Home Blog Page 118

বিরোধী চিঠিতে সই ১২ হাজার ইসরায়েলী রিজার্ভ সেনার , জিম্মি মুক্ত করতে গাজা যুদ্ধ বন্ধের দাবি – নেতানিয়াহু

বৃহস্পতিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত কয়েক সপ্তাহে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) ১২ হাজারেও বেশি রিজার্ভ সদস্য একটি চিঠিতে সই করেছেন—যেখানে যুদ্ধ বন্ধ করে ৫৯ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে ফেরত আনতে চুক্তি করার আহ্বান জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে।

গত এক মাসে কয়েক দফায় নেতানিয়াহুর কাছে খোলা চিঠি পাঠানো হয়েছে, যার প্রথমটি প্রকাশিত হয় এপ্রিলের শুরুর দিকে। সেখানে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর এক হাজার রিজার্ভ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সই করেন।

সেই চিঠিতে তারা লেখেন, ‘যেসব লক্ষ্যের কথা বলে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে সেগুলো আর পূরণ হবে না। উল্টো জিম্মিদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেবে।’ গাজায় এখনো জীবিত আছে বলে ধারণা করা ২৪ জিম্মির কথা চিন্তা করে যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানান তারা।

পরের কয়েক সপ্তাহে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) প্রায় সব শাখা থেকে কর্মকর্তারা এমন চিঠিতে সই করেছেন। সব মিলিয়ে এসব চিঠিতে ১২ হাজারের বেশি কর্মকর্তা সই করেছেন।

যুদ্ধে যোগ দিতে রিজার্ভ সেনাদের অনীহা বাড়ায় সংকটে পড়ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ১৮ মাসে রিজার্ভ সেনার সংখ্যা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে গেছে।

ইসরায়েলের হারেৎজ পত্রিকায় লেখা এক কলামে অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল আমিরাম লেভিন বলেন, সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের থেকে শুরু করে সেনাদের এখন আদেশ অমান্য করার কথা চিন্তা করা উচিত।

‘যুদ্ধাপরাধে জড়ানোর ঝুঁকি, পাশাপাশি আইডিএফ ও ইসরায়েলি সমাজের নৈতিক চেতনার ওপর মারাত্মক আঘাতের মুখে চুপ করে বসে থাকার সুযোগ নেই,’ লিখেন এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক প্রধান ড্যানি ইয়াতোম বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা বুঝতে পারছি ইসরায়েল খুবই খারাপ পথে এগোচ্ছে। এটাও বোঝা যাচ্ছে, নেতানিয়াহু তার স্বার্থের বাইরে কিছু ভাবছেন না। জিম্মিদের ফেরত আনাটা কখনোই তার প্রথম অগ্রাধিকার না। তার অগ্রাধিকারের তালিকার শুরুতে আছে নিজের স্বার্থ ও এই সরকারকে টিকিয়ে রাখার চিন্তা।’

সাম্প্রতিক চিঠিগুলোতে সই করা অনেকেই ইয়াতোমের মতো দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে আসছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার আগেও সরকারবিরোধী আন্দোলন করে যাচ্ছিলেন তারা।

জানুয়ারিতে হামাস ও ইসরায়েল একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে একমত হওয়ার পর অনেকে ধরে নিয়েছিল, এটাই বুঝি যুদ্ধের শেষ। কিন্তু মার্চের মাঝামাঝি সময়ে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পুনরায় গণহত্যা শুরু করে ইসরায়েল।

বাংলাদেশকে তার মানচিত্র , নতুনভাবে আঁকতে হতে পারে : রিজওয়ানা হাসান , পরিবেশ , বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ঢাকার ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে “জাতীয় নিরাপত্তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব” শীর্ষক সেশনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা দিয়েছেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনকে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গভীর হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন শুধু মিঠা পানি লবণাক্ত হওয়ার বিষয় নয় – এটি বাংলাদেশের ভূখণ্ড হারানো, জনগোষ্ঠী নিশ্চিহ্ন হওয়া এবং সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হওয়ার বিষয়।” তিনি উল্লেখ করেন যে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূল ধ্বংস এবং জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতির ফলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে বাংলাদেশকে তার মানচিত্র নতুনভাবে আঁকতে হতে পারে।

পরিবেশ উপদেষ্টার মতে, শতকের মাঝামাঝি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যদি এক মিটার বৃদ্ধি পায়, তাহলে বাংলাদেশের ২১টি উপকূলীয় জেলা সম্পূর্ণরূপে ডুবে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি কোটি কোটি মানুষকে গৃহহীন করবে এবং কৃষি ও মাছ চাষে ব্যবহৃত নদীগুলোতে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করবে। এর ফলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিপন্ন হবে।

উপদেষ্টা হাসান আরও উল্লেখ করেন বাংলাদেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ প্রোটিনের জন্য মিঠা পানির মাছের ওপর নির্ভরশীল। লবণাক্ততা বৃদ্ধি এই গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উৎস ধ্বংস করে দিতে পারে। তিনি সতর্ক করেন বাংলাদেশ প্রতিবছর বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও খরার কারণে তার জিডিপির ১ শতাংশ হারাচ্ছে, এবং ২০৫০ সালের মধ্যে এই হার দ্বিগুণ হতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ফসলহানি, পানির সংকট এবং গণবাস্তুচ্যুতি সামাজিক সংঘাত সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করেছেন তিনি। বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ ডুবে গেলে, বাকি দুই-তৃতীয়াংশে প্রচণ্ড চাপ পড়বে এবং অস্থিরতা স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

উপদেষ্টা হাসান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ২১০০ সালের মধ্যে মালদ্বীপের মতো ৫২টি ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে। তিনি G20 দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন, যারা বিশ্বের ৮০ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করে কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

এছাড়াও তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোর কৌশলগত বিরোধিতা, কিয়োটো চুক্তির ব্যর্থতা এবং প্যারিস চুক্তির দুর্বল বাস্তবায়নের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকিতে বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে থাকা দেশ হওয়া সত্ত্বেও সবচেয়ে বেশি ভুগছে।

উপদেষ্টার মতে, “বিশ্বের নিষ্ক্রিয়তা আমাদের মতো দেশের জন্য মৃত্যুদণ্ড”। তিনি সতর্ক করেন সব দেশ তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেও বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৩ থেকে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়বে – যা মানবজাতির জন্য সহনশীল মাত্রার অনেক বেশি। এই বক্তৃতার মাধ্যমে উপদেষ্টা হাসান বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র হুমকি তুলে ধরেছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বাংলাদেশের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো রক্ষা পায়।

