Home Blog Page 153

ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বৈষম্য বাড়ছে : মার্কিন কমিশন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সংস্থা কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ) বলেছে, ভারতে সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। পাশাপাশি শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে কথিত গুপ্তহত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে কমিশন ভারতের বৈদেশিক গুপ্তচর সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) ওপর সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে। রয়টার্সের রিপোর্ট। এই কমিশন রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট উভয় দলের অংশগ্রহণ আছে এমন এক মার্কিন সরকারি উপদেষ্টা সংস্থা, যা বিদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণ করে এবং নীতি সুপারিশ করে।

প্যানেল মার্কিন সরকারকে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের জন্য ভারতকে ‘কান্ট্রি অব পার্টিকুলার কনসার্ন’ হিসেবে চিহ্নিত করার এবং যাদব ও র-এর বিরুদ্ধে ‘সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের’ সুপারিশ করেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে নয়াদিল্লিকে এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের পাল্টা হিসেবে দেখে আসছে এবং সে কারণেই ভারতে মানবাধিকারের বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছে। এই সংস্থাটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক না হওয়ায় মার্কিন সরকার সম্ভবত ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না।

২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ওপর ভারতের কথিত নজরদারি যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে একটি নতুন জটিলতা সৃষ্টি করেছে। ওয়াশিংটন সাবেক ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা বিকাশ যাদবকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যর্থ ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। ভারত শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন কমিশন বলেছে, ‘২০২৪ সালে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে কারণ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও বৈষম্য বেড়েই চলেছে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দু জাতীয়তাবাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তাঁর ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) গত বছরের নির্বাচনী প্রচারণায় ‘মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বাগাড়ম্বর ও ভুল তথ্য ছড়িয়েছে।’ গত বছর এপ্রিলে মোদি মুসলমানদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন তাদের ‘বেশি সন্তান’ আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নয়া দিল্লি এসব প্রতিবেদনকে ‘গভীরভাবে পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে অভিহিত করেছে। ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা মোদি বৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, তাঁর সরকারের বিদ্যুতায়ন এবং ভর্তুকি প্রকল্পের মতো নীতিগুলো সকল সম্প্রদায়ের উপকার করে।

অধিকারকর্মীরা ভারতীয় সংখ্যালঘুদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য, জাতিসংঘ কর্তৃক ‘মৌলিকভাবে বৈষম্যমূলক’ ঘোষিত একটি নাগরিকত্ব আইন, ধর্মবিশ্বাসের স্বাধীনতাকে চ্যালেঞ্জ জানায় এমন আইন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা বাতিল এবং মুসলমানদের মালিকানাধীন সম্পত্তি ভেঙে ফেলার বিষয়গুলোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।


কোয়ান্টাম বাস্তবতা ও মৃত্যু , বিজ্ঞান কি বলছে ?

মৃত্যু চিরন্তন ও অনিবার্য বলে মনে করা হলেও আধুনিক কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছে।কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুসারে মৃত্যুর ধারণাটি শুধুমাত্র আমাদের ক্লাসিক্যাল বোঝার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলেও প্রকৃত বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা। কোয়ান্টাম বলবিদ্যার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব যেমন কোয়ান্টাম সুপারপজিশন, মাল্টিভার্স থিওরি এবং বাইসেন্টেনটেনিয়াল কন্সাসনেস এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। কোয়ান্টাম সুপারপজিশন হল এমন একটি ধারণা, যেখানে কোনো কণা একই সময়ে একাধিক অবস্থানে থাকতে পারে যতক্ষণ না সেটি পরিমাপ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, শ্রোডিঙ্গারের বিড়াল পরীক্ষাটি এই তত্ত্বের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বিড়ালটি একই সাথে জীবিত ও মৃত অবস্থায় থাকতে পারে, যতক্ষণ না পর্যবেক্ষণ করা হয়।

এটি যদি মানুষের অস্তিত্বের ক্ষেত্রেও সত্য হয় তাহলে মৃত্যুর পরেও আমাদের সত্তা অন্য কোনো কোয়ান্টাম বাস্তবতায় টিকে থাকতে পারে। অর্থাৎ মৃত্যুর পর আমাদের চেতনা হয়তো অন্য কোনো বিশ্বে প্রবাহিত হয়, এটিও কোয়ান্টাম বলবিদ্যার একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হতে পারে। মাল্টিভার্স থিওরি অনুসারে অসংখ্য সমান্তরাল বিশ্ব রয়েছে যেখানে আমাদের অস্তিত্বের বিভিন্ন সংস্করণ থাকতে পারে। এই তত্ত্বটি হিউ এভারেটের কোয়ান্টাম মেকানিক্সের “Many-Worlds Interpretation” নামে পরিচিত।

এটি যদি সত্য হয় তাহলে মৃত্যুর পর আমরা কেবলমাত্র একটি বিশ্ব থেকে অন্য বিশ্বে স্থানান্তরিত হবো, যেখানে আমরা জীবিত আছি।অর্থাৎ মৃত্যু শুধুমাত্র আমাদের বর্তমান বাস্তবতার সমাপ্তি হতে পারে, কিন্তু আমাদের চেতনার বিলুপ্তি নয়। কোয়ান্টাম বলবিদ্যা ও চেতনার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেছেন বিজ্ঞানী রবার্ট লাঞ্জ। তার “বায়োসেন্ট্রিজম” তত্ত্ব অনুযায়ী, চেতনা কেবলমাত্র মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ নয়, এটি মহাবিশ্বের মৌলিক গুণাবলী। এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, সময় ও স্থান কেবলমাত্র আমাদের চেতনার উপলব্ধির ফল এবং মৃত্যুর মাধ্যমে চেতনার সমাপ্তি ঘটে না।

লাঞ্জ ব্যাখ্যা করেন, কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের মূলনীতি অনুসারে চেতনা মহাবিশ্বের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত এবং এটি অন্য বাস্তবতায় প্রবাহিত হতে পারে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, আমরা কখনোই সম্পূর্ণরূপে মরে যাই না বরং আমাদের চেতনা অন্য মাত্রায় অস্তিত্ব লাভ করে। কোয়ান্টাম তথ্যের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো এটি ধ্বংস হয় না। পদার্থবিজ্ঞানীদের মতে, কোয়ান্টাম তথ্য কখনোই হারিয়ে যায় না পরিবর্তিত হয়। স্টিফেন হকিং তার ব্ল‍্যাক হোল তথ্য প্যারাডক্স ব্যাখ্যা করতে গিয়ে দেখিয়েছিলেন, তথ্য কখনোই সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয় না, অন্য কোনো রূপে রয়ে যায়। এটি আমাদের চেতনার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। চেতনা যদি কোয়ান্টাম তথ্যের উপর নির্ভর করে, তবে এটি সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এটি হয়তো অন্য কোনো রূপে, অন্য কোনো মাত্রায় বা অন্য কোনো বিশ্বে অব্যাহত থাকতে পারে।

