Home Blog Page 121

ইউথানেসিয়া ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা – নিজস্ব মৃত্যুর শৈলী নির্বাচন করার অধিকার সমাজ মানে ?

0

বর্তমানে মৃত্যুর ধারণা একাধিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষিত হচ্ছে, যেখানে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণের অধিকার এবং এই প্রক্রিয়ার সামাজিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা ব্যাপকভাবে চলছে। পশ্চিমা বিশ্বে ইউথানেসিয়া বা ‘গুড ডেথ’-এর ধারণা একটি প্রচলিত সামাজিক আলোচনায় পরিণত হয়েছে, তবে এই ধারণাটি শুধু শারীরিক দুর্দশা বা চিকিৎসাগত অবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। মৃত্যুর স্বাধীনতা এবং তা নিয়ন্ত্রণের অধিকার একটি সাংস্কৃতিক ও দার্শনিক প্রশ্ন হিসেবেই গণ্য হতে পারে।

ইউথানেসিয়া একটি গ্রিক শব্দ, যার অর্থ ‘গুড ডেথ’। প্রথাগতভাবে এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা শারীরিক কষ্ট এবং অসুস্থতার মধ্যে এক ব্যক্তির জীবনের অবসান ঘটানোর উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়। তবে আধুনিক বিশ্বে ইউথানেসিয়া শুধু একটি চিকিৎসাগত বিষয় হয়ে দাঁড়ায়নি, বরং এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশ্লেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বহু দেশেই এটি বৈধ, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শর্তসাপেক্ষে এবং শুধুমাত্র তখন, যখন ব্যক্তি শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং জীবন-যাপন অসম্ভব হয়ে পড়ে। বর্তমানে একাধিক থিওরির মাধ্যমে ইউথানেসিয়া প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়েছে। শারীরিক কষ্টের বাইরে, মানুষের মৃত্যুকে সাজানোর বা ‘ডিজাইন’ করার ধারণাটি বিকশিত হয়েছে। যদি একজন ব্যক্তি নিজের মৃত্যুকে তার ইচ্ছামত শৈলী এবং উপায় অনুযায়ী সাজানোর অধিকার পায়, তাহলে তা কি মানবিক মর্যাদার অংশ হতে পারে?

ধরা যাক একটি কাল্পনিক দৃশ্য যেখানে একটি কোম্পানি “ডিজাইনার ইউথানেসিয়া ” বা “ডিজাইনার ইন্ডিংস” অফার করছে, যেখানে মানুষ তার মৃত্যুর সময়ের শৈলী বেছে নিতে পারে। এটি একটি আগ্রহজনক প্রশ্ন উত্থাপন করে, কেন মৃত্যু শুধুমাত্র শারীরিক অসুস্থতার বা অস্বস্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে? কেন কেউ তার মৃত্যুকে উদযাপন করতে পারে না, যেমন সে তার জীবনের যেকোনো ঘটনা উদযাপন করার অধিকার রাখে? এখানে মূল প্রশ্ন হলো, “মৃত্যুর স্বাধীনতা” কি এক নৈতিক ও সামাজিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে? ইউথানেসিয়া এবং মৃত্যুর স্বাধীনতার জন্য এমন একটি প্রতিষ্ঠান বা উদ্যোগের উপস্থিতি একটি বৈধ সামাজিক প্রশ্ন তোলে, যদি মৃত্যু শুধু শারীরিক প্রক্রিয়া হয়, তবে আমরা কেন তা আমাদের ইচ্ছামত শৈলী অনুযায়ী সম্পন্ন করতে পারবো না?

ইউথানেসিয়া প্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি হল এটি শারীরিক কষ্ট এবং অসুস্থতার বিপরীতে একটি দয়ালু এবং মানবিক কার্য হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সামাজিকভাবে এটি প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। ইউথানেসিয়ার ধারণাকে অনেক দার্শনিক মানবিক মর্যাদার একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখতে পছন্দ করেন। তাদের মতে একজন ব্যক্তির জীবনের অবসান ঘটানোর অধিকার তাঁর নিজস্ব স্বাধীনতার অংশ। তবে এই ধারণা সমাজে সমালোচনা সৃষ্টি করে, ধর্মীয়, আইনগত এবং সাংস্কৃতিক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়। এই প্রশ্নটির ভিত্তি হলো যদি একজন ব্যক্তি নিজে সিদ্ধান্ত নিতে চান যে, তিনি কিভাবে মৃত্যুবরণ করবেন, তবে তা কি তাকে নিজের জীবনের প্রতি পূর্ণ অধিকার দেওয়ার সমান? যদি মানুষের জীবনের এবং মৃত্যুর পরিণতি তার নিজের স্বাধীনতা হতে পারে, তবে কেন তাকে অন্যদের মতামতের দ্বারা বাধা দেওয়া উচিত?

জন স্টুয়ার্ট মিল তার বিখ্যাত গ্রন্থ On Liberty (১৮৫৯)-এ ব্যক্তিগত স্বাধীনতার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। মিলের মতে, একজন ব্যক্তির স্বাধীনতা তার জীবন, মতামত এবং ধর্ম চর্চার অধিকার অন্তর্ভুক্ত করে, যতক্ষণ না তা অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করে না। এই দর্শন অনুযায়ী যদি একজন ব্যক্তি তার মৃত্যুর সময়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন, তবে তা তার নিজস্ব অধিকার হতে পারে এবং এতে সমাজের বা রাষ্ট্রের কোনো বাধা থাকা উচিত নয়।এছাড়া ইউথানেসিয়া একটি মানবিক অধিকারও হতে পারে, যদি এটি মানুষের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন না করে। অর্থাৎ যখন একজন ব্যক্তি জীবনে কষ্টের শেষ সীমায় পৌঁছান, তখন তার মর্যাদা এবং সম্মান বজায় রেখে তার জীবনের অবসান ঘটানোর অধিকার তাকে দেওয়া উচিত।

তবে এই স্বাধীনতার ব্যাখ্যা যুক্তি-ভিত্তিক হওয়া উচিত, যাতে এটি ব্যক্তির অধিকার এবং সামাজিক মূল্যবোধের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে। কিছু ক্ষেত্রেও মৃত্যু শুধুমাত্র চিকিৎসা সমস্যার উপর নির্ভরশীল হবে না বরং এটি সাংস্কৃতিক ও সমাজিক আঙ্গিকে বিবেচনা করা উচিত।

রাখাইন ‘করিডোর’ ইস্যু – জাতিসংঘ , সরকার ও রাজনৈতিক দল কি বলছে ?

