Home Blog Page 147

যুক্তরাষ্ট্রের আজগুবি শুল্ক হিসাবের উদ্দেশ্য কী : কল্লোল মোস্তফা , লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট

ট্রাম্প সরকার যুক্তরাষ্ট্রের উপর বিভিন্ন দেশের ধার্য্য করা শুল্কের যে হিসেবের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের উপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে, সেই হিসাবটা বেশ আজগুবি। খেয়াল করে দেখবেন ‘Tariffs Charged to the U.S.A’ বা ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর ধার্য্য করা শুল্কের’ কলামে ‘currency manipulation and trade barriers.’ বা ‘মুদ্রা কারসাজি ও বাণিজ্যিক বাধার’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ শুধু মার্কিন পণ্যের উপর আমদানি শুল্কই না, এর সাথে মুদ্রা কারসাজি ও বাণিজ্যিক নানা বাধারও হিসাব করা হয়েছে মার্কিন পণ্যের উপর কোন দেশের ধার্য্য করা শুল্কের হিসেবে।

কিন্তু এই হিসাবটা কিভাবে করা হয়েছে তার কোন ব্যাখ্যা দেয়নি ট্রাম্প সরকার। বলা হয়েছে চীন কর্তৃক মার্কিন পণ্যের উপর ধার্য্য করা শুল্কের হার ৬৭%, ভিয়েতনাম কর্তৃক ধার্য্য করা শুল্কের হার ৯০%। এগুলো অবিশ্বাস্য! চীন কিংবা ভিয়েতনাম যদি আসলেই এই বিপুল শুল্ক ধার্য্য করতো তাহলে বহু আগেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটা নিয়ে আপত্তি করতো, হৈ চৈ করত। তাহলে এই কথিত শুল্কের হিসাব কিভাবে করল ট্রাম্প সরকার? মার্কিন বিশ্লেষকরা কেউ কেউ বলছেন, এর উত্তর হলো স্রেফ কোন দেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতিকে যুক্তরাষ্ট্রে ঐ দেশের মোট রপ্তানি দিয়ে ভাগ করে পারেসেন্টেজ করেছে।

যেমন :
দেশ
যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি
শুল্ক হিসাব
বাংলাদেশ
৮.৪ (বিলিয়ন $)
২.২ (বিলিয়ন $)
৬.২ (বিলিয়ন $)
(৬.২/৮.৪) × ১০০%
= ৭৪%
এভাবেই বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্য ঘাটতির সাথে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির অনুপাতকে শুল্ক হিসেবে চালিয়ে দিয়ে ট্রাম্প সরকার কথিত Tariffs Charged to the U.S.A. হিসেব করেছে। এই ধরণের আজগুবি শুল্কের হিসাবের উদ্দেশ্য কতটা মার্কিন পণ্যের উপর কথিত শুল্ক কমানো আর কতটা রপ্তানিকারক দেশগুলোকে ব্ল্যাকমেল করে বাড়তি সুবিধা আদায় সেটা সামনে আরো পরিস্কার হবে।”


দমিয়ে রাখা রাগ প্রভাব ফেলে নারীর শারীরিক – মানসিক স্বাস্থ্যে

নারীদের স্বাস্থ্যের উপর দমিয়ে রাখা আবেগ, বিশেষত রাগের প্রভাব, এক গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল বিষয়। ২০২০ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, অটোইমিউন রোগগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশই নারীদের মধ্যে দেখা যায়। ২০২১ সালের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা উদ্বেগ, PTSD এবং অ্যানোরেক্সিয়ার মতো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় বেশি ভোগেন। শুধু জৈবিক কারণ নয়, আচরণগত ও মনস্তাত্ত্বিক কারণও এতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে দমন করা রাগ নারীদের স্বাস্থ্যের অবনতির অন্যতম কারণ।

প্রাচীনকাল থেকে সমাজ নারীদের এমনভাবে গড়ে তুলেছে যাতে তারা শান্ত, সংযত ও পরিচর্যাকারী হয়। বিশেষত নারীদের রাগ প্রকাশকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয় এবং এটি ‘পুরুষালী’ আচরণ বলে গণ্য করা হয়। কিন্তু রাগ একটি স্বাভাবিক মানবিক আবেগ, যা দমন করা হলে মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।

মনোবিজ্ঞানী ডানা জ্যাক ১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে নারীদের মধ্যে একটি সাধারণ প্রবণতা লক্ষ্য করেন- ‘স্ব-নীরবতা’ বা নিজেদের চাহিদা দমন করা, অন্যকে খুশি রাখতে নিজেকে উপেক্ষা করা এবং সংঘর্ষ এড়িয়ে চলা। তার গবেষণায় দেখা যায়, এই আচরণ বিষণ্ণতার ঝুঁকি বাড়ায়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায়, পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় দেখায় যে, কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যে দমন করা রাগ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যা হৃদরোগের জন্য একটি প্রধান কারণ।

৩৭ বছর বয়সী লন্ডনের বাসিন্দা সারার পেরনিশিয়াস অ্যানিমিয়া ও ফাইব্রোমায়ালজিয়া ধরা পড়ে। তার মতে, তার অসুস্থতার পেছনে এক বড় কারণ ছিল তার অনুভূতিগুলো অবদমন করা। তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় অনুভব করতাম যে কেউ আমার কথা শুনছে না। যত বেশি সঙ্গের জন্য লড়েছি, তত কম পেয়েছি, যা আমাকে চুপ হয়ে যেতে বাধ্য করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার বন্ধু, পরিবার, সমাজ-সব কিছুর প্রতি ক্ষোভ ছিল, কিন্তু সেই রাগ কোথাও প্রকাশ করতে পারিনি। তাই সেটি গলা, বুক, পেট ও কাঁধে ব্যথার মাধ্যমে আমার শরীরে জমে গেছে। আমি বুঝতে পারলাম, এটি জমে থাকা আবেগের শারীরিক বহিঃপ্রকাশ। মুক্তির জন্য আমি ইকস্ট্যাটিক ডান্স, ম্যাসাজ, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, দেহ-স্ক্যানিং ও গ্রাউন্ডিং টেকনিক ব্যবহার শুরু করি।’

এন্ডোক্রিনোলজিস্ট ডা. জোলিন ব্রাইটেন ব্যাখ্যা করেন, ‘আবেগ দমন, বিশেষ করে রাগ, দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভারসাম্যহীনতা এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সঙ্গে যুক্ত।’ গবেষণায় দেখা গেছে, আবেগ দমন করলে হাইপোথ্যালামাস-পিটুইটারি-অ্যাড্রেনাল (HPA) অক্ষের দীর্ঘমেয়াদী সক্রিয়তা হতে পারে, যা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে।

স্বাস্থ্য মনোবিজ্ঞানী ও CBT থেরাপিস্ট ডা. সুলা উইন্ডগাসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্য মূলত জৈবিক, মানসিক ও সামাজিক-এই তিনটি উপাদানের সংমিশ্রণ। যদি আমরা শারীরিক অসুস্থতার কারণ বুঝতে চাই, তাহলে আমাদের মানসিক ও সামাজিক প্রভাবগুলোও বিবেচনায় নিতে হবে।’ নারীরা কীভাবে দমন করা আবেগের নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে পারেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাগ বা অন্য আবেগ চেপে রাখার বদলে তা সুস্থ উপায়ে প্রকাশ করা জরুরি।

কিছু কার্যকর উপায় হলো: ডায়েরি লেখা, নিজের আবেগ বোঝা ও প্রকাশের একটি নিরাপদ মাধ্যম। শরীরচর্চা ও যোগব্যায়াম শরীরের সঞ্চিত চাপ ও দমন করা আবেগকে মুক্ত করতে সহায়তা করে। সম্পর্ক ও পেশাগত জীবনে সুস্থ যোগাযোগ ও ব্যক্তিগত সীমারেখা তৈরি করা। সাথে মাইন্ডফুলনেস ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে ও মানসিক চাপ কমায়।

