মামলার তথ্যের ভিত্তিতে গত ৭ মাসে এর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় অপরাধের বাড়া-কমার পরিসংখ্যান –
৯৮৬ = ৬৯% খুনের মামলা বেড়েছে খুনের মামলা
৭ মাসে খুন বেড়েছে। ১০%
১৩৪% ডাকাতি
৪১% দস্যুতা
৮৬% অপহরণ
৯.৮% ধর্ষণ
১৪% চুরি
৬.৫% সিধেল চুরি
দেশে সামগ্রিক অপরাধ ৬.১৬% বেড়েছে। এর মধ্যে ডাকাতি, ছিনতাই, দস্যুতা, অপহরণের মতো ঘটনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। খুনও বেড়েছে কিছুটা। তবে ধর্ষণ, চুরি ও সিঁধেল চুরির মতো অপরাধ কমেছে। গত সাত মাসে উল্লেখিত ৭ ধরনের অপরাধের ঘটনায় সারা দেশের মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেকের মধ্যে পুলিশকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা এবং পুলিশের আইনি নির্দেশনা না মানার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।এটাকেও সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে দুষ্কৃতকারীরা। এ জন্য এখন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা অপরাধ করলেই মামলা হবে, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। সারা দেশের পুলিশকে এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি সরকার ও পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একাধিক বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনায় মূলত দুটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। একটি হলো সুনির্দিষ্ট কিছু অপরাধ বেড়েছে। অপরটি হলো কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো বা অন্য দেশের অপরাধের ভিডিওকে বর্তমান সময়ে বলে চালিয়ে দিয়ে গুজব ছড়ানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধের ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকেও অপরাধ প্রবণতা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারকে জানানো হয়েছে। সেখানে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী অপরাধ প্রবণতার নেপথ্যে ৫টি বিষয় উঠে এসেছে। এতে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার শূন্যতাকে প্রথম কারণ হিসেবে দেখানো হয়।
দ্বিতীয় কারণ হিসেবে দেখানো হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবলের অভাবকে। তৃতীয় কারণ হিসেবে সুবিচার নিশ্চিত করতে আইনের প্রতি মানুষের সাময়িক অনাস্থা এবং অপরাধীদের সুযোগ গ্রহণকে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাটি। তা ছাড়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দখল-চাঁদাবাজি ও সহিংসতাকে অপরাধ প্রবণতার বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাটি। অতীতের অপরাধে সরকার পরিবর্তনের পর মামলা এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধের ঘটনার ব্যাপক প্রচারণাকে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে গোয়েন্দা সংস্থাটি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুনির্দিষ্ট কিছু পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত নেতিবাচক প্রচারণাগুলো বেশি চালানো হচ্ছে। একই ধরনের গুজব একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করা হচ্ছে। এতে বোঝাই যাচ্ছে, প্রচারণাগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, সংঘবদ্ধ ও পরিকল্পিত। ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো কয়েক শ অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করতে পুলিশের সাইবার ইউনিটগুলো কাজ করছে। মানুষের মধ্যে অনিরাপত্তা বোধ দূর করতে প্রতিটি অপরাধের ঘটনায় মামলা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, মামলা বেড়েছে নাকি কমেছে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চলাচল নিরাপদ করার বিষয়ে মানুষকে আশ্বস্ত করতে পারা। অপরাধ করলে পার পাওয়া যাবে না, সবার মধ্যে এমন ধারণা তৈরি করতে হবে।


