Home Blog Page 109

ভারত-পাকিস্তান সংঘাত – আমেরিকা , চীন ও রাশিয়া কে কীভাবে দেখছে ?

পাকিস্তান এখন তাদের সামরিক অস্ত্রসম্ভারের ৮১ শতাংশই পায় চীনের কাছ থেকে – আর যে আমেরিকা একটা সময় তাদের প্রধান সাপ্লায়ার ছিল তাদের কাছ থেকে এখন আর প্রায় কিছুই কেনাকাটা করা হয় না!

অন্য দিকে ভারত মাত্র দু’দশক আগেও তাদের তিন-চতুর্থাংশ অস্ত্রশস্ত্র কিনত রাশিয়ার কাছ থেকে। সেই পরিমাণ এখন আগের তুলনায় অর্ধেকেরও কম, আর ভারতের নির্ভরতা বেড়েছে ফ্রান্স ও আমেরিকার ওপর।

পাশাপাশি গ্লোবাল জিওপলিটিক্স বা বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতেও বিভিন্ন দেশের ভূমিকা এবং নিজস্ব হিসেবনিকেশে পরিবর্তন এসেছে, তারা যে চোখে ভারত বা পাকিস্তানকে দেখত সেটাও আর পুরোপুরি আগের মতো নেই।

পাকিস্তানের ভারতের হামলার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের নেতাদের সঙ্গেই টেলিফোনে কথা বলে অবিলম্বে পরিস্থিতি ‘ডিএসক্যালেট’ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে আমেরিকা যে সরাসরি এই যুদ্ধে কোনওভাবেই জড়াতে চায় না, সেটাও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন।

ব্রিটেনের ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকার মতে, আমেরিকার শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের এই ধরনের অবস্থান ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ পররাষ্ট্র নীতিরই প্রতিফলন – যেখানে আমেরিকা কিছুতেই যুদ্ধক্ষেত্রের ভেতরে ঢুকবে না, তবে দূর থেকে কথাবার্তা বলে কিছু করা গেলে শুধু সেটুকুই চেষ্টা করবে।

গত ২২শে এপ্রিল পহেলগামে যখন পর্যটকদের ওপর হামলা চালানো হয় তখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স ভারত সফরেই ছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তানের ভেতরে থাকা ‘সন্ত্রাসবাদী’দের বিরুদ্ধে ভারত প্রত্যাঘাত করতেই পারে – কিন্তু আমেরিকা শুধু চাইবে সেটা যেন ‘বৃহত্তর কোনও আঞ্চলিক যুদ্ধে’র চেহারা না নেয়।

সামরিক ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীলতা (৮১%) চীনের ওপরেই। তা ছাড়া চীনের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের একটি প্রধান স্তম্ভ ‘সিপেক’-ও (চায়না পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর) পাকিস্তানের বুক চিরেই গিয়েছে।

তবে ভারতের চালানো ‘অপারেশন সিন্দুরে’র পর চীন যে বিবৃতি দিয়েছে পর্যবেক্ষকরা সেটাকে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন।

চীনের এই বিবৃতিতে চলমান সংঘাত থেকে আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখার আভাস থাকলেও সংবাদমাধ্যম সিএনএন কিন্তু মনে করছে পাকিস্তানকে তাদের সরবরাহ করা যুদ্ধাস্ত্র বা ওয়েপেনস সিস্টেম আসল যুদ্ধে কেমন কাজে আসছে সে দিকে চীন সতর্ক নজর রাখছে।

অপারেশন সিন্দুরের পর শান্তিপূর্ণ ও কূটনৈতিক পন্থায়’ উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে রাশিয়ার বিবৃতিতে বলা হয়, “পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়া ঠেকাতে রাশিয়া চায় দু’পক্ষই সংযম প্রদর্শন করুক।”

তবে স্ট্র্যাটেজিক থিঙ্কট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউজের দক্ষিণ এশিয়া ফেলো চিতিজ বাজপাই-য়ের মতে, মস্কো এই সঙ্কটে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলেও এর ঠিক আগেই তারা ভারতকে যে মিসাইল সিস্টেম ডেলিভারি দিয়েছে তাতে এটা মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে যে তাদের অবস্থান ‘আদৌ নিরপেক্ষ নয়’।

দ্য সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, ২২শে এপ্রিল পহেলগাম হামলার ঠিক পর পরই ভারত রাশিয়ার কাছে থেকে ‘ইগলা-এস’ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের একটি কনসাইনমেন্ট পেয়েছে।

ভারত যে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) ও সামরিক অস্ত্রসম্ভার আমদানি করে, যথাক্রমে তার ৪০ ও ৩৬ শতাংশই এখন রাশিয়া থেকে। ফলে চলমান সংঘাতে রাশিয়ার অবস্থান ভারতের দিকেই ঝুঁকে থাকবে বলে কোনও কোনও পর্যবেক্ষক মনে করছেন।

আধুনিক স্থাপত্যের ঐতিহ্যগত সংকট

বিশ্বের নগরায়নে আধুনিক স্থাপত্যের যে উচ্ছ্বাস ছিল তা আজ অনেকটাই স্তিমিত। ১৯৯০ ও ২০০০ দশকে ‘স্টারকিটেক্ট’ নামে পরিচিত বিখ্যাত স্থপতিরা-যেমন জাহা হাদিদ, হার্জগ ও ডি মিউরন, রেম কুলহাস কিংবা ফ্র্যাঙ্ক গেহরি-নতুন নতুন অদ্ভুত, জটিল এবং কম্পিউটার-নির্ভর ভবনের নকশা করতেন, যেগুলো ছিল স্থানিক ও ঐতিহ্যবিরোধী। কিন্তু আজ সেই প্রবণতা অনেকটাই বদলে গেছে। আধুনিক স্থাপত্যের জাঁকজমক কমে গিয়ে স্থাপত্যে ফিরে এসেছে এক ধরনের সংযম ও ঐতিহ্যের প্রতি আকর্ষণ।

