Home Blog Page 181

গণতন্ত্রের পথ দেখিয়েছিল ফরাসি বিপ্লব

ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯-১৭৯৯) ইউরোপের ইতিহাসে এক বিপ্লবী পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক, সামাজিক, এবং অর্থনৈতিক কাঠামোর মধ্যে মৌলিক পরিবর্তন আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত বিপ্লবগুলির একটি হিসেবে পরিচিত যার ফলস্বরূপ ফ্রান্সের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপিত হয়। বিপ্লবের কারণে যেমন ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ কাঠামো বদলে গিয়েছিল তেমনি এর প্রভাব অন্যান্য ইউরোপীয় দেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল এবং বিশ্ব ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটেছিল। ফরাসি সমাজ ১৮ শতকের শেষদিকে ছিল ত্রিস্তরীয় (ত্রৈমাসিক) কাঠামো অনুসরণকারী, যা ছিল সমাজের মধ্যে তিনটি শ্রেণি :

প্রথম এস্টেট যাজক শ্রেণি। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ যারা রাজস্ব থেকে অব্যাহতি পেতেন এবং অন্যান্য অনেক বিশেষাধিকার ভোগ করতেন। তাদের কাছে বিশাল ভূমির মালিকানা ছিল এবং তারা সাধারণ জনগণের উপর প্রচুর প্রভাব বিস্তার করত। দ্বিতীয় এস্টেট অভিজাত শ্রেণি। ফ্রান্সের অভিজাত পরিবার এবং জমিদার শ্রেণি। যারা বৃহৎ জমির মালিক এবং রাজকোষ থেকে বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করতেন। এই শ্রেণির লোকেরা রাজনীতিতে সরাসরি প্রভাবশালী ছিলেন এবং সাধারণ জনগণের প্রতি তাদের কোনো দায়িত্ব ছিল না। তৃতীয় এস্টেট সাধারণ জনগণ। কৃষক, শ্রমিক, বুর্জোয়া (মধ্যবিত্ত) এবং অন্যান্য সাধারণ মানুষ যারা রাজস্ব প্রদান করতেন কিন্তু তাদের কোনো রাজনৈতিক অধিকার ছিল না। এই শ্রেণি ছিল সবচেয়ে বড় এবং তারা দেশের অভ্যন্তরীণ কাঠামোর প্রভাবিত অংশ।

ফ্রান্সের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল একেবারে সংকটময়। রাজা ষোড়শ লুই এবং তার পরে রাজা লুই ফিলিপের মধ্যে অপব্যয় এবং বিদেশী যুদ্ধের জন্য রাজকোষের বিপুল পরিমাণ ঋণ জমে গিয়েছিল। ১৭৮৯ সালে ফ্রান্সে খাদ্য সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, এবং কৃষির উৎপাদন হ্রাস পায় যা সাধারণ জনগণের দুর্দশা আরও বাড়িয়ে তোলে। এই সংকট আরও বৃদ্ধি পায় রাজ পরিবারের রাজকোষের অপব্যয়ের কারণে, রাজ্যের খাজনা সংগ্রহ করতে গিয়ে সাধারণ জনগণ অব্যাহতভাবে নিঃস্ব হতে থাকে। ফরাসি বিপ্লবের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল রাজতন্ত্রের প্রতি জনতার অসন্তোষ। ফ্রান্সের রাজতন্ত্রে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন রাজা কিন্তু তাঁর প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত এবং জনগণের শোষণে অভ্যন্ত ছিল। এই পরিস্থিতি তৈরি হতে থাকে যখন রাজা ষোড়শ লুই ১৭৮৮ সালে জাতীয় সংসদে ট্যাক্স বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। তৃতীয় এস্টেটের প্রতিনিধিরা তাদের বিরোধিতা জানাতে শুরু করেন এবং তাদের দাবী ছিল রাজস্ব ব্যবস্থায় সমতা আনা।

