Home Blog Page 171

রাখাইনে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা , কক্সবাজার দিয়ে সাহায্য পাঠাবে জাতিসংঘ , ঝুঁকি মনে করছে বাংলাদেশ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সেখানে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বাংলাদেশকে বলছে-রাখাইনের দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করা না গেলে এবার শুধু রোহিঙ্গা নয়, সেখানে বসবাসরত বাকি জনগোষ্ঠী সীমান্ত ডিঙাতে পারে। সেখানকার সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষ মোকাবিলায় বাংলাদেশ হয়ে রাখাইনে সহায়তা পাঠাতে চায় জাতিসংঘ। তবে নিরাপত্তাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে এ প্রস্তাবকে ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করছে ঢাকা। ইতোমধ্যে কক্সবাজার হয়ে আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে সহায়তার একটি চালান সেখানে পাঠিয়েছে জাতিসংঘ। তবে দ্বিতীয় চালানটি আর বাংলাদেশ অতিক্রম করতে দেয়নি সরকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন-বাংলাদেশ থেকে ত্রাণ পাঠানো শুরু করলে সেখানকার মানুষ পর্যাপ্ত সহায়তা না পেয়ে ত্রাণের উৎসে চলে আসার শঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া রাখাইন সীমান্তে এখন সরকারি কোনো বাহিনী দায়িত্বে নেই। প্রথমত ত্রাণ রাখাইনের অধিবাসী পর্যন্ত পৌঁছাবে এর নিশ্চয়তা নেই। আর আরাকান আর্মির মতো নন-স্টেট অ্যাক্টরদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো সম্পর্কে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে যায়। জাতিসংঘ থেকে আশঙ্কা করা হয়েছে-রোহিঙ্গা বাদে আরও ১২ লাখ রাখাইন অধিবাসী খাদ্য সংকটসহ মানবিক বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে পারে।

গত অক্টোবরে জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্প (ইউএনডিপি) প্রতিবেদনে বলা হয়-রাখাইনের পণ্য প্রবেশের জন্য আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সীমান্ত বন্ধ রয়েছে, আয়ের কোনো উৎস নেই, ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি, নেমেছে অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদনে ধস; জরুরি সেবা ও সামাজিক সুরক্ষায় দেখা দিয়েছে ঘাটতি। মার্চ কিংবা এপ্রিলের মধ্যে রাখাইনে দুর্ভিক্ষ আঘাত হানতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই রাখাইনে সহায়তা দিতে বাংলাদেশকে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে আসছে জাতিসংঘ। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সীমান্ত ব্যবহার করে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে সরাসরি পণ্য সরবরাহের সুপারিশ করা হয়।

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি-সংক্রান্ত হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভড. খলিলুর রহমান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সীমান্তে অপরাধ দমনসহ সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরাকান আর্মির সঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ রাখাইনে একটি সংকট পরিস্থিতি চলছে। মার্চ বা এপ্রিলে সেখানে দুর্ভিক্ষ আসতে পারে। তখন সেখান থেকে আরও রাখাইন অধিবাসীদের বাংলাদেশে ঢোকার শঙ্কা রয়েছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টিকে দেখছে ভিন্নভাবে। নাম না প্রকাশের শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন-প্রতিবেশী ভারতকেও তো জাতিসংঘ বলতে পারে। তবে ওইখানে সুবিধা করতে পারবে না জেনে সব আবদার বাংলাদেশকে করছে। বাংলাদেশেরও প্রতিবেশী দেশকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে আপত্তি নেই। তবে সেটা অবশ্যই নিজ স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে করতে হবে।


যেভাবে জেলখানার টেলিফোন হয়ে উঠলো ইয়ং’র মাইক্রোফোন

মার্কিন র‍্যাপার ডিয়ন থমাস, যিনি সংগীত জগতে ইয়ং তালি নামে পরিচিত। তিনি এমন একজন যার সংগীত জীবন চ্যালেঞ্জ এবং সৃজনশীলতার এক অসাধারণ দৃষ্টান্ত। কঠিন বাস্তবতা সত্ত্বেও, তিনি কারাগারে বসেই সংগীত সৃষ্টি করে গেছেন এবং তার কন্ঠস্বর বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। ইয়ং তালি ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই তিনি নিজের র‍্যাপ চর্চা শুরু করেন। হিপ-হপ কালচার এবং পথচলার নানা অভিজ্ঞতা তাকে গানের মাধ্যমে নিজের কণ্ঠ প্রকাশ করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। তবে জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন তিনি আইনি সংকটে পড়ে কারাবন্দী হন।

একসময় ইয়ং তালিকে ভার্জিনিয়ার কারাগারে প্রেরণ করা হয়। আমরা অনুমান করতেই পারি কারাগারের কঠোর নিয়ম এবং পরিবেশ সংগীত চর্চার জন্য ছিল অত্যন্ত প্রতিকূল। আধুনিক রেকর্ডিং সরঞ্জাম, স্টুডিও কিংবা স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ কোনোটাই ছিল না। তবে এসব সীমাবদ্ধতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ইয়ং তালি তার সংগীত জীবনকে বাঁচিয়ে রাখতে অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করেন। তিনি কারাগারে অন্যদের সাহায্যে টেলিফোন এবং JPAY সিস্টেম ব্যবহার করে গান রেকর্ড করা শুরু করেন। JPAY হলো একধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা বন্দিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে। এই সিস্টেমের মাধ্যমে তিনি তার র‍্যাপ লিরিক্স রেকর্ড করে বাইরের প্রযোজকদের কাছে পাঠাতেন, যারা সম্পাদনা এবং মিক্সিং করতেন।

কারাগারের ফোন ব্যবহার করে গান রেকর্ড করা ছিল একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। ফোনের সীমিত সময়, নিম্নমানের অডিও এবং বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে সমন্বয়ের জটিলতা ছিল বড় প্রতিবন্ধকতা। তবুও তালি এসব বাধা অতিক্রম করে তার সংগীতচর্চা চালিয়ে যান এবং তার গান শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হন। ইয়ং তালি শুধু নিজেই সংগীত তৈরি করেননি বরং তিনি সেইসব শিল্পীদেরও প্রতিনিধিত্ব করেন যারা কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরে থেকেও সৃষ্টিশীলতা ধরে রাখার চেষ্টা করেন। ইয়ং তালির সংগীত কারাগারে বসবাসকারী মানুষদের জীবন এবং সংগ্রামের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। তার গানগুলো কেবল বিনোদন নয়, একই সাথে প্রতিবাদ ও অভিজ্ঞতার কণ্ঠস্বর যা দ্রুত সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সাহায্য করে। তার কাজ প্রমাণ করে যে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও একজন শিল্পী তার শিল্পচর্চা অব্যাহত রাখতে পারেন।

