Home Blog Page 152

ওশেনীয় মিথ ও এক অদেখা পৃথিবীর চিত্রে ড্রিমটাইম আর্ট

প্রায় দশ হাজার বছর আগের একটি গল্প বলা যাক! দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার লাল বালির মরুভূমিতে এক বৃদ্ধ নৃগোষ্ঠীর নেতা ওয়ারাম্বা তার নাতির সামনে বসে একটি বৃত্ত আঁকছিলেন। নাতির নাম ছিল হয়তো জিন্দা, অবাক হয়ে তার দাদার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, “দাদা, এই চিহ্নগুলো তুমি কেন আঁকছো?” ওয়ারাম্বা ধীরে হাসলেন, তারপর আঙুল দিয়ে বালির ওপর আঁকা রেখাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, “এই চিহ্নগুলো আমাদের পূর্বপুরুষদের গল্প বলে, বালির নিচে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন আত্মাদের কথা জানায়। যখনই আমরা মরুভূমির পথে হাঁটি, এই চিহ্নগুলো আমাদের সাথে সাহত চলে ও পথ দেখায়। এটিই পবিত্র আত্মাদের শক্তি।”

জিন্দা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। সে হয়তো তখনও বুঝতে পারেনি তার দাদা যে শিল্পকর্ম তৈরি করছিলেন তা কেবল সৌন্দর্যের জন্য নয়, এটি একটি ইতিহাস, একটি ধর্ম, এবং একটি মানচিত্র। এই চিত্রগুলোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে তৎকালীন ওশেনিয়া আদিবাসী তথা অস্ট্রেলিয়ানদের হাজার বছরের সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের চিহ্ন। এই শিল্পের শিকড় অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী মানুষের প্রাচীন ধর্ম ও আধ্যাত্মিক বিশ্বাসে নিহিত। তারা বিশ্বাস করেন পৃথিবী ও এর সব সত্তা-মানুষ, প্রাণী, গাছপালা, নদী, পাহাড় সবই সৃষ্টি হয়েছিল “ড্রিমটাইম” বা “দ্য ড্রিমিং” নামক এক অদ্বিতীয় সময়ে। তারা মনে করেন তাদের পূর্বপুরুষেরা তখনই পাহাড়, নদী, বন্যপ্রাণী, এবং এমনকি আকাশও গড়ে তুলেছিলেন এবং আধ্যাত্মিকভাবে পৃথিবীর উপর শাসন করতেন। এই পূর্বপুরুষরা ছিলেন ঈশ্বরতুল্য শক্তির অধিকারী এবং তাদের কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করাই ড্রিমটাইম আর্টের মূল উদ্দেশ্য।

এই বিশ্বাস অনুযায়ী আদিবাসীদের প্রত্যেকটি গোত্রের নিজস্ব সৃষ্টি করা গল্প আছে, যেখানে বলা হয় কিভাবে অসহায় মানুষদের জন্য ভূমি, গাছপালা, প্রাণী ও জলাশয় তৈরি হয়েছে। আর এই ভিন্ন ভিন্ন কাহিনীগুলোই তারা তাদের চিত্রশিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরে যুগ যুগ ধরে বাঁচিয়ে রেখেছে। এই অস্ট্রেলিয় আদিবাসীদের চিত্রশিল্পের ইতিহাস প্রায় ৫০,০০০ বছর পুরনো। প্রাগৈতিহাসিক যুগে তারা গুহার দেওয়ালে, বালির ওপর এবং কাঠের টুকরোয় চিত্র আঁকতেন। শিল্পের মাধ্যমে তারা তাদের দৈনন্দিন জীবন, আধ্যাত্মিক বিশ্বাস এবং সামাজিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ করতেন।

ড্রিমটাইম আর্টটির আদি উৎস হলো গুহাচিত্র থেকে যেখানে হাজার হাজার বছর আগে আদিবাসী জনগণ তাদের শিকার এবং ধর্মীয় গল্পের প্রতীক হিসেবে আঁকতেন ও লিপিবদ্ধ করতেন। চিত্রগুলো ছিল তাদের বসবাসের স্থান এবং চিত্রায়িত কাহিনীগুলো ছিল একেকটি সৃজনশীল ইতিহাস, যেগুলো সময়ের সাথে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। প্রাচীন গুহাচিত্র ড্রিমটাইম আর্টের প্রাথমিক ধাপ হলেও আধুনিক যুগে এই শিল্পের অনেক বৈচিত্র্য এসেছে। ড্রিমটাইম আর্টের উত্থান ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঘটনা, যেটি বর্তমানে বহু অংশের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে: যেমন রক আর্ট, ডট পেইন্টিং, এক্স-রে আর্ট ইত্যাদি। তবে এগুলোর সবই এক সাধারণ উৎস থেকে এসেছে, সেটি হলো ড্রিমটাইমের বিশ্বাস ও তার সাথে জড়িত আধ্যাত্মিক সত্তা।

ডট পেইন্টিং ড্রিমটাইম আর্টের সবচেয়ে বিখ্যাত ধরন, যেখানে অসংখ্য ছোট ছোট বিন্দু দিয়ে চিত্র তৈরি করা হয়। এটি মরুভূমির বালির গঠনকে প্রতিফলিত করে এবং আত্মিক বার্তা লুকানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এক্স-রে আর্ট শিল্পে প্রাণীদের এমনভাবে আঁকা হয় যাতে তাদের হাড় ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও দেখা যায়। এটির মাধ্যমে বোঝা যায় আদিবাসীরা কিভাবে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের গভীর পর্যবেক্ষণ করতেন। রক আর্ট হচ্ছে তাদের প্রাচীনতম লিখনশৈলী। এই ধাঁচের উলুরু (Uluru) ও কাকাডু ন্যাশনাল পার্কের গুহাচিত্রগুলোর মধ্যে অনেকগুলোর বয়স প্রায় ২০,০০০ বছর। ড্রিমটাইম চিত্রকর্মে সাধারণত বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহৃত হয়।

বৃত্ত হচ্ছে শিবির, আগুন, বা জলাধারের প্রতীক। ঢেউ দ্বারা নদী বা আধ্যাত্মিক পথ বোঝায়। মানুষের পায়ের ছাপ হলো যাত্রা বা ভ্রমণের চিহ্ন। উঁচু পাহাড় ও রেখা মরুভূমির পর্বতমালা বা আধ্যাত্মিক শক্তির প্রতীক। আদিবাসীদের এই চিত্রশিল্প একসময়ে কেবলমাত্র তাদের নিজস্ব সম্প্রদায়ের মধ্যেই প্রচলিত থাকলেও বর্তমানে এটি বিশ্বব্যাপী শিল্পপ্রেমীদের আকর্ষণ করছে। ১৯৭০-এর দশকে শিল্পী জিওফ বার্ডার প্রথমবারের মতো এই চিত্রশিল্পকে বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসেন। এরপর থেকে অনেক আদিবাসী শিল্পী তাদের সংস্কৃতির এই মহামূল্যবান ঐতিহ্যকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরছেন। বর্তমানে ড্রিমটাইম আর্টের জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়েছে যে এটি আন্তর্জাতিক গ্যালারি ও মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হচ্ছে। এমনকি ফ্যাশন ডিজাইন, টেক্সটাইল এবং আধুনিক পেইন্টিংয়েও এই শৈলী ব্যবহৃত হচ্ছে।

ড্রিমটাইম আর্ট কেবলমাত্র চিত্রশিল্প নয়, এটি আদিবাসী অস্ট্রেলিয়ানদের আত্মপরিচয়, ধর্ম ও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।একাধারে তাদের জীবনযাত্রার মানচিত্র, আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের অনন্য প্রতিফলন এবং চিরন্তন ঐতিহ্যের গল্প বলার মাধ্যম।আমাদের গল্পের জিন্দার মতো হয়তো অনেক আদিবাসী শিশু আজও অবসরে পূর্বপুরুষদের গল্প শুনে, বালির ওপর চিত্র আঁকে এবং শিখতে চেষ্টা করে কিভাবে এই রহস্যময় শিল্প তাদের অতীতের সাথে সংযুক্ত করে রেখেছিলো!






গাঁজা একসময় চিকিৎসায় ব্যবহার হতো!

ক্যানাবিস চিকিৎসায় ব্যবহারের ইতিহাস বহু প্রাচীন। মিশরের প্রাচীন সভ্যতায় ক্যানাবিস ব্যথানাশক এবং স্নায়ু শান্তকারী ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হত। চীনে এটি মাংসপেশির ব্যথা ও উদ্বেগ নিরাময়ে এবং ভারতে আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ক্যানাবিসের নানা চিকিৎসা গুণের উল্লেখ রয়েছে। গ্রিসের চিকিৎসক হিপোক্রেটিসও ক্যানাবিসের ব্যবহার সম্পর্কে তাঁর রচনাতে আলোচনা করেছেন। সেই সময়ের মানুষের বিশ্বাস ছিল, ক্যানাবিস শরীরের ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে এবং মানসিক অবসাদ কমাতে কার্যকর। প্রাচীন বিশ্বে এটি ছিল অন্যতম জনপ্রিয় এবং মূল্যবান ঔষধ।

১৮৩৯ সালে ভারতীয় চিকিৎসক উইলিয়াম অরটেন ডেভিস ক্যানাবিসের ব্যথানাশক গুণাবলী নিয়ে গবেষণা করেন। তাঁর গবেষণার মাধ্যমে জানা যায়, ক্যানাবিস মানুষের শরীরে ব্যথা কমানোর পাশাপাশি উদ্বেগ এবং স্নায়ুজনিত সমস্যারও সমাধান দিতে পারে। ডেভিসের এই গবেষণা পশ্চিমা চিকিৎসকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং ক্যানাবিসের চিকিৎসাগত ব্যবহার সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়। ১৮৪০-এর দশক থেকে ক্যানাবিস পশ্চিমা চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিয়মিত ব্যবহৃত হতে থাকে এবং ব্যথা, উদ্বেগ এবং মানসিক সমস্যা নিরাময়ে কার্যকর হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

১৮৯০-এর দশকে ক্যানাবিস পশ্চিমা চিকিৎসাব্যবস্থায় আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এ সময় চিকিৎসকরা এটি ব্যবহৃত করতেন প্রধানত ব্যথা কমানো, মাইগ্রেন এবং মানসিক অসুস্থতার চিকিৎসায়। এই সময়টি ছিল ক্যানাবিসের ব্যাপক ব্যবহারের যুগ এবং এটি বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল সমস্যায় কার্যকর মনে করা হতো। বিশেষ করে, ক্যানাবিসের গুণাবলী স্নায়ুতন্ত্রের ওপর শান্তিপূর্ণ প্রভাব ফেলে মস্তিষ্কের উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতা কমাতে সাহায্য করতো। বহু রোগী এবং চিকিৎসক ক্যানাবিসের সুবিধা গ্রহণ করতে শুরু করেন এবং এটিকে তখনকার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা উপাদান বানিয়ে তোলেন।

