Home Blog Page 111

ভবিষ্যত সম্পর্কে জ্ঞান , কি পরিমাণ নিশ্চয়তা প্রদান করতে পারে ?

ডোরিস ডে ১৯৫৬ সালে তাঁর জনপ্রিয় গান “Que Sera Sera” গেয়েছিলেন, যার চরণগুলো মানবজাতির একটি গভীর এবং সর্বজনীন অনুভূতির প্রতীক “Que sera sera, whatever will be will be… ভবিষ্যৎ আমাদের দেখার নয়।” এই গানের মাধ্যমে তিনি একটি অজানা ভবিষ্যতের ব্যাপারে মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং সন্দেহকে সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। এটি এমন একটি অনুভূতি, যেটি মানবজীবনে প্রকৃতির অদৃশ্যতা ও অনিশ্চয়তার সাথে সম্পর্কিত। তার কথাগুলো আজও আমাদের হৃদয়ে বাসা বেঁধে রয়েছে, কারণ ভবিষ্যত নিয়ে আমাদের চিন্তা, তাতে আশা বা ভয়, সবই আমাদের সামগ্রিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মানবজীবনে আমাদের অনেক কিছু পূর্বনির্ধারিত হতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যত আমাদের কাছে সবসময়ই অজানা। স্মৃতি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, আর পরোক্ষভাবে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কিছু জ্ঞান আমরা পেতে পারি, যা প্রায় নিশ্চিত—যেমন: আমরা জানি আগামীকাল সূর্য উঠবে বা জানালায় পাথর ছুঁড়লে তা ভেঙে যাবে। কিন্তু ২০১৫ সালের ক্রিসমাস ইভে, আমি জানতাম না যে ইয়র্ক শহরে বন্যা হবে। এই ধরনের ঘটনাগুলো আমাদের পুনরায় ভাবতে বাধ্য করে যে, আসলে ভবিষ্যত সম্পর্কে আমাদের যে অনুভূতি রয়েছে, তা কতটা অস্বচ্ছ এবং আপেক্ষিক।

প্রাচীন যুগে মানুষ ভবিষ্যত নিয়ে অজ্ঞতা কাটাতে বিভিন্ন রূপকথা এবং ধর্মীয় ব্যাখ্যা তৈরি করেছিল। তারা এসব ঘটনা দেবতার ইচ্ছার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করত—যেমন: যদি বৃষ্টি না হয়, তবে তারা বিশ্বাস করত বৃষ্টির দেবতা খুশি নন। আজকের দিনে যদিও আমরা ধর্মীয় ব্যাখ্যা থেকে অনেকটা বেরিয়ে এসেছি, তবুও আমাদের ভবিষ্যতকে জানার অক্ষমতা কিংবা তার অনিশ্চয়তা, এখনো এক ধরনের রহস্য তৈরি করে।

আধুনিক যুগে এসে অ্যারিস্টটল প্রথমে যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন যে, ভবিষ্যতের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত বা পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ এটি তখনও ঘটেনি এবং এর সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাঁর ধারণাটি আজকের আধুনিক যুক্তিবিজ্ঞানের ভিত্তি তৈরিতে সহায়ক ছিল। তিনি ভবিষ্যত-সংক্রান্ত বিবৃতিকে তৃতীয় শ্রেণিতে রাখেন, যেখানে সেটি সত্য বা মিথ্যা হওয়ার আগেই তার অবস্থান ঠিক করা সম্ভব নয়।

নিউটন এবং ল্যাপ্লাসের মতে, ভবিষ্যতকে গণনা করার জন্য যদি আমরা বর্তমানের সমস্ত তথ্য জানতাম তবে তা সম্ভব হত। তাঁরা বিশ্বাস করতেন পৃথিবীর ছোট থেকে বড় প্রতিটি ঘটনা নির্দিষ্টভাবে গণনা করা সম্ভব। তবে ২০শ শতাব্দীতে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের আবির্ভাব এই ধারণাকে ভেঙে দেয়। কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী, পরমাণু স্তরের ঘটনাগুলো যদৃচ্ছ (random) হতে পারে এবং একটি নির্দিষ্ট “পথ” অনুসরণ করে না।

কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সূত্রানুযায়ী, ইলেকট্রন একই সময়ে কণা ও তরঙ্গ হিসেবে থাকতে পারে এবং এর গাণিতিক ব্যাখ্যা শ্রোডিঙ্গারের সমীকরণে দেওয়া হয়েছে। এই সমীকরণটি সম্ভাবনা-ভিত্তিক, যার মানে হচ্ছে, আমরা কোনো পরমাণু স্তরের অবস্থাকে নির্ধারণ করতে পারি না যতক্ষণ না তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ শ্রোডিঙ্গারের বিখ্যাত বিড়াল চিন্তন পরীক্ষাটি আমাদের জানায়, একটি বিড়াল একই সাথে জীবিত ও মৃত থাকতে পারে (সুপারপজিশন অবস্থায়), তবে আমরা কোন একটি অবস্থান দেখে শুধুমাত্র একটি ফলাফল দেখতে পাই।

কোয়ান্টাম মেকানিক্স দুটি দৃষ্টিকোণ প্রকাশ করে, মহাবিশ্বের কোয়ান্টাম স্টেট ভেক্টর সকল সম্ভাবনার উপস্থিতি ধারণ করে। এখানে একাধিক “বাস্তবতা” সমান্তরালভাবে বিদ্যমান থাকে।

আমরা শুধুমাত্র একটি ফলাফল দেখতে পাই, যেমন: বিড়ালটি বেঁচে আছে, এবং বাকি সমস্ত সম্ভাবনা আমাদের চোখের সামনে আসে না। এগুলি “অঘটিত সম্ভাবনা” হয়ে থাকে।

এটি বুঝিয়ে দেয় যে, আমাদের অভিজ্ঞতা বাস্তবতা সম্পর্কে সীমিত এবং একমাত্র দৃশ্যমান ফলাফলটি আমাদের উপলব্ধি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। যদিও অনেক সম্ভাবনা একযোগে বিদ্যমান থাকতে পারে, আমরা কেবল একটি বাস্তবতার সাথে পরিচিত।

কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী ভবিষ্যত সংক্রান্ত কোনো বিবৃতির “সত্য মান” ০ থেকে ১-এর মধ্যে হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ যদি “আগামীকাল বৃষ্টি হবে” বিবৃতির সত্য মান ০.৮ হয়, তবে তার মানে ৮০% সম্ভাবনা রয়েছে যে আগামীকাল বৃষ্টি হবে। এই অবস্থায় ভবিষ্যত আর একটি নিখুঁত বা একক সত্য হিসেবে নয়, বরং সম্ভাবনার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।

শেষ পর্যন্ত, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান মৌলিকভাবে সীমাবদ্ধ। এটি শুধুমাত্র অজানা নয়, বরং এর কোনো নির্দিষ্ট “সত্য”ও নেই। তবে আমরা ভবিষ্যতকে আংশিক সত্য বা সম্ভাবনা হিসেবে উপলব্ধি করতে পারি। কোয়ান্টাম তত্ত্ব আমাদের ভবিষ্যত নিয়ে ধারণা পাল্টে দিয়েছে, যেখানে একটি বাস্তবতার পরিবর্তে সম্ভাবনার মধ্যে নানা অজ্ঞেয়তা থাকে। একে আমরা “Que Sera Sera”—”যা হবে তা হবে”—এই বিশ্বাসে বিশ্বাস করতে শিখেছি। জীবন চলতে থাকবে, আমাদের নিয়ন্ত্রণে না থাকা পরিস্থিতির মধ্যে, কিন্তু তার সঠিক সত্যকে জানার ক্ষমতা আমাদের অক্ষম।