‘Holy Grail’ ও ‘The Last Supper’ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব –

প্রায় দুই হাজার বছর আগে জেরুজালেম শহরের এক নিভৃত কক্ষে বারোজন শিষ্যকে নিয়ে এক মন খারাপ করা নৈশভোজে বসেছিলেন যিশু খ্রিস্ট। এই রাত ছিল ভিন্ন। সেই ভোজনের টেবিলে শুধু রুটি আর মদ ছিল না; ছিল ভবিষ্যতের এক অভিশপ্ত রাতের ছায়া। সেই রাতে যিশু বলেছিলেন— “তোমাদের মধ্যে একজন আমাকে বিশ্বাসঘাতকতা করবে।” শিষ্যদের মুখভঙ্গি বদলে গিয়েছিল, কক্ষে শোক আর সন্দেহের ছায়া ঘনিয়ে এসেছিল। যিশু হাতে তুলেছিলেন এক সাধারণ কাপ। এই কাপ থেকেই তিনি শিষ্যদের মদের পাত্রে অংশ নিতে বলেছিলেন— এটাই ছিল প্রথম Eucharist, যে আচার আজও খ্রিস্টানদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু কে জানত সেই সাধারণ কাপটি কয়েকশতাব্দী পরে The Holy Grail হয়ে পৃথিবীর অন্যতম রহস্যময় প্রতীকে রূপ নেবে!

সময় এগিয়ে গেল। ১২শ শতাব্দীর ইউরোপ, খ্রিস্টের মৃত্যুর প্রায় হাজার বছর পর জনপদের মঠে মঠে, প্রাসাদে প্রাসাদে ছড়িয়ে পড়ল এক নতুন কাহিনি। ফরাসি কবি Chrétien de Troyes তাঁর অসমাপ্ত মহাকাব্য Perceval, le Conte du Graal-এ বর্ণনা করলেন এক অলৌকিক পাত্র—The Grail। এই পাত্র নাকি এমন শক্তির আধার, যা মানব আত্মার পরিত্রাণ ঘটাতে পারে। এরপর যুগে যুগে আর্থারিয়ান সাহিত্যে আবির্ভূত হল গ্রেল অনুসন্ধান। সাহসী নাইটরা জীবন বাজি রেখে অনুসন্ধান শুরু করল এই পবিত্র পাত্রের— একদিকে ধর্মীয় আদর্শ, অন্যদিকে বীরত্বের দৃষ্টান্ত। ততদিনে সাধারণ বিশ্বাস জন্ম নিল, The Holy Grail-ই আসলে সেই কাপ, যেটি যিশু শেষ রাতের ভোজনে ব্যবহার করেছিলেন এবং যাতে পরবর্তীকালে তাঁর রক্তও সংগ্রহ করা হয়েছিল।

১৫শ শতকের শেষ ভাগ, মিলানের Santa Maria delle Grazie গির্জার এক দেয়ালে বসে তুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, The Last Supper, পৃথিবীর সবচেয়ে আলোচিত ও রহস্যময় শিল্পকর্ম। চিত্রের কেন্দ্রে যিশু, দুপাশে তাঁর বারোজন শিষ্য। তাঁদের মুখাবয়বে বিস্ময়, দ্বন্দ্ব আর আতঙ্ক— ঠিক সেদিনকার রাতের মতোই। কিন্তু এই ছবির গভীরে কি কোনো গোপন সংকেত ছিল? তখনকার মানুষ এ প্রশ্ন তোলেনি। প্রশ্নটা তুলল আধুনিক যুগ। ১৯৮২ সাল। The Holy Blood and the Holy Grail নামের এক বই প্রকাশিত হলো। লেখকরা বললেন, আমরা এমন তথ্য পেয়েছি, যা খ্রিস্টান ইতিহাসকে ওলোটপালট করে দেবে।

তাঁরা দাবি করলেন যিশু খ্রিস্ট ম্যারি ম্যাগডালিনকে বিয়ে করেছিলেন। ম্যারি দক্ষিণ ফ্রান্সে পালিয়ে গিয়ে যিশুর সন্তান জন্ম দেন। এই বংশধারা আজও গোপনে বেঁচে আছে। The Holy Grail আসলে এই রক্তধারা (Sangreal)-এর প্রতীক। Priory of Sion নামক এক গোপন সংগঠন এই সত্য যুগ যুগ ধরে লুকিয়ে রেখেছে! ভিঞ্চির The Last Supper-এ যিশুর পাশে আসলে জন নয়, ম্যারি ম্যাগডালিন বসেছিলেন। তাঁর কোমল মুখাবয়বই নাকি এই তত্ত্বের প্রমাণ। ২০০৩ সালে ড্যান ব্রাউনের The Da Vinci Code উপন্যাস যখন বাজারে আসে, তখন এই তত্ত্বগুলো বিশ্বজুড়ে তোলপাড় ফেলে দেয়। সিনেমা, ডকুমেন্টারি, আলোচনা— সবখানেই এই রহস্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

গল্পটা আকর্ষণীয় হলেও ঐতিহাসিক সত্য বলছে অন্য কথা। Priory of Sion নামে মধ্যযুগীয় কোনো সংগঠন ছিল না। ১৯৫৬ সালে Pierre Plantard নামে এক ফরাসি ব্যক্তি এই নামের সংগঠন তৈরি করেন। তিনি ভুয়া নথি বানিয়ে দাবি করেন যিশুর রক্তধারা রক্ষার সংগঠন এই Priory of Sion। ১৯৯৩ সালে আদালতে Plantard স্বীকার করেন, সবকিছুই ছিল তাঁর তৈরি প্রতারণা। ভিঞ্চির The Last Supper চিত্রশিল্প বিশ্লেষকরা বলেছেন— ছবিতে জনের মুখ কোমল, কারণ রেনেসাঁ যুগে জন (John the Apostle)-কে প্রায়শই যুবক ও নরম মুখাবয়বের চিত্রে আঁকা হতো। এখানে ম্যারি ম্যাগডালিন নেই বলেই ইতিহাস বলে।

