Home Blog Page 150

নিৎসে ও গণমানসিকতা নিজেকে হারানোর বিপদ

“In Thus spoke of Zarathustra” গ্রন্থে নিৎসে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও গণমানসিকতার মধ্যে দ্বন্দ্ব বিশ্লেষণ করেন।জারাথুস্ত্রের মাধ্যমে তিনি মানবতাকে কনফর্মিটি প্রত্যাখ্যান করতে ও আত্ম-আবিষ্কারের অনিশ্চয়তাকে গ্রহণ করতে আহ্বান জানান।

নিজের অনুসারীদের তাকে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে দেখে জারাথুস্ত্র বলেন: “তোমরা বল, তোমরা যদি সত্যই জারাথুস্ত্রতে বিশ্বাস কর? কিন্তু জারাথুস্ত্রের কী আসে যায়! তোমরা আমার অনুসারী, কিন্তু অনুসারীদেরই বা কী মূল্য! তোমরা এখনও নিজেকে খুঁজোনি, অথচ আমাকে পেয়ে গেছ। সকল বিশ্বাসীরাই এভাবে চলে, তাই জগতের সকল বিশ্বাসই তুচ্ছ।”

এরপর তিনি তার অনুসারীদের মুক্তির নির্দেশ দিয়ে বলেন: “এখন আমি তোমাদের আদেশ দিচ্ছি আমাকে হারিয়ে ফেলতে এবং নিজেদের খুঁজে পেতে। কেবল যখন তোমরা আমাকে পুরোপুরি অস্বীকার করতে পারবে, তখনই আমি তোমাদের কাছে ফিরে আসব।”

নিৎসে যুক্তি দেন যে, গণমানসিকতা বা herd mentality ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে দমন করে এবং সৃজনশীলতাকে বিনষ্ট করে। “In Thus spoke of Zarathustra”-তে, তিনি গণমানসিকতাকে এমন এক শক্তি হিসেবে দেখান, যা আরামের ও নিরাপত্তার বিনিময়ে স্বাধীনতা ও মহত্বকে ত্যাগ করে।

জারাথুস্ত্র বলেন – “একজন ব্যক্তিকে সর্বদা সংগ্রাম করতে হয় যাতে সে কারো দ্বারা গ্রাস হয়ে না যায়। যদি তুমি এটি চেষ্টা করো, তবে প্রায়ই তুমি একাকীই থাকবে এবং কখনো কখনো ভীতও হবে। কিন্তু নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিজের করে পাওয়ার জন্য কোনো মূল্যই বেশি নয়।”

নিৎসে গণমানসিকতাকে প্লেইভ মোরালিটির সঙ্গে যুক্ত করেন-এটি এমন এক মূল্যবোধের ব্যবস্থা যা বিদ্বেষ ও হীনমন্যতা থেকে জন্ম নেয়। এই নৈতিকতা দুর্বলতা, আনুগত্য ও কনফর্মিটিকে মহিমান্বিত করে, অথচ শক্তি, স্বাধীনতা ও আত্মপ্রতিষ্ঠাকে নিন্দা জানায়।

সময়ের সাথে সাথে, নিৎসে দেখান, এই দুর্বলতা ও কনফর্মিটিতে শিকড় গাঁথা নৈতিকতা সমাজে “নৈতিকভাবে ভালো” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ক্ষমতাশালীরা এই ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে শাসনকে টিকিয়ে রাখে, যাতে গণমানুষ আনুগত্যকে পুণ্যের সমান বলে মনে করে।

নিৎসের মতে মাস্টার মোরালিটি স্লেইভ মোরালিটির বিকল্প এমন এক মূল্যবোধের ব্যবস্থা যা শক্তি, সৃজনশীলতা ও স্বতন্ত্রতাকে মহিমান্বিত করে। এটি কনফর্মিটিকে প্রত্যাখ্যান করে এবং এমন ব্যক্তিদের উদযাপন করে যারা নিজেদের মূল্যবোধ নিজেরাই নির্ধারণ করে ও নিজেদের জীবনের দায়িত্ব গ্রহণ করে।

নিৎসের মতে মহত্ত্ব অর্জন করতে হলে আমাদের সাহস, আত্মজিজ্ঞাসা এবং ভয় ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হবে জেনেও গণমানসিকতার আরামের অঞ্চল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।




স্থিতিশীলতাই এখন সবচেয়ে জরুরি : মাহফুজ আনাম , সম্পাদক ও প্রকাশক , দ্য ডেইলি স্টার

কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ইনফ্লুয়েন্সার’দের একটি মহল সেনাপ্রধানকে ঘিরে আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং তার অপসারণ দাবি জানাচ্ছেন। কারণ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে, তিনি ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সময় নিয়োগ পেয়েছিলেন।

… অতীতে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর যত ভুলই থাকুক না কেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তাদের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দিনরাত পরিশ্রম অত্যন্ত প্রশংসার দাবিদার। আমাদের বুঝতে হবে, এই কার্যত শর্তহীন সহযোগিতা ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার তাদের কাজ চালিয়ে যেতে পারত না।…এখানে জেনে-বুঝে উসকানি দেওয়ার প্রচেষ্টা লক্ষণীয়।…যার একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা।

