Home Blog Page 122

চীনের ব্যবসায়ীরা বিশ্বজুড়ে নতুন ক্রেতার খোঁজে –

এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে চীনা প্রস্তুতকারকরা বিশ্বজুড়ে নতুন বাজার খুঁজছেন, যেখানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তৈরি পণ্য বিক্রি করতে পারবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের বিকল্প খুঁজে পাওয়া সহজ হবে না। চীনের কাস্টমস এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ছিল চীনের পণ্যের সবচেয়ে বড় একক ক্রেতা দেশ। চীন তার মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় ১৫ শতাংশ, অর্থাৎ অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করেছিল।গোল্ডম্যান স্যাক্সসের হিসাবে, এই পরিস্থিতিতে চীনের ১ কোটি থেকে ২ কোটি চাকরি ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব চাকরি মূলত আমেরিকার ভোক্তাদের জন্য পণ্য তৈরির সঙ্গে যুক্ত।

এছাড়া বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যও এই অবস্থার ওপর নির্ভর করছে। চীনের অনেক প্রস্তুতকারকের জন্য এখন নতুন বিদেশি বাজার খোঁজা ছাড়া আর কোনও পথ নেই। কারণ দেশীয় বাজারে তারা তীব্র প্রতিযোগিতা ও মন্দা অর্থনীতির মুখোমুখি। চীনের নেতারা বলছেন, তারা অভ্যন্তরীণ ভোগ বৃদ্ধি ও শুল্কের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোকে সহায়তা করার পরিকল্পনা করেছেন। কিছু ই-কমার্স কোম্পানি, যেমন জেডি.কম রপ্তানিকারকদের স্থানীয় বাজারের দিকে স্থানান্তর করতে সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু চীনে পরিবারের ও ব্যবসার পক্ষ থেকে চাহিদা দুর্বল। বিশাল আকারের সম্পত্তি বাজার ধস এবং ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পর চীনারা এখন বেশি সঞ্চয় করছে, খরচ করছে কম।

ভোক্তামূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাক্টরি-গেট মূল্য কমছে। আমদানি হ্রাস পাচ্ছে। এসবই দেখায়, চীনে দেশীয় ভোক্তা ব্যয় কতটা দুর্বল। উজিয়াং সিটি হংইউয়ান টেক্সটাইলের প্রতিনিধি কিয়ান শিচাও বলেন, তিনি প্রথমবার ইন্দোনেশিয়ায় এসেছেন। কারণ চীনের দেশীয় বাজার এখন খুব কঠিন অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কারখানাগুলো অতিরিক্ত পণ্য উৎপাদন করছে। ফলে দাম কমানোর জন্য প্রচণ্ড প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে এবং লাভ অনেক কমে গেছে। কিয়ান বলেন, “খোলামেলা বললে, ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, আমাদের যা করার তা হলো বাইরে গিয়ে নতুন সুযোগ খোঁজা।” ইন্দোনেশিয়ার পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফ্যাব্রিকুর নির্বাহী প্রধান সুতান্তো উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছেন, চীনা প্রস্তুতকারকরা ইন্দোনেশিয়া বাজারে সস্তায় পণ্য দিলে স্থানীয় প্রস্তুতকারকদের জন্য প্রতিযোগিতা কঠিন হয়ে যাবে।

ইয়েমেনে মার্কিন বিমান হামলায় মৃত্যু-ধ্বংস অব্যাহত , হুতি দমনের নামে এবার ৬৮ আফ্রিকান অভিবাসী হত্যা

হুতি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি আটককেন্দ্রে মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ৬৮ জন আফ্রিকান অভিবাসী নিহত হয়েছেন বলে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির টিভি চ্যানেল আল মাসিরাহ জানিয়েছে। আল মাসিরাহর বরাত দিয়ে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় সাদা প্রদেশের ওই অভিবাসী আটক কেন্দ্রে ১১৫ জন আফ্রিকান অভিবাসী ছিল। ৪৭ জন অভিবাসী আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগের অবস্থা সংকটজনক। আল মাসিরাহ টেলিভিশন হামলার দৃশ্যের গ্রাফিক ফুটেজ প্রচার করেছে, যেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকা বহু মরদেহ দেখা গেছে। তবে মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি।

এই হামলার কিছুক্ষণ আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫ মার্চ হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা জোরদার করার নির্দেশের পর থেকে তারা ৮০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। সেন্টকম জানায়, এসব হামলায় শত শত হুতি যোদ্ধা এবং অসংখ্য হুতি নেতা নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও রয়েছেন। হুতি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, মার্কিন হামলায় অনেক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যদিও তারা হুতি সদস্যদের মধ্যে হতাহতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম উল্লেখ করেছে।

১১ বছরের সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে মানবিক সংকট সত্ত্বেও, অভিবাসীরা এখনও আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে নৌকায় করে ইয়েমেনে আসছে। তাদের বেশিরভাগের লক্ষ্য সৌদি আরবে পৌঁছে কাজ খোঁজা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্য মতে, শুধু ২০২৪ সালেই প্রায় ৬০ হাজার ৯০০ অভিবাসী ইয়েমেনে পৌঁছেছে। এ ধরনের অবৈধ অধিবাসীদের একটি আটক কেন্দ্রেই মার্কিন বিমান হামলা চালায়। এর আগে মাসের শুরুতে হুতি-চালিত সরকার জানিয়েছিল, রেড সি উপকূলের রাস ইসা তেল টার্মিনালে মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ৭৪ জন নিহত এবং ১৭১ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সেন্টকম জানায়, ওই হামলা রাস ইসার জ্বালানি গ্রহণের সক্ষমতা ধ্বংস করেছে, যা হুতিদের পরিচালনা এবং সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য অর্থ সংগ্রহের ক্ষমতাকে হ্রাস করবে।

