Home Blog Page 149

স্মৃতি রিপ্রোগ্রামিং টেকনিক মুছে দেবে খারাপ স্মৃতি

0

আমাদের মস্তিষ্কে স্মৃতি একটি অদ্ভুত, জটিল এবং শক্তিশালী প্রক্রিয়া। এই স্মৃতিগুলি আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে এবং খারাপ বা ট্রমাটিক স্মৃতিগুলি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে বিঘ্নিত করে। তবে বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি একটি নতুন স্মৃতি-রিপ্রোগ্রামিং প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছেন, যা খারাপ স্মৃতিগুলির প্রভাব দুর্বল করতে সাহায্য করতে পারে। এটি বিশেষ করে তাদের জন্য উপকারী যারা PTSD (পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার), উদ্বেগ বা ট্রমা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত। এই প্রযুক্তিটি ঘুমের মধ্যে স্মৃতি পুনঃপ্রোগ্রাম করার মাধ্যমে নেতিবাচক স্মৃতিগুলিকে দুর্বল করার পদ্ধতি ব্যবহার করে, যা ভবিষ্যতে স্মৃতি সংশোধনের এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের মধ্যে স্মৃতির পুনঃপ্রোগ্রামিং প্রযুক্তি নেতিবাচক স্মৃতিগুলির পুনঃস্মরণ কমিয়ে দেয় এবং ইতিবাচক স্মৃতির পুনঃস্মরণ বাড়িয়ে দেয়। এই গবেষণাটি Proceedings of the National Academy of Sciences-এ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে গবেষকরা জানিয়েছেন যে তারা একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন যা নেতিবাচক স্মৃতিগুলির সাথে ইতিবাচক স্মৃতির সংযোগ স্থাপন করে, যার ফলে নেতিবাচক স্মৃতিগুলি দুর্বল হয়ে যায় এবং ইতিবাচক স্মৃতিগুলি বেশি মনে পড়ে।

গবেষণার পদ্ধতি ছিল, প্রথমে অংশগ্রহণকারীদেরকে নেতিবাচক চিত্রগুলির সাথে কিছু অর্থহীন শব্দের সম্পর্ক শিখানো হয়। পরের দিন কিছু অর্থহীন শব্দ ইতিবাচক চিত্রের সাথে পুনঃপ্রোগ্রাম করা হয়। পরবর্তীতে ঘুমের সময় সেই শব্দগুলির রেকর্ডিং বাজানো হয় এবং মস্তিষ্কের কার্যকলাপ মনিটর করা হয়। গবেষকরা লক্ষ্য করেছিলেন যে ইতিবাচক শব্দগুলির সাথে সংযুক্ত সংকেত ব্যবহারের ফলে থিটা-ব্যান্ডের কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়, যা আবেগজনিত স্মৃতির প্রক্রিয়া সঙ্গতিপূর্ণ।

এছাড়া পরীক্ষার পর দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীরা নেতিবাচক স্মৃতি কম স্মরণ করেছেন। অর্থাৎ নেতিবাচক স্মৃতির ক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেছে এবং ইতিবাচক স্মৃতিগুলি বেশি উঠে এসেছে। এই গবেষণার ফলাফলগুলি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক, কারণ এটি ট্রমা, PTSD বা উদ্বেগের শিকার ব্যক্তিদের জন্য নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির পথ খুলে দিতে পারে।

এই পদ্ধতি একটি আক্রমণাত্মক হস্তক্ষেপ, যেটা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকলাপের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, কিন্তু কোনো ধরনের ওষুধ বা বাহ্যিক চিকিৎসা নয়। এটি শুধুমাত্র ঘুমের মধ্যেই করা হয়, যেখানে মস্তিষ্ক তার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।এই প্রযুক্তিটি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বিশ্লেষণ করতে আরো গবেষণার প্রয়োজন হলেও, এটি ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

এখানে সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো খারাপ স্মৃতির শক্তি দুর্বল করে, যারা এর ফলে ক্রমাগত উদ্বেগ, ফ্ল্যাশব্যাক বা অনুপ্রবেশকারী স্মৃতির শিকার, তাদের জীবনযাত্রাকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব হতে পারে। এর মাধ্যমে মানসিক রোগের প্রভাব কমানো এবং ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানো যেতে পারে।

অতএব স্মৃতি পুনঃপ্রোগ্রামিংয়ের এই নতুন পদ্ধতি ভবিষ্যতে ট্রমা এবং উদ্বেগের চিকিৎসায় এক বিপ্লব ঘটাতে পারে এবং এটি আমাদের মস্তিষ্কের ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে একটি নতুন আলো দেবে।




কিছু মানুষ অল্প ঘুমিয়ে কীভাবে সুস্থ থাকে ?

