- দেশে গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট।
- দেশীয় গ্যাস উৎপাদন প্রায় ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট, আমদানি করা এলএনজি ৭০০-৮০০ মি.ঘ। ঘাটতি প্রতিদিন ১৩০০ মি. ঘ.।
- তীব্র গ্যাস সংকটে শিল্প খাত মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বাসা-বাড়িতে জ্বলছে না রান্নার চুলা। উদ্বেগ বাড়ছে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে।
- আন্তর্জাতিক বাজার থেকে যে দামে এলএনজি কিনতে হয়, দেশে তার চেয়ে কম দামে বিক্রি করায় বিপুল ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
- আগামী ৬-৭ বছরের মধ্যে দেশের মোট ব্যবহৃত গ্যাসের ৭৫%-ই আমদানি করতে হবে। বর্তমানে ২৫% আমদানি হয়।
কমছে গ্যাসের উৎপাদন , গভীর হচ্ছে জ্বালানি সংকট
তুরস্ক – কুর্দি ৪০ বছরের সংঘাত অবসানের সম্ভাবনা
তুরস্কের সঙ্গে চার দশক ধরে সংঘাতে জড়িত নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠী কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) তাদের নেতা আবদুল্লাহ ওজালানের আহ্বানে অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছে এবং পার্টিকে বিলুপ্ত করার সংকল্প ব্যক্ত করেছে। ১ মার্চ বিবৃতিতে পিকেকে তুরস্ক সরকারের প্রতি তাদের নেতা ওজালানকে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে; যাতে তিনি ‘নিরস্ত্রিকরণ প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিতে পারেন’।পিকেকে ও তুর্কি রাষ্ট্রের মধ্যে শান্তির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কুর্দিপন্থি ডিইএম পার্টির একটি প্রতিনিধিদল আবদুল্লাহ ওজালানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কারাগারে যান। যেখানে তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে বন্দি রয়েছেন।
প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাতের পর ওজালান একটি বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে পিকেকে কে অস্ত্র সমর্পনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি এই আহ্বানের ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ করছি। সব গোষ্ঠীকে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে এবং পিকেকে অবশ্যই বিলুপ্ত হতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি কুর্দিদেরকে তুরস্কের সাথে সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের সঙ্গে মিলিত হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তুরস্ক সরকারের সহযোগী এবং কট্টর – জাতীয়তাবাদী দল এমএইচপির নেতা দেবলেত বাহচেলির মধ্যস্থতায় কয়েক মাস আগে শুরু হয় এই শান্তি উদ্যোগ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগ পর্যন্ত তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি অঞ্চলজুড়ে বসবাস করেছে কুর্দি গোষ্ঠী। বিশ্বযুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্য বিভিন্ন জাতিরাষ্ট্রে ভাগ হলেও কুর্দিরা স্বতন্ত্র রাষ্ট্র পায়নি। ইরাক, ইরান, সিরিয়া, তুরস্কড়এই চারটি দেশে ছড়িয়ে আছে তারা।
কুর্দিস ইনস্টিটিউট প্যারিসের ২০১৭ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী তিন দশমিক ছয় থেকে সাড়ে চার কোটি কুর্দি জনগণ আছে। বিবিসি জানায়, তুরস্কের আট কোটি পাঁচ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশই কুর্দি। কুর্দিদের জন্য একটি স্বতন্ত্র মাতৃভূমি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৮৪ সাল থেকে তুরস্কে বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে পিকেকে। পরে বিচ্ছিন্নতাবাদী লক্ষ্য থেকে সরে এসে দক্ষিণ – পূর্ব আনাতোলিয়ায় আরো বেশি স্বায়ত্তশাসিত একটি অঞ্চল এবং কুর্দিদের জন্য সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত অধিকারের দাবি জানাতে থাকে।
