Home Blog Page 155

জয়শঙ্কর : হাসিনা বিরোধী বিক্ষোভের বিষয়ে ভারত অবগত ছিল কিন্তু হস্তক্ষেপ করতে পারেনি

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর শনিবার (২২ মার্চ) দেশটির সংসদীয় পররাষ্ট্র বিষয়ক পরামর্শক কমিটিকে বলেছেন, গতবছর ৫ আগস্ট বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সহিংসভাবে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে থেকেই সেখানে তার (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে যে জনঅসন্তোষ তৈরি হচ্ছিল, সে বিষয়ে অবগত ছিল ভারত। তবে তখন ভারতের পক্ষে তেমন কিছু করা সম্ভব হয়নি, কারণ শেখ হাসিনার ওপর তাদের যথেষ্ট প্রভাব ছিল না -তাকে শুধু ‘পরামর্শ’ দেওয়া সম্ভব হয়েছিল বলে সংসদ সদস্যদের জানিয়েছেন জয়শঙ্কর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে–জয়শঙ্কর ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভারতের মতো আরও কয়েকটি প্রধান স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পক্ষ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অস্থির পরিস্থিতি সম্পর্কে আগে থেকেই জানত।

এ প্রসঙ্গে তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভল্কার তুর্কের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়টি টেনে আনেন; যেখানে বলা হয়েছিল-শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলনের সময় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে শান্তিরক্ষা মিশনে নিষিদ্ধ করা হতে পারে-এমন সতর্কবার্তা জাতিসংঘ আগে থেকেই দিয়েছিল। পররাষ্ট্রবিষয়ক পরামর্শক কমিটির সদস্যরা জয়শঙ্করের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। যেখানে বাংলাদেশ, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের পরিস্থিতিই আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে।

ভারতীয় এমপিরা প্রতিবেশী দেশগুলোতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং জানতে চান আগামী এক দশকে মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালে চীনের প্রভাব মোকাবিলায় ভারত কী পদক্ষেপ নেবে। এস. জয়শঙ্কর আলোচনায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ‘বহিরাগত শক্তির’ ভূমিকা রয়েছে এবং চীনকে তিনি ‘প্রতিপক্ষ’ নয়, বরং ‘প্রতিযোগী’ হিসেবে দেখেন। ব্রিফিংয়ে জয়শঙ্কর ইঙ্গিত দেন, ‘সার্ক বাতিল হয়নি, বরং বিরতিতে আছে।’ অর্থাৎ, ভবিষ্যতে এটির পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।




স্পর্শের বিপদ , আপনার শিশুকে কি জানাবেন ? কিভাবে জানাবেন ?

শিশুরা একটি জাতির ভবিষ্যৎ। তাদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সমাজে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শও শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি তাদের শৈশবের আনন্দ ও সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই শিশুকে ‘গুড টাচ-ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে সচেতন করে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুকে নিজের শরীর সম্পর্কে ধারণা দেওয়া
শিশুকে তার শরীর সম্পর্কে সচেতন করে তোলা দরকার। তাকে বোঝানো উচিত তার শরীর সম্পূর্ণরূপে তার নিজস্ব এবং সে নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে কে তাকে স্পর্শ করতে পারবে বা পারবে না। দেহের প্রতিটি অ্যানাটমিক্যাল অংশের সঠিক নাম শেখানো হলে, সে এসব অংশ নিয়ে বিব্রত হবে না এবং অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের ক্ষেত্রে তা নির্ভুলভাবে জানাতে পারবে।

ভালো ও মন্দ স্পর্শের পার্থক্য শেখানো
শিশুকে ভালো বা নিরাপদ স্পর্শ ও মন্দ বা অনিরাপদ স্পর্শের পার্থক্য বোঝানো জরুরি। ভালো স্পর্শ হলো সেই স্পর্শ যা শিশুকে আনন্দ ও নিরাপত্তা দেয়, যেমন জড়িয়ে ধরা বা হাত ধরা। অন্যদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ হলো সেই স্পর্শ শিশুর শরীরের ব্যক্তিগত অংশে অযাচিতভাবে করা হয়। শিশুরা অস্বস্তি ও ভয় পেতে পারে। লাইফটাইম ট্রমাও ঢুকে যেতে পারে। এই সচেতনতাগুলো থাকলে শিশুরা সহজেই বুঝতে পারবে কোন স্পর্শ নিরাপদ এবং কোনটি ক্ষতিকর।

অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শে শিশুর করণীয়
যদি কোনো শিশু অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের সম্মুখীন হয়, তবে তাকে স্পষ্টভাবে ‘না’ বলতে শেখানো উচিত। শিশুকে বুঝিয়ে দিতে হবে যে পরিচিত বা অপরিচিত, আত্মীয় বা বন্ধুড়যে-ই হোক না কেন, যদি কোনো আদর বা স্পর্শ তাকে অস্বস্তিকর মনে হয় তবে সে সঙ্গে সঙ্গে না বলবে এবং সেখান থেকে সরে আসবে। শিশুকে শেখানো দরকার এই ধরনের ঘটনা ঘটলে সে তা অবিলম্বে অভিভাবক বা কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে জানাবে। এভাবে শিশুর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে এবং সে তার নিরাপত্তা রক্ষায় সচেতন হবে।

