Home Blog Page 158

সুনীতা উইলিয়ামস – যিনি ভেঙে দিয়েছেন নারীর অপারগতার মিথ

পৃথিবীর কোনো প্রান্তে নারীকে যখন ঘরে বন্দি রাখার পাঁয়তারা করা হচ্ছে, এমনই এক সময়ে প্রস্তুতি ছাড়াই এক নারী মহাকাশে কাটিয়ে এসেছেন দীর্ঘ নয় মাস। নাসার অন্যতম অভিজ্ঞ মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস গত বছরের ৮ জুন আরেক সহকর্মী বুচ উইলমোরকে সঙ্গে নিয়ে মহাকাশ যাত্রা করেন। কথা ছিল ৮ দিনের মহাকাশ অভিযান শেষে ফিরে আসবেন। কিন্তু কারিগরি জটিলতায় স্পেস স্টেশনেই আটকা পড়েন তারা। তারপর সেখানে বাধ্য হয়েই কাটান নয় মাস! এর পরের গল্প সংবাদমাধ্যমের বদৌলতে সবারই জানা।দীর্ঘ নয় মাস প্রায় প্রস্তুতিবিহীন মহাকাশ অভিযানে বসে থাকেননি বুচ ও সুনীতা। তারা গবেষণা করে বের করেছেন মাইক্রো গ্র্যাভিটিতে কোন কোন ফসল উৎপাদন করা যায়, মহাকাশে ফুল ফোটানো সম্ভব কিনা-ইত্যাদি।

শুধু তাই নয়, একজন মহাকাশচারীর যেহেতু নানা শরীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তার হৃৎপিণ্ড, কিডনি ইত্যাদি কতটা সক্রিয় থাকে, কীভাবে থাকে প্রায় প্রস্তুতিবিহীন অভিযানে সে সমস্তও সেরে নিয়েছেন অসামান্য প্রতিভার অধিকারী এই দুই নভোচারী।কয়েক মুহূর্ত লিফটে আটকে গেলে অনেকের যেখানে দম বন্ধ হয়ে যায়, সেখানে সুনীতা মহাকাশে নিজের প্রিয় ফুলও ফুটিয়ে ফেলেছেন। সুনীতা উইলিয়ামস ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ইউক্লিড শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পুরো নাম সুনীতা লিন উইলিয়ামস। তার বাবা দীপক পান্ড্য একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক, আর মা বনি পান্ড্য ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত।

স্নাতক শেষ করার পর তিনি মার্কিন নৌবাহিনীতে যোগ দেন এবং একজন হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে কাজ করেন। তবে নিজের ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে ১৯৯৮ সালে তিনি নাসাতে নভোচারী হিসেবে নির্বাচিত হন। প্রশিক্ষণের পর ২০০৬ সালে প্রথমবারের মতো মহাকাশে যান তিনি। সেবার তার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কাটানো ১৯৫ দিন ছিল কোনো নারী মহাকাশচারীর মহাকাশে কাটানো সর্বোচ্চ সময়। এরপর ২০১২ সালে তিনি আবারো মহাকাশে যান এবং গড়েন নতুন রেকর্ড। এই মিশনে তিনি স্পেসওয়াকের মাধ্যমে ৫০ ঘণ্টার বেশি সময় মহাকাশ স্টেশনের বাইরে কাজ করেন। এটিও ছিল কোনো নারী মহাকাশচারীর জন্য রেকর্ড।



ঘুমানোর আগে রিলস দেখছেন ?

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিলসের প্রভাব নিয়ে এক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, যা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে টানা রিলস দেখার কারণে হাইপারটেনশনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। এই গবেষণাটি ৪ হাজার ৩১৮ জনের ওপর করা হয়েছে এবং এতে দেখা গেছে, বিশেষ করে তরুণ ও মধ্যবয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন যে, ঘুমানোর আগে রিলস দেখার কারণে শরীরের সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম অধিক সক্রিয় হয়ে ওঠে, ফলে হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘ সময় একইভাবে থাকার ফলে রক্ত চলাচল স্তিমিত হয়, যা হাইপারটেনশনের জন্ম দিতে পারে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিলসের প্রভাব নিয়ে এক গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, যা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে টানা রিলস দেখার কারণে হাইপারটেনশনের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। এই গবেষণাটি ৪ হাজার ৩১৮ জনের ওপর করা হয়েছে এবং এতে দেখা গেছে, বিশেষ করে তরুণ ও মধ্যবয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন যে, ঘুমানোর আগে রিলস দেখার কারণে শরীরের সিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম অধিক সক্রিয় হয়ে ওঠে, ফলে হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘ সময় একইভাবে থাকার ফলে রক্ত চলাচল স্তিমিত হয়, যা হাইপারটেনশনের জন্ম দিতে পারে।

বেশ কিছুদিন ধরে রিলসের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে, বিশেষ করে করোনাকালে শর্ট ভিডিওর জনপ্রিয়তা বাড়ায় মানসিক স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রিলস দেখার ফলে চিন্তার খোরাকের অভাব, সৃজনশীল চর্চার পতন এবং ‘ব্রেন রট’ হওয়ার সমস্যাও দেখা যাচ্ছে। এই গবেষণাটি আরো একটি দিক স্পষ্ট করেছে, তা হলো শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে, বিশেষ করে ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইমের কারণে। গবেষকরা এই সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য পরামর্শ দিয়েছেন যে, রিলস দেখার সময় নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। তারা উল্লেখ করেছেন যে, ঘুমানোর আগে ফোন থেকে কিছু সময় দূরে থাকলে ভালো ঘুম হবে এবং শরীরও যথাযথ বিশ্রাম পাবে। এই উপায়টি মানলে রিলসের নেতিবাচক প্রভাব থেকে অনেকটা মুক্ত থাকা সম্ভব।



কেন আমেরিকানরা সর্বত্রই ষড়যন্ত্র দেখতে পায় – ডন ডেলিলো

আমেরিকান সাহিত্যিক ডন ডেলিলো তার লেখায় কন্সপিরেসি থিমকে একাধিকভাবে অনুসন্ধান করেছেন। বিশেষ করে তার Libra এবং Underworld উপন্যাসে তিনি আমেরিকান সমাজে ষড়যন্ত্রের ধারণা এবং এর বহুমুখী প্রতিফলন নিয়ে আলোচনা করেছেন। ডেলিলোর মতে, আমেরিকানরা “সবত্রই ষড়যন্ত্র দেখতে পায়” কারণ তারা একটি বিশাল এবং জটিল সামাজিক কাঠামোতে বসবাস করে, যেখানে প্রতিটি ঘটনা বা তথ্যের মধ্যে লুকানো কিছু উদ্দেশ্য বা অজানা শক্তির প্রভাব খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়। ডেলিলোর মতে, আমেরিকানদের মধ্যে ষড়যন্ত্রের প্রতি আগ্রহের মূল কারণ হল আধুনিক সমাজের অত্যন্ত জটিলতা। একদিকে যেখানে বৈশ্বিক রাজনীতি, অর্থনীতি, এবং প্রযুক্তি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, সেখানে অন্যদিকে এই পরিবর্তনগুলো মানুষের সাধারণ অনুভূতির সাথে মানিয়ে নিতে খুব কঠিন হয়ে পড়ে।

২০শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বিশেষ করে ১৯৬০-৭০ দশকে, আমেরিকায় একইসাথে একাধিক বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের ঘটনা ঘটেছিল।যেগুলো জনগণের মনে গভীর সন্দেহ এবং আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল। JFK হত্যাকাণ্ড, ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি, এবং সিআইএ’র গোপন অপারেশনগুলি ক্রমশ এই ষড়যন্ত্রের ধারণার জন্ম দিয়েছিল। এই ঘটনাগুলি মানুষের মধ্যে এমন অনুভূতি তৈরি করেছিল যে সরকার, রাজনীতি, এবং বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য বা কার্যকলাপ গোপন রাখে এবং মানুষকে অজ্ঞ রাখতে চায়।

ডেলিলো তার লেখায় আধুনিক মিডিয়ার ভূমিকা সম্পর্কে এক গভীর আলোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, মিডিয়া ষড়যন্ত্রের ধারণাকে বাড়িয়ে তোলে এবং জনগণের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে। ২০শ শতকে টেলিভিশন, রেডিও এবং পরে ইন্টারনেটের বিস্তার ঘটার ফলে, মানুষের কাছে তথ্যের প্রবাহ একদিকে যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি এর সত্যতা বা নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। একটি বিশেষ তথ্যের পেছনে কতটা প্রভাবশালী শক্তি কাজ করছে, তা নিয়ে নানান মতামত উঠে এসেছে। ডেলিলো তার উপন্যাস White Noise এ এটিই তুলে ধরেছেন যে, যখন মানুষ স্রেফ তথ্যের বন্যায় ডুবে যায়, তখন তা তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বা তথ্যকে বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হয় না, বরং তারা একটি বিভ্রান্তিকর বাস্তবতা তৈরি করে ফেলে, যেখানে প্রতিটি সংবাদ বা ঘটনাকেই এক একটি বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখা হয়।