চীনের ইয়ারলুং স্যাংপো বাঁধ প্রকল্প ও দক্ষিণ এশিয়ার জল অধিকার

চীনের তিব্বতে ইয়ারলুং স্যাংপো নদীর ওপর বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণ অনুমোদন সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রকল্পটি যখন সম্পূর্ণরূপে চালু হবে, তখন এটি হবে বিশ্বের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, যেখানে ক্ষমতা ও পরিধির দিক থেকে পূর্ববর্তী রেকর্ডগুলো অনায়াসেই ছাড়িয়ে যাবে। তবে এই প্রকল্পের পরিবেশগত বিপর্যয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুতি এবং নিম্ন অববাহিকার দেশসমূহে—বিশেষত ভারত ও বাংলাদেশের—জলনির্ভর সুরক্ষাকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ইয়ারলুং স্যাংপো ভারত ও বাংলাদেশে সিয়াং ও ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত, এর উৎপত্তি তিব্বতের ‘বিশ্বের তৃতীয় মেরু’ নামে খ্যাত হিমবাহ অঞ্চল থেকে। এখানকার বরফঢাকা গ্লেসিয়ারসমূহ পৃথিবীর আর্কটিক ও আন্টার্কটিকার বাইরে বৃহত্তম হিমসঞ্চয়। এই নদী ও এর শাখাগুলি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রবাহিত হয়ে পাকিস্তান থেকে ভিয়েতনাম পর্যন্ত প্রায় একশো কোটিরও বেশি মানুষের জীবিকা, কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে। অথচ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে গ্লেসিয়ার গলন, অনিয়মিত বর্ষণ ও পানিপ্রবাহের মৌসুমি বৈচিত্র্য ইতোমধ্যেই এই অঞ্চলে জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় তীব্র চাপ সৃষ্টি করেছে।

চীনের প্রস্তাবিত ইয়ারলুং স্যাংপো গ্র্যান্ড ড্যাম প্রকল্পের অবস্থান ভারত-ইউরেশিয়ান প্লেটের টেকটোনিক সংযোগস্থলে, প্রকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ একটি অঞ্চলে নির্মিত হতে যাচ্ছে। এই ভূতাত্ত্বিক ভঙ্গুরতা ভূমিকম্প, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। একইসাথে ব্রহ্মপুত্র নদী বিশ্বে অন্যতম অববাহিকাসমৃদ্ধ ও পলিমাটির বাহক নদী হওয়ায়, উজানে বিশাল বাঁধ নির্মাণ নদীর স্বাভাবিক পলিপ্রবাহ ব্যাহত করবে।

বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চল ও ভারতের আসামভিত্তিক কৃষি অর্থনীতি সরাসরি এই পলিপ্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং উজানে পলি আটকে পড়লে বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষিক্ষেত্রের উর্বরতা এবং বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে। উল্লেখ্য সুন্দরবন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল এবং পূর্ব থেকেই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় ক্ষয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো চীন-ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে এই নদীর জলব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্র করে কোনো বহুপাক্ষিক, বাধ্যতামূলক ও সমন্বিত চুক্তি নেই। এর ফলে যেকোনো প্রকল্প বা দুর্যোগ মোকাবেলায় যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তুলনামূলকভাবে ইউরোপের দানিউব নদী নিয়ে ১৪টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা একটি কার্যকর মডেল হলেও দক্ষিণ এশিয়ায় এমন উদ্যোগের অভাব প্রকট।

অতিসাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে বিশ্বব্যাপী ২৮৬টি আন্তসীমান্ত নদী অববাহিকার মধ্যে দক্ষিণ গোলার্ধের নদীগুলোয় গবেষণা ও নীতিনির্ধারণ সংক্রান্ত মনোযোগ অত্যন্ত কম। অধ্যাপক মেহেবুব সাহানা ও তাঁর সহকর্মীরা পরিচালিত সমীক্ষায় ৪,৭১৩টি ক্ষেত্রে পর্যালোচনায় উঠে এসেছে উত্তর গোলার্ধের বড় নদীগুলিতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক গবেষণায় প্রবল গুরুত্ব দিলেও দক্ষিণ গোলার্ধের ছোট ও মাঝারি নদীগুলো, যেখানে পানিকষ্ট ও সংঘাত প্রকট, সেখানে গবেষণা ও তথ্য ঘাটতিও প্রকট।

দক্ষিণ এশিয়ায় ইন্দাস ও মেকং নদী নিয়ে তুলনামূলক বেশি গবেষণা হলেও ব্রহ্মপুত্রের মতো নদীগুলোয় স্থানীয় প্রাসঙ্গিক ইস্যুগুলো বারবার উপেক্ষিত হয়েছে।

এই গবেষণা-অসমতা প্রকৃতপক্ষে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশের জন্য নীতিনির্ধারণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় এক বড় অন্তরায়। জলপ্রবাহ, দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও মানব-প্রকৃতি সম্পর্কিত বাস্তবিক ডেটা অভাবে কার্যকর পরিকল্পনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এর ফলে কোটি কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা, খাদ্যনিরাপত্তা ও পরিবেশঝুঁকি বেড়ে যায়।

এ পর্যায়ে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে বিশেষত ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গবেষণাভিত্তিক ও ন্যায়সঙ্গত সমঝোতা প্রয়োজন। শুধু ক্ষমতাধর রাষ্ট্র নয়, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠী, কৃষিজীবী ও পরিবেশবিদদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা জরুরি। তা না হলে চীনের ইয়ারলুং স্যাংপো গ্র্যান্ড ড্যাম প্রকল্প একদিকে যেমন শক্তির রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটাবে, অন্যদিকে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে এক দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত ও মানবিক সংকট ডেকে আনবে।

জলবায়ু সংকটে বাড়ছে , আকাশপথে ভ্রমণের ঝুঁকি ও বিমানের ঝাঁকুনি

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে উচ্চ আকাশের বায়ুপ্রবাহ (jet stream) দ্রুত পরিবর্তনশীল হয়ে উঠছে, যা বিমান চলাচলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝাঁকুনির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে। যাত্রীবাহী বিমানভ্রমণ ভবিষ্যতে আগের তুলনায় আরও অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে

CAT এমন এক ধরনের ঝাঁকুনি, যা কোনো মেঘ, বজ্রপাত বা ঝড়-ঝঞ্ঝার উপস্থিতি ছাড়াই পরিষ্কার আকাশে আকস্মিকভাবে ঘটে। সাধারণত ৯–১২ কিলোমিটার উচ্চতায় এটি বেশি দেখা যায়। যেহেতু রাডারে ধরা পড়ে না, তাই পাইলটরা আগাম সতর্ক হতে পারেন না, ফলে এটি বিমানের ভিতরে যাত্রী ও ক্রুদের জন্য হঠাৎ বিপদ সৃষ্টি করে।

যুক্তরাজ্যের রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল উইলিয়ামস ও তার দল ৪০ বছরের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখেছেন ১৯৭৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে মাঝারি মাত্রার CAT ঘটনা ৫৫% এবং তীব্র CAT ১৭০% বৃদ্ধি পেয়েছে।

উইলিয়ামস বলেন, “২০৫০ সালের মধ্যে এই প্রবণতা দ্বিগুণ হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ রুট এবং উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পথগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হবে।”

এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার (ভারত-বাংলাদেশ) আকাশপথও সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। ২০২৪ সালে ICAO প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কলকাতা ও ঢাকা থেকে মালয়েশিয়া পর্যন্ত রুটে CAT ঘটনায় ১২% বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় মৌসুমি বায়ু ও তাপমাত্রার বৈচিত্র্য এই প্রবণতা আরও বাড়াতে পারে।

কেন বাড়ছে ঝাঁকুনি?

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে সমুদ্রপৃষ্ঠ ও আকাশের তাপমাত্রার ব্যবধান বাড়ছে। এতে jet stream–এর গতিবিধি বেশি ওঠানামা করছে। ফলে বায়ুপ্রবাহের বিভিন্ন স্তরে গতি ও দিক হঠাৎ বদলাচ্ছে (wind shear)। এই অস্থিতিশীলতা সরাসরি CAT-এর জন্ম দিচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়াবিদ অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান বলেন, “উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চলে ২০২৩ সালে উচ্চমাত্রার বায়ুপ্রবাহে তাপমাত্রা বৈষম্য বাড়ায় বাংলাদেশের আকাশেও CAT–এর নজির দেখা গেছে।”

CAT শুধু অস্বস্তি নয়, নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ। IATA-এর তথ্য মতে, বিশ্বে বিমানের ৭২% যাত্রী–আহত ঘটনা CAT–এর কারণে ঘটে। ২০২৩ সালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ঢাকামুখী রুটে ৪ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন এমন ঝাঁকুনিতে।

এয়ারলাইন্সগুলো এখন উন্নত পূর্বাভাস প্রযুক্তি (AI-ভিত্তিক Turbulence Prediction), স্যাটেলাইট ডেটা ও স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং ব্যবহারে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছে। তবু, দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে বিজ্ঞানীরা বলছেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণগুলোকেই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

আকাশপথের এই অদৃশ্য ঝুঁকি আমাদের মনে করিয়ে দেয় জলবায়ু সংকট শুধু মাটি আর সাগরের নয়, আকাশের উপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। দক্ষিণ এশিয়ার মতো ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে যেখানে বিমানচলাচল বাড়ছে, সেখানে CAT–এর বাড়তি ঝুঁকি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন ভবিষ্যতের নিরাপদ উড্ডয়নের জন্য যাত্রী, পাইলট ও নীতিনির্ধারকদের এখন থেকেই তথ্য-ভিত্তিক সচেতনতা ও প্রস্তুতি জরুরি।

গ্রাফিতিতে ভুল প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়েছিল : আনু মুহাম্মদ শিক্ষক , লেখক এবং ত্রৈমাসিক জার্নাল সর্বজনকথার সম্পাদক

পরপর তিনটি নির্বাচনী তামাশার মাধ্যমে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার পর রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের ৯ মাস পূর্ণ হলো। …দেয়ালের গ্রাফিতিতে সমাজের বিক্ষুব্ধ মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা, দাবি ও প্রত্যাশা প্রকাশিত হয়েছিল, সেটাই ঘোষণাপত্রের কাজ করেছে। সেখানে কথা, স্লোগান, ছবি, কার্টুনে জাতিগত, লিঙ্গীয়, শ্রেণিগত বৈষম্য এবং নিপীড়ন আধিপত্য স্বৈরশাসন থেকে মুক্ত এক দেশের প্রত্যাশা প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পর থেকে দেশে এর উল্টো তৎপরতা ক্রমেই বৃদ্ধি পায়। বৈষম্যবাদীদের দাপট বাড়তে থাকে। মাজার-মসজিদ, মন্দির, নারী, শিল্পকর্ম, ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি বিদ্বেষী ও আক্রমণাত্মক তৎপরতা বাড়ে। ভাস্কর্য, নাটক, গান, মেলা, গ্রন্থাগার ও শিল্প-সংস্কৃতির কেন্দ্র বহুবার আক্রমণের শিকার হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জোরজবরদস্তি করে কাউকে বসানো কাউকে নামানো।

নারী শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হিংসা-বিদ্বেষ, মব সহিংসতা চলতেই থাকে। আগের মতো চাঁদাবাজি দখল আবার শুরু হয়। শ্রমিক আন্দোলনে হামলা-মামলা, এমনকি গুলিও চলেছে। বিশেষ ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে ধরপাকড় চলছে। শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় সরকার ১৮ দফা চুক্তি করলেও তা বাস্তবায়ন করেনি। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের নিয়ে এখনো যথাযথ তালিকা, পুনর্বাসন, চিকিৎসা সম্পন্ন হয়নি। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে যে টালবাহানা চলছে। তার প্রমাণ বাছবিচারহীনভাবে শিক্ষক, লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা পাইকারি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা। আর সঙ্গে অজ্ঞাতনামা শত শত আসামি। … কিন্তু বহুল আলোচিত ত্বকী, তনু, সাগর-রুনি, মুনিয়াসহ বহু মামলার সমাধান হয় না। ফুলবাড়ীতে ১২ বছরের পুরোনো হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার হয় না।

মিথ্যা মামলায় আটক দলিত-হরিজনদের জামিনের শুনানি পর্যন্ত হচ্ছে না। হাসিনা আমলে আদালতে বিচারের রায় কী হবে আমরা বুঝতাম। এখনো কে জামিন পাবে, কে আটকে থাকবে আগেই বোঝা যায়। এই সরকার যে সংস্কার বা পরিবর্তন করতে আগ্রহী, তার প্রকাশটা কোথায়? সংস্কার আর নির্বাচন নিয়ে অহেতুক বিতর্ক তোলা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার যে সংস্কারগুলো করতে পারে, সেগুলো করতে বাধা কোথায়? ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে কৃষকের আত্মহত্যা বেড়ে গেছে। হিমাগার, কিংবা সরকারি ক্রয়ের মতো সাধারণ কাজগুলো করলে কৃষকের জন্য বড় একটা পরিবর্তন হয়।

মার্কিন কোম্পানি থেকে এলএনজি আমদানির চুক্তি করা হয়েছে পেট্রোবাংলাকে না জানিয়েই। অথচ আমাদের দরকার এলএনজি আমদানি, কয়লামুখী নীতি থেকে বের হয়ে আসা। তাই গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ক্ষেত্রে জাতীয় সক্ষমতা বাড়িয়ে এই সম্পদ আমরা যাতে পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারি, সেই উদ্যোগ ছিল জরুরি। দরকার ছিল আদানি-রামপাল-রূপপুর চুক্তি বাতিলের রাস্তা তৈরি। ৯ মাসে এসবে সরকারের উদ্যোগ দেখা যায়নি। তারা গত সরকারের নীতিমালা অনুযায়ীই কাজ করে যাচ্ছে। স্টারলিংকের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। রাখাইনে করিডর এখন উদ্বেগ আর আলোচনার বিষয়। লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার বন্দোবস্ত হচ্ছে। দেশের মানুষ কিছুই জানে না। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বা বিশেষ সহকারীরা বললেই তো হবে না। দেশের মানুষকে তো জানতে হবে, তাদের জীবন-সম্পদ নিয়ে আসলে কী করা হচ্ছে। স্বচ্ছতা আর জবাবদিহির ব্যবস্থা না করে পুরোনো পথই কেন সরকারের পছন্দ?

