Home Blog Page 119

ইতিহাসের গোপন করিডর –

সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ প্রান্তে, নীজার নদীর বাঁকে অবস্থিত একটি প্রাচীন নগর— টিমবুক্টু (Timbuktu)। পশ্চিম আফ্রিকার এই নগর কখনও সোনার শহর নামে খ্যাত ছিল, কখনও বা জ্ঞানের আলোকবর্তিকা। তবে ইতিহাসের পৃষ্ঠায় লেখা হয়নি আরেকটি গল্প— গোপন করিডরের গল্প, যে করিডর দিয়ে পণ্য, জ্ঞান এবং আধ্যাত্মিকতা সাহারা টিমবুক্টু প্রতিষ্ঠিত হয় নবম শতাব্দীতে, যখন তোয়ারেগ (Tuareg) যাযাবরগোষ্ঠী সাহারা পেরিয়ে এখানে বসতি স্থাপন করে। শীঘ্রই এটি পরিণত হয় ট্রান্স-সাহারান ট্রেড রুট-এর স্নায়ুকেন্দ্রে। মূল করিডরটি গাও (Gao), আগাদেজ (Agadez), তাঘাজা (Taghaza) লবণখনি এবং ফেজ (Fez, মরক্কো) শহরের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল। এই পথ পেরিয়ে সোনা, লবণ, দাস, হাতির দাঁত এবং গোপন পান্ডুলিপির বাণিজ্য হত। করিডরটি ছিল নির্ভুলভাবে সংগঠিত— কিয়দাংশ খোলামেলা বাণিজ্যপথ, আবার কিছু অংশ গভীর মরু-অরণ্য দিয়ে চোরা বাণিজ্যের গোপন রুট।

এই করিডরের প্রধান সম্পদ ছিল সোনা ও লবণ। ওয়াংগারা (Wangara) অঞ্চলের খনি থেকে আহরিত সোনা এবং তাঘাজা (Taghaza) লবণখনি থেকে উত্তোলিত লবণ উত্তর-দক্ষিণ দিক দিয়ে পরিবাহিত হত। সাহারা পেরোনো কারভান (উটবাহিনী) একবার যাত্রা করলে তাদের পেছনে কয়েকশো মাইল ধূলিধূসর পথ পড়ে থাকত। একটি প্রাচীন প্রবাদের মতে— “টিমবুক্টুর লবণ সোনার সমান মূল্যবান ছিল।” এই পথ ব্যবহার করে মালির বিখ্যাত সম্রাট মানসা মুসা (Mansa Musa) ১৩২৪ সালে ৬০,০০০ উট ও ১২ টন সোনা নিয়ে হজযাত্রা করেন, যা আজও ইতিহাসের বৃহত্তম হজযাত্রা বলে বিবেচিত।

তবে এই করিডর কেবল অর্থনৈতিকই ছিল না। এটি ছিল আধ্যাত্মিক তীর্থপথ। টিমবুক্টু থেকে সুফি সাধকরা মক্কা অভিমুখে হজ করতে যেতেন। সাহারার মরু পেরিয়ে তারা গোপনে তাসাউফ চর্চা চালাতেন। করিডরের গাও, জিন্নে এবং আগাদেজ ছিল সুফি নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যেখানে ধর্মীয় পাণ্ডিত্য, সূফিবাদ এবং লোকসংস্কৃতির সংমিশ্রণ ঘটত।

টিমবুক্টুর আরেকটি লুকানো পরিচয়— জ্ঞানের করিডর। ১৪শ-১৬শ শতাব্দীতে এখানে গড়ে ওঠে শত শত পাণ্ডুলিপির পাঠাগার। সানকোরে মসজিদ, জিঙ্গেরেবের মসজিদ এবং ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারসমূহে ইসলামি আইন, গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও দর্শনের পান্ডুলিপি সংরক্ষিত ছিল। বিশেষ করে টিমবুক্টুর Ahmed Baba Institute আজও ৭০,০০০-এর অধিক প্রাচীন পান্ডুলিপির গোপন সংগ্রহশালা হিসেবে টিকে আছে। টিমবুক্টুর পান্ডিত্যের এতটাই খ্যাতি ছিল যে, ১৬শ শতাব্দীর মরক্কান ভ্রমণকারী লিও আফ্রিকানাস লিখেছিলেন— “টিমবুক্টু শহর জ্ঞানের খনি, যেখানে পাণ্ডিত্যের দামের চেয়ে সোনার মূল্য কম।”

১৫৯১ সালে মরক্কোর সুলতান আহমদ আল-মানসুর টিমবুক্টু আক্রমণ করে করিডরের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। এই সময় জাউয়ার সেনারা পাণ্ডুলিপি গ্রন্থাগার লুট করে, সোনার ভাণ্ডার দখল করে। পরবর্তী তিনশ বছরে সাহারা বাণিজ্যপথ ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে। ১৮শ–১৯শ শতাব্দীতে সমুদ্রবাণিজ্য উন্নতির ফলে ট্রান্স-সাহারান রুটের গুরুত্ব লোপ পায়। আজও টিমবুক্টু শহরে Ahmed Baba Institute-এ গোপনে সংরক্ষিত রয়েছে ৭০,০০০–১০০,০০০ প্রাচীন পান্ডুলিপি। ২০১২ সালে মালিতে আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া আক্রমণের সময় স্থানীয়রা বিপুল ঝুঁকি নিয়ে পান্ডুলিপিগুলি চোরা পথে উদ্ধার করে গোপন স্থানে স্থানান্তর করেন। এই সাহসিকতা এক অর্থে গোপন করিডর সংস্কৃতির আধুনিক পুনর্জাগরণও বটে। বর্তমানে Tombouctou Manuscripts Project এই পান্ডুলিপি সংরক্ষণ ও ডিজিটালাইজেশনের কাজ করছে।