ডেলিলো আরও বলেন, ষড়যন্ত্রের ধারণা একটি মানসিক অবস্থা হিসেবে দেখা উচিত। আমেরিকান সমাজে একদিকে রয়েছে মুক্তবাজারের ধারণা, যেখানে সবকিছুই প্রকাশ্যে এবং দৃশ্যমান হওয়া উচিত। অন্যদিকে আবার সেই একই সমাজে গোপনীয়তা এবং সরকারি কৌশলের প্রতি বিশ্বাসের অভাব রয়েছে। মানুষের মনে এটি বিশ্বাস গড়ে উঠেছে যে, তাহলে যেকোনো কিছু যেগুলো প্রকাশ্যে আসে, তার পেছনে কোনো গোপন উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এই মানসিকতা আমেরিকান সমাজের মধ্যে একটি গভীর অস্থিরতা তৈরি করেছে, যেখানে প্রতিটি বড় ঘটনা বা পরিবর্তনের পেছনে একটি ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব খোঁজা হয়।

লি হ্যাভি অসওয়াল্ডের জীবন নিয়ে লেখা ডেলিলোর উপন্যাস Libra, ষড়যন্ত্রের ধারণাকে একটি কাল্পনিক রূপে তুলে ধরে। এখানে অসওয়াল্ডের জ্ঞানবিকৃতির মাধ্যমে ডেলিলো দেখাতে চেয়েছেন যে, ষড়যন্ত্রের তত্ত্বগুলি মাঝে মাঝে বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত হয়ে মানুষের নিজস্ব মানসিক অবস্থা এবং পরিপ্রেক্ষিত দ্বারা প্রভাবিত হয়। উপন্যাসে অসওয়াল্ডের কর্মকাণ্ডের পেছনে কয়েকটি গোপন শক্তি কাজ করলেও ডেলিলো যে কথা বলতে চান তা হলো, কখনো কখনো ষড়যন্ত্রের তত্ত্বগুলি আমাদের নিজেদের অস্থিরতা এবং ভয় থেকে উৎপন্ন হয় এবং আমাদের সত্যিকার উদ্দেশ্য থেকে দূরে নিয়ে যায়।

অন্যদিকে Underworld উপন্যাসেও আমেরিকান সমাজে ষড়যন্ত্রের ধারণার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ডেলিলো এখানে আধুনিক আমেরিকান জীবন এবং তার মধ্যে চলমান গোপন কর্মকাণ্ড এবং রহস্যময়তা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। এখানে তিনি দেখিয়েছেন, ষড়যন্ত্রের ধারণা শুধু বড় বড় রাজনৈতিক ঘটনার সাথে সম্পর্কিত নয়, এখন এটি দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডেলিলো আমাদের সমাজে কন্সপিরেসি থিওরির বিস্তারকে একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখেন, যেখানে মানুষের কাছে তথ্যের অভাব এবং তথ্যের প্রকৃত তাৎপর্য সম্পর্কে অজ্ঞতা তাদের অস্থিরতা এবং সন্দেহের মধ্যে ঠেলে দেয়। আধুনিক প্রযুক্তি, মিডিয়া, এবং রাজনৈতিক ঘটনার মধ্যে ঘটে যাওয়া গোপনীয়তা এবং বিভ্রান্তি এ ধারণাকে আরও জোরদার করে তোলে। ডেলিলো যে সংকটটি তুলে ধরেন তা হলো, আমরা যতই তথ্য সংগ্রহ করি, ততই আমরা সত্য থেকে আরও দূরে সরে যাই।



বোমা পেতে রেখে হাসপাতাল উড়িয়ে দিল ইসরায়েল

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজার মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত তুর্কি-প্যালেস্টাইন ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল উড়িয়ে দিয়েছে।গাজার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সর্বশেষ হামলায় ফিলিস্তিনের একমাত্র এই বিশেষায়িত ক্যানসার চিকিৎসা কেন্দ্রটি ধ্বংস করা হলো। খবর মিডল ইস্ট আই। ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাস হাসপাতালটিকে সন্ত্রাসী ঘাঁটিতে পরিণত করেছিল। তবে তারা এর সাপেক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, হাসপাতালটি বিমান হামলায় নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। হাসপাতালটি নেতসারিম করিডোরের কাছে অবস্থিত। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধ্বংসযজ্ঞের পেছনে ইসরায়েলের উদ্দেশ্য হলো, করিডোর সম্প্রসারণ করে আরো বড় একটি বাফার জোন তৈরি করা।

ইসরায়েল এরইমধ্যে গাজার বেশিরভাগ হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র ধ্বংস করেছে। মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এটি ইসরায়েলের গণহত্যামূলক নীতির অংশ, যার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত করার চেষ্টা চলছে। মঙ্গলবার ভোর থেকে ইসরায়েল আবারও গাজায় ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু করেছে, এতে এখন পর্যন্ত ৭০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ২০০-এরও বেশি শিশু এবং ১১০ জনেরও বেশি নারী। এদিকে মিডল ইস্ট আই সহ মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বেশ কিছু গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী থেকে গাজায় লিফলেট ফেলা হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল-গাজার সব মানুষ যদি মাটির সঙ্গেও মিশে যায়, তাতে দুনিয়ার কিছুই বদলাবে না। কেউ তোমাদের নিয়ে ভাববে না, কেউ তোমাদের ব্যাপারে জানতেও চাইবে না।


