Home Blog Page 117

ট্রাম্পের আমেরিকাকে উপেক্ষা করে এগিয়ে যাচ্ছে চীন

২০২৪ সালে চীন থেকে রপ্তানিকৃত ৩৪ বিলিয়ন ডলারের খেলনার মধ্যে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার গিয়েছিল আমেরিকায়। কিন্তু এখন এসব পণ্যের ওপর ২৪৫% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনকে দোষারোপ করছেন বাজার দখলের জন্য। কিন্তু ২০১৮ সালের ট্রাম্পের প্রথম বাণিজ্যযুদ্ধের পর অনেক কিছু বদলে গেছে। চীন এখন বলছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের সামনে মাথা নত করবে না। সামাজিক মাধ্যমে দেশজ উদ্ভাবন ও কূটনীতির প্রশংসা করে ট্রাম্পের অনিশ্চয়তার সমালোচনা চলছে। চীন যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ‘চাপ প্রয়োগকারী’ হিসেবে তুলে ধরতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

কারখানা ও বাজারগুলোতেও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্রাম্পের আমেরিকার বাইরেও তাদের বিকল্প বাজার রয়েছে। খেলনা ব্যবসায়ী হু তিয়ানচিয়াং বলছেন, এখন তাঁর ২০-৩০% বিক্রি আমেরিকায়, বাকীটা দক্ষিণ আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে। তিনি বলেন, “আমরা ঐ ২০-৩০% নিয়ে চিন্তিত নই। আমাদের এখন টাকা আছে, আমরা ধনী।” খেলনা ব্যবসায়ী লিন শিউপেং মনে করেন, “আমেরিকার এখনো চীনের প্রয়োজন — তাদের অধিকাংশ খেলনা এখান থেকেই আসে।” এদিকে আমেরিকার খেলনা ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের জনাথন ক্যাথি বলেন, “এই শুল্ক ছোট ব্যবসাগুলোকে ধ্বংস করছে। আমার পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার মুখে।”

চীনের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের উত্তেজনা আবারও তুঙ্গে। চীন-পানামা খালের বিষয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ, গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ও বিরল খনিজ নিয়ে চীনের একচেটিয়ার বিরোধিতা — এসবই এই উত্তেজনার অংশ। চীন বলছে, এই বাণিজ্য যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তবে অর্থনীতির অন্যান্য সমস্যাও মাথাচাড়া দিয়েছে — কম খরচ, আবাসন সংকট ও সঞ্চয় হ্রাস। গোল্ডম্যান স্যাচস জানিয়েছে, চীনের প্রবৃদ্ধি ৪.৫% হবে, যা সরকার নির্ধারিত ৫%-এর চেয়ে কম। রপ্তানি পড়ে যাচ্ছে, ফ্যাক্টরিতে মালামাল জমে আছে। আমেরিকা এখনো চীনের ওপর নির্ভরশীল — ফোন, কম্পিউটার, আসবাবপত্র, পোশাক ও খেলনা সবই আসে চীন থেকে। শুধুমাত্র ইলেকট্রনিক্স ও যন্ত্রাংশ আমদানি ৫০% এর বেশি।

ওয়ালমার্ট ও টার্গেট ট্রাম্পকে সতর্ক করেছে — পণ্যঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি আসছে। ক্রিসমাসের জন্য প্রায় ৯০% সজ্জা আসে চীনের ইইউ থেকে, এখন সেগুলোর বাজার দক্ষিণ আমেরিকা। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক অর্ধেকে নামিয়ে আনা হতে পারে। তিনি বলেন, তার প্রশাসন ‘চীনের সঙ্গে একটি ন্যায়সংগত চুক্তি’ করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই মন্তব্য উড়িয়ে দিয়ে একে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে। এ অবস্থায় মনে হচ্ছে, ট্রাম্প এখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ফোনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

ভারতে পাঠ্যবই থেকে মোগল-সুলতানি শাসন বাদ – ইতিহাসের পুনর্লিখন ?

ভারতে সপ্তম শ্রেণির নতুন সমাজবিজ্ঞান বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে দিল্লির মোগল এবং সুলতানি শাসনামলের কথা। এর বদলে নতুন সংযোজন করা হয়েছে ভারতীয় শাসকদের কথা। নতুন শিক্ষানীতি অনুসরণ করে চলতি বছরে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সমাজবিজ্ঞানের নতুন বই প্রকাশ করেছে ভারতের ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং–এনসিইআরটি। পুরোনো বইয়ে মোগল আমল এবং সুলতানি সাম্রাজ্য নিয়ে আলাদা দুটি পরিচ্ছদ ছিল। নতুন বইয়ে ওই পরিচ্ছদ দুটি আর নেই। মোগল আমল ও সুলতানি সাম্রাজ্যর ওই পরিচ্ছদে মুহাম্মদ বিন তুঘলক, ইখতিয়ার উদ্দিন বিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি, মামলুক ও ইব্রাহিম লোদির কথাও পড়ানো হতো। এগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে।

এ দুটির পরিবর্তে যুক্ত হয়েছে প্রাচীন ভারতীয় সাম্রাজ্যের ওপর লেখা একটি নতুন পরিচ্ছদ। ভারতীয় শাসকদের মধ্য মগধ, মৌর্য ও শুঙ্গ সাম্রাজ্যসহ কয়েকজন শাসকের কথা নতুন বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৫ সালে উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজে হওয়া কুম্ভমেলার প্রসঙ্গও আছে নতুন বইয়ে। এগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ এবং অটল টানেলের কথা। নতুন বইয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছে এনসিইআরটি। নতুন বইগুলোতে ভারতীয় সভ্যতা-সংস্কৃতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্যে এর লক্ষ্য—ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ‘ভারতীয় মূল্যবোধ’, ‘জাতীয় গর্ব’, এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর ভাবনা জাগিয়ে তোলা।

এনসিইআরটির পাঠ্যপুস্তক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রীয় বোর্ডের অধীন স্কুলগুলোতে পড়ানো হয়। এনসিইআরটির নির্দেশিকা মেনে গত কয়েক বছরে পরিবর্তন ঘটেছে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রম। কোনো শ্রেণিতে মোগল যুগ বাদ পড়েছে। কোথাও ডারউইনের বিবর্তনবাদ ও কোথাও নারী আন্দোলনের ইতিহাসও বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলোকে অনেকে দেখছেন ‘ইতিহাসের পুনর্লিখন’ হিসেবে।