বিষয়টি আমাদের বাংলার ইতিহাসের সঙ্গেও কিছুটা সাযুজ্যপূর্ণ। যেমন— চট্টগ্রামের আরাকান বাণিজ্যপথ, সিলেটের কাশী তীর্থপথ। এগুলোও আঞ্চলিক বাণিজ্য ও আধ্যাত্মিকতার গোপন পথরেখা নির্মাণ করেছিল, যাদের অধিকাংশই আজ বিস্মৃত। টিমবুক্টুর গোপন করিডর ছিল কেবল বাণিজ্যিক নয়, এক ধরনের জ্ঞানপথ ও আধ্যাত্মিক তীর্থপথ। সাহারার ধুলোর নিচে চাপা পড়া এই ইতিহাস শুধু আফ্রিকার নয় বিশ্ব-সভ্যতারও নিঃশব্দ রক্তপ্রবাহ।

দামেস্কে ইসরাইলের বিমান হামলা – সিরিয়ার সংখ্যালঘু দ্রুজ মুসলিমদের রক্ষার অঙ্গীকার : নেতানিয়াহু

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের কাছে একটি লক্ষ্যবস্তুতে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুক্রবার সকালে এ কথা বলেছেন। একই সঙ্গে নেতানিয়াহু আবার সিরিয়ায় বসবাসরত দ্রুজ সম্প্রদায়ের সদস্যদের রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, এটি সিরিয়ার শাসকগোষ্ঠীর প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা। আর তা হলো, তাঁরা দামেস্কের দক্ষিণে সিরীয় বাহিনী মোতায়েন বা দ্রুজ সম্প্রদায়ের প্রতি কোনো হুমকি মেনে নেবে না। সংখ্যালঘু দ্রুজদের রক্ষার অঙ্গীকারের কথা বলে ইসরায়েল এ নিয়ে পরপর দুই দিন সিরিয়ায় হামলা চালাল। এর আগে গত বুধবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের উপকণ্ঠে ইসরায়েল হামলা চালায়।

দ্রুজ হলো সিরিয়ায় বসবাসরত একটি ক্ষুদ্র ধর্মীয় গোষ্ঠী। ধর্মবিশ্বাসের দিক থেকে তারা ইসলাম ধর্মের একটি শাখা হিসেবে বিবেচিত। সিরিয়া ছাড়াও লেবানন ও ইসরায়েলে এই ধর্মীয় গোষ্ঠীর লোকদের বসবাস রয়েছে।ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি দামেস্কের সাহনায়াহ শহরে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে ৪০ জন নিহত হয়। এলাকাটিতে দ্রুজ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকেরা বসবাস করে। সে সময় দ্রুজদের ওপর হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিল ইসরায়েল।পরে তারা বুধবার সিরিয়ার দামেস্কের উপকণ্ঠে হামলা চালায়। ইসরায়েল সরকার জানিয়েছে, দ্রুজ সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর একটি কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের নাম না নিয়েই সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ‘সব ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের’ নিন্দা এবং ‘সম্ভ্রান্ত দ্রুজ সম্পদ্রায়সহ’ সিরিয়ার সকল গোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হামলাগুলো সিরিয়ার বর্তমান ক্ষমতাসীনদের প্রতি ইসরায়েলের গভীর অবিশ্বাসকে প্রতিফলিত করে। সিরিয়ার বর্তমান শাসকগোষ্ঠী সুন্নি মতাদর্শ অনুসরণকারী ইসলামপন্থী। ইসরায়েলের মন্ত্রীরা হায়াত তাহরির আল-শাম গোষ্ঠীর জিহাদি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে বর্ণনা করেছেন। সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার জন্য বিষয়টি একটি অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কেননা, তিনি দ্বিধাবিভক্ত দেশটিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।

ডিসেম্বরে আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর ইসরায়েল ‘দ্রুজদের সুরক্ষা দেওয়ার’ আশ্বাস দিয়ে সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমের কিছু এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশটিকে ‘দুর্বল করে রাখতে’ ওয়াশিংটনে লবিও করছে। সুন্নিরা দামেস্ক দখল করার পরের কয়েকদিন তারা ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর বেশিরভাগ ভারি অস্ত্রশস্ত্রও উড়িয়ে দিয়েছে। সিরিয়ার এখনকার শাসক শারা একসময় আল-কায়েদার কমান্ডার ছিলেন, ২০১৬ সালে তিনি জঙ্গিগোষ্ঠীটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। ক্ষমতা নেওয়ার পর তিনি সিরিয়ায় অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন কায়েম করবেন বলে বারবারই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু একের পর এক সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সংখ্যাগুরু সুন্নি অংশকে নিয়ে সংখ্যালঘুদের সন্দেহ ও আতঙ্ক বাড়িয়ে দিচ্ছে।

দেশটিতে মার্চেই এক সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় আলাউইত সম্প্রদায়ের কয়েকশ সদস্য নিহত হয়েছিল। সর্বশেষ সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় মঙ্গলবার দ্রুজ অধ্যুষিত জারামানা এলাকায় সুন্নি বন্দুকধারীদের সঙ্গে দ্রুজদের তুমুল সংঘর্ষের খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। মুসলমানদের নবী মোহাম্মদ(সা.)-কে অভিশাপ দেওয়ার এক ভয়েস রেকর্ডিংকে কেন্দ্র করে এ সংঘাতের সূচনা হয়। এই রেকর্ডিংয়ের জন্য এক দ্রুজকে সন্দেহ করছে সুন্নিরা। মঙ্গলবারের সহিংসতায় ডজনের বেশি লোক নিহতক হওয়ার পর বুধবার সংঘাত সানায়াতে ছড়িয়ে পড়ে।

এশিয়ার নবম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ ‘বাংলাদেশ’

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-র সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৫ বেসিক স্ট্যাটিসটিকস’ অনুসারে — এশিয়ার মধ্যে নবম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হলো বাংলাদেশ। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকারের ভিত্তিতে এই হিসাব করা হয়েছে। ২০২৪ সালের হিসাবে বাংলাদেশের জিডিপির আকার ৪৫০ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৫০ কোটি ডলার।

এশিয়ান ৪৬টি দেশের জিডিপির আকারের হিসাব দিয়েছে এডিবি। তবে সেই তালিকায় জাপান নেই। এডিবির পরিসংখ্যান অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়ায় এখন ভারতের পর বাংলাদেশের অর্থনীতি সবচেয়ে বড়।

এডিবির পরিসংখ্যান অনুসারে, অর্থনীতির আকারের দিক থেকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে চীন, ভারত, কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তাইপে, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও ফিলিপাইন।

এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ চীন। চীনের জিডিপির আকার ১৮ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। এরপর দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতের জিডিপির আকার ৩ লাখ ৯১ হাজার ১৪০ কোটি ডলার। তৃতীয় স্থানে থাকা কোরিয়ার জিডিপি হলো ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৫০ কোটি ডলারের।

এ ছাড়া বাংলাদেশের ওপর থাকা অন্য দেশগুলোর জিডিপির আকার হলো, ইন্দোনেশিয়া ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৩০ কোটি ডলার, তাইপে ৭৯ হাজার ৫৯০ কোটি ডলার; থাইল্যান্ড ৫৪ হাজার ৫০ কোটি ডলার, ভিয়েতনাম ৪৭ হাজার ৬৩০ কোটি ডলার ও ফিলিপাইন ৪৬ হাজার ১৪০ কোটি ডলার।

শ্রমিকদের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে হবে : আলতাফ পারভেজ , লেখক-গবেষক

“… চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের ভেতর শতাধিক জন ছিলেন সরাসরি শ্রমজীবী। আবার আহতদের মাঝেও শত শত জন শ্রমজীবী পরিবারের। কোটার মতো শিক্ষিত মধ্যবিত্তের ইস্যুতে এই আন্দোলন শুরু হলেও শ্রমিকদের দিক থেকে এই গণঅভ্যুত্থানে এত বিপুল অংশগ্রহণের কারণ কী? কারণ দুটি। প্রথমত, আন্দোলনের বৈষম্যবিরোধী শ্লোগান ও অঙ্গীকার। দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালের আগের দুই বছরে শ্রমজীবীদের আয় রোজগারের বিপন্নতা।

… সমস্যা হলো, গত ৮-৯ মাসে এর কোনোটিই তেমন হয়নি। বাংলাদেশে ৪২টি খাতে মজুরি নির্ধারিত করা হয়েছে বিগত সময়ে। এই সরকারের সেগুলো আপডেট করা দরকার ছিল। কিন্তু সেটা হয়নি। আবার মার্কেট সিন্ডিকেটগুলো এখনও পণ্য বাজার ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করছে। এর বাইরে শ্রম আইনের সংস্কার বা শ্রমিক জীবনের মানোন্নয়েও সরকার উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার করতে পারেনি এখনও।

… শ্রম কমিশন অনেকগুলো সুপারিশ ও প্রস্তাব দিয়েছে। এবারের মে দিবস হলো গণঅভ্যুত্থানের সরকার প্রথম মে দিবস। আমি মনে করি, এবারের মে দিবসে শ্রম কমিশনের সুপারিশের ৫-১০টি বাস্তবায়ন হয়ে যাওয়া উচিত।…শ্রম কমিশন যেসব সুপারিশ করেছে সেগুলোর অধিকাংশ বাস্তবায়নযোগ্য এবং বাস্তবায়ন করা জাতীয় স্বার্থে দরকার।

…আমি মনে করি রাজনৈতিক-সামাজিক চাপ না থাকলে সম্ভবত শ্রম কমিশনের অনেক সুপাারিশই বাস্তবায়ন হবে না। কে সেই চাপ দিবে? শ্রমিকরা তো অসংগঠিত। রাজনৈতিক দলগুলোতে তাদের উপস্থিতিও দুর্বল। ফলে আপাতত খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছি না।

… এটা একটা জাতীয় লজ্জা ও জাতীয় ব্যর্থতা যে রানাপ্লাজার মতো ঘটনারও বিচার শেষ হলো না আজ পর্যন্ত। রানাপ্লাজার ঘটনা প্রমাণ করে, শ্রমিক জীবন আমাদের রাজনীতির কাছে, আমাদের প্রশাসনের কাছে মোটেই গুরুত্বপূর্ণ কিছু নয়। শ্রমিকদের লাশ ও রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে অর্থনৈতিক উল্লাস করতে আমরা মোটেই লজ্জিত নই।

… শ্রমিকদের প্রতি অবজ্ঞা, তাদের অমর্যাদা এখানে সামাজিক কাঠামোর অংশ। আমাদের অর্থনীতি পুঁজিতান্ত্রিক হলেও এখানে সমাজ জীবনে কুৎসিত সামন্তীয় সংস্কৃতি বিদ্যমান। শ্রম ও শ্রমিককে এখানে মর্যাদার সঙ্গে দেখতে শেখেনি সমাজ। তবে এর কারণ রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক।

আমাদের রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে সংস্কার হয়নি। রাজনীতি এখনও কিছু পরিবার নিয়ন্ত্রণ করছে। শিল্প প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও পরিচালিত হয় আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে সামন্তীয় কায়দায়। এসব বন্ধ করতে রাষ্ট্রের আমূল ও গণতান্ত্রিক সংস্কার দরকার। চব্বিশের অভ্যুত্থান তো তাই চেয়েছিল।

খেয়াল করে দেখুন, এখানকার রাজনীতি ও প্রশাসন খোদ অন্যান্যদেরও খুব একটা মানুষ মনে করে না। সামান্য একটা কোটার আন্দোলন থেকে দেশে দেড় হাজার মতো মানুষ হত্যা করে ফেলা হলো মাত্র দেড় মাসে। বিশ্বে এমন নজির বিরল।

আমাদের এই রাজনীতি, এই প্রশাসন, এই রাষ্ট্র অসুস্থ। এখানে শ্রমিকরা বেশি শিকার। কিন্তু অন্যরাও মোটেই নিরাপদ নয়। আমাদের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীও যে যেখানে কাজ করে সেখানে তাদের মানবিক সার্বভৌমত্বহীন গবাদিপশুর মতোই দেখা হয় কমবেশি। এখানে শ্রমিকের, কর্মীর জীবন গবাদিপশুর ইমেজ থেকে মুক্তি চায়।”


উর্বরতার দেবীর সাথে কিভাবে জড়িয়ে গেলো খরগোশ !

