শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন-ভারত চায় বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত সাজা দিক। অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সব বিষয়ের নিষ্পত্তি করুক। জয়সোয়াল বলেন-বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। গুরুতর অপরাধে আটক ও সাজাপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী এবং উগ্রপন্থীদের ছেড়ে দেওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বাংলাদেশের আন্দোলনকারী ছাত্রসমাজ সম্প্রতি রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। সে বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে দল গঠন নিয়ে জয়সোয়াল কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে তিনি বলেন-ভারত সব সময় স্থিতিশীল, প্রগতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের সমর্থক। ভারত চায়, তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সব বিষয়ের নিষ্পত্তি করুক। উল্লেখ্য, ভারত আগে এত জোরালোভাবে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের কথা বলেনি। সাংবিধানিক বৈধতার কথা বলে ২০১৪ সালের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন, ২০১৮ সালের রাতের ভোট ও ২০২৪ সালে ‘ডামি’ প্রার্থীর নির্বাচনে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছিল ভারত। এই নির্বাচনগুলোর পর ক্ষমতায় যাওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি সমর্থন ছিল নয়াদিল্লির। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সংখ্যালঘুদের বিষয়টি অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করার বিষয়ে জয়সোেয়াল বলেন-আমরা বারবার বলেছি হিন্দুসহ সব সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব।
তিনি খতিয়ান তুলে ধরে বলেন-২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এবছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৩৭৪টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগের মধ্যে বাংলাদেশের পুলিশ শুধু ১২৫৪টি ঘটনা নিশ্চিত করেছে। এর ৯৮%-কে ‘রাজনৈতিক’ কারণে সংঘটিত বলে দাবি করা হয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশ কোন পার্থক্য না করে প্রতিটি খুন-অগ্নি সংযোগ-হিংসার ঘটনাকে যথাযথ তদন্ত ও দোষীদের বিচার নিশ্চিত করুক ।এদিকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গত বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