আমরা সবাই শুনেছি রাতে সাত থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো কতটা জরুরি। বলা হয়, এ সময়ের চেয়ে কম ঘুমালে স্বল্প বা দীর্ঘ মেয়াদে স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে। যেমন- স্মৃতিশক্তির সমস্যা, বিপাকে সমস্যা, হতাশা, ডিমনেশিয়া, হৃদরোগ এবং দুর্বল ইমিউন সিস্টেম। তবে সম্প্রতি গবেষকরা দেখছেন, কিছু মানুষ যারা নিয়মিতভাবে কম ঘুমিয়েও তাদের শরীর বা মনের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। স্বাভাবিকভাবে এ স্বল্প-ঘুমানো ব্যক্তিদের ন্যাচারাল শর্ট স্লিপারস বলা হয়। এদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্যই এমন। তাদের রাতে মাত্র চার থেকে ছয় ঘণ্টা ঘুমেই পর্যাপ্ত বিশ্রাম পান।

এ জেনেটিক বৈশিষ্ট্যধারীরা প্রমাণ করেন যে, ঘুমের পরিমাণের চেয়ে ঘুমের গুণগত মান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এসব ব্যক্তিদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য আলাদা করা গেলে গবেষকরা ঘুমের প্রকৃতি সম্পর্কে আরও বৈজ্ঞানিক তথ্য আবিষ্কার করতে পারবেন। আজকের দিনে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতি রাতে পাঁচ ঘণ্টারও কম ঘুমাচ্ছেন।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (সান ফ্রান্সিসকো) একজন স্নায়ুবিজ্ঞানী লুই পটাচেক ও তার সহকর্মী ইং-হুই ফুয়ের কাজ করতে গিয়ে এমন একটি পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হন যাদের খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস হলেও তারা ঘুমাতে যেতেন দেরিতে। আর মাত্র ছয় ঘণ্টা ঘুমেই তারা সতেজ অনুভব করতেন। তারাই ছিলেন প্রথম পরিবার যাদের মধ্যে ন্যাচারাল শর্ট স্লিপের অস্তিত খুঁজে পান গবেষকরা। তাদের এ জিনগত বৈশিষ্ট্য তারা উত্তরাধিকারসূত্রেই পেয়েছেন বলে জানান তারা। ফু ও পটাচেক তাদের এ কম ঘুমের কারণ হিসেবে তাদের দেহের ডিইসি-২ নামক জিনের মিউটেশনকে দায়ী করেন।

গবেষকরা ডিইসি-২ মিউটেশনকে ইঁদুরের জিনে প্রবেশ করান এবং দেখতে পান যে, ইঁদুরগুলো তার সঙ্গীদের তুলনায় কম ঘুমাচ্ছে। এসব বিষয় গবেষণা করতে গিয়ে গবেষকরা স্বল্প ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন ৭টি জিন চিহ্নিত করেন। এখনো স্পষ্ট নয় যে, কম ঘুমের জন্য দায়ী জিনগুলো কীভাবে মানুষের ওপর খারাপ ঘুমের নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা করে অথবা এসব জিনের মিউটেশন কীভাবে ঘুমকে আরও কার‍্যকর করে তোলে। পটাচেক বিরক্ত হন যখন তিনি শুনেন, ‘সবার রাতে আট ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিষয়টি অনেকটা জনসংখ্যার সবার উচ্চতা ৫ ফুট ১০ হওয়া উচিত বলার মতো।’

সেলফ – হেল্প এর দর্শন

সেলফ-হেল্প শুধুমাত্র একটি আধুনিক ধারণা নয়, বরং এটি প্রাচীন দর্শনের গভীর শিকড়ের সাথেও সম্পর্কিত। সেলফ-হেল্পে প্রাসঙ্গিকতা মুলত যদি কেউ নিজের উন্নতি করতে চায়, তাহলে তার নিজস্ব মনোভাব ও প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে শিখতে হবে।সকলেরই প্রতিকূল পরিস্থিতিকে অজুহাত না বানিয়ে, সেটিকে শেখার একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। আত্মনিয়ন্ত্রণ একটি ব্যাপক মানসিকতা, একটি কাঠামো, যা মানুষকে জীবনের জটিলতাগুলোর মধ্যে দিয়ে নির্দিষ্ট মাত্রার স্বচ্ছন্দে চলতে সহায়তা করে। এটি যেন একটি অভ্যন্তরীণ দিকনির্দেশক কম্পাস, যা এমন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে যেটি মূল মূল্যবোধ এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

স্টোইক দর্শন (Stoicism) বলে নিয়ন্ত্রনে যা আছে, সেটির উপর মনোযোগ দিন। আমরা বাহ্যিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, তবে আমরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব, সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। নিজেকে বদলাতে চাইলে কষ্ট ও সংগ্রামকে ভয় না পেয়ে বরং তা গ্রহণ করা শিখতে হবে। সেলফ-হেল্প মানে নিজের জন্য সহজ পথ খোঁজা নয়, বরং নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার সাহস অর্জন করা। কনফুসিয়াস বলেছিলেন, সমাজ বা বাহ্যিক অর্জন নয়, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও আত্ম-উন্নয়নই আসল লক্ষ্য।