এর মধ্যে ভালো কাজ হয়েছে ১১টা বিষয়ে কমিশন গঠন। সেগুলোর রিপোর্টও এসেছে। এর মধ্যে সংবিধান, নির্বাচন, গণমাধ্যম, প্রশাসন, নারী ও শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনগুলোতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ আছে, যেগুলো ৫ আগস্টের পর আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটিরও বক্তব্য ছিল। যেমন বলেছিলাম, ‘উত্তরাধিকার সূত্রে জমি-সম্পত্তিতে নারীদের সমানাধিকার নিশ্চিত করা এবং সব কাজে সমশ্রমে সমমজুরি নিশ্চিত করার কথা। যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে ২০০৯ সালের হাইকোর্ট নির্দেশনা অবলম্বন করে কারখানা-সচিবালয়সহ সব প্রতিষ্ঠানে ‘যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা’ কার্যকর করা।’ শ্রমিক বিষয়ে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার, নিয়মিত মজুরি পরিশোধের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা ইত্যাদি অন্যতম। এ রকম অনেক সুপারিশই বর্তমান সরকার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারে।

সংস্কার কমিশনগুলোর রিপোর্ট নিয়ে সমাজে যথেষ্ট আলোচনা নেই। তবে ধর্মীয় দল-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে। উত্তরাধিকার প্রশ্ন কিংবা নারীর অধিকার প্রশ্ন এলেই বাংলাদেশের বৈষম্যবাদী রাজনীতি বা মতাদর্শ ধারণকারীদের ভয়ংকর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। … নারীকে প্রতিপক্ষ ধরে তাদের সক্রিয়তা হুংকার যত আওয়াজ দেয়, সমাজের বৈষম্য, নিপীড়ন, জাতীয় স্বার্থবিরোধী তৎপরতা নিয়ে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায় না। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের অনেকগুলোর সঙ্গে আমরা একমত। তবে দুটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার। মূলনীতি নতুনভাবে দাঁড় করাতে গিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর যুক্তিটাই সমস্যাজনক।

বলা হয়েছে, ‘ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণাটি সমাজ ও রাষ্ট্রে বিভক্তি ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে…এটি বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সমাজের ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।…’ কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দিলে বহুত্ববাদ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক কী করে হয়? কারণ, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে-রাষ্ট্র সব ধর্মের ব্যাপারে নিরপেক্ষ থাকবে, সব ধর্ম–মতের মানুষকে ধারণ করবে। এতে কীভাবে ‘বিভক্তি ও বিভ্রান্তি’ তৈরি হয়? দেয়ালের গ্রাফিতিতে বহু জায়গায় বলা হয়েছে ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। সেটাই ধর্মনিরপেক্ষতা।

শুধু অন্য ধর্মের মানুষ নয়, সংখ্যাগরিষ্ঠের মধ্যেও বহু সংখ্যালঘু থাকে। তাদের জন্যও নীতি-বিধিব্যবস্থা প্রণয়নে রাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ। কমিশনের আরও দাবি-এটি ‘অতীতে ফ্যাসিবাদী শাসনের আদর্শিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে’। বস্তুত, উল্টো সেই শাসন তৈরি হয়েছে ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে প্রতারণা করে, ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে, নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা জারি করে, মুক্তিযুদ্ধকে অপব্যবহার করে এবং জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন ও পাচারের ব্যবস্থা করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার উদগ্র বাসনায়। সংবিধানের মূলনীতিতে ‘সমাজতন্ত্র’ ছিল অলংকার হিসেবে। তবে এটি বাদ দেওয়ার যুক্তিটিও ভুল। বলা হয়েছে, ‘সমাজতন্ত্র মূলত গণতন্ত্রবিরোধী শাসনব্যবস্থা।’ সমাজতন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করতে হবে পুঁজিবাদ আর গণতন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করতে হবে স্বৈরতন্ত্রকে। পুঁজিবাদের মতো সমাজতন্ত্রেরও বিভিন্ন ধরন আছে।

বর্তমানে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভেনেজুয়েলা, পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়ার মতো বহু দেশে বামপন্থী/সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচিত দলগুলো নির্বাচন করছে, ক্ষমতায়ও যাচ্ছে। ইউরোপের বহু দেশে ডানপন্থী আক্রমণের মুখে প্রবাসী মানুষ এ রকম দলের ভরসাতেই থাকেন। কমিশন ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি’র কথা বলেছে। আসলে এটি কতিপয় গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত প্রাণবিনাশী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। সেই পন্থী কিছু গোষ্ঠী ছাড়া দুনিয়ার কেউ এটাকে আর কাঙ্ক্ষিত পথ বলে মনে করে না; ইউরোপ-আমেরিকাতেও নয়। এই পথ ধরলে এটাও বলতে হবে-‘সাম্য’ ও ‘সামাজিক ন্যায়বিচার’ কথাগুলো আমরা রেখেছি অলংকার হিসেবে। আর এটাও বলতে হবে যে বৈষম্যহীনতার দিকে যাওয়ার পরিবর্তে বৈষম্য বৃদ্ধির দিকে যাওয়ার অর্থনীতিই অব্যাহত থাকবে। বলতে হবে এটাই ‘বৈশ্বিক এবং জাতীয় প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক’। মানতে হবে যে দেয়ালের গ্রাফিতিতে ভুল প্রত্যাশা প্রকাশ করা হয়েছিল!

পাকিস্তান-ভারত সংকট প্রসঙ্গে কাশ্মীরের : সাবেক মুখ্যমন্ত্রী

‘পাহালগামের বিভীষিকাময় হামলার পর আমি ভেবেছিলাম, ইতিমধ্যেই ট্র্যাজেডির গভীরতম রূপ দেখে ফেলেছি। কিন্তু আজ যখন আমি ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনার গুলিবিনিময়ে নিহত নিরপরাধ শিশুদের মর্মান্তিক ছবি দেখলাম, বুঝতে পারলাম সবচেয়ে ভয়াবহতা হয়তো এখনও সামনে পড়ে রয়েছে। প্রতিশোধ যখন শেষ হয় না, তখন এই অবর্ণনীয় মূল্য চুকাতে হয় নির্বাক, অসহায়দেরই-তাদের ছিনতাই করা ভবিষ্যৎ এমন এক ক্ষত, যা আর শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা যায় না।’

মেহবুবা মুফতি।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, জম্মু ও কাশ্মীর

অভুত্থানের ছাত্র-জনতা বিভক্ত ও দ্বিধান্বিত : উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে সরকারের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা, রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ, ছাত্রদের ব্যর্থতা, ডানপন্থী ও বামপন্থীদের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পর্যবেক্ষণ লিখেছেন। ‘কৈফিয়ত কিংবা বাস্তবতা’ শীর্ষক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো —

‘ক্ষমতার ভরকেন্দ্র অনেকগুলো। ফলে কাজের দায় সরকারের, কিন্তু কাজ করে ক্ষমতার অন্যান্য ভরকেন্দ্র।জোড়াতালি দিয়ে গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব না, সম্ভব নয় নূতন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত।

