Home Blog Page 82

চীন হবে বিশ্বের এক নম্বর দেশ পিছিয়ে পড়বে ভারত : টোকিও সম্মেলনে, ড. মাহাথির

চীন বিশ্বের এক নম্বর দেশ হবে। যুক্তরাষ্ট্র ক্রমশ যে অন্তর্কেন্দ্রিক হচ্ছে তার প্রেক্ষিতে তারা চীনের উত্থান থামাতে সক্ষম হবে না। অন্যদিকে চীনের সঙ্গে পেরে উঠবে না ভারত। চীন সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার ও ৯৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ। শুক্রবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে ফিউচার অব এশিয়া কনফারেন্সে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন নিক্কি এশিয়া।

মাহাথির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই ধারণায় অসন্তুষ্ট যে — যুক্তরাষ্ট্রকে চীন চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে উন্নত অবস্থায় অবস্থান করছে চীন। আমি মনে করি চীনকে খুব সহজে পরাজিত করতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র। চীনকে দেখে মনে হচ্ছে তারা বিশ্বের এক নম্বর দেশ হতে চলেছে।

ওই কনফারেন্সে ড. মাহাথির আরও বলেন, কথিত পারস্পরিক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে শত্রু বানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন ট্রাম্প। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী আরও বিশ্বাস করেন এই শুল্ক আরোপ অন্যদের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রেরই বেশি ক্ষতি করবে। কারণ তারা মাইক্রোচিপস সহ বেশির ভাগ আমদানিপণ্যের ওপর খুব বেশি নির্ভরশীল। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই অর্থনীতির দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমশ বৃদ্ধি পাবে।

শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতার জন্য যখন অনেক দেশ চেষ্টা করছে, তখন ড. মাহাথির বলেন — শুল্ক তুলে নেয়ার জন্য ট্রাম্পকে আমি তিন মাস সময় দিচ্ছি। উল্লেখ্য, প্রায় আট দশকব্যাপী রাজনীতি করা ড. মাহাথির প্রায়ই পশ্চিমাদের সমালোচনা করেন।উন্নয়নশীল দেশগুলো এবং আন্তঃএশিয়ান সহযোগিতাকে বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

চীন এবং তাইওয়ানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য তিনি আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। ড. মাহাথির বলেন চীন এবং তাইওয়ানের মধ্যে দ্বন্দ্ব যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনছে তাইওয়ান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে সমঝোতামূলক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি আরও অস্ত্র কিনতে আগ্রহী।

মাহাথির বলেন, যদি উত্তেজনা না থাকতো, তাহলে স্পর্শকাতর অস্ত্র বিক্রি করতে সক্ষম হতো না যুক্তরাষ্ট্র। আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনকে উস্কানি না দেয় তাহলে তাইওয়ান পরিস্থিতি আগে যেমন ছিল তেমনই থাকতো। কোনো উত্তেজনা দেখা দিতো না। ৯৯ বছর বয়সী এই রাজনীতিক এশিয়ার আরেক উদীয়মান সুপারপাওয়ার ভারত নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, চীন যেভাবে বিশ্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে সেই একইভাবে ভারত চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে না।

ড. মাহাথির বলেন — বাকি বিশ্বে চীন যে মনোভাব দেখাচ্ছে, আমি মনে করি ভারত সেটা করতে পারছে না। ভারত হলো বহু জাতি ও ধর্মের দেশ। চীনের মতো আচরণ ভারতের পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ, ভারতে একক কোনো সরকার (সিঙ্গেল গভর্নমেন্ট) নেই, যারা বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ ছাড়া পুরো ভারতকে শাসন করবে।

নিউ ইয়র্ক টাইমস রিপোর্ট : ভারত-পাকিস্তান লড়াই এবার পানি নিয়ে

কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিক্রিয়ায় ভারত-পাকিস্তান সংক্ষিপ্ত আকাশ যুদ্ধ শেষ হলেও সিন্ধু নদের পানি প্রবাহ নিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা চলছে।ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদদ দেয়ার অভিযোগে সিন্ধু চুক্তি বাতিলের হুমকি দিলেও, পাকিস্তান তা অস্বীকার করে ভারতের পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধের ঘোষণা’ বলে মন্তব্য করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র সন্ত্রাস মোকাবিলার জন্য নয়। বরং দেশটির বহুদিনের ক্ষোভ—চুক্তিটি পাকিস্তানের পক্ষে পক্ষপাতিত্বপূর্ণ এবং এর ফলে ভারতের পানি চাহিদা ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। ভারত আশা করছে, চুক্তি পুনরায় আলোচনার মাধ্যমে দেশের বিশাল জনসংখ্যার জন্য পানি ব্যবহারে সুবিধা অর্জন করা যাবে।

