Home Blog Page 81

ΑΙ পুরুষ তৈরী করেছে পুরুষের জন্য : আসমা দেরজা, Former Amazon exec & Founder of the Ethical Al Alliance

মূল সমস্যা স্পষ্ট: দায়িত্বশীলতা। AI নির্মাতাদের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই যারা ক্ষতি হওয়ার আগেই তাদের দায় নিতে বাধ্য করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের AI আইন একটি ভালো প্রথম পদক্ষেপ, কিন্তু এটি ক্ষতির পরেই ব্যবস্থা নেয

বিশ্বের প্রায় ৮০% AI কর্মীবৃন্দ পুরুষ। যদি AI নারীদের জন্য তৈরি হত, তাহলে আমরা লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্বাস্থ্যখাতে বৈষম্য, আর্থিক অসমতা—এসব বিষয়ে বেশি মনোযোগ দেখতে পেতাম, যেগুলো জাতিসংঘ সবচেয়ে জরুরি সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

চ্যাটজিপিটি আমাদের ইমেইল সারসংক্ষেপ করতে সাহায্য করে, কিন্তু AI-এর আসল শক্তি থাকে অদৃশ্য ব্যবস্থাগুলোতে: যেমন, মর্টগেজ সিদ্ধান্ত, স্বাস্থ্য নির্ণয়, চাকরির আবেদন প্রক্রিয়া এবং এসব সবার জন্য সমান সুবিধাজনক নয়।

সবকিছু শুরু হয় ডেটা লেবেলিং থেকে, কিন্তু আমরা এর ব্যাপারে খুব কম কথা বলি। যেমন, ‘আল্লাহু আকবর’—কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হলেও কেউ ডাবলিনের অফিস থেকে এটি ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে লেবেল করতে পারে।

আপনি যদি আজ আপনার ডেটা নিয়ে উদ্বিগ্ন না হন, তাহলে হয় আপনি ভুল তথ্য পেয়েছেন, অথবা অস্বীকার করছেন। এটা কোনো প্যারানয়েডিয়া নয়, এটা বাস্তবতা। আমরা ইতোমধ্যেই টেকনো-ফ্যাসিবাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। ডেটা রাজনৈতিক দমন suppression-এর জন্য ব্যবহার হচ্ছে।

আমাদের সম্মিলিত কল্পনায়, AGI (সাধারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) কেবল কো-অধিকারভুক্ত নয়, এটি কো-শাসিত। এটি শুধু কর্পোরেশন নয়, বরং কমিউনিটিগুলোর সঙ্গে এবং তাদের জন্য তৈরি। এটি সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তার রক্ষক, যা নৈতিক ও স্বচ্ছভাবে উন্নয়ন করা হয়।

ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে রেকর্ডসংখ্যক অভিবাসী ব্রিটেনে

এই বছর ব্রিটেনের ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে অভিবাসীদের প্রবেশ অভূতপূর্ব মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। ১ জুন একদিনে প্রায় ১,২০০ জন অভিবাসী ছোট ছোট নৌকায় করে ফ্রান্স থেকে ব্রিটেনে পৌঁছেছে। এই ঘটনা ব্রিটেনের অভিবাসন ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং দেশটির অভিবাসন নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে মোট ১৪,৮০০-এরও বেশি মানুষ ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা ৫০,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই প্রবণতা শুধু সংখ্যাগত বৃদ্ধি নয় বরং এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে মানবিক সংকট, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা।

কেন এত বেশি অভিবাসী?

ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ব্রিটেনে আসার এই প্রবাহের পেছনে রয়েছে নানা কারণ। প্রথমত মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও অন্যান্য অঞ্চলের চলমান যুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ইউরোপের দিকে ঝুঁকছেন। অর্থনৈতিক সংকট ও দারিদ্র্যের কারণে উন্নত জীবনের আশায় অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে এই বিপজ্জনক যাত্রায় নেমে পড়ছেন। মানব পাচারকারীরা অবৈধ অভিবাসীদের ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে ব্রিটেনে পৌঁছে দেয়ার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করছে। ছোট নৌকায় করে পারাপারের ঝুঁকি অনেক বেশি। অনেক সময়ই এই নৌকাগুলো অতিরিক্ত ভরা থাকে এবং আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে। তবুও নিরাপত্তাহীনতা ও দারিদ্র্যের কারণে হাজার হাজার মানুষ এই বিপজ্জনক পথ বেছে নিচ্ছেন।

ব্রিটেনের প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ
ব্রিটেন সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ সীমান্ত নিরাপত্তা অভিযান চালানো হচ্ছে যাতে অবৈধ নৌকা চলাচল রোধ করা যায়। এছাড়া অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হচ্ছে। ব্রিটেনের অভিবাসন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করবে।

তবে শুধুমাত্র আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়। ব্রিটেন সরকার মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রেও কাজ করছে। যারা বৈধভাবে আশ্রয় চায় তাদের জন্য পুনর্বাসন ও সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিবাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

ইংলিশ চ্যানেল পারাপারে অভিবাসীদের এই বড় ধরনের প্রবাহ ব্রিটেনের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশে গভীর প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সামাজিক উত্তেজনার কারণ হতে পারে। অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ায় কিছু এলাকায় সামাজিক অবকাঠামো ও সেবার ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলেও অভিবাসন নীতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করছে। কেউ অভিবাসন নীতি কঠোর করার পক্ষে, আবার কেউ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার পক্ষে। এই বিতর্ক ব্রিটেনের অভিবাসন নীতির ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইংলিশ চ্যানেল পারাপারের এই প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে, তবে ব্রিটেনের অভিবাসন নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি হবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন। শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, অভিবাসীদের আসল কারণগুলো মোকাবিলা করাও জরুরি, যেমন যুদ্ধ, দারিদ্র্য ও মানব পাচার।

সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব ন্যায়ানুগ করা কেন জরুরি : আলতাফ পারভেজ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাস বিষয়ের গবেষক

0

… অনেকে বলেন, এখানে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে পৃথক বর্গ নেই। সবাই আমরা ‘বাংলাদেশি’। রাজনৈতিক উচ্চাশা হিসেবে এটা বেশ ভালো শোনায়। এ রকমই হওয়া দরকার।

কিন্তু অমুসলিম ও অবাঙালি বাংলাদেশিরা রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-সামাজিক বর্গ হিসেবে পৃথক অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা নিয়েই জীবন যাপন করে। সংখ্যাগুরুরা যদিও মনে করে ‘সংখ্যালঘু’ বলে কিছু নেই, কিন্তু সংখ্যালঘু মনে করছে, তার পৃথক সত্তা সে চাইলেও মুছতে পারছে না।

… ‘দ্বিতীয় রিপাবলিকে’ খোদ সংবিধান বদল ও গণপরিষদ নিয়ে কথা হচ্ছে এখন। এ রকম পরিবেশে সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বের পদ্ধতিগত বদল নিয়েও আলাপ হতে পারে কি না, সে নিয়ে ভাবা দরকার।

এমনও হতে পারে, এখনকার ব্যবস্থাতেই লোকগণনার হিসাব অনুযায়ী কিছু আসন সংখ্যালঘুদের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায়। ভারতীয় লোকসভায় যেভাবে শিডিউল কাস্ট ও শিডিউল ট্রাইবদের জন্য আসন নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

… সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বের ব্যাপারে কোনো ধরনের সংস্কার যদি করা না হয়, তাহলে কী ঘটতে পারে, সেটা বর্তমান সামাজিক বিবেচনায় অনুমান-অযোগ্য নয়। বড় দলগুলো নির্বাচনে সংখ্যাগুরুদের ভোট নিশ্চিত রাখতে সংখ্যালঘুদের প্রত্যাশিত সংখ্যায় মনোনয়ন দিয়ে বিজয়ী করে আনায় বেশি আগ্রহ দেখাবে না। অতীতে এমনও ঘটেছে, ভোটার হিসেবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, এমন আসনেও প্রায়ই মুসলমান প্রার্থীরা দলগুলোর মনোনয়ন পেয়েছেন।

আবার দেশের বেশির ভাগ আসনে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা এমন নয় যে বর্তমান ভোটব্যবস্থায় কেবল নিজেদের ভোটে তাঁদের কেউ জিতে আসতে পারেন। খুলনা ও গোপালগঞ্জে মাত্র দুটি আসন আছে, যেখানে অমুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার। এর বাইরে ১০টার মতো আসনে তাঁরা বড় সংখ্যায় আছেন।

এর বাইরে সংখ্যালঘুরা কার্যত অল্প অল্প করে ছড়িয়ে আছে দেশজুড়ে। যেমন বাংলাদেশে পাঁচ লাখের মতো খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী আছে।…বৌদ্ধদের সংখ্যা দেশে খ্রিষ্টানদের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। হিন্দুদের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান মিলে ১৭ কোটি জনসংখ্যার প্রায় ৯ ভাগ। সংসদ যদি হয় ৩৫০ আসনের, তাহলে ৩১ থেকে ৩২ জন সংখ্যালঘু এমপি সেখানে ওই সম্প্রদায়ের থাকতে পারেন। বিগত নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতা জানায়, সংখ্যালঘুরা এ রকম সংখ্যায় সংসদে ছিলেন না। ২০-এর নিচে থাকছে তাঁদের আসন।

এটাও সত্য যে ভোটের আয়োজন ধর্মের ভিত্তিতে হয় না। ভোট হয় নাগরিকতার জায়গা থেকে। রাজনৈতিক দলগুলো সেভাবেই প্রার্থী দেয়। এটাও আশা করা হয়, ভোটাররা কেবল দলগুলোর ইশতেহার দেখে ভোট দেবেন এবং বিজয়ী প্রার্থীরা ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করবেন।

কিন্তু বাস্তবের সঙ্গে যৌক্তিক এসব প্রত্যাশার অনেক ব্যবধান ঘটে বলে সংখ্যালঘুদের দাবি। তারা মনে করে, বর্তমান ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলগুলো হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সংগঠকদের কম প্রার্থী করে সংখ্যাগুরুর পছন্দ-অপছন্দের বিবেচনা মাথায় রেখেই।

এটা আশপাশের দেশগুলোরও বাস্তবতা। মিয়ানমারে অং সান সু চির দল ২০২১ সালে কোনো মুসলিম প্রার্থী রাখেনি নির্বাচনে। একই কারণে ভারতীয় লোকসভায় বিজেপির কোনো মুসলিম এমপি নেই। মিয়ানমার ও ভারতে এভাবেই বামার ও হিন্দুত্ববাদীরা সংখ্যাগুরুদের মন জুগিয়ে ভোটে জিতেছিল। সেসব দেশে সংখ্যালঘুদের আহাজারির কথা আমরা জানি। বাংলাদেশে আমরা সে রকম চাইব না নিশ্চয়ই, অন্তত রাষ্ট্র পুনর্গঠনের নতুন উদ্যমের সময়।