সেনাবাহিনী যদি সত্যিই ক্ষমতা নিতে চাইত, তাহলে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে ৮ আগস্ট ড. ইউনূস শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত ছিল তাদের মোক্ষম সময়। কিন্তু তারা সেই সময়ে এমন কিছুই করেনি। আমাদের ধারণা, উন্নয়নশীল দেশের খুব কম সেনাবাহিনীই এমন একটি সুযোগ হাতছাড়া করত এবং এ ধরনের সুযোগ হাত ফসকে যেতে দেওয়ার মতো সেনাপ্রধানের সংখ্যাও হাতেগোনা; বিশেষত যখন তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন সরকারকে উৎখাত করার দায় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

… যে বিষয়টি আমাদের আরও বেশি উদ্বিগ্ন করছে তা হলো-এই গুজব, ভুয়া তথ্য ও বিকৃত তথ্য ছড়াচ্ছেন এমন কিছু মানুষ, যারা নিজেদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কর্মী ও সমর্থক বলে দাবি করেন। যখন এই আন্দোলনের নেতৃস্থানীয়রাও একই কাজ করেন, তখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি দরকার স্থিতিশীলতা। এরপরই আসে ছাত্র-জনতা হত্যার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাওয়া।

শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশে তাৎক্ষণিক ও আকস্মিক ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। সরকারের পাশাপাশি কার্যত পুরো প্রশাসনিক কাঠামো-বিশেষত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী-উধাও হয়ে যাওয়ায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অস্থির হয়ে পড়ে। এর ফলে অর্থনীতি ও জননিরাপত্তায় যে অনিবার্য প্রভাব পড়ে, তা জনগণের আস্থা আরও কমিয়ে দেয়।

তবে সাত মাসের শাসনামলে ড. ইউনূসের সরকার অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতার আবহে আনতে সক্ষম হয়েছেন, যার জন্য তারা প্রশংসার দাবিদার। …তবে এখনো জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। বর্তমানে দুটি বড় ইস্যু রয়েছে-একটি সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং অন্যটি নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা। ‘সংস্কার আগে না নির্বাচন’-এই বিতর্ককে আমরা আগেই ভ্রান্ত বলে অভিহিত করেছি।

আমাদের অবস্থান পরিষ্কার এবং আবারও বলছি-আমাদের দুটোই দরকার এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই সেটা করা সম্ভব। ডিসেম্বরের মধ্যে ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের মতো একটি সত্যিকারের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া উচিত। সংশ্লিষ্ট সংস্কার কমিশনগুলো ইতোমধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করেছে এবং এখন তাদের কাজের ধারাবাহিকতায় ‘ঐকমত্য’ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। ড. ইউনূসের ঘোষণামতে, এই ঐকমত্যের ভিত্তিতেই হবে জুলাই সনদ-যা ভবিষ্যতে আমাদের রূপান্তরের দিকনির্দেশনা দেবে বলে প্রত্যাশা।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির ধারণা, সংস্কার নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা হচ্ছে মূলত নির্বাচন বিলম্বিত করার কৌশল হিসেবে। আমরাও চাই দ্রুততম সময়ে নির্বাচন হোক। কিন্তু, সংস্কারের গুরুত্ব কোনোভাবেই খাটো করে দেখা যাবে না। … আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সংস্কার নিয়ে সমঝোতা এখন অনেকটাই সুসংহত এবং বছরের শেষ নাগাদ নির্বাচন না হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির দায় অন্তর্বতী সরকারই। তারা কখনো ডিসেম্বরের কথা বলছে, আবার কখনো বলছে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কথা। প্রধান উপদেষ্টা তার সাম্প্রতিক ভাষণেও সেটা বলেছেন। এখনই সময় নির্বাচন নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট অবস্থান নেওয়ার। নির্বাচন কমিশনও ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা ডিসেম্বরে নির্বাচন করতে প্রস্তুত। তাহলে এই দ্বিধা কেন?
মাহফুজ আনাম



ভিন গ্রহে জীবনের অস্তিত্ব নিয়ে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গি

ভিন গ্রহের জীবন নিয়ে আলোচনা আমাদের মধ্যে প্রায়ই চলে। বিশেষ করে সম্প্রতি কিছু সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে, আমরা যে কোনো সময় ভিন গ্রহের জীবনের সন্ধান পেতে পারি। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এক মাধ্যমে বলা হয়েছিল, “এটি শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার।” ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আবার শিরোনাম ছিল, “আমরা কাছাকাছি আছি।” সংবাদে এমন আশাবাদী মন্তব্যগুলো সাধারণত মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করে, তবে এই বিষয়ে বিজ্ঞানী মহলের দৃষ্টিভঙ্গি কি? তারা কীভাবে এই সম্ভাবনার বিষয়ে ভাবেন? তাদের কি কোনো একক মতামত বা সম্মতি রয়েছে? সম্প্রতি নেচার অ্যাস্ট্রোনমি জার্নালে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে যা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত একদল গবেষক চারটি জরিপ পরিচালনা করেছেন। এই জরিপে তারা অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্ট (যারা ভিন গ্রহে জীবন নিয়ে গবেষণা করেন) এবং অন্যান্য শাখার বিজ্ঞানীদের মতামত সংগ্রহ করেছেন। মোট ৫২১ জন অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্ট এবং ৫৩৪ জন অন্য শাখার বিজ্ঞানী তাদের জরিপের জন্য উত্তর দিয়েছেন। গবেষণার ফলাফল বিশেষভাবে দৃষ্টান্তমূলক ছিল। ফলাফল অনুযায়ী ৮৬.৬% অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্ট এবং ৮৮.৪% অন্যান্য বিজ্ঞানী মনে করেছেন, ভিন গ্রহে জীবনের অস্তিত্ব থাকা সম্ভব। শুধু ২% বিজ্ঞানী অসম্মত হয়েছেন এবং ১২% বিজ্ঞানী নিরপেক্ষ ছিলেন। এর মানে অধিকাংশ বিজ্ঞানীর, মহাবিশ্বে কোথাও না কোথাও ভিন গ্রহে জীবন রয়েছে, এমন একটি শক্তিশালী সম্মতি রয়েছে।