ইয়ং তালির গল্প হলো সব বাঁধা পেরিয়ে সৃষ্টিশীলতার জয়। কারাগারে থেকেও তিনি প্রমাণ করেছেন যে একজন শিল্পীর কণ্ঠ কখনো থেমে যায় না। প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা, কঠিন পরিস্থিতি এবং বাস্তবতার চাপে পড়েও তিনি তার সংগীত জগৎকে বাঁচিয়ে রাখতে পেরেছেন। তার জীবন এবং সংগ্রাম থেকে বোঝা যায় যে সংগীত কেবল বিনোদন নয়, এটি স্বাধীনতার, প্রতিরোধের এবং আত্মপ্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যম। যখন কারাগার সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা হয়, তখন ইয়ং তালির মতো শিল্পীদের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শিল্প ও সংস্কৃতি বন্দিদশার বাইরেও মানুষের মনকে মুক্ত রাখতে পারে।


সিরিয়ায় সংখ্যালঘু আলাউইটদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ ১৩০০ নিহত

সিরিয়ায় গত কয়েকদিনে নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীর সাথে আসাদপন্থী সেনাদের সংঘাতে বেসামরিক নাগরিক সহ ১৩০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ডিসেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের পতনের পর সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা এটি। সাম্প্রতিক এই সংঘাতের শুরু হয় বৃহস্পতিবার। সিরিয়ার পশ্চিম উপকূলের শহর লাটাকিয়া ও জাবলেহ’তে নিরাপত্তা রক্ষীদের ঘাঁটিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সমর্থক সেনারা হামলা করে, যাতে নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর অনেক সদস্য মারা যান। এই হামলার জবাবে শুক্রবার ও শনিবার সিরিয়ার নিরাপত্তা রক্ষীরা সিরিয়ার পশ্চিম উপকূলের লাটাকিয়া, জাবলেহ ও বানিয়াস শহরে আসাদ সমর্থক সেনাদের ওপর হামলা চালায়। নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীর সাথে হামলায় যোগ দেয় কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরাও।

সেসব হামলায় ঐ অঞ্চলে বসবাসরত সংখ্যালঘু আলাওয়াইত সম্প্রদায়ের বহু বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন বলে জানাচ্ছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। সংস্থাটি বলছে গত কয়েকদিনের ‘গণহত্যা’য় অন্তত ৮৩০ জন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন। অন্যদিকে দুই পক্ষের সংঘাতে নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর ২৩১ জন আর আসাদ সমর্থক ২৫০ জন মারা গেছেন। তাদের হিসেব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৩১১ জন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি বিবৃতিতে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে সাম্প্রতিক দিনগুলিতে মানুষ হত্যা করার জন্য বিদেশি জিহাদি সহ উগ্র ইসলামপন্থী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে নিন্দা জানায়। “

তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র খ্রিস্টান, দ্রুজ, আলাউয়ি এবং কুর্দি সম্প্রদায় সহ রয়েছে সিরিয়ার ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের পাশে আছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছে।” তিনি আরও বলেন, “সিরিয়ার অন্তর্বতীকালীন সরকারকে সিরিয়ার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে এসব গণহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি করতে হবে।” আসাদ সমর্থক সেনাদের বিরুদ্ধে সিরিয়ার নিরাপত্তা রক্ষীরা অভিযান চালানোর সময় সেখানে সংখ্যালঘু আলাওয়াইত গোষ্ঠীর নাগরিকদের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ চালানো হয়। বাশার আল-আসাদ আলাউয়ি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য।

ভুক্তভোগীদের অনেকে বলছেন তাদের ওপর বিদেশি বিদ্রোহী যোদ্ধারা হামলা চালিয়ে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও লুটপাট চালায়। নিহত বেসামরিকদের মধ্যে সংখ্যালঘু আলাউইত সম্প্রদায়ের নারী ও শিশুরাও রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সহিংসতার যেসব প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে সেগুলোর একটিতে বলা হয়েছে, এক গ্রামে বহু আলাউইতি পুরুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। এতে সিরিয়ার ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি কর্তৃপক্ষ অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন চালানোর সক্ষমতা রাখে কি না, তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠেছে। সিরিয়ার নতুন নেতা ও প্রেসিডেন্ট আহমেদ আহমেদ আল-শারার সরকারের দাবি, তারা আসাদপন্থি বাহিনীর আক্রমণের জবাব দিচ্ছে। পাশাপাশি সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে দেখছে।

সিরিয়ার কর্মকর্তারা অভিযান চলাকালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা স্বীকার করেছেন। তবে এসব ঘটনার জন্য তারা সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ার জন্য এগিয়ে আসা অসংগঠিত বেসামরিক জনতা ও যোদ্ধাদের দায়ী করেছেন। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস আরও জানিয়েছে, গত শুক্রবার (৭ মার্চ) সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী লাতাকিয়া প্রদেশে আলাউয়ি সম্প্রদায়ের কমপক্ষে ১৬২ জনকে প্রকাশ্য ময়দানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। শুধু হত্যাই নয়, আলাউয়িদের বাড়িঘর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, যার ফলে এই সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষ নিকটবর্তী পাহাড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

গ্রামের পাশাপাশি আলাউয়ি প্রধান শহরগুলোতেও নৃশংস হামলা চালছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি বানিয়াস। বাসিন্দারা রাস্তায়, বাড়ির আঙিনায় ও ছাদে পরিত্যক্ত অবস্থায় অগণিত লাশ দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। ৫৭ বছর বয়সি আলী শেহার ভাষ্য, ‘বন্দুকধারীরা লোকজনের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালাচ্ছিল, হত্যা করার আগে কোন সম্প্রদায়ের তা পরীক্ষা করার জন্য পরিচয়পত্র চাইছিল।’


বাংলাদেশে চাষের মাছে ভয়ঙ্কর অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ই. কোলাই

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষত, বাংলাদেশে বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছে এশ্চেরেশিয়া কোলাই (ই. কোলাই) সংক্রমণের হার উদ্বেগজনকভাবে বেশি। এর বিপরীতে, প্রাকৃতিক মুক্ত জলাশয়ে পাওয়া মাছে এই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের হার তুলনামূলক কম। সম্প্রতি বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি ময়মনসিংহ অঞ্চলে পরিচালিত হয়, যেখানে ১৩০টি কই ও শিং মাছ সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৭০টি মাছ মুক্ত জলাশয় থেকে এবং ৬০টি মাছ বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত ছিল। গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে কালচার, গ্রাম-স্টেইনিং এবং বায়োকেমিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে ১১৬টি মাছে ই. কোলাইয়ের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।

