Home Blog Page 146

ট্রাম্পবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে

৫ এপ্রিল শনিবার ওয়াশিংটন ডিসিসহ যুক্তরাষ্টের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টা ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকরেছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহারের অভিযোগসহ বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিক্ষোভ হয়। শনিবারের এই বিক্ষোভের নাম দেয়া হয়েছে ‘হ্যান্ডস অফ’। এর একটি অর্থ হতে পারে, ‘আমাদের নিজের মতো চলতে দাও’। এসব বিক্ষোভে ১৫০টির মতো গোষ্ঠী অংশ নিয়েছে। অন্যতম সংগঠন ‘ইনডিভাইজিবল’ এর সহপ্রতিষ্ঠাতা এজরা লেভিন বলেন, ‘আমরা আজ স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই – গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’

বিক্ষোভকারীদের প্রধান তিনটি দাবি হলো – ট্রাম্প প্রশাসনের ‘বিলিয়নেয়ার দখলদারিত্ব এবং ব্যাপক দুর্নীতি’ বন্ধ করা। সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের ওপর নির্ভরশীল কর্মসূচিগুলোর জন্য ফেডারেল তহবিলের কাটছাঁট বন্ধ করা। পাশাপাশি অভিবাসী, ট্রান্সজেন্ডার এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের ওপর হামলা বন্ধ করা। বামঘেঁষা আয়োজকরা আশা করছেন, ট্রাম্পের ‘কর্তৃত্ববাদী আগ্রাসন’ ও ‘কোটিপতি – সমর্থিত এজেন্ডার’ বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ২০০ বেশি ‘হ্যান্ডস অফ’ বিক্ষোভকর্মসূচিতে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেবে। বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাহী ক্ষমতার অপব্যবহার করছে এবং মাস্কের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারি বিভাগ ‘ডিওজিই’ কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকাঠামোয় মারাত্মক হস্তক্ষেপ করছে। এই বিভাগের অধীনে কেন্দ্রীয় সরকারের ২৩ লাখ কর্মচারীর মধ্যে ২ লাখের বেশি পদ শূন্য করেছে।

শনিবার মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোর শহরের কাছে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেন শত শত মানুষ। সংস্থাটি ডিওজিইর বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি সংস্থাটির সাত হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করার ঘোষণা দেয়া হয়।যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবার জার্মানির বার্লিন ও ফ্রাঙ্কফুর্ট, ফ্রান্সের প্যারিস এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একত্র হন বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোেগ শুল্কনীতির আড়ালে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের কর্তৃত্ববাদী রূপের বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে। তাদের মতে, এই শুল্কনীতি শুধু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নয়, খাদ্য, প্রযুক্তি ও জ্বালানির দামকেও প্রভাবিত করছে।


ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ বিশ্বায়নের সমাপ্তি ঘোষণা করবেন : যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ ও ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির মতো সুরক্ষাবাদী নীতিমালার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবার এক ভাষণে ঘোষণা দিতে চলেছেন যে বিশ্বায়নের যুগ শেষ। দ্য টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারমার ঘোষণা দিতে চলেছেন ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে শুরু হওয়া বিশ্বায়ন এখন কোটি কোটি ভোটারের জন্য হতাশার কারণ হয়েছে, কারণ ট্রাম্পের নজিরবিহীন ১০ শতাংশ “বেসলাইন” শুল্ক বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে চলেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্টারমার স্বীকার করতে চলেছেন তিনি মার্কিন সমকক্ষের অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারছেন।

একজন সিনিয়র ব্রিটিশ কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, স্টারমার প্রশাসন যদিও ট্রাম্পের চরমপন্থী পদক্ষেপগুলোর সঙ্গে একমত নয়, তবে তারা স্বীকার করছে একটি নতুন যুগ শুরু হয়েছে, যেখানে অনেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করছেন। টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী স্টারমার বলেন, ‘বিশ্বায়ন শ্রমজীবী মানুষের জন্য কার্যকর হয়নি। আমরা মনে করি না বাণিজ্যযুদ্ধ এর সমাধান। এটা আসলে একটি সুযোগ, আমাদের দেখানোর যে অন্য একটি পথও আছে।’ টাইমস-এর মতে, ট্রাম্প যখন বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা তুলে নিচ্ছেন, তখন স্টারমারও স্বীকার করেছেন এর ফলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং বিভিন্ন দেশ অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরবরাহপক্ষের সংস্কারে মনোযোগ দেবে।

স্টারমারের এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত হয়েছেন এইচএসবিসি ব্যাংকের প্রধান স্যার মার্ক টাকারও। তিনি মন্তব্য করেছেন, বিশ্বায়ন সম্ভবত এখন তার শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত মাসে হংকংয়ে একটি গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে, বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা ও ট্রাম্পের আগ্রাসী বাণিজ্য নীতির প্রেক্ষাপটে স্যার টাকার পূর্বাভাস দেন বিশ্ব এখন ছোট ছোট আঞ্চলিক গোষ্ঠী বা ক্লাস্টারে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে, যেখানে দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে। এপ্রিলের ২ তারিখে ট্রাম্প একটি জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে বেশি শুল্ক আরোপ করে তাদের ওপর “পারস্পরিক” শুল্ক এবং ১০ শতাংশের একটি বেসলাইন ট্যারিফ আরোপ করেন।