তবে যখন প্রশ্ন ওঠে “ভিন গ্রহে কি জটিল বা বুদ্ধিমান জীবন রয়েছে?” তখন বিষয়টি একটু ভিন্ন। জটিল জীবনের বিষয়ে ৬৭.৪% এবং বুদ্ধিমান জীবনের বিষয়ে ৫৮.২% বিজ্ঞানী সম্মতি জানিয়েছেন। সুতরাং যদিও অধিকাংশ বিজ্ঞানী মনে করেন ভিন গ্রহে জীবনের অস্তিত্ব থাকতে পারে, তবে তাদের মধ্যে কিছু মনে করেন যে, সেখানকার জীবন সম্ভবত খুব সহজ বা প্রাথমিক স্তরের হতে পারে। মাত্র ১০.২% অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্টই মনে করেন, বুদ্ধিমান জীবনের অস্তিত্ব সম্ভব নয়। এর মাধ্যমে বোঝা যায় সাধারণভাবে বিজ্ঞানীরা ভিন গ্রহের জীবনের অস্তিত্বের ব্যাপারে একমত, কিন্তু জটিল বা বুদ্ধিমান জীবনের ব্যাপারে তাদের মতামত কিছুটা ভিন্ন।তবুও বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু “থিওরিটিক্যাল” প্রমাণের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, ভিন গ্রহে জীবন সম্ভব।

গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। প্রায় ১২% বিজ্ঞানী নিরপেক্ষ অবস্থানে ছিলেন, কারণ তারা মনে করেছিলেন যে, ভিন গ্রহে জীবনের অস্তিত্বের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এটি বৈজ্ঞানিক সুরক্ষার অংশ। গবেষণায় “নিরপেক্ষ” ভোেট দেওয়া প্রায়ই বিজ্ঞানীদের জন্য একটি নিরাপদ বিকল্প হয়ে থাকে, কারণ এতে তাদের কোনো ভুলের সম্ভাবনা থাকে না। এমনকি তারা সঠিক বা ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়েও ভবিষ্যতের নতুন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের মতামত পরিবর্তন করতে পারেন।

আরও একটি দৃষ্টিকোণ থেকে ফলাফল উপস্থাপন করা যেতে পারে। যদি আমরা নিরপেক্ষ ভোেটগুলো বাদ দিয়ে দিই, তাহলে ৪৬১টি ভোটের মধ্যে ৪৫১টি “সম্মত” বা “পুরোপুরি সম্মত” ভোেট হয়েছিল। এতে সম্মতির হার দাঁড়ায় ৯৭.৮%। বিজ্ঞানীরা জানেন যে, “নিরপেক্ষ” নির্বাচন করলে তারা কখনো ভুলে যেতে পারবেন না, তাই এটি একটি নিরাপদ পন্থা। তবে এটা যে শুধু সুরক্ষা নয়, বরং গবেষণার সঠিক পথ অনুসরণও হতে পারে, তা বলা যায়। এখান থেকে আমরা গ্যালাক্সি এবং আরও বৃহত্তর মহাবিশ্বে বাসযোগ্য পরিবেশের একটি আসল সংখ্যাকে সাধারণভাবে বুঝতে পারি। আমরা আরো জানি যে, জীবন অ-জীবন থেকে শুরু হতে পারে-এই ঘটনা পৃথিবীতে ঘটেছে। যদিও প্রথম সহজ জীবন সৃষ্টির উৎস এখনো অস্পষ্ট, তবে এমন কোনো কারণ নেই যা জীবন শুরু হতে অত্যন্ত বিরল পরিস্থিতি প্রয়োজন বলে দাবি করতে পারে। যদি তা হয়ও, তবে জীবনের উৎপত্তির সম্ভাবনা (অ্যাবিওজেনেসিস) অবশ্যই শূন্য নয়।

ভিন গ্রহে জীবনের অস্তিত্বের বিষয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে সম্মতির হার উচ্চ হলেও, এটি অবশ্যই সরাসরি প্রমাণের ভিত্তিতে নয়, বরং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে এসেছে। এমনকি জীবনের সৃষ্টি হতে পারে এমন সংখ্যাধিক্য বাসযোগ্য পরিবেশের কারণে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে, একই সাথে বিজ্ঞানীরা এমন কোনো দাবি করছেন না, যা এখনও পরীক্ষামূলকভাবে প্রমাণিত হয়নি। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা তাদের অজানা বিষয়ে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করতে চান। সবশেষে যখন এই ধরনের গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়, তখন দুটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তথ্য উপস্থাপন করা উচিত-একটি যেখানে নিরপেক্ষ ভোেট সহ এবং একটি যেখানে নিরপেক্ষ ভোট ছাড়া। এটি গবেষণার সঠিক বিশ্লেষণ এবং পরিসংখ্যানের আসল জটিলতা সঠিকভাবে তুলে ধরবে।