গবেষণায় ই. কোলাই শনাক্ত করতে মাল-বি জিন নির্দিষ্ট পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) ব্যবহার করা হয়। এতে দেখা যায় ৮৭টি মাছ তথা ৬৭ শতাংশ ক্ষেত্রে ই. কোলাই সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছের ৭০ শতাংশ এই ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত ছিল, যেখানে মুক্ত জলাশয়ের মাছের ক্ষেত্রে এই হার ৬৪ শতাংশ। ই. কোলাই সংক্রমণের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর বায়োফিল্ম তৈরির সক্ষমতা। গবেষণায় দেখা গেছে চাষকৃত মাছে পাওয়া ৭০ শতাংশ ই. কোলাই বায়ৌফিল্ম তৈরি করেছিল, যেখানে মুক্ত জলাশয়ের মাছের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ২০ শতাংশ। তদুপরি, চাষকৃত মাছের ৭ শতাংশ ই. কোলাইকে শক্তিশালী বায়োফিল্ম উৎপাদনকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়, যা প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষমতা বাড়ায় এবং অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, চাষের মাছ থেকে পাওয়া ই. কোলাই শতভাগ অ্যাম্পিসিলিন ও সেফটাজিডিমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ প্রদর্শন করেছে।চাষকৃত মাছের ই. কোলাইয়ের ৯৭ শতাংশই বিভিন্ন ধরনের ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী, যেখানে মুক্ত জলাশয়ের মাছের ক্ষেত্রে এই হার ৬০ শতাংশ। এই গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে, চাষকৃত মাছ থেকে পাওয়া ই. কোলাই বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জিনের সম্ভাব্য ধারক, যা জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছে অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এই প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

একই স্বপ্ন বারবার ফিরে আসার ব্যাপারটা কী ?

স্বপ্নের জগৎ অনেক রহস্যময় এবং অবাক করার মতো। আমরা লক্ষ্য করি যে কিছু স্বপ্ন বারবার আসে, যেন তা আমাদের কাছে কোনো বিশেষ বার্তা নিয়ে আসে। কিন্তু কি কারণে এই পুনরাবৃত্তি স্বপ্ন ঘটে? এর কি কোনো গোপন মানে রয়েছে?
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
পুনরাবৃত্তি স্বপ্নের একটি প্রধান কারণ হতে পারে মানসিক চাপ বা উদ্বেগ। যখন আমরা জীবনে কোনো চাপের মধ্যে থাকি, যেমন কাজের চাপ, সম্পর্কের সমস্যা, বা জীবনের কোনো বড় পরিবর্তন, তখন আমাদের মস্তিষ্ক সেই উদ্বেগ বা চাপকে স্বপ্নের মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারে। এই ধরনের স্বপ্ন মাঝে মাঝে আমাদের অতীতের কোনো দুঃখজনক ঘটনা বা অপ্রকাশিত অনুভূতি নিয়ে আসে।

অবচেতন মন
আমাদের অবচেতন মন আমাদের দেহের অদৃশ্য অংশ, যেখানে আমরা জীবনের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি এবং চিন্তাভাবনা জমা রাখি। অনেক সময় অবচেতন মন থেকে বেরিয়ে আসে কিছু হৎবংড়ষাবফ সমস্যার কথা, যা আমরা পুরোপুরি মনোযোগ দিই না। এই অনুভূতিগুলিই আমাদের পুনরাবৃত্তি স্বপ্নের আকারে প্রকাশ পায়। এর মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বা কিছু উদ্বেগের প্রতি সচেতন করে তোলে।
অভ্যাস বা অভ্যস্ততা
প্রতিদিনের অভ্যাস বা অভ্যস্ততা স্বপ্নে প্রতিফলিত হতে পারে। যেমন, কোনো নির্দিষ্ট কাজ বা কিছু একটানা চিন্তা করলে, সেটি স্বপ্নে ফিরে আসতে পারে। বিশেষত যারা নির্দিষ্ট রুটিনে চলেন বা কিছু একই ধরনের চিন্তা বা অনুভূতি নিয়েই বেশি সময় কাটান, তাদের স্বপ্নে এই অভ্যস্ততা দেখা দিতে পারে।

অমীমাংসিত সমস্যা
আমরা যখন কোনো সমস্যা বা অসন্তুষ্টি মনের মধ্যে পুষে রাখি, তা স্বপ্নের মাধ্যমে ফেরত আসে। এই ধরনের অমীমাংসিত বা অপ্রকাশিত সমস্যা কখনো কখনো আমাদের মনে ব্যথা, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বা অন্য কোনো অস্বস্তি সৃষ্টি করে, যার ফলস্বরূপ আমরা সেই অভিজ্ঞতাটি পুনরাবৃত্তি স্বপ্নের মাধ্যমে অনুভব করি।
শারীরিক অবস্থা
শারীরিক অসুস্থতা বা অবস্থা যেমন, নিদ্রাহীনতা, শারীরিক ব্যথা বা হরমোনাল পরিবর্তনও পুনরাবৃত্তি স্বপ্নের কারণ হতে পারে। এটি মস্তিষ্কের স্নায়ুবৈকল্য বা শরীরের চাপের কারণে হতে পারে। শারীরিক অস্বস্তি বা বেদনাও আমাদের মনের অবস্থা এবং স্বপ্নের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ব্যাখ্যা
অনেক সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিক বিশ্বাসে পুনরাবৃত্তি স্বপ্নের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কিছু মানুষের মতে, কমতে পুনরাবৃত্তি স্বপ্ন আমাদের জীবনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বা শিক্ষার দিকে ইঙ্গিত করে। এটি হতে পারে আত্মার কোনো পরামর্শ, ভবিষ্যতের কোনো সংকেত, বা আমাদের জীবনের কোনো গভীর অর্থ।
আধ্যাত্মিক শারীরিক প্রবৃদ্ধি
পুনরাবৃত্তি স্বপ্ন কখনো কখনো আধ্যাত্মিক ও শারীরিক উন্নতির লক্ষণ হতে পারে। এটি মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা কিছু অবচেতন দৃষ্টিভঙ্গি বা আচরণে পরিবর্তন আনার সংকেত হতে পারে। যখন আপনি সেই স্বপ্নের বিষয়টি সচেতনভাবে বুঝতে পারেন, তখন এটি আপনার আত্মবিশ্বাস এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

পরবর্তীতে যদি আপনি কোনো পুনরাবৃত্তি স্বপ্ন দেখেন, তো একটু ভাবুন। হয়তো এটি আপনাকে কিছু শিখতে, অথবা আপনার মনোযোেগ কোনো বিশেষ বিষয়ে কেন্দ্রীভূত করতে সাহায্য করবে।


WitchTok সামাজিক মাধ্যমে অকাল্টের উত্থান – ১৬শ শতকের সাথে ভৌতিক সাদৃশ্য

একজন গবেষক দুই জাদুকরের মধ্যে একটি বিতর্ক দেখতে যাচ্ছেন। একজন নিজেকে “ডেমনোলেটার” বলে পরিচয় দিচ্ছেন, যিনি দাবি করেন যে তিনি শয়তানদের পূজা করেন এবং জ্ঞান বা শক্তির বিনিময়ে তাদের কাছে আবেদন করতে পারেন। অন্যজন নিজেকে “সোলোমনিক ম্যাজিশিয়ান” হিসেবে বর্ণনা করেন, যিনি দাবি করেন যে তিনি শয়তানদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, ঠিক যেমন কিছু ইহুদি ও ইসলামিক ঐতিহ্যে বিশ্বাস করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ১০ শতকে ইসরায়েলের শাসক রাজা সোলোমন এরকম করতে পারতেন।

গবেষক ষোড়শ শতাব্দীর সোলোমনের নামে প্রচারিত জাদু বিষয়ক বইগুলি অধ্যয়ন করতে গিয়ে আশ্চর্য হয়ে দেখেন যে “সোলোমনিক ম্যাজিক” আজও বেশ জনপ্রিয় এবং ক্রমবর্ধমান। টুইটারে একটি “সোলোমনিক ম্যাজিক” অ্যাকাউন্ট দেখে তিনি অবাক হন এবং কিছু ক্লিকের মাধ্যমে তরুণ অকাল্টিস্টদের এক বিশাল অনলাইন সম্প্রদায় আবিষ্কার করেন, যারা টিকটকে নিজেদের জাদু সংক্রান্ত বিষয়াবলী শেয়ার করছে। আরও আশ্চর্যের বিষয়, সোলোমনিক ম্যাজিকের ঐতিহ্যে সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগ উঠেছে যে শয়তানদের নিয়ন্ত্রণের এই কঠোর ও কর্তৃত্বপূর্ণ পদ্ধতি অপব্যবহারের একটি রূপ, যা পারিবারিক সহিংসতার সাথে তুলনীয়। এখন টিকটকে #উইচটক হ্যাশট্যাগে ১৮.৭ বিলিয়ন ভিউ রয়েছে। এটি একটি জনপ্রিয় সাবকালচার হিসেবে উঠে এসেছে।

টিকটক ব্যবহারকারীরা তাদের জাদুর ক্লিপে কী খুঁজছেন? সবচেয়ে সাধারণ কার্যগুলি হল প্রেম, অর্থ, নিরাময় বা প্রতিশোধ। জাদুবিদ্যা আকর্ষণীয় কারণ জীবন অন্যায্য, এবং ক্ষমতা একটি সুখকর কল্পনা। এই দিক থেকে, উইচটক অন্য যেকোনো জাদু ঐতিহ্য থেকে আলাদা নয়। উইচটক হান্টার্সদের তিন ধরনের প্রতিপক্ষ রয়েছে। রাগী খ্রিস্টানরা, উইচটকে যখন এদের অভিনয় করা হয়, তখন তারা ক্রোধে জ্বলে ওঠে, জাদুবিদ্যার অনিষ্টের বিরুদ্ধে চিৎকার করে, যতক্ষণ না তাদের একটি ধারালো জবাব বা হেক্সের হুমকি দিয়ে নীরব করা হয়। তারা কেবল মনে করে আপনি আপনার আত্মাকে ঝুঁকিতে ফেলবেন যদি আপনি এর সাথে জড়িত হন। তারপর আছে চাটুকার সংশয়বাদী অবিশ্বাসী যার কোন ধরনের বিশ্বাসে আগ্রহ নেই।

মধ্যযুগীয় ইংল্যান্ডে, জাদুর বই পাওয়া কঠিন ছিল। মুদ্রণ যন্ত্রের আবিষ্কারের আগে, হাতে লেখা পাঠ্যগুলি পাণ্ডুলিপি আকারে পাস করা হয়েছিল যারা পড়তে শিখেছিল তাদের জন্য। এতা ছিলো ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ, একটি বই তৈরি করার প্রচেষ্টা মূল্যবান ছিল না যদি না বিষয়বস্তু সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ হত। তা সত্ত্বেও ১৩ শতাব্দীর মধ্য থেকে, অকাল্ট জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করে এমন একটি গ্রন্থমালা ল্যাটিন ও বিভিন্ন ইউরোপীয় ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল, যা গোপনে ধনী পুরুষদের ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে স্থান পেয়েছিল।জাদুর বই, বা “গ্রিমোয়ার”, ফরাসি শব্দ গ্রামার থেকে উদ্ভূত, সাধারণ স্কুল গ্রামারের মতো, এটি পাঠককে একটি নতুন ভাষার মূল বিষয়গুলি শেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যদিও এটি ছিল মন্ত্র তৈরি এবং শয়তান উত্থাপনের ভাষা। গ্রিমোয়ারগুলি প্রায়ই গুপ্ত জ্ঞানের বিখ্যাত ব্যক্তিদের প্রতি আরোপ করা হত এবং প্রজ্ঞাবান রাজা সোলোমন বিশেষ করে খ্রিস্টান পাঠকদের আকর্ষণ করেছিলেন।

