Home Blog Page 83

জানুয়ারি-মে পুলিশের গ্রেপ্তার সংখ্যা বেড়েছে

0

পুলিশের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দৈনিক সমকাল জানিয়েছে, এ বছরের শুরু থেকে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। পুলিশ সদরদপ্তরের হিসাবে, স্বাভাবিক সময়ে দেশে দৈনিক গড় গ্রেপ্তার এক হাজারের কাছাকাছি। মাসে ৩০ হাজারের মতো। সারা দেশে পুলিশের থানা রয়েছে ৬৩৯টি।

পুলিশ সদরদপ্তরের প্রতিদিনের গ্রেপ্তার-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে প্রতিদিনের গড় গ্রেপ্তার ছিল ৯৭৪ জন। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসের দৈনিক গড় গ্রেপ্তার ১ হাজার ৪২৪ জন। প্রথম ৫ মাসের তুলনায় পরের ৫ মাসে গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

এই প্রতিবেদনে সাধারণ মামলা এবং জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মামলার আসামিদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। এখানে সার্বিক গ্রেপ্তারের হিসাব স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে কত মানুষ জামিন পেয়েছে– একক কোনো সূত্র থেকে সে তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে কারাগার-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রতিদিন কারাগারে নতুন করে ঢোকা বন্দি এবং জামিনে মুক্ত হওয়া ব্যক্তির সংখ্যা সাধারণত কাছাকাছি থাকে। সারাদেশের ৬৯ কারাগারে বর্তমানে বন্দি আছে ৭৩ হাজার ৬ জন।

পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অপারেশন) শাহজাদা মো. আসাদুজ্জামান সমকালকে বলেন, পুলিশ এখন পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই অভিযান ও গ্রেপ্তারে গতি এসেছে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর তাদের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কোথায় কী ধরনের ‘অ্যাক্টিভিটির’ সঙ্গে যুক্ত, তার ওপর বাড়তি নজর থাকছে। ঝটিকা মিছিল বের করার পর তারা ফেসবুকে পোস্ট করে। এর সূত্র ধরে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক সমকালকে বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে যারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধে যুক্ত, তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফেরাতে গ্রেপ্তারের সংখ্যা বড় বিষয় নয়। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিশৃঙ্খলা তৈরিসহ বিভিন্ন অপরাধে যারা যুক্ত, তারা ধরা পড়ছে কিনা সেটি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও দেখছি, মব সৃষ্টি করে কারও কারও কাছ থেকে বৈধতা পাওয়া যাচ্ছে। যদি অভিযান বা গ্রেপ্তার শুধু রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে হয়, তাহলে সামগ্রিকভাবে তা পরিস্থিতি উন্নতিতে কোনো কাজে আসে না।’

দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জলজ উদ্ভিদ

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সবচেয়ে বিপন্ন এলাকাগুলোর একটি। বিশেষ করে নদী ও জলাশয়ের লবণাক্ততা বৃদ্ধি একটি ভয়ংকর পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই লবণাক্ততা শুধু কৃষিকাজ কিংবা সুপেয় পানির উৎস নয়, সরাসরি প্রভাব ফেলছে জলজ উদ্ভিদের ওপরেও। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে জলজ উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় গঠন এবং কার্যক্ষমতা ব্যাহত হচ্ছে, এটি দীর্ঘমেয়াদে পুরো ইকোসিস্টেমকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলাগুলো—যেমন সাতক্ষীরা, খুলনা ও বরগুনা—প্রতিনিয়ত বেড়িবাঁধ ভাঙন, ঝড়জলোচ্ছ্বাস এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে অতিরিক্ত লবণাক্ত জলের সংস্পর্শে পড়ছে। হিমালয় থেকে আগত মিঠা পানির প্রবাহও নানা বাঁধ ও খরা-পরিস্থিতির কারণে কমে গেছে। এর ফলে নদীগুলোর প্রাকৃতিক লবণ-মিঠা পানির ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। সেইসঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বাষ্পীভবনের হারও বেড়ে গেছে, যা নদীজলের ঘনত্ব বাড়িয়ে লবণাক্ততা আরও তীব্রতর করছে।

জলজ উদ্ভিদ (Aquatic Plants) একেকটি জীববৈচিত্র্যের ভিত্তিভূমি হিসেবে কাজ করে। এরা শুধু পানির তলদেশে বা তীরে জন্মায় না, বরং মৎস্যসম্পদ, জলজ প্রাণী এবং মাটির গুণমান রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে।

এই ক্ষয়িষ্ণু প্রক্রিয়া শুধু উদ্ভিদেই সীমাবদ্ধ থাকে না। উদ্ভিদহীন পলি জমা জলাধার মৎস্য চাষের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। প্রাকৃতিক ফিল্টারের মতো কাজ করা জলজ উদ্ভিদ বিলুপ্ত হলে পানি দূষণ দ্রুত বাড়ে। এর ফলে হ্রাস পায় পানির মান, সৃষ্টি হয় স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং জলজ প্রাণীর মৃত্যুহার বাড়ে। এছাড়াও কৃষিকাজের উপযোগিতা কমে গেলে অভ্যন্তরীণ জলজ সম্পদভিত্তিক জীবনধারা হুমকির মুখে পড়ে।

গবেষণাগারে উদ্ভাবিত লবণ সহনশীল জলজ উদ্ভিদ প্রজাতি উপকূলীয় এলাকায় রোপণ করা যেতে পারে।অভ্যন্তরীণ নদীগুলোর মিঠা পানির প্রবাহ বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় সীমান্তজল চুক্তি কার্যকর করতে হবে। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পানি বিশুদ্ধকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা উচিত, যাতে উদ্ভিদ ও মাছ উভয়ের জীবন টিকে থাকে। জলজ উদ্ভিদ রক্ষার গুরুত্ব বিষয়ে স্থানীয় কৃষক ও জেলেদের মধ্যে প্রশিক্ষণ ও কার্যকরী তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া আবশ্যক।

জলবায়ু পরিবর্তন জনিত লবণাক্ততা একটি নিঃশব্দ ধ্বংসের মতো। এটি আমাদের একান্ত প্রাকৃতিক বন্ধন—জল, মাটি ও উদ্ভিদের মধ্যকার সাম্যকে ভেঙে দিচ্ছে। জলজ উদ্ভিদের বিলুপ্তি যেন একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পূর্বাভাস হয়ে উঠছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য এখনই নীতিগত, গবেষণামূলক এবং জনগণভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন, না হলে ভবিষ্যতের উপকূল হবে এক লবণাক্ত নীরবতার প্রতীক।

ঝুঁকিতে আড়াই লাখ রোহিঙ্গা শিশুর শিক্ষা : ইউনিসেফ

0

দিন দিন বাড়তে থাকা তহবিল সংকটের কারণে প্রায় দুই লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুর শিক্ষা এখন হুমকির মুখে। এ বিষয়ে সতর্ক করে শনিবার (৩১ মে) ইউনিসেফ জানিয়েছে, অবিলম্বে টেকসই অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছাড়া শরণার্থীদের সব ধরনের সহায়তার সুযোগ ঝুঁকিতে পড়ছে, যার মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই শরণার্থী শিবিরে শিশুদের জন্য জরুরি মৌলিক শিক্ষার সুযোগ হারানোর মতো বিষয়ও রয়েছে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “যে শিশুদের কথা আমরা বলছি, তারা বিশ্বের সবচেয়ে অসহায় শিশুদের অন্যতম। জরুরি তহবিল ছাড়া শিক্ষা কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকতে পারে এবং তাতে রোহিঙ্গা শিশুদের পুরো প্রজন্ম পেছনে পড়ে থাকার ঝুঁকিতে পড়ছে।” ইউনিসেফ জানিয়েছে — তহবিল সংকটের কারণে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করা স্থানীয় কমিউনিটির ১১৭৯ জন স্বেচ্ছাসেবক শিক্ষকদের পারিশ্রমিক জুনের পর স্থগিত করতে হচ্ছে।

পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে খুদে শিক্ষার্থীদের (কিন্ডারগার্টেন থেকে গ্রেড ২) আর ইংরেজি, বিজ্ঞান বা সামাজিক শিক্ষা শেখানো হবে না। শুধু মৌলিক বিষয়গুলো- সাক্ষরতা (রোহিঙ্গা), বার্মিজ, গণিত, জীবন দক্ষতা ও সামাজিক-মানসিক শিক্ষার ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন কোনো পাঠ্যপুস্তক বা শিক্ষক নির্দেশিকা কেনা হবে না। শিশুদের বিগত বছরগুলোর বইপত্র সংগ্রহ করে ব্যবহার করতে বলা হবে, তাতে বইগুলোর অবস্থা যা-ই হোক না কেন।

বছর শেষের মূল্যায়ন এবং প্লেসমেন্ট টেস্ট (কোন শিশু কোন শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য তা বের করার পরীক্ষা) বাতিল করা হয়েছে। সংস্থাটি জানায় — সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিগুলোকে সচল রাখার জন্য ইউনিসেফ তার নিজের কর্মী আগে কমিয়েছে। এটা এ দেশে কর্মী হ্রাসের বড় ঘটনাগুলোর একটি এবং এটা বিশ্বব্যাপী ঘটছে। ইউনিসেফ অগ্রাধিকার দিয়েছে শিক্ষা কেন্দ্রগুলো খোলা রাখার ওপর। সেজন্য লোকবল কমিয়ে একটি ছোট দল রেখেছে এগুলো পরিচালনার লক্ষ্যে।

নারীবাদ ও ফ্যান্টাসির আঙ্গিকে ‘A Magical Girl Retires’

কোরিয়ান সাহিত্য সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ব সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আধুনিক নারীর জীবন ও চ্যালেঞ্জগুলোকে সাহিত্যে অনবদ্য ভঙ্গিতে তুলে ধরতে কোরিয়ান লেখকেরা যে দক্ষতা দেখিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এর মধ্যে ফ্যান্টাসি এবং নারীবাদী বাস্তবতার সূক্ষ্ম সংমিশ্রণ ঘটানো পার্ক সেওল-ইওনের লেখা “A Magical Girl Retires” একটি দৃষ্টান্তমূলক কাহিনি।

“A Magical Girl Retires” মূলত একজন প্রাক্তন ম্যাজিকাল গার্লের জীবনের গল্প। আমাদের পরিচিত ম্যাজিকাল গার্ল ধারণাটি সাধারণত কমিক্স বা এনিমে ধারার একধরনের চরিত্র, যারা অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা নিয়ে পৃথিবী রক্ষা করে থাকে। কিন্তু পার্ক সেওল-ইওন এখানে সেই ট্র্যাডিশনাল ট্রপটিকে ভেঙে দিয়ে একটি পরিণত, বাস্তবসম্মত নারীর জীবনের গল্প বলেন, যিনি ম্যাজিকাল গার্ল হিসেবে তার কাজ থেকে অবসর নিচ্ছেন।