কিন্তু সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব সন্তোষজনক মাত্রায় বাড়াতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য পথ কী? সংখ্যালঘুরা বলছে, বাংলাদেশে তাদের নিজ প্রতিনিধি বাছাই করতে দেওয়া যেতে পারে। জনসংখ্যার হিস্যায় তারা যে পরিমাণ আসন পায়, সেসবে নিজেরা নিজেদের প্রার্থী বাছাইয়ের সুযোগ পেলে ভালো হয়। এর মধ্যে কিছু আসন (জনসংখ্যার হিস্যা অনুযায়ী) দলিতদের জন্যও চিহ্নিত করে দেওয়া যায়।

… এ রকম সংস্কার ফলপ্রসূ হলে সংসদে সব ধরনের সংখ্যালঘুর প্রত্যাশামতো প্রতিনিধি থাকবে। তাঁরা নিজ জনগোষ্ঠীর আশা-প্রত্যাশার কথা বলতে পারবেন এবং সে অনুযায়ী সরকার পদক্ষেপ নিতে পারবে বলে জানাচ্ছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তরুণেরা, যা দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে এবং আন্তসাম্প্রদায়িক পরিবেশকে উন্নত করবে।

এটা সংখ্যালঘুদের বিষয়ে দেশ-বিদেশের তৃতীয় পক্ষের প্রচার-প্রচারণা বন্ধেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সমাজে নতুন স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দলেরও জন্ম হতে পারে এ রকম সংস্কারে। তাতে বিশেষ কোনো দলের সমর্থক বনে থাকার সিলমোহর থেকে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান বা সাঁওতাল-হাজং-খাসিরা নিজেদের সরিয়ে আনতে পারবে। …”

‘আজহারুল ইসলামের বিচার সঠিকভাবে হয়নি, কিন্তু এর মানে এই নয় যে জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধাপরাধের দায় থেকে মুক্ত’ : সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান

0

১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের দায়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) দেওয়া মৃত্যুদণ্ড খারিজ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে গত সপ্তাহে খালাস দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আদালত তাঁর সংক্ষিপ্ত আদেশে বলেছেন, ‘বিচারিক প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতিমালা উপেক্ষা করা হয়েছে, যার ফলে গভীর অন্যায় ঘটেছে।’

এই রায় আজহারুল ইসলামের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রশ্নে যেমন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনি পুরো বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন বিশেষজ্ঞ, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর শুরু থেকে বিচার কার্যক্রমের নিবিড় পর্যবেক্ষক ছিলেন বার্গম্যান। তখন তিনি আদালত, প্রসিকিউশনের তদন্ত প্রক্রিয়া ও আসামিপক্ষের কৌঁসুলিদের কর্মকাণ্ডে ব্যাপক অসংগতি ও রাজনৈতিক প্রভাব লক্ষ করেছেন। সেই সব তথ্য তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের রোষের মুখোমুখি হন বার্গম্যান।

তিনি মনে করেন, ওই সময় যুদ্ধাপরাধের মামলায় যাঁরা দণ্ডিত হয়েছিলেন, তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ থাকলেও তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার যথাযথ না থাকার কারণে তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ঠিক একইভাবে ৫ আগস্টের পর মানতাবিরোধী অপরাধের বিচার যেভাবে হচ্ছে, সেটাও যথাযথ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার অভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

ফেসবুক পোস্টে ডেভিড বার্গম্যান বলেন, ‘আজহারুল ইসলামের মামলার রায়ে যে ধরনের অসংগতি ও ন্যায়বিচারের অভাব ছিল, তা নতুন কিছু নয়। কিন্তু আজহারুল ইসলামের খালাসের রায় নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে—তাঁদের নেতৃত্ব ও সদস্যরা ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে জড়িত নন—বলে যে দাবি করা হয়েছে, তার পক্ষে শক্ত ভিত্তি নেই।

আপিলের রায়ের অর্থ শুধু এটিই যে আজহারুল ইসলামের বিচার সঠিকভাবে হয়নি। কিন্তু এর মানে এই নয় যে জামায়াতে ইসলামী যুদ্ধাপরাধের দায় থেকে মুক্ত। জামায়াতের বর্তমান প্রচারণা শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা, যা ভ্রান্ত। এটি রাজনৈতিক কৌশল, যা আসলে ইতিহাস ও বস্তুনিষ্ঠ প্রমাণের বিরুদ্ধে।’

ফেসবুকে বার্গম্যান লিখেছেন, ‘আপিল বিভাগে (আজহারুলের মামলায়) ট্রাইব্যুনালের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করা বর্তমান নতুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউশন দলের ভূমিকা সমস্যাজনক। আইসিটির প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম আগে আজহারুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী (ডিফেন্স লইয়ার) হিসেবে ছিলেন। আপিলে তিনি নিজে ট্রাইব্যুনালের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব না করলেও তাঁর বর্তমান প্রসিকিউশন টিমের সদস্যরা ট্রাইব্যুনালের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এটা হতেই পারে যে আপিল বিভাগে যে-ই ট্রাইব্যুনালের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করুক না কেন, আদেশ একই হতো। তবু যা ঘটেছে, তাতে স্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত (conflict of interest) বিদ্যমান।’