আওয়ামী লীগ নিজে রাজনীতিতে ফেরার পদক্ষেপ নেয়নি , আমরা ঝগড়া করছি – মান্না

সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা নিয়ে শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন- “রাজনীতিতে আবার ফেরার জন্য আওয়ামী লীগ নিজে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা কেউ কেউ, যাঁরা খুব গুরুত্বপূর্ণ লোকজন, ঝগড়া করে ফোকাস করে তাদের সবার সামনে নিয়ে আসছি। (দেশে) গণতান্ত্রিক পথ থাকতে হবে এবং একই সঙ্গে তাদের (আওয়ামী লীগের) বিচার হতে হবে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করছি না। এটা রাজনৈতিক প্রস্তাব। তবে সরকার ও সরকারপ্রধান জনগণকে আহ্বান জানাবেন, সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে।

আওয়ামী লীগ সাড়ে সাত মাসে সাড়ে সাত সেন্টিমিটারও অগ্রগতি করতে পারেনি। নতুন কোনো রাজনৈতিক বয়ান দিতে পারেনি, মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে ও মানুষের সিমপ্যাথি (সহানুভূতি) পাবে এমন কোনো বক্তব্য দিতে পারেনি। এই রকম পরিস্থিতিতে রাজনীতি করে জনগণের সামনে এসে দাঁড়াতে পারবে, সে সম্ভাবনা দেখি না। আওয়ামী লীগকে ব্যান (নিষিদ্ধ) করা যাবে কি না, সে ব্যাপারে সমঝোতার প্রস্তাব নাকি দেওয়া হয়েছে এবং ছাত্ররা বলছে, এ রকম সমঝোতা কারও কারও সঙ্গে নাকি হয়েছে। এ জন্য কোনো কোনো দল কথা বলেনি এবং এখনো বলছে না। সমঝোতা করেই যদি নির্বাচন হয়, তবে এগুলো করার দরকার কী। সংস্কার তো কোনো কাজই করবে না। যে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এত বছর লড়াই করে গণতন্ত্রের পথ এসেছে। সরকারকে এ ব্যাপারে সন্তোষজনক ব্যবস্থা নিতে হবে।”


দেশে অপরাধ বেড়েছে ৬.১৬ %

মামলার তথ্যের ভিত্তিতে গত ৭ মাসে এর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অপরাধের বাড়া-কমার পরিসংখ্যান –
৯৮৬ = ৬৯% খুনের মামলা বেড়েছে খুনের মামলা
৭ মাসে খুন বেড়েছে। ১০%
১৩৪% ডাকাতি
৪১% দস্যুতা
৮৬% অপহরণ
৯.৮% ধর্ষণ
১৪% চুরি
৬.৫% সিধেল চুরি

দেশে সামগ্রিক অপরাধ ৬.১৬% বেড়েছে। এর মধ্যে ডাকাতি, ছিনতাই, দস্যুতা, অপহরণের মতো ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। খুনও বেড়েছে কিছুটা। তবে ধর্ষণ, চুরি ও সিঁধেল চুরির মতো অপরাধ কমেছে। গত সাত মাসে উল্লেখিত ৭ ধরনের অপরাধের ঘটনায় সারা দেশের মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেকের মধ্যে পুলিশকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা এবং পুলিশের আইনি নির্দেশনা না মানার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।এটাকেও সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে দুষ্কৃতকারীরা। এ জন্য এখন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা অপরাধ করলেই মামলা হবে, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। সারা দেশের পুলিশকে এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি সরকার ও পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় মূলত দুটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। একটি হলো সুনির্দিষ্ট কিছু অপরাধ বেড়েছে। অপরটি হলো কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো বা অন্য দেশের অপরাধের ভিডিওকে বর্তমান সময়ে বলে চালিয়ে দিয়ে গুজব ছড়ানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধের ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকেও অপরাধ প্রবণতা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারকে জানানো হয়েছে। সেখানে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী অপরাধ প্রবণতার নেপথ্যে ৫টি বিষয় উঠে এসেছে। এতে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার শূন্যতাকে প্রথম কারণ হিসেবে দেখানো হয়।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে দেখানো হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবলের অভাবকে। তৃতীয় কারণ হিসেবে সুবিচার নিশ্চিত করতে আইনের প্রতি মানুষের সাময়িক অনাস্থা এবং অপরাধীদের সুযোগ গ্রহণকে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাটি। তা ছাড়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দখল-চাঁদাবাজি ও সহিংসতাকে অপরাধ প্রবণতার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাটি। অতীতের অপরাধে সরকার পরিবর্তনের পর মামলা এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধের ঘটনার ব্যাপক প্রচারণাকে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুনির্দিষ্ট কিছু পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত নেতিবাচক প্রচারণাগুলো বেশি চালানো হচ্ছে। একই ধরনের গুজব একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হচ্ছে। এতে বোঝাই যাচ্ছে, প্রচারণাগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, সংঘবদ্ধ ও পরিকল্পিত। ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো কয়েক শ অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করতে পুলিশের সাইবার ইউনিটগুলো কাজ করছে। মানুষের মধ্যে অনিরাপত্তা বোধ দূর করতে প্রতিটি অপরাধের ঘটনায় মামলা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, মামলা বেড়েছে নাকি কমেছে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চলাচল নিরাপদ করার বিষয়ে মানুষকে আশ্বস্ত করতে পারা। অপরাধ করলে পার পাওয়া যাবে না, সবার মধ্যে এমন ধারণা তৈরি করতে হবে।