হুথি সূত্রমতে, চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। মার্চের মাঝামাঝি শুরু হওয়া অভিযানে প্রায় প্রতিদিনই বোমাবর্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনাবাহিনীর দাবি, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে হামলা এবং ইসরায়েলের জন্য হুমকিতে পরিণত হওয়ায় হুথিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে হুথিরা বলছে, গাজার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধের পালটা প্রতিশোধ হিসেবেই তারা লোহিত সাগরে ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজ পরিবহনে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন হামলা বৃদ্ধির পেছনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হচ্ছে ইরান। পারমাণবিক চুক্তিতে ইরানকে বাগে আনতে বিভিন্ন দিকে চাপ তৈরি করছে মার্কিন প্রশাসন। তারই অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে তেহরান সমর্থিত হুথিদের দমন করা হচ্ছে।

মহাবিশ্বের শেষ কিভাবে ? প্রশ্নটি এক অপ্রত্যাশিত মোড় নিয়েছে

কসমোলজিস্ট কেটি ম্যাক ব্যাখ্যা করছেন – এক বছর আগে যদি কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করত, মহাবিশ্বের সবচেয়ে সম্ভাব্য শেষ পরিণতি কী হতে পারে, আমি নির্দ্বিধায় উত্তর দিতে পারতাম। কসমোলজিস্ট হিসেবে আমি দীর্ঘদিন ধরে মহাবিশ্বের শেষ নিয়ে ভাবছি – এমনকি এ বিষয়ে একটি বইও লিখেছি।
আমরা জানি, মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং সেই সম্প্রসারণের গতি বাড়ছে। বহু দূর ভবিষ্যতে, এই দ্রুততর সম্প্রসারণ মহাবিশ্বকে এতটাই খালি করে ফেলবে যে কার্যত কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। নক্ষত্রগুলো নিভে যাবে, পদার্থগুলো ক্ষয়ে যাবে, ব্ল্যাক হোলগুলোও শেষ পর্যন্ত বাষ্পীভূত হবে, আর কেবল কিছু বিচ্ছিন্ন ফোটন থেকে যাবে, যা ধীরে ধীরে সমস্ত সৃষ্টির অবশিষ্ট তাপ ছড়িয়ে দেবে।

এই দৃশ্যপটকে “হিট ডেথ” বা “বিগ ফ্রিজ” বলা হয়। আমাদের মহাবিশ্বের আচরণের বর্তমান সেরা মডেল অনুসারে, এটাই ছিল সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিণতি।কিন্তু এখন যদি আমাকে একই প্রশ্ন করা হয়, আমি একটু থেমে ভাবতাম। গত মার্চে প্রকাশিত ডার্ক এনার্জি স্পেকট্রোস্কপিক ইন্সট্রুমেন্ট (DESI)-এর ফলাফল, যা আগের বছরের ডেটার উপর ভিত্তি করে তৈরি, আমাদের মহাবিশ্বের একটি ভিন্ন ছবি তুলে ধরছে। এটি মহাবিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও রহস্যময় উপাদান – ডার্ক এনার্জি – সম্পর্কে আমাদের পূর্বানুমানকে চ্যালেঞ্জ করছে।

ডার্ক এনার্জি
ডার্ক এনার্জি আবিষ্কার এক বিশাল চমক ছিল। ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ, যা বিগ ব্যাং দ্বারা শুরু হয়েছিল, তা গত কয়েক বিলিয়ন বছরে আস্তে আস্তে দ্রুততর হচ্ছে। এই ত্বরিত সম্প্রসারণ তথ্য থেকে পরিষ্কার ছিল এবং বিভিন্ন গবেষণা দল একে নিশ্চিত করেছিল, তবে এটা কোনোভাবেই বোধগম্য ছিল না। সাধারণ ধারণা ছিল, মহাবিশ্বের সমস্ত বস্তু – গ্যালাক্সি, নক্ষত্র, গ্যাস, ধূলিকণা, এমনকি শক্তিও – একে অপরের ওপর মাধ্যাকর্ষণ বল প্রয়োগ করে, যা সম্প্রসারণের গতিকে ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়। তবে যদি সম্প্রসারণ দ্রুততর হয়, তাহলে মনে হয়, যেন কোনো অদৃশ্য শক্তি ভেতর থেকে স্থানকে প্রসারিত করছে।

আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ তত্ত্ব একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দেয়। তিনি তাঁর সমীকরণে “কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট” নামে একটি পদ যোগ করেছিলেন, যা স্থান-কালকেই প্রসারণশীল করে তুলতে পারে। যদিও পরে তিনি একে ভুল বলে মনে করে বাদ দেন, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ আবিষ্কারের পর ধারণাটি পুনরুজ্জীবিত হয়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ভাবলেন, হয়তো এই কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্টই স্থানকে প্রসারণ করছে। বিশেষ করে, যখন মহাবিশ্ব ঘন ছিল, মাধ্যাকর্ষণ সম্প্রসারণ কমিয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু ছয় বিলিয়ন বছর আগে যখন মহাবিশ্ব যথেষ্ট বড় ও হালকা হয়ে যায়, তখন এই প্রসারণের প্রভাব আবার আধিপত্য বিস্তার করে।

গত কয়েক দশক ধরে, এই মডেলের সাথে আমাদের পর্যবেক্ষণগুলি মোটামুটি সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। তাই পদার্থবিজ্ঞানীরা কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্টকে মডেলে অন্তর্ভুক্ত করে ফেলেছিলেন। ডার্ক এনার্জি বলতে এখন মূলত কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট বা এর থেকেও অদ্ভুত কোনো কিছুকে বোঝানো হয়।
কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট নাকি অন্য কিছু?
ডার্ক এনার্জির সংজ্ঞা খুলে রেখে আমরা বিকল্প সম্ভাবনাগুলোকেও বিবেচনায় রেখেছি। সম্ভবত ডার্ক এনার্জি কোনো স্থায়ী গুণ নয়, বরং এক ধরনের পরিবর্তনশীল শক্তি ক্ষেত্র (যেমন “কুইন্টেসেন্স”)।

এটি সময়ের সাথে দুর্বল বা শক্তিশালী হতে পারে। ডার্ক এনার্জির প্রকৃতি বোঝার জন্য DESI-সহ বেশ কয়েকটি বড় গবেষণা প্রকল্প পরিচালিত হয়েছে। কারণ, আমাদের হিসেব অনুযায়ী, মহাবিশ্বের মোট শক্তির ঘনত্বের ৭০ শতাংশেরও বেশি জুড়ে রয়েছে এই ডার্ক এনার্জি। যদি এটি সত্যিই কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্ট হয়, তাহলে “হিট ডেথ” একপ্রকার অনিবার্য। তখন আমরা বলতে পারি, ১০০ বিলিয়ন বছরের মধ্যে দূরবর্তী গ্যালাক্সিগুলো এত দ্রুত সরবে যে আমরা সেগুলো আর দেখতে পাব না। এরপরে মহাবিশ্ব সম্পূর্ণ নিস্তেজ ও খালি হয়ে পড়বে। কিন্তু DESI-এর সাম্প্রতিক ফলাফল এই দৃশ্যপটে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

কনস্ট্যান্ট জিনিস বদলায় না
DESI-এর ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, ডার্ক এনার্জি হয়তো সময়ের সাথে দুর্বল হয়ে আসছে। এটা এখনো চূড়ান্ত আবিষ্কার নয়, তবে যদি সত্য হয়, তবে সম্প্রসারণ এখনো দ্রুততর হচ্ছে, কিন্তু আগের তুলনায় কম। এটা কসমোলজিক্যাল কনস্ট্যান্টের আচরণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কেউ কেউ বলছেন, এর মানে হতে পারে মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ এতটা নিরানন্দ নাও হতে পারে। সম্ভবত সম্প্রসারণ এক সময় বন্ধ হবে বা উল্টে গিয়ে “বিগ ক্রাঞ্চ”-এর দিকে ধাবিত হবে। এমন ব্যাখ্যা দিতে আমাদের এখনো অনেক সতর্ক থাকা উচিত। ডার্ক এনার্জি যদি পরিবর্তনশীল হয়, তাহলে যতক্ষণ না আমরা এর প্রকৃতি পুরোপুরি বুঝি, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোনো সুনিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী করা অসম্ভব।

ভয়ংকর সম্ভাবনাগুলো
এমনকি ডার্ক এনার্জি একসময় “ফ্যান্টম” আচরণ করতেও পারে – যেখানে এটি সময়ের সাথে আরো শক্তিশালী হয়ে যায়। এর ফলে মহাবিশ্ব নিজেই ছিঁড়ে যেতে পারে, যাকে বলে “বিগ রিপ”। অন্যদিকে, যদি ডার্ক এনার্জি সম্পূর্ণ দুর্বল হয়ে হারিয়ে যায়, তারপরও পরিণতি খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। তখনও নক্ষত্রগুলি নিভে যাবে, ব্ল্যাক হোলগুলি ধীরে ধীরে অদৃশ্য হবে এবং মহাবিশ্বের দ্বিতীয় আইন অনুযায়ী এলোমেলোতা বাড়তে থাকবে। এছাড়া, “ভ্যাকুয়াম ডিকেই” নামক এক ভয়ঙ্কর সম্ভাবনাও আছে, যেখানে মহাবিশ্ব হঠাৎ করেই তার মৌলিক গঠন পাল্টে ফেলে, যা বেঁচে থাকার কোনো সুযোগই রাখবে না।

ডার্ক এনার্জি হয়তো একদিন সবকিছু ধ্বংস করে দেবে। তবে ততদিন পর্যন্ত, একে বোঝার প্রচেষ্টা আমাদের সামনে অসাধারণ সব আবিষ্কার এনে দিচ্ছে। মহাবিশ্ব ভবিষ্যতে আর কী চমক আমাদের জন্য রেখেছে?

সিন্ধু নদের বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত , গঙ্গা চুক্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে : আইনুন নিশাত , পানি বিশেষজ্ঞ

পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু পানি চুক্তি ‘স্থগিত’ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। যা প্রমাণ করে, নদী তীরবর্তী প্রতিবেশীদের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটলে ভারত পানিকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করতে দ্বিধাবোধ করবে না। এমনটাই মনে করেন বাংলাদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত। ২৬ এপ্রিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’কে পানি সম্পদ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নিশাত বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তি পুনঃনবায়নের সম্ভাবনার ওপরও ‘ছায়া ফেলেছে’।

অধ্যাপক নিশাত মনে করেন, ‘যখন ঢাকা ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি চুক্তি স্বাক্ষর করে তখন বাংলাদেশে অনেকের সন্দেহ ছিল যে, ভারত প্রতিশ্রুতি মত গঙ্গার পানি সত্যিই দেবে কিনা। কারণ নদীর আসল নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ভারতের হাতে। সিন্ধু নদের পানি চুক্তি একটি বড় চুক্তি যা ভারতীয় সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছিল। সমালোচকরা এখানে সিন্ধু নদের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে যুক্তি দিতে পারেন যে, গঙ্গার বিষয়ে ভারতের আশ্বাসেরও কোনো মূল্য নেই।’ অধ্যাপক নিশাত বলছেন, ‘গঙ্গা চুক্তি নবায়নের বিষয়টি আগামী বছর আসবে। কিন্তু ভারত যদি সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখে, তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টনে ভারতের আগ্রহ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।’

অধ্যাপক নিশাত বলেছেন, চুক্তিগুলো আইনি নথি এবং সাধারণভাবে ধারণা করা হয় যে, এ ধরনের নথি রাজনৈতিক আবেগ দ্বারা প্রভাবিত হবে না। “কিন্তু সিন্ধু নদীর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে রাজনৈতিক বিবেচনা আইনি নথিকে প্রভাবিত করতে পারে,” বলেন প্রফেসর নিশাত। তাঁর কথায় ইঙ্গিত রয়েছে যে, রাজনৈতিক বিরোধ বাড়লে ভারত হয়তো পানি-প্রবাহকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করতে পিছপা হবে না। তিনি আরও বলেন, “গঙ্গা ছাড়াও বাংলাদেশের জন্য তিস্তা নদীর পানিবণ্টন একটি বড় বিষয় এবং ঢাকা তিস্তায় চীনের ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণে সম্মত হয়েছে।” তিনি ব্যাখ্যা করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক মতভেদ বাড়ছে।