পিকেকে – র সাথে যুক্ত গোষ্ঠীগুলো তুরস্কে মাঝেমধ্যেই হামলা চালায়। তুরস্কের পাশাপাশি সিরিয়া ও ইরাকেও এই গোষ্ঠীর সদস্যদের অবস্থান রয়েছে। তুরস্ক ও এর মিত্র ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র মার্ক্সবাদী পিকেকে – কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বিদ্রোহ শুরুর পর থেকে সহিংসতায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কুর্দি- সমর্থিত রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে ব্যাপক কঠোর অবস্থানে যায় তুরস্ক সরকার। অনেক নেতাকেই গ্রেপ্তার করে কারাদণ্ড দেয়। বাশার আল -আসাদের পতনের পর সিরিয়ার কুর্দি – অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতেও হামলা চালাতে থাকে তুরস্ক – সমর্থিত বাহিনীগুলো। গত মাসে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসকে নির্মূল করার জন্য সিরিয়ার নতুন প্রশাসনকে আহ্বান জানায় তুরস্ক।
অতিরিক্ত স্ক্রীন টাইম কি কি ক্ষতি করতে পারে আপনার
বর্তমান যুগে প্রযুক্তি জীবনযাত্রাকে সহজ ও সুবিধাজনক করেছে। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে আমরা দ্রুত যোগাযোগ করতে পারি, তথ্য সংগ্রহ করতে পারি এবং বিনোদন উপভোগ করতে পারি। কিন্তু এসব ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। দিনের পর দিন স্ক্রীনের সামনে দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যর সৃষ্টি করে। চলুন, দেখি অতিরিক্ত স্ক্রীন টাইমের কারণে কী কী শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে:
চোখের সমস্যা
মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রীনের দিকে দীর্ঘ সময় তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের পেশী ক্লান্ত হয়ে পড়ে, যার ফলে দেখা দেয় ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেইন’ বা চোখের ক্লান্তি। এর ফলে চোখে জ্বালা, ঝাপসা দেখার সমস্যা, মাথা ব্যথা এবং কনজাংটিভাইটিস (চোখের প্রদাহ) হতে পারে। স্ক্রীনের আলোও চোখের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে রাতে অন্ধকারে স্ক্রীন ব্যবহার করার সময়।
মেরুদণ্ডের সমস্যা
কম্পিউটার স্ক্রীন ব্যবহার করার সময় অনেকেই ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকেন, যা মেরুদণ্ডের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে পিঠ ও ঘাড়ের পেশী শক্ত হয়ে যায়। ফলে ব্যথা, সোজা হয়ে না দাঁড়ানো এবং মেরুদণ্ডের বক্রতা সৃষ্টি হতে পারে।
হাত ও কব্জির সমস্যা
ল্যাপটপ, স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট ব্যবহার করার সময় হাত ও কব্জির উপর অনেক চাপ পড়ে। দীর্ঘ সময় টাইপ বা স্ক্রীন স্পর্শের কারণে ‘রিস্ট স্ট্রেন’ বা কব্জির ব্যথা হতে পারে। এছাড়া ‘কার্পাল টানেল সিনড্রোম’ নামক সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা হাতের অসাড়তা বা ব্যথা সৃষ্টি করে।
ঘুমের সমস্যা
স্ক্রীনের নীল আলো আমাদের মস্তিষ্কে এমন সংকেত পাঠায় যা ঘুমের জন্য উপকারী হরমোনের উৎপাদনকে বাধাগ্রস্ত করে। রাতে ঘুমানোর আগে স্ক্রীন ব্যবহার করলে ঘুমের মান কমে যেতে পারে এবং অশান্তির অনুভূতি হতে পারে। এটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে ইনসমনিয়ার মতো ব্যাধিও সৃষ্টি হতে পারে।
স্থূলতার প্রবণতা
স্ক্রীনের সামনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলে সাধারণত শারীরিক কার্যকলাপ কমে যায়। এতে ক্যালোরি খরচ কমে যায় এবং স্থূলতা বা ওজন বাড়তে পারে। দীর্ঘসময় বসে থাকার ফলে শরীরের ত্বকও সঠিকভাবে রক্ত সঞ্চালন করতে পারে না, যার ফলে স্বাস্থ্যগত সমস্যা সৃষ্টি করে। তবে এর থেকে বাঁচার উপায়ও রয়েছে। প্রতিদিন ডিভাইস ব্যবহারের সময়সীমা সীমিত করা, নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়া, শারীরিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি করা, আশপাশের সকলকে ও নিজেকে সময় দেওয়া এসব শারীরিক সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে। এক্ষেত্রে সচেতনতা ও নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে এই রুটিন বজায় রাখা সম্ভব।
লস এঞ্জেলেস দাবানল নিয়ে যত কন্সপিরেসি থিওরি
