সিরিয়ায় রাশিয়ার হামেইমিম বিমানঘাঁটি ও সোভিয়েত আমলের টার্টোস নৌ ঘাঁটি এখন বিদ্রোহীদের পাহারায় রয়েছে। এখন সেখান থেকে রুশ কোনো গাড়িবহর বের হতে হলেও হায়াত তাহরির আল শাম (এইচটিএস) বিদ্রোহীদের পাহারার মধ্য দিতে যেতে হয়। মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় সামরিক সংযোগ রাখতে রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এসব ঘাঁটির ভবিষ্যৎ এখন সিরিয়ার অন্তর্বতী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল – শারার হাতে। তিনি এখন বাশারের আমলে ৪৯ বছরের ইজারা দেওয়া এসব ঘাঁটির চুক্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে চান। তিনি এতে আরও নতুন শর্ত যুক্ত করতে চান। তবে পুরোপুরিভাবে রাশিয়ার এসব ঘাঁটি বন্ধ করে দিতে চান না। এর বিনিময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে কূটনৈতিক সমর্থন এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে চান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স সিরিয়া ও রাশিয়ার আটজন কূটনীতিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলেছে। এসব সূত্র শারার সঙ্গে পুতিনের বিশেষ দূতের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পর্কে জানিয়েছে। নাম প্রকাশ না করে এসব সূত্র বলছে, শত্রুতা পাশে সরিয়ে রাখলে দুই পক্ষেরই লাভ।ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সিরিয়ার ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলেও এখনো ২ কোটি ৩০ লাখ জনগোষ্ঠীর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির বাণিজ্য করা কঠিন। কিন্তু রাশিয়ার অস্ত্র, জ্বালানি এবং গম সরবরাহ একটি জীবনরেখা হতে পারে।দামেস্কভিত্তিক একজন কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেছেন, দেশটির নেতারা আগের শত্রুদের সঙ্গেও শান্তি স্থাপন করতে ইচ্ছুক। রাশিয়ার জন্য দামেস্কে একটি সরকার দরকার যে তাদের স্বার্থ নিশ্চিত করবে। তাতেই তারা ওই সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে সম্মত হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে সিরিয়ার প্রতি খুব বেশি আগ্রহ দেখাননি। তিনি মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করতে চান। মার্কিন মিত্র ইসরায়েল চায়, তুরস্কের প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা হিসেবে রাশিয়া সিরিয়ায় থাকুক। দুটি সূত্র জানায়, গত ২৯ জানুয়ারি দামেস্কে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাশারের অধীনে রাশিয়ার সঙ্গে ঋণচুক্তি বাতিলের দাবি জানান শারা। রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল বোগদানভের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তিন ঘণ্টার সাক্ষাতের সময়, সিরিয়ার কর্মকর্তারা বাশারের সিরিয়ায় প্রত্যাবর্তনের বিষয় উত্থাপন করেছিলেন। তবে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে সেটি বড় কোনো বাধা নয় বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। রাশিয়া বাশারকে ফেরত দিতে রাজি হবে না। রাশিয়ার কাছ থেকে বাশারকে এখনো ফেরত চাওয়াও হয়নি বলে রাশিয়ার একটি সূত্র জানিয়েছে।


