Home Blog Page 159

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা সরকারের নেই : প্রধান উপদেষ্টা

0

বৃহস্পতিবার ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন – ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে দলের যেসব নেতার বিরুদ্ধে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বাংলাদেশের আদালতে বিচার করা হবে।’ বৈঠকে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কোনো দাবির কারণে ভোট পিছিয়ে দেওয়া হবে না। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার নির্বাচনের জন্য দুটি সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ করেছে এবং নির্ধারিত তারিখ পরিবর্তন করা হবে না। যদি রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে সীমিতসংখ্যক সংস্কার চায়, তাহলে নির্বাচন এই বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। আর যদি বৃহত্তর সংস্কারপ্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানান, জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধানী মিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সম্ভাব্য অপরাধের অভিযোগ থাকায় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), হেগে মামলা করার বিষয়টি সরকার বাতিল করেনি। এটি এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে। তিনি আরও জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে। সরকারের নীতিনির্ধারণে দিকনির্দেশনা দিতে জুলাই সনদ চূড়ান্ত করা ও স্বাক্ষরের পরিকল্পনাও রয়েছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষার কথা জানান। তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশবিরোধী অপতথ্য প্রচারের একটি বড় অংশ ভারতীয় গণমাধ্যম থেকেই আসছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়ানোর মোকাবিলায় সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের কর্মকর্তারা রোহিঙ্গা বিদ্রোহী নেতা আতাউল্লাহর গ্রেপ্তারকে সরকারের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতির ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে প্রশংসা করেন। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন, রাখাইন রাজ্যের বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণকারী আরাকান আর্মির সঙ্গে সরকারের আরও কার্যকর যোগাযোগের প্রয়োজন।

Witchy Surrealism এর রাণী – গারট্রুড অ্যাবারক্রম্বি

গারট্রুড অ্যাবারক্রম্বি (১৯০৯-১৯৭৭) ছিলেন এক বিস্ময়কর চিত্রশিল্পী, যিনি তাঁর স্বতন্ত্র শৈলী ও প্রতীকী উপস্থাপনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর শিল্পকর্ম এক ধরনের রহস্যময়, স্বপ্নদৃশ্যের মতো অনুভূতি তৈরি করে, যেখানে নিঃসঙ্গ মানব-অবয়ব, নির্জন ভূদৃশ্য এবং রহস্যঘন বস্তুর পুনরাবৃত্তি লক্ষ করা যায়। বিমূর্ততা, অতিপ্রাকৃত ইঙ্গিত ও প্রতীকী গভীরতা—এই উপাদানগুলো তাঁর চিত্রকলাকে অনন্য মাত্রা দিয়েছে।

অ্যাবারক্রম্বির চিত্রশৈলীকে অতিপ্রাকৃত বাস্তববাদ (Surrealism) বলা যেতে পারে, যদিও তিনি সরাসরি কোনো বিশেষ শিল্প আন্দোলনের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেননি। তাঁর কাজগুলোর মধ্যে একধরনের স্বপ্নময়তা ও রহস্য লুকিয়ে থাকে, যা সুররিয়ালিস্ট শিল্পীদের মতোই বাস্তবতার সীমানাকে অস্পষ্ট করে দেয়। তবে তাঁর শিল্পকর্মে মেক্সিকান চিত্রশিল্পী রেমেডিওস ভ্যারো কিংবা ইউরোপীয় সুররিয়ালিস্টদের মতো অতিরঞ্জিত ফ্যান্টাসি নেই; বরং এটি শান্ত, সংযত এবং প্রতীকবাহী।

অ্যাবারক্রম্বি সাধারণত ছোট আকারের ক্যানভাসে কাজ করতেন, যেখানে তিনি সীমিত রঙের সংযোজন ব্যবহার করতেন। তাঁর প্যালেটে প্রধানত ধূসর, কালো, সাদা এবং গাঢ় নীলের মতো শীতল রঙ দেখা যায়, যা মাঝে মাঝে উজ্জ্বল সবুজ, ঝিনুকের গোলাপি বা গাঢ় লালের মতো গভীর টোনের সঙ্গে মিশে যায়। দূর থেকে তাঁর চিত্রগুলোতে এক ধরনের কঠোরতা ও শুষ্কতা অনুভূত হয়, তবে কাছে গেলে সেগুলোর বর্ণিল সূক্ষ্মতা ধরা পড়ে।

অ্যাবারক্রম্বির চিত্রকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কিছু নির্দিষ্ট প্রতীকের পুনরাবৃত্তি। বিড়াল, পেঁচা, চাঁদ, মেঘ, দরজা, মই, ছায়া, ডিম, ঝিনুক, কার্নেশন ফুল, দুর্গের মিনার—এইসব উপাদান প্রায়ই তাঁর চিত্রে ফিরে ফিরে আসে। এগুলো এক ধরনের ব্যক্তিগত ভাষা তৈরি করে, যা তাঁর চিত্রকর্মকে ব্যাখ্যার একাধিক স্তর দেয়।

তাঁর বিখ্যাত চিত্র Figure Facing East (1947)-এ দেখা যায়, একাকী এক নারী চাঁদের আলোয় এক শূন্য প্রান্তরে হেঁটে যাচ্ছেন। এই চিত্রটির বিমূর্ত ভাবনা সহজেই স্যামুয়েল বেকেটের নাটক Waiting for Godot (1953)-এর নিরাশাপূর্ণ সেট ডিজাইনের সঙ্গে তুলনীয়। অ্যাবারক্রম্বির কাজে এই একাকী নারী-চরিত্র বারবার দেখা যায়—লম্বা, শীর্ণ, প্রায় ভাসমান উপস্থিতি, যে যেন শিল্পীর নিজস্ব প্রতিরূপ।

তিনি প্রায়ই ছবির মধ্যে ছবি আঁকতেন, যা একটি রহস্যময়, অসীম স্থান তৈরি করত। যেমন A Picture in a Picture in a Picture (1955)-এ দেখা যায়, এক ধূসর কক্ষে সাদা দরজা ও সবুজ রঙের একটি সোফা রাখা আছে এবং দেওয়ালে টাঙানো চিত্রটিও প্রায় একই দৃশ্য উপস্থাপন করছে। এই কৌশলটি দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গিকে ধোঁকা দেয় এবং বাস্তবতার অনুভূতিকে চ্যালেঞ্জ জানায়। ১৯৩৫ সালে তিনি বিখ্যাত সাহিত্যিক গারট্রুড স্টেইনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যিনি তাঁর শিল্পভাবনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেন। স্টেইনের পুনরাবৃত্তির ধারণা অর্থাৎ একই শব্দ বা বাক্যাংশ বারবার ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন অর্থ তৈরি করা, অ্যাবারক্রম্বির চিত্রকর্মেও অনুরূপভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

তিনি শিকাগোর হাইড পার্ক এলাকায় বসবাস করতেন, যেখানে তাঁর অ্যাপার্টমেন্টটি একটি শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। বিখ্যাত জ্যাজ শিল্পী ডিজি গিলেসপি, বিলি হলিডে এবং চার্লি পার্কারের মতো কিংবদন্তিরা তাঁর সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল চৌম্বকীয়, রসবোধ ছিল তীক্ষ্ণ, যা তাঁর রহস্যময় ও প্রায় দুঃস্বপ্নের মতো চিত্রগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে মনে হয়। তবে গভীরভাবে দেখলে বোঝা যায়, তাঁর চিত্রকর্ম ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্র্যের এক নিরব ঘোষণা। ২০২৫ সালে Carnegie Museum of Art, Pittsburgh-এ শুরু হয়েছে ‘The Whole World Is a Mystery’ শিরোনামে অ্যাবারক্রম্বির একটি বিশাল রেট্রোস্পেক্টিভ প্রদর্শনী। এতে ১৯৩৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তাঁর ৮৫টি কাজ স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনীটি পরবর্তীতে Colby College Museum of Art, Waterville এবং Milwaukee Art Museum-এও প্রদর্শিত হবে।

এই প্রদর্শনীতে তাঁর চিত্রকলার বিভিন্ন পর্যায় ফুটে উঠেছে. যেখানে দেখা যায়, কীভাবে তিনি ধাপে ধাপে তাঁর স্বতন্ত্র চিত্রভাষা নির্মাণ করেছেন। কিউরেটর সারাহ হামফ্রিভিলের ভাষায়, অ্যাবারক্রম্বির শিল্পে যে অদ্ভুত একাকীত্ব ও নির্জনতা দেখা যায়, তা আসলে একপ্রকার সৃজনশীল স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ। শিল্পী নিজেই বলেছেন, “Incongruity is the secret of art”—অর্থাৎ, বৈসাদৃশ্যই শিল্পের গোপন রহস্য। তাঁর শিল্প আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি কেবল রহস্য সৃষ্টি করে না, বরং দর্শককে নিজের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির দিকে তাকানোর সুযোগ করে দেয়। তাঁর চিত্রকর্মের নিঃসঙ্গ নারী বা দিগন্তবিস্তৃত নির্জন ভূদৃশ্য আমাদের মনে প্রশ্ন জাগায়—আমরা কি সত্যিই বাস্তবতার সীমানার ভেতরে আছি, নাকি কোনো স্বপ্নের মধ্যে বিচরণ করছি?

