Home Blog Page 112

শিরকের অভিযোগে বটগাছ কাটা , ধর্মীয় ইস্যুতে কেন বারবার এ ধরনের ঘটনা ?

বাংলাদেশে মাদারীপুরে ‘বিদাত’ আখ্যায়িত করে একদল ইসলামপন্থীর একটি বটগাছ কেটে ফেলার ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে। যদিও বিশাল গাছটি সম্পূর্ণ কেটে ফেলার আগেই স্থানীয় প্রশাসন তাতে হস্তক্ষেপ করেছে।

আবার গত কয়েকদিন আগে কুড়িগ্রামের একটি উপজেলায় একজন নারী শিক্ষকের পর্দা বিষয়ে ফেসবুক পোস্টের জের ধরে সালিশ করে তাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে — সেই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে লাইভ করার ঘটনা ঘটেছে।

এর আগে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ‘ধর্মবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে পাঠাগার থেকে পাঁচটি বস্তায় করে বই তুলে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে জমা দেয়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

গত কয়েক মাসে ‘ধর্ম বিরোধী’ কর্মকাণ্ডের অজুহাত দিয়ে সারাদেশে নানা জায়গায় মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি ‘তৌহিদী জনতা’ কিংবা ‘বিক্ষুব্ধ মুসল্লিদের’ দাবির মুখে দিনাজপুর ও জয়পুরহাটে নারীদের ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করে দেয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছিলো।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসের ‘অ্যাজ বাংলাদেশ রিইনভেন্টস ইটসেলফ্, ইসলামিস্ট হার্ড লাইনারস্ সি অ্যান ওপেনিং’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেশে ইসলামি কট্টরপন্থীদের নানা তৎপরতার তথ্য বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নারীদের প্রতি বিদ্বেষের মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছিলো।

বিক্ষুব্ধ মুসল্লি কিংবা তৌহিদী জনতার ব্যানারে দেশে নানা ঘটনা ঘটেই চলেছে এবং একটি গোষ্ঠীর এসব তৎপরতার ক্ষেত্রে সরকারও নমনীয়তা প্রদর্শন করে বলে অনেকে মনে করছেন।

এই প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলাকে ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেন — এটিকে ঠিক ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বলা যাবে না, বরং ধর্মীয় অঙ্গনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই ‘অতি অধিকার বোধে’র এবং নিজেরাই তাৎক্ষণিকভাবে সবকিছুর সমাধান করে নেয়ার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

তার মতে, কোনো একটা আন্দোলন নাগরিক জনতার অংশগ্রহণে সফল হলে তার একটা জের তৈরি হয় এবং সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব দেখা যায়।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ডঃ এ কে এম খাদেমুল হক মনে করেন, এসব ঘটনাগুলোকে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা হিসেবেই দেখা উচিত।

তিনি বলেন — “বাংলাদেশের কিছু মানুষের মধ্যে এমন ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তারা এখন বেশী প্রকাশ্যে আসছে। আবার এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও দেখা যাচ্ছে না।”

তাঁর মতে — “যারা এগুলো করছে তারা নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করার জন্যই করছে এবং তারা কোনোভাবেই ধর্মপ্রাণ মানুষদের প্রতিনিধিত্বও করে না। সরকারের উচিত এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া।”

মান্টো : আগুনে পোড়া গল্পগুলো (১৯১২ – ১৯৫৫)

বিভক্তির লেখক

১৯৪৭ সালে যখন ব্রিটিশ ভারত ভাগ হল, মান্টো কেবল এই বিভাজন নথিভুক্ত করেননি, তিনি এর যন্ত্রণাও স্বচক্ষে দেখেছিলেন। তাঁর প্রিয় বোম্বে ছেড়ে লাহোরে পাড়ি দিতে বাধ্য হয়ে তিনি এমনসব গল্প লিখেছিলেন, যেগুলো কোটি কোটি উদ্বাস্তু মানুষের সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়; মানুষ ভাগের অবাস্তবতা তিনি সাহিত্যে ধারণ করেন।

বম্বাইয়া তেজ লেখনী

বহুজাতিক বোম্বেতে (১৯৩৬ – ১৯৪৮) মান্টো সিনেমা স্টুডিও আর ইরানি ক্যাফেগুলোর ভেতর দিয়ে খুঁজে পান নিজের কণ্ঠস্বর। দিনের বেলায় সিনেমার চিত্রনাট্য আর রাতের বেলায় ছোটগল্প লিখে তিনি শহরের উন্মত্ত গতি ও দ্বন্দ্বগুলো ধারণ করেন। তাঁর “বোম্বে গল্পসমূহ”-এ যৌনকর্মী, গ্যাংস্টার ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের সমান মানবিকতা দিয়ে অমর করে তোলা হয়।

টোবা টেক সিং

মান্টোর শ্রেষ্ঠ রচনা “টোবা টেক সিং” বর্ণনা করে বিষাণ সিং-এর গল্প। একজন মানসিক রোগী, যাকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বেছে নিতে বাধ্য করা হয়। তিনি “নো ম্যান’স ল্যান্ড”-এ দাঁড়িয়ে দুই দেশকেই প্রত্যাখ্যান করেন এবং সীমান্ত রেখার অনির্ধারিত অংশে মারা যান। এই গল্প মান্টোর বিভাজন-বিরোধী সবচেয়ে শক্তিশালী অভিযোগ। গল্পগুলো মান্টোর ২২টি গল্পসংকলনে ২৫০টিরও বেশি ছোটগল্প আছে, যা উর্দু সাহিত্যে বিপ্লব ঘটায়। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত রচনা “টোবা টেক সিং”, “খোল দো”, “লাইসেন্স” এবং “ঠাণ্ডা গোশত”—পার্থিব সরলতায় তুলে ধরে বিভাজনের সহিংসতা, নারীর শোষণ এবং ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের ভণ্ডামি। সত্যকে আড়ালের মধ্য দিয়ে প্রকাশের কৌশল দক্ষিণ এশিয়ার পরবর্তী লেখকদের গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