রাজা তাতে সাড়া দেননি এবং তার পরিবর্তে ১৭৮৯ সালের মে মাসে “এস্টেটস-জেনারেল” (জাতীয় সংসদ) আহ্বান করেন। তৃতীয় এস্টেট তাদের প্রতিনিধির সংখ্যা বাড়ানোর দাবি করে এবং যখন তাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়নি তখন তারা একত্রিত হয়ে ২০ জুন টেনিস কোর্টে শপথ নেন যে তারা একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন না করা পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হবেন না। এটি ছিল বিপ্লবের প্রথম পদক্ষেপ। তবে ১৪ জুলাই ১৭৮৯ সালে বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটে। এই ঘটনা বিপ্লবের প্রতীক হয়ে ওঠে। বাস্তিল দুর্গ ছিল রাজতন্ত্রবাদের প্রতীক।যেখানে রাজত্বের শত্রুদের আটক রাখা হতো। বাস্তিল দুর্গের পতন জনগণের মধ্যে এক বিপ্লবী আবেগ সৃষ্টি করে, এবং এটি বিপ্লবের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

ফরাসি বিপ্লবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলির মধ্যে একটি ছিল ১৭৮৯ সালে “মানবাধিকার সনদ” প্রণয়ন। এই সনদে ঘোষণা করা হয় যে সব মানুষের স্বাধীনতা, সমতা, এবং ভ্রাতৃত্ব অধিকার রয়েছে। এটি ফরাসি বিপ্লবের মূল ভিত্তি হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে বিশ্বের অন্যান্য বিপ্লবী আন্দোলনের প্রেরণা জোগায়। ১৭৯১ সালে ফ্রান্স একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্রে পরিণত হয়। যেখানে রাজা এবং আইনসভা একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে শাসন পরিচালনা করতেন। তবে এই পরিবর্তনও সমাজে অপর্যাপ্ত ছিল এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে আরও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল। এই সময়ে রাজা ষোড়শ লুই এবং তার পরিবার পালানোর চেষ্টা করেন কিন্তু তারা ধরা পড়ে এবং রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভআরও বৃদ্ধি পায়।

১৭৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ফ্রান্স একটি প্রজাতন্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বিপ্লবী আন্দোলন আরও জোরালো হয় এবং রবার্পিয়ার এবং অন্যান্য বিপ্লবী নেতা তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেন। ১৭৯৩ সালে রাজা ষোড়শ লুইকে হত্যা করা হয় এবং বিপ্লবের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো অনেককে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। এটি “সন্ত্রাসের সময়কাল” নামে পরিচিত এবং এই সময়ে হাজার হাজার মানুষ গ্রেপ্তার এবং মৃত্যুদণ্ডিত হয়। ফরাসি বিপ্লব শুধুমাত্র ফ্রান্সের রাজনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন করেনি বরং এর প্রভাব ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতে বিপ্লবী আবেগ ছড়িয়ে পড়ে এবং গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়। বিপ্লবের ফলে মানবাধিকার, নাগরিক অধিকার, এবং আইন সবার জন্য সমান হওয়ার ধারণা বিশ্বের বহু দেশে গ্রহণ করা হয়।

এই বিপ্লবের সবচেয়ে বড় প্রভাব ছিল রাজতন্ত্রের অবসান এবং প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা। এছাড়া জনগণের ক্ষমতার বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়। যেটি পরবর্তীতে আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন করজেট ফরাসি বিপ্লব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যা বিশ্বের ইতিহাসে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এর মাধ্যমে ফ্রান্সের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক কাঠামো আমূল পরিবর্তিত হয়েছিল এবং এটি পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য প্রেরণা সৃষ্টি করে। ফরাসি বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে, মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং সামাজিক সমতার ধারণা প্রতিষ্ঠা পায়। এর প্রভাব শুধু ফ্রান্সে সীমাবদ্ধ ছিল না এটি বিভিন্ন দেশে বিপ্লবী আবেগ ছড়িয়ে দেয় এবং আধুনিক গণতন্ত্রের ধারণার প্রচার করে।



মার্চ মাসে তাপমাত্রা থাকবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি

শীতের মাস ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে দেশে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল। সদ্য শেষ হওয়া ফেব্রুয়ারি মাসেও সেই ধারাবাহিকতা থেকেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, চলতি মার্চ মাসেও তাপমাত্রা থাকবে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। আবহাওয়া অধিদপ্তর মার্চ মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলেছে – এ মাসের ৯ তারিখের পর তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়তে পারে। মাসের শেষ দিকে এক থেকে দুটি তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা আছে। কালবৈশাখীরও সম্ভাবনা আছে এ মাসে। মার্চ মাসে দেশের স্বাভাবিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে ৩১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি বছর শীত ততটা পড়েনি। গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। আর ফেব্রুয়ারি মাসে তাপমাত্রা ছিল ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। ফেব্রুয়ারিতে বৃষ্টিও হয়েছে প্রায় ৭৭ শতাংশ কম।

রাজনীতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি : যা বললেন ড. ইউনূস

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সহস্রাধিক হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি এলেও এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার সবার ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অভ্যুত্থানকারী তরুণরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি তুললেও বিএনপিসহ অপরাপর রাজনৈতিক দলের সায় মিলছে না। এই অবস্থায় ড. ইউনূসের অবস্থান বিবিসি বাংলা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওই যে ঐকমত্য। আমরা বরাবরই ফিরে যাচ্ছি ঐকমত্যে। সবাই মিলে যা ঠিক করবে আমরা তাই করব।”

আওয়ামী লীগ কি নিষিদ্ধ হবে বা রাজনীতি করবে কি না বা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না- এই প্রশ্নে সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। ড. ইউনূস বলেন, “আমি অত ডিটেইলসে যাচ্ছি না। আমার বরাবরই পজিশন হলো যে আমরা সবাই এই দেশের নাগরিক। আমাদের এই দেশের ওপরে সমান অধিকার। আমরা সব ভাই ভাই। আমাদেরকে এই দেশেই বাঁচতে হবে। এ দেশকেই বড় করতে হবে। “কাজেই যে মত-দল করবে, তার মতো করে সবকিছু করবে। এই দেশ থেকে কারও অধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনও উপায় নাই। কিন্তু যে অন্যায় করেছে, যার বিচার হওয়া উচিৎ, তার বিচার হতে হবে। এটুকুই শুধু।”

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস।
তিনি বলেন, “একটা পলাতক দল দেশ ছেড়ে চলে গেছে বা তাদের নেতৃত্ব চলে গেছে। তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছে এটাকে (দেশটাকে) আনসেটেল (অস্থিতিশীল) করার জন্য।” আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের ক্ষোভের কথা তুলে ধরে ডঃ ইউনুস বলেন – “তারা মাঝে মাঝেই ঘোষণা করছে। বক্তৃতা দিচ্ছে। এড্রেস করছে। আপনি-আমরা সবাই শুনছি। মানুষ উত্তেজিত হচ্ছে। কর্মসূচি দিচ্ছে- হরতাল করো, অমুক করো। মানুষ কীভাবে নেবে এটাকে বলেন? এটা কি মিষ্টি মুখে চলে যাবে সব?”

ইউরোপে রেকর্ড ৪৩২৩৬ বাংলাদেশির আশ্রয় আবেদন

গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে রেকর্ড সংখ্যক বাংলাদেশি আশ্রয় চেয়েছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট দেশগুলো খুব কম ক্ষেত্রেই তাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে। সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন আশ্রয় সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর মোট ৪৩ হাজার ২৩৬ জন বাংলাদেশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে আশ্রয় চেয়েছিলেন। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪০ হাজার ৩৩২ জন। তবে, আশ্রয়প্রার্থী বৃদ্ধির কারণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত বছর বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের প্রায় ৪%-কে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, যা মোট আবেদনকারীদের মধ্যে সর্বনিম্ন।

গত বছর ইতালিতে সর্বাধিক ৩৩ হাজার ৪৫৫ বাংলাদেশি আশ্রয় চেয়েছিলেন। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৪৪৮ জন।তবে, সিরিয়া থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে ৯০%-কে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। আর আফগানিস্তানের আবেদনকারীদের মধ্যে ৬৩%-কে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী- গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডে ১০ লাখের বেশি লোক আশ্রয়ের আবেদন করে।

ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু – কানাডা , মেক্সিকো ও চীনের পণ্যে শুল্ক কার্যকর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার হোয়াইট হাউসে ঘোষণা দিয়েছেন- তিনি কানাডা ও মেক্সিকো থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ২৫% শুল্ক ৪ মার্চ থেকে কার্যকর করছেন। দেশ দুটির সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর সময়ও শেষ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০% শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তিন বাণিজ্য অংশীদারই-কানাডা, মেক্সিকো ও চীন-বড় বাণিজ্য বাধার মুখে পড়তে চলেছে। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জলি এদিন সাংবাদিকদের বলেন, কানাডা বাণিজ্য যুদ্ধ চায়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি এ যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে কানাডাও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, এই শুল্ক ‘আমাদের জন্য অস্তিত্বের হুমকি, হাজারো কানাডিয়ান কাজ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন’। এদিকে মেক্সিকো ও চীনও জানিয়েছে, তারাও মার্কিন শুল্কের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। এতে বাণিজ্য যুদ্ধ আরও তীব্র হতে পারে। ট্রাম্প দাবি করেছেন- কানাডা ও মেক্সিকোর ওপর শুল্ক আরোপের কারণ হলো অবৈধ মাদক ও অভিবাসনের অনিয়ন্ত্রিত প্রবাহ রোধ করা।

গত মাসে এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও কানাডা ও মেক্সিকোকে এক মাস বাড়তি সময় দেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০% শুল্ক কার্যকর করা হয়। ফলে এখন চীনা পণ্যের ওপর মোট শুল্ক দাঁড়িয়েছে অন্তত ২০%। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন- বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা ও মার্কিন শিল্পকে রক্ষা করার কার্যকর হাতিয়ার হলো শুল্ক। ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তারা যদি তাদের গাড়ির কারখানা ও অন্যান্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণ করে, তাহলে তাদের কোনো শুল্ক দিতে হবে না।’শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় ক্ষতিকর হতে পারে- এই আশঙ্কাকে তিনি আমলে নেননি। এ অঞ্চলে ব্যবসায়ীরা কয়েক দশক ধরে মুক্তবাণিজ্যের সুবিধা পাচ্ছেন।এই শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়বে এবং দেশটিতে আবারও মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে বলেই শঙ্কা। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় তার প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও ঘোষণা দিয়েছেন- আগামী ১২ মার্চ থেকে সমস্ত ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর ২৫% শুল্ক কার্যকর হবে। একই সঙ্গে যেসব দেশ মার্কিন পণ্যে শুল্ক আরোপ করবে, সেসব দেশের পণ্যেও পাল্টা শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যে ২৫% শুল্ক আরোপের হুমকিও তিনি দিয়ে রেখেছেন।

ইউক্রেন আলোচনার নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় ইউরোপ

সিএনএন জানিয়েছে, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক আলোচনার নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে উদ্যোগী হয়েছেন ইউরোপের নেতারা। এই লক্ষ্যে রোববার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার লন্ডনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এই সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কিসহ ইউরোপের একাধিক নেতা অংশ নেন। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টারমার বলেছেনড়ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং আরও কিছু দেশ একসঙ্গে মিলে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের একটি পরিকল্পনা তৈরি করবে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হবে। ট্রাম্পের মন রাখতে বেশ কৌশলী অবস্থানই নিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইউরোপে শান্তি বজায় রাখতে মার্কিন সমর্থন অপরিহার্য।’

এই প্রক্রিয়াটি গত মাসে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু করা আলোচনার বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। ইউরোপের নেতারা মনে করছেন, ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সরাসরি আলোচনায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি স্টারমারকে সতর্ক করে বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পশ্চিমা বিশ্ব যেন বিভক্ত না হয়ে পড়ে।’ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এখন এক সাংঘাতিক সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছে। ইউরোপের নেতারা শান্তি আলোচনার নতুন পথ তৈরি করার চেষ্টা করছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আলোচনার বিকল্প হতে পারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপের এই প্রচেষ্টাকে কীভাবে গ্রহণ করবে, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

লন্ডন বৈঠকে ইউরোপীয় নেতারা একমত হয়েছেন, ইউরোপ নিজেই নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সক্ষম, মার্কিন সহায়তা তাদের প্রয়োজন নেই। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় আরও বাড়ানোর ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন তাঁরা।অন্যদিকে, জেলেনস্কি জানিয়েছেন- ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরল খনিজ চুক্তিতে যেকোনো সময় স্বাক্ষর করতে রাজি তিনি।




