Home Blog Page 157

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ যখন রাজনীতির এজেন্ডা – জাহেদ উর রহমান , রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

আসলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থাকবে নাকি থাকবে না, সেটা একটা রাজনীতি এবং ষড়যন্ত্রের ফুটবলে পরিণত হয়েছে। … আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার বিষয়টিকে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডায় পরিণত করবে এনসিপি।… বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করার জন্য সম্ভবত এই বিষয় ছাড়া তেমন কিছু আর হাতে নেই এনসিপির। আমি বলছি না, এটা সদিচ্ছা থেকে তাঁরা করছেন না, কিন্তু রাজনীতি রাজনীতিই, এতে নানা ইস্যুর প্রয়োজন হয়, যেটাকে ব্যবহার করে একটা রাজনৈতিক দল জনগণের কাছাকাছি যাবে এবং জনগণের সমর্থন অর্জন করবে।

ওদিকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ একটা ষড়যন্ত্রের খেলার ফুটবলেও পরিণত হয়েছে।…একটি চক্র নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, যা এখন একেবারেই প্রকাশ্য। এই কথা এখন প্রকাশ্যেও বলা হচ্ছে, আগামী বছরের জুন সময়সীমার চেয়েও আরও অনেক পরে নির্বাচন হতে হবে। সেনাপ্রধানের কিছু পদক্ষেপ নিয়ে নিশ্চিতভাবেই সমালোচনা করা যায়। শেখ হাসিনার পতন এবং তার পরবর্তী সময় যে বিশেষ অবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি তাতে ভুল, সঠিক বিবেচনা করার যথেষ্ট শান্ত পরিস্থিতি দেশের মধ্যে কিংবা আমাদের মননেও বিরাজ করে না। কিন্তু এটা আমরা অন্তত দেখতে পাচ্ছি, এই অস্থির প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর প্রধানের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী স্থিতিশীল আছে এবং তিনি একটি সঠিক সময় নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তনের পক্ষে বেশ শক্তভাবে অবস্থান নিয়েছেন।

এটা সত্য, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বর্তমান ও নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এটা মোটামুটি প্রকাশিত, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনৈতিক চাপ আছে। শেখ হাসিনা, তাঁর সহযোগী এবং তাঁর দলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর রিপোর্ট দেওয়া জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে মতামত দিয়েছে। … আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে নাকি হবে না, সেটা নিয়ে তর্কবিতর্ক হোক, এমনকি হোক ঝগড়াঝাঁটিও। এই ইস্যুকে ‘ফুটবল’ বানিয়ে রাজনীতির ‘খেলা’ চলতেই পারে, কিন্তু এর মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তনের পথকে রুদ্ধ করার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার থাকা জরুরি।”


মতাদর্শিকভাবে হামাস একগুঁয়ে নয় সংলাপে সংকট সমাধান সম্ভব – ট্রাম্পের দূত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ শুক্রবার বলেছেন, তিনি মনে করেন, হামাস ‘মতাদর্শিক দিক থেকে একগুঁয়ে নয়’। এবং সংলাপের মাধ্যমে এই সংকট সমাধান সম্ভব। তবে তিনি যুক্তি দিয়েছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘ভালো উদ্দেশ্য’ নিয়ে কাজ করছেন এবং তিনি এমন এক পরিস্থিতিতে কাজ করছেন, যেখানে ইসরায়েলি জনমত হামাসকে ধ্বংস করার চেয়ে গাজায় আটক অবশিষ্ট বন্দীদের মুক্ত করার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সাংবাদিক টাকার কার্লসনকে দেওয়া দেড় ঘণ্টার সাক্ষাৎকারে উইটকফ এই অবস্থান ব্যক্ত করেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি ইসরায়েল, হামাস ও কাতারের উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি কাতারের সমালোচকদের বিরুদ্ধে দেশটির পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন এবং গাজা যুদ্ধের কারণে মিসর ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোতে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। সিরিয়ার নতুন নেতা আহমেদ আল-শারার এ বিষয়ে বলেন, আল-কায়েদার সদস্য হিসেবে তাঁর অতীত থাকলেও তিনি বদলে যেতে পারেন। এ ছাড়া, উইটকফ জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পারমাণবিক সংকট কূটনৈতিকভাবে সমাধান করা সম্ভব। সাক্ষাৎকারের শুরুতে উইটকফ বলেন, তাঁর কাজ হলো তিনি যেসব পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তাঁদের উদ্দেশ্য বোঝা।

উইটকফ বলেন, ‘আমি মনে করি তারা (হামাস) সেখানে (গাজা) চিরকাল থাকতে চায়, গাজার শাসনক্ষমতা ধরে রাখতে চায়, যা আমাদের কাছে অগ্রহণযোগ্য। আমাদের বুঝতে হবে যে, তারা কী চায়। তাদের চাওয়াটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘যা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য তা হলো, তারা নিরস্ত্র হবে। তারপর হয়তো তারা কিছুটা রাজনৈতিকভাবে জড়িত থাকতে পারে…কিন্তু আমরা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে গাজা পরিচালনা করতে দিতে পারি না। কারণ, এটি ইসরায়েলের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না। তাহলে প্রতি পাঁচ, ১০ বা ১৫ বছর পর আবারও আমরা ৭ অক্টোবরের মতো ঘটনা দেখতে পাব।’

ট্রাম্পের এই ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলেন, ‘আপনাকে জানতে হবে হামাস কী চায়, তারপর তাদের এমন কিছু দিতে হবে, যাতে তারা বেরিয়ে আসতে রাজি হয়, কারণ সেটাই এখানে দরকার।’ উইটকফ বলেন, ‘আমি অনেক মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন পড়েছি এবং আলোচনার ধরন বিশ্লেষণ করে বুঝতে পেরেছি, তারা বিকল্প চায়।’ উইটকফ বলেন, হামাসকে রাজি করানোর জন্য তিনি একটি মধ্যবর্তী প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যাতে পাসওভার পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং পাঁচজন জীবিত বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে হামাস এটি প্রত্যাখ্যান করে।

হামাস জানায়, তারা জানুয়ারিতে হওয়া চুক্তির মূল শর্তগুলোর বাইরে কিছুতে রাজি হবে না, যেখানে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনার কথা ছিল।কিন্তু ইসরায়েল ওই আলোচনা প্রত্যাখ্যান করে। কারণ, এতে তাদের সেনা প্রত্যাহার ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির শর্ত ছিল। তবে উইটকফ এখনো আশা করছেন যে, যুদ্ধবিরতি পুনরুদ্ধার সম্ভব। তিনি বলেন, ‘এর কিছু লক্ষণ আছে।’ তিনি জানান, ‘আমরা এখনো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে ইসরায়েলি হামলা কিছুটা কমানো যায় এবং আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের ইতি টানা সম্ভব হয়।’




স্থিতিশীলতা বিনষ্টের কোনো কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় নয় : সালাহ উদ্দিন আহমদ , বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য

“… ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য হচ্ছে আমাদের শক্তি। তাই দেশের স্থিতিশীলতা ও জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের কোনো রকম কর্মকাণ্ডকে আমরা প্রশ্রয় দিতে পারব না। রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে। … ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন নিয়ে যে আলাপ-আলোচনা চলছে, এ বিষয়ে অনেক আগে আমরা পরিষ্কারভাবে কথা বলেছি যে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার হতে হবে। … যদি রাজনৈতিকভাবে দল হিসেবে তাদের বিচার হয় এবং স্বতন্ত্রভাবে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা যায় (অনেককে আনা হয়েছে, আরও আসবে), তাহলে সবকিছু একটি বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ হবে।

একটি বিষয়ে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের রাজনীতির বিরুদ্ধে এ দেশে গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। .. রাজনৈতিক দল হিসেবে, রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে (অনির্বাচিত হলেও নির্ধারিত প্রধানমন্ত্রী) ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তক্রমে প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এবং সরকারের বিভিন্ন বাহিনীর মাধ্যমে যে গণহত্যা চালিয়েছে, এটা তো প্রমাণিত সত্য। সেই গণহত্যার বিচার চায় মানুষ। কিন্তু আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে, তারা কোনো অপরাধ করেনি। উল্টো গণ-অভ্যুত্থানকারীরাই যেন অপরাধী। তারা ক্ষমা প্রার্থনা করেনি, তারা দায় স্বীকার করেনি, তারা বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে কি না; সেটা বাংলাদেশের মানুষই নির্ধারণ করবে।