বিচারের কাঠগড়ায়

১৯৪১ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে মান্টো ছয়টি অশ্লীলতা মামলার মুখোমুখি হন—তিনটি ব্রিটিশ ভারতে এবং তিনটি পাকিস্তানে, “ঠাণ্ডা গোশত” ও “খোল দো”-এর মতো গল্পের জন্য। তাঁর লেখায় কাটছাঁট চাওয়া হলে তিনি বলেছিলেন, “যদি আমার গল্পগুলো আপনাদের নোংরা মনে হয়, তবে সমাজটাও নোংরা, যেখানে আপনারা বাস করছেন।”

বিদ্রোহী সহমর্মিতা

যখন সেন্সর কর্তৃপক্ষ তাঁর যৌনতার খোলামেলা উপস্থাপনা নিয়ে আপত্তি তুলছিল, মান্টোর আসল ‘অপরাধ’ ছিল সমাজের পরিত্যক্তদের মধ্যে মানবতা খোঁজা। তাঁর দৃষ্টিতে যৌনকর্মীরা প্রথমে মানুষ—যাদের আছে আকাঙ্ক্ষা, ট্র্যাজেডি ও মর্যাদা।

লাহোরে শেষ দিনগুলো

১৯৪৮ সালে বোম্বে ছেড়ে যে পাকিস্তানে আসতে বাধ্য হয়, মান্টো আর কখনও সেই ক্ষতির থেকে ফিরে আসতে পারেননি। লাহোরে তিনি মদ্যপান ও বিষণ্নতায় নিমজ্জিত হন এবং সাহিত্যে বিচ্ছিন্ন থেকে তাঁর সবচেয়ে তীক্ষ্ণ বিভাজন-গল্পগুলো লেখেন। ঋণ বেড়ে চলে এবং সেন্সরশিপ আয় সীমিত করে দেয়। তিনি ৪২ বছর বয়সে সিরোসিসে মারা যান।

সাংস্কৃতিক পরকাল — যে মৃত লেখক কখনও মারা যায়নি

জীবদ্দশায় স্তব্ধ করা হলেও মৃত্যুর পর মান্টোর কণ্ঠ আরও উচ্চকণ্ঠ হয়েছে। তাঁর গল্পগুলো পরিণত হয়েছে প্রশংসিত চলচ্চিত্রে । টেলিভিশন সিরিজ ও দক্ষিণ এশিয়ার থিয়েটারে “মান্টো” (২০১৫, পাকিস্তান), “মান্টো” (২০১৮, ভারত)। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়লে, তাঁর কাজ বারবার ফিরে আসে বিভাজনের মানবিক মূল্য স্মরণ করিয়ে দিতে।

উত্তরাধিকার

মান্টো ৪২ বছর বয়সে মারা যান। তাঁর কথা আজও অক্ষয়। জীবদ্দশায় যিনি নিন্দিত ছিলেন, আজ তিনি দক্ষিণ এশিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ ছোটগল্পকার হিসেবে স্বীকৃত। আপসহীন কণ্ঠস্বর দিয়ে তিনি কয়েক দশক আগেই সাহিত্যিক আন্দোলনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। আজ তাঁর কাজ বিভক্ত জাতিগুলোর মাঝে সেতুবন্ধন, যা ভারত ও পাকিস্তান—উভয় দেশেই অধ্যয়ন হয়, চলচ্চিত্রে রূপ নেয় এবং সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে।

‘যুদ্ধ মানেই মুনাফার খেলা , কাদের মুনাফা ? সেটা বুদ্ধিমানেরা সহজে বুঝে নিতে পারেন’ : নচিকেতা

কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানে আঘাত হেনেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এই ঘটনায় আনন্দবাজার ডট কমের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গায়ক নচিকেতা চক্রবর্তী। তাঁর কথায়, “একটাই কারণে আমি যুদ্ধ নিয়ে আতঙ্কিত। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ মানুষ। আপনি-আমি।” তাঁর দাবি, “সারা পৃথিবীতে যত যুদ্ধ হয়েছে, যত হিংসা ছড়িয়েছে সব ক’টির নেপথ্যে বাণিজ্যিক স্বার্থ রয়েছে। সব যুদ্ধ ‘স্পনসর’ করা! আমি প্রমাণ করে দেব।” তাঁর মতে, এগুলো যুদ্ধের হিড়িক। এক শ্রেণি এর থেকে লাভবান হচ্ছে।

নচিকেতা নিজের কথা প্রসঙ্গে উদাহরণ দিয়েছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের। তাঁর কথায়, “মনে রাখবেন, রকফেলারদের তেল উৎপাদনকারী সংস্থা সেই সময় জার্মানি এবং ইতালি, দুই দেশকেই পেট্রোল সরবরাহ করেছিল। এই সরবরাহ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন, এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল। কিছু ঐতিহাসিকের মতে, এটি শুধুই ব্যবসা।” প্রাচীন ইতিহাস থেকেই গায়ক নচিকেতার উপলব্ধি — যুদ্ধ মানেই মুনাফার খেলা। কাদের মুনাফা, সেটা বুদ্ধিমানেরা সহজেই বুঝে যান।

আমেরিকার Free State Project – দ্বন্দ্বে “গভর্নমেন্ট বনাম স্বাধীনতা”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের “গভর্নমেন্ট বনাম স্বাধীনতা” ধারণার ভেতরে লুকানো দ্বান্দ্বিকতা এবং “Free State Project” নামক লিবারটারিয়ান আন্দোলনের বাস্তব প্রয়োগ একটি গভীর এবং চিত্তাকর্ষক বিশ্লেষণ হতে পারে, যেখানে আধুনিক মার্কিন সমাজের রাজনৈতিক ও সামাজিক দ্বান্দ্বিকতাগুলো ফুটে ওঠে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দুটি প্রধান ধারনা একে অপরের সাথে সাংঘর্ষিক গভর্নমেন্ট এবং স্বাধীনতা। এটি ঐতিহাসিকভাবে রাষ্ট্রের ভূমিকা, নাগরিকদের অধিকার এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে উদ্ভূত এক দ্বান্দ্বিকতা। মার্কিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা ব্যক্তিরা, বিশেষ করে থমাস জেফারসন, জেমস ম্যাডিসন এবং অন্যান্য ফেডারেলিস্টরা, সরকারের শক্তি এবং নাগরিক স্বাধীনতার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য তৈরি করতে চেয়েছিলেন।