সমালোচকদের মতে, ইতিহাসের কিছু নির্দিষ্ট অধ্যায় বাদ দিয়ে বেছে বেছে কিছু অংশকে সামনে আনা হচ্ছে—যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পাঠ্যবইয়ে বর্তমান সরকারের প্রকল্প ও কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা শিক্ষা নয়, প্রচারণা। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, “পাঠ্যবইকে আরও আধুনিক, সংস্কৃতিমূলক এবং জাতীয়তাবাদী চেতনায় সমৃদ্ধ করা হচ্ছে।”

জীবন ও মৃত্যুর মাঝে তৃতীয় অবস্থার আবিষ্কার

সাম্প্রতিক একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যবর্তী এক অজানা অবস্থার সন্ধান পাওয়া গেছে, এটি আমাদের মৃত্যু এবং জীবনের প্রচলিত ধারণাগুলোর এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে। গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন মৃত জীবের কোষগুলি শুধুমাত্র কাজ করতে থাকে না, বরং নতুন ক্ষমতা অর্জন করতে থাকে যা তাদের জীবিত অবস্থায় দেখা যায়নি। এই অস্বাভাবিক ঘটনা প্রাণীর কোষের ক্ষমতা এবং তাদের অন্তর্নিহিত জীবনকে নতুনভাবে ধারণ করতে আমাদের চেতনা ও জীববিজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

এই অদ্ভুত আবিষ্কারটি প্রথম আসল যখন বিজ্ঞানীরা মৃত ব্যাঙের ভ্রূণের ত্বক কোষ থেকে “জেনোবট” নামে একটি নতুন কাঠামো তৈরি করেন। সেলফ-অর্গানাইজেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই কোষগুলো নতুন রূপে পরিণত হয়ে গিয়েছিল, যা তাদের মূল জীববৈজ্ঞানিক কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে নতুন আচরণ প্রদর্শন করছিল। সাধারণত এই ধরনের কোষ কোনো কার্যক্ষমতা প্রদর্শন করে না মৃত্যুর পর, কিন্তু এই গবেষণায় মৃত কোষগুলি সিলিয়া ব্যবহার করে চলাফেরা করার মতো ক্ষমতা অর্জন করেছে, যা মূলত জীবিত ব্যাঙের জন্য শ্লেষ্মা প্রবাহের কাজে ব্যবহৃত হয়।

জেনোবট নামের নতুন কাঠামোটি তাদের আগের জীববৈজ্ঞানিক কাজগুলোর বাইরে গিয়ে একটি নতুন ধরনের আত্ম-সংগঠন ও আচরণ প্রদর্শন করে। এটি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তোলে, কোষ কি শুধুমাত্র জীবিত অবস্থায় কাজ করে, নাকি মৃত্যুর পরেও তাদের মধ্যে কোন চেতনা বা অন্তর্নিহিত কার্যকলাপ থাকতে পারে?

এই আবিষ্কারের প্রভাব শুধু কোষীয় জীববিজ্ঞানেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি আমাদের চেতনার ধারণাকেও নতুনভাবে পরীক্ষা করতে উদ্বুদ্ধ করছে। এখন পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক বিশ্বের প্রচলিত ধারণা ছিল যে কোষের কার্যকলাপ শুধুমাত্র তাদের জীবনকালেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং মৃত্যুর পর তারা একে একে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। তবে জেনোবটের আচরণ এই ধারণাটিকে তীব্রভাবে চ্যালেঞ্জ করছে। এটি প্রমাণ করতে পারে যে কোষে এমন কিছু অভ্যন্তরীণ শক্তি বা চেতনা থাকতে পারে, যা মৃত অবস্থাতেও সক্রিয় থাকে।

এটি আমাদের জীবনের ধারণাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। যদি কোষগুলো মৃত্যুর পরেও কোন রকম কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে, তবে মৃত্যু আসলে কি সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া, না কি জীবনের কোন নতুন রূপ? যদিও এখনও বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি, তবে এই গবেষণা আমাদের মৃত্যুর প্রকৃতি সম্পর্কে নতুন ধারনা তৈরি করছে।

জেনোবটগুলি শুধুমাত্র সেলফ-অর্গানাইজেশন ঘটানোর মাধ্যমে জীবনের অস্তিত্বের নতুন দিক উন্মোচন করেছে। এগুলি বিশেষত প্রাকৃতিক পরিবেশে চলাফেরা করার মতো নতুন ক্ষমতা অর্জন করেছে, যা সাধারণত কোনো মৃত কোষ থেকে আশা করা হয় না। জেনোবটের মধ্যে এমন কিছু কার্যকলাপ দেখা গিয়েছে, যেগুলো সচরাচর জীবিত প্রাণীর মধ্যে দেখা যায়, যেমনঃ সিলিয়ার মাধ্যমে পরিবেশে চলাফেরা এবং বাইরের জিনিসকে নিজেদের দিকে টেনে নেওয়া।

এই বৈশিষ্ট্যগুলি জীববিজ্ঞানীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। তারা এখন এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে চান যে, কোষের মধ্যে জীবন্ত কার্যকলাপ কি শুধুমাত্র জীবনকালেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি মৃত্যুর পরেও কোষের মধ্যে কিছু অবিচ্ছেদ্য শক্তি কাজ করে। এর মাধ্যমে কোষীয় জীববিজ্ঞান, regenerative medicine এবং বায়োটেকনোলজি ক্ষেত্রে নতুন গবেষণা তৈরি হতে পারে।

এই নতুন আবিষ্কারের মাধ্যমে আমরা এক নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে জীবন এবং মৃত্যুর সীমানা পর্যালোচনা করতে পারি। বর্তমানে আমরা মৃত্যুকে একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা হিসেবে বিবেচনা করি, যেটা জীবনের শেষ। তবে যদি কোষগুলি মৃত্যুর পরেও কিছুটা কার্যক্ষম থাকে এবং নতুন ক্ষমতা অর্জন করে, তবে এটা আমাদের সীমানা নির্ধারণের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। কোষের কার্যকলাপ শুধুমাত্র তার জীবন্ত অবস্থার উপর নির্ভরশীল কি না, নাকি মৃত্যুর পরেও কোন অতিরিক্ত শক্তি বা চেতনা কাজ করতে পারে, তা বিজ্ঞানী মহলকে নতুনভাবে ভাবাতে বাধ্য করছে।