বৌদ্ধ দর্শনে আত্ম-উন্নয়ন মানে নিজের অহংকে বিসর্জন দেওয়া। আমাদের দুর্ভোগের মূল কারণ হচ্ছে আমাদের আসক্তি ও প্রত্যাশা। সুখী ও পরিপূর্ণ জীবন পেতে হলে আমাদের নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা ও অহংকে ছাড়তে শেখা দরকার। সেলফ-হেল্প কোনো একদিনের কাজ নয়, এটি একটি ধারাবাহিক দার্শনিক প্রক্রিয়া। স্টোয়িক নিয়ন্ত্রণ, এক্সিস্টেনশিয়াল অর্থ খোঁজা, নীরে আত্ম-অতিক্রম, বৌদ্ধের মনের শান্তি, ও কনফুসিয়াসের নৈতিকতা-এই সবকিছু মিলে সত্যিকারের আত্মোন্নয়ন সম্ভব। সর্বশেষে আত্মোন্নয়ন মানে শুধু সফল হওয়া নয়, বরং একজন উন্নত মানুষ হওয়া, নিজের ক্ষমতাকে বিকশিত করা, এবং নিজের জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলা।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্রতার সম্পর্ক শেষ : কানাডার প্রধানমন্ত্রী

অর্থনীতি থেকে সামরিক, প্রায় সব খাতেই দীর্ঘদিন কানাডার সবচেয়ে বড় মিত্র রাষ্ট্র ছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর সেই সম্পর্ক ভেঙে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। শুক্রবার গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের গতিপথ স্থায়ীভাবে বদলে দিয়েছেন ট্রাম্প। তার মতে, ভবিষ্যতে কোনো বাণিজ্য চুক্তি হলেও সেই সম্পর্ক আর ‘ফিরে আসবে না’। ‘গভীরভাবে একীভূত অর্থনীতি এবং নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের যে পুরোনো সম্পর্ক ছিল, তার সমাপ্তি ঘটেছে,’ বলেন কার্নি।

গার্ডিয়ান জানায়, টোকিও থেকে বার্লিন-প্যারিস পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব মিত্র সরকারই সম্প্রতি গাড়ি আমদানির ওপর ট্রাম্পের দেওয়া শুল্কের কঠোর সমালোচনা করেছে। কিছু দেশ প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এই সিদ্ধান্ত গাড়ির উৎপাদন কমিয়ে দাম বাড়াবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধকে আরও তীব্র করবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪৭৫ বিলিয়ন ডলারের গাড়ি আমদানি করেছে, যার বেশিরভাগই এসেছে মেক্সিকো, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কানাডা ও জার্মানি থেকে। গতকালই প্রতিশোধমূলক শুল্কের ব্যাপারে কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘কানাডাকে সঙ্গে নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তাহলে অনেক বড় মাত্রার-বর্তমানের পরিকল্পিত শুল্কের তুলনায় অনেক বড় পরিমাণে শুল্ক আরোপ করা হবে তাদের ওপর।’

আল জাজিরার রিপোর্ট , ২৫ বিলিয়ন ডলার ফেরানোর মিশনে : আহসান মনসুর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর হাসিনার আমলে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক অভিজাতদের বিদেশে পাচার করা বিপুল অর্থ দেশে ফেরত আনতে জোরালো প্রচেষ্টা শুরু করেছেন। ২৮শে মার্চ ‘বাংলাদেশ আপ এগেইন্টস টাইম টু ফাইন্ড স্টোলেন বিলিয়নস: সেন্ট্রাল ব্যাংক গভর্নর’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অনলাইন আল জাজিরা। সংবাদমাধ্যমটির ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিটকে (আই-ইউনিট) দেয়া এক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে আহসান মনসুর বিদেশে পাচার হওয়া বিপুল অর্থ দেশে ফেরত আনার বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন।

আল জাজিরা বলছে, বাংলাদেশের ১১টি প্রভাবশালী পরিবারকে টার্গেট করে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রভাবশালী এসব পরিবারের বিরুদ্ধে গত এক দশক ধরে বৃটেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে কোটি কোটি ডলার পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। যাদের সম্পদের সন্ধানে ১১টি বিশেষজ্ঞ দলও গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রশ্নবিদ্ধ এই সম্পদের পরিমাণ আঁতকে ওঠার মতো। ১১টি পরিবারের মধ্যে একটির বিরুদ্ধেই ১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। যার মধ্যে একটি ব্যাংক থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ আমানতই তুলে নিয়ে গেছে তারা। ফলত ব্যাংকটি প্রায় ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