এখানে ম্যাজিকাল গার্ল চরিত্রটি শুধু একধরনের ফ্যান্টাসি চরিত্র নয়, বরং নারীর জীবনের বিভিন্ন স্তরের প্রতীক। তার ম্যাজিকাল ক্ষমতাগুলো কল্পনাপ্রসূত হলেও তার জীবনযাত্রার চাপ, স্বপ্নহীনতা, সামাজিক প্রত্যাশা এবং অবসরের মানসিকতায় পাঠকরা এক গভীর বাস্তবতা খুঁজে পাবেন।

পার্ক সেওল-ইওনের উপন্যাসে সবচেয়ে জোরালো দিক হলো নারীর পরিচয় ও সমাজের প্রত্যাশার সঙ্গে তার সংগ্রাম। ম্যাজিকাল গার্ল হিসেবে তার দায়িত্ব ছিল অতিপ্রাকৃত শক্তি ব্যবহার করে অন্যদের রক্ষা করা, কিন্তু তার ব্যক্তিগত জীবনে সে একইভাবে স্বাধীন নয়।

নারী হিসেবে তাকে ঘিরে সমাজের নানা স্তরের প্রত্যাশা কাজ করে—যেমন পারিবারিক দায়িত্ব পালন, ক্যারিয়ার, সম্পর্ক ইত্যাদি। উপন্যাসটি এই প্রত্যাশাগুলোর মাঝে একজন নারীর চাপ, মানসিক ক্লান্তি এবং অবসরের প্রয়োজনীয়তা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলে। এটি অনেক পাঠকের জন্য পরিচিত অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে, যারা ব্যক্তিগত ও সামাজিক চাপের মাঝখানে নিজেকে হারিয়ে ফেলার ভয় পায়।

“A Magical Girl Retires” উপন্যাসের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ফ্যান্টাসি ও বাস্তবতার সুক্ষ্ম সমন্বয়। পার্ক সেওল-ইওন ম্যাজিকাল গার্লের অতিপ্রাকৃত ক্ষমতাকে রূপক হিসাবে ব্যবহার করেছেন, যা নারীর জীবনের নানা চ্যালেঞ্জকে প্রতিনিধিত্ব করে।

যেমন ম্যাজিকাল গার্লের শক্তি হয়তো তাকে কিছু বিশেষ দায়িত্ব পালনে সক্ষম করে, কিন্তু তার ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যা, অসন্তোষ এবং ক্লান্তি থেকে সে মুক্ত নয়। এটি একটি রূপক যেখানে ম্যাজিকাল গার্লের ‘অবরুদ্ধ শক্তি’ বাস্তব জীবনের চাপ এবং প্রত্যাশার সঙ্গে টক্কর দেয়। এই সমন্বয় পাঠকের সামনে তুলে ধরে কিভাবে একটি প্রথাগত ফ্যান্টাসি ট্রপ থেকে সামাজিক ও ব্যক্তিগত বাস্তবতার গল্প গড়ে তোলা যায়।

এই উপন্যাসটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে যখন আমরা আজকের আধুনিক নারীর জীবনের জটিলতাগুলো দেখি। কর্মক্ষেত্র, পারিবারিক দায়িত্ব, মানসিক চাপ এবং নিজস্ব পরিচয়ের সন্ধান—এসবেই আটকা পড়ে থাকে অনেক নারী। ম্যাজিকাল গার্ল অবসরের গল্পটি এমন এক নারীর অন্তর্দৃষ্টি, যে নিজের জীবনের নান্দনিকতা ও ক্লান্তি দুটোই গ্রহণ করতে শিখেছে। উপন্যাসটি নারী স্বাধীনতার নানা স্তরকে স্পর্শ করে, বিশেষ করে একধরনের সামাজিক প্যাটার্ন ও পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গে নারীর বিরোধের কথা উঠে আসে।

পার্ক সেওল-ইওনের ভাষা সরল, তবে প্রাঞ্জল এবং গভীর অর্থবোধক। তিনি ফ্যান্টাসি জনরার পরিচিত উপাদানগুলোকে এমনভাবে সাজিয়েছেন, যা কেবল বিনোদন নয়, বরং চিন্তার খোরাকও দেয়। উপন্যাসটি কোরিয়ান সাহিত্যে একটি নতুন প্রবণতার অংশ, যেখানে ফ্যান্টাসি ব্যবহার করে নারী মুক্তি, পরিচয় ও ক্লান্তির বাস্তবতাকে তুলে ধরা হয়।অনেক সমালোচক এটিকে নারীবাদী ফ্যান্টাসির একটি ভালো উদাহরণ বলে মনে করেন, যেখানে নারীর গল্পগুলো কেবল হাসি-ঠাট্টা কিংবা রূপকথার দিকেই সীমাবদ্ধ থাকে না।

আধুনিক সমাজে নারীর ভূমিকা ও মানসিক অবস্থার নানা স্তর নিয়ে পার্ক সেওল-ইওনের এই রচনাটি পাঠকদের সামনে এক নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করে। এটি নারী ও ফ্যান্টাসি সাহিত্যের মিলনস্থল হিসেবে কোরিয়ান সাহিত্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