চুক্তি ‘স্থগিত’ রাখার ভারতের সিদ্ধান্ত এবং পাকিস্তানের জন্য যে অনির্দিষ্ট শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে, তা চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সম্পর্ক ভালো না হলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হঠাৎ বন্যা বা হিমবাহ গলে যাওয়ার মতো বিপদ নিয়ে দুই দেশকেই একসঙ্গে ভাবতে হবে।নদীর পানি যদি পাকিস্তানের মানুষের জীবন বা অর্থনীতির ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে, তাহলে ভারতকে আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখে পড়তে হতে পারে।

গত এক দশকে, সিন্ধু নদ চুক্তি ক্রমশ ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখোমুখি হয়েছে। ২০১৬ এবং ২০১৯ সালে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাদের ওপর হামলার পর, ভারত পাকিস্তানের দিকে নদীর পানির প্রবাহ কমানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর করা হয়নি।

এ চুক্তি শুধুমাত্র দুই দেশের সম্মতিতে পরিবর্তন করা যেতে পারে। তবে ভারত চুক্তি সংশোধনের প্রস্তাব দিলেও ভারতের সরকারি নথি এবং বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী পাকিস্তান তা প্রত্যাখ্যান করেছে । গত সপ্তাহে জাতিসংঘের এক আলোচনায় ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পারভাথানেনি হরিশ বলেছেন, পাকিস্তানের বাধাদানমূলক আচরণ ভারতকে তাদের ন্যায্য অধিকার পুরোপুরি ব্যবহার করতে দিচ্ছে না।

সেই একই আলোচনায় পাকিস্তানের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি উসমান জাদুন অভিযোগ করেছেন, ভারত নদীর পানি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে এবং ইসলামাবাদ কখনও নয়াদিল্লিকে এই পানিকে চাপে ফেলার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত পাকিস্তানে পানির প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে তেমন কোনো বড় সক্ষমতা রাখে না, আর এই ধরনের অবকাঠামো গড়ে তুলতে অনেক বছর লাগবে।

তবে, ভারতের তরফে চুক্তি থেকে কার্যত সরে যাওয়ার ঘোষণা পাকিস্তানকে কিছুটা হলেও শঙ্কায় ফেলেছে। কারণ, ভারত এখন আর নদীর পানি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে না, এমনটা জানিয়েছেন ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তারা এবং বিশেষজ্ঞরা।

সিন্ধু নদীর নিচের দিকে অবস্থান করায় পাকিস্তানের কৃষিখাতের জন্য ভারতের দেওয়া তথ্য খুব জরুরি। ভারতের কাছ থেকে বরফ গলা পানি, বন্যার পানি আসার গতি, বৃষ্টিপাতের মাত্রা এবং স্লুইস গেট কখন খোলা হবে—এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তারা সেচের জন্য পানির চাহিদা এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করতে পারে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের রোডম্যাপ নেই সরকারের : ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, অর্থনীতিবিদ, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো

“… বাজেট প্রস্তুতির জন্য সরকারের ভেতরে যে সমন্বয় দরকার, তার অভাব দেখছি।

… অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার নিয়ে এত কথা বললেও অর্থনীতি নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা আমরা দেখিনি। সরকার অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি কমিটি এবং টাস্কফোর্স গঠন করেছিল, শ্বেতপত্র কমিটি দিয়ে যার শুরু। কিন্তু আমরা এসবের ফলাফল এখনও দেখলাম না। অর্থনৈতিক সংস্কারের কোনো রোডম্যাপ বা পথরেখা সরকারের কাছ থেকে এলো না। কোনো মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা সরকার করল না। এতে আমি হতবাক হয়েছি।

… এই সরকারের কোনো অর্থনৈতিক ‘মেনিফেস্টো’ নেই। কোনো সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি নেই। নীতির ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রক্রিয়াগত কোনো নিশ্চয়তা নেই। কেননা, ব্যাপক আলোচনা হয়নি। বিশেষত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মতামত নেওয়া হয়নি।

সরকার অন্য সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করছে; কিন্তু অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে করেনি। ইতোমধ্যে এর পরিণতি আমরা দেখতে পাচ্ছি। যেমন–রাজস্ব বিষয়ে অধ্যাদেশ নিয়ে কয়েকদিন আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং বন্দরে অচলাবস্থা তৈরি হয়। শেয়ারবাজার নিয়েও বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

… ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল। সেই ছাত্র-জনতার জন্য শোভন কর্মসংস্থানের কোনো পরিকল্পনা সরকার দিল না। তাদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষা কিংবা যুবশ্রেণির জন্য ভর্তুকি বা কার্ড ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকারের বলিষ্ঠ পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

… অর্থনীতি যদি সুস্থির না থাকে, তাহলে কোনো অবস্থাতেই সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন– কোনো পথকেই সুগম করবে না। যদি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে না থাকে, শ্রমিকদের যদি মজুরি ঠিকমতো না হয় এবং শোভন কর্মসংস্থান না হয়, তাহলে ওই পথ প্রতিকূলতার মুখে পড়তে পারে।

… আমরা সুপারিশ করেছিলাম বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী, বিনিয়োগকারী, প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সব পক্ষকে নিয়ে একটি অর্থনৈতিক বা উন্নয়ন সম্মেলন করার। আলগাভাবে বিনিয়োগ সম্মেলন করে সেই উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি। বিনিয়োগ সম্মেলনে আমরা বাংলাদেশকে সম্ভাবনার দেশ বলেছি; কিন্তু সম্ভাবনার পথরেখা তো বলতে পারিনি। …”

ষড়যন্ত্র তত্ত্ব : পৃথিবীর চারপাশে কি ঘিরে আছে বিশাল কোনো বরফের প্রাচীর?

পৃথিবীকে আমরা চিনি ভূখণ্ড, মহাসাগর আর জনপদের সমন্বয়ে গঠিত এক জীবন্ত গ্রহ হিসেবে। কিন্তু কল্পনার পটে অনেক সময় এই বাস্তবতাকেও ছাড়িয়ে যায় আরেকটি জগৎ। যেখানে প্রচলিত ইতিহাস চেপে রাখা হয়, সভ্যতার উত্থান-পর্ব বরফে চাপা পড়ে থাকে, সেখানে ভিনগ্রহের অস্তিত্বও নিছক রূপকথা নয়, বরং বাস্তবের সম্ভাবনা। এভাবেই গড়ে উঠেছে আইস ওয়ার্ল্ড ষড়যন্ত্র তত্ত্ব— যারা দাবি করে, আন্টার্কটিকার বিশাল বরফের চাদরের নিচে লুকিয়ে আছে এক অজানা, সুপ্রাচীন, অথবা অন্যজাগতিক সভ্যতা।

১৯৫৯ সালের “আণ্টার্কটিক চুক্তি” বিশ্বের অন্যতম বিতর্কিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মতি। এখানে বলা হয় এই অঞ্চল শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ ও বৈজ্ঞানিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে। কিন্তু ষড়যন্ত্রতত্ত্বকারীরা প্রশ্ন তোলেন, কেন পৃথিবীর অন্যতম বিশাল এক ভূখণ্ডকে সকল সামরিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতা থেকে আলাদা রাখা হলো? কেন সাধারণ মানুষের প্রবেশ কার্যত নিষিদ্ধ?

তাঁদের মতে এই কঠোরতা আসলে একটি কৌশল, আসলে এখানে এমন কিছু আছে যা সরকারগুলো চায় না আমরা জানি। হয় প্রাচীন মহাসভ্যতা, না-হয় এলিয়েন প্রযুক্তির গোপন কোনো ঘাঁটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই (১৯৪৬) যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত “অপারেশন হাইজাম্প” কার্যক্রম আন্টার্কটিকায় গমন করে। সরকারিভাবে বলা হয় এটি ছিল গবেষণাভিত্তিক সামরিক প্রশিক্ষণ মিশন। কিন্তু ষড়যন্ত্রতত্ত্ব অনুসারে, আণ্টার্কটিকায় নাজিদের গোপন ঘাঁটি ধ্বংসের জন্য এটি আসলে ছিল একটি রেইড। কিছুজন দাবি করেন অ্যাডমিরাল রিচার্ড বার্ড এক “অভ্যন্তরীণ পৃথিবী”র অস্তিত্বের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যেখানে প্রযুক্তি আমাদের কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যায়।

এই ধারার বিশ্বাসীরা মনে করেন, নাজিরা যুদ্ধশেষে প্রাচীন গোপন প্রযুক্তি নিয়ে আন্টার্কটিকায় পালিয়ে যায় এবং সেখানেই এক ধরণের আত্মনিয়ন্ত্রিত, উন্নত সমাজ গড়ে তোলে। উপগ্রহচিত্র, গুগল আর্থ, ও কিছু ফাঁস হওয়া ছবি দেখিয়ে বলা হয় আণ্টার্কটিকার বরফের নিচে রয়েছে অদ্ভুত গঠনবিশিষ্ট স্থান যা পিরামিড বা ভবনের মতো। কেউ কেউ দাবি করেন, সেখানে রয়েছে আটলান্টিস নামক হারিয়ে যাওয়া সভ্যতার চিহ্ন। এছাড়াও রয়েছে বরফ-গলা ছবিতে দেখা ‘গেইটওয়ে’-এর মতো রহস্যময় গঠন, যা তারা ব্যাখ্যা করেন অন্যগ্রহীয় প্রযুক্তির প্রবেশপথ হিসেবে।

ফ্ল্যাট আর্থ বিশ্বাসীরা আরও একধাপ এগিয়ে বলে থাকেন, আন্টার্কটিকা হলো পৃথিবীর চারপাশ ঘিরে থাকা এক বিশাল বরফপ্রাচীর। এই প্রাচীর আমাদের বাস্তব জগতকে ঘিরে রেখেছে, যাতে আমরা বাইরের ‘আসল’ জগৎ সম্পর্কে জানতে না পারি। এই বরফপ্রাচীরের ওপারে নাকি রয়েছে অন্য পৃথিবী, অন্য সভ্যতা বা এমনকি অন্য সময়। তাদের মত অনুযায়ী NASA এবং জাতিসংঘ এই বিষয়টি গোপন করে যাচ্ছে।