কোয়ান্টাম জটিলতা এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে মহাবিশ্বের দুই প্রান্তে থাকলেও দুটি কণা পরস্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে। এটি ইঙ্গিত দেয়, মহাবিশ্বে সবকিছুই কোনো না কোনোভাবে সংযুক্ত। কিছু গবেষক মনে করেন চেতনার ক্ষেত্রেও এই নীতি প্রযোজ্য হতে পারে। আমাদের চেতনা যদি কোয়ান্টাম স্তরে সংযুক্ত থাকে, তাহলে মৃত্যুর পর এটি অন্য কোনো কোয়ান্টাম সিস্টেমে স্থানান্তরিত হতে পারে। হলোগ্রাফিক মহাবিশ্ব তত্ত্ব অনুসারে, মহাবিশ্ব একটি বিশাল হলোগ্রামের মতো যেখানে আমাদের অস্তিত্ব প্রকৃত বাস্তবতা নয়, তথ্যগত বিন্যাস মাত্র। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, আমাদের জীবন ও মৃত্যুর ধারণা শুধুমাত্র আমাদের সীমিত উপলব্ধির ফল। যদি এই তত্ত্ব সত্য হয়, তবে মৃত্যু কেবলমাত্র একটি রূপান্তর, কোনো চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়।

আবার কোয়ান্টাম ডেকোহারেন্স এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোয়ান্টাম সিস্টেমের অতিরিক্ত তথ্য পরিবেশের সাথে একত্রিত হওয়ার কারণে কোয়ান্টাম অবস্থান হারিয়ে যায় এবং ক্লাসিক্যাল বাস্তবতা সৃষ্টি হয়। এই ধারণাটি মৃত্যুর পরে চেতনার অবস্থা ব্যাখ্যা করতে সহায়ক, কারণ এটি দেখায় কোয়ান্টাম স্তরের অবস্থান কেবলমাত্র কিছু সময়ের জন্য টিকে থাকতে পারে। কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন সময় একটি বিভ্রম, চেতনার অস্তিত্ব সময়ের গণ্ডির বাইরেও থাকতে পারে। টাইমলেস ফিজিক্সের তত্ত্ব অনুসারে, বাস্তবতা হলো একটি স্থিতিশীল অবস্থা যেখানে সময়ের উপস্থিতি নেই। এই ধারণা অনুযায়ী, মৃত্যুর পরে চেতনা কখনোই একেবারে শেষ হয় না, বরং স্থিতিশীল অবস্থায় প্রবাহিত থাকে।

কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান আমাদের অস্তিত্ব ও বাস্তবতা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। মৃত্যুর ধারণাটি আমাদের ক্লাসিক্যাল বোঝার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলেও, কোয়ান্টাম বলবিদ্যার আলোকে এটি একটি ভ্রম হতে পারে। সুপারপজিশন, মাল্টিভার্স, বায়োসেন্ট্রিজম, কোয়ান্টাম ব্রেন ডাইনামিক্স, অরকেস্ট্রেটেড অবজেকটিভরিডাকশন, কোয়ান্টাম ডেকোহারেন্স এবং হলোগ্রাফিক মহাবিশ্ব তত্ত্ব আমাদের দেখায় চেতনা হয়তো মৃত্যুর পরও অন্য কোনো বাস্তবতায় প্রবাহিত হতে পারে। তাই মৃত্যু আসলে অস্তিত্বের সমাপ্তি না হয়ে হতে পারে এক নতুন বাস্তবতার সূচনা ।



১৯৪৭ , ৭১ ও ২৪ পরস্পরবিরোধী , সমান নাকি ধারাবাহিকতা : সহুল আহমেদ মুন্না , লেখক ও গবেষক

“আজকে জামাত সেক্রেটারি বলছেন, একাত্তরের স্বাধীনতা প্রকৃত স্বাধীনতা নয়। জামাত এইসব বইলা সেই পুরনো ডিনায়লিজমের রাজনীতিই করতে চায়। জেনোসাইড বা এইধরনের মাস ভায়োলেন্সের অস্বীকারের প্রবণতা সামাজিক পরিসর ও রাজনৈতিক পরিসরে যে অস্থিতিশীলতা ও ক্ষেত্রভেদে সহিংসতার প্রেক্ষাপট তৈরি করে, তা আমরা দেখেছি। আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস থেকেই। জামায়াত এখনো সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে পারে নাই। একাত্তর নিয়ে বিএনপির যে অবস্থান আজকে, এইটা তাদের সবসময়ের অবস্থান।… স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র তৈরি, জামুকার প্রতিষ্ঠা – মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমন প্রচুর কাজ আসলে বিএনপির আমলে হয়েছিল। এবং, আজকে তাদের যে অবস্থান, তা শুনতে যতই আপনার কাছে লীগের মতো শোনাচ্ছে, কিন্তু সেটাই তাদের অবস্থান হওয়ার কথা। একেবারে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়েই বিএনপি গঠিত। একাত্তরের জেনোসাইড ও রণাঙ্গনের অভিজ্ঞতা তাদের মধ্যে রয়েছে।

নতুনরা যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ম্যাডিকেল শিফট ঘটাইতে চান, বা মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ক্রিটিক্যাল অবস্থান তৈরি করতে চান, সেটা একাত্তরের প্রজন্মের দ্বারা প্রায় অসম্ভব। এইটা জেনারেশনাল। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মোটাদাগে একাত্তরের প্রজন্ম দ্বারা চালিত দলগুলো প্রায় একই অবস্থান যে নিবে, তা খুব সহজেই অনুমেয়। তাদের মধ্যে গেঞ্জাম লাগে আসলে কার অবদান কতটুকু সেই জায়গায়, বা কে কতটুকু দলীয় ইতিহাস তৈরি করে ফেলছে, সেইটা নিয়া গেঞ্জাম। মুক্তিযুদ্ধের বেসিক প্রেমিসিস নিয়ে তাদের কারোর মধ্যেই কোনো আপত্তি নেই। থাকার কথাও না। মুক্তিযুদ্ধ নিয়া সিপিবির অবস্থানও প্রায় সমানই দেখবেন। মোটাদাগে।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এই দলসমূহের অবস্থান দেখে আপনার মনে হতে পারে, তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেছে, কিন্তু সেটা আদতে ভুল। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাদের সবার রাজনীতিই আসলেই এক। জামাত যে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী এইটা তারা প্রায় সবাই মানেন, কিন্তু তারা রাজনীতি করবে কিনা, কীভাবে করবে, এইটা নিয়া তাদের মধ্যে বিরাট মতপার্থক্য। মুজিব জিয়া ভাসানী কারে গুরুত্ব দিবো, কতটুকু দেব, তা নিয়ে হামেশা তর্ক চলতে থাকলেও, মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে তারা সবাই একই অবস্থান নিবেন। আওয়ামী লীগের আমলে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে উৎকট দলীয় উদযাপন, এবং এই ইস্যুতে তাদের গলার সুর এতো উচুতে ছিল, সে কারণেই এই অবস্থানগুলো আমার আপনার কাছে কমজোর লেগেছে। এখন আওয়ামী লীগ নেই, ফলে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়া মেইনস্ট্রিম সুরটা তাদেরই। এটাকে কেবল আওয়ামী লীগের রাজনীতির অবশেষ হিসাবে দেখাটা উচিৎ হবে না।