প্রজেক্ট এসথার- লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন দমন

যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী প্রভাবশালী গবেষণাপ্রতিষ্ঠান (থিঙ্কট্যাংক) হেরিটেজ ফাউন্ডেশন গত বছর ফিলিস্তিন সংহতি আন্দোলন ভন্ডুল করে দেওয়ার একটি নীতিপত্র প্রকাশ করেছিল। এটির নাম দেওয়া হয়েছিল প্রজেক্ট এসথার বা এসথার প্রকল্প। তখন সেটি তেমন একটা নজর কাড়েনি।

কিন্তু নীতিপত্রটি প্রকাশিত হওয়ার আট মাস পর বর্তমানে এটি নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও অধিকারকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নীতিপত্রে প্রস্তাবিত নীলনকশা অনুসরণ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এসথার প্রকল্পের রচয়িতারা তাঁদের প্রতিবেদনটিকে ইহুদিবিদ্বেষ প্রতিরোধে একটি সুপারিশমালা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তবে সমালোচকেরা বলছেন—এই নথির চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের সমালোচক সংগঠনগুলোকে হামাসের সহযোগী তকমা দিয়ে মানুষকে তাদের বিরুদ্ধে বিষিয়ে তোলা।

গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসথার প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। প্রজেক্ট এসথারের রচয়িতাদের দাবি, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কাজ করা সব সংগঠনই হামাস-সমর্থক নেটওয়ার্ক বা এইচএসএনের সদস্য।এসথারের রচয়িতাদের ভাষায়, কথিত নেটওয়ার্কটি এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত, যারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হামাসের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সাধনে কাজ করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং আমেরিকান নাগরিক ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর।

সোজা ভাষায় এই নথিতে দাবি করা হয়েছে, ‘ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন’ মূলত একটি ‘সন্ত্রাসবাদে সহায়তাকারী নেটওয়ার্ক’ হিসেবে কাজ করছে। এই উদ্যোগের দাবি, শিক্ষা ও নাগরিক অধিকারভিত্তিক সংস্থা আমেরিকান মুসলিমস ফর প্যালেস্টাইনকে (এএমপি) কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে হামাস-সমর্থক নেটওয়ার্ক। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ইহুদি সংগঠন জুইশ ভয়েস ফর পিসকেও (জেভিপি) হামাস সমর্থক নেটওয়ার্কের অংশ বলে উল্লেখ করেছে হেরিটেজ ফাউন্ডেশন।

প্রজেক্ট এসথারের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন, এমন ফিলিস্তিনপন্থী ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ না দেওয়া; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ইহুদিবিরোধী’ কনটেন্ট (আধেয়) ঠেকানো এবং ফিলিস্তিনপন্থীদের ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের’ প্রমাণ রাষ্ট্রের নির্বাহী শাখার কাছে উপস্থাপন করা। এছাড়া ফিলিস্তিনি অধিকারের পক্ষে আয়োজিত যেকোনো বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে এই নীতিপত্রে। নথিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমাদের আইনি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে’; অর্থাৎ প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে মামলার কৌশল ব্যবহার করতে হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কলেজে বিক্ষোভ দমন প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রজেক্ট এসথারের লক্ষ্যগুলোর মিল আছে বলে মনে করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ইসরায়েলের সমালোচক বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল করছে মার্কিন প্রশাসন। এটি যেন প্রজেক্ট এসথারের একটি প্রস্তাবেরই প্রতিধ্বনি—যেখানে বলা হয়েছে, ‘যেসব শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে।’

এ ছাড়া প্রজেক্ট এসথার বিশেষভাবে নিশানা করেছে ‘মধ্যপ্রাচ্য/ উত্তর আফ্রিকা কিংবা ইসলামিক স্টাডিজ’-এর মতো বিভাগগুলোকে। হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের দাবি, এসব বিভাগে এমন শিক্ষক আছেন, যাঁরা ‘ইসরায়েলবিরোধী’। ট্রাম্প প্রশাসন অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের বিভাগগুলো পুনর্গঠনের জন্য চাপ দিচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য-সংক্রান্ত বিভাগগুলো, যেগুলোকে ফিলিস্তিনের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

প্রজেক্ট এসথার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিশানা করার কারণ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন ক্রমাগত কমছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫৩ শতাংশ উত্তরদাতা ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন এবং ৫০ বছরের নিচের ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এই হার ৭১ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক ফেস্টিভাল গুলোতে সিনেমার নতুন প্রবণতা ও প্রভাব

গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভালগুলো হয়ে উঠেছে নতুন মঞ্চ, যেখানে সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, বরং বৈশ্বিক জিজ্ঞাসার অনন্য প্ল্যাটফর্ম। ২০২৫ সাল এই ধারা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। ব্যক্তিগত স্মৃতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু দুর্যোগ ও ইতিহাসের বিকৃতি এই চারটি বিষয় যেন আধুনিক ফেস্টিভাল-সিনেমার চারটি স্তম্ভ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগে ফেস্টিভালে যেসব সিনেমা জনপ্রিয় ছিল, সেগুলো ছিল অনেকটাই ধীরগতির, ক্লাসিক আর্ট হাউজ স্টাইলের। এখনকার দর্শক আর এই ধীর ছন্দে নেই, তারা চায় এক ধাক্কায় ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া অভিজ্ঞতা। দর্শক এখন সিনেমার কাছে চায় সত্য, সাহস ও সত্তার প্রশ্ন। শুধু গল্প নয়, গল্প বলার ভাষার মধ্যেও তারা খোঁজে একধরনের নৈতিকতা ও দার্শনিক গভীরতা।

এই পরিবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে তরুণ প্রজন্ম, যারা ক্রমশ রাজনৈতিক, পরিবেশগত ও প্রযুক্তিনির্ভর সংকটে জর্জরিত বিশ্বে বড় হচ্ছে। তারা সিনেমায় চায় প্রতিধ্বনি, প্রতিকার ও প্রতিশোধ।

২০২৫ সালের উল্লেখযোগ্য এওয়ার্ড জয়ী চলচ্চিত্র –
১. “Ashes of Babel” (Lena Tsuki) — Palme d’Or, Cannes 2025 এক কুর্দি কিশোরীর ‘ভাষাহীন আত্মপরিচয়’-এর গল্প। নির্মাতা লেনা সুকির এ চলচ্চিত্রে কোনো সংলাপ নেই, অথচ প্রতিটি দৃশ্য যেন একেকটি ধ্বংসপ্রাপ্ত মিথ। এই ছবিটি ফেস্টিভাল ট্রেন্ডের নতুন সংজ্ঞা।

২. “The Cloud Eater” (Kwame Diallo) — Golden Bear, Berlinale 2025 আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে পানির অভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রাম ও এক কিশোরীর দৃষ্টিতে পরিবেশ রাজনীতি। লোকগাথা ও নব্য-ফিউচারিস্ট চিত্রভাষা এই ছবির অন্যতম উদাহরণ।

৩. “Humanoid, Version 0” (Ava Dyer) — Best Screenplay, Venice 2025 একটি AI কবিতা লেখার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। দর্শক জানে না এটি প্রোগ্রাম নাকি আত্মা। Blade Runner-এর এক নতুন যুগের আত্মপ্রকাশ বলা যায়।

৪. “Children of Dust” (Shahidul Karim) — Best Debut Film, Busan 2025 বাংলাদেশি নির্মাতা শহীদুল করিম উপকূল-ধ্বংসোন্মুখ শিশুর চোখে ভবিষ্যতের প্রলেপ একে দিয়েছেন। লোককাহিনির ছায়া ও দূর ভবিষ্যতের রূপকে এই ছবিকে এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক পরিচিতি।

৫. “Echoes in the Algorithm” (Nina Kertesz) — Jury Prize, Locarno একজন মধ্যবয়সী নারীর স্মৃতির ডেটা ‘বিক্রি’ হয়ে যাওয়ার পর সে নিজের অস্তিত্ব হারাতে থাকে। প্রযুক্তি, স্মৃতি ও ভোগবাদের নিঃশব্দ প্রতিবাদ এই ছবিতে।

৬. “The River That Weeps” (Takashi Morimoto) জাপানি পরিচালক তাকাশি নির্মাণ করেছেন নিষিদ্ধ প্রেম ও আত্মঘাতী নদীর মিথ নিয়ে এক করুণ কবিতা। সমকামিতা, স্মৃতি ও পৌরাণিকতা মিলে সিনেমাটি তীব্র রাজনৈতিক হয়ে উঠেছে।

নতুন সিনেমাগুলোর মধ্যে তিনটি মৌলিক বিষয় খুবই লক্ষণীয়,মানবিক অস্তিত্বের সংকটে AI যখন মানবিক অনুভূতির দাবি তোলে, তখন প্রশ্ন ওঠে আমরা মানুষ বলতে কী বুঝি? স্মৃতি ও ইতিহাসের দ্বন্দ্ব, কে ইতিহাস রচনা করে? কীভাবে ব্যক্তিগত স্মৃতি রাষ্ট্রীয় ন্যারেটিভের বিপরীতে দাঁড়ায়?ভবিষ্যতের ভীতি, জলবায়ু ধ্বংস, গণনজরদারি, ও স্মৃতির বিনিময় এইসব উপাদান চলচ্চিত্রকে ভবিষ্যতের এক গভীর ছায়ায় রূপান্তর করছে।

দর্শক কী খুঁজছে?
বর্তমান প্রজন্ম শুধু চমক নয়, চেতনা খোঁজে। সোজাসাপ্টা বলতে গেলে “Feel good” সিনেমার জায়গা দখল করে নিয়েছে “Feel disturbed but enlightened” জনরার সিনেমা। দর্শক এখন এমন সিনেমা দেখতে চায়, যা দেখে ঘুম হারায়, যা প্রশ্ন তোলে, যা মেমোরিতে বসে থাকে। এমনকি অনেকে এখন সিনেমাকে ধ্যান বা থেরাপির এক ধরণ হিসেবেও নিচ্ছেন।

২০২৫ সালের ফেস্টিভালগুলো স্পষ্ট সিগন্যাল দিয়েছে আগামী সিনেমার ধারা হবে:
ইন্টার‍্যাকটিভ: যেখানে দর্শক নিজেই গল্পে অংশ নেবে।
AI-সহ রচিত স্ক্রিপ্ট: যেটি হয়তো আমাদের চেনা ভাষার বাইরে গিয়ে নতুন সাহিত্য রচনা করবে।
মেমোরি-সিনেমা: যেখানে দৃশ্য হবে অস্পষ্ট, স্মৃতির মত ফিকে।