ভিন গ্রহের জীবনের অস্তিত্ব সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এক ধরনের সম্মতি রয়েছে, তবে এটি সবসময় সরাসরি প্রমাণের ওপর নির্ভর করে না। এই গবেষণা আমাদেরকে বুঝতে সাহায্য করে বিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করছেন, এবং নতুন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের ভবিষ্যত সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারে।





সংস্কার আপনাদের দায়িত্ব নয় : আমীর খসরু , বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য

শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের নিয়ে ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন ‘আবার মনে হচ্ছে, এ রকম একটা সুর কেন জানি বাজতে শুরু করেছে যে আমরা এটা সেটা করছি, আমরা চলে গেলে রাজনীতিবিদেরা এই কাজগুলো করবে না, এগুলো পরিপূর্ণভাবে শেষ করতে হবে…! সরি, এটা আপনাদের দায়িত্ব নয়। আগামী দিনে বাংলাদেশের মানুষ যাঁদের নির্বাচিত করে সংসদে পাঠাবে, এটা তাঁদের দায়িত্ব। আপনাদের দায়িত্ব না। এটা ভুলে যাবেন না।’

তিনি আরো বলেন, ‘যাঁরা শেখ হাসিনার সুরে আবার কথা বলছেন…যে আমরা এই কাজ করছি, সেই কাজ করছি; আমরা সংস্কার করব, আমরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করছি ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব গল্প শুনেছি শেখ হাসিনার কাছ থেকে-আমি উন্নয়ন করছি তো বাংলাদেশে, আপনাদের ভোটের দরকার কী, নির্বাচনের দরকার কী; আপনাদের জন্যই তো কাজ করছি। এসব বলে বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকারসহ সব অধিকার শেখ হাসিনা কেড়ে নিয়েছিল।’ দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি তুলে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিন। ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিন। দ্রুত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করুন। বাংলাদেশের মানুষ তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সংসদ গঠন করবে। সরকার গঠন করবে। তাঁরাই আগামী দিনে মানুষের আশা পূরণ করবেন।’

তিনি বলেন নির্বাচন আয়োজন নিয়ে যেসব ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করা হচ্ছে, সেটি বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না। আমীর খসরু বলেন, বিএনপিসহ যাঁরা যুগপৎ আন্দোলনে রাস্তায় ছিলেন, তাঁরা সবাই মিলে ৩১ দফা বাস্তবায়নের ওয়াদা করেছিলেন। ফলে আগামী নির্বাচনের পরে জাতীয় সরকারের মাধ্যমে সেটি বাস্তবায়ন করবেন। সুতরাং এই কাজ নির্বাচিত সরকারের সংসদ করবে। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পরে বাংলাদেশের জনগণের মনোজগতে যে বিশাল পরিবর্তন এসেছে, এটাকে রাজনীতিবিদদের ধারণ করতে হবে।

বিশ্বের প্রথম নারী ট্রাভেল রাইটার আইডা ফাইফার

উনবিংশ শতাব্দীর ইউরোপে নারীদের একা দূরে ভ্রমণ ছিল বিরল ঘটনা। সমাজের কঠোর নিয়ম-কানুন ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা নারীদের জন্য ভ্রমণকে কল্পনার বাইরে রেখেছিল। তবে আইডা ফাইফার সেই প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে দিয়ে বিশ্বভ্রমণে বের হন, যা তাকে নারীদের মধ্যে অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। তিনি শুধু ভ্রমণ করেননি, তার অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করে ভ্রমণসাহিত্যকেও সমৃদ্ধ করেছেন। ১৮৪২ সালে, ৪৫ বছর বয়সী আইডা ফাইফার তার প্রথম দীর্ঘ ভ্রমণে বের হন। ভিয়েনার এক সাধারণ গৃহিণী হিসেবে তিনি কোনো সামাজিক মর্যাদা বা প্রচুর অর্থসম্পদেরও অধিকারী ছিলেন না। পরিবার ও বন্ধুদের কাছে তিনি বলেছিলেন যে তিনি কনস্টান্টিনোপলে এক বন্ধুর কাছে যাচ্ছেন, কিন্তু তার আসল গন্তব্য ছিল বর্তমান ইসরায়েল।

নারীর একাকী ভ্রমণ তখন ছিল এক দুঃসাহসিক সিদ্ধান্ত। তবু তিনি সাহস নিয়ে স্টিমারে উঠে দানিউব নদী অতিক্রম করেন এবং কৃষ্ণ সাগর পেরিয়ে পবিত্র ভূমিতে পৌঁছান। তার এই ভ্রমণ প্রায় নয় মাস স্থায়ী ছিলো যার মধ্যে তিনি মিশর, ইতালি ও আরও কয়েকটি অঞ্চল ভ্রমণ করেন। তিনি কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই নৌযানের স্রোতে টিকে ছিলেন, মরুভূমিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন, এমনকি পথে তাকে অপমান ও হয়রানির শিকারও হতে হয়। কিন্তু ইচ্ছাশক্তি তাকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

তৎকালীন সমাজে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করা নারীর জন্য অসম্মানজনক মনে করা হতো। কিন্তু এক প্রকাশকের উৎসাহে তিনি তার অভিজ্ঞতা লিখতে শুরু করেন। তার প্রথম বই, “Journey of a Viennese Lady to the holy land”, ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং তাকে একজন খ্যাতনামা ভ্রমণলেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর তিনি একের পর এক বিশ্ব ভ্রমণে বের হন এবং তার অভিজ্ঞতা বইয়ে রূপান্তরিত করেন।

