নাম: কার্ডিও
বয়স: ৬৪
চেহারা: ঘামতেই থাকা, লালচে-মুখ; ১৯৬১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত জনপ্রিয়।
১৯৬১ সালে কী হয়েছিল?
লন্ডনের বিখ্যাত বাসকর্মী গবেষণা (London Busmen Study) দেখায়, বাসের কন্ডাক্টররা বাসচালকদের তুলনায় হৃদরোগে কম আক্রান্ত হন, কারণ তারা দিনে অনেক হাঁটাহাঁটি করেন। ফলে মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যকলাপের উপকারিতা সামনে আসে।
তাহলে সবাই কন্ডাক্টর হতে চাইলো?
না, বরং “কার্ডিও” নামক শরীরচর্চার ধারা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে-দৌড়ানো, অ্যারোবিক্স, রোয়িং, স্পিনিং… একেক সময় একেকটি ফ্যাশন।
আর ২০২৫ সালে কী হলো?
মানুষ কার্ডিও করা বন্ধ করে দিল।
সত্যি ? হার্টের রোগ পছন্দ করে সবাই ?
না, আসলে সবাই এখন ওজন তুলতেই বেশি পছন্দ করছে। পেশি বানানোই এখন প্রধান লক্ষ্য; কার্ডিও এখন আউট!
আচ্ছা? এগুলোই আমাদের একমাত্র অপশন?
প্রমাণ আছে। ২০২১ থেকে গুগলে “কার্ডিও ওয়ার্কআউট” সার্চ কমেছে, আর “স্ট্রেংথ ট্রেনিং” সার্চ বেড়েছে।
কিন্তু সার্চ করা এক কথা, আর এক্সারসাইজ আরেক!
ঠিকই ধরেছো। কিন্তু জিমগুলো বাস্তবে রূপান্তর করছে-যোগ স্টুডিও ভেঙে লিফটিং স্টেশন বানানো হচ্ছে। বড় বড় মার্কিন ফিটনেস চেইনগুলো তাদের ট্রেডমিল, বাইক ইত্যাদি ৪০% পর্যন্ত কমিয়ে দিয়েছে, জায়গা করে দিচ্ছে আরও বেশি ওজন তোলার জন্য।
এই পরিবর্তনের হোতা কে?
আবার সেই-ইনফ্লুয়েন্সাররা, বিশেষ করে টিকটক থেকে।
ডিপ্রেসড তরুণদের বোঝাচ্ছে, “সোয়োল না হলে ফুল না”?
মোটেও না! বরং মহিলারা আর বয়স্করাই এই পরিবর্তনের বড় চালিকাশক্তি।
কেন?
এখন সুস্থতা মানেই পেশি, এই ধারণা তৈরি হয়েছে। নিয়মিত ওজন তোলা মোটা হওয়া ঠেকাতে আর দীর্ঘায়ু পেতে সাহায্য করে-এমনটাই বিশ্বাস।
তাহলে কার্ডিও ফালতু?
না না, কার্ডিওও জরুরি। হার্ট আর ফুসফুস ভালো রাখে, রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, ওজন তোলা মেটাবলিজম বাড়ায় আর হাড়ের ঘনত্ব ধরে রাখে।
তাহলে কোনটা বেশি ভালো?
সেরা ফল পেতে দুটোই করতে হবে-কার্ডিও আর স্ট্রেংথ ট্রেনিং দুটোই।
আমি জানতাম তুমি এটা বলবে।
২০২২ সালের এক গবেষণা বলছে, সপ্তাহে তিনবার কার্ডিও আর সপ্তাহে সাতবার পর্যন্ত ওজন তোলা মিলিয়ে করলে মৃত্যুঝুঁকি সবচেয়ে কমে।
সপ্তাহে দশবার? আমি তো যেগুলো ভালোবাসি সেগুলোও দশবার করি না!
সান্ত্বনা দিই-অনেক ওজন তুললেও হার্টরেট বাড়ে, আবার পাহাড়ে দৌড়ালে পেশিও তৈরি হয়। কার্ডিও অচল হয়ে যাওয়ায় কোনো ভালো দিক আছে?ট্রেডমিলের লাইনে এখন আর দাঁড়াতে হয় না।
কি দারুণ! লাইনে দাঁড়ানোই তো আমার প্রিয় ছিল।
চিন্তা করো না-এখন স্কোয়াট র্যাকের লাইনে দাঁড়িয়ে সেই স্বাদ পাবে।
বলুন:
‘ কি আমাকে ফিট রাখে? সমাজের ভারের নিচে ধুঁকতে থাকা।’
বলবেন না:
‘ সব রোয়িং মেশিন সরিয়ে দিলে এখানে দারুণ একটা ফুড-কোরট হতো!’