‘ যিনি আ.লীগের নেতৃত্বে আসবেন , তিনি অপরাধী না হলে কেন রাজনীতি করতে পারবেন না ’ – রিজভী

0

“যে ব্যক্তি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসবেন, তিনি যদি কোনো অপরাধ না করেন, ছাত্র হত্যা না করেন, অর্থ লোপাট বা পাচার না করেন— তাহলে সেই আওয়ামী লীগ কেন রাজনীতি করতে পারবে না?

এটি হচ্ছে আমার বক্তব্য। যদি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যায়, অপরাধীদের বিচার হয়, তারপর জনগণ যদি তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেয়, তাহলে আমাদের বলার কিছু নেই।

যারা টাকা পাচার করেছে, যারা শিশু-কিশোর, আহনাফ, আবু সাঈদ, মুগ্ধ এদের হত্যা করেছে, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিচার হতে হবে। শ্রমিক, রিকশাচালক, ছাত্র-ছাত্রী যাদের হত্যা করেছে- তাদের বিচার আমরা করি না কেন?

অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারবে কিনা। কিন্তু এই কথা উঠছে না, যারা গণহত্যা চালিয়েছে তাদের বিচার হবে কিনা? কারা চালিয়েছে? এটা কি মানুষ দেখেনি? কোন পুলিশের ওসি, ডিসি, এসি, এখানে ভূমিকা রেখেছে? কার নির্দেশে এসব ঘটেছে? রক্তপাত ঘটানোর জন্য আওয়ামী লীগের কোন নেতারা নির্দেশ দিয়েছেন?

যারা দেশের প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে, স্বাধীনতাকে বিক্রি করেছে এবং ক্ষমতায় টিকে থাকতে শিশু-কিশোর, শ্রমিক, রিকশাচালক হত্যা করেছে, এই ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

‘শেখ মুজিব ও তার কন্যা শেখ হাসিনা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। একবার তার বাবা সব দল বন্ধ করে দিয়ে বাকশাল করলেন। আর তার মেয়ে নতুন কায়দায় নতুনভাবে আরও ভয়াবহভাবে বাকশাল তৈরি করে বিরোধী দল এর কথা বলা, মানুষের কথা বলা, যা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যায়, তাদের জায়গা হয় কারাগারে। এই ছিল শেখ হাসিনার আমল।’

‘সেই রাজত্ব যাতে ফিরে না আসে। সেগুলো নিশ্চিত করেই তো গণতন্ত্রে যার যার জায়গা, যার যার রাজনীতি করার অধিকার, সেই অধিকার নিশ্চিত করবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি, গণতান্ত্রিক চর্চা।’

প্ল্যানচেট – অতিপ্রাকৃত যোগাযোগের রহস্যময় দুনিয়া

প্ল্যানচেট (Planchette) হচ্ছে সতেরো শতক থেকে বিশ শতকের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করা একটি ছোট, সমতল হার্ট শেপের কাঠ বা প্লাস্টিকের টুকরা, যা মূলত ‘ওইজা বোর্ড’ এর সঙ্গে ব্যবহৃত হয় আধ্যাত্মিক বা অতিপ্রাকৃত শক্তির সঙ্গে যোগাযোগের উদ্দেশ্যে। এটি বিশেষভাবে আধ্যাত্মিক আন্দোলন এবং অতিপ্রাকৃত ধারণার সাথে জড়িত। প্ল্যানচেটের ব্যবহার মূলত সেশনের মাধ্যমে আত্মা বা আধ্যাত্মিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার জন্য, যার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা অক্ষর সংখ্যা বা বার্তা পড়তে বা লিখতে পারেন।

প্ল্যানচেটের ইতিহাস বেশ পুরনো। এর মূল ব্যবহার শুরু হয় ১৮৫০-এর দশকে, এটি প্রথমবারের মতো একটি খেলনা হিসেবে উদ্ভাবিত হয়েছিল। এক সময় মানুষ একে অপরকে অক্ষর বা সংখ্যা দেখানোর জন্য টুকরাটি ব্যবহার করত। তবে ১৮৫৩ সালে এক ফরাসি আবিষ্কারক এর ব্যবহারকে একটি নতুন আঙ্গিকে পরিণত করেন এবং এটি এক ধরনের আধ্যাত্মিক যোগাযোগের উপকরণ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। ঐ সময় পশ্চিমা বিশ্বে আধ্যাত্মিক আন্দোলন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, যেখানে মানুষ মৃত আত্মাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করত। প্ল্যানচেটের ব্যবহার এই সময়কার এক গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক সরঞ্জাম হয়ে ওঠে, মানুষকে আত্মার সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনা দেখায়।

এতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা বিশ্বাস করেন যে প্ল্যানচেটটি আত্মা বা আধ্যাত্মিক শক্তির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। যখন তারা এর ওপর আঙুল রাখে, তখন এটি যেন তাদের হাতে না গিয়ে এক অদৃশ্য শক্তি তাদের দিকে নির্দেশনা দেয়। এতে তারা বিশ্বাস করেন, আত্মারা তাদের প্রিয়জনদের বার্তা পৌঁছাতে বা কোনো তথ্য প্রদান করতে পারে। তবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি প্রাকৃতিক ঘটনা। প্ল্যানচেটের গতির পেছনে মানুষের অজান্তে থাকা পেশী শক্তির প্রভাব রয়েছে, যার কারণে অতিপ্রাকৃত বলে মনে হয়। একে ইউক্লিডিয়ান আন্দোলন (Ideomotor Effect) বলা হয়, যেখানে ব্যক্তির অজান্তে তার শরীরের কোনো অংশ চালিত হয়ে থাকে।

বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কবি এবং দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্ল্যানচেটের প্রতি এক গভীর আগ্রহ এবং বিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে প্ল্যানচেটের মাধ্যমে অতিপ্রাকৃত বা আধ্যাত্মিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব। কথিত আছে, তিনি নিয়মিত সেশন করতেন এবং আত্মাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য প্ল্যানচেট ব্যবহার করতেন। তাঁর এই আধ্যাত্মিক অন্বেষণ
অনেকের জন্য একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া আরও কয়েকজন বিখ্যাত ব্যক্তির প্ল্যানচেটের প্রতি বিশ্বাস বা আগ্রহ ছিল। আমেরিকান আইনজীবী ডেনিস হোপ প্ল্যানচেটের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপনের ব্যাপারে বিশ্বাসী ছিলেন এবং তিনি বহুবার এই যন্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে এটি আত্মার সঙ্গে যোগাযোগের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।

ফরাসি দার্শনিক এবং লেখক আলফ্রেড রেডি (Alfred Reddz) প্ল্যানচেট ব্যবহার করে একাধিকবার আত্মাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন এবং এটি তার আধ্যাত্মিক দৃষ্টিভঙ্গিকে বদলে দিয়েছিল বলে দাবী করেছিলেন। তিনি মনে করতেন প্ল্যানচেটের মাধ্যমে বাস্তব দুনিয়ার এবং অতিপ্রাকৃত দুনিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন স্থাপন করা সম্ভব। এমন অনেক ঘটনার সাক্ষীও আছে, যেখানে প্ল্যানচেটের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করার পর একে অপরকে বিপদে ফেলতে দেখা গেছে। যেমন, একটি স্কুলের হোস্টেলে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্ররা প্ল্যানচেট করতে গিয়েছিল। প্রথমবার তারা কোনো অঘটন দেখতে পাননি, কিন্তু পরদিন তাদের মধ্যে এক ছাত্রীর মৃতদেহ হোস্টেলের বাগান থেকে উদ্ধার হয় এবং আরও দুই ছাত্র অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে ভর্তি হন।

এই ধরনের অভিজ্ঞতাগুলি প্রমাণ করে যে প্ল্যানচেট কেবল এক আধ্যাত্মিক বা অতিপ্রাকৃত যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি কিছু ক্ষেত্রে বিপদের কারণও হতে পারে। যদিও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর কোন ভিত্তি নেই। তবে মানব মন এবং বিশ্বাসের ক্ষমতা এমন কিছু ঘটনাকে সৃষ্টি করতে পারে যা সাধারণ মানুষের কাছে অলৌকিক বলে মনে হয়।





ইয়ারবাডস ব্যবহারে কিছু সাধারণ সমস্যা

বর্তমান প্রযুক্তির যুগে তারবিহীন ইয়ারবাডস মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। উন্নত শব্দ মান, সহজ বহনযোগ্যতা এবং ব্যবহারের সুবিধার কারণে এটি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তবে ইয়ারবাডস ব্যবহারের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যেগুলো অনেক ব্যবহারকারী অবহেলা করেন। চলুন জেনে নিই এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক।

সেলফ-ডিসচার্জ ও ব্যাটারির স্থায়িত্ব –

ইয়ারবাডসের ব্যাটারি বেশ ছোট হওয়ায় এটি ব্যবহার না করলেও ধীরে ধীরে চার্জ হারিয়ে ফেলে, যা ‘সেলফ-ডিসচার্জ’ নামে পরিচিত। দীর্ঘ সময় ধরে চার্জ না থাকলে ব্যাটারি অকেজো হয়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত ব্যবহারের পাশাপাশি সঠিক সময়ে চার্জ দেওয়া জরুরি।

অডিও ব্যালান্স ও শব্দের গুণগতমান –

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইয়ারবাডসের অডিও ব্যালান্স নষ্ট হতে পারে। দুটি ইয়ারবাডের ব্যাটারি সমানভাবে চার্জ ধরে না, ফলে একটির ক্ষমতা দ্রুত হ্রাস পেতে পারে। এছাড়া ঘাম ও ময়লা জমে শব্দের গুণমান কমে যেতে পারে। ভেজা পরিবেশে ব্যবহারে শব্দের গুণগতমানের অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

চার্জিং কেসের উপর নির্ভরতা

বেশির ভাগ ইয়ারবাডস চার্জিং কেসের মাধ্যমে চার্জ হয়। কিন্তু কেস নষ্ট হলে ইয়ারবাডসও অকেজো হয়ে পড়ে। অনেক ব্র্যান্ড আলাদাভাবে চার্জিং কেস বিক্রি করে না, ফলে ব্যবহারকারীরা নতুন ইয়ারবাডস কিনতে বাধ্য হন। চার্জিং পিনের ময়লা জমলে চার্জ নেওয়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

ফার্মওয়্যার আপডেটের প্রভাব –

প্রযুক্তি উন্নত করতে নির্মাতারা ইয়ারবাডসের জন্য নিয়মিত ফার্মওয়্যার আপডেট সরবরাহ করে। কিন্তু অনেক সময় আপডেটের ফলে শব্দের মান পরিবর্তিত হয়। উচ্চ স্বর ভারসাম্যহীন হয়ে যেতে পারে অথবা কিছু নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি খুব বেশি জোরে শোনা যেতে পারে। আপডেটের পর আগের সংস্করণে ফিরে যাওয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না, যা ব্যবহারকারীদের জন্য সমস্যার সৃষ্টি করে।

শব্দ পরিবহনের বিলম্ব ও নির্ভরযোগ্যতা –

যেহেতু এটি তারবিহীন প্রযুক্তি, তাই শব্দ পরিবহনে কিছুটা বিলম্ব ঘটে। গান শোনার ক্ষেত্রে এটি সমস্যা সৃষ্টি না করলেও ভিডিও দেখা, গেম খেলা বা লাইভ কনভারসেশনের সময় অসুবিধা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গেমিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের আক্রমণের শব্দ সামান্য দেরিতে শুনলে পারফরম্যান্সের ওপর প্রভাব পড়ে। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেও এই বিলম্ব পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি।

মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি নিয়ে কেন উত্তপ্ত ভারত

মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি সরিয়ে ফেলার দাবিতে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাগপুরে রাস্তায় নামে কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। বিক্ষোভকারীরা আওরঙ্গজেবের সমাধির কুশপুত্তলিকা পোড়ায়। তাদের ভাষ্য, ১৬৫৮ থেকে ১৭০৭ সাল পর্যন্ত নিজের শাসনামলে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার করেছেন আওরঙ্গজেব। তাঁর আমলে নানা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন হিন্দুরা। ভেঙে দেওয়া হয়েছে অনেক মন্দির। স্থানীয় মুসলমানেরা চেয়েছিল, পবিত্র রমজানে এমন বিক্ষোভ বন্ধ হোক। পুলিশের কাছে তাঁরা সেই আরজিও জানিয়েছিল। কিন্তু বিপত্তি বাধায় একটি গুজব। পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত, তখন হঠাৎ চাউর হয়—আওরঙ্গজেবের কুশপুত্তলিকা যে সবুজ কাপড়ে মোড়ানো ছিল তাতে কোরআনের আয়াত লেখা ছিল।

আর এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় মুসলমানেরা। ইফতারের পর কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে মিছিল নিয়ে মাঠে নামেন তারা। একপর্যায়ে দু-পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বলছেন, সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া বলিউড চলচ্চিত্র ‘ছাভা’ এই দাঙ্গাকে প্রভাবিত করেছে। এটি মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সঙ্গে মারাঠাদের দ্বন্দ্বের ওপর নির্মিত, যেখানে আওরঙ্গজেবকে খলনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই সিনেমা হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতিকে নতুন করে জাগ্রত করে আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে জনসাধারণের ক্ষোভকে সামনে নিয়ে এসেছে। কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো আওরঙ্গজেবকে ভারতের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস খলনায়ক হিসেবে দেখে আসছে। তবে ইতিহাসবিদরা মনে করেন, আওরঙ্গজেবের শাসনকে এত সরলীকরণের সুযোগ নেই।