আহসান মনসুর, আইএমএফ-এর এর সাবেক অর্থনীতিবিদ। পাচারকৃত অর্থ দ্রুত উদ্ধার করা নিয়ে তিনি বেশ উদ্বিগ্ন। কেননা, দ্রুত সন্ধান না পেলে বেশির ভাগ অর্থ হাওয়া হয়ে যেতে পারে। আহসান মনসুরের সন্ধান কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বৃটেন। বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া আনুমানিক ২৫ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ উদ্ধার এবং জব্দ করার জন্য ইতিমধ্যেই বৃটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কমনওয়েলথ দপ্তর এবং লন্ডনের আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বাংলাদেশ। আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, উল্লিখিত পরিবারগুলোর অনেকেরই এখানে বহু সম্পদ রয়েছে, বিশেষ করে লন্ডনে। তিনি বলেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো আমরা এই সচেতনতা তৈরি করতে চাই যে, বাংলাদেশ সেই দেশগুলোর মধ্যে একটি যেখান থেকে এখানে প্রচুর চুরি হওয়া সম্পদ এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক যখন এসব সম্পদ জব্দ করার দিকে মনোনিবেশ করেছে তখন আহসান মনসুর চাচ্ছেন, বৃটেন এবং অন্যান্য জায়গায় এসব অভিজাত পরিবারের কোটি কোটি ডলার পাচারে সহায়তাকারী আইনজীবী, ব্যাংকার এবং এস্টেট এজেন্টদেরও তদন্তের আওতায় আনা হোক। মনসুর জানিয়েছেন, পাচারকৃত অর্থের নিয়ন্ত্রণ পেতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তিনি স্বীকার করেছেন যে, কর্তৃপক্ষের কাজের মাত্রা এবং জটিলতা নিয়ে লড়াই করার কারণে অর্থ উদ্ধার কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতিতে আগাচ্ছে। তবে বৃটেন সরকার এক্ষেত্রে সহায়তা করছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এসব অপরাধী চক্রের মূল হোতার বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য বিদেশে অর্থ পাচারে সহায়তাকারীদের সঙ্গে দর কষাকষি করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। এমনকি হারিয়ে যাওয়া অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনতে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পরিকল্পনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (ইউএসএআইডি) তহবিল স্থগিত করে দেয়ার ফলে, বাংলাদেশে যে তদন্তকারী সংস্থা কাজ শুরু করার কথা ছিল তাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের পূর্ণ শক্তিতে ঢাকায় থাকার কথা ছিল। তাদেরকে ইউএসএআইডি’র মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়েছে। তবে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আর আসতে পারেনি। যা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।




রাজতন্ত্রপন্থীদের বিক্ষোভ , নিহত ২ , নেপালে অস্থিরতা কেন ?

শুক্রবার (২৮ মার্চ) রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে জড়ো হন হাজারো বাসিন্দা। একপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, বাড়িঘর-দোকানপাট ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ফলে কারফিউ জারি হয়। সংঘর্ষে নিহত হন ২ জন, আহত অন্তত ১৭ জন। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করে বলেন দেশের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন, মানুষের ভালো চাকরি, শান্তি ও সুশাসন পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি শুধু খারাপের দিকেই যাচ্ছে। এদিকে, রাজধানীর অন্য স্থানে প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থা রক্ষা করতে হাজারো মানুষ জড়ো করে রাজনৈতিক দলগুলো। কমিউনিস্ট নেতা ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহল বলেন, নেপালিরা অতীতে ফিরে যাবে না।

নেপালে রাজতন্ত্র বিলুপ্তের সিদ্ধান্তের জন্য ২০০৮ সালে বিশেষ নির্বাচন হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে ২৩৯ বছরের রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে নেপাল হিন্দু রাজ্য থেকে ধর্মনিরপেক্ষ ফেডারেল প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়। তখন থেকে নেপালের শেষ রাজা ৭৭ বছর বয়সী জ্ঞানেন্দ্র কাঠমান্ডুর বাড়িতে সাধারণ নাগরিক হিসেবে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। এর আগে ১৯৯৬-২০০৬ সালের মাওবাদী বিদ্রোহে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। রাজতন্ত্র বিলুপ্তির পর থেকে গত ১৬ বছরে নেপালে ১৪টি সরকার গঠন হয়েছে।রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যার ফলে লাখ লাখ তরুণ কাজের সন্ধানে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছেন।

নেপালের অর্থনীতি মূলত পর্যটন ও বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতের মধ্যে ৮টি নেপালে অবস্থিত, যার মধ্যে মাউন্ট এভারেস্টও রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই দাবি আসলে বর্তমান শাসনব্যবস্থায় জনগণের হতাশারই প্রতিফলন। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে রাজতন্ত্র ও হিন্দু রাষ্ট্রধর্ম ফিরিয়ে আনার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তবে রাজতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন তারা।

নেপালের রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ভারতীয় সাংবাদিক অর্ক ভাদুড়ী শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন “মেইনস্ট্রিম কমিউনিস্ট পার্টিগুলি এবং নেপালি কংগ্রেসের মতো দল জনগণের স্বপ্নের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। নয়া নেপালের নেতারা নিজেদের যাবতীয় সম্ভাবনাকে বলি দিয়েছেন নয়া উদারবাদী অর্থনীতির যূপকাষ্ঠে। তাঁরা নিজেদের পরিণত করেছেন বড় ভূরাজনৈতিক শক্তিগুলির ক্রীড়নকে। কমিউনিস্ট শক্তিগুলি টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে অর্ন্তবিরোধে। এই সবকিছুর প্রেক্ষিতে বৃহৎ শক্তির মদতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দক্ষিণপন্থা। মদত দিচ্ছে রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির মতো ডানপন্থী রাজনৈতিক দল।…”


বাংলাদেশে ভূমিকম্প – কী হবে ?

