ট্রাম্পের আমেরিকাকে উপেক্ষা করে এগিয়ে যাচ্ছে চীন

২০২৪ সালে চীন থেকে রপ্তানিকৃত ৩৪ বিলিয়ন ডলারের খেলনার মধ্যে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার গিয়েছিল আমেরিকায়। কিন্তু এখন এসব পণ্যের ওপর ২৪৫% পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনকে দোষারোপ করছেন বাজার দখলের জন্য। কিন্তু ২০১৮ সালের ট্রাম্পের প্রথম বাণিজ্যযুদ্ধের পর অনেক কিছু বদলে গেছে। চীন এখন বলছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের সামনে মাথা নত করবে না। সামাজিক মাধ্যমে দেশজ উদ্ভাবন ও কূটনীতির প্রশংসা করে ট্রাম্পের অনিশ্চয়তার সমালোচনা চলছে। চীন যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ‘চাপ প্রয়োগকারী’ হিসেবে তুলে ধরতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

কারখানা ও বাজারগুলোতেও ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্রাম্পের আমেরিকার বাইরেও তাদের বিকল্প বাজার রয়েছে। খেলনা ব্যবসায়ী হু তিয়ানচিয়াং বলছেন, এখন তাঁর ২০-৩০% বিক্রি আমেরিকায়, বাকীটা দক্ষিণ আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে। তিনি বলেন, “আমরা ঐ ২০-৩০% নিয়ে চিন্তিত নই। আমাদের এখন টাকা আছে, আমরা ধনী।” খেলনা ব্যবসায়ী লিন শিউপেং মনে করেন, “আমেরিকার এখনো চীনের প্রয়োজন — তাদের অধিকাংশ খেলনা এখান থেকেই আসে।” এদিকে আমেরিকার খেলনা ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের জনাথন ক্যাথি বলেন, “এই শুল্ক ছোট ব্যবসাগুলোকে ধ্বংস করছে। আমার পুরো সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার মুখে।”

চীনের সাথে ট্রাম্প প্রশাসনের উত্তেজনা আবারও তুঙ্গে। চীন-পানামা খালের বিষয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ, গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি ও বিরল খনিজ নিয়ে চীনের একচেটিয়ার বিরোধিতা — এসবই এই উত্তেজনার অংশ। চীন বলছে, এই বাণিজ্য যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তবে অর্থনীতির অন্যান্য সমস্যাও মাথাচাড়া দিয়েছে — কম খরচ, আবাসন সংকট ও সঞ্চয় হ্রাস। গোল্ডম্যান স্যাচস জানিয়েছে, চীনের প্রবৃদ্ধি ৪.৫% হবে, যা সরকার নির্ধারিত ৫%-এর চেয়ে কম। রপ্তানি পড়ে যাচ্ছে, ফ্যাক্টরিতে মালামাল জমে আছে। আমেরিকা এখনো চীনের ওপর নির্ভরশীল — ফোন, কম্পিউটার, আসবাবপত্র, পোশাক ও খেলনা সবই আসে চীন থেকে। শুধুমাত্র ইলেকট্রনিক্স ও যন্ত্রাংশ আমদানি ৫০% এর বেশি।

ওয়ালমার্ট ও টার্গেট ট্রাম্পকে সতর্ক করেছে — পণ্যঘাটতি ও মূল্যবৃদ্ধি আসছে। ক্রিসমাসের জন্য প্রায় ৯০% সজ্জা আসে চীনের ইইউ থেকে, এখন সেগুলোর বাজার দক্ষিণ আমেরিকা। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক অর্ধেকে নামিয়ে আনা হতে পারে। তিনি বলেন, তার প্রশাসন ‘চীনের সঙ্গে একটি ন্যায়সংগত চুক্তি’ করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তবে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই মন্তব্য উড়িয়ে দিয়ে একে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে। এ অবস্থায় মনে হচ্ছে, ট্রাম্প এখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ফোনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন