জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি শুক্রবার জেনেভায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন ১৮ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত গাজায় আবাসিক ভবন ও বাস্তুচ্যুতদের তাঁবুতে ইসরায়েলের ২২৪টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমাদের কার্যালয় যাচাই করে তথ্য পেয়েছে, এর মধ্যে ৩৬টি হামলায় নিহতদের তালিকায় শুধু নারী ও শিশু রয়েছে। শামদাসানি জানান, গত ৬ এপ্রিল দেইর আল বালাহের আবু ইসা পরিবারের একটি আবাসিক ভবনে হামলায় এক মেয়ে, চার নারী ও চার বছর বয়সী এক ছেলে নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। শামদাসানি বলেন, আমাদের কার্যালয়ে রেকর্ড করা তথ্য অনুসারে, সামগ্রিকভাবে নিহতদের মধ্যে বড় একটি অংশই শিশু ও নারী। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের দুই-তৃতীয়াংশই নারী ও শিশু।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের অবরোধ আদেশে ফিলিস্তিনিদের যেসব এলাকায় যেতে বলা হচ্ছে, সেখানেও হামলা চলছে। খান ইউনিসের বাস্তুচ্যুতদের আল মাওয়াসি এলাকায় তাঁবুতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও সেখানে হামলা অব্যাহত রয়েছে। ১৮ মার্চ থেকে এ ধরনের অন্তত ২৩টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বুধবার বলেছেন, বড় অঞ্চল দখল করে সেগুলোকে নিরাপত্তা অঞ্চলে পরিণত করা হচ্ছে, যার ফলে গাজা আরও ছোট ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এ প্রসঙ্গে শামদাসানি বলেন স্পষ্ট করে বলতে হবে, এই তথাকথিত অবরোধ আদেশ আসলে স্থানান্তর আদেশ, যা গাজাবাসীদের ক্রমশ সংকীর্ণ এলাকায় ঠেলে দিচ্ছে। দখলকৃত ভূখণ্ডে বেসামরিক জনগণকে স্থায়ীভাবে স্থানান্তর করা জোরপূর্বক স্থানান্তরের শামিল, যা জেনেভা কনভেনশনের চতুর্থ ধারার গুরুতর লঙ্ঘন এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।


