মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ ও ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির মতো সুরক্ষাবাদী নীতিমালার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী সোমবার এক ভাষণে ঘোষণা দিতে চলেছেন যে বিশ্বায়নের যুগ শেষ। দ্য টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারমার ঘোষণা দিতে চলেছেন ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে শুরু হওয়া বিশ্বায়ন এখন কোটি কোটি ভোটারের জন্য হতাশার কারণ হয়েছে, কারণ ট্রাম্পের নজিরবিহীন ১০ শতাংশ “বেসলাইন” শুল্ক বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে চলেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, স্টারমার স্বীকার করতে চলেছেন তিনি মার্কিন সমকক্ষের অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারছেন।
একজন সিনিয়র ব্রিটিশ কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, স্টারমার প্রশাসন যদিও ট্রাম্পের চরমপন্থী পদক্ষেপগুলোর সঙ্গে একমত নয়, তবে তারা স্বীকার করছে একটি নতুন যুগ শুরু হয়েছে, যেখানে অনেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করছেন। টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী স্টারমার বলেন, ‘বিশ্বায়ন শ্রমজীবী মানুষের জন্য কার্যকর হয়নি। আমরা মনে করি না বাণিজ্যযুদ্ধ এর সমাধান। এটা আসলে একটি সুযোগ, আমাদের দেখানোর যে অন্য একটি পথও আছে।’ টাইমস-এর মতে, ট্রাম্প যখন বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা তুলে নিচ্ছেন, তখন স্টারমারও স্বীকার করেছেন এর ফলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং বিভিন্ন দেশ অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরবরাহপক্ষের সংস্কারে মনোযোগ দেবে।
স্টারমারের এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে একমত হয়েছেন এইচএসবিসি ব্যাংকের প্রধান স্যার মার্ক টাকারও। তিনি মন্তব্য করেছেন, বিশ্বায়ন সম্ভবত এখন তার শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত মাসে হংকংয়ে একটি গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট সামিটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে, বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা ও ট্রাম্পের আগ্রাসী বাণিজ্য নীতির প্রেক্ষাপটে স্যার টাকার পূর্বাভাস দেন বিশ্ব এখন ছোট ছোট আঞ্চলিক গোষ্ঠী বা ক্লাস্টারে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে, যেখানে দৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠবে। এপ্রিলের ২ তারিখে ট্রাম্প একটি জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে বেশি শুল্ক আরোপ করে তাদের ওপর “পারস্পরিক” শুল্ক এবং ১০ শতাংশের একটি বেসলাইন ট্যারিফ আরোপ করেন।
“সকল বিদেশি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাজা, রানি, রাষ্ট্রদূত ও অন্য যারাই এই শুল্ক থেকে অব্যাহতির অনুরোধ জানাতে ফোন করবেন, আমি তাদের বলছি, ‘আগে তোমাদের নিজ নিজ শুল্ক বাতিল করো, বাধাগুলো তুলে নাও’,” বলেন ট্রাম্প। তিনি আরো যোগ করেন “২০২৫ সালের ২ এপ্রিল চিরদিন স্মরণীয় থাকবে সেই দিন হিসেবে যেদিন আমেরিকান শিল্প পুনর্জন্ম পেল, আমেরিকার ভাগ্য পুনরুদ্ধার হলো এবং যেদিন আমরা আমেরিকাকে আবার সমৃদ্ধ করার পথে যাত্রা শুরু করলাম,”। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাল্টা শুল্ক আরোপ করলেও, যুক্তরাজ্য একটি “বাস্তববাদী কৌশল” অবলম্বন করে তুলনামূলকভাবে হালকা প্রতিক্রিয়া পেয়েছে । যুক্তরাজ্যের ওপর কেবলমাত্র ১০ শতাংশ বেসলাইন শুল্ক আরোপ হয়েছে।