আবার খেয়াল করে দেখেন, আজকে সিপিবি বলছেন, ‘৪৭ আর ‘৭১ পরস্পরবিরোধী হওয়ায় এ দুটো একসঙ্গে ধারণ করা সম্ভব নয়। এইটা কিন্তু আমাদের ইতিহাসের মেইনস্ট্রিম ভাবনা। এটা দেখানো সম্ভবও (আমার অপ্রকাশিত এক প্রবন্ধে দেখিয়েছিও), ৪৭ ও ৭১-কে পরষ্পরবিরোধী হিসাবে দেখাটা আসলে কলকাতার দৃষ্টিভঙ্গি। কিন্তু আমাদের এখানে অজস্র নজির আছে, যেগুলো দিয়ে দেখানো সম্ভব, ৪৭ ও ৭১ আসলে পরষ্পরবিরোধী নয়, বরঞ্চ এই জনগোষ্ঠীর তৎপরতা ও সক্রিয়তার ধারাবাহিকতা। আবুল মনসুর আহমদ, আবদুর রাজ্জাক, কামরুদ্দিন আহমদ সহ অনেকের লিটারেচার দিয়েই এটা প্রমাণ করা সম্ভব। কিন্তু, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম যে এইটা বলতে পারলেন, এতো কনফিডেন্টলি, কারণ এই বয়ানটাই মেইনস্ট্রিম, আশির দশক থেকেই।

ফলে, আমরা এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। এনসিপির নাহিদ আজকে বলছেন, ৪৭কেও নিতে চান, ৭১কেও নিতে চান, চব্বিশকেও নিতে চান। বাংলাদেশের জনগোষ্ঠী হিসাবে তিনটাকেই নিতে পারাটা খুব জরুরি। মানে, তিনটা ইভেন্টকে পরষ্পরবিরোধী হিসাবে না দেখে ধারাবাহিকতা আকারে দেখা যেতে পারে। কিন্তু নাহিদ যখন পোস্টার বানান, তখন ৪৭-এ নেতাদের ছবি ইউজ করেন, চব্বিশে পরিচিত শহীদদের ছবি ইউজ করেন, কিন্তু ৭১-এ কোনো পরিচিত কারো ছবি ইউজ করেন না। কারণ, বোঝা যায়, একাত্তরে যারা/যিনি মূলনায়ক ছিলেন, তার দলই পরবর্তীতে স্বৈরশাসন কায়েম করে, এবং চব্বিশের সহিংসতার জন্য দায়ী। ফলে, স্বাভাবিক অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে।

কিন্তু এতে আবার ঐতিহাসিক বিভ্রাট ঘটতেছে। একাত্তরের চরিত্ররা বিমূর্ত হয়ে উঠছে। বর্তমানই ইতিহাস এর একটা নজির হতে পারে এই ঘটনা। এই কারণেই বলছিলাম, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসন্ন দিনগুলোতে ‘ইতিহাস’ আরও বিবাদমান ইস্যুতে পরিণত হতে যাচ্ছে। … বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে আরও নতুন সন্ধিক্ষণে। বাংলাদেশের জনগোষ্ঠী হিসাবে ৪৭, ৭১, ২৪ এগুলোকে সমান না কইরাও এগুলোকে ধারাবাহিক সক্রিয়তা আকারে দেখার তারুণ্য দরকার। …”


ইসরায়েলের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাই এখন হুমকির মুখে : দ্রোর মিশানি , ইসরায়েলি সাহিত্যিক

ইসরায়েলে আমাদের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাও নির্ভর করছে ফিলিস্তিনিদের হত্যা বন্ধ করার ওপর।…যে রাষ্ট্র এক রাতে বাছবিচারহীনভােব ফিলিস্তিনিদের হত্যা করতে পারে এবং হামলার জন্য এখন আর কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করে না, সে রাষ্ট্র এখানেই থামবে না। … বহিঃশত্রুকে নির্মূল করার জন্য হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে আর মরছে হাজারে হাজারে। হামলাকারী আর নিরীহ জনসাধারণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হচ্ছে না।…যে দেশ গাজার লাখ লাখ নিরীহ বাসিন্দাকে বিমানবিকীকরণ (ডিহিউম্যানাইজড) করতে পারে, সে দেশ নিজের নাগরিকদেরও সামনে তাই করবে। এক জায়গায় ক্ষমতার সীমাহীন প্রয়োগের বিরোধিতা করে আরেক জায়গায় তা ঠান্ডা মাথায় মেনে নেওয়া হলে প্রকৃতপক্ষে এই বিরোধিতা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ফিলিস্তিনি জনগণকে আমরা বিমানবিকীকরণ করেছি, তাঁদেরকে মানুষ মনে করছি না। হাজার হাজার ফিলিস্তিনি যুদ্ধের শুরু থেকে প্রাণ দিয়ে আর লাখ লাখ ফিলিস্তিনি আহত ও নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে উৎখাত হয়ে এখন পর্যন্ত এই বিমানবিকীকরণের মূল্য চুকাচ্ছে। কিন্তু এখন এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে আমরা নিজেরাও নিজেদের জীবন দিয়ে এর মূল্য পরিশোধ করতে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে চড়া মূল্য দেব। অল্প কিছু মানুষ আমাদের বছরের পর বছর এ নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। আমরা তো রাষ্ট্রীয় সহিংসতার সঙ্গে বোঝাপড়া করে নিয়েছি। ৭ অক্টোবরের পর অনেকে একে উৎসাহিত করেছেন ও উসকানি দিয়েছেন। আর এখন তো এই সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। নিয়ন্ত্রণহীন এই ক্ষোভের আগুন তো পথে যা পাচ্ছে তাই পুড়িয়ে দিচ্ছে। তবে এখন সম্ভব অনুশোচনা করার ও আমাদের মানসিকতা পরিবর্তনের।