প্রতি বসন্তে খ্রিস্টান বিশ্ব যখন ইস্টারের খ্রিস্টীয় আনন্দোৎসব পালন করে, তখন শিশুদের চোখেমুখে দেখা যায় রঙিন ডিম আর খরগোশরূপী ইস্টার বানির মৃদু হাসি। আধুনিক দৃষ্টিতে নিরীহ ও শিশুসুলভ এই “ইস্টার বানি” কালচার আদতে কতটা নিরীহ? এ কি কেবলমাত্র আনন্দের প্রতীক? নাকি এর গভীরে লুকিয়ে আছে প্রাচীন প্যাগান ধর্মবিশ্বাস, উর্বরতা উপাসনা, মধ্যযুগীয় লোককথা এবং আধুনিক কল্পনার এক জটিল ছায়া? ইস্টার বানির প্রাচীনতম সূত্রপাত খুঁজতে হলে আমাদের ফিরতে হবে প্রাচীন ইউরোপীয় প্যাগান ধর্ম ও বিশেষ করে জার্মানিক ও অ্যাংলো-স্যাকসন পুরাণের দিকে। এখানে আমরা পাই এক রহস্যময় দেবী ‘Ēostre‘ কে। এই দেবী বসন্তের উর্বরতা, নবজন্ম ও সূর্যের শক্তির প্রতীক ছিলেন। সপ্তম শতকের ইংল্যান্ড ও জার্মানির জনগণ তাঁর আরাধনা করতো।

Easter -এর উৎপত্তিও Ēostre-এর নাম থেকে বলে বহু ঐতিহাসিক মত দেন। বিখ্যাত ইংরেজ ধর্মতাত্ত্বিক বিডি ‘Venerable Bede’ তাঁর De temporum ratione গ্রন্থে Ēostre পূজার উল্লেখ করেন। Ēostre-এর প্রতীক ছিল খরগোশ ও ডিম। কেন? কারণ খরগোশ দ্রুত বংশবৃদ্ধি ও প্রজননের ক্ষমতার জন্য উর্বরতার প্রতীক। একইভাবে ডিম প্রাচীনকাল থেকে জীবন ও পুনর্জন্মের প্রতীক। বসন্তে জমি উর্বর, প্রকৃতিতে প্রাণ ফিরে আসে। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই Ēostre-এর উর্বরতা পূজায় খরগোশ ও ডিমের গুরুত্ব ছিল। ১১শ শতকে খ্রিস্টধর্ম ইউরোপজুড়ে প্রবল হয়ে ওঠার পর বহু প্যাগান রীতিনীতি খ্রিস্টীয় আচার-অনুষ্ঠানের সাথে মিশে যায়। Ēostre পূজার বহু আচার-অনুষ্ঠান, প্রতীক ও লোককাহিনি খ্রিস্টীয় ইস্টার উৎসবে স্থান পায়। গবেষকরা বলেন, খ্রিস্টানরা নিজেদের ধর্মীয় উৎসবের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এইসব পূর্ব-প্রচলিত প্রতীক ও লোকজ রীতিকে ধর্মীয়করণ করে নেয়।

বিশেষত খ্রিস্টীয় ইস্টার যিশুর পুনরুত্থান উদযাপন করে, যেখানে পুনর্জন্ম, জীবনের বিজয় ও নবচেতনা বিষয়গুলো প্যাগান Ēostre পূজার থিমের সাথে সাযুজ্যপূর্ণ ছিল। ১৩শ থেকে ১৬শ শতকের মধ্যযুগীয় ইউরোপীয় লোককাহিনিতে আমরা “Spring Hare” বা “Easter Hare” চরিত্রের ইঙ্গিত দেখতে পাই। বলা হয় Ēostre একবার একটি পাখিকে খরগোশে রূপান্তরিত করেছিলেন। সেই খরগোশ পাখির স্বভাব হারায়নি, সে আজও ডিম পাড়ে! এই অদ্ভুত কল্পকাহিনি থেকেই ডিম পাড়া খরগোশ বা ইস্টার বানি এর ধারণার সূচনা।১৬৮০ সালে জার্মানির লোকগাঁথা গ্রন্থ De ovis paschalibus -এ প্রথম ইস্টার বানি-এর লিখিত উল্লেখ পাওয়া যায়। গল্প অনুসারে ইস্টার বানি বসন্ত উৎসবে ভালো শিশুদের জন্য রঙিন ডিম লুকিয়ে রাখে। তখন থেকেই এই চরিত্রটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়।

১৮শ শতকে জার্মান অভিবাসীরা ইস্টার বানি-এর ঐতিহ্য নিয়ে আমেরিকায় প্রবেশ করে। পেনসিলভানিয়ার জার্মান সম্প্রদায় প্রথম এই প্রথা চালু করে, যেখানে শিশুরা ইস্টারের রাতে “Osterhase” (ডিম পাড়া খরগোশ)-এর জন্য টুকরো খড় দিয়ে বাসা বানাতো। খরগোশটি সেখানে ডিম রেখে যেত। ধীরে ধীরে এই ডিমের সাথে চকোলেট, খেলনা ইত্যাদিও যুক্ত হয়। ১৯শ শতকের শেষ দিকে এবং ২০শ শতকে বানিজ্যিকীকরণের ফলে ইস্টার বানির চরিত্র আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আমরা যদি গভীর দৃষ্টিতে দেখি, ইস্টার বানি কোনো একক ধর্মীয় চরিত্র নয়, উর্বরতা, পুনর্জন্ম ও সময়চক্রের এক সাংস্কৃতিক প্রতীক। খ্রিস্টান ইস্টার যিশুর পুনরুত্থানকে স্মরণ করে, এটি জীবন-মৃত্যু-জীবনের প্রতিচক্র। কিন্তু এর সাথে জড়ানো রয়েছে প্যাগানদের প্রকৃতির পুনর্জাগরণ ও উর্বরতার চেতনা।