অনেক ষড়যন্ত্রবাদী মনে করেন, বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন ইচ্ছাকৃতভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে, যাতে আন্টার্কটিকার বরফ গলে গিয়ে সেখানকার প্রাচীন নিদর্শন ধ্বংস হয়ে যায়। কেউ কেউ বলেন, বরফের নিচে জীবাশ্ম নয় বরং প্রাচীন দৈত্যাকার প্রাণী, নেফিলিমের কঙ্কাল, বা এমন জিনিস রয়েছে যা আধুনিক বিজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। এমনকি এসব তথ্য নাকি কয়েকটি সামরিক সংস্থা বহু আগেই আবিষ্কার করেছে, কিন্তু গোপন রেখেছে।

বাইবেল, মহাভারত বা সুমেরীয় গ্রন্থে এমন বহু বার্তা পাওয়া যায় যেখানে ‘উপরে নয়, বরং নিচে’ গোপন জগতের কথা বলা হয়। মেসোপটেমিয়ান কিংবদন্তি গিলগামেশ বা প্লেটোর আটলান্টিস কাহিনী এই ধারণাগুলোর সঙ্গে মিলে যায়। অনেকেই মনে করেন বরফের নিচে চাপা পড়ে থাকা এই শহরগুলোর অস্তিত্ব সেই ধর্মীয়-মিথিক বর্ণনার আধুনিক প্রতিফলন।

এই সমস্ত তত্ত্ব শুধুই হাস্যকর বা অবাস্তব নয়—বরং এগুলোর উত্থান মনস্তত্ত্ব এবং রাজনীতির মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত। ক্ষমতাকেন্দ্রের প্রতি মানুষের অনাস্থা, তথ্য গোপনের সংস্কৃতি এবং বিকল্প ইতিহাস জানার আকাঙ্ক্ষা এই সমস্ত কিছু মিলে আইস ওয়ার্ল্ড ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে বাঁচিয়ে রাখে।

আইস ওয়ার্ল্ড তত্ত্ব, বাস্তবতা হোক বা কল্পনা মানবজাতির ইতিহাস জানার, বোঝার এবং আবার নতুন করে লেখার গভীর তৃষ্ণার এক প্রতিফলন।আমরা বরফের নিচে কি সত্যিই এমন কিছু লুকিয়ে রেখেছি যা আমাদের পরিচয় বদলে দিতে পারে? তা আমরা এখনও জানি না। কিন্তু মানুষের কল্পনা, সন্দেহ আর অনুসন্ধিৎসাই হয়তো একদিন আমাদের সত্যের মুখোমুখি করবে।

ভ্রমনে প্রৌঢ়রা যে বিষয়ে খেয়াল রাখবেন

একটা সময় ছিল যখন বয়স্ক মানেই পরিবারের কোণে বসে নাতি-নাতনির সঙ্গে সময় কাটানো। চুলে পাক ধরা, চোখে চশমা—প্রৌঢ়-প্রৌঢ়া মানেই যেন স্থির এক জীবন। কিন্তু সময় বদলেছে। এখন আশি বছর বয়সেও কেউ পাহাড়ে চড়ছেন, কেউ দল বেঁধে ঘুরতে যাচ্ছেন। বয়স বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু মন থেকে ইচ্ছেগুলো ফুরায়নি। বরং অনেকেই চাচ্ছেন জীবনের শেষভাগটুকু উদযাপন করতে। তবে বয়স্কদের ভ্রমণ একটু বাড়তি প্রস্তুতি দাবি করে। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে এই সময়টুকুও হয়ে উঠতে পারে প্রাণবন্ত ও নিরাপদ।

ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন আগেভাগে – বয়স্কদের ভ্রমণ মানেই সাবধানতা ও আরামের সমন্বয়। অনেকেই পরিকল্পনা ছাড়াই বেড়াতে বেরিয়ে পড়েন, এমনটা বিপজ্জনক হতে পারে। কোথায় যাচ্ছেন, কীভাবে যাচ্ছেন, কোথায় থাকবেন—এই তিনটি বিষয় আগেই ঠিক করে নেওয়া জরুরি। গন্তব্য নির্বাচনের সময় বয়স্ক সদস্যের শারীরিক অবস্থা ও ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিন। পাহাড় বা সমুদ্র, যেখানেই যান, খেয়াল রাখুন যেন হাঁটাচলা ও যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হয়।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা প্রস্তুতি – ভ্রমণের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। দীর্ঘ সফর বা উচ্চতায় গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সঙ্গে জরুরি ওষুধের পাশাপাশি অতিরিক্ত ওষুধ রাখা উচিত, যাতে কোনো কারণে আটকে পড়লে ওষুধের ঘাটতি না হয়। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন বা অনুমোদনপত্র নিয়ে যাওয়া আরও নিরাপদ।

ভ্রমণ হোক ধীরগতির, ঝটিকা নয় – বয়স্কদের জন্য ঝটিকা সফর শারীরিকভাবে কষ্টকর হতে পারে। তাই দিনভিত্তিক ব্যস্ত সূচি না করে আরামের সুযোগ রাখুন। প্রতিদিন ঘোরার মধ্যে বিশ্রাম যেন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এতে শরীর থাকবে সুস্থ, মনও থাকবে প্রফুল্ল।

যাতায়াত ও থাকার ব্যবস্থা আগে থেকেই ঠিক করুন – গাড়ি বা ফ্লাইট বুক করার সময় আরামের দিকটি বিবেচনা করুন। গাড়িতে পা ছড়ানোর পর্যাপ্ত জায়গা থাকা উচিত। একইভাবে গন্তব্যে পৌঁছে দীর্ঘ সময় বসে থাকার ঝুঁকি এড়াতে হোটেল বা রিসোর্ট আগেভাগে বুক করে রাখুন। হোটেল নির্বাচনের ক্ষেত্রে লিফট আছে কি না কিংবা নিচতলায় রুম পাওয়া যাবে কি না, এ সব খুঁটিনাটি বিষয়ও দেখুন। যেখানেই যান না কেন, কাছাকাছি হাসপাতাল, ক্লিনিক বা জরুরি চিকিৎসা পাওয়া যাবে এমন জায়গা আগেই চিনে নিন। সঙ্গে প্রেসক্রিপশন, জরুরি ফোন নম্বর ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখুন।

বয়স মানে থেমে যাওয়া নয়, বরং নতুন অভিজ্ঞতার সুযোগ। শুধু একটু সচেতনতা আর পরিকল্পনার মাধ্যমে বয়স্কদের ভ্রমণ হয়ে উঠতে পারে নিরাপদ, আরামদায়ক এবং আনন্দময়।

প্রবাসী শ্রমিকদের মৃত্যু বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে

২০২৪ সালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড (WEWB) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর ৪,৮১৩টি মৃতদেহ দেশে ফেরত এসেছে, ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ২৬১টি বেশি। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৪,৫৫২টি।

এই প্রবণতা ২০২১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে। ২০২১ সালে দেশে ফিরেছিল ৩,৮১৮টি মৃতদেহ এবং ২০২২ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৩,৯০৪টিতে। এসব মৃতদেহ মূলত দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে। WEWB জানিয়েছে ১৯৯৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মোট ৫৬,৭৬৯টি প্রবাসী মৃতদেহ দেশে ফেরত এসেছে।

এমন পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যার দিক থেকেই নয়, মানবিক দিক থেকেও গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত বহন করে। প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমায়, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। কিন্তু বাস্তবতা অনেকের জন্য ভয়াবহ হয়ে ওঠে এবং অনেকেই তরুণ বয়সে লাশ হয়ে ফিরে আসেন।

এই মৃত্যুগুলোর প্রকৃত কারণ এখনও পরিষ্কার নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘হার্ট অ্যাটাক’ বা হৃদ্‌রোগকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ব্যাখ্যা প্রায়ই যথাযথ নয় এবং আরও গভীরভাবে চিকিৎসা পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।

ওয়ার্বি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক জাসিয়া খাতুন বলেন, “অকালমৃত্যুর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার অভাব, দুর্বল আবাসন ব্যবস্থা এবং অতিরিক্ত কাজের চাপ প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। অনেক শ্রমিক ঋণের বোঝা নিয়ে বিদেশে যান এবং সেই অর্থ ফেরত আনার জন্য দীর্ঘ সময় কাজ করেন, ঠিকমতো খাবারও গ্রহণ করেন না।”
তিনি আরও বলেন, শুধু হার্ট অ্যাটাক বলেই দায় শেষ করা ঠিক নয়। এই মৃত্যুর পেছনে তীব্র গরম, দূষণ, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক রোগ যেমন কিডনি সমস্যাও বড় ভূমিকা রাখে।

জুলাই ২০১৬ থেকে জুন ২০২২ পর্যন্ত WEWB-এর বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময়ে বাংলাদেশে ১৭,৮৭১টি মৃতদেহ ফেরত আসে, যার মধ্যে ৬৭.৪ শতাংশই আসে ছয়টি গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল (GCC) দেশ থেকে। এই দেশগুলো হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইন।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৫,৬৬৬টি মৃতদেহ আসে সৌদি আরব থেকে। এরপর ১,৯১৩টি সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ১,৮৯৩টি আসে ওমান থেকে। বাংলাদেশ থেকে ১৯৭৬ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট ১.৬ কোটি কর্মী বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন, যার মধ্যে ৭৬.৩ শতাংশ GCC দেশগুলোতে গেছেন।