তাহলে এই গল্পগুলো এত জনপ্রিয় কেন? কারণ রহস্য, ধর্ম, গোপন সংগঠন আর শিল্প— এই চারটি উপাদান মানুষের চিরন্তন কৌতূহলকে নাড়া দেয়। Netflix, Amazon Prime, History Channel-এ এই তত্ত্ব নিয়ে অসংখ্য তথ্যচিত্র, সিরিজ, ডকুমেন্টারি তৈরি হয়েছে। পবিত্র গ্রেল ও শেষ রাতের ভোজন এই দুটি বিষয়ে ইতিহাস, ধর্ম, শিল্প ও কল্পনা জড়িয়ে গিয়ে এক অনন্য কাহিনি তৈরি করেছে। বাস্তব সত্য হোক বা রহস্যময় গল্প, এই বিষয়গুলো আজও পাঠক, গবেষক ও সাধারণ মানুষের কল্পনায় দোলা দেয়।

স্বাদ গ্রন্থির উপরে আপনার পছন্দ অপছন্দ নির্ভর করে –

মানব স্বাদবোধ দীর্ঘদিন ধরে শুধু একটি ইন্দ্রিয়গত প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হলেও স্বাদকুঁড়ি (taste buds) এবং স্বাদগ্রহণ প্রক্রিয়া কেবলমাত্র রাসায়নিক উদ্দীপক শনাক্ত করার এককেন্দ্রিক জৈবিক কার্যক্রম নয়। বরং এটি জেনেটিক, মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল ব্যবস্থা। মানব জিহ্বার উপর আনুমানিক ২,০০০–৮,০০০ স্বাদকুঁড়ি থাকে । প্রতিটি স্বাদকুঁড়ি একাধিক স্বাদকোষ দ্বারা গঠিত, যা পাঁচটি মৌলিক স্বাদ শনাক্ত করতে পারে: মিষ্টি (sweet), তেতো (bitter), লবণীয় (salty), টক (sour)। এই কোষসমূহে অবস্থিত G-protein-coupled receptors এবং ion channels খাবারের রাসায়নিক উপাদান শনাক্ত করে স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়।

প্রাকৃতিক নির্বাচন ও অভিযোজনের দৃষ্টিকোণ থেকে, মিষ্টি স্বাদ উচ্চশক্তিসম্পন্ন খাবারের সংকেত দেয়। তেতো স্বাদ বিষাক্ত বা ক্ষতিকর রাসায়নিক শনাক্তকরণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। লবণীয় স্বাদ ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য রক্ষা করে। টক স্বাদ খাদ্যের পচন শনাক্তে সহায়ক এবং উমামি (যা মূলত অ্যামাইনো অ্যাসিড গ্লুটামেটের স্বাদ) প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের ইঙ্গিত দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাদকুঁড়ির সংখ্যা ও সংবেদনশীলতায় ব্যক্তি ভেদে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। Linda Bartoshuk প্রবর্তিত “Supertaster” ধারণা অনুসারে, কিছু ব্যক্তির স্বাদকুঁড়ি ঘনত্ব অনেক বেশি, ফলে তারা তেতো, ঝাল বা তীব্র স্বাদের প্রতি অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হন। অপরদিকে “Nontaster” ব্যক্তিরা তুলনামূলকভাবে এসব স্বাদ কম অনুভব করেন।

এ ধরনের ভিন্নতা অনেকাংশে TAS2R38 নামক জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা তেতো স্বাদ শনাক্তকারী রিসেপ্টরের গঠনে ভূমিকা রাখে। এই জেনেটিক ভিন্নতা বিশ্বব্যাপী খাদ্যাভ্যাসের বৈচিত্র্য বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। স্বাদকুঁড়ির জৈবিক বৈশিষ্ট্য ছাড়াও, শৈশবকালীন অভিজ্ঞতা, পারিবারিক খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতিগত চর্চা স্বাদগ্রহণের পছন্দ-অপছন্দ নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে । উদাহরণস্বরূপ, এশীয় সংস্কৃতিতে তেতো ও উমামি স্বাদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখা যায়। অন্যদিকে পশ্চিমা সংস্কৃতিতে উচ্চমাত্রার মিষ্টি ও লবণীয় স্বাদের প্রতি প্রবণতা বেশি লক্ষণীয়।

গবেষণায় প্রমাণিত শৈশবে যেসব খাবারের স্বাদ বারবার অভ্যাস হয়, পরবর্তী জীবনে সে স্বাদের প্রতি ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতা গড়ে ওঠে। খাদ্যসংস্কৃতির বৈশ্বিকায়ন ও ক্রস-কালচারাল সংস্পর্শ নতুন স্বাদের প্রতি অভিযোজন তৈরি করে, যা স্বাদকুঁড়ির প্রতিক্রিয়া ও সংবেদনশীলতাকেও দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করে। স্বাদকুঁড়ি শুধুমাত্র জিহ্বার ক্ষুদ্র কোষগুচ্ছ নয়, এটি আমাদের জৈবিক স্বার্থ, জেনেটিক বৈচিত্র্য, সামাজিক অভ্যাস এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতিফলন। মানুষের খাদ্যপছন্দের অন্তর্নিহিত কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, স্বাদগ্রহণ একটি বহুস্তরীয় প্রক্রিয়া, যা শরীর, মন এবং সমাজের সম্মিলিত অবদান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

মার্কিনিদের হারানোর ৫০ বছর উদযাপন করলো ভিয়েতনাম

১৯৭৫ সালের ৩০ এপ্রিল উত্তর ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট গেরিলারা দক্ষিণ ভিয়েতনামের যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত বাহিনীকে পরাজিত করে পুরো দেশের ক্ষমতা কব্জা করেছিল।স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির কিংবদন্তি নেতা হো চি মিনের নামে দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাজধানী সায়গন শহরটির নাম বদলে রাখা হয় হো চি মিন সিটি।যুক্তরাষ্ট্রকে হারানোর ৫০ বছর উদযাপনে হো চি মিন শহরে আয়োজিত কুচকাওয়াজে শাসকদল কমিউনিস্ট পার্টির বর্তমান প্রধান তো লাম বলেন — “এটা ছিল বিশ্বাসের বিজয়, ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের বিজয়।” ভিয়েতনাম থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের শেষ যোদ্ধাদলকে সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে শেষ হয়েছিল ২০ বছরব্যাপী লম্বা যুদ্ধের, যা ৩০ লাখ ভিয়েতনামি ও প্রায় ৬০ হাজার মার্কিনির প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল।