মানুষের ভাষার সূচনা কবে ?

নতুন গবেষণা বলছে, এক লাখ ৩৫ হাজার বছর আগেও মানুষের ভাষা ব্যবহারের সক্ষমতা ছিল। তবে সামাজিক পর্যায়ে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠতে আরও ৩৫ হাজার বছর সময় লেগেছিল ভাষার। বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীতে মানুষ অর্থাৎ হোমো স্যাপিয়েন্স-এর আগমন ঘটেছে প্রায় দুই লাখ ৩০হাজার বছর আগে। “সব মানব গোষ্ঠীরই নিজস্ব ভাষা রয়েছে এবং সব ভাষারই একে অপরের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে। মানবগোষ্ঠীর প্রথম বড় বিভাজন ঘটেছিল প্রায় এক লাখ ৩৫ হাজার বছর আগে। তাই আমাদের ভাষা সক্ষমতা তার আগেই ছিল,” বলেছেন এই গবেষণার একজন সহ লেখক ও ‘ম্যাসাচুসেট্স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’ বা এমআইটি’র অধ্যাপক শিগেরু মিয়াগাওয়া।

গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকোলজি’-তে। গবেষণায় গত ১৮ বছরের আগের ১৫টি জেনেটিক গবেষণা খতিয়ে দেখেছেন গবেষকরা। এ গবেষণায় ওয়াই ক্রোমোজোম, মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ ও সম্পূর্ণ জিনোম’সহ মানবদেহের বিভিন্ন ধরনের ডিএনএ নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন তারা। গবেষকরা বলছেন, প্রায় এক লাখ ৩৫হাজার বছর আগে আদিম মানুষ ছড়িয়ে পড়ার আগেও একটি একক মানব গোষ্ঠী ছিল, যা এ ধারণাকে সমর্থন করে যে, সেই সময়ে ওই মানব গোষ্ঠীর ভাষা ছিল। অধ্যাপক মিয়াগাওয়া’র দাবি, সব ধরনের মানব ভাষা একই উৎস থেকে এসেছে। বিভিন্ন ভাষার মধ্যে মিল খুঁজতে ইংরেজি, জাপানি ও কিছু আফ্রিকান ভাষা নিয়ে গবেষণা করেছেন তিনি। বর্তমানে গোটা বিশ্বে সাত হাজারেরও বেশি ভাষা রয়েছে, যাদের সকলেরই রয়েছে কিছু মৌলিক কাঠামো।

কিছু বিজ্ঞানীর ধারণা, ভাষা লাখ লাখ বছরের পুরানো, যা আদিম প্রাইমেটদের শব্দ তৈরির ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে তৈরি। তবে মিয়াগাওয়া যুক্তি দিয়েছেন, মানুষের ভাষা অনন্য। কারণ, শব্দ ও ব্যাকরণকে উন্নত এক পর্যায়ে একসঙ্গে করেছে ভাষা। মানুষের জটিল চিন্তাভাবনা তৈরিতে ও একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও সাহায্য করে ভাষা, যা অন্য কোনও প্রজাতি পারে না। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, মানুষ একে অপরের সঙ্গে কথা বলা শুরুর আগে ভাষা কেবল মানুষের মনের মধ্যেই ছিল। এক লাখ ৩৫ হাজার বছর আগে কোনও এক সময়ে, মানুষের হয়তো শব্দের মাধ্যমে চিন্তা করার সক্ষমতা ছিল, তবে যোগাযোগের জন্য তখনও ভাষার ব্যবহার করেনি তারা। অবশেষে এ ব্যক্তিগত চিন্তা ব্যবস্থা এক সময় সামাজিক হাতিয়ার হয়ে ওঠে, যা জন্ম দিয়েছে আমাদের এই পরিচিত ভাষার।