১৯৬১ সালে জাতিসংঘ ক্যানাবিসকে একটি শিডিউল ওঠ ড্রাগ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে, ফলে বিসশ্বব্যাপী ক্যানাবিসকে অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং ক্ষতিকর পদার্থ হিসেবে গণ্য হতে থাকে। এই সিদ্ধান্তটি ক্যানাবিসের চিকিৎসা ব্যবহার এবং গবেষণার ক্ষেত্রে বাধার সৃষ্টি করে। ক্যানাবিসের বৈধ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয় এবং গবেষণাও প্রায় থেমে যায়। এটি একসময় শুধুমাত্র একটি recreational ড্রাগ হিসেবে পরিচিত হয়ে পড়ে।

জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ক্যানাবিসের চিকিৎসাগত বৈশিষ্ট্যগুলিকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার সুযোগ নষ্ট করে দেয়। ফলে, ক্যানাবিস শুধুমাত্র মাদক হিসেবে পরিচিত হতে থাকে, যার কারণে এর সম্ভাব্য চিকিৎসাগত সুবিধা অনেকাংশে উপেক্ষিত হয়ে যায়। এই সময় থেকেই ক্যানাবিসের ব্যবহার এবং গুরুত্ব সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

বর্তমানে ক্যানাবিসের চিকিৎসাগত ব্যবহার আবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। বিশ্বের অনেক দেশ এখন ক্যানাবিসের চিকিৎসা ব্যবহারের অনুমোদন দিচ্ছে এবং এটি অনেক রোগের চিকিৎসায় সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষভাবে ক্যানাবিসের থেরাপিউটিক উপাদান CBD (ক্যানাবিডিওল) এবং THC (টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল) নিয়ে নতুন গবেষণা চলছে। এই উপাদানগুলি দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, মৃগী, এবং ক্যান্সারের কিছু উপসর্গের চিকিৎসায় কার্যকর হতে পারে। এর সম্ভাবনাকে নতুন করে উদ্ভাসিত করে বর্তমানে অনেক রোগী ক্যানাবিসের চিকিৎসাগত সুবিধা পাচ্ছেন।

CBD এবং THC ক্যানাবিসের দুইটি প্রধান উপাদান। CBD উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতা কমাতে সহায়ক এবং এটি কোনো মাদক সৃষ্টিকারী প্রভাব তৈরি করে না। অন্যদিকে THC ক্যানাবিসের কার্যকরী উপাদান যা মাদক সৃষ্টিকারী প্রভাব ফেলতে পারে, তবে তবে এটি ব্যথা এবং মানসিক রোগের চিকিৎসায় সাহায্য করে। বর্তমান গবেষণায় দেখা গেছে, এই দুটি উপাদান মানব শরীরে অনেক ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, অস্থিরতা এবং মৃগীর চিকিৎসায় কার্যকর হতে পারে গবেষণার মাধ্যমে এর চিকিৎসাগত ব্যবহার আরও গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।

ক্যানাবিসের অনেক চিকিৎসাগত সুবিধা থাকলেও এর উল্লেখযোগ্য অপকারিতাও রয়েছে। অতিরিক্ত ক্যানাবিস ব্যবহারের ফলে মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এটি মানসিক অবসাদ, উদ্বেগ এবং মনোযোগের অভাব সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষত তরুণদের মধ্যে মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা সৃষ্টি হতে পারে, সাথে শিখন ক্ষমতা এবং স্মৃতিশক্তি প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়াও ক্যানাবিসের একটি সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা। কিছু মানুষ ক্যানাবিস ব্যবহারের পর অতিসক্রিয় অনুভব করে এটি মানসিক অবস্থা এবং আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে। পাশাপাশি ক্যানাবিস ব্যবহারের পর মানসিকভাবে অস্বস্তি বা বিরক্তিও অনুভব করতে পারে। ক্যানাবিসের ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরে চললে তা ব্যাক্তির মনে প্যারানয়েড ভাবনা বা সাইকোসিস সৃষ্টি করে বলে প্রমাণিত হয়েছে।