এখন কথা হচ্ছে, এই পতিত ফ্যাসিস্ট দলকে বিচারের আওতায় না এনে পুনর্বাসনের কথা কেন আলোচনায় স্থান পাচ্ছে? তার মানে ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত আছে। আমরা চাই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শক্তির রাজনীতি করার কোনো অধিকার আছে কি না, সেটা নির্ধারণ করবে এ দেশের বিচারিক প্রক্রিয়া এবং জনগণ। সেটাই আমাদের সবার জন্য উত্তম। আমরা যেন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হওয়ার মতো কোনো কর্মকাণ্ডে কাউকে সংযুক্ত হতে না দিই, সেদিকে সচেতন থাকি। সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।”



রেস্তোরাঁয় সেহরি বিক্রি কমেছে , ইফতারির বাজার জমজমাট

গত কয়েক বছর ধরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা সেহরি পার্টির জন্য রেস্তোরাঁগুলোতে থাকে নানা আয়োজন। এ বছর রমজানে রেস্তোরাঁগুলোতে সেহরি প্রস্তুতি থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কম। রেস্তোরাঁ মালিকরা বলছেন, ঢাকায় ছিনতাইয়ের আতঙ্কসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে অনেকেই সেহরি খাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হচ্ছে না। বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, ক্রেতাদের আর্থিক সংকটড়সবকিছু মিলে বিক্রি কমেছে। গতবারের তুলনায় মাত্র ১০ শতাংশ ক্রেতা আছে। তবে যারা ধনী, তাদের কথা আলাদা। তাদের নিজস্ব গাড়ি আছে, তারা পাঁচতারকা হোটেলে সেহরি খেতে চলে যাচ্ছে। সেখানে হয়তো বিক্রিতে প্রভাব পড়েনি।’

রাজধানীতে সেহরিতে ক্রেতা কম থাকলেও ইফতারির বাজার জমজমাট। কল্যাণপুর, ধানমন্ডি, পুরান ঢাকাসহ কয়েকটি এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে ও তথ্য নিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। স্টার কাবাব ধানমন্ডি শাখার মালিক মীর আক্তার বলেন, ‘ইফতারে বিক্রি জমজমাট। গত বছরের মতোই ভালো বিক্রি হচ্ছে এবারও।’


সংস্কার প্রক্রিয়াকে বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে – আলী রীয়াজ

বৃহস্পতিবার ঢাকায় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজ বলেছেন ‘বিভিন্নভাবে সংস্কারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। বাইরে থেকে হচ্ছে, ভেতর থেকেও হচ্ছে। যারা মনে করে, বর্তমান কাঠামো অব্যাহত রাখা দরকার। বিশেষ করে যারা পরাজিত শক্তি, তারা এটা মনে করে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’ তিনি বলেন নাগরিকদের অংশগ্রহণ, চাপ ও অন্তর্ভুক্তি ছাড়া কোনোভাবেই সংস্কারপ্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না।রাজনৈতিক দলগুলোর পর নাগরিকদেরও মতামত নেওয়া হবে। যে অভাবনীয় রক্তপাতের মধ্য দিয়ে এ জায়গায় এসেছি, সেখান থেকে খালি হাতে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

আলী রীয়াজ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই দুর্বল ও ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠানগুলোকে গত ১৬ বছরের ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন ধ্বংস করে দিয়েছে। সংস্কারের প্রশ্ন উঠেছে সে কারণেই। বিচার বিভাগ কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন দরকার। তিনি আরো বলেন জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা তৈরি করা না গেলে নির্বাচন হলেও আগের পরিস্থিতি হবে। তাই কাঠামোগত সংস্কারের আর কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান কাঠামোগত ব্যবস্থায় স্বৈরতন্ত্রের মোকাবিলা করা যাবে না।

জলবায়ু পরিবর্তন পরিযায়ী পাখিদের অভিবাসনে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে

পাখিদের দীর্ঘপথের অভিবাসন মানব সভ্যতার এক অনবদ্য দৃষ্টান্ত। প্রতি বসন্তের শুরুতে পাখিরা উষ্ণ অঞ্চল থেকে উত্তরাঞ্চলে ফিরে আসে। এদের অভিবাসন মূলত আলোর পরিমাণের পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল। বসন্তের শুরুতে দিন দীর্ঘ হওয়া শুরু করে, যেটি পাখিদের মাইগ্রেশন ট্রিগার করে। জার্মানিতে একে “জুগুনরুহে” বলা হয়, অর্থাৎ অভিবাসনজনিত অস্থিরতা পাখিদের তাদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য উদ্দীপিত করে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন নানা ধরনের পরিবেশগত পরিবর্তন ঘটাচ্ছে, যেগুলো জীববৈচিত্র্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। এর মধ্যে পাখিরা অন্যতম প্রভাবিত প্রাণী। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পাখিদের শারীরিক, আচরণগত এবং প্রজননগত ধাপগুলো ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে ও তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের এক বড় পরিণতি হলো পাখিদের শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন। পরিযায়ী পাখিরা শরীরের আকারে পরিবর্তন আনার প্রবণতা দেখাচ্ছে। উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে পাখিদের শরীরের আকার ছোট হয়ে আসছে, যা তাদের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সুবিধা প্রদান করে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু পাখিরা তাদের শরীরের আকার কমিয়ে দিয়েছে, কারণ ছোট শরীরের পাখিরা বেশি তাপ বের করতে পারে, যা গরম পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য একটি অভিযোজন। আরেকটি হলো আমাজন অঞ্চলের চিরহরিৎ বনের পাখিদের শরীরের আকারের পরিবর্তন। তাদের শরীরের আকার ছোট হওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এসব পরিবর্তন পাখিদের জীবনধারণের জন্য সহায়ক হলেও, এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদী টিকে থাকার সম্ভাবনাকে সংকটের মুখে ফেলে।

পাখিদের জন্য আরেকটি বড় সমস্যা হলো আবাসস্থল সংকট। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর নানা অঞ্চলে আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে, যার ফলে পাখিদের আদর্শ বাসস্থান হারিয়ে যাচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফলে উপকূলীয় এলাকা এবং দ্বীপগুলোতে পাখিদের আবাসস্থল সঙ্কুচিত হচ্ছে। এর ফলে অনেক প্রজাতির পাখি তাদের প্রজনন ক্ষেত্র হারাচ্ছে। এছাড়াও, খাদ্য সংকটও পাখিদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উি দ্ভদ ও কীটপতঙ্গের পরিবেশে পরিবর্তন আসছে, যা পাখিদের খাদ্য চাহিদার উপর প্রভাব ফেলছে। এর ফলে পাখিরা তাদের প্রাকৃতিক খাদ্য সন্ধানে সমস্যায় পড়ছে, যা তাদের শারীরিক অবস্থা এবং প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পাখিদের আচরণেও স্পষ্টভাবে লক্ষণীয়। বিশেষ করে, তাদের অভিবাসন প্যাটার্নে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে। সাধারণত পরিযায়ী পাখিরা সুনির্দিষ্ট সময় এবং দূরত্বে অভিবাসন করে থাকে, কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এখন তারা সময়ের তারতম্য ঘটিয়ে অভিবাসন করছে। বহু পাখি তাদের আগের অভিবাসন স্থান থেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছে, কারণ পূর্বের আবাসস্থল এবং খাবারের উৎস পরিবর্তিত হয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে পাখিরা কিছু অঞ্চলে সময়ের আগে চলে আসছে বা দেরি করে ফিরে যাচ্ছে। পরিযায়ী পাখির প্রজনন আচরণও পরিবর্তিত হয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে কিছু পাখি তাদের ডিম দিতে শুরু করেছে আগে, যাতে তারা উষ্ণ পরিবেশে সন্তান জন্ম দিতে পারে। তবে এই পরিবর্তন সবসময় সফল হচ্ছে না, কারণ নতুন পরিবেশে তাদের বাচ্চাদের বাঁচিয়ে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তন পাখির প্রজাতির অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম হচ্ছে, তারা টিকে যাচ্ছে। আর যারা পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছে না, তাদের প্রজাতি দ্রুত বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বেশ কিছু পাখির প্রজনন হার কমে যাচ্ছে এবং তাদের বাচ্চারা বেঁচে থাকতে পারছে না। এর ফলে এক সময়কার অনেক সাধারণ পাখি এখন সংরক্ষণযোগ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েছে। পাখিদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। প্রথমত আমাদের পরিবেশের উপর চাপ কমাতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের পরিমাণ কমানো, নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের দিকে মনোযোগী হওয়া এবং গ্রীনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোই সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে।

দ্বিতীয়ত পাখিদের আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধার করা দরকার। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল এবং বনাঞ্চলের সংরক্ষণ প্রয়োজন। তৃতীয়ত জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিজ্ঞানী এবং পরিবেশবিদদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে হবে, যাতে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর প্রভাব কমানো যায়।





ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখনও কার্যকর প্রস্তুতি নিচ্ছে না সরকার

বাংলাদেশে প্রতিবছর ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তিনটি জরিপ চালানো হয়। এর মধ্যে প্রাক-বর্ষা জরিপটি বর্ষা আসার আগেই শেষ হওয়ার কথা থাকে, কিন্তু এবছর তা এখনও শুরু হয়নি। একইভাবে ২০২৪ সালের বর্ষা-পরবর্তী জরিপের প্রতিবেদনও এখনো প্রস্তুত হয়নি। সাধারণত বর্ষা শুরুর সাথে সাথে ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে এবং বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন এবছরও এপ্রিল থেকে ডেঙ্গু বিস্তার বাড়বে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তেমন কোনো প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না।

২০২৪ সালে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, আর মৃতের সংখ্যা ৫৭৫ জন। গত বছরও এপ্রিল থেকেই ডেঙ্গু রোগী বাড়তে থাকে এবং অক্টোবরের দিকে তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ডেঙ্গু সংক্রমণের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার গত বছর পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি এবং এবছরও সেভাবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের প্রস্তুতি শিথিল হওয়ায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।

জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম) এর কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ছারোয়ার বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের আরও তৎপরতা প্রয়োজন, কারণ মশার ঘনত্ব দিনদিন বাড়ছে। ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর হার ছিল এক রকম, তবে ২০২২ ও ২০২৩ সালে তা দ্বিগুণ হয়েছে, এবং ২০২৪ সালেও একই ধারা অব্যাহত রয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি বছরই ডেঙ্গু আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হচ্ছে। এ কারণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আরও তৎপরতা এবং প্রস্তুতির প্রয়োজন।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হাসান সিদ্দিকী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার লার্ভা ধ্বংস করা সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি। তবে সরকারের মনোযোগ সেখানে কম। তিনি উল্লেখ করেন ডেঙ্গুর চারটি ধরন রয়েছে এবং যদি কোনো ব্যক্তি প্রথমবার একটি ধরন এবং দ্বিতীয়বার ভিন্ন ধরনে আক্রান্ত হন, তবে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে সরকারের উচিত ভাইরাসের ধরন নিয়ে গবেষণা করা এবং ডেঙ্গু আক্রান্তের মৃত্যুহার কমানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া। কিন্তু সরকার এখনও সেই দিক থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

চলতি বছর ইতিমধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। জানুয়ারিতে ১ হাজার ১৬১ জন এবং ফেব্রুয়ারিতে ৩৭৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয় তবে আসন্ন ডেঙ্গু মৌসুমে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা না থাকায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণও ডেঙ্গু বিস্তারের একটি প্রধান কারণ। সরকারের উচিত পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে উৎসাহিত করা।

অবশেষে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সরকার প্রস্তুতি নিয়েছে।কিন্তু জনগণের সচেতনতা বাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ডেঙ্গু ছড়ানোর প্রধান কারণ হলো পরিষ্কার পানি জমে রাখা এবং এই বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন করতে হবে। সর্বোপরি বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয় তাহলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি চলতি বছর আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, যা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলবে।


তুরস্কে এরদোয়ানের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রেপ্তার , দেশজুড়ে বিক্ষোভ

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরের মেয়র ও প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী একরেম ইমামোগলুকে গ্রেপ্তার করার প্রতিবাদে বিক্ষোভছড়িয়ে পড়েছে। ধর্মনিরপেক্ষ রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) নেতা একরেম ইমামোগলুর বিরুদ্ধে প্রসিকিউটররা দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগ এনেছেন এবং তাকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্দেহভাজন নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ১০০ জনকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন। এদিকে, ইস্তাম্বুলের গভর্নরের কার্যালয় শহরে চার দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

এর প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা রাস্তায়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ও পাতাল রেলস্টেশনে জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। বহু বছর পর তুরস্কে এমন গণঅসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। ইমামোগলুর স্ত্রীসহ বিরোধী দলের নেতারা জনগণকে ‘আপনার আওয়াজ তুলুন’ বলে আহ্বান জানিয়েছেন। তুরস্ক বুধবার থেকে এক্স, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। গত কয়েক মাসে তুরস্কে বিরোধী রাজনীতিক, পৌরসভা কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বিনোদন জগতের ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। গত বছর ইমামোগলু ইস্তাম্বুলের মেয়র হিসেবে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হন। তখন তার দল সিএইচপি ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারার স্থানীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়। এরদোয়ান ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো দেশজুড়ে তার দলের নির্বাচনে এমন পরাজয় ঘটেছিল।