এই ধারণাকে সমর্থন করে প্রত্নতাত্ত্বিক রেকর্ডও। প্রায় এক লাখ বছর আগে খোদাই ও রঞ্জক ব্যবহারের মতো প্রতীকী কার্যকলাপে জড়িত হতে শুরু করে মানুষ। এসব কাজ তাদের উন্নত চিন্তাভাবনারই ইঙ্গিত দেয়, যা সম্ভব হয়েছে ভাষার মাধ্যমে ।মিয়াগাওয়া বলেছেন, মানব অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে ভাষা। “আধুনিক মানব আচরণের সূত্রপাত ঘটিয়েছে ভাষা। মানুষকে জ্ঞান ভাগ করে নিতে, একে অপরের কাছ থেকে শিখতে ও নতুন ধারণা বিকাশের সুযোগ করে দিয়েছে ভাষা।”

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া কী চায় ?

ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চালানোর তিন বছরের বেশি সময় পার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনা চলছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও চান যুদ্ধবিরতি। তবে এজন্য তিনি দিয়েছেন কঠোর সব শর্ত। তিন বছর পর রাশিয়া এখন ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। ক্রেমলিন দখলকৃত কোনও ভূখণ্ড ফেরত দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছে। বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, “ক্রিমিয়া, সেভাস্তোপোল, খেরসন, জাপোরিঝিয়া, দনেৎস্ক ও লুহানস্ক—এগুলো রাশিয়ার অংশ। এগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি স্থির সত্য।”

গত জুনে পুতিন বলেন, ইউক্রেন চারটি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল রাশিয়াকে ছেড়ে দিয়ে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করলে রাশিয়া সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করবে। তিনি চান, দখল করা ভূখণ্ডকে বৈধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অনেকদিন ধরে বলে আসছেন, তারা নিজেদের সার্বভৌম ভূখণ্ড ছাড়বে না। তবে সম্প্রতি তিনি ভূখণ্ড ফিরিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে নিরাপত্তার নিশ্চয়তার ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন। ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ পুতিনের জন্য একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ন্যাটোতে যোগদানকে দেশের নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যারান্টি হিসেবে দেখেন।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছিলেন, ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ একটি ‘বাস্তবসম্মত ফলাফল’ নয়। পরে তিনি এ সম্ভাবনা পুরোপুরি বাদ না দিলেও বলেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে সদস্যপদ সম্ভবত হবে না। ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় দেশগুলো যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইউক্রেনে হাজার হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এই সপ্তাহের শুরুতে রাশিয়া পুনরায় জানিয়েছে যে তারা “কোনো অবস্থাতেই” ন্যাটো দেশগুলোর শান্তিরক্ষী বাহিনীকে ইউক্রেনের ভূমিতে মোতায়েন করতে দেবে না।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ গত বুধবার এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন তুলেছেন, “আমরা কেন শান্তিরক্ষী বাহিনীকে সম্মতি দেব… তারা এমন দেশগুলোর বাহিনী পাঠাতে চায়, যারা আমাদের শত্রু বলে ঘোষণা করেছে। তারা কি শান্তিরক্ষী হিসেবে আসবে?” ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আক্রমণের পর বাইডেন প্রশাসনের দেওয়া নিষেধাজ্ঞাগুলো রুশ অর্থনীতি দুর্বল করেছে এবং দেশটির সামরিক খাতে বাধা সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সরকারিভাবে ক্রেমলিন দাবি করেছে, সব নিষেধাজ্ঞা অবৈধ এবং সেগুলো তুলে নিতে হবে। রাশিয়া বিশেষভাবে ট্রান্সন্যাশনাল পেমেন্ট এবং গ্যাস ও তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রতি আগ্রহী।

রাশিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, পশ্চিমে থাকা রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ জব্দ হয়ে থাকা। গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, সেখানে এসব জমাকৃত সম্পদের সুদ ইউক্রেনকে সহায়তায় ব্যবহারের কথা বলা হয়। পুতিন এই কৌশলকে “চুরি” হিসেবে অভিহিত করেন। রাশিয়ার শর্তগুলোর মধ্যে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ছোট করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শক্তির বৈশ্বিক ভারসাম্য ও শৃঙ্খলার ভবিষ্যত কী ?