১৫ শতাব্দীতে ইউরোপে মুদ্রণ যন্ত্রের প্রবর্তন সমস্ত পাঠ্য উৎপাদন করার গতি ও মাত্রাকে বিপ্লবে নিয়ে গিয়েছিলো। এ মুদ্রণ যন্ত্র অকাল্ট সংস্কারকে আরও সহজতর করেছিল। আশ্চর্যজনকভাবে এক পর্যায়ে অকাল্ট সংস্কার জাদুকরদের দ্বারা নয়, বরং একটি সিরিজ সংশয়বাদীদের দ্বারা করা হয়েছিল যারা বিশ্বাস করত বিখ্যাত গুপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলির বিষয়বস্তু ছাপার মাধ্যমে প্রকাশ করে সেগুলিকে উপহাসের মুখে ফেলবে! ডাচ পণ্ডিত জোহান ওয়েয়ারের ল্যাটিন গ্রন্থ “ডি প্রেসটিজিস ডেমোনাম” বা “অন দ্য ট্রিকস অফ ডিমন্স” ১৫৬৩ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। এটি ছিল জাদু খণ্ডন করার প্রথম মহান সংশয়বাদী কাজগুলির মধ্যে একটি। ওয়েয়ারের কাজ একজন ইংরেজের উপর বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল, রেজিনাল্ড স্কট, যিনি তার নিজের বই, “দ্য ডিসকভারি অফ উইচক্র্যাফ্ট”-এ এটি থেকে ধার নিয়েছিলেন, যা প্রথম ১৫৮৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল ।

১৫৯৭ সালে, স্কটল্যান্ডের রাজা জেমস ষষ্ঠ, যিনি ১৬০৩ সালে ইংলিশ সিংহাসন উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন, তিনি জাদুর উপর একটি অসাধারণ গ্রন্থ প্রকাশ করেন এবং নাম দেন “ডেমোনোলজি”। বইটি নাম থেকে যা বোঝা যায় তার বিপরীত ছিলো। শয়তানী শক্তি যে ক্ষতি করতে পারে তার একটি গুরুতর অধ্যয়ন ছিল এটি। জেমস ছিলেন একজন রাগী খ্রিস্টান। এইসব আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক সংঘর্ষের পরিণতি আধুনিক নাট্যকারদের কাজে রয়েছে এবং এই বিতর্কগুলিতে সোলোমনের জদুর উপেক্ষিত গুণের উপস্থিতিতে বিশেষভাবে আগ্রহী।

কিছু কিছু জায়গায় সোলোমনিক ম্যাজিকের নৈতিকতা সম্পর্কে বিতর্ক চলছে। টিকটকে একজন তরুণ নিজেকে একজন “ডেমনোলেটার” হিসাবে বর্ণনা করেছেন সাথে আরো অনেক গুজব! তখনকার সংশয়বাদীদের খণ্ডন এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ঐতিহাসিক অক্ষমতা জাদুতে বিশ্বাসকে উৎসাহিত করা ছাড়া অন্য কিছু করার জন্য গবেষকদেরকে বিশ্বাস করিয়েছে যে মৌলবাদীরা এক ব্যাপারে ঠিক, শয়তানের কথা বলুন এবং সে উপস্থিত হবে এবং এটি জাদু নিয়ে টিকটকের জন্যও প্রযোজ্য!
Jo Adetunji

তুরস্কের একজন গেরিলা নেতার ‘জুয়াখেলা’ : আলতাফ পারভেজ , গবেষক ও লেখক

” … সম্প্রতি সবাইকে বিস্মিত করে স্বজাতির গেরিলাদের প্রতি প্রতিরোধযুদ্ধ থামিয়ে বাহিনী ভেঙে দিতে বলেছেন (তুরস্কের কুর্দি গেরিলা নেতা আব্দুল্লাহ ওজালান) । ওজালান কেন এটা বললেন? তুরস্ক ও আশপাশের অঞ্চলে এর ফলাফল কী হতে পারে, সে বিষয়ে ভাবাচ্ছে দুনিয়ার অনেককে। … ওজালানের আহ্বানের পরই ‘পিকেকে’ নামে পরিচিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি দ্রুত অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।…শুরুতেই তারা ওজালানের মুক্তি চেয়েছে। ইঙ্গিত দিয়েছে, ওজালান ফিরে এলেই কেবল তাঁর মতামত শুনে তারা অস্ত্র ছাড়তে পারে। অনেকেরই কৌতূহল, পিকেকে কিসের বিনিময়ে বা কোন চাপে প্রতিরোধযুদ্ধ থামাচ্ছে? তাদের দলের ভেতর সব সংগঠক এ রকম উদ্যোগে সম্মত হবে কি না?

প্রায় দেড় কোটি কুর্দি আছে তুরস্কে। পুরো জনসংখ্যার ১৫ থেকে ২০ ভাগ হবে। তুর্কিদের সামরিক ও সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে কুর্দিদের গেরিলাযুদ্ধের বয়স ৪১ বছর হলো। উভয় পক্ষে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ মারা গেছেন দীর্ঘ এই সংঘাতে। কুর্দিদের হাতে অস্ত্র নেওয়ার পেছনে আদি লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা। এখন তারা চাইছে মূলত সিরিয়া-ইরাকসহ আশপাশের কুর্দি অঞ্চল নিয়ে বৃহত্তর এক স্বশাসিত এলাকা, যেখানে তারা নিজেদের সংস্কৃতি নিয়ে স্বস্তিতে থাকতে পারবে। বিশেষ করে তুরস্কের সংবিধানে সেই ধারা নিয়ে (অনুচ্ছেদ ৬৬) বিতর্ক বেশ চলমান, যেখানে নাগরিকত্বের শর্ত হিসেবে তুর্কি হওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। এতে কুর্দিদের জাতীয়তা সাংবিধানিকভাবে অনেকখানে অস্বীকৃত। তারা মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকারও চায়।

অস্ত্রবিরতির ঘোষণার আগে এসব বিষয়ে বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা যায়নি। কুর্দি ভাষা ও কুর্দিদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক চর্চার চেষ্টা ১৯৮০ সাল থেকে ব্যাপক নিপীড়নের শিকার হয়েছে তুরস্কে। তুর্কি জাতিবাদীদের একাংশ বরাবরই বলে, কুর্দিরা হলো ‘পাহাড়ি তুর্কি’ মাত্র। এসব অতীত অভিজ্ঞতার পরও যে ওজালান পিকেকেকে অস্ত্র ত্যাগ করতে বলছেন, সেটা হয়তো গোপন কোনো আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে ঘটছে। এমনও ভাষ্য রয়েছে, সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের পর সেখানে তুরস্কের প্রভাব যেভাবে বাড়ছে, তাতে কুর্দিদের আন্তসীমান্ত সামরিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা দুরূহ হয়ে পড়ছে বলেই ওজালান নতুন অবস্থান নিলেন।