২০২২ সালে প্রকাশিত Vital Signs Partnership (VSP)-এর “The Deaths of Migrants in the Gulf” শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, গালফ অঞ্চলে কর্মরত নিম্ন বেতনভুক্ত শ্রমিকরা তীব্র গরম, উচ্চ আর্দ্রতা, দূষণ, অমানবিক কর্মপরিস্থিতি ও মানসিক চাপে ভোগেন। এসব পরিস্থিতি তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায় এবং মৃত্যুর সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

জাসিয়া খাতুন পরামর্শ দেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে একযোগে কাজ করতে হবে যেন বিদেশে প্রবাসীদের জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

WEWB একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করাই আমাদের কাজ। আমরা বিদেশে যাওয়ার আগে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী পাঠানোর হার বেড়েছে, এটা মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে।”

WEWB প্রত্যেক মৃতদেহ ফেরতের জন্য দাফন ও পরিবহনের খরচ হিসেবে ৩৫ হাজার টাকা এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩ লাখ টাকা প্রদান করে থাকে।

প্রবাসীদের স্বপ্ন যেন আর কফিনে বন্দি না হয় তার জন্য শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ নয়, প্রয়োজন মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, প্রয়োজনে পুনরায় ময়নাতদন্ত, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যথাযথ মনিটরিং ব্যবস্থা।

টানাপোড়েন-বয়কটের আহ্বান সত্ত্বেও ভারতের পণ্য আমদানি কমেনি বাংলাদেশে

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন, কূটনৈতিক দূরত্ব ও ব্যবসায়িক নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থিতিশীল রয়েছে। ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি কমেনি, বরং সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা বেড়েছে।

চলতি ২০২৪-২৫ ভারতীয় অর্থবছরেও (এপ্রিল-মার্চ) প্রতিবেশী দেশটি থেকে প্রায় ১১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় ৩.৫৩% বেশি। এ আমদানির বিপরীতে রফতানির পরিমাণ কম। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাণিজ্য বিভাগের পরিসংখ্যানে এ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।

ভারতের বাণিজ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ভারতের পণ্য আমদানি বা বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রফতানি ৮.৭% শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২০০ কোটি বা ২ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি।

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য গত পাঁচ দশকে ক্রমেই বড় হয়েছে। পণ্য আমদানিতে চীনের পরই বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস দেশ ভারত। ফলে দেশটিরও পণ্য রফতানির শীর্ষ গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ।

ভারতের প্রধান রফতানি পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে তুলা, খাদ্যশস্য, খনিজ ও জ্বালানি। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রধানত তৈরি পোশাক রফতানি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক টানাপড়েন থাকলেও দুই দেশের অর্থনীতি এতটাই একে অপরের উপর নির্ভরশীল যে এ সম্পর্ক সহজে ভাঙা সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব জনগোষ্ঠী যে একটা আন্তঃনির্ভরশীল বিশ্বে বাস করে, তারই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে দুই দেশের বাণিজ্যে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে সম্পর্কের টানাপড়েন তৈরি হলেও কিন্তু ওই দুই দেশের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক খুব একটা প্রভাবিত হয়নি। একই বিষয় ভারত ও চীনের ক্ষেত্রেও। আবার চীন ও জাপানের মধ্যেও এমন চিত্র।

রাজনীতির বাস্তবতা, কূটনীতির বাস্তবতা ও অর্থনীতির বাস্তবতার মধ্যে মূলত বড় ধরনের ফারাক। গত তিন বা চার দশকের আন্তর্জাতিক সম্পর্কে এটা বেশ ভালোভাবেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ইস্পাত কারখানা পুনর্গঠনে রাশিয়া-পাকিস্তান চুক্তি, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত?

ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদার রাশিয়া। সম্প্রতি দেশটি পাকিস্তানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। এই চুক্তির আওতায় সোভিয়েত আমলে নির্মিত একটি বন্ধ ইস্পাত কারখানা পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এই পদক্ষেপ নয়াদিল্লিতে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাশিয়া-পাকিস্তানের এই মৈত্রী এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে এবং ভারত-রাশিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে।

জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে রাশিয়ার দূত ডেনিস নাজারোভ ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হারুন আখতার খানের মধ্যে একটি বৈঠকে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এর লক্ষ্য হলো, পাকিস্তান স্টিল মিলস (পিএসএম) পুনর্গঠন ও আধুনিকীকরণ। ২০১৫ সালে পুরোনো যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থাপনায় ত্রুটির কারণে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। এই কারখানা ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সহায়তায় নির্মিত হয়। এই সিদ্ধান্ত মস্কো ও ইসলামাবাদের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার গভীরতা নির্দেশ করে।

উন্নত রুশ ইস্পাত উৎপাদন প্রযুক্তি দিয়ে চালিত এই পুনরুজ্জীবন প্রকল্প পাকিস্তানের বার্ষিক ইস্পাত আমদানি খরচ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে এবং ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের সমান বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় থেকে বাঁচিয়ে দেবে।