তাছাড়া খরগোশের প্রতীকি মূল্য এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, মধ্যযুগীয় খ্রিস্টীয় শিল্পকলায়ও Virgin Mary-এর সাথে পবিত্রতার প্রতীকরূপে হেয়ার’কে চিত্রিত হয়েছে। বিখ্যাত ব্রিটিশ নৃতাত্ত্বিক জেমস ফ্রেজার তাঁর বই The Golden Bough-এ বলেন, “প্রতিটি বসন্ত উৎসবে আমরা মানবজাতির গভীর অন্তর্নিহিত প্রজনন ও নবজীবনের আকাঙ্ক্ষাকে উপলব্ধি করি। ইস্টার বানি সেই আকাঙ্ক্ষারই এক চিত্ররূপ।” ইস্টার বানির প্রতীকী ধারণা শুধু ইউরোপ-আমেরিকাতেই নয়, বহু পুরাতন সভ্যতায় খরগোশ ও ডিমের গুরুত্ব ছিল।

– মিসরীয় পুরাণ: খরগোশ চাঁদের প্রতীক।
– চীনা পুরাণ: চাঁদের মধ্যে “Jade Rabbit” (যা অমরত্বের ওষুধ প্রস্তুত করে)।
– ভারতের চন্দ্রকথা: খরগোশের বলিদানের গল্প (যেটি চাঁদে স্থান পায়)।
– মায়ান সভ্যতা: চাঁদ ও উর্বরতার সাথে খরগোশের সংযোগ দেখা যায়।

আজকের দিনে ইস্টার বানির উপস্থিতি যেন শুধুই বাণিজ্যিক ও শিশুসুলভ বিনোদন— চকোলেট ডিম, কার্টুন বানি, বসন্ত উৎসব। কিন্তু এই বহিরাঙ্গিক খোলসের নিচে ইতিহাস, পুরাণ ও প্রতীকের এক গভীরতর স্তর রয়েছে।

ইস্টার বানির চরিত্র আমাদের মনে করিয়ে দেয় সংস্কৃতি কখনো একরৈখিক নয়। বরং প্রাচীন দেবী Ēostre-এর উর্বরতা পূজা, মধ্যযুগীয় লোকগাঁথা, খ্রিস্টীয় পুনর্জন্মের বার্তা ও আধুনিক কল্পনা সব মিলে এক অদ্ভুত, অন্য এক প্রতীক নির্মাণ করেছে। ইস্টার বানির চোখের পেছনে যেন লুকিয়ে আছে কয়েক হাজার বছরের মানবসমাজের সাংস্কৃতিক চেতনার ছায়া। যখন কোনো শিশু উচ্ছস্বিত চোখে ইস্টার ডিম খোঁজে আমরা যেন ভুলে না যাই, সে কেবল ডিম নয়, বরং হাজার বছরের পুরনো এক পৌরাণিক চেতনা ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকেও স্পর্শ করছে!

বিএনপি নাকি জামায়াত – নির্বাচনে কোন দিকে যাবে ইসলামপন্থি দলগুলো ?

কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক পাঁচটি দল নির্বাচনি জোট করার তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে বড় ইসলামি দল জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অন্য দলগুলোর মধ্যে। অন্যতম প্রধান দল বিএনপিও ইসলামি দলগুলোকে কাছে টানার চেষ্টায় রয়েছে। ইসলামী দলগুলোর নেতারা বলছেন, দেশে পট পরিবর্তনের পর রাজনীতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ একটা অবস্থান তৈরির সুযোগ এসেছে বলে তারা মনে করছেন। এই সুযোগ কাজে লাগাতে চান তারা। সেজন্য তারা ইসলামপন্থিদের ঐক্য বা একটি জোট গঠনের তাগিদ অনুভব করছেন। কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক ও ধর্মীয় নেতা বা পীরদের নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে জামায়াতের সম্পর্কের দূরত্ব ছিল। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর জামায়াত অন্য ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করেছে। জামায়াত নেতারা ঐক্যের ব্যাপারে কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক বিভিন্ন দলের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।

তবে ঐক্যের ব্যাপারে দলটির অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছে বলে অন্য ইসলামি দলগুলোর নেতারা মনে করছেন। কারণ এখন ঐক্য তৈরি প্রক্রিয়ায় জামায়াত অংশ নিচ্ছে না। জামায়াতের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, কোনো জোটে না গিয়ে জামায়াত স্বতন্ত্র অবস্থানে থেকে দলগতভাবে নির্বাচন করতে চায়। এবার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসার চিন্তা তাদের মধ্যে রয়েছে। একইসঙ্গে ইসলামপন্থিসহ বিভিন্ন দলকে কাছে রেখে নিজেদের একটা বলয় তৈরির চিন্তা নিয়েও এগোচ্ছে দলটি। আর এমন চিন্তার ক্ষেত্রে জামায়াত গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের দল এনসিপির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলনসহ পাঁচটি দল তাদের ঐক্য প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার তৎপরতা চালাচ্ছে। ইসলামি দলের বাইরেও গণঅধিকার পরিষদ ও ডানপন্থি কিছু দলের সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ রয়েছে। ইসলামি দলগুলোর পাশাপাশি তাদের বিভিন্ন সংগঠন বা ফোরামের পক্ষ থেকেও তাদের অবস্থানের জানান দিতে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। হেফাজতও ঢাকায় জমায়েত করে তারা নতুন করে তাদের অবস্থানের একটা বার্তা দিতে চাইছে।বিএনপি নেতারা বলছেন, যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর বাইরেও ইসলামপন্থি বিভিন্ন দলকে কাছে রাখতে চাইছে বিএনপি। সেজন্য তারা আলোচনাও চালাচ্ছে। আর এসব দলকে কাছে রেখে জোটবদ্ধ না হয়ে একটা বলয় তৈরির ক্ষেত্রেও আসন দিতে হবে বিএনপিকে। দলটি সে ধরনের সমঝোতায়ও যেতে পারে বলে মনে হয়েছে।

