Home Blog Page 141

যেখানে কিছুই নেই সেখানেই সবকিছু ! নাথিংনেসের স্নায়ুবিজ্ঞান ও অস্তিত্বের গল্প

নাথিংনেস বা শূন্যতার ধারণা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শাস্ত্রজ্ঞ, দার্শনিক এবং বৈজ্ঞানিকদের একটি প্রগাঢ় অনুসন্ধানের বিষয় হয়ে আছে। গণিতে শূন্য প্রথম আত্মপ্রকাশ করে প্লেসহোল্ডার হিসেবে প্রায় ৫,০০০ বছর আগে মেসোপটেমিয় সভ্যতায়। সুমেরীয়রা তাদের সংখ্যাপদ্ধতিতে একটি খালি অবস্থান চিহ্নিত করতে এই আদিরূপ ব্যবহার করত। তবে শূন্যকে একটি পূর্ণসংখ্যার মর্যাদা দেওয়ার ধারণা ভারতীয় উপমহাদেশে গড়ে ওঠে, যেখানে গাণিতিক নিয়মাবলির পাশাপাশি দর্শনেও এটি এক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান লাভকরে।

পাশ্চাত্য দার্শনিকরা শুরুতে শূন্যকে গভীরভাবে সন্দেহের চোখে দেখেছিলেন। পিথাগোরাস ও ইউক্লিডের মতো গ্রিক চিন্তাবিদরা শূন্যকে মূল্যহীন বা অস্তিত্বহীন বলে বিবেচনা করতেন, যেটা তাদের যুক্তিবদ্ধ বিশ্বের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। তবে ভারতীয় সংখ্যা পদ্ধতির মাধ্যমে শূন্যের ধারণা প্রথমে ইসলামিক বিশ্বে এবং পরে ইউরোপে প্রবেশ করে। মধ্যযুগ পার করে আধুনিক ক্যালকুলাস, পদার্থবিজ্ঞান, কম্পিউটার প্রযুক্তি সবখানেই শূন্য একটি মৌলিক ভিত্তি হয়ে ওঠে। কিন্তু শূন্য কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি সসীম ও অসীমের মধ্যবর্তী সীমারেখার একধরনের দার্শনিক সংকেত, যেখানে ‘কিছু না থাকা’ও অসীম সম্ভাবনার উৎস।

অন্যদিকে স্নায়ুবিজ্ঞানের পরিপ্রেক্ষিতে নাথিংনেস বা অনুপস্থিতি কেবল বাহ্যিক বা শারীরিক শূন্যতার অভিব্যক্তি নয়। এটি মস্তিষ্কের একটি সক্রিয় প্রতিক্রিয়া। যখন আমরা কোনো কিছুর অভাব উপলব্ধি করি, তা হোক জ্ঞানীয় বা আবেগিক-তখন মস্তিষ্ক এক ধরনের জটিল স্নায়ুবিক ক্রিয়াকলাপের মধ্য দিয়ে তা প্রক্রিয়াজাত করে। এই প্রক্রিয়ায় মস্তিষ্কের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স এবং হিপোক্যাম্পাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স দায়িত্ব নেয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কর্মক্ষম স্মৃতি ও অনিশ্চয়তা মোকাবিলার, যেখানে হিপোক্যাম্পাস জড়িত থাকে স্মৃতি পুনর্গঠন ও স্থানিক সচেতনতার সঙ্গে। এই অভ্যন্তরীণ মস্তিষ্কীয় প্রতিক্রিয়ায় দেখা যায়, অনুপস্থিতি নিজেই আমাদের বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতা শাণিত করার একটি তথ্য।

অনুপস্থিতির অনুভূতি শুধু বুদ্ধিবৃত্তিক নয়, এটি আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। প্রিয়জনের অনুপস্থিতি, কোনো স্মৃতির বিলুপ্তি, অথবা অস্তিত্বগত শূন্যতার উপলব্ধি মস্তিষ্কে বিষণ্ণতা, শোক, উদ্বেগ, এমনকি ভয় তৈরি করতে পারে। এসব প্রতিক্রিয়াকে মস্তিষ্ক কেবল গ্রহণই করে না, বরং তা আবেগিক ব্যাখ্যার অংশ হিসেবে পুনর্গঠন করে। অনুপস্থিতির অভিজ্ঞতা অনেক সময় স্মৃতির ধারাবাহিকতায় ছেদ ঘটায়। অ্যালঝেইমার বা মেমোরি লসের মতো অবস্থায় স্মৃতির শূন্যতা আত্মপরিচয়ের টেকসই কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।

দর্শনের ক্ষেত্রে শূন্যতা এবং অস্তিত্বের সম্পর্ক চিরকালীন এক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। হাইডেগার তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Being and Time-এ শূন্যতা বা নাথিংনেসকে অস্তিত্বের মৌলিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখান। তাঁর মতে মৃত্যুর পরবর্তী অনুপস্থিতির প্রত্যাশা আমাদের জীবনের স্বরূপ উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। এই দর্শনে শূন্যতা এক ধরণের বাস্তবতাবোধ, যা সব কিছুর অনুপস্থিতির মাঝেও উপস্থিতির অর্থ তৈরি করে। বৌদ্ধ দর্শনে শূন্যতা আরও ভিন্ন অর্থ ধারণ করে। এখানে শূন্যতা মানে কোনো কিছুর সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি নয়, বরং এটি সমস্ত বস্তুর স্বতন্ত্র অস্তিত্বহীনতার উপলব্ধি। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো কিছুকে আলাদাভাবে ধরে রাখা সম্ভব নয়, কারণ সবকিছু পারস্পরিক নির্ভরশীল। শূন্যতা উপলব্ধি করাই মুক্তির প্রথম ধাপ। এই দার্শনিক যুক্তি আধুনিক চেতনা-গবেষণার সঙ্গেও অসাধারণভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

চেতনার প্রসঙ্গে নাথিংনেস একটি অন্তজ্ঞানগত বাস্তবতা। চেতনা অনেকাংশে নির্ধারিত হয় কোন তথ্য অনুপস্থিত, কোনটি উপস্থিত, এবং কোনটি পূর্বানুমানের মাধ্যমে পূরণ করা হচ্ছে তার ভিত্তিতে। ধ্যান, স্নায়ুবিক সংবেদনশীলতা কিংবা স্বপ্নাবিষ্ট চেতনার অভিজ্ঞতায় আমরা প্রায়ই এক ধরনের ‘শূন্যতা’র মুখোমুখি হই যেখানে চেতনা তথ্যহীনতার মধ্যেই অর্থ খোঁজে। এ উপলব্ধি আমাদের মনে মনে বলে দেয়, তথ্যের অনুপস্থিতিও কিন্তু একটি তথ্য! সবশেষে নাথিংনেসের ধারণাটি যে কেবল অনুপস্থিতির পরিচয় নয়, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে বিজ্ঞান, দর্শন ও মানসিকতার অন্তর্বতী বিশ্লেষণে। শূন্যতা একাধারে বুদ্ধিবৃত্তিক, জৈবিক, আবেগিক এবং অস্তিত্ববাদী একটি সঙ্কেত, একটি অভিজ্ঞতা, আরও সম্ভবত আমাদের চেতনার সবচেয়ে সূক্ষ্ম আয়না।




বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন এসএমই নীতিমালায় নারী উদ্যোক্তা ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকার

বাংলাদেশের কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাত বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জিডিপিতে ২৫-২৭ শতাংশ অবদান এবং প্রায় তিন কোটি মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এ খাত দেশের কর্মসংস্থান ও আয় সৃষ্টিতে অসামান্য ভূমিকা রাখছে। এ খাতে কর্মরতদের মধ্যে দেশের শিল্প শ্রমিকের প্রায় ৪০ শতাংশ রয়েছে, যা এর ব্যাপকতার প্রমাণ দেয়। এছাড়া সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজ ও সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ক্ষুদ্র অর্থনীতির প্রায় ৫০.৯১ শতাংশ এবং শ্রমিকের ৩৫.৪১ শতাংশ এ খাত থেকে আসে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক এ খাতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে, যা প্রান্তিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোক্তাদের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এখন থেকে ট্রেড লাইসেন্সবিহীন উদ্যোক্তারাও ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ পাবেন। নারী উদ্যোক্তাদের ঋণের আওতা বাড়াতে নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে-যেমন, কোনো প্রতিষ্ঠান নারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হবে যদি কমপক্ষে ২০ শতাংশ শেয়ারের মালিক একজন নারী হন অথবা ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের অন্তত ৫১ শতাংশ নারী হন। নতুন নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের মোট ঋণের অন্তত ২৫ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে বিতরণ করতে হবে এবং প্রতিবছর এ হার দশমিক ৫ শতাংশ করে বাড়াতে হবে। ২০২৯ সালের মধ্যে এই হার ২৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও বর্তমানে ব্যাংকগুলো এ খাতে মাত্র ১৮.৪০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করছে, এটি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত।

ঋণের সুদহার বর্তমানে ১০-১৫ শতাংশ হলেও পুনঃঅর্থায়ন সুবিধার আওতায় এ হার ৭-৮ শতাংশ। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা উৎপাদন খাতে সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা এবং সেবা খাতে ৭৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। মাইক্রো ও ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য উৎপাদন খাতে যথাক্রমে ২ কোটি এবং ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ট্রেডিং খাতে মাইক্রো উদ্যোক্তারা ৭৫ লাখ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সর্বোচ্চ ৮ কোটি টাকা ঋণ নিতে পারবেন। কুটির শিল্পে এই ঋণের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা। একইসাথে মেয়াদি ঋণের সর্বোচ্চ সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করা হয়েছে এবং নির্দিষ্ট প্রকল্পভিত্তিক গ্রেস পিরিয়ড ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ এবং স্মল এন্টারপ্রাইজ খাতে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যেটা আগের তুলনায় দ্বিগুণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে সিএমএসএমই খাতে অর্থায়নের এ নতুন ধারা দেশের অর্থনীতিকে প্রান্তিক পর্যায় থেকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এ যুগোপযোগী উদ্যোগ দেশের শিল্পখাতকে একটি সুসংহত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।



যুক্তরাষ্ট্র চীন দ্বন্দ্বে ভারসাম্য রাখতে ব্যতিব্যস্ত ভিয়েতনাম

ট্রাম্পের বেপরোয়া শুল্কনীতিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনাম কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে। কারণ একদিকে তাদের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার এবং নিরাপত্তা অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে শীর্ষ বিনিয়োগের উৎস এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করার ঝুঁকিও নিতে চাইছে না। যেখানে দক্ষিণ চীন সাগরে সীমান্ত নিয়ে চীন-ভিয়েতনাম বিরোধ বহুদিন ধরে চলে আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘শাস্তিমূলক শুল্ক’ এড়াতে ভিয়েতনামের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো চীনা পণ্যের ওপর কঠোর নজরদারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হ্যানয় সরকার। শুধু তাই নয়, চীনমুখী সংবেদনশীল রপ্তানির ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ জোরদারের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।

এই পদক্ষেপের প্রস্তাব এমন সময়ে এল, যখন হোয়াইট হাউসের প্রভাবশালী বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারোসহ ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা এই ধারণা থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, চীনা পণ্য কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ‘মেড ইন ভিয়েতনাম’ লেবেল ব্যবহার করা হচ্ছে। ভিয়েতনাম বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছিল, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্তের বিষয়ে নমনীয় থাকেন। তবে এর পরও ট্রাম্প ভিয়েতনামের ওপর ৪৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। রপ্তানিনির্ভর ভিয়েতনাম আশা করছে, আলোচনার মাধ্যমে এই শুল্ক ২২ থেকে ২৮ শতাংশের মধ্যে বা তারও নিচে নামিয়ে আনা যাবে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকে অনেক বহুজাতিক সংস্থা বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভিয়েতনামে কারখানা স্থাপন করে ‘চীন প্লাস ওয়ান’ নীতি বাস্তবায়ন করেছে। ভিয়েতনামের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে প্রবাহিত সংবেদনশীল পণ্যের ক্ষেত্রেও হ্যানয় কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভিয়েতনাম সেমিকন্ডাক্টরের মতো দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ কঠোর করতে চায়। এ ধরনের ইলেকট্রনিকস বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজেই ব্যবহার করা যায়।

মার্কিন সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। ওয়াশিংটন অত্যাধুনিক মার্কিন চিপ চীনে সরবরাহ বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিয়েছে। ভিয়েতনামের কূটনীতিকদের বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আগামী সপ্তাহে চীনা নেতা শি চিনপিং হ্যানয় সফরে ভিয়েতনামের বিমান সংস্থাগুলোর জন্য চীনা জেট বিমান ইজারা নেওয়া ও কেনার পথ খুলতে পারে। গত সপ্তাহেই ভিয়েতনামের বিমান সংস্থাগুলোর বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঋণ চুক্তির ঘোষণা আসে। আর এরপরই চীনের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তির আভাস মিলছে।



বিএনপির দলীয় কোন্দল ৮ মাসে ৫১ নেতাকর্মী নিহত

দৈনিক সমকালে প্রকাশিত খবর, সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কর্মীদের মধ্যে রেষারেষি, নেতাদের মধ্যে বিরোধ, মূল সংগঠনের সঙ্গে অঙ্গসংগঠনের মতভিন্নতা, স্বার্থের দ্বন্দ্ব, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংর্ঘষে গত ৮ মাসে বিএনপির ৫১ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪ শতাধিক নেতাকর্মী-সমর্থক। গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত অন্তত ৪৮টি সংঘর্ষে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অনেক ঘটনায় বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। বিএনপি বহিষ্কার করেছে ৪৭ নেতাকে।

সমকালের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত আট মাসে বিএনপির নিজেদের মধ্যে খুনোখুনিতে যে ৫১ জন নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৭ জন যুবদল, ৫ জন ছাত্রদল, ২ জন করে শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের নেতা। বাকি ৩৩ জনের মধ্যে ২৪ জন বিএনপির পদধারী নেতা ছিলেন। ৯ জন দলটির কর্মী-সমর্থক। সমকালের নিজস্ব তথ্যে দেখা যায়, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দখল, কমিটিসহ নানা বিরোধে বিএনপিতে খুনোখুনি সবচেয়ে বেশি হয়েছে চলতি বছর মার্চ মাসে। এ মাসে ১৩ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। সমকাল প্রতিনিধিদের সরেজমিন তথ্য অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার, বালুমহাল, ঠিকাদারি, ইজারা, পরিবহন স্ট্যান্ড, ঘাট, হাটবাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ এবং দলীয় কর্মসূচিতে সংঘর্ষে তাদের প্রাণ গেছে।


হাঁটা বনাম দৌড়ানো কোনটি আপনার জন্য উপকারী

হাঁটা এবং দৌড়ানো দুটি সুরক্ষিত এবং কার্যকরী কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম। দুটিই আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, তবে কোনটি আপনার জন্য উত্তম, তা নির্ভর করে আপনার স্বাস্থ্য লক্ষ্যের উপর, আপনার শারীরিক সক্ষমতা এবং ব্যক্তিগত পছন্দের উপর।যদি আপনি দ্রুত বেশি ক্যালোরি পোড়াতে চান বা দ্রুত ওজন কমাতে চান, তবে দৌড়ানো একটি ভালো বিকল্প। তবে হাঁটাও অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা দিতে পারে, যেমন এটি আপনাকে সুস্থ ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে। হাঁটা এবং দৌড়ানো উভয়ই কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম, এটি শরীরের মেজাজ উন্নত করতে এবং স্বাস্থ্যকর থাকতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়ামের কিছু উপকারিতার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

ওজন কমাতে বা সুস্থ ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে। ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে। দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হৃদপিণ্ডের শক্তি বৃদ্ধি করে। এছাড়া, কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, হাঁটা এবং দৌড়ানো দুটোই উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতা কমাতে সাহায্য করে।
হাঁটা বনাম দৌড়ানো
হাঁটার তুলনায় দৌড়ানো প্রায় দ্বিগুণ ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে। ওজন কমানোর লক্ষ্যে, দৌড়ানো হাঁটার চেয়ে কার্যকর। তবে হাঁটাও একটি ভালো বিকল্প, বিশেষত যদি আপনি নতুন ব্যায়াম শুরু করছেন বা দৌড়াতে সক্ষম না হন। হাঁটা অনেকের জন্য সহজ এবং এটি আপনার হৃদপিণ্ডকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

স্পিড হাঁটা, পাওয়ার হাঁটা এবং ইনক্লাইন হাঁটা এর মতো কিছু উপায়ে হাঁটার মাধ্যমে আপনি আরো ক্যালোরি পোড়াতে পারবেন। পাওয়ার হাঁটা প্রায় দৌড়ানোর মতো ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করতে পারে এবং ইনক্লাইন হাঁটাও দৌড়ানোর মতো ক্যালোরি পোড়াতে পারে যদি আপনি পাহাড়ী পথ বা ট্রেডমিল ব্যবহার করেন। দৌড়ানো একটি উচ্চ-প্রভাবিত ব্যায়াম, যা আপনার শরীরের উপর চাপ ফেলতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে কিছু সাধারণ আঘাত হতে পারে, যেমন স্ট্রেস ফ্র্যাকচার, প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়াটিস এবং আইটিবি ফ্রিকশন সিনড্রোম। তবে, হাঁটা একটি কম প্রভাবিত ব্যায়াম, যা একই সুবিধা দেয় কিন্তু আঘাতের ঝুঁকি কম। হাঁটা এবং দৌড়ানো উভয়ই কার্যকরী কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম। যদি আপনি নতুন ব্যায়াম শুরু করেন, তবে হাঁটা একটি ভালো পছন্দ হতে পারে। যদি আপনার লক্ষ্য দ্রুত ওজন কমানো বা ক্যালোরি পোড়ানো, তবে দৌড়ানো একটি ভালো বিকল্প।



অবচেতনের ভাষা নাকি আত্মার স্মৃতি ? Xenoglossy-র রহস্যবৃত্ত

১৯৩১ সালে লন্ডনের প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ডঃ রিচার্ড হ্যামন্ড এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। তার রোগী ২০ বছর বয়সী ইংরেজ মেয়ে রোজমেরি একদিন হঠাৎ ঘোরের মধ্যে প্রবেশ করে এমন একটি ভাষায় কথা বলা শুরু করে যা কেউ চিনতে পারছিল না। পরে জানা যায় ভাষাটি ছিল বহু শতাব্দী ধরে বিলুপ্ত প্রাচীন ফ্লেমিশ ভাষা। রোজমেরি সেই ভাষা শেখা ত দূরের কথা, এমনকি কখনো শোনেওনি। এই ঘটনা থেকেই মনোবিজ্ঞান ও মেটাফিজিক্সে জন্ম নেয় Xenoglossy নামক শব্দটি। Xenoglossy-এর দুটি প্রধান ধরন রয়েছে, Reactive Xenoglossy তে ব্যক্তি কেবল কথোপকথনে প্রতিক্রিয়া জানায়। Responsive Xenoglossy তে ব্যক্তি পুরোপুরি সাবলীলভাবে সেই ভাষাতেই নিজ চিন্তা প্রকাশ করতে পারে।

Xenoglossy নিয়ে দুটি উল্লেখযোগ্য কেস হচ্ছে Bridey Murphy ও Uttara Huddar । যুক্তরাষ্ট্রের গৃহবধূ ভার্জিনিয়া টাই নিজের নাম ভুলে গিয়ে বলতে শুরু করেন, তিনি আয়ারল্যান্ডের একজন নারী ‘ব্রাইডি মারফি’। হিপনোসিসের অধীনে সে ১৮০০ সালের আয়ারল্যান্ডের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং আইরিশ গ্যালিক ভাষায় অবলীলায় কথা বলেন, যা কখনোই তার জানা ছিল না। পরবর্তীতে তার কিছু বর্ণনার সাথে ইতিহাসের মিলও পাওয়া যায়। ১৯৭০ সালে ভারতের নাগপুরের এক মারাঠি ভাষাভাষী মেয়ে উত্তরা হুড্ডার হঠাৎ ঘোরে চলে গিয়ে পালি ভাষায় কথা বলা শুরু করে। পালি ভাষা ছিল বহু শতাব্দী ধরে ভারত থেকে লুপ্ত বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের ভাষা। গবেষকরা বিস্মিত হয়ে পড়েন, কারণ উত্তরা এই ভাষার কোনো ছায়াও জীবনে পায়নি এবং এ নিয়ে তার কোনো ধারণাই ছিল না।

কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন এটি ‘ক্রিপ্টোমনেসিয়া’ – অর্থাৎ -ব্যক্তি আগে কোনোভাবে ভাষাটির শব্দ বা বাক্য শুনেছিল, কিন্তু তা স্মৃতিতে চেপে যায় এবং একটা সময় পর অবচেতনভাবে ফিরে আসে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ভাষার কাঠামো ও সংস্কৃতি জানার গভীরতাকে ক্রিপ্টোমনেসিয়া দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। টেম্পোরাল লোব ও ব্রেইনের সাবকনশাস স্তরে এমন কিছু নিউরাল অ্যাক্টিভেশন হয় যা ভাষা কেন্দ্রের অজানা অংশে আলো ফেলে দেয়। তবে একেও তখনো বৈজ্ঞানিকভাবে সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করা যায়নি।

Xenoglossy-কে অনেক সময় পুনর্জন্ম তত্ত্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে ব্যক্তি পূর্বজন্মে ঐ ভাষায় জীবিত ছিলেন বলে দাবি করেন। হিন্দু ও বৌদ্ধ দর্শনে আত্মার স্মৃতি নতুন দেহে বহন করার ধারণা রয়েছে। কিছু মনোবিজ্ঞানী যেমন ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ ইয়ান স্টিভেনসন এ ধরনের বহু কেস ডকুমেন্ট করেন। তিনি “Twenty Cases Suggestive of Reincarnation’ গ্রন্থে একাধিক Xenoglossy-এর ঘটনা তুলে ধরেন। একটি ঘটনায় দেখা যায়, ভারতের মধ্যপ্রদেশে জন্ম নেওয়া স্বর্ণলতা নামে একটি মেয়ে শিশু, যে ৩ বছর বয়স থেকেই বলে বেড়াতে শুরু করে যে সে পূর্বজন্মে অন্য কেউ ছিল। বিস্ময়কর দিক হচ্ছে স্বর্ণলতা তার পূর্বজন্মের বাড়ি, পরিবারের সদস্য, এমনকি সেই এলাকার নির্দিষ্ট জায়গা পর্যন্ত চিহ্নিত করতে পারে।

তার বর্তমান জীবনে সে শুধুমাত্র হিন্দি জানলেও তবু সে কখনো কখনো ছত্তিশগড়ি বা পুরনো বুন্দেলখণ্ডি উপভাষায় কথা বলত, যা তার পরিবারে কেউ জানত না। যদিও এটি পূর্ণাঙ্গ xenoglossy নয়, তবে এটি ভাষাগত স্মৃতির দিকে ইঙ্গিত দেয়। কিছু চ্যানেলিং বিশেষজ্ঞ ও ইউফোলজিস্টরা দাবি করেন, Xenoglossy হচ্ছে ভিনগ্রহী সত্তার মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ। কিছু ‘গ্রে এলিয়েন’ বা ‘প্লেইডিয়ান’ বার্তা-প্রদানকারী ব্যক্তিরা ট্রান্সে গিয়ে অজানা ভাষায় কথা বলেন, যা পরে ‘নিউ ল্যাঙ্গুয়েজ কোড’ হিসেবে বিবেচিত হয়। গূঢ়তাত্ত্বিকদের মতে, আকাশিক রেকর্ডস হলো এক মহাজাগতিক তথ্যভাণ্ডার, যেখানে সমস্ত আত্মার স্মৃতি ও ভাষা রক্ষিত।ট্রান্স বা মেডিটেটিভ অবস্থায় কেউ যদি সেই স্তরে পৌঁছায়, তবে তার মুখে অজানা ভাষার প্রকাশ ঘটতে পারে।

কিছু ষড়যন্ত্রতত্ত্ববিদ দাবি করেন, Xenoglossy আসলে কোনও গোপন মনস্তাত্ত্বিক প্রোগ্রামিং বা পরীক্ষামূলক প্রযুক্তির ফল।যেমন: Project MK-Ultra বা ব্রেইন হ্যাকিং প্রোগ্রাম। Xenoglossy আজো এক রহস্যঘেরা দিগন্তড়যেখানে ভাষা, স্মৃতি, চেতনা ও আত্মার ধারণা এক বিন্দুতে এসে মিশে যায়। পুনর্জন্মের প্রশ্নে যেমন এটি এক সুস্পষ্ট চ্যালেঞ্জ, তেমনি নিউরোসায়েন্স ও মেটাফিজিক্সকেও পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করে। প্রশ্ন থেকে যায়, এই অচেনা ভাষাগুলি কার স্মৃতি বহন করে চলেছে? এই কণ্ঠস্বর কি শুধুই অবচেতন মস্তিষ্কের খেলা? নাকি আত্মার অতল থেকে উঠে আসা কোনো পুরনো জীবনের ছায়া?






ট্রাম্পের নতুন আদেশ ‘মেক আমেরিকান শাওয়ার গ্রেট এগেইন’ !

গত বুধবার ব্যতিক্রমী এক নির্বাহী আদেশ জারির মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গোসলের সময় শাওয়ার থেকে পানি ব্যবহারে আরোপিত সীমা বাতিল করেছেন। ওবামা ও বাইডেন প্রশাসনের সময় এই নিয়মগুলো কার্যকর ছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল পানি সাশ্রয় ও সংরক্ষণ। ট্রাম্পের নতুন আদেশে শাওয়ারহেডে পানির প্রবাহ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। আগে প্রতি মিনিটে ২.৫ গ্যালন পানি ব্যবহারের সীমা থাকলেও, এখন একাধিক নজলের মাধ্যমে এর পরিমাণ ১০ গ্যালন পর্যন্ত হতে পারবে। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এই নির্বাহী আদেশ জারির সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার ক্ষেত্রে আমি সুন্দরভাবে গোসল করতে চাই। আমার দারুণ চুলগুলোর যত্ন নিতে চাই। কিন্তু চুল ভেজার জন্য আমাকে পানির নিচে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। পানি পড়ে ফোঁটায় ফোঁটায়। এটা হাস্যকর।’

হোয়াইট হাউজের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রাম্প চান ‘আমেরিকার শাওয়ারগুলো আবারও মহান হোক।’ বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস আরও বলেছে, প্রেসিডেন্ট এই আদেশের মাধ্যমে পরিবেশবাদী অতিরিক্ত বিধিনিষেধের খড়গ থেকে আমেরিকানদের মুক্তি দিলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত পানি ব্যবহার শুধু খরচই বাড়ায় না, বরং জলবায়ু সংকটের ঝুঁকিও বাড়ায়। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, এ নিয়ম সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রায় স্বস্তি আনবে।

ইসরায়েলের ৩৬টি হামলায় শুধু নারী ও শিশু নিহত – জাতিসংঘের বিশ্লেষণ

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি শুক্রবার জেনেভায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ১৮ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত গাজায় আবাসিক ভবন ও বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে ইসরায়েলের ২২৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমাদের কার্যালয় যাচাই করে তথ্য পেয়েছে, এর মধ্যে ৩৬টি হামলায় নিহতদের তালিকায় শুধু নারী ও শিশু রয়েছে। শামদাসানি জানান, গত ৬ এপ্রিল দেইর আল বালাহের আবু ইসা পরিবারের একটি আবাসিক ভবনে হামলায় এক মেয়ে, চার নারী ও চার বছর বয়সী এক ছেলে নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। শামদাসানি বলেন, আমাদের কার্যালয়ে রেকর্ড করা তথ্য অনুসারে, সামগ্রিকভাবে নিহতদের মধ্যে বড় একটি অংশই শিশু ও নারী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের দুই-তৃতীয়াংশই নারী ও শিশু।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের অবরোধ আদেশে ফিলিস্তিনিদের যেসব এলাকায় যেতে বলা হচ্ছে, সেখানেও হামলা চলছে। খান ইউনিসের বাস্তুচ্যুতদের আল মাওয়াসি এলাকায় তাঁবুতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও সেখানে হামলা অব্যাহত রয়েছে। ১৮ মার্চ থেকে এ ধরনের অন্তত ২৩টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বুধবার বলেছেন, বড় অঞ্চল দখল করে সেগুলোকে নিরাপত্তা অঞ্চলে পরিণত করা হচ্ছে, যার ফলে গাজা আরও ছোট ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এ প্রসঙ্গে শামদাসানি বলেন স্পষ্ট করে বলতে হবে, এই তথাকথিত অবরোধ আদেশ আসলে স্থানান্তর আদেশ, যা গাজাবাসীদের ক্রমশ সংকীর্ণ এলাকায় ঠেলে দিচ্ছে। দখলকৃত ভূখণ্ডে বেসামরিক জনগণকে স্থায়ীভাবে স্থানান্তর করা জোরপূর্বক স্থানান্তরের শামিল, যা জেনেভা কনভেনশনের চতুর্থ ধারার গুরুতর লঙ্ঘন এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।

রাজ্য রক্ষা আর যুদ্ধই ছিলো যে নারীদের জীবন উপনিবেশবাদের আতঙ্ক দাহোমি অ্যামাজন

১৮৮৯ সালের জুলাই, পশ্চিম আফ্রিকার বেনিন অঞ্চলের দাহোমি রাজ্য ফরাসি উপনিবেশবাদীদের আক্রমণের মুখে। ফরাসিরা ধারণা করেছিল, এটি হবে এক নিশ্চিত রক্তহীন বিজয়। কিন্তু তারা যা জানত না তা হলো-এই রাজ্যের প্রহরীদল পুরুষ নয়, শত শত প্রশিক্ষিত, নিষ্ঠুর ও রক্তপিপাসু নারী যোদ্ধা। তারা ছিল দাহোমি অ্যামাজন, আফ্রিকার ইতিহাসে একমাত্র পূর্ণাঙ্গ নারী সেনাবাহিনী।

দাহোমি রাজ্য (বর্তমানে বেনিন) ছিল ১৭শ থেকে ১৯শ শতক পর্যন্ত এক সামরিক শক্তিধর রাজত্ব। সেখানে রাজা তার ব্যক্তিগত প্রহরী হিসেবে পুরুষ নয়, কঠিন ও শক্তিশালী নারী বাহিনী গড়ে তোলেন। এই নারীদের একমাত্র আদর্শ ‘N’Nonmiton’, যার অর্থ, ‘যদি রাজ্যের প্রয়োজন পড়ে আমরা আমাদের মা’কেও ধ্বংস করব।’ ইউরোপিয়ান পর্যবেক্ষকরা এদের ‘Black Amazons’ নামে আখ্যা দিয়ে গ্রীক পৌরাণিক নারী যোদ্ধাদের সাথেও তুলনা করে। তবে দাহোমি অ্যামাজনরা কোনো কল্পনা ছিল না-তারা ছিল যুদ্ধের জন্য গড়া এক বাস্তব নারী সেনাবাহিনী।

এই নারীদের প্রশিক্ষণ ছিল নির্মম ও কঠোর। কিশোরী বয়সেই তাদের পরিবার থেকে আলাদা করে রাজপ্রাসাদের অন্তঃপুরে নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে শুরু হতো দীর্ঘদিনের শারীরিক, মানসিক ও অস্ত্রচালনার অনুশীলন। প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে কখনো কখনো জীবন্ত বন্দীর গলা কেটে ফেলতে বলা হতো যেন কোনো দয়া বা দ্বিধা না থাকে যুদ্ধক্ষেত্রে।

তাদের রক্তে ছিলো কেবল দায়িত্ব আর যুদ্ধ, প্রেম, পারিবারিক স্বপ্ন বা ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার জন্য সেখানে কোনো স্থান ছিল না।। এই নারীরা বিবাহ করতেন না, সন্তান নিতেন না। তারা ছিল রাজার প্রতীকী স্ত্রী এবং রাজ্যের প্রতি সম্পূর্ণ উৎসর্গীকৃত। তাঁদের অস্তিত্বই যুদ্ধ, আনুগত্য ও আত্মত্যাগের অপর নাম। দাহোমি অ্যামাজনরা সরাসরি আঘাত হানে সেই প্রথাগত বিশ্বাসে, যেখানে নারীত্ব মানে শুধুই কোমলতা, মা হওয়া বা সহনশীলতা। তারা প্রমাণ করে নারীত্বের মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ংকর প্রতিরোধশক্তি ও যুদ্ধক্ষমতা। ফরাসি সেনা ও ব্রিটিশ পর্যটকদের চোখে এই নারীরা ছিল ভয়ংকর এবং অস্বাভাবিক। ১৮৯০ সালে একজন ব্রিটিশ সৈনিক স্মৃতিকথায় লিখেছিলেন- ‘তারা ছিল পিশাচের মতো শক্তিশালী আর নারীর মতোই নিষ্ঠুর।’

দাহোমি অ্যামাজন একমাত্র নয়। আফ্রিকার বিভিন্ন প্রান্তে নারী যোদ্ধাদের বিস্ময়কর উপস্থিতি পাওয়া যায়। ঘানার রাণী আসান্তেওয়া ১৯০০ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকদের বিরুদ্ধে ‘গোল্ডেন স্টুল’ যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘যদি পুরুষরা যুদ্ধ না করে, তবে আমি আমার নারীদের নিয়ে যুদ্ধ করব।’ আলজেরিয়ার জামিলা বুহিরেদ ১৯৫০-এর দশকে ফরাসিদের বিরুদ্ধে লড়েন গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে। বন্দী অবস্থায় নির্যাতনের শিকার হলেও নত হননি। তিনি হয়ে ওঠেন উত্তর আফ্রিকার নারীমুক্তির এক প্রতীক। ইরিত্রিয়ার নারী গেরিলারা ইথিওপিয়ার বিরুদ্ধে ৩০ বছরের স্বাধীনতা যুদ্ধে নারী যোদ্ধারা অংশ নেন বন্দুক হাতে। তারা চিকিৎসা, যোগাযোগ, সামরিক পরিকল্পনায়ও নেতৃত্ব দেন। যুদ্ধশেষে তারা রাষ্ট্র গঠনের প্রাথমিক স্তরেও অংশ নেন।

এইসব উদাহরণ দেখায়-আফ্রিকায় নারী মানেই কেবল ঘরকন্না নয়, বরং লড়াই, প্রতিরোধ ও নেতৃত্বের ধারক। তবে প্রশ্ন উঠে-এই ইতিহাস আমরা খুব একটা জানি না কেন? এর পেছনে রয়েছে একটি দীর্ঘ পিতৃতান্ত্রিক ইতিহাসচর্চার রাজনীতি। যেখানে পুরুষ ইতিহাস লেখেন তাঁদের দৃষ্টিকোণ থেকে। নারী যদি কেবল প্রেমিকা, স্ত্রী, বা উৎসর্গকারী সত্তা হয়ে থাকে-তাতেই পুরুষতান্ত্রিক বর্ণনাকাঠামোর সুবিধা। এইজন্যই দাহোমি অ্যামাজনের মতো একটি প্রাতিষ্ঠানিক নারীসেনা ইতিহাসের মূলধারা থেকে প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেছে। আজ এই ইতিহাস ফিরে আসছে সাংস্কৃতিক উপস্থাপনায়। মার্ভেলের ‘Black Panther’ সিনেমার Dora Milaje বাহিনী স্পষ্টভাবে দাহোমি অ্যামাজনের অনুপ্রেরণায় গঠিত। সেখানে নারীরা রাজাকে রক্ষা করে, পুরুষদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে এবং সাম্রাজ্যের রক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

২০২২ সালের “The Woman King’ সিনেমাও দাহোমি অ্যামাজনের জীবন ও লড়াই নিয়ে নির্মিত একটি আলোচিত চলচ্চিত্র। এতে উঠে আসে নারীর রাজনৈতিক, সামরিক ও মানসিক শক্তির বিস্তার। আফ্রিকার নারী যোদ্ধারা আমাদের সামনে এক বিকল্প নারীত্বের ধারণা হাজির করেন-যেখানে কোমলতা ও প্রতিরোধ পাশাপাশি চলে। তাদের অস্তিত্ব বলে দেয়, নারী কেবল সহ্যকারী নয়, তিনিই অনাগত জীবনের স্রষ্টা, প্রতিরোধকারী এবং যোদ্ধাও বটে। এই ইতিহাস কেবল অতীতের গৌরব নয়, বরং ভবিষ্যতের নারীবাদী প্রতিরোধ ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শিক রসদ।






যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ , বিশ্ব অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নয়ই এপ্রিল থেকে চীনা পণ্য আমদানির উপর ১০০ শতাংশরও বেশি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এর জবাবে সব ধরনের মার্কিন পণ্যে ৮৪ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে চীনের অর্থ মন্ত্রণালয়। গত বছর চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হয়েছে ৪৪০ বিলিয়ন ডলার (৪৪ হাজার কোটি ডলার) মূল্যের বাণিজ্য পণ্য আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীন আমদানি করেছে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার (১৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার) মূল্যের পণ্য। প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদেই চীনের উপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়কালেও এটি বহাল থাকে।

এই সমস্ত ‘ট্রেড ব্যারিয়ার’ অর্থাৎ বাণিজ্য বাধা চীন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মোট আমদানির পরিমাণ কমিয়ে আনতে সাহায্য করেছে। চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৬ সালে মোট আমদানির পরিমাণ ছিল ২১ শতাংশ, কিন্তু ২০২৪ সালে তা কমে ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কিছু চীনা পণ্য রফতানি পুনঃপ্রবাহিত হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মাধ্যমে। উদাহরণ স্বরূপ সৌর প্যানেল। ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৮ সালে চীন থেকে আমদানি করা সৌর প্যানেলের উপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। চীনা সৌর প্যানেল প্রস্তুতকারকরা তাদের ‘অ্যাসেম্বলি অপারেশনস’ স্থানান্তরিত করে দেয় মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া এবং ভিয়েতনামের মতো বিভিন্ন দেশে এবং তারপর চূড়ান্ত পণ্য ওই সমস্ত দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো শুরু করে।

বর্তমানে ওই দেশগুলোর উপর রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। এর ফলে বাস্তবে চীনা পণ্য যা ঘুরপথে ওই সমস্ত দেশ হয়ে কম শুল্কে আসছিল, তার মূল্য মার্কিন বাজারে বেড়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে গত বছর যে সমস্ত পণ্য রফতানি হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় অংশ ছিল সয়াবিন। এছাড়া, চীনে ওষুধ ও পেট্রোলিয়ামও পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, চীন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রচুর পরিমাণে ইলেকট্রনিক্স আইটেম, কম্পিউটার এবং খেলনা রফতানি করা হয়েছিল। বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বিপুল পরিমাণ ব্যাটারিও রফতানি করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত, চীন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা পণ্যের বৃহত্তম অংশ হলো স্মার্টফোন। এর পরিমাণ মোট আমদানির নয় শতাংশ। এই সমস্ত স্মার্টফোনের একটা বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের জন্য চীনে তৈরি করা হয়।

ট্রাম্প প্রশাসন বেইজিংয়ের উপর শুল্ক আরোপ করার কারণে চীন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া এই সমস্ত পণ্য মার্কিন নাগরিকদের জন্য যথেষ্ট ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে চলেছে। অন্যদিকে, চীনের ‘প্রতিশোধমূলক শুল্ক নীতির’ কারণে চীনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের দামও বেড়ে যাবে। এর ফলস্বরূপ মার্কিন উপভোক্তাদের মতো চীনা ভোক্তারাও একইভাবে ক্ষতির মুখে পড়বেন।তবে শুল্কের বাইরেও এই দুই দেশের বাণিজ্যের মাধ্যমে একে অপরের ক্ষতি করার অন্যান্য উপায় রয়েছে। শিল্পের নিরিখে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধাতু পরিশোধনের ক্ষেত্রে চীন কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। এই তালিকায় তামা এবং লিথিয়াম থেকে শুরু করে বিরল উপাদান রয়েছে। এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বেইজিং।

আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে চীনের উপর জো বাইডেনের আমলে আরোপ করা প্রযুক্তিগত বাধা আরও কঠোর আকার ধারণ করতে পারে। এর ফলে চীনের পক্ষে মার্কিন দেশ থেকে উন্নত মাইক্রোচিপ আমদানি করা কঠিন হয়ে পড়ে। এগুলো এখনও পর্যন্ত তারা নিজেরা উৎপাদন করতে পারে না। ইন্টারন্যাশানাল মানিটরি ফান্ড (আইএমএফ) বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪৩ শতাংশই দখল করে রয়েছে দুই দেশ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। যদি তারা ‘অল-আউট ট্রেড ওয়ার’-এ (সর্বাত্মক বাণিজ্য যুদ্ধে) জড়িয়ে পড়ে এবং সেটা তাদের প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দেয় বা দুই দেশকে আর্থিক মন্দার কবলে পড়ার দিকে ঠেলে দেয়, তাহলে তার প্রভাব বিশ্বের অন্যান্য দেশেও পড়তে পারে। কারণ এর প্রভাব সম্ভাব্য ধীর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির আকারে অন্যান্য দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে। বৈশ্বিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও, ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

চীন বিশ্বের বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশ। দেশীয় ভর্তুকি এবং সস্তায় ঋণের মতো রাষ্ট্রীয় আর্থিক সহায়তার কারণে চীনে অনেক কম মূল্যে উৎপাদন সম্ভব হয়। চীন যদি এই জাতীয় পণ্যগুলোকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করাতে না পারে, তাহলে চীনা সংস্থাগুলো ওই পণ্য বিদেশে সস্তায় ‘ডাম্প’ করার চেষ্টা করতে পারে। কিছু উপভোক্তাদের জন্য এটা উপকারী হতে পারে, কিন্তু এই জাতীয় পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে যে উৎপাদকরা রয়েছে তাদের উপর প্রভাব ফেলবে। ওই দেশে চাকরি এবং মজুরির ক্ষেত্রে তা হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।