“সকল বিদেশি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাজা, রানি, রাষ্ট্রদূত ও অন্য যারাই এই শুল্ক থেকে অব্যাহতির অনুরোধ জানাতে ফোন করবেন, আমি তাদের বলছি, ‘আগে তোমাদের নিজ নিজ শুল্ক বাতিল করো, বাধাগুলো তুলে নাও’,” বলেন ট্রাম্প। তিনি আরো যোগ করেন “২০২৫ সালের ২ এপ্রিল চিরদিন স্মরণীয় থাকবে সেই দিন হিসেবে যেদিন আমেরিকান শিল্প পুনর্জন্ম পেল, আমেরিকার ভাগ্য পুনরুদ্ধার হলো এবং যেদিন আমরা আমেরিকাকে আবার সমৃদ্ধ করার পথে যাত্রা শুরু করলাম,”। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাল্টা শুল্ক আরোপ করলেও, যুক্তরাজ্য একটি “বাস্তববাদী কৌশল” অবলম্বন করে তুলনামূলকভাবে হালকা প্রতিক্রিয়া পেয়েছে । যুক্তরাজ্যের ওপর কেবলমাত্র ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ হয়েছে।



গাজার জন্য বৈশ্বিক ধর্মঘট , সোমবার ৭ই এপ্রিল ২০২৫

গাজার চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মানুষ একত্রিত হয়ে গাজা জুড়ে বোমাবর্ষণ, হামলা এবং অস্থিরতার মধ্যে বেঁচে থাকার সংগ্রামরত শিশুদের হৃদয়বিদারক অবস্থা, যুদ্ধের ভয়াবহতা, নিরপরাধ মানুষের উপর অমানবিক আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবে। এই ধর্মঘটের সাথে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এএমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ক্যাম্পেইন। সাথে স্থানীয় এনজিও, ছাত্র সংগঠন এবং শান্তিপ্রেমী আন্দোলনও গাজার ভবিষ্যতের জন্য কণ্ঠ তুলে প্রতিবাদ করবে।”

রাশিয়ার হুমকিতে শক্ত প্রতিরক্ষা শক্তি গড়ে তুলে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চায় জার্মানি

বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধের যে হুমকি সারা বিশ্বে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা বিশেষ করে ইউরোপেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রাশিয়ার ইউক্রেনে আক্রমণ, আগ্রাসী মনোভাব এবং পরবর্তী কর্মকাণ্ড বিশ্বকে এক কঠিন বাস্তবতার সামনে দাঁড় করিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, জার্মানির সামরিক প্রস্তুতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জার্মানির প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে উঠে এসেছে। জার্মানির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কার্স্টেন ব্রুয়ারের মতে, রাশিয়ার হুমকি থেকে জার্মানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যত দ্রুত সম্ভব প্রতিরক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগ করা জরুরি। তাঁর ভাষায়, “আমরা রাশিয়ার হুমকির সম্মুখীন।” তিনি সাবধান করে বলেন, ‘মাত্র চার বছরের মধ্যে এমন একটি আক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে, যার জন্য ন্যাটোকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’

জার্মানির সামরিক ইতিহাস বেশ জটিল। দেশটির মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব নিয়ে বেড়ে উঠেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি চেয়েছিল আর কখনো সামরিক আগ্রাসন না করে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করতে। তবে রাশিয়ার ইউক্রেনে আক্রমণ জার্মানির চিন্তাভাবনাকে চিরতরে বদলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত এখনো দেশটির মনোভাবের মধ্যে রয়ে গেলেও বর্তমানে পরিবর্তন ঘটেছে। গবেষক মার্কাস জিনার বলছেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৮০ বছর পার হলেও, জার্মানদের মনে এখনো শান্তির প্রতি একটি বিশেষ ছাপ রয়ে গেছে।” কিন্তু ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ এবং তার পরবর্তী ধ্বংসযজ্ঞ জার্মানদের সামরিক প্রস্তুতির দিক থেকে ভাবনাচিন্তা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।

বর্তমানে জার্মানির সামরিক বাহিনীর খুঁটিনাটি পরিস্থিতি তেমন ভালো নয়। সম্প্রতি জার্মানির সংসদে পাঠানো একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনীতে প্রায় সব ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়েছে। গোলাবারুদ, সৈন্য সংখ্যা, এবং এমনকি ব্যারাকগুলোও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর কমিশনার ইভা হোগল জানিয়েছেন, এসব সমস্যার সমাধানে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি ইউরোর বাজেট প্রয়োজন। জেনারেল ব্রুয়ার জানিয়েছেন, জার্মানি এরই মধ্যে ঋণের সীমা তুলে নিয়েছে, যার ফলে প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এখনো প্রয়োজনীয় দিকগুলো পুরোপুরি পূর্ণ হয়নি এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