নির্বাচনে জামায়াত ছাড়া ইসলামপন্থি অন্য দলগুলোর নেতাদের এককভাবে জয়ী হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। ফলে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা হলে তাদের জেতার সম্ভবনা থাকে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দলগুলোর বেশিরভাগই বিএনপির দিকে ঝুঁকবে এবং তাতে ইসলামপন্থিদের ঐক্যের ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভোটের হার কম থাকলেও ইসলামপন্থি দলগুলো সঙ্গে থাকলে এরও একটা রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। এসব বিবেচনায় এবার বিএনপি ও জামায়াত তাদের পৃথকভাবে কাছে টানার চেষ্টায় রয়েছে।

ডিএনএ-র আকার পরিবর্তন করে দিতে পারে , দীর্ঘমেয়াদী ক্যানাবিস সেবন

সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে ক্যানাবিসের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার মানবদেহের ডিএনএ-তে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এই গবেষণাটি ১,০০০ এরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর পরিচালিত হয়েছে এবং এর ফলাফলগুলো বিজ্ঞানী ও চিকিৎসাবিদদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। গবেষণার মূল বিষয় হলো কিভাবে ক্যানাবিস মানুষের ডিএনএ-তে পরিবর্তন আনে, তবে প্রকৃত জেনেটিক কোডে কোনো পরিবর্তন করে না। এর পরিবর্তে ক্যানাবিস ডিএনএ মিথাইলোশনের মাধ্যমে মানুষের এপিজেনোমে পরিবর্তন ঘটায়।

এপিজেনোম হলো সেই সিস্টেম যা নিয়ন্ত্রণ করে কোন জিন সক্রিয় হবে এবং কোনটি নিষ্ক্রিয় থাকবে। এটি জীববিজ্ঞানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কারণ এটি ডিএনএ-এর উপরে রাসায়নিক ট্যাগ যুক্ত করে, যেগুলো কোষকে নির্দিষ্ট জেনেটিক নির্দেশনা পড়ার পদ্ধতি পরিবর্তন করে। ডিএনএ মিথাইলোশন এমন এক প্রক্রিয় যার মাধ্যমে ডিএনএ-তে মিথাইল গ্রুপ যুক্ত হয়, একাধিক শারীরিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। এই প্রক্রিয়া শরীরের বিভিন্ন কার্যকলাপ যেমন কোষের বৃদ্ধি, হরমোন কার্যকলাপ, এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। ক্যানাবিসের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার এই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন সৃষ্টি করতে পারে।

নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী ১,০০০ জন মানুষের উপর ২০ বছর ধরে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। গবেষণায় তারা ১৫ এবং ২০ বছর বয়সে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন এবং ক্যানাবিস ব্যবহারের সাথে সংশ্লিষ্ট ডিএনএ মিথাইলোশনের পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। গবেষকরা দুই গ্রুপে বিভক্ত করে গবেষণা করেন, একটি গ্রুপে যারা সাম্প্রতিক সময়ে ক্যানাবিস ব্যবহার করছিল, আরেকটি গ্রুপে যারা দীর্ঘমেয়াদীভাবে ক্যানাবিস ব্যবহার করছিল।

গবেষণায় দেখা যায়, সাম্প্রতিক ক্যানাবিস ব্যবহারের সঙ্গে ২২টি ডিএনএ পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের সঙ্গে ৩১টি ডিএনএ পরিবর্তন ছিল প্রথম সেটের নমুনাগুলিতে। দ্বিতীয় সেটে, যেখানে ১৫ থেকে ২০ বছর পরে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল সেখানে ১৩২টি পরিবর্তন সাম্প্রতিক ব্যবহারের সঙ্গে এবং ১৬টি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের সঙ্গে পাওয়া গেছে। এই ফলাফলগুলো ক্যানাবিসের শরীরে সৃষ্ট পরিবর্তনের প্রকৃতির ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।

গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, একটি ডিএনএ পরিবর্তন তামাক ব্যবহারকারীদের মধ্যে দেখা গেছে, এটি প্রমাণ করে যে ক্যানাবিস এবং তামাক একই ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। ক্যানাবিস এবং তামাক উভয়ই শরীরে কিছু প্রভাব ফেলতে পারে, যা কোষের বৃদ্ধি, হরমোন কার্যকলাপ এবং মস্তিষ্কের কিছু রোগের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। কিছু পরিবর্তন স্কিজোফ্রেনিয়া, মাদকাসক্তি এবং অন্যান্য মানসিক রোগের কারণ হতে পারে।

গবেষণায় ক্যানাবিস ব্যবহারের সঙ্গে কিছু ডিএনএ পরিবর্তনগুলির সম্পর্ক পাওয়া গেলেও গবেষকরা উল্লেখ করেছেন গবেষণাটি কেবল একটি সম্পর্ক দেখিয়েছে, তবে এর মানে এই নয় যে এই পরিবর্তনগুলো সরাসরি কোনো রোগ সৃষ্টি করবে।

উপমহাদেশের প্রথম মে দিবস ও প্রতিবাদের সংস্কৃতি

এক গ্রীষ্মের সকাল, মাদ্রাজ শহর তখন উত্তাল। শহরের কেন্দ্রে মুষ্টিমেয় শ্রমিকরা হেঁটে আসছে, তাদের হাতে লাল পতাকা। সড়কগুলো তখন ব্যস্ত, তার মধ্যেই এক নতুন আন্দোলনের চিহ্ন, এটি ছিল শ্রমিকদের এক নতুন ইতিহাস তৈরির মুহূর্ত। মাদ্রাজের এই লাল সূর্য শুধু শহরের নকশা বদলে দিচ্ছিল না, এটির আলো ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো ভারতবর্ষে।