২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে এই পরিবর্তন দ্রুততর হয়। অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে নব্য-ধ্রুপদী (neoclassical) স্থাপত্যের পক্ষে যুক্তি উঠে আসে। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘ক্লাসিকাল’ আর্কিটেকচারের পক্ষে নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যেখানে গ্রিক রিভাইভাল, গথিক, জর্জিয়ান ও নব্য-ধ্রুপদী শৈলীর প্রশংসা করা হয়। একইভাবে যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ সরকারও নতুন বাসস্থান নির্মাণে ‘বিল্ট বিউটিফুল’ ধারণা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়, যার অর্থ ছিল মূলত ঐতিহ্যবাহী নকশা।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১৪ সালে ‘অদ্ভুত স্থাপত্য’ নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দেন-যা ছিল জাহা হাদিদের ডিজাইন করা গুয়াংজুর অপেরা হাউস, কুলহাসের বেইজিংয়ের সিসিটিভি হেডকোয়ার্টার বা হার্জগ ও ডি মিউরনের ‘বার্ডস নেস্ট’ অলিম্পিক স্টেডিয়ামের মতো ভবনগুলোর প্রতি ইঙ্গিত। একই সময়ে বেইজিংয়ের ঐতিহ্যবাহী ‘হুটং’ গলিগুলো পুনরুদ্ধার করে পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলা হয়।

আধুনিক স্থাপত্যের সমালোচকরা বলেন, এই শৈলীর প্রধান সমস্যা হলো ‘প্লেসলেসনেস’-অর্থাৎ স্থান বা পরিবেশের প্রতি অসেনসিটিভনেস। ‘ইন্টারন্যাশনাল স্টাইল’ নামে পরিচিত আধুনিক স্থাপত্যের একটি ধারা ছিল বিশ্বজুড়ে একই ধরনের ভবন নির্মাণের প্রবণতা, যা স্থানীয় ঐতিহ্য, উপকরণ বা পরিবেশের সঙ্গে সংযোগহীন। স্টিলের ফ্রেম, এয়ার কন্ডিশনিং, এলিভেটর-এসব প্রযুক্তির কারণে স্টুটগার্ট, সিডনি, সিয়াটল, সিউল বা ঢাকায়ও একই ধরনের স্কাইস্ক্র্যাপার গড়ে উঠেছে।

এই সমালোচনার জবাবে ১৯৮০-র দশকে ব্রিটিশ স্থাপত্যবিদ Kenneth Frampton ‘ক্রিটিক্যাল রিজিওনালিজম’-এর ধারণা দেন, যেখানে আধুনিক স্থাপত্যকে স্থান ও উপকরণের প্রতি সংবেদনশীল হতে বলা হয়। আজকের পরিবেশ-সংকট ও কার্বন-নির্ভর নির্মাণ প্রক্রিয়ার আলোকে এই চিন্তা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

আজকের স্থাপত্য-আলোচনায় ‘স্টাইল ওয়ার্স’ ফিরে এসেছে। সামাজিক মাধ্যমে এই দ্বন্দ্ব সবচেয়ে প্রকট। একদিকে আছে ঐতিহ্যবাদীরা, যারা গ্রিক-রোমান, রেনেসাঁ বা ইউরোপীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের ছবি শেয়ার করেন এবং আধুনিক স্থাপত্যকে ‘গ্লোবালিজম’-এর নিদর্শন হিসেবে দেখেন। অন্যদিকে আধুনিকতাবাদীরা ব্রুটালিজম বা পোস্টওয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্টাইলের ভবনের ছবি শেয়ার করেন, যা আবার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

এই দুই পক্ষই মূলত অতীতের প্রতি নস্টালজিক- এক পক্ষ সাম্প্রতিক, অন্যপক্ষ সুদূর অতীতের জন্য। উভয়েই প্রতিপক্ষকে কার্টুনের মতো উপস্থাপন করেন এবং স্থাপত্যকে কেবল চিত্র বা JPEG-এ সীমাবদ্ধ রাখেন। বাস্তবিক অর্থে স্থাপত্যের প্রকৃত সৌন্দর্য অনুভব করা যায় কেবল সরাসরি অভিজ্ঞতার মাধ্যমে, ছবি দেখে নয়।

আধুনিক স্থাপত্যের আরেকটি বড় সমালোচনা হলো-এর উপকরণ ও নির্মাণপ্রণালী অত্যন্ত কার্বন-নির্ভর ও ব্যয়বহুল। কংক্রিট ও স্টিল-এই দুই উপকরণ আধুনিক স্থাপত্যের ভিত্তি, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। অথচ আজকের ‘ঐতিহ্যবাহী’ ভবনও অনেকাংশে একইভাবে কংক্রিট ও প্রিফ্যাব্রিকেটেড উপকরণে নির্মিত হয়, কেবল বাহ্যিকভাবে ঐতিহ্যবাহী শৈলী ধারণ করে। ফলে স্টাইল হয়ে দাঁড়ায় কেবল এক ধরনের মুখোশ, যার ভেতরে একই ধরনের শিল্পায়িত নির্মাণপ্রক্রিয়া।

স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করা এখন অনেক খরচসাপেক্ষ ও শ্রমনির্ভর। ফলে, নির্মাণশিল্পে দক্ষ শ্রমিকের অভাব, দ্রুত নির্মাণের চাহিদা ও প্রিফ্যাব্রিকেটেড প্রযুক্তির কারণে বিশ্বজুড়ে একই ধরনের ভবন গড়ে উঠছে, চেহারায় কিছুটা পার্থক্য থাকলেও মূলত একই ধরনের।