সায়গনের দিকে উত্তর ভিয়েতনামের ট্যাঙ্কগুলোর অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শেষ হেলিকপ্টারগুলোর মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার লোককে দেশটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। মার্কিন দূতাবাসের ছাদ থেকে সর্বশেষ হেলিকপ্টারটি উড়াল দেয় ৩০ এপ্রিল সকাল ৭টা ৫৩ মিনিটে, নিয়ে যায় সায়গনে থাকা শেষ মার্কিন মেরিন যোদ্ধাকে। আনুষ্ঠানিকভাবে দুই ভিয়েতনাম একীভূত হয় আরও এক বছর পরে, যার মাধ্যমে অবসান ঘটে ২২ বছর আগে ফরাসী ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর দুই টুকরা হয়ে পড়া ভিয়েতনামিদের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের। ভিয়েতনামের গ্রামীণ এলাকায় এখনও আগের যুদ্ধের সময় ব্যবহার হওয়া অ্যাজেন্ট অরেঞ্জ বিষাক্ত রাসায়নিক এবং অবিস্ফোরিত বিস্ফোরকের উপস্থিতি মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে আছে।

ভিয়েতনামিদের কাছে যুদ্ধে হেরেছিল ফরাসীরাও। গত বছর দিয়েন বিয়েন ফু-র যুদ্ধের সমাপ্তির ৭০ বছর উদযাপন অনুষ্ঠানে ফ্রান্স তাদের এক মন্ত্রীকে পাঠিয়েছিল। ওই যুদ্ধের মাধ্যমে ভিয়েতনামে ফরাসী ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে। সায়গন থেকে মার্কিন সেনাদের পাততাড়ি গুটানোর ২০ বছর পর ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ভিয়েতনাম নিজেদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। ২০২৩ সালে ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সফরের সময় থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হয়।৫০ বছর পূর্তিতে বুধবারের কুচকাওয়াজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিতে ওয়াশিংটন হো চি মিন সিটিতে তাদের কনসাল জেনারেলকে পাঠিয়েছে। দশ বছর আগে, যুদ্ধজয়ের ৪০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিনিধির উপস্থিতি ছিল না।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—এক সময়ের চরম শত্রু থেকে ঘনিষ্ঠ বন্ধুতে পরিণত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কালের পরিক্রমায় ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট সরকার গ্রহণ করেছে পুঁজিবাদ। এ ক্ষেত্রে তারা অনুসরণ করেছে প্রতিবেশী চীনকে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে ভিয়েতনাম হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক পণ্য উৎপাদনকেন্দ্র। ক্ষেত্র বিশেষে, ভিয়েতনাম এখন চীনের বিকল্পও। মার্কিনিদের সম্পর্কে সমাজতান্ত্রিক ভিয়েতনামের তরুণরা কী ভাবছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ভিয়েতনামের আইন শিক্ষার্থী মিনের ভাষ্য, ‘আমরা তাদের ঘৃণা করি না। যা ঘটেছে তা অতীত। এখন আমরা আমেরিকার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চাই। আমরা তাদের কাছ থেকে শিখতে চাই।’ হ্যানয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্স্থাপন করলেও রাশিয়ার সঙ্গে এখনও তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। মস্কো এখনও ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী।

একাধিক সংঘাত এমনকি এখনও দক্ষিণ চীন সাগরের অনেক অঞ্চলের মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলেও উত্তরের প্রতিবেশী চীনের সঙ্গেও ভিয়েতনামের সম্পর্ক বেশ ভালো।ভিয়েতনামের অর্থনীতিতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগ রয়েছে; বেইজিং হ্যানয়কে এমন অনেক উপকরণ সরবরাহ করে যেগুলো দিয়ে পণ্য তৈরি করে ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করে। ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় তিন লাখের বেশি চীনা সৈনিক অংশ নিয়েছিলেন। তারা বিমান প্রতিরক্ষায়, রসদ সরবরাহে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সাহায্য করেছিলেন। বহু বছর ধরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে চলছে হ্যানয়।

২০২৪ সালে রেকর্ড হারে বেড়েছে বিশ্বের সামরিক ব্যয় –

২০২৪ সালে বিশ্বের সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ ২ লাখ ৭০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে সামরিক ব্যয় বেড়েছে ৯.৪%। স্নায়ুযুদ্ধের পর বিশ্বে এক বছরে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির সর্বোচ্চ হার এটি। গত সোমবার সুইডেনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিপ্রি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সিপ্রি বলছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের সব অঞ্চলের সামরিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এ প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ১০০টির বেশি দেশ তাদের সামরিক খাতে খরচ বাড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকার প্রায়ই অন্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের বাজেট কাটছাঁট করে ক্রমাগত সামরিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে কাটছাঁট করার কারণে ভবিষ্যতে সমাজে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।’

গত বছর ইউরোপে (রাশিয়াসহ) ১৭% সামরিক ব্যয় বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপের সামরিক ব্যয় স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।

২০২৪ সালে রাশিয়ার সামরিক ব্যয় বেড়ে ১৪ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৩৮% বেশি এবং ২০১৫ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। এই ব্যয় রাশিয়ার মোট জিডিপির ৭.১% এবং সরকারের মোট ব্যয়ের ১৯%।

২০২৪ সালে ইউক্রেনের সামরিক ব্যয় ২.৯% বেড়ে ৬ হাজার ৪৭০ কোটি ডলারে পৌঁছায়, যা রাশিয়ার মোট সামরিক ব্যয়ের ৪৩%। তবে জিডিপি অনুপাতে ইউক্রেনই ছিল বিশ্বের সর্বোচ্চ সামরিক ব্যয়কারী দেশ। গত বছর তারা তাদের জিডিপির ৩৪% সামরিক খাতে ব্যয় করেছে।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ৫ দশমিক ৭% বেড়ে ৯৯ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এটি এককভাবে ন্যাটো জোটের মোট সামরিক ব্যয়ের ৬৬% এবং বিশ্বব্যাপী সামরিক ব্যয়ের ৩৭%।

কাশ্মীরে ভূমি রাজনীতি যেভাবে সংঘাত উসকে দিচ্ছে : অজয় আশীর্বাদ মহাপ্রশস্ত , ‘দ্য ওয়্যাইর’-এর রাজনৈতিক সম্পাদক

“… জম্মু ও কাশ্মীর থেকে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের পর ভূমি মালিকানা নিয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সেই উদ্বেগ কাজে লাগিয়ে বেসামরিক মানুষদের ওপর হামলার যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে হামলার দায় স্বীকারকারী ‘জঙ্গি গোষ্ঠী’। তারা বলেছে, যাঁরা আক্রমণের শিকার হয়েছেন, তাঁরা ‘বহিরাগত বসতি স্থাপনকারী’।