প্রতিশোধস্পৃহার এই উদগ্র বাসনা গোটা ইসরায়েল রাষ্ট্রকে গ্রাস করলেও তা থামানোর চেষ্টা করা যেতে পারে, যদিও তা অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমাদের বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে ও বিক্ষোভ-মিছিলে যোগ দিতে হবে। না। এবার আর শুধু জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে নয়, নয় প্রতিহিংসাপরায়ণ ও সীমাহীন সহিংসতার এই সরকারের পতনের দাবিতে, বরং ফিলিস্তিনিদের এভাবে জবাই করা যাবে না-এই দাবিতে।এখনো এ দেশে যে অল্প আশা আছে, যা নিয়ে আমরা বেঁচে আছি, তাতে এমন কোনো শাসকগোষ্ঠীর সুযোগ নেই, যার একমাত্র ভাষা হলো সহিংসতা এবং যে মানব অস্তিত্ব স্বীকার না করে শুধু হামলার লক্ষ্যবস্তু খুঁজে ফেরে।”


২৫ মার্চ গণহত্যার ব্লুপ্রিন্ট যেভাবে তৈরি হয়েছিল

১৯৭১ সালের ১৭ মার্চ রাত প্রায় ১০টায় পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক আইন প্রশাসক লে. জেনারেল টিক্কা খান ফোন করলেন ১৪তম ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হুসেন রাজার কাছে। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের কাছ থেকে তিনি চূড়ান্ত নির্দেশনা পেয়েছেন ।টিক্কা খান টেলিফোনে খাদিম হুসেন রাজাকে বললেন, ‘এখনই মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলিকে সঙ্গে নিয়ে আমার বাসায় চলে আসুন।’ রাও ফরমান আলি তখন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের উপদেষ্টা।

টিক্কা খানের এই নির্দেশ পাওয়ার পর ওই রাতেই রাও ফরমান আলি ও খাদিম হুসেন রাজা গেলেন টিক্কা খানের কমান্ড হাউসে। সেখানে আরও একজন জেনারেল ছিলেন, তিনি হলেন হামিদ খান। কালক্ষেপণ না করে জেনারেল টিক্কা খান তাদের দুজনের উদ্দেশে বললেন, ‘প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে শেখ মুজিবের আলোচনা খুব একটা এগোচ্ছে না। তাই প্রেসিডেন্ট এখন সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে।এ লক্ষ্যে আপনারা এখন আনুষঙ্গিক পরিকল্পনা তৈরি করুন।’ এই কয়েকটি বাক্য ছাড়া জেনারেল টিক্কা খান আর কিছুই বললেন না এবং কোনো লিখিত নির্দেশনাও দিলেন না। টিক্কা খান শুধু বললেন, ‘আপনারা দুজন মিলে পরিকল্পনা তৈরি করুন। আগামীকাল (১৮ মার্চ) এই পরিকল্পনা নিয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করবেন।’

টিক্কা খানের নির্দেশনা অনুযায়ী রাও ফরমান আলি ১৮ মার্চ সকালে খাদিম হুসেন রাজার অফিসে যান। এরপর তারা দুজন মিলে সামরিক অভিযানের ‘ব্লুপ্রিন্ট’ তৈরি করতে বসেন। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে খাদিম হুসেন রাজা ও রাও ফরমান আলি সামরিক অভিযানের রূপরেখার ব্যাপারে ঐকমত্য হন। তারপর যার যার অংশ লিখতে শুরু করেন। ঢাকার গ্যারিসনে কীভাবে অপারেশন চালাবে তা রাও ফরমান আলি দ্রুত লিখে ফেলেন। আর খাদিম হুসেন রাজা বাকি প্রদেশের সেনাদের কাজের বিন্যাস করেন। এরপর ওইদিন (১৮ মার্চ) রাতে তারা দুজন কমান্ড হাউসে গিয়ে টিক্কা খানের কাছে তাদের পরিকল্পনার ‘ব্লুপ্রিন্ট’ জমা দেন। তাদের এই ব্লুপ্রিন্ট টিক্কা খান বিনাবাক্যে গ্রহণ করেন। এই ব্লুপ্রিন্টের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সার্চলাইট’।

মেজর জেনারেল খাদিম হুসেন রাজা তার লেখা ‘অ্যা স্ট্রেঞ্জার ইন মাই ওন কান্ট্রি’ শীর্ষক বইয়ে সার্চলাইট অপারেশনের পরিকল্পনা বিষয়ে এমনটিই লিখেছেন। ‘উইটনেস টু সারেন্ডার’ শিরোনামে বইয়ে মেজর সিদ্দিক সালিক ‘অপারেশন সার্চলাইট’ বিষয়ে বলেছেন তিনি স্বচক্ষে সেই হাতে লেখা পরিকল্পনার খসড়া দেখেছিলেন। তাতে সামরিক অভিযানের প্রাথমিক উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, শেখ মুজিবের ডিফ্যাক্টো শাসনকে উৎখাত করা এবং সরকারের (পাকিস্তানের) কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। এই পরিকল্পনা ছিল ১৬টি প্যারাসংবলিত এবং পাঁচ পৃষ্ঠা দীর্ঘ। পরিকল্পনা অনুমোদিত হলেও কবে সামরিক অপারেশন চালানো হবে, সেই দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল না।

পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক বাহিনী আটটি স্থায়ী ও অস্থায়ী ক্যান্টনমেন্টে বিন্যস্ত ছিল-ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, যশোর, রাজশাহী, রংপুর ও সৈয়দপুর। এর সঙ্গে ২ নম্বর ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের অবস্থান ছিল ঢাকার কাছে, জয়দেবপুরে। ২৪ মার্চ দুটি হেলিকপ্টার নিয়ে রাও ফরমান আলি এবং খাদিম হোসেন রাজা ঢাকার বাইরে অবস্থানরত ব্রিগেড কমান্ডারদের সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশনা দিতে রওনা হন। তারা চেয়েছিলেন গোপনীয়তা বজায় রেখে বিভাগীয় কমান্ডারদের সরাসরি নির্দেশনা দেবেন এবং মাঠপর্যায়ে যদি কোনো সমস্যা থাকে সেটি কৌশলে সমাধান করবেন।