ওয়ান লাভ , ওয়ান হার্টলেটস গেট টুগেদার অ্যান্ড ফিল অল রাইট

চোখ বন্ধ করুন। বেজ শুনুন। রেগের সেই মন্ত্রমুগ্ধ করা তাল। এক কণ্ঠস্বর, কাঁচা ও তীব্র, বাতাস কেটে ভবিষ্যদ্বাণীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে। বব মার্লে শুধুমাত্র একজন সংগীতশিল্পী ছিলেন নাড়তিনি ছিলেন এক শক্তি, এক বার্তাবাহক, এক আন্দোলন। তার সঙ্গীত শুধুমাত্র সুরের জন্য ছিল নাড়এটি ছিল স্বাধীনতা, প্রতিরোধ এবং ভালোবাসার জন্য। স্বাধীনতা ও বিপ্লবের সুর রেগে সংগীত জন্ম নিয়েছিল সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, আর মার্লে হয়ে উঠলেন এর সবচেয়ে শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। তিনি শুধু গান লেখেননি, তিনি সত্য লিখেছিলেনড়শোষণ, যুদ্ধ এবং শান্তি, এবং সেই অদম্য মানবাত্মার কথা, যা কখনো মাথা নত করে না। “গেট আপ, স্ট্যান্ড আপ, স্ট্যান্ড আপ ফর ইয়োর রাইটস।”

এটি শুধুমাত্র একটি গানের লাইন ছিল নাড়এটি ছিল একটি আহ্বান। তার সঙ্গীত বিশ্বজুড়ে নিপীড়িতদের জন্য একটি সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠেড়জ্যামাইকার বস্তি থেকে শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকার টাউনশিপ, আমেরিকার নাগরিক অধিকার আন্দোলন থেকে আফ্রিকার ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ পর্যন্ত। বব মার্লে নিঃশব্দদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন। ওয়ান লাভ, এক বিশ্ব মার্লে বিশ্বাস করতেন ঐক্যের চেয়ে শক্তিশালী কিছু নেই। তার দর্শন শুধু রাজনীতি নিয়ে ছিল নাড়এটি ছিল মানবতার জন্য। তিনি এমন এক বিশ্ব দেখেছিলেন যা জাতি, শ্রেণি ও লোভের দ্বারা বিভক্ত, এবং তিনি এর প্রতিক্রিয়ায় একটি সহজ কিন্তু শক্তিশালী ধারণা ছড়িয়ে দিলেন: ভালোবাসা। “ওয়ান লাভ, ওয়ান হার্ট, লেটস গেট টুগেদার অ্যান্ড ফিল অল রাইট।”

এটি শুধুমাত্র একটি গান ছিল নাড়এটি ছিল একটি স্বপ্ন। তার সঙ্গীত রাস্টাফারিয়ান আদর্শ প্রচার করেছিলড়শান্তি, আধ্যাত্মিক মুক্তি, এবং “বেবিলন” (দমনমূলক শাসনব্যবস্থা) এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের বার্তা। তিনি রেগেকে এক আন্তর্জাতিক আন্দোলনে পরিণত করেছিলেন, যা শিল্পী, কর্মী এবং বিশ্বনেতাদের প্রভাবিত করেছিল। মার্লে ও বৈশ্বিক পরিবর্তন বব মার্লের প্রভাব শুধুমাত্র তার গানের জনপ্রিয়তায় সীমাবদ্ধ ছিল নাড়এটি অনুভূত হয়েছিল বিপ্লবে, শান্তিচুক্তিতে, ও সংস্কৃতির জাগরণে। আফ্রিকার স্বাধীনতার সংগ্রাম তার গান “তরসনধনবি” স্বাধীনতার জন্য লড়াইরত জিম্বাবুয়ের এক বিপ্লবী সংগীত হয়ে ওঠে। ১৯৮০ সালে দেশটি স্বাধীনতা অর্জন করলে, বিজয় উদযাপনে মার্লে স্বয়ং সেখানে পারফর্ম করেন। নেলসন ম্যান্ডেলা ও অসংখ্য বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনকারীর জন্য তার সংগীত ছিল প্রেরণা।