লস এঞ্জেলেস এলাকায় একাধিক দাবানল সৃষ্টির কারণ খুঁজে বের করার জন্য গবেষক দল ও তদন্তকারীরা কাজ করছেন। এর মধ্যে কিছু মিথ্যা তত্ত্বও সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। সেলিব্রিটিদের জড়িত হওয়া থেকে শুরু করে গোপন সরকারী অস্ত্রের ব্যবহারসহ অনেক কিছু। এসব ভিত্তিহীন তত্ত্ব মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউ পাচ্ছে! ভ্রান্ত ভিডিওগুলোর মাধ্যমে একটি তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে, যেটি দাবি করে ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপন (DEWs) বা “লেজার বা মাইক্রোওয়েভ সিস্টেম” ব্যবহার করে দাবানল সৃষ্টি করা হয়েছে। এই তত্ত্বে বলা হয়েছে গোপন সরকারী সংস্থা বা গোপন সংগঠনগুলি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগুন লাগাতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা একাধিকবার এই দাবিকে মিথ্যা প্রমাণ করেছেন এবং এর পরিবর্তে প্রাকৃতিক কারণগুলি যেমন বাতাস, ভূমি, এবং গাছপালা এই ধরনের অস্বাভাবিক পুড়ে যাওয়ার ধরন সৃষ্টি করেছে বলে ব্যাখ্যা করেছেন। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিছু সামরিক উদ্দেশ্যে DEWS পরীক্ষা করেছে, তবুও কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই যে এগুলি সিভিলিয়ান ব্যবহারের জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। বিশেষত দাবানল সৃষ্টি করতে! ২০১৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানলে এই তত্ত্বটি আবার উঠে আসে। যেখানে প্রতিনিধি মারজোরি টেলর গ্রিন দাবী করেছিলেন মহাকাশ থেকে লেজার দ্বারা আগুন লাগানো হতে পারে। ২০২৩ সালের কানাডা এবং মাউই দাবানল, ২০২৪ সালের টেক্সাস স্মোকহাউস ক্রীক দাবানলের পরেও এই কল্পকাহিনী ছড়িয়ে পড়ে।
আরেকটি দল দাবি করছে যে সরকার Los Angeles এর দাবানল ঠেকানোর জন্য বায়ুমণ্ডলে “মেঘ বীজিং” (cloud seeding) ব্যবহার করেছে। কেউ কেউ মনে করেন, এই ধরনের তত্ত্বগুলো বিশ্বাস করা সহজ কারণ তারা বড় বিপর্যয়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার আশায় থাকে। তবে এইসব তত্ত্ব এখনও ভিত্তিহীন এবং আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন এই ধরনের প্রযুক্তি যদি ব্যবহারও করা হতো, তবে লস এঞ্জেলেসের বায়ুমণ্ডলে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকার কারণে এটি কার্যকর হতো না।
আরেকটি দল দাবি করছে যে সরকার Los Angeles এর দাবানল ঠেকানোর জন্য বায়ুমণ্ডলে “মেঘ বীজিং” (cloud seeding) ব্যবহার করেছে। কেউ কেউ মনে করেন, এই ধরনের তত্ত্বগুলো বিশ্বাস করা সহজ কারণ তারা বড় বিপর্যয়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার আশায় থাকে। তবে এইসব তত্ত্ব এখনও ভিত্তিহীন এবং আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন এই ধরনের প্রযুক্তি যদি ব্যবহারও করা হতো, তবে লস এঞ্জেলেসের বায়ুমণ্ডলে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা না থাকার কারণে এটি কার্যকর হতো না।
আরেকটি ভিত্তিহীন দাবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে দাবানলগুলি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শুরু করা হয়েছে যাতে সরকার “স্মার্ট সিটি” তৈরি করতে পারে। এই তত্ত্বটি বিশেষ করে মাউই দাবানলের পর ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছিল। তবে বাস্তবে, “SmartLA 2028” পরিকল্পনায় শহরের পরিবহন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তন করা হতে পারে, কিন্তু এতে কোনো ধরনের বৃহৎ ধ্বংসযজ্ঞের পরিকল্পনা নেই। অপর একটি গুজব টিকটকে ভাইরাল হয়ে উঠেছে, যেখানে বলা হচ্ছে সেলিব্রিটি শন “ডিডি” কম্বসের বিরুদ্ধে সেক্স ট্রাফিকিং মামলা লুকানোর জন্য দাবানল তৈরি করা হয়েছে। বাস্তবে কম্বসের বাড়িটি আগুনের মধ্যে পড়েনি এবং তার বাড়ি ইভাকুয়েশন জোনের বাইরে ছিল। সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি এসব বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে গেলেও বিশেষজ্ঞরা এখনও নির্দিষ্ট কিছু জানাতে পারেননি।
বড় লক্ষ্য অর্জনে ইউক্রেনকে দূরে ঠেলছেন ট্রাম্প