মার্কিন সরকারের কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পিত, তবে এটি অনেক সময় নাগরিকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়। এখানে দ্বান্দ্বিকতা প্রকাশ পায়, যেখানে রাষ্ট্রের ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ এবং এক্তিয়ার গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও নাগরিকদের স্বাধীনতা এবং অধিকারকে সীমাবদ্ধ করে।

স্বাধীনতা বা “ফ্রি ডোম” (freedom) মার্কিন রাজনৈতিক চিন্তাধারার কেন্দ্রে ছিল। স্বাধীনতা মানে হচ্ছে ব্যক্তির অধিকার এবং তাদের নিজের জীবন, সম্পত্তি এবং সুখের জন্য তাদের পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা। তবে এই স্বাধীনতা একদিকে যেমন রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি সশস্ত্র প্রতিরোধ হিসেবে দেখা যায়, তেমনি অন্যদিকে এটা সমাজে অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি করেও হতে পারে।

এই দুই ধারনার মধ্যে টানাপোড়েন মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসের পরতে পরতে বিদ্যমান। রাষ্ট্র যদি স্বাধীনতার সীমা অতিক্রম করে, তাহলে সেটা একটি ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ, ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (NSA) এর আড়াল থেকে সরকারের নজরদারি, এবং পেট্রিয়ট অ্যাক্ট এর মতো আইনগুলো ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখা হয়।

Free State Project একটি লিবারটারিয়ান আন্দোলন যা ২০০১ সালে শুরু হয়েছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লিবারটারিয়ানদের একটি বড় গোষ্ঠী তৈরি করা, যারা নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য কার্যকরীভাবে রাজনীতি করতে চায়। এর মূল লক্ষ্য ছিল নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্যে প্রায় ২০,০০০ লিবারটারিয়ানদের স্থানান্তরিত করা, যারা একত্রে বসবাস করে সরকারের ক্ষমতা সীমিত করতে, ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষায় এবং বাজার নির্ভর রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে।

Free State Project-এর সদস্যরা বিশ্বাস করে যে, ছোট পরিসরের সরকার এবং সীমিত সরকারি হস্তক্ষেপই সেরা পদ্ধতি ব্যক্তির স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য। তাদের মতে, একটি বৃহৎ সরকারের প্রতি অন্ধ আনুগত্য শুধুমাত্র স্বাধীনতার ক্ষতি করে।

Free State Project-এর অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন যে সরকার বাজারের কার্যক্রমে বাধা দেয়, এবং ছোট ব্যবসা বা উদ্যোগের স্বাধীনতা সীমিত করে। তারা একটি লিবারটারিয়ান আদর্শে বিশ্বাসী, যেখানে সরকারের হস্তক্ষেপ খুব কম হবে।

এই প্রকল্পের বাস্তব প্রয়োগে নিউ হ্যাম্পশায়ারে একটি ছোট লিবারটারিয়ান সম্প্রদায় গঠন করার উদ্দেশ্যে লিবারটারিয়ানরা স্থানান্তরিত হন। এই আন্দোলনের মাধ্যমে, তারা একটি নতুন ধরনের সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন যেখানে সরকারের ভূমিকা হবে একেবারে সীমিত।

তবে এই আন্দোলন বাস্তবে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে:

নিউ হ্যাম্পশায়ারের সরকার এবং রাজনৈতিক নেতারা তাদের প্রস্তাবিত আইন এবং নীতি পরিবর্তন করতে বিরোধিতা করেছেন, যেমন করের পরিমাণ কমানো বা সরকারি নিয়ন্ত্রণ সীমিত করা।

আন্দোলনের সমালোচকরা মনে করেন যে Free State Project আদর্শের বাস্তব প্রয়োগে সমাজের বৃহত্তর অংশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যেমন সমাজের দুর্বল বা দরিদ্র জনগণের জন্য সরকারি সহায়তা কমে যেতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে “গভর্নমেন্ট বনাম স্বাধীনতা” ধারণার মধ্যকার দ্বান্দ্বিকতা Free State Project-এর মাধ্যমে বিশেষভাবে প্রকাশিত হয়। আন্দোলনটি একদিকে যেমন ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পক্ষে দাঁড়ায়, অন্যদিকে সরকার ও সামাজিক সুরক্ষার ভূমিকা কমিয়ে দিয়ে কিছু সদস্যের জন্য অব্যবস্থা সৃষ্টি করতে পারে।

ফলস্বরূপ Free State Project-এর অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করে যে, ছোট সরকারের মধ্যে একটি উত্তেজনা থাকে, একটি সমাজের অধিকার রক্ষার জন্য সরকারের ভূমিকা কতটা প্রয়োজনীয় এবং একে কতটা সীমাবদ্ধ করা উচিত।

“গভর্নমেন্ট বনাম স্বাধীনতা” ধারণার মধ্যকার দ্বান্দ্বিকতা মার্কিন রাজনীতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। Free State Project-এর মতো আন্দোলন এ দ্বান্দ্বিকতাকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে উন্মোচন করেছে, যেখানে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা চলছে। যদিও এই প্রকল্পের প্রয়োগে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা এবং স্বাধীনতার ধারণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব উদাহরণ।

তৈমুরের মৃত্যু – ইতিহাসের অমীমাংসিত ষড়যন্ত্র

আজকের মধ্য এশিয়া কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির মানচিত্র যদি একটু আলাদা হতো, তাহলে তার পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারতো তৈমুর লং-এর জীবন ও রহস্যঘেরা মৃত্যু। ইতিহাসের এই নির্ভীক দিগ্বিজয়ীর আকস্মিক পরিণতি আজও রহস্যে মোড়ানো। তাঁর মৃত্যু কী প্রকৃতপক্ষে প্রাকৃতিক? নাকি ইতিহাসের গভীরে লুকানো কোনো সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চক্রান্ত?

১৩৩৬ সালে সমরখন্দের নিকটবর্তী শহরে জন্মগ্রহণ করেন তৈমুর, যিনি পরবর্তীকালে তৈমুর লং (Tamerlane) নামে ইতিহাসে পরিচিত হন। চেঙ্গিস খানের উত্তরাধিকার দাবি করে তিনি মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন উপজাতি ও গোষ্ঠী একত্রিত করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই পারস্য, ইরাক, সিরিয়া, আনাতোলিয়া (আজকের তুরস্ক) এবং ভারত (দিল্লির তৎকালীন সুলতানাত)-এ জয়যাত্রা চালান। তাঁর বাহিনী ছিল মধ্যযুগীয় বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী, আর তাঁর প্রশাসনব্যবস্থা ছিলো নির্ভুল ও কঠোর শাসনের প্রতীক।

তবে তৈমুর কেবল এক দিগ্বিজয়ী সেনাপতি ছিলেন না, তিনি সমরখন্দে সংস্কৃতি, স্থাপত্য ও শিল্পকলারও পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন। যদিও পশ্চিমা ঐতিহাসিকরা প্রায়ই তাঁকে নির্মম ও নৃশংস দখলদার হিসেবে চিত্রিত করেছেন, তবুও মধ্য এশিয়ার অনেক জনগোষ্ঠী তাঁকে জাতীয় ঐক্য ও সাংস্কৃতিক রেনেসাঁর পথিকৃৎ বলে মনে করে।

১৪০৫ সাল, তখন তৈমুরের বয়স প্রায় ৬৯–৭০ বছর। জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে তিনি বিশাল সামরিক বাহিনী নিয়ে চীনের মিং সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযানে যাত্রা শুরু করেন। লক্ষ্য ছিল চীনের ধনী প্রদেশগুলো জয় করে সাম্রাজ্যের পূর্ব সীমা আরও প্রসারিত করা। কিন্তু ঠিক এই সময়ই উত্তরাধিকার প্রশ্ন, সেনাবাহিনীর ক্ষয়িষ্ণু মনোবল, চরম ঠাণ্ডা আর অভ্যন্তরীণ রাজনীতির টানাপোড়েন শুরু হয়। কিছু উচ্চপদস্থ সেনাপতি এবং আত্মীয়স্বজন এই ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে অনাগ্রহী হয়ে ওঠেন।

পথে আধুনিক কাজাখস্তানের ওত্রার (Otrar) শহরের নিকটে তৈমুর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর দেহে তীব্র জ্বর, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ দেখা দেয়। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আধুনিক চিকিৎসা তথ্য অনুযায়ী সম্ভাব্য কারণ ছিল নিউমোনিয়া, Hypothermia (ঠান্ডাজনিত শারীরিক ব্যর্থতা) অথবা গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস। তবে প্রশ্ন হলো এত দ্রুত ও হঠাৎ করে কি একজন রণাঙ্গনের কঠোর যোদ্ধা মৃত্যুবরণ করতে পারেন?

কিছু ঐতিহাসিক রুশ ও ইরানি স্কলাররা মনে করেন, তৈমুরের মৃত্যুর পেছনে ছিল তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের চক্রান্ত। তৈমুর তখনও স্পষ্ট উত্তরাধিকার ঘোষণা করেননি। তাঁর সন্তান ও নাতিরা অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ে লিপ্ত ছিলেন। বিশেষ করে সেনাপতি ও সম্ভ্রান্ত অভিজাতরা চীন অভিযানের ঝুঁকিতে অখুশি ছিলেন।

তাদের পক্ষে সহজ সমাধান ছিল তৈমুরকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা। সম্ভাব্য বিষ ছিল আরসেনিক ট্রাইঅক্সাইড। এই বিষ সহজেই খাদ্য বা পানীয়তে মিশিয়ে দেওয়া যেত এবং লক্ষণগুলো ডায়রিয়া, দুর্বলতার সাথে এতটাই মিলত যে চিকিৎসকেরাও প্রাকৃতিক মৃত্যু মনে করতেন।

চীনের মিং সাম্রাজ্য তৈমুরকে ভয় পেত। সমরখন্দ ও আশেপাশের অঞ্চলগুলোতে চীনা বণিক ও দূতেরা বহু বছর ধরে সক্রিয় ছিল। অনেক ঐতিহাসিক অনুমান করেন, চীনা গুপ্তচররা তৈমুরের শিবিরে অনুপ্রবেশ করে তাঁর খাদ্যদ্রব্যে বিষ প্রয়োগ করে। এর ফলে চীন আক্রমণ থেমে যায় এবং চীন দীর্ঘদিন ধরে মধ্য এশিয়ার আগ্রাসন থেকে মুক্ত থাকে।

১৯৪১ সালে সোভিয়েত প্রত্নতত্ত্ববিদ মিখাইল গেরাসিমভ তৈমুরের সমাধি (Gur-e-Amir Mausoleum, সমরখন্দ) খনন করেন। তাঁর সমাধিতে একটি আরবি শিলালিপি পাওয়া যায়। সেখানে লেখা ছিলো – ‘যে আমার কবর খুলবে, সে আমার থেকেও ভয়ংকর এক আক্রমণকে মুক্ত করবে।’

আশ্চর্যজনকভাবে কবর খোলার তিন দিনের মাথায় হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়নে আক্রমণ (অপারেশন বারবারোসা) চালান। এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্ব ইউরোপীয় রণাঙ্গনে ভয়াবহ রক্তপাত ঘটে। এ ঘটনা থেকে অনেকেই মনে করেন, তৈমুরের মৃত্যু ও তাঁর কবর “অভিশপ্ত” ছিল।