… এ অভিযোগ যতই অযৌক্তিক হোক না কেন, ইতিহাসে দেখা গেছে, চরমপন্থী সংগঠনগুলো প্রায়ই সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণ করে।

… কাশ্মীরে জমির মালিকানা নিয়ে ক্ষোভ ধীরে ধীরে বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে মোদি সরকার অনুচ্ছেদ ৩৭০-এর ক্ষমতা হ্রাস করার পর তা উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার নতুন জমি আইন চালু করেছে। তবে তা কেবল স্থানীয়দের জন্য নির্ধারিত জমির অধিকার বাতিল করে বহিরাগত বিনিয়োগকারীদের জমি কিনতে উৎসাহিত করে।

… ২০২০ সালে চালু হওয়া নতুন ডোমিসাইল আইনে বলা হয়েছে, যে কেউ সেখানে ১৫ বছর বসবাস করেছে বা ৭ বছর পড়াশোনা করেছে, সে সেখানে জমির মালিক হতে পারে। সরকার বলেছে, এই আইন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের উপকারে আসবে। তবে বিরোধীরা মনে করে, এটি কাশ্মীরের জনসংখ্যাগত কাঠামো বদলে দিতে পারে।

সরকার জানিয়েছে, গত দুই বছরে ৮৩ হাজার ৭৪২ জন বহিরাগতকে ডোমিসাইল সনদ দেওয়া হয়েছে। অথচ ২০১৯ সালে মাত্র ১৮৫ জন বহিরাগত জমি কিনেছিল। ২০২১-২২ সালে এই হার বেড়েছে।

এই ভূমি বিতর্ক এখন কেবল সাধারণ মানুষের মধ্যেই নয়, ব্যবসায়ী মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন বড় প্রকল্পে সরকার জমি অধিগ্রহণ করছে। বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহ দিচ্ছে। পেহেলগামে একটি সাত তারকা হোটেল তৈরি হচ্ছে। এর মালিক নাকি এক বহিরাগত। এতে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

… এ ছাড়া দক্ষিণ কাশ্মীরের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছে। অনেকেই মনে করেন, তা নতুন জমি আইনগুলোর ফল।…বড় বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী জম্মু ও কাশ্মীরে জমি কেনায় আগ্রহ দেখিয়েছে।

… এসব ঘটনা কাশ্মীর উপত্যকায় জমির মালিকানা নিয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের চিত্র তুলে ধরছে। হিন্দুত্ববাদীরা জমি মালিকানা নিয়ে যেভাবে উল্লাস প্রকাশ করছে, তাতে কাশ্মীরিদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ছে। এসব বক্তব্যে প্রায়ই মুসলিমদের টার্গেট করা হয়।

… প্রধানমন্ত্রীর দায় শুধু নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়েই নয়, কাশ্মীরিদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার পর তাঁর দল ও সমর্থকদের উল্লাস নিয়েও মোদিকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।

… গত পাঁচ বছরের তথ্য বলছে, সন্ত্রাসবাদী হামলা এখনো থামেনি। বরং গত দুই বছরে বেসামরিক মৃত্যুর হার বেড়েছে। বোঝাই যাচ্ছে, শুধু সামরিক পথ নয়, প্রয়োজনে সরকারকে আরও গভীর সামাজিক সমাধানের পথে হাঁটতে হবে।”


মহাবিশ্ব আসলে কি দিয়ে তৈরি ?

বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রকৃতি ও গঠন সম্পর্কে মানুষের অনুসন্ধান হাজার বছরের পুরোনো। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকরা “Cosmos” শব্দ ব্যবহার করে এই মহাশূন্যের সুশৃঙ্খল রূপ বর্ণনা করলেও, আধুনিক পদার্থবিদ্যার আবির্ভাবের আগে পর্যন্ত আমাদের উপলব্ধি সীমিত ছিল দৃশ্যমান তারামণ্ডলী, গ্রহ-নক্ষত্র আর নিকটবর্তী গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যেই।২০শতকের গোড়ার দিকে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব ও হাবলের প্রসারণমূলক মহাবিশ্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে আমরা প্রথম উপলব্ধি করি মহাবিশ্ব একটি গতিশীল, প্রসারমান সত্তা, যেখানে গ্যালাক্সিগুলো ক্রমাগত একে অপর থেকে সরে যাচ্ছে।

তবে এসব পর্যবেক্ষণ ও গাণিতিক মডেল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে একটি গভীর সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে। মহাবিশ্বের দৃশ্যমান পদার্থ যেগুলো আমরা তারা, গ্রহ, ধূলিকণা ও গ্যাস আকারে দেখি সেগুলো গ্যালাক্সিগুলোর গঠন, গতি ও বৃহৎ কাঠামোগত ধরণ বোঝাতে কসমিক স্কেলে পর্যাপ্ত নয়। আমাদের চেনা জগৎ আসলে মহাবিশ্বের ৫% ক্ষুদ্রাংশ মাত্র। বাকি ৯৫%-এরও বেশি জুড়ে রয়েছে দুইটি রহস্যময় উপাদান—ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি। ডার্ক ম্যাটার ধারণাটি ১৯৩০-এর দশকে গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ থেকে উৎপত্তি লাভ করে। যেখানে দেখা যায় দৃশ্যমান ভর দিয়ে পর্যাপ্ত মহাকর্ষীয় বল ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। এর কয়েক দশক পর ১৯৯৮ সালে সুপারনোভা পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যায়—মহাবিশ্বের প্রসারণ হার বাড়ছে, অর্থাৎ এক রহস্যময় শক্তি (ডার্ক এনার্জি) মহাকর্ষীয় আকর্ষণকে পরাস্ত করছে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দেখা দেয়— এই অদৃশ্য উপাদানগুলো আসলে কী? তারা কীভাবে মহাবিশ্বের গঠন, বিবর্তন ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে? বিজ্ঞান এ পর্যন্ত কোন পর্যায়ে এগিয়েছে এবং কোথায় রয়েছে মূল চ্যালেঞ্জ? ১৯২০-এর দশকে এডউইন হাবল আবিষ্কার করেন, আমাদের গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ের বাইরেও অসংখ্য ছায়াপথ রয়েছে। এরপর বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেন গ্যালাক্সিগুলোর গতি ও মহাবিশ্বের প্রসারণের ধরন কেবল দৃশ্যমান পদার্থ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।