শুক্রবার হোয়াইট হাউসের বিরল ঘটনার পর বিশ্লেষকদের অনেকের ধারণা, ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পাশে থাকার পর এবার জেলেনস্কির হাত পুরোপুরি ছাড়তে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। এর পেছনে রয়েছে ট্রাম্পের বড় কোনো উদ্দেশ্য। ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেওয়া পদক্ষেপে বহু আগে থেকেই বিরক্ত ছিলেন ট্রাম্প। ইউক্রেনকে দেওয়া অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ফেরত আনার কথা সম্প্রতি বেশ কয়েকবার বলেছেন ট্রাম্প। সে লক্ষ্যে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে জেলেনস্কিকে চাপ দিচ্ছিলেন। ট্রাম্প আসলে কী চাইছেন, সে সম্পর্কে একটি ধারণা দিয়েছেন নিউইয়র্ক টাইমস – এর ওয়াশিংটন প্রতিনিধি ডেভিড ই স্যাঙ্গার। ইউরোপের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে তিনি বলেন – ট্রাম্প যা চান, তা হলো রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।
এর জন্য যদি ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা নিয়ে ইতিহাস নতুন করে লিখতে হয়, মস্কোর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত খারিজ করতে হয় এবং ইউক্রেনের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পায়ে ঠেলতে হয়ড়ট্রাম্পকে দেখে মনে হয়, তা করতেও রাজি আছেন তিনি। ট্রাম্পের সামনে আরও লক্ষ্য রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপ ও এশিয়ায় নিজেদের শক্তিমত্তা বাড়াতে বিভিন্ন দেশকে মিত্র বানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে ওই দেশগুলোকে অর্থনৈতিক ছাড়ও দিতে হয়েছে। ডেভিড ই স্যাঙ্গার বলেন, আগে থেকেই ট্রাম্প এই নীতির বিরোধী। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র কেন এমন দেশের সুরক্ষা দেবে, যাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের বাণিজ্যিক ঘাটতি রয়েছে। এবার ক্ষমতায় বসার পর সেই বিরোধীতা বাস্তবায়নে নেমেছেন ট্রাম্প। গত পাঁচ সপ্তাহে তাঁর নানা পদক্ষেপে সেটি স্পষ্ট হয়েছে।
এদিকে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর থেকে মার্কিন সরকারের ব্যয় কমাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্রাম্প। এ লক্ষ্যে সরকারি দক্ষতা বিভাগ নামে নতুন একটি বিভাগও খুলেছেন। অনেক দেশে মার্কিন সহায়তা স্থগিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কর্মকর্তাদের ছাঁটাই করা হচ্ছে। এর মধ্যে ইউক্রেনকে সহায়তা জারি রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় একটি বোঝা। বাইডেনের আমল থেকেই এই সহায়তার বিরোধী ছিলেন ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির অনেক আইনপ্রণেতা।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও সংঘাতে খনিজ
খনিজ সম্পদের লোভে বিশ্ব রাজনীতিতে সংঘাত
প্রাকৃতিক সম্পদের লোভে একাধিক দেশের বা জনগণের অধিকার দাবি দীর্ঘকাল ধরে সংঘাতের কারণ হয়ে এসেছে। এই সংঘাতগুলো মূলত খনিজ সম্পদের উপযুক্ত ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করে। সংঘাতগুলি শুধু স্থানীয় স্তরে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য সংঘাতের মূল কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সীমিত বিরল সম্পদ। এই ধরনের মধ্যে যেমন জল, খনিজ, তেল, মাটি, বন ইত্যাদি, যেগুলো বিশেষ ভূখণ্ডে পাওয়া যায়, সেখানে বিভিন্ন দেশের বা জনগণের মধ্যে অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলগুলি যেখানে প্রাকৃতিক সম্পদ বেশি ঘনিভাবে পাওয়া যায়, সেগুলোর জন্য দেশগুলো একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে থাকে। এক্ষেত্রে পানির উৎস, তেল কিংবা খনিজ উপাদানগুলোর উপর অধিকার প্রতিষ্ঠা বা তাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার জন্য যুদ্ধ বা বিরোধ হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, তেল সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের অঞ্চলগুলোতে সম্পদ নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশগুলোর মধ্যে বহুবার সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীসমূহ তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে অনেক সময় প্রাকৃতিক সম্পদ বিক্রি করে। এইভাবে তারা তাদের অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ ও লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করে। সিরিয়া ও আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে বিদ্রোহী গোষ্ঠী গুলি খনিজ, তেল বা অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ পাচার করে থাকে।
কিংবা সরকার বিরোধী পক্ষরা একসময় সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চল দখল করে এবং সেই সম্পদের বিক্রি করে তাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ করে। এর ফলে ওই অঞ্চলের জনগণের মধ্যে দারিদ্র্য বৃদ্ধি পায় এবং সংঘাত দীর্ঘমেয়াদী হয়ে ওঠে। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো (ডিআরসি) এবং সিয়েরা লিওন এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। ১৮৩৭ সালে স্পেন এবং পেরুর মধ্যে সংঘটিত এই যুদ্ধটি ছিল মূলত গুয়ারানা (এক ধরনের সমুদ্রের প্রাণী) সংগ্রহের জন্য। চিনচা দ্বীপপুঞ্জ পেরুর উপকূলে অবস্থিত। গুয়ারানা সংগ্রহের জন্য এটি বিখ্যাত ছিল। স্পেন যখন পেরুর উপনিবেশ ছিলো তারা তখন থেকেই এই দ্বীপগুলোর ওপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল।
এর ফলে পেরু এই দ্বীপগুলোর ওপর নিজেদের মালিকানা দাবি করে এবং স্পেনের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এই যুদ্ধে স্পেনের পরাজয় হয় এবং পেরু দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা পায়, তবে এটি আরও কিছু সময়ের জন্য পেরুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। ওয়্যার অফ দ্য প্যাসিফিক যুদ্ধটি ১৮৭৯ সালে শুরু হয়েছিল চিলি, বলিভিয়া এবং পেরুর মধ্যে। এই যুদ্ধের মূল কারণ ছিল লিথিয়াম, নিত্রেট এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদ। দক্ষিণ আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে বিশেষভাবে বলিভিয়ার কোল্লা অঞ্চল এবং পেরুর সল্টপিটার এলাকা অত্যন্ত সম্পদশালী ছিল।
চিলি এই সম্পদের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। বলিভিয়া এবং পেরু তাদের অধিকার বজায় রাখার জন্য চিলির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই যুদ্ধের ফলস্বরূপ চিলি বলিভিয়া থেকে অরেক অঞ্চলের অধিকার লাভ করে এবং পেরুতে পরাজিত হয়ে কিছু এলাকা হারায়। এতে চিলি লাভবান হলেও, বলিভিয়া পায় সমুদ্রসীমা হারায় এবং অন্যদিকে পেরুতে খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণও হারিয়ে যায়। ১৯৯১ সালে সিয়েরা লিওনে বিপ্লবী ইউনাইটেড ফ্রন্ট (RUF) একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে গড়ে ওঠে। তাদের লড়াইয়ের জন্য আর্থিক সমর্থন সংগ্রহের প্রধান উৎস ছিল হীরা খনি। সিয়েরা লিওনের হীরা সম্পদ বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে মূল্যবান খনিজ সম্পদগুলির মধ্যে ছিল।
রুফ তাদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য এই হীরা পাচার করেছিল। আন্তর্জাতিক সমাজের নজর আকর্ষণ করে যখন জানা যায় এই গোষ্ঠীটি শিশু সৈন্যদের ব্যবহার করছিল এবং হীরা বিক্রি করে অস্ত্র সংগ্রহ করছিল, তখন এটি ‘ব্লাড ডায়মন্ড’ বা রক্তমুখী হীরা নামে পরিচিতি লাভকরে। সিয়েরা লিওনে এই সংঘাতের ফলে বিশাল মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়, যেখানে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল এবং লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছিল।
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো (DRC) আফ্রিকার অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ সমৃদ্ধ দেশ। এখানে সোনা, তামা, কোবাল্ট, ডায়মন্ড এবং অন্যান্য মূল্যবান খনিজ সম্পদের বিশাল মজুদ রয়েছে। কিন্তু এই সম্পদসমূহ কঙ্গোর সংঘাতের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। কঙ্গোতে বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী, সরকারী বাহিনী এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী খনিজ সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য সংঘাত চালিয়ে গেছে। এদের মধ্যে কয়েকটি গোষ্ঠী সম্পদের বিক্রির মাধ্যমে অস্ত্র সংগ্রহ করত, যেটি একে দীর্ঘকালীন সংঘাতে পরিণত করেছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীও এই সংঘাতকে থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে এবং কঙ্গো এখনো খনিজ সম্পদের অবৈধ ব্যবহার ও সামরিক সংঘাতের কারণে মানবিক সংকটে ভুগছে।