রাজনৈতিক দলগুলো ডিসেম্বরের পর সহযোগী ভূমিকায় নেই৷ কিন্তু ঠিকই প্রশাসন, বিচারবিভাগ, পুলিশে তারা স্টেইক নিয়ে বসে আছেন। এস্টাবলিশমেন্ট দ্বিদলীয় বৃত্তে ফিরতে এবং ছাত্রদের মাইনাস করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

প্রায় তিন ডজন নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র মাত্র দু’জন। ছাত্র প্রতিনিধিদেরকেও এস্টাবলিশমেন্ট রাষ্ট্রপতি অপসারণের ঘটনার পর থেকে কোনঠাসা করে রেখেছে। আমরা দু’জন সর্বোচ্চ ব্যালেন্সিং এক্ট করতে পারছি, কিন্তু প্রভাবক হিসাবে কাজ করতে হলে সরকারে সুষম ছাত্র প্রতিনিধিত্ব লাগবে।

ছাত্রদের কয়েকটি দল হয়ে যাওয়াতে তারা এখন বিভক্ত, তদুপরি অন্য রাজনৈতিক দলের মতই তারা ট্রিটেড হচ্ছেন। এজন্য নাগরিক কমিটিই ছিল দীর্ঘমেয়াদে অভ্যুত্থানের ফোর্স হিসাবে টেকসই। যাইহোক! এদিকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্লাটফর্ম দেশব্যাপী ছাত্রদের গুছিয়ে উঠতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। অভুত্থানের ছাত্র-জনতা বিভক্ত ও দ্বিধান্বিত।

সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র কম্প্রোম্পাইজড। মিডিয়া ও ব্যবসায়ে লীগের আধিপত্য কমেনি। লীগের রাজনৈতিক অর্থনীতিতে হাত দেয়া যায়নি৷ পুরাতন দ্বিদলীয় বন্দোবস্ত টিকে গেছে। বিচার বিভাগ এখনো দ্বি-দলীয় বৃত্তে বন্দী।

বাম-ডানের কালচারাল ক্যাচাল জুলাইকে দুর্বল করেছে এবং শাহবাগ-শাপলাকে চিরন্তন করে তুলেছে। ডানপন্থীরা ভুল রাজনীতি করেছেন এবং নূতন বাস্তবতায় আবেগের বশে প্রতিক্রিয়াশীল ভূমিকা রেখেছেন। বামপন্থীরা প্রথম থেকেই সরকারের প্রতি স্কেপ্টিক্যাল এবং অভ্যুত্থানের পক্ষে জোরদার ভূমিকা রাখতে অসফল।

সবচেয়ে ডেডিকেটেড ছাত্রকর্মীরা ক্রেডিট, দলবাজি আর কোরামবাজির খপ্পরে পড়েছেন। আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ হাতেগোনা কয়েকজনের বিরুদ্ধে, কিন্তু ডিমোরালাইজড হয়েছে সমগ্র ছাত্র-জনতা।

ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের পক্ষের প্রতিষ্ঠান ও নূতন সিভিল সোসাইটি গড়তে ব্যর্থ হয়েছেন। সামরিক-বেসামরিক আমলাতন্ত্র, রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক এলায়েন্সের ক্ষেত্রে ছাত্র-জনতার কোন হিস্যা নেই।

শহিদ-আহতদের ক্ষেত্রে এবং বিচারের প্রশ্নে সরকারসহ সকল অংশীজন অসফল। অভ্যুত্থান শহর ছেড়ে গ্রামাঞ্চলে বিস্তৃত হয়নি৷ এস্টাবলিশমেন্ট ও রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থবাদী চিন্তা ও কর্মের সাথে সাথে ছাত্রদের অনভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার অভাব এজন্য দায়ী।

সর্বোপরি ছাত্রদের মাইনাস করে (ছাত্রদের ব্যর্থতা অনস্বীকার্য বটে) দ্বিদলীয় বন্দোবস্তে ফেরার জন্য এস্টাবলিশমেন্ট অপেক্ষমান। ছাত্রদের পরিপূর্ণ অসহযোগিতার মুখে ইতোমধ্যে ফেলে দেয়া হয়েছে।

সমাধান? রাষ্ট্র ও এস্টাবলিশমেন্টে ছাত্রদের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এবং ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তার দালালদের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে আঘাত করা। এগুলোন করার পূর্বশর্ত হল — ছাত্রদের মধ্যে সততা, আদর্শ, নিষ্ঠা ও ঐক্য ফিরিয়ে আনা। পুরাতন বন্দোবস্তের সৈনিকদের অকার্যকর করে তোলা।’

কেমন হতে যাচ্ছে অ্যালগরিদমের ক্যানভাস ?

আমরা আজ যে যুগে বাস করছি তা নিঃসন্দেহে একটি বৈপ্লবিক সময়। ডিজিটাল প্রযুক্তির উত্থান শুধু আমাদের যোগাযোগ বা কাজের ধরনই বদলে দেয়নি, এটি আমাদের সৃজনশীলতা ও শিল্পভাবনাকেও নতুন মাত্রা দিয়েছে।

প্রশ্ন হলো আমাদের প্রপৌত্র-প্রপৌত্রীরা এই সময়টিকে কিভাবে স্মরণ করবে? তারা কি আজকের শিল্প, সাহিত্য, সঙ্গীত বা চলচ্চিত্রের কোন নির্দিষ্ট দিককে এই যুগের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করবে? নাকি আমরা যা ভাবছি, তার চেয়েও ভিন্ন কিছু তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে?

যদি আমরাই পিছনে তাকাই ১৯১৩ সালকে একটি যুগান্তকারী সময় হিসেবে দেখতে পাই। সেই বছর ভিয়েনায় আর্নল্ড শোয়েনবার্গের সঙ্গীত শুনে দর্শকরা উত্তেজিত হয়ে উঠেছিল; মার্সেল ডুশাম্প একটি বাইসাইকেল চাকা প্লিন্থে বসিয়ে শিল্প জগতে সাড়া ফেলেছিলেন; কিউবিজম নিউ ইয়র্কে একটি অচেনা শিল্পরূপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল; সমালোচকদের কাছে “অপরিণত বর্বরতা” বলে বিবেচিত প্যারিসে নিজিনস্কি ও স্ট্রাভিনস্কির দ্য রাইট অফ স্প্রিং ব্যালে প্রথম মঞ্চস্থ হয়েছিল। আজ আমরা সেই সময়টিকে একটি সাহসী ও উদ্ভাবনী যুগ হিসেবে স্মরণ করি।

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো সেই সময়ের মানুষরাও সম্ভবত বুঝতে পারেননি যে তারা ইতিহাস সৃষ্টি করছেন। শোয়েনবার্গ বা ডুশাম্পের কাজকে তখন অনেকেই উদ্ভট বা অগ্রহণযোগ্য মনে করেছিলেন। ঠিক একইভাবে আজকের ডিজিটাল বিপ্লবও ভবিষ্যতে একটি সাংস্কৃতিক মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। কিন্তু সমস্যা হলো আমরা এখনও ডিজিটাল শিল্পকে পুরোপুরি মূলধারায় স্থান দিতে পারিনি।