১৯৩৩ সালে সুইস জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্রিটজ জুইকি কমা ক্লাস্টারের গতিবিধি বিশ্লেষণ করে প্রথম ডার্ক ম্যাটার-এর ধারণা দেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ বলেছিল গ্যালাক্সিগুলোর এত বেশি গতিবেগ থাকা সত্ত্বেও ক্লাস্টারটি ভেঙে পড়ছে না, নিশ্চয়ই এখানে দৃশ্যমান বস্তু ছাড়াও আরও কিছু আছে যা মহাকর্ষ বল তৈরি করছে। ডার্ক ম্যাটার এমন এক পদার্থ, যা আলো শোষণ বা প্রতিফলন করে না। ফলে এটি সরাসরি দেখা যায় না। তবে এর মহাকর্ষীয় প্রভাব স্পষ্ট। বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন, মহাবিশ্বের প্রায় ২৭% ডার্ক ম্যাটার দিয়ে তৈরি। বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ প্রমাণ দেয়।

যেমন- গ্যালাক্সিগুলোর বাইরের অংশগুলো এমন গতিতে ঘুরছে যা দৃশ্যমান বস্তু দিয়ে সম্ভব নয়। সেখানে অতিরিক্ত অদৃশ্য ভর থাকতে হবে। ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতি এমনকি দূরবর্তী গ্যালাক্সির আলোও বাঁকিয়ে দেয়। মহাবিশ্বের আদিম বিকিরণ বিশ্লেষণ করেও ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতি নির্ধারণ করা যায়। আজও আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি ডার্ক ম্যাটার আসলে কী দিয়ে তৈরি। সম্ভাব্য কণাগুলো হল, WIMPs (Weakly Interacting Massive Particles), Axions, Sterile Neutrinos ইত্যাদি। তবে ২০২৩ সালে XENONnT ডিটেক্টর এবং ২০২৪ সালের LUX-ZEPLIN (LZ) প্রকল্প থেকে কিছু সম্ভাব্য সংকেত পাওয়া গেছে, যা WIMP কণার অস্তিত্বের ইঙ্গিত দেয়, যদিও তা নিশ্চিত নয়।

১৯৯৮ সালে দুটি গবেষক দল পর্যবেক্ষণ করে দেখেন, মহাবিশ্বের প্রসারণ শুধু অব্যাহত নয় বরং দ্রুততর হচ্ছে। এ বিস্ময়কর ফলাফল ব্যাখ্যা করতে তারা ধারণা দেন ডার্ক এনার্জি–র। ডার্ক এনার্জি মহাবিশ্বের ৬৮% অংশ জুড়ে আছে এবং এটি এমন এক রহস্যময় শক্তি, যা মহাকর্ষকে পরাস্ত করে গ্যালাক্সিগুলোকে একে অপর থেকে দ্রুত দূরে ঠেলে দিচ্ছে।

বিজ্ঞান অনুসারে ডার্ক এনার্জির কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা রয়েছে: Einstein’s Cosmological Constant — স্থানকাল নিজেই একটি শক্তির উৎস হতে পারে।Quintessence Theory — ডার্ক এনার্জি হতে পারে সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল একটি ক্ষেত্র।

Modified Gravity Theories — মহাকর্ষের বর্তমান মডেলই অসম্পূর্ণ হতে পারে। ২০২৪ সালে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা Euclid Space Telescope উৎক্ষেপণ করেছে, যার লক্ষ্য হলো—ডার্ক এনার্জির প্রকৃতি ও মহাবিশ্বের প্রসারণ ইতিহাস বিশ্লেষণ করা। বাংলাদেশে যদিও সরাসরি ডার্ক ম্যাটার বা ডার্ক এনার্জি নিয়ে গবেষণা সীমিত, তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কসমোলজি, থিওরেটিকাল ফিজিক্স ও নিউট্রিনো ফিজিক্সে গবেষণা হচ্ছে। ২০২৩ সালে International Centre for Theoretical Physics (ICTP) এর সাথে বাংলাদেশের কিছু গবেষক কসমিক রে এবং মহাবিশ্বের বৃহৎ কাঠামো নিয়ে যৌথ গবেষণায় যুক্ত হয়েছেন। ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি শুধু পদার্থবিজ্ঞানের বিষয় নয়, এগুলো আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার প্রতীকও বটে।

আমরা কি এমন এক মহাবিশ্বে বাস করছি, যেখানে দৃশ্যমান সত্য আসলে সামান্য? আমাদের চেতনা কি শুধু ৫% বাস্তবতার মধ্যেই বন্দি? নাকি ডার্ক ম্যাটার-এনার্জি–র প্রকৃতি বুঝতে পারলে আমরা মহাকাল, টাইম ট্র্যাভেল বা মাল্টিভার্স সম্পর্কেও নতুন দরজা খুলব? দার্শনিক এমিল সিওরান বলেছিলেন—“The universe is not only stranger than we imagine; it is stranger than we can imagine.” ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি যেন এ কথার বাস্তব দৃষ্টান্ত। আমরা যা দেখি, তা মহাবিশ্ব নামের সুবিশাল বরফখণ্ডের কেবল মাথা। যাত্রা শুরু হয়েছে মূল দেহের সন্ধানে। ভবিষ্যতের উন্নত প্রযুক্তি হয়তো একদিন আমাদের জানাবে—ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি আসলে কী, আর আমাদের স্থান এই অসীম মহাবিশ্বে কোথায়।

কিছু প্রশ্ন থেকে যাক, যদি আমরা ৯৫% অদৃশ্য মহাবিশ্ব বুঝতে পারি, তবে কি আমাদের বাস্তবতা ও অস্তিত্বের সংজ্ঞাও পাল্টে যাবে? মহাবিশ্বের অদৃশ্য উপাদান কি আমাদের চেতনারও অদৃশ্য স্তরকে স্পর্শ করে? আমরা কি মহাবিশ্বের প্রকৃত স্বরূপ জানার খুব কাছাকাছি নাকি চিরকাল অপূর্ণতার মধ্যেই থাকব?

১০০ জন সাধারণ মানুষ বনাম , একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ গরিলা – লড়াইয়ে কে জিতবে?