চীনের ব্রহ্মপুত্র ড্যাম প্রকল্প , সরকার বেইজিং থেকে তথ্য চেয়েছে

চীনের তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদীর উজানে একটি বিশালাকৃতির জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বেইজিং থেকে বিস্তারিত প্রযুক্তিগত তথ্য চেয়েছে। চীনের সরকার ডিসেম্বর ২০২৪ সালে মেদোগ জলবিদ্যুৎ স্টেশন নির্মাণ অনুমোদন করেছে। প্রকল্পটি ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্নপ্রবাহে নির্মিত হবে, যা ভারতে ব্রহ্মপুত্র এবং বাংলাদেশে যমুনা নদীতে পরিণত হয়। নির্মাণকাজ ২০২৯ সালে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা। বাংলাদেশের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, তারা গত মাসে চীন থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট চেয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, ফিজিবিলিটি স্টাডি, জলবায়ু প্রভাব মূল্যায়ন এবং দুযোগকালীন প্রভাব মূল্যায়ন। তবে ঢাকা এখনও কোনো উত্তর পায়নি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন –চীনে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সাম্প্রতিক সফরের সময় চীনা কর্মকর্তারা বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছেন যে, বাঁধটি একটি ‘রান-অফ-দ্য-রিভার’ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হবে এবং কোনো পানি প্রত্যাহার ঘটবে না। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বিষয়টি চীনে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের সফরে সরকারিভাবে গুরুত্ব পাবে না। ব্রহ্মপুত্র একটি আন্তঃসীমান্ত নদী, যা হিমালয়ের কৈলাশ পর্বতের কাছে আংসি গ্লেসিয়ার থেকে উৎপন্ন হয়। এটি চীন, ভারত এবং বাংলাদেশে প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। ১৩৭ বিলিয়ন ডলারের মেদোগ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি ৬০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে- যা চীনের থ্রি গর্জেস বাঁধের (২২.৫ গিগাওয়াট) ক্ষমতার প্রায় তিন গুণ।

চীনের রাষ্ট্র পরিচালিত গণমাধ্যম মেদোগ জলবিদ্যুৎ স্টেশনকে একটি নিরাপদ এবং পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল প্রকল্প হিসেবে বর্ণনা করেছে যা চীনের কার্বন নিরপেক্ষতা লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে। তবে পরিবেশবিদ এবং আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা নদীর ভাটিতে সম্ভাব্য বিরুপ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)-এর নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান বাঁধটির পরিবেশগত ও পানিপ্রবাহের ওপর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। “গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা [জিবিএম] অববাহিকার শুষ্ক মৌসুমের প্রবাহের ৭০% ব্রহ্মপুত্রের মাধ্যমে আসে,” তিনি বলেন। “নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহে বড় ধরণের হস্তক্ষেপ শুষ্ক মৌসুমের প্রবাহকে গুরুতরভাবে কমিয়ে দিতে পারে।”

তিনি আরও যোগ করেন, বাংলাদেশে যে ৫০ শতাংশেরও বেশি পলি আসে তা ব্রহ্মপুত্রের মাধ্যমে, যা বদ্বীপ অঞ্চলে ভূমি গঠন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পলিপ্রবাহে বিঘ্ন ঘটলে নদী তীরের ভাঙ্গনও বাড়তে পারে। কারণ পানি এবং পলির ভারসাম্যে পরিবর্তনের সাথে নদী খাপ খাইয়ে নেয়। “আমরা সম্পূর্ণ প্রভাব মূল্যায়ন করতে পারব যখন চীন থেকে আমরা যে প্রযুক্তিগত প্রতিবেদনগুলি চেয়েছি তা পাবো,” তিনি বলেন।


তুভান থ্রোট সিংগিং , প্রকৃতির আত্মার সাথে সঙ্গীতের এক আধ্যাত্মিক সংযোগ

তুভান থ্রোট সিংগিং একটি প্রাচীন ও অনন্য সঙ্গীত শৈলী, এটি মঙ্গোলিয়া এবং সাইবেরিয়ার তুভা অঞ্চলের আদিবাসী জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অমূল্য অংশ। এই সঙ্গীতে অদ্ভুত ও রহস্যময় ভাবে একজন গায়ক বা গায়িকা একসাথে একাধিক সুর সৃষ্টি করতে সক্ষম হন। এটি অতি পুরনো সঙ্গীত প্রথা, যা আধ্যাত্মিক এবং শামানিক ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তুভান থ্রোট সিংগিং ‘হুপিং’ বা ‘খোমুস’ নামেও পরিচিত। এর উৎপত্তি ছিলো প্রাচীন তুভা জনগণের মধ্যে। এটি মূলত ভূত-প্রেত, প্রকৃতির আত্মা এবং আধ্যাত্মিক শক্তির সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করার জন্য তাদের আধ্যাত্মিক এবং শামানিক ঐতিহ্যের একটি অংশ ছিলো। তুভা জনগণ বিশ্বাস করতেন যে, এই সঙ্গীত তাদের আত্মার শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে এবং প্রকৃতির আত্মাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে।

তুভান থ্রোট সিংগিংয়ে গায়করা একসাথে একাধিক সুর সৃষ্টি করতে সক্ষম। গলার কৌশল ব্যবহার করে তাদের গলার ভেতরের অংশে দুইটি বা ততোধিক সুরের কম্পন তৈরি করেন। এই সঙ্গীত শৈলীতে সাধারণত প্রধান সুরের পাশাপাশি এক বা একাধিক হারমনি সৃষ্টি করা হয়। গায়ক বা গায়িকার গলার নীচের অংশে কিছু গভীর সুর উৎপন্ন হয়, যেটি শুনতে অনেকটা গর্জনের মতো শোনায় এবং উচ্চ কণ্ঠে আরও সূক্ষ্ম ও মিঠে সুর শোনা যায়। এই সঙ্গীতের মধ্যে সাধারণত তিনটি প্রধান ধরন থাকে। খোমুস, এটি একটি মৃদু, সুরেলা সুর যা গলার নিচের অংশে তৈরি হয়। সুগা, এটি গলায় কাঁপনের সৃষ্টি হওয়া উচ্চতর সুর করে এবং সঙ্গীতের গভীরতা বৃদ্ধি করে। আর ইন-সোং এক ধরনের পল্লবী সুর, এটি একেবারে সিংগিংয়ের শেষের অংশে তৈরি হয়, সাধারণত নৃত্য বা পূজার সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকে।

