সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে ক্যানাবিসের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার মানবদেহের ডিএনএ-তে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটাতে পারে। এই গবেষণাটি ১,০০০ এরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর পরিচালিত হয়েছে এবং এর ফলাফলগুলো বিজ্ঞানী ও চিকিৎসাবিদদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। গবেষণার মূল বিষয় হলো কিভাবে ক্যানাবিস মানুষের ডিএনএ-তে পরিবর্তন আনে, তবে প্রকৃত জেনেটিক কোডে কোনো পরিবর্তন করে না। এর পরিবর্তে ক্যানাবিস ডিএনএ মিথাইলোশনের মাধ্যমে মানুষের এপিজেনোমে পরিবর্তন ঘটায়।
এপিজেনোম হলো সেই সিস্টেম যা নিয়ন্ত্রণ করে কোন জিন সক্রিয় হবে এবং কোনটি নিষ্ক্রিয় থাকবে। এটি জীববিজ্ঞানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, কারণ এটি ডিএনএ-এর উপরে রাসায়নিক ট্যাগ যুক্ত করে, যেগুলো কোষকে নির্দিষ্ট জেনেটিক নির্দেশনা পড়ার পদ্ধতি পরিবর্তন করে। ডিএনএ মিথাইলোশন এমন এক প্রক্রিয় যার মাধ্যমে ডিএনএ-তে মিথাইল গ্রুপ যুক্ত হয়, একাধিক শারীরিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। এই প্রক্রিয়া শরীরের বিভিন্ন কার্যকলাপ যেমন কোষের বৃদ্ধি, হরমোন কার্যকলাপ, এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। ক্যানাবিসের দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার এই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন সৃষ্টি করতে পারে।
নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী ১,০০০ জন মানুষের উপর ২০ বছর ধরে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। গবেষণায় তারা ১৫ এবং ২০ বছর বয়সে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেন এবং ক্যানাবিস ব্যবহারের সাথে সংশ্লিষ্ট ডিএনএ মিথাইলোশনের পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। গবেষকরা দুই গ্রুপে বিভক্ত করে গবেষণা করেন, একটি গ্রুপে যারা সাম্প্রতিক সময়ে ক্যানাবিস ব্যবহার করছিল, আরেকটি গ্রুপে যারা দীর্ঘমেয়াদীভাবে ক্যানাবিস ব্যবহার করছিল।
গবেষণায় দেখা যায়, সাম্প্রতিক ক্যানাবিস ব্যবহারের সঙ্গে ২২টি ডিএনএ পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের সঙ্গে ৩১টি ডিএনএ পরিবর্তন ছিল প্রথম সেটের নমুনাগুলিতে। দ্বিতীয় সেটে, যেখানে ১৫ থেকে ২০ বছর পরে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল সেখানে ১৩২টি পরিবর্তন সাম্প্রতিক ব্যবহারের সঙ্গে এবং ১৬টি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের সঙ্গে পাওয়া গেছে। এই ফলাফলগুলো ক্যানাবিসের শরীরে সৃষ্ট পরিবর্তনের প্রকৃতির ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।
গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, একটি ডিএনএ পরিবর্তন তামাক ব্যবহারকারীদের মধ্যে দেখা গেছে, এটি প্রমাণ করে যে ক্যানাবিস এবং তামাক একই ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। ক্যানাবিস এবং তামাক উভয়ই শরীরে কিছু প্রভাব ফেলতে পারে, যা কোষের বৃদ্ধি, হরমোন কার্যকলাপ এবং মস্তিষ্কের কিছু রোগের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। কিছু পরিবর্তন স্কিজোফ্রেনিয়া, মাদকাসক্তি এবং অন্যান্য মানসিক রোগের কারণ হতে পারে।
গবেষণায় ক্যানাবিস ব্যবহারের সঙ্গে কিছু ডিএনএ পরিবর্তনগুলির সম্পর্ক পাওয়া গেলেও গবেষকরা উল্লেখ করেছেন গবেষণাটি কেবল একটি সম্পর্ক দেখিয়েছে, তবে এর মানে এই নয় যে এই পরিবর্তনগুলো সরাসরি কোনো রোগ সৃষ্টি করবে।