আজকের দিনে ডিজিটাল প্রযুক্তি আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে। আমরা সকালে ঘুম থেকে উঠে মোবাইল চেক করি, অফিসের কাজ করি ল্যাপটপে, আড্ডা দিই সোশ্যাল মিডিয়ায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, শিল্পের ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি এখনও একটি সহায়ক ভূমিকায় সীমাবদ্ধ। এটি এখনও মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

উদাহরণস্বরূপ থিয়েটারে আমরা এখনও মূলত ঐতিহ্যবাহী মঞ্চনাটকই দেখি। গ্যালারিতে ট্যাঙ্গিবল পেইন্টিং বা ভাস্কর্যের প্রাধান্য। বই বলতে আমরা এখনও কাগজের বইকেই প্রাধান্য দিই। ডিজিটাল প্রযুক্তি এসব ক্ষেত্রে শুধু প্রচার বা টিকেট বিক্রির মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু ভবিষ্যতে যখন ডিজিটাল শিল্পের মাধ্যম ও রূপ দুই-ই হয়ে উঠবে, তখন শিল্পের সংজ্ঞাই বদলে যাবে।

ডিজিটাল শিল্পের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি ডেটা-নির্ভর, অ্যালগরিদমিক এবং গতিশীল। এটি শুধু ভিডিও বা অডিও নয়, বরং এমন একটি মাধ্যম যা নিজেই নতুন অভিব্যক্তি সৃষ্টি করতে পারে।

এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো –

একটি ডিজিটাল শিল্পকর্ম আপনার অনলাইন প্রোফাইল বিশ্লেষণ করে আপনার জন্য একটি অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। যেমন, রাফায়েল লোজানো-হেমারের ইনস্টলেশন দর্শকদের হৃদস্পন্দন বিশ্লেষণ করে তা শিল্পকর্মে রূপান্তরিত করে।

নিউ ইয়র্ক, নাইরোবি বা লন্ডনের মানুষের ঘুমের ডেটা সংগ্রহ করে একটি গতিশীল শিল্পকর্ম তৈরি করা যায় যা প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। জেরার্ডের ভার্চুয়াল ল্যান্ডস্কেপগুলো এই ধারার উদাহরণ।

ডিজিটাল শিল্পে বিশ্বজুড়ে শিল্পীরা একসাথে কাজ করতে পারেন। গুগলের ডিভআর্ট প্রকল্পে প্রোগ্রামার ও শিল্পীরা একত্রে কোডভিত্তিক শিল্প সৃষ্টি করেন।

বর্তমান চ্যালেঞ্জ কেন ডিজিটাল শিল্প পিছিয়ে?

সমস্যা হলো আজও ডিজিটাল শিল্পকে “ডিজিটাল আর্ট” বলে আলাদা করে দেখানো হয়, যেন এটি শিল্পের মূলধারার বাইরের কিছু। আমরা “ফটোগ্রাফিক আর্ট” বা “অ্যাম্প্লিফায়েড থিয়েটার” বলি না, কারণ সেগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে। কিন্তু ডিজিটাল শিল্প এখনও সেই অবস্থানে পৌঁছায়নি। এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে:

শিল্প জগতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো – যাদুঘর, গ্যালারি, থিয়েটার – ডিজিটাল শিল্পকে পুরোপুরি গ্রহণ করতে পারেনি। তাদের সংগ্রহশালা ও প্রদর্শনী পদ্ধতি ভৌত শিল্পকর্মের জন্য উপযোগী।

ডিজিটাল শিল্পকর্মের কোনও ভৌত অস্তিত্ব নেই। হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার দ্রুত পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক কাজই অচল হয়ে যাচ্ছে। ২০০০ সালের ফ্ল্যাশ অ্যানিমেশন আজ দেখা যায় না।

ডিজিটাল শিল্পের জন্য নতুন ধরনের বাণিজ্যিক কাঠামো প্রয়োজন। এনএফটি একটি প্রচেষ্টা ছিল, কিন্তু তা সীমিত সাফল্য পেয়েছে।

কোথায় যাচ্ছে ডিজিটাল শিল্প?

তবে আশার কথা হলো পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। লন্ডনের বার্বিকান সেন্টারের “ডিজিটাল রেভোলিউশন” প্রদর্শনী বা গুগলের ডিভআর্ট প্রকল্প ডিজিটাল শিল্পকে মূলধারায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতের শিল্পের কয়েকটি সম্ভাব্য দিক হলো, AR ও VR প্রযুক্তির মাধ্যমে শিল্প দর্শকদের জন্য সম্পূর্ণ নিমজ্জিত অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। পাঞ্চড্রাংকের থিয়েটার বা এলিয়াসনের ইনস্টলেশন এর প্রাথমিক উদাহরণ।
AI শিল্পীদের সহায়ক হিসেবে নয়, সহ-স্রষ্টা হিসেবে কাজ করবে। যেমন, মেমো অ্যাকেনের AI-সহায়তায় তৈরি সঙ্গীত।
শিল্পকর্ম দর্শকের আবেগ, অবস্থান বা পূর্ববর্তী আচরণের উপর ভিত্তি করে রিয়েলটাইমে পরিবর্তিত হবে।

আমরা একটি রূপান্তরকালীন সময়ে বাস করছি। ইতিহাসে প্রতিটি নতুন মাধ্যমই শুরুতে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ফটোগ্রাফি যখন এসেছিল, অনেকেই বলেছিলেন এটি “আসল শিল্প” নয়। আজ আমরা তা মনে করি না।

ডিজিটাল প্রযুক্তি যেমন কলম বা ক্যামেরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে, তেমনি একদিন ডিজিটাল শিল্পও “শিল্প” হিসেবেই স্বীকৃত হবে।তখন আমরা আমাদের স্ট্রাভিনস্কি বা ডুশাম্পদের খুঁজে পাব, যারা এই মাধ্যমকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। যতদিন না সেই দিন আসে, ততদিন আমাদের উচিত নতুন শিল্পরূপগুলিকে উৎসাহিত করা, প্রতিষ্ঠানগুলিকে পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া এবং ভবিষ্যতের দিকে সাহসী দৃষ্টিতে তাকানো। শিল্প সবসময়ই সামনে এগিয়ে যায়, আর এই যাত্রায় আমাদেরও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

মোদি-শাহ জুটির যুদ্ধ উন্মাদনা , ভারতকে যেভাবে বদলে দেবে : আলতাফ পারভেজ , দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক গবেষক

” … গত দেড় দশকে এবং বিশেষভাবে পেহেলগামের সন্ত্রাসী ঘটনার পর ভারতীয় জনসমাজে যেভাবে যুদ্ধ-উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তাতে পাকিস্তানে এক দফা হামলা অবধারিত ছিল।…এই হামলার মাধ্যমে বিজেপি সরকার তাদের জনগণের যুদ্ধক্ষুধার কিছুটা মেটাল। রাজনৈতিকভাবেও বেশ মুখরক্ষা হলো তাদের। তবে এই হামলা ভারতকে অধিক নিরাপদ করল কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়? যুদ্ধ শুরু করা যত সহজ, বন্ধ করা ঠিক তত কঠিন।