ইন্টারনেটের সাম্প্রতিক অদ্ভুত আকর্ষণ হলো এই প্রশ্ন: যদি কোনো নিয়ম না থাকে, তাহলে ১০০ জন গড়পড়তা মানুষ এবং একটি প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ গরিলার মধ্যে লড়াই হলে কে জিতবে? এই কল্পনাপ্রসূত এবং অদ্ভুত প্রশ্নটি রেডিট, টিকটক, ইউটিউব এবং ইনস্টাগ্রাম দখল করে নিয়েছে। কেউ কেউ যুক্তি দেন যে, মানুষ এক সময় ম্যামথ শিকার করত, তাই নিঃসন্দেহে আমরা জিতব। আবার কেউ বলেন, একটি সিলভারব্যাক গরিলা প্রায় ১,০০০ কেজি পর্যন্ত তুলতে পারে এবং একটি পূর্ণবয়স্ক মানুষকে খেলনার মতো ছুঁড়ে ফেলতে পারে। সত্যি বলতে গেলে, এটি এমন একটি প্রশ্ন যার উত্তর জানা খুব প্রয়োজন নেই – তবুও, অন্যান্য ইন্টারনেট বিতর্কের মতো, সবাই এখানে তাদের মত দিচ্ছে।

তবে, রসিকতা ও মিমের বাইরে, এই হাস্যকর বিতর্কটি আমাদের মানব বিবর্তনের দিকে তাকানোর একটি সুযোগ এনে দেয়। আমাদের প্রকৃত শক্তি কী? আমরা কী ত্যাগ করেছি? আর একটি গরিলা-আমাদের মহিমান্বিত, শক্তিশালী এবং বিপন্ন আত্মীয়-আমাদের নিজেদের প্রকৃতি ও বিবর্তন সম্পর্কে কী শেখাতে পারে?

একই বিবর্তনশীল বৃক্ষের দুটি শাখা

গরিলা আমাদের সবচেয়ে কাছের জীবিত আত্মীয়দের একজন। শিম্পাঞ্জি, বনোবো ও ওরাংওটাংয়ের সঙ্গে তারা হোমিনিডি পরিবার বা মহামানবজাতীয় প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। শিম্পাঞ্জির সঙ্গে আমাদের জিনগত মিল প্রায় ৯৮.৮%, আর গরিলার সঙ্গে প্রায় ৯৮.৪%। মানুষ ও গরিলার শেষ অভিন্ন পূর্বপুরুষ প্রায় ১ কোটি বছর আগে বাস করত, এবং সেটিই শিম্পাঞ্জিদেরও পূর্বপুরুষ। এই বিভাজনের পর মানুষ ও গরিলা ভিন্ন পথে বিবর্তিত হয়েছে। গরিলা ঘন বন ও পাহাড়ি অঞ্চলে মানিয়ে নিয়েছে, আর মানুষ খোলা পরিবেশে-বা বলা ভালো, যেকোনো পরিবেশে-বাসের উপযোগী হয়ে উঠেছে। এত পার্থক্যের পরও, গরিলা ও মানুষের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে-যেমন বিপরীতাঙ্গুল, মুখের অভিব্যক্তি, জটিল সামাজিক আচরণ ও আবেগগত বুদ্ধিমত্তা।

বনের শক্তি

সাম্প্রতিক Dune কাহিনিতে ডিউক লেটো অ্যাট্রেইডিস মরুভূমিতে জয় পেতে চেয়েছিলেন “মরুভূমির শক্তি” ব্যবহার করে। আর গরিলারা বনের শক্তির পরিপূর্ণ মালিক। এবং পরিষ্কারভাবে বলা যাক – কাঁচা শক্তির দিক দিয়ে, গরিলা সব সময় জিতে যাবে। একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ সিলভারব্যাক গরিলা ১৬০ কেজির বেশি ওজনের হতে পারে এবং প্রায় এক টন তুলতে পারে, কোনও জিমে না গিয়েই। তাদের ঊর্ধ্বাংশের পেশিশক্তি অবিশ্বাস্য। এটা কাকতালীয় নয় – এটি এসেছে পুরুষদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার ফলস্বরূপ, যেখানে প্রজননের সুযোগ নির্ধারণ করে আধিপত্য। তাছাড়া, গরিলা অত্যন্ত সহনশীল এবং দৃঢ়, যদিও অধিকাংশ সময় শান্ত ও কোমল প্রকৃতির। গরিলা, অন্যান্য প্রাইমেটদের মতো, শক্তিশালী সামাজিক বুদ্ধিমত্তা প্রদর্শন করে। তারা বিভিন্ন ধরণের শব্দ, অঙ্গভঙ্গি, এমনকি বুকে চাপড় মেরে দূর থেকে যোগাযোগ করে। তারা সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করতে পারে, তাদের মৃতদের জন্য শোক প্রকাশ করতে পারে, এবং সহানুভূতি দেখাতে পারে-যা তাদের জটিল মানসিক দক্ষতার প্রমাণ।

পেশির বিনিময়ে মস্তিষ্ক

১০০ জন মানুষের সঙ্গে একটি গরিলার লড়াই অনেক মৃতদেহের জন্ম দিতে পারে, তবে আমরা সবাই জানি-মানুষ যুদ্ধের মাঠে খালি হাতে আসে না। তারা আসে অস্ত্র, কৌশল, ড্রোন, আগুন এবং বুদ্ধির কারিকুরি নিয়ে। মানুষ, তুলনামূলকভাবে, শারীরিকভাবে দুর্বল অনেক স্তন্যপায়ীর চেয়ে। কিন্তু আমাদের শক্তি অন্যখানে-আমরা অভিযোজন করতে পারি, এবং বিশাল গোষ্ঠীতে সহযোগিতা করতে পারি। আমাদের মস্তিষ্ক গরিলার তুলনায় গড়ে তিন গুণ বড়, শরীরের ওজন অনুপাতে। এই অসাধারণ বিবর্তনীয় বৈশিষ্ট্য আমাদেরকে বিমূর্ত চিন্তা, প্রতীকী ভাষা এবং সর্বোপরি-প্রজন্মের পর প্রজন্ম জ্ঞান সঞ্চার ও উন্নয়ন করতে সক্ষম করেছে। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় “সুপারপাওয়ার”। আমরা একে অপরের সঙ্গে এমন পরিসরে সহযোগিতা করতে পারি, যা গরিলার গড় পরিবারভিত্তিক দল (সাধারণত কয়েকটি থেকে ৩০ জন সদস্যের মধ্যে) থেকে বহু দূরে। মানব ইতিহাস বলছে, আমরা কাঁচা শক্তি ত্যাগ করে পেয়েছি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা-এবং এটাই আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে অভিযোজিত ও বিপজ্জনক প্রজাতি করে তুলেছে।

কে জিতবে?

এক-এক করে লড়াই হলে গরিলা একজন মানুষকে হাতের খেলনার মতো করে ফেলতে পারে। খালি হাতে শক্তি নিয়ে আলোচনা করলে, প্রতিযোগিতা থাকে না। কিন্তু মানুষ লড়াইয়ে খুঁটিনাটি গেম খেলে। আমাদের বিবর্তনীয় সাফল্য অনুযায়ী, মানুষ হয়তো অনেক “ব্যাটল” হারবে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত “ওয়ার” জিতে যাবে। গরিলারা ১৯৮০-র দশকে বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছায় আমাদের কারণেই। আমাদের প্রজাতি সব মহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে, সব পরিবেশে অভিযোজিত হয়েছে। আমরা ইকোসিস্টেম বদলে দিয়েছি, চাঁদে হেঁটেছি, এবং উন্নত প্রযুক্তি তৈরি করেছি। অথচ গরিলার সাফল্য এসেছে অন্যভাবে-প্রাকৃতিক ভারসাম্যের সঙ্গে মিল রেখে, শারীরিক নৈপুণ্য ও শান্ত শক্তির মাধ্যমে। হয়তো প্রশ্নটা আসলে কে জিতবে সেটা না, বরং উপলব্ধি করা-একই গাছের দুটি শাখা আমরা, যাদের পথ ভিন্ন, কিন্তু উভয়ই প্রকৃতির সাফল্য ও গর্ব।

বিএনপি কেন চুপ নিজেদের হাতে নেতাকর্মী খুনে : মনোজ দে , প্রথম আলোর সম্পাদকীয় সহকারী

“… রাজনৈতিক চর্চায় বিরোধী মতকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার যে গোত্রবাদী চর্চা আমরা দেখি আসছি, সেখানে ‘ধরে ধরে জবাই কর’— এই স্লোগান আমাদের অনেকের কানে স্বাভাবিক বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এই স্লোগান কি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেয় না? এই স্লোগান শিশু-কিশোরদের মনে কী প্রতিক্রিয়া জন্ম দেয়? কিংবা বিদেশিরা এই স্লোগানকে কীভাবে পড়বে?

অথচ জুলাই অভ্যুত্থান আরও অনেক সম্ভাবনার সঙ্গে ৫৪ বছরের রাজনীতির সঙ্গে একটা স্পষ্ট ছেদবিন্দু আঁকার সুযোগ সামনে নিয়ে এসেছে।…১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে, যাদের বড় একটা অংশ শিশু ও ৩০ বছরের কম বয়সী, এই সুযোগ এসেছে।

অভ্যুত্থানের পরপরই আমরা দেখেছি, কোন দলের কতজন নেতা-কর্মী শহীদ হয়েছেন, সেই তালিকা নিয়ে, রাজনৈতিক দলগুলো অভ্যুত্থানে নিজেদের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করছে। কিন্তু অভ্যুত্থানের যে স্পিরিট সেটাকে ধারণ করে নিজেদের চর্চা পাল্টানোর তাগিদ কার মধ্যে কতটা দৃশ্যমান?

… ৫ আগস্টের পর গত সাড়ে ৮ মাসে দেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড কিন্তু থেমে নেই; বরং যেকোনো বিবেচনাতেই এ সংখ্যা আশঙ্কাজনক। আর সবচেয়ে বেশি হত্যার শিকার হয়েছেন বিএনপির কর্মীরা, সেটা ভিন্ন রাজনৈতিক দলের হাতে যতটা, তার চেয়ে অনেক গুণ বেশি নিজেদের কোন্দলে।…১২ এপ্রিল দৈনিক সমকালের প্রতিবেদন জানাচ্ছে, আট মাসে দলের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে বিএনপির ৫১ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন।

এই যে এত এত মানুষের মৃত্যু, তার রাজনৈতিক মূল্য কতটুকু? এসব মৃত্যু ঘটেছে কর্মীদের মধ্যে রেষারেষি, নেতাদের মধ্যে বিরোধ, মূল সংগঠনের সঙ্গে অঙ্গসংগঠনের মতভিন্নতা, স্বার্থের দ্বন্দ্ব ক্ষমতার বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার, দখল, ঠিকাদারি, চাঁদাবাজি, বালু ও মাটি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ঘটা সংঘর্ষে।

কিন্তু এই সংঘাত থামাতে, এই অযথা অমূল্য রক্তপাত বন্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন বিএনপির নেতৃত্ব? কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তাঁরা। অন্য দলগুলোও বা কী ব্যবস্থা নিয়েছে।

নিজ দলের রাজনৈতিক কর্মীরা যখন একই দলের কর্মীদের হাতে খুন হচ্ছেন, তখন একটা শব্দও উচ্চারণ হতে আমরা দেখি না। কিন্তু যে দলের কর্মীই হোক, কিংবা রাজনৈতিকভাবে যে আদর্শকেই ধারণ করুক না কেন, তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। একজন সহনাগরিকের মৃত্যু কেন কোনো অনুভূতি, কোনো বোধ তৈরি করতে পারে না‌

… বাংলাদেশের রাজনীতি গোত্রবাদী চর্চা থেকে খুব বেশি পা যে এগোতে পারেনি, রাজনৈতিক খুনোখুনি তারই প্রতিচ্ছবি। নতুন চর জাগলে কিংবা আধিপত্য বিস্তারের প্রয়োজনে একসময় এখানে বল্লম, টেঁটা নিয়ে বিবদমান দুই গোষ্ঠী খুনোখুনিতে মেতে উঠত।…এই মানসিকতাও রাজনীতিতে পুনর্লিখিত হয়েছে।

বাংলাদেশের একেবারে জন্মলগ্ন থেকেই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডকে একটা বৈধতা দেওয়ার রেওয়াজ চালু রয়েছে। নব্বই থেকে শুরু করে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ২২ বছরে…রাজনৈতিক সহিংসতায় হত্যার শিকার হয়েছেন ২ হাজার ৫১৯ জন। এই সময়ে আহত হয়েছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ।

… রাজনৈতিক সহিংসতা, হত্যা আমাদের রাজনৈতিক পরিসরে ‘স্বাভাবিকতা’ পেয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর চর্চায় অন্য দল ও নিজ দলের নেতা-কর্মীদের হত্যা নিছক রাজনৈতিক এজেন্ডার বিষয়। এখানে নাগরিক হত্যার কোনো মানবিক মূল্য নেই। আমরা কি সামনে এগোতে পারব না গোত্রতন্ত্রের রাজনীতি থেকে। ‘ধরে ধরে জবাই কর’— স্লোগান স্থায়ীভাবে বন্ধ হোক রাজনীতি থেকে।”