২০১৪ সালের ইউক্রেন সংকটের পর থেকে পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার হুমকির দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে। কিন্তু জার্মানি সেই সময় পর্যন্ত রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের উপর গুরুত্ব দিয়েছে। সাবেক চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল রাশিয়ার সঙ্গে গণতান্ত্রিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিল, তবে রাশিয়ার আক্রমণ সব কিছু বদলে দেয়। বর্তমান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে জার্মানির জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল পরিবর্তন করে ঘোষণা দেন যে, দেশের সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে হবে। রাশিয়ার আধুনিক যুদ্ধনীতি, বিশেষ করে সাইবার আক্রমণ, নাশকতা এবং ড্রোন ব্যবহারের প্রবণতা সমূহ জার্মানির জন্য নতুন হুমকি তৈরি করেছে। জেনারেল ব্রুয়ার বলেছেন, “রাশিয়া পশ্চিমা বিশ্বের মতো ছকবাঁধা চিন্তা করে না।” শান্তি আর যুদ্ধের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, এটি একটি অবিরত প্রক্রিয়া। এমন পরিস্থিতিতে জার্মানি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আধুনিকীকরণ করতে বাধ্য।

জার্মানির তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির উদ্ভব হয়েছে। ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী শার্লট ক্রেফট বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিশ্বাস করতাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে নৃশংসতা গেছে তা শুধুমাত্র শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে এখন মনে হচ্ছে আমাদের গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতা রক্ষা করতে হলে লড়াই করতে হবে।” জার্মানির সেনাবাহিনীর নিয়োেগ কেন্দ্রগুলোর অবস্থা এখনো সন্তোষজনক নয়। ইতিমধ্যেই সেনা সংখ্যা ২০ হাজার বাড়িয়ে ২ লাখ ৩ হাজার করার পরিকল্পনা করলেও, এই লক্ষ্যও পূরণ করা সম্ভব হয়নি। জেনারেল ব্রুয়ারের মতে, বিশেষ করে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমা রক্ষা করতে জার্মানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।


যেসব মোগলদের আপনি চেনেন না : নাসিরউদ্দিন শাহ

ইসলাম ভারতে মোগলদের সঙ্গে আসেনি, তাদেরও বহু আগে মালাবার উপকূলে প্রবেশ করেছিল। সেসময়ে কোনো মন্দির ধ্বংসের কিংবা জনগণকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার কোনো রেকর্ড নেই।

আসল রহস্য হলো ইতিহাসে কেন কেবল মোগলদের অবিরাম ঘৃণার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে, যারা লুটপাটের জন্য আসেনি, বরং এখানে এসে বসতি গড়েছিল।

নিঃসন্দেহে তাদের সময়ও মন্দির ধ্বংস হয়েছে, যেমন সোভিয়েত ইউনিয়নে উগ্রবাদীদের দ্বারা গির্জা ও মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল এবং চীনে একটি মসজিদকে প্রকৃতপক্ষে একটি গণশৌচাগারে রূপান্তরিত করা হয়েছিল।

আসল সত্য হলো, মোগল শাসকেরা মন্দির তৈরি বা পৃষ্ঠপোষকতাও করেছেন। অরঙ্গজেব একজন ধর্মান্ধ ও কট্টরপন্থী হলেও তিনি ছিলেন একধরনের সন্ন্যাসী। তার বাইরে অন্যান্য মোগলদের বেশিরভাগই ধর্মীয়ভাবে সহনশীল ছিলেন বলে ইতিহাসে পাওয়া যায়।

মোগলরা এখান থেকে লুটপাট করে পালিয়ে যায়নি, তারা নিজেদের সবকিছু নিয়ে থেকে গিয়েছিল এবং পরবর্তীতে স্থাপত্য, সাহিত্য, চিত্রকলা, সংগীত ও কবিতার অমূল্য সম্পদ রেখে গেছে।

তারপরও তাদেরকে যদি তৈমুর, নাদির শাহ বা মাহমুদ গজনবির মতো লুটেরাদের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়, সেটাও বিস্ময়ের কিছু নয়। আজকের বিশ্বজুড়ে বিরাজমান ইসলামবিদ্বেষের কারণে এটি ঘটছে। একইভাবে আমাদের উগ্র জাতীয়তাবাদীদের লক্ষ্যবস্তুতে অপবাদে শুধুমাত্র মোগল রাজবংশই রয়েছে-এটাও আর আশ্চর্যের নয়।

মামলুক, দাস বংশ, খিলজি, তুঘলক বা লোদিদের নাম কেউ উচ্চারণ করে না, কারণ তাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে বিশ্ব খুব একটা জানে না। বিশ্ব কেবল মোগলদের জানে, তাই তাদেরই অপমান করা হয়। মোগলরা মুসলিম ছিল, তাই সকল মুসলমানই নাকি আগন্তুক আক্রমণকারী!

যদি অরঙ্গজেবের সময়ে ডিএনএ পরীক্ষা সম্ভব হতো, তবে সম্ভবত দেখা যেত যে তার রক্তে মঙ্গোলদের চেয়ে রাজপুতদের রক্তই বেশি ছিল!





