Home Blog Page 151

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন ; যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক হুমকি চীন

গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় সামরিক হুমকি চীন। বিশেষ করে তাইওয়ানের ওপর বেইজিংয়ের ‘জবরদস্তিমূলক চাপ’ এবং ‘মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোর বিরুদ্ধে বিস্তৃত সাইবার অভিযানের’ মতো বিষয়গুলো উদ্বেগজনক। এ ধরনের কর্মকাণ্ড আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চীনের ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়টিকেই নির্দেশ করে। বিভিন্ন দেশ ও অপরাধী সংস্থাগুলো কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সৃষ্ট নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে দেশটির শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির সারসংক্ষেপ হিসেবে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

এতে বলা হয়, বেইজিং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে দুর্বল করার জন্য তার ‘জবরদস্তিমূলক ও ধ্বংসাত্মক ক্ষতিকারক প্রভাব’ আরও সম্প্রসারিত করবে। তাদের দৃষ্টিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওয়াশিংটন তাদের অবদমিত করার চেষ্টা করছে এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে উৎখাতের জন্য কাজ করছে। এমন চিন্তাভাবনা থেকে তারা এর পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করবে।প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন অভিযানকে চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন, এমন মন্তব্য করে প্রতিবেদনে বলা হয় তাইওয়ান দখলের প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যেই অগ্রগতি অর্জনে সমর্থ হয়েছে বেইজিং। তবে চীনা নেতৃত্ব তার মূল স্বার্থ রক্ষায় এবং নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দৃশ্যমান উত্তেজনা কমাতে চাইবে। এর নজিরও মিলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিজেকে ‘অত্যধিক আক্রমণাত্মক’ হিসেবে দেখানোর ক্ষেত্রে রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মতো দেশগুলোর তুলনায় চীন অনেক বেশি সতর্ক ছিল।

বেইজিংয়ে গতকাল বুধবার চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ নিয়ে কথা বলেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন।তিনি মার্কিন প্রতিবেদনটিকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ‘চীনের হুমকিকে অতিরঞ্জিত’ করে দেখানোর অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষায়, আমেরিকা বছরের পর বছর ধরে এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। কাউকে ছাড়িয়ে যাওয়ার বা কারও স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কোনো ইচ্ছা বেইজিংয়ের নেই। মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান তুলসী গ্যাবার্ড মঙ্গলবার এক সিনেট শুনানিতে বলেন, বিদ্যমান গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত প্রতিযোগী হচ্ছে চীন।


গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবে কি বলছে বিএনপি ?

সংস্কার বিষয়ক পাঁচটি কমিশনের ১৬৬টি সুপারিশ বিষয়ে মতামত জানাতে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ‘স্প্রেডশিট’ পাঠায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ঐকমত্য কমিশন। সংবিধান সংস্কারের ৭০টি সুপারিশের মধ্যে ১১টিতে একমত ও ৩টিতে নীতিগতভাবে ঐকমত্য প্রকাশ করেছে তারা। ৬টি সুপারিশের সঙ্গে আংশিক একমত হয়েছে দলটি। বিএনপি যে ২০ প্রস্তাবের সঙ্গে আংশিক বা পুরো একমত, সেগুলো তারা আগামী সংসদে বাস্তবায়ন চায়।

  • প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কমাতে ‘জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল’ (এনসিসি) গঠনের সুপারিশ করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন।এতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা, উচ্চ ও নিম্নকক্ষের স্পিকার, বিরোধী দল থেকে উচ্চ ও নিম্নকক্ষে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার, প্রধান বিচারপতি এবং তৃতীয় একটি (সরকারি ও বিরোধী নেতার বাইরে) দল থেকে একজন সংসদ সদস্য থাকবেন।সুপারিশ অনুযায়ী, এনসিসির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ করা হবে। বিএনপি এসব সুপারিশের সঙ্গে একমত নয়। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিতে হবে। বিএনপি মনে করে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছ নিয়োগের জন্য আইন করা যেতে পারে। আইনে বলা থাকবে, কীভাবে নিয়োগ হবে। সব বিষয় সংবিধানে থাকার প্রয়োজন নেই। এনসিসি গঠনে নারাজি জানিয়ে বিএনপি বলেছে, সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এরূপ কাউন্সিলের কার্যকারিতা যথেষ্ট প্রমাণিত নয়। বিদ্যমান সাংবিধানিক ব্যবস্থায় যে কোনো অপ্রমাণিত পদ্ধতির পরীক্ষা হিতে বিপরীত হতে পারে। বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা সমকালকে বলেন, অনির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত এনসিসি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, এমনকি দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করেছে। সাংবিধানিক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে না। এনসিসি-র সিদ্ধান্তক্রমে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন-এ সুপারিশে একমত নয় বিএনপি। দলটি মতামতে বলেছে, জরুরি অবস্থা জারির ক্ষমতা সরকার ও সংসদের বাইরে থাকা সংগত নয়।
  • সংবিধান সংস্কার কমিশন সুপারিশ করেছে-কেউ জীবনে দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। বিএনপি এ সুপারিশের সঙ্গে একমত হয়নি। দলটি মতামত দিয়েছে, কেউ টানা তিনবার প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না। তবে বিরতি দিয়ে আবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন।
  • রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদের মেয়াদ ৪ বছর নির্ধারণের সুপারিশেও একমত হয়নি বিএনপি। সরকারের মেয়াদ ৫ বছর বহাল রাখতে চায় তারা।
  • কমিশনের সুপারিশ ছিল, যিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন, তিনি দলীয় প্রধান কিংবা সংসদ নেতার পদে থাকতে পারবেন না। এ দুই সুপারিশেও একমত নয় দলটি। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সংসদ নেতা এবং দলীয় প্রধান কে হবেন-তা দলের নিজস্ব বিষয়; সংবিধানের বিষয় নয়।
  • ৭০ অনুচ্ছেদ শিথিল প্রশ্নে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ছিল, অর্থবিল ব্যতীত নিম্নকক্ষের সদস্যরা স্বেচ্ছায় ভোট দিতে পারবেন। বিএনপি এতে দ্বিমত জানিয়ে প্রস্তাব করেছে — আস্থা ভোেট, অর্থবিল, সংবিধান সংশোধনী বিল ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা প্রশ্ন জড়িত নয় এমন বিল ছাড়া সব বিষয়ে দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারবেন সদস্যরা।
  • কমিশন সুপারিশ করেছে, শুধু সংসদ নয়; ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’-এ নির্বাচিত হবেন রাষ্ট্রপতি। প্রস্তাবিত ৬৪ ‘জেলা সমন্বয় কাউন্সিল’ এবং ১২ ‘সিটি করপোরেশন সমন্বয় কাউন্সিল’-এর একটি করে ভোট থাকবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে। সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল থেকে বিনা বাধায় দলীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঠেকাতে এ সুপারিশ করা হয়েছে। এসব সুপারিশ সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মতামতে জানিয়েছে বিএনপি। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ চালুর মতো সময় এখনও হয়নি। ২০২৩ সালে রাষ্ট্র সংস্কারে ঘোষিত বিএনপির ৩১ দফায় রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেছেন, রাষ্ট্রপতিকে কী কী ক্ষমতা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করে সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের পর একটি উপ-অনুচ্ছেদ যোগ করা যেতে পারে। যেসব ক্ষমতা দেওয়া হবে, তা রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই করতে পারবেন।
  • সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রস্তাব করেছিল-নিম্নকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থনে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। বিএনপি এতে একমত হয়নি। বিএনপি মতামতে বলেছে, সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।
  • সংবিধানের মূলনীতি থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদ বাদ দিয়ে বহুত্ববাদ, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে কমিশন। বিএনপি এতে একমত হয়নি দলটি সংবিধানের মূলনীতি ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে বলেছে। জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে মূলনীতিতে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ এবং ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ যুক্ত করেছিলেন।
  • সংসদ ভেঙে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং ৯০ দিনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের সুপারিশে একমত বিএনপি। তবে তা কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী এনসিসির মাধ্যমে নয়। বিএনপি বলেছে, এতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হবে। বিলুপ্ত ত্রয়োদশ সংশোধনী, উচ্চ আদালতের রায় অনুসারে প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচকালীন সরকারের প্রস্তাব করেছে দলটি। তবে তা করতে হবে আগামী সংসদে আলোচনার মাধ্যমে।
  • দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের সুপারিশে নীতিগতভাবে একমত বিএনপি। সংস্কার কমিশন প্রস্তাব করেছে, উচ্চকক্ষের ১০০ সদস্য নির্বাচিত হবেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে। বিএনপি এতে একমত নয়। দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে যেভাবে নারী আসন বণ্টন হয়, সেভাবে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন চায় তারা। বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী, নিম্নকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। আইনসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাপট ঠেকানোর জন্য কী ব্যবস্থা থাকবে -এমন প্রশ্নে সালাহউদ্দিন আহমেদ সমকালকে বলেছেন, আনুপাতিক পদ্ধতি দুই কক্ষের বিরোধ সৃষ্টি করবে। এ কারণে অনেক দেশ উচ্চকক্ষ বিলোপ করছে। অনেক জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তি নির্বাচন ব্যবস্থার কারণে সংসদে আসতে পারেন না। তাদের আনতে বিএনপি উচ্চকক্ষ চায়।
  • সংস্কার কমিশন সুপারিশ করেছে-নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন থাকলেও সংবিধান সংশোধনে গণভোট লাগবে। বিএনপি বলছে, সংবিধানের সব সংশোধনীর জন্য গণভোেট বাস্তবসম্মত নয়।
  • জরুরি অবস্থার সময় নাগরিকদের অধিকার রদ বা স্থগিত না করার সুপারিশেও একমত নয় বিএনপি। দলটির মতে, নাগরিকদের কোনো অধিকার রদ বা স্থগিত না করে জরুরি অবস্থা জারির কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে-বোধগম্য নয়।