0

বিশ্ব ইতিহাসে যুদ্ধ এবং শক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এই দুইয়ের সম্পর্ক বৈশ্বিক শৃঙ্খলার নির্ধারণে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে। সামরিক সংঘর্ষ এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা কেবল দেশে দেশে শাসন প্রতিষ্ঠা করে না, বরং এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক প্রবাহ এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ১৯০০ সালের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবী বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধ, সংঘর্ষ এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে, যা সামরিক শক্তির উপর ভিত্তি করে একাধিক বিশাল পরিবর্তন এনেছে। যুদ্ধ কখনোই কেবল আঞ্চলিক বা দেশীয় সমস্যার সমাধান নয়। এটি শক্তির প্রতিযোগিতা, যেখানে রাষ্ট্রগুলো নিজেদের আধিপত্য, নিরাপত্তা, এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান জোরদার করতে চায়। যুদ্ধের মাধ্যমে রাষ্ট্রসমূহ নিজেদের জন্য শক্তি অর্জন করার পাশাপাশি অন্য রাষ্ট্রের উপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে। এর ফলে বিশ্বে শক্তির একাধিক কেন্দ্র তৈরি হয়, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক শৃঙ্খলার কাঠামো নির্ধারণ করে।

শক্তির ধারণা শুধুমাত্র সামরিক বাহিনীর পরিমাপ নয় বরং এটি অন্তর্ভুক্ত করে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং প্রযুক্তিগত শক্তি। যেমন একটি রাষ্ট্রের অর্থনীতি শক্তিশালী হলে বা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হলে, সে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ভূরাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পায়। এর উদাহরণ হিসেবে দেখা যায় আমেরিকা এবং চীন, যারা একদিকে সামরিক শক্তিতে পারদর্শী, অন্যদিকে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শক্তি ।বিশ্বের ক্ষমতাবিন্যাস একসময় খুব সহজ ছিল। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি এবং পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো পৃথিবীকে দুটি প্রধান ব্লকে বিভক্ত করে—একটি মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা ব্লক এবং আরেকটি সোভিয়েত নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট ব্লক।

এই দ্বিপক্ষীয় বিশ্ব ব্যবস্থা একটি স্থিতিশীল তবে অবাস্তব শৃঙ্খলা তৈরি করেছিল, যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র তাদের নিজ নিজ রাজনৈতিক আদর্শ এবং অর্থনৈতিক মডেল প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছিল। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্যের পর, বিশ্ব নতুন এক একক শৃঙ্খলায় প্রবেশ করে, যা ইতিহাসে “মোনোপোলার” (একক ক্ষমতা) যুগ হিসেবে পরিচিত। তবে বর্তমান সময়ে বিশ্বে একক শৃঙ্খলা আর টেকসই থাকছে না। চীন এবং অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের উত্থান নতুন ধরনের একাধিক শক্তির কেন্দ্র সৃষ্টি করছে, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারতও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। এই পরিবর্তিত বৈশ্বিক শৃঙ্খলা একটি বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা তৈরির পথে এগিয়ে যাচ্ছে, যা সংঘর্ষ এবং সহযোগিতা দুটোই সৃষ্টি করতে পারে।

বিশ্বের শক্তির বিন্যাস এখন অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। আমেরিকার আধিপত্য আগের তুলনায় সমতায় আসছে এবং চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে তার প্রভাব বৃদ্ধি করেছে। চীনের সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক শক্তি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বিশ্ব শৃঙ্খলার ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হতে পারে। চীন এখন আর শুধুমাত্র একটি আঞ্চলিক শক্তি নয়, বরং তার অর্থনৈতিক কৌশল এবং প্রযুক্তিগত উন্নতি তাকে একটি বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তির কেন্দ্র এখন ভারতও। ভারত তার অর্থনীতি এবং সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে ভারতের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈশ্বিক শৃঙ্খলায় এক নতুন ধারার উন্মোচন ঘটছে।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বর্তমান বিশ্বে একটি মূল প্রশ্ন রয়েছে—এটা কি এক নতুন ধরনের যুদ্ধের সূচনা? যুদ্ধের প্রকৃতি এখন পরিবর্তিত হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধ আর কেবল অস্ত্রের মাধ্যমে সংঘটিত হয় না বরং এটি আর্থিক নিষেধাজ্ঞা, সাইবার আক্রমণ এবং তথ্য যুদ্ধের মাধ্যমে একটি নতুন চেহারা নিয়েছে। বিশ্বে শক্তির নতুন কেন্দ্রগুলোর প্রভাব এবং প্রতিযোগিতা বৈশ্বিক সম্পর্কের মধ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মার্কিন-চীনের বাণিজ্য যুদ্ধকে তুলে ধরা যেতে পারে, যেখানে শক্তির প্রতিযোগিতা এবং রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য যুদ্ধের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ দেখা যাচ্ছে।