এছাড়া এই আবিষ্কারটি আমাদের আত্মার অস্তিত্ব এবং জীবনের সীমা নিয়ে আরও গভীর চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করছে। হয়তো জীবনের পরবর্তী পর্যায় বা মৃত্যুর পরবর্তী অবস্থার কিছু অজানা দিক রয়েছে, যা এখনো আমরা পুরোপুরি বুঝতে পারিনি।

গবেষণাটির ফলাফল ভবিষ্যতে চিকিৎসাশাস্ত্র এবং কোষীয় গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কোষগুলির আত্ম-সংগঠন ও কার্যকলাপের এই নতুন রূপ regenerative medicine এবং ক্লোনিং গবেষণায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যেহেতু জেনোবটগুলির মধ্যে জীববৈজ্ঞানিক কাঠামো এবং ক্ষমতা প্রদর্শন ঘটেছে, এটি আমাদের কোষের চিকিৎসা পুনর্গঠন এবং নতুন জীববৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য পথ উন্মোচন করতে পারে।

যদিও এই আবিষ্কারটি জীবনের ও মৃত্যুর পার্থক্য নিয়ে আমাদের ধারণা চ্যালেঞ্জ করছে, তবে এটি এক নতুন বৈজ্ঞানিক যুগের সূচনা। কোষের কার্যকলাপের এই অজানা দিকগুলি হয়তো আমাদের আরও গভীরভাবে জীবন, মৃত্যু এবং চেতনা সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করবে।

জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে এই তৃতীয় অবস্থার আবিষ্কার এক বিপ্লবী পদক্ষেপ হতে পারে, যা শুধু কোষীয় জীববিজ্ঞান নয়, আমাদের মৃত্যুর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গীকেও নতুনভাবে চিন্তা করতে উদ্বুদ্ধ করছে। এই আবিষ্কারটি কোষের কার্যকলাপের এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে এবং আমাদের জীবনের সীমারেখা সম্পর্কিত ধারণাগুলোকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে। এটা প্রমাণ করে যে কোষে এমন কিছু শক্তি থাকতে পারে, যা জীবনের সীমা অতিক্রম করে চলে।

পরিবেশে এখনো আছে ভিয়েতনাম যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী দাগ – গাজা ও ইউক্রেন নিয়ে উদ্বেগ

১৯৭৫ সালের ৩০ এপ্রিল ভিয়েতনাম যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেও, এর পরিবেশগত প্রভাব আজও রয়ে গেছে। পঞ্চাশ বছর পরেও এই যুদ্ধের ভয়াবহ নিদর্শন ভিয়েতনামের ইকোসিস্টেমে লেগে আছে। একসময় মাছ ও পাখির সমৃদ্ধ আবাসস্থল উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন, আজ ধ্বংসস্তূপে পরিণত। শত শত প্রজাতির বাসস্থান বনভূমি এখন শুকনো খণ্ডে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিষাক্ত ঘাস বেড়ে উঠেছে। ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে “ইকোসাইড” (পরিবেশ হত্যা) শব্দটি প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর এজেন্ট অরেঞ্জের মতো হারবিসাইড এবং নাপাম জাতীয় দাহ্য অস্ত্রের ব্যবহারকে বর্ণনা করার জন্য। এসব অস্ত্র জঙ্গল ও জলাভূমিতে আশ্রয় নেওয়া গেরিলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছিল।

১৯৬৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামে স্থলসেনা পাঠায় দক্ষিণ ভিয়েতনামকে বিপ্লবী বাহিনী এবং উত্তর ভিয়েতনামি সৈন্যদের বিরুদ্ধে সমর্থন করার জন্য। একধরনের ছায়াযুদ্ধের মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী পরিবেশ ধ্বংসের প্রযুক্তি ব্যবহার করতে শুরু করে। অপারেশন র‍্যাঞ্চ হ্যান্ড ছিল এক বিস্তৃত অভিযান, যেখানে দক্ষিণ ভিয়েতনামের প্রায় ৬.৪ মিলিয়ন একর (২.৬ মিলিয়ন হেক্টর) জমিতে কমপক্ষে ১৯ মিলিয়ন গ্যালন (৭৫ মিলিয়ন লিটার) হারবিসাইড স্প্রে করা হয়েছিল। এই রাসায়নিকগুলি শুধু বনেই নয়, নদী, ধানক্ষেত এবং গ্রামেও পড়েছিল, যা বেসামরিক নাগরিক এবং সৈন্যদের স্বাস্থ্যকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছিল। স্প্রের অর্ধেকেরও বেশি ছিল ডাইঅক্সিন-দূষিত এজেন্ট অরেঞ্জ।

এই হারবিসাইডগুলি বনের পাতার আবরণ নষ্ট করতে, পরিবহন রুটের দৃশ্যমানতা বাড়াতে এবং গেরিলা বাহিনীকে সরবরাহ করার সন্দেহে ফসল ধ্বংস করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। ১৯৬৯ সালে গবেষণায় দেখা যায় এজেন্ট অরেঞ্জের একটি রাসায়নিক ইঁদুরে জন্মগত ত্রুটি এবং মৃতজন্মের কারণ হতে পারে, কারণ এতে TCDD, একটি বিশেষ ক্ষতিকারক ডাইঅক্সিন ছিল। এর ফলে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং ১৯৭০ সালের এপ্রিলে সামরিক বাহিনী দ্বারা এজেন্ট অরেঞ্জের ব্যবহার স্থগিত করা হয়। শেষ মিশন ১৯৭১ সালের প্রথম দিকে সম্পন্ন হয়।

