Home Blog Page 142

অস্ত্র সমর্পণ নিয়ে আলোচনায় রাজি হিজবুল্লাহ

ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করলে এবং আকাশপথে হামলা বন্ধ করলে অস্ত্রসমর্পণের বিষয়ে লেবাননের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় রাজি হিজবুল্লাহ। সশস্ত্র সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ এক নেতা রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছেন। হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে তিনি সংগঠনটির এ অবস্থানের কথা জানান। মাত্র দুই বছর আগে যখন হিজবুল্লাহ নিজেদের ক্ষমতার চূড়ায় অবস্থান করছিল, তখন সংগঠনটিকে নিরস্ত্র করা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনাই ছিল অকল্পনীয়। কিন্তু ফিলিস্তিনের গাজা যুদ্ধ ঘিরে বিধ্বংসী এক সংঘাতে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে ইসরায়েল রীতিমতো ধসিয়ে দেয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার এ আলোচনা সেই পরিবর্তনই তুলে ধরছে।

গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেন যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। ওই সময় তিনি অস্ত্রের ওপর রাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই হিজবুল্লাহর হাতে থাকা অস্ত্রের বিষয়ে সংগঠনটির সঙ্গে আলোচনার ইচ্ছা পোষণ করেন। হিজবুল্লাহ ২০২৪ সালের লড়াইয়ে ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা এবং হাজারো যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তাঁদের রকেটের মজুতের বেশির ভাগই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতন হলে আরও চাপে পড়ে হিজবুল্লাহ। ইরান থেকে অস্ত্র সরবরাহের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে হিজবুল্লাহর ওই নেতা বলেন, জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলের প্রেক্ষাপটে অস্ত্রের বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত সংগঠনটি। তবে বিষয়টি নির্ভর করছে দক্ষিণ লেবাননের পাঁচটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহারের ওপর। যুদ্ধের সময় দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান চালিয়েছিল ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে সেখান থেকে বেশির ভাগ সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে ফেব্রুয়ারিতে দেশটি জানায়, পাঁচটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান নেওয়া সেনারা সেখানে অবস্থান করবেন।



রাতের মানসিক অস্থিরতা দূর করুন স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় অনেকেই উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা অনুভব করেন। এটি হতে পারে স্ট্রেস, উদ্বেগজনিত কোনো মানসিক সমস্যা বা শারীরিক অসুস্থতার কারণে। উদ্বেগ একটি স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি হলেও, যখন তা দীর্ঘমেয়াদে থেকে যায় এবং ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়, তখন সেটা চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে। রাতের উদ্বেগের সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে-অস্থিরতা, মনঃসংযোগে ব্যাঘাত, ঘুমে সমস্যা, ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ, পেট ব্যথা, পেশির টান, ঘাম এবং চোয়ালে ব্যথা। অনেক সময় রাতে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ প্যানিক অ্যাটাকও হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের প্যানিক ডিসঅর্ডার আছে, তাদের ২০% থেকে ৪৫% এর মাঝে রাতের বেলায় এমন অভিজ্ঞতা হয়।

রাতের উদ্বেগের প্রধান কারণ ঘুম এবং উদ্বেগের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক। ঘুম না হওয়া উদ্বেগ বাড়ায়, আবার উদ্বেগ ঘুমকে ব্যাহত করে। বিশেষ করে, স্ট্রেসের ফলে শরীরে অ্যাড্রিনালিন হরমোনের নিঃসরণ ঘটে, যা ঘুম আসতে বাধা দেয়। চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে থেরাপি (যেমন CBT), ওষুধ (বেঞ্জোডায়াজেপিন, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট), এবং কিছু হার্বাল সাপ্লিমেন্ট (যেমন স্যাফরন, ভ্যালেরিয়ান, রোজমেরি)। তবে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। জীবনধারাগত কিছু উপায়ও সাহায্য করতে পারে, ধ্যান, গভীর শ্বাসপ্রশ্বাসের চর্চা, কাজের তালিকা তৈরি, নিয়মিত ব্যায়াম, ঘুমের নির্দিষ্ট রুটিন রাখা, রাতে ক্যাফেইন এড়ানো এবং ঘুমানোর ঘরকে আরামদায়ক করে তোলা। সঠিক অভ্যাস ও চিকিৎসার মাধ্যমে রাতের উদ্বেগ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।


যুদ্ধ বন্ধ চেয়ে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ৯৭০ কর্মীর চিঠি , বরখাস্তের হুমকি

গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানিয়ে লেখা এক চিঠিতে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর প্রায় ৯৭০ কর্মকর্তা সই করেছেন। এই ঘটনার জেরে তাদেরকে বরখাস্তের হুমকি দিয়েছে বাহিনীর কমান্ডাররা। ইসরায়েলি দৈনিক হারেজ’র বরাত দিয়ে আনাদোলু জানায়, বিমানবাহিনীর প্রায় ৯৭০ কর্মী একটি চিঠিতে সই করে চলমান যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন। তবে তাদের কেউ কর্মবিরতি পালন করতে চাননি বা কাজ চালিয়ে যেতে অস্বীকার করেননি। সই করা কর্মীদের মধ্যে বৈমানিক, কর্মকর্তা ও নিয়মিত সেনার পাশাপাশি রিজার্ভ সেনাও আছেন। চিঠিতে সই দেওয়া বিমানবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মী ও বৈমানিকদের যুক্তি, ‘নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য গাজায় যুদ্ধ চলছে।’

ইসরায়েলের বিরোধীদলগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে-গাজার যুদ্ধ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদ ধরে রাখার উদ্যোগের অংশ। এর সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তার যোগসূত্র নেই। গত ১৯ মার্চ ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দুই রিজার্ভসেনাকে বরখাস্ত করে। তাদের একজন গোয়েন্দা বিভাগের ও অপরজন বিমানবাহিনীর কর্মী। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নতুন করে আবারও গাজায় হামলা শুরুর পর তারা এতে অংশ নিতে অস্বীকার করেছিলেন। তাদের একজন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সরকারের মন্ত্রীদের ‘নোংরা বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দেন। সম্প্রতি বিমানবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সরাসরি ফোন করে ওই কর্মীদের সই প্রত্যাহার করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। হারেজ জানিয়েছে, সই প্রত্যাহার না করলে কমান্ডাররা ফোনে কর্মীদের বরখাস্তের হুমকি দেন।

হুমকির পর ২৫ সেনা তাদের সই প্রত্যাহার করেন। পাশাপাশি নতুন করে আরও আট জন ওই চিঠিতে সই দেওয়ার আবেদন করেছেন।কয়েকদিন আগে বিমানবাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল টোম্যের বার চিঠিতে সই করা সবচেয়ে বড় পদে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে কর্মকর্তারা সই দেওয়া কর্মীদের বরখাস্তের হুমকি দেওয়ার কড়া সমালোচনা করেন। তারা বিষয়টিকে আইন ও নৈতিক মানদণ্ডের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। তাদের দাবি, এতে বিমানবাহিনীর ওই কর্মীদের রাজনৈতিক মত প্রকাশের স্বাধীনতার অবমাননা করা হয়েছে।

টোম্যার বলেন, ‘চিঠিতে সই দেওয়া কর্মীরা মনে করেন এই যুদ্ধের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে জিম্মি মুক্তির বিষয়টির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’ তিনি বলেন, ‘এমন ধারণা নিয়ে যারা চিঠিতে সই দিয়েছেন তাদের পক্ষে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব নয়।’ তার মতে, যুদ্ধের সময় এ ধরনের চিঠিতে সই দেওয়া ‘অবৈধ’।



বিজ্ঞানীদের অভিনব গবেষণায় ধরা পড়ল প্রতিবেশী গাছকে বার্তা পাঠাচ্ছে গাছ

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা একটি অভিনব গবেষণা করে গাছকে তার প্রতিবেশী গাছের সঙ্গে ‘আলাপ’ করতে দেখেছেন। এই গবেষণাটি গাছের মধ্যকার যোগাযোগের নতুন একটি দিক উন্মোচন করেছে, যা বিজ্ঞানীদের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে। আমাদের কাছে গাছেরা সাধারণত নিষ্ক্রিয় নীরব বস্তু হিসেবে পরিচিত হলেও, এই নতুন গবেষণা প্রমাণ করেছে যে গাছেরা প্রকৃতপক্ষে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে এবং এমনকি একে অপরকে বিভিন্ন সংকেত পাঠায়। কিন্তু প্রশ্ন হল গাছেরা কীভাবে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তারা কীভাবে নিজেদের চাহিদা বা বিপদের সংকেত একে অপরকে জানায়? গবেষণাটি একদম নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে যেখানে বিজ্ঞানীরা গাছের মধ্যে শারীরিক বা রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে যোগাযোগের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেছেন। এটি প্রথমে অবিশ্বাস্য হলেও বড় বিস্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাছের ‘আলাপ’ কীভাবে সম্ভব?
গাছেরা একে অপরকে কীভাবে সংকেত পাঠায়, তা আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাত ছিল। তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, গাছেরা মূলত রাসায়নিক সংকেতের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে। এই সংকেতগুলির মধ্যে প্রধানত ‘ভেগিটেটিভসিগন্যালস’ বা উদ্ভিদজগতের সংকেতসমূহ থাকে, যা গাছেরা উন্মুক্ত পরিবেশে বাতাসে অথবা মাটির মাধ্যমে পাঠিয়ে থাকে। গাছের শিকড় এবং পাতা নির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে, যা প্রতিবেশী গাছের কাছে পৌঁছায় এবং সেখানে গাছটি প্রতিক্রিয়া জানায়। এ ধরনের যোগাযোগের মধ্যে অনেক সময় আক্রমণকারীর উপস্থিতি জানানো, জল এবং পুষ্টির অভাব অনুভব করা, বা আবহাওয়ার পরিবর্তন সম্পর্কিত সংকেত থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গাছেরা এর মাধ্যমে নিজেদের সংকটগুলি শেয়ার করে এবং নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করে।উদাহরণস্বরূপ, একটি গাছ যদি তার শিকড়ে কোনও হুমকি অনুভব করে, যেমন পোকামাকড় বা রোগের আক্রমণ, তবে এটি রাসায়নিক সংকেত নিঃসৃত করতে পারে, যা আশেপাশের গাছগুলিকে সতর্ক করে। এর ফলে আশেপাশের গাছগুলো নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রস্তুত করে রাখতে পারে। গবেষণায় অংশ নেওয়া বিজ্ঞানীরা গাছের পাতা এবং শিকড়ে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর ব্যবহার করে, এগুলো গাছের মধ্যে চলাচল করা রাসায়নিক পদার্থ এবং সংকেতগুলির গতিপথ ট্র্যাক করে। এর মাধ্যমে তারা দেখেছেন, গাছেরা একে অপরের সঙ্গে ‘আলাপ’ করতে সক্ষম। একে অন্যকে সংকেত পাঠানো এবং প্রাপ্ত সংকেত অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানানো গাছের আচার-আচরণকে বুঝতে সাহায্য করেছে।

গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, একটি গাছ যখন আশেপাশের গাছের কাছ থেকে সংকেত গ্রহণ করে, তখন তা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। যেমন, গাছেরা যখন রোগ বা পোকামাকড়ের আক্রমণ সম্পর্কে জানে, তখন তারা নিজেদের পাতার মধ্যে তেল এবং প্রোটিন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে, এটি আক্রমণকারী প্রাণীকে দূরে রাখতে সহায়তা করে। এটি গাছের আত্মরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রতিবেশীদের সাহায্যের ক্ষেত্রে একটি চমৎকার উদাহরণ।

এই গবেষণাটি ভবিষ্যতের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা এখন গাছের এই যোগাযোগের রহস্য আরো গভীরভাবে অনুসন্ধান করতে চাইছেন। কীভাবে গাছেরা সংকেত পাঠায় সে সম্পর্কে আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন। পাশাপাশি উদ্ভিদের এই ‘আলাপ’ আমাদের খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশ রক্ষার জন্য কীভাবে কার্যকর হতে পারে, তাও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ।উদ্ভিদজগতের এই নতুন যোগাযোগের ধারাটি আমাদের পরিবেশগত সমস্যা এবং খাদ্য নিরাপত্তার দিকে আরও মনোযোগ দিতে উৎসাহিত করছে। বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের গবেষণার মাধ্যমে আমরা উদ্ভিদের মধ্যে আরও ব্যাপক যোগাযোগের পদ্ধতি আবিষ্কার করতে পারি, যা কৃষি এবং পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির আলোচনায় রাজি ইরান

ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগামী শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে এবং এ বিষয়ে একটি চুক্তি সই করতেও প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন তেহরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত এক মতামত কলামে তিনি ঘোষণা করেন, ‘আমরা ওমানে শনিবার পরোক্ষ আলোচনায় বসব। এটি যেমন একটা সুযোগ, তেমন একটা পরীক্ষাও।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য বলেছেন, এ আলোচনা ও চুক্তি সইয়ের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবশ্যই প্রথমে কোনো ‘সামরিক পদক্ষেপকে বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করার’ বিষয়টি বাদ দিতে রাজি হতে হবে। আবার, ইরান ‘কখনোই জোরজবরদস্তি মেনে নেবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তাই গত মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে ট্রাম্প সতর্ক করে দেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হওয়া থেকে বিরত রাখতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তরফে সম্ভাব্য সামরিক হামলার সম্মুখীন হওয়া এড়াতে একটি চুক্তি করতে চান তিনি। পরে সোমবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আসন্ন আলোচনার খবরটি প্রকাশ করেন। পরদিন মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে না দেওয়ার ব্যাপারে তাঁরা দুজনই সম্মত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশটির বিরুদ্ধে ‘সামরিক বিকল্প’ গ্রহণ করা হবে।

ট্রাম্প প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে তাঁর দেশকে বের করে আনেন। ২০১৫ সালে ওই চুক্তি সই হয়। ইরান বরাবর জোর দিয়ে বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ এবং তারা কখনো পরমাণু অস্ত্রের উন্নয়ন করতে বা এটির অধিকারী হতে চায় না। তবে, ইরানের ওপর ৭ বছর আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার পর এর প্রতিশোধ হিসেবে দেশটি বিদ্যমান পরমাণু চুক্তির বিধিনিষেধ ক্রমেই বেশি লঙ্ঘন করে আসছে। ইতিমধ্যে দেশটি কয়েকটি পরমাণু বোমা তৈরিতে যথেষ্ট উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত গড়ে তুলেছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ও চুক্তি সইয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে পরমাণু স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংসের পক্ষে। কিন্তু, ট্রাম্প এখন কূটনৈতিক সমঝোতার পথে হাঁটছেন। নেতানিয়াহুর উপস্থিতিতে সোমবার ট্রাম্প বলেন যুদ্ধ নয়, চুক্তিই শান্তির পথ।


স্মৃতি কি আসলে শুধুমাত্র মস্তিষ্কে জমা থাকে ?

স্মৃতির ধারণাটি দীর্ঘদিন ধরে মস্তিষ্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তবে সম্প্রতি এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে স্মৃতি শুধু মস্তিষ্কের কোষে নয়, শরীরের অন্যান্য কোষেও সংরক্ষিত হতে পারে। গবেষণাটি এই পুরানো ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করছে যে, মস্তিষ্কের বাইরে অন্য কোনো অংশে স্মৃতি ধারণ ক্ষমতা নেই। এই নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে, এমনকি মস্তিষ্কের বাইরের কোষগুলো, যেমন স্নায়ু ও কিডনি কোষও নির্দিষ্ট তথ্যের পুনরাবৃত্তি প্যাটার্ন চিনতে পারে এবং ন্যূনতম পর্যায়ে স্মৃতি তৈরি করতে সক্ষম।

গবেষকরা এক বিশেষ পরীক্ষা পরিচালনা করেছেন যেখানে তারা স্নায়ু এবং কিডনি কোষে রাসায়নিক সংকেত পাঠিয়েছেন। এই সংকেতগুলো পাঠানো হয়েছিল স্পেসড আউট স্টাডি সেশনের মতো ছোট ছোট বিরতিতে। গবেষণায় দেখা গেছে, যখন কোষগুলো স্মৃতি-সম্পর্কিত একটি বিশেষ জিন সক্রিয় করেছে, তখন তারা চমকপ্রদ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। যা সাধারণত মস্তিষ্কের কোষে দেখা যায়। অর্থাৎ এক ধরনের ‘সস্মৃতি-সঞ্চয়’ আচরণ দেখা গেছে যা আমাদের মস্তিষ্কের স্মৃতির প্রসেসিংয়ের সাথে মেলে।

এই গবেষণা আরও সুস্পষ্টভাবে দেখায়, কোষের মধ্যে বারবার সংকেত পাঠানো, একেবারে একযোগে পাঠানোর চেয়ে আরও শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে সক্ষম। এটি ইঙ্গিত দেয়, মস্তিষ্কের কোষের মতো শরীরের অন্যান্য কোষও একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্নকে চিনতে পারে এবং সেই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম। এর মাধ্যমে এক নতুন ধারনার সূচনা হচ্ছে, যা আমাদের স্মৃতি এবং শেখার ধারণাগুলিকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে বাধ্য করছে।

গবেষণার ফলাফলটি শুধু বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বেশ কিছু প্রভাব ফেলতে পারে। যদি শরীরের কোষগুলো ‘স্মৃতি’ ধারণ করতে পারে, তাহলে এর প্রভাব আমাদের চিকিৎসা এবং রোগ নির্ণয়ে কীভাবে পড়তে পারে তা নিয়ে আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরি। ধরুন যদি প্যানক্রিয়াস কোষগুলো খাবারের প্যাটার্ন স্মরণ করতে পারে, তবে তা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। আমরা জানি ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার স্তর নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্যানক্রিয়াসের সঠিক কার্যক্রম খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং প্যানক্রিয়াস কোষের স্মৃতির ধারণ ক্ষমতা যদি জানা যায়, তবে এটি ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে সাহায্য করতে পারে।

এছাড়া ক্যান্সার কোষের স্মৃতি ধারণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। যদি ক্যান্সার কোষগুলো কেমোথেরাপির প্রভাব স্মরণ করতে পারে, তবে তা চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন ধারণা আনতে পারে। গবেষণায় এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, কোষের ‘স্মৃতি’ ধারণ ক্ষমতা তাদের আচরণ এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়া পরিবর্তন করতে পারে। যদি এটি সত্যি হয় তবে ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে আরো লক্ষ্যভিত্তিক পদ্ধতি তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। স্মৃতির ধারণ ক্ষমতা শুধুমাত্র মস্তিষ্কের কোষে সীমাবদ্ধ নয় বরং শরীরের অন্যান্য কোষেও তা থাকতে পারে। তবে এটি মনে রাখতে হবে যে এই কোষগুলো মস্তিষ্কের মতো ভাবনা বা চিন্তা করতে সক্ষম নয়। তাদের কর্মক্ষমতা শুধুমাত্র ‘স্মৃতি’ হিসেবে চিহ্নিত তথ্যের পুনরাবৃত্তি এবং সেটির প্রতিক্রিয়া জানানো পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এটি এক ধরনের সেলুলার আচরণ যা স্মৃতি তৈরি করার প্রাথমিক স্তরের মতো কাজ করে।

এই গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা যে নতুন ধারণার দিকে আমাদের ধাবিত করছেন তা বেশ প্রতিশ্রুতিশীল। শরীরের কোষ যদি স্মৃতি ধারণ করতে পারে, তবে এটি শুধু চিকিৎসা ক্ষেত্রে নয়, শেখার পদ্ধতিতেও এক বিপ্লব আনতে পারে। যদি এই ধারণাটি আরও গভীরভাবে তদন্ত করা হয়, তবে ভবিষ্যতে আমরা কোষের আচরণ এবং তাদের স্মৃতির ধারণ ক্ষমতার ব্যাপারে আরও অনেক কিছু জানতে পারব।এটি আমাদের স্মৃতি, শেখা, এবং শারীরিক আচরণের একটি নতুন দিক উন্মোচন করতে সহায়ক হবে। এছাড়া এটি আমাদের শরীরের কোষের জটিলতাকে বুঝতে সহায়ক হতে পারে, যা বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত এবং উন্নত। এমনকি এর মাধ্যমে আমরা কোষের আচরণ এবং তাদের স্মৃতির প্রভাবের উপর নির্ভর করে নতুন চিকিৎসা ও চিকিৎসার পদ্ধতি তৈরি করতে পারব।

এই গবেষণা তাত্ত্বিক স্তরে সীমাবদ্ধতাও রয়েছে এবং এর ব্যাপক প্রভাব এবং বাস্তব জীবনে এর প্রয়োগ নির্ধারণের জন্য আরও অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তবে এটি একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ যা আমাদের পূর্ববর্তী ধারণাকে পরিবর্তন করে এবং নতুন চিন্তা তৈরি করতে সাহায্য করছে।


Déjà vu কি টাইম ট্র্যাভেলের স্মৃতি ?