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে আধুনিক স্থাপত্যের সঙ্গে ঐতিহ্যের সংমিশ্রণ স্পষ্ট। ঢাকার লালবাগ কেল্লা, সোনারগাঁওয়ের ঐতিহাসিক স্থাপত্য, এবং সিলেটের মসজিদগুলো ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আবার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনগুলোতে আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী নকশার মিশ্রণ দেখা যায়। পরিবেশবান্ধব নির্মাণে স্থানীয় উপকরণ যেমন বাঁশ, মাটি ও পাথরের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। বাংলাদেশের জলবায়ু ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নির্মাণশৈলী গড়ে তোলা গেলে টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বর্তমান সময়ে টেকসই স্থাপত্যের গুরুত্ব অপরিসীম। কার্বন নির্গমন কমানো, পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহার, এবং সৌরশক্তি ও বায়ুশক্তির মতো নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। বাংলাদেশের গ্রামীণ ও শহুরে এলাকায় এই প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়ানো গেলে পরিবেশবান্ধব ও অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর নির্মাণ সম্ভব হবে। নতুন প্রযুক্তি যেমন ৩ডি প্রিন্টিং, স্মার্ট বিল্ডিং সিস্টেম, এবং বায়োফিলিক ডিজাইন স্থাপত্যকে আরও মানবিক ও পরিবেশবান্ধব করে তুলছে।

ঐতিহ্যবাদেরও ‘প্লেসলেসনেস’ আছে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের সময়, ব্রিটিশরা তাদের নিজস্ব স্থাপত্যশৈলী-যেমন ভিক্টোরিয়ান বা জর্জিয়ান-বিশ্বের নানা প্রান্তে হুবহু কপি করে নির্মাণ করেছিল। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা, নিউজিল্যান্ড-সবখানেই ব্রিটিশ স্থাপত্যের ছাপ স্পষ্ট। ফলে, ঐতিহ্যবাদেরও একটি আন্তর্জাতিক, শিল্পায়িত রূপ রয়েছে, যা স্থানিকতা বা স্থানীয়তার সঙ্গে সবসময় সংযুক্ত নয়।

একুশ শতকের স্থাপত্য আজ এক সংকটের মুখে। আধুনিকতাবাদ ও ঐতিহ্যবাদের দ্বন্দ্বে মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে উপকরণ, প্রযুক্তি ও টেকসই ভবিষ্যৎ-শুধু সৌন্দর্য বা স্টাইল নয়। স্থাপত্যের প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হলো, কীভাবে স্থান, পরিবেশ, স্থানীয় উপকরণ ও টেকসই প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য উপযোগী নির্মাণশৈলী গড়ে তোলা যায়। স্টাইলের দ্বন্দ্বের বাইরে গিয়ে, স্থাপত্যকে আবারও মানুষের অভিজ্ঞতা, পরিবেশ ও সমাজের সঙ্গে গভীর সংযোগ স্থাপন করতে হবে।

ভারতের উভয় সংকট : ড. চিয়েতিজ্ঞ্য বাজপেয়ী , ব্রিটিশ থিঙ্কট্যাংক চ্যাথাম হাউসের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ফেলো।

“ভারত একই দিনে দুটি বড় ঘটনা ঘটিয়েছে। একদিকে দেশটি যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি ‘ঐতিহাসিক’ বাণিজ্য চুক্তি করেছে, অন্যদিকে পাকিস্তানের ওপর সামরিক অভিযান চালিয়েছে। তাই এ কথা বলাই যায়, ভারতকে এই সপ্তাহে ভবিষ্যৎ আর অতীত একসঙ্গে ধাক্কা দিয়েছে।

ব্রিটেনের সঙ্গে এই চুক্তি তিন বছর ধরে আলোচনার পর হয়েছে। এটি এমন কয়েকটি চুক্তির একটি, যেগুলো ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও করছে। এই চুক্তিগুলো ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থানের প্রতিফলন। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, একটি উদীয়মান শক্তি হিসেবে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।

কিন্তু সেই উন্নয়ন আর উত্থানের মধ্যেই ভারত আবার ফিরে গেছে পুরোনো ঝামেলায়। দেশটি পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের মাটিতে ও পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারত সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযান দেখিয়ে দেয়, ভারত এখনো নিজের পারিপার্শ্বিক অস্থিরতার মধ্যে আটকে আছে এবং ইতিহাসের কবল থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি।

… যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে বাইরে থেকে খুব বেশি চাপ নেই, আর দুই দেশই নিজেদের জনগণের মন জয়ের জন্য এবং অতিরিক্ত দেশপ্রেম দেখানোর জন্য জোরালো সামরিক অবস্থান নিচ্ছে।

… এই উত্তেজনা শিগগিরই কমে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এটা অনেকটা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, তাইওয়ান প্রণালির দুই পারে উত্তেজনা কিংবা ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের মতো—যেগুলোর শিকড় অনেক পুরোনো ইতিহাসে ও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে গেঁথে আছে।

… ভারত এখন চায়, সে যেন পৃথিবীর বড় শক্তি হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারে। দেশ হিসেবে তারা অনেক দূর এগোচ্ছে—অর্থনীতি বড় হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বাড়ছে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে এই যুদ্ধসদৃশ সম্পর্ক, বিশেষ করে কাশ্মীর নিয়ে বিরোধ, সেই উন্নয়নের গতিকে আটকে দিচ্ছে।

যতক্ষণ না এই সমস্যাগুলো শান্তভাবে মেটে, ততক্ষণ পর্যন্ত ভারতের বড় হয়ে ওঠার স্বপ্ন মাঝেমধ্যে ধাক্কা খেতেই থাকবে। কারণ, বাইরের দুনিয়ায় বড় কিছু করার আগে নিজের পাশের সমস্যাগুলো ঠিক না করলে সেই স্বপ্ন ধরা দেওয়া কঠিন।”