আইডা ফাইফার ১৬ বছরের ভ্রমণজীবনে ১,৫০,০০০ মাইল জলপথ এবং ২০,০০০ মাইল স্থলপথ অতিক্রম করেন। ১৮৪৫ সালে তিনি স্ক্যান্ডিনেভিয়া ও আইসল্যান্ডে যান, যেখানে আগ্নেয়গিরি ও গরম জলের জলপ্রপাত পরিদর্শন করেন। তিনি নতুন ভাষা শেখেন, ছবি তোলা শিখেন এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক নমুনা সংগ্রহ করতেন, যেগুলো পরবর্তীতে জাদুঘরে বিক্রি করে তার পরবর্তী ভ্রমণের জন্য অর্থ সংস্থান করেন। ১৮৪৬ সালে তিনি একটি পালতোলা জাহাজে আটলান্টিক পেরিয়ে ব্রাজিলে যান এবং এরপর দক্ষিণ আমেরিকা, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ, ভারত ও ইরান ভ্রমণ করেন।

তার ভ্রমণ কেবলই বিনোদনের জন্য ছিল না, প্রতিটি যাত্রায় তিনি নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন। কখনও তিনি অরণ্যে পথ হারান, কখনও উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের মাঝে নিজেকে শক্ত করে ধরে রাখেন। একবার তিনি নিজেকে ওডিসিয়াসের মতো এক নৌকার মস্তকে বাঁধতে বলেন, যেন তিনি ঝড়ের প্রকৃত রূপ অনুভব করতে পারেন। মিশরে একবার এক গাধার চালক তাকে প্রতারণা করার চেষ্টা করলে তিনি তার চাবুক দিয়ে তাকে শাস্তি দেন। এসব ঘটনা উনবিংশ শতাব্দীর একজন নারীর সাহসী চরিত্রের প্রমাণ।

ফাইফারের বই ৭টি ভাষায় অনূদিত হয় এবং সে সময়ের বিশ্বব্যাপী সংবাদপত্রগুলোতে তার দুঃসাহসিক অভিযাত্রার খবর প্রকাশিত হয়।প্রুশিয়ার রাজা তাকে শিল্প ও বিজ্ঞানে অবদানের জন্য স্বর্ণপদক প্রদান করেন। ভ্রমণকারীদের মধ্যে আলেকজান্ডার ফন হামবোল্ট ও কার্ল রিটার তার প্রশংসা করেন। এর ফলে তিনি বার্লিন ও প্যারিসের ভূগোল সমিতির প্রথম নারী সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পান। তার সংগ্রহ করা উদ্ভিদ ও প্রাণীর নমুনাগুলো এখনো ইউরোপের বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। তার শেষ অভিযান ছিল মাদাগাস্কার ও মৌরিতানিয়ায়, যেখানে তিনি এক রাজনৈতিক অভ্যুত্থানের মাঝে পড়ে দেশ থেকে বহিষ্কৃত হন। এই ভ্রমণের সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ১৮৫৮ সালে অস্ট্রিয়ায় ফিরে মারা যান। তিনি তার বইগুলোর মাধ্যমে নারীদের বিশ্বভ্রমণের নতুন পথ দেখিয়েছেন।

তার মৃত্যুর পরও তার লেখা বহু বছর জনপ্রিয় ছিল এবং ১৯শ ও ২০শ শতকের আরও অনেক নারী তার পথ অনুসরণ করে একা বিশ্বভ্রমণে বের হন। আইডা ফাইফার ছিলেন নারীদের মধ্যে এক অনন্য অভিযাত্রী, যিনি শুধু নিজেকে প্রমাণই করেননি বরং সমাজের চোখে নারীদের ক্ষমতার নতুন সংজ্ঞা স্থাপন করেছিলেন। তার জীবন কাহিনি আজও নারীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে। আইডা ফাইফারের গল্প শুধু ভ্রমণের গল্প নয়, এটি সাহস, অধ্যবসায় এবং আত্মনির্ভরশীলতার প্রতীক। তার জীবন আমাদের শেখায় যে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে ইচ্ছাশক্তি আর নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার মাধ্যমে যে কেউ তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।




গাজায় হামাসবিরোধী বিক্ষোভ কী বার্তা দিচ্ছে

গত কয়েক দিনে গাজা ভূখণ্ডে হামাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভঅনেককেই অবাক করেছে। বিশ্লেষকেরাও এই বিক্ষোভকে স্বতঃস্ফূর্ত বা খাঁটি বলে মনে করতে দ্বিধা বোধ করছেন। কারণ, দশক ধরে হামাস কঠোর হাতে গাজা শাসন করেছে এবং যেকোনো ধরনের ভিন্নমত দমন করেছে। তাই বিরল এই আন্দোলন কি স্বতঃস্ফূর্ত, নাকি এটি কোনো বিশেষ কৌশলের অংশ-এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকের মধ্যে।উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। সাধারণত গাজায় প্রতিবাদ মানেই ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান। কিন্তু এবারের বিক্ষোভের অন্যতম ব্যতিক্রম ছিল সরাসরি হামাসবিরোধী স্লোগান, যেখানে বিক্ষোভকারীরা চিৎকার করে বলছিলেন-‘হামাস, গেট আউট!’-গাজায় হামাসের দীর্ঘ ১৮ বছরের শাসনে এমন স্লোগান অভূতপূর্ব।