১৯৭০-৮০ এর দশকে, কম্বোডিয়াতে খেমার রুজের শাসনামলে যখন কম্বোডিয়ার নেতা পল পট এবং তার গোষ্ঠী এক ভয়াবহ গণহত্যা চালিয়েছিল। খেমার রুজ তাদের বিদ্রোহী কার্যক্রম পরিচালনা করতে এবং ক্ষমতা বজায় রাখতে বনাঞ্চল থেকে কাঠ চুরি করে বিক্রি করত। এই কাঠ বিক্রির মাধ্যমে তারা অর্থ সংগ্রহ করত যা তাদের সামরিক বাহিনী ও যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ করত।এই কাঠের ব্যবসার মাধ্যমে খেমার রুজ কম্বোডিয়ার বনসম্পদকে ধ্বংস করে দিয়েছিল এবং সেসময় দেশটিতে এক বিশাল মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছিল। এছাড়াও বর্তমানে ইউক্রেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে খনিজ সম্পদের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে। ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেনে আক্রমণের
পর বিশ্বজুড়ে বিশেষভাবে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ এবং তাদের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নটি সামনে এসেছে। ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল, খনিজ সম্পদের অত্যন্ত সমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলে তেল, গ্যাস, কয়লা এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদের বিশাল মজুদ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন খনিজ সম্পদের এই জন্য সংঘাত একটি জটিল আন্তর্জাতিক সমস্যা। ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ, বিশেষ করে তেল, গ্যাস এবং কয়লা, শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক শক্তির সম্পর্ককে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। এটি বিশ্বব্যাপী শক্তির বাজার, আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মধ্যে একটি নতুন মাত্রা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের ফলস্বরূপ ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে। যা আগামীতে বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।
ইউরোপকে নেতৃত্ব নিতে হবে
ট্রাম্প-জেলেনুস্কি বাদানুবাদের পর জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্নালেনা ব্যারবক জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেয়া ভাষণে ব্যারবক বলেন-একটি নিষ্ঠুর সময় শুরু হয়েছে, যখন আমাদের আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নিয়মতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এবং আইনের শাসনের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্লামেন্টকে অবিলম্বে ইউক্রেনের জন্য আটকে থাকা ৩ বিলিয়ন ইউরো সাহায্য প্যাকেজ এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলকে একটি বিস্তৃত আর্থিক ও সামরিক সহায়তা পরিকল্পনা অনুমোদন করার আহ্বান জানান।
দেশের খোলা তেলে মারাত্মক পারদ , কাজ করছেনা পরিশোধন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক দল ভোজ্য তেলের মধ্যে মার্কারির উপস্থিতি শনাক্ত করেছে এটি পাব্লিক হেলথ ও ফুড সেফটির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ BFSA ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন আয়োজিত “ফর্টিফাইড ভোজ্য তেল: সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টির জন্য উন্নত ভবিষ্যৎ” শীর্ষক সেমিনারে এই রিসার্চ প্রকাশ করা হয়। সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ঢাবি’র ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্সের সাবেক পরিচালক ড. নাজমা শাহীন বলেন, “আমরা অপরিশোধিত ভোজ্য তেলে মার্কারির উপস্থিতি পেয়েছি এবং পরিশোধনের পরও এটি পুরোপুরি রিমুভ করা যাচ্ছে না।” তিনি আরও জানান, গবেষণা দল বিভিন্ন ভোজ্য তেলের গুণগত মান পরীক্ষা করে বিশেষ করে অব্র্যান্ডেড, খোলা সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে আরও গুরুতর অনিয়ম পেয়েছে ।
“পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, এসব তেলে অন্যান্য তেল ও ক্ষতিকর উপাদান মিশ্রিত করা হচ্ছে,” যোগ করেন তিনি। BFSA-এর কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই সেমিনারে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান রেস্টুরেন্ট মালিকদের খোলা তেল ব্যবহার বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। “আপনার রেস্টুরেন্টে খোলা তেল ব্যবহার হয় নাড়এটি জনসমক্ষে ঘোষণা করুন। এতে ভোক্তারা নিরাপদ খাবার বেছে নিতে পারবেন,” বলেন তিনি। সেমিনারের সভাপতি BFSA চেয়ারম্যান জাকারিয়া ভোজ্য তেলের অনিরাপদ ব্যবহারের ভয়াবহ প্রভাব তুলে ধরে বলেন, “প্রতি বছর ৩.২ লাখ মানুষ তেল সংশ্লিষ্ট রোগে মারা যায়। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুলতান আলম বলেন, “স্বাস্থ্য সমস্যার অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত তেল গ্রহণ। যত কম তেল খাওয়া যাবে, ততই ভালো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা বাড়াতে হবে।” GAIN-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকার গবেষণার ফলাফলকে “গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত” আখ্যা দিয়ে বলেন, “পরিবর্তন আনতে হলে তরুণদের এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।”
রমজানে দাম বাড়ে কেন ?
রোজা শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই মোটা চাল, ভোজ্যতেল, ছোলা, খেজুর ও ডিমের দাম বেড়েছে। তবে চিনি, আলু, পেঁয়াজ, মুরগির মাংস ও ব্র্যান্ড আটার দাম একই আছে। প্রশ্ন হলো: প্রতিবছর রোজার সময় এই মূল্যবৃদ্ধি কি শুধুই চাহিদা বাড়ার কারণে, নাকি এর পেছনে অন্য উপাদান আছে? বিশেষজ্ঞদের মতে – বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি যেমন দাম বাড়ায়, তেমনি সরবরাহ শৃঙ্খলে কারসাজি, কর্পোরেট আধিপত্য এবং দুর্বল সরকারি নজরদারি পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে। বাংলাদেশের অর্থনীতি উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলা করছে এবং ২০২২ সাল থেকে স্থানীয় মুদ্রার মান ডলারের বিপরীতে ৩০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে। এর মানে আমদানি পণ্যের, যেমন ভোজ্যতেল, খরচ বেড়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম ও সয়াবিন তেলের বাড়তি দাম।
কিন্তু পুরো গল্প এটাই নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে অনেক ‘গোপন’ কারসাজিও রয়েছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন – চাহিদা বাড়লে, সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যবসায়ীদের অনেকেই মুনাফা বাড়ানোর জন্য পরিস্থিতির সুযোগ নেন। এবং সরকারি নজরদারি দুর্বল হওয়ায়, তাদের বাধা দেওয়ার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। এছাড়াও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও রয়েছে। ঢাকার মৌলভীবাজারের পাইকার আবুল হাসেমের মতে, চিনির মতো ভোজ্যতেলের বাজারে মাত্র চার বা পাঁচটি বড় কোম্পানি আধিপত্য বিস্তার করে। যদি তারা বিভিন্ন কারণে আমদানি কমিয়ে দেয়, তাহলে সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হয় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবেই দাম বেড়ে যায়।
“আমরা যে চাহিদার তথ্য ব্যবহার করছি তা পুরনো,” হাসেম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন। “আমাদের জনসংখ্যা বাড়লেও আমরা এখনও দশ বছর আগের সংখ্যার উপর নির্ভর করছি। প্রকৃত চাহিদা না জানলে, কীভাবে সঠিকভাবে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করবো?” খুচরা বিক্রেতারাও একটি ভূমিকা পালন করেন। চাহিদা বেশি থাকলে, অনেক ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে দেন, কখনো কখনো যুক্তিযুক্ত সীমার বাইরে। বাজার ও সরবরাহ শৃঙ্খল নিবিড় ও ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্ব সরকার ঠিকমত পালন করে না-অনেকের অভিযোগ। সরকার অতীতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেড়অভিযান, সাময়িক মূল্য নির্ধারণ, এমনকি প্রয়োজনীয় পণ্য সরাসরি আমদানিও করেছেড়কিন্তু কিছুই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান আনতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এগুলো সবই স্বল্পমেয়াদি সমাধান। মূল কারণগুলির সমাধান না করেড়কর্পোরেট আধিপত্য এবং চাহিদার সঠিক তথ্যের অভাবড়সরকার প্রায়ই দ্রুত পদক্ষেপ নেয় যা