ডলার যেভাবে অস্ত্র হয়ে উঠলো : জাভেদ হুসেন , প্রথম আলোর সম্পাদকীয় সহকারী

ডলারের বিশ্বজয়ের শুরু হয় ১৯৪৪ সালে। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে। যুদ্ধে ইউরোপ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ব্রিটেন আর্থিক সংকটে জর্জরিত। জার্মানি ও জাপানের অর্থনীতি চূর্ণ-বিচূর্ণ। এমন অবস্থায় বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার জন্য আমেরিকার নিউ হ্যাম্পশায়ারে ব্রেটন উডস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক লেনদেনের ভিত্তি হবে মার্কিন ডলার। আর তা সোনার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। অর্থাৎ, প্রতিটি ডলার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সোনার সমতুল্য হবে। আর বিশ্বের অন্যান্য মুদ্রাগুলো তাদের মান নির্ধারণের জন্য ডলারের ওপর নির্ভর করবে।

এই ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যায়। কারণ, এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশকে নিজেদের মুদ্রার মান ঠিক রাখতে হলে ডলারের রিজার্ভরাখতে হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও লেনদেনে ডলার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। … ১৯৭১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন…ঘোষণা করলেন, ‘এখন থেকে ডলার আর স্বর্ণের সঙ্গে যুক্ত থাকবে না।’ এর মানে দাঁড়াল, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে ইচ্ছেমতো ডলার ছাপাতে পারবে, এবং এর কোনো নির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকবে না। বিশ্ব অর্থনীতিতে এটি ছিল এক বিশাল ধাক্কা। এটি ইতিহাসে ‘নিক্সন শক’ নামে পরিচিত। এই ঘোষণার মাধ্যমে ডলার এক সম্পূর্ণ নতুন রূপে আবির্ভূত হলো। সে এখন শুধু একটি কাগজের মুদ্রা নয়। বরং এক প্রকার বিশ্বাসের প্রতীক। মানুষ যত দিন বিশ্বাস করবে যে ডলার মূল্যবান, তত দিন এটি চলবে।

… ১৯৭৩ সালে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি গোপন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেখানে বলা হয়-সৌদি আরব তেল বিক্রির ক্ষেত্রে শুধু ডলার গ্রহণ করবে। এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা ও নিরাপত্তা দেবে। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য ওপেক (অর্গানাইজেশন ফর পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ) দেশগুলোও এই চুক্তির অনুসরণ করে। ফলাফল হলো, বিশ্বের সব দেশকে তাদের প্রয়োজনীয় তেল কেনার জন্য ডলার সংগ্রহ করতে হলো।… ফলে, দেশগুলো তাদের রিজার্ভে ডলার জমাতে বাধ্য হলো। এভাবেই ডলার স্বর্ণের পরিবর্তে ‘তেলের মানদণ্ডে’ পরিণত হলো। একে বলা হয় ‘পেট্রোডলার ব্যবস্থা’। এই ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী করল। কারণ, এখন তারা যত খুশি ডলার ছাপাতে পারে। বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোকে তা ব্যবহার করতে বাধ্যও করতে পারে।

বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ডলারে ঋণ দিতে শুরু করল।…এভাবে ডলার শুধু একটি মুদ্রা নয়, বরং এটি অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠল। … সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক দেশ ও জোট ডলারের বিকল্প ব্যবস্থার দিকে এগোতে শুরু করেছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে শক্তিশালী পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যা ভবিষ্যতে ডলারের অব্যাহত আধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে চীনের উত্থান গত দুই দশকে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। ২০০০ সালের দিকে চীনের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে ছোট ছিল। কিন্তু ২০২০-এর পর দেশটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়। চীন শুধু উৎপাদনশীলতার দিক থেকে নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যে তাদের নিজস্ব মুদ্রা ইউয়ানের ব্যবহার বাড়িয়ে ডলারের আধিপত্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে।

… রাশিয়া এখন তার প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে রুবল ও ইউয়ানভিত্তিক লেনদেন চালু করেছে। ভারত ও চীনের সঙ্গে রাশিয়া তেলের দাম রুবল ও ইউয়ানে নিচ্ছে, যা ডলারের জন্য বড় একটি ধাক্কা। ফলে ‘পেট্রোডলার’ ব্যবস্থা, যেখানে এখন ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করেছে। … ডলারের আধিপত্য হারানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশাল অর্থনৈতিক ধাক্কা হতে পারে। কারণ, মার্কিন সরকার এত দিন ধরে বিশাল পরিমাণ ঋণ নিয়ে চলেছে, যার বেশির ভাগই ডলার ছাপিয়ে পরিশোধ করা হয়। যদি বিশ্ব ডলারের বিকল্প ব্যবহার শুরু করে, তাহলে মার্কিন ডলারের চাহিদা কমে যাবে এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বেশ কয়েকটি কৌশল অবলম্বন করছে ডলারের প্রভাব ধরে রাখতে-যেমন, নতুন বাণিজ্য চুক্তি করা; বিশ্বব্যাপী সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করা ও চীনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যযুদ্ধ চালিয়ে তাদের মুদ্রার উত্থান ঠেকানো।




ট্রাম্পের ‘মুক্তির দিন’ বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপন্ন করবে : মার্টিন কেটল , দ্য গার্ডিয়ান এর কলাম লেখক

