতর্ক কী নিয়ে শুরু হবে।… জাতীয় নির্বাচন ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে রাজনৈতিক দলগুলোর নতুন মেরুকরণ। জাতীয় গ্র্যান্ড কোয়ালিশন না হলে বিএনপি ও নাগরিক পার্টি নির্বাচনী আঁতাত হবে না, তা ধরে নেওয়া যায়। কারণ, ছাত্ররা নতুন রাজনীতি নিয়ে কথা বলছেন।

শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারত যা ভাবছে : বাংলা ট্রিবিউন , দিল্লি প্রতিনিধির রিপোট

গত সাত মাস ধরে শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার যেরকম কঠোর গোপনীয়তা ও সুরক্ষা বলয়ে ঘিরে রেখেছে, তা প্রায় নজিরবিহীন। লক্ষ্যণীয় হলো, তিনি ঠিক কোথায় আছেন বা কীভাবে আছেন, তা নিয়ে দিল্লির পক্ষ থেকে এখনও একটি শব্দও জানানো হয়নি।তবে এর মাঝে তিনি বেশ কয়েকবার ফেসবুকে এসে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে লাইভ অডিও ভাষণ দিয়েছেন এবং সেগুলো রীতিমতো আগেভাগে ঘোষণা করেই করা হয়েছে। এছাড়া তার বহু কল রেকর্ডের অডিও-ও ফাঁস হয়েছে।দিল্লিতে পর্যবেক্ষকরা সবাই একমত যে, ভারত ‘অনুমতি’ দিয়েছে বলেই তার পক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এসব ভাষণ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। হোস্ট কান্ট্রি ভারত না চাইলে শেখ হাসিনা কখনোই এভাবে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারতেন না।

এরকমই একজন বিশ্লেষক বলছিলেন, ‘ভারতে বসেও যে তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় আছেন এবং দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন, এই বার্তাটা দিতেই শেখ হাসিনার স্পিচ বা টেলিফোন কলগুলো অ্যালাউ করা হচ্ছে। তবে ভারত মনে করছেড় এর জন্য আপাতত লাইভ অডিওটুকুই যথেষ্ঠ, ছবি বা ভিডিও-র কোনও প্রয়োজন নেই।’সাউথ ব্লকের একটি সূত্রের কথায়, ‘তিনি ভারতের সম্মানিত অতিথি হিসেবে এ দেশে আছেন এবং সেভাবেই তিনি যতদিন খুশি এদেশে থেকে যেতে পারেন তাতে অসুবিধার বিন্দুমাত্র কিছু নেই। তা ছাড়া তিনি কিন্তু পলিটিক্যাল অ্যাসাইলামের জন্য কোনও আবেদনও করেননি।’

ভারতে বিশ্লেষকরা কেউ কেউ মনে করছেন, ‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিয়ে পাকাপাকিভাবে ভারতেই থিতু হচ্ছেন’-এমন কোনও ধারণা ভারত তৈরি করতে চায় না বলেই সম্ভবত ‘রাজনৈতিক আশ্রয়’ দেওয়ার কথা এখন ভাবাও হচ্ছে না।ভারতের কর্মকর্তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন-যেসব অভিযোগ বা মামলার ভিত্তিতে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ ফেরত চাইছে, সেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে। তা ছাড়া শেখ হাসিনাকে যদি বিচারের জন্য ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে তিনি সে দেশে সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার পাবেন, এটাও বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে পারেনি বলে ভারত মনে করছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তিতে এমন বেশ কিছু বিধান আছে, যেগুলোর ভিত্তিতে উপরোক্ত যুক্তিগুলোর আলোকে কাউকে ফেরানোর অনুরোধ অনায়াসে নাকচ করা যেতে পারে।শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও ভারত একই পথে হাঁটবে বলেই স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অথবা নানা অজুহাতে দিনের পর দিন বাংলাদেশের অনুরোধ ফেলে রাখা হবে, কোনও ব্যবস্থাই নেওয়া হবে না!শেখ হাসিনা ভারতে শুধু ভিভিআইপি-ই নন, তার জীবনের ওপরও ঝুঁকি থাকতে পারে বলে ভারত মনে করছে। ফলে বাইরে স্বাভাবিকভাবে বেরোনো বা সামাজিক মেলামেশার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।কয়েকটি সেসনে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল নিজে তার সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যাচ্ছে।