ফিল্ম ফেস্টিভাল এখন আর কেবল প্রিমিয়ার বা পুরস্কারের জায়গা নয়, হয়ে উঠছে আত্মপরিচয় অন্বেষণের পরিসর। Lena Tsuki থেকে Shahidul Karim, Kwame Diallo থেকে Ava Dyer নতুন নির্মাতারা নতুন নতুন চেতনার জন্ম দিচ্ছেন। Barbet Schroeder একবার বলেছিলেন: “A film is not just made to be seen; it is made to be remembered and related.” এই সময়ের ফেস্টিভাল-সিনেমাগুলো ঠিক সেই কাজটাই করছে। তারা আমাদের মনে থেকে যাচ্ছে, চিহ্ন কেটে দিচ্ছে, এবং বলে যাচ্ছে সিনেমা এখন আশা কিংবা আশঙ্কারই একেকটি ছায়া।

পাকিস্তানে হামলা করে ভারতের সবচেয়ে বড় যে ক্ষতিটা হলো : ফারুক বাজওয়া, দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক ও লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইনজীবী

“… ১৯৮৯ সাল থেকে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে বিদ্রোহ চলছে। এই সময়ের মধ্যে বহু মানুষ গ্রেপ্তার, নির্যাতন বা হত্যার শিকার হয়েছেন। ভারত এ জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করলেও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের ভূমিকাও যে বড়, তা অস্বীকার করা যায় না।

গত এপ্রিলে পর্যটনকেন্দ্র পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার জের ধরে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। হামলাকারীদের পরিচয় স্পষ্ট না হলেও ভারত চট করেই পাকিস্তানকে দায়ী করে বসে এবং পাকিস্তান সেই অভিযোগ অস্বীকার করে।

… সংঘর্ষে উভয় পক্ষেই হতাহত মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এটি কিছুটা আশার জায়গা। তবে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে সরকার ও সেনাবাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতায়। ৭ থেকে ১০ মে পর্যন্ত চলা কথিত ‘অপারেশন সিঁদুর’ কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলেই পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণ। তাঁদের মত হলো, এ ক্ষেত্রে পাকিস্তান পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল আর ভারতীয় পরিকল্পনায় ছিল বড় ঘাটতি।

তারপরও ভারতের মূলধারার মিডিয়াগুলো এই সংঘর্ষকে ‘বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরে। এমনকি করাচিতে হামলা, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে আটক করার মতো ভিত্তিহীন খবরও তারা প্রকাশ করেছে। এতে প্রশ্ন ওঠে—এই মিডিয়াগুলোর ওপর ভবিষ্যতে জনগণের আস্থা থাকবে তো?

কূটনৈতিক দিক থেকেও ভারত কিছুটা কোণঠাসা। গাজায় ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল ভারতের পাশে দাঁড়ায়। তবে তুরস্ক প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সমর্থন করে এবং অধিকাংশ দেশ নিরপেক্ষ থাকে। মোদি সরকারের জন্য সবচেয়ে বিব্রতকর বিষয় হলো—যুক্তরাষ্ট্র (যার সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠ মৈত্রী গড়তে চেয়েছিল) স্পষ্টভাবে কোনো পক্ষ নেয়নি।

অন্যদিকে পাকিস্তান এ ঘটনাকে নিজেদের বিজয় হিসেবেই দেখছে। ভারতের তুলনায় অনেক ছোট হলেও পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সফলভাবে প্রতিরোধ গড়তে পেরেছে। রাজনৈতিক চাপে থাকা সামরিক নেতৃত্বও এই সামরিক সাফল্যের মাধ্যমে জনপ্রিয়তা কিছুটা পুনরুদ্ধার করেছে।

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যায় : এই মাসের ঘটনাগুলো কি ভারত-পাকিস্তান বিরোধের আরেকটি নতুন অধ্যায়মাত্র? নাকি দুই দেশ অবশেষে বুঝবে—কাশ্মীর সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই, আর আন্তরিক কূটনীতিকে এগিয়ে আনার এখন সময় হয়েছে? “

নিক্কেই এশিয়াকে সাক্ষাৎকার : মার্কিন শুল্ক হুমকি ও অর্থপাচার নিয়ে যা বললেন – ড. ইউনূস

জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন — যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের হুমকির মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা, জ্বালানি তেল এবং গ্যাস আমদানি বাড়ানো হবে। অর্থ পাচার ও দুর্নীতি মামলায় আওয়ামী লীগ ও এর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের জব্দ করা সম্পদ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য ও তরুণদের জন্য ব্যয় করা হবে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সম্প্রতি ইউনূস একজন ছাত্রনেতাকে জানিয়েছিলেন যে, যদি দলগুলো সংস্কার ও নির্বাচনের বিষয়ে ঐকমত্যে না পৌঁছায়, তবে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন।’ এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমি বাংলাদেশে এ প্রশ্নের উত্তর দিইনি। যদি জাপানে উত্তর দিই, তাহলে সেটি আমার জন্য অনেক ঝামেলার সৃষ্টি করবে।’

‘নিক্কেই ফিউচার অব এশিয়া’ সম্মেলনের ফাঁকে সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর সম্ভাব্য ৩৭ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়ে রেখেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমেরিকা থেকে আরও বেশি তুলা, জ্বালানি তেল ও গ্যাস কেনার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ। এই প্রস্তাবকে বাণিজ্য আলোচনার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেহেতু প্রতিটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চান।

সে প্রসঙ্গে ইউনূস বলেন, যদি এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়, তাহলে বাংলাদেশ অন্যান্য দেশ থেকে এসব পণ্য আমদানির পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করবে। উদাহরণস্বরূপ, আমরা অনেক তুলা সেন্ট্রাল এশিয়া থেকে কিনি, আবার ভারত থেকেও। এখন ভাবছি, আমরা এগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিনব। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটা কমবে।