তুরস্কের জন্য সিরিয়ার বর্তমান অবস্থা একটা ঐতিহাসিক সুযোগ। যেহেতু ইরাক ও সিরিয়ায় ঢুকেও তুর্কির বাহিনী হামলা চালাতে পারছে, সে কারণে ইতিহাসে এই প্রথম কুর্দিরা সব সীমান্তে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় আছে। এই সুযোগে অনেক কম ছাড় দিয়েও হয়তো পিকেকেকে গেরিলা যুদ্ধ থেকে বের করে নিয়ে আসা যেতে পারে। … কুর্দি জাতিসত্তা তুরস্ক ও সিরিয়ার পাশাপাশি ইরাক ও ইরানেও আছে বড় সংখ্যায়।… পিকেকে অস্ত্রসমর্পণ করলে নিশ্চিতভাবে সেটা সিরিয়ার কুর্দি প্রতিরোধও দুর্বল করবে এবং তাদেরও রাজনৈতিক-সামরিকভাবে অনেকখানি নমনীয় ভূমিকা নিতে হবে সামনের দিনগুলোতে। কিন্তু সিরিয়া-ইরাকে আইএস এবং তুরস্কের বর্তমান সামরিক নীতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সেসব জায়গার কুর্দিদের পক্ষে ওজালানের একতরফা যুদ্ধবিরতি অনুসরণের কোনো সুযোগ নেই।

… সবচেয়ে খারাপ বিকল্প হলো, একদম কোনো প্রাপ্তি ছাড়া কুর্দিদের অস্ত্রত্যাগ। তবে সেটাও এভাবে পরোক্ষে সমাজের জন্য লাভ বয়ে আনতে পারে যে, এ রকম একতরফা ছাড় তুরস্কজুড়ে কৃত্রিম সামরিকায়ন ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি বন্ধ করার যুক্তি তৈরি করবে।এতে দেশটিতে গণতান্ত্রিক শক্তিসমূহ আরও বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাবে এবং সেটা কুর্দিদের গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়াবে। বিষয়টা উল্টোভাবেও সত্য। কুর্দি-সমস্যার সমাধান তুরস্কে গণতান্ত্রিক সংস্কারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এক বিষয়।… অস্ত্রহীন কুর্দিরা এভাবে তুরস্কে জাতিগত সম্পর্ক সংস্কারের অনেক গণতান্ত্রিক মিত্র পেতে পারে। কুর্দিবান্ধব পিপলস ইকুইটি অ্যান্ড ডেমোক্রেটিক পার্টিও এই সুযোগে বিকশিত হতে পারে আরেক ধাপ। …”


৬ মাসের মধ্যে সংস্কার ও ডিসেম্বরে নির্বাচন সম্ভব

“… আমাদের অনেক ব্যর্থতা আছে। কিন্তু বিপ্লব-পরবর্তী পৃথিবীর প্রতিটি দেশের… কী রকম অবস্থা হয়! আজকের সিরিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখেন, মিডেল ইস্টের দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখেন।… আরব বসন্ত একমাত্র তিউনিসিয়ায় সফল হয়েছে। কী অবস্থা হয়ে যে দেখেন। আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের পর বাংলাদেশে কী অবস্থা হয়েছিল, চিন্তা করেন। সেটার তুলনায় আমরা এখনো খারাপ অবস্থাতে নেই, ভালোই আছি।

… আমাদের সঙ্গে শেখ হাসিনার শাসনামলের পার্থক্য হচ্ছে- আমাদের সরকারে থাকা কোনো মানুষ অসৎ না, আমাদের কোনো হীন পলিটিক্যাল এজেন্ডা নেই, আমরা নির্যাতন করি না।… শেখ হাসিনার আমলে সরকার, পুলিশ গায়েবি মামলা করত- এ সরকারের পক্ষ থেকে কোনো গায়েবি মামলা করা হয়নি। যেসব মামলা হয়েছে, সেগুলো সাধারণ মানুষ করেছে, সরকার করেনি।…একটা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি দেখে, ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নিয়ে আমরা দাঁড়িয়ে আছি দেখে, আমাদের যতটা সফল হওয়া উচিত ছিল, ততটা পারছি না।

… তা ছাড়া আমাদের এই কাজে তো কারো অভিজ্ঞতা ছিল না। তারপরও সবাই মিলে চেষ্টা করি। আমাদের ভুল থাকতে পারে, আমরা চেষ্টা করি। … আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। …আমি শুধু আপনাদের বলব, এ সময়ে বিশেষভাবে খারাপ হয়েছে, আবার ধরেন গত দুই মাসে এত খারাপ ছিল না। ইনশাআল্লাহ এক মাস পর পরিস্থিতি আবার ভালো হবে। এটা কার্বের মতো আছে। … পুলিশের একজন বড় কর্মকর্তা বলেছেন- ‘আমাদের পুলিশ কী করবে বুঝতে পারে না। পুলিশ দিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা ঠেকানো যায় না, যারা রাস্তাঘাট আটকে রাখে তাদের মারবে নাকি পরাজয় স্বীকার করে চলে আসবে বা কতটা মানবিক হবে বুঝতে পারে না।’

… এখন আমাদের সমস্যাটা হয় কী, আমরা যদি বলতে যাই পুলিশকে যে ঠিক আছে আগের মতো পিটাও। তখন বলল যে না, মেয়েদের কোনোভাবেই পেটানো যাবে না, ছাত্রদের পেটানো যাবে না, সাংবাদিকদের পেটানো যাবে না, হুজুরদের পেটানো যাবে না। -তাহলে পুলিশ তো জানেই না কীভাবে ডিল করবে। পুলিশকে বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনো এ রকম একটা সময়ের মুখোমুখি হতে হয়নি। যেখানে সারাজীবন খালি পেটায়, সেখানে এখন বিক্ষুব্ধ মানুষের ভিড়, কারণ মানুষ অনেক বেশি স্বাধীন এখন। … প্রায়ই বলা হয় শেখ হাসিনাসহ স্বৈরাচারের দোসরদের, বিচার হচ্ছে না, বিচারে ঢিলেমি হচ্ছেজামায়াতে ইসলামীর নেতাদের জঘন্য বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার। তাদের বিচারের ক্ষেত্রে এভারেজে আড়াই বছর লেগেছে।…আড়াই বছর লাগছে যে বিচার, সে বিচার আমি কেমনে ছয় মাসে করব?

