গতকাল মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন ‘আমরা গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের ভারত সফরের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিলাম এবং ভারতীয় পক্ষকে জানিয়েছিলাম। চীনে তাঁর সফর চূড়ান্ত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে এটি করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা ইতিবাচক সাড়া পাইনি।’ তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস ভারতের সঙ্গে উষ্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চান। প্রেসসচিব বলেন, ড. ইউনূস ২৬-২৯ মার্চ চীন সফরকালে বিশিষ্ট চীনা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কারণ প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশকে একটি ব্যবসাবান্ধব গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে আগ্রহী, যা চীনা উৎপাদন ইউনিটগুলোকে সঠিক ব্যবসায়িক পরিবেশ প্রদান করবে।
শফিকুল আলম আরও জানান, চীন থেকে ফেরার পর অধ্যাপক ইউনূস ৩-৪ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন। তিনি যোগ করেন, ‘আমরা থাইল্যান্ডে আসন্ন বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের সময় অধ্যাপক ইউনূস এবং জনাব (নরেন্দ্র) মোদির মধ্যে একটি বৈঠকের জন্য অনুরোধ করেছি এবং আমরা ভারতের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করছি।’ অধ্যাপক ইউনূস গত চার মাসে চীন সফরকারী দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় নেতা। এর আগে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ডিসেম্বর ২০২৪ সালে চার দিনের সফরে চীন গিয়েছিলেন।
দ্য হিন্দু-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার দেওয়া এক ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের একটি প্রধান প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য, ভুটান ও নেপালকে সহায়তা করবে। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দিয়েছে। কুমিরা থেকে টেকনাফ পর্যন্ত আমাদের দীর্ঘ উপকূলরেখা রয়েছে, যেখানে অসংখ্য শিল্পাঞ্চল ও বন্দর স্থাপন করা যেতে পারে। এটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে বদলে দিতে পারে।’ তিনি বাংলাদেশকে ভারত, নেপাল, ভুটান ও চীনের জন্য একটি ব্যবসাবান্ধব অর্থনীতি হিসেবে তুলে ধরেন।