আমার বিরুদ্ধে কিছু মানুষ জঘন্য মিথ্যাচার করছে : আসিফ নজরুল , অন্তর্বর্তী সরকারের আইন , বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক

শুক্রবার (০৯ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল লিখেছেন —

‘আমার বিরুদ্ধে কিছু মানুষ জঘন্য মিথ্যাচার ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছে। আমি আপনাদের সুস্পষ্টভাবে জানাতে চাই, খুনের মামলার আসামি সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিদেশ গমনে বাধা দেওয়ার দায়িত্ব পুলিশ ও গোয়েন্দা এজেন্সিগুলোর, যা কোনোভাবেই আমার আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত বিষয় নয়।

আসিফ নজরুল লেখেন, ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণের সুযোগ রাখার লক্ষ্যে আইসিটি আইনে সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার বিধান আইন মন্ত্রণালয়ের খসড়ায় ছিল। আইন উপদেষ্টা হিসেবে আমি নিজে এটা উপদেষ্টা পরিষদের সভায় উত্থাপন করেছি। আমার উত্থাপিত খসড়ার আমিই বিরোধিতা করব এটা কীভাবে সম্ভব?’

তিনি বলেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদের সভায় কোনো উপদেষ্টা কী ভূমিকা রেখেছেন এ নিয়ে আমাকে, ছাত্র উপদেষ্টাদের বা অন্য কাউকে দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকুন। সেখানে যা সিদ্ধান্ত হয় তার দায় দায়িত্ব আমাদের প্রতিটি উপদেষ্টার। আমাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রশ্নে কোনো দ্বিমত নেই। তবে পদ্ধতি নিয়ে সবার নিজস্ব মত থাকতেই পারে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের এটা মনে রাখা প্রয়োজন যে, আইসিটি আইন চাইলেই আমরা কয়েকদিনের মধ্যে সংশোধন করতে পারব। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার জন্য সন্ত্রাস দমন আইনসহ অন্য আইনগুলোও আছে। কাজেই আইন কোনো সমস্যা না। রাজনৈতিক দলগুলো আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ চাইলে বা বিচারিক আদালত এ সম্পর্কে কোনো পর্যবেক্ষণ বা রায় আসলে অবশ্যই আইনানুগভাবে দ্রুত আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা যাবে। আমরা সেই প্রত্যাশায় আছি।’

স্কিথীয় যাযাবরদের দ্বৈত সাংস্কৃতিক পরিচয়

ইতিহাসের প্রান্তরে এমন কিছু জাতি রয়েছে যারা নিজেদের লিখিত ইতিহাস রাখেনি, কিন্তু তাদের অস্তিত্বের ধ্বনি এখনো ইউরেশিয়ার সমভূমিতে প্রতিধ্বনিত হয়। স্কিথীয়রা (Scythians) এমনই এক জাতি।

খ্রিস্টপূর্ব ৯ম থেকে ২য় শতাব্দীর মধ্যে তারা ইউক্রেনের পন্টিক-স্টেপ অঞ্চল, কাস্পিয়ান সাগর পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং মধ্য এশিয়ার বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতে বিচরণ করত। তাদের জীবনধারা ছিল অশ্বারোহী যাযাবর, আর সংস্কৃতি ছিল যুদ্ধ ও শিল্পকলার জটিল মিশেল।

স্কিথীয়দের সংস্কৃতির মূল ভিত্তি ছিল যাযাবরত্ব। তারা স্থায়ী নগর সভ্যতা গড়ে তোলে নি। বরং বিস্তীর্ণ তৃণভূমিতে অশ্বপালন, শিকার ও পশুপালন ছিল তাদের জীবিকা। Herodotus-এর “Histories”-এ স্কিথীয়দের প্রথম সংগঠিত বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি লেখেন স্কিথীয়রা ছিল ‘আকাশ ও ভূমির সন্তান’, যাদের দৈনন্দিন জীবন প্রকৃতির ছন্দে বাঁধা। তাদের সামাজিক কাঠামো ছিল গোষ্ঠীনির্ভর (Clan-based), যেখানে পরিবার ও যোদ্ধা-দলগুলোর মাঝে সম্মিলিত নেতৃত্ব গড়ে উঠত। আধ্যাত্মিক দিক থেকে তারা প্রকৃতির শক্তিকে পূজা করত। সূর্য, আগুন ও নদী ছিল তাদের প্রধান দেবতা। তাদের সমাধি-ভূমিগুলিতে (Kurgans) সূর্যচিহ্ন ও হরিণ-আকৃতির অলঙ্কার পাওয়া গেছে, যা আধ্যাত্মিকতার সাক্ষ্য দেয়।

স্কিথীয় সংস্কৃতির সবচেয়ে বিশিষ্ট দিক ছিল অশ্বারোহণ ও যুদ্ধ-কৌশল। বলা হয় তারা বিশ্ব ইতিহাসের প্রথম জনগোষ্ঠী যারা পূর্ণাঙ্গ অশ্বারোহী জাতি হিসেবে গড়ে ওঠে। তাদের ধনুক-বাণ (Scythian Bow) ছিল স্বল্প দৈর্ঘ্য কিন্তু অতি-প্রবল; অশ্বারোহী অবস্থা থেকে নিখুঁতভাবে লক্ষভেদে সক্ষম ছিল। তাদের স্ত্রী-যোদ্ধারাও (Amazons) পুরুষদের সমকক্ষ ছিল। হেরোডোটাস বর্ণনা করেন, স্কিথীয় নারীরা শিশুকালে অশ্বারোহণ ও শিকারবিদ্যা শিখত এবং প্রথম শত্রু বধ না করা পর্যন্ত কেউ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারতো না। এই সাংস্কৃতিক দিকটি পরবর্তীতে গ্রিক পুরাণে ‘Amazons’ হিসেবে জায়গা পায়।