১৯২৩ সালের ১ মে তৎকালীন মাদ্রাজ (বর্তমান চেন্নাই) শহরে এক তামিল সমাজতান্ত্রিক নেতা এম. সিঙ্গারাভেলু চেট্টিয়ার প্রথমবারের মতো মে দিবস পালন করেন। তিনি ‘লেবার কোর্টস’ নামক একটি শ্রমিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি শ্রমিকদের জন্য অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে লাল পতাকা উত্তোলন করেন। এটি ছিল ভারতের প্রথম মে দিবস উদযাপন এবং এর মাধ্যমে শ্রমিক আন্দোলনের নতুন দিগন্তের সূচনা হয়।

এই দিনের ঘটনা শুধু একটি রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, এটি ছিল শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা, যা পরবর্তীকালে ভারতের নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বাংলায়, যেখানে শ্রমিক আন্দোলন একটি শক্তিশালী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের অঙ্গ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল।

মাদ্রাজে মে দিবসের প্রথম উদযাপনকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ১৯২০-৩০ দশকে ব্রিটিশ শাসকদের কাছে মে দিবস ছিল এক বিপ্লবী শক্তির চিহ্ন। তারা বিশ্বাস করেছিল যে এই আন্দোলনগুলি শ্রমিকদের মধ্যে বিপ্লবী চেতনা জাগ্রত করবে, যা তাদের শাসনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ফলে কলকাতা এবং চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ বন্দরশহরগুলোতে ব্রিটিশ গভর্নররা ‘রেড-অ্যালার্ট’ জারি করেন এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি আরোপ করেন।

ব্রিটিশদের আশঙ্কা ছিল, শ্রমিকরা যদি একত্রিত হয়ে আন্দোলনে শামিল হয়, তবে তাদের শাসনব্যবস্থা বিপন্ন হতে পারে। এই কারণেই কলকাতা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে মে দিবসের সমাবেশগুলো ছিল বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু। ব্রিটিশ প্রশাসন বুঝতে পারছিল এই শ্রমিক আন্দোলন যে কোনও সময় বিপ্লবী সত্তায় রূপ নিতে পারে।

বাংলায় মে দিবসের প্রথম উদযাপন যদিও তামিল অঞ্চলের মতো সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়নি, তবুও শ্রমিক আন্দোলনের প্রতি সচেতনতা তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়। কলকাতা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামের মতো শহরগুলিতে শ্রমিকদের মধ্যে সংগঠন ও প্রতিবাদ এক নতুন মাত্রা পায়। পাটকল, ছাপাখানা, এবং ডকইয়ার্ডের শ্রমিকরা তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সচেতন হতে শুরু করে।

কিন্তু বাংলার শ্রমিক আন্দোলনের এক বিশেষত্ব ছিল এর সাংস্কৃতিক দিক। বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিতে, যেখানে শ্রমিকদের শোষণ ছিল প্রচণ্ড এবং তাদের জীবনযাত্রা ছিল অত্যন্ত কঠিন, সেখানে শ্রমিকরা এই সংগ্রামের মাধ্যমে তাদের আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। তাদের আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি ছিল এক সাংস্কৃতিক প্রতিফলনও। তাদের গানে, কবিতায়, এবং বক্তৃতায় ছিল এক নতুন শক্তির সৃষ্টি। তারা তাদের শ্রমের মর্যাদা এবং জীবনযাত্রার অধিকার চেয়েছিল, যা তাদের সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামাজিক চেতনার এক অংশ হয়ে উঠেছিল।

শ্রমিক আন্দোলনের গানে ছিল এক গভীর প্রতিবাদ। তারা শুধু শোষণের বিরুদ্ধে নয়, বরং তাদের নিজেদের সংস্কৃতির জন্যও সংগ্রাম করছিল। “লাল পতাকা” ছিল সেই সংগ্রামের অন্যতম চিহ্ন, যা তাদের একতার এবং স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কলকাতা ও চট্টগ্রামে শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরত এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল।

বাংলাদেশের বিশেষত চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলে, যেখানে শিল্পায়ন শুরু হয়েছিল এবং শ্রমিকদের শোষণ ছিল সর্বোচ্চ, সেখানে মে দিবসের আন্দোলন শ্রমিকদের নতুন প্রেরণা জুগিয়েছিল। তাদের গানে, কবিতায়, এবং দৈনন্দিন জীবনে এই আন্দোলন একটি নতুন ভাষা এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করেছিল, যা পরবর্তীতে বাংলার শ্রমিক আন্দোলনের সাংস্কৃতিক ভিত্তি গড়ে তোলে।

বাংলাদেশে মে দিবসের গুরুত্ব কেবল একটি রাজনৈতিক আন্দোলন ছিল না, ছিল এক সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা। এই আন্দোলন শ্রমিকদের মধ্যে একতা, আত্মমর্যাদা, ও স্বাধীনতার চেতনা তৈরি করতে সহায়তা করেছিল। ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী যে শ্রমিকদের আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে ভয় পেত, তা ছিল সম্পূর্ণ সত্যি। কারণ এটি কেবল শ্রমিকদের অধিকারের প্রশ্ন নয়, ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে এক সাংস্কৃতিক সংগ্রামের প্রাথমিক দিক।

শ্রমিকরা তাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং এর সঙ্গে ছিল এক শক্তিশালী সাংস্কৃতিক বিপ্লব, যা পরবর্তীতে ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলায়, বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কলকাতা, নারায়ণগঞ্জে, শ্রমিকদের আন্দোলন শুধু শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছিল না, এটি ছিল তাদের সংস্কৃতির, অধিকার, এবং স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম।

বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার ঝুঁকি বেড়েছে – রয়টার্সের জরিপ