নারীদের রাগ প্রকাশের অধিকার ও প্রয়োজনীয়তা সমাজ দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষা করে এসেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা ও অভিজ্ঞতাগুলো দেখাচ্ছে, দমিয়ে রাখা/চেপে রাখা রাগ শুধু মানসিক নয়, শারীরিক স্বাস্থ্যেও গুরুতর প্রভাব ফেলে। সঠিক উপায়ে রাগ প্রকাশ করতে শিখলে নারীরা শুধু মানসিক শান্তিই পাবেন না, বরং দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক সুস্থতাও নিশ্চিত করতে পারবেন।





চাঁদাবাজিই পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সহিংসতার মূল : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, চাঁদাবাজিই এখানকার সহিংসতার মূল কারণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘চাঁদাবাজি বন্ধ করা না গেলে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এদের দমন করতে রাষ্ট্র কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’ গতকাল রাঙ্গামাটি বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন যে, কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই অস্থিরতা জিইয়ে রাখছে। তিনি ভারতীয় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, ‘ভারতীয় কিছু মিডিয়া বাংলাদেশ সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রচারে ব্যস্ত। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমগুলোর উচিত সঠিক তথ্য তুলে ধরা এবং মিথ্যা প্রচারের জবাব দেওয়া।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। এর আগে সকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হেলিকপ্টারে রাঙ্গামাটির সাজেক ও বাঘাইহাটে বিজিবির বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নানা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাবে আপেল গ্রিন টি

ফ্লাভোনয়েড-সমৃদ্ধ খাবার স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে ক্যান্সার ও হৃদরোগ প্রতিরোধে। গবেষণায় দেখা গেছে, আপেল, গ্রিন টি, কমলা এবং ব্রোকলির মতো খাবার প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যযুক্ত এবং শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এসব খাদ্য উপাদান দেহে অক্সিডেটিভস্ট্রেস কমিয়ে স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখে। সম্প্রতি নেচার কমিউনিকেশনস ট্রাস্টেড সোর্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, যারা নিয়মিত ফ্লাভোনয়েড-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করেন, তাদের ক্যান্সার ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় ২৩ বছর ধরে ৫৩ হাজার ডেনিশ নাগরিকের খাদ্যাভ্যাস বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা গেছে, ফ্লাভোনয়েডের প্রতিরক্ষামূলক প্রভাব ধূমপানকারী ও অ্যালকোহল গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর। এর মানে হলো, যারা এসব ক্ষতিকর অভ্যাসে আসক্ত, তারা যদি নিয়মিত ফ্লাভোনয়েড-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করে, তাহলে তাদের ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কিছুটা হ্রাস পেতে পারে। গবেষণার শীর্ষস্থানীয় গবেষক এবং এডিথ কোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের পোেস্টডক্টোরাল রিসার্চ ফেলো নিকোলা বোনডনো বলেন, এই গবেষণার ফলাফল মানুষকে আরও বেশি পরিমাণে ফল ও শাকসবজি খাওয়ার প্রতি উৎসাহিত করবে। বিশেষ করে, যাদের হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি, তাদের জন্য ফ্লাভোনয়েড-সমৃদ্ধ খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে করা এক গবেষণায় অনুমান করা হয়েছিল যে, বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ৮০ লাখ মানুষ কম ফল ও শাকসবজি খাওয়ার কারণে অকালে মৃত্যুবরণ করেন। প্রতিদিন ৮০০ গ্রামের কম ফল ও সবজি গ্রহণকেই এই ঝুঁকির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাই নিয়মিত সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ক্যান্সার ও হৃদরোগ প্রতিরোধে প্রতিদিন একজন মানুষের প্রায় ৫০০ মিলিগ্রাম ফ্লাভোনয়েড গ্রহণ করা সবচেয়ে কার্যকর। ফ্লাভোনয়েড সাধারণত বিভিন্ন ফলমূল, শাকসবজি, চা, চকোলেট এবং বাদামে পাওয়া যায়।

