Home Blog Page 156

রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে মিলে ভালো ভালো কাজ করবে – ট্রাম্পের দূত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভউইটকফ বলেছেন–‘এমন একটি বিশ্ব কে না চায়, যেখানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে মিলে ভালো ভালো কাজ করবে, আর্কটিকে নিজেদের জ্বালানিনীতিতে কীভাবে সমন্বয় আনা যায়-সে বিষয়ে চিন্তা করবে, সম্ভব হলে জলপথ ভাগাভাগি করবে, একসঙ্গে ইউরোপে এলএনজি গ্যাস পাঠাবে, আর হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়েও সহযোগিতা করবে।’ ট্রাম্পপন্থী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন–‘পুতিনকে খারাপ মানুষ বলে মনে করি না। তিনি সুপার স্মার্ট’। শুধু তাই নয়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তিনি যে ‘পছন্দ’ করেন, তা-ও সাক্ষাৎকারে জানিয়ে দিয়েছেন উইটকফ।

ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় যুদ্ধবিরতির যে আলোচনা চলছে, তাতে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উইটকফ। এ নিয়ে তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেন-দুই দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে রাশিয়ার উত্থাপন করা বিভিন্ন যুক্তি আবার তুলে ধরেন ট্রাম্পের দূত। রাশিয়ার মতো তিনিও ইউক্রেনকে ‘একটি মিথ্যা দেশ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। পাশাপাশি ইউক্রেনে দখল করা অঞ্চলগুলো রাশিয়ার ভূখণ্ড বলে বিশ্ব কখন স্বীকৃতি দেবে-সে প্রশ্নও রাখেন স্টিভ উইটকফ। ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে দেশটিতে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সাক্ষাৎকারে তা বাতিল করে দেন উইটকফ। স্টারমার ও ইউরোপের অন্য নেতাদের দেওয়া প্রস্তাবটি ‘অতিসরল’ ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে রাশিয়া কী কারণে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করেছিল, তা নিয়েও কথা বলেছেন স্টিভ উইটকফ। এ প্রসঙ্গেও তিনি ক্রেমলিনের সুরে কথা বলেন। উইটকফ বলেন, “রাশিয়া গোটা ইউরোপজুড়েই পদাঙ্ক এঁকে দেবে–এমন ধারণা অযৌক্তিক। আমাদের নেটো নামক একটা কিছু আছে; যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ছিল না।” সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে কীভাবে মিলেমিশে কাজ করতে চান, সেই বিষয়েও বিস্তারিত কথা বলেছেন উইটকফ। যুদ্ধবিরতি নিয়ে এরই মধ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌদি আরবে বৈঠক করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। একই বিষয়ে সৌদি আরবে রোববার ও সোমবারও বৈঠকের কথা রয়েছে।



সেনাপ্রধান কি আসলেই আওয়ামী পুনর্বাসনের চাপ দিয়েছিলেন ? জাতীয় নাগরিক পার্টিতে বাদানুবাদ

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে ফেসবুকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের ভিন্ন ভিন্ন পোস্ট নিয়ে দলটির ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। তাঁদের পোস্টকে দলটির নেতাদের অনেকে ‘ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা অর্জনের রাজনীতি’ বলছেন। দলীয় ফোরামে আলোচনা ছাড়াই নেতাদের হুটহাট ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া নিয়ে এনসিপির ভেতরে চলছে সমালোচনা। নিজেদের মধ্যে আলোচনায় নেতাদের কেউ কেউ এমন প্রশ্নও তুলছেন যে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে এনসিপি হাস্যরসের বস্তু হয়ে উঠছে কি না।

দলীয় ফোরামে আলোচনা না করে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করা, আবার সেই বৈঠকের আলোচনা দলকে না জানিয়েই জনসমক্ষে প্রকাশ করা-এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে। দলের শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, সেনাপ্রধানের সঙ্গে হাসনাত-সারজিসের আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি এনসিপির নেতাদের বেশির ভাগই জানতেন না। তিনি (হাসনাত) যখন আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ‘প্রস্তাবের’ বিষয়টি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে সামনে আনলেন, তখন দলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল। অনেকেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের জন্য হাসনাতের প্রশংসা করেন। কিন্তু সারজিসের পোস্টের পর বৈঠকের আলোচনা ফেসবুকে প্রকাশের বিষয়টি নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