ভূমিকম্প ঝুঁকির কারণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্ডিয়ান, ইউরেশীয় এবং বার্মিজ-এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সন্ধিক্ষণে অবস্থান করা বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। ইন্ডিয়ান টেকটোনিক প্লেট ক্রমাগত উত্তর দিকে সরতে থাকায় মধুপুর ও ডাউকি ফল্টে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা ৭ মাত্রা বা তার চেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

প্রস্তুতির ঘাটতি
বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ইশরাত ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশ ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে আছে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে বিচ্ছিন্ন কিছু কাজ হলেও কমিউনিটি এবং ভবন নির্মাণের মূল তদারকির জায়গায় কাজ হচ্ছে না। এছাড়া ভূমিকম্প ঘটে গেলে এরপরের ধাপে করণীয় কী-সে বিষয়েও আমাদের কমিউনিটি সচেতন না। আমাদের ওপেন স্পেসের এত সংকট যে, ভূমিকম্প হলে আশ্রয় এবং উদ্ধারের বিষয়টিই আমাদের সবচেয়ে বেশি ভোগাবে। “

ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পুরান ঢাকা ও বসুন্ধরা। পুরান ঢাকার অধিকাংশ ভবনই ঘনবসতিপূর্ণ, দুর্বল ভিত্তির ওপর নির্মিত এবং পুরোনো। অন্যদিকে বসুন্ধরার মতো ভূমির এলাকাগুলোতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবন মেনে যথাযথভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে রাজউক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

ভূমিকম্প পরবর্তী প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা
অধ্যাপক ইশরাত ইসলাম বলেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ভূমিকম্প পরবর্তী ব্যবস্থাপনা। কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রস্তুতি জরুরি। মানুষ কোথায় আশ্রয় নেবে, কোথায় চিকিৎসা নেবে, কোন রাস্তা ব্যবহার করবে-এ বিষয়ে আগেই পরিকল্পনা থাকা দরকার।
এলাকা গুলোয় কমিউনিটি ভিত্তিক উদ্ধারকারী দল গড়ে তুলতে হবে।”

সরকারকে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ
ভূমিকম্পের ক্ষতি কমাতে বিশেষজ্ঞরা চারটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে বলেছেন:
বিল্ডিং কোড মেনে ভবন তৈরি করা

  • বর্তমান ভবনগুলোর যথাযথ মূল্যায়ন করা
  • ভূমিকম্প পরবর্তী ঝুঁকি মোকাবিলার পরিকল্পনা করা
  • ভবন নির্মাণের সময় এলাকার মাটির প্রকৃতি অনুযায়ী ভিত তৈরি করা
  • সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি রাজউকের গবেষণায় বলা হয়েছে, মধুপুর ফল্টে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকার ৪০.২৮ থেকে ৬৫.৮৩ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে। এতে প্রাণহানি হতে পারে । ভূমিকম্পের সময় – সকাল , দুপুর , রাত সম্ভাব্য প্রাণহানি – ২১০,০০০-৩১০,০০০, ২৭০,০০০-৪০০,০০০ , ৩২০,০০০-৫০০,০০০ । একইভাবে সিলেটে যদি ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তাহলে ঢাকার ৪০,৯৩৫ থেকে ৩ লাখ ১৪ হাজার ভবন-মোট ভবনের ১.৯১% থেকে ১৪.৬৬% ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ঢাকায় মোট ভবনের সংখ্যা ২১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি, যার মধ্যে ৫ লাখ ১৪ হাজার কংক্রিটের তৈরি। রাজউকের জরিপ করা ৩,২৫২টি ভবনের মধ্যে ৪২টি ভবনকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলার সুপারিশ করা হয়েছে।
  • অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ও অর্থনৈতিক প্রভাব – ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব আর্থকোয়াক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সিসমোলজি এর অধ্যাপক মোহসেন আশতিয়ানি বলেন, মধুপুর ফল্টে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকার ৪৯.৬% প্রধান সড়ক, ৫৯.৪% নগর সড়ক, ৯৬.২২% প্রধান সেতু এবং ৯৬.৭৯% নগর সেতু ধসে পড়তে পারে। অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ:
  • খাত
  • পরিবহন খাত
  • পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন
  • বিদ্যুৎ অবকাঠামো
  • সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি
  • ১ বিলিয়ন ডলার
  • ৮৮৭ মিলিয়ন ডলার
  • ২৭.১ মিলিয়ন ডলার
  • কেন ঢাকা এত ঝুঁকিতে?
  • বিশেষজ্ঞদের মতে ঢাকার ভূমিকম্পের ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণ:
  • অপরিকল্পিত ও দুর্বল ভবন নির্মাণ
  • ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা
  • নরম ও জলাবদ্ধ পলিমাটি
  • দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ঘাটতি
  • ইতিহাসের ভূমিকম্প ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা – ১৮৯৭ সালের গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়াকে (৮ মাত্রার ভূমিকম্প) তৎকালীন অবিভক্ত বাংলায় ১,৫০০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারান। ১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গল ভূমিকম্প (৭.৬ মাত্রা)-এও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় ।বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের শহরে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ভয়াবহ প্রাণহানি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে। ভূমিকম্পের দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি কমাতে বিল্ডিং কোডের কঠোর প্রয়োগ, দুর্যোগ প্রস্তুতি, কমিউনিটি সচেতনতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি। এখনই যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।