বিক্ষোভকারীরা হামাস নেতাদেরও সমালোচনা করেছেন। বিশেষত হামাস নেতা ওসামা হামদানকে লক্ষ্য করে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।বন্দিবিনিময়ের মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান চেয়েও স্লোগান দিতে শোনা যায়, যা ইসরায়েলি জিম্মিদের ইঙ্গিত করছিল। তবে প্রথম দিকে হামাসের শীর্ষ নেতারা এই বিক্ষোভকে অস্বীকারের চেষ্টা করেন। হামাস নেতা হামদান দাবি করেন, এই বিক্ষোভ ইসরায়েল কর্তৃক সংগঠিত। অন্যদিকে হামাসের আরকে নেতা বাসেম নাইম কাতারের আল-আরাবি টেলিভিশনকে বলেন, এই বিক্ষোভে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল প্রভাব বিস্তার করেছে, যাতে হামাসের বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করা যায়।

হামাস ও আল জাজিরার মতো তাদের ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমও প্রথমে এই বিক্ষোভ এড়িয়ে যায়। তারা ইসরায়েলবিরোধী স্লোগানগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে এবং হামাসবিরোধী বক্তব্য পুরোপুরি এড়িয়ে যায়। অবশ্য শেষ পর্যন্ত আল-জাজিরা স্বল্প সময়ের জন্য বিক্ষোভের কথা স্বীকার করলেও এর অর্থ ও প্রভাব নিয়ে কোনো বিশ্লেষণ করেনি। তবে এই আন্দোলনকে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের আহ্বান বলে মনে করা যাবে না। গাজার অধিকাংশ মানুষ এখনো প্রতিরোধের ধারণাকে সমর্থন করে এবং হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জাদিন আল-কাসসাম ব্রিগেড এখনো তাদের কাছে নায়ক। তবে এই বিক্ষোভ মূলত হামাসের প্রশাসনিক শাসনের বিরুদ্ধে, যা গাজীর জনগণের দুঃখ-দুর্দশার জন্য দায়ী।

ইসরায়েলও এই বিক্ষোভে কিছুটা হতচকিত হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ গাজাবাসীদের আহ্বান জানিয়েছেন, ‘বেইত লাহিয়ার জনগণের কাছ থেকে শিক্ষা নিন, হামাসের পতনের দাবি তুলুন।’ কিন্তু এই আহ্বান হামাসের জন্য আরও একটি সুযোগ এনে দিতে পারে, যেখানে তারা বিক্ষোভকারীদের ‘ইসরায়েলের দোসর’ হিসেবে চিত্রিত করবে এবং কঠোরভাবে দমন করবে। গাজায় একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যা হামাস ও ইসরায়েল উভয়ের জন্য নতুন কৌশল নির্ধারণের ইঙ্গিত বহন করছে।


গরম বনাম ঠান্ডা পানির গোসল , কোনটি আপনার জন্য উপকারী ?

একটি ব্যস্ত দিনের পর আরাম ও পুনরুজ্জীবনের জন্য আমরা গরম পানিতে গোসলের চিন্তা করি। তবে সকালে সতেজ বোধ করতে ঠান্ডা গোসলই হতে পারে আপনার শরীরের জন্য আদর্শ। যদি কৌতূহল হয় যে গরম ও ঠান্ডা গোসলের স্বাস্থ্যগত সুবিধা কী, তাহলে জেনে নিন কোন তাপমাত্রা আপনার জন্য ভালো এবং এটি কীভাবে আপনার সুস্থতা প্রভাবিত করে।

ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা
ঠান্ডা গোসল আপনার ত্বকের পোরস সাময়িকভাবে সংকুচিত করে, যা ত্বক ও চুলের প্রাকৃতিক তেল সংরক্ষণে সাহায্য করে। তাই যদি আপনার ত্বক শুষ্ক হয় বা চুল ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে মাঝে মাঝে ঠান্ডা পানিতে কুলকুচি করা ভালো হতে পারে।অন্যদিকে, গরম পানি দিয়ে গোসল রন্ধ্রকে খুলে দেয়, ফলে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার হয়। তাই যদি মনে করেন আপনার ত্বকের গভীর পরিষ্কার প্রয়োজন বা ব্রণের সমস্যা রয়েছে, তাহলে হট শাওয়ার সহায়ক হতে পারে।

রক্ত সঞ্চালন
ঠান্ডা পানিতে শরীর ডুবিয়ে দিলে হৃদযন্ত্র দ্রুত কাজ করে এবং রক্তসঞ্চালন বেড়ে যায়, এটি হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। ফলে ধীরে ধীরে ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো হয় এবং দাগ-ছোপ কমে যেতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘ কর্মব্যস্ত দিনের পর শরীর যদি ক্লান্ত বা শক্ত হয়ে যায়, তাহলে গরম পানিতে গোসল আপনার শরীরকে শিথিল করতে পারে। গরম পানি রক্তনালী সম্প্রসারিত করে, যা রক্তচাপ কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে।

শরীরের মেটাবলিজম
ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে বিপাক হার সাময়িকভাবে বৃদ্ধি পায়, ওজন কমানোর প্রচেষ্টায় সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে গরম পানির স্নানও কিছু ক্যালরি পোড়াতে পারে। উষ্ণ পানির আরামদায়ক প্রভাবের কারণে হৃদযন্ত্রকে বেশি কাজ করতে হয়, ফলে রক্তপ্রবাহ ত্বকের দিকে বাড়ে এবং শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য ক্যালরি খরচ হয়। তবে শুধু গরম বা ঠান্ডা গোসল করে কখনোই নিয়মিত ব্যায়ামের মতো ক্যালরি পোড়ানো সম্ভব নয়।

হাড় ও জয়েন্টের যত্ন
গরম পানি হাড়ের জন্য সহনশীল এবং চলাচলে সহায়তা করে, তাই আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য গরম গোসল সকালে বেশি উপকারী হতে পারে। তবে ঠান্ডা পানির প্রদাহ-বিরোধী প্রভাব অ্যাথলেটদের জন্য উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে যারা চোট পেয়েছেন বা ব্যায়ামের ফলে শরীরের কিছু অংশ ব্যথাযুক্ত হয়ে গেছে। মনে রাখার বিষয় হচ্ছে গরম বা ঠান্ডা গোসল কখন করা উচিত, তা আপনার শরীরের চাহিদার উপর নির্ভর করে। যদিও উভয়েরই স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, কিন্তু অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার গোসল শরীরের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তাই চূড়ান্ত মাত্রার গরম বা ঠান্ডা পানি ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।


স্থবির অর্থনীতিতে গতি আনছে ঈদ

ঈদ উৎসব ঘিরে বাড়ছে কেনাকাটা। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবারের ঈদে ক্রেতা সমাগম বাড়লেও গত বছরের তুলনায় বিক্রি এখনো ৩০% কম। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে এক লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকার মতো ব্যবসা হয়। তার আগের বছর ২০২৩ সালে ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসা হয় এক লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এবার ঈদ কেন্দ্রিক বিক্রি আড়াই লাখ কোটি টাকার কম হতে পারে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। সাধারণত প্রতিবছর বিক্রি কমপক্ষে ১০% বাড়ে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদ কেন্দ্রিক ক্রেতারা যে অর্থ ব্যয় করেন, তার ৮০%-ই যায় পোশাকের জন্য। পাশাপাশি জুতা, অর্নামেন্টস, প্রসাধনী, ঘর সাজানোর জিনিস এবং কিছু আসবাবও বিক্রি হয়।

দোকান, শপিং মল ছাড়াই ঈদ কেনাকাটা হচ্ছে ই-কমার্সেও। অনলাইনেও এবার বেচাকেনা কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফুটপাতের মার্কেটগুলোতে দেখা যাচ্ছে অল্প টাকায় দরদাম করে নিম্নবিত্তদের পোশাক কেনার পরিবর্তে এক দামে মধ্যবিত্তরাই কিনছে বেশি।ঈদের কেনাকাটা বেশিরভাগ নিম্নবিত্তদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষ খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতায় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা চলছে। শ্রমিক অসন্তোষসহ নানা কারণে শতাধিক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে লাখো কর্মী কাজ হারিয়েছেন। এতে কমেছে তাঁদের ক্রয়ক্ষমতা।

ছোট হয়ে আসছে বিদেশের শ্রমবাজার

গত কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের শ্রমবাজার ক্রমেই সংকুচিত হয়ে চলেছে। এরমধ্যে গতবছর বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৩০% কমেছে। বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ১০ লাখ ১১ হাজার ৮৬৯ জন কর্মী বিদেশে গিয়েছেন। এর মধ্যে ৯৫% কর্মী গিয়েছেন মাত্র পাঁচটি দেশে – সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কাতার, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০২৩ সালে ১৩ লাখ ৭ হাজার ৮৯০ জন কর্মী বিদেশ পাঠানো হয়।

তিনটি বড় শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ। এগুলো হলো – মালয়েশিয়া, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ ছাড়া সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলোতে নিয়োগ কমে যাওয়ায় এবং মালয়েশিয়া, ওমানের পাশাপাশি বাহরাইনের শ্রমবাজারও বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর মাঝে অবশ্য সরকার নতুন শ্রমবাজার খোলার চেষ্টা করছে, তবে তাদের সাফল্যকে এখনো পর্যাপ্ত বলা যায় না। বিদ্যমান বাজারগুলো চালু করতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী পাঠানোর হার একেবারেই কম। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান প্রতিশ্রুতিশীল শ্রমবাজার হলেও ভাষা ও পেশাগত দক্ষতার অভাবে অনেকেই সেখানে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছেন না।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘সরকার দাবি করে বাংলাদেশ থেকে ১৬৮টি দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে ৯৫ শতাংশ কর্মীই যাচ্ছে মাত্র ছয়টি দেশে। বাকি দেশে নামমাত্র কর্মী পাঠানো হচ্ছে, কোথাও তা মাত্র ২ থেকে ৩/৪ শতাংশ।’ বাংলাদেশে প্রায় সব ইউরোপীয় দেশের দূতাবাস থাকলেও কর্ম ভিসার জন্য ভারত বা নেপালের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়, যা বাংলাদেশিদের ইউরোপে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।

একটি গ্রীষ্মহীন বছর , ১৮১৬ সালের দুর্যোগ কি আমাদের ভবিষ্যতের সংকেত ?