তুভান থ্রোট সিংগিংয়ের মূল লক্ষ্য ছিল আধ্যাত্মিক শক্তির উদ্ভব এবং প্রকৃতির আত্মাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা। শামানরা বিশ্বাস করতেন, থ্রোট সিংগিংয়ের মাধ্যমে তারা আত্মাকে মুক্ত করে এবং পূর্বপুরুষদের আত্মাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হতেন। সঙ্গীতের মাধ্যমে তারা পৃথিবী ও আকাশের মাঝে সেতু স্থাপন করতে পারতেন, যেটি তাদের আধ্যাত্মিক ভ্রমণ ও শক্তি সঞ্চারে সহায়ক ছিল। তুভান থ্রোট সিংগিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর গভীর সম্পর্ক প্রকৃতির সঙ্গে। তুভা জনগণের সাংস্কৃতিক বিশ্বাস অনুসারে সঙ্গীত এক ধরনের জীবন্ত শক্তি। এটিই কেবল প্রকৃতির শক্তি, যেমন নদী, পাহাড়, বৃষ্টি, বাতাস, এবং পশুদের আত্মাদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারে। সঙ্গীতশিল্পীরা তাদের পরিবেশ থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে এবং পরিবেশের প্রতিটি সুরকে তাদের গলায় তুলে ধরেন। এই কারণে তুভান থ্রোট সিংগিং প্রকৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং সংযোগের প্রতীক হয়ে ওঠে।

থ্রোট সিংগিংটি মূলত তুভা জনগণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আধুনিক যুগে এটি বিশ্ব সঙ্গীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। এই সঙ্গীত শৈলী এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রশংসিত হচ্ছে এবং বিভিন্ন সঙ্গীতজ্ঞরা এটি তাদের সঙ্গীত রচনা এবং পরিবেশনায় ব্যবহার করছেন। বিশ্বের অনেক সঙ্গীত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এখন থ্রোট সিংগিং শেখানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং এটি বিশ্ব সঙ্গীত সংস্কৃতিতে এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে। তুভান থ্রোট সিংগিং শুধুমাত্র একটি সঙ্গীত শৈলী নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে প্রকৃতির আত্মা, আধ্যাত্মিক শক্তি, এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে পৃথিবী ও আকাশের মধ্যে এক অদৃশ্য সেতু। তুভা জনগণের এই সঙ্গীত শৈলী আজও তাদের জীবনের অমূল্য অংশ হিসেবে টিকে রয়েছে এবং এটি সারা পৃথিবীতে সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে উঠেছে।



অর্থনীতি যেদিকে যাচ্ছিল , আগের সরকার এমনিতেই টিকত না : পরিকল্পনা উপদেষ্টা

ক্ষমাতচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দুর্নীতির শিকার হওয়া ব্যাংকগুলো বাঁচানোর সব চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। তবে এ ব্যাংকগুলো রক্ষা করা কঠিন। সোমবার ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ-ডিজেএফবি আয়োজিত উন্নয়ন সংলাপে এসব কথা বলেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে টাকা পাচার হচ্ছে না।ব্যাংকগুলো থেকে টাকা লোপাট হচ্ছে না। এখন প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে অর্থনীতি আরও কেন শক্ত হচ্ছে না। কারণ ব্যাখায় তিনি বলেন, ব্যাংকগুলোকে এখন রক্ষা করা হচ্ছে। কোনো ব্যাংককেই আর দেউলিয়া হতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে অসুবিধা হচ্ছে, অনেক টাকা ছাপাতেও হচ্ছে। অনেক ব্যাংকে আর্থিকভাবে অন্তত কিছু মূলধন দেওয়া হচ্ছে। সেটা খুব কঠিন কাজ, তবু ব্যাংকিং খাতকে তো রক্ষা করা যাচ্ছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিককার অর্থনীতির পরিস্থিতি তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক একের পর এক খারাপ হতে থাকায় ওই সরকার টিকে থাকতে পারত না। অর্থপাচার, ব্যাংকিং খাত ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পতনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। যেভাবে রিজার্ভ কমে যাচ্ছিল তাতে বৈদেশিক লেনদেন সম্ভব হত না। ব্যাংকগুলোর যারা প্রতিষ্ঠাতা, উদ্যোক্তা তারাই ব্যাংকের অর্থ নিয়ে তাতে লালবাতি জ্বালিয়ে দিয়েছে। পুরো ব্যাংক খালি করে যেভাবেই হোক বৈধ-অবৈধভাবে বিদেশে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা তো পরিষ্কার জানতেন যে, এই ব্যাংক আর টিকবে না। এ অবস্থা চললে কিছু ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যেত।

ওই অবস্থা থেকে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংক খাতের পুনর্গঠনে পরিকল্পনা করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাত কী করে আস্তে আস্তে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে তা ওই পরিকল্পনায় রয়েছে। এখন পাচার হচ্ছে না, রপ্তানি বাড়ছে। রেমিট্যান্স বাড়ছে তারপরও কেন রিজার্ভ বাড়ছে না–এর ব্যাখ্যায় উপদেষ্টা বলেন, বিদেশি ঋণ পরিশোধ বাড়ছে। আগামীতে আরও বাড়বে। এছাড়া বৈদেশিক সাহায্য কমেছে। প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ-এফডিআই কমেছে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে এফিডিআই আসার কথা নয়। অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার কথা জানান তিনি।