স্কিথীয় শিল্পকলাকে বলা হয় Animal Style Art। এটি মূলত হরিণ, ঈগল, বাঘ, সিংহের প্রতীক দিয়ে গড়া অলঙ্কার, অস্ত্র ও পোশাকের নকশায় প্রতিফলিত। তাদের স্বর্ণকর্ম (Scythian Goldsmithing) বিশ্বখ্যাত; Altai, Pazyryk ও Chertomlyk এর সমাধি-ভূমিতে আবিষ্কৃত স্বর্ণের অলংকারগুলোতে সূক্ষ্ম নকশার পরিচয় মেলে।
স্কিথীয় শিল্পের অন্যতম চিহ্ন Flying Deer motif, যেখানে হরিণকে ডানা ও পাকানো শৃঙ্গসহ চিত্রিত করা হয়। প্রত্নতাত্ত্বিকরা মনে করেন এই প্রতীক আসলে আত্মা ও পরকালীন জীবনের যাত্রার প্রতীক। তাদের গহনা, বর্ম ও ঘোড়ার সাজসজ্জা শুধু নান্দনিকতাই নয়, বরং আধ্যাত্মিক ও সামাজিক পরিচয়েরও দিশারি ছিল।

স্কিথীয় সমাধি-ভূমি কুরগান এ তাদের মৃত্যুচর্চা ও বিশ্বাস প্রতিফলিত হয়। এই কুরগানগুলো ছিল মাটির ঢিবির নিচে বিশাল সমাধি কক্ষ, যেখানে মৃত ব্যক্তির সঙ্গে ঘোড়া, অস্ত্র, খাদ্য, দাস-দাসী এমনকি স্বর্ণালংকারও কবর দেওয়া হতো। স্কিথীয়রা বিশ্বাস করত মৃত্যুর পরও যোদ্ধার আত্মা স্বর্গীয় যুদ্ধে অংশ নেবে, তাই দেহাবশেষের সাথে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হতো। Pazyryk Kurgan (আধুনিক সাইবেরিয়া)-এ আবিষ্কৃত ট্যাটু করা দেহাবশেষ স্কিথীয় শরীর-সজ্জারও সাক্ষ্য দেয়। তারা সম্ভবত আত্মার রক্ষাকবচ হিসেবে শরীরে পশু-মূর্তির উল্কি আঁকাত।

স্কিথীয় সভ্যতা খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতাব্দীতে সার্মেশিয়ান (Sarmatians) এবং পরে গোথ, হুন, তুর্কি ও মঙ্গোল জনগোষ্ঠীর সাথে মিশ্রিত হয়ে বিলুপ্ত হয়। তবে তাদের Animal Style Art, অশ্বারোহী কৌশল ও আধ্যাত্মিক প্রতীকের ছাপ সিল্ক রোড হয়ে ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিকেরা মনে করেন, কাজাখ, উজবেক ও তুর্কিক কিছু যাযাবর সংস্কৃতিতে স্কিথীয় ঐতিহ্যের ছায়া বিদ্যমান। ইউক্রেন ও দক্ষিণ রাশিয়ায় আজও কিছু লোকগীত ও উল্কি নকশায় স্কিথীয় পশু-প্রতীক দেখা যায়। ২০০০-এর দশকে UNESCO স্কিথীয় কুরগানগুলোকে World Heritage Tentative List-এ অন্তর্ভুক্ত করে, যা এই সভ্যতার সাংস্কৃতিক গুরুত্ব প্রমাণ করে ।

স্কিথীয়রা কোনো দালান-দেউল, শাসক-রাজপ্রাসাদ, বা লেখ্য ইতিহাস রাখেনি। তবুও তাদের অশ্বারোহী জীবন, শিল্পকলা, আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও যোদ্ধা-চেতনা আজও ইতিহাসের পাতায় গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সংস্কৃতি আমাদের শেখায় সভ্যতা মানেই ইট-পাথরের নগর নয়; যাযাবর আত্মা, প্রকৃতির সাথে মিলিত জীবন ও প্রতীকময় শিল্পও ইতিহাসের গভীর স্মারক।

“নীতি-ন্যায়বিচার বজায় রাখলে মুদ্রাস্ফীতি ৪-৫ শতাংশে নামানো সম্ভব” : আহসান এইচ মনসুর , বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত “ব্যাংকার-নারী উদ্যোক্তা সম্মেলন ও পণ্য প্রদর্শনী মেলা”-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, দেশের মুদ্রাস্ফীতি কমতির পথে এবং সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত প্রয়াসে সেটিকে ৪-৫ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর বলেন, “খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি পূর্বে ১৪.৫ শতাংশ ছিল, এখন তা নেমে এসেছে ৮.৫ শতাংশে। অপরদিকে অখাদ্য মুদ্রাস্ফীতি ১২.৫ শতাংশের উপরে থাকলেও বর্তমানে তা ৯ শতাংশের একটু বেশি। এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা আরও কমবে বলে আমি আশাবাদী।”

তিনি আরও বলেন, “যদি আমরা টাকার জোগান বাড়িয়ে দেই এবং একইসাথে অভিযোগ করি যে মুদ্রাস্ফীতি কমছে না, তবে সেটি বাস্তবসম্মত হবে না। আমাদের এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে হবে এবং সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই আমরা কাজ করছি।”

নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে গভর্নর বলেন, “বর্তমানে নারীরা ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণের মাত্র ৬ শতাংশ পাচ্ছেন, যা মোটেও বাস্তবসম্মত নয়। আমাদের এই হার বাড়াতে হবে এবং একইসাথে তাদের আর্থিক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, “নারীরা তাদের সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবে পাচ্ছেন না। ঋণ পেতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন। আমাদের এই মানসিকতা বদলাতে হবে। নারীদের রান্নাঘর থেকে বের করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, “নারী উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানে শুধু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ তহবিল নির্ভরতা নয়, বরং ব্যাংকগুলোকে নিজেদের তহবিল থেকেই এই ঋণ দিতে হবে, যাতে করে নতুন অর্থ সৃষ্টির প্রয়োজন না হয়।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই ও বিশেষ কর্মসূচি বিভাগ আয়োজিত এই চারদিনব্যাপী মেলা চলবে ১১ মে পর্যন্ত। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ৬৮ জন নারী উদ্যোক্তা তাঁদের পণ্য প্রদর্শন করছেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, নির্বাহী পরিচালক মো. খসরু পারভেজ, সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাশরুর আরেফিন এবং এসএমই বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী দিনে ছয়জন নারী উদ্যোক্তাকে সম্মাননা প্রদান করা হবে।

টাইটানিক ও গ্লোবাল ব্যাংকিং – ষড়যন্ত্রের গোপন ইতিহাস

বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল ও ধোঁয়াশাপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি হলো আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার নেপথ্যের শক্তি ও ষড়যন্ত্র। একদল ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই গোপন আর্থিক সাম্রাজ্য শুধু অর্থনীতিই নয়, রাজনীতি, যুদ্ধ, রাষ্ট্রগঠন এবং জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্তেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিস্তার করেছে—এমনটাই মনে করেন বিকল্প ইতিহাসবিদদের একটি শক্তিশালী অংশ।

এই প্রবন্ধে আমরা ফিরে দেখব, কীভাবে Titanic দুর্ঘটনা থেকে শুরু করে Federal Reserve-এর জন্ম এবং বিশ্ব যুদ্ধ পর্যন্ত আর্থিক শক্তির অদৃশ্য নকশা বিস্তার লাভ করে।

১৯১০ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ‘জিকেল আইল্যান্ড’-এ অনুষ্ঠিত হয় এক রহস্যময় গোপন বৈঠক। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন— Paul Warburg (Rothschild পরিবারের প্রতিনিধি, জার্মান ব্যাংকার), Jacob Schiff (Kuhn Loeb Bank-এর কর্ণধার), Frank Vanderlip (National City Bank, Rockefeller-এর প্রতিনিধি), Henry P. Davison (J.P. Morgan-এর ডানহাত), Nelson Aldrich (সিনেটর, Rockefellerদের রাজনৈতিক মুখ)।

এই সভার উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে একটি ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক’ গঠন করা, যার নাম হবে Federal Reserve, অথচ এটি সম্পূর্ণরূপে বেসরকারি মালিকানাধীন থাকবে। এতে Rothschild, Rockefeller, Schiff ও Warburg পরিবারের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হবে। জনগণ যেন মনে করে এটি সরকারি সংস্থা—এমনই কৌশলে এর রূপ দেয়া হয়।

Titanic ট্র্যাজেডি এক পরিকল্পিত অধ্যায়?

১৯১২ সালের এপ্রিল। বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত জাহাজ RMS Titanic তার প্রথম যাত্রায় নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। Titanic ডুবে যাওয়া নিছক দুর্ঘটনা নাকি একটি অর্থনৈতিক ‘কু’ (Coup d’état)—এ নিয়ে বিতর্ক আজও বহমান।

একটি জনপ্রিয় ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অনুসারে Titanic-এ থাকা কয়েকজন প্রভাবশালী আর্থিক নেতা—যেমন John Jacob Astor IV, Isidor Straus ও Benjamin Guggenheim— সকলেই Federal Reserve প্রকল্পের প্রবল বিরোধী ছিলেন।

বিশেষ করে Astor ছিলেন Rothschild ও Warburgদের নকশার বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিবন্ধক। অদ্ভুতভাবে তারা সকলেই Titanic দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। অন্যদিকে J.P. Morgan, যিনি White Star Line (Titanic-এর মালিক) এবং Rothschildদের ঘনিষ্ঠ মিত্র, তিনি যাত্রার ঠিক আগ মুহূর্তে অসুস্থতার অজুহাতে যাত্রা বাতিল করেন।

এমনকি বিকল্প গবেষকদের মতে, Titanic প্রকৃতপক্ষে তার যমজ-জাহাজ Olympic হতে পারে, যেটি ১৯১১ সালে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এবং বিমা ক্ষতিপূরণ পেতে একটি পরিকল্পিত ডুবির অংশও হতে পারে। যদিও মূলধারার ইতিহাসবিদরা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন।

Federal Reserve-এর জন্ম Titanic ট্র্যাজেডির মাত্র এক বছরের মধ্যে—২৩শে ডিসেম্বর ১৯১৩ সালে। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের অধিকাংশ সদস্য ছুটিতে থাকার সময় Federal Reserve Act পাশ হয়। এরপর Rothschild, Schiff, Rockefeller ও Warburg—এই পরিবারের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো FED-এর মূল স্টেকহোল্ডার হয়ে ওঠে।

FED-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কার্যত এই পরিবারগুলোর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়। তারা সরকারের ঋণ দেয়, মুদ্রা ছাপে, যুদ্ধ অর্থায়ন করে সবই নিজেরা লাভবান হওয়ার কাঠামোয়।

বিশ্বযুদ্ধ ও জায়োনিস্ট আন্দোলনে FED-এর ভূমিকা FED-এর অর্থনৈতিক শক্তি শুধু আর্থিক ব্যবস্থায় নয়, ভূ-রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। ১৯১৭ সালে বালফোর ডিক্লারেশন-এর মাধ্যমে ব্রিটেন ইহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেয়। Rothschild পরিবার এর মূল পৃষ্ঠপোষক ছিল।

Jacob Schiff প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করে রুশ বিপ্লব (১৯১৭)-এ সহায়তা করেন রোমানোভ সাম্রাজ্য পতনের জন্য। কারণ রোমানোভরা ছিল জায়োনিজম বিরোধী।

