Home Blog Page 116

শ্রমিকদের জন্য রেশনের প্রস্তাব , বাস্তবায়ন কিভাবে ?

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত শ্রম সংস্কার কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় শিল্পাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকায় শ্রমিকদের জন্য কার্ডভিত্তিক রেশন দেওয়ার সুপারিশ এসেছে।

মাথাপিছু রেশনের পরিমাণ কতটা হবে, সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে কত টাকা লাগবে, অর্থের যোগান কোথা থেকে আসবে, ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কে পালন করবে – এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।

গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খাদ্য মূল্যস্ফীতির জন্য তো শ্রমিক দায়ী না। এটা রাষ্ট্রের নৈতিক দায় তাদের রেশন দেওয়ার। শ্রমিকরা রেশন পেলে তাদের পুষ্টি বাড়বে, যা উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে।”

বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) শিল্পের অবদান ২১%। এটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। শিল্পের ৫০%ই উৎপাদন খাতের, আর উৎপাদনের ৮০% অবদান তৈরি পোশাক শিল্পের।

সুতরাং দেশের অর্থনীতির স্বার্থেই পোশাক খাতের শ্রমিকদের রেশন দেওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক বিনায়ক সেন।

রেশন দিতে বছরে কত টাকা লাগবে তা নিয়ে এখনো কোনো ধারণাপত্র তৈরি করেনি কোনো পক্ষ। তবে রাজধানীর একটি সেমিনারে এ বিষয়ে নিজের পর্যব্ক্ষেণ ‍তুলে ধরেছিলেন বিনায়ক সেন। তিনি বলেছিলেন, মূল্যস্ফীতি ৫-৬ শতাংশে নেমে না আসা পর্যন্ত রেশন দিতে পারলে জাতীয় উৎপাদন ব্যবস্থা ঠিক থাকবে।

“রেশন বাবদ শ্রমিক প্রতি অন্তত এক হাজার টাকার ভর্তুকি দিলে মাসে ৪০০ কোটি টাকা লাগবে। বছরে যা প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার মত। সরকার জাতীয় বাজেটে এ পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিতে পারে টিসিবির (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) মাধ্যমে।’’

মোটা দাগে বললে (পোশাক শ্রমিকদের জন্য) রেশন বাবদ সরকারকে প্রতি বছর বাজেটে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে প্রাথমিক পর্যায়ে। এখন এই অর্থের উৎস কী হবে, সে বিসয়ে কোনো প্রস্তাব করেনি সরকার, শ্রমিক পক্ষ বা শ্রমিক সংগঠনগুলো।

বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক লিড ইকোনোমিস্ট জাহিদ হোসেন মনে করেন, রেশনের জন্য অর্থায়নে সরকারকে আয় বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে বা অন্য কোনো ভর্তুকি কমিয়ে দিয়ে সেই অর্থ এ খাতে কাজে লাগাতে হবে।

রেশন বা নগদ অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ব্যবস্থাপনায়; অর্থাৎ প্রকৃত সুবিধাভোগীর কাছে তা পৌঁছানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে সরকারের অর্থ প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছানোর দায়িত্ব একটি সংস্থাকে পালন করতে হবে।

জাহিদ হোসেন বলছেন, বিশাল এই শ্রমঘন শিল্পে রেশন সংগ্রহ, কেনাকাটা, ওয়্যার হাউজে পাঠানো ও সবশেষ কারখানা গেইটে পৌঁছানোর মত বিরাট কর্মযজ্ঞ চালানোর সক্ষমতা টিসিবির নেই।

তাছাড়া ৫ হাজার কোটি টাকার সহায়তা পৌঁছে দিতে আরো কত টাকা খরচ যোগ হবে, তারও কোনো গবেষণা নেই।

“সাধারণ কথায় বললে প্রস্তাবটি ভালো শোনায়। কিন্তু দেখার বিষয় হচ্ছে, অর্থের উৎস কী হবে, টাকা বা খাদ্য যাই দেওয়া হোক না কেন, তার সুফল অর্থনীতিতে কী হবে। এসব নিয়ে পূর্ণাঙ্গ গবেষণা হওয়ার পরই বিষয়টি বিবেচনার যোগ্যতা রাখে,” বলেন জাহিদ।

শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও মেট্টোপলিটান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআিই) সভাপতি কামরান টি রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কমিশন প্রস্তাব দিয়েছে মালিক-শ্রমিক, ট্রেড ইউনিয়ন নেতাসহ সবার সঙ্গে কথা বলে এর বাস্তবায়ন করতে হবে।

“রেশনের বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেছেন। এখন সরকার মূল্যায়ন করে দেখতে পারে। তখন বাস্তবায়নের বিষয়টি আসবে।”

সরকারের সিদ্ধান্তের পর অর্থের যোগান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী।

এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামানের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শ্রমিকদের কল্যাণে শ্রম সংস্কার কমিশন অনেকগুলো সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে শ্রমিকদের রেশন দেওয়ার বিষয়টিও আছে, আরও অনেক কিছু আছে। মে দিবস পার হওয়ার পর আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে বসে যেটা যেটা বাস্তবায়ন করা যায় করব।”

গ্রেট পিরামিড – ভিনগ্রহবাসীর কারসাজী নাকি প্রাচীন প্রযুক্তি ?

মিশরের গিজায় অবস্থিত ৪,৫০০ বছরেরও পুরোনো বিশ্বের অন্যতম রহস্যময় স্থাপনা গ্রেট পিরামিড, আজও মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় প্রাশ্নবোধক চিহ্ন। প্রাচীন মিশরের এই স্থাপত্য অবকাঠামো শুধুমাত্র তার আকার এবং নির্মাণের অস্বাভাবিকতা দিয়েই নয়, বরং এর গোপন শক্তির জন্যও আলোচিত হয়ে থাকে। একে ঘিরে বহু তত্ত্ব ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে—তবে সবচেয়ে আলোচিত দুটি তত্ত্ব হল, একটি ভিনগ্রহবাসীর উপস্থিতি এবং অন্যটি প্রাচীন প্রযুক্তি যা মানবজাতির কল্পনা বা বিজ্ঞানকেও ছাড়িয়ে গেছে।

গ্রেট পিরামিডের নির্মাণকাল সম্পর্কে ইতিহাসবিদদের মধ্যে তর্ক রয়েছে, তবে প্রাচীন মিশরীয়দের বিশাল প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিয়ে আলোচনা প্রায়ই উঠে আসে। আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে, তাদের হাতে এমন কোনো প্রযুক্তি ছিল কিনা যা আধুনিক বিজ্ঞানকেও হার মানাতে সক্ষম, তা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে।

প্রথমত গ্রেট পিরামিডের আকার এবং এর গঠনমূলক স্থিতি আধুনিক বিজ্ঞানীদের জন্যও একটি রহস্য। প্রায় ২৫০,০০০টি পাথরের ব্লক ব্যবহার করে এই পিরামিডটি নির্মাণ করা হয়, প্রতিটি ব্লকের গড় ওজন প্রায় ২.৫ টন। শুধুমাত্র এর নির্মাণের জন্যই এমন এক অসাধারণ প্রযুক্তির প্রয়োজন ছিল যা সেই সময়ের মানুষের পক্ষে অবিশ্বাস্য মনে হতো। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন প্রাচীন মিশরীয়রা এমন কিছু প্রযুক্তি জানত, যা আজকের দিনে আমাদের কাছে কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়।

অনেকে বিশ্বাস করেন, এই পিরামিডের পাথরগুলোর সঠিকভাবে স্থাপন এবং তাদের আড়াআড়ি সমন্বয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট গণনা এবং গণনা পদ্ধতির প্রয়োজন ছিল, যা প্রাচীন মানুষ জানত। এটি এক ধরনের প্রাচীন ম্যাথমেটিক্যাল ও জ্যামিতিক প্রযুক্তি হতে পারে যা আজও অনেক অজ্ঞাত।

অন্যদিকে গ্রেট পিরামিডের আঙ্গুল বা গঠন বিশেষত এর মধ্যভাগে গঠিত একটি প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য, যা সৌর শক্তির ব্যবহার বা শক্তির মুদ্রিত ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করতে পারে। ধারণা করা হয়, পিরামিডের অবস্থান ও নির্মাণে সূর্যের শক্তির প্রভাব ফেলার জন্য বিশেষভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

গ্রেট পিরামিডের গঠন ও প্রাচীন নির্মাণ প্রযুক্তি নিয়ে যে রহস্য রয়েছে তা দীর্ঘদিন ধরে কিছু মানুষের মধ্যে কল্পনা সৃষ্টি করেছে যে, সম্ভবত এটি ভিনগ্রহবাসী বা এলিয়েনদের সাহায্যে নির্মিত হয়েছিল। এই তত্ত্বের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক রয়েছে যা গ্রেট পিরামিডের নির্মাণ এবং তার বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পর্কিত।

গ্রেট পিরামিডের ভৌগোলিক অবস্থান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি পৃথিবীর নির্দিষ্ট স্থানগুলোর উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে, যেমন এটি পৃথিবীর চারটি প্রধান দিকের সাথে সঠিকভাবে সোজা থাকে। তাছাড়া এর অবস্থান নির্ধারণে ত্রিভুজাকৃতির সঠিক সমন্বয় এবং আঙ্গিকগুলি সূর্যের রশ্মি গ্রহণের জন্য নির্দিষ্টভাবে পরিকল্পিত বলে মনে করা হয়। কিছু বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মতে, এটা এক ধরনের ভিনগ্রহবাসীদের প্রযুক্তির চিহ্ন হতে পারে, যারা পৃথিবীর প্রাচীনতম সংস্কৃতির সঙ্গে সংযুক্ত ছিল।

আরেকটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হল, পিরামিডের আড়ালে কিছু প্রযুক্তি রয়েছে যা এলিয়েনরা আমাদের পৃথিবীতে এনেছিল। এটি সম্ভবত একটি শক্তি উৎস বা শক্তির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত, যেগুলো আজও মানব জাতির অজানা। এই তত্ত্বের পক্ষে প্রমাণ হিসাবে বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরেছেন পিরামিডের একাধিক গঠনমূলক বৈশিষ্ট্য, যেমন সূর্যের কিরণ নিয়ে তার শক্তির বিপ্লব বা পৃথিবীর গ্র্যাভিটিশনাল ক্ষেত্রের কার্যকরী ব্যবহার।

বিশেষভাবে গ্রেট পিরামিডের শীর্ষ থেকে পৃথিবীর নানা স্থানে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ বা শক্তির সিগন্যালের অস্তিত্বের বিষয়ে গবেষণা চালানো হয়েছে। কিছু বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন, পিরামিডের শীর্ষভাগ এলিয়েনদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত একটি সেতু হতে পারে।

এদিকে এলিয়েন তত্ত্বটি যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, বাস্তবতা সম্ভবত অন্য কোথাও লুকিয়ে আছে। সম্ভবত প্রাচীন মিশরীয়রা এমন কিছু বিজ্ঞানের ধারণা বা প্রযুক্তির ব্যবহার করেছিল যা আজকের মানুষের জন্য এখনও অজ্ঞাত। কিন্তু এর মধ্যে যে রহস্য রয়েছে, তা মানব সভ্যতার ইতিহাসের অমূল্য অংশ।

গ্রেট পিরামিডের গোপন শক্তি নিয়ে আলোচনা কিছুটা রহস্যময় হলেও, এর প্রকৃত গঠন ও শক্তির উৎস এখনও এক অমীমাংসিত বিষয়। প্রাচীন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ভিনগ্রহবাসীদের তত্ত্ব এই দুটি ধারাই গ্রেট পিরামিডের রহস্য উন্মোচনে সাহায্য করেছে। তবে ভবিষ্যতে এই পিরামিডের আরো গভীর অনুসন্ধান ও গবেষণা আমাদের মানব ইতিহাস এবং প্রাচীন প্রযুক্তির নতুন দিক উন্মোচন করতে সাহায্য করতে পারে।

পিরামিডের গঠন থেকে শুরু করে তার শক্তির উৎস, বিভিন্ন তত্ত্বের মধ্যে মিল বা বিরোধ, সবই আমাদের ইতিহাস এবং ভবিষ্যতের জন্য এক গভীর দৃষ্টিভঙ্গি দেয়। আজও এই স্থাপত্য আমাদের সামনে এক গোপনীয়তা রেখে গেছে যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় দিক হয়ে থাকবে।

স্ট্রেস মুক্তির উপায় হিসেবে – যোগব্যায়াম

ব্যস্ত জীবনে স্ট্রেস ও মানসিক চাপ প্রায় সবার নিত্যসঙ্গী। এই চাপ কমাতে ও মানসিক সুস্থতা ফিরিয়ে আনতে যোগব্যায়াম একটি কার্যকর ও স্বীকৃত উপায়। যোগব্যায়াম শুধু দেহের নমনীয়তা বাড়ায় না, মানসিক প্রশান্তিও দেয়। নিয়মিত যোগচর্চা আমাদের শরীর ও মনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে, আত্মউন্নয়নের পথকে মসৃণ করে।

শুধু শারীরিক আসন নয়, যোগব্যায়ামের অংশ হিসেবে শ্বাসপ্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ (প্রাণায়াম), ধ্যান এবং যোগ নিদ্রার মতো বিশ্রামের কৌশলগুলোও চর্চা করা যায়। এই পদ্ধতিগুলো স্ট্রেস হ্রাস করে, মন শান্ত করে এবং গভীর ঘুমে সহায়তা করে।

গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত যোগচর্চায় স্ট্রেস, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। ২০১৮ সালের এক গবেষণায়, যারা সপ্তাহে ৩ দিন করে ৪ সপ্তাহ হঠযোগ চর্চা করেছিলেন, তাদের স্ট্রেস ও উদ্বেগ কমে গিয়েছিল। একইভাবে ২০২০ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যোগব্যায়াম করলেই শরীরে কর্টিসল হরমোন (স্ট্রেস হরমোন) কমে এবং স্নায়ুতন্ত্র শান্ত হয়।

যোগচর্চায় কিছু নির্দিষ্ট আসন স্ট্রেস কমাতে দারুণ কার্যকর। যেমন—

ক্যাট-কাউ পোজ : শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে দেহের নড়াচড়া সমন্বয় করে মন শান্ত করে।

চাইল্ড পোজ : মাটিতে কপাল রাখার এই ভঙ্গি মানসিক প্রশান্তি আনে এবং ক্লান্তি দূর করে।

লেগস-আপ-দ্য-ওয়াল পোজ : দেয়ালে পা উঁচু করে রাখা এই আসন লসিকা প্রবাহ বাড়ায় এবং গভীর বিশ্রাম দেয়।

কর্পস পোজ : দেহ ও মন পুরোপুরি শিথিল করে, স্ট্রেস দূর করে।

শুধু আসনই নয়, প্রাণায়ামের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। জনপ্রিয় প্রাণায়ামগুলোর মধ্যে আছে নাড়ীশোধন (বিকল্প নাসিকা শ্বাস), উদ্দীয়ান শ্বাস, সিমহাসন শ্বাস ও ব্রামরী (গুনগুন শ্বাস)। এগুলো মন শান্ত করে, দেহ-মনকে পুনরুজ্জীবিত করে।

যোগ নিদ্রা নামক ধ্যানপ্রক্রিয়াটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এটি শুয়ে থেকে পরিচালিত ধ্যান, যা গভীর বিশ্রাম ও মানসিক প্রশান্তি দেয়। ৩০ দিনের নিয়মিত যোগ নিদ্রা অভ্যাস স্ট্রেস কমিয়ে ঘুমের মান উন্নত করে এমন প্রমাণও আছে।

যোগচর্চার সময় নেতিবাচক চিন্তা আসাই স্বাভাবিক। তবে এগুলোকে গ্রহণ করে শ্বাস ও শরীরের উপর মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে পারলেই ধীরে ধীরে মন শান্ত হয়। এই সচেতনতা জীবনেও কাজে লাগিয়ে স্ট্রেস কমানো যায়। পাশাপাশি জীবনের দৈনন্দিন রুটিনেও পরিবর্তন আনা জরুরি—যেমন, সময় ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো।

সবশেষে যোগব্যায়াম, ধ্যান ও শ্বাসব্যায়াম দেহ-মনের স্ট্রেস দূর করে সামগ্রিক সুস্থতায় সহায়ক। নিজের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি বেছে নিয়ে ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তুললেই ফল মিলবে। তবে কোন স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে বা ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আইফোন কেন ‘মেড ইন ইউএসএ’ হয় না ?

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনার কথা বলে ট্যারিফ-যুদ্ধ শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্প। তার প্রধান লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে যেসব কারখানা চীনে চলে গেছে সেগুলোকে আবার তার দেশে ফিরিয়ে আনা।

তিনি মনে করেন, আইফোন তৈরি করতে যেসব যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হয় সেগুলোর কারখানা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ফিরিয়ে আনতে পারলেই কেবল তিনি এই বাণিজ্যযুদ্ধে সফল হয়েছেন বলে মনে করবেন। এর জন্য তিনি অ্যাপলকে তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে আনতে একাধিকবার আহ্বান জানিয়েছেন।

আইফোনের পেছনে লেখা থাকে ‘ডিজাইনড বাই অ্যাপল ইন ক্যালিফোর্নিয়া’। পরের লাইনেই থাকে ‘অ্যাসেম্বলড ইন চায়না’। শুধু আইফোনই নয়, অ্যাপলের অন্য প্রায় সব পণ্যের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য।

গত বছর অ্যাপল বিশ্বজুড়ে প্রায় ২৩ কোটি আইফোন বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ৯০ শতাংশই আইফোন সংযোজন হয় চীনে। এছাড়া ভারতসহ কয়েকটি জায়গায় অ্যাপলের পণ্য সংযোজন হয়।

সংযোজন বলা হয় এ কারণে যে, একটি আইফোন তৈরিতে যেসব যন্ত্রাংশ লাগে তা বিশ্বজুড়ে শত শত কোম্পানিতে তৈরি হয়। সুনির্দিষ্ট করে অ্যাপল তাদের ওয়েবসাইটে এরকম ১৪০টি কোম্পানির কথা উল্লেখ করেছে যারা ২০২১ সালে তাদেরকে যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে।

এই কোম্পানিগুলোর কোনোটাই অ্যাপলের মালিকানাধীন নয়। এর মধ্যে কিছু কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে থাকলেও স্বাভাবিকভাবেই বেশিরভাগ কোম্পনিই চীনভিত্তিক। অ্যাপলের চাহিদা ও ডিজাইন অনুযায়ী এসব কোম্পানি যন্ত্রাংশ তৈরি করে দেয়।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো ফক্সকন। চীনের ঝেংজুতে এই কোম্পানির অ্যাসেম্বলি লাইনে প্রায় দুই লাখ কর্মী দিনের ২৪ ঘণ্টা সপ্তাহের সাতদিনই আইফোন সংযোজনের কাজ করেন।

সেদিক থেকে অ্যাপল মূল কাজ হয়ে যায় রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সংক্ষেপে যাকে বলা হয় ‘আরএন্ডডি’। এরপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজটা অ্যাপল করে তা হলো — সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা বা সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট। আর এই কাজে ‘গুরু’ হিসেবে মানা হয় অ্যাপলের বর্তমান সিইও টিম কুককে।

সান্তা ক্লারা ইউনিভার্সিটির লিভি স্কুল অব বিজনেসের অধ্যাপক অ্যান্ডি সে মনে করেন, প্রথমদিকে কোম্পানিগুলো কম মজুরির জন্য চীনে গেলেও এখন পরিস্থিতি বদলেছে। ‘বিশ্বের কারখানা’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে তারা।

অ্যাপলের সিইও একাধিকবার বলেছেন, আইফোন তৈরিতে যে বিপুল সংখ্যায় দক্ষ জনবল দরকার সেটা চীনের বাইরে পাওয়া কঠিন। সেই সঙ্গে যেসব অত্যাধুনিক সরঞ্জাম প্রয়োজন সেগুলোও শুধু চীনেই তৈরি হয়। এছাড়াও, ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের জন্য চীনে শক্তিশালী এবং সমন্বিত সাপ্লাই চেইন গড়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র আইফোন তৈরির জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন কারখানা স্থাপন এবং সাপ্লাই চেইন গড়ে তুলতে বহু বছর সময় এবং বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের আইফোন তৈরির সক্ষমতা আছে বলে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনা পণ্যের ওপর ট্রাম্প শুল্ক আরোপ করার পরও আইফোনের মতো উচ্চ প্রযুক্তির পণ্যের উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন।

এটা করতে গেলে দাম হয়ে যাবে আকাশচুম্বী। অনুমান করা হয়, চীনে তৈরি এক হাজার ডলারের আইফোন যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি হলে দাম তিন হাজার ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমন মূল্যবৃদ্ধি অ্যাপলের বিক্রি এবং বাজারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

ইউক্রেইন শান্তি আলোচনায় , ‘আর মধ্যস্থতা নয়’ : যুক্তরাষ্ট্র

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দীর্ঘ যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা আর ইউক্রেইন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতা করবে না।

বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেছেন — “আমরা সহযোগিতা অব্যাহত রাখবো, তবে আমরা আর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে গিয়ে বৈঠক করবো না।”

ট্যামি ব্রুস বলেছেন, মস্কো ও কিইভকে এখন যুদ্ধ বন্ধে ‘সুনির্দিষ্ট’ প্রস্তাবনা হাজির করতে হবে এবং সংঘাত বন্ধে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেইনের মধ্যে খনিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার দিন কয়েকের মধ্যে ওয়াশিংটন শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতা থেকে পিছু হটল। ডনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেইনে অস্ত্র সরবরাহে তার প্রশাসনকে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন বলেও খবর বেরিয়েছে।

ক্ষমতায় বসার আগে, এমনকী শুরুর মাসগুলোতেও ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প ইউক্রেইনকেই সবচেয়ে বেশি দোষারোপ করেছেন, শান্তি আলোচনায় তারাই বাধা দিচ্ছে বলে বারবার অভিযোগও করেছিলেন। তবে সম্প্রতি তার সুর খানিকটা নরম হয়েছে। উল্টো পুতিনের ওপর তার হতাশা বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

ক্রেমলিন কিইভের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, গত সপ্তাহে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ওই প্রস্তাবে ইউক্রেইনের যে যে এলাকা মস্কোর কব্জায় রয়েছে সেগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ছিল না।

পরিস্থিতি এখন যা, তাতে এই যুদ্ধ যে ‘সহসা শেষ হচ্ছে না’ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বৃহস্পতিবার তা স্বীকার করে নিয়েছেন।

“উভয় পক্ষই শান্তি প্রতিষ্ঠায় অপরের শর্তগুলো কী তা জানে এবং এখন চুক্তিতে আসা এবং এই নৃশংস, নৃশংস সংঘাত বন্ধ করাটা পুরোপুরি তাদের ওপর নির্ভর করছে।

“ইউক্রেনীয়দের ক্ষেত্রে, হ্যাঁ, তারা অবশ্যই রাগান্বিত হতে পারে যে তারাই তো আক্রান্ত, কিন্তু আমরা কি কয়েক মাইল অঞ্চল জুড়ে এইভাবে বা অন্যভাবে হাজার হাজার সৈন্য হারাতে থাকবো?” ফক্স নিউজকে এমনটাই বলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।

ইসলামী সায়েন্সের , ভুয়া মিনিয়েচার প্রতারণা কারা করেছিলো ?

ইসলামী সভ্যতার জ্ঞানভাণ্ডার পৃথিবীকে এক নতুন দিগন্তের দিকে পথ দেখিয়েছিল। মধ্যযুগে মুসলিম বিজ্ঞানী ও দার্শনিকরা যে অমুল্য অবদান রেখেছিলেন, তা আজও আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু এই অসামান্য ইতিহাসের কিছু দিক আজও অজ্ঞাত রয়ে গেছে এবং তা ইতিহাসের বই ও গ্রন্থাগারগুলোতে ভুল বা ভুয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যমান। ইসলামী সায়েন্সের উপর ভিত্তি করে তৈরি কিছু ভুয়া মিনিয়েচার বা চিত্র কিভাবে ইতিহাসের নানা বই, গ্রন্থাগারে ও গবেষণায় ঢুকে পড়েছে, তা আজও গবেষকদের কাছে একটি প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়।