শীর্ষ পর্যায়ের আরেকজন নেতা বলেন, এনসিপির অনেকেই এখনো ফেসবুককেন্দ্রিক অ্যাকটিভিজমের (কার্যক্রম) চর্চা থেকে বের হয়ে রাজনৈতিক চরিত্র ধারণ করতে পারেননি। গতকাল শনিবার সুইডেনভিত্তিক নেত্র নিউজের এক প্রতিবেদনে সেনাসদরকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, হাসনাত আবদুল্লাহর পোস্ট ‘সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি বৈ অন্য কিছু নয়’। এ ছাড়া ২৭ বছর বয়সী এই ছাত্রনেতার বক্তব্যকে “অত্যন্ত হাস্যকর ও অপরিপক্ব গল্পের সম্ভার” হিসেবেও আখ্যা দিয়েছে সেনাবাহিনী। নেত্র নিউজকে দেওয়া সেনাসদরের এক বিবৃতিতে বলা হয়–“প্রকৃতপক্ষে বিষয়টি কোনক্রমেই তাদেরকে ডেকে নিয়ে যাওয়া এবং আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের বিষয় নিয়ে তাদেরকে প্রস্তাব বা চাপ প্রয়োগ করার ঘটনা নয়।” বরং হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলমের আগ্রহেই ওই বৈঠকটি হয়েছিল বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে আলোচনা হওয়ার বিষয়টি সেনা সদরের বক্তব্যে অস্বীকার করা হয়নি। সেখানে বলা হয় আলোচনায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গ উঠে আসলে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান নিজের অভিমতের কথা ছাত্রনেতাদের জানান। বিবৃতিতে সেনাপ্রধানের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, “আওয়ামী লীগের যেসব নেতারা ফৌজদারি মামলায় জড়িত নয় ও ক্লিন ইমেজের অধিকারী তাদের সমন্বয়ে নতুন আওয়ামী লীগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক, ফলপ্রসু ও আন্তর্জাতিক মহলে অধিকতর গ্রহণযোগ্যতা পাবে। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকার ও সব রাজনৈতিক দল মিলে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।”

সেনাসদরের দেয়া বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন সারজিস আলম। নিজের দেয়া ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, “আমার জায়গা থেকে আমি সেদিনের বক্তব্যকে সরাসরি ‘প্রস্তাব’ দেয়ার আঙ্গিকে দেখি না, বরং ‘সরাসরি অভিমত প্রকাশের’ মতো করে দেখি। …পাশাপাশি ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের’ জন্য ‘চাপ দেওয়ার’ যে বিষয়টি এসেছে সেখানে ‘চাপ দেওয়া হয়েছে’ এমনটি আমার মনে হয়নি। বরং রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ না আসলে দীর্ঘ মেয়াদে দেশের পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সমস্যার সৃষ্টি হবে সেটা তিনি অতি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলছিলেন।” এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বা হাসনাত আবদুল্লাহর যেকোনো একজন মিথ্যা বলছেন বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদ।

সারজিস-এর ফেসবুক পোস্টে মন্তব্যের ঘরে হান্নান মাসুদ লিখেছেন–‘দলের গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট হোল্ড করেও আপনারা যেভাবে ব্যক্তিগতভাবে বিচরণ করছেন, এবং তা পাবলিক করে এনসিপিকেই বিতর্কিত করছেন।’ উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার পতন পরবর্তী সময়ে বারবার কোনো ধরণের সেনা হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বা আগ্রহ উড়িয়ে দিয়েছেন সেনাবাহিনীতে মৃদুভাষী হিসেবে পরিচিত জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।






গিল্ডফোর্ডের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য , ইলেকট্রিক থিয়েটারের উদ্বেগজনক ভবিষ্যৎ

গিল্ডফোর্ডের ইলেকট্রিক থিয়েটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ১৯৯৭ সালে সাবেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভবনে প্রতিষ্ঠিত এই থিয়েটারটি স্থানীয় সাংস্কৃতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বর্তমানে আর্থিক সংকটের কারণে থিয়েটারটির পরিচালনা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। এটি বর্তমানে অ্যাকাডেমি অফ কনটেম্পোরারি মিউজিক (এসিএম) দ্বারা পরিচালিত হলেও প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি জানিয়েছে তারা থিয়েটারটির পরিচালনা আর চালিয়ে যেতে পারছে না।

২০১৭ সাল থেকে ইলেকট্রিক থিয়েটারটি পরিচালনা করা এসিএম তাদের সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে থিয়েটারটি এবছর ₤২৫০,০০০-এরও বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এই ক্ষতির জন্য বিভিন্ন কারণ দায়ী। যার মধ্যে অন্যতম হল থিয়েটারের ক্রমবর্ধমান পরিচালন খরচ এবং কম দর্শক সমাগম। এসিএম জানিয়েছে তাদের এই আর্থিক পরিস্থিতি ক্রমশ আরও খারাপ হতে চলেছে, ফলে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে থিয়েটারের বেশ কিছু পাবলিক ইভেন্ট বাতিল বা স্থানান্তরিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, গিল্ডফোর্ড বোরো কাউন্সিল থেকে থিয়েটারটি লিজ নেওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি বেশ কয়েক বছর ধরে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, যা তাদের স্থায়ী পরিচালনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