শেখ হাসিনার প্রথম প্রধানমন্ত্রিত্বকালে ১৯৯৬ সালের ১২ই ডিসেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়া এবং প্রধানমন্ত্রী (সাবেক) শেখ হাসিনার মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি বাংলাদেশকে বর্ষাকালে ন্যূনতম পানি প্রবাহের সুযোগ করে দেয়। তিন দশক পর ‘পারস্পরিক সম্মতিতে’ এই চুক্তি নবায়ন করা যেতে পারে। সেই অনুযায়ী চুক্তিটি ২০২৬ সালে নবায়নের জন্য উত্থাপিত হবে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গত ৬ই মার্চ কলকাতায় ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের কারিগরি টিমের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আলোচনার মূল বিষয় ছিল ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি চুক্তি। এই উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ফারাক্কায় যৌথ পর্যবেক্ষণ স্থানটিও পরিদর্শন করে।

নতুন ১ লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ

২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে গত শনিবার পর্যন্ত নতুন করে আরও ১ লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে গত বছরের মে-জুনের পর। চলতি বছরের প্রায় প্রতিদিন নাফ নদ ছাড়াও পাহাড়ি পথে নানাভাবে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢুকছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা সরকারের সঙ্গে আরাকান আর্মির সংঘাতের পর থেকে রোহিঙ্গারা নতুনভাবে বাংলাদেশে ঢুকছে। জান্তা সরকার সেখানে পরাস্ত হওয়ার পরও রোহিঙ্গার ঢল থামছে না। শুধু গত সপ্তাহেই রাখাইন থেকে এসেছে ৬ হাজারের বেশি। ইতোমধ্যে যৌথভাবে তাদের আঙুলের ছাপও সংগ্রহ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) ও বাংলাদেশ সরকার। আঙুলের ছাপও নেওয়া হলেও নতুন আসা রোহিঙ্গাদের চোখের আইরিশের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের অনুমতি এখনও দেয়নি বাংলাদেশ সরকার।

নতুনদের নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ ১৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। নতুন আসা রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই বর্তমানে কক্সবাজারের ২০টি ক্যাম্পে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় অবস্থান করছেন। তাদের আবাসস্থলের ব্যবস্থা করার জন্য এরইমধ্যে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়েছে ইউএনএইচসিআর। সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের বলেছেন, নতুন করে আসা এক লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গার আবাসস্থল গড়ে তোলার মতো জায়গা বর্তমানে তাদের কাছে নেই। এছাড়া নতুন আবাসস্থল নির্মাণের প্রচেষ্টা দেখানো হলে সেটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে কঠিন করে তুলবে। কারণ এতে রাখাইনে অবস্থানরত অন্য রোহিঙ্গারাও বাংলাদেশে আসতে উৎসাহিত হবেন।

কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে থাকা ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকির মুখে আছে বাংলাদেশ। তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে দেনদরবার করছে বাংলাদেশ। এখন প্রত্যাবাসনের বদলে আরও নতুন রোহিঙ্গা দেশে ঢোকায় চাপে পড়ছে বাংলাদেশ। যৌথ সাড়াদান কর্মসূচির (জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান-জেআরপি) আওতায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। তবে প্রতিবছর প্রতিশ্রুত বরাদ্দ কমছে। এমন বাস্তবতায় নতুনভাবে রোহিঙ্গা প্রবেশ বাংলাদেশের জন্য নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।

এল্ভিস প্রিসলী – গুপ্তশক্তির জাদুকর , অধিদেবতা কিংবা এলিয়েন !

যখন এলভিস প্রিসলির কথা আসে, তখন আপনার মাথায় কী ভেসে ওঠে? হয়তো তার দুলতে থাকা কোমর, লেদার জ্যাকেট, মধুর কণ্ঠ, কিংবা বিখ্যাত পিনাট বাটার আর কলার স্যান্ডউইচের গল্প। এলভিস ছিলেন অনেক কিছু – রক অ্যান্ড রোলের রাজা, আমেরিকার আইকন, পপ কালচারের জগদ্দল পাথর।কিন্তু মিগুয়েল কনারের লেখা নতুন বই The Occult Elvis: The Mystical and Magical Life of the King বলছে, এলভিস ছিলেন আরও অদ্ভুত কিছু: এক টেলিপ্যাথিক অধিদেবতা, যিনি অসুস্থদের সুস্থ করতে পারতেন, আবহাওয়া বদলাতে পারতেন, এমনকি এলিয়েনদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতেন!

বিশ্বাস করা কঠিন, তাই না? এলভিস: রকস্টার ছাড়িয়ে আরও কিছু! মিগুয়েল কনার, যিনি গ্নস্টিসিজম নিয়ে কাজ করেন এবং Aeon Byte Gnostic Radio পডকাস্ট চালান, এলভিসকে শুধুমাত্র এক জন সুপারস্টার হিসেবে নয়, বরং ‘পশ্চিমা সভ্যতার সবচেয়ে বড় জাদুকর’ হিসেবে দেখেন। ২০২২ সালে এক আয়াহুয়াস্কা সেরেমনির পর তার এই ধারণা জন্মায় – এলভিস ছিলেন এক সত্যিকারের সত্য-সন্ধানী, যিনি বৃহস্পতির নবম চাঁদ থেকে এসেছিলেন!

আধ্যাত্মিক অভিযানের শুরু

এলভিসের আধ্যাত্মিক দিক নতুন আবিষ্কার নয়। আগেও বেশ কয়েকটি বইতে তার আত্মিক অনুসন্ধানের কথা উঠে এসেছে, যেমন The Tao of Elvis এবং The Seeker King। জানা যায়, এলভিসের ব্যক্তিগত লাইব্রেরিতে ছিল হাজারেরও বেশি বই – ধর্ম, মিস্টিসিজম, নিউ এজ দর্শন নিয়ে। শুধু পড়তেন না, প্রতিটিতে দাগ টানতেন, নোট করতেন, আর নিজের মতো করে ভাবতেন। গ্যারি টিলেরি লিখেছেন, একসময় এলভিস চাইতেন গানের জগত ছেড়ে নিজস্ব এক কমিউন তৈরি করতে, যেখানে তিনি ধ্যান, যোগের মাধ্যমে তরুণদের আধ্যাত্মিক জগতে নিয়ে যাবেন।

এলভিসের অলৌকিক ক্ষমতা!

The Occult Elvis বইতে এলভিসের আরও অদ্ভুত ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। যেমন, একদিন তিনি হাত নাড়িয়ে আকাশ থেকে বৃষ্টি থামিয়েছিলেন যাতে বন্ধুরা গ্রেসল্যান্ডে র‍্যাকেটবল খেলতে পারে! ভক্ত ওয়ান্ডা জুন হিল বলেন, এলভিস একবার তাকে জানিয়েছিলেন যে তিনি পৃথিবীর বাসিন্দা নন – বরং বৃহস্পতির নবম চাঁদ থেকে এসেছেন! এলভিসের মতে, এলিয়েনরাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। একবার তিনি দেহরক্ষী সনি ওয়েস্টকে বলেন, ‘তারা যদি আসে, ভয় পেও না। ওরা আমাদের ক্ষতি করবে না।’

এক অলৌকিক উত্তরাধিকার

কনার এলভিসকে আলিস্টার ক্রাউলির মতো ‘ডার্ক ম্যাজিশিয়ান’ হিসেবে দেখেন – যিনি ‘Do what thou wilt’ নীতিতে বিশ্বাস করতেন। তিনি বলেন, এলভিসের মাধ্যমে রক মিউজিক জন্ম নিয়েছে। এবং সেটাই তার আসল ‘ম্যাজিক’। কনার আরও যুক্তি দেন, এলভিস ছিলেন আমেরিকার ‘এগ্রিগর’ – মানে, অসংখ্য মানুষের ইচ্ছা ও আবেগের সম্মিলিত চেতনা থেকে তৈরি এক অদৃশ্য শক্তি। ছোটবেলা থেকেই এলভিসের জীবনে নানা রহস্যময় ঘটনা ঘটত। তার মৃত যমজ ভাই জেসি নাকি তাকে আধ্যাত্মিকভাবে পথ দেখাতেন। আর একসময় তিনি নিজেকে নাকি আকাশের তারা-মন্ডলে প্রোজেক্ট করতেও পারতেন!

রক অ্যান্ড রোল: এক ধরনের আধ্যাত্মিকতা

এলভিস বেড়ে উঠেছিলেন পেন্টেকস্টাল চার্চের মধ্যে, যেখানে গান, নাচ আর প্রত্যক্ষ ঈশ্বরিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটা শুধু এলভিস নয় – লিটল রিচার্ড, বিবি কিং, জনি ক্যাশ – এদের সবার সংগীতের শিকড়ও ছিল এখানেই। ‘রক সংগীত কেবল বিনোদন ছিল না,’ বলেন কনার, ‘এটা ছিল এক ধরনের শামানিক আধ্যাত্মিকতা।’

চুল কাটতে গিয়ে জীবনের মোড়

১৯৬০ সালে এক বিখ্যাত হেয়ারস্টাইলিস্ট ল্যারি গেলারের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর এলভিসের আধ্যাত্মিক যাত্রা আরও গতি পায়। গেলার তাকে পরিচয় করিয়ে দেন যোগ, ধ্যান, নিউমারোলজি, এলিয়েন দর্শনসহ নানা গোপন বিদ্যার সঙ্গে।

গেলার বলেন, ছোটবেলায় এলভিস এলিয়েনদের স্বপ্ন দেখতেন – সাদা জাম্পস্যুট পরা এক ভবিষ্যতের নিজের ছবি। (ভবিষ্যতে এলভিসের বিখ্যাত পোশাক!) এলভিস ট্যুরে থাকলেও বইয়ের স্তূপ নিয়ে যেতেন। তিনি পড়তেন কাহলিল জিবরানের The Prophet, হেলেনা ব্লাভাটস্কির গূঢ় দর্শন, মানলি পি. হলের গোপন দর্শন নিয়ে বই, আরও কত কিছু! তিনি কারাতে শিখেছিলেন, মঞ্চে তিব্বতী মন্ত্র উচ্চারণ করতেন, গলায় পরতেন মিশরীয় অ্যানখ আর ইহুদি ছাই প্রতীক – এই সবই তার আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের অংশ।

আলোর মুখোমুখি অন্ধকার

একবার, গাড়িতে সফরের সময়, এলভিস আকাশে জোসেফ স্তালিনের মুখ দেখতে পান – যা ধীরে ধীরে যিশুর মুখে রূপান্তরিত হয়। এলভিস অনুভব করেন, অন্ধকার ও আলো দুটোই তার ভেতরে আছে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, এখন আর কোনো সন্দেহ থাকবে না।’ এলভিস এরপর বুঝেছিলেন তার একটি মিশন আছে: মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিকতা ছড়িয়ে দেয়া।

একটি অসমাপ্ত যাত্রা

কিন্তু ১৯৭৭ সালে মাত্র ৪২ বছর বয়সে এলভিস মারা যান। তার হাতে ছিল একটি বই – A Scientific Search for the Face of Jesus। মৃত্যুর পরেও এলভিসকে ঘিরে রহস্য থেকেই যায়। গ্রেসল্যান্ডে এখনও ভক্তরা তার দর্শন পাওয়ার দাবি করেন। কনার মজা করে বলেন, ‘এলভিস এখন সাসকোয়াচ, যিশু আর ভার্জিন মেরির মতো – অদৃশ্য হলেও চিরবিদ্যমান!’ হয়তো, এলভিস শুধু গান নয়, নিজের কিছু জাদুও রেখে গেছেন পৃথিবীতে।

জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় , ধনী দেশগুলোর স্লথতা দৃশ্যমান

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ধনী দেশগুলোর উদাসীনতা উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর নেতৃত্বে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো সতর্ক করে দিয়েছে, ধনী দেশগুলোর এই ধীরগতির পদক্ষেপ তাদের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলছে। প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী, সকল দেশেরই ২০২৫ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর নতুন পরিকল্পনা (NDC) জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদিও এ বছরের ফেব্রুয়ারি ছিল নির্ধারিত সময়সীমা, অধিকাংশ দেশ তা মিস করেছে। জাতিসংঘ এখন সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিকল্পনাগুলো জমা দিতে বলছে এবং বলছে সময় নিয়ে বিস্তারিত নীতিমালা যুক্ত করে জমা দেওয়াই উত্তম।

তবে এখন পর্যন্ত কেবল কয়েকটি দেশ তাদের পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। যারা দিয়েছে তাদের অনেকের পরিকল্পনাই বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচির তুলনায় অপ্রতুল। এর ফলে বর্তমান ধারায় বৈশ্বিক উষ্ণতা প্রায় ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো বলছে, তাদের অস্তিত্ব সরাসরি এই জলবায়ু সংকটের ওপর নির্ভর করছে। এক চিঠিতে তারা উন্নত দেশগুলোর কাছে প্রশ্ন তুলেছে: “আমরা বারবার আমাদের বাস্তবতা আপনাদের সামনে এনেছি। এখন প্রশ্ন হলো, এই জ্ঞানের সঙ্গে আপনারা কী করবেন?”

চিঠিতে তারা জোর দিয়ে বলেছে, এই বছর কপ৩০ সম্মেলনের আগেই উন্নত দেশগুলোকে উচ্চাকাঙ্ক্ষী, ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অর্থনৈতিকভাবে বিস্তৃত NDC জমা দিতে হবে। শুধু কার্বন অফসেটের উপর নির্ভর না করে, ঘরোয়া কার্বন নির্গমন কমানোর উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তারা আরো বলেছে, যদি জমা দেওয়া পরিকল্পনাগুলো যথেষ্ট না হয়, তাহলে কপ৩০-এ সেগুলো সংশোধনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। একইসঙ্গে, জীবাশ্ম জ্বালানি ধীরে ধীরে পরিত্যাগের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও এসব NDC-তে থাকতে হবে। অন্যদিকে জলবায়ু তহবিলের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও ধনী দেশগুলো ব্যর্থ হচ্ছে। প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য বছরে ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলার জলবায়ু তহবিল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি ছিল। এখনও সেই প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, তার কোনো স্পষ্ট রূপরেখা নেই। দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর মতে, ধনী দেশগুলো সহায়তার খরচ দেখে পিছু হটতে পারে। কিন্তু তারা সতর্ক করে দিয়েছে: “দেরি বা নিষ্ক্রিয়তার খরচ আরও অনেক বেশি। আমরা ইতিমধ্যেই প্রকৃতির ধ্বংস, খাদ্য ব্যবস্থার বিপর্যয়, অর্থনৈতিক ধস এবং গণ-অভিবাসনের ঝুঁকির মুখোমুখি।” মানবতা, দূরদর্শিতা এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় সহযোগিতাই এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ।

এদিকে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বলেন, শক্তিশালী জলবায়ু নীতিমালা ছাড়া কোনো জাতীয় নিরাপত্তা সম্ভব নয়। যুক্তরাজ্য হলো অল্প কয়েকটি উন্নত দেশের একটি, যারা ইতোমধ্যে তাদের নতুন NDC জাতিসংঘে জমা দিয়েছে। সিভিল সোসাইটি গ্রুপগুলোর দাবি, ভবিষ্যতের লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফাঁকা প্রতিশ্রুতি না দিয়ে, বিস্তারিত নীতিমালা ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে NDC জমা দিতে হবে। বিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে এই বছরের জলবায়ু সম্মেলনে গৃহীত পদক্ষেপের ওপর। প্রশ্ন হলো, ধনী বিশ্ব কি নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে, নাকি পুরো মানবজাতিকে একটি অনিবার্য বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে?

ঢাকার যানবাহনের , ৪৯%-ই মোটরসাইকেল ও অযান্ত্রিক

0

বর্তমানে ঢাকায় যত যানবাহন চলছে, তার ৪৯% মোটরসাইকেল এবং রিকশা-ভ্যানের মতো অযান্ত্রিক বাহন বলে এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে। ঢাকার জন্য সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (আরএসটিপি) হালনাগাদ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে এ সমীক্ষা পরিচালিত হয়। সমীক্ষাটির তথ্য মতে, ঢাকার রাস্তায় চলাচলরত মোট যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেল প্রায় ২৭%। আর রিকশা, ভ্যান, ঠেলাগাড়ির মতো অযান্ত্রিক বাহনের পরিমাণ প্রায় ২২%। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি প্রায় ২০% এবং থ্রি-হুইলার অন্তত ১৪%।

মাইক্রোবাস, পিকআপের মতো মোটরযান আছে ৭%। ট্রাকের পরিমাণ ৬%। ঢাকায় চলাচলরত মোট যানবাহনের মাত্র ৩% বাস। মোটরসাইকেল, রিকশা, প্রাইভেট কার, থ্রি-হুইলারের মতো ছোট যানবাহন ঢাকার সড়কের বেশির ভাগ দখলে রাখছে বলে জানিয়েছেন পরিবহন বিশেষজ্ঞরা। সড়ক দখলের পাশাপাশি এসব যানবাহন ট্রাফিক ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলাও বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। ছোট গাড়ির বদলে নগরবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য বাসের মতো বড় যানবাহনের সংখ্যা বাড়ানো ঢাকার পরিবহন সমস্যার সবচেয়ে বড় সমাধান হতে পারে।