যদিও রাশিয়া বলছে, এই চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য। কিন্তু বিশেষজ্ঞেরা সতর্ক করছেন, শিল্প ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্ব প্রায়ই গভীর কৌশলগত সম্পর্কের পথ তৈরি করে।

ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের প্রতি রাশিয়ার এই অপ্রত্যাশিত বন্ধুত্বের হাত বাড়ানো ভারত-রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী উষ্ণ সম্পর্কে কঠিন প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে যেখানে ভূরাজনৈতিক জোটগুলোর সম্পর্ক ও গতিমুখ এখন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

আর মস্কো-ইসলামাবাদ যৌথ প্রকল্পের এই খবর এমন সময় এল যখন মস্কোর বেইজিংয়ের সঙ্গে আরও বেশি ঘনিষ্ঠতা এবং এশিয়ায় জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কের বিবর্তন ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। যেখানে সামরিক ও জ্বালানি খাতে ভারত অনেকাংশে রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার গতিমুখের একটি বৃহত্তর পুনঃসমন্বয়ের শুরু হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

চীনের তিয়াংগং স্পেস স্টেশনে নতুন এক ব্যাকটেরিয়ার আবিষ্কার

চীনের তিয়াংগং স্পেস স্টেশনে সম্প্রতি এক নতুন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে নিয়ালিয়া তিয়াংগংগেনসিস (Niallia tiangongensis)। এই আবিষ্কার মহাকাশে জীবনের অভিযোজন প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৩ সালের জুনে পৃথিবীতে ফিরে আসা শেনঝো ১৫ মিশনের সময় স্টেশনের পৃষ্ঠতল থেকে সংগ্রহ করা নমুনা বিশ্লেষণ করে এই ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা হয়। এটি তিয়াংগংয়ে প্রথম কোনো নতুন জীবের সন্ধান, যা মহাকাশ গবেষণায় চীনের অগ্রগতিকে প্রতিফলিত করে।

তিয়াংগং স্পেস স্টেশনটি নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে (Low Earth Orbit) অবস্থিত তিনটি মডিউল নিয়ে গঠিত। শেনঝো ১৫ মিশনের টাইকোনাটরা (চীনা মহাকাশচারী) স্টেশনের ভেতরের পৃষ্ঠতল থেকে স্টেরাইল ওয়াইপের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করেন। এসব নমুনা হিমায়িত করে পৃথিবীতে আনা হয় জিনোমিক ও মেটাবোলিক বিশ্লেষণের জন্য। উচ্চ-রেজোলিউশন ইমেজিং, সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সিং এবং ফাইলোজেনেটিক তুলনার মাধ্যমে গবেষকরা নিশ্চিত হন যে এটি নিয়ালিয়া প্রজাতির অন্তর্গত একটি নতুন ব্যাকটেরিয়া, যা পৃথিবীর নিয়ালিয়া সার্কুলান্স (Niallia circulans) ব্যাকটেরিয়ার সাথে সম্পর্কিত হলেও জিনগতভাবে স্বতন্ত্র।

এই ব্যাকটেরিয়াটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি একটি রড-আকৃতির (দণ্ডাকার), অ্যারোবিক (অক্সিজেন-নির্ভর) এবং স্পোর-গঠনকারী ব্যাকটেরিয়া। স্পোর তৈরি করার ক্ষমতা একে চরম পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে। এটি জেলাটিন (এক ধরনের প্রোটিন) ভেঙে পুষ্টি উপাদান আহরণ করতে পারে, যা সীমিত সম্পদের মহাকাশে জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মহাকাশের বিকিরণ থেকে কোষের ক্ষতি মেরামতের ক্ষমতা পৃথিবীর ব্যাকটেরিয়ার তুলনায় বেশি।

মূল গবেষণাপত্রে (International Journal of Systematic and Evolutionary Microbiology) বলা হয়েছে, নিয়ালিয়া তিয়াংগংগেনসিসের দুটি প্রোটিনে গাঠনিক ও কার্যকরী পরিবর্তন দেখা গেছে:

বায়োফিল্ম গঠন: ব্যাকটেরিয়া সমূহ যখন একত্রে একটি আস্তরণ তৈরি করে, তা পরিবেশের চাপ সহ্য করতে সাহায্য করে। এই প্রোটিনের পরিবর্তন বায়োফিল্ম গঠনের দক্ষতা বাড়িয়ে তোলে।

অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া: মহাকাশে অক্সিজেন রেডিকেলের মাত্রা বেশি থাকে, যা কোষের জন্য ক্ষতিকর। পরিবর্তিত প্রোটিন এই স্ট্রেস মোকাবেলায় সাহায্য করে।

ডিএনএ মেরামতি: মহাকাশের উচ্চমাত্রার বিকিরণ কোষের ডিএনএ ভেঙে দেয়। নতুন প্রোটিন ডিএনএ মেরামতির গতি বাড়ায়।

এই অভিযোজনগুলো সম্ভবত মহাকাশের অনন্য পরিবেশে টিকে থাকার জন্য বিবর্তনের ফল। পৃথিবীর নিয়ালিয়া সার্কুলান্স সাধারণত মাটি, বর্জ্য এবং মানব মলে পাওয়া গেলেও, তার মহাকাশী প্রতিরূপটি আরও কঠিন পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছে।