বার্গম্যান আরও লিখেন, ‘অতীতে ট্রাইব্যুনালে যাঁরা দোষী সাব্যস্ত, তাঁদের খালাসের বিষয়ে তাজুল ইসলামের স্বার্থ থাকার বিষয়টি বোধগম্য। যাঁদের তিনি অতীতে সরাসরি আইনি সহায়তা দিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য। সেই প্রেক্ষাপটে, তাঁর টিমের সদস্যদের (যাঁদের মধ্যে অন্তত একজন আগে জামায়াত নেতাদের আইনজীবী দলের অংশ ছিলেন) এসব আপিলে ট্রাইব্যুনালের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য নিয়োগ দেওয়াটা সঠিক হতে পারে না।’

এ বিষয়ে করণীয় হিসেবে নিজের ভাষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত আন্তর্জাতিক অপরাধে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের পক্ষে তাজুল ইসলাম ও তাঁর প্রসিকিউশন দলের একাধিক সদস্য অতীতে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে কাজ করার কারণে যদি ওই সব মামলা ভবিষ্যতে আপিল বিভাগে ওঠে, তবে ট্রাইব্যুনালের পক্ষে সেসব আপিলে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য স্বাধীন ও বাইরের আইনজীবীদের নিয়োগ দেওয়াই অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য এবং যুক্তিসংগত হবে।’

Mont Saint-Michel : পাওয়া গেলো দান্তের নরক ‘Inferno’র ঠিকানা

মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকর্ম The Divine Comedy, এর প্রথম অংশ Inferno, যেখানে কবি দান্তে আলিগিয়েরি স্বয়ং নরকে অবতরণ করছেন তাঁর পথপ্রদর্শক ভার্জিলের সঙ্গে। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে এই নরকের স্তরভিত্তিক গঠন, সুদূর গহিন গহ্বরে লুকিয়ে থাকা শয়তানের আখড়া, এই সমস্ত কিছু কি কেবল কল্পনার ফল? নাকি এর পেছনে বাস্তব কোনো স্থাপত্য কিংবা ভৌগোলিক অনুপ্রেরণা কাজ করেছে? এই প্রশ্নকেই কেন্দ্রে রেখে Pierre Ionica রচনা করেছেন তাঁর গবেষণাধর্মী বই Dante’s Hell under Mont Saint Michel। সেখানে তিনি এক রহস্যময় ধারণার জন্ম দেন—দান্তের নরকের গঠন আসলে ফ্রান্সের একটি প্রকৃত স্থানের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যার নাম Mont Saint-Michel বাংলায় মঁ সাঁ মিশেল।

ফ্রান্সের উত্তর উপকূলে অবস্থিত Mont Saint-Michel একটি দ্বীপনগরী, যা জোয়ার-ভাটার উপর ভিত্তি করে কখনও দ্বীপ আবার কখনও স্থলভাগের অংশ হয়ে ওঠে। এক হাজার বছরেরও পুরনো এই স্থানটি মূলত একটি অ্যাবে (ধর্মীয় ঘর), যার ভেতরে স্তরভিত্তিক গঠন, সিঁড়ি, গোপন টানেল ও ভূগর্ভস্থ প্রকোষ্ঠ রয়েছে।

Pierre Ionica-এর মতে, Mont Saint-Michel-এ থাকা এই স্তরভিত্তিক স্থাপত্য ও অন্ধকার গহ্বর ডান্তের কল্পিত নরকের সঙ্গে আশ্চর্যরকম সাদৃশ্যপূর্ণ। বিশেষ করে তিনি যে অংশটিকে নরকের কেন্দ্র বা শয়তানের বাসস্থান হিসেবে চিত্রিত করেন, সেটির বিন্যাস অনেকটাই Mont Saint-Michel-এর কেন্দ্রস্থ গুহা ও চূড়ার গঠন অনুসরণ করে বলেই Ionica দাবি করেন।

দান্তে কি সত্যিই ভ্রমণ করেছিলেন মঁ সাঁ মিশেলে?

এই প্রশ্নটির উত্তর নিশ্চিতভাবে দেওয়া কঠিন। ইতিহাসের পাতা দান্তের জীবনের বহু দিকেই ধোঁয়াশা রেখে গেছে। তবে Pierre Ionica সম্ভাবনার ভিত্তিতে যুক্তি দেন, দান্তে ১৩০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে একটি দীর্ঘ ইউরোপীয় ভ্রমণে বের হন, সেই সময় ফ্রান্সের বিভিন্ন শহর ও ধর্মীয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেই সূত্রে Mont Saint-Michel-এ তাঁর যাওয়া অসম্ভব নয়।

Mont Saint-Michel তখন কেবল একটি ধর্মীয় স্থানই নয়, বরং স্বর্গ ও নরকের মাঝখানে অবস্থিত এক অন্য জগৎ ছিলো। এই ‘আন্তঃজাগতিকতা’ই হতে পারে ডান্তের নরকের জন্য এক আদর্শ অনুপ্রেরণা। Ionica-এর মতে দান্তে সেখানে যা দেখেছিলেন, তা কল্পনার রূপ নিয়ে পরিণত হয় Inferno-র একেকটি স্তরে।