পেহেলগামে নির্মম রক্তপাত বিশ্বব্যাপী নিন্দিত হয়েছিল। কিন্তু ঘটনার দুই সপ্তাহ পরও ভারত এই হামলার বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত-পরবর্তী সাক্ষ্যপ্রমাণ তুলে ধরতে পারেনি। সেই কারণে গত ১৫ দিন চেষ্টা করেও তারা পাকিস্তানকে দোষারোপের প্রচারণায় আন্তর্জাতিক সমর্থন পায়নি তেমন।তাদের মিত্র রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রও এই ঘটনায় যুক্ত থাকার দায়ে পাকিস্তানের নিন্দা করেছে—এমন ঘটেনি। এ কারণে পাকিস্তানে ভারতের ৬ মের ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলা ‘আগ্রাসন’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার বাস্তব কারণ রয়েছে।

পেহেলগামের হামলায় যে ২৬ জন নিহত হয়েছেন, তাঁরা যেমন বিনা অপরাধে খুনের শিকার, তেমনি পাঞ্জাব ও আজাদ কাশ্মীরে ভারতের বোমায় নিহত ব্যক্তিরাও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে খুন হলেন বলে যাঁরা বলছেন, তাঁদের বক্তব্যের যুক্তি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ভারতীয় হামলার প্রত্যুত্তরে পাকিস্তানের ছোড়া গোলাগুলিতে যেসব ভারতীয় নাগরিক মারা যাচ্ছেন, তাঁরাও চলমান যুদ্ধ-উন্মাদনার নির্মম বলিমাত্র।

… এই ফাঁকে উভয় দেশের সামরিক বাজেট আরেক দফা বাড়বে, সামরিক আমলাতন্ত্রের প্রভাব অতীতের চেয়ে দৃঢ় হবে এবং সমাজজুড়ে ধর্মীয় ও জাতিগত উন্মাদনা নতুন উচ্চতায় উঠবে। পাশাপাশি যুদ্ধে সরাসরি কোনো স্বার্থ না থাকার পরও সাধারণ হিন্দু, মুসলমান, শিখরা আবার পরস্পরকে নতুন করে সন্দেহ-অবিশ্বাসের চোখে দেখতে শুরু করবে।

… আমেরিকা ও ইউরোপজুড়ে রাজনীতিতে উগ্র জাতীয়তাবাদীদের যে জোয়ার চলছে, তারা এই যুদ্ধে নিজেদের দক্ষিণ এশীয় মিত্রদের উত্থান দেখতে পা টাবে। ওই সব দেশের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ব্যবসাও এ কারণে চাঙা হবে।

… ভারতের প্রায় সব মিডিয়া পাকিস্তানে হামলাকে ‘সন্ত্রাসী ঘাঁটি’তে হামলা হিসেবে প্রচার করছে। মনে হচ্ছে, পাকিস্তানের সবাইকে তারা সন্ত্রাসী হিসেবে দেখে। এ রকম বিপজ্জনক মনোভাব দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যতের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।

কিন্তু বিপরীত দিকে, এ মুহূর্তে ভারতজুড়ে আরএসএস-বিজেপি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মতাদর্শিকভাবে সম্পূর্ণ চ্যালেঞ্জহীন অবস্থায় রয়েছে। যুদ্ধ-উত্তেজনাকে তার রাজনীতির সমার্থক এবং ভারতের জন্য একমাত্র পথ হিসেবে হাজির করতে পেরেছে।

… বিজেপি পরবর্তী লোকসভায় সাড়ে তিন শ থেকে চার শ আসনের জন্য চেষ্টা করছে। বাবরি মসজিদের জায়গায় দৃষ্টিনন্দন মন্দির গড়েও তারা উত্তর প্রদেশে প্রত্যাশিত ফল পায়নি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে নতুনভাবে তারা নিজেদের রণনীতি-রণকৌশল পুনর্বিন্যাস করেছে।

এখন তাদের প্রয়োজন পাকিস্তান ও মুসলমানবিরোধী তীব্র এক যুদ্ধ-পরিস্থিতি। এই কৌশলে সামাজিকভাবে বিজেপি ইতিমধ্যে কংগ্রেসসহ প্রধান প্রতিপক্ষকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে ফেলেছে। রাহুল গান্ধী অনেকটাই মোদি-অমিত শাহ জুটির রাজনৈতিক-সামরিক কৌশলের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছেন। পেহেলগাম অধ্যায়কে সর্বোত্তম পন্থায় নগদায়ন করতে নেমেছে সংঘ পরিবার। …”


আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ ও মিয়ানমার সরকারের সাথে সম্পর্ক সাংঘর্ষিক নয়

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা দখল করে নিয়েছে সেখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে বাংলাদেশ অনানুষ্ঠানিকভাবে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। দুই পক্ষের ওই যোগাযোগ বিষয়ে গত মাসে একটি কূটনৈতিক পত্র দিয়ে নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা।

আরাকান আর্মির সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগের বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের মতামতের বিষয়ে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে।

উত্তরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সার্বভৌম রাষ্ট্র। নিজ স্বার্থে যার সঙ্গে ইচ্ছা, তার সঙ্গে কথা বলব। কে কী বলল, যায় আসে না। আমরা একটা স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করেছি এবং সেটি বাস্তবায়ন করছি। মিয়ানমার আরাকান আর্মিকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তারাও (মিয়ানমার) তো তাদের (আরাকান আর্মি) সঙ্গে যোগাযোগ করছে।’

খলিলুর রহমান বলেন, ‘একটি জিনিস বিবেচনায় রাখতে হবে। বাংলাদেশের সীমান্তের ওপারে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ। এ সীমান্ত বাংলাদেশকে ম্যানেজ করতে হবে, রক্ষা করতে হবে, শান্তিপূর্ণ রাখতে হবে। ফলে ওপারে যে-ই থাক, তার সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখব। মিয়ানমার আর্মি যদি সেখানে সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তাহলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করব। আগে তো তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।’

প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা-সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ চেষ্টা করছে, যাতে নতুন করে রোহিঙ্গা না আসে। কথাটি খুব জোরের সঙ্গে আরাকান আর্মিকে জানিয়েছি। জাতিসংঘের মাধ্যমে আরাকান আর্মিকে জানিয়েছি যে আরাকানে যে নতুন প্রশাসন তৈরি হচ্ছে, তার সব স্তরে রোহিঙ্গাদের দেখতে চায় বাংলাদেশ। যদি সেটি তারা (আরাকান আর্মি) না করে, তাহলে সেটি হবে জাতিগত নিধনের একটি নিদর্শন, যেটি কোনোভাবেই আমরা সমর্থন করতে পারি না। পদক্ষেপটি যদি আরাকান আর্মি না নেয়, তাহলে তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাওয়া খুব মুশকিল হবে।’

আরাকান আর্মিকে দেওয়া এ বার্তার জবাব বাংলাদেশ পেয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, আমরা প্রশ্ন করেছি। জবাব এলে বিচার-বিবেচনা করে দেখব কী ধরনের জবাব পাচ্ছি। এখানে কোনো রাখঢাক নেই, বিষয়টি সাদা-কালো। হয় তারা জাতিগত নিধনের পক্ষে, নয় বিপক্ষে। আমরা অপেক্ষা করছি, এ পরীক্ষায় আরাকান আর্মি উত্তীর্ণ হতে পারছে কি না।’

মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের যোগাযোগ আর বোঝাপড়া নিয়ে জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আমাদের বোঝাপড়া রয়েছে। কিছুদিন আগে ভূমিকম্পে বাংলাদেশ থেকে সহযোগিতা গেছে, মিয়ানমারের অনুরোধের অপেক্ষা করা হয়নি। মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা, বাণিজ্যসহ সব দিকে যোগাযোগ রয়েছে। কোনো সমস্যা সমাধান চাইলে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ থাকতে হবে, না হলে সমস্যার সমাধান হবে না।’

মিয়ানমারের সার্বভৌম ও অখণ্ডতার কথা বাংলাদেশ বলছে, আরেক দিকে আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ সাংঘর্ষিক কি না, উত্তরে খলিলুর রহমান বলেন, ‘না, আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগটি বাস্তবিক প্রয়োজনীয়তা। ওপারে সীমান্তে তারা (আরাকান আর্মি) আছে, তাদের সঙ্গে তো আমাদের কাজ করতে হবে।’

মানবিক করিডর বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ‘সব পক্ষ রাজি কি না, আমরা দেখব। রাজি হলেই যে আমরা মানবিক সাহায্য দেব, এমন কোনো কথা নেই। এখানে অন্যান্য বিষয়ও রয়েছে। আরাকানে যে নতুন কর্তৃপক্ষ তৈরি হচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব চায়। সেখানে যেসব রোহিঙ্গা রয়েছে, তাদের ওপর যাতে কোনো অত্যাচার না হয়, তাদের সঙ্গে যেন বৈষম্য করা না হয়, তারা যাতে দলে দলে বাংলাদেশে না আসে—এ বিষয়গুলো মানতে হবে।’

ভুয়া খবরের পেছনে রাজনীতি-অর্থনীতি

বিভিন্ন সময় ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনার ফিরে আসার গুজব রটানো হয়। তবে সত্যটা হলো, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা হয়নি। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের দেশত্যাগ; এমনকি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস মারা গেছেন বলেও গুজব রটানো হয়। যেদিন খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে যাত্রা করেন, সেদিনও গুজব রটানো হয় যে তিনি আর দেশে ফিরতে পারবেন না।

ইউটিউবে এমন অনেক ভিডিও ছড়ানো হয়েছে যেখানে শেখ হাসিনাকে সাক্ষাৎকার দিতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওগুলোতে তাকে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা এ ধরনের কোনো সাক্ষাৎকার দেননি।

ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে খবর ও ‘টক-শো’র নামে কিংবা ইচ্ছামাফিক ভিডিও ও কনটেন্ট বানিয়ে এ ধরনের অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। দেশের বড় একটি অংশের মানুষ এ ধরনের ‘খবরে’ বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, এসব কনটেন্টের বড় একটি অংশই তৈরি করা হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়ানোর উদ্দেশ্যে।

অনলাইনে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের এক প্রতিবেদনে বিষয়টি বিশদভাবে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ইউটিউব কর্তৃপক্ষ এসবের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। সরকারের দিক থেকেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার নজির দেখা যায়নি।

আর দশটা সাধারণ ভিডিওর মতোই এসব ভুয়া ভিডিওতেও বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ‘ডলার’ আয় করছে ইউটিউব। নিয়ম অনুযায়ী বিজ্ঞাপনের আয়ের একটি অংশ পাচ্ছেন এসব কনটেন্ট নির্মাতারাও।

এতে দুই ধরনের লাভ হচ্ছে ভুয়া কনটেন্ট তৈরিতে জড়িতদের। প্রথমত, তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল হচ্ছে। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী রীতিমতো সংগঠিতভাবে তাদেরকে দিয়ে এই কাজ করাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, যারা এসব কাজ করছেন তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

উদ্বেগের ব্যাপার হলো যারা এসব ভুয়া খবরের ভিডিও দেখেন, ইউটিউবের ‘অ্যালগরিদম’ তাদের আরও বেশি করে এ ধরনের ভিডিও সামনে এনে দেয়। এর ফলে দর্শকরা অপতথ্যের অর্থাৎ ডিজিইনফরমেশনের এক গোলকধাঁধার মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকেন।

সত্য-মিথ্যার মিশেলে তৈরি করা ভিডিও সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে তুলনামূলক বেশি বয়সীদের মধ্যে; যারা অনেক ক্ষেত্রেই নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যম থেকে তথ্য যাচাই করেন না।

ইন্টারনেটে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কনটেন্ট তৈরিকারী এই গোষ্ঠীগুলোকে বলা হচ্ছে ‘বটবাহিনী’। মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে ২০১৩ সালে শাহবাগে আন্দোলন শুরু হলে তাদের প্রতিপক্ষ ‘বাঁশের কেল্লা’ গ্রুপ তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হয়েছিল।

পরে বিভিন্ন সময় নেতাকর্মীদের অনলাইনে সক্রিয়তা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে আওয়ামী লীগের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)। অপতথ্য ছড়ায় এমন অনেক ওয়েবসাইট পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে এদের বিরুদ্ধে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ‘ডিপ-ফেক’ ভিডিও। ইউটিউবে এসব ভিডিওতে মানুষের কণ্ঠস্বর নকল করে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে যাকে কথা বলতে দেখা যাচ্ছে তার ঠোঁটের নড়াচড়া পর্যন্ত খাপ খেয়ে যাচ্ছে। যারা মানসম্মত দৈনিক সংবাদপত্র পড়েন না, তাদের অনেকের পক্ষে ডিপ-ফেক ভিডিও দেখে সত্য-মিথ্যা যাচাই করা সম্ভব হয় না। তারা এগুলোকে সত্য ঘটনা বা খবর হিসেবে ধরে নেন।

ফেক নিউজের জামানার বহু আগে থেকেই বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ ছিল হলুদ সাংবাদিকতা। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ ও বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে সস্তা ধাঁচের এই সাংবাদিকতার উত্থান ঘটে। বিভ্রান্তিকর শিরোনাম, অতিরঞ্জিত গল্প, যৌন কেলেঙ্কারি, রোমহর্ষক অপরাধ নিয়ে কল্পনা মেশানো গল্প লিখে পাঠক ধরাই ছিল তখন মূল উদ্দেশ্য।

তার একশ বছর পর এখন চলছে ডিজিটাল মিডিয়ায় ‘ভিউ ও হিট’ বাড়ানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতা। আর এতেই বাড়ছে ‘ভাইরাল’ হওয়া কিংবা করার প্রবণতা। এর সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল হলো বাড়তি পাওনা।

রোববার তথ্য উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, বাংলাদেশে যে গুজব-অপতথ্য আছে, সেটা শুধু সেন্ট্রালি বা ভারত থেকে আসে, এ রকম না। তিনি আরও বলেন, ‘একটা অপতথ্য বা একটা মিথ্যা নিউজ শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি করে না; বরং একটা সোসাইটির পুরো ফেব্রিকটা নষ্ট করে দেয় এবং বাংলাদেশে এটা শুরু হয়েছে।’ (প্রথম আলো, ৪ মে ২০২৫)

অপতথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় কার্যকর সরকারি উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না। কীভাবে এই প্রবণতা ঠেকানো যায় সে ব্যাপারেও সরকারের ভেতর কোনো আলোচনার কথা শোনা যায় না। এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের অপতথ্য থেকে সুরক্ষিত রাখতে একমাত্র ভরসা ব্যক্তিগত সচেতনতা।