তবে, উচ্চ মাত্রায় ফ্লাভোনয়েড গ্রহণ করা অধূমপায়ী ও অ্যালকোহল পরিহারকারীদের ক্ষেত্রে ক্যান্সার ও হৃদরোগ প্রতিরোধে বিশেষ কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। এ থেকে বোঝা যায় যে, ফ্লাভোনয়েড গ্রহণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।নিকোলা বোনডনো আরও বলেন, স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ হলো ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ বন্ধ করা। কিন্তু যদি কেউ এটি সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে না পারেন, তাহলে ফ্লাভোনয়েড-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের মাধ্যমে ঝুঁকি কিছুটা হ্রাস করা সম্ভব। তবে এর পাশাপাশি ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ কমিয়ে আনতে হবে।

সংক্ষেপে বলা যায়, ফ্লাভোনয়েড-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। বিশেষ করে যারা ধূমপান বা অ্যালকোহল গ্রহণ করেন, তাদের জন্য এটি একটি কার্যকর প্রতিরোধক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। তাই দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বেশি পরিমাণে ফলমূল, শাকসবজি ও ফ্লাভোনয়েড-সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করা সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে।





মানব পাচার মামলা : ৬ বছরে আসামি ২০ হাজার , সাজার হার ১% এর’ও কম

বাংলাদেশে মানব পাচার একটি চলমান এবং গভীর সমস্যা, যেখানে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ, বিশেষ করে নারী ও তরুণরা পাচারকারীদের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। এসব ঘটনায় অনেকেই বিদেশে ভালো জীবনযাপনের আশায় বের হয়ে নানা ধরনের নির্যাতন, শোষণ এবং এমনকি মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন। সালমা খাতুনের ঘটনা এ ধরনের এক দুঃখজনক উদাহরণ, যার যাত্রা ইতালির দিকে যাওয়ার লক্ষ্যে শুরু হলেও তা তার জন্য এক ভয়ানক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।

সালমার গল্প ২০২১ সালে শুরু হয়, যখন তিনি জীবনে পরিবর্তনের আশায় ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কম খরচে বিদেশ যাওয়ার আশায় তিনি স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন। প্রথমে তাকে ভারতে নেয়া হয়, তারপর বিমানে করে ইতালি পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু ভারতে তাকে আটকিয়ে নির্যাতন চালানো হয় এবং পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। অবশেষে তিনি ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক হন এবং ৬ মাস জেল খাটেন। দেশে ফিরে তিনি সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করলেও সব আসামি খালাস পেয়ে যান।

সালমার এই ঘটনা থেকেই দেশের মানব পাচার চক্রের ভয়াবহতা ও আইনি দুর্বলতা বোঝা যায়।
সময়কাল
মোট মামলা
মোট আসামি
দণ্ডপ্রাপ্ত
দণ্ডপ্রাপ্তির হার
২০১৯
জানুয়ারি ২০২৫
৪,৫৪৬
১৯,২৮০
১৫৭
০.৮১%