0

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাংলাদেশ হয়ে করিডর করে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে গেলে জাতিসংঘকে দুই দেশের সরকারের অনুমতি পেতে হবে। এই আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ না হলে জাতিসংঘের সরাসরি ভূমিকা রাখার সুযোগ সীমিত। জাতিসংঘের নেতৃত্বে এমন উদ্যোগে বাংলাদেশ সরকারের আপত্তি নেই বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সকালে ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর দপ্তর প্রথম আলোকে এক বার্তায় এ তথ্য জানায়। জাতিসংঘের এই বার্তায় জানানো হয়, জাতিসংঘ বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি তারা রাখাইনে মানবিক পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘ তার মানবিক অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দাতা হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন জোরদার করবে।

রোববারের পর থেকে ‘মানবিক করিডর’ স্থাপনে অন্তর্বর্তী সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়, তাতে বিএনপিসহ বিভিন্ন দল উদ্বেগ জানায়। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় বলা হয়, এ বিষয়ে আসলে কী হয়েছে, তা সরকারের কাছে জানতে চাইবে তারা। এ বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও রোহিঙ্গা সমস্যাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেনটেটিভ খলিলুর রহমান ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে মঙ্গলবার বলেছেন, ‘রাখাইনে জাতিসংঘের নেতৃত্বে মানবিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হলে বাংলাদেশ তাতে কারিগরি সহায়তা দিতে আগ্রহী আছে। আমরা বিশ্বাস করি, জাতিসংঘের সহায়তায় মানবিক সহায়তার মাধ্যমে রাখাইনে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে, যা শরণার্থীদের ফেরার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।’

খলিলুর রহমান আরও বলেন, ‘আমরা বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষগুলোর সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। তবে মানবিক সহায়তার রুটের বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়ে আছে, যা নিয়ে নানা পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য হওয়া প্রয়োজন।’ রাজনৈতিক দলগুলো যা বলছে – গৃহযুদ্ধের মধ্যে থাকা মিয়ানমারের রাখাইনে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছানোর জন্য শর্তসাপেক্ষে ‘মানবিক করিডর’ দেওয়ার বিষয়ে সরকার নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে সম্প্রতি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর — “সরকারের উচিত ছিল, দায়িত্ব ছিল এই বিষয়টা নিয়ে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলা। এটা অনেক বড় একটা সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের শান্তিশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা জড়িত। আমরা আরেকটা গাজায় পরিণত হতে চাই না। আমরা আরেকটি যুদ্ধের মধ্যে জড়াতে চাই না। আমাদের এখানে এসে আরও কেউ গোলমাল করুক, সেটিও আমরা চাই না। মানুষকে সাহায্য করার ব্যাপারে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। জাতিসংঘ যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে এটা হতে হবে সব মানুষের সমর্থনে।”

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান —

“রাখাইনের সঙ্গে মানবিক করিডরের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। এ বিষয়টি জাতির সামনে স্পষ্ট করা দরকার। কারণ এর সঙ্গে অনেক নিরাপত্তা বিষয় জড়িত থাকতে পারে।” জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)-র যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ — “অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তামূলক নীতি গ্রহণে অবশ্যই ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। আলোচনা ব্যতিত এ ধরনের সিদ্ধান্তে অন্তবর্তীকালীন সরকারের ইনটেগ্রিটি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।”

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হক — “বাংলাদেশকে ব্যবহার করে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে, দেশপ্রেমিক শক্তি হিসেবে হেফাজতে ইসলাম কোনোভাবেই এটি সমর্থন করে না। এর নিন্দা জানাই। আমরা এর প্রতিবাদ জানাবো।” সরকার যা বলছে – বিষয়টি নিয়ে নানান আলোচনা-সমালোচনার পর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে — মানবিক করিডর নয়, বরং রাখাইনে জাতিসংঘ সহায়তা দিতে চাইলে সেটা পৌঁছাতে পরিবহনসহ লজিস্টিক সাপোর্ট দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে।

“আমরা এটা স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে সরকার তথাকথিত ‘মানবিক করিডর’ নিয়ে জাতিসংঘ অথবা অন্য কোনও সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করেনি। রাখাইন রাজ্যে যদি জাতিসংঘের নেতৃত্বে মানবিক সাহায্য দেয়া হয়, তাহলে বাংলাদেশ লজিস্টিক সাপোর্ট দিতে রাজি হবে, এটাই আমাদের অবস্থান,” মঙ্গলবার বলেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রাখাইনে ত্রাণ পাঠানোর ব্যাপারে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোসহ সবপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব। তিনি আরো জানান — “বর্তমান পরিস্থিতিতে, রাখাইনে সহায়তা পাঠানোর একমাত্র কার্যকর রুট হলো বাংলাদেশ। …আর যে খবরগুলোতে কোনো বড় শক্তির জড়িত থাকার কথা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অপপ্রচার।”

তবে সরকার যদি ত্রাণ পাঠাতে ‘লজিস্টিক সাপোর্ট’ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, সেক্ষেত্রে সহায়তাটি কেবলমাত্র বাংলাদেশের ভূ-খণ্ডে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। “আমরা মিয়ানমারের মাটিতে ঢুকবো না। যতটুক সহায়তা দেয়ার বাংলাদেশের ভেতরেই দেয়া হবে,” জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ খলিলুর রহমানের অফিস থেকে বিবিসি বাংলাকে জানানো হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান মানবিক সহায়তা পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিকল্প না থাকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ হচ্ছে একমাত্র চ্যানেল, যার মাধ্যমে এটা করা সম্ভব। কারণ, রাখাইনের উপকূল এখনও তাতমাদোর (জান্তা বাহিনী) দখলে এবং অন্যান্য জায়গা দিয়ে সহজে ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব নয়।”

তিনি তখন জানিয়েছিলেন যে, মানবিক চ্যানেল (প্রস্তাবিত করিডর) তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও আরাকান আর্মিকে জাতিসংঘই আলোচনায় বসাচ্ছে আর আরাকান আর্মি এবং মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করছে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে আরাকান আর্মির সঙ্গে আলোচনায় জাতিসংঘকে মাঝামাঝি রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সরকারের উচিত স্বল্পমেয়াদে , বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারে মনোযোগ দেওয়া

0

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাসীন সরকারের পতন ঘটে এবং দায়িত্ব নেয় একটি অন্তর্বর্তী সরকার। এ সরকারের প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন খাতে জরুরি সংস্কার ও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন। প্রথমদিকে জনমনে এই সরকার নিয়ে উচ্চ প্রত্যাশা থাকলেও আট মাস পেরিয়ে গেলেও কার্যক্রমের দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ন্যূনতম কাঠামোগত সংস্কার ও মানবিক কাজেও সরকার আশানুরূপ সফলতা দেখাতে পারেনি।

উল্লেখযোগ্য যে জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের সময় আহতদের সুচিকিৎসা, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্নের ক্ষেত্রে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। জনমনে প্রত্যাশা ছিল অন্তত মৌলিক ন্যায়বিচারে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে সরকার। পুরনো আলোচিত মামলাগুলোর বিচারও স্থবির রয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, স্বল্পমেয়াদী কার্যক্রমগুলো ব্যর্থ হলে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খাতে দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি বাড়বে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সীমিত কাজের পরিসরে মূল লক্ষ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্যে স্বল্পমেয়াদে যেসব পদক্ষেপ জরুরি তা হলো—জনপ্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি। বিগত সরকারের ফ্যাসিবাদী শাসনের পেছনে জনপ্রশাসনের ভূমিকা থাকায়, এই খাতের সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পদায়ন ও নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

মানবাধিকার রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায়ও সরকারকে তৎপর হতে হবে। রাজনৈতিক হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা দ্রুত প্রত্যাহার, জামিনপ্রাপ্ত বন্দিদের মুক্তি ও আলোচিত মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সহিংসতায় আহতদের সুচিকিৎসা এবং নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানও জরুরি। সংখ্যালঘু, নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হয়রানির অভিযোগ নিষ্পত্তির দিকেও মনোযোগ দিতে হবে। গণতান্ত্রিক চর্চার পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারের প্রতি জনগণের জবাবদিহি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। দেশের অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক চুক্তিতে জনগণের মতামতের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকায় জনআস্থা ক্ষুণ্ন হয়েছে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ ও পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি ও টাস্কফোর্সের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হয়নি। ব্যবসার পরিবেশ এখনো স্বস্তিদায়ক নয়; উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থার সংকট রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা নীতি ধারাবাহিকতা নিশ্চিতের কথা বললেও তা নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেই। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট ও শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বড় কারখানাগুলোর উৎপাদন বন্ধ হয়ে বেকারত্ব বেড়েছে; কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধিও হয়নি। ফলে সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায় অন্তর্বর্তী সরকার স্বল্পমেয়াদী লক্ষ্য পূরণে মনোযোগী হলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ভিত্তি সুদৃঢ় হবে। ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক সংস্কারের দিকগুলোয় জরুরি ভিত্তিতে অগ্রগতি আনতে হবে। তবেই জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

৫০ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের রথকো চিত্রকর্ম , ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এক শিশু , এখন কি হবে ?

রটারড্যামের বিখ্যাত মিউজিয়াম বয়ম্যান্স ভ্যান বেউনিংগেন-এ প্রদর্শিত মার্কিন শিল্পী মার্ক রথকো-এর লক্ষ-কোটি টাকার মূল্যমানের চিত্রকর্ম “Grey, Orange on Maroon, No. 8” সম্প্রতি এক শিশুর অসতর্ক আচরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মিউজিয়ামের মুখপাত্র আলগেমেন ড্যাগব্লাড (AD)-কে জানান, ঘটনাটি ঘটে একটি “অরক্ষিত মুহূর্তে”, যখন চিত্রকর্মটি সরাসরি জনসাধারণের দেখার সুযোগে উন্মুক্ত ছিল এবং পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান অনুপস্থিত ছিল। রথকোর এই চিত্রকর্মটির বাজারমূল্য অনুমান করা হয় ৫০ মিলিয়ন ইউরো (৪২.৫ মিলিয়ন পাউন্ড) পর্যন্ত। চিত্রকর্মটিতে নীচের অংশে বার্ণিশ না হওয়া পেইন্ট লেয়ারে সূক্ষ্ম আঁচড় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে বলে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ জানায়। যদিও ক্ষতিটিকে তারা “পৃষ্ঠতলীয় (superficial)” বলেই উল্লেখ করেছেন।

মিউজিয়ামের মুখপাত্র আরও জানান, চিত্রকর্ম সংরক্ষণ ও মেরামতের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করা হচ্ছে। রথকোর চিত্রশৈলী Colour Field Painting নামে পরিচিত বৃহৎ আকারের সমতল রঙের স্তরবিশিষ্ট বিমূর্ত চিত্রশিল্প। এর পেইন্টিং-এ সাধারণত বার্ণিশের আস্তরণ থাকে না। ফলে এগুলো পরিবেশের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। Sophie McAloone, Fine Art Restoration Company-র সংরক্ষণ ব্যবস্থাপক বলেন, “আধুনিক অবার্ণিশড চিত্রকর্মগুলো খুব সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় কারণ এতে প্রচলিত আবরণ স্তর অনুপস্থিত এবং সমতল রঙের তীব্রতা ছোট্ট দাগকেও প্রকট করে তোলে।”

চিত্রকর্মটির বর্তমান অবস্থান ছিল মিউজিয়ামের মূল ভবনের পাশে অবস্থিত Depot Boijmans Van Beuningen, যেখানে সংরক্ষিত সংগ্রহশালার সেরা শিল্পকর্মসমূহ প্রদর্শন করা হয়। Jonny Helm, Plowden & Smith শিল্প পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠানের বিপণন ব্যবস্থাপক বলেন, এই ধরনের ঘটনা যুক্তরাজ্যের V&A East এবং British Museum-এর মত প্রতিষ্ঠানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা তাদের আর্কাইভ উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এ ধরনের ঘটনা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনী নীতিতে কী প্রভাব ফেলবে?”

Jonny Helm-এর মতে, “রথকোর রঙ, রেজিন ও আঠার সংমিশ্রণ ছিল জটিল। তাছাড়া বার্ণিশ না থাকায় চিত্রকর্মটি পরিবেশের সংস্পর্শে থাকে, এটি সংরক্ষকদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।” সংরক্ষকরা এখন সম্ভাব্যত চিত্রকর্মটির ক্ষতির পরিমাণ দলিলভুক্ত করছেন এবং পূর্ববর্তী সফল পুনরুদ্ধার পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন। উল্লেখযোগ্য যে রথকোর চিত্রকর্মগুলোর ‘দুর্ভাগ্যজনক ইতিহাস’ আছে। ২০১২ সালে লন্ডনের Tate Modern গ্যালারিতে Black on Maroon (1958) নামক রথকোর একটি চিত্রকর্ম ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করেছিলেন Wlodzimierz Umaniec নামক ব্যক্তি। আদালতে তার শাস্তি হয় দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ১৮ মাস ধরে ঐ চিত্রকর্মটি মেরামত করতে হয়। সেই পুনরুদ্ধার ব্যয় ছিল প্রায় £২০০,০০০।

Aon নামক বীমা সংস্থার Rachel Myrtle বলেন, “ফাইন আর্ট ইন্স্যুরেন্স সাধারণত শারীরিক ক্ষতি ও শিল্পকর্ম হারানোর সকল ঝুঁকি কভার করে, যার মধ্যে শিশু বা দর্শনার্থীর দ্বারা দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিও রয়েছে।” ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাধারণত বীমাকারক প্রতিষ্ঠান থেকে বিশেষজ্ঞ fine art loss adjuster নিয়োগ দেওয়া হয়, যিনি ক্ষতির বিশদ পর্যালোচনা করেন, সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেন এবং সংরক্ষণের বিকল্পগুলো মূল্যায়ন করেন। এ বিষয়ে কোন পক্ষ দায়ী হবে, সে বিষয়ে মিউজিয়াম এখনও মন্তব্য করেনি। তবে অতীতে মিউজিয়ামটি দায় চাপিয়ে অর্থ আদায়ের নজির রেখেছে। ২০১১ সালে এক পর্যটক অনিচ্ছাকৃতভাবে শিল্পী Wim T. Schippers-এর Pindakaasvloer ইনস্টলেশনে পা রাখলে, তার কাছ থেকে মেরামতের খরচ চাওয়া হয়েছিল।

নেদারল্যান্ডসে সাম্প্রতিক সময়ে আরও কিছু উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। নভেম্বর ২০২৪-এ অ্যান্ডি ওয়ারহলের বহু স্ক্রিন প্রিন্ট Oisterwijk-এর MPV Art Gallery থেকে চুরি প্রচেষ্টার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে এক ডাচ শহরসভা ৪৬টি শিল্পকর্ম ভুলবশত নির্মাণকাজ চলাকালীন নষ্ট করে ফেলে, যার মধ্যে ছিল ওয়ারহলের রানীর একটি প্রিন্টও। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মিউজিয়ামের শিশু-সংশ্লিষ্ট ক্ষতির প্রতি নীতিও ভিন্ন। ২০২৪ সালের আগস্টে ইসরায়েলের Hecht Museum-এ এক চার বছর বয়সী শিশু ৩,৫০০ বছর পুরাতন একটি মাটির পাত্র ভেঙে ফেলে। তখন মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ দায় চাপায়নি বরং পরিবারটিকে পুনরায় প্রদর্শনী দেখার আমন্ত্রণ জানায়।

রথকোর এই চিত্রকর্মের ক্ষতি শিল্পবিশ্বের জন্য আবারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। জনসমক্ষে সংরক্ষিত দুর্লভ ও মূল্যবান শিল্পকর্মের নিরাপত্তা, সংরক্ষণ, প্রদর্শন নীতিমালার ভবিষ্যৎ কি হবে তা নিয়ে এখন নতুন করে ভাবতে হবে। Museum Boijmans Van Beuningen-এর এই ঘটনাটি শুধু স্থানীয় নয়, আন্তর্জাতিক শিল্পপ্রদর্শন নীতির জন্যও এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

শুধু আমেরিকা নয় , আমি গোটা বিশ্ব চালাচ্ছি : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং পুরো পৃথিবী পরিচালনা করছেন এবং এতে তিনি ‘অনেক আনন্দ’ পাচ্ছেন। দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথম ১০০ দিন উপলক্ষে মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, প্রথমবার আমার দুটি কাজ ছিল — দেশ চালানো এবং টিকে থাকা; তখন চারপাশে ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত লোকজন। এবার দ্বিতীয়বার, আমি দেশ ও পুরো পৃথিবী চালাচ্ছি। ট্রাম্প জানান — প্রথমবারের তুলনায়, দ্বিতীয় মেয়াদে নিজেকে বেশি শক্তিশালী মনে হচ্ছে তাঁর। প্রশাসনে এবার সমস্ত বিশ্বস্ত লোকজন রয়েছেন। আগের মেয়াদে কিছু কুটিল লোকজন ছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র দ্য আটলান্টিককে জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে প্রায় সময় উচ্ছ্বসিত দেখা যায় এবং তার চোখে-মুখে আত্মবিশ্বাসের ছাপ স্পষ্ট। ‘আমি যা করি তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমি এতে আনন্দ পাই। এটা মজার বিষয়, যদিও এটি খুবই গুরুতর দায়িত্ব’, বলেন ট্রাম্প। গত সোমবার পূর্বসূরি জো বাইডেনের অর্থনৈতিক নীতিমালার সমালোচনা করে সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশালে পোস্ট করে ট্রাম্প জানান, তিনি আমেরিকার সুদিন ফিরিয়ে আনবেন। মেয়াদের প্রথম ১০০ দিন শেষেও জনমত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের ভোটারদের অনেকেই এখনো তার ওপর ভরসা রাখছেন। এ বিষয়টিও তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। গত রোববার ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসি নিউজের জরিপে দেখা গেছে, ৩৯% মার্কিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কার্যক্রমকে সমর্থন করেন।

বিল ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়া আর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা মেয়াদের প্রথম ১০০ দিনে (অ্যাপ্রুভাল রেটিং) ৫০ শতাংশের নিচে নামেনি। এই তথ্য জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ। গত সোমবার ট্রাম্প এই জরিপের ফলকে ‘ভুয়া সংবাদ’ বলে আখ্যা দেন। ট্রুথ সোশালের পোস্টে গর্ব করে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব ভালো করছি, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আমরা ভালো আছি।’ তবে আলোচনায় আসে একটি বিতর্কিত প্রশ্ন — তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে আবারও প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না। অথচ ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি তৃতীয়বারের মতোও নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন।

এ ধরনের বক্তব্যে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়। কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করেন যে — ট্রাম্প হয়তো মার্কিন নির্বাচনব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে পারেন, যাতে তিনি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারেন। এমনকি ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা পণ্যও তার অফিসিয়াল অনলাইন স্টোরে দেখা গেছে, যা গুজব আরও উসকে দিয়েছে। তবে এবার স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্প জানালেন, তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। ‘এটা আমি করার কথা ভাবছি না। আর এটা খুবই জটিল একটি বিষয় হবে’, বলেন তিনি। এই বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প হয়তো বিতর্ক প্রশমিত করার চেষ্টা করছেন, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘ট্রাম্প ২০২৮’ ইস্যুটি আগামী দিনগুলোতে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

রাজনৈতিক দলের সংস্কার ইস্যু কি চাপা পড়ে গেলো ?

0

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে ব্যাপক তৎপরতা দেখালেও নিজেদের দলীয় সংস্কার কিংবা দলের মধ্যে গণতন্ত্র নিশ্চিত করার কোনো কার্যকর প্রক্রিয়া নিয়েছে, এমনটি দেখা যাচ্ছে না। বড়-ছোট বেশিরভাগ দলই কার্যত তাদের শীর্ষ নেতার একক নিয়ন্ত্রণ ও ইচ্ছায় পরিচালিত হচ্ছে বলেই দৃশ্যত প্রতীয়মান হয়, যদিও সব দলই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হওয়ারই দাবি করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “দলগুলো নিজেরা নির্বাচন চায়, কিন্তু দলের ভেতরের নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আনতে চায় না। ব্যক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের হাতেই দলের মধ্যকার আকাঙ্ক্ষিত সংস্কার আটকে আছে।”

বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলে সংস্কারের বিষয়টি জোরেশোরে উঠে এসেছিলো ২০০৭ সালে রাজনৈতিক সহিংসতার জের ধরে ক্ষমতায় আসা সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। তখন সরকার ও নির্বাচন কমিশন দল পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও গঠনতন্ত্রকে আরও গণতান্ত্রিক করতে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলো। বিশেষ করে দলীয় কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী, নির্বাচনি হলফনামায় আটটি ব্যক্তিগত তথ্য দেয়া, দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থিতার জন্য তৃণমূলের ভোটে প্যানেল প্রস্তুত করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বিধান রাখা কিংবা দলের আর্থিক হিসাব-নিকাশ নির্বাচন কমিশনকে দেয়ার মতো কিছু বিষয় চালু হয়েছিলো।

তখন দল গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত না হলে বা নিবন্ধনের শর্ত পূরণ না হলে নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতাসহ একটি অধ্যাদেশও জারি হয়েছিলো। যদিও পরবর্তীতে অনেক দলই শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রকে সচেতনভাবে দূরে সরিয়ে রেখেছে এবং ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি কার্যকর করেনি। আর দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব কোনো রাজনৈতিক দল সততার সাথে দেয় কি-না তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। আবার কোনো কোনো রাজনৈতিক দল কাউন্সিল করলেও শেষ পর্যন্ত নেতা নির্বাচনের ক্ষমতা দেয়া হয় শীর্ষ নেতৃত্বকে। নির্বাচনকালে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও দেখা যায় শীর্ষনেতার ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতিফলন।

মহিউদ্দিন আহমেদ বলছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন দৃঢ়তা দেখালে রাজনৈতিক দলগুলোতে গণতন্ত্রায়ণ অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

ট্রেডমিলের দিন শেষ , বারবেলের যুগ শুরু : সবাই কার্ডিও ছেড়ে ওজন তোলার দিকে ঝুঁকছে কেন ?

নাম: কার্ডিও

বয়স: ৬৪

চেহারা: ঘামতেই থাকা, লালচে-মুখ; ১৯৬১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত জনপ্রিয়।

১৯৬১ সালে কী হয়েছিল?

লন্ডনের বিখ্যাত বাসকর্মী গবেষণা (London Busmen Study) দেখায়, বাসের কন্ডাক্টররা বাসচালকদের তুলনায় হৃদরোগে কম আক্রান্ত হন, কারণ তারা দিনে অনেক হাঁটাহাঁটি করেন। ফলে মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপের উপকারিতা সামনে আসে।

তাহলে সবাই কন্ডাক্টর হতে চাইলো?

না, বরং “কার্ডিও” নামক শরীরচর্চার ধারা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে-দৌড়ানো, অ্যারোবিক্স, রোয়িং, স্পিনিং… একেক সময় একেকটি ফ্যাশন।

আর ২০২৫ সালে কী হলো?

মানুষ কার্ডিও করা বন্ধ করে দিল।

সত্যি ? হার্টের রোগ পছন্দ করে সবাই ?

না, আসলে সবাই এখন ওজন তুলতেই বেশি পছন্দ করছে। পেশি বানানোই এখন প্রধান লক্ষ্য; কার্ডিও এখন আউট!

আচ্ছা? এগুলোই আমাদের একমাত্র অপশন?

প্রমাণ আছে। ২০২১ থেকে গুগলে “কার্ডিও ওয়ার্কআউট” সার্চ কমেছে, আর “স্ট্রেংথ ট্রেনিং” সার্চ বেড়েছে।

কিন্তু সার্চ করা এক কথা, আর এক্সারসাইজ আরেক!

ঠিকই ধরেছো। কিন্তু জিমগুলো বাস্তবে রূপান্তর করছে-যোগ স্টুডিও ভেঙে লিফটিং স্টেশন বানানো হচ্ছে। বড় বড় মার্কিন ফিটনেস চেইনগুলো তাদের ট্রেডমিল, বাইক ইত্যাদি ৪০% পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে, জায়গা করে দিচ্ছে আরও বেশি ওজন তোলার জন্য।

এই পরিবর্তনের হোতা কে?

আবার সেই-ইনফ্লুয়েন্সাররা, বিশেষ করে টিকটক থেকে।

ডিপ্রেসড তরুণদের বোঝাচ্ছে, “সোয়োল না হলে ফুল না”?

মোটেও না! বরং মহিলারা আর বয়স্করাই এই পরিবর্তনের বড় চালিকাশক্তি।

কেন?

এখন সুস্থতা মানেই পেশি, এই ধারণা তৈরি হয়েছে। নিয়মিত ওজন তোলা মোটা হওয়া ঠেকাতে আর দীর্ঘায়ু পেতে সাহায্য করে-এমনটাই বিশ্বাস।

তাহলে কার্ডিও ফালতু?

না না, কার্ডিওও জরুরি। হার্ট আর ফুসফুস ভালো রাখে, রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, ওজন তোলা মেটাবলিজম বাড়ায় আর হাড়ের ঘনত্ব ধরে রাখে।

তাহলে কোনটা বেশি ভালো?

সেরা ফল পেতে দুটোই করতে হবে-কার্ডিও আর স্ট্রেংথ ট্রেনিং দুটোই।

আমি জানতাম তুমি এটা বলবে।

২০২২ সালের এক গবেষণা বলছে, সপ্তাহে তিনবার কার্ডিও আর সপ্তাহে সাতবার পর্যন্ত ওজন তোলা মিলিয়ে করলে মৃত্যুঝুঁকি সবচেয়ে কমে।

সপ্তাহে দশবার? আমি তো যেগুলো ভালোবাসি সেগুলোও দশবার করি না!

সান্ত্বনা দিই-অনেক ওজন তুললেও হার্টরেট বাড়ে, আবার পাহাড়ে দৌড়ালে পেশিও তৈরি হয়। কার্ডিও অচল হয়ে যাওয়ায় কোনো ভালো দিক আছে?ট্রেডমিলের লাইনে এখন আর দাঁড়াতে হয় না।

কি দারুণ! লাইনে দাঁড়ানোই তো আমার প্রিয় ছিল।

চিন্তা করো না-এখন স্কোয়াট র‍্যাকের লাইনে দাঁড়িয়ে সেই স্বাদ পাবে।

বলুন:

‘ কি আমাকে ফিট রাখে? সমাজের ভারের নিচে ধুঁকতে থাকা।’

বলবেন না:

‘ সব রোয়িং মেশিন সরিয়ে দিলে এখানে দারুণ একটা ফুড-কোরট হতো!’

যুক্তরাষ্ট্র , চীন , ভারত সবাই আমাদের বন্ধু : ডঃ. ইউনূস

0

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে(২৭ এপ্রিল প্রকাশিত) কথা বলেছেন বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ এখন আর কোনো নির্দিষ্ট বলয়ের রাজনীতি করে না। বরং, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে চায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখেন কি না বা বেইজিং ও ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন কি না—জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, ‘এটা বেছে নেওয়ার বিষয় না, তারা সবাই আমাদের বন্ধু। যুক্তরাষ্ট্র ভালো বন্ধু, চীন ভালো বন্ধু, ভারত ভালো বন্ধু।’

ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ড. ইউনূস বলেন — তার সরকারের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে খুব ভালো, শক্তিশালী ও উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। ড. ইউনূস কি ভারতের আগে ইচ্ছাকৃতভাবে চীন সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কি না এবং তিনি এর মাধ্যমে কোনো বার্তা দিচ্ছেন কি না—জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি ভারতে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তারা সাড়া দেয়নি। তাই চীনে গিয়েছি এবং এখন মালয়েশিয়া যাব।’ ড. ইউনূস বলেন, তিনি সেখানেই যাচ্ছেন যেখানে তিনি যেতে চান।

ভারত তাকে এড়িয়ে চলছে কি না এবং বিকল্প হিসেবে তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করছেন কি না—জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, ‘এড়িয়ে চলছে বলব না। এটা হয়তো সাময়িক ব্যাপার। এটা এমন বিষয়, যা আমাদের একসঙ্গে সমাধান করতে হবে। আমি এটাকে চূড়ান্ত কিছু হিসেবে নেব না। এটা দীর্ঘস্থায়ী কিছু নয়।’ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং নিজেকে এখনো ‘আইনসঙ্গত প্রধানমন্ত্রী’ দাবি করার বিষয়টি সরকার কীভাবে দেখছে—জানতে চাইলে প্রধান উপদেষ্টা ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার বৈঠকের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলেছি, যদি ভারত শেখ হাসিনাকে রাখতে চায়, তাহলে সম্ভবত এই বিষয়টি মিটিয়ে ফেলতে পারব না। কিন্তু তিনি সেখানে থাকাকালীন কথা বলা উচিত না। তিনি (শেখ হাসিনা) বাংলাদেশের মানুষকে উসকানি দিতে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং এর ফলে আমাদের ভুগতে হচ্ছে’।

মোদির প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, ‘যদি আমি ঠিকঠাক স্মরণ করে থাকি, তিনি বলেছিলেন যে ভারত এমন দেশ যেখানে সোশ্যাল মিডিয়া সবার জন্য উন্মুক্ত, আমি এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।’ এই পর্যায়ে উপস্থাপক বলেন, ‘তাহলে আপনি বলছেন যে মোদি আপনাকে বলেছেন ভারতের মতো দেশে—যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দমন করার অভিযোগ আছে—সেখানে তারা তার মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কিছু করতে পারবে না এবং আপনাকে এমন কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি যে তাকে (শেখ হাসিনা) বিচারের মুখোমুখি করার জন্য ফেরত পাঠানো হবে?’

উত্তরে ড. ইউনুস বলেন, ‘না।’ ড. ইউনূস জানান, মে মাসের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। তাঁর প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ শেষ হয়ে গেছে কি না—জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, মানুষ মনে করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনও তাদের জন্য একটি ভালো সমাধান।

তিনি বলেন, তারা বলছে না যে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলে যাক, আজই নির্বাচন হোক। আমরা এমন কোনো সমস্যার মুখোমুখি হইনি যেখানে মানুষজন বলছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ক্ষমতা হস্তান্তর করো।’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়সীমা নির্ভর করবে সংস্কারের বিষয়ে কতটা ঐকমত্য তৈরি হয় তার ওপর। তিনি বলেন, যদি বেশিরভাগ সংখ্যক সংস্কারের পক্ষে একমত হয়, তাহলে সময় বেশি লাগবে। যদি আমরা স্বল্প সংস্কারের দিকে যাই, তাহলে ডিসেম্বরেও নির্বাচন হতে পারে।

আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি পাবে কি না—এমন প্রশ্নে ড. ইউনূস বলেন, ‘এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আংশিকভাবে দলটির ওপরই নির্ভর করছে। আওয়ামী লীগ এখনো জানায়নি তারা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না।’ তিনি বলেন, ‘যখন এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসবে, তখন নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়া ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও সামনে আসবে। অন্যান্য অনেক দল বলতেও পারে যে এই আইনের অধীনে তারা অংশগ্রহণ করতে পারবে না, ইত্যাদি।’

স্টুডিও ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে পারে , রায়ান কুগলারের Sinners

২০২৩ সালের শীতকালে হলিউডে এক রহস্যময় চিত্রনাট্য ঘুরতে থাকে, যার নাম Sinners। দেখতে দেখতে এটি একটি বেনজির বাজার প্রতিযোগিতার জন্ম দেয়। নাটকীয়তা, থ্রিলার, সারভাইভাল হরর, ব্লুজ মিউজিক, যৌনতা, দক্ষিণী মার্কিন অকাল্ট সংস্কৃতি এবং রিভারড্যান্সিং ভ্যাম্পায়ার সব মিলিয়ে এমন অসাধারণ মিশ্রণ আগে কখনও দেখা যায়নি। তবে Sinners চলচ্চিত্রটিকে ঘিরে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়, তার কেন্দ্রে কেবল গল্প নয় বরং এই প্রজেক্টটির সৃষ্টিশীল ও ব্যবসায়িক কাঠামো দাঁড় করানোর পেছনের ব্যক্তি, রায়ান কুগলার এবং তাঁর চুক্তিভিত্তিক শর্তাবলি।

Sinners এর গল্প গড়ে উঠেছে জিম ক্রো যুগের মিসিসিপি অঞ্চলে, যেখানে বর্ণবৈষম্য ছিল সাংবিধানিকভাবে বৈধ। কেন্দ্রীয় চরিত্র দুই যমজ ভাই Smoke এবং Stack, যারা একসময় অপরাধের জগতে জড়িত থাকলেও পরে একটি জুক জয়েন্ট চালায় — যেখানে ব্লুজ মিউজিক বাজে, অন্ধকারে মানুষ জমায়েত হয়, এবং অলৌকিকতা ঘুরে বেড়ায়। সিনেমায় রয়েছে ডজনখানেক রিভারড্যান্সিং ভ্যাম্পায়ার, অর্থাৎ নাচতে থাকা ভয়ংকর রক্তচোষা প্রাণী, যা দক্ষিণের ধর্মীয় অন্ধত্ব ও কুসংস্কারের এক রূপক।

এই গল্প শুধুই কাল্পনিক নয়, এটি এক ধরনের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক পুনঃপ্রতিনিধিত্ব। কুগলার এখানে আমেরিকার ইতিহাস, সংগীত, যৌনতা ও ভয়ের এক সংকর মিশ্রণে একটি নতুন ঘরানার জন্ম দেন — যাকে বলা যেতে পারে “ব্ল্যাক সারভাইভাল গথিক”। হলিউডে সাধারণভাবে পরিচালকরা স্টুডিওর অধীনে কাজ করেন এবং তাঁদের সৃষ্টিশীলতা বিভিন্নভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু Sinners–এর ক্ষেত্রে কুগলার স্পষ্টভাবে কয়েকটি ‘শর্ত’ আরোপ করেন, যা তাঁকে কেবল পরিচালক নয়, একজন স্বাধীন শিল্প উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

কুগলার দাবি করেন, সিনেমার চূড়ান্ত সম্পাদনা তিনি নিজেই করবেন, স্টুডিও নয়। এটি ‘Final Cut’ নামে পরিচিত এবং খুব অল্পসংখ্যক পরিচালকই এই ক্ষমতা পান — যেমন ক্রিস্টোফার নোলান, কুয়েন্টিন ট্যারান্টিনো বা মার্টিন স্কোরসেসি। এই দাবি স্পষ্ট করে দেয় যে কুগলার কেবল টাকা নয় বরং নিরাপদ শিল্পস্বাধীনতা চান। তিনি আরও দাবি করেন সিনেমা মুক্তির প্রথম দিন থেকেই আয়ের ভাগ পাবেন — সাধারণত পরিচালক বা অভিনেতারা মুনাফা তখনই পান, যখন স্টুডিও সমস্ত খরচ উসুল করে। কিন্তু কুগলার স্টুডিওর লাভ-লোকসানের বাইরে গিয়ে নিজের বাজারমূল্যকে সরাসরি নগদ রূপে দাবি করেন। এটি শিল্পী হিসেবে তাঁর আত্মবিশ্বাস এবং ক্ষমতার পরিচায়ক।

সবচেয়ে আলোচিত ও বহুল আলোচ্য শর্ত হলো, ২৫ বছর পর সিনেমাটির মালিকানা তাঁর কাছে ফিরে আসবে। এটি একটি বিপ্লবাত্মক ধারণা। হলিউডে সাধারণভাবে সিনেমার স্বত্ব চিরকাল স্টুডিওরই থেকে যায়। কিন্তু কুগলার দেখিয়ে দিলেন যে একজন পরিচালকও চাইলে নিজের নির্মিত শিল্পের ওপর দীর্ঘমেয়াদী অধিকার রাখতে পারেন। এই মালিকানা ফেরত পাওয়ার ধারণা শুধু অর্থনৈতিক নয় এটি এক ধরনের ঐতিহাসিক সংশোধন ও কালচারাল জবাবদিহিতা। কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পীদের দীর্ঘদিন বঞ্চিত রাখা হয়েছিল তাঁদের সৃষ্টির মালিকানা থেকে। কুগলারের দাবি সেই ইতিহাসের প্রতিক্রিয়া।

কুগলারের দীর্ঘদিনের সৃষ্টিশীল সঙ্গী মাইকেল বি. জর্ডান এখানে একসঙ্গে Smoke ও Stack নামে দুই চরিত্রে অভিনয় করছেন। তাঁরা শুধু যমজ ভাই নয়, একই আত্মার দুটি বিপরীত দিক। একদিকে প্রেম, স্বাধীনতা, অপরদিকে লোভ, প্রতিশোধ। এই দ্বৈত চরিত্রের মাধ্যমে জর্ডান কুগলারের থিম ব্ল্যাক ট্রমা, পরিচয়, পরিবার ও নৈতিক দ্বন্দ্ব — আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যখন একটি সিনেমার প্রাথমিক চুক্তিই $৯০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়, তখন সেটি কেবল বিনোদন নয়, একটি বাজার কাঠামোর উত্তাল ঢেউ। তবে Sinners এর সবচেয়ে বড় অবদান হতে পারে এর মডেল। যেখানে একজন পরিচালক বিনোদন, স্বাধীনতা ও দীর্ঘমেয়াদি মালিকানা একত্রে দাবি করছেন।

Sinners শুধুমাত্র একটি নতুনধারার সিনেমা নয়, বরং এটি আজকের হলিউডে সৃজনশীল স্বাধীনতা বনাম কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ দ্বন্দ্বের এক জ্বলন্ত প্রতীক। রায়ান কুগলারের মতো পরিচালকরা আজ দেখাচ্ছেন, কীভাবে শিল্প ও বাণিজ্যের মাঝখানে একজন সচেতন শিল্পী নিজের পথ গড়ে নিতে পারেন, নিজের স্বপ্নকে বাজারের দাসত্ব থেকে মুক্ত করে এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারেন।

ট্রাম্পের ১০০ দিন – ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে , বদলে যাচ্ছে বিশ্বব্যবস্থা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর প্রথম ১০০ দিনে বিশ্বব্যাপী শুল্ক যুদ্ধ শুরু করেছেন, বৈদেশিক সহায়তা কমিয়েছেন, ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসন নিয়ে নেটো মিত্রদের উপেক্ষা করে রাশিয়ার বয়ানকেই সমর্থন করেছেন। গ্রিনল্যান্ড, পানামা খাল দখল এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্যে পরিণত করার কথাও প্রকাশ্যে বলেছেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন যে ‘নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা’ গড়ে উঠেছে, তার ভিত্তি ১০০ দিনের কম সময়ে নজিবিহীন ও অপ্রত্যাশিতভাবে নড়বড়ে করে তুলেছেন ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ভিত্তিপ্রস্তর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি বা আমেরিকা ফার্স্ট পলিসি। এই নীতি বাস্তবায়নের প্রয়াসে তার কাজকর্মে দীর্ঘদিনের মিত্ররা দূরে সরে যাচ্ছে আর প্রতিদ্বন্দ্বীরা এখন আগের চেয়ে বেশি সরব হচ্ছে। তার প্রতিটি পদক্ষেপ এত বেশি অনিশ্চয়তা তৈরি করছে যে, সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় দুঃসাধ্য হবে। এই সংকট কেবল বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে নয়, অভ্যন্তরীণ কাঠামোতেও ভাঙনের আভাস দেখছেন সমালোচকরা। তাদের মতে, মার্কিন গণতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলেছেন ট্রাম্প। বিচারকদের সঙ্গে আক্রমণাত্মক বাক্যবিনিময়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগ এবং বিতাড়িত অভিবাসীদের এল সালভাদরের কারাগারে পাঠানোর মতো পদক্ষেপের কারণে মার্কিন আইনের প্রতি প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

একাধিক সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক এবং বিশ্লেষকের সাথে কথা বলেছে রয়টার্স। অনেকেই বলেছেন, ট্রাম্পের পদক্ষেপে এরই মধ্যে যেসব ক্ষতি হয়েছে সেগুলোর কিছু দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তবে তিনি নমনীয় অবস্থান নিলে সেসব ক্ষতি কাটানো সম্ভবও হতে পারে। কিছু বিষয়ে ট্রাম্প অবশ্য কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছেন, যেমন শুল্ক আরোপের সময়সূচি ও মাত্রা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের নাটকীয়ভাবে অবস্থান বদলানোর সম্ভাবনা কম। ফলে অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের স্বার্থরক্ষার প্রস্তুতি নেবে তেমন সম্ভাবনাই দেখছেন তারা। এমন উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরুও হয়েছে।

মার্কিন অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইউরোপীয় মিত্ররা নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির চিন্তা করছে।এমনকি অনেকে এটাও বিবেচনা করছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের অবনতি হলে অর্থনৈতিকভাবে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি করা যায় কিনা। হোয়াইট হাউজ অবশ্য ট্রাম্পের নীতিকে সমর্থন করে বলেছে, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দুর্বল নেতৃত্বের ক্ষতি পুষিয়ে দিচ্ছেন। জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র ব্রায়ান হিউজেস বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়াকে শান্তি আলোচনায় বসাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এছাড়া, তিনি চীনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনছেন, ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি আবার চালু করছেন এবং দক্ষিণ সীমান্ত রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এপ্রিলের শেষের দিকে রয়টার্স/ইপসোস পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকের বেশি আমেরিকান মনে করেন, ট্রাম্প রাশিয়ার সাথে খুব বেশি ঘনিষ্ঠ। একইসাথে তার সম্প্রসারণবাদী নীতির প্রতি জনসমর্থনও বেশ দুর্বল।