বিজ্ঞানীরা এমন শব্দ তৈরি করেছেন যা জনসমুদ্রে বাঁক নিয়ে নির্দিষ্ট একজনের কাছে পৌঁছাতে পারে

পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল শব্দের নির্দিষ্ট পকেট তৈরি করতে সক্ষম এমন একটি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এই প্রযুক্তি শব্দের তরঙ্গকে তাদের চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নির্দিষ্ট স্থানে লক্ষ্য করে পাঠাতে পারে এবং জনসমুদ্রে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার সম্ভাবনাও তৈরি করে। এই প্রযুক্তি সম্পর্কে গবেষণার নেতৃত্বদানকারী জিয়াক্সিন ঝং বলেন, “আমরা একটি ভার্চুয়াল হেডসেট তৈরি করেছি,” যা বিশেষভাবে একক ব্যক্তির জন্য সাউন্ড বা শাব্দিক অঞ্চল সৃষ্টি করে। একজন ব্যক্তি যেই স্থানটিতে অবস্থান করবে, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট শব্দ শোনা যাবে, কিন্তু আশেপাশের কেউ এটি শুনতে পাবে না। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শব্দ এবং নীরবতার পরিস্থিতি তৈরি করা সম্ভব, যা নানা ধরনের পাবলিক স্পেসে অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।

গবেষণায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি মূলত আল্ট্রাসাউন্ড তরঙ্গ ব্যবহার করে। শব্দ তরঙ্গ সাধারণত ভ্রমণের পথে ফ্যাল্ট বা প্রতিবন্ধকতা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আল্ট্রাসাউন্ড তরঙ্গগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে তারা মানুষের শ্রবণ সীমার বাইরেই থাকে। কেবলমাত্র তখনই শোনা যায় যখন লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে শব্দ তরঙ্গের গতিপথ এমনভাবে বাঁকানো যায় যেন এটি প্রতিবন্ধকতার মাঝেও পৌঁছাতে পারে, একইভাবে যেমন একটি অপটিক্যাল লেন্স আলোকে বাঁকাতে পারে। এখানে গবেষকরা “অ্যাকুস্টিক মেটাসারফেস” ব্যবহার করেছেন, এটি শব্দ তরঙ্গের পথ নির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এছাড়াও শব্দ তরঙ্গের তরঙ্গদৈর্ঘ্য আলাদা করে একটি নতুন শব্দ তরঙ্গ তৈরি করে।

উদাহরণস্বরূপ, দুটি আল্ট্রাসাউন্ড তরঙ্গ একত্রিত হয়ে ৫০০ হার্জে একটি শব্দ তরঙ্গ তৈরি হয়, যা মানুষের শ্রবণ সীমার মধ্যে পড়ে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যেকোনো নির্দিষ্ট স্থানে শব্দ শোনা যায়, কিন্তু আশেপাশের কেউ এই শব্দ শুনতে পায় না। এছাড়াও এই প্রযুক্তি “সিমুলেটেড হেড এবং ট্রাঙ্ক ডামি” ব্যবহার করে পরীক্ষা করা হয়েছে, যাতে গবেষকরা দেখতে পান যে শব্দ শুধুমাত্র এই নির্দিষ্ট স্থানে শোনা যায়। এটিকে তারা “এনক্লেভ” বা “শাব্দিক পকেট” হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বর্তমানে এই প্রযুক্তির ব্যবহার মাত্র তিন ফুটের মধ্যে এবং একটি মাঝারি ৬০ ডেসিবেল শব্দ স্তরে কাজ করতে সক্ষম। যদিও এটি বাজারে আসতে আরও সময় লাগতে পারে তবে তার সম্ভাব্য প্রয়োগগুলি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। পাবলিক স্পেসে, যেমন লাইব্রেরি বা মিউজিয়ামে, শব্দ শুধুমাত্র নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য সরবরাহ করা যাবে, যাতে অন্যদের মনযোগ বিঘ্নিত না হয়। এটি শহরের শব্দ দূষণ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যও ব্যবহৃত হতে পারে।


দ্বিতীয় স্বাধীনতা নয় , তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ লুটপাটের স্বাধীনতা