Inferno-তে ডান্তে নরককে নয়টি স্তরে ভাগ করেন। প্রত্যেকটি স্তর একটি নির্দিষ্ট পাপের শাস্তির প্রতীক। এই স্তরগুলো ক্রমশ গভীরে নামতে থাকে, একেবারে কেন্দ্রে শয়তানের অবস্থান। Mont Saint-Michel-এর অ্যাবেতে প্রবেশ করলেও দেখা যায় একটির পর একটি ঘর ও সিঁড়ির মধ্য দিয়ে নিচে নামতে হয় গহিন অন্ধকারে, যা এক ধরণের পারলৌকিক অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যযুগীয় ইউরোপে স্থাপত্য কেবল বসবাসের কাঠামো ছিল না, বরং আত্মার পরিক্রমার প্রতীক ছিল। Mont Saint-Michel-এর এই স্থাপত্য হয়তো ডান্তের কাছে ঠিক তেমন এক মানসিক ও আধ্যাত্মিক ভূচিত্র তৈরি করেছিল যেখানে স্থাপত্যই হয়ে উঠেছিল নরকের মানচিত্র।

Pierre Ionica-এর বিশ্লেষণ কেবল স্থাপত্যগত সাদৃশ্য দিয়ে থেমে যায় না, বরং তিনি দাবি করেন, Inferno-তে যেসব ধ্বনির উল্লেখ আছে গুমগুম শব্দ, কান্না, বাতাসের ঝাপটা—তা Mont Saint-Michel-এর গুহা ও সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবাহিত হওয়া বাতাস ও প্রতিধ্বনির মতোই।

এমনকি তিনি স্থাপনার প্রতিটি স্তরের সঙ্গে Inferno-র স্তরগুলোর তুলনাও টানেন। যেমন ‘গ্লুটনির স্তর’ মানে অতিভোজনকারীদের শাস্তির স্তর, সেটিকে তিনি মিলান Mont Saint-Michel-এর এক সময়কার সংরক্ষিত মদের গুদামের সাথে। নিছক কল্পনা নয় বরং এটি মধ্যযুগীয় মানসিকতা ও ধর্মীয় আখ্যানের ভেতরে লুকিয়ে থাকা প্রতীকতত্ত্বের একটি গভীর অনুধাবন।

Pierre Ionica-এর বই Dante’s Hell under Mont Saint Michel আমাদের দাঁড় করায় একটি অদ্ভুত কিন্তু চমকপ্রদ ধারণার সামনে, দান্তের কালজয়ী Inferno হয়তো কোনো দূর জগতের কল্পনা নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট বাস্তব স্থানের ছায়া। Mont Saint-Michel শুধু একটি ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, বরং সম্ভবত এক পার্থিব নরক, যার স্তর, গহ্বর, গর্জন, আর রহস্যময় কাঠামো ডান্তের কল্পনায় জন্ম দিয়েছে একটি মহাকাব্যিক গহ্বরের।

রাশিয়ার বিমানঘাঁটিতে বড় ড্রোন হামলা চালালো ইউক্রেন

রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে চারটি সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে রাশিয়ার ৪০টির বেশি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা। ড্রোনগুলো ইউক্রেন থেকে ছোড়া হয়নি। বরং নিশানায় থাকা রুশ সেনাঘাঁটির আশপাশের এলাকা থেকে ছোড়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

কিয়েভের দাবি সত্য হয়ে থাকলে তিন বছর আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার ভেতরে এটাই ইউক্রেনের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ড্রোন হামলা। সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত শান্তি আলোচনার আগমুহূর্তে এ হামলাকে উসকানি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

রাশিয়া পাঁচটি অঞ্চলে হামলার কথা নিশ্চিত করেছে এবং এসবকে ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ হিসেবে অভিহিত করেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইভানোভো, রিয়াজান এবং আমুর অঞ্চলে হামলা প্রতিহত করা হয়েছে, যদিও মুরমানস্ক ও ইর্কুৎস্ক অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বিমান আগুনে পুড়ে গেছে বলে স্বীকার করেছে। কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানায় তারা।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর একটি ব্যাপক আকাশ হামলা চালায়। ৪৭২টি ড্রোন ও একাধিক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করে চালানো এই হামলাকে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ইতিহাসে রাশিয়ার অন্যতম বড় আক্রমণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইউক্রেন দাবি করেছে, তারা ৩৮৫টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে তারা।

এরই মধ্যে, একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১২ জন সেনা নিহত ও ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছে। 2022 সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সর্বাত্মক হামলা শুরু করে রাশিয়া। এ যুদ্ধের শুরুতে সামরিক শক্তিতে রাশিয়ার তুলনায় ইউক্রেন অনেক কম শক্তিশালী ছিল। তা সত্ত্বেও তারা দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং বড় আকারের একটি আক্রমণাত্মক ড্রোন বাহিনী গড়ে তুলেছে, যা রাশিয়ার সেনাবাহিনী ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর আঘাত হানছে।

রোববার সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের বেলায়া নামের যে বিমানঘাঁটিতে হামলা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, সেটি ইউক্রেন থেকে চার হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে অবস্থিত। ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করছে, এই হামলায় রাশিয়ার যে পরিমাণ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে তাতে ক্ষতি প্রায় ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার।

রাশিয়ার এতটা গভীরে ঢুকে বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করার সক্ষমতা ইউক্রেনের আক্রমণ কৌশলের উন্নয়ন এবং রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনের গোপন এজেন্টদের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ। ক্রেমলিনের সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলোরং সহায়তায় ইউক্রেনের অভিযানগুলোর পরিসর ও নির্ভুলতা ধীরে ধীরে বেড়েছে।