তারা যশোর, কুমিল্লা, চট্টগ্রামে যান। সিলেট, রংপুর এবং রাজশাহী ক্যান্টনমেন্টে পাঠানো হয় সিনিয়র স্টাফ অফিসারদের। অভিযানের জন্য প্রস্তুত হতে বলা হলেও ব্রিগেড কমান্ডারদের জানানো হয়েছিল, আঘাত হানার সময় পরে জানানো হবে। সময় জানিয়ে মেজর জেনারেল খাদিম হুসেনের কাছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খানের কাছ থেকে ফোনটি এসেছিল ২৫ মার্চ বেলা ১১টায়। সংক্ষেপে বলা হয়েছিল, ‘খাদিম, আজ রাতেই’। সময় নির্দিষ্ট হয়েছিল রাত ১টা। হিসাব করা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ততক্ষণে নিরাপদে করাচি পৌঁছে যাবেন। উল্লেখ্য, ওইদিন সন্ধ্যায় তিনি করাচির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেশের বিভিন্ন ব্যারাক ঘুরে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা তদারকি করলেও, অপারেশন সার্চলাইটে অংশ নেওয়ার জন্য সামরিক বাহিনীর কারও কাছেই কোনো লিখিত অর্ডার পাঠানো হয়নি।



কালো জাদুর দশটি মূলনীতি

এথার
এথার শব্দটি প্রাচীন দর্শন এবং অকাল্টে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। এটি অদৃশ্য শক্তির ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত, যা সমগ্র বিশ্বে শক্তি ও প্রভাব বিস্তার করে বলে ধারণা করা হয়। অনেক আধ্যাত্মিক চর্চায় এথারকে আধ্যাত্মিক শক্তির বহনকারী হিসেবে দেখা হয়, যা ব্যক্তির মন, আত্মা এবং শারীরিক অবস্থার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে। আধুনিক বিজ্ঞানেও এথারের ধারণা কিছুটা পরিবর্তিত হলেও আধ্যাত্মিক পরিভাষায় এটি গভীর অজানা শক্তির প্রতীক।

ক্রিস্টাল
ক্রিস্টাল বা স্ফটিক একটি বিশেষ ধরনের পদার্থ যা সাধারণত শক্তিশালী আধ্যাত্মিক শক্তির বাহক হিসেবে পরিচিত। আধ্যাত্মিক চর্চায় এটি বিভিন্ন ধরনের শক্তি বা অনুভূতি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন রঙের ক্রিস্টাল একেকটি বিশেষ উদ্দেশ্য সম্পাদনে ব্যবহৃত হয়, যেমন শীতলতা, শান্তি, কিংবা সুরক্ষা। সাধারণত, এটি মানব মনের শক্তিকে পরিশোধিত এবং সমন্বিত করতে সাহায্য করে, তাই বিভিন্ন মেডিটেশন চর্চায় এর ব্যবহারের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নেক্রোমেন্সি
নেক্রোমেন্সি প্রাচীন আধ্যাত্মিক প্রথা, যেখানে মৃতদের আত্মার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করা হয়। এই প্রথাটি মূলত মৃতের আত্মা থেকে ভবিষ্যত বাণী অথবা জ্ঞান আহরণ করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হত। বহু সংস্কৃতিতে এটি একটি রহস্যময় এবং ভয়াবহ বিষয় হিসেবে বিবেচিত, যেখানে বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান ও যন্ত্র ব্যবহার করা হয়। যদিও অনেকেই নেক্রোমেন্সিকে অন্ধবিশ্বাস মনে করেন, তবে এটি আধ্যাত্মিক এবং ম্যাজিকাল চর্চায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ডিভিনেশন
ডিভিনেশন হল ভবিষ্যত সম্পর্কে জানার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত এক ধরনের আধ্যাত্মিক চর্চা। এটি বিভিন্ন পদ্ধতিতে হতে পারে, যেমন তাস, স্ফটিক, বা তাবিজের মাধ্যমে। ডিভিনেশন প্রক্রিয়ায় এক ধরনের আধ্যাত্মিক শক্তির সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা হয়, যা মানুষকে ভবিষ্যত সম্পর্কে জ্ঞান দিতে সাহায্য করে। বিশ্বব্যাপী অনেক সংস্কৃতিতে এটি বিশ্বাস করা হয় এবং এর মাধ্যমে মানুষ জীবনযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা পেয়ে থাকে।

চক্র
চক্র হল মানবদেহে উপস্থিত আধ্যাত্মিক শক্তির কেন্দ্র। মোট সাতটি চক্রের মধ্যে প্রতিটি চক্র একটি নির্দিষ্ট শক্তি বা অনুভূতির সাথে সম্পর্কিত, যেমন মুলাধারা চক্র সুরক্ষা এবং স্থিতির সাথে, আর অগ্নিচক্র সৃজনশীলতার সাথে সম্পর্কিত। চক্রগুলি নিয়মিত সুষম অবস্থায় থাকলে শরীর ও মনের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং আধ্যাত্মিক উন্নয়ন ঘটে। এই ধারণা প্রাচীন ভারতীয় এবং চীনা আধ্যাত্মিকতা থেকে এসেছে।
অরব
অরব সাধারণত আলোর বল বা শক্তির বৃত্ত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একে বিশেষ পরিস্থিতিতে মানুষের চারপাশে দেখা যাওয়া সেরা আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। অনেক আধ্যাত্মিক বিশ্বাসে অরবকে মানুষের আত্মা বা পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখে বলে বিশেষ শক্তির বাহক হিসেবে দেখা হয়। এটি পৃথিবী এবং আকাশের মধ্যে শক্তির বিনিময়ের এক ধরনের মাধ্যমম্ হিসেবে কল্পিত হয়।

প্যাথওয়ে
প্যাথওয়ে শব্দটি আধ্যাত্মিক চর্চায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা, একে আলোর পথে চলার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। এটি কোনও নির্দিষ্ট আধ্যাত্মিক আচার বা অভ্যাস অনুসরণ করার একটি পথ হতে পারে, যার মাধ্যমে ব্যক্তি আত্মিক উন্নয়ন লাভ করতে পারে।বিভিন্ন ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক চর্চায় প্যাথওয়ে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয় এবং এটি সাধারণত আত্মার শুদ্ধি এবং উচ্চতর চেতনাবস্থা অর্জনের জন্য অনুসরণ করা হয়।

ডুড
ড্রড ছিল নানা অকাল্টের জন্য বিখ্যাত প্রাচীন কেলটিক সমাজের আধ্যাত্মিক গুরুর মতো ব্যক্তি, যারা প্রকৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং জাদুবিদ্যার সঙ্গে যুক্ত ছিল। তারা পৃথিবী ও আকাশের শক্তির সাথে সম্পর্কিত নানা রকম জ্ঞান রাখত এবং তাদের শিক্ষাগুলি প্রকৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং সমঝদারি থেকে উৎসারিত হত। ড্রডরা বিভিন্ন আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান, নিরাময় পদ্ধতি এবং প্রাকৃতিক উপাদানের মাধ্যমে নিজেদের শক্তি ধারণ করত এবং মানবতার জন্য উপকারী ও কখনো কখনো অপকারী কাজে ব্যবহার করত।