অধিকাংশ আসামি খালাস পেয়ে যান। এই দুর্বলতা সমাজে পাচারকারীদের অপকর্ম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয়। একটি বড় কারণ হিসেবে পুলিশি তদন্তের দুর্বলতা রয়েছে। অনেক সময় যথাযথ সাক্ষী হাজির করা হয় না এবং প্রমাণ সংগ্রহে ব্যর্থ হয় তদন্তকারীরা। এছাড়াও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া অনেক ভুক্তভোগীকে হতাশ করে তোলে এবং তারা মামলা চালিয়ে যেতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানব পাচারের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হলে মানসম্পন্ন তদন্ত এবং দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার চাহিদা ক্রমবর্ধমান, এটি পাচারকারীদের সুযোগ সৃষ্টি করছে। তারা এক ধরনের সংঘবদ্ধ চক্র গড়ে তুলেছে, যারা প্রতারিত করে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে তারা প্রতারিত হয় এবং শোষণের শিকার হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকটকসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণীদের পাচার করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২২ সালে হবিগঞ্জের সোহেল নামের এক টিকটকার তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে ভারতে যান।সেখানে তার স্ত্রীকে পাচারকারীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং সোহেল পালিয়ে যান। যদিও এই ঘটনায় শ্বশুর মামলা করেছিলেন, তবে এখনও তদন্ত শেষ হয়নি।

এ ধরনের ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, পাচারকারীরা আধুনিক প্রযুক্তি এবং সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্যে যুবকদের নিশানা করছে। এতে পাচারকারীদের কাজ অনেক সহজ হয়ে গেছে এবং তারা নিজেদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। এছাড়া মানব পাচারের মামলায় শাস্তির হার অত্যন্ত কম হলেও অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে অনেক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ৭২ জন বাংলাদেশি ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার পথে প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ভূমধ্যসাগরে ডুবে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আট বাংলাদেশি মারা যান।

এই সমস্যা সমাধানে বারবার সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিছু পদক্ষেপ নিলেও তা যথেষ্ট নয়। মানবাধিকার কর্মীরা দাবি করছেন, তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত করতে হবে এবং সরকারকে জনগণকে অবহিত করতে হবে যাতে তারা অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার ঝুঁকি থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারে। পুলিশি তদন্তের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন এবং পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। বাংলাদেশে মানব পাচারের সমস্যা একটি জটিল ও জরুরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। আইনগত পদক্ষেপ, পুলিশি তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় যথাযথ সংস্কারের মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবেলা করা সম্ভব। যতক্ষণ না পর্যন্ত সিস্টেমিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হয়, পাচারকারীরা তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাবে এবং নিরপরাধ মানুষ আরো ভুক্তভোগী হবে।


NDTV’র রিপোর্ট থেকে বিমসটেক সম্মেলনে মোদি – ইউনুস বৈঠক , কূটনৈতিক ভারসাম্যের সন্ধান

শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশব্যাপী আন্দোলনের পর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ক্রমশ শীতল হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক উত্তেজনা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল উপস্থিত ছিলেন। ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মোদি জোর দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি এবং বাংলাদেশ সরকারকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারত গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করে।’

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে দেশটি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মুহাম্মদ ইউনুস বলেন, ‘বাংলাদেশ ভারতকে অত্যন্ত মূল্য দেয় এবং দুই দেশের বন্ধুত্ব পারস্পরিক ইতিহাস, ভৌগোলিক অবস্থান ও সাংস্কৃতিক সখ্যতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের সমর্থন এখনো আমরা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি।’ সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টিও বৈঠকে উত্থাপিত হয়। দুই দেশই দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত চোরাচালান ও অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন, যা দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি মুহাম্মদ ইউনুস চীনে এক সফরের সময় উত্তর-পূর্ব ভারত নিয়ে মন্তব্য করেন, যা দুই দেশের মধ্যে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, ‘ভারতের সাতটি রাজ্য, যা ‘সেভেন সিস্টারস’ নামে পরিচিত, স্থলবেষ্টিত এবং তাদের সমুদ্রের সঙ্গে কোনো সংযোগ নেই। বাংলাদেশ তাদের সমুদ্রের অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারে, যা চীনের অর্থনীতির জন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করতে পারে।’ বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। মুহাম্মদ ইউনুস বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির জন্য ভারতের সমর্থন চান। পাশাপাশি, তিনি গঙ্গার পানি চুক্তি নবায়ন ও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য আলোচনার আহ্বান জানান।