একা থাকাকালীন হার্ট অ্যাটাক ? জেনে নিন বাঁচার জরুরি গাইড

হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়া অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটে। এটি প্রতিরোধ করার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া গেলেও একে সম্পূর্ণভাবে ঠেকানো সম্ভব নয়। একটি জনবহুল স্থানে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হবে সাহায্যের জন্য চিৎকার করা। কিন্তু যদি আপনি বাড়িতে একা থাকেন এবং হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হয়, তাহলে কী করবেন? এখানে কিছু করণীয় উল্লেখ করা হলো।

সাহস করে জরুরি সেবা ডাকুন
আপনি একা থাকুন বা অন্যদের সঙ্গে থাকুন, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হলে সবার প্রথমে জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য ফোন করুন। আপনার বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন, যা যত দ্রুত সম্ভব আপনার কাছে পৌঁছানো দরকার। যারা দ্রুত চিকিৎসা পান, তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এমনকি যদি নিশ্চিত না হন যে এটি সত্যিই হার্ট অ্যাটাক কিনা, তবুও জরুরি সেবায় ফোন করুন।

পরিবারের সদস্য বা বন্ধুদের কাছে সাহায্য চান
পুনরায় ফোন করুন এবং আশপাশের নির্ভরযোগ্য প্রতিবেশী বা আত্মীয়কে দ্রুত আসতে বলুন। হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে পাশে কেউ থাকলে তা সহায়ক হতে পারে। কথা বলার সময় সংক্ষিপ্ত আলাপে থাকুন, যাতে বেশি শ্বাস নিতে বা অতিরিক্ত ক্লান্ত হতে না হয়।কেউ দ্রুত এসে পৌঁছালে, তারাই দ্রুত সাহায্যের ব্যবস্থা করতে পারে।

ওষুধ নিন (যদি চিকিৎসকের পরামর্শ থাকে)
আপনার যদি অ্যাসপিরিন গ্রহণে কোনো সমস্যা না থাকে, তবে জরুরি সেবায় ফোন করার পর এটি খাওয়া নিরাপদ। অ্যাসপিরিন রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করতে পারে, যেটা হার্ট অ্যাটাকের সময় হৃদ্যন্ত্রের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে। তবে অ্যাসপিরিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে পেট থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। মনে রাখবেন, এটি শুধু সাময়িক সহায়তা দেয়, হৃদ্রোগ থেকে সম্পূর্ণ রক্ষা করে না। তাই নিশ্চিতভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কঠিন হলেও শান্ত থাকার চেষ্টা করুন
এমন এক প্রাণঘাতী পরিস্থিতিতে শান্ত থাকা কঠিন, তবে যতটা সম্ভব শান্ত থাকার চেষ্টা করুন। এতে আপনার হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ কমতে পারে। স্বস্তি অনুযায়ী নরম কোনো স্থানে বা মাটিতে বসুন। যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে টাইট পোশাক, বেল্ট বা টাই খুলে ফেলুন। ধীরে ধীরে এবং গভীর শ্বাস নিন, অযথা কাশবেন না এবং যতটা সম্ভব আরাম করুন।

ধীরে ও গভীরভাবে শ্বাস নিন
প্রাকৃতিক প্রবণতা দ্রুত শ্বাস নেওয়ার হলেও, শান্ত ও গভীর শ্বাস নেওয়া রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ বজায় রাখার সর্বোত্তম উপায়।জানালা, দরজা, ফ্যান, বা এসির কাছাকাছি গেলে শরীরে আরও অক্সিজেন প্রবেশ করতে পারে। যদি সম্ভব হয়, প্রাকৃতিক আলো ও খোলা বাতাসের সংস্পর্শে থাকুন। হার্ট অ্যাটাক হলে এক ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। এক ঘণ্টার বেশি দেরি করলে হৃদ্যন্ত্রের কোষগুলোর পুনর্জন্মের সম্ভাবনা কমে যায়। আদর্শভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ধমনিটি ৯০ মিনিটের মধ্যে খুলতে হবে, যাতে ক্ষতি কম হয়। এছাড়াও আপনার খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম, পুনর্বাসন, ঘুমের ধরন, ও দৈনন্দিন জীবনের অন্যান্য দিক পরিবর্তনের মাধ্যমে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমানোর উপায় সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

টেলিপ্যাথি বা মনস্তাত্ত্বিক শক্তি প্রমাণে গ্যাঞ্জফেল্ড এক্সপেরিমেন্ট

গ্যাঞ্জফেল্ড এক্সপেরিমেন্ট হলো একটি প্যারাসাইকোলজিক্যাল পরীক্ষা যা টেলিপ্যাথি বা মনসংযোগের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান পরীক্ষা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল। এই এক্সপেরিমেন্টটির উদ্দেশ্য ছিলো মানুষের মানসিক শক্তির উপস্থিতি প্রমাণ করা, বিশেষ করে টেলিপ্যাথি। গ্যাঞ্জফেল্ড এক্সপেরিমেন্ট এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা এবং বিতর্কের বিষয় হয়ে রয়েছে এবং এর ফলাফল অনেকটাই অস্পষ্ট ও মিশ্র। গ্যাঞ্জফেল্ড শব্দটি এসেছে জার্মান শব্দ ‘Ganz’ (পূর্ণ) এবং ‘Feld’ (মাঠ) থেকে, এটি একত্র করলে একটি পরিপূর্ণ বা পূর্ণ ক্ষেত্রের ধারণা প্রকাশ করে।

১৯৩০ সালের শেষদিকে এই এক্সপেরিমেন্টের প্রথম প্রস্তাবনা আসে। তবে আধুনিক গ্যাঞ্জফেল্ড এক্সপেরিমেন্ট প্রথমভাবে পরিচালনা করা হয় ১৯৭০-এর দশকে। তারা পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন যে, মানুষ অপর একজনের চিন্তা বা অনুভূতি অন্যভাবে গ্রহণ করতে পারে কিনা, অর্থাৎ টেলিপ্যাথি আসলেই সম্ভব কিনা। গ্যাঞ্জফেল্ড এক্সপেরিমেন্টে দুইজন ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেন একজন প্রেরক এবং একজন গ্রাহক। প্রেরককে একটি নির্দিষ্ট চিত্র, ভিডিও বা ছবি দেখানো হয়, যেটি গ্রাহক থেকে সরিয়ে রাখা থাকে।গ্রাহককে একটি পরিবেশে বসানো হয় যেখানে তার পাঁচটি ইন্দ্রিয় বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হয়। যেমন চোখে রেডিও ফ্লেইম বা সাদা আলো ব্যবহার করে এবং কান বন্ধ করে। এই অবস্থায় গ্রাহককে অস্থায়ীভাবে অনুভূতিহীন করে রাখা হয়, যাতে তার মস্তিষ্ক অন্য কোনো ধরনের তথ্য গ্রহণ না করতে পারে।

এখন প্রেরক তার ভাবনা, অনুভূতি বা যে ছবিটি সে দেখছে তা ‘প্রেরণ’ করার চেষ্টা করে। গ্রাহক, যিনি একেবারে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন তার অনুভূতিগুলো বা চিন্তা-ভাবনা যা তিনি প্রেরকের থেকে পাচ্ছেন, সেই তথ্যটি তাকে মনোযোগ দিয়ে প্রকাশ করতে হয়।পরবর্তীতে গ্রাহককে কিছু ছবি বা ভিডিও দেখানো হয়, যার মধ্যে প্রেরকের চিত্রের সাথে মিল আছে কি না তা খুঁজে বের করতে বলা হয়।পরীক্ষা পদ্ধতিটি মূলত এভাবেই শেষ হয়।

এই গ্যাঞ্জফেল্ড এক্সপেরিমেন্টের ফলাফল যথেষ্ট বিতর্কিত। অনেক পরীক্ষায় দেখা গেছে, গ্রাহকরা প্রেরকের ভাবনা সঠিকভাবে অনুমান করতে পেরেছেন এবং তাদের সঠিকতা প্রায় একচেটিয়া অনুকূল ছিল, যেটি সাধারণ মেধার ধারণা অনুযায়ী অসম্ভব মনে হয়। কিন্তু অন্যান্য গবেষকরা এই পরীক্ষাগুলিকে যথেষ্ট ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে দাবি করেছেন। তাদের মতে পরীক্ষার পরিবেশ বা পরীক্ষা করার পদ্ধতিতে কিছু সমস্যা থাকতে পারে, যেগুলো এই ফলাফলগুলির অপব্যাখ্যা করতে পারে।

একটি গবেষণায় গ্রাহকদের সঠিকতার হার গড়ে ২৫-৩০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল, যেটি সাধারণভাবেই ২৫ শতাংশ হওয়া উচিত এটা সন্দেহজনক। অন্য গবেষণায় কিছু ক্ষেত্রেও গ্রাহকের সঠিকতা শতকরা ৪০-৪৫% পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যেটি হয়তো মানসিক শক্তির প্রমাণ হিসেবে দেখা হতে পারে। পরীক্ষায় কিছু নতুন প্রযুক্তিও ব্যবহৃত হয়েছে যেগুলো পরীক্ষার ফলাফল আরও নির্ভুল করার চেষ্টা করেছিল। যেমন পরীক্ষার সময় আলো এবং শব্দের বিশেষভাবে নির্ধারিত ব্যবস্থা ছিলো, যাতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি অন্য কোনো ধরণের বাধা বা মনোযোগের প্রবণতা থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। আধুনিক প্রযুক্তি যেমন ভিডিও ক্যামেরা এবং বিশেষ ধরনের সফটওয়্যারও ব্যবহার করা হয়েছে যতটা সম্ভব পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করার জন্য।

গ্যাঞ্জফেল্ড এক্সপেরিমেন্টের ফলাফল যথেষ্ট উদ্দীপক হলেও বৈজ্ঞানিক সমাজে অনেক সমালোচনা জাগিয়েছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন পরীক্ষার ফলাফলগুলি আরো অনেক বৈজ্ঞানিক বা মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যায় ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। একাধিক গবেষক জানিয়েছেন, এই পরীক্ষার ফলাফল ভুল বা অস্পষ্ট হতে পারে কারণ পরীক্ষার সময় কিছু মানসিক বিভ্রান্তি একেবারে ফেলে দেবার মতো বিষয়ও না। অন্যদিকে প্যারাসাইকোলজির গবেষকরা বিশ্বাস করেন, এই ধরনের পরীক্ষাগুলি মানব মনের শক্তির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সাহায্য করতে পারে এবং টেলিপ্যাথির অস্তিত্বে বৈজ্ঞানিক প্রমাণও পাওয়া যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক মূলধারার গবেষকরা এই ফলাফলগুলিকে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বৈধভাবে মেনে নেননি।