তিনি বলেন, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৬৮০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে এবং আমদানি করেছে ২৫০ কোটি ডলারের পণ্য। এর মধ্যে ৩৬ কোটি ১০ লাখ ডলারের তুলা আমদানি ছিল। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য প্রতিবছর প্রায় ৭৯০ কোটি ডলারের কাঁচা তুলা প্রয়োজন। এর বেশির ভাগ আসে উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের মতো সেন্ট্রাল এশিয়ান দেশগুলো থেকে। ২০২৪ সালের আমদানি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তুলা বাংলাদেশের মোট আমদানির ১২.৫ শতাংশ ছিল।

ড. ইউনূস বলেন, ‘আমেরিকার তুলা উৎপাদকরা আমাদের খুব ভালো বন্ধু হয়ে উঠেছে’ এবং তারা ‘প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের কিছু রাজনৈতিক সংযোগ’ তৈরিতে সহায়তা করছে। তিনি আরও বলেন, আমেরিকার ‘কটন বেল্ট’ অঞ্চলের রাজ্যগুলো থেকে কংগ্রেস এবং সিনেটে যেসব প্রতিনিধি নির্বাচিত হন, তারা বাংলাদেশের বন্ধু হতে পারেন।

জ্বালানি বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানি করলেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে তা কেনা সম্ভব। দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রায় ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে থাকা আরও ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সম্পদ শনাক্ত ও জব্দ করা হয়েছে। এ অর্থের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দুটি সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করছে। এ টাকা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় হবে। এ ছাড়া দরিদ্র জনগণের জীবন বদলাতে এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবহৃত হবে।

চিরযৌবনের কিংবদন্তি ঝর্ণা

প্রতিটি মানুষ সময়ের কাছে বশীভূত। জন্ম, শৈশব, যৌবন, বার্ধক্য—এই ধারাবাহিকতা যেন জীবনের শৃঙ্খল। কিন্তু যদি এমন এক ঝর্ণা থাকত, যার জলে ডুব দিলেই মুছে যেত বয়সের রেখা, ফিরত তরুণ দেহ ও চঞ্চল প্রাণ? এই ভাবনাই জন্ম দিয়েছে বিশ্বের এক অদ্ভুত, অলৌকিক এবং ঐতিহাসিকভাবে বহুল আলোচিত কিংবদন্তি, চিরযৌবনের ঝর্ণা। চিরযৌবনের ঝর্ণা কেবল একটি লোককথা নয়, বরং এটি এক সভ্যতার মনস্তত্ত্ব। এটি মৃত্যু-ভীত মানুষের আত্মরক্ষার কল্পনা। একটি ঝর্ণা যেখানে সময় জমে থাকে, বয়স ব্যর্থ হয়, আর জীবন শুরু হয় নতুন করে।

চিরযৌবনের ঝর্ণা নিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় মিথ জন্ম নিয়েছে ষোড়শ শতাব্দীর স্পেনীয় অভিযাত্রী হুয়ান পন্স দে লেওনের নামের সঙ্গে। বলা হয় তিনি ১৫১৩ সালে বর্তমান ফ্লোরিডা অঞ্চলে এমন এক ঝর্ণার খোঁজে এসেছিলেন, যা মানুষকে চিরতরুণ করে তুলবে। তবে আজ ঐতিহাসিকরা বলেন, এটি হয়ত স্পেনীয় উপনিবেশবাদকে রোমান্টিক করার জন্য সৃষ্টি করা এক রাজনৈতিক কল্পকাহিনি। কিন্তু ইতিহাসের দিক থেকে বিচারে এই মিথ যতটা অসত্য, সাংস্কৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ততটাই সত্য। কারণ এই গল্পটিই ফ্লোরিডাকে “চিরযৌবনের ভূমি” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে দেয়। এমনকি বর্তমানে সেন্ট অগাস্টিন শহরে একটি পর্যটন কেন্দ্র আছে যেখানে “Fountain of Youth Archaeological Park” নামে বিক্রি হয় বোতলজাত জল, যা “তরুণ হওয়ার প্রতিশ্রুতি” বহন করে।

এই ঝর্ণার ধারণা শুধু ইউরোপ বা আমেরিকান কল্পনায় সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের বহু সংস্কৃতিতেই একইরকম অলৌকিক জলের গল্প রয়েছে। ভারতীয় পুরাণে ‘অমৃত’ নামে এক প্রাচীন রস, যা পান করলে দেবতারা অমর হতেন। গ্রিক পুরাণে ছিল ‘হেবি’ নামের এক দেবী যিনি দেবতাদের চিরতরুণ রাখতেন। চীনাদের প্রাচীন কিংবদন্তিতে রয়েছে প্যাগোডা বা হিমালয় ঘেরা গোপন জলাশয়ের কথা, যেখানে বয়স্ক সাধুদের বয়স থেমে যায়। এমনকি ইসলামি কাহিনীতেও ‘আব-এ-হায়াত’ নামে এক ধরনের জীবনদায়ী জলের উল্লেখ রয়েছে, যা হজরত খিজির (আ.) পান করেছিলেন বলে বলা হয়। অর্থাৎ চিরযৌবনের ধারণা কোনো একটি জাতির নয়, এটি সমগ্র মানবজাতির সময়ের বিরুদ্ধে জীবনের এক নীরব বিদ্রোহ।