২০২২ সালে বারাণসীর এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘আওরঙ্গজেব বর্বরতা, তাঁর সন্ত্রাস—তলোয়ারের জোরে সভ্যতা বদলাতে চেয়েছিল। ধর্মান্ধতার মাধ্যমে ধ্বংস করতে চেয়েছিল সংস্কৃতিকে।’ এরপরও তিনি বহুবার ঔরঙ্গজেবের প্রসঙ্গ তুলেছেন। মোদির সমর্থকদের কাছে, আওরঙ্গজেব কেবল অতীতের এক চরিত্র নন; তাদের কাছে এই সম্রাট হিন্দুবিদ্বেষী শাসক, যিনি বহু মন্দির ধ্বংস করেছেন বলে তাদের দাবি। তবে, তিনি বেশ কিছু হিন্দু মন্দিরের জন্য জমি ও আর্থিক অনুদানও দিয়েছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা উত্তর প্রদেশের বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদের মালিকানা দাবি করছে। তারা বলছে, এই মসজিদ ১৬৬৯ সালে আওরঙ্গজেবের আদেশে ধ্বংস হওয়া বিশাল বিষ্ণুনাথ মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের ওপর নির্মিত। ২০২২ সালে মোদি সরকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস বইগুলো থেকে মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস সংক্রান্ত পাঠের অংশ বড় পরিসরে ছেঁটে ফেলে, যার মধ্যে আওরঙ্গজেব ও তার পূর্বপুরুষদের বিভিন্ন অর্জনের তথ্যও ছিল।

সরকারি সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যের এয়ার টিকেটের দাম নেমেছে অর্ধেকে : আটাব

উড়োজাহাজের টিকেটের অস্বাভাবিক মূল্যরোধে সরকারের ১০ দফা নির্দেশনা ‘যাদু-মন্ত্রের’ মত কাজ করেছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের রুটে টিকেটের দাম অর্ধেকে নামার তথ্য দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ। দেশের ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠনটির ভাষ্য ঢাকা থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা, মদিনা বা দাম্মামের যে রুটগুলোতে একমুখী ভাড়া লাখ টাকা ছাড়িয়েছিল, তা এখন ৪৮ থেকে ৫০ হাজারেই পাওয়া যাচ্ছে। এয়ারলাইন্সভেদে রিয়াদ বা দাম্মামের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে ৩৫ হাজার টাকাতেও। বুধবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আটাব বলেছে, সরকারি নির্দেশনার ফলে টিকেট ‘ব্লক’ করে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর যে ধারা চলছিল তা বন্ধ হওয়ার ফলে এই পরিবর্তন এসেছে।

আটাব বলছে সরকারি পরিপত্রে যাত্রীর নাম, পাসপোর্টের বিবরণ ও পাসপোর্টের ফটোকপি দিয়ে টিকেট বুকিংয়ের নির্দেশনার ফলে যেসব টিকেট নাম ছাড়া ‘ব্লক’ করে রাখা হত সেগুলো এয়ারলাইন্সগুলো ‘ওপেন’ করে দেয়। ফলে কম্পিউটার রিজার্ভেশন সিস্টেমে সিট সহজলভ্য হয়ে যায়। ফ্লাইটের সিট সহজলভ্য হওয়ার কারণে এয়ারলাইন্সের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে এবং টিকেটের মূল্য কমে এসেছে। এমন নির্দেশনার জন্য বিমান মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়েছে আটাব।

‘ নৈতিক খবরদারির ’ মোকাবিলায় উদারপন্থীদের সোচ্চার হতে হবে : দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

0

(সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বৃহস্পতিবার ঢাকায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে) এ সময়কালে আমরা সবচেয়ে বড় আন্দোলন করলাম দেশ বৈষম্যবিরোধী হবে, কিন্তু আমরা কি সব বৈষম্যের কথা বলি? আমরা তো সব বৈষম্যের কথা বলি না। আমরা কোনো বৈষম্যের কথা বলি, কোনো বৈষম্যকে এড়িয়ে যাই।’ ‘নারীর সব সুরক্ষার কথা কি আমরা বলি? তার আইনি সুরক্ষা বা আইনি উত্তরাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে কি আমরা সমানভাবে উচ্চারণ করতে পারি? কারণ হলো যে জিনিসটা আগে সে রকমভাবে ছিল না, এখন এসেছে। একধরনের নৈতিক খবরদারি করার দায়িত্ব কেউ কেউ নিয়েছেন।’

‘তারা সংখ্যায় বড় না। কিন্তু তাদের কণ্ঠস্বর উচ্চ। এ কণ্ঠস্বর মোকাবিলা করতে হলে সর্বজনীন মানবাধিকারের ভিত্তিতে যে উদারনৈতিক বহুত্ববাদী সমাজের কথা আমরা বলি, তার পক্ষের মানুষকে সোচ্চার হয়ে দাঁড়াতে হবে।’ ‘আমি নিরাপদে থাকব ঘরে আর আমার পক্ষে মানুষ পরিবর্তন করে দেবে, আবার ছাত্র–জনতা অভ্যুত্থান করবে, এটা মনে করা বোকামি হবে। প্রত্যেক নাগরিককে তার অধিকারের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।’

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পরামর্শ করেই ইসরায়েলের হামলা

যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত সোমবার দিবাগত রাতে গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ফক্স নিউজের হ্যানিটি শোতে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেছেন, হামলার আগে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেছে ইসরায়েল। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন — হামাস, হুথি, ইরান এরা কেবল ইসরায়েলকে নয়, যুক্তরাষ্ট্রকেও টেরোরাইজ করতে চায়। তাদের সকলকে এর মূল্য দিতে হবে। সবাইকে ভেঙে দেওয়া হবে। এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছেন, হামাসকে গাজায় আটক সকল জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে। নইলে তাদের ভেঙে দেওয়া হবে।

ইসরায়েলি সরকারের মুখপাত্র ডেভিড মেনসার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, আমি নিশ্চিত করতে পারি যে গাজায় তীব্র যুদ্ধে ফিরে আসা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সমন্বয় করে হয়েছে। ইসরায়েল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনকে ইসরায়েলের প্রতি অটুট সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে। ইসরায়েল সরাসরি যুদ্ধবিরতি শেষ ঘোষণা না করলেও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাজায় হামলা চলবে। আল জাজিরা জানিয়েছে — কয়েকজন ইসরায়েলি বিশ্লেষক, রাজনৈতিক বিরোধী দল ও নেতানিয়াহুর নিজ সরকারের কয়েকজন সদস্য বলেছেন যে এটি আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল—যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে ফিরে যাওয়া।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বেশ কিছু কারণে ইসরায়েল হামলা শুরু করেছে। একটি কারণ হিসেবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা চাইছে হামাসের হাতে বন্দী সব ইসরায়েলিকে ছেড়ে দিতে হবে। এই শর্ত না মানায় আইডিএফ হামলা শুরু করেছে। তবে হামাস ইসরায়েলের এই দাবি খারিজ করেছে। তারা বলছে, এখন যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে ঢোকার কথা। এই ধাপে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার পুরো নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার কথা। তবে আইডিএফ এই নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না বলে হামলা শুরু করেছে। এদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া এবং আইডিএফ সদস্যদের উপস্থিতি কমে যাওয়ার পর নতুন করে যোদ্ধা নিয়োগ দেওয়া শুরু করে হামাস। তবে ইসরায়েল চাইছে না, হামাস তার শক্তি ফেরত পাক।

যুদ্ধবিরতি ভাঙার আরেকটি কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ইসরায়েলের এই অভিযান বা নতুন করে হামলা শুরুর পেছনে ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। আর এ কারণেই হামলা শুরু করেছে আইডিএফ। এর বাইরে নেতানিয়াহুর ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার বিষয়টিও রয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পার্লামেন্টে ভোট হবে। এই ভোটে কট্টর ডানপন্থীদের সমর্থন পেতে হামলা শুরু করেছেন তিনি। অন্য দিকে আরেক কারণ হলো, দুর্নীতির অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিচার চলছে। গতকাল মঙ্গলবার এই মামলায় আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল নেতানিয়াহুর। ইসরায়েলের গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধ নতুন করে শুরু হওয়ায় তিনি আদালতে হাজির হননি।

আইডিএফ জানিয়েছিল, তারা হামাসের অবস্থান লক্ষ করে হামলা চালিয়েছে। হামলার পর হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলায় গাজায় তাদের সরকারের প্রধান এসাম আল-দালিস মারা গেছেন। এ ছাড়া সেখানকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আবু ওয়াতফা এবং গাজার নিরাপত্তা বিভাগের মহারিচালক আবু সুলতান নিহত হয়েছেন। ইসরায়েল হামাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপের মেয়াদ শেষ হয়েছে এ মাসের শুরুতে। প্রথম ধাপের পর দ্বিতীয় ধাপ শুরুর কথা থাকলেও বেঁকে বসে ইসরায়েল—জানায়, দ্বিতীয় ধাপের বাস্তবায়ন নয়, প্রথম ধাপের মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী তারা। এই প্রস্তাব হামাস মেনে নিতে রাজি না হওয়ায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে মানবিক ত্রাণসহ গাজায় সব ধরনের পণ্যের প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল।

যুক্তরাষ্ট্র এখনো এই হামলা নিয়ে নীবর রয়েছে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। এ ছাড়া জাতিসংঘ এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, পুরো উপত্যকার আকাশ ছেয়ে রেখেছে ইসরায়েলের ড্রোন। স্থানীয়রা বলছেন, অসংখ্য ড্রোনের কারণে গাজার আকাশ মেঘলা দেখাচ্ছে, ড্রোনের পাখার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে পুরো উপত্যকা থেকেই। উপত্যকার কোনো স্থানই নিরাপদ নয় জেনেও জীবন বাঁচাতে এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছে বাসিন্দারা।

JFK হত্যাকাণ্ড – ৮০,০০০ পৃষ্ঠা গোপন দলিল প্রকাশ , জেনে নিন কয়েকটি পয়েন্ট

• ট্রাম্প প্রশাসন ১৯ মার্চ গুরুত্বপূর্ণ এই নথি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে।
• JFK হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত এই ফাইলগুলোর মধ্যে “দশকের পর দশক ধরে পুরনো গোপন তথ্য” রয়েছে।
• এতে FBI এবং CIA-এর রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এগুলো ঐতিহাসিক বর্ণনার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

১৯৬৩ সালে কী ঘটেছিল?

• মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫তম প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ২২ নভেম্বর ১৯৬৩ সালে টেক্সাসের ডালাসে নিহত হন।
• সাবেক মার্কিন মেরিন লি ওসওয়াল্ড তাকে গুলি করে হত্যা করার সময় কেনেডি তার স্ত্রী জ্যাকুলিনের সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন।
• গুলির পরপরই মোটরকেডটি হাসপাতালে ছুটে যায়, যেখানে কেনেডিকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৩০ মিনিট পর কেনেডিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

তদন্ত

• মার্কিন সরকার JFK হত্যাকাণ্ড তদন্তের জন্য ওয়ারেন কমিশন গঠন করে ১০ মাস পর একটি প্রতিবেদন জমা দেয়।
• ৮৮৮ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি সেপ্টেম্বর ১৯৬৪ সালে প্রেসিডেন্ট জনসনের কাছে জমা দেওয়া হয় এবং তিন দিন পর তা প্রকাশ করা হয়।
• এতে উল্লেখ করা হয় যে, ওসওয়াল্ড হত্যার কাজ করেছিল এবং কোনো ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
• পরবর্তী ফেডারেল তদন্তগুলো ওয়ারেন কমিশনের রিপোর্টের সঙ্গে একমত পোষণ করে, যার মধ্যে রকফেলার কমিশনও রয়েছে।

কিন্তু

• JFK হত্যাকাণ্ডের পরিস্থিতি মার্কিন সমাজকে কয়েক দশক ধরে বিমোহিত করে রেখেছে।
• বহু জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ আমেরিকান এই ঘটনার সরকারি ব্যাখ্যাকে এখন অব্ধি সন্দেহের চোখে দেখে।
• ২০২৩ সালের গ্যালাপ জরিপে ৬৫% আমেরিকান ওয়ারেন কমিশনের ফলাফলকে গ্রহণ করেনি।
• জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২০% বিশ্বাস করে যে ওসওয়াল্ড মার্কিন সরকারের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছিল, আর ১৬% মনে করে সে CIA-এর হয়ে কাজ করেছিল।

ট্রাম্প কী বলেছেন

• ট্রাম্প JFK হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত সব ফাইল প্রকাশের নির্দেশ দেন এবং বলেন, “এটি খুবই আকর্ষণীয় হতে যাচ্ছে!”
• তার প্রশাসন JFK-এর ভাই এবং নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রতীক মার্টিন লুথার কিং হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত নথিও প্রকাশ করবে।
• মার্কিন জাতীয় সংরক্ষণাগার JFK হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত হাজার হাজার নথি প্রকাশ করেছে, তবে আরও হাজারো নথি এখনো গোপন রাখা হয়েছে।