অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যের কথা বলেছেন। আর এ লক্ষ্যে অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ এশিয়ান নেশনসের (আসিয়ান) সদস্য হিসেবে যোগদান করার বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন। আসিয়ান হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জাতি সংস্থা, ইংরেজিতে যাকে অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ এশিয়ান নেশনস (আসিয়ান) বলা হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সবচেয়ে শক্তিশালী আঞ্চলিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্থা হিসেবে এটি বিবেচিত। ১৯৬৭ সালে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর পরস্পরের স্বার্থ সংরক্ষণে এই সংস্থা গঠন করা হয়। তখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এবং শান্তি ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সংস্থাটি গঠনের কথা বলা হয়। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় আসিয়ানের সদর দপ্তর।
আসিয়ানের মোট সদস্য এখন ১০। যদিও শুরুতে এটি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড-এই পাঁচ দেশ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। পরে আরও পাঁচ দেশ অর্থাৎ ব্রুনেই, ভিয়েতনাম, লাওস, মিয়ানমার ও কম্বোডিয়া আসিয়ানের সদস্য হয়। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপানসহ আরও কয়েকটি দেশ আসিয়ানে যুক্ত হওয়ার পথে রয়েছে বলে জানা গেছে। আসিয়ানকে একক সত্তা ধরা হলে এটি হবে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি। অন্য বৃহত্তম অর্থনীতির দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানি। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাণিজ্যে ৮% অবদান আসিয়ানের সদস্যদের। দেশগুলো বিশ্বের মোট সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ১৭% আকর্ষণ করে।
বাংলাদেশ অনেক বছর ধরেই আসিয়ানের সদস্য হতে আগ্রহ জানিয়ে আসছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনের ফাঁকে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও এ বিষয়ে সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। ডাভোসের ওই বৈঠকের পর প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছিলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্য হতে চায়। আসিয়ানের সদস্য হওয়া মানে, বাংলাদেশের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন হওয়া। এতে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়বে, বাজারও উন্মুক্ত হবে।’ প্রেস সচিব আরও বলেছিলেন, আসিয়ানের সদস্যপদ পাওয়া গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এর চেয়ে বড় সুখবর আর হতে পারে না।
অনেকে মনে করেন, আসিয়ানের সদস্য হতে পারলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশের ভারতনির্ভরতা কমবে। আসিয়ানের সদস্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত যথাযথভাবে আবেদনই করতে পারেনি। এ ছাড়া বাংলাদেশের আসিয়ানে যুক্ত হওয়া নিয়ে মিয়ানমারের অপ্রকাশ্য বিরোধিতা রয়েছে। আসিয়ানের সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মূলত আমদানিনির্ভর। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো থেকে মোট ১ হাজার ১৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে দেশগুলোয় পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ৭৬ কোটি ১০ লাখ ডলার।