আরএসটিপি সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ঢাকায় মোট যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেলের হিস্যা ছিল ১১%। বর্তমানে এ হার ২৭%-এ উন্নীত হয়েছে। বাহনটির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে রাইডশেয়ারভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থার জনপ্রিয়তা।

রাখাইনের জন্য ‘মানবিক করিডোর’ দেবে বাংলাদেশ

0

এ বছরের প্রথমার্ধে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা করেছিল জাতিসংঘ। এ জন্য গৃহযুদ্ধে পর্যুদস্ত রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশের কাছে জাতিসংঘ ‘করিডর’ দেওয়ার অনুরোধ করেছিল। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শর্ত সাপেক্ষে মিয়ানমারের বেসামরিক লোকজনের জন্য করিডর দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। ২৭ এপ্রিল ব্রিফিং-এ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের একথা জানান।সম্প্রতি জাতিসংঘ বাংলাদেশকে জানায়, রাখাইনের পুরো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। রাখাইনের দুর্ভিক্ষ মোকাবিলা করা না গেলে এবার শুধু রোহিঙ্গা নয়, সেখানে বসবাসরত বাকি জনগোষ্ঠী সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ করিডরটিকে মানবিক ক্ষেত্রে ত্রাণ পাঠানোর জন্য চিহ্নিত করলেও করিডরটি ঝুঁকিপূর্ণ। আরাকান আর্মিকে কোণঠাসা করতে সব সরবরাহ আটকে দিয়েছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। এখন বাংলাদেশ হয়ে যে ত্রাণ যাবে, তা রাখাইনের বেসামরিক নাগরিকদের কাছে পৌঁছাবে, নাকি আরাকান আর্মি সেগুলোকে দখলে নেবে, তার নিশ্চয়তা ঢাকার কাছে নেই। তাদের মতে — এ অঞ্চল বিশ্বে মাদক, অবৈধ অস্ত্র পাচারসহ নানা আন্তসীমান্ত অপরাধের অন্যতম রুট হিসেবে পরিচিত। করিডর দিলে মাদক বা অবৈধ অস্ত্র বাংলাদেশে প্রবেশের আশঙ্কা থাকবে।

এ ছাড়া মিয়ানমারের রাখাইনে বর্তমানে কোনো স্বীকৃত প্রশাসন নেই। ফলে সেখানকার অস্বীকৃতদের সঙ্গে কোনো ধরনের দর-কষাকষির আলাদা ঝুঁকি রয়েছে। সেই সঙ্গে অন্যান্য নিরাপত্তাঝুঁকি তো রয়েছেই। মানবিক করিডর পেতে শুধু বাংলাদেশের ওপর নির্ভর না করে প্রতিবেশী অন্যান্য দেশেও সম্ভাবনা খোঁজা উচিত জাতিসংঘের। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রথম আলো জানিয়েছে, এ করিডর চালু নিয়ে বাংলাদেশের সরকারি পর্যায়ে ভিন্নমত আছে। তবে জাতিসংঘের অব্যাহত অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ও মানবিক দায়িত্ব বিবেচনায় সরকার এটি দিতে রাজি হয়েছে।

অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্ট – আমাদের মস্তিষ্কে কী ঘটে ?

একটা অ্যাবস্ট্রাক্ট পেইন্টিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। কি দেখছেন? ঝাপসা রঙ, অদ্ভুত সব আকার? নাকি কোন পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছে? কেউ হয়তো একটা আধ্যাত্মিক অনুভূতি পাচ্ছে, আবার কেউ হয়তো পুরোটাকেই বোঝার চেষ্টা করে ক্লান্ত! শিল্পী আর দার্শনিকরা বহুদিন ধরে ভাবছেন— আর্টের মানে আসলে কী? এবার বিজ্ঞানীরাও সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নেমেছেন। সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে PNAS জার্নালে, যেখানে দেখা হয়েছে মানুষের মস্তিষ্কে অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্ট দেখার সময় কী ঘটে। গবেষকরা বলছেন, এই স্টাডি প্রমাণ করে “Beholder’s Share” তত্ত্বের কথা— মানে, আর্ট সম্পূর্ণ হয় দর্শকের মনের ভেতরে। তোমার নিজের স্মৃতি, আবেগ আর ভাবনা সেই ছবিকে একেক রকম মানে দেয়।
মস্তিষ্কে কী হয় যখন আর্ট দেখি?
শিল্পকর্মের প্রতি আমাদের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া বিজ্ঞানীদের জন্য একটি জানালার মতো কাজ করে, যার মাধ্যমে বোঝা যায়, কীভাবে আমাদের মস্তিষ্ক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা গঠন করে। তো, গবেষকরা কীভাবে পরীক্ষা করলেন? এই গবেষণায় ৫৯ জন মানুষের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পরিমাপ করা হয়, ফাংশনাল ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (fMRI) পদ্ধতি ব্যবহার করে। অংশগ্রহণকারীদের ব্রেন স্ক্যানারের ভেতরে রাখা হয়, যেখানে তারা বিমূর্ত এবং বাস্তবধর্মী — উভয় ধরনের শিল্পকর্ম দেখেন।
মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে বললে:
আমরা যখন কোনো শিল্পকর্ম দেখি, তখন চোখ থেকে ভিজ্যুয়াল তথ্য প্রথমে মস্তিষ্কের ভিজ্যুয়াল কর্টেক্সে যায়। সেখান থেকে তথ্যটি প্রাথমিকভাবে বিশ্লেষিত হয়। পরে উচ্চতর মস্তিষ্ক অঞ্চলে এই তথ্যের গভীরতর বিশ্লেষণ হয়, যেখানে স্মৃতি, কল্পনা এবং আত্মপরিচয়ের মতো বিষয়গুলি কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভিজ্যুয়াল কর্টেক্সে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য ছিল না। অর্থাৎ, তারা একই রকম দেখছিলেন।তবে মস্তিষ্কের উচ্চতর অঞ্চলে, বিশেষ করে ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্কে (যা কল্পনা, স্মৃতি রিকল এবং আত্মজ্ঞানমূলক চিন্তার সঙ্গে যুক্ত), উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে।
এর মানে হলো, শিল্প দেখার অভিজ্ঞতার বৈচিত্র্য আমাদের প্রাথমিক সংবেদনশীল প্রক্রিয়ার মধ্যে নয়, বরং উচ্চতর মস্তিষ্কীয় প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। গবেষকরা বলেন, তাদের ফলাফল নতুন প্রশ্ন তৈরি করে:
বিমূর্ত শিল্প দেখার সময় ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার পার্থক্য কি কল্পনার ক্ষমতার ভিন্নতার জন্য হয়? নাকি এটি আবেগজনিত প্রতিক্রিয়া বা নান্দনিক রুচির তারতম্যের কারণে হয়?