ইমামোগলুর গ্রেপ্তারের পর তুরস্কের স্বৈরতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ পেয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কেউ কেউ আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়েছেন। যুক্তি দিয়েছেন, এখন আর অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সম্ভব নয়। তবে ২২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা এরদোয়ান ও তার দল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তুরস্কের বিচারব্যবস্থা স্বাধীন। তুরস্কের আইনমন্ত্রী ইয়িলমাজ তুঞ্চ দাবি করেছেন, এটি রাজনৈতিক কোনো পদক্ষেপ নয় এবং তুরস্কে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। ইমামোগলুর গ্রেপ্তারের এক দিন আগে ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয় তার স্নাতক ডিগ্রি বাতিল করে। অভিযোগ করে, এটি অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত। এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তুরস্কের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদের জন্য উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৮ সালে হওয়ার কথা। এরদোয়ান তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, কারণ তিনি এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কেবল তখনই আবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন, যদি সংবিধান পরিবর্তন করা হয় অথবা মেয়াদ শেষের আগেই নির্বাচন আহ্বান করা হয়। ইমামোগলুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়েছে, পাশাপাশি তাকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে নিষিদ্ধ কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-কে সহায়তা করার অভিযোগেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স ও জার্মানির কর্মকর্তারা ইমামোগলুর গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন।ইউরোপীয় পরিষদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইমামোগলুর গ্রেপ্তার ‘একজন সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে চাপ প্রয়োগের স্পষ্ট উদাহরণ’।




মহাকাশে বসবাস মানুষের শরীরে কী প্রভাব ফেলে ?

তাদের মহাকাশে আট দিন থাকার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানে আটকে ছিল নয় মাস। সবচেয়ে দীর্ঘ একক মহাকাশ মিশন সম্পন্ন করায় নভোচারী সুনীতা উইলিয়াম এবং ব্যারি উইলমোর এখন নাসার শীর্ষ ক্রু সদস্যদের মধ্যে অন্যতম।

মহাকাশে বসবাস মানুষের শরীরে কী প্রভাব ফেলে?
কক্ষপথে থাকার সময় এই দুই নভোচারীর পেশির ভর ৪০% পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও তারা তাদের শরীরের ১২% ভর ও ৬০% শরীরের তরল হারিয়েছেন। বিকিরণের কারণে তাদের জিনের ৭% স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। তাদের হাড়ের ঘনত্বও কমে গিয়েছে এবং মাধ্যাকর্ষণের অভাবের কারণে তারা ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে গিয়েছেন।

কিন্তু পৃথিবীতে ফিরে আসার পর কী ঘটে?
১ম দিন
: মাধ্যাকর্ষণ তাদের মেরুদণ্ডকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে, ফলে তারা আবার আগের উচ্চতায় ফিরে যান।

১ সপ্তাহে এক সপ্তাহ পর তাদের গতিশীলতা সংক্রান্ত অসুস্থতা কমে আসে এবং ঘুমের মান উন্নত হয়।

১৪ দিনে এরপর তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তারা হারানো দেহতরলের ২০% পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন।

৩০ দিনে এক মাস পর তাদের পেশিগুলো আবার উড্ডয়নের আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

৯০ দিনে ধীরে ধীরে তাদের দৃষ্টিশক্তি উন্নত হয়, ত্বক পুনরুদ্ধার হয় এবং দেহের ভর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

১৮০ দিনে কিন্তু পৃথিবীতে ফেরার ছয় মাস পরও তাদের হাড় পুরোপুরি সুস্থ হয় না। কিছু প্রভাব হয়তো কখনোই সম্পূর্ণভাবে ফিরে আসবে না।

বিকিরণের প্রভাবও দীর্ঘস্থায়ী। এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে এবং বিভিন্ন অবক্ষয়জনিত রোগের সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। এখন কল্পনা করুন, মঙ্গল গ্রহে ৩০ মাসের একটি যাত্রা। যেখানে বিকিরণের মাত্রা দ্বিগুণ এবং দ্রুত ফিরে আসার কোনো উপায় নেই। এটাই হয়তো অন্যতম প্রধান কারণ যে, আমরা এখনও সেখানে পৌঁছাতে পারিনি।


সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ‘পুনর্বাসন চেষ্টা’র অভিযোগ

আওয়ামী লীগকে ‘পুনর্বাসনের চেষ্টার’ প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকে বিচারের আগে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে দলটিকে নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের ফেসবুক স্ট্যাটাসের পর গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ‘আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন চেষ্টার’ বিষয়টি আলোচনায় আসে। বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় একটি বৈঠক করেন। ওই প্রতিনিধিদলকে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা অন্তর্বর্তী সরকারের নেই।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। তাতে তিনি লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ ৫ আগস্টেই নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। উত্তরপাড়া ও ভারতের প্রেসক্রিপশনে আওয়ামী লীগের চ্যাপটার ওপেন করার চেষ্টা করে লাভনেই।’ এরপর ফেসবুকে আরেকটি স্ট্যাটাস দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তাতে তিনি লেখেন, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরীন শারমিন ও তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।

মার্চ সেনানিবাসে হাসনাত আবদুল্লাহসহ দুজনের কাছে এমন একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের প্রস্তাব দেওয়া হয়, আসন সমঝোতার বিনিময়ে আমরা যেন এই প্রস্তাব মেনে নিই। আমাদের বলা হয়, ইতিমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে। একটি বিরোধী দল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধী দল থাকা নাকি ভালো। ফলে আপনি দেখবেন, গত দুই দিন মিডিয়াতে আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক রাজনীতিবিদ বয়ান দেওয়া শুরু করেছেন।’

শুক্রবার এই আলোচনায় যুক্ত হয় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বক্তব্য-সংবলিত একটি ভিডিও ক্লিপ। তিনি বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে ১৭ মিনিট ৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিও পোস্ট করেন। ওই ভিডিও বক্তব্যে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করার প্রস্তাবে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আপত্তি তুলেছিলেন বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। এর আগে শুক্রবার এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে জামায়াতে ইসলামীকে রাজনীতিতে পুনর্বাসন করার জন্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করেন। ষড়যন্ত্রকারীরা এখন আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

‘আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের দেশবিরোধী চক্রান্ত মোকাবিলায়’ ছাত্র-নাগরিক, বিএনপি ও জামায়াতের বাংলাদেশের পক্ষের অংশ এবং সেনানিবাসে ও বেসামরিক প্রশাসনের বাংলাদেশ রক্ষাকারী অংশকে এই লড়াইয়ে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। তবে হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলমসহ অনেকেই তাঁর এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত জানান। পরে নাসীরুদ্দীন ফেসবুক থেকে স্ট্যাটাসটি সরিয়ে নেন। শুক্রবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে, সেটাকে তাঁরা রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ মনে করছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতি রাজনীতিবিদেরাই নির্ধারণ করবেন-রাজনীতির ঘটনাপ্রবাহ বা চলমান যা কিছুই, পরবর্তী রাজনীতি কোন দিকে যাবে, সেটি রাজনীতিবিদদের হাতেই থাকা উচিত। তো সে জায়গায় আমরা সন্দিহান বলেই গতকাল আমার স্ট্যাটাস দিতে হয়েছে।’ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, ‘সম্প্রতি অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মন্তব্য করেছেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। আমরা তাঁর এ বক্তব্যের নিন্দা জানাই।’ কৃত অপরাধের বিচার, দায় স্বীকার, অনুশোচনা, পাপমোচন ব্যতীত আওয়ামী লীগের দল হিসেবে ক্রিয়াশীল থাকার পক্ষে যেকোনো ধরনের তৎপরতা ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের শামিল বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

সর্বশেষ শুক্রবার গভীর রাতে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন “সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার অপরাধীদের শাস্তি, পদচ্যুতি ও বিচারের আওতায় এনেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অন্যদেরও আনা হবে। এছাড়া সব প্রতিষ্ঠানকেই নিজেদের হাত পরিষ্কার করতে হবে। কিন্তু, কোনভাবেই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জনগণকে দাড় করানো যাবে না। দেড় দশকের ফ্যাসিবাদ অনেক কলকব্জা রেখে গেছে। সেগুলো সংস্কার ও বদলানোর প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক হতে হবে। ঐক্য রিকারেন্ট হোক, ভায়োলেন্স না। স্থিতিশীল রাষ্ট্রে আমরা সংস্কার ও বিচারের কাজ আরো দ্রুততার সাথে করতে পারব।”