থিয়েটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্থানীয় গোষ্ঠী এবং শিল্পীরা তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গিল্ডফোর্ড অ্যামেচার থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন আশা প্রকাশ করেছে যে, থিয়েটারটি কোনো নতুন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা দ্বারা পরিচালিত হতে পারে। তারা বিশ্বাস করে যে, ইলেকট্রিক থিয়েটারটি স্থানীয় সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। গিল্ডবারিজ থিয়েটার কোম্পানিও তাদের প্রযোজনা ‘এভরিম্যান’ এর বাতিল হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছে। কোম্পানিটি বলেছে, এটি সম্ভবত ইলেকট্রিক থিয়েটারের বর্তমান রূপে শেষ কমিউনিটি শো হতে পারে, যা স্থানীয় জনগণের জন্য একটি দুঃখজনক ঘটনা। স্থানীয় থিয়েটার সম্প্রদায়ের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে, এই থিয়েটারের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা।

ইলেকট্রিক থিয়েটারটি গিল্ডফোর্ড শহরের সাংস্কৃতিক জীবনকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রভাবিত করেছে। এটি ১৯৯৭সালে একটি সাবেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা ১৯১৩ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত হত। এই থিয়েটারটি তার স্থাপত্যশৈলী এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণে স্থানীয়দের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি বিভিন্ন ধরনের পারফরম্যান্স, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং থিয়েটার প্রযোজনা আয়োজনের মাধ্যমে শহরের সাংস্কৃতিক জীবনে অবদান রেখেছে। ২০১৬ সালে গিল্ডফোর্ড বোরো কাউন্সিল সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে ইলেকট্রিক থিয়েটারটি লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা বর্তমানে এসিএম পরিচালনা করছে। তবে লিজ চুক্তি অনুসারে থিয়েটারটি পরিচালনার জন্য এসিএম-এর আর্থিক সমস্যাগুলির মুখোমুখি হয়েছে, যা এর ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

এখন পর্যন্ত গিল্ডফোর্ড বোরো কাউন্সিল ইলেকট্রিক থিয়েটারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এসিএম জানিয়েছে যে, তারা কাউন্সিলের সঙ্গে মিলে থিয়েটারটি অন্য কোনো পরিচালনাকারীর কাছে হস্তান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবে। এটি স্থানীয়দের জন্য আশার সঞ্চার করেছে কারণ তারা বিশ্বাস করে, থিয়েটারটি যদি নতুন কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হয়, তবে এটি তার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং স্থানীয় জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে। বর্তমানে ইলেকট্রিক থিয়েটারের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে। থিয়েটারটির চলমান আর্থিক সংকট এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহায়তার অভাব এটিকে আরও কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলে দিয়েছে। তবে থিয়েটারের সাথে জড়িত শিল্পীরা আশা করছেন, কোনো একটি সমাধান বেরিয়ে আসবে।




প্রতিদিনের ন্যাপ কি উপকারের চেয়ে বেশি ক্ষতি করতে পারে ?গবেষণা কি বলছে ?

দিনে মাঝে মাঝে আমাদের চোখ জড়ানো একটুখানি বিশ্রাম নিতে ইচ্ছা হয়। তবে একটু দেরি না করে চোখ বন্ধ করে আধ ঘণ্টার জন্য বিশ্রাম নিলে অনেকেই সেই মুহূর্তে এক ধরনের নতুন শক্তি অনুভব করেন, যেন শরীরের ক্লান্তি অনেকটা দূর হয়ে গেছে। কিন্তু সারা দিনের কাজ শেষে রাতে যখন ঘুমানোর সময় আসে, তখন সেই দুপুরের ঘুমের কারণে অনেকেরই ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। ন্যাপিং বা দুপুরের ছোট ঘুম দীর্ঘদিন ধরে একে শক্তি বাড়ানোর, মেজাজ উন্নত করার এবং মনোযোগ বাড়ানোর অন্যতম উপায় হিসেবে পরিচিত। তবে কিছু মানুষের জন্য এটি রাতে ঘুমের ব্যাঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ন্যাপিং এক ধরনের দ্বিধাগ্রস্ত বিষয়। সঠিকভাবে নিলে এটি মস্তিষ্ককে পুনরায় শক্তি দিতে পারে, মনোযোগ বাড়াতে পারে এবং শরীর ও মনের জন্য উপকারী হতে পারে। আবার যদি ভুলভাবে নেন, তবে এটি আপনাকে আরও ক্লান্ত এবং অস্থির করতে পারে, এমনকি রাতে ঘুমাতে অসুবিধা হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সারকেডিয়ান রিদম, দিনের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ক্লান্তির অনুভূতি তৈরি করে, যা সাধারণত দুপুরের দিকে ১টা থেকে ৪টার মধ্যে হয়। এর কারণে অনেকেই এই সময়টাতে শুয়ে পড়তে ইচ্ছুক হন।