চীনের আগে ভারত সফরে যেতে চেয়েছিলেন ড. ইউনূস

গতকাল মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন ‘আমরা গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের ভারত সফরের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিলাম এবং ভারতীয় পক্ষকে জানিয়েছিলাম। চীনে তাঁর সফর চূড়ান্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে এটি করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা ইতিবাচক সাড়া পাইনি।’ তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস ভারতের সঙ্গে উষ্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চান। প্রেসসচিব বলেন, ড. ইউনূস ২৬-২৯ মার্চ চীন সফরকালে বিশিষ্ট চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কারণ প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশকে একটি ব্যবসাবান্ধব গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে আগ্রহী, যা চীনা উৎপাদন ইউনিটগুলোকে সঠিক ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রদান করবে।

শফিকুল আলম আরও জানান, চীন থেকে ফেরার পর অধ্যাপক ইউনূস ৩-৪ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন। তিনি যোগ করেন, ‘আমরা থাইল্যান্ডে আসন্ন বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের সময় অধ্যাপক ইউনূস এবং জনাব (নরেন্দ্র) মোদির মধ্যে একটি বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছি এবং আমরা ভারতের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছি।’ অধ্যাপক ইউনূস গত চার মাসে চীন সফরকারী দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় নেতা। এর আগে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ডিসেম্বর ২০২৪ সালে চার দিনের সফরে চীন গিয়েছিলেন।

দ্য হিন্দু-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া এক ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের একটি প্রধান প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য, ভুটান ও নেপালকে সহায়তা করবে। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দিয়েছে। কুমিরা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত আমাদের দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে, যেখানে অসংখ্য শিল্পাঞ্চল ও বন্দর স্থাপন করা যেতে পারে। এটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে বদলে দিতে পারে।’ তিনি বাংলাদেশকে ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের জন্য একটি ব্যবসাবান্ধব অর্থনীতি হিসেবে তুলে ধরেন।


পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না ইরান : তুলসী গ্যাবার্ড

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (ডিএনআই) পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড বলেছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন বলছে যে, ইরান বর্তমানে সক্রিয়ভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না। তবে তেহরানের বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মহলে পরমাণু অস্ত্র তৈরি নিয়ে আলোচনা বেড়েছে। মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের ইন্টেলিজেন্স কমিটির শুনানিতে তুলসী গ্যাবার্ড বলেন, ‘আইসি (মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সম্মিলিত জোট) এখনো মনে করে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না এবং সর্বোচ্চ নেতা খামেনি ২০০৩ সালে স্থগিত করা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির অনুমোদন দেননি।’

তবে গ্যাবার্ড যোগ করেন, গত কয়েক বছরে দেখা গেছে ইরানের জন পরিসরে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে কয়েক দশকের পুরোনো একটি ট্যাবু ভেঙে পড়েছে। সম্ভবত এটি ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী গোষ্ঠীর ভেতরে যারা পারমাণবিক অস্ত্রের পক্ষের তাদের উৎসাহিত করছে। তুলসী বলেন, ‘ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে এবং পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন কোনো রাষ্ট্রের জন্য এটি নজিরবিহীন।’ ডিএনআই পরিচালক আরও যোগ করেন, ইরানের ওপর নতুন করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার সম্পূর্ণ প্রভাব এখনো কার্যকর হয়নি, তবে তেহরান ‘অবশ্যই’ সেই ‘বার্তা’ শুনেছে।

এর আগে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র বলেছিল, ইসরায়েলের হাতে হিজবুল্লাহ নেতাদের নিহত হওয়া এবং ইসরায়েলে দুটি বড় ধরনের ব্যর্থ হামলার মতো কৌশলগত ধাক্কা সত্ত্বেও তারা বিশ্বাস করে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়নি। ডিএনআই শুনানির পাশাপাশি মার্কিন গোয়েন্দা গোষ্ঠীগুলোর বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ-বিশেষ করে, ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা সবচেয়ে তাৎক্ষণিক-ইরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘আইসি মূল্যায়ন করেছে, স্বল্প মেয়াদে ইরানের সশস্ত্রবাহিনী পুনরুদ্ধার এবং বিশেষ করে ইসরায়েলি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ গড়ে তোলার সম্ভাবনা ক্ষীণ।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট ইরানের ভেতরে নতুন করে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভের জন্ম দিতে পারে, যদি না ইরানকে নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে যে, রাশিয়া একটি নতুন স্যাটেলাইট তৈরি করছে যা পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে সক্ষম, যা যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বের জন্য ‘বিধ্বংসী পরিণতি’ ডেকে আনতে পারে।