… তারা এটাকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা বলুক কিংবা বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্নকরণের প্রচেষ্টা বলুক না কেন, ট্রাম্পের শুল্ক বাজেভাবে ভেঙে পড়া একটি অর্থনৈতিক মডেলকে রূপান্তরের প্রচেষ্টা। আর এটি এমন কিছু, যা বিশ্বে আমাদের সবাইকে প্রভাবিত করবে। … কোভিড-উত্তর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে পরাজিত করতে জো বাইডেন বড় আকারের কর আরোপ, ধার করে ব্যয় করার কর্মসূচি নিয়েছিলেন। সেখানে ট্রাম্প একই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য শুল্ক আরোপ করলেন।… ট্রাম্পের কাছে শুল্ক দর-কষাকষি বা আলাপ-আলোচনার কৌশল নয়, এটি একটি নতুন রাজস্ব ঢেউ এবং তাঁর ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করো’ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন।

… আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মডেলটা ভেঙে গেছে। তিনি (ট্রাম্প) বৈশ্বিক মন্দার মতো বাস্তব বিষয় থেকে উদ্ভূত সংকটে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। ২০০৮-০৯-এর ব্যাংক খাতের সংকট এবং ২০২০ সালের কোভিড মহামারির সম্মিলিত প্রভাব থেকে জন্ম নেওয়া সংকট মোকাবিলা করছেন। … আজকের অর্থনীতির যে বোঝা, তার সাধারণ মূলটা হলো উপচে পড়া ঋণ ও দেনা। ২০০৮ সালে ব্যাংক খাতের বিপর্যয়ের কারণ ছিল এটা।…বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করে প্রাথমিকভাবে এই বিপর্যয় ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বিপর্যয়ের আগেই সেই অর্থটা উৎপাদন বা পণ্যের চেয়েও ঋণের ওপর দাঁড়িয়েছিল।

ফলে এমন সব পদক্ষেপ নেওয়া হতে থাকল, যেটা স্বাভাবিক সময়ে কল্পনা করাটাও অসম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রে করের বোঝা কমানো হলো, ব্রিটেনে মিতব্যয়ী নীতি নেওয়া হলো, ফ্রান্সে অবসরকালীন ভাতা কাঁটছাট করা হলো। এই পদক্ষেপগুলো শেষ পর্যন্ত তথাকথিত জনতুষ্টিবাদী প্রতিক্রিয়া উসকে দিল। যেমন ২০১৬ সালে ট্রাম্প নির্বাচনে জিতলেন, যুক্তরাজ্যে ব্রেক্সিট হলো, ফ্রান্সে হলুদ জ্যাকেট আন্দোলন হলো। কিন্তু এই সংকট কোনো দেশ সমাধান করে ওঠার আগেই কোভিড মহামারি এসে উপস্থিত হলো। চারদিকে মন্দা সৃষ্টি হলো, শেয়ারবাজারের পতন হলো, মূল্যস্ফীতি বাড়ল। ক্রমাগত সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া শুল্কের রূপ নিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রেই এটা কাজ করবে কি না, সেটা অনিশ্চিত। এই শুল্ক মন্দা ডেকে আনতে পারে।…এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের মধ্যে ব্যবধান বাড়িয়ে দিতে পারে। …”


কমেডির আড়ালে কমেডিয়ানের ট্রাজেডি

কল্পনা করুন একজন মানুষ মঞ্চে উঠছে। তার মুখে আলো পড়ছে, সে হাঁসছে, দর্শকও হাঁসছে। কয়েক সেকেন্ড পর, সেই লোকটাকেই টেনে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। কারণ? সে হাসিয়েছে। হ্যাঁ, ঠিক-সে কাউকে মেরেওনি, জ্বালাও-পোড়াও করেওনি। সে শুধু ঠাট্টা করেছিল।

এই ঘটনা কল্পনা নয়। এটা মুনাওয়ার ফারুকির বাস্তব জীবন। মঞ্চে উঠার আগেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অভিযোগ? এমন কৌতুকের জন্য, যা সে বলেওনি। শুধু গুজব রটেছিল, সে নাকি ঈশ্বর নিয়ে ঠাট্টা করতে চলেছে। ব্যস! গ্রেপ্তার, জেরা, ট্রোল, অনুষ্ঠান বাতিল, পরিবারের উপর চাপ সব কিছু একসাথে।

এই মুনাওয়ার একা না। ভাবুন কতজন কমেডিয়ান আজকাল এমন একটা জীবনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে প্রতিটা ঠাট্টা আগে সমাজ ও রাষ্ট্রের অনুমোদন পেতে হয়? আমাদের ছোটবেলায় তো ব্যঙ্গাত্মক নাটক, কৌতুক, এমনকি টিভির “মীরাক্কেল” পর্যন্ত দেখতাম কত সহজে, আনন্দে, মজা করে। এখন যেন হাসিতেই আতঙ্ক।