১৮শ–১৯শ শতকে ইউরোপীয় সংস্কৃতির সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে মুসলিম সভ্যতার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পায়। বিশেষত ব্রিটিশ এবং ফরাসি ওরিয়েন্টালিস্টরা, যারা মধ্যপ্রাচ্য, ভারত ও পারস্যের সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের প্রতি আগ্রহী ছিলেন, তারা ইসলামী সায়েন্স এবং জ্ঞানের উপর বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছিলেন। তবে এই আগ্রহ অনেক সময় “রোমান্টিকাইজড” ছিল— অর্থাৎ তারা মুসলিম স্বর্ণযুগের (৮ম–১৩শ শতক) জ্ঞান ও সভ্যতাকে অতিরঞ্জিত করে দেখাতে চাইতেন। এতে ইসলামী বিজ্ঞানীদের আসল কাজের পরিবর্তে, তাদেরকে কল্পনা ও চিত্রের মাধ্যমে “অ্যাকশন-পোজ”-এ উপস্থাপন করা হয়।

১৯শ শতকের ইউরোপীয় সমাজের এক বড় চাহিদা ছিল “ইলাস্ট্রেটেড হিস্ট্রি” বা চিত্র-সমৃদ্ধ ইতিহাস। মানুষ চিত্রের মাধ্যমে অতীতকে আরও জীবন্ত এবং আকর্ষণীয়ভাবে দেখতে চাইত। এ কারণেই প্রাচ্যবিদরা মুসলিম বিজ্ঞানীদের এবং তাদের কাজকে চিত্রিত করার দিকে মনোনিবেশ করেন। এটি একটি সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়া, যেখানে ইউরোপীয় প্রকাশকরা ইসলামি সভ্যতার ইতিহাসকে ভিজুয়ালি উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল। ইসলামী পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে সাধারণত মানবিক চিত্র আঁকার নিষেধ ছিল। কিন্তু ইউরোপীয় শিল্পীরা এই নিষেধ মানতেন না, ফলে তারা ইসলামী বিজ্ঞানীদের, চিকিৎসকদের, ও জ্যোতির্বিদদের কল্পনা করে নানা ধরনের ছবি আঁকতে শুরু করেন। এর মধ্যে ছিল “মিনিয়েচার” যা সায়েন্স, চিকিৎসা, এবং আলকেমির কাজকর্মকে চিত্রিত করত।

১৮শ–১৯শ শতকের কিছু প্রাচ্যবিদ এবং শিল্পী, যারা ইসলামিক সায়েন্সের উপর গবেষণা করতেন তারা ইউরোপীদেয় চাহিদা মেটানোর জন্য ভুয়া মিনিয়েচার তৈরি করেন। এই মিনিয়েচারগুলোতে মুসলিম বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও জ্যোতির্বিদদের ভুলভাবে চিত্রিত করা হয়। যেমন, একজন বিজ্ঞানীকে “অ্যাকশন-পোজ”-এ দেখা যায়, বা একটি সাইন্স ল্যাবরেটরি কল্পনা করা হয় যা আদতে ইতিহাসে ছিল না। কিছু ক্ষেত্রে মিনিয়েচারগুলোতে এমন যন্ত্র বা প্রযুক্তি দেখানো হয়, যা ঐ সময়ের বিজ্ঞানীদের জন্য অপ্রচলিত ছিল। এসব চিত্র সঠিক ইতিহাসের প্রতিফলন নয়, এগুলো ছিল শিল্পীদের কল্পনা ও ইউরোপীয় দর্শনের ফলস্বরূপ।

ভুয়া মিনিয়েচারগুলোর প্রবেশ ইতিহাসের বই এবং গ্রন্থাগারে কিছুটা অনিচ্ছাকৃতভাবেই ঘটে। ১৮শ–১৯শ শতকে ইউরোপীয় গ্রন্থাগার এবং জাদুঘরে মুসলিম বিজ্ঞান ও সভ্যতার প্রতি আগ্রহ ছিল, তবে তখনকার সময়ে ইতিহাস যাচাইয়ের পর্যাপ্ত পদ্ধতি ছিল না। ফলে ইউরোপীয় প্রকাশকরা এবং সংগ্রাহকরা এসব ভুয়া মিনিয়েচারকে সঠিক ইতিহাস হিসেবে গ্রহণ করেন এবং তা গ্রন্থাগারে সংরক্ষণ করা হয়। কিছু মিনিয়েচার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে এগুলো ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ভুলভাবে পরিচিত হয়ে যায়।

এটি একটি সাংস্কৃতিক এবং গবেষণাগত সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়, কারণ অনেক মূল্যবান গ্রন্থাগারে, যেমন British Library, Bibliothèque nationale de France ও Metropolitan Museum of Art-এ এসব ভুয়া মিনিয়েচার সংগ্রহ করা হয় এবং সেগুলি পরবর্তী প্রজন্মের গবেষণায় ব্যবহৃত হয়।

২০শ শতকের শেষের দিকে এবং ২১শ শতকে, বিশেষজ্ঞ গবেষকরা এই ভুয়া মিনিয়েচারের অস্তিত্বের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। George Saliba, Emilie Savage-Smith, Avner Ben-Zaken-এর মতো ইতিহাসবিদরা প্রমাণ করেন যে চিত্রগুলো ইসলামী বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের কাজকে চিত্রিত করেছে, সেগুলি অনেক সময় ভুল এবং কাল্পনিক ছিল। গবেষকরা দেখান ১০শ শতকের একজন মুসলিম বিজ্ঞানী যেমন Ibn Sina বা Al-Tusi, তাদের কর্মস্থলে কখনোই যেভাবে মিনিয়েচারে চিত্রিত করা হয়েছে সেভাবে কাজ করতেন না। এর ফলে অনেক ইসলামিক সায়েন্সের ঐতিহাসিক দলিল ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

ইসলামী সায়েন্সের ইতিহাস যে অমূল্য অবদান রেখেছে মানবসভ্যতায় তা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু ইতিহাসের প্রতি কিছু ভুয়া মিনিয়েচার এবং চিত্রের প্রতারণা আমাদের ইতিহাসের প্রকৃত চিত্রটিকে বিকৃত করেছে। ইউরোপীয় সংস্কৃতি এবং গবেষণা ইতিহাসে ইসলামী সায়েন্সের ভুল চিত্র ও মিনিয়েচারের প্রবেশ, এটি একটি উল্লেখযোগ্য গবেষণাগত বিষয়। আজকের গবেষকরা এই ভুলকে উন্মোচন করে সত্য ইতিহাসের দিকে আমাদের পথপ্রদর্শন করছেন।

বাংলাদেশ কার সাথে যুদ্ধ করবে : আমীন আল রশীদ , সাংবাদিক ও লেখক

“… সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে ভারত-পাকিস্তান যখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে বলে মনে করা হচ্ছে, সেই সময়ে গত বুধবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মহড়া পর্যবেক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে চারদিকে প্রতিনিয়ত যুদ্ধের হুমকি থাকায় প্রস্তুতি না নিয়ে থাকা সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, ‘অনেকের মতো আমিও যুদ্ধবিরোধী মানুষ। পৃথিবীতে যুদ্ধ হোক, এটা কামনা করি না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে প্রস্তুতি না নেওয়াটা আত্মঘাতী এবং প্রস্তুতি নিতে হলে আধাআধি প্রস্তুতির কোনো জায়গা নেই। এটা এমন এক পরিস্থিতি, জয়ই একমাত্র অপশন। পরাজয় এখানে কোনো অপশন হতে পারে না। কাজেই আমাদের প্রস্তুতি কত উচ্চ পর্যায়ে নিতে পারি, তার চেষ্টা থাকতেই হবে।’

প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কি সত্যিই যুদ্ধে জড়াবে বা ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে জড়ালে তার অংশ হবে? হয়তো না। কিন্তু যুদ্ধে না জড়ালেও সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখা নানা কারণেই জরুরি। নিজের দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য তো বটেই।

যদিও বাংলাদেশের মতো একটি দুর্বল অর্থনীতির দেশ সামরিক খাতে কতটা শক্তিশালী হবে বা হতে পারবে—সেটি আরেকটি তর্ক। কেননা মাথায় রাখতে হবে, মাত্র ৫৬ হাজার বর্গমাইলের একটি দেশে প্রায় ২০ কোটি মানুষ বসবাস করে—যাদেরকে প্রতিনিয়ত খাদ্য-বস্ত্রী-বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ নিয়েই চিন্তা করতে হয়। সুতরাং সামরিক খাতে অনেক বেশি ব্যয় করার সুযোগ নেই।

কিন্তু ভূরাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গায় অবস্থিত বলে বাংলাদেশ যদি সামরিক দিক দিয়ে খুব দুর্বল হয়ে থাকে, সেটিও কাজের কথা নয়।

ভারত-পাকিস্তান এই উত্তেজনার ভেতরেই বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তও অস্থির। পুরো সীমান্তে এখন মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মিন নিয়ন্ত্রণ এবং রোহিঙ্গা মুসলমানদের প্রধান ভূমি রাখাইন রাজ্যটিও আরাকান আর্মির দখলে। সেখানে মিয়ানমার সরকারের কার্যত কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এরকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে আগে থেকে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে সম্প্রতি আরও এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা যু্ক্ত হয়েছে।

… সেটি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বে কোনো ধরনের হুমকি তৈরি করবে কি না বা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে যুদ্ধপরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, তা বলা যায় না। সুতরাং এই বাস্তবতায় মাথায় রেখেও হয়তো ড. ইউনূস যুদ্ধের প্রস্তুতি রাখতে বলেছেন।

… সামরিক উত্তেজনা কেবল নিরাপত্তার বিষয় নয়, বরং এটি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি খরচ, খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজারে অস্থিরতার সৃষ্টিও কারণ হতে পারে। এজন্য বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত হবে অর্থনৈতিক প্রস্তুতি নেওয়া, যেমন : জরুরি খাদ্য ও জ্বালানির মজুদ, রেমিট্যান্স প্রবাহের সুরক্ষা, কূটনৈতিক বাণিজ্য বিকল্প প্রস্তুতি ইত্যাদি।

সর্বোপরি, বাংলাদেশ সরাসরি ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার অংশ না হলেও এ অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ‘নিরপেক্ষ’ থাকা মানেই ‘নিষ্ক্রিয়’ থাকা নয়। বরং সতর্কতা, প্রস্তুতি ও কৌশলগত সক্রিয়তা—এই তিনটি মিলে বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, আত্মনির্ভর ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছে দিতে পারে। …”


অর্থনৈতিক মন্দার সূচক হতে পারে – লিপস্টিক ও পোশাকের দৈর্ঘ্য

লিপস্টিক ইনডেক্স কী?
• অর্থনৈতিক মন্দার সময় ভোক্তারা সাধারণত বড় খরচ কমিয়ে দেন, তবে লিপস্টিকের ছোটখাটো বিলাসিতায় নিজেদের তৃপ্ত করতে থাকেন। এর ফলে প্রসাধনী বিক্রি বাড়তে দেখা যায়।
• ‘লিপস্টিক ইনডেক্স’ শব্দটি ২০০০-এর দশকের শুরুতে Estee Lauder-এর চেয়ারম্যান লিওনার্ড লডার প্রবর্তন করেন, যেটা একপ্রকার অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের পরিমাপক হিসেবে ধরা হয়।

হেমলাইন ইনডেক্স কী?
• এই তত্ত্ব বলে, অর্থনৈতিক সংকটের সময় পোশাকের দৈর্ঘ্য সাধারণত লম্বা হয় এবং আর্থিক সমৃদ্ধির সময় ছোট হয়। এটি সমাজের সম্মিলিত মনোভাব ও ভোক্তা আস্থার পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে।
• অর্থনীতিবিদ জর্জ টেইলর ১৯২০-এর দশকে এই তত্ত্বটি প্রথম প্রস্তাব করেন।

এই সূচকগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ?
• লিপস্টিক ইনডেক্স ও হেমলাইন ইনডেক্স — দুই-ই দেখায় কীভাবে ভোক্তা আচরণের সূক্ষ্ম পরিবর্তন বড় অর্থনৈতিক প্রবণতার ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে এগুলোকে নির্ভুল অর্থনৈতিক উপকরণ না বলে সাংস্কৃতিক পর্যবেক্ষণ হিসেবেই বেশি ধরা হয়।
• বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন, এসব সূচকের ওপর নির্ভর না করে প্রকৃত উপাত্তের সঙ্গে মিলিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত।

এই প্রবণতাগুলো আবার কেন ভাইরাল হচ্ছে?
• ২০২৫ সালে সম্ভাব্য বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লিপস্টিক ও হেমলাইন ইনডেক্সের মতো সাংস্কৃতিক সূচকগুলো আবারও বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। এতে আগ্রহ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে যে, কীভাবে ভোক্তা আচরণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে প্রতিফলিত করে।
• সাম্প্রতিক আচরণগত অর্থনীতির গবেষণায় দেখা গেছে, আর্থিক চাপে ভোক্তারা সাধারণত সাশ্রয়ী বিলাসিতা বেছে নেন এবং তুলনামূলক সংযত ফ্যাশনের দিকে ঝোঁকেন।

অ্যাটলান্টিস – এক প্রাচীন সভ্যতার ষড়যন্ত্রমূলক অবসান

অ্যাটলান্টিস পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় এবং পুরনো সভ্যতাগুলির মধ্যে একটি, যার অস্তিত্ব সম্পর্কে আমরা শুধুমাত্র প্লেটো এবং কিছু প্রাচীন লেখকের বর্ণনায় জানি। ইতিহাসে এর উৎপত্তি এবং পতন নিয়ে বহু তত্ত্ব এবং কনস্পিরেসি থিওরি রয়েছে। অ্যাটলান্টিসকে কখনো একটি শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক সভ্যতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, আবার কখনো এটি পৃথিবীর শক্তির উৎস হিসেবেও পরিচিত। কিন্তু কিছু কনস্পিরেসি থিওরি দাবি করে যে অ্যাটলান্টিসের পতন ছিল একটি বৃহৎ রাজনৈতিক এবং আধ্যাত্মিক ষড়যন্ত্রের ফল। আজও এই রহস্য আমাদের কৌতূহল সৃষ্টি করে এবং পৃথিবীর প্রাচীন ইতিহাসের এক অদেখা অধ্যায় হয়ে থাকে।

অ্যাটলান্টিসের সভ্যতা সম্পর্কে প্রথমবার বিস্তৃত ধারণা পাওয়া যায় প্লেটোর লেখা “টিমাইওস” এবং “ক্রিটিয়াস” থেকে। তার বর্ণনায়, অ্যাটলান্টিস ছিল একটি বিশাল দ্বীপমহাদেশ, যার প্রাকৃতিক সম্পদ এবং উন্নত প্রযুক্তির কারণে এটি পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী সভ্যতায় পরিণত হয়েছিল। অ্যাটলান্টিসের বাসিন্দারা ছিল অত্যন্ত সভ্য এবং তাদের হাতে ছিল এমন কিছু শক্তি যা পৃথিবীর শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিল। তাদের কাছে ছিল একটি বিশেষ শক্তির উৎস যা মহাকাশ এবং পৃথিবীজগতের মধ্যে শক্তির ভারসাম্য সৃষ্টি করতে সাহায্য করত।

অ্যাটলান্টিসের শক্তি, প্রযুক্তি, এবং আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ অত্যন্ত উন্নত ছিল, যেগুলো দিয়ে তারা পৃথিবীজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করেছিল। এই সভ্যতা বিশেষ কিছু শক্তি এবং আধ্যাত্মিক গুণাবলী অধিকারী ছিল, গুণগুলো তাদের শাসকদের জন্য অন্যদের থেকে আলাদা করেছিল।

অ্যাটলান্টিসের পতন নিয়ে প্রচলিত কনস্পিরেসি থিওরিগুলি অত্যন্ত গভীর এবং রহস্যময়। কিছু থিওরি দাবি করে, অ্যাটলান্টিসের পতন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফল ছিল না, বরং এটি ছিল পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ফল। এই ষড়যন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল পৃথিবীর শক্তির কেন্দ্রে থাকা একটি উচ্চ ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অ্যাটলান্টিসের শাসকদের ক্ষমতাকে নষ্ট করা।

তৎকালীন পৃথিবীজুড়ে এমন কিছু শক্তিশালী গোষ্ঠী ছিল যারা অ্যাটলান্টিসের শক্তি ও প্রযুক্তির বিপক্ষে ছিল। তারা জানত যে অ্যাটলান্টিসের শক্তি যদি পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাদের নিজস্ব ক্ষমতা এবং শাসনব্যবস্থার ভিত্তি হুমকির মুখে পড়বে। এই গোষ্ঠীগুলি অ্যাটলান্টিসের শাসকদের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র রচনা করেছিল, যার মাধ্যমে তারা অ্যাটলান্টিসের পতন ঘটাতে চেয়েছিল।

একটি সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের ধারণা হলো, অ্যাটলান্টিসের শক্তি এবং প্রযুক্তি যদি পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে পড়ত, তবে তা পৃথিবীর সমস্ত শক্তির ভারসাম্য ভেঙে ফেলত। তাই পৃথিবীর ক্ষমতাধর গোষ্ঠীগুলি তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে, অ্যাটলান্টিসের শক্তিকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল।

অ্যাটলান্টিসের পতনের পর, তার ইতিহাস এবং শক্তি সম্পর্কিত তথ্য অনেকাংশে গোপন রাখা হয়েছিল। কিছু তত্ত্ব দাবি করে, অ্যাটলান্টিসের পতন এবং তার পরে ঘটে যাওয়া সব কিছু purposely আড়াল করা হয়েছিল। এর কারণ ছিল পৃথিবীর ক্ষমতাধর গোষ্ঠী তাদের নিজেদের শক্তি বজায় রাখতে চাইত। অ্যাটলান্টিসের শক্তি যদি পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে পড়ত, তবে সেই সময়কার শাসকরা একেবারে নিঃশেষ হয়ে যেত।

একটি কনস্পিরেসি থিওরি বলে অ্যাটলান্টিসের শক্তির প্রকৃতির বিষয়ে পৃথিবীর শাসকরা জানতেন এবং তারা বুঝতে পারতেন যে যদি এই শক্তি বিশ্বজুড়ে প্রচলিত হতো, তবে তাদের নিজের ক্ষমতার ভিত্তি ঝুঁকির মুখে পড়ত। তাই তারা এই শক্তির ইতিহাসকে গোপন রেখেছিল এবং সময়ের সাথে সাথে অ্যাটলান্টিসের অস্তিত্বকে ভুল বা পৌরাণিক গল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল।

অ্যাটলান্টিসের পতনের পর, পৃথিবীজুড়ে নতুন এক সভ্যতার উত্থান হয়েছিল। কনস্পিরেসি থিওরি অনুসারে, এই নতুন সভ্যতার শাসকরা অ্যাটলান্টিসের পূর্ববর্তী শক্তি এবং প্রযুক্তিকে নিজের অধীনে নিয়ন্ত্রণ করেছিল। তারা সেই প্রযুক্তির মাধ্যমে পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্য পুনরায় স্থাপন করেছিল, যা পৃথিবীজুড়ে ক্ষমতা কেন্দ্রিত করার নতুন প্রক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।

এই সভ্যতার শাসকরা পৃথিবীর শক্তির বিভিন্ন উৎস এবং আধ্যাত্মিক প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পৃথিবীজুড়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিল। তাদের হাতে ছিল অ্যাটলান্টিসের হারিয়ে যাওয়া ক্ষমতার একটি প্রকার পুনরুত্থান। এটি পৃথিবীজুড়ে নতুন এক শক্তির কেন্দ্র তৈরি করেছিল, যা পৃথিবীর আধ্যাত্মিক এবং রাজনৈতিক ইতিহাসের অদেখা অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

অ্যাটলান্টিসের রহস্য এবং তার পতনের পেছনে ষড়যন্ত্রের থিওরি আজও মানুষের মনে এক গভীর কৌতূহল সৃষ্টি করে। অ্যাটলান্টিসের শক্তি, তার উন্নত প্রযুক্তি এবং আধ্যাত্মিক ধারণাগুলির প্রতি মানুষের আগ্রহ কখনোই কমেনি। অনেক কনস্পিরেসি থিওরি এটি বিশ্বাস করে যে অ্যাটলান্টিসের পতন ছিল একটি পরিকল্পিত ঘটনা, যা পৃথিবীর ক্ষমতাধর গোষ্ঠীর দ্বারা ঘটানো হয়েছিল। এই ষড়যন্ত্রের পেছনে যে গোপন উদ্দেশ্য ছিল, তা ছিল পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণের জন্য, যা আজও পৃথিবীজুড়ে শক্তির শাসনের ইতিহাসে একটি অদেখা অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

ডিজিটাল স্ক্রিন – চোখের ক্লান্তি কমানোর সহজ টিপস

ইদানীং আমাদের জীবনের একটি বড় সময় কাটে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাবলেটের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে। পড়াশোনা, পেশাজীবন কিংবা বিনোদন — প্রতিটি ক্ষেত্রেই স্ক্রিনের উপর নির্ভরতা বেড়েই চলেছে। এই দীর্ঘসময় ধরে স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ফলে অনেকেই চোখের ক্লান্তি, শুষ্কতা, ঝাপসা দেখা, এমনকি মাথাব্যথার মতো সমস্যার মুখোমুখি হন। তবে চিন্তার কিছু নেই; দৈনন্দিন জীবনে কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ে তুললেই এই সমস্যাগুলো সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

* চোখের আরামের জন্য সবচেয়ে কার্যকর একটি নিয়ম হলো ২০-২০-২০ নিয়ম। এর অর্থ হলো, প্রতি ২০ মিনিট পর পর, অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য, ২০ ফুট (প্রায় ৬ মিটার) দূরে তাকান। এভাবে নিয়মিত চোখের পেশিগুলোকে বিশ্রাম দেওয়া গেলে দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখতে সুবিধা হয়।

* স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে আমাদের স্বাভাবিকভাবে পলক ফেলার হার কমে যায়। ফলে চোখ শুষ্ক ও অস্বস্তিকর হয়ে পড়ে। সচেতনভাবে প্রতি মিনিটে অন্তত ১৫-২০ বার পলক ফেললে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় থাকে। প্রয়োজনে মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ রেখে কয়েক সেকেন্ড বিশ্রাম দিন।

* স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা আশপাশের আলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা জরুরি। খুব বেশি উজ্জ্বল অথবা অতিরিক্ত ঝাপসা স্ক্রিন — দুইটাই চোখের ওপর চাপ ফেলে। দিনের বেলায় স্বাভাবিক আলোয় স্ক্রিন সেটিংস রাখুন, আর রাতের বেলায় ফোন ও ল্যাপটপে Night Mode বা Blue Light Filter চালু রাখুন। এতে চোখের ক্লান্তি অনেকটা কমবে।
চোখ ও স্ক্রিনের সঠিক দূরত্ব বজায় রাখুন

* সাধারণভাবে স্ক্রিন ও চোখের দূরত্ব ২০-২৪ ইঞ্চি (প্রায় ৫০-৬০ সেন্টিমিটার) রাখা উচিত। পাশাপাশি, স্ক্রিনটি এমন উচ্চতায় রাখুন যাতে এটি চোখের সামান্য নিচে থাকে। এতে চোখের পেশি স্বস্তিতে থাকবে এবং বেশি প্রসারিত বা সংকুচিত হতে হবে না।

*যদি চোখ অত্যধিক শুষ্ক হয়ে যায়, তবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আইড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি চোখের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

* দুই হাতের তালু ভালোভাবে ঘষে গরম করে নিন। তারপর হাতের তালু দিয়ে চোখের ওপর আলতো চাপ দিন ৩০ সেকেন্ড। এই পদ্ধতিকে Palming Technique বলা হয়। এটি চোখের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় ও তাৎক্ষণিক আরাম দেয়।

চোখের ব্যায়াম চোখের পেশিকে সক্রিয় রাখে ও দৃষ্টিশক্তির ক্লান্তি কমায়। সহজ কয়েকটি ব্যায়াম হলো:

– চোখ ঘড়ির কাটার মতো ৫ বার ঘোরান
– বিপরীত দিকে ৫ বার ঘোরান
– ডানে-বামে, ওপর-নিচে তাকান ৫ বার করে
পর্যাপ্ত পানি পান ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ

শরীরের হাইড্রেশন বজায় রাখা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি। পাশাপাশি ভিটামিন A, C, E ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার (যেমন—গাজর, পালং শাক, আমন্ড, মাছ) খেলে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও কার্যকারিতা উন্নত হয়।

ডিজিটাল যন্ত্রের এই যুগে স্ক্রিন পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। তবে চোখের প্রতি একটু সচেতনতা ও যত্ন নিলে দীর্ঘসময় কাজ করলেও চোখ সুস্থ ও সতেজ রাখা সম্ভব। প্রতিদিন মাত্র কয়েক মিনিট সময় দিলেই চোখের ক্লান্তি দূর হবে এবং দৃষ্টিশক্তি থাকবে স্বচ্ছ ও সাবলীল।