এছাড়া তিনি দিল্লিতে আগে থেকে চিনতেন বা যাদের সঙ্গে পারিবারিক বন্ধুত্ব আছে, এমন হাতেগোনা কারও কারও সঙ্গেও তার দেখা করিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বাংলা ট্রিবিউন জানতে পেরেছে। এটার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো, যাতে বিদেশ-বিভুঁইয়ে এসেও তিনি মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকতে পারেন এবং স্বাভাবিক কথাবার্তা বলে হালকা হতে পারেন।ভারতের পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা বা রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পথ প্রশস্ত হওয়া খুব মুশকিল। তিনি নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রশ্নটাও এতকাল অস্পষ্ট করে রেখেছেন।ভারত সরকার অধীর আগ্রহ ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে নজর রাখছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি কোন্ পথে এগোয়। সম্ভবত তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে এই হাই-প্রোফাইল অতিথিকে নিয়ে ভারতই-বা শেষ পর্যন্ত কী করতে চায়!

প্রযুক্তি সাম্রাজ্যের হাত ধরে বিশ্ব গণতন্ত্রের নতুন চ্যালেঞ্জ

প্রযুক্তি বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা এখন শুধু প্রযুক্তির গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নন, তারা সরাসরি বিশ্ব রাজনীতি ও গণতন্ত্রের উপর প্রভাব বিস্তার করছেন। ইলন মাস্ক, মার্ক জাকারবার্গ, জেফ বেজোস, বিল গেটস এবং আরও অনেকে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে শুধু ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যই গড়ে তোলেননি, বরং রাষ্ট্র, নীতিনির্ধারণ, এমনকি নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।সামাজিক মাধ্যম বর্তমানে রাজনীতির অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইউটিউব ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ তথ্য পায় এবং এগুলো রাজনৈতিক মত গঠনের জন্য এটি শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠেছে। মার্ক জাকারবার্গের মালিকানাধীন মেটা (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ) বহুবার রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি দেখিয়েছে কিভাবে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি করে রাজনৈতিক প্রচারাভিযান চালানো হয়েছিল।অন্যদিকে ইলন মাস্ক এখন শুধু প্রযুক্তি উদ্যোক্তা নন, তিনি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বিতর্কিত ব্যক্তিও। টুইটার (বর্তমানে এক্স) কেনার মাধ্যমে তিনি বৈশ্বিক মতপ্রকাশের জগতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন। তার নীতিগত পরিবর্তনের ফলে অনেক রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এছাড়া তার স্টারলিংক স্যাটেলাইট পরিষেবা ইউক্রেন – রাশিয়া যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করলেও তিনি সরাসরি ঘোষণা করেছেন স্টারলিংককে তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক কাজে ব্যবহার করতে দেবেন না। তার এই অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

গুগলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সার্গেই ব্রিন কেবল প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সীমাবদ্ধ নন; তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছেন। গুগল সার্চ অ্যালগরিদমের মাধ্যমে কিভাবে তথ্য প্রচারিত হয় তা অনেকাংশেই রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।এছাড়া এআই গবেষণার ক্ষেত্রে গুগলের অগ্রগতি ভবিষ্যতের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখবে। ল্যারি পেজ ও সার্গেই ব্রিন ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও পরিবেশ সংক্রান্ত প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছেন, যা বিশ্ব রাজনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ারদের আর্থিক ও মিডিয়া শক্তি এতটাই ব্যাপক যে তারা সরাসরি নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তন করতে পারেন। ইলন মাস্ক একাধিকবার টুইটারের মাধ্যমে রাজনৈতিক ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে তার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে এনেছেন। একদিকে তিনি ‘স্বাধীন মতপ্রকাশের’ পক্ষে কথা বললেও অন্যদিকে তার কোম্পানি স্পেসএক্স ও স্টারলিংকের মাধ্যমে তিনি ভূ-রাজনীতিতেও প্রবেশ করেছেন। ইউক্রেন – রাশিয়া যুদ্ধ চলাকালীন স্টারলিংকের ভূমিকাই তার প্রভাব বোঝার জন্য যথেষ্ট।টেক বিলিয়নিয়ারদের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্মগুলো কেবল প্রচারযন্ত্র নয়, বর্তমান মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশও। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকাটি কিনে নিলে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন এটি তার ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক এজেন্ডার সাথে সম্পর্কিত কি না। মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক আলোচনার রূপরেখা পরিবর্তন করতে পারেন।প্রযুক্তি দুনিয়ার এই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিশ্বের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখছেন। বিল গেটসের মতো উদ্যোক্তারা ভ্যাকসিন গবেষণায় ও মানবসেবায় উল্লেখযোগ্য কাজ করছেন।

কিছু প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ার রাজনৈতিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। প্যাট্রিয়টিক মিলিয়নেয়ার্সের মতো গোষ্ঠীগুলো কর ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য কাজ করছে।গোপনীয়তা ও স্বাধীনতার সংকটও এখন বেড়েই চলেছে। ফেসবুক, গুগল, টিকটকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে এবং এসব তথ্য কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তা অনেকাংশেই অজানা।সোশ্যাল মিডিয়া গুলোয় এখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভুল তথ্য ছড়ানো বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।গণতন্ত্র রক্ষার জন্য রাষ্ট্র, নাগরিক ও সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সুসমন্বয় হওয়া জরুরি।ভ্যাকসিন গবেষণায় ও মানবসেবায় উল্লেখযোগ্য কাজ করছেন

নো আদার ল্যান্ড ইসরায়েল – ফিলিস্তিন বন্ধুত্বের অস্কার জয়

যুদ্ধ-বিগ্রহ, রক্তপাত সরিয়ে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল এক হয়েছে অস্কার মঞ্চে। অধিকৃত পশ্চিম তীরের এক ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীর সঙ্গে ইসরায়েলের এক সাংবাদিকের বন্ধুত্বের গল্প এরং ফিলিস্তিনিদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম নিয়ে বানানো প্রামাণ্যচিত্র ‘নো আদার ল্যান্ড’ জিতেছে অস্কার। সিএনএন লিখেছে, ইসরায়েলি এবং ফিলিস্তিনি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের যৌথ প্রচেষ্টায় নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্রের মূল পরিচালক বেসেল আদ্রা নামের এক ব্যক্তি, যিনি ইসরায়েলি সেনাদের হাতে তার শহরকে ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষার জন্য কাজ করছেন। এতে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারি, সেনাবাহিনীর অকথ্য নির্যাতন, বাস্তুহারানোর যন্ত্রণা, বেঁচে থাকার সংগ্রাম তুলে ধরা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটার হলে রোববার সন্ধ্যায় অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের ৯৭তম আসরে প্রামাণ্যচিত্র শাখায় সেরার পুরস্কার পেয়েছে ‘নো আদার ল্যান্ড’। যৌথভাবে অস্কার গ্রহণ করেছেন প্রামাণ্যচিত্রের দুই পরিচালক ফিলিস্তিনের অধিকারকর্মী বাসেল আদ্রা এবং ইসরায়েলের সাংবাদিক ইউভাল আব্রাহাম। এই প্রামাণ্যচিত্রটির শুটিং হয়েছে ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত। শুটিংয়ের শেষ বছরে ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলে হামলা চালানোর কয়েকদিন আগে এটির নির্মাণ শেষ হয়।

প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের ওই চার বছরে পশ্চিমতীরের মাসাফের ইয়াত্তা নামের একটি এলাকায় সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য সেখানকার বাসিন্দাদের উৎখাত করে ইসরায়েলি সেনারা। ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেসব দৃশ্য ক্যামেরাবন্দির কাজ করেছেন আদ্রা। ঘটনাচক্রে ইহুদি ইসরায়েলি সাংবাদিকের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে আন্দ্রার, যিনি এই প্রামাণ্যচিত্র বানাতে আন্দ্রাকে সহযোগিতা করেছেন। অস্কারের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন আন্দ্রা। গাজায় ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ বন্ধে এবং ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন আন্দ্রা। তিনি বলেন, “আমরা ফিলিস্তিন এবং ইসারয়েলিরা একসঙ্গে এই সিনেমাটি বানিয়েছি। কারণ আমাদের মিলিত কণ্ঠস্বর আরো শক্তিশালী।”

