জেলেনস্কি দীর্ঘদিন ধরে নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। কিন্তু এখন তিনি ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাবের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলেনস্কির এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার অভাব। তিনি মূলত একজন কৌতুক অভিনেতা, যিনি রাজনীতিতে এসেছেন তৃতীয় পক্ষের স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম হিসেবে। কিন্তু যখন সেই নেপথ্যের চরিত্র পালটে যায়, তখন সামনের পুতুলের চলার পথও বদলে যায়। … জেলেনস্কি বাইডেন প্রশাসনের পরামর্শে ন্যাটোতে যোগদানের তোড়জোড় শুরু করেছিলেন। কিন্তু পুতিন এই উদ্যোগের ঘোর বিরোধী ছিলেন। তিনি চান না পশ্চিমা সামরিক জোট তার সীমানার কাছে ঘাঁটি গাড়ক। এই উত্তেজনার ফলেই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সূত্রপাত হয়, যা প্রায় তিন বছর ধরে চলছে।
রাশিয়ার হামলার পেছনে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাজনিত ইস্যু, কৃষ্ণসাগরে অ্যাক্সেস এবং সাবেক সোভিয়েত গৌরব পুনরুদ্ধারের বাসনা কাজ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন যদি ন্যাটোর সঙ্গে জোট বাঁধার চেষ্টা না করত, তাহলে পুতিন হামলা চালাতেন না। ট্রাম্প প্রথম থেকেই বলে আসছেন, ক্ষমতায় এলে তিনি যুদ্ধ বন্ধ করে দেবেন। তিনি ইউক্রেনের হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন তিন বছরের বিল। দায় শোধ করতে না পারলে ইউক্রেনের খনিজসম্পদের অর্ধেক দাবি করেছেন। এ ছাড়া ন্যাটোর সদস্যপদের আকাঙ্ক্ষা বাদ দেওয়া এবং রাশিয়াকে দখলকৃত ভূমির অধিকার ছেড়ে দেওয়ার শর্তও রয়েছে তার প্রস্তাবে। প্রথমে জেলেনস্কি ট্রাম্পের শর্তগুলো উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তিনি বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেলে খনিজসম্পদের অর্ধেক দেওয়ার বিনিময়ে চুক্তিতে রাজি আছেন। হোয়াইট হাউজে নাজেহাল হওয়ার পর তিনি এখন ট্রাম্পের নেতৃত্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে প্রস্তুত।
… জেলেনস্কির পশ্চিমা মিত্রদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল রাশিয়া ও পুতিনকে শায়েস্তা করা। যুদ্ধের সুযোগে তারা রাশিয়ার ওপর শত শত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তাদের অর্থনীতিতে ধস নামিয়েছে। কিন্তু জেলেনস্কির ভাগ্য খারাপ, মাঝপথে এলেন ট্রাম্প, যিনি পুতিনকে নিজের বন্ধু মনে করেন। ট্রাম্প একজন ব্যবসায়ী। তার কাছে ইউক্রেনে আরেকটি আফগানিস্তান তৈরি করার আগ্রহ নেই, যেখানে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে কোনও যথাযথ ফলাফল ছাড়া। ফলে, জেলেনস্কি এখন সব সমর্থন হারিয়ে বেকায়দায় পড়েছেন। তার নিজের কোনও ভিশন নেই, যার জন্য লড়াই করবেন। ফলাফল, তিনি এখন ট্রাম্পের কাছেই সাহায্য চাইতে বাধ্য হচ্ছেন। …এটা স্পষ্ট, ইউক্রেনের ভাগ্য এখন অন্যের হাতে।”