১৮১৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট টাম্বোরা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বৈশ্বিক জলবায়ুর ওপর এক বিশাল পরিবর্তন ডেকে আনে। এটি ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতগুলোর মধ্যে একটি ছিল। এই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে আনুমানিক ১০০ কিউবিক কিলোমিটার ছাই, গ্যাস ও ধূলিকণা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। ভারী উপাদান মাটিতে এবং সমুদ্রের পৃষ্ঠে পড়ে যায়, কিন্তু হালকা কণাগুলো স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে পৌঁছে অস্ট্রেলিয়ার সমান একটি অ্যারোসোল মেঘ তৈরি করে। এই মেঘ সূর্যালোককে পৃথিবীতে পৌঁছাতে বাধা দেয় এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২-৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হ্রাস পায়। ফলে ১৮১৬ সালের গ্রীষ্ম এক ভয়ানক বিপর্যয়ে পরিণত হয়।

সেই বছর ইউরোপ ও আমেরিকার বহু অঞ্চলে শস্য উৎপাদন ব্যাহত হয়। সূর্যালোকের অভাব ও প্রচণ্ড শীতের কারণে কৃষিকাজ ব্যাহত হয়, ফলে খাদ্য সংকট দেখা দেয়। ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যশস্য ও ওটের দাম আকাশচুম্বী হয়। আয়ারল্যান্ডে প্রবল বৃষ্টিপাত শস্য ধ্বংস করে, ভারতে নতুন ধরনের কলেরায় লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারায়, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যায় এবং বহু মানুষ অনাহারে মারা যায়।

ইউরোপীয় অভিবাসীরা মূলত পূর্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে সেখানে বসতি স্থাপন করেছিল। বসন্তের বৃষ্টি এবং গ্রীষ্মের উষ্ণতা তাদের কৃষির জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছিল। তবে ১৮১৬ সালে সেই প্রত্যাশা ভেস্তে যায়। নিউ ইয়র্ক, ম্যাসাচুসেটস, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও ভার্মন্টে মে মাসের তুষারপাত শস্য নষ্ট করে দেয়। জুন মাসে নিউ ইয়র্কের অ্যালবানি এবং মেইনের ডেনিসভিল শহরে ভারী তুষারপাত হয়। নিউজার্সির কেপ মে অঞ্চলে টানা পাঁচ রাত তুষারপাত অব্যাহত থাকে। জুলাই মাসে উত্তর-পশ্চিম পেনসিলভানিয়ায় হ্রদ ও নদীগুলো বরফে জমে যায় এবং ভার্জিনিয়াতেও আগস্ট পর্যন্ত ঠান্ডা আবহাওয়া বিরাজ করে।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আব্রাহাম লিঙ্কনের পরিবারকেও প্রভাবিত করেছিল। কনব ক্রিক ফার্মে বসবাসকালে লিঙ্কনের পরিবারের ফসল বিনষ্ট হয়েছিল, যার ফলে তাদের জন্য এক ভয়াবহ শীতকাল অপেক্ষা করছিল। খাদ্যের অভাব তাদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তোলে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে আমেরিকার বহু মানুষ নতুন আবাসের সন্ধানে পশ্চিম দিকে পাড়ি জমায়। ১৮১৬ সালের এই বিপর্যয় কেবল খাদ্য সংকট ও শীতল আবহাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, এটি সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতেও প্রভাব ফেলেছিল। ঐ সময় সুইজারল্যান্ডের লেক জেনেভায় অবস্থিত এক গ্রীষ্মকালীন বাসভবনে একদল সাহিত্যিক আবহাওয়ার কারণে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন। এই সাহিত্যিকদের মধ্যে ছিলেন মেরি শেলি, লর্ড বাইরন এবং জন পলিডরি। তুষারপাত ও বজ্রপাতের এক ভীতিকর রাতে মেরি শেলি তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ লেখার অনুপ্রেরণা পান।

এই অস্থায়ী “ক্ষুদ্র হিমযুগ” আমাদের দেখিয়ে দিয়েছিল যে, মাত্র কয়েক ডিগ্রি তাপমাত্রার পরিবর্তন কী ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। ২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বাড়বে বলে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন। তবে ১৮১৬ সালের বিপর্যয় ছিল প্রকৃতির সৃষ্টি, আর বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তন সম্পূর্ণ মানবসৃষ্ট। মানুষ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নিজেদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে আরও ঘন ঘন ও তীব্র ঝড়, হারিকেন, টর্নেডো, দাবানল এবং খরা দেখা দিচ্ছে। ১৮১৬ সালের “গ্রীষ্মহীন বছর” কি এতকাল পর এসে আমাদের ভবিষ্যতের পূর্বাভাস দিচ্ছে?

সবকিছু নির্ভর করছে আমাদের ওপর। আমরা যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিই, তবে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে স্থায়ী দুর্যোগ, যেটা ১৮১৬ সালের তুলনায় অনেক বেশি ভয়ঙ্কর হবে। পরিবেশ রক্ষায় টেকসই কৃষি, সবুজায়ন এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের গতি কমাতে পারি। শিল্প কারখানার দূষণ কমিয়ে, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করে এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে আমরা জলবায়ুর ওপর আমাদের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে পারি। বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যক্তি ও রাষ্ট্র উভয়েরই উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষার প্রসার এবং নতুন প্রযুক্তির উন্নয়নই হতে পারে ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলার মূল চাবিকাঠি। ভবিষ্যতের পৃথিবী আমাদের হাতে এবং এই সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ আমাদেরকেই খুঁজে নিতে হবে।