এ হামলার আগে রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক ও কুরস্ক অঞ্চলে দুটি সেতু ধসে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অনেকে। রুশ তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, বিস্ফোরণের কারণে সেতু দুটি ধসে পড়েছে।

রাশিয়ার জাতীয়তাবাদী সামাজিক-গণমাধ্যম নেটওয়ার্কগুলোতে এরই মধ্যে এই হামলার জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। অনেকে এই মুহূর্তটিকে ১৯৪১ সালে জাপানের পার্ল হারবারে আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের ওপর আক্রমণের সঙ্গে তুলনা করছেন।

বিবিসি বলেছে — ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল ইস্তাম্বুলে ক্রেমলিনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধবিরতির আলোচনা করার সময় এই হামলার মাধ্যমে ইউক্রেন মস্কো ও ট্রাম্প প্রশাসনকে একটি বার্তা দিয়েছে। সেটি হলো, ইউক্রেন এখনো লড়াইয়ের ময়দানে আছে।

আমদানি হ্রাস অর্থনৈতিক স্থবিরতার লক্ষণ

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে — বাংলাদেশ বর্তমানে ধীরে ধীরে এক ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়ছে। আমদানি কমে যাওয়া এই সংকটের বড় ইঙ্গিত।

গত তিন অর্থবছরে বাংলাদেশের বার্ষিক আমদানি প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার কমেছে। এতে দেশের অর্থনীতি আরও ৪০ বিলিয়ন ডলারের মতো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

আমদানির পরিমাণ ২০২২ সালে ছিল ৮২ বিলিয়ন ডলারের বেশি, ২০২৩ সালে কমে ৭১ বিলিয়নের নিচে এবং ২০২৪ সালে মাত্র ৬৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

দেশের আমদানি শুধু ভোগের জন্য নয়, বরং উৎপাদন ও রপ্তানির জন্য খুবই জরুরি। কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বিদেশ থেকে আসে। এই আমদানির ওপরই তৈরি পোশাক, ওষুধ, প্লাস্টিক, খাবার ইত্যাদি শিল্প নির্ভর করে। ফলে আমদানি কমলে উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান কমে যায়।

এবছর জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৩.৯৭ শতাংশে, যা কোভিডের পর সবচেয়ে কম। বিনিয়োগ নেই, ব্যবসার আত্মবিশ্বাস কম, ঋণপ্রবাহ স্থবির। এর ওপর রয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ফলে চাহিদা হ্রাস, সুদের হার বৃদ্ধি, গ্যাস সংকট ও এলসি খোলার জটিলতা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এসব কারণে তারা নতুন বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছেন।

এই সংকট মোকাবেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রাধান্য পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্য ও জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

‘ইভিল আই’ ও বাংলার ‘নজর লাগার’ অদৃশ্য সংস্কৃতি

বাংলা সংস্কৃতিতে ‘নজর লাগা’ একটি বহুল প্রচলিত কিন্তু রহস্যময় ধারণা। শিশুর কপালে কালো টিপ, চোখে নীল সুতো, অথবা প্রশংসার পর ‘থুতু’ ফেলার ভান—এইসব আচার যেন এক অদৃশ্য শক্তির প্রতিরোধক। বলা হয় কারও সৌন্দর্য, সাফল্য বা সুখ দেখে কেউ ঈর্ষান্বিত দৃষ্টিতে তাকালে তা দুর্ভাগ্য বা অসুস্থতা ডেকে আনতে পারে। একে শুধু কুসংস্কার বললে ভুল হবে। এর পেছনে রয়েছে হাজার বছরের আন্তঃসাংস্কৃতিক ইতিহাস, মনস্তত্ত্ব এবং এক ধরণের গভীর মানবিক শঙ্কা, যাকে বলা হয়—‘ইভিল আই’।

‘ইভিল আই’ বা “অশুভ দৃষ্টি”-এর ধারণা শুধু বাংলার নয়। এটি গ্রীক, রোমান, তুর্কি, মিশরীয়, পারস্য, ইসলামি, ইহুদি এবং হিন্দু সমাজে বিভিন্ন নামে প্রচলিত ছিল। প্রাচীন গ্রিসে একে বলা হতো baskanos, যার মূল মানে ঈর্ষাজনিত চোখের অভিশাপ। প্লিনি দ্য এল্ডার নামক রোমান ইতিহাসবিদ বিশ্বাস করতেন, কিছু মানুষের চোখে ছিল এমন শক্তি যা শিশুদের হত্যা করতে পারত, এমনকি ফলমূলও শুকিয়ে দিত।

তুর্কি সংস্কৃতিতে ‘নাজার বনচুক’ নামে একটি বিখ্যাত নীল রঙের চোখের আকৃতির তাবিজ দেখা যায়, যা আজও নানাভাবে ব্যবহৃত হয়। ইসলামি সমাজে আয়াতুল কুরসি, সূরা ফালাক, সূরা নাস ইত্যাদি নজর কাটানোর কোরআনিক পদ্ধতি হিসেবে গৃহীত। হিন্দু সমাজে ‘ড্রষ্টি দোষ’ নামেও এই ধারণা প্রচলিত।এইসব সংস্কৃতি একমত, চোখ কেবল দৃষ্টির অঙ্গ নয়, বরং মন, ইচ্ছা, ঈর্ষা ও শক্তির বাহক।