জ্যামাইকার রাজনৈতিক সংঘাত ১৯৭৮ সালে, জ্যামাইকা রাজনৈতিক হিংসায় জর্জরিত ছিল। ওয়ান লাভপিস কনসার্টে, মার্লে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক নেতাকে একই মঞ্চে নিয়ে আসেন এবং তাদের হাতে হাত মিলিয়ে দেন। বিশ্ব দেখল, যেখানে রাজনীতিবিদেরা ব্যর্থ, সেখানে সংগীত একত্রিত করতে পারে। হিপ-হপ ও পপ সংস্কৃতিতে প্রভাব তার প্রতিরোধ ও স্বাধীনতার বার্তা হিপ-হপ, রেগে-ফিউশন সহ বিভিন্ন ধারার শিল্পীদের প্রভাবিত করেছে, যেমন টু-প্যাক, লরিন হিল এবং অনেক আধুনিক শিল্পী। তার চেহারা এখনো টি-শার্টে, দেয়ালের চিত্রে, এবং প্রতিবাদের ব্যানারে দেখা যায়।

অমর বার্তা বব মার্লে ১৯৮১ সালে মারা যান, কিন্তু আপনি কি কখনও একটি গানকে হত্যা করতে পারেন? কীভাবে আপনি একটি বিপ্লবী সুরকে থামাবেন? আপনি পারবেন না। তার সংগীত আজও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বাজেড়সেটা রাতের আকাশের নিচে কোনো ক্যাম্পফায়ার হোক, কিংবা মুক্তির জন্য লড়াইরত জনতার শিবির। তার বার্তা ছিল সহজ: একত্রিত হও। ভালোবাসো। নিজের চিন্তাকে মুক্ত করো। ন্যায়ের জন্য দাঁড়াও। “নিজেকে মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্ত করো, আমাদের নিজেদের ছাড়া কেউ আমাদের মন মুক্ত করতে পারবে না।” প্রশ্ন একটাইড়আমরা কি সত্যিই শুনছি?



সংস্কার কিভাবে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস

সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তাঁর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রায় সাত মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সংস্কার ও নির্বাচন, ছাত্র নেতৃত্বের নতুন দল গঠন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি প্রসঙ্গসহ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারে সংস্কার বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা একেবারে প্রত্যেকটা সুপারিশ দেব। সুপারিশের সঙ্গে কথা থাকবে যে, আপনার রাজনৈতিক দল এটা কি সমর্থন করে? এটাতে রাজি আছেন? রাজি থাকলে বলেন, রাজি না থাকলে বলেন। বা এই যে সুপারিশটা আছে সেটার মধ্যে যদি কোনো একটা সংশোধনী এনে রাজি হবেন, সেটা বলেন। এটা কি নির্বাচনের আগে সংশোধন করা ঠিক হবে নাকি নির্বাচনের পরেসব প্রশ্নের এখানেই সমাবেশ আছে।

রাজনৈতিক দলকে শুধু বলতে হবে কোনটা? সবকিছু মিলালে আমরা এটা ঠিক করব কোন সুপারিশে সবাই একমত হয়েছে। সেটা আলাদা করব যে এটাতে সবাই একমত হয়েছে। এ রকম যে সমস্ত সুপারিশে তারা একমত হয়েছে, সেগুলো আমরা আলাদা একটা কাগজে নিয়ে আসব যে এই সব বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে। তবে এটাকে আমরা বলব একটা চার্টারুজুলাই চার্টার। সবাইকে আহ্বান জানাব, আপনারা সবাই যেহেতু একমত হয়েছেন এটাতে সই করে দেন। জুলাই চার্টারের মতোই আমরা চলব। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচনটা হবে। নির্বাচনের আগে যেটা বলেছেন সেটা নির্বাচনের আগে হবে, যেটা নির্বাচনের পরে বলেছেন সেটা নির্বাচনের পরে হবে। এটা আপনাদের বিষয়। কিন্তু আপনারা একমত হয়েছেন। সেই ঐকমত্যই আমরা গঠন করার চেষ্টা করছি।’

নির্বাচনটা এ বছরের মধ্যেই হচ্ছে কিনা এ প্রশ্নে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরাতো সেটা ঘোষণা করে দিয়েছি। আবার নতুন করে বলারতো কিছু নাই।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘একটা সংস্কার দরকার আমাদের। কারণ যে কারণে এসব ঘটনা ঘটেছে, ফ্যাসিবাদী সরকার চলতে পেরেছে। ১৬ বছর ধরে চলতে পেরেছে, আমরা কিছুই করতে পারি নাই। তিন – তিনটা নির্বাচন হয়ে গেলো, ভোটারের কোনো দেখা নাই। এই যে অসংখ্য রকমের দুর্নীতি এবং ব্যর্থতা, মিসরুল ইত্যাদি সেখান থেকে আমরা কীভাবে টেনে বের করে আনবো। টেনে বের করে আনতে গেলে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলো করতে হবে।’



দ্রুত বড় হচ্ছে ব্যবহৃত পোশাকের বিশ্ব বাজার

বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত পোশাকের কদর বাড়ছে। ফ্যাশনদুরস্ত নতুন পোশাকের চেয়ে পুরোনো পোশাকের বাজার বাড়ছে দ্রুত হারে। ধারণা করা হচ্ছে, পোশাকের মূল বিশ্ববাজার অর্থাৎ নতুন পোশাকের বৈশ্বিক ফ্যাশন বাজারকে ছাড়িয়ে যেতে পারে পুরোনো পোশাক। একটি অসমর্থিত হিসাবে, আগামী ২০২৭ সাল নাগাদ ৩৫০ বিলিয়ন ডলারে পরিণত হতে পারে পুরোনো কাপড়ের বিশ্ববাজার। জেনারেশন জেড (জেন জেড) প্রজন্মের ভোক্তারা বেশি হারে ব্যবহৃত পোশাক কেনাকাটা করছেন বা কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। জেন জেড প্রজন্ম হচ্ছে ১৯৯৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে যাদের জন্ম। তাদের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের উদ্বেগজনিত পরিবেশ সচেতনতা, ডিজিটাল রূপান্তর ও করোনার প্রত্যক্ষ প্রভাব এবং এ সম্পর্কিত অর্থনৈতিক ভাবনা রয়েছে।

এই জেন জেড প্রজন্ম অন্যান্য পণ্যের মতো বস্ত্র ও পোশাকের বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবিলায় পানিসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার কমানো এবং উৎপাদন কাজে কার্বন নিঃসরণ কমাতে নতুন উৎপাদন নিরুৎসাহিত করার কথা বলা হচ্ছে। এর ফলে ব্যবহৃত পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। ফ্যাশন শিল্প পৃথিবীর অন্যতম প্রধান দূষণকারী সেক্টর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা বৈশ্বিক কার্বন ফুটপ্রিন্টের ৮-১০% অংশ জুড়ে রয়েছে। পোশাকের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ পানি, শক্তি এবং রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়, যা পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।এছাড়া, ফাস্ট ফ্যাশনের কারণে দ্রুত নতুন পোশাক তৈরি ও ব্যবহৃত পোশাকের ফেলে দেয়ার প্রবণতা আরও বেশি ক্ষতিকর হিসেবে কাজ করছে।

এমন প্রেক্ষাপটে, সারা বিশ্বে সাস্টেইনেবল ফ্যাশন মুভমেন্টের অংশ হিসেবে “থ্রিফট শপিং” বা ব্যবহারকৃত পোশাক কেনাবেচা অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এটি মূলত ফ্যাশন শিল্পে এক ধরনের পুনর্ব্যবহারের ধারণা প্রচলিত করেছে। ফেসবুক পেইজ এবং অন্যান্য ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মেও থ্রিফট শপিংয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম এই অনলাইন থ্রিফট পেইজগুলোতে প্রচুর সক্রিয় এবং নতুন নতুন আইটেম খুঁজে পেতে আগ্রহী। চাহিদা বাড়ায় ব্যবহৃত পোশাকের বিপণন নেটওয়ার্কে নিত্যনতুন বাণিজ্যিক কার্যক্রম গড়ে উঠছে। আগামীতে পুরোনো কাপড়ের আরও নতুন ধরনের ব্যবসা কার্যক্রম দেখা যেতে পারে। কম খরচে ভালো মানের পোশাক পাওয়ার সুবিধা, পরিবেশ সচেতনতা ও অনলাইন মার্কেটিং এর বিস্তৃতির কারণে মূলত ব্যবহৃত পোশাকের বাজার দ্রুত বাড়ছে।