একটা ঠাট্টা-টুইটার-ঝড়, মামলা, শো বাতিল, ট্রোলের পাহাড়। কুনাল কামরার “নয়া ভারত” শো নিয়ে রটা খবর পড়েছিলেন? মুম্বাইতে সেই শো হওয়ার আগেই হইচই পড়ে যায়। শুধু নাম শুনেই কেউ কেউ ধরে নেয়-“এই লোক নিশ্চয় দেশবিরোধী কিছু বলবে!” এমন একটা নাম, যা আসলে ছিল ব্যঙ্গ, তা-ই পরিণত হয় অভিযোগে। ঠিক একইভাবে সাময় রায়নার “India’s Got Latent” নিয়েও তুমুল বিতর্ক। বিস্তারিত কী বলেছে সে কে জানে! কিন্তু কিছু না জেনেই “অপমান করেছে”ড়এই অভিযোগ তো চলেই আসে। আর বির দাসের সেই বিখ্যাত “Two Indias” মনোলগ-ওটা তো যেন একটা চপেটাঘাত ছিল, কিন্তু হাতে না, শব্দ দিয়ে। ওটা শুনে কেউ কেউ কেঁদেছে, কেউ কেউ বলেছে “দেশকে অপমান করেছে।”

তবে ব্যাপারটা হচ্ছে কেউই তো মিথ্যে বলছে না। হাসির আড়ালে থাকে এক গভীর সত্য। আর সেই সত্যটাই আসলে চেপে যেতে চায় কিছু মানুষ। কমেডি তো বরাবরই একটা আয়না। সমাজের সামনে রাখা হয়-দেখো, কেমন আচরণ করছো। কিন্তু আয়নায় যদি নিজের মুখ দেখে কেউ না খুশি হয়, তখন সে-ই আয়নাটা ভেঙে ফেলতে চায়। হয়তো জেনে থাকবেন, প্রাচীন গ্রীসের অ্যারিস্টোফেনিস যুদ্ধ, রাজনীতি নিয়ে এমনভাবে ব্যঙ্গ করতেন, যে তার নাটকগুলো এখনও পড়ানো হয়। ৪১১ খ্রিস্টপূর্বে লেখা লিসিসট্রাটা নাটকে তো নারীরা যৌনতা বন্ধ করে দেয় যুদ্ধ থামানোর জন্য! হাস্যকর প্লট, কিন্তু মেসেজ? ভয়ংকর বাস্তব।

ইউরোপে ভাঁড়রা রাজাকে পর্যন্ত ব্যঙ্গ করতেন। তারা জানতেন হাসি মানুষকে চিন্তা করায়। হাসির মাধ্যমে মানুষ সত্য শুনতে নিরাপদ বোধ করে। ভারতেও এমন হয়েছে। বাংলা নাটক, ব্যঙ্গচিত্র, ভারতেন্দুর ভারত দুর্দশা-সবই হাস্যরসের ভিতরে আন্দোলনের ভাষা লুকিয়ে রেখেছে। ব্রিটিশরা যতই কড়া হোক, ঠাট্টার ছদ্মবেশে বিদ্রোহ গোপন থাকত। তাহলে এখন কেন এই ভয়? একটা বড় কারণ হলো সোশ্যাল মিডিয়া। আগে এক ঘরে বলা কৌতুক এক ঘরেই থাকত। এখন? এক মুহূর্তেই ভাইরাল। কোনো প্রেক্ষাপট নেই, শুধু ১০ সেকেন্ডের ক্লিপ। যেটা এক জায়গায় মজার, অন্য কোথাও সেটাই হয়ে যায় “আপত্তিকর”।

আর আমরা তো এখন এমন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে সবাই নিজেদের পরিচয় নিয়ে খুব সচেতন। কেউ ধর্ম নিয়ে ঠাট্টা করলে বলে “অবিশ্বাসী!” কেউ রাজনীতি নিয়ে বললে বলে “দেশদ্রোহী!” আর কমেডির সব চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি কি জানেন? ওটাকে এখন বাধ্য করা হচ্ছে একটা “পক্ষ” নিতে। তুমি হয় “দেশের পক্ষে”, নয়তো “দেশের বিরুদ্ধে।” কিন্তু কমেডি তো কখনো পক্ষ নেয় না। ওতো শুধু দেখিয়ে দেয়-“দেখো, তোমরা তোমরা কত দলে ভাগ হয়ে গেছো।” ও বলে-“এই টানাপোড়েন, এই দ্বন্দ্ব, এটাও সমাজেরই অংশ।”

তবু যতবার আয়নাটা সামনে আসে, কেউ না কেউ সেটা টুকরো করে দেয়। কিন্তু আয়না ভাঙলে কি প্রতিফলন থেমে যায়? না। সোভিয়েত ইউনিয়নে ছিল নিষেধ, নাৎসি জার্মানিতে ছিল ভয়, দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিল বিভাজন। কিন্তু সেখানেও কমেডি টিকে ছিল। আমাদের কাছেও থাকবে। কখনো উপমা দিয়ে, কখনো পুতুল দিয়ে, কখনো নিঃশব্দে-কমেডিয়ানরা পারফর্ম করে যাবেই। তারা বীর নয়, বিপ্লবীও নয়। তারা শুধু আমাদের কথা আমাদের ভাষায় বলে দেয়। আর সেই জন্যই-আমরা চাইলেও, কমেডিকে থামানো যাবে না। সত্যকে থামানো যায় না। আর কমেডি? সে তো শুধু হাসায় না, সত্যিটাও বলে-বিলি কেটে, অথবা গর্জে উঠে।






ভারতে ওয়াকফ বিল পাস বিতর্কের সুত্র কী ?

ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় কোনো বাধা ছাড়াই পাস হওয়া বিতর্কিত ওয়াক্ফ বিলটি উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায়ও পাস হয়েছে। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে ১২৮টি এবং বিপক্ষে ৯৫টি ভোেট পড়ে। এই বিলের মাধ্যমে ওয়াক্ত সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় নতুন বিধান সংযোজন করা হয়েছে, যা নিয়ে দেশব্যাপী বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবীন পট্টনায়েকের বিজু জনতা দল তাদের সাত এমপিকে নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট দেওয়ার অনুমতি দেয়। দলীয় নেতা সস্মিত পাত্র জানান, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনুভূতির কথা বিবেচনা করেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

রাজ্যসভায় বিতর্ক চলাকালে বিজেপি সরকারের সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজ্জু বলেন, বিলটি মুসলিম স্বার্থের ক্ষতি করবে না।বরং এর লক্ষ্য দুর্নীতি দূর করা এবং সম্পত্তির যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। নতুন আইনে ওয়াক্ফ সম্পত্তি ঘোষণার আগে মালিকানার যথাযথ প্রমাণ দিতে হবে, যেটি পূর্বে প্রয়োজন ছিল না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও এই বিলের পক্ষে মত দেন এবং জানান, বেশ কিছু সম্পত্তি অবৈধভাবে ওয়াক্ফ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। তিনি উদাহরণ হিসেবে দিল্লির ল্যুটিয়েন্স জোন, তামিলনাড়ুর ৪০০ বছরের পুরোনো মন্দির, পাঁচতারকা হোটেলের জন্য নির্ধারিত জমি এবং পুরোনো সংসদ ভবনের কথা উল্লেখ করেন।

কংগ্রেসের এমপি সৈয়দ নাসির হুসেন অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এবং ওয়াক্তের অধিকার খর্ব করতে চাইছে।তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ল্যুটিয়েন্স এলাকায় এই সম্পত্তিগুলো ওয়াক্তের নামে হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং এগুলো আইনগতভাবেই ওয়াক্ত বোর্ডের অধীনে রয়েছে। কংগ্রেসের নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বিলটি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সরকার বিরোধ সৃষ্টি করছে এবং জনগণের মধ্যে বিভক্তি বাড়াচ্ছে। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘যদি শিরডি সাইবাবা ট্রাস্ট বা তিরুপতি মন্দির ট্রাস্টে কোনো মুসলিম সদস্য না থাকেন, তাহলে ওয়াকফ বোর্ডে অমুসলিমদের অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে কেন?’ অল ইন্ডিয়া ইত্তেহাদুল মুসলেমিনের (এআইএমআইএম) নেতা ইমতিয়াজ জলিলও একই প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায় সিদ্ধান্ত।

বিলে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো কেন্দ্রীয় ওয়াক্ফ্ফ কাউন্সিল এবং বিভিন্ন রাজ্যের ওয়াক্ফ বোর্ডে দুজন অমুসলিম সদস্য অন্তর্ভুক্তির বাধ্যবাধকতা। পাশাপাশি কমপক্ষে পাঁচ বছর ধরে ইসলাম ধর্ম পালন করা ব্যক্তিরাই ওয়াক্তে সম্পত্তি দান করতে পারবেন বলে শর্ত দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দল প্রশ্ন তুলেছে, সরকার কীভাবে নির্ধারণ করবে কে প্রকৃত মুসলিম এবং কে পাঁচ বছর ধরে ধর্ম পালন করেছেন। নতুন আইনে বলা হয়েছে, ওয়াক্ফ বোর্ড দাবি করা কোনো সম্পত্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াক্ত বলে গণ্য হবে না। বরং সম্পত্তির মালিকানার বিষয়টি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেবেন স্থানীয় কালেক্টর। এ ছাড়া বিরোধের ক্ষেত্রে একজন সরকারি কর্মকর্তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে, পূর্ববর্তী আইনে ওয়াক্ত ট্রাইব্যুনালের হাতে ছিল।

এই পরিবর্তন ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা মনে করছে, এটি ওয়াক্ফ্ফ সম্পত্তির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি প্রচেষ্টা। বিরোধীরা যুক্তি দিচ্ছেন, মুসলিম দেশগুলো যেখানে ওয়াকফ সম্পত্তির ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা করছে, সেখানে ভারতেও স্বচ্ছতা আনার প্রয়োজন আছে, কিন্তু তা করতে গিয়ে ওয়াকফ বোর্ডের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ণ করা উচিত নয়। ওয়াক্ফ্ফ বিলের মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিজেপি সরকার এটিকে দুর্নীতি রোধ এবং স্বচ্ছতা আনয়নকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখালেও বিরোধীরা একে মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার খর্ব করার ষড়যন্ত্র বলে মনে করছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর এই আইন কার্যকর হলে এর বাস্তব প্রভাব কী হয়, তা দেখার বিষয়।




প্রতি ১°সে. তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে মানুষের দারিদ্র বাড়বে ১০% : গবেষণা

বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নানা গবেষণা হচ্ছে। কিন্তু অর্থনৈতিক মডেলগুলো কীভাবে এই পরিবর্তনকে মূল্যায়ন করে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অর্থনৈতিক মডেলগুলো পদ্ধতিগতভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবকে কম মূল্যায়ন করেছে। এই গবেষণার মতে, যদি বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তাহলে গড় ব্যক্তি আরো ৪০% গরিব হয়ে যাবে, যেটা পূর্বের কিছু অনুমানের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি।

অস্ট্রেলিয়ান বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, যদি উষ্ণতা প্রাক-শিল্পযুগের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়, তবুও বৈশ্বিক মাথাপিছু জিডিপি গড়ে ১৬% কমে যাবে। এটি পূর্ববর্তী অনুমানে যেখানে বলা হয়েছিল যে এই হ্রাস মাত্র ১.৪% হবে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান নীতিমালা এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলেও বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। আরেকটি বড় সমস্যা হলো অর্থনৈতিক মডেলগুলোর অপ্রতুলতা। ইন্টিগ্রেটেড অ্যাসেসমেন্ট মডেল (IAM) নামক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ সরঞ্জামগুলো বিশ্বজুড়ে সরকারগুলোর নীতি-নির্ধারণে সহায়তা করে। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এসব মডেল চরম আবহাওয়া সংক্রান্ত ঝুঁকিগুলো যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

Environmental Research Letters-এ প্রকাশিত নতুন গবেষণায় অর্থনৈতিক মডেলগুলোর একটি উন্নত সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর চরম আবহাওয়ার প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. টিমোথি নিল। গবেষণায় দেখা গেছে, ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে গড় ব্যক্তি ৪০% গরিব হয়ে যাবে, যা উন্নত মডেল ছাড়া ছিল মাত্র ১১%। একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো অর্থনৈতিক মডেলগুলো সাধারণত স্থানীয় আবহাওয়ার পরিবর্তনকে বিবেচনায় নেয়, কিন্তু চরম আবহাওয়ার ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল কীভাবে প্রভাবিত হতে পারে তা বিবেচনা করে না।

নিল বলেন, ‘ ভবিষ্যতে চরম উষ্ণতর আবহাওয়ার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ধারাবাহিক বিঘ্ন ঘটবে।’ এই গবেষণার সহ-লেখক ও নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটির জলবায়ু বিজ্ঞানী অধ্যাপক অ্যান্ডি পিটম্যান বলেন, ‘চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলোই সবচেয়ে বেশি সমস্যার সৃষ্টি করে। এটি কেবল গড় তাপমাত্রার বিষয় নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘অর্থনৈতিক মডেলগুলোকে চরম আবহাওয়ার প্রভাব অন্তর্ভুক্ত করার জন্য পুনর্গঠন করা এখন জরুরি হয়ে উঠেছে, যাতে দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতাগুলোর পূর্ণ মূল্যায়ন করতে পারে এবং এরপর যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে-নির্গমন কমানো।’

কিছু অর্থনীতিবিদ যুক্তি দেখিয়েছেন বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে কানাডা, রাশিয়া এবং উত্তর ইউরোপের মতো ঠাণ্ডা অঞ্চলের জন্য কিছু ইতিবাচক অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। তবে গবেষকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত এবং একটি অঞ্চলের দুর্যোগ অন্য অঞ্চলেও প্রভাব ফেলতে পারে। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জলবায়ু নীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ফ্রাঙ্ক জোটজো বলেন, IAM ভিত্তিক অর্থনৈতিক জলবায়ু মডেলগুলো ধরে নেয় যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যদি কোনো অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বিশ্বের অন্য কোনো অংশ থেকে উৎপাদন তাৎক্ষণিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু বাস্তবে এটি অনেক জটিল ও অস্থির একটি প্রক্রিয়া।

এই বছরের জানুয়ারিতে ইনস্টিটিউট অ্যান্ড ফ্যাকাল্টি অব অ্যাকচুয়ারিজ একটি প্রতিবেদনে জানায়, পূর্ববর্তী অর্থনৈতিক ঝুঁকি মূল্যায়নগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবিক প্রভাব যেমন টিপিং পয়েন্ট, চরম আবহাওয়া, অভিবাসন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মানবস্বাস্থ্য বা ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এই মডেলগুলো থেকে পাওয়া তুলনামূলকভাবে স্বল্পপ্রভাবের ফলাফল জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিকে ধীরগতির এবং সীমিত প্রভাবসম্পন্ন বলে ভুলভাবে প্রচার করতে পারে, বরং এগুলো তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা উচিত।’

এই গবেষণা থেকে বোঝা যায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি কতটা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, তা এখনো সম্পূর্ণরূপে অনুধাবন করা হয়নি। অর্থনৈতিক মডেলগুলোর সীমাবদ্ধতা দূর করে জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঘটনাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। যদি সরকার ও নীতি-নির্ধারকরা দ্রুত পদক্ষেপ না নেন, তাহলে ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র হতে পারে।তাই উন্নত অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ এবং টেকসই জলবায়ু নীতির মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।