বাংলা সমাজে ‘নজর’ বিষয়টি খুব ঘরোয়া, অথচ গম্ভীর। শিশুর কপালে কালি দেওয়া হয়, “অসুন্দর” দেখালে শয়তানের চোখ পড়বে না ভেবে! বাচ্চা বেশি হাসলে বা সুন্দর দেখালে বলা হয়, “চোখ লেগে যাবে”। মা-বোনেরা মুখে থুতু ফেলার ভান করেন, কারও প্রশংসার পর বলেন—“যেন চোখে না লাগে”। গ্রামীণ বাংলায়, কারও হঠাৎ জ্বর হলে, গরু দুধ কম দিলে, এমনকি গাছের ফল না ধরলেও ধরা হয়—“নজর লেগেছে”। এই লোকবিশ্বাসে নজর হচ্ছে এক ধরণের মনোশক্তি, যা চোখের মাধ্যমে আঘাত করে। এটি দৃশ্য নয়, দৃষ্টির প্রক্ষেপিত আকাঙ্ক্ষা।

বাংলার নানা অঞ্চলে নজর কাটাতে প্রচলিত রয়েছে কিছু আচার ও তন্ত্র:

লাল মরিচ পোড়ানো: শিশুর নজর কাটাতে শুকনো মরিচ আগুনে পোড়ানো হয়। বিশ্বাস করা হয়, গন্ধে নজরের আগুন নিভে যায়।
সরিষা ও লবণ দিয়ে ঘুরানো: কারও চারপাশে এগুলো তিনবার ঘুরিয়ে আগুনে ফেলা হয়।
কলা পাতায় চোখ আঁকা: বিশেষ দিনে ঘরের দরজায় ঝুলিয়ে রাখা হয়।
নীল রঙের সুতো বা পাথর: চোখের রঙ নীল হলে তা ‘নজর’ প্রতীকী হয়—এই বিশ্বাস থেকেই নীল বস্তুর মাধ্যমে নজর প্রতিরোধ করা হয়। এইসব চর্চা শুধু লোকজ নয়, বরং তন্ত্রবিদ্যায়ও চোখকে ‘অগ্নি কেন্দ্র’ হিসেবে ধরা হয়, যেখানে দৃষ্টি হচ্ছে ‘তেজস’ শক্তির বাহক।

চোখ ও মন: বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নজর
মনোবিজ্ঞানে একটি ধারণা রয়েছে, Self-fulfilling prophecy—যা আমরা বিশ্বাস করি, তা নিজের অজান্তেই বাস্তব হয়ে ওঠে। নজরের ভয় যদি কারও মধ্যে গেঁথে যায়, তাহলে তার শরীর বা মন এমন প্রতিক্রিয়া দিতে পারে যা বাস্তব রোগের মতো প্রকাশ পায়। ফলে ‘নজর লাগা’ কেবল বাহ্যিক নয়, মানসিক প্রতিক্রিয়ারও বহিঃপ্রকাশ।

আধুনিক নিউরোসায়েন্স বলে চোখের দৃষ্টি যখন কারও দিকে গভীরভাবে নিবদ্ধ হয়, তখন মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা এবং mirror neurons সক্রিয় হয়।কেউ যদি ঈর্ষান্বিত, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বা ভয়ানক দৃষ্টিতে তাকায়, তা আপনি ‘শরীর দিয়ে’ অনুভব করতে পারেন। এই বিজ্ঞান চোখ দিয়ে অভিশাপ ছোঁড়ার কথা প্রমাণ করে না, কিন্তু মানুষের দৃষ্টিশক্তির মানসিক ও আবেগীয় শক্তির গুরুত্বকে অস্বীকারও করে না।

আধুনিক যুগে নজরের ধারণা আরও সূক্ষ্ম হয়ে উঠেছে। ইনস্টাগ্রামে সন্তান বা সাফল্যের ছবি পোস্ট করার পর মানুষ (ইভিল আই ইমোজি) ব্যবহার করে। কেউ কেউ প্রোফাইলে “No Evil Eye” লিখে রাখে। এ যেন এক আধুনিক তাবিজ, ডিজিটাল ঝাড়ফুঁক। এমনকি কিছু মানুষ অজানা অস্থিরতায় ভোগে যখন তারা প্রচারের পর হঠাৎ দুর্ভাগ্য দেখে। এ যেন পুরনো বিশ্বাসের নতুন অবয়ব—“চোখ লেগে গেছে”।

নজরের ধারণা অনেকসময় নারী-শরীর ও মাতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। নারী যখন সন্তান জন্ম দেয়, তার চারপাশে বেড়ে যায় নজরের ভয়। আবার নারী যখন সৌন্দর্যের প্রতীক হয়, তাকেই ঘিরে ‘চোখের অভিশাপ’ ডেকে আনা হয়। এক অর্থে নজর ধারণা নারীত্বকে simultaneously শক্তি ও দুর্বলতার উৎসে পরিণত করে। এই দ্বান্দ্বিকতা সমাজে নারী-পুরুষ ভেদে নজরের ব্যাখ্যা কে আরও গভীর করে তোলে।

দৈনন্দিন স্বাস্থ্যচর্চায় ক্যাস্টর অয়েল

ক্যাস্টর অয়েল ক্যাস্টর বীজ থেকে নিষ্কাশিত একটি ঘন ও হালকা হলুদ রঙের উদ্ভিজ্জ তেল। এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রথাগত চিকিৎসা ও ত্বক পরিচর্যায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই তেলে থাকা “রিসিনোলেইক অ্যাসিড” নামক একটি বিশেষ ফ্যাটি অ্যাসিড এর জন্য এটি অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং ময়েশ্চারাইজিং গুণে সমৃদ্ধ। যদিও এটি খাওয়ার জন্য উপযুক্ত নয় এবং বেশি খেলে বীররসাত্মক (laxative) প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, তবে সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ক্যাস্টর অয়েল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা —

অস্থি ও মাংসপেশির ব্যথায়

এই তেলের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য একে অস্থিসন্ধি ব্যথা, বাত রোগ বা পেশির ব্যথা উপশমে কার্যকর করে তোলে। গরম সেঁক বা মালিশের মাধ্যমে ত্বকে প্রয়োগ করলে এটি গভীরে প্রবেশ করে ফোলা ও জড়তা হ্রাস করে।

ত্বক ময়েশ্চারাইজ করে ও ক্ষত সারায়

ক্যাস্টর অয়েল শক্তিশালী হিউমেকট্যান্ট হিসেবে কাজ করে। এটি বাতাসের আর্দ্রতা টেনে নিয়ে ত্বকে ধরে রাখে এবং শুষ্কতা, একজিমা বা সূর্যদগ্ধ ত্বক প্রশমিত করতে সাহায্য করে। সেইসাথে এর জীবাণুনাশক গুণ ক্ষতস্থানে সংক্রমণের সম্ভাবনা কমায়।

চুলের বৃদ্ধিতে
ত্বকে মালিশ করলে এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে চুলের গোড়া পুষ্টি পায়। এছাড়া এতে থাকা অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান খুশকি ও স্ক্যাল্প ইনফেকশন প্রতিরোধে সাহায্য করে। ফলে চুল ঘন ও মজবুত হয়।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
পেটের উপর গরম ক্যাস্টর অয়েল প্যাক ব্যবহার করলে এটি লসিকা (lymphatic) প্রবাহ বৃদ্ধি করে। সুস্থ লসিকা সিস্টেম শরীর থেকে টক্সিন বের করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

ব্রণ প্রতিরোধ ও ত্বক পরিষ্কারে কার্যকর

ক্যাস্টর অয়েলের জীবাণুনাশক ও প্রদাহনাশক গুণ একে ব্রণরোধে সহায়ক করে। এটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে জীবাণু ধ্বংস করে ও ফোলাভাব কমায়।

পায়ের গোড়ালি ও খসখসে ত্বক
ক্যাস্টর অয়েল খসখসে ও ফাটা ত্বকে দারুণ কার্যকর। এটি ত্বককে নরম করে, ক্যালাস দূর করে এবং নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকের রুক্ষতা দূর হয়।ক্যাস্টর বীজ কাঁচা অবস্থায় বিষাক্ত এবং অতিরিক্ত ব্যবহারে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই ব্যবহারপূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।ক্যাস্টর অয়েল শুধু একটি তেল নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক উপশমকারী যা শরীর, ত্বক ও চুলের সার্বিক পরিচর্যায় যুগ যুগ ধরে মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে রয়েছে। সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে এটি আপনার দৈনন্দিন স্বাস্থ্যচর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

কোরবানির বাজারে সংকট, মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে

ঈদুল আজহা আসন্ন দেশের বিভিন্ন হাটে গরু বিক্রির প্রস্তুতি থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় বেচাবিক্রি জমে উঠেনি। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রংপুর ও কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গরুর বাজারে ক্রেতার সংকট দেখা দিয়েছে। গরুর দাম বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এবার কোরবানি ঈদে গরু কেনা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের তিনটি বিভাগে—রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা মোট ৭০ শতাংশ পশুর চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। তবে বাজারে পশুর বিক্রি কম হওয়ায় খামারিরা লোকসান নিয়ে উদ্বিগ্ন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ৯ শতাংশের ওপরে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতি গরিব মানুষের সংখ্যা বাড়বে এবং দারিদ্র্যের হার ২২ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাবে। অর্থনীতিবিদরা মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি এবং কর্মসংস্থানের সংকটকে মানুষের আয় কম হওয়ার মূল কারণ হিসেবে দেখছেন।

ময়মনসিংহের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদ উদ্দিন বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখে এবার কোরবানি করা সম্ভব হচ্ছে না।” রংপুরের বেসরকারি চাকরিজীবী নজরুল ইসলাম জানান, “বাজেট কম হওয়ায় এবার গরু ভাগে কোরবানি করাও কঠিন।”

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান আশা প্রকাশ করেছেন, ঈদের আগে বাজার সহনশীল হবে। তিনি বলেন, “পশুর চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য রয়েছে এবং কোনো নেতিবাচক সমস্যা হবে না।” তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, এবার কোনো বিদেশি গরু বর্ডার দিয়ে আসবে না।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান মনে করেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এবারের কোরবানির পশুর চাহিদা কম থাকবে।তিনি বলেন, “অনেকে গরু ভাগে বা ছাগল দিয়ে কোরবানি করবেন, কারণ মানুষের আর্থিক ক্ষমতা কমে গেছে।”

বাজারে গরুর দাম বাড়লেও ক্রেতার সংকট এবং মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এবারের কোরবানি ঈদে পশুর বেচাবিক্রি ধীরগতিতে রয়েছে।রাজনৈতিক অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেকেই কোরবানি থেকে বিরত থাকছেন। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আশা প্রকাশ করেছে, ঈদের আগে বাজার পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হবে। মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প খুঁজে বের করাই এবারের কোরবানির অন্যতম চ্যালেঞ্জ।