ভারতে ১০০ কোটি মানুষেরই বাড়তি খরচের ক্ষমতা নেই

১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারতে প্রায় ১০০ কোটি মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বা সেবার বাইরে ব্যক্তিগত শখ পূরণের জন্য অতিরিক্ত খরচের টাকা নেই। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের বরাতে দেশটির ধনী-দরিদ্র বিভাজনের এই চিত্র জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। ব্লুম ভেঞ্চারস নামের একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে ব্যবসা বা স্টার্টআপের পণ্যের সম্ভাব্য বাজার বা প্রকৃত ভোক্তা শ্রেণিতে মানুষ রয়েছেন মাত্র ১৩ থেকে ১৪ কোটি, যা মেক্সিকোর মোট জনসংখ্যার সমান। তাদের সঙ্গে রয়েছেন ৩০ কোটি উদীয়মান বা ‘সম্ভাব্য’ ভোক্তা, যারা খুব হিসাব করে খরচ করেন।

ওই প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে ভোক্তাশ্রেণির আকার বৃদ্ধি পাচ্ছে না, তবে ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থাৎ, ভারতে ধনীর সংখ্যা আসলে বাড়ছে না, বরং ধনীদের সম্পদ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওই শীর্ষ ১০ শতাংশই তাদের ক্রয়ক্ষমতার মাধ্যমে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাজার ও বিক্রিকে সচল রাখছে। আর এই কারণে সাধারণ মানুষের চাহিদার দিকে মনোযোগী না হয়ে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো ধনী ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যয়বহুল ও উন্নত পণ্য উৎপাদন এবং এসব পণ্য বিক্রিতে জোর দিয়েছে। অতি-বিলাসবহুল আবাসন এবং প্রিমিয়াম দামের ফোনের বাজার বৃদ্ধি এর উদাহরণ। অথচ কমদামী আবাসন ও ফোনের বাজার সেই তুলনায় খুবই কম বেড়েছে। ব্র্যান্ডেড পণ্যের বাজারের আকারও বেড়েছে। পাশাপাশি, ‘এক্সপেরিয়েন্স ইকোনমি’ বা ‘অভিজ্ঞতা অর্থনীতি’ তথা বিনোদন ও বিলাসব্যসনের প্রতি মানুষের আগ্রহ তীব্রভাবে বেড়েছে।

কোভিড পরবর্তী ভারতে ধনীরা আরও ধনী হয়েছে, আর দরিদ্ররা ক্রয়ক্ষমতা হারিয়েছেড়প্রতিবেদনটি দীর্ঘদিনের এই ধারণাকে আরও সুসংহত করেছে। প্রকৃতপক্ষে, এই প্রবণতা মহামারির আগেই শুরু হয়েছিল। ভারতে আয়বৈষম্য ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে দেশের শীর্ষ ১০% জনগণের হাতে জাতীয় আয়ের ৫৭.৭% কেন্দ্রীভূত, যেখানে ১৯৯০ সালে এই হার ছিল ৩৪%। অন্যদিকে, দেশটির নিম্ন স্তরের ৫০% জনগণের আয়ের অংশ ২২.২% থেকে কমে ১৫%-তে নেমে এসেছে। তবে সম্প্রতি ভোগ্যপণ্যের বাজারে স্থবিরতা কেবল ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের কারণে নয়, বরং সাধারণ জনগণের আর্থিক সঞ্চয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া এবং ঋণের বোঝা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলেও হয়েছে। দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণি, যা এত দিন ভোক্তা বাজারের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে, ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মার্সেলাস ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজারসের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে তাদের আয় কার্যত স্থবির হয়ে আছে।

এ ছাড়া, বেকারত্বের নতুন একটি মাত্রা যুক্ত করেছে, হোয়াইট-কলার (মেধাভিত্তিক) চাকরির সংকট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কারণে দাপ্তরিক ও রুটিন কাজ দ্রুত স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে এই চাকরিগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। সরকারের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সমীক্ষায়ও বলা হয়েছে, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে শ্রমবাজারে স্থানচ্যুতি বিশেষত ভারতের মতো পরিষেবানির্ভর অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের বিষয়, যেখানে আইটি খাতের একটি বড় অংশ কম মূল্য সংযোজনমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত এবং যা অটোমেশনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বড় একাধিক দেশের মতো ভারতও একটি ভোেগ নির্ভর অর্থনীতি। ফলে আর্থিক বৈষম্য এবং চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেলে অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়তে পারে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেশি হ্রাস পেলে অর্থনীতির গতি শ্লথও হয়ে পড়তে পারে।