আওয়ামী লীগের বিগত ১৫-১৬ বছরের শাসনামলে যাঁরা নানা নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাঁরা গত বছরের ৫ আগস্ট অবশ্যই নতুন করে স্বাধীন হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। নাহিদ ইসলাম বলেন, যাদের ব্যাংক ব্যালান্স অক্ষুণ্ণ ছিল, যারা আপসমূলে বিরোধী রাজনীতি করেছে, তাদের কাছে হয়তো ৫ আগস্টকে স্বাধীনতা মনে হয় না। কারণ, তারা হয়তো সব সময় স্বাধীন ছিল। আগের আমলে ছিল, এখনো আছে। তাদের কাছে প্রথম স্বাধীনতাও গুরুত্বপূর্ণ না, দ্বিতীয় স্বাধীনতাও গুরুত্বপূর্ণ না; তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে লুটপাটের স্বাধীনতা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে এনসিপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম এ কথাগুলো বলেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল দেখলাম যে প্রথম স্বাধীনতা, দ্বিতীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক। আমরা যারা গত ১৬ বছরে এই ঘটনাগুলোর ভিকটিম ছিলাম, আমাদের কাছে এটা অবশ্যই স্বাধীনতা। ৫ আগস্ট আমরা আসলে নতুন করে স্বাধীন হয়েছি। যারা এই গত ১৫-১৬ বছর নির্যাতিত হয়েছি, নিপীড়িত হয়েছি।’

দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন ; যুদ্ধের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ নিচ্ছে রোহিঙ্গারা

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজারের কুতুপালং শরণার্থীশিবিরে অবস্থানরত হাজার হাজার রোহিঙ্গা শিবির থেকে পালিয়ে মিয়ানমারের গভীর জঙ্গলে গিয়ে অস্ত্র ও যুদ্ধ কৌশল শিখছে। শান্তিপূর্ণভাবে ফিরে যাওয়ার আশা হারিয়ে অনেকে অস্ত্র হাতে নিচ্ছেন। তাঁদের একটাই লক্ষ্য-মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে তাঁদের ভূমি ও অধিকার পুনরুদ্ধার করা। গত কয়েক বছরে শরণার্থীশিবিরের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট, শিক্ষা কাজ চলাচলের সুযোগহীনতা, দমন পীড়ন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশার কারণে অনেকে মিয়ানমারে ফিরে প্রতিরোধ গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট একাধিক রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের মধ্যে নিজেকে কমান্ডার হিসেবে দাবি করা এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তারা গোপনে মিয়ানমারে যান। যেখানে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসব্যাপী সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেন। সংগঠনের নাম প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, “পুরো রোহিঙ্গা সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা সবাইকে একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার জন্য কাজ করছি।” সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আরাকান আর্মির সাথে সহযোগিতা করার প্রচেষ্টা ২০২১ সাল থেকে বারবার ব্যর্থ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা [আরাকান আর্মি] মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করতে চায় না। তারা শুধুমাত্র বৌদ্ধদের জন্য কাজ করতে চায়। এখন, যে কেউ আমাদের পথে দাঁড়াবে-মিলিটারী বা আরাকান আর্মি-আমরা তাদের ধ্বংস করে আমাদের ভূমি ফিরিয়ে নেব।”

মোহাম্মদ আয়াস নামের ২৫ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা যুবক ইনডিপেনডেন্টকে সশস্ত্র প্রস্তুতির আদ্যোপান্ত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তাদের লক্ষ্য জান্তা বাহিনী ও অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে প্রতিহত করে নিজেদের ভূমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা। আগে শুধু জান্তার সঙ্গে লড়াই করার চিন্তা ছিল, এখন প্রয়োজনে আরাকান আর্মির (এএ) বিরুদ্ধে তারা অস্ত্র ধরতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি। মিয়ানমারে ২০২১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এ প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত হয়। কোন্ গ্রুপের অধীনে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে-সে ব্যাপারে কিছু বলতে চাননি আয়াস। তিনি বলেন, ‘১ হাজারের বেশি লোক এখন যোগদান করেছে এবং প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। নিয়োগ হচ্ছে সব শিবিরে।’

ইসলামিক মাহাজ নামের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত এক রোহিঙ্গাও ইনডিপেনডেন্টকে জানান, তারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এই ইসলামিক মাহাজ রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশনের (আরএসও) একটি অঙ্গ সংগঠন। ইনডিপেনডেন্ট বলছে, বাংলাদেশে অবস্থিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ডজনখানেক সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বেশ কয়েকবার এ নিয়ে উদ্বেগও জানানো হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে – এসব গ্রুপ মাদক, মানবপাচার, হত্যা, চাঁদাবাজি ও ক্যাম্পের অন্তর্কোন্দলের সঙ্গে যুক্ত। এ তালিকায় রয়েছে ইসলামিক মাহাজ, রোহিঙ্গা সলিডারিটি অরগানাইজেশন (আরএসও), আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (এআরএসএ) ও আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি (এআরএ)।