রাত তখন তিনটা। ১৯৯৮ সালের গ্রীষ্মকাল। যুক্তরাজ্যের ওক্সফোর্ড শহরের এক ছাত্রাবাসে ২১ বছর বয়সী থমাস হ্যামিল ঘুম থেকে জেগে ওঠে। ঠিক তখনই তার মনে হয়-এই মুহূর্তটা, জানালার বাইরে সেই গাড়ির শব্দ, বিছানার পাশে পড়ে থাকা বইয়ের অবস্থান-সবকিছু যেন সে আগে কোথাও দেখেছে। কিছুক্ষণ পর তার বন্ধু এসে বলে, ‘কাল তুমি এই সময়েই এমন একটা কথা বলেছিলে-আজ ঠিক সেটাই ঘটছে!’ থমাস হতবাক। এটা কি শুধুই কাকতালীয়? নাকি সে ভবিষ্যতের কোনো ছায়া অনুভব করল?

Déjà vu ফরাসি শব্দ, এর অর্থ ‘আগেই দেখা’ । এমন এক মানসিক অবস্থা, যেখানে ব্যক্তি অনুভব করেন যে একটি নতুন অভিজ্ঞতা পূর্বেও ঘটেছিল। সাধারণত এটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়, কিন্তু প্রভাব অত্যন্ত গভীর ও বিভ্রান্তিকর।

সাইকোলজিস্ট অ্যান ব্রাউন (২০০৩) জানান, প্রায় ৬০-৭০% মানুষের জীবনে একবার না একবার Déjà vu ঘটেই থাকে। এই অভিজ্ঞতার প্রধান ব্যাখ্যাটি নিউরোসায়েন্সে পাওয়া যায়, Temporal lobe-এর সাময়িক বিভ্রাট। বিশেষত hippocampus এবং parahippocampal gyrus এই সময় বিভ্রান্ত হয়ে বর্তমান অভিজ্ঞতাকে পুরনো মনে করে। এটি মেমোরি মিসম্যাচ থিওরি নামে পরিচিত (Spatt, ২০০২)।

অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, সময় লিনিয়ার নয় বরং ‘Block Universe’-এর মতো, যেখানে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ একই সঙ্গে অস্তিত্বশীল (Greene, ২০০৪)। এই মডেল অনুসারে, Déjà vu হতে পারে এমন একটি মুহূর্ত যখন আমাদের চেতনা সময়ের এক স্তর থেকে অন্য স্তরে “লিক” করে যায়। Quantum Entanglement বা ‘স্পুকি অ্যাকশন অ্যাট এ ডিস্ট্যান্স’ ধারণা বলে-দূরবর্তী দুটি কণাও একে অপরের অবস্থার সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে সংযুক্ত হতে পারে। এই ধারায় কিছু থিওরিস্ট মনে করেন, চেতনা কণার স্তরে সময় অতিক্রম করতে পারে, ফলে Déjà vu হতে পারে ভবিষ্যতের কণিকাংশের প্রতিচ্ছবি। মনোবিজ্ঞানী কার্ল ইয়ংয়ের মতে, Déjà vu হচ্ছে Collective Unconscious-এর বহিঃপ্রকাশ, যেখানে ব্যক্তিগত চেতনার বাইরে একটি বৃহত্তর মনোজগতে সকল মানুষের অভিজ্ঞতা সংরক্ষিত। এখানে Déjà vu পূর্বানুভব, যা স্বপ্ন, প্রার্থনা বা ধ্যানের মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করা যায়।

পুনর্জন্ম তত্ত্বে বলা হয়, পূর্বজন্মের স্মৃতি কখনো কখনো বর্তমান জীবনের সাথে মিশে যায়। Déjà vu সেই স্মৃতির টুকরো, যেগুলো চেতনার গভীরে থেকে হঠাৎ ভেসে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের ও প্রযুক্তিবিদ এলন মাস্ক সহ অনেকেই বিশ্বাস করেন, আমরা হয়তো একটি সিমুলেটেড রিয়ালিটিতে বাস করছি। এই থিওরি অনুসারে, Déjà vu হচ্ছে গ্লিচ ইন দ্য ম্যাট্রিক্স-যেখানে রিয়েলিটি কোডিং এ সাময়িক ভুল ধরা পড়ে। MIT ও NASA-র কিছু গবেষক ধারণা করেছেন, মহাবিশ্বের গঠন একটি বিশাল তথ্য কাঠামোর মতো, যেখানে স্থান-কাল-চেতনা সবই অ্যালগরিদমিক। তাহলে কি Déjà vu হচ্ছে পূর্ব-প্রোগ্রাম করা কোনো স্ক্রিপ্টের পুনরাবৃত্তি?

Multiverse Theory অনুযায়ী, একই ব্যক্তি একাধিক সমান্তরাল বাস্তবতায় ভিন্নভাবে অস্তিত্বশীল। কিছু কনস্পিরেসি থিওরিস্ট দাবি করেন, Déjà vu হলো সেইসব বিকল্প বাস্তবতার ছায়া, যেখানে আমরা অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। একটি জনপ্রিয় ধারণা বলে, ‘যখন দুইটি বিকল্প বাস্তবতা সাময়িকভাবে এক বিন্দুতে এসে মিলে যায়, তখনই Déjà vu ঘটে।’ কিছু থিওরিস্ট মনে করেন ভবিষ্যতের কিছু মানুষ বা অস্তিত্ব আমাদের সময়কে পর্যবেক্ষণ করছে বা সামান্য পরিবর্তন করছে। Déjà vu হতে পারে সেই পরিবর্তনের ঝাঁপটা-যেমন Mandela Effect-এর মতো সামাজিক স্মৃতিবিভ্রাট, যা alternate timeline-এর ফল।

নিউ ইয়র্কে ১৯৮১ সালে এক যুবক প্রতিদিন তার কলেজ যাওয়ার পথে একই একটি ক্যাফে দেখে বলে-‘এখানে কোনোদিন আগুন লাগবে।’ তিন সপ্তাহ পর ক্যাফেটিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তার কাছে এটি Déjà vu-র একটি অতল অনুভব ছিল। বিশেষজ্ঞরা পরে জানান, তার মস্তিষ্কে কোনও নিউরোলজিক ত্রুটি ছিল না। জাপানে ২০১৫ সালে এক নারী বারবার স্বপ্নে তার নতুন চাকরির অফিস, সহকর্মী এবং কথোপকথন দেখতে পান। কয়েক মাস পর সেই একই জায়গায় চাকরি পান এবং প্রত্যেকটি ঘটনা স্বপ্নের মতো মিলে যায়। তিনি এই অভিজ্ঞতাকে “ভবিষ্যতের স্মৃতি” বলেন।



‘বাংলাদেশের ভালো ভারতের চেয়ে বেশি আর কেউ চায় না’ : এস. জয়শঙ্কর , ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী

বাংলাদেশের ভালো ভারতের চেয়ে বেশি আর কোনো দেশ চায় না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

এটা আমাদের ডিএনএতে আছে। শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে, বন্ধু হিসেবে, আমি মনে করি আমরা আশা করি তারা সঠিক পথে চলবে এবং সঠিক কাজটি করবে।

নয়াদিল্লিতে রাইজিং ভারত শীর্ষ সম্মেলনে গতকাল বুধবার নিউজ১৮ টিভি চ্যানেল আয়োজিত একটি ইন্টারেক্টিভ অধিবেশনে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন প্রয়োজন। এর মাধ্যমেই ম্যান্ডেট দেওয়া হয় এবং ম্যান্ডেট পুনরায় নবায়ন করা হয়। তাই, আমরা আশা করি তারা (বাংলাদেশ) সে পথেই যাবে।’

ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা অনন্য। এটি আসলে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক।

জয়শঙ্কর জানান, গত সপ্তাহে ব্যাংককে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে বৈঠকে নয়াদিল্লি বাংলাদেশে ‘উগ্রপন্থার চর্চা’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের বক্তব্য নিয়ে আমাদের উদ্বেগ আছে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নিয়ে আমাদের উদ্বেগ আছে। আমি মনে করি, আমরা এই উদ্বেগগুলো নিয়ে অকপটে কথা বলেছি।’
এস. জয়শঙ্কর
ভারত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী

চীনের বদলে ভারতে আইফোন উৎপাদন বাড়াচ্ছে অ্যাপল

ক্রেতার দিক থেকে আইফোনের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। অ্যাপল সাধারণত চীন থেকে আইফোন আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল। কিন্তু চীনের ওপর ১২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় ভারত থেকে আইফোন আমদানি শুরু করেছে অ্যাপল। কারণ, ভারতে ট্রাম্পের শুল্কহার চীনের তুলনায় কম, মাত্র ২৬ শতাংশ। সম্প্রতি এই প্রযুক্তি জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক এড়াতে ভারত থেকে কয়েকটি কার্গো বিমানে ৬০০ টন আইফোন-অর্থাৎ প্রায় ১৫ লাখ ডিভাইস যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছে। রয়টার্সের একটি সূত্র জানিয়েছে, এটি অ্যাপলের একটি গোপন কৌশলের অংশ। এর মাধ্যমে তারা ট্রাম্পের শুল্ক এড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইফোনের মজুত বাড়াচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, অ্যাপল ট্রাম্পের শুল্কের ধাক্কা এড়াতে চেয়েছিল। তাই চীনকে বাদ দিয়ে তারা উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে ভারতকে বেছে নিয়েছে। বিশ্বব্যাপী অ্যাপল বছরে ২২ কোটির বেশি আইফোন বিক্রি করে। প্রযুক্তি বাজার গবেষণা সংস্থা কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা আইফোনের এক-পঞ্চমাংশ এখন ভারত থেকে আসে, বাকিগুলো চীন থেকে।

চীনের বাইরে উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবে ভারতকে গুরুত্ব দিচ্ছে অ্যাপল। ভারতে ফক্সকন ও টাটা তাদের দুই প্রধান সরবরাহকারী। এই দুই প্রতিষ্ঠান দেশটিতে মোট তিনটি কারখানা চালাচ্ছে এবং আরও দুটি নির্মাণাধীন। চেন্নাইয়ে দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স স্থাপনেও পরিকল্পনা করেছে অ্যাপল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারও অ্যাপলকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করার নির্দেশ দিয়েছে।


‘মানুষ বলতাছে আপনারা আরও ৫ বছর থাকেন’ : জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী , স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বৃহস্পতিবার সিলেট ও সুনামগঞ্জ সফরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘সাধারণ মানুষ বলতাছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো। ওই রাস্তা থেকে হুনি, মানুষ বলতাছে, আপনারা আরও পাঁচ বছর থাকেন।’ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘৫ আগস্টের পর পুলিশের মানসিকতা পরিবর্তন হয়েছে। অনেক চেঞ্জ হয়েছে। রোজার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে যাই বলুক না কেন, আগের চেয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে।’ মবজাস্টিস এখনো পুলিশ ভয় পায় বলেই কি ঠেকানো যাচ্ছে না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন পুলিশ এখন আর মবকে ভয় পায় না। আইন কেউ নিজের হাতে তুলে নিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমন অপকর্ম করে কেউ আর ছাড় পাবেন না।

বিভিন্ন স্থানে আসামি ছিনতাই ও মবজাস্টিস ইস্যুতে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ঘটনা ঘটছে তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে যেখানেই আসামি ছিনতাই হচ্ছে, পরে আবার তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। যদিও নানা সংকট থাকায় অ্যাকশন নিতে দেরি হয়; তবে কেউ পার পাবে না। এ সময় সাম্প্রতিক হামলা-ভাঙচুর ও লুটের ঘটনা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন আপনারা দেখেছেন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যারা জড়িত ছিল; তাদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করা হচ্ছে। সেখানে কে কার লোক; সেটা দেখা হচ্ছে না।

তিনি বলেন সারা দেশে ঘুরে যা দেখছি তাতে পুলিশের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, থাকার জায়গা নেই, গাড়ি নেই, খাবারেরও ঘাটতি আছে। শুধু তাদের কাছে সেবা চাইলেই হবে না, তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণেও সোচ্চার হতে হবে। আন্দোলনের পর থেকে পুলিশের অনেক গাড়ি, থানা পুড়েছে। একটি নতুন গাড়িও কিনতে পারিনি, অর্থ বরাদ্দ হয়েছে, ধীরে ধীরে সেগুলোর ব্যবস্থা হবে। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অস্ত্র যতটা এক্সপেকটেশন (প্রত্যাশা) ছিল ততটা কমপ্লিট (সম্পন্ন) হয় নাই। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। যেটা আমরা পারিনি সেটাতো আমরা বলবো না। অস্ত্র বাইরে থাকলে তো কিছুটা হুমকি থাকবেই।’ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। উদ্ধারের পর পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে। স্থানীয় জনগণেরও এ ব্যাপারে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।’

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ভারত প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের প্রত্যার্পনে ভারতের সঙ্গে আমাদের একটি চুক্তি আছে। এই চুক্তির আওতায় তাকে ফিরিয়ে আনা হতে পারে। তবে, ভারতের সঙ্গে সংঘাতের কোনো সম্ভাবনা নেই।’