FED-এর মাধ্যমে ১ম ও ২য় বিশ্বযুদ্ধে ব্যাপক অর্থায়ন হয়। আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসা, তেল চুক্তি এবং আরব ভূমি দখলও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।

FED-এর আদলে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে মালিকানার গোপন কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক ঋণ-ঐক্য আজও এই এলিটদের শক্তি নিশ্চিত করে।

বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং ষড়যন্ত্রের ইতিহাস নিছক রোমাঞ্চকর গল্প নয়; এটি অর্থ, ক্ষমতা ও মানবসভ্যতার ওপর গভীর নকশার এক দীর্ঘ অধ্যায়। মূলধারার ইতিহাস এই তত্ত্বগুলোকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলেই প্রত্যাখ্যান করে, তবে বিকল্প ইতিহাসবিদরা মনে করেন প্রমাণগুলো যথেষ্ট স্পষ্ট।

Titanic থেকে FED, যুদ্ধ থেকে রাষ্ট্রগঠন—সবখানেই কয়েকটি পরিবারের সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিদ্যমান। প্রশ্ন থাকে এই আর্থিক সাম্রাজ্যের ছায়া আজও কি বিশ্বকে পরিচালনা করছে? নাকি আমরা কেবল ইতিহাসের এক অদৃশ্য অধ্যায়ের সীমানায় দাঁড়িয়ে আছি?

দৈনিক মাত্র ৪০ মিনিটের শিল্পচর্চা স্ট্রেস কমায়

বর্তমান দ্রুতগতির জীবনযাত্রায় মানসিক চাপ আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মব্যস্ততা, সামাজিক প্রত্যাশা ও ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তার ভিড়ে আমাদের মানসিক প্রশান্তি যেন ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল নতুন আশার দ্বার খুলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ড্রেক্সেল ইউনিভার্সিটি পরিচালিত এক সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, প্রতিদিন মাত্র ৪০ মিনিট শিল্পচর্চা মানসিক চাপ কমাতে উল্লেখযোগ্যভাবে কার্যকর।

গবেষক গিরি এন কিরক এবং তাঁর দল ২০১৬ সালে ৩৯ জন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে এই সমীক্ষা পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীদের বয়স, পেশা বা শিল্পগত পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল বৈচিত্র্যময়। তাদেরকে বিভিন্ন শিল্পচর্চামূলক কর্মকাণ্ড—যেমন আঁকাআঁকি, রঙ করা, কোলাজ তৈরি ইত্যাদিতে যুক্ত করা হয়। ৪০ মিনিটের এই কর্মকাণ্ডের আগে ও পরে অংশগ্রহণকারীদের লালা নমুনা সংগ্রহ করে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা পরিমাপ করা হয়।

ফলাফলে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৭৫ শতাংশের কর্টিসল স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, পূর্ব অভিজ্ঞতা বা শিল্প-দক্ষতা এই মানসিক প্রশান্তির ওপর তেমন কোনো প্রভাব রাখেনি। অর্থাৎ আপনি পেশাদার শিল্পী হোন কিংবা শৌখিন, শিল্পচর্চার ইতিবাচক প্রভাব সবাই প্রায় সমানভাবেই উপভোগ করেন।

গবেষক কিরক-এর ভাষায়, “শিল্পচর্চা আমাদের এমন এক মানসিক স্থান দেয় যেখানে আমরা নিজের চিন্তা-ভাবনা ও অনুভূতির সঙ্গে গভীর সংযোগ স্থাপন করি। এটি একধরনের মননশীল ধ্যান (mindful meditation)-এর কাজ করে।” এই প্রক্রিয়ায় কর্টিসলের ক্ষরণ কমে যায়, ফলে দেহ-মনে প্রশান্তি নেমে আসে।

বাংলাদেশের মতো শিল্প, সাহিত্য ও লোকজ ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ দেশে এই গবেষণার তাৎপর্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে পাটচিত্র, আলপনা, নকশীকাঁথা, বাঁশ ও মৃৎশিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, যেগুলো মানসিক প্রশান্তির উৎস হতে পারে।

এই গবেষণা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়, স্ট্রেস থেকে মুক্তি পেতে মেডিটেশন বা ওষুধের পাশাপাশি আমরা দৈনন্দিন জীবনে সহজেই শিল্পচর্চাকে যুক্ত করতে পারি। রঙ তুলিতে ছবি আঁকা, শখের গহনা তৈরি, কিংবা পুরোনো ফটোগ্রাফ কোলাজ — যেকোনো সৃজনশীল কাজে মনোনিবেশ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনন্য উপকারী হতে পারে।

সুতরাং আধুনিক জীবনের ক্লান্তি আর দুশ্চিন্তার ভিড়ে প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট নিজের জন্য সময় বের করুন। ক্যানভাসে রঙ ছড়ান, কিংবা কাগজে আল্পনা আঁকুন। বিজ্ঞান বলছে এতে আপনার মন হালকা হবে, শরীরও প্রশান্তি পাবে।

যুক্তরাজ্যের সুদের হার কমলো

ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (BoE) বৃহস্পতিবার তাদের মূল সুদের হার এক চতুরাংশ শতাংশ কমিয়ে ৪.২৫ শতাংশে নামিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির কারণে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে সম্ভাব্য ধাক্কা লাগার আশঙ্কার প্রেক্ষিতে। গত আগস্ট থেকে এটি ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের চতুর্থবারের মতো হার কমানোর পদক্ষেপ।

এই সিদ্ধান্তটি অর্থনীতিবিদদের কাছে প্রত্যাশিতই ছিল, তবে ব্যাংকের নয় সদস্যের নীতিনির্ধারণী কমিটিতে মতপার্থক্য ছিল স্পষ্ট। দুইজন সদস্য বড় পরিসরে অর্থাৎ অর্ধ-শতাংশ (০.৫%) কমানোর পক্ষে ভোট দেন, যেখানে আবার অন্য দুইজন সদস্য বর্তমান হারের পক্ষেই অবস্থান নেন।