বিশ্ব অর্থনীতি চলতি বছরে মন্দার কবলে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে গেছে। ৫০টি দেশের অর্থনীতিবিদ এমন আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক জরিপে অধিকাংশ অর্থনীতি বিশ্লেষক মত প্রকাশ করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়িক আস্থা নষ্ট করেছে, বিনিয়োগ পরিবেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। ফলে চলতি বছর মন্দার ঝুঁকি অনেক বেড়েছে। মাত্র তিন মাস আগেও এ অর্থনীতিবিদদের অধিকাংশ বিশ্ব অর্থনীতিতে ধারাবাহিক ও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পের বিশ্ব বাণিজ্য ‘নতুনভাবে গঠনের’ উদ্যোগ, বিশেষ করে সব আমদানির ওপর শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত আর্থিক বাজারে তীব্র অভিঘাত সৃষ্টি করেছে। ফলে ট্রিলিয়ন ডলারের শেয়ারবাজার মূল্য হ্রাস পেয়েছে। ডলারসহ যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদগুলোয় বিনিয়োগকারীদের আস্থা নড়বড়ে হয়েছে।

জরিপে অংশগ্রহণকারী ৩০০ জনেরও বেশি অর্থনীতিবিদের মধ্যে কেউই শুল্কনীতির ইতিবাচক প্রভাব দেখেননি। ৯২% অর্থনীতিবিদ বলেছেন, এটি ব্যবসায়িক মনোবলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মাত্র ৮% নিরপেক্ষ মত দিয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই ভারত ও অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির প্রতিনিধি। চলতি বছরে বৈশ্বিক মন্দার সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ১৬৭ জন বিশ্লেষকের মধ্যে ১০১ জন ‘উচ্চ’ বা ‘খুব উচ্চ’ ঝুঁকির কথা বলেছেন। ৬৬ জন বলেছেন ঝুঁকি ‘কম’, যার মধ্যে চারজন বলেছেন ‘অত্যন্ত কম’।

জরিপে ২০২৫ সালের জন্য বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে আনা হয়েছে। জানুয়ারি মাসের জরিপে এই অর্থনীতিবিদেরাই বলেছিলেন, প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ শতাংশ। এবার তা ২ দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। চীন ও রাশিয়ার অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে ভালো করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা মনে করছেন, চীনের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ; রাশিয়ার হতে পারে ১ দশমিক ৭ শতাংশ।

শুধু আমেরিকা নয় , আমি গোটা বিশ্ব চালাচ্ছি : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং পুরো পৃথিবী পরিচালনা করছেন এবং এতে তিনি ‘অনেক আনন্দ’ পাচ্ছেন। দ্বিতীয় দফা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রথম ১০০ দিন উপলক্ষে মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, প্রথমবার আমার দুটি কাজ ছিল — দেশ চালানো এবং টিকে থাকা; তখন চারপাশে ছিল দুর্নীতিগ্রস্ত লোকজন। এবার দ্বিতীয়বার, আমি দেশ ও পুরো পৃথিবী চালাচ্ছি। ট্রাম্প জানান — প্রথমবারের তুলনায়, দ্বিতীয় মেয়াদে নিজেকে বেশি শক্তিশালী মনে হচ্ছে তাঁর। প্রশাসনে এবার সমস্ত বিশ্বস্ত লোকজন রয়েছেন। আগের মেয়াদে কিছু কুটিল লোকজন ছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র দ্য আটলান্টিককে জানিয়েছেন, ট্রাম্পকে প্রায় সময় উচ্ছ্বসিত দেখা যায় এবং তার চোখে-মুখে আত্মবিশ্বাসের ছাপ স্পষ্ট। ‘আমি যা করি তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আমি এতে আনন্দ পাই। এটা মজার বিষয়, যদিও এটি খুবই গুরুতর দায়িত্ব’, বলেন ট্রাম্প। গত সোমবার পূর্বসূরি জো বাইডেনের অর্থনৈতিক নীতিমালার সমালোচনা করে সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশালে পোস্ট করে ট্রাম্প জানান, তিনি আমেরিকার সুদিন ফিরিয়ে আনবেন। মেয়াদের প্রথম ১০০ দিন শেষেও জনমত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের ভোটারদের অনেকেই এখনো তার ওপর ভরসা রাখছেন। এ বিষয়টিও তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। গত রোববার ওয়াশিংটন পোস্ট ও এবিসি নিউজের জরিপে দেখা গেছে, ৩৯% মার্কিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কার্যক্রমকে সমর্থন করেন।

বিল ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়া আর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা মেয়াদের প্রথম ১০০ দিনে (অ্যাপ্রুভাল রেটিং) ৫০ শতাংশের নিচে নামেনি। এই তথ্য জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ। গত সোমবার ট্রাম্প এই জরিপের ফলকে ‘ভুয়া সংবাদ’ বলে আখ্যা দেন। ট্রুথ সোশালের পোস্টে গর্ব করে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব ভালো করছি, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আমরা ভালো আছি।’ তবে আলোচনায় আসে একটি বিতর্কিত প্রশ্ন — তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট পদে আবারও প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রেসিডেন্ট হতে পারেন না। অথচ ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি তৃতীয়বারের মতোও নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন।

এ ধরনের বক্তব্যে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়। কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করেন যে — ট্রাম্প হয়তো মার্কিন নির্বাচনব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে পারেন, যাতে তিনি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারেন। এমনকি ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা পণ্যও তার অফিসিয়াল অনলাইন স্টোরে দেখা গেছে, যা গুজব আরও উসকে দিয়েছে। তবে এবার স্পষ্ট ভাষায় ট্রাম্প জানালেন, তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। ‘এটা আমি করার কথা ভাবছি না। আর এটা খুবই জটিল একটি বিষয় হবে’, বলেন তিনি। এই বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প হয়তো বিতর্ক প্রশমিত করার চেষ্টা করছেন, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘ট্রাম্প ২০২৮’ ইস্যুটি আগামী দিনগুলোতে আরও আলোচনার জন্ম দিতে পারে।