সামগ্রিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ। খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম একটি দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতির পরামর্শ দেন: একটি ডিজিটাল বাজার পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, যা সরবরাহ ও চাহিদা বাস্তব সময়ে পর্যবেক্ষণ করবে। এভাবে, দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগে সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারবে। বড় কর্পোরেট গ্রুপ এবং সরকারের মধ্যে ‘গভীর সম্পর্ক’ রয়েছে, যা কঠোর নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ গ্রহণ কঠিন করে তোলে। “এগুলি এতটাই শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে, সরকার তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়,” মোয়াজ্জেম বলেন।
আমি বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন তবে আশাহীন নই : অমর্ত্য সেন
ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নোবেল বিজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন -‘আমি মনে করি, কোনো একটি গোষ্ঠীকে এক পাশে ঠেলে না দিয়ে বাংলাদেশের উচিত, সবাই একসঙ্গে কাজ করার যে ঐতিহ্য এই দেশের রয়েছে, সেটার সর্বোত্তম ব্যবহার করা। একটি উদারপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি দরকার। আমি আশা করি যে স্বাধীনতা ও বহুত্ববাদের প্রতি বাঙালি সম্প্রদায়ের যে অঙ্গীকার রয়েছে, সেটা টিকে থাকবে। আমি আশা করি, বাংলাদেশে আগে নির্বাচন যেমন হতো বলে অনেকে দাবি করেন, তার চেয়ে আগামীর নির্বাচন দৃশ্যত বেশি অবাধ হবে। আমি বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন, তবে আমি আশাহীন নই।’
তিনি বলেন, ‘আপনি যদি হঠাৎ করে একটি দেশের প্রধান হন, যেমনটি ইউনূসের ক্ষেত্রে ঘটেছে, তাহলে আপনাকে অবশ্যই বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিষয় বিবেচনা করতে হবে। সেখানে বিভিন্ন ইসলামপন্থী দল রয়েছে, এখন হিন্দুদেরও বিভিন্ন পক্ষ রয়েছে। ইউনূসের সামর্থ্যের ওপর আমার অনেক আস্থা রয়েছে।’ অমর্ত্য সেন বলেন, ‘বাংলাদেশের পরিস্থিতি আমার ওপর গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে।কারণ, আমি খুব জোরালোভাবে বাঙালি পরিচয়কে ধারণ করি। বাংলাদেশ তার বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো কীভাবে মোকাবিলা করবে, তা নিয়ে অন্য অনেকের মতো আমি উদ্বিগ্ন।’
অমর্ত্য সেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশংসা করেন সেনাশাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করায়, যেমনটি অনেক দেশে ঘটেছে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ না করার কথা বলেছেন তিনি। এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, তাহলে অন্য দলগুলো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছে, সেই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও মন্দির ভাঙচুরের নিন্দা জানিয়ে অমর্ত্য সেন বলেন, সরকার ও জনগণের উভয়েরই দায়িত্ব এসব প্রতিরোধ করা। তিনি বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবে সংখ্যালঘুদের প্রতি উদার এবং জামায়াতের মতো সাম্প্রদায়িক শক্তি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। দুর্ভাগ্যবশত, ভারতেও মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ বা ভারত, যেখানেই হোক এ ধরনের ঘটনা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’
এই নোবেল বিজয়ী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতা উসকে দেওয়ার চেয়ে সহজ কিছু নেই। এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট ঘটনাকে বেছে বেছে মাত্রাতিরিক্ত প্রচার করা হয়। ১৯৪০ – এর দশকের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা এভাবেই বেড়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত রক্তপাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের অবশ্যই অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং ভবিষ্যতের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। নির্বাচনী প্রচারের জন্য একপাক্ষিক প্রচার অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।’