রোহিঙ্গা শিবিরে কাজ করা মানবাধিকার সংস্থা ও সাহায্য সংস্থাগুলো বলছে শিবিরগুলোতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী জোরপূর্বক ও স্বেচ্ছামূলক দুই উপায়েই সদস্য সংগ্রহ করছে। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে এই ধরনের নিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা ফোর্টিফাই রাইটসের পরিচালক জন কুইনলি জানান, তারা বছরের পর বছর ধরে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। আরো মানুষ সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশগ্রহণ করবে, যদি না বাংলাদেশের হোস্ট সরকার তাদের জীবিকা অর্জনের সুযোগ দেয় বা চলাচলের স্বাধীনতা প্রদান করে।

ফোর্টিফাই রাইটসের প্রতিবেদন অনুসারে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে বাংলাদেশে কর্মরত একটি মানবিক সমন্বয় গোষ্ঠী একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকলিপি প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়, গত বছরের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে শরণার্থী শিবির থেকে প্রায় ২ হাজার লোককে নিয়োগ করা হয়েছিল প্রশিক্ষণের জন্য। এই রিপোর্ট অনুসারে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ‘আদরশগত ও জাতীয়তাবাদী প্রচারণা এবং আর্থিক প্রলোভন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, হুমকি ও জোরজবরদস্তি’ ব্যবহার করে লোকজনকে রিক্রুট করছে। বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা প্রতিরোেধ আন্দোলন শুধু মিয়ানমার নয়, বাংলাদেশকেও নতুন সংকটে ফেলতে পারে। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল কমে যাওয়ায় হতাশা থেকে আরও বেশি মানুষ অস্ত্র হাতে নিতে বাধ্য হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।



ঢাকায় চাঁদাবাজি চরমে

ঢাকায় চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য চরমে উঠেছে। তারা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে আতঙ্ক ছড়াতে গুলি করে তার ভিডিও ধারণ করার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এলাকায় এলাকায় প্রভাব বিস্তারে মরিয়া হয়ে ওঠায় চাঁদাবাজি বেড়েছে। এই সমস্যা সমাধানে ‘রাজনৈতিক সহায়তা’ দরকার। মূলত, পুরনো কায়দায় হুমকি দিয়ে ঢাকায় চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। তবে কাকে কী বলে হুমকি দিলে কাজ হবে, দৃশ্যত সেটা নিয়ে ভেবেচিন্তে কাজ করছে সন্ত্রাসীরা। চাঁদা না দিলেই দেওয়া হয় অপহরণ বা হত্যার হুমকি। কখনো কখনো সত্যি সত্যিই হত্যার ঘটনাও ঘটছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজি হচ্ছে নির্মাণাধীন ভবন ও বাণিজ্যিক আবাসন প্রকল্পগুলোতে।শিল্পকারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও চাঁদাবাজির বড় শিকার। ডিএমপির হিসাব বলছে, গত ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত ৪৭ দিনে ঢাকা মহানগর পুলিশের ৮টি ক্রাইম বিভাগের ৫০টি থানায় ১১৩টি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১৪৪ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে মতিঝিল, তেজগাঁও ও গুলশানে। পুলিশ কর্মকর্তা এবং ভুক্তভোগীরা বলছেন, গত বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুসংখ্যক শীর্ষ অপরাধীর মুক্তিও চাঁদাবাজির মাত্রা বাড়িয়ে তোলার জন্য দায়ী। ডিএমপির একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতার হাতবদলের পর চাঁদাবাজদের মুখ পরিবর্তন হয়েছে মাত্র, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি।

গত জানুয়ারিতে এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজদের একটি তালিকা করে অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। তবে তাতে আশানুরূপ ফল আসেনি।চাঁদাবাজেরা রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। গত এক সপ্তাহে চাঁদাবাজির অভিযোগে একাধিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের গঠিত নতুন রাজনৈতিক দলের নেতাও রয়েছেন। ভুক্তভোগীরা দাবি করছেন, ক্ষমতার পালাবদলের পরের অনিশ্চয়তা এবং অস্থিরতার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তাও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যের জন্য দায়ী। পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকলেও রাজনৈতিক সহায়তা ছাড়া এসব সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধ করা কঠিন।

বাংলাদেশ কেন আসিয়ান এর সদস্য হতে চায়

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যের কথা বলেছেন। আর এ লক্ষ্যে অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ এশিয়ান নেশনসের (আসিয়ান) সদস্য হিসেবে যোগদান করার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন। আসিয়ান হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জাতি সংস্থা, ইংরেজিতে যাকে অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান) বলা হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সবচেয়ে শক্তিশালী আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্থা হিসেবে এটি বিবেচিত। ১৯৬৭ সালে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পরস্পরের স্বার্থ সংরক্ষণে এই সংস্থা গঠন করা হয়। তখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এবং শান্তি ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংস্থাটি গঠনের কথা বলা হয়। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় আসিয়ানের সদর দপ্তর।