১৯৪১ সালের প্রত্নতাত্ত্বিক খননে তৈমুরের দেহাবশেষ থেকে নমুনা নিয়ে গবেষণা হয়। তার ফলাফলে তৈমুরের দেহে আর্থ্রাইটিস, গাউট ও অন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের প্রমাণ মেলে। বিষ প্রয়োগের সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে ল্যাব প্রযুক্তি সীমাবদ্ধ ছিল।

তৈমুর লং-এর মৃত্যু আসলে শুধুই এক প্রবীণ সেনানায়কের প্রাকৃতিক পরিণতি? নাকি এটি ছিল একটি সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র যার ফলে মধ্য এশিয়া ও চীনের রাজনৈতিক মানচিত্র চিরতরে পাল্টে যায়? এ প্রশ্নের সরল উত্তর নেই। তবে এটুকু নিশ্চিত তৈমুরের মৃত্যু না হলে হয়তো চীনের ইতিহাস, এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ অন্যরকম হতো।

গ্রীষ্মকালীন পানিশূন্যতা ও ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স – কী খাবেন , কী এড়াবেন ?

বাংলাদেশের গ্রীষ্মকাল শুধু গরম নয়, শরীরের ভেতরে নীরব পরিবর্তনের সময়ও বটে। প্রচণ্ড তাপদাহ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় শরীর দ্রুত ঘাম ঝরায়, আর এই ঘামের সঙ্গে হারিয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ—সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম। চিকিৎসকদের মতে, এই ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা উপেক্ষা করলে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, পেশির টান, এমনকি গুরুতর হিটস্ট্রোকও হতে পারে। চিকিৎসকরা বলেন, ‘‘শুধু পানি নয়, শরীরে খনিজও ফেরত দিতে হবে। না হলে স্নায়ু ও পেশি ঠিকমতো কাজ করবে না।’’ এ সময় দেহের চাহিদা পূরণে তরমুজ, বাঙ্গি, শসা, ডাবের পানি, লেবু-লবণ-চিনির শরবত, কলা ও দই উপকারী। এগুলো শরীরকে ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি খনিজ সরবরাহ করে।

তবে কিছু অভ্যাস সমস্যা বাড়ায়। চা, কফি, কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার শরীর থেকে আরও পানি বের করে দেয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী ও বাইরে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য এ সময় সচেতনতা জরুরি। প্রতি ঘণ্টায় অল্প করে পানি পান, প্রস্রাবের রঙ পর্যবেক্ষণ ও হালকা খাবার গ্রহণ এগুলো সহজ নিয়ম। প্রস্রাব গাঢ় হলে দ্রুত পানি ও ইলেকট্রোলাইট যুক্ত খাবার গ্রহণ করা উচিত। সংক্ষেপে গরমে কেবল পিপাসা মেটানো নয়; স্মার্ট খাবারের মাধ্যমে শরীরের ভেতরকার ভারসাম্য বজায় রাখাই সুস্থতার মূল চাবিকাঠি।

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ , ৩ গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব কমিশনের

স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকার বছরের পর বছর বরাদ্দ কম দিয়ে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা বলে আসছেন। গত এক দশকের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, জাতীয় বাজেটের গড়ে ৫% বরাদ্দ রাখা হয় স্বাস্থ্যে। অন্যদিকে জিডিপির অংশ ২% কখনো ছাড়ায়নি। স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন মনে করে, স্বাস্থ্যে জিডিপির অন্তত ৫% এবং জাতীয় বাজেটের ১৫% বরাদ্দ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী যেসব দেশ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনে এগিয়ে আছে, তারা স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫% বা তার বেশি ব্যয় করছে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে সেবা বিস্তৃত হবে, ব্যক্তিগত ব্যয় কমবে, জনগণের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অবকাঠামো, জনবল ও আধুনিক প্রযুক্তিতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র বা সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় স্বাস্থ্য খাত নেই। বিগত ১৫ বছরের বাজেট বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরাদ্দের দিক থেকে স্বাস্থ্য এখনো নিচের দিকে—৮ নম্বরে। এগিয়ে থাকা অন্য খাতগুলো হচ্ছে জনপ্রশান, শিক্ষা, পরিবহন ও যোগাযোগ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, কৃষি এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ।

‘স্বাস্থ্য অর্থায়ন সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নসহ প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য খাতে টেকসই অর্থায়নের ব্যাপারে ৩৩টি সুপারিশ করা হয়েছে। তামাক, চিনিযুক্ত পানীয়, এনার্জি ড্রিংক, বুকের দুধের বিকল্প পণ্য, ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত প্যাকেটজাত খাবার, অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার বা এই ধরনের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি করতে হবে এবং কর থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ স্বাস্থ্যের জন্য নির্ধারণ করতে হবে। একইভাবে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসবহুল পণ্যের ওপর কর চালু বা কর বাড়িয়ে অর্জিত আয়ের একটি অংশ স্বাস্থ্যের জন্য রাখতে হবে। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা তহবিল, স্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রবাসী বন্ড চালু, সামাজিক বিমা চালুর কথা সুপারিশে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ক্রয় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়িয়ে অর্থের সাশ্রয় করার কথা বলা আছে।

প্রতিবেদনে বলা আছে — যারা অতি দরিদ্র, তারা যেকোনো কাছাকাছি প্রতিষ্ঠানে বিনা মূল্যে সব ধরনের সেবা পাবেন। প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে ১০% দরিদ্র রোগীকে বিনা মূল্যে অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগ পরিষেবা, ওষুধ ও ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা দিতে হবে। ১০% দরিদ্র রোগীকে একই সেবা বিনা মূল্যে দেবে বেসরকারি হাসপাতাল। তবে প্রতিবেদনে এ কথাও বলা আছে যে এটি নতুন কোনো শর্ত নয়। এটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হাসপাতাল পরিচালনার প্রাথমিক শর্ত, যা রাজনৈতিক ও অন্য কোনো কারণে অতীতে বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে — দুর্নীতি, সক্ষমতার ঘাটতি, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং চিকিৎসাশিক্ষার নিম্নমান ভবিষ্যতের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। দেশের স্বাস্থ্য খাত আজ জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি।

আনুপাতিক হারে , সাধারণ নির্বাচনের ব্যাপারে একমত নয় বিএনপি : মির্জা ফখরুল

” … আমরা আনুপাতিক হারে সংসদে সদস্য (নিম্নকক্ষ) নির্বাচনের বিষয়ে একমত নই। উচ্চকক্ষে সদস্যরা কীভাবে নির্বাচিত হবেন, তা আলোচনার মাধ্যমে ঠিক করা যেতে পারে।

… (জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল-এনসিসি গঠনের প্রস্তাব) এটা আমরা একদম না করে দিইনি। বলেছি, পরে সংসদে আলোচনা করে এটা করা যেতে পারে।

… গণতন্ত্র একটি সংস্কৃতি। এটা চর্চার বিষয়। চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়।…অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকারে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা একেকজন পণ্ডিত মানুষ। কিন্তু জনগণের অংশগ্রহণ, জনগণকে সঙ্গে নেওয়া, এটা তো চর্চা করতে হবে। আজ যেটা গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো রাজনীতিকদের দৃঢ় অঙ্গীকার থাকা। এখন তাঁদের ছাত্রদের দলকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য যদি আলাদা করে নিয়মের বাইরে গিয়ে যদি কিছু করতে যান, মানুষ তা গ্রহণ করবে কি না, সে সিদ্ধান্তও নিতে হবে।

… বর্তমান বিশ্বে বিরাজনীতিকরণের একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে এক-এগারো (১১ জানুয়ারি ২০০৭) থেকে। ‘মাইনাস টু’ থিওরির কথা এসেছে। আমাদের অনেকে মনে করেন, এই চেষ্টা এখনো চলছে। এখন একটি মহল—যারা চায় না বিএনপি ক্ষমতায় আসুক, সরকার চালাক, নেতৃত্বের ভূমিকা নিক, তাদের মধ্যে এমন প্রবণতা আছে।

… সরকার ধোঁয়াটে অবস্থা তৈরি করে রেখেছে। ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত তো কোনো তারিখ ঘোষণা করা হলো না। পরিষ্কার করে বলতে হবে, আমরা এই এই কাজগুলো করে এভাবে নির্বাচন করতে চাই। তা না হলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।

… এ সরকার নির্বাচিত নয়। এ কারণে অনেক কিছু হচ্ছে না। সাধারণ মানুষ কোথাও বিচার পাচ্ছে না।…নির্বাচনে যত দেরি হবে, দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিদেশি বিনিয়োগ ততক্ষণ আসবে না, যতক্ষণ না এখানে নির্বাচিত সরকার আসে।

… অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যে কমিশন গঠন করেছেন (নারী বিষয়ে), সেটা গঠনের সময় বাংলাদেশের যে সংস্কৃতি, এখানকার মানুষের চিন্তাভাবনা বিবেচনায় নেননি। সরকারের উচিত ছিল, ওই কমিশনে প্রগতিশীল কিছু ইসলামি স্কলারকে রাখা। তাহলে বিষয়গুলো এভাবে আসত না।

… আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিস্ট দল। তারা একটি গণহত্যার সঙ্গে জড়িত। এ জন্য তাদের বিচার করতে হবে। আর যদি আদালত মনে করে, দল হিসেবেও তাদের বিচার করা দরকার, তাহলে তা করতে হবে।

… তরুণদের কোনো সুনির্দিষ্ট মতাদর্শে আনতে না পারার কারণে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর বহিঃপ্রকাশ ঘটছে রাজপথে। কোনো কিছু হলেই ওরা মারামারি করছে। কলেজে কলেজে মারামারি হচ্ছে। দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ছে। এগুলো বোধ হয় খুব ইতিবাচক কিছু হচ্ছে না।

তরুণদের যদি একটি বিপ্লবী দল থাকত, তাহলে হয়তো কিছু কাজ হতো। কিন্তু এখন তো বিপ্লবী দল বলে কিছু নেই। একটি দল আছে, যে দলটি এখনো রাজনৈতিক দল হিসেবে তৈরি হতে পারেনি।

… বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা ঘটছে। বহু আগে থেকেই এ দেশে মারামারি গণতন্ত্রের অংশ। ট্রাম্প হেরে যাওয়ার পর ক্যাপিটল হিল আক্রান্ত হয়নি? এতে কি সেখানে গণতন্ত্র শেষ হয়ে গেছে?

… (দখল-চাঁদাবাজির অভিযোগ) তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এগুলো মুহূর্তের মধ্যে দূর করে ফেলতে পারবেন, এটা সম্ভব নয়। তবে দলের পক্ষ থেকে সমন্বিত চেষ্টা আছে। আমরা প্রায় তিন হাজার লোককে বহিষ্কার করেছি দল থেকে।

… একাত্তর হলো আমাদের ‘বটমলাইন’—আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলন, আমাদের পরিচিতি, স্বাতন্ত্র্য। আর চব্বিশে ছাত্রদের যে আন্দোলন, তা স্বতঃস্ফূর্ত তাৎক্ষণিক একটি বিষয়। ১৫ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য যে নিরন্তর লড়াই করেছি আমরা, তার সঙ্গে ছাত্রদের আন্দোলন একটি স্ফুলিঙ্গের ভূমিকা রেখেছে। এটাকেও খাটো করে দেখার কোনো উপায় নেই।

… আমার ধারণা ছিল, ভারত রাষ্ট্র হিসেবে অনেক বড়, সুপারপাওয়ারের কাছাকাছি। সে অনুযায়ী তাদের কূটনৈতিক চর্চা বাস্তবসম্মত হবে, টেকসই হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সেই প্রত্যাশিত কূটনৈতিক চর্চা কখনোই করেনি।…একটি দলের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে তাদের পুরোপুরি বিচ্ছেদ হয়ে গেছে।

সেই সম্পর্ক ভারতকে আবার তৈরি করতে হবে। এটা করতে হবে বিভিন্ন উপায়ে; যেমন তিস্তা ও অন্যান্য নদীর পানির হিস্যা দিতে হবে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচার বন্ধ করতে হবে। আরেকটি বড় ইস্যু আছে, তা হচ্ছে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে ফেরত দিতে হবে।

… জনগণকে এটা মনে রাখতে হবে, জনপ্রিয়তামুখী রাজনীতি ভিন্ন বিষয়। বিএনপি একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল।…আমরা মনে করি, এখন ধৈর্য ধরে এ সরকারকে সফল হতে দিতে হবে। দেশকে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।”

ভাইকিংস ও সিল্ক রোড

ভাইকিংস, যাদের নাম শুনলে ইউরোপজুড়ে আতঙ্ক ও রক্তের গন্ধ ভেসে আসে, তাদের ইতিহাস কি শুধুই লুট, রক্তপাত ও দখলের গল্প? নাকি এর গভীরে ছিল এমন এক অধ্যায়, যা বিশ্ব বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুদূর প্রসারী ইতিহাসের অংশ? যেখানে ভয়ংকর নর্স যোদ্ধারা শুধুমাত্র তলোয়ার নয়, বরং সিল্ক, মসলা ও মূল্যবান পণ্যের আদান-প্রদানে জড়িত ছিল—সিল্ক রোডের মতো প্রাচীন বাণিজ্যপথের সাথে।

৮ম থেকে ১১শ শতাব্দীকে ইতিহাসবিদেরা “Viking Age” নামে অভিহিত করেন। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ক থেকে আসা এই জনগোষ্ঠী তাদের অসাধারণ নৌ নির্মাণ ও নাবিক দক্ষতার মাধ্যমে ইউরোপজুড়ে অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ, সরু ও দ্রুতগতিসম্পন্ন ‘লংশিপ’ এর বদৌলতে তারা সহজেই নদীপথ ও সাগর পাড়ি দিতে পারত। পশ্চিমে তারা ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও আইরিশ উপকূলে আক্রমণ চালায়, দক্ষিণে পৌঁছে যায় স্পেন ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত। কিন্তু এর বাইরেও এক বিশাল পথ ছিল পূর্ব দিকে যা আধুনিক রাশিয়া, পারস্য এবং আরও দূরপ্রাচ্যের দিকে বিস্তৃত—এটি ছিল তাদের ‘Eastern Expansion’। এই পথ ধরেই তারা যুক্ত হয় প্রাচীন বিশ্ব বাণিজ্যের বৃহত্তম রুট সিল্ক রোডের সাথে।

ভাইকিংসদের পূর্ব অভিযানের প্রধান পথ ছিল ‘Varangian Routes’, অর্থাৎ আজকের বাল্টিক সাগর থেকে রাশিয়ার নদীপথ ধরে কৃষ্ণসাগর হয়ে কনস্টান্টিনোপল (আজকের ইস্তাম্বুল)। তারা স্লাভ জাতির সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে এবং কিভান রাস নামক রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে, যার কেন্দ্র ছিল আজকের ইউক্রেন। এখান থেকে তারা দক্ষিণে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপলে পৌঁছায়।

বাইজেন্টাইন সম্রাটরা ভাইকিংসদের এতটাই শক্তিশালী ও দক্ষ যোদ্ধা হিসেবে দেখেছিলেন যে, তাদের দ্বারা গঠিত হয় সম্রাটের ব্যক্তিগত রক্ষী দল ‘Varangian Guard’। একাধিক ঐতিহাসিক নথি থেকে জানা যায়, ভাইকিংসরা তখন সিল্ক, স্বর্ণ, রত্নপাথর, কাচ, মসল্লা এবং আরব অঞ্চলের রূপার মুদ্রা নিয়ে ইউরোপে ফিরত। ৯ম শতকের নরওয়েজিয়ান গ্রামে পাওয়া ‘Arab Dirham’ (আরবীয় রূপা মুদ্রা)-এর ভাণ্ডার এই পথের শক্তিশালী প্রমাণ।

ভাইকিংস ও আরব বিশ্বের মধ্যকার সম্পর্ক ছিল জটিল ও গভীর। ১০ম শতাব্দীতে বাগদাদের ইতিহাসবিদ Ahmed Ibn Fadlan তার বিখ্যাত ভ্রমণপত্রে নর্স জনগণের জীবনযাত্রার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন ভাইকিংসদের (যাদের তিনি ‘Rus’ নামে চিহ্নিত করেন) আচরণ, পোশাক ও ব্যবসার পদ্ধতি। Ibn Fadlan-এর বর্ণনায় স্পষ্ট হয় যে, ভাইকিংসরা আরব বাজারে দাস (Slaves), পশম, মধু, পশুর চামড়া ও অস্ত্র বিক্রি করত এবং বিনিময়ে আরবরা সিল্ক, সোনা, মশলা ও রূপার মুদ্রা দিত।

তখনকার বাগদাদ ও পারস্য ছিল সিল্ক রোডের প্রাণকেন্দ্র। কাজেই ভাইকিংসদের মাধ্যমে এই পণ্যগুলো ইউরোপের উত্তরভাগে পৌঁছাত। ফলে বাইকিংস শুধু আক্রমণকারী নয়, বরং একটি শক্তিশালী বাণিজ্য-সম্পৃক্ত জাতি হিসেবে আবির্ভূত হয়।

ভাইকিংসরা সরাসরি চীনে না পৌঁছালেও মধ্যস্থ বাণিজ্যের মাধ্যমে চীনের রেশম ও পণ্য পেয়েছিল। চীন থেকে সিল্ক রোডের মাধ্যমে পণ্য আসত পারস্য ও বাগদাদ হয়ে কাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত, তারপর রাশিয়ার নদীপথ হয়ে ভাইকিংসদের হাতে। সুইডেনের Birka ও ডেনমার্কের Hedeby-তে পাওয়া সিল্কের নমুনা, আরব মুদ্রা ও মধ্যপ্রাচ্যীয় পণ্য এই পথের শক্তিশালী সাক্ষ্য। গবেষকদের মতে, এটি ইউরোপে চীনা পণ্যের এক প্রাচীন প্রবাহ।

গবেষকরা ভাইকিংসদের শুধুই দস্যু নয় বরং ‘Cosmopolitan Explorers’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। তারা নানা সংস্কৃতি, ধর্ম ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হয়ে নিজেদের সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। বাইজেন্টাইন রাজকীয় পোশাক, আরবীয় অলংকার ও সিল্কের অভিজাত ব্যবহার নর্স সমাজের উচ্চবিত্তদের মধ্যে পাওয়া গেছে। ভাইকিংসদের কবরস্থানে পাওয়া পাথরখচিত তরবারি, আরবীয় রৌপ্য মুদ্রা ও পার্সিয়ান পাত্র আজও সাক্ষ্য দেয় এই আন্তঃসংস্কৃতি বিনিময়ের।

ভাইকিংসদের এই পূর্ব অভিযাত্রা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের ফলে পরবর্তীকালে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে নৌ-বাণিজ্যের একটি ভিত্তি স্থাপিত হয়। তাদের Varangian পথ ও কিভান রাস রাজ্য পরবর্তীকালে রাশিয়া ও ইউরোপের সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক মেলবন্ধনের সূচনা করে। ইতিহাসবিদরা মনে করেন, ভাইকিংসরা মধ্যযুগীয় Globalization-এর অন্যতম সূচনাকারী।

ভুলে গেলে চলবে না, বাইকিংসরা একসময় ভয়ংকর দস্যু ছিল ঠিকই, কিন্তু তাদের ইতিহাস কেবল তলোয়ারের নয়—বরং সিল্কেরও। তারা সিল্ক রোডের মতো প্রাচীন বাণিজ্যিক পথের সাথে যুক্ত হয়ে ইউরেশিয়ার দুই প্রান্তের মধ্যে এক অদৃশ্য সেতুবন্ধন রচনা করেছিল। তাদের বাণিজ্যিক চেতনা, অভিযাত্রা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বিশ্ব ইতিহাসে এক অনবদ্য অধ্যায় হয়ে আছে।

স্থায়ীভাবে গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে , নতুন পরিকল্পনা ইসরায়েলের

ফিলিস্তিনের গাজায় সামরিক অভিযানের পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলের নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা। ধাপে ধাপে স্থল অভিযানের মাত্রা বাড়ানোর মূল লক্ষ্য গাজাকে পুরোপুরি দখলে নেয়া। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে হাজার হাজার সংরক্ষিত সেনাসদস্যকে তলব করেছে ইসরায়েল। সোমবার ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা বলেছেন — অনুমোদন পাওয়া পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে গাজা উপত্যকা দখল, সেখানে দখল করা এলাকাগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং গাজার বাসিন্দাদের উপত্যকার দক্ষিণে সরিয়ে নেওয়া। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে হারেৎজ পত্রিকা জানিয়েছে, সম্প্রসারিত অভিযানটি আগের অভিযানের মতো হবে না। আগের আক্রমণ-ভিত্তিক অভিযানের বদলে এবার ভূখণ্ড দখলের অভিযান চালানো হবে এবং গাজায় ইসরায়েলের স্থায়ী উপস্থিতিও বজায় রাখা হবে।

কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা দখল এবং সেখানকার ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র স্থানান্তর করার পরিকল্পনা সম্পর্কে ইসরায়েল বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এটিকে ইসরায়েল ‘‘স্বেচ্ছায় অভিবাসন’’ বলে অভিহিত করেছে। এএফপির এক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই পরিকল্পনাকেই এগিয়ে নিচ্ছেন, যেখানে গাজার ফিলিস্তিনিদের স্থানান্তরের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া মন্ত্রিসভা একটি বিতর্কিত সহায়তা সরবরাহ পরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে। এর আওতায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানো হবে। এসব সংস্থাকে বাইরের নিরাপত্তা দেবে ইসরায়েলি সেনারা।

তাঁদের লক্ষ্য হামাসের কোনো ‘নিয়ন্ত্রণ’ ছাড়াই যেন এ ত্রাণ গাজাবাসীর কাছে সরবরাহ করা যায়। কারণ, ত্রাণ কার্যক্রমগুলো গাজায় হামাসের শাসনকে শক্তিশালী করেছে বলে মনে করে ইসরায়েল।

এটি কার্যকর হলে যদিও দুই মাস ধরে চলা অবরোধের অবসান ঘটবে; তবে জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সংস্থাগুলো এই পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছে। তারা বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক মানবিক নীতিমালার পরিপন্থী এবং এ ধরনের ত্রাণ বিতরণে তারা অংশ নেবে না। হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গাজায় সরাসরি ত্রাণ সরবরাহের জন্য ইসরায়েল যে কাঠামো তৈরি করেছে, তা ‘রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইলের’ মতো। তারা বলেছে, সহায়তা অবশ্যই দক্ষ আন্তর্জাতিক বা স্থানীয় সরকারি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হতে হবে। ইসরায়েলের কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, পরিকল্পনায় ‘হামাসের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হামলার’ বিষয়টিও রয়েছে। তবে হামলার প্রকৃতি কেমন হবে, তা বলা হয়নি।

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সম্ভাব্য পূর্ণ দখল এবং ত্রাণ ব্যবস্থার সামরিকীকরণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এটি শুধু মানবিক সংকটকেই বাড়াবে না, বরং যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কাও উসকে দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ১৩-১৬ মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের পরেই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার কথা ভাবছে ইসরাইল। এর আগে জিম্মিদের মুক্তি এবং যুদ্ধবিরতির জন্য একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হামাসের সঙ্গে আলোচনা প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র হিসাবে, বর্তমানে গাজার ১৮৫ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা উপত্যকাটির মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ শতাংশ। গাজার আয়তন ৩৬৫ বর্গকিলোমিটার।