এই বিচার আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। আমাদের প্রসিকিউশন টিম আছে, ইনভেস্টিগেশন টিম আছে, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সর্বাত্মক দ্রুততার সঙ্গে এই টিমগুলো গঠন করে দিয়েছি। … আনপ্রিসিডেন্টলি হাই হয়ে গেছে মানুষের এক্সপেক্টেশন, মানুষের প্রতিবাদ করার ভাষা, প্রতিবাদ করার সুযোগ, এত রকম বঞ্চনা, এত রকম টেনশন সমাজে। তারপর ডিপ্রেসড পুলিশ ফোর্স, বিচার বিভাগে সমস্যা আছে। আমাদের চেষ্টার তুলনায় কাজের ভলিউমটা অনেক বেশি, সে জন্য মনে হচ্ছে আমরা তেমন কাজ করছি না।

… শেখ হাসিনা সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন, মানুষ মারার জন্য।… আমরা মনে করি, যেই অপরাধ হয়েছে, তার সাক্ষ্য-প্রমাণ আছে। সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার করার মাধ্যমেই হাসিনাসহ ফ্যাসিবাদের দোসরদের যথোপযুক্ত বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে। … আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সবগুলো রাজনৈতিক দলই সংস্কার চায়। সমস্যাটা কোন জায়গায়? কোনো রাজনৈতিক দল মনে করে, সংস্কার বাস্তবায়ন করে কি নির্বাচন? তাহলে তো নির্বাচন দেরি হয়ে যাবে! আবার কোনো রাজনৈতিক দল মনে করে, না, সংস্কার করেই নির্বাচন করা উচিত। না হলে নির্বাচনের পর যে দল জিতবে সে হয়তো সংস্কার করবে না। বিরোধটা এই জায়গায়। সবাই সংস্কায় চায়, কম আর বেশি।




‘ ইরানে হামলা হলে তিন দিনে পানি শূণ্য হবে আরব বিশ্ব ‘ : কাতারের প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা করলে নিজ দেশসহ আরব রাষ্ট্রগুলোর পানি তিন দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জসিম আল থানি। শুক্রবার মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার এবং উপস্থাপক টাকার কার্লসনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন, যা মেহের নিউজ এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ ইরানের বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কখনও হামলা হলে ইরান এবং কাতারের মধ্যে পানির অংশের কী হবে এমন প্রশ্নের জবাবে থানি বলেন, ‘এই ধরনের ঘটনার ফলে উচ্চ স্তরের পানি দূষণের হবে। তখন এই অঞ্চলে পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনবে।’

তার কথায়, ‘এটি মূলত সম্পূর্ণরূপে দূষিত হবে তিন দিনের মধ্যে পুরো দেশে পানি শেষ হয়ে যাবে। এটি শুধুমাত্র কাতারের জন্য প্রযোজ্য নয়, এটি কুয়েতের জন্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং পারস্য উপসাগরীয় আমাদের সবার জন্য প্রযোজ্য।’ সাক্ষাত্কারে কাতারের প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, ‘আমরা সিরিয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে ১৪ বছর ধরে যুদ্ধ করেছি।’ তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘উভয় দেশ নিজেদের মতপার্থক্য সত্ত্বেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখেছে।’


কুসংস্কারের একাল সেকাল

কালো বিড়াল অশুভ
শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বজুড়ে অনেক মানুষই কালো বিড়ালকে অশুভ ও দুর্ভাগ্যের প্রতীক মনে করেন মনে করেন। প্রচলিত যত কুসংস্কার রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এই কালো বিড়ালকে অশুভ মনে করা। কোথাও প্রচলিত রয়েছে কোনো মানুষকে দেখে কালো বিড়াল যদি দূরে পালায় তাহলে তার সঙ্গে দুর্ভাগ্যও চলে যায়। অনেক দেশে তো মনে করা হয় যাত্রাপথে এই কালো বিড়াল দেখলে দুর্ঘটনা ঘটবেই। তাই দেখামাত্র যাত্রা থামিয়ে বিরতি নেন তারা। কিন্তু আসলেই কি কালো বিড়াল শুধু তার গায়ের রঙের জন্য দুর্ভাগ্যের প্রতীক নাকি এর রয়েছে কোনো দুর্ভাগ্যজনক অতীত? আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগের কথা। প্রাচীন গ্রিস ও মিসরীয় সভ্যতায় বেশ সুখে শান্তিতেই থাকত নানা বর্ণের বিড়ালেরা। সেই সময়ে বিড়াল হত্যা ছিল ভীষণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সে সময় বিড়ালকে মানা হতো বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতীক হিসেবে। তাদের কাছে বিড়াল ছিল অতি পবিত্র একটি প্রাণী। দ্বাদশ শতকে এসে বিড়াল নিয়ে কুসংস্কার শুরু হয়। আর এর সূচনা করেন পোপ নবম গ্রেগরি। ১২৩৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি ঘোষণা দিলেন কালো বিড়াল পৃথিবীতে আসে শয়তানের দূত হিসেবে। এ সময় তিনি একটি কালো বিড়াল কফিনে দিয়ে পেরেক ঠুকে দেন এবং ঘোষণা দেন শয়তানের একটি অবতার হলো এই কালো বিড়াল। এটা অশুভ এবং এর থেকে দূরে থাকাই উচিত। পোপের প্রতি নিষ্ঠা প্রমাণ করতে হাজার হাজার কালো বিড়াল পুড়িয়ে মারা হয়। ১৪ শতকের দিকে ইউরোপের অনেক এলাকাতেই কালো বিড়াল বিলুপ্তপ্রায় হয়ে যায়। পরবর্তী কয়েক শতাব্দীতে এই ধারণা পোষণ করা হয় যে, স্বাভাবিকভাবেই কালো বিড়াল সব শয়তানের নেতৃত্ব দেয় এবং ডাইনিরা পৃথিবীতে কালো বিড়ালের ছদ্মবেশ নিয়ে আসে। দুঃখজনক হলেও সত্যি, কালো বিড়ালের প্রতি সেই বিদ্বেষ আজও আমাদের মধ্যে রয়ে গেছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, পোষার জন্য খুব কম মানুষই কালো রঙের বিড়াল বেছে নেন।

মইয়ের নিচে হাঁটলে মৃত্যু
এই কুসংস্কারটি বেশ পুরনো। বলা হয়ে থাকে মইয়ের নিচ দিয়ে হাঁটলে দুর্ভাগ্য আসবে সঙ্গে সঙ্গে এবং এই দুর্ভাগ্য বয়ে বেড়াবে আজীবন। এমনকি কারও ফাঁসিতে ঝুলে মৃত্যুও হতে পারে। এই কুসংস্কার এখনো অনেক দেশে প্রচলিত। তারা বিশ্বাসও করে এবং মেনেও চলে। মইয়ের নিচ দিয়ে না গিয়ে তারা দূর দিয়ে চলে যায়। প্রাচীন মিসরে আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর আগে কুসংস্কারের প্রচলন শুরু হয়।সে সময় মিসরীয়রা মনে করত ত্রিভুজ হচ্ছে পবিত্র। তাই ত্রিভুজাকৃতির যেকোনো জিনিসই ছিল তাদের কাছে সম্মানের ও পবিত্রতার মূর্ত প্রতীক। মনে করা হতো যেকোনো ত্রিভুজ প্রতিনিধিত্ব করে দেবতাদের। তাই ত্রিভুজ অতিক্রম করা মানে তাদের অপবিত্র করা ও দেবতাদের অসম্মান করা। খ্রিস্টানরা ‘ত্রিত্ববাদে’ বিশ্বাস করে। এটা তাদের বহুল আলোচিত ধর্মবিশ্বাস। ত্রিত্ববাদের অর্থ হচ্ছে পিতারূপী ঈশ্বর (গড), পুত্ররূপী ঈশ্বর (যিশু) ও পবিত্র আত্মারূপী ঈশ্বর। তারা তিনজনই এক এবং একজনই তিন। প্রাচীন কালে খ্রিস্টানরা তাই তিন কোণের যে কোনো কিছুকেই পবিত্র মনে করত। তাদের কাছে দেয়ালে মই রাখা হলে তার নিচ দিয়ে হেঁটে যাওয়া ছিল অশুভ। কারণ মই যখন কোনো দেয়ালে হেলান দেওয়া হয় তখন সেখানে ত্রিকোণ তৈরি হয়। তাই বর্তমান সময়েও অনেক দেশে এখনো মইয়ের নিচ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় আঙুলে ক্রসচিহ্ন এঁকে যায়। আবার কেউ যদি ভুল করে চলেও যায়, তাহলে উল্টো আবার ঘুরে আসে। তারপর মনে মনে কোনো একটি প্রার্থনা করে আবারও সেই মইয়ের নিচ দিয়ে হেঁটে যায়। প্রচলিত এই কুসংস্কারগুলো অবশ্যই প্রকৃত সত্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়নি। এগুলো দৃঢ়তা পেয়েছে মানুষের মনের ভয়ের ওপর ভর করেই।

অপয়া তেরো
তেরো সংখ্যাকে বলা হয় অপয়া। আমাদের উপমহাদেশ তো বটেই, পশ্চিমা বিশ্বেও রয়েছে তেরো সংখ্যার প্রতি অজানা ভয়। তেরো সংখ্যাটি নিয়ে কুসংস্কার রয়েছে পৃথিবীর প্রায় সব দেশে। তেরো নিয়ে মানুষের ভয় এতটাই প্রবল যে, এ নিয়ে তৈরি হয়েছে ফোবিয়া। এই ফোবিয়ার নাম ট্রিসকাইডেকেফোবিয়া। এই ফোবিয়ার কারণেই অনেক আর্কিটেক্ট কখনো তেরো ধাপের সিঁড়ি কিংবা তেরো তলা দালান বানাতে চান না। অনেক দেশের হোটেলে তেরো সংখ্যার রুমটিই থাকে না। লিফটে থাকে না তেরোতম বাটন। পৃথিবীতে এমন অনেকেই রয়েছেন যারা এই তেরো রুম নম্বর বা তেরোতম ফ্লোর বা তেরো-সংক্রান্ত যেকোনো কিছুতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এই কুসংস্কারের একটি প্রাচীন উৎস রয়েছে। এই ভয়ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ধরা হয় ‘দ্য কোড অব হাম্মুরাবি’ গ্রন্থকে। বইটি ছিল ১৭৫৪ খ্রিস্ট পূর্বাব্দের। এই বইকে বলা হয় পৃথিবীর প্রথম লিখিত আইনের বই। মোট ১২টি পাথরের টুকরোয় খোদাই করে লেখা রয়েছে ২৮২টি আইনের সংকলন। কিন্তু বইটি আবিষ্কৃত হয় অনেক অনেক পরে। কিন্তু আবিষ্কারের পর দেখা যায় এই বইয়ের তেরো নম্বর আইনটি নেই। কিন্তু কেন বাদ দেওয়া হয়েছিল বা কেন নেই সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যেহেতু এত প্রাচীন একটি বইয়ের তেরো নম্বর আইন বাদ দেওয়া হয়েছে, তাই ধরে নেওয়া হয়েছে এই সংখ্যাটি অশুভ। সেই থেকেই তেরো সংখ্যাকে অপয়া বলার রীতি চলে আসছে। তাছাড়া অনেকে মনে করে বাইবেলে বর্ণিত ‘শেষ নৈশভোজ’ বা লাস্ট সাপার কাহিনী থেকে তেরো সংখ্যাটির সঙ্গে অশুভ বিশ্বাসের ধারণা শুরু হয়েছে।যিশুখ্রিস্টকে ক্রুশবিদ্ধ করার আগের রাতে একসঙ্গে খাবার খেয়েছিলেন যিশুসহ মোট তেরোজন। সেখানে ছিলেন একজন বিশ্বাসঘাতক।বলা হয়ে থাকে, তিনি বসেছিলেন তেরো নম্বর আসনটিতে। তাছাড়া আরও অনেক কাহিনী প্রচলিত রয়েছে এই তেরো সংখ্যাটিকে ঘিরে।

ভাঙা আয়নায় বিপদ
আয়না আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর মধ্যে একটি। সারা দিনে একবারও আয়না দেখে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিন্তু এই আয়নাকে ঘিরে রয়েছে লোমহর্ষক নানা কুসংস্কার। বিশেষ করে ভাঙা আয়নায় মুখ দেখা নাকি ভীষণ বিপজ্জনক। ভাঙা আয়নায় মুখ দেখলে নাকি ব্যক্তির আত্মা সেখানেই আটকে থাকে। আর কোনো কারণে যদি আয়না ভেঙে ফেলেন, তাহলে নাকি বিপদ পিছু ছাড়বে না অন্তত সাত বছর। এসব কুসংস্কার শুরু হয়েছিল আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে। প্রাচীন রোমানরা মনে করত মানুষের সাতটা করে জন্ম থাকে। আর কেউ যদি কোনো জন্মে একটা আয়না ভেঙে ফেলে তবে মৃত্যুর পর আয়নার ভাঙা টুকরোগুলোর ভেতরে সেই ব্যক্তির আত্মা আটকা পড়ে যায়। আবার পুনর্জন্ম না হওয়া পর্যন্ত সেই ব্যক্তির মুক্তি ঘটে না। তবে, ভাঙা কাচের সব টুকরো জড়ো করে যদি মাটির নিচে পুঁতে ফেলা যায় বা খরস্রোতা নদীতে ফেলে দেওয়া যায় তবে আর দুর্ভাগ্য থাকে না।