আসিয়ানের মোট সদস্য এখন ১০। যদিও শুরুতে এটি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড-এই পাঁচ দেশ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। পরে আরও পাঁচ দেশ অর্থাৎ ব্রুনেই, ভিয়েতনাম, লাওস, মিয়ানমার ও কম্বোডিয়া আসিয়ানের সদস্য হয়। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ আরও কয়েকটি দেশ আসিয়ানে যুক্ত হওয়ার পথে রয়েছে বলে জানা গেছে। আসিয়ানকে একক সত্তা ধরা হলে এটি হবে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। অন্য বৃহত্তম অর্থনীতির দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানি। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাণিজ্যে ৮% অবদান আসিয়ানের সদস্যদের। দেশগুলো বিশ্বের মোট সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ১৭% আকর্ষণ করে।

বাংলাদেশ অনেক বছর ধরেই আসিয়ানের সদস্য হতে আগ্রহ জানিয়ে আসছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও এ বিষয়ে সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। ডাভোসের ওই বৈঠকের পর প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছিলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্য হতে চায়। আসিয়ানের সদস্য হওয়া মানে, বাংলাদেশের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন হওয়া। এতে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়বে, বাজারও উন্মুক্ত হবে।’ প্রেস সচিব আরও বলেছিলেন, আসিয়ানের সদস্যপদ পাওয়া গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এর চেয়ে বড় সুখবর আর হতে পারে না।

অনেকে মনে করেন, আসিয়ানের সদস্য হতে পারলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশের ভারতনির্ভরতা কমবে। আসিয়ানের সদস্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত যথাযথভাবে আবেদনই করতে পারেনি। এ ছাড়া বাংলাদেশের আসিয়ানে যুক্ত হওয়া নিয়ে মিয়ানমারের অপ্রকাশ্য বিরোধিতা রয়েছে। আসিয়ানের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মূলত আমদানিনির্ভর। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো থেকে মোট ১ হাজার ১৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে দেশগুলোয় পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ৭৬ কোটি ১০ লাখ ডলার।


হঠাৎ ফেইসবুক নিষিদ্ধ করল পাপুয়া নিউ গিনি

অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও পর্নোগ্রাফি থেকে নাগরিকদের ‘রক্ষার’ জন্য রাতারাতি জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক নিষিদ্ধ করেছে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র পাপুয়া নিউ গিনি। দেশটির পুলিশ মন্ত্রী পিটার সিয়ামালিলি বলেছেন, সোমবার থেকে শুরু হওয়া ও মঙ্গলবার পর্যন্ত বিস্তৃত ফেইসবুক বন্ধের এ পরীক্ষাটি দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০২৪ এর কাঠামোর আওতায় করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ উদ্যোগ নেওয়ার কারণ হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ‘দায়িত্বশীল ব্যবহার’ নিশ্চিত করা ও ‘ক্ষতিকর কনটেন্ট’ থেকে জনসাধারণকে দূরে রাখা। পাপুয়া নিউ গিনিতে আনুমানিক দশ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি ব্যবহার করেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।

তবে পাপুয়া নিউ গিনির স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, অনেকেই ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন ব্যবহার করে এ নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফেইসবুক ব্যবহার করছেন। “ফেইসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে অবাধে ভুয়া খবর, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, পর্নোগ্রাফি, শিশু নিপীড়ন ও সহিংসতায় উস্কানি দেওয়ার মতো বিষয় মেনে নেওয়া একেবারেই অসম্ভব,” বলেছেন পুলিশ মন্ত্রী। এমন পদক্ষেপ ‘বাকস্বাধীনতা দমনের প্রচেষ্টা’ নয় বলেও উল্লেখ করেছেন সিয়ামালিলি। ফেইসবুক ও অন্যান্য সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে ‘দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তাদের দায়িত্বে গাফিলতি হলে পাপুয়া নিউ গিনির সরকার নিজেদের “নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য যে কোনও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না”।

ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে, ফেইসবুকের ওপর দেশটির এমন আকস্মিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সমালোচনা বেড়েছে। গ্রাহকদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির জন্য এই প্ল্যাটফর্মের উপর নির্ভর করেন অনেক ছোট ব্যবসার মালিকরা। দীর্ঘদিন ধরেই নাগরিকদের জন্য ফেইসবুক নিষিদ্ধের কথা পাপুয়া নিউ গিনির বিবেচনায় ছিল।



শেকসপিয়ারের আসল প্রতিকৃতি প্রমাণের সন্ধানে গবেষণা

ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বিখ্যাত নাট্যকার যাঁর নাটক এবং কবিতা আজও পৃথিবীজুড়ে পাঠিত হয়, তিনি উইলিয়াম শেকসপিয়ার। জেনে অবাক হবেন যে, তাঁর আসল চিত্রকর্মের খোঁজ এখনও শেষ হয়নি। শেকসপিয়ারের সময়কালীন কোন ছবি বা কোথাও তার সঠিক চেহারা পাওয়া সম্ভব হয়নি। নানা চিত্রকর্মের মধ্যে কখনোই তিনি যেন সঠিকভাবে ফুটে ওঠেননি। তবে সম্প্রতি এমন একটি চিত্রকর্ম সামনে এসেছে যা হয়তো শেকসপিয়ারের আসল চেহারার রহস্য উন্মোচন করতে পারে।