শুধু হারবিসাইডই নয়, জ্বলন্ত অস্ত্র এবং বন পরিষ্কার করার অন্যান্য কৌশলও ভিয়েতনামের সমৃদ্ধ ইকোসিস্টেমকে ধ্বংস করেছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বন সেবা বিমান থেকে জ্বালানি তেলের ব্যারেল ফেলে জঙ্গলের বড় আকারের দহন পরীক্ষা করেছিল। নাপাম বোমা ব্যবহারে যুদ্ধের সময় ঘন পেট্রোলিয়ামের ৪০০,০০০ টনেরও বেশি ব্যবহার করা হয়েছিল। “রোম প্লাউ” নামক বিশাল বুলডোজার একদিনে ১,০০০ একর বন পরিষ্কার করতে পারত। “ডেইজি কাটার” নামক বোমা ৩,০০০ ফুট (৯০০ মিটার) ব্যাসার্ধের মধ্যে সবকিছু মেরে ফেলত, এমনকি মাটির কেঁচোও। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র “প্রজেক্ট পোপাই” নামক একটি গোপন প্রোগ্রামে আবহাওয়া পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিল, যেখানে মেঘে সিলভার আয়োডাইড ছড়িয়ে মৌসুমি বর্ষা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করা হয়।

১৯৭৫ সালে সাইগনের পতনের পরে যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামের উপর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, এ পরিস্থিতি দেশটিকে আরও সঙ্কটে ফেলে দেয়। সীমিত বাজেটে ভিয়েতনামি বিজ্ঞানীরা ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের জন্য ছোট আকারের গবেষণা চালান। গবেষণায় দেখা যায় যে মধ্য ভিয়েতনামের আ লুয়াই উপত্যকায় হারবিসাইডের প্রভাবে পড়া বনের ৮০% ১৯৮০-এর দশকের শুরুতেও পুনরুদ্ধার হয়নি। সেই এলাকায় মাত্র ২৪টি পাখি এবং পাঁচটি স্তন্যপায়ী প্রজাতি পাওয়া গিয়েছিল। পরিবেশ পুনরুদ্ধারের জন্য বেশ কিছু প্রকল্প চালু করা হয়, কিন্তু অপর্যাপ্ত বাজেটের কারণে এগুলি প্রায়ই বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। ১৯৭৮ সালে বনরক্ষীরা ক্যান গিও বনে সাইগন নদীর মুখে ম্যানগ্রোভ হাতে পুনরায় রোপণ করা শুরু করেন ।

১৯৮০-এর দশকের শেষের দিকে এবং ১৯৯০-এর দশকে ব্যাপক গাছ রোপণ প্রোগ্রাম শুরু হয়, কিন্তু সেগুলি প্রধানত একাসিয়ার মতো বিদেশী গাছ রোপণের উপর ফোকাস করেছিল, যা প্রাকৃতিক বনের মূল বৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র এজেন্ট অরেঞ্জ পরিষ্কারের দায়িত্ব অস্বীকার করে আসছিল। ২০০৬ সালে অবশেষে দুই দেশের মধ্যে প্রথম সংস্কার চুক্তি হয়, যখন কংগ্রেস দা নাং বিমানবন্দরের সংস্কারের জন্য ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করে। ২০১৮ সালে সম্পন্ন এই প্রকল্পে ১৫০,০০০ ঘন মিটার ডাইঅক্সিন-দূষিত মাটি পরিষ্কার করা হয়, যার চূড়ান্ত খরচ ১১৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যার বেশিরভাগই USAID দ্বারা পরিশোধ করা হয়।

এখনও বিয়েন হোয়া এয়ারবেসের মতো কিছু হট স্পট রয়েছে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারা মাছ, মুরগি এবং হাঁসের মাধ্যমে উচ্চ মাত্রার ডাইঅক্সিন গ্রহণ করে। ১৯৭৭ সালে যুদ্ধের সময় আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী জেনেভা কনভেনশন সংশোধন করে প্রাকৃতিক পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ১৯৮০ সালে জ্বলন্ত অস্ত্র সীমিত করার পরও, বিভিন্ন দেশে যুদ্ধের সময় পরিবেশগত ক্ষতি রোধ করা যায়নি। বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক প্রচারণা চলছে যাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ইকোসাইডকে একটি অভিযোগযোগ্য অপরাধ হিসাবে যোগ করা যায়। ভিয়েতনাম প্রথম দেশ যারা তাদের দণ্ডবিধিতে ইকোসাইডকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনেরও এ ধরনের আইন আছে, কিন্তু এগুলি চলমান সংঘাতের সময় পরিবেশ রক্ষা করতে পারেনি।

ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে আমরা যে শিক্ষা নিতে পারি তা হল যুদ্ধের সময় এবং পরে পরিবেশগত পরিণতি মোকাবেলা করতে ব্যর্থতা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে। আজকের ইউক্রেন, গাজা ও সিরিয়ার মতো সংঘাতগুলিতেও একই ধরনের পরিবেশগত ক্ষতি হচ্ছে, যা পরিবেশ রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনের দুর্বলতা প্রমাণ করে। শুধু আইন নয়, এগুলি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক ইচ্ছাও দরকার, যাতে আমরা অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের যুদ্ধগুলিতে পরিবেশ রক্ষা করতে পারি।

‘প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমিয়ে রাষ্ট্রে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি বিএনপির কাম্য নয়’ : সালাহউদ্দিন আহমেদ , বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য

“… সংবিধান ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ দিয়ে শুরু। পঞ্চম সংশোধনীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবিধানের প্রস্তাবনা ও মূলনীতিতে ‘আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস’ যুক্ত করলেও ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমতা নিশ্চিত করা হয়। সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ৪১ অনুচ্ছেদে ধর্ম পালন ও প্রচারের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এত সুরক্ষা সংবিধানে এ কারণেই রাখা হয়েছে, যাতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমতা থাকে। এ কারণে সংবিধানের মূলনীতিতে ‘আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনর্বহাল করলেও ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে না। বৈষম্য হবে না। বরং বৃহত্তম ধর্মবিশ্বাসী জনগোষ্ঠীর আবেগ-অনুভূতিকে সম্মান দেওয়া এবং ধারণ করা হবে।