গবেষণা বলে, দুপুরের এই সময়ে একদম ছোট্ট একটি ঘুম, যেমন ১০-২০ মিনিটের “পাওয়ার ন্যাপ” মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দিতে পারে এবং রাতের ঘুমে ব্যাঘাত না ঘটিয়ে মানসিক ফোকাস এবং সতর্কতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে একটি সতর্কতা রয়েছে। যদি এই ঘুম ৩০ মিনিটের বেশি হয়, তবে গভীর ঘুমে চলে যাওয়ার কারণে শরীর ঘুমের পরবর্তী ধাপে চলে যেতে পারে, যা ঘুম থেকে উঠে তীব্র অবসন্নতা এবং বিভ্রান্তির অনুভূতি তৈরি করে। ফলে কাজের পরিবেশে বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে।

যারা নিয়মিত রাতে পর্যাপ্ত ঘুম পান না তাদের জন্য দুপুরে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া উপকারী হতে পারে। তবে এটি যদি নিয়মিত হয়ে যায়, তবে রাতে ঘুমানোর চাপ কমে যেতে পারে, যা সুস্থ ঘুমের জন্য ক্ষতিকর। তাহলে কীভাবে সঠিকভাবে ন্যাপিং করা উচিত? ঘুমের সময় ১০-২০ মিনিটের মধ্যে রাখুন, এবং দুপুর ২টার আগে ঘুমান। নিঃশব্দ ও অন্ধকার পরিবেশে ঘুমাতে চেষ্টা করুন, যাতে ঘুমের গুণমান উন্নত হয়। ন্যাপিং সবার জন্য উপকারী নাও হতে পারে। বয়স, জীবনযাপন এবং ঘুমের ধরন সবকিছুই এর ওপর প্রভাব ফেলে। তাই এটি সম্পর্কে গবেষণা করে নিজেকে জানুন এবং বুঝুন কোন ধরনের ঘুম আপনার জন্যে বেশি উপকারি।

বিদেশ পাড়ি দিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ২০২৪ সালে – জাতিসংঘ

২০২৪ সালকে অভিবাসীদের জন্য সবচেয়ে মারাত্মক বছর হিসাবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ। শুক্রবার (২১ মার্চ) সংস্থাটি জানিয়েছে, ওই বছর বিশ্বব্যাপী অভিবাসন পথে প্রায় ৯ হাজার মানুষ মারা গেছেন। উন্নত জীবনের খোঁজে এত মানুষের মৃত্যুকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও প্রতিরোধযোগ্য’ ট্র্যাজেডি বলে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ । জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী অভিবাসন পথে অন্তত ৮ হাজার ৯৩৮ জন মারা গেছেন। গত পাঁচ বছর ধরে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটির তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে অন্তত ২০০ জন মানুষ বেশি প্রাণ হারিয়েছেন। আবার ২০২০ সাল থেকে অভিবাসনপ্রার্থীদের মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

আইওএম-র মিসিং মাইগ্রেন্ট প্রজেক্ট অনুসারে, মৃতের হিসাবে প্রথম অবস্থানে রয়েছে এশিয়া। এই মহাদেশে কমপক্ষে দুই হাজার ৭৭৮ জন অভিবাসী মারা গেছেন, যা ২০২৩ সালের চেয়ে ৬২৪ জন বেশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভূমধ্যসাগর, দুই হাজার ৪৫২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী মারা গেছেন এ অঞ্চলে। দুই হাজার ২৪২ মৃত্যু নিয়ে তৃতীয় আফ্রিকা। অ্যামেরিকা মহাদেশের ক্ষেত্রে এখনও চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী কমপক্ষে এক হাজার ২৩৩ জন অভিবাসী মারা গেছেন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, অভিবাসীদের মৃত্যু এবং নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে। সরকারি সূত্রের অভাবে অনেক তথ্য অপ্রমাণিত রয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে আইওএম।

খেজুরের কিছু অর্থনীতি ও রাজনীতি

খেজুর ও পানি দিয়ে রোজা ভাঙার সংস্কৃতি ও উপকার নিয়ে হাদিস ও কোরআনে বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে। তাজা বা শুকনো খেজুর গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবার ধারণ করে। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও থাকে। দীর্ঘ রোজার পর প্রাকৃতিক চিনি ফ্রুক্টোজের উচ্চমাত্রার কারণে খেজুর শক্তির একটি দুর্দান্ত উৎস হিসেবে কাজ করে। হাজার হাজার বছর ধরে খেজুর চাষ করা হচ্ছে। একটি খেজুর গাছ ভালোভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করলে ১০০ বছরেরও বেশি বাঁচতে পারে এবং একটি পরিপক্ক খেজুর গাছ প্রতি ফসল মৌসুমে ১০০ কেজিরও বেশি (২২০ পাউন্ড) খেজুর উৎপাদন করতে পারে- প্রায় ১০,০০০টি খেজুর।

খেজুর গাছ সাধারণত মধ্যপ্রাচ্য এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের মতো দীর্ঘ, গ্রীষ্মের গরম দেশগুলোতে ভাল জন্মায়। খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক ডেটাবেস ট্রিজ (ঞত্রফমব) অনুসারে ২০২২ সালে, বিশ্বব্যাপী প্রায় ১ কোটি টন খেজুর উৎপাদিত হয়েছিল। ট্রিজ (এফমব) অনুসারে, মিশর বিশ্বের শীর্ষ খেজুর উৎপাদনকারী দেশ, যা বিশ্বের প্রায় ১৮% খেজুর উৎপাদন করে। সৌদি আরব মোট উৎপাদনের প্রায় ১৭% উৎপাদন করে মিশরের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। আলজেরিয়া ১৩% উৎপাদন নিয়ে শীর্ষ তিনে স্থান করে নিয়েছে। এরপরের অবস্থানে আছে ইরান, ইরাক, পাকিস্তান, সুদান ও ওমান। ট্রিজ (ওএফমব) এর তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম খেজুর রপ্তানিকারক দেশ, যারা ২০২২ সালে ৩৩০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের মেজুল খেজুর বিদেশে বিক্রি করেছে।

ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে গড়ে ওঠা “বয়কট, ডাইভেস্টমেন্ট, স্যাংশনস মুভমেন্ট” (বিডিএস) নামের একটি আন্দোলন ভোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন পণ্য কেনার সময় লেবেল ভালোভাবে দেখে, এবং ইসরায়েল অথবা অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলোতে উৎপাদিত বা প্যাকেটজাত কোনো খেজুর না কেনে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপন অবৈধ। বিডিএস ইসরায়েলের বর্ণবাদ ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে জনমত গঠন এবং ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছে।তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইসরায়েলের নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা এবং ইসরায়েলের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।


ভূ-গর্ভের পানি রিচার্জ হচ্ছে না

পানির অভাবে চলতি বছর বরেন্দ্র অঞ্চলের তিন জেলা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর আট উপজেলায় বোরো চাষ সীমিত করে দিয়েছে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। প্রতিষ্ঠানটি সেচের পানি সরবরাহ করে। নাচোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, উপজেলায় গভীর নলকূপ ছিল ২৫০টি। এখন ৫৫টিই বন্ধ। বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো দেশজুড়ে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামছে। দুই বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড এক গবেষণায় উল্লেখ করেছিল, দেশের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নামছে ঢাকা নগর, গাজীপুর ও বরেন্দ্র অঞ্চলে। পানি কমলেও যে হারে পানি উঠছে, তার পুনর্ভরণ বা রিচার্জ হচ্ছে না।

রাজধানী বা দেশের অন্যত্র পুনর্ভরণে পাইলট বা সাময়িকভাবে প্রকল্প নেওয়া হলেও সেগুলো তেমন কার্যকর নয়। সবচেয়ে বেশি ভূগর্ভস্থ পানি সংগ্রহ করা ঢাকা ওয়াসার পুনর্ভরণ প্রকল্পের কোনো গতি নেই। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পুনর্ভরণ কমতে থাকলে উত্তরের জনপদের দশা দেশের অন্যত্রও হতে পারে। ভূগর্ভস্থ পানি নিয়ে এই শঙ্কার মধ্যে আজ ২২ মার্চ পালিত হচ্ছে বিশ্ব পানি দিবস। ২০২২ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৬৫টি অগভীর ভূগর্ভস্থ পানির পর্যবেক্ষণ কূপের ৪০ বছরের উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার ও অবস্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে এক থেকে তিন মিটার পর্যন্ত পানি স্তর নেমে যাচ্ছে।

এরপর ‘দ্য গ্যাঞ্জেস ওয়াটার মেশিন কোয়ান্টিফায়ের ফ্রম পিজামেট্রে ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় ১৯৭০ থেকে ২০২০ সাল-এ সময়ের পানির স্তর ও পুনর্ভরণ চিত্র উঠে আসে। এতে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি কূপের পানির স্তর নামছে। পুনর্ভরণের হার কমে যাচ্ছে। যেমন – রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ১৯৮০-এর দশকে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নামলেও বর্ষায় পুনর্ভরণ হতো ১৬ থেকে ১৮ মিটার। কিন্তু ২০১০ সালের পর পুনর্ভরণ ১৬ মিটারের বেশি হচ্ছে না। গবেষকদের একজন আনোয়ার জাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, দেশের প্রায় কোথাও পুনর্ভরণের সুষম চিত্র দেখা যাচ্ছে না। ভূগর্ভ থেকে পানি কেবল উঠছে, আর মাটির তল ফাঁকা হচ্ছে। পানির কৃত্রিম পুনর্ভরণ এখন দ্রুত করতে হবে।

ভূ-উপরিস্থ পানি দিয়ে ভূগর্ভ পুনর্ভরণে গবেষণা করেছেন প্রকৌশলী সৈয়দ আজিজুল হক। তিনি বলছিলেন, বৃষ্টির পানি পুনর্ভরণের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পদ্ধতি হচ্ছে ইনজেকশন। এ ছাড়া বাসাবাড়িতে বৃষ্টির পানিনিষ্কাশনের পিটের নিচে কংক্রিটের স্ল্যাব দেওয়া যাবে না, এক ফুট খোয়া দিতে হবে। কম খরচের পদ্ধতি হলো পরিত্যক্ত টিউবওয়েলকে পানি পুনর্ভরণের কাজে লাগানো। এ ছাড়া বাসাবাড়ির চতুর্দিকের দেয়ালের পাশে পরিখা করে সেগুলোতে বালু ভরে রাখা।


গাজীপুরে আগুনে পুড়ছে গজারী বন জীব বৈচিত্র্য হুমকিতে

গাজীপুরের শ্রীপুরে বন বিভাগের দুটি রেঞ্জের প্রায় ৩৩ হাজার একর সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বড় অংশই ভয়াবহ আগুনে পুড়ছে। প্রতিবছর ফাল্গুন-চৈত্র মাসে এই আগুনের সূত্রপাত হয়, যেটি বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দখলদারদের যোগসাজশেই প্রতি বছর এই আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটছে। তবে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন এবং বেশ কয়েকটি ঘটনার পেছনের কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রীপুর রেঞ্জের সদর বিট অফিসের অধীনে গাজিয়ারণ গ্রামের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিশাল এলাকায় আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। বনের পাখিগুলো আতঙ্কে ছোটাছুটি করছে। সাতখামাইর বিটের পোষাদিয়া এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চলেও একই চিত্র দেখা গেছে। রাস্তার দুই পাশে যত দূর চোখ যায়, শুধুই আগুনে পোড়া গাছের ধ্বংসাবশেষ। শাল-গজারি ছাড়াও বিভিন্ন লতাপাতা, গুল্ম, বাঁশ ও বেত পুড়ে গেছে। বন বিভাগের রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের আট হাজার একর বনাঞ্চলের বড় অংশই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে শিমলাপাড়া ও সাইটালিয়া গ্রামের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ছোট গজারি কপিজ গাছের পাশাপাশি বড় গাছগুলোও আগুনের গ্রাসে পড়ে গেছে।

আগুনের তীব্রতায় সংরক্ষিত বনের ভেতর থাকা প্রাণীগুলো পালিয়ে যাচ্ছে। বানরসহ অন্যান্য প্রাণী গভীর জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসছে। স্থানীয়রা বলছেন, বনকর্মীদের খবর দিলেও আগুন নিয়ন্ত্রণের আগেই তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে বনাঞ্চল রক্ষায় তারা ব্যর্থ হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে বনাঞ্চলে আগুন লাগলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, একটি মহল বনভূমি দখলের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে। পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ভাওয়ালগড় বাঁচাও আন্দোলনের’ মহাসচিব ড. এ কে এম রিপন আনসারী বলেন, “বছরের পর বছর ধরে বন পুড়ছে, অথচ কেউ এর সঠিক কারণ খুঁজে বের করতে পারছে না। সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে।”

শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমান বলেন, “বনে আগুন দেওয়ার পেছনে মাদকসেবীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তারা মাদক সেবনের সময় আগুন ব্যবহার করে, যা পরে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া কিছু অসাধু চক্র গজারি কপিজ গাছ সংগ্রহের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে বন পুড়িয়ে দেয়।” পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পরিবেশবিদরা বলছেন, অবিলম্বে বনাঞ্চল রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা বন দখল রোধে টাস্কফোর্স গঠনের দাবি জানিয়েছেন। বনাঞ্চলে বারবার আগুন লাগার রহস্য উদ্ ঘাটন ও প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।



স্ট্রিমিং সেবা খাতে বছরে ১০০ কোটি ডলার হারাচ্ছে অ্যাপল

অ্যাপল টিভি প্লাস-এর সাবস্ক্রিপশন কমে যাওয়ায় স্ট্রিমিং পরিষেবায় বছরে একশ কোটি ডলারেরও বেশি লোকসানের মুখে পড়ছে অ্যাপল। গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে অ্যাপলের এই স্ট্রিমিং পরিষেবাটি প্রতিদ্বন্দ্বী নেটফ্লিক্স, ডিজনি প্লাস ও অ্যামাজনের প্রাইম ভিডিওর চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে বলে এক প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স। সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, নেটফ্লিক্সের মোট গ্রাহক সংখ্যা ৩০ কোটি এক লাখ, ডিজনি প্লাস-এর ব্যবহারকারী ১২ কোটি ৪৬ লাখ ও ওয়ার্নার ব্রোস ডিসকভারি’র ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১১ কোটি ৬৯ লাখ। অ্যাপল টিভি প্লাসএর গ্রাহক সংখ্যা ২০২৪ সালের শেষে চার কোটি ৪ লাখে পৌঁছেছে।

আমেরিকান সংবাদমাধ্যম ইনফরমেশন-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০১৯ সালে অ্যাপল টিভি প্লাস চালুর পর থেকে কনটেন্টের জন্য বছরে পাঁচশ কোটি ডলারেরও বেশি খরচ করেছে প্রযুক্তি জায়ান্টটি। তবে গত বছর কাটছাঁট করে তা থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলার কমিয়ে এনেছে অ্যাপল। স্ট্রিমিং শিল্পে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহক টানতে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের বিভিন্ন পরিষেবায় ছাড়ের হার বাড়িয়েছে বিভিন্ন মিডিয়া কোম্পানি। আলাদাভাবে অ্যাপল টিভি প্লাস স্ট্রিমিং পরিষেবাটি কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি মাসে ৯.৯৯ ডলার খরচ করতে হয় গ্রাহকদের।


অর্ধশতবছর আয়ুষ্কাল নিয়ে স্পেসক্রাফটে রেডিওআইসোটোপ ব্যাটারি কিভাবে কাজ করে?

স্পেসক্রাফটকে সৌর শক্তি দ্বারা চালিত করা প্রথমে মনে হতে পারে সহজ কাজ, কারণ পৃথিবীতে সূর্যের আলো কতটা শক্তিশালী তা আমরা প্রত্যাহিকভাবে অনুভব করি। পৃথিবীর কাছাকাছি স্পেসক্রাফটগুলো সৌর প্যানেল ব্যবহার করে সূর্য থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি সংগ্রহ করে, যা তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে যত বেশি মহাকাশের দিকে যাই, সূর্যের আলো তত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সৌর প্যানেল দিয়ে শক্তি উৎপাদন করা আরও কঠিন হয়ে যায়। এমনকি সূর্যকেই কেন্দ্র হিসেবে নিয়ে চাঁদ বা মঙ্গল রোভারের মতো স্পেসক্রাফটগুলোর জন্য বিকল্প শক্তির উৎস প্রয়োজন।

মহাকাশের এই চরম পরিবেশে যেখানে স্পেসক্রাফটগুলোকে সূর্যের তীব্র বিস্ফোরণ, রেডিয়েশন এবং ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট উপরে কিংবা নিচে তাপমাত্রার বৈচিত্র্য সহ্য করতে হয়, তখন প্রযুক্তিবিদরা কিছু উদ্ভাবনী সমাধান তৈরি করেছেন যা মহাকাশের অন্যতম দূরবর্তী মিশনগুলিকে চালিত করতে সাহায্য করে। তাহলে মহাকাশের বাইরে এবং সোলার সিস্টেমের বাইরের মিশনগুলোকে কীভাবে শক্তি প্রদান করা হয়? এর উত্তর হলো ১৯৬০ এর দশকে উদ্ভাবিত একটি প্রযুক্তি, যা দুই শতাব্দী আগের বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটর (RTGS)।

RTGS মূলত পরমাণু শক্তি দ্বারা চালিত ব্যাটারি। কিন্তু সেটি আমাদের টিভি রিমোটের AAA ব্যাটারির মতো নয়, RTGS মহাকাশে প্রায় কয়েকশ’ মিলিয়ন থেকে এক বিলিয়ন মাইল দূরে থেকেও কয়েক দশক পর্যন্ত শক্তি সরবরাহ করতে পারে। রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটরগুলি রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া ব্যবহার করে না, পরিবর্তে এগুলি রেডিওঅ্যাকটিভ উপাদানের বিস্ফোরণ দ্বারা তাপ এবং শেষে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। যদিও এই ধারণাটি নিউক্লিয়ার শক্তি প্ল্যান্টের সাথে তুলনীয় মনে হয় RTGS আলাদা একটি নীতি অনুসরণ করে। RTGS অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্লুটোনিয়াম-২৩৮ ব্যবহার করে শক্তির উৎস হিসেবে, যেগুলো নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য উপযুক্ত নয়, কারণ এটি বিভাজন প্রতিক্রিয়া স্থায়ী করে না। প্লুটোনিয়াম-২৩৮ একটি অস্থির উপাদান, যা রেডিওঅ্যাকটিভ ধ্বংস প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে।

রেডিওঅ্যাকটিভ ধ্বংস তখন ঘটে যখন একটি অস্থির পারমাণবিক নিউক্লিয়াস স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং এলোমেলোভাবে কণিকা এবং শক্তি নির্গত করে একটি আরও স্থিতিশীল কনফিগারেশনে পৌঁছানোর জন্য। এই প্রক্রিয়াটি প্রায়ই উপাদানটিকে একটি নতুন উপাদানে পরিবর্তন করে, কারণ নিউক্লিয়াস প্রোটন হারাতে পারে। যখন প্লুটোনিয়াম-২৩৮ ধ্বংস হয়, তখন এটি অ্যালফা কণিকা নির্গত করে, যার মধ্যে দুটি প্রোটন এবং দুটি নিউট্রন থাকে। প্লুটোনিয়াম-২৩৮-এ মধ্যে ৯৪টি প্রোটন থাকে, যখন একটি অ্যালফা কণিকা নির্গত করে, তখন এটি দুটি প্রোটন হারায় এবং ইউরেনিয়াম-২৩৪ তে পরিণত হয়, যার মধ্যে থাকে ৯২টি প্রোটন।

অ্যালফা কণিকাগুলি প্লুটোনিয়ামের চারপাশে থাকা উপকরণগুলির সাথে সংযোগ স্থাপন করে এবং তাদের তাপ প্রেরণ করে।পুটোনিয়াম-২৩৮ এর রেডিওঅ্যাকটিভ ধ্বংসের ফলে পর্যাপ্ত শক্তি মুক্তি পায়, যা নিজেই লাল হয়ে ওঠে এবং এই শক্তিশালী তাপই RTG গুলি চালাতে ব্যবহার করা হয়। রেডিওআইসোটোপ থার্মোইলেকট্রিক জেনারেটরগুলি একটি নীতি ব্যবহার করে, যাকে সিবেক প্রভাব বলা হয়। ১৮২১ সালে জার্মান বিজ্ঞানী থমাস সিবেক আবিষ্কার করেন। সিবেক প্রভাবের মাধ্যমে, দুটি ভিন্ন ধরনের পরিবাহী উপাদান একসাথে যুক্ত হয়ে একটি তাপমাত্রার পার্থক্য সৃষ্টি হলে সেই পার্থক্য শক্তি তৈরি করতে পারে।

একটি বেসিক RTG এর মধ্যে প্লুটোনিয়াম-ডাইঅক্সাইড আকারে কঠিন সিরামিক অবস্থায় একটি প্লুটোনিয়াম-২৩৮ কন্টেইনার থাকে, যাতে দুর্ঘটনা ঘটলে অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। প্লুটোনিয়াম উপাদানটি একটি সুরক্ষিত ফয়েল ইনস্যুলেশন দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে এবং একটি বড় থার্মোকপল সমন্বয় রয়েছে। এই RTG এবং থার্মোকপলের একপাশ গরম রাখা হয় ৯৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৫৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় এবং অন্যপাশ মহাকাশের সাথে এক্সপোজড থাকে, যার তাপমাত্রা শূন্যের অনেক নিচে হতে পারে। এই শক্তিশালী তাপমাত্রার পার্থক্য জঞএ কে শক্তি উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। NASA-এর বেশ কিছু স্পেস মিশনে RTGS গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মঙ্গল রোভারের কিউরিওসিটি এবং পারসিভারেন্স, ২০১৫ সালে প্লুটোর কাছে যাওয়া নিউ হরাইজন্স স্পেসক্রাফট, এ সবগুলোতে RTGS, ব্যবহার করেছে।

তবে Voyager মিশন দুটি সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। NASA ১৯৭৭ সালে Voyager 1 এবং Voyager 2 উৎক্ষেপণ করে, যেগুলো সৌর সিস্টেমের বাইরের দিকে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে। আজ প্রায় ৫০ বছর পর এই স্পেসক্রাফট দুটি এখনও সক্রিয় এবং পৃথিবীতে গবেষণা তথ্য পাঠাচ্ছে। Voyager 1 এবং Voyager 2 বর্তমানে পৃথিবী থেকে ১৫.৫ বিলিয়ন মাইল এবং ১৩ বিলিয়ন মাইল (প্রায় ২৫ বিলিয়ন কিলোমিটার এবং ২১ বিলিয়ন কিলোমিটার) দূরে অবস্থান করছে এবং তাদের জঞএং এখনও তাদেরকে নিরবচ্ছিন্ন শক্তি সরবরাহ করছে। এই স্পেসক্রাফটগুলি RTG প্রযুক্তির উদ্ভাবনের পরিণতি এবং মানুষের প্রকৌশল দক্ষতার সাক্ষী।