এই কাহিনীর শুরু হয় স্টিভেন নামক এক ব্যক্তির পরিবার থেকে। স্টিভেন আইলসবেরি, বাকিংহামশায়ারে বসবাস করেন। তিনি জানিয়েছেন, তার বাবা পিটার ১৯৬০-এর দশকে ₤৯০০ দিয়ে একটি চিত্রকর্ম কিনেছিলেন, যেটি বহু বছর ধরে স্রেফ তাদের বাড়ির টেলিভিশনের উপরে ঝুলছিল। তবে স্টিভেন কখনোই এই চিত্রকর্মটিকে ভালোভাবে দেখতেন না এবং কোনো বিশেষ আগ্রহ ছিল না। স্টিভেন বলেন, “বাড়ির যে কোন কোণ থেকেই পেইন্টিংটিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যাবে! এটা অনেকসময় বিরক্তিকর। এটি সবসময় আমাকে Scooby Doo সিরিজের রহস্যময় চিত্রকর্মগুলোর কথা মনে করিয়ে দিত।”

এই চিত্রকর্মটির প্রতি স্টিভেনের দৃষ্টিভঙ্গি একেবারে বদলে যায় যখন তার বাবা একদিন এক ইংরেজি ও চারুকলার অধ্যাপকের কাছে চিত্রকর্মটির কথা বলেন এবং সেই অধ্যাপক প্রথমবারের মতো চিত্রটির প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেন। প্রাথমিকভাবে অধ্যাপক মহিলাটি এটিকে একটি রিপ্রডাকশন প্রিন্ট বলে মনে করেছিলেন। তবে পিটার তাকে জানান এটি আসল চিত্রকর্ম। অধ্যাপক আইগ্লাস বের করে দেখেন এবং বলেন, “এটি শেকসপিয়ারের চেহারার চেয়ে বেশি শেকসপিয়ারের মতো।”

এই চিত্রকর্মটি ৩১ বছর বয়সী শেকসপিয়ারের প্রতিকৃতি হিসেবে পরিচিত হয়েছে। সেখানে শেকসপিয়ারকে দাড়ি ছাড়া, সাধারণ চুলে চিত্রিত করেছে, যা এখন পর্যন্ত ইতিহাসের কোনো শেকসপিয়ারের চিত্রে দেখা যায়নি। ঐতিহাসিক চিত্রকর্মগুলির তুলনায় এই চিত্রে শেকসপিয়ারের পরিচিত চেহারা ভিন্ন এবং এটি একটি নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে তাকে দেখার সুযোগ দেয়। বিশেষজ্ঞরা এটিকে শেকসপিয়ারের একটি নতুন প্রতিকৃতি হিসেবে দেখছেন।

এছাড়াও চিত্রকর্মটির পেছনে একটি রহস্যময় রাজকীয় প্রতীক (coat of arms) লুকানো ছিল, যেটি পরে বিশেষজ্ঞদের তদন্তের মাধ্যমে বের হয়ে আসে। তারা ধারণা করেন, এই প্রতীকটি শেকসপিয়ারের চেহারা বা পরিচয় সম্পর্কিত কোনো গোপন তথ্য ধারণ করে। প্রতীকটির উপস্থিতি চিত্রের অন্তর্নিহিত রহস্যকে আরো গভীর করেছে।

স্টিভেন চিত্রটির সত্যতা যাচাই করতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে তিনি শেকসপিয়ারের অন্যান্য জনপ্রিয় প্রতিকৃতির সাথে এই চিত্রকর্মটির তুলনা করেন। ফলস্বরূপ চিত্রটি ঐতিহ্যবাহী শেকসপিয়ারের ছবির তুলনায় অনেক বেশি একীভূত এবং এটি শেকসপিয়ারের মুখাবয়বের কাছাকাছি। বিশেষজ্ঞরা আরও বিশ্লেষণ করে দেখেন যে, চিত্রের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলিও সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়েছে, যেমন অতিরিক্ত বিবরণ এবং কাঁচামাল যোগ করা হয়েছে।

এই চিত্রকর্মটি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অনেক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। শিল্প বিশেষজ্ঞ ড. জন গিলক্রিস্ট জানান, “এটি শেকসপিয়ারের সময়কালীন একটি আসল চিত্রকর্ম হতে পারে, তবে আমি এখনো নিশ্চিতভাবে বলব না যে এটি শেকসপিয়ার।” তবে অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা একমত যে এটি শেকসপিয়ারের সময়কালীন একটি আসল চিত্রকর্ম । বিশ্ববিখ্যাত শিল্পকর্ম Mona Lisa এর বিশ্লেষণ টিম প্যারিসের লুমিয়ের টেকনোলজি এই চিত্রকর্মের ব্যাপারে তাদের মতামত প্রকাশ করেছে। লুমিয়ের টেকনোলজির প্রধান নির্বাহী জঁ পেনিকো বলেন, “এই চিত্রটি শেকসপিয়ারের আসল চেহারার সাথে অনেক মিল রয়েছে, এবং এখানে সম্ভবত তাকে তার নিজ চরিত্রেই অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি শেকসপিয়ারের আসল চিত্রকর্ম হলে তবে এটি ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে দাঁড়াবে। এটির মূল্য হতে পারে ₤১০০ মিলিয়ন থেকে ₤২০০ মিলিয়ন পর্যন্ত। স্টিভেন প্রথমে এটি বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে চাইলেও এখন তিনি কেবল সত্যের সন্ধানেই আগ্রহী। স্টিভেন তার এই চিত্রকর্মের দুঃসাহসিক অনুসন্ধান নিয়ে Netflix-এ একটি ডকুমেন্টারিও তৈরি করেছেন, যার নাম ‘The Stuff of Dreams’। এই অনুসন্ধানটি দেখানোর মাধ্যমে তিনি পৃথিবীকে জানান, সত্যের সন্ধান একটি একান্ত ব্যক্তিগত যাত্রা, যেখানে প্রাথমিক উদ্দেশ্য অর্থ উপার্জন থেকে শেষ পর্যন্ত সত্যের প্রতি ভালোবাসায় পরিণত হয়েছে।

এই রহস্যময় চিত্রকর্মটি যদি আসলেই শেকসপিয়ারের প্রতিকৃতি প্রমাণিত হয়, তবে এটি পৃথিবীজুড়ে ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে স্থান পাবে এবং শেকসপিয়ারের আসল চেহারার রহস্যের সমাধান হবে।






বই পড়া কেন একটি থেরাপি ?

আমরা যখন মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা হতাশার মধ্যে থাকি, তখন প্রায়শই সেই চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় খুঁজে পাই না।সেখানে বই পড়া এমন একটি শক্তিশালী অভ্যাস, যেটা আমাদের মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে এবং একধরনের থেরাপির মতো কাজ করতে পারে। বই পড়ার সময় আমাদের মন বাস্তব জীবনের দুশ্চিন্তা থেকে সাময়িক মুক্তি দিয়ে এক নতুন জগতে প্রবেশ করে। আমরা আলোচনা করবো কেন রিডিং একপ্রকার থেরাপি এবং এটি কীভাবে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

মানসিক চাপ কমায়
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৬ মিনিট বই পড়লেই ৬৮% পর্যন্ত মানসিক চাপ কমে যেতে পারে। পড়ার সময় আমাদের মন গল্পের চরিত্র এবং কাহিনির মধ্যে ডুবে যায় ও আমাদের বাস্তব জীবনের সমস্যা থেকে সাময়িক মুক্তি দেয়। ফলে আমরা স্বস্তি অনুভব করি এবং মস্তিষ্ক শিথিল হয়।

উদ্বেগ ও হতাশা দূর করতে সাহায্য করে
যারা উদ্বেগ বা হতাশার সঙ্গে লড়াই করছেন তাদের জন্য বই পড়া একটি কার্যকরী উপায় হতে পারে। আত্মউন্নয়নমূলক বই, দর্শন বা আধ্যাত্মিক গ্রন্থ আমাদের চিন্তাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে এবং মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ধ্যান এবং মনোবিজ্ঞানের বইগুলো উদ্বেগ কমাতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

একাকীত্ব দূর করে : একাকীত্ব মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কিন্তু বই পড়ার মাধ্যমে আমরা নতুন চরিত্র এবং নতুন জগতে প্রবেশ করি, যা একাকীত্বের অনুভূতি কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে উপন্যাস বা গল্পগ্রন্থ পড়লে মনে হয় আমরা চরিত্রগুলোর সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছি, এটি আমাদের মানসিকভাবে সমৃদ্ধ করে।

আত্মবিশ্বাস বাড়ায়
বই পড়া শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য নয়, এটি আমাদের জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতাও বৃদ্ধি করে। যখন আমরা নতুন কিছু শিখি তখন আমাদের আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়। আত্মউন্নয়নমূলক বই পড়লে আমরা আমাদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করতে পারি এবং তা কাটিয়ে ওঠার কৌশল শিখতে পারি।

ভালো ঘুমে সহায়ক
অনেকেই ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। ঘুমানোর আগে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুললে মানসিক প্রশান্তি আসে এবং এটি ভালো ঘুম আনতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে স্ক্রিনের পরিবর্তে বই পড়লে মস্তিষ্ক স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে এবং সহজেই ঘুম আসে।বই পড়া কেবল জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। এই অভ্যাস মানসিক চাপ কমায়, উদ্বেগ দূর করে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। তাই সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।