… কত লাখ, কত হাজার মানুষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যায়? তা করতে গেলে তো রাষ্ট্রে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হতে পারে। ভালো হচ্ছে, রিকনসিলিয়েশনের মাধ্যমে সমাধানের দিকে যাওয়া। বিএনপি সেদিকে গেছে, যাতে রাষ্ট্রে শান্তি, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়।…বিএনপি যদি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায়, তখন সবার সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে ঠিক করা হবে, রিকনসিলিয়েশন কমিশন কীভাবে হবে; বিধিবিধান কী হবে। … উচ্চকক্ষে আনুপাতিক পদ্ধতি রাষ্ট্র পরিচালনায় অসুবিধার সৃষ্টি করবে।…তখন কিন্তু প্রশ্ন আসবে, আনুপাতিক পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ মানলে নিম্নকক্ষের ক্ষেত্রে কেন মানেন না? তাই বিএনপি আনুপাতিক চায় না।

… বিএনপি চায়, বাংলাদেশে উচ্চকক্ষ কার্যকর হোক। আনুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের নেই। আবার আইন প্রণয়নেও সমস্যা হবে। বিএনপি বাস্তববাদী দল। আনুপাতিক নির্বাচনে কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। সরকার গঠনে অন্যদের দ্বারস্থ হতে হবে। কোয়ালিশন করতে গেলে অনেক দাবি-দাওয়া মানতে হয়। অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।

… [জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠনের মাধ্যমে] প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমিয়ে রাষ্ট্রে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি বিএনপির কাম্য নয়। এর মাধ্যমে কীভাবে রাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গকে শক্তিশালী করা যায়, বিএনপি সে প্রস্তাব করছে। যদি বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসে, জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে, গণমাধ্যম স্বাধীন হয়, প্রশাসন দলীয়করণমুক্ত হয়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্ত হয়, তখন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমিয়ে ভারসাম্য আনতে হবে না। তখন আইনসভা, বিচার বিভাগ নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। এতে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে। … তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। ক্ষমতার পালাবদল হবে। প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের আজ্ঞাবহ হবে না।

… তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে নিজেদের পক্ষে নিতে ক্ষমতাসীনরা, এমনকি বিএনপিও কিছু কিছু ভুল পদক্ষেপ নিয়েছিল। এখন তো পরিস্থিতি ভিন্ন। ঐকমত্যের ভিত্তিতে এমন একটি পদ্ধতি দাঁড় করানো হবে, যাতে কেউ প্রভাবিত করতে না পারে। … ঐকমত্য কমিশন…যেসব প্রস্তাব করেছে, তাতে মনে হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাই থাকবে না। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, তিন বাহিনীর প্রধানসহ সব নিয়োগ যদি প্রধানমন্ত্রীর হাতের বাইরে থাকে, তাহলে তিনি সরকার চালাবেন কীভাবে!

আবার বলা হচ্ছে, সংসদহীন অবস্থায়ও এনসিসি থাকবে। তখন এনসিসির পাঁচ সদস্যের মধ্যে রাষ্ট্রপতি ছাড়া বাকিরা হবেন অনির্বাচিত। এতে রাষ্ট্রে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকে। রাজনৈতিক দল এবং জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি থাকে। সেই জায়গা থেকে বলেছি, অনির্বাচিত বডির কাছে জবাবদিহিহীন ক্ষমতা দেওয়া যায় না। চিন্তা করতে হবে, এর চেয়ে ভালো বিকল্প কী হতে পারে। নির্বাহী বিভাগের কাছ থেকে যাতে সব ক্ষমতা চলে না যায়, তা দেখতে হবে। … বাংলাদেশে বিচার বিভাগকে…শক্তিশালী করতে চায় বিএনপি, যাতে তা গণতন্ত্রের রক্ষক হিসেবে কাজ করে। সরকার যাতে আইনের বাইরে কিছু করতে না পারে।

… আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার অধিকার আছে কিনা– তা মানুষ ঠিক করবে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার করতে সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ যে সুযোগ দিয়েছে, তা কাজে লাগাতে আইন সংশোধন করতে হবে। কিন্তু সরকার আইন সংশোধন থেকে পিছিয়ে এসেছে। বিএনপি আবারও দাবি করছে, আইন সংশোধন করা হোক। আদালত আওয়ামী লীগের ভাগ্য নির্ধারণ করুক। গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপি নির্বাহী আদেশে কাউকে নিষিদ্ধ করা ঠিক মনে করে না। “

ড. ইউনূসের আইডিয়া , বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ করা : প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূসের মূল আইডিয়াটা হচ্ছে বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ করা — এমন মন্তব্য করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ইকোনমিক উন্নতি নতুন উচ্চতায় নিতে হলে এ দেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এটি হবে চট্টগ্রাম বন্দরকে সামনে রেখে।’ শুক্রবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন — ‘শুধু বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য নয়, এটা পুরো রিজিওনের ৩০-৪০ কোটি লোকের জন্য। যে পণ্য এখানে তৈরি হবে, যে পণ্য মানুষজন এসে বানাবেন, সেই পণ্য শুধু বাংলাদেশ ও আশপাশের দেশে বিক্রি করবেন না, তারা তা বিদেশেও রপ্তানি করবেন। এ রপ্তানির জন্য সক্ষম বন্দর দরকার।’

তিনি আরো বলেন, ‘চট্টগ্রামের পোর্ট সিস্টেমকে সক্ষম করতে হবে। কারণ এটা দিয়ে প্রচুর পরিমাণ পণ্য রপ্তানি করতে হবে।’ প্রসঙ্গক্রমে তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘ধরেন একজন আমেরিকান রপ্তানিকারক বাংলাদেশে পণ্য বানিয়ে নিজের দেশে নিয়ে যাবে। সে তো চাইবে কত দ্রুত বানিয়ে পণ্য নিয়ে যেতে। এখানে বানাতে আসবে, কারণ এখানে কস্ট অব প্রডাকশন কম, বেতন দিতে হবে কম। বানানোর পর যত দ্রুত রপ্তানি করা যায়, এর জন্য বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এই জন্য বিদেশি সবচেয়ে ভালো কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলছি আমরা, যাতে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ে।’