সব মিলিয়ে গ্যাঞ্জফেল্ড এক্সপেরিমেন্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত পরীক্ষা, যা মানুষের মানসিক ক্ষমতা এবং টেলিপ্যাথির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন ধারণা সৃষ্টি করেছে। এখনও এর ফলাফল নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এটি মানব মন এবং তার অজানা শক্তির প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়েছে। ভবিষ্যতে যদি আরও উন্নত প্রযুক্তি এবং সুসংগঠিত সিস্টেমের মাধ্যমে এই ধরনের পরীক্ষা করা হয়, তবে হয়তো অসীম মনস্তাত্ত্বিক ক্ষমতা সম্পর্কে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যাবে।




এরদোয়ানবিরোধী লড়াইয়ে তরুণেরা যেভাবে পথ দেখাচ্ছেন : ইচে তেমেলকুরান , তুরস্কের সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার

“… টানা ২২ বছর ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করা এবং তুর্কি জনগণকে ইসলামিক ফ্যাসিবাদের অনুগত বানানোর চেষ্টা-এই সবকিছুর বিরুদ্ধে এবার রুখে দাঁড়াচ্ছে তুরস্ক। দেশজুড়ে, এমনকি সরকারপন্থী এলাকাগুলোতেও, এক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভচলছে। এই প্রতিবাদের আগুন আরও বেড়েছে ইস্তাম্বুলের মেয়র একরেম ইমামোগলুকে দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার করার পর। গ্রেপ্তারের কয়েক দিনের মধ্যেই আন্দোলন আরও বড় আকার নেয়। গণতন্ত্র, সম্মান আর স্বাধীনতার দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন শুরু হয়। অনেকের কাছে এটি ২০১৩ সালের আন্দোলনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। তবে এবার পরিস্থিতি অন্য রকম। এরদোয়ানের শাসনে বেড়ে ওঠা তরুণেরা ভবিষ্যৎ নিয়ে একসময় হতাশ ছিলেন। তাঁরা এখন রাস্তায় নেমেছেন। পুলিশের নিষ্ঠুর দমন-পীড়ন আর জনসমাগম নিষিদ্ধ হওয়ার পরও তাঁরা ঝুঁকি নিচ্ছেন।

… তুরস্কের এই আন্দোলন শুধু দেশটির জন্য নয়, বরং বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে। গত দশকে আমরা দেখেছি, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে শুধু মধ্যপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্ভর করাই যথেষ্ট নয়। অকুপাই আন্দোলনের মতো রাস্তার বিক্ষোভ খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল। কিন্তু তা উগ্র ডানপন্থার উত্থান প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে। … রাস্তার আন্দোলন থেকে যে রাজনৈতিক শক্তি আসে, তা অস্থির ও অনিশ্চিত। এ কারণে প্রচলিত দলগুলো তা গ্রহণ করতে ভয় পায়। অন্যদিকে, তরুণ জনগোষ্ঠীও ক্লান্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিজেদের জড়াতে চায় না। তাহলে সমাধান কী?

প্রচলিত প্রগতিশীল বিরোধী দলগুলোর অবস্থা এখন জাহাজডুবির মতো। তারা যেন একেকটা ধ্বংসস্তূপ। গত পাঁচ দশকে তারা ধীরে ধীরে সব প্রাণশক্তি হারিয়েছে। আর এর পেছনে বিশেষভাবে কাজ করেছে উদারনৈতিক (নিওলিবারেল) শাসনের সঙ্গে তাদের আপস। এতে সমাজের প্রকৃত প্রগতিশীল অংশগুলোর সঙ্গে তাদের স্বাভাবিক সংযোগ ছিন্ন হয়ে গেছে। আজ তারা অতিমাত্রায় আমলাতান্ত্রিক, ফলে কার্যত একেকটা অচল দৈত্য। তারা নতুন উগ্র ডানপন্থার গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না।

কিন্তু তুরস্কে যা ঘটছে, তা এক অন্য রকম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তরুণদের বিদ্রোহী শক্তি এই ধ্বংসস্তূপের চারপাশে জড়ো হচ্ছে, একে নতুন প্রাণ দিচ্ছে, একে ধ্বংস হওয়া জাহাজ থেকে প্রাণবন্ত প্রবালপ্রাচীরে রূপান্তরিত করছে। কয়েক দিন ধরে তরুণ নেতৃত্ব দলীয় বড় বড় সভায় বক্তৃতা দিচ্ছে। তারা যৌথ আন্দোলনের পথ ঠিক করতে প্রতিনিয়ত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা নিশ্চিত করছে যে এই ক্ষোভ শুধু ইমামোগলুর গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে যেন বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি তোলে। …”