প্রামাণ্যচিত্রটির আরেক পরিচালক ইসরায়েলি সাংবাদিক ইউভাল আব্রাহাম বলেন, “গাজায় অবশ্যই নৃশংস হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে। এবং ২০২৩ সালের ৭অক্টোবরে বন্দি ইসরায়েলিদের মুক্তি দিতে হবে।” ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধানের পথ দেখিয়ে আব্রাহাম বলেন, “জাতিগত আধিপত্য ছাড়াই রাজনৈতিক সমাধান করতে হবে, যেখানে আমাদের উভয় জনগণের জন্য জাতীয় অধিকার থাকবে। এবং আমি এখানে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, পররাষ্ট্র নীতি এই পথকে বাধাগ্রস্ত করছে।”

সিরিয়ায় রাশিয়ার ঘাঁটি কি থাকছে ?

সিরিয়ায় রাশিয়ার হামেইমিম বিমানঘাঁটি ও সোভিয়েত আমলের টার্টোস নৌ ঘাঁটি এখন বিদ্রোহীদের পাহারায় রয়েছে। এখন সেখান থেকে রুশ কোনো গাড়িবহর বের হতে হলেও হায়াত তাহরির আল শাম (এইচটিএস) বিদ্রোহীদের পাহারার মধ্য দিতে যেতে হয়। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় সামরিক সংযোগ রাখতে রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এসব ঘাঁটির ভবিষ্যৎ এখন সিরিয়ার অন্তর্বতী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল – শারার হাতে। তিনি এখন বাশারের আমলে ৪৯ বছরের ইজারা দেওয়া এসব ঘাঁটির চুক্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে চান। তিনি এতে আরও নতুন শর্ত যুক্ত করতে চান। তবে পুরোপুরিভাবে রাশিয়ার এসব ঘাঁটি বন্ধ করে দিতে চান না। এর বিনিময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে কূটনৈতিক সমর্থন এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে চান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স সিরিয়া ও রাশিয়ার আটজন কূটনীতিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলেছে। এসব সূত্র শারার সঙ্গে পুতিনের বিশেষ দূতের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পর্কে জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করে এসব সূত্র বলছে, শত্রুতা পাশে সরিয়ে রাখলে দুই পক্ষেরই লাভ।ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সিরিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও এখনো ২ কোটি ৩০ লাখ জনগোষ্ঠীর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির বাণিজ্য করা কঠিন। কিন্তু রাশিয়ার অস্ত্র, জ্বালানি এবং গম সরবরাহ একটি জীবনরেখা হতে পারে।দামেস্কভিত্তিক একজন কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেছেন, দেশটির নেতারা আগের শত্রুদের সঙ্গেও শান্তি স্থাপন করতে ইচ্ছুক। রাশিয়ার জন্য দামেস্কে একটি সরকার দরকার যে তাদের স্বার্থ নিশ্চিত করবে। তাতেই তারা ওই সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে সম্মত হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে সিরিয়ার প্রতি খুব বেশি আগ্রহ দেখাননি। তিনি মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করতে চান। মার্কিন মিত্র ইসরায়েল চায়, তুরস্কের প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে রাশিয়া সিরিয়ায় থাকুক। দুটি সূত্র জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি দামেস্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাশারের অধীনে রাশিয়ার সঙ্গে ঋণচুক্তি বাতিলের দাবি জানান শারা। রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল বোগদানভের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তিন ঘণ্টার সাক্ষাতের সময়, সিরিয়ার কর্মকর্তারা বাশারের সিরিয়ায় প্রত্যাবর্তনের বিষয় উত্থাপন করেছিলেন। তবে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে সেটি বড় কোনো বাধা নয় বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। রাশিয়া বাশারকে ফেরত দিতে রাজি হবে না। রাশিয়ার কাছ থেকে বাশারকে এখনো ফেরত চাওয়াও হয়নি বলে রাশিয়ার একটি সূত্র জানিয়েছে।

পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য থেকে ব্যাটারি

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে – যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা একটি নতুন পরমাণু ব্যাটারি উদ্ভাবন করেছে, যা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। এটি একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার।কারণ এ ধরনের পরমাণু ব্যাটারি কোনো চার্জ বা রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়াই কয়েক দশক পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। গবেষণার নেতৃত্বদানকারী মেকানিক্যাল ও অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক রেমন্ড কাও বলেন, ‘আমরা যা বর্জ্য হিসেবে বিবেচনা করেছিলাম, সেটিকে ধীরে ধীরে সম্পদে পরিণত করার চেষ্টা করছি।’

এই ব্যাটারিতে কোনো ধরনের পারমাণবিক উপাদান ব্যবহার করা হয়নি, ফলে এটি নিরাপদ। কোনো ঝুঁকি ছাড়াই এটি স্পর্শ করা যাবে। ডিভাইসে ব্যবহৃত বিভিন্ন মাইক্রোচিপকে শক্তি দিতে এটি পর্যাপ্ত পারমাণবিক বিকিরণ সংগ্রহ করতে পারে। তবে এটি জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে না। এই প্রযুক্তি মহাকাশ ও গভীর সমুদ্র অনুসন্ধানে পারমাণবিক ব্যবস্থায় ব্যবহার করার কথা ভাবছেন গবেষকেরা। চীনের ১৪তম পঞ্চম বর্ষ পরিকল্পনার আওতায় বেইজিংয়েও এই প্রযুক্তির উন্নয়ন হচ্ছে। গত বছর চীনা কোম্পানি বেটাভোল্ট বলে তারা ফোন, ড্রোন ও মেডিকেল ডিভাইসের মতো বাণিজ্যিক কাজের জন্য পারমাণবিক ব্যাটারি উৎপাদন করতে চায়।

ওহাইওর পরীক্ষামূলক সংস্করণটির আকার প্রায় একটি চিনির দানার সমান, যা ১ দশমিক ৫ মাইক্রোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। তবে বড় আকারের সংস্করণগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আরও বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।গবেষক ইব্রাহিম অকসুজ বলেন, ‘এটি শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক ফলাফল। পারমাণবিক ব্যাটারি ধারণাটি খুবই আশাপ্রদ। একে আরও উন্নত করার সুযোগ রয়েছে। তবে আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে এই পদ্ধতি শক্তি উৎপাদন এবং সেন্সর শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান তৈরি করবে।’


দেশী ঋণের পেছনেই যাচ্ছে সুদ ব্যয়ের ৮৯%

পরিচালন ও উন্নয়ন খাত মিলিয়ে প্রতি বছরই বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে সরকারকে। যদিও ব্যয়ের তুলনায় রাজস্ব আয় অপর্যাপ্ত। এ অবস্থায় ঘাটতি মেটাতে বরাবরই দেশী ও বিদেশী উৎস থেকে ঋণ নিয়ে চলতে হচ্ছে। আর উচ্চ সুদহারের কারণে দেশী ঋণের সুদ পরিশোধে সরকারকে গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে সুদ পরিশোধে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে তার ৮৯%-ই গেছে দেশী ঋণের পেছনে। এ ৫ মাসে সরকারের পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪২%-ই গেছে সুদ পরিশোধে। চলতি অর্থবছর শেষে সুদ পরিশোধের পরিমাণ ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর আগে কখনই এ খাতে এত বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়নি।

সরকার নিম্ন রাজস্ব আয় ও উচ্চ ব্যয়ের একটি দুষ্টচক্রের মধ্যে পড়ে গেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বের হতে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও খেলাপি ঋণ আদায়ের মতো বিষয়গুলোয় যে ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজন ছিল যেকোনো কারণেই হোক সরকার তা গ্রহণে আগ্রহী নয় কিংবা নিতে পারছে না।’