চট্টগ্রাম বন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম ও আশপাশের টার্মিনালগুলোর সক্ষমতা ১ দশমিক ২৭ মিলিয়ন টিইইউএস (২০ ফুট দীর্ঘ) কনটেইনার।এ সরকারের পরিকল্পনা হচ্ছে — ২০৩০ এর মধ্যে এটা ৭৮ লাখ ৬০ হাজার টিইইউএসে নেওয়া, মানে ৬ গুণ বাড়ানো। বাংলাদেশকে ইকোনমিক হাব, ম্যানুফেকচারিং হাব করতে হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা নাম্বার ওয়ান, পূর্বশর্ত।’ এসময় দেশি অপারেটররা টার্মিনাল হ্যান্ডলিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে পরিমাণ বিনিয়োগ লাগবে, বিশেষজ্ঞ লাগবে সেটি দেশি কারও নেই। উন্নত বিশ্বের অনেক বড় বড় বন্দর অভিজ্ঞ প্রাইভেট কোম্পানিকে দিয়েছে। আমাদের সেই বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান নেই।’

জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলা , শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হোক : কল্লোল মোস্তফা , লেখক ও গবেষক

“আওয়ামী আমলে হতো গায়েবি মামলা, এখন হচ্ছে ঢালাও মামলা। উদ্দ্যেশ্য একই — হয়রানি, নিপীড়ন, মামলা বাণিজ্য। সরকার বিভিন্ন সময় বলেছে এতে সরকারের দায় নাই, মানুষ মামলা করলে সরকার কি করবে! কিন্তু সরকার চাইলেই জুলাই হত্যাকান্ড নিয়ে ঢালাও মামলা বন্ধ করতে পারে। এজন্য জাস্ট একটা নির্বাহি আদেশ প্রযোজন। এই আদেশে সরকার থানায় থানায় জুলাই হত্যাকান্ড সম্পর্কিত মামলা গ্রহণ বন্ধ করে শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে অভিযোগ জানানোর বিধান করে দিবে। তাতে এলাকার পাতি নেতাদের হাতে ঢালাও মামলার সুযোগ থাকবে না।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কাছে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৩৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে তদন্ত হয়েছে ৩৯টি বিষয়ে, যার মধ্যে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় মামলা হয়েছে ২২টি। এখানে যদি ঢালাও মামলা দেওয়া হয় তার দায় সরকারের উপর বর্তাবে। সরকার বলতে পারবে না যে পাবলিক মামলা দিলে আমরা কি করব। সরকার ইতোমধ্যে আরো একটি ট্রাইবুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়োজনে আরো ট্রাইবুনাল গঠন করুক, বাড়তি তদন্তকারী নিয়োগ দিক। কিন্তু জুলাই হত্যাকান্ড নিয়ে দুইটা প্যারালাল বিচার কার্যক্রম বন্ধ করুক। একদিকে থানায় থানায় ঢালাও মামলা, আরেকদিকে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে বিচার — দুটো একসাথে চলতে দেওয়ার কোন অর্থ হয় না।

জুলাই হত্যাকান্ডের বিচার পুরোপুরি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের কর্তৃত্বে নিয়ে আসলে শুধু যে মামলা বাণিজই বন্ধ হবে, তা না; বিপুল সময় ও সম্পদের অপচয়ও বন্ধ হবে।”


মৃত্যুর ভিতরে জীবন – স্পেনের Aguijares de la Sierra-র পুনর্জন্মের উৎসব

মৃত্যু মানুষের জীবনের একমাত্র নিশ্চিত সত্য, অথচ সবচেয়ে বেশি অস্বীকারকৃত বাস্তবতা। সভ্যতার শুরু থেকে মানুষ মৃত্যুকে ঘিরে সৃষ্টি করেছে হাজারো কল্পনা, আচার, ধর্মীয় আয়োজন ও দার্শনিক চিন্তা। তবে কখনও কি আমরা কল্পনা করেছি, বেঁচে থাকতেই নিজের জন্য শোক অনুষ্ঠান করার? স্পেনের ছোট পাহাড়ি গ্রাম Aguijares de la Sierra-র বাসিন্দারা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই আশ্চর্য ঐতিহ্য পালন করে আসছে। এ এক মিথ্যা মৃত্যু, জীবিত মানুষ কফিনে শুয়ে পড়ে, পরিবারের লোকেরা কাঁদে, প্রার্থনা করে এবং গ্রাম প্রদক্ষিণ করে। উদ্দেশ্য—মৃত্যুর চেতনাকে আত্মস্থ করা, পুনর্জন্মের দর্শন অনুশীলন করা এবং জীবনকে আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করা।

Aguijares de la Sierra গ্রামটি স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গালিসিয়া অঞ্চলে অবস্থিত । এটি কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; বরং মৃত্যুকে আত্মস্থ করার এক ধরনের মানসিক ও আধ্যাত্মিক অনুশীলন। উৎসবের নাম La Santa Marta de Ribarteme festival। এই উৎসবের উৎপত্তি ১৮শ থেকে ১৯শ শতকে, যখন প্লেগ ও মহামারিতে বহু মানুষ মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে এসেছিল। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা মানুষরা “ঈশ্বরের কৃপায় জীবনরক্ষা”র প্রতীক হিসেবে এই প্রতীকি মৃত্যুর অনুশীলন শুরু করে। এই উৎসবটির কেন্দ্রস্থলে আছেন Santa Marta de Ribarteme — খ্রিস্টীয় ধর্মবিশ্বাসে তিনি পুনর্জীবনের পৃষ্ঠপোষক সন্ত। গালিসিয়া অঞ্চলের সংস্কৃতিতে ক্যাথলিক ধর্ম ও পুরাতন কেল্টিক বিশ্বাসের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ দেখা যায়, যেখানে মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম ও আত্মার অনন্তযাত্রা নিয়ে নানা কল্পনা বিদ্যমান। Aguijares-এ সেই বিশ্বাসই বাস্তবায়িত হয় এক অনন্য ধর্মীয় রীতিতে।

প্রতি বছর জুলাই মাসের ২৯ তারিখে, যারা মৃত্যুর কাছ থেকে বেঁচে ফিরেছে তারা নিজেদের জন্য কফিন বানায়। তারা নিজেদের ইচ্ছায় কফিনে শুয়ে পড়ে।পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা চারপাশে ভিড় করে শোকের অভিনয় করে; কেউ কাঁদে, কেউ স্তব পাঠ করে। তারপর কফিন বহন করে তারা পুরো গ্রাম প্রদক্ষিণ করে। স্থানীয় গির্জায় গিয়ে বিশেষ প্রার্থনা ও সন্ত মার্তার উদ্দেশ্যে ধন্যবাদজ্ঞাপন করা হয়। এখানে মৃত্যুর প্রতি এক ধরনের আত্মসমর্পণ ও আলিঙ্গন রয়েছে। শোক ও প্রার্থনার মাধ্যমে উৎসবটি মৃত্যুকে অতিক্রম করার, তাকে চিনে নেবার এবং নতুন জীবনের সূচনা করার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। এই রীতির মধ্যে কেবল ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, মানুষের অন্তর্নিহিত জীবনের ভয়, অনিশ্চয়তা এবং মৃত্যুর পরবর্তী প্রশ্নগুলো মোকাবেলা করার চেতনা নিহিত রয়েছে।

এই উৎসবটি মূলত ‘Memento Mori’— মৃত্যু স্মরণের দার্শনিক চেতনার বাস্তবায়ন। ব্যক্তি যখন নিজের মৃত্যুর অনুশীলন করে, তখন সে জীবনের স্বল্পতা ও মুহূর্তের মূল্যবোধ উপলব্ধি করে। প্রাচীন রোমান সভ্যতা থেকে শুরু করে আধুনিক দার্শনিকতা পর্যন্ত ‘Memento Mori’ মানুষের অস্তিত্বের সীমাবদ্ধতা স্মরণ করিয়ে দেয়। Aguijares উৎসবে এই চেতনার বাস্তবায়ন অত্যন্ত শোভনভাবে ঘটে। গালিসিয়ান ক্যাথলিক বিশ্বাস ও কেল্টিক পুনর্জন্ম ধারণা অনুযায়ী, আত্মা কখনও সম্পূর্ণ মারা যায় না; বরং নতুন রূপে জন্ম নেয়। উৎসবটি আত্মার সেই চিরন্তন যাত্রাকেই উদযাপন করে। মৃত্যুকে স্বীকার করে পুনর্জন্মের চিন্তা মানুষকে শক্তি দেয় জীবনের নতুন অর্থ খোঁজার জন্য।

কার্টেসিয়ান দার্শনিক ধারায় দেহ ও আত্মা দুই আলাদা সত্তা। Aguijares উৎসবে এই দ্বৈততার প্রতীকী উপস্থাপন ঘটে—দেহ কফিনে স্থবির, কিন্তু চেতনা সক্রিয় ও মুক্ত। এটি এক ধরনের আত্মসমর্পণ ও আত্মপরিচয়ের সন্ধান, যেখানে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ব্যক্তি তার অস্তিত্বের অপরিহার্য দিকগুলোর সন্ধান করে। Terror Management Theory (Ernest Becker-এর গবেষণা অনুযায়ী) বলে, মানুষ মৃত্যুর ভয় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নানা সাংস্কৃতিক রীতি ও ধর্মীয় বিশ্বাস তৈরি করে। Aguijares উৎসবে সেই চর্চা স্পষ্ট। এখানে মৃত্যুর অনুশীলনের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের মৃত্যুভীতি কাটিয়ে ওঠে এবং জীবন সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করে। এটি এক ধরনের Catharsis বা মানসিক পরিশুদ্ধির অভিজ্ঞতা। জীবনের এবং মৃত্যুর সম্পর্কের গভীরে যাওয়া, এই উৎসবটি মানুষকে আত্মবিশ্বাস ও শান্তি দেয়, যাতে তারা আরও সম্পূর্ণভাবে জীবনের মূল্য অনুভব করতে পারে।

বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতিতেই মৃত্যুকে ঘিরে নানা ধরনের অনুশীলন দেখা যায়।
Toraja (ইন্দোনেশিয়া): মৃতদেহকে বাড়িতে রেখে যত্ন করা ও সামাজিক পুনর্মিলন।
Sky Burial (তিব্বত): মৃতদেহকে প্রকৃতিতে বিলীন করে আত্মার মুক্তি নিশ্চিত করা।
Famadihana (মাদাগাস্কার): পূর্বপুরুষদের দেহ কবর থেকে তুলে এনে নাচ ও উৎসবে অন্তর্ভুক্ত করা।

তবে Aguijares উৎসবের বিশেষত্ব হলো এটি একমাত্র সংস্কৃতি যেখানে জীবিত মানুষ মৃত্যুর প্রতীকী অভিজ্ঞতা নিয়ে উৎসবে অংশ নেয়। এটি এক অভূতপূর্ব ধরণের আত্মমুখী জীবনবোধের প্রকাশ, যা অল্পবিস্তর পৃথিবীর আনাচে-কানাচে মেলে না।

আজকের দুনিয়ায় যেখানে ‘Death Denial Culture’ (মৃত্যুকে এড়ানোর সংস্কৃতি) প্রবল, সেখানে Aguijares de la Sierra-র মতো অনুশীলন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় মৃত্যুর অনিবার্যতা ও জীবনের ক্ষণস্থায়ীত্ব। এটি এক ধরনের Existential Courage — অস্তিত্বের সাহসিকতা। মৃত্যুকে স্বীকার করে তবেই জীবনের আসল মূল্য অনুধাবন করা যায়। আমাদের আধুনিক সভ্যতা কিভাবে মৃত্যুকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে, Aguijares উৎসব তার বিপরীত কৌশল হিসেবে মৃত্যুর প্রতি সম্মান এবং পুনর্জন্মের চিন্তাকে তুলে ধরে। Aguijares de la Sierra-র এই ব্যতিক্রমী উৎসব কেবলমাত্র এক প্রাচীন ঐতিহ্য নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের গভীরে থাকা প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার এক প্রতীক। এখানে মৃত্যু, জীবন ও আত্মার যাত্রা মিলেমিশে যায় এক অলৌকিক অভিজ্ঞতায়। জীবিত মানুষ কফিনে শুয়ে পড়ে মৃত্যু অনুশীলন করে, যাতে করে নতুন জীবনের উপলব্ধি জাগে।

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা , মার্কিন সমর্থনের দাবি করছে ভারত , আসলে কি তাই ?

ভারতের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানিয়েছেন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত করে দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এর ঠিক পরদিনই, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানান, একজন মার্কিন মন্ত্রিসভার সদস্য ভারতের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’-এর পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন – যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ-এর প্রকাশিত বক্তব্যে এধরনের মন্তব্য প্রতিফলিত হয়নি।

রুবিও এই আলোচনার বার্তা দিয়েছেন গত বুধবার (৩০ এপ্রিল) রাতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনে আলাপকালে। একই দিন তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গেও কথা বলেন এবং ২২ এপ্রিল পহেলগামে হওয়া সন্ত্রাসী হামলার তদন্তে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রুবিও “ভারতকে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা হ্রাস করতে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কাজ করার জন্য উৎসাহিত করেছেন।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র এই “ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা”-তে দুঃখ প্রকাশ করে এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

ভারত সরকার থেকে ফোনালাপ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে জয়শঙ্কর এক্স (টুইটার)-এ এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় বলেন, তিনি রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং লেখেন: “এই হামলার পরিকল্পনাকারী, মদতদাতা ও সংগঠকদের বিচারের আওতায় আনতেই হবে।” অন্যদিকে, রুবিও পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী হামলার তদন্তে সহযোগিতা করার এবং উত্তেজনা প্রশমনে ভারতের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতি অনুযায়ী, রুবিও ও শরিফ সন্ত্রাসী হামলাকে “নিন্দনীয়” বলে অভিহিত করেন এবং উভয়পক্ষ সন্ত্রাসীদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেন, “তিনি পাকিস্তানকে ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে, সরাসরি যোগাযোগ পুনঃস্থাপন এবং দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য কাজ করতে উৎসাহিত করেছেন।” এর ঠিক একদিনেরও কম সময় পরে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে রাজনাথ সিং টুইট করে জানান, তিনি হেগসেথের সঙ্গে কথা বলেছেন – যার বক্তব্য ছিল ভিন্ন। সিং টুইটে বলেন, পাকিস্তানের “সন্ত্রাসবাদে সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও অর্থায়নের ইতিহাস রয়েছে।” সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, সিং দাবি করেন যে — “হেগসেথ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে এবং ভারতের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে” এবং তিনি “ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জোরালো সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।”

যদি সত্যিই হেগসেথ এমন মন্তব্য করে থাকেন, তবে তা ভারতের সামরিক পদক্ষেপের জন্য একপ্রকার অনুমোদন হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে। পরে ওয়াশিংটনে হেগসেথ একটি টুইটে বলেন, “গত সপ্তাহের নৃশংস সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় আমি ব্যক্তিগতভাবে গভীর শোক জানাই।” “আমি জোরালো সমর্থন জানিয়েছি। আমরা ভারত ও তার মহান জনগণের পাশে আছি,” তিনি লেখেন। তবে তাঁর টুইটে আত্মরক্ষার অধিকারে সরাসরি সমর্থনের কথা উল্লেখ ছিল না, যা সিং-এর পোস্টে দাবি করা হয়েছে। যদি হেগসেথ এমন কিছু বলে থাকেন, তবে তা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোয়াইট হাউসের সতর্ক ও ভারসাম্যমূলক বক্তব্য থেকে সরে আসা বোঝায়।

বাস্তবে, রুবিও সন্ত্রাসবিরোধী বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কৌশলগত ঐক্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করলেও, তাঁর সুর ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতোই, যিনি এই সংকটের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় আরও নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউস প্রকাশিত একটি অডিও ক্লিপে ট্রাম্প বলেন, “আমি ভারতের খুব কাছের এবং পাকিস্তানেরও কাছের। তারা হাজার বছর ধরে কাশ্মীরে লড়াই করছে। কাশ্মীরের এই সংঘাত হাজার বছরের পুরোনো, সম্ভবত তার চেয়েও বেশি। ওই হামলাটা খুবই খারাপ ছিল।”

‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নামে একটি সংগঠনের সামাজিক মাধ্যমে এই হামলার দায় স্বীকার করার খবর প্রকাশিত হলেও পরে তারা দাবি করে, তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল। ভারতের দাবি, টিআরএফ পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বার ছদ্মবেশী সংগঠন। পাকিস্তান দাবি করে আসছে, ভারত ২০১৬ ও ২০১৯ সালের মত প্রতিশোধমূলক সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে – যা অভিযানের সঙ্গে তুলনা টানা হচ্ছে।

ব্যবসায়িক আস্থা পুনরুদ্ধারে , নীতিগত সহায়তা চেয়েছে – এফবিসিসিআই

বাংলাদেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য শিল্প ও বিনিয়োগ-বান্ধব বাজেট চেয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, ২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবেলায় বাজেট যেন উপযোগী হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে। এফবিসিসিআই অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, সরকার শিল্প ও বিনিয়োগ-বান্ধব বাজেট প্রণয়নে আন্তরিক উদ্যোগ নেবে।”

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআই আয়োজিত যৌথ পরামর্শ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সভায় অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। তারা ব্যবসায়ী নেতাদের প্রস্তাব ও মতামত শুনেন। ব্যবসায়ীরা এসময় রাজস্ব আয় বাড়াতে কর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, কুমিল্লা ইকোনমিক জোনে তার প্রতিষ্ঠান ৬০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলেও দুই বছরেও গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিয়মিত করদাতারা অতিরিক্ত কর নিরীক্ষার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং অগাস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তদারকির ঘটনাও বেড়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, যন্ত্রাংশ আমদানিতে এখন এনবিআরের জটিলতা বেড়েছে এবং ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে।

এফবিসিসিআইর প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয় , নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, আয়ের বৈষম্য কমাতে সুষম করনীতি ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণ, অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রান্তিক প্রকল্প পরিহার করা, সুদের হার স্থিতিশীল রাখা। সংগঠনটি ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আমদানি পর্যায়ে আগাম আয়কর (AIT) ধাপে ধাপে কমানোর প্রস্তাব দেয়। এছাড়া বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণ, বন্দর ও কাস্টমস দক্ষতা বৃদ্ধি, পরিবহন খরচ কমানো, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানায়।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট প্রস্তুত করব। খামখেয়ালি বা অপচয়মূলক বাজেট নয়। ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।” তিনি জানান, ওয়াশিংটনে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকেও ব্যবসায়ীদের দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, “এবারের বাজেট হবে লক্ষ্যভিত্তিক, ব্যয়ভিত্তিক নয়।” এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান জানান, কিছু করনীতি যৌক্তিকীকরণ এবং নিয়মিত করদাতাদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের নিজেদেরও দেখা উচিত, আমরা কতটা নিয়ম মেনে চলি।”