বৈঠকে মুহাম্মদ ইউনুস শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ‘শেখ হাসিনা ভারত থেকে মিডিয়ার সামনে উসকানিমূলক মন্তব্য করে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন।’ তিনি ভারতের কাছে আহ্বান জানান, ‘আপনার দেশে অবস্থানকালে তাকে এই ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত রাখার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’ মোদির সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের জবাবে মুহাম্মদ ইউনুস দাবি করেন যে ‘সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বেশিরভাগ প্রতিবেদন অতিরঞ্জিত ও ‘ফেক নিউজ’।’ তিনি বলেন, ‘দেশে ধর্মীয় ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার প্রতিটি ঘটনা পর্যবেক্ষণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং সর্বত্র এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা নিরসনে উভয় পক্ষের কৌশলগত কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর।


কোনোভাবেই উগ্রপন্থার অবস্থান বাংলাদেশে হবে না : তথ্য উপদেষ্টা

কোনোভাবেই উগ্রপন্থার অবস্থান বাংলাদেশে হবে না। আমরা যদি দেখি যে আলোচনা এবং সতর্কতার মাধ্যমে সমাধান হচ্ছে না, তাহলে শিগগিরই কঠোর অবস্থানে যাব। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুযোগ অনেকেই পেয়েছেন, সুযোগের সদ্ব্যবহার না করে দুর্ব্যবহার করলে আমরা অবশ্যই হার্ডলাইনে যাব। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আমাদের কাছে স্পষ্ট হচ্ছে যে তারা বলছে, বাংলাদেশের চরমপন্থা বা উগ্রপন্থার সুযোগ তৈরি হয়েছে নতুন পরিস্থিতি এবং হাসিনা চলে যাওয়ার কারণে। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে অবস্থান হচ্ছে, এমন সুযোগ কাউকে নিতে দেওয়া হবে না। বরং বাংলাদেশের যে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আছে, সেটির সুরক্ষা এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে আমরা বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখব। এরই মধ্যে আমরা ভূমিকা রেখেছিও বটে। ভবিষ্যতে আমরা চেষ্টা করব বাংলাদেশ কোনোভাবেই উগ্রপন্থী তৎপরতা, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উগ্রপন্থা যেন মাথাচাড়া দিতে না পারে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তরের জন্য আমরা যে কাজ করছি, সেটি যেন সাধন করে যেতে পারি এবং নির্বাচনের মাধ্যমে যথাসময়ে আমরা যাতে বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরে ভূমিকা রাখতে পারি – এটা হচ্ছে আমাদের একমাত্র চাওয়া। বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের উত্থানের আশঙ্কা করে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায়, কুমিল্লায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম।


‘সেভেন সিস্টার্স’ বিতর্ক , সবার জন্য সমান সুবিধার কানেক্টিভিটির কথা বলেছেন : ইউনুস

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ‘সেভেন সিস্টার্স’খ্যাত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য নিয়ে যে মন্তব্য করেছিলেন, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমান। প্রধান উপদেষ্টার ওই মন্তব্য নিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রতিক্রিয়া দেখানোর পর এই ব্যাখ্যা দিলেন তিনি। বুধবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন এ কথাটি প্রধান উপদেষ্টা এই প্রথমবার বলেননি। তিনি ২০১২ সালে একই ধরনের কথা বলেছিলেন। ২০২৩ সালেও জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিশিদা নর্থ-ইস্ট ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশকে একটা ভ্যালু চেইনে আবদ্ধ করার কথা বলেছিলেন এবং তিনি এ প্রসঙ্গে সিঙ্গেল ইকোনমিক জোনের (একক অর্থনৈতিক অঞ্চল) কথাও বলেছিলেন, যেটিকে ‘বিগ বি ইনিশিয়েটিভ’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

খলিলুর রহমান বলেন, ‘দেখুন আগেই বলেছি, কানেক্টিভিটি (যোগাযোগ) এই অঞ্চলের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। বিশেষ করে যাদের জন্য সমুদ্রে অ্যাকসেস (প্রবেশ) পাওয়া খুব কঠিন। আমরা কিন্তু কানেক্টিভিটি জোর করে চাপিয়ে দেব না। দেওয়ার অবস্থাও আমাদের নেই। কেউ যদি নেয় ভালো, আর না নিলে কী করব আমি, কিছু করার নেই। অত্যন্ত সৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পথে তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন। এখন যদি এর অন্য রকম ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, আমরা তো সেই ব্যাখ্যা ঠেকাতে পারছি না। আমরা শুধু এটুকু বলতে পারব, আমরা কানেক্টিভিটি সবার ইকুইটিফুল বেনিফিটের (সমান সুবিধা) জন্য দিতে আগ্রহী আছি। কেউ নেবেন তো ভালো, না নিলে নেবেন না।’ এই অঞ্চলে কানেক্টিভিটি অত্যন্ত প্রধান বিষয় উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ছাড়া সেটি করা সম্ভব নয়।

দ্বিতীয়ত এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে সেটাও এই অঞ্চলের কোনো দেশ, বিশেষ করে ছোট ছোট দেশগুলো এককভাবে তা মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন। যখন জোটবদ্ধভাবে এসব সমস্যা মোকাবিলার চেষ্টা করা হবে, তখন সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনাও তত বাড়বে। আরেক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা চীন সফর করছেন কিংবা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সম্ভাবনা আছে। এগুলো কিন্তু “জিরো সাম গেম” নয় যে এক জায়গায় গেলে অন্য জায়গায় আমাদের সম্পর্ক নষ্ট হবে। আমরা সব জায়গায় গিয়ে আমাদের সুবিধা অনুযায়ী এবং পারস্পরিক সুবিধা অনুযায়ী যতটুকু এগোতে পারি, আমরা সেটার চেষ্টা করব। সেই কারণে আমরা সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। কাউকে বাদ দিয়ে আমরা এগোতে চাই না।’

সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে সে দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুবিধা নিয়ে আলোচনায় নেপাল ও ভুটান স্থলবেষ্টিত দেশ, যাদের কোনো সমুদ্র নেই এবং ভারতের সাতটি উত্তর-পূর্ব রাজ্যও স্থলবেষ্টিত বলে উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য সাগর দিয়ে সারা বিশ্বে রপ্তানির সুযোগের কথাও তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্য নিয়ে ভারতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের প্রধান পবন খেরা এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ চীনকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ভারতকে ঘিরে ফেলার জন্য। বাংলাদেশ সরকারের এই আচরণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য খুবই বিপজ্জনক।’ এর বাইরে ভারতের বিভিন্ন রাজনীতিক এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।


ইরানে মার্কিন হামলা পরিকল্পনা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না আরব দেশগুলো

ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানকে নিজেদের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশ। দেশগুলো এরই মধ্যে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। গত রোববার (৩০ মার্চ) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানে বোমা হামলা চালানোর ঘোষণার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েত এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে বলে দিয়েছে ইরানে হামলা চালানোর জন্য তারা নিজেদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। ইরানে হামলা চালানোর সঙ্গে জড়িত কোনো মার্কিন উড়োজাহাজ এসব দেশ থেকে জ্বালানিও নিতে পারবে না। এমনকি হামলাসংশ্লিষ্ট উদ্ধার অভিযান পরিচালনার জন্যও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানকে নিজেদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে (এমইই) এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তাঁরা (উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতারা) এতে জড়াতে চাইছেন না।’ উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়াটা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধাক্কা। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের সহায়তাপুষ্ট ইয়েমেনের হুতিদের ওপর ব্যাপক বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বাধ্য করতেই ট্রাম্প প্রশাসন তা করেছে।হুতিদের ওপর হামলায় সহায়তা পাওয়া উপসাগরীয় মিত্রদের কাছ থেকে ইরানের বেলায়ও একই ধরনের সহযোগিতা পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল যুক্তরাষ্ট্র।

উপসাগরীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার পর ভারত মহাসাগরের দ্বীপ দিয়েগো গার্সিয়ায় নিজেদের সামরিক ঘাঁটিতে বি-২ বোমারু বিমানের সংখ্যা বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। উপসাগরীয় বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশে হামলা চালানোর জন্য দিয়েগো গার্সিয়া এর আগেও ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কৌশলগত এ দ্বীপটি উপসাগরীয় অঞ্চলের নিজেদের ঘাঁটিগুলোর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে ওয়াশিংটন। ১৯৯০-এর দশকে ইরাকে হামলা চালানোর সময় নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সৌদি আরব। তখন চাগোস দ্বীপপুঞ্জের দিয়েগো গার্সিয়ার নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

ইরান থেকে চাগোস দ্বীপপুঞ্জে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির দূরত্ব ৫ হাজার ৩০০ কিলোমিটারের মতো। বি-২ বোমারু বিমান ট্যাংক ভরে জ্বালানি নিলে প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার যেতে পারে। বহন করতে পারে ৩০ হাজার পাউন্ডের বোমা। এসব বোমা ‘বাংকার দুমড়েমুচড়ে’ দিতে সক্ষম। তাই ধারণা করা হচ্ছে, এসব বোমা দিয়ে ইরানের ভূপৃষ্ঠের গভীরে আঘাত হানা যাবে।



ট্রাম্পের শুল্ক বাংলাদেশ সহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ : সেলিম রায়হান , অর্থনীতিবিদ

“আজ বিশ্ব দেখেছে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাল্টা (রেসিপ্রোকাল) শুল্ক আরোপের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন, যা দীর্ঘ দিন ধরে GATT/WTO কাঠামোর মূল স্তম্ভ হিসেবে থাকা ‘সর্বাধিক অনুকূল দেশ’ (MFN) নীতির সমাপ্তি বা অন্তত উল্লেখযোগ্য রূপান্তরের সংকেত বহন করছে। এই নীতির ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার, কারণ বিভিন্ন মার্কিন বাণিজ্যিক অংশীদারের ওপর ভিন্ন ভিন্ন পারস্পরিক শুল্ক হার আরোপিত হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট পণ্যের ক্যাটেগরির ওপর শুল্কের হারও পরিবর্তিত হচ্ছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে বিজয়ী ও পরাজিত দেশ নির্ধারণ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশ আরও অস্থির ও অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে।

Reciprocal Tariffs
Country
Tarifís Charged to the U.S.A. Including Currency Manipulation and Trade Barriers
U.S.A. Discounted Reciprocal Tariffs

China
European Union

67%
34%
39%
20%
Vietnam
90%
46%
Taiwan
64%
32%
Japan
46%
24%
India
52%
26%
South Korea
50%
25%
Thailand
72%
36%
Switzerland
61%
31%
Indonesia
64%
32%
Malaysia
47%
24%
Cambodia
97%
49%
United Kingdom
10%
10%
South Africa
60%
30%
Brazil
10%
10%
Bangladesh
74%
37%
Singapore
10%
10%
Israel
33%
17%
Philippines
34%
17%
Chile
10%
10%
Australia
10%
10%
Pakistan
58%
29%
Turkey
10%
10%
Sri Lanka
88%
44%
Colombia
10%
10%

বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই পরিবর্তন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে, কারণ তারা এমন এক অনিশ্চিত ব্যবস্থায় কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে। এই নতুন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে, বাংলাদেশকে তার অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হবে, বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার সংস্কারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে এবং মূল বাণিজ্যিক অংশীদারদের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করতে হবে, যাতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় তার অবস্থান নিরাপদ থাকে।”