বিজ্ঞানীরা বলছে আপনার প্রিয় চুইংগামে লুকিয়ে আছে প্লাস্টিক

বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিকের দূষণের সমস্যা বাড়ছে এবং এবার নতুন একটি গবেষণায় জানা গেছে চুইং গামও প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র টুকরো মানুষের শরীরে প্রবাহিত করতে পারে। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষক সঞ্জয় মোহান্তি জানিয়েছেন, গাম চিবানোর মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্লাস্টিকের মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করতে পারে, যা বর্তমানে পৃথিবীজুড়ে পাহাড় থেকে সমুদ্রের তলদেশ, এমনকি বাতাসেও সর্বত্রে ছড়িয়ে পড়ছে। গবেষকরা বলেন, গাম চিবানোর সময় গাম থেকে গড়ে ১০০টির মতো মাইক্রোপ্লাস্টিক মুক্ত হয়, কিছু গাম ৬০০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়ায়। এক বছর ধরে প্রতিদিন একটি গাম চিবালে প্রায় ৩০,০০০ মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবাহিত হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ চুইং গামই তেলভিত্তিক উপাদান থেকে প্রস্তুত সিনথেটিক পলিমারের তৈরি। এই উপাদানগুলো গাম প্যাকেজিংয়ে উল্লেখ করা হয় না। গবেষণায় ১০টি ব্র্যান্ডের গাম পরীক্ষা করা হয় এবং দেখা যায় একেকটি গামের মধ্যে একেক ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক উপস্থিত ছিল। গবেষকদের মতে, গাম চিবানোর মাধ্যমে কিছু মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবাহিত হলেও তবে এটি বড় কোনো বিপদ সৃষ্টি করবে না। তবে গাম ফেলে দেওয়া স্থানেও পরিবেশের জন্য দূষণ তৈরি করে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কনফেকশনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এই গবেষণায় স্বাস্থ্যগত কোনো ধরনের উদ্বেগজনক ফলাফল নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এলভিস প্রেসলি মৃত্যু নাকি আত্মগোপন

১৯৭৭ সালের ১৬ আগস্ট সংগীত ইতিহাসের অন্যতম সেরা শিল্পী এলভিস অ্যারন প্রেসলির মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়া হয়। বলা হয় তিনি হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। তবে তার মৃত্যুকে ঘিরে জন্ম নেয়া নানা রহস্য ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে উসকে দেয়। বহু ভক্ত বিশ্বাস করতেন যে এলভিস প্রকৃতপক্ষে মারা যাননি, সব কিছুর চাপ থেকে মুক্তি পেতে তিনি নিজের মৃত্যু ভান করেছিলেন। মৃত্যুর রহস্যময় দিকগুলোর মধ্যে ছিলো এলভিসের শেষকৃত্যে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের অনেকেই দাবি করেন তার মরদেহ দেখে অস্বাভাবিক ঠান্ডা লাগছিল। অনেকের মতে এটি আসলে একটি মোমের পুতুল ছিল, দ্রুত গলে যাওয়া ঠেকাতে কফিনে এয়ার কন্ডিশনিং রাখা হয়েছিল। তাছাড়া তার মুখমণ্ডল ছিল অদ্ভুতভাবে মসৃণ ও স্বাভাবিকের তুলনায় ফোলা।

এলভিসের মৃত্যুর সনদপত্রে বেশ কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। তার নাম “Elvis Aaron Presley” হলেও মৃত্যুর সনদে লেখা ছিল “Elvis Aron Presley”। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, ছোট ভুলটি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছিল যাতে ভবিষ্যতে তার ফিরে আসার সুযোগ থাকে। শেষকৃত্যের দিন তার পরিবার কোনোভাবেই সাংবাদিকদের কাছে মরদেহ দেখাতে রাজি হয়নি। এমনকি অনেক কাছের বন্ধু পর্যন্ত মরদেহ দেখতে পাননি। অনেকে ধারণা করেন, আসল সত্য গোপন করার জন্য এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল ।

এলভিসের মৃত্যুর পর তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেন। প্রথমে বলা হয় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন, পরে দাবি করা হয় ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত সেবনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। আবার কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, তার মৃত্যুর কারণ পরিষ্কারভাবে বলা হয়নি। মৃত্যুর পর বহুবার এলভিসকে বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাওয়ার দাবি ওঠে। তার মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর, এক ব্যক্তি মেমফিস বিমানবন্দরে “Jon Burrows” নামে একটি টিকিট কিনেছিলেন। এই নামটি ছিল এলভিসের ছদ্মনাম, যেটা তিনি আগেও ব্যবহার করতেন। অনেকে মনে করেন তিনি বিমানবন্দর দিয়ে পালিয়ে যান।

১৯৯০-এর দশকে এলভিসের বাসভবন গ্রেসল্যান্ডে এক ব্যক্তিকে দেখা যায়, যার মুখমণ্ডল এলভিসের সঙ্গে হুবহু মিল ছিল। সিসিটিভি ফুটেজেও একই ব্যক্তিকে দেখা গেছে কিন্তু কখনোই তার পরিচয় প্রকাশ হয়নি। ২০০১ সালে একজন ব্যক্তি আমেরিকান রেডিওতে ফোন করে কথা বলেন, যার কণ্ঠস্বর ছিল এলভিসের মতো। ভক্তদের দাবি এটি এলভিসেরই কণ্ঠস্বর ছিল এবং তিনি নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। কিছু ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অনুসারে, এলভিস প্রেসলি CIA-র হয়ে কাজ করতেন। ১৯৭০ সালে তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সঙ্গে দেখা করেন এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেন। এই তত্ত্ব অনুসারে তিনি একটি গোপন মিশনের অংশ হিসেবে নিজের মৃত্যুকে ভান করেছিলেন।