ওউজা বোর্ড
ওউজা বোর্ড মৃতদের আত্মার সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত একটি আধ্যাত্মিক ডিভাইস। এটি সাধারণত একটি পাটী বা কাঠের বোর্ড যার ওপর আলফাবেট, সংখ্যা এবং “হ্যাঁ” বা “না” লেখা থাকে। ব্যবহারকারী একটি সূক্ষ্ম চাকা বা পিরামিডের মাধ্যমে আত্মার সাড়া পাওয়ার চেষ্টা করে। একে পরিহাস বা ভয়াবহ বিশ্বাসের অংশ হিসেবে দেখা হলেও আধ্যাত্মিক অনুশীলনকারীরা এটিকে গভীর রহস্যময় কার্যক্রম হিসেবে মানেন।

স্যামন
স্যামন প্রাচীন মিথ ও চর্চায় একটি আধ্যাত্মিক প্রাণী হিসেবে পরিচিত। এটি সাধারণত শক্তির বহনকারী, আত্মিক পথপ্রদর্শক বা প্রকৃতির এক ধরনের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। কিছু সংস্কৃতিতে, স্যামন মাছ জীবনের সার্বিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব করে এবং এটি ম্যাজিকাল বা আধ্যাত্মিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর জীবনচক্র নদী থেকে সমুদ্রে এবং আবার নদীতে ফিরে আসে, আধ্যাত্মিক পুনর্জন্মের প্রতিনিধিত্ব করে।


বিষন্নতার চিকিৎসা নিয়ে ভেবেছেন আগে ?

বিভিন্ন মানসিক সমস্যা এবং তাদের সঠিক চিকিৎসা বিষয়ে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক চাপ, বিষণ্ণতা এবং বার্নআউটের মতো সমস্যাগুলোর মাঝে পার্থক্য এবং সঠিক চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে একজন দক্ষ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের সহায়তা নেয়া প্রয়োজন। বিষণ্ণতার ক্ষেত্রে বিশেষ করে মেলাঙ্কোলিক বিষণ্ণতায় চিকিৎসকরা সাধারণত অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের পরামর্শ দেন। মেলাঙ্কোলিক বিষণ্ণতা এমন এক ধরনের বিষণ্ণতা যেখানে শারীরিক এবং মানসিক উপসর্গগুলোর গভীরতা থাকে এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

অন্যদিকে নন-মেলাঙ্কোলিক বিষণ্ণতার ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা রোগীর জীবনের এমন পরিস্থিতি এবং কারণগুলোর ওপর মনোযোগ দেন, যেগুলো বিষণ্ণতার সৃষ্টি করছে। এটি হয়তো ব্যক্তিগত বা পেশাগত চাপ, সম্পর্কের জটিলতা বা শারীরিক অসুস্থতার কারণে হতে পারে। এ ধরনের বিষণ্ণতার ক্ষেত্রে শুধু ওষুধ নয়, উপযুক্ত মনোচিকিৎসা বা থেরাপি এবং জীবনের চাপ কমানোর পদ্ধতিগুলোও কাজে আসে।যদিও বিষণ্ণতা এবং বার্নআউটের মধ্যে অনেকাংশে মিল থাকতে পারে, তবে দুটি সমস্যা আলাদা। বার্নআউটের ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় কাজের অতিরিক্ত চাপের ফলে একজন ব্যক্তি মানসিক ও শারীরিকভাবে অবসন্ন হয়ে পড়ে। এটি অনেক সময় অন্যান্য শারীরিক সমস্যার মতো অ্যানিমিয়া বা হাইপোথাইরয়েডিজমের মতো অসুস্থতার সাথে ভুলভাবে মিলিয়ে ফেলা হতে পারে। এজন্য সঠিক চিকিৎসা পেতে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।

ডাক্তার বা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের সহায়তায় রোগী তাদের পুরো পরিস্থিতি বোঝানোর পর সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি নির্বাচন করা সম্ভব। যদি বার্নআউট নিশ্চিত হয় এবং অন্য যেকোনো সম্ভাব্য কারণ বাদ দেয়া হয়, তবে সেই অনুযায়ী কার্যকরী সহায়তার ব্যবস্থা করা উচিত।



হিমালয়ের হিমবাহ গলে তৈরি হ্রদ ঝুঁকি বাড়া

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়ছে হিমালয়ে। এখানকার গ্লেসিয়ারগুলো দ্রুত হারে গলে যাচ্ছে এবং এর ফলে হিমবাহ হ্রদগুলোর আকার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই হ্রদগুলোর দ্রুত সম্প্রসারণ আরও বড় বিপদের সংকেত দিচ্ছে। কারণ এগুলো যে কোনো সময় ভয়াবহ হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণজনিত বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। ভারতীয় আর্থ অবজারভেশন সংস্থা সুহোরা টেকনোলজিস বিশ্লেষণ করে দেখেছে যে, হিমালয়ের হিমবাহ হ্রদগুলোর সম্প্রসারণের হার ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে হিন্দু কুশ-কারাকোরাম-হিমালয় অঞ্চলে, যেগুলো মেরু অঞ্চলের বাইরে বিশ্বের বৃহত্তম বরফের মজুদ ধরে রেখেছে। গবেষণায় দেখা গেছে ১৯৯০ সালের পর থেকে এই অঞ্চলের হিমবাহ হ্রদগুলোর আয়তন ১০% এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে গঙ্গা অববাহিকায় হ্রদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ২২%।

সুহোরা টেকনোলজিসের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ অনুসারে ইন্দুস, গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় ৩৩,০০০টিরও বেশি হ্রদ নজরদারির আওতায় রয়েছে এবং তারা নিশ্চিত করেছে যে গ্লেসিয়ার গলনের কারণে উচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত হ্রদগুলো দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO) জানিয়েছে, ১৯৮৪ সালের পর থেকে ২৭% হিমালয় গ্লেসিয়ার হ্রদের আয়তন বেড়েছে, যার মধ্যে ১৩০টি হ্রদ ভারতের অভ্যন্তরে রয়েছে। হিমালয় অঞ্চলের ৭৬% এর বেশি হিমবাহ হ্রদ প্রান্ত-মোরাইন দ্বারা বাঁধযুক্ত, আপাতদৃষ্টে অত্যন্ত দুর্বল গঠন। এই ধরনের হ্রদ সহজেই ফেটে যেতে পারে ও মারাত্মক বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। ২০২৩ সালে তুষারধ্বস ও অতিবৃষ্টির কারণে সিকিমের সাউথ লোনাক হ্রদের বিস্ফোরণ ছিল এমন একটি ঘটনা।