শিশুর অভিযোগের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া
যদি কোনো শিশু যৌন নির্যাতনের বিষয়ে অভিযোগ করে, তবে তার কথা সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও মনোযোগ দিয়ে শোনা উচিত। শিশুকে অবিশ্বাস করা বা অন্যায়কারীর পক্ষ নেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। তাকে আশ্বস্ত করতে হবে যে সে একা নয়, তার অভিভাবক সবসময় তার পাশে আছেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় নির্যাতনের ঘটনাগুলো পরিচিতজন বা আত্মীয়দের দ্বারা ঘটে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে শিশুরা নির্যাতিত হয় তাদের পরিচিত বা বিশ্বস্ত কারো দ্বারা। তাই এ বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা না করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করতে হবে। শিশুদের তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে এবং যেকোনো নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। ‘থিংক আনথিংকেবল’ নীতিতে চলতে হবে, কারণ নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো কিছু অবহেলা করা উচিত নয়। আমাদের সচেতনতা ও যথাযথ উদ্যোগই পারে শিশুদের সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে।





জ্যোতিষশাস্ত্র কি ভুল ? কার্লসনের গবেষণা যা বলছে

জ্যোতিষশাস্ত্র হাজার বছর ধরে মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিভিন্ন সংস্কৃতিতে এটি ভাগ্যের পূর্বাভাস এবং ব্যক্তিত্বের বিশ্লেষণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে জ্যোতিষশাস্ত্র কতটা নির্ভরযোগ্য, সেটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। এই বিতর্কের মীমাংসার জন্য সবচেয়ে প্রসিদ্ধ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা হলো ১৯৮৫ সালে বিশ্বখ্যাত সাময়িকী Nature-এ প্রকাশিত শোন কার্লসনের ডাবল ব্লাইন্ড পরীক্ষা। এই পরীক্ষার মাধ্যমে দেখা যায়, জ্যোতিষীরা বার্থ চার্টের ভিত্তিতে ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করতে পারেননি, তাদের অনুমান ছিল শুধুই র‍্যান্ডম চান্সের সমান!

শোন কার্লসনের গবেষণা কঠোর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেছিল, যাতে পক্ষপাতের সম্ভাবনা কম থাকে। এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল জ্যোতিষশাস্ত্রের দাবিগুলো বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা করা। তিনি পরীক্ষা পরিচালনার জন্য দুইটি পৃথক দল গঠন করেন।প্রথমে ছিলো, অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা যাঁদের জন্মছক তৈরি করা হয়। এর পরে ছিলো পেশাদার জ্যোতিষীরা, যাঁরা জন্মছকের ভিত্তিতে ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করবেন। এই গবেষণায় অংশগ্রহণ করেন ২৮ জন পেশাদার জ্যোতিষী, তারা আমেরিকার প্রধান জ্যোতিষ সমিতিগুলোর অনুমোদিত সদস্য ছিলেন। অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের থেকে জন্মতারিখ, সময় ও স্থানের তথ্য নিয়ে তাদের জন্মছক প্রস্তুত করা হয়।

এরপর প্রতিটি ব্যক্তির জন্য তিনটি সম্ভাব্য ব্যক্তিত্ব বর্ণনা তৈরি করা হয়, একটিকে নির্দিষ্ট ব্যক্তির আসল মনোবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ হিসেবে রাখা হয়। বাকি দুটি ছিল একইরকমভাবে প্রস্তুত করা কিন্তু এলোমেলোভাবে নির্বাচিত। জ্যোতিষীদের কাজ ছিল তিনটি বিকল্পের মধ্যে সঠিকটি চিহ্নিত করা। কার্লসনের গবেষণার ফলাফল ছিল স্পষ্ট, সেখানে জ্যোতিষীরা দৈবচয়নের চেয়ে ভালো কোনো পূর্বাভাস দিতে পারেননি। তিনটি বিকল্পের মধ্যে সঠিকটি চিহ্নিত করার সম্ভাব্য হার ছিল ৩৩.৩% এবং জ্যোতিষীদের সাফল্যের হারও এই সম্ভাব্য হার থেকে ভিন্ন ছিল না। এর অর্থ হলো জ্যোতিষীদের অনুমান করার ক্ষমতা কোনোভাবেই জন্মছক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের উপর নির্ভরশীল ছিল না বরং তারা কেবল অনুমানের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন।

এই গবেষণার ফলাফল জ্যোতিষশাস্ত্রের বৈজ্ঞানিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। এটি বোঝা যায়, জন্মছকের ভিত্তিতে ব্যক্তিত্ব নির্ধারণের দাবি পরীক্ষার মাধ্যমে সমর্থন করা যায়নি। শোন কার্লসনের গবেষণা প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। জ্যোতিষশাস্ত্রের সমর্থকরা গবেষণার পদ্ধতির কঠোর সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন পরীক্ষাটি যথাযথভাবে পরিচালিত হয়নি। তবে বিজ্ঞানীরা গবেষণাটিকে জ্যোতিষশাস্ত্রের অন্যতম শক্তিশালী খণ্ডন হিসেবে দেখেন, কারণ এটি দ্বৈত-অন্ধ
পরীক্ষার কঠোর মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হয়েছিল। দ্বৈত-অন্ধ পদ্ধতিতে গবেষণা পরিচালনার মানে হলো, গবেষণার কোনো পক্ষই জানতো না যে কোন তথ্য আসল বা কোন তথ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি গবেষণাকে আরও নিরপেক্ষ এবং নির্ভরযোগ্য করে তোলে।

জ্যোতিষশাস্ত্র বহু সংস্কৃতিতে জনপ্রিয় হলেও এটি বিজ্ঞানের পরীক্ষার সামনে টিকতে পারেনি। বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো পুনরাবৃত্তি এবং যাচাইযোগ্যতা। কোনো তত্ত্ব বা পদ্ধতি যদি নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার মাধ্যমে প্রতিবার সঠিক ফলাফল না দিতে পারে, তবে বিজ্ঞান সেটিকে বিশ্বাসযোগ্য বলে গ্রহণ করে না। জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রধান সমস্যা হলো এটি কোনো পরীক্ষামূলক ভিত্তি তৈরি করতে পারেনি যার মাধ্যমে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়। অনেক মানুষ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জ্যোতিষশাস্ত্রের উপর বিশ্বাস রাখেন, তবে এই বিশ্বাস সাধারণত প্লেসেবো প্রভাব বা বার্নাম প্রভাবের কারণে হতে পারে। বার্নাম প্রভাব হলো মনস্তাত্ত্বিক একটি প্রবণতা, যেখানে মানুষ অস্পষ্ট এবং সাধারণ বিবরণকে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সাথে মিলিয়ে দেখে, যা প্রায় সবার ক্ষেত্রেই সত্য হতে পারে।

শোন কার্লসনের ১৯৮৫ সালের গবেষণা আধুনিক বিজ্ঞানে জ্যোতিষশাস্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে একটি বড় প্রশ্ন তৈরি করে। এটি প্রমাণ করে জন্মছকের মাধ্যমে কারোর ভবিষ্যত বা ব্যক্তিত্ব নির্ধারণ করার দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত নয়। যদিও অনেক মানুষ এখনো জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট, তবে কঠোর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফল দেখায়, এটি নিছক অনুমানের উপর নির্ভরশীল।বিজ্ঞান যেহেতু পরীক্ষা, যুক্তি ও প্রমাণের উপর দাঁড়িয়ে থাকে, তাই কোনো বিশ্বাস যদি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় ব্যর্থ হয় তবে সেটিকে সন্দেহের চোখে দেখা স্বাভাবিক। যারা জ্যোতিষশাস্ত্রকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন, তাদের উচিত এ বিষয়ে আরও গভীর গবেষণা করা এবং বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এটি বিচার করা। শোন কার্লসনের গবেষণা জ্যোতিষশাস্ত্রকে একটি কুসংস্কার হিসেবে প্রত্যাখ্যান করার জন্য পর্যাপ্ত ভিত্তি প্রদান করেছে, তবে মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও সংস্কৃতি এখনও এটিকে জনপ্রিয় করে রেখেছে।





রেমিট্যান্স ও রফতানি বাড়লেও রিজার্ভ বাড়ছে না

চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে ও রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৭% ও ১০%। বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান এ দুই উৎসের উচ্চ প্রবৃদ্ধিতেও রিজার্ভ বাড়ছে না দেশে। ৮ মাস ধরে রিজার্ভের পরিমাণ ওঠানামা করছে ১৯ থেকে ২১ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। গত অর্থবছরের তুলনায় রেমিট্যান্স বেশি এসেছে ৪ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। আর রফতানি আয় বেশি এসেছে ২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার।বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় বাড়লেও মূলত প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই), বিদেশী অনুদান এবং মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি বিদেশী ঋণ কমে যাওয়ার প্রভাবেই দেশের রিজার্ভ চাপে পড়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কেবল রেমিট্যান্স ও রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধির ধারায় এগিয়ে নেয়া যাবে না।নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে অবশ্যই বিদেশী বিনিয়োগ নিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগও বাড়াতে হবে। যেকোনো দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রধান শর্ত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।কিন্তু এ দুটি উপাদানই এ মুহূর্তে বাংলাদেশে অনুপস্থিত। অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘রেমিট্যান্সের বেশির ভাগই প্রবাসী পরিবারের ভোগে ব্যয় হয়ে যায়। যেটুকু উদ্বৃত্ত থাকে সেটি দিয়েও তারা বাড়ি নির্মাণ করে, জমি কেনে। গাড়ি-বাড়ি কেনা কখনো বিনিয়োগ নয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিদেশীরা না হোক, অন্তত ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের কাছে কিছু বিনিয়োগ নিয়ে আসতে পারলেও দেশের উপকার হতো।

অন্যদিকে পরপর দুই অর্থবছরে দেশের আমদানি খাত সংকুচিত হওয়ার পর চলতি অর্থবছরে আবারো প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশের পক্ষেই বিদেশী বিনিয়োগ ছাড়া রিজার্ভ বাড়ানো সম্ভব নয়। আর আমাদের মতো দেশের ক্ষেত্রে এটি আরো বেশি কঠিন। কারণ রেমিট্যান্স ও রফতানি থেকে আমাদের যে আয় হয়, সেটি আমদানি করতে গিয়েই শেষ হয়ে যায়। এ মুহূর্তে আমাদের বিদেশী মুদ্রার আয় যা হচ্ছে, তা দিয়ে অর্থনীতির অস্থিরতা দূর হয়েছে। এখন সমৃদ্ধির দিকে যেতে হলে বিদেশী বিনিয়োগের প্রয়োজন।’

সংস্কার প্রস্তাবে অনির্বাচিতদের ক্ষমতায়নের চেষ্টা – বিএনপি

অন্তর্বর্তী সরকারের কমিশনগুলোর প্রস্তাবনায় রাজনীতিকরা অপাঙক্তেয় এবং ভবিষ্যতে অনির্বাচিতদের দেশ পরিচালনায় নিয়োগের অযৌক্তিক প্রচেষ্টা রয়েছে বলে অভিযোগ বিএনপির। দলটি বলেছে প্রস্তাবনায় এমন কার্যপরিধি রাখা হয়েছে, যার ফলে স্তরে স্তরে অনির্বাচিতরা সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন। সাংবিধানিকভাবে তাদের ক্ষমতায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো গৃহীত হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কোনো গুরুত্ব থাকবে না। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

লিখিত বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সুপারিশমালায় সাংবিধানিক কমিশনসহ (এনসিসি) নতুন নতুন বিভিন্ন কমিশনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব কমিশনের এখতিয়ার, কর্মকাণ্ডের যে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তাতে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে, আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগকে যতটা সম্ভব আন্ডারমাইনিং করা এবং ক্ষমতাহীন করাই উদ্দেশ্য। যার ফলে একটি দুর্বল ও প্রায় অকার্যকর সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের স্প্রেডশিট, কমিশনের সদস্যদের বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্য ও বিশেষ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের বিবৃতি-বক্তব্যের সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। এতে জনমনে প্রশ্নের জন্ম হতে পারে, সব বিষয় একটি পূর্বপরিকল্পনার অংশ, যা গণতন্ত্রের স্বার্থের পক্ষে কিনা, বলা মুশকিল।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আগে সংস্কার নাকি নির্বাচন-এ ধরনের অনাবশ্যক বিতর্কের অবকাশ নেই। সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া।সংস্কার ও নির্বাচন প্রক্রিয়া দুটি একই সঙ্গে চলতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি সংস্কার সনদ তৈরি হতে পারে, নির্বাচিত সরকার পরে যা বাস্তবায়ন করবে। অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা অবস্থান বজায় রাখা আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন কোনো মহলকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের এজেন্ডা যেন সরকারের কর্মপরিকল্পনার অংশ না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।




জোহাতসু নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার জাপানি সংস্কৃতি

একটি ছোট শহরে যেখানে প্রায় সবাই একে অপরকে চেনে, তাদের মধ্য থেকেই একদিন হঠাৎ করে এক ব্যক্তি নিখোঁজ হয়ে গেলেন।পরিবারের লোকেরা বহুদিন ধরে তার খোঁজ করে কোনো কোনো চিহ্ন না পেয়ে একসময় হয়তো আশা’ই ছেড়ে দিলেন। অথচ তিনি যখন বেরিয়ে গিয়েছিলেন, তখন কি সব কিছু স্বাভাবিক ছিল? জীবনে এমন কি ঘটেছিল যে চিরতরে চিরচেনা সমস্ত আয়না পেছনে ফেলে সবার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে আরেকটি নতুন জীবন শুরু করতে পালালেন? আকস্মিক এই অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ঘটনাটি “জোহাতসু” নামে পরিচিত একটি জাপানি সংস্কৃতির অংশ।

জোহাতসু” শব্দটির অর্থ হল এভাপোরেশন বা “অদৃশ্য হয়ে যাওয়া”। এটি এমন একটি ঘটনা যেখানে কেউ নিজের পরিচয় এবং জীবনের সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে, সমাজ এবং পরিবারের সাথে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জোহাতসু-র মাধ্যমে এই ব্যক্তি পুরোনো জীবন থেকে মুক্তি পেতে চান এবং একটি নতুন জীবন শুরু করতে চান, যেখানে তার পুরানো পরিচয়ের কোনো চিহ্ন থাকবে না। এটি এক ধরনের আত্মগোপন, যেখানে কেউ নিজেকে সমস্ত পরিচিতদের কাছ থেকে অদৃশ্য করে দেয় এবং নতুন পরিচয়ে জীবন শুরু করার চেষ্টা করে।

কেন মানুষ জোহাতসু করেন?
জোহাতসু করা মানে হয়তো জীবনের অন্ধকার থেকে পালিয়ে যাওয়া, পালাতে চাওয়া। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জোহাতসু করার পেছনে রয়েছে গভীর মানসিক চাপ, পারিবারিক সমস্যাগুলি বা এমন কিছু পরিস্থিতি যেখানে ব্যক্তি সমাজ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে চান।জীবনে যে পরিমাণ ভোগান্তি সৃষ্টি হয়, তা হয়তো আর সহ্য করতে পারেন না এবং নতুন পরিচয়ে আত্মগোপন করার সিদ্ধান্ত নেন।

জোহাতসু’র ধারণাটি মূলত ১৯৬০-এর দশকে জাপানে উদ্ভুত হয়। জাপানে তখনকার সময়ে শিল্প বিপ্লবের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছিল, কিন্তু এই চাপের মধ্যে অনেক মানুষ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে, জাপানকে যখন আর্থিক মন্দা মোকাবিলা করতে হচ্ছিল, তখন এই প্রবণতা আরো বেড়ে যায়। সেই সময় অনেক মানুষ জোহাতসু’র পথ বেছে নিয়েছিলেন, কারণ তারা অসংখ্য সমস্যার ভেতরে ডুবে তাদের পুরোনো জীবন থেকে পালাতে চেয়েছিলেন।

জাপানে এমন কিছু কোম্পানিও রয়েছে যারা মানুষকে বিশেষভাবে জোহাতসু-তে সাহায্য করে। এই কোম্পানিগুলি মানুষের জীবন থেকে সব চিহ্ন মুছে ফেলতে সহায়তা করে এবং তাদের নতুন পরিচয় তৈরি করতে সাহায্য করে। তারা সেসব মানুষের জন্য নতুন ঠিকানা খুঁজে দেয়, পুরোনো পরিচয় থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে এবং নতুন জীবন শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছু ব্যবস্থা করে দেয়। এমনকি কিছু কোম্পানি মানুষের জন্য নতুন নাম, নতুন কাজ এবং নতুন সম্পর্ক গড়ে দেয়।

এটি কি শুধুমাত্র জাপানের সমস্যা?
“জোহাতসু” জাপানী সংস্কৃতির একটি অংশ হলেও এই ধরনের ঘটনা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে ঘটতে দেখা যায় যেখানে মানুষ অতিরিক্ত সামাজিক বা পারিবারিক চাপের কারণে নতুন জীবন শুরুর জন্য নিজেকে গোপন করে ফেলেন। এটি কোনো একক দেশের সমস্যা নয় বরং একটি পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ঘটনা যা মানুষের মনস্তত্ত্বে আরও বেশি প্রভাব ফেলছে।

এমনকি যারা জোহাতসু’র মাধ্যমে নিজেদের জীবন বদলাতে যায়, তারা নিজের পরিবার এবং বন্ধুদের জন্য গভীর অস্থিরতা সৃষ্টি করে।যারা নিখোঁজ হয়ে যান তাদের প্রিয়জনরা নিঃশেষ হয়ে যায়, তাদের স্বজনদের কোনও খোঁজ পাওয়া যায় না এবং তারা কিছুতেই তাদের ফিরে পাবার পথ খুঁজে পায় না। এই সমস্যাটি শুধুমাত্র অদৃশ্য হয়ে যান সেসব ব্যক্তিদের জন্য নয়, তাদের কাছের মানুষদের জন্যও একটি দুঃখজনক অভিজ্ঞতা হিসেবে বেঁচে থাকে।

জোহাতসু’র একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি আত্মহত্যা বা আত্মঘাতী প্রবণতা থেকে আলাদা। অনেক সময় মানুষ জোহাতসু-এর মাধ্যমে তাদের পুরোনো জীবনের সমস্ত কিছু ছিন্ন করে ফেললেও কিন্তু তাদের উদ্দেশ্য জীবন শেষ করা নয়। বরং তারা একটি নতুন শুরু চাইছেন যেখানে অতীতের কোনো চিহ্ন থাকবে না। এটি সমাজের চাপ থেকে পালানোর এক নতুন পথ হতে পারে।

জোহাতসু’র চিন্তা যদি কখনও আপনার জীবনে ঘটে, তবে সেটা আপনার পুরোনো জীবন থেকে পালানোর উপায় হতে পারে, তবে সেটা যে সুখী ও শান্তিপূর্ণ জীবন এনে দিতে পারে সে নিশ্চয়তা তো নেই! এটি আসলে এমন একটি প্রতিফলন যেখানে একজন মানুষ সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে পালিয়ে গিয়ে নিজের অস্তিত্বের মূল্য পুনঃপরীক্ষা করতে চায়। অভ্যন্তরীণ চাপ এবং হতাশা মানুষের আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং তাদের নিজের পরিচয়ের প্রতি সংশয়ের সূচনা হতে পারে। যখন তাদের সামনে কোনো আলো দেখা যায় না, তখন তারা অনিশ্চয়তার হাত ধরেই অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।







আন্তর্জাতিক পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার পতন কি বিপর্যয় ডেকে আনবে ?

বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা একাধিক দেশের মধ্যে ভাগ করা নদী বা হ্রদের অববাহিকায় বসবাস করে। জনগণ, বাস্তুতন্ত্র এবং অর্থনীতির সুস্থতার জন্য এই জল সম্পদকে টেকসইভাবে পরিচালনার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর একসাথে কাজ করা প্রয়োজন।তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমনকি সুপেয় পানির মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের ক্ষেত্রেও অনেক দেশ এই সহযোগিতা থেকে সরে আসার প্রবণতা দেখিয়েছে। প্রায় ৪০০০ বছর আগে সুমেরীয় নগর-রাষ্ট্র লাগাশ ও উম্মার মধ্যে টাইগ্রিস নদীর একটি খালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র সংঘাত শুরু হয়। এই দ্বন্দ্ব ২৫৫০ খ্রিস্টপূর্বে মেসিলিম চুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়, সেটি ছিলো আন্তর্জাতিক জলচুক্তির প্রথম দৃষ্টান্ত। এই চুক্তি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে না পারলেও একটি মডেল তৈরি করেছিল।

বিশ্বের ৩১৩টি পৃষ্ঠজল অববাহিকা, ৪৬৮টি আন্তঃসীমান্ত ভূগর্ভস্থ জলাধার এবং ৩০০টিরও বেশি আন্তঃসীমান্ত জলাভূমির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ১৮০০ সালের শেষ ভাগ থেকে এবং বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সহযোগিতার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপে, রাইন ও দানিউব নদীর পানি ব্যবস্থাপনার জন্য দেশগুলো একাধিক চুক্তি করেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মেকং নদী সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত আলোচনা জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রেখেছে। তবে সম্প্রতি আমরা দেখছি, অনেক দেশ জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যেটি বহুপাক্ষিক সহযোগিতাকে দুর্বল করছে।

কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া নদী চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, কারণ ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন এই চুক্তির হালনাগাদ সংক্রান্ত আলোচনাকে স্থগিত করেছে। একইভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার জাম্বেজি নদী অববাহিকায় দেশগুলো আগের মতো একে অপরকে অবহিত না করেই বাঁধ নির্মাণ করছে। নাইল ও আরাল সাগরের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ২০১০ সালের পর থেকে বহুপাক্ষিক জল চুক্তির হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০২০ সালের পর মাত্র ১০টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং মাত্র দুটি যৌথ প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়েছে। অনেক নদী অববাহিকায় কোনো ধরনের চুক্তি বা প্রতিষ্ঠানই নেই।

বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠান গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে সেগুলো কার্যকর হয়নি। কঙ্গো, রুয়ান্ডা ও বুরুন্ডির মধ্যে রুজিজি নদী ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সংস্থা গঠনের পরিকল্পনা থাকলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়নি। বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও কিছু দেশ নিজেদের প্রত্যাহার করছে। আরাল সাগর সংরক্ষণ তহবিল (IFAS) ১৯৯৩ সালে পাঁচটি দেশ দ্বারা গঠিত হয়েছিল, কিন্তু ২০১৬ সালে কিরগিজস্তান তাদের সদস্যপদ স্থগিত করে, যা সংস্থাটির কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। নাইল অববাহিকায় মিশর ও সুদান ২০১০ সালে অংশগ্রহণ স্থগিত করেছিল, যদিও সুদান ২০১২ সালে ফিরে আসে। কিন্তু মিশর এখনও এই উদ্যোগের বাইরে রয়েছে।

জলসম্পদ সহযোগিতার এই সংকট শুধু পানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি বিশ্বব্যাপী বহুপাক্ষিক সমস্যার সমাধানে দেশগুলোর আগ্রহ কমে যাওয়ার একটি প্রতিফলন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ন্যাটো এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।আর্জেন্টিনাও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে। পশ্চিম আফ্রিকায় মালি, বুর্কিনা ফাসো ও নাইজার আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা ECOWAS থেকে বেরিয়ে গেছে। বিশেষ করে পরিবেশের ক্ষেত্রে এই প্রবণতার নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করেছে এবং প্লাস্টিক দূষণ হ্রাসে বৈশ্বিক চুক্তি বাস্তবায়নে কঠিনতা দেখা দিচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বাদুপানির সংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে জলসম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহার দেখা যাচ্ছে।ফলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া জলসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে। লেক চাদ একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। ১৯৬৪ সালে ক্যামেরুন, চাদ, নাইজার ও নাইজেরিয়া লেক চাদ অববাহিকা কমিশন গঠন করেছিল। কিন্তু দেশগুলো কখনোই পূর্ণ সহযোগিতায় সম্মত হয়নি। এর ফলে স্থানীয় জনগণের দারিদ্র্য বাড়িয়ে দিয়েছে এবং তাদের জীবিকা সংকুচিত করে লেক চাদের আকার প্রায় ৯০% হ্রাস পেয়েছে। এই দুর্বল পরিস্থিতি জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারামের উত্থানের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছে।

বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি দেশগুলোর কমে যাওয়া আগ্রহ একটি গুরুতর সংকেত। যদি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ পানি টেকসইভাবে এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতার মাধ্যমে ব্যবস্থাপিত না হয়, তবে শুধু জলসম্পদ নয় আঞ্চলিক শান্তি, অর্থনীতি ও পরিবেশও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।





ট্রাম্প-পুতিন মৈত্রীর কাছে কি হেরে যাচ্ছেন জেলেনস্কি ?

জেলেনস্কি দীর্ঘদিন ধরে নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। কিন্তু এখন তিনি ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলেনস্কির এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব। তিনি মূলত একজন কৌতুক অভিনেতা, যিনি রাজনীতিতে এসেছেন তৃতীয় পক্ষের স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম হিসেবে। কিন্তু যখন সেই নেপথ্যের চরিত্র পালটে যায়, তখন সামনের পুতুলের চলার পথও বদলে যায়। … জেলেনস্কি বাইডেন প্রশাসনের পরামর্শে ন্যাটোতে যোগদানের তোড়জোড় শুরু করেছিলেন। কিন্তু পুতিন এই উদ্যোগের ঘোর বিরোধী ছিলেন। তিনি চান না পশ্চিমা সামরিক জোট তার সীমানার কাছে ঘাঁটি গাড়ক। এই উত্তেজনার ফলেই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সূত্রপাত হয়, যা প্রায় তিন বছর ধরে চলছে।

রাশিয়ার হামলার পেছনে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাজনিত ইস্যু, কৃষ্ণসাগরে অ্যাক্সেস এবং সাবেক সোভিয়েত গৌরব পুনরুদ্ধারের বাসনা কাজ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন যদি ন্যাটোর সঙ্গে জোট বাঁধার চেষ্টা না করত, তাহলে পুতিন হামলা চালাতেন না। ট্রাম্প প্রথম থেকেই বলে আসছেন, ক্ষমতায় এলে তিনি যুদ্ধ বন্ধ করে দেবেন। তিনি ইউক্রেনের হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন তিন বছরের বিল। দায় শোধ করতে না পারলে ইউক্রেনের খনিজসম্পদের অর্ধেক দাবি করেছেন। এ ছাড়া ন্যাটোর সদস্যপদের আকাঙ্ক্ষা বাদ দেওয়া এবং রাশিয়াকে দখলকৃত ভূমির অধিকার ছেড়ে দেওয়ার শর্তও রয়েছে তার প্রস্তাবে। প্রথমে জেলেনস্কি ট্রাম্পের শর্তগুলো উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তিনি বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেলে খনিজসম্পদের অর্ধেক দেওয়ার বিনিময়ে চুক্তিতে রাজি আছেন। হোয়াইট হাউজে নাজেহাল হওয়ার পর তিনি এখন ট্রাম্পের নেতৃত্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে প্রস্তুত।

… জেলেনস্কির পশ্চিমা মিত্রদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল রাশিয়া ও পুতিনকে শায়েস্তা করা। যুদ্ধের সুযোগে তারা রাশিয়ার ওপর শত শত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাদের অর্থনীতিতে ধস নামিয়েছে। কিন্তু জেলেনস্কির ভাগ্য খারাপ, মাঝপথে এলেন ট্রাম্প, যিনি পুতিনকে নিজের বন্ধু মনে করেন। ট্রাম্প একজন ব্যবসায়ী। তার কাছে ইউক্রেনে আরেকটি আফগানিস্তান তৈরি করার আগ্রহ নেই, যেখানে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে কোনও যথাযথ ফলাফল ছাড়া। ফলে, জেলেনস্কি এখন সব সমর্থন হারিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন। তার নিজের কোনও ভিশন নেই, যার জন্য লড়াই করবেন। ফলাফল, তিনি এখন ট্রাম্পের কাছেই সাহায্য চাইতে বাধ্য হচ্ছেন। …এটা স্পষ্ট, ইউক্রেনের ভাগ্য এখন অন্যের হাতে।”




দেশে বাল্য বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদের হার বৃদ্ধি পেছনের সামাজিক – অর্থনৈতিক কারণ ও প্রভাব কী ?

0

বাংলাদেশ বর্তমানে দ্বৈত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যেখানে বাল্য বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদের হার একসঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি দেশের সামাজিক কাঠামো ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ১৫ ও ১৮ বছরের নিচে বিয়ের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাল্য বিবাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ২০১৮ সালে যেখানে ১৫ বছরের নিচে বিয়ের হার ছিল ৪.৬%, ২০২২ সালে তা বেড়ে ৬.৫% হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো ২০২২ সালে ৪০.৯% মেয়ে ১৮ বছরের আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে, যেখানে ২০১৮ সালে এই হার ছিল ৩০.০%। বার্ষিক গড় বৃদ্ধি ২.১৮ শতাংশ পয়েন্ট, যা উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে অল্প বয়সে বিয়ের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (UNFPA) আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মহামারির সময় অনেক মেয়ে বিদ্যালয় ছেড়ে দিয়েছে এবং বাল্যবিবাহের কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাইনুল ইসলাম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, “১৫ ও ১৮ বছরের নিচে বিয়ের হার বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক ক্রুড ম্যারেজ রেট (CMR) বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশে আইনি বয়স ১৮ বছর নির্ধারণ করা হলেও বাল্য বিবাহের পরিস্থিতি উন্নতি হয়নি, বরং আরও খারাপ হয়েছে।”

ক্রুড ম্যারেজ রেট (CMR) বলতে বোঝায় প্রতি ১,০০০ জনের মধ্যে বিবাহের সংখ্যা। ২০২২ সালে বাংলাদেশের CMR ছিল ১৮.১, যা অতীতের তুলনায় সর্বোচ্চ। গ্রাম এলাকায় এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি (১৯.৫), যেখানে শহর এলাকায় তা ১৩.৮। বিভাগীয় পর্যায়ে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ (২০.৬১) এবং ঢাকায় সর্বনিম্ন (১৫.৬২) CMR পাওয়া গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এএসএম আমানউল্লাহ বলেন, “বিয়ের হার বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক নয়। এটি জাপানের মতো দেশে ইতিবাচক হতে পারে, যেখানে CMR প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।” তিনি আরও বলেন, বাল্য বিবাহের বৃদ্ধি মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু, শিশু অপুষ্টি এবং জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের জন্য বাল্য বিবাহ বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি এবং সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। অধ্যাপক মাইনুল ইসলাম বলেন, বাল্য বিবাহ কমাতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ SDG-এর অর্ধেকের বেশি লক্ষ্য অর্জনে পিছিয়ে পড়বে। শিশু বিবাহের ফলে অল্প বয়সে গর্ভধারণের হার বাড়ে, যা নারীদের শিক্ষার সুযোগ কমিয়ে দেয় এবং তাদের ক্ষমতায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পারিবারিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে কি না।

বিবিএস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিয়ের বয়স বাড়ালে কম বয়সে সন্তান জন্মদানের হার কমবে, প্রজনন হার হ্রাস পাবে এবং ফলস্বরূপ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ধীর হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য বিয়ের বয়স বৃদ্ধির দিকে নজর দিচ্ছে। ২০২২ সালে ক্রুড ডিভোের্স রেট-প্রতি ১,০০০ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে ১.৪-এ পৌঁছেছে, যেখানে ২০২১ সালে এই হার ছিল ০.৭। গ্রামাঞ্চলে শহরের তুলনায় বিবাহ বিচ্ছেদের সম্ভাবনা ৫০% বেশি। বিভাগীয় পর্যায়ে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ (২.২), এরপর খুলনায় (২.০) বিবাহ বিচ্ছেদের হার রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে কম (০.৮) বিচ্ছেদ ঘটেছে।

অধ্যাপক এএসএম আমানউল্লাহ ব্যাখ্যা করেন, “আগে সামাজিক অপবাদ থাকার কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের হার কম ছিল। কিন্তু এখন এই প্রবণতা বদলাচ্ছে। নারীরা শিক্ষিত ও ক্ষমতায়িত হওয়ার ফলে তারা এখন নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন, ফলে বিচ্ছেদের হারও বাড়ছে।” তিনি আরও বলেন, আধুনিকায়ন, দ্রুত নগরায়ণ, মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে প্রবেশ এবং সামাজিক অস্থিরতা বিবাহ বিচ্ছেদের হার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। অধ্যাপক আমানউল্লাহ বলেন, “বিবাহ বিচ্ছেদ কমাতে সামাজিক সংহতি বাড়ানোর জন্য ‘সামাজিক প্রকৌশল’ কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন। এটি সময়সাপেক্ষ হলেও এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।” তবে বিবিএস-এর তথ্যে দেখা যাচ্ছে, গ্রামাঞ্চলেও বিবাহ বিচ্ছেদের হার বাড়ছে যদিও সেখানে নারীর ক্ষমতায়ন তুলনামূলকভাবে কম।






সংস্কারের সুপারিশ নিয়ে যা বললো বিএনপি

সংবিধান সংস্কারে গণপরিষদ গঠন করার কোনো প্রয়োজন নেই বলে মনে করে বিএনপি। দলটি বলেছে, আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা উচিত। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা হলে সংসদে সব আলোচনা হবে। গতকাল রোববার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে সংস্কারের সুপারিশ নিয়ে লিখিতভাবে দলীয় মতামত জমা দেয় বিএনপি। পরে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের দলীয় এ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। সংবিধানের প্রস্তাব পরিবর্তনে সংস্কার কমিশনের সুপারিশের বিরোধিতাও করেছে বিএনপি। দলটি বলেছে, সুপারিশে ১৯৭১ ও ২০২৪ সালকে এককাতারে আনা হয়েছে। এটি তারা সমুচিত বলে মনে করে না। রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তন করার প্রয়োজন আছে বলেও মনে করে না দলটি।

বিএনপি বলেছে, যেভাবে সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠন করার প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তেমন একটা ভূমিকা থাকবে না। এ ছাড়া নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের কিছু সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হবে।গতকাল মতামত জমা দেওয়ার পর সালাহ উদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের ২০টির মতো প্রস্তাবের মধ্যে বিএনপি ১১টিতে সরাসরি একমত। সাত-আটটিতে মন্তব্যসহ নীতিগতভাবে একমত। একটি প্রস্তাবে ভিন্নমত জানানো হয়েছে।জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ২৬টি প্রস্তাবের মধ্যে প্রায় অর্ধেক বিষয়ে তাঁরা একমত, বাকি অর্ধেকের বিষয়ে তাঁদের মতামত আছে। বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর বিষয়ে প্রায় সব ক্ষেত্রেই বিএনপি একমত পোষণ করেছে।

তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার কমিনের সুপারিশের বিষয়ে বিএনপি নিজেদের মতামত তুলে ধরে স্প্রেডশিটের সঙ্গে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করেছে। সংবিধান সংশোধনে গণপরিষদের প্রয়োজন আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, একটি নতুন রাষ্ট্র গঠিত হলে, সেখানে সংবিধান প্রণয়ন করার জন্য গণপরিষদ প্রয়োজন হয়। সেই সংবিধানের ভিত্তিতে সংসদ নির্বাচন হয়। ‘এখানে আমাদের কি রাষ্ট্র নতুন হয়েছে?’-এমন প্রশ্ন রেখে বিএনপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশ ৫৩-৫৪ বছরের পুরোনো রাষ্ট্র। একটা সংবিধান আছে। হয়তো সংবিধানের গণতান্ত্রিক চরিত্র নষ্ট হয়েছে। যে কারণে কাঠামোগুলো নতুন করে বিনির্মাণ করা দরকার।

তিনি বলেন, যারা গণপরিষদ দাবি করছে, তারাও ৬৯টা দাবি দিয়েছে। বিএনপি আরও কম দাবি দিয়েছে। এগুলো আলোচনা করে একটা বৃহত্তর ঐকমত্যের ভিত্তিতে এসে ব্যাপক সংশোধিত সংবিধান পাওয়া যাবে। সে সংবিধানকে কেউ নতুন সংবিধান বলতে পারে, এখানে বিএনপির আপত্তি নেই। সালাহ উদ্দিন আহমদ জানান, তাঁরা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের সুপারিশে একমত। তবে উচ্চকক্ষের সদস্য কীভাবে মনোনীত হবে, তা পরবর্তী সময়ে আলোচনা করে নির্ধারণ করা যাবে। নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। তবে নারী আসনে সরাসরি ভোেট নয়, বিদ্যমান পদ্ধতিতে মনোনয়নের কথা বলেছে তারা।

প্রস্তাবনা সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান সংস্কার কমিশন সংবিধানের প্রস্তাবনা পুরোপুরি পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রস্তাব করেছে। এটা অনেকটা পুনর্লিখনের মতো। সেখানে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের সঙ্গে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে এককাতারে আনা হয়েছে। এটা সমুচিত বলে বিএনপি মনে করে না। এটাকে অন্য জায়গায় রাখা বা সংবিধানের তফসিল অংশে রাখার বিভিন্ন রকম সুযোগ আছে। পঞ্চদশ সংশোধনের আগের অবস্থায় যে প্রস্তাবনা ছিল, সেটির পক্ষে বিএনপি।

নির্বাহী, আইন ও বিচার-এই তিন বিভাগের বিষয়ে এবং কিছু কমিশন বিশেষ করে সাংবিধানিক কাউন্সিল করে কিছু অনির্বাচিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের যেসব এখতিয়ার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাতে রাষ্ট্রের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তেমন একটা ভূমিকা থাকবে না। রাষ্ট্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হবে, এটা হচ্ছে সংবিধানের মূল চেতনা। সাংবিধানিক কাউন্সিল করা হলে, সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নির্বাচন কমিশনকে দায়বদ্ধ করার জন্য সংসদীয় কমিটির হাতে ক্ষমতা দেওয়ার যে প্রস্তাব করা হয়েছে, বিএনপি সেটির সঙ্গেও একমত নয়। এ ক্ষেত্রে তাঁদের মত হলো, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল আছে, তারাই দায়বদ্ধ করতে পারে।