এলভিস নিজেই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন? কিছু সাক্ষাৎকারে এলভিস রহস্যময় ভাবে বলেছিলেন, “একদিন আমি এমনভাবে হারিয়ে যাবো যে কেউ আমাকে খুঁজে পাবে না।” তাই অনেকে মনে করেন এটি তার পরিকল্পনারই পূর্বাভাস ছিল। এলভিস এখনও বেঁচে আছেন? প্রতিবছর, এলভিসের জন্মদিন ও মৃত্যুবার্ষিকীতে অনেকেই দাবি করেন যে তারা তাকে কোথাও না কোথাও দেখেছেন। ২০১৬ সালেও গ্রেসল্যান্ডের ক্যামেরায় ধরা পড়া এক বৃদ্ধ লোককে অনেকে এলভিস বলে সন্দেহ করেন। এই ব্যক্তির চালচলন, মুখাবয়ব ও হাবভাব কিংবদন্তি এই সংগীতশিল্পীর সঙ্গে প্রায় অনেক মিল ছিল। এছাড়াও লাস ভেগাস, হাওয়াই ও আর্জেন্টিনায় বহুবার এলভিসের মতো দেখতে ব্যক্তিকে দেখা গেছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, তিনি লুকিয়েই আছেন।

এলভিসের পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা কখনোই তার জীবিত থাকার দাবি সমর্থন করেননি। তার মৃত্যুর ডাক্তারি রিপোর্ট ও ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি হৃদরোগে মারা গেছেন। ষড়যন্ত্র তত্ত্বের অনেক দাবিই কোনো প্রমাণ ছাড়াই করা হয়েছে। তাছাড়া তার বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তিনি এখনো বেঁচে থাকা সম্ভবত অসম্ভব। এলভিস প্রেসলি সংগীতের এক অবিস্মরণীয় আইকন। তার মৃত্যু এখনও রহস্যে ঘেরা এবং বহু মানুষ বিশ্বাস করেন, তিনি কোথাও লুকিয়ে আছেন। হয়তো তিনি সত্যিই প্রয়াত, নয়তো তিনি মুক্তির জন্য নতুন এক জীবনই বেছে নিয়েছেন। যা-ই হোক না কেন, এলভিস প্রেসলি সংগীত ও সংস্কৃতিতে চিরকালীন কিংবদন্তি হয়ে থাকবেন।




আমেরিকা কেন প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে বেরিয়ে এলো ?

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হয়েই ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির (২০১৫) অধীনে আমেরিকা আর থাকবে না। প্যারিস জলবায়ু চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউজ গ্যাসের ক্ষতিকর প্রভাব ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা। পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পবিপ্লব যুগের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বাড়তে না দেওয়া এবং সম্ভব হলে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চেষ্টা করা।

২০১৬ এবং ২০২৪-র নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, আমেরিকার ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙা করতে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারকে তার প্রশাসন পূর্ণ সমর্থন করবে এবং প্যারিস চুক্তি থেকে আমেরিকা নিজেকে সরিয়ে নেবে। কারণ প্যারিস চুক্তিতে থাকতে হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে হবে এবং অনুন্নত দেশগুলোকে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে অনুদান দিয়ে বাধ্যতামূলকভাবে সাহায্য করতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আমেরিকার ফসিল ফুয়েল ইন্ডাস্ট্রির যোগাযোগ অস্বীকার করা যায় না। আমেরিকার রাজনীতিতে এই ইন্ডাস্ট্রি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এমনকি এই শিল্পের মালিকরা মনে করেন, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির পিছনে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের কোনও ভূমিকা নেই!

প্রসঙ্গত, গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনে পৃথিবীতে প্রথম স্থানে আছে চীন (৩১.৯ শতাংশ), দ্বিতীয় স্থানে আমেরিকা (১৩ শতাংশ) আর তৃতীয় স্থানে ভারত (৮.১ শতাংশ)। ট্রাম্প মনে করেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে চীন ও ভারতের ওপর জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকার মতো বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে না! প্যারিস জলবায়ু চুক্তিকে মান্যতা দিয়ে ওবামা এবং বাইডেন প্রশাসন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহারকে জোরদার করতে চেয়েছিল। যার ফলে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, ব্যাটারি-চালিত গাড়ি উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়েছিল। পদক্ষেপ করা হয়েছিল বিকল্প শক্তি উৎপাদনের মধ্যে দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার। আমেরিকার অর্থনীতিকে কার্বনমুক্ত করার চেষ্টা চলছিল।

কিন্তু ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তি আমেরিকার ফসিল ফুয়েলনির্ভর অর্থনীতির ক্ষতি করবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে আমেরিকানদের বঞ্চিত করবে। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে আমেরিকার বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একটি প্রশ্ন উঠে এসেছে, চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই প্যারিস চুক্তি থেকে আমেরিকা সরে আসেনি তো? তবে এই পরিপ্রেক্ষিতে চীন, ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। চীন এবং ভারতের ওপর চাপ আসবে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার।

পৃথিবীর সব দেশের সক্রিয় সহযোগিতা না পেলে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি নিরর্থক হবে। তবে খাস আমেরিকায় ব্যাটারি-চালিত গাড়ি এবং বিকল্প জ্বালানি শিল্পের উৎপাদন যেভাবে এগিয়ে চলেছে, সে ক্ষেত্রে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা আগামীতে ক্রমশ হ্রাস পাবে।তাই অদূর ভবিষ্যতে আমেরিকা যদি আবার প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে যোগ দেয়, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।