এই আবিষ্কার কেবল বৈজ্ঞানিক কৌতূহলই নয়, ভবিষ্যৎ মহাকাশ মিশনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। মহাকাশে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মহাকাশচারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নিয়ালিয়া তিয়াংগংগেনসিস যদি রোগসৃষ্টিকারী হয়, তবে এর মোকাবিলার কৌশল আবিষ্কার প্রয়োজন।

ব্যাকটেরিয়া যান্ত্রিক ক্ষতি বা বায়োফিল্মের মাধ্যমে সরঞ্জাম নষ্ট করতে পারে। এই প্রজাতির বৈশিষ্ট্য বুঝে উন্নত জীবাণুনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি তৈরি করা যেতে পারে। জেলাটিন ভাঙার ক্ষমতা বা বিকিরণ প্রতিরোধী জিন খাদ্য উৎপাদন বা ওষুধ শিল্পে কাজে লাগানো যেতে পারে। তিয়াংগংয়ের এই ব্যাকটেরিয়া প্রথম নয়—ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (ISS) থেকেও পূর্বে নতুন ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হয়েছে। ২০২০ সালে ISS-এ মিথাইলোব্যাকটেরিয়াম অ্যাজাদিকাই নামক একটি ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গিয়েছিল, যা মার্সে ফসল ফলানোতে সাহায্য করতে পারে বলে ধারণা করা হয়।এছাড়াও NASA-র পরিষ্কার কক্ষে ২৬টি নতুন ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান মিলেছিল, যা মহাকাশযানে জীবনের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব তুলে ধরে।

এই আবিষ্কার উল্লেখযোগ্য হলেও কিছু প্রশ্ন এখনও রহস্যাবৃত। ব্যাকটেরিয়াটি কি পৃথিবী থেকে মহাকাশে গিয়ে অভিযোজিত হয়েছে, নাকি এটি মহাকাশে নতুনভাবে উদ্ভূত? জিনোম বিশ্লেষণে পৃথিবীর ব্যাকটেরিয়ার সাথে মিল থাকলেও মিউটেশনগুলো প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফল কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিয়ালিয়া সার্কুলান্স পৃথিবীতে ইমিউনো-কম্প্রোমাইজড ব্যক্তিদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। মহাকাশে এই নতুন প্রজাতিটি কি একইভাবে কাজ করে? এটি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। মহাকাশে খনিজ উত্তোলনে ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহার একটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র। এই প্রজাতিটি কি সেখানে ভূমিকা রাখতে পারবে? নিয়ালিয়া তিয়াংগংগেনসিসের আবিষ্কার মহাকাশে জীবনের অভিযোজন-ক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের বোঝার পরিধিকে প্রসারিত করেছে। এটি কেবল একটি নতুন ব্যাকটেরিয়ার সন্ধানই নয়, বরং মহাকাশ গবেষণায় মাইক্রোবিয়াল ইকোলজির গুরুত্বকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলেছে।

জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পাঁচ বছর পর, ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার কী অর্জন করলো?


মিনিয়াপোলিসের রাস্তায় এক পুলিশ কর্মকর্তার হাঁটুতে আটকে থাকা জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর সেই কুখ্যাত ৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড (পরে প্রসিকিউটররা সময় পরিবর্তন করে ৯ মিনিট ২৯ সেকেন্ড ঘোষণা করেন) মুহূর্তটি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমেরিকার চেতনায় গভীর ছাপ ফেলেছিল। দুই সপ্তাহের মধ্যে, ঠিক একই সময় ধরে নীরবতা পালন করা হয়েছিল গোটা বিশ্বজুড়ে। ২০২০ সালের জুলাইয়ের শুরুতে, ধারণা করা হয় প্রায় ২৬ মিলিয়ন আমেরিকান ৪,৭০০ এর বেশি বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করেছিল। তারপর শুরু হলো মূর্তি ভাঙার ঘটনা, শক্তিশালী স্লোগান আর নতুন নতুন শব্দের ব্যবহার, যেমন “বর্ণবৈষম্যের বিরোধিতা” থেকে “বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি” । অনেকের জন্য এসব শব্দ ছিল নতুন এবং কিছুটা বিভ্রান্তিকর। কিন্তু এই সব উত্তেজনা আর আন্দোলনের ঢেউ যেন চট করে এসে আবার দ্রুত মুছে গেছে। প্রতিবাদগুলো কি শুধুই এক একটি “মুহূর্ত” ছিল, নাকি একটি সত্যিকারের আন্দোলনের শুরু হয়ে অর্থবহ পরিবর্তনের সূচনা করেছিল? আমেরিকার ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার কর্মীদের সরল স্বীকারোক্তি, তারা তাদের উদ্দেশ্যের ঠিক উল্টো ফলাফল অর্জন করেছেন।