এই বিস্ফোরণের ফলে প্রায় ৫০ মিলিয়ন কিউবিক মিটার পানি প্রবাহিত হয়, ১৫টি সেতু ও একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং ৯২ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে, ১৮৩৩ সাল থেকে হিমালয় অঞ্চলে সংঘটিত GLOF ঘটনার ৭০% মাত্র গত ৫০ বছরের মধ্যে ঘটেছে। এর মধ্যে ৭২% ক্ষেত্রে প্রধান কারণ ছিল তুষারধ্বস ও অতিবৃষ্টি। সুহোরা টেকনোলজিস হিমবাহ হ্রদ ও গ্লেসিয়ার পর্যবেক্ষণের জন্য সিন্থেটিক অ্যাপারচার রাডার (SAR) ও অপটিক্যাল ইমেজিং ব্যবহার করছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা হিমবাহ হ্রদের পরিবর্তন ও গ্লেসিয়ারের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছে এবং উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিত করছে। উদাহরণস্বরূপ নেপাল-চীন সীমান্তের একটি গ্লেসিয়ার দ্রুত বিকৃত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে।

তবে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় এখনও অনেক ফাঁক রয়ে গেছে। ২০২৩ সালের সিকিম দুর্যোগ দেখিয়েছে, বাস্তবসম্মত সময়ে নজরদারি না থাকার কারণে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি অবকাঠামোগত ব্যবস্থা ছাপিয়ে যাওয়ার আগেই যথাযথ সতর্কতা জারি করা সম্ভব হয়নি। জাতিসংঘ ‘বিশ্ব হিমবাহ দিবস’ ঘোষণা করেছে, যা এই বিপদের গুরুত্ব তুলে ধরে। এছাড়াও হিমালয়ের গ্লেসিয়ারগুলো ১.৯ বিলিয়ন মানুষের পানির প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এখনই গ্লেসিয়ার সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার। পাশাপাশি পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক আপগ্রেড করতে হবে এবং কমিউনিটির সহনশীলতা বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ করতে হবে।তা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে হবে।




প্রযুক্তির হাত ধরে অমরত্বের ভবিষ্যৎ কি ?

মানুষ কি সত্যিই মৃত্যুর চিন্তা ছাড়াই বছরের পর বছর বাঁচতে পারবে? যুগে যুগে অমরত্বের ধারণা নিয়ে অনেক তত্ত্ব ও কল্পনা গড়ে উঠেছে। তবে গুগলের সাবেক প্রকৌশলী রে কুর্জওয়েলের ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হলে হয়তো আমরা সেই ভবিষ্যতের দোরগোড়ায় প্রায় পৌঁছে গেছি। সম্প্রতি রে কুর্জওয়েল দাবি করেছেন, মাত্র ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষ অমরত্ব অর্জন করতে পারবে। তাঁর অতীতের বেশিরভাগ ভবিষ্যদ্বাণীই সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত তাঁর করা ১৪৭টি ভবিষ্যদ্বাণীর মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশই সত্যি হয়েছে বলে জানা গেছে। ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল মেডেল অব টেকনোলজি’ পুরস্কারপ্রাপ্ত এই কম্পিউটার বিজ্ঞানী এবং প্রাক্তন গুগল প্রকৌশলী দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে গবেষণা করছেন।

২০০৫ সালে প্রকাশিত তাঁর বই The Singularity Is Near-এ কুর্জওয়েল দাবি করেছিলেন যে ২০৩০ সালের মধ্যেই প্রযুক্তির সাহায্যে মানুষ চিরকাল বেঁচে থাকার সুযোগ পাবে। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন জেনেটিকস, ন্যানোটেকনোলজি ও রোবটিক্সের অগ্রগতি মানুষের বার্ধক্য প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে। সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল Adagio বইটির একটি অংশ নিয়ে আলোচনা করে, ফলে কুর্জওয়েলের এই পুরনো ভবিষ্যদ্বাণী আবার নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ২০১৭ সালে Futurism-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে কুর্জওয়েল বলেছিলেন, ২০২৯ সাল হবে সেই বছর যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রথমবারের মতো একটি বৈধ টুরিং টেস্ট পাস করবে এবং মানব-সমতুল্য বুদ্ধিমত্তা অর্জন করবে।

তিনি আরও বলেন ২০৪৫ সালের মধ্যে সিঙ্গুলারিটি অর্জিত হবে, যখন মানব বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সঙ্গে একীভূত হয়ে এক বিলিয়ন গুণ বৃদ্ধি পাবে। কুর্জওয়েলের মতে, ন্যানো প্রযুক্তি এবং রোবোটিক্সই হবে এই পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি। তিনি বিশ্বাস করেন ভবিষ্যতে ন্যানোবট বা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র রোবট তৈরি করা সম্ভব হবে, যেগুলো আমাদের শরীরে প্রবেশ করে কোষ ও টিস্যুগুলোকে পুনরুদ্ধার করবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দেহে কোষ নষ্ট হতে থাকে, কিন্তু এই ন্যানোবটগুলো সেই নষ্ট কোষগুলোকে সারিয়ে তুলবে।ফলে বার্ধক্যজনিত রোগসহ অন্যান্য প্রাণঘাতী রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে, যেটিই কার্যত স্যাপিয়েন্সকে অমরত্ব দান করবে।

এই ধারণাটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও, কুর্জওয়েল বিশ্বাস করেন প্রযুক্তির বর্তমান অগ্রগতি বিবেচনায় এটি বাস্তবে পরিণত হতে পারে। তাঁর মতে আমরা ইতোমধ্যে এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছি, যেখানে মানবদেহের জেনেটিক প্রকৌশল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংমিশ্রণে বার্ধক্য প্রতিরোধ করা সম্ভব। সাধারণভাবে সিঙ্গুলারিটি বলতে সেই সময়কে বোঝানো হয় যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মাধ্যমে মানুষ এবং মেশিনের মধ্যে পার্থক্য মুছে যাবে। তখন মানব সভ্যতা এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাবে যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠবে।

শুধু কুর্জওয়েল নন, অন্যান্য প্রযুক্তিবিদরাও এই ধারণার পক্ষে মত দিয়েছেন। জাপানের বিখ্যাত সফটব্যাংকের সিইও মাসায়োশি সন ২০১৭ সালে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে ২০৪৭ সালের মধ্যে সুপার ইন্টেলিজেন্ট মেশিন বা অতিমাত্রায় বুদ্ধিমান যন্ত্রের অভ্যুদয় ঘটবে। মাসায়োশি মনে করেন, আগামী ৩০ বছরের মধ্যে রোবটরা স্ব-শিক্ষায় দক্ষ হয়ে উঠবে। তারপর হয়তো স্বয়ং আমাদেরকেই নিয়ে হাসাহাসি করবে। ইতোমধ্যে সফটব্যাংক রোবোটিক্স বিভাগ Pepper নামের একটি সেমি-হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি করেছে, যেগুলো মানুষের আবেগ বুঝতে সক্ষম।

এই প্রযুক্তিগত বিপ্লব যদি সত্যি হয়, তাহলে মানবজাতির ভবিষ্যৎ এক নতুন মাত্রায় পৌঁছাবে। আমরা কি তখন পুরোপুরি প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল হয়ে যাব? আমরা কি শরীরের পরিবর্তে কেবল চেতনা হিসেবেই টিকে থাকব? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো অজানা।তবে বিজ্ঞানীদের মতে, ভবিষ্যতে মানুষ ও প্রযুক্তির সংমিশ্রণই আমাদের অস্তিত্বের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করবে। যদি সত্যিই মানুষ বার্ধক্য প্রতিরোধ করে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে, তাহলে সেটি কতটা আশীর্বাদ আর কতটা অভিশাপ হবে? জীবনের একটি স্বাভাবিক নিয়ম হলো জন্ম, বেঁচে থাকা এবং মৃত্যু। এই নিয়ম ভেঙে গেলে সমাজে কী ধরনের প্রভাব পড়বে তা এখনো অজানা।

আবার অন্যদিকে চিরকাল বেঁচে থাকার ফলে পৃথিবীর সম্পদের উপর চাপ বাড়বে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবেশগত সংকট আরও তীব্র হতে পারে। তবে কিছু বিজ্ঞানীর মতে, এই সমস্যাগুলোরও সমাধান প্রযুক্তির হাত ধরেই সম্ভব হবে। রে কুর্জওয়েলের ভবিষ্যদ্বাণী যদি সত্যি হলে মানব সভ্যতা এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তবে এটি কতটা বাস্তবসম্মত এবং আদৌ এটি মানবজাতির জন্য কল্যাণকর হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। বর্তমানে প্রযুক্তির অগ্রগতি দেখে এটুকু বলা যায় যে ভবিষ্যতে মানুষের জীবনযাত্রায় বিরাট পরিবর্তন আসতে চলেছে। অমরত্ব সত্যি হলে তা কি মানবজীবনকে আরও উন্নত করবে, নাকি তা এক নতুন সমস্যার সৃষ্টি করবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। ভবিষ্যৎ যে দিকেই যাক না কেন, তা এখনো অনিশ্চিত।






স্বাধীনতা আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন : রওনক জাহান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী , লেখক

“… পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই ১৯৪৮ সাল থেকে ভাষা, গণতন্ত্র, স্বায়ত্তশাসন, ধর্ম, অর্থনৈতিক বৈষম্য ইত্যাদি প্রশ্ন ধারাবাহিকভাবে পাকিস্তানের সামরিক শাসকদের থেকে আমাদের ক্রমে আলাদা করেছে এবং আমাদের জাতীয় সংগ্রামের মূল এজেন্ডা তৈরি করে দিয়েছে। ১৯৬০-এর দশকের বিভিন্ন আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফা ও ১৯৬৯ সালের ১১ দফা আমাদের মনে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার স্ফূরণ ঘটায়। ১৯৬৯-৭০ সালের নির্বাচনী প্রচারণাকালে নজিরবিহীন জনসংযোগের মাধ্যমে গোটা জাতিকে শেখ মুজিব স্বাধিকারের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ করেন। পূর্ববঙ্গকে বাংলাদেশ বলে উল্লেখ করতে থাকেন।

১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর পাকিস্তানি শাসকেরা যখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর না করে আমাদের ওপর সামরিক হামলা শুরু করে, তখন সংঘবদ্ধ জাতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সারা পৃথিবীতে সাড়া জাগিয়েছিল।…কারণ, মুক্তিযুদ্ধকে বিশ্ববাসী একটি ন্যায্য ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার জন্য সংগ্রাম হিসেবে দেখেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা কী ধরনের রাজনীতি, সরকার, সমাজ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা দেখতে চাই, তারও একটি ধারণা ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে। পাকিস্তানি শাসনব্যবস্থার বিপরীত এক ব্যবস্থা আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম।

পাকিস্তানে ছিল অগণতান্ত্রিক সামরিক শাসন, আমরা স্বপ্ন দেখেছি বাংলাদেশে হবে বেসামরিক গণতান্ত্রিক শাসন। পাকিস্তান ছিল ইসলামিক রিপাবলিক। সেখানে ধর্মের অপব্যবহার করে রাজনীতি করা হতো। ধর্মের নামে হয়েছে রক্তক্ষয়ী সংঘাত। আমাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল-রাষ্ট্র হবে ধর্মনিরপেক্ষ। ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে না। সব ধর্মের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় থাকবে। ধর্মের নামে সংঘাত হবে না। পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সৃষ্টি করেছিল ২২টি অতি ধনী পরিবার। আমাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা একটি শোষণ ও বৈষম্যহীন অর্থনীতি ও সমাজ গড়ে তুলবে। এসব আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতেই স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয়েছিল।

গত পাঁচ দশকে আমাদের আর্থসামাজিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। আবার আমাদের অনেক স্বপ্ন, অনেক আকাঙ্ক্ষা এখনো অধরা রয়ে গেছে। আমরা গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। ধর্মের রাজনৈতিক অপব্যবহার বন্ধ হয়নি। অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য কমেনি; বরং বেড়েছে। কিন্তু আমাদের আন্দোলন ও যুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা। সেই লক্ষ্য আমরা অর্জন করেছি অনেক রক্ত, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে। অনেকেই মাঝেমধ্যে বলেন, আমরা স্বাধীন হয়ে কী পেলাম? এর উত্তরে আমি বলি, স্বাধীনতাই আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। বাংলাদেশ স্বাধীন হতে পেরেছে বলেই আজ আমরা একটি গর্বিত জাতি হিসেবে পৃথিবীতে জায়গা করে নিতে পেরেছি। স্বাধীনতা আমাদের মনমানসিকতায় পরিবর্তন এনেছে। স্বাধীনতা আমাদের জনগণের মনে স্বাবলম্বী ও উদ্যোক্তা হওয়ার স্পৃহা গড়ে দিয়েছে। আমরা উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়েছি, প্রতিবাদী হয়েছি ।

আমাদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া কোনো ব্যবস্থাই আমরা বেশি দিন সহ্য করিনি। ১৯৯০ সালে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়েছি। গত বছরের গণ-আন্দোলনেও আমরা একটি স্বৈরাচারী শাসন উৎখাত করেছি। আমরা বারবার সংগ্রাম করে অন্যায্য ব্যবস্থার পরিবর্তন এনেছি। আত্মপ্রত্যয়ী হয়েছি। স্বাধীনতা আমাদের চেতনায় যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে, সেটিই বিরাট এক প্রাপ্তি। “