ভবিষ্যতে যুদ্ধের প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক শক্তির প্রতিযোগিতা আরও জটিল হয়ে উঠবে। প্রযুক্তি, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার ভিত্তিতে শক্তির কেন্দ্রগুলো বারবার পরিবর্তিত হতে পারে। বৈশ্বিক শৃঙ্খলার ভবিষ্যত নির্ভর করবে কি ধরনের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে ওঠে এবং সেই কাঠামো বিশ্ববাসীর জন্য কতটা সহায়ক হতে পারে। যুদ্ধ, শক্তি এবং বৈশ্বিক শৃঙ্খলার ভবিষ্যত একটি অনিশ্চিত পথে চলে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা, শক্তির বিকেন্দ্রীকরণ এবং নতুন বৈশ্বিক শৃঙ্খলা নির্মাণের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। তবে এটি সম্ভব না হলে যুদ্ধ এবং ক্ষমতার মধ্যে পালাবদল বিশ্বে নতুন ধরনের সংঘর্ষ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ব্রুস রবিনস : ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের দমন ‘ ম্যাকার্থিবাদ ‘ এর মতই

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মানববিদ্যার অধ্যাপক ব্রুস রবিনস ফিলিস্তিনপন্থী কর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান দমন-পীড়নের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, মাহমুদ খলিল কোনো অপরাধ করেননি। তিনি শুধু তার বাকস্বাধীনতা প্রয়োগ করেছেন। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো উচিত ছিল। সম্প্রতি কলাম্বিয়া থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী মাহমুদ খলিলের গ্রেফতার প্রসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের রিয়েল টক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্পের ইহুদিবিদ্বেষ নিষিদ্ধকরণে নির্বাহী আদেশের অধীনে তাকে আটক করা হয়েছে।

২০২৪ সালে ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পায়।ভিয়েতনাম যুদ্ধকালীন আন্দোলনের অনুপ্রেরণায় শিক্ষার্থীরা সাময়িক অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানাতে ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইসরায়েলি যুদ্ধের প্রতি সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে ক্যাম্প স্থাপন করে। কিন্তু বাইডেন প্রশাসন এসব বিক্ষোভের সমালোচনা করে সন্ত্রাসবাদের সমর্থন ও ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ আনে। অক্টোবরের মধ্যে ৬০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ফেডারেল তদন্তের মুখে পড়ে, যার মধ্যে কলাম্বিয়া অন্যতম। এছাড়া, বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ধনী দাতাদের চাপ আসে, যারা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তোলে।

রবিনস বলেন কলাম্বিয়ায় যদি সত্যিকারের ইহুদিবিদ্বেষের ঢেউ থাকত, তাহলে সেটি অবশ্যই গুরুতর বিষয় হত। কিন্তু তেমন কিছু ঘটেনি। শুধু ন্যায়বিচারের পক্ষে কথা বলা হয়েছে। তবে প্রশাসন এসব কথা শুনছে না। ট্রাম্প প্রশাসন যখন কলাম্বিয়ার ৪০০ মিলিয়ন ডলার অনুদান আটকে রাখার শর্ত দিল, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল— হয় আদর্শের পক্ষে দাঁড়াবে, নয়তো মাথা নত করবে। শর্তগুলো স্পষ্ট— আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে, ফিলিস্তিনপন্থী বক্তৃতাগুলো দমন করতে হবে, এমনকি মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান স্টাডিজ বিভাগের ওপর সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণ বসাতে হবে। রবিনস বলেন, এটি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লড়াই নয়, এটি এক বৃহত্তর প্রবণতার অংশ। তিনি বলছেন, এটি ১৯৫০-এর দশকের সেই ম্যাকার্থিবাদকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে কমিউনিজমের ভয়ে বুদ্ধিজীবীদের দমন করা হয়েছিল। আজও একই কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে, শুধু নাম ভিন্ন।

তিনি জানান, তিনিও হয়তো এই দমনের শিকার হতে চলেছেন। গত বছর তিনি তার ক্লাসের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলনের ক্যাম্পে গিয়েছিলেন। এখন দুই শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। রবিনস তাই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তের সম্মুখীন। একইভাবে, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ক্যাথরিন ফ্রাঙ্কিকে ফিলিস্তিনপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে, যা অনেকের কাছেই নতুন যুগের ম্যাকার্থিবাদ। ব্রুস রবিনসের আশঙ্কা, হয়তো এমন কোনো রায় আসবে যার কারণে তিনি চাকরি হারাবেন। হয়তো তার একাডেমিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে। তবু তিনি প্রশ্ন তোলেন — আমরা কি প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেব, নাকি নিছক অভিযোগের ভিত্তিতে? যদি প্রমাণ থাকে, তবে দেখানো হোক।