কেন আমরা সবাই আলাদা করে আর্ট দেখি?
গবেষকরা বলছেন, হয়তো কারো কল্পনার ক্ষমতা বেশি, তাই তারা আরো গভীর মানে খুঁজে পায়। আবার কেউ হয়তো অনুভুতি দিয়ে বেশি বিচার করে। কারো হয়তো শিল্পে মজা পাওয়ার প্রবণতা বেশি। এই প্রশ্নগুলো এখন বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণার খোরাক হয়েছে।
আর্ট দেখলে মস্তিষ্কের উপকার হয়?
হ্যাঁ, হয়! শিল্পকর্ম দেখা মস্তিষ্ক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ২০০৩ সালে এক গবেষণায় দেখা যায়, লন্ডনের কর্পোরেট কর্মীরা যখন লাঞ্চ ব্রেকে আর্ট গ্যালারি পরিদর্শন করেন, তখন তাদের লালা (saliva) পরীক্ষায় কর্টিসল নামক স্ট্রেস-হরমোনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এর মানে, তাদের মানসিক চাপ হ্রাস পায়। এই কারণেই বিমূর্ত শিল্প থেরাপিতে ব্যবহৃত হয় — যেমন PTSD এবং বিষণ্ণতার চিকিৎসায়। এটি আবেগ প্রক্রিয়াকরণ এবং চাপ কমাতে সহায়তা করে। শিল্পকর্ম দেখা শেখার জন্যও অত্যন্ত কার্যকর। প্রাচীন মানবসমাজ গুহাচিত্রের মাধ্যমে শিক্ষা ছড়িয়ে দিত, যা আজও আমাদের জন্য প্রমাণ করে শিল্পের শিক্ষামূলক শক্তি কতটা গভীর। যখন আপনি কোনো শিল্পকর্ম পর্যবেক্ষণ করেন, তখন তার অন্তর্নিহিত গল্প বা ধারণা আপনার মনে সহজেই থেকে যায়। গবেষণা বলছে, নান্দনিক অভিজ্ঞতা আমাদের কৌতূহল এবং আনন্দের অনুভূতি বাড়িয়ে শেখার গতি ত্বরান্বিত করে। একে বলা হয় “stopping for knowledge” — অর্থাৎ কোনো সুন্দর জিনিস দেখে থেমে গিয়ে তার বিষয়ে জানতে চাওয়ার প্রবণতা।

আর্ট আর বিজ্ঞান: দুনিয়া বোঝার দুই উপায়
একটু ভেবে দেখো— আসলে আর্ট আর বিজ্ঞান দুটোই চেষ্টা করে আমাদের চারপাশের দুনিয়াকে বোঝার। তবে তাদের পদ্ধতি আর প্রকাশভঙ্গি একেবারে আলাদা। আর্ট অনুভুতি জাগায়, স্মৃতি তৈরি করে, আমাদের ভাবায়। অন্যদিকে, বিজ্ঞান আমাদের যুক্তি আর পরীক্ষার মাধ্যমে বাস্তবতার ব্যাখ্যা দেয়।
দুয়েকটা প্রশ্ন দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ— যেমন, কেন আমাদের প্রত্যেকের অনুভুতি আর চিন্তাধারা আলাদা? কেন একটা ছবি কাউকে আনন্দ দেয়, আর অন্য কাউকে বিভ্রান্ত করে?
মস্তিষ্কের রহস্য উন্মোচন
কবি আর শিল্পীরা হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের মনে কি চলছে সেটা বোঝার চেষ্টা করেছেন। এখন প্রযুক্তি অনেক এগিয়ে যাওয়ায় বিজ্ঞানীরা সত্যিকারের মস্তিষ্কের ভেতর ঢুঁ মেরে দেখতে পারছেন।
গবেষকরা যেমন খুঁজছেন: কেন কেউ বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হন, আর কেউ হন না? কিংবা গর্ভাবস্থায় নারীর মস্তিষ্ক কীভাবে বদলে যায়? তবে এখনো মস্তিষ্ক কীভাবে চেতনা সৃষ্টি করে বা কীভাবে মেশিনে মানব চিন্তাভাবনা অনুকরণ করা সম্ভব — এ বিষয়ে আমরা অনেক দূরে আছি। সব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে, মস্তিষ্ক কীভাবে সচেতনতা তৈরি করে— সেই রহস্য এখনো অনেকটাই অজানা। আমরা এখনো জানি না কিভাবে মানুষের মতো চিন্তা করতে পারে এমন যন্ত্র তৈরি করা যায়।
শেষ কথা
পরের বার আপনি যখন কোনো অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্ট দেখবেন, মনে রাখবেন — আপনি শুধু নিজের চোখ দিয়ে দেখছেন না, মন দিয়ে সেই ছবিটা নিজের মতো করে গড়ে তুলছেন। আর্ট আমাদের শেখায়, অনুভূতি জাগায়, প্রশ্ন তোলে— আর এভাবেই আমরা দুনিয়াকে একটু একটু করে বুঝতে শিখি।