ব্যাংক গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহ আমাদের দেখিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি কতটা অনিশ্চিত হতে পারে। এজন্য আমাদের ধাপে ধাপে ও সতর্কভাবে হার কমানোর নীতি গ্রহণ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের শীর্ষ অগ্রাধিকার হলো নিম্ন ও স্থিতিশীল মুদ্রাস্ফীতি নিশ্চিত করা।”

উল্লেখ্য এই হার কমানোর সিদ্ধান্তটি ট্রাম্প প্রশাসনের এপ্রিলের শুরুতে নতুন শুল্ক ঘোষণার পর নেওয়া প্রথম বড় নীতিগত পদক্ষেপ। যদিও বাজারে ব্যাপক অস্থিরতার পর অধিকাংশ শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে, এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশের বেসলাইন শুল্কও রয়েছে। তবুও বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত থেকে যাচ্ছে।

এরই মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবরও আসতে পারে, কারণ বৃহস্পতিবারের শেষ ভাগে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য মধ্যকার একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত ঘোষণা আসার কথা। আশা করা হচ্ছে, এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান শুল্কের বোঝা অনেকটাই কমাবে। ট্রাম্প নিজেও ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা করেছেন, “এটি হবে একটি পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক চুক্তি, যা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক বহু বছরের জন্য মজবুত করবে।”

তবে শুল্ক বোঝা কমলেও বড় অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের এই হার কমানোর পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটিতে আগামী কয়েক মাসে মুদ্রাস্ফীতি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতির হার ২.৬ শতাংশ, যা এপ্রিল মাসের বিদ্যুৎ, পানি বিল বৃদ্ধি এবং কর বৃদ্ধিজনিত খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার ফলে আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।

তবে গভর্নর বেইলি আশ্বাস দিয়েছেন, “যদিও সামনের মাসগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে, আমরা মনে করি তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। দুই বছরের মধ্যে তা আবার লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি ফিরে আসবে।”

অপরদিকে যেখানে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি সুদের হার কমিয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ বুধবার হার অপরিবর্তিত রেখেছে। তারা অপেক্ষা করছে ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাব দেশটির অর্থনীতিতে কীভাবে পড়ে তা বোঝার জন্য।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক লুক বারথলোমিউ বলেন, “আমরা এখনো মনে করি ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এ বছর অন্তত আরও দুবার হার কমাবে। তবে নীতিনির্ধারণী কমিটির তিনমুখী বিভাজন তাদের বার্তা স্পষ্টতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।”

ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে , যুক্তরাষ্ট্র-চীন কি ভূমিকা নেবে ?

“পশ্চিমারা সামরিক সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে ভারতকে। আর চীন দিচ্ছে পাকিস্তানকে। এই সামরিক সাহায্য দিন দিন বাড়ছে। এসব লক্ষণ দেখে বোঝা যাচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবে কে কার পাশে থাকবে, সেই সমীকরণ বদলে যাচ্ছে।

… ভারত ঐতিহ্যগতভাবে নিরপেক্ষ দেশ ছিল। এখন তারা স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বলয়ে ঢুকে গেছে। সেখান থেকে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র খরিদ করছে। আরও অস্ত্র কিনছে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে। সেই সঙ্গে কমিয়ে দিয়েছে রাশিয়া থেকে সস্তা অস্ত্র কেনা। এই রাশিয়া শীতল যুদ্ধের সময় ভারতের মিত্র ছিল।

ওদিকে আফগানিস্তান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রাসঙ্গিকতা আর আগের মতো নেই। পাকিস্তান এখন আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কিনছে না। পাকিস্তান এখন ঝুঁকেছে চীনের দিকে। সেখান থেকে কিনছে তাদের অধিকাংশ অস্ত্র।

এসব সম্পর্ক বদলের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই দেশের সবচেয়ে পুরোনো দুশমনি এক নতুন মোড় নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে চীনকে মোকাবিলা করতে ভারতকে আশকারা দিচ্ছে। অন্যদিকে চীন নিজের বিনিয়োগ ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়িয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানের জন্য।

… সব মিলিয়ে এ অঞ্চলে শত্রু আর মিত্রের হিসাব একেবারে পাল্টে গেছে। ভারতের নিরাপত্তার স্বার্থে এখন যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য একই ভূমিকা নিচ্ছে চীন। ভারত যখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র এতটা জোরালোভাবে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেখা যায়নি।

কাশ্মীরে ২২ এপ্রিলের জঙ্গি হামলার পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে। তখন ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নেতারা ভারতের প্রতি শক্তিশালী সমর্থন জানান। অনেক ভারতীয় কর্মকর্তার কাছে তা যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ‘সবুজসংকেত’ বলেই মনে হয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে সংযম দেখাতে বলেছিল।

… এই নতুন জোটকাঠামোর প্রভাব ভবিষ্যতের সামরিক সংঘাতে পড়বে বলেই ধারণা। যদি আমরা ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ভবিষ্যতের কোনো যুদ্ধের কথা ভাবি, তাহলে দেখা যাবে যে ভারত লড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় অস্ত্র নিয়ে, আর পাকিস্তান চীনা অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে।

… যুক্তরাষ্ট্র এখন আশঙ্কা করছে, ভারত ও পাকিস্তানে ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদ, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং আকাশসীমায় বিপজ্জনক ঘন ঘন উপস্থিতি—সব মিলিয়ে যেকোনো সামান্য ভুল বা সীমা লঙ্ঘনের ঘটনা থেকে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়ে যেতে পারে। বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক। কারণ, এতে জড়িত দুটি দেশই পারমাণবিক শক্তিধর।”