এই রহস্যময় ঝর্ণা মূলত একটি রূপক। এটি আমাদের ভয়, আকাঙ্ক্ষা এবং অন্তর্নিহিত আত্ম-অস্বীকৃতিকে প্রকাশ করে। আমরা আমাদের বার্ধক্য, ক্ষয় এবং মৃত্যুকে মেনে নিতে চাই না। এই ঝর্ণার কল্পনায় আমরা বাঁচতে চাই চিরকাল, তরুণ এবং সুন্দর হয়ে। বাস্তব পৃথিবীতে যেখানে দেহ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, এই কল্পনায় সময়কে পরাজিত করা যায়।

আধুনিক যুগে এই ঝর্ণা ফিরে আসে অন্য রূপে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে, জিনবিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন কীভাবে বার্ধক্য রোধ করা যায়। সেল থেরাপি, স্টেম সেল রিসার্চ এবং অ্যান্টি-এজিং চিকিৎসার পেছনে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ হচ্ছে। কসমেটিক ও বিউটি ইন্ডাস্ট্রি “চিরতরুণতার” প্রতিশ্রুতি দিয়ে হাজারো পণ্য বাজারজাত করছে। এমনকি কিছু টেক বিলিওনিয়ার নিজেদের মস্তিষ্ক সংরক্ষণ করে ভবিষ্যতের কৃত্রিম দেহে স্থানান্তরের কল্পনা করছেন।

তবে প্রশ্ন হচ্ছে, চিরতরুণ হওয়ার বাসনা কি মানুষকে আরও জীবিত করে তোলে, নাকি আরও বেশি আত্মহীন? যদি সময় না চলে, যদি বয়স না বাড়ে, যদি মৃত্যু না আসে, তবে কি জীবনের মূল্য কমে যায়? চিরযৌবনের ঝর্ণা যেমন এক আশ্চর্য আকর্ষণ, তেমনি তা এক বিপজ্জনক ফাঁদও হতে পারে। কারণ সময়ের ধারা না থাকলে হয়তো অভিজ্ঞতা, পরিণতি বা এমনকি প্রেমও কৃত্রিম হয়ে ওঠে। বার্ধক্য, ক্ষয়, বিচ্ছেদ এই সবই জীবনকে অর্থ দেয়। যে জীবন কখনো ফুরাবে না, সে জীবন হয়তো কখনো পূর্ণও হবে না।

চিরযৌবনের ঝর্ণা শেষ পর্যন্ত মানব চেতনার একটি প্রতিচ্ছবি। এটি হয়তো অস্তিত্বের গভীর শূন্যতার জবাব খোঁজে। হয়তো এই ঝর্ণা কোথাও নেই, কিন্তু মানুষ তার মধ্যে খোঁজে নিজেকে হারিয়ে ফেলার একটি সম্ভাবনা যেখানে বয়স নেই, মৃত্যু নেই, শুধু তরুণতা আর অনন্তের মায়া। অদ্ভুতভাবে এই মিথটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—যৌবন ক্ষণস্থায়ী বলেই তা সুন্দর, জীবন ফুরিয়ে যাবে বলেই তা মূল্যবান।

নিয়মিত হাঁটা সহজ অথচ কার্যকর ব্যায়াম

অনেকেই মনে করেন দৌড়ানো, স্পিনিং, স্ট্রেংথ ট্রেনিং কিংবা অন্যান্য উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়ামই কেবল “আসল” ব্যায়াম। কিন্তু হাঁটা একটি সহজ, নিরাপদ এবং কার্যকর ব্যায়াম, যা আপনার শরীর ও মনের জন্য অসাধারণ উপকার বয়ে আনে। বিশেষ করে যারা আগে কখনো ব্যায়াম করেননি কিংবা দৌড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য হাঁটা আদর্শ শুরু হতে পারে।

হাঁটার উপকারিতা –

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ

খাবার পরে একটু হাঁটলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য। গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার পর ৩০ মিনিট হাঁটলে শরীরের বড় পেশিগুলো শক্তি উৎপাদনের জন্য রক্ত থেকে শর্করা শোষণ করে, ফলে ব্লাড সুগার কমে যায়। নিয়মিত হাঁটা ডায়াবেটিস প্রতিরোধেও সহায়ক।

হৃদযন্ত্রের যত্ন

শক্তিশালী হৃদযন্ত্রের জন্য উচ্চ-তীব্রতার কার্ডিও ব্যায়াম জরুরি নয়। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি-তীব্রতার ব্যায়াম (যেমন brisk walking) হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৩,৮৬৭ ধাপ হাঁটলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য

বয়স্কদের জন্য হাঁটা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত হাঁটা স্মৃতিশক্তি ভালো রাখে এবং আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি কমায়। হাঁটা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, যা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।

ওজন কমানো
ওজন কমাতে হাঁটা অত্যন্ত কার্যকর। ৪-৫ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিতে brisk walking করলে প্রতি মাইল প্রায় একই পরিমাণ ক্যালরি পোড়ে, যতটা ধীরে দৌড়ালে পোড়ে। হাঁটার ফলে শরীরে কম চাপ পড়ে, তাই দীর্ঘদিন ধরে অভ্যাস বজায় রাখা সহজ হয়।

মানসিক সুস্থতা

নিয়মিত হাঁটা মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে, স্ট্রেস কমায় এবং মন ভালো করে। প্রকৃতির মাঝে হাঁটা বাড়তি মানসিক প্রশান্তি দেয়।

অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি হ্রাস

প্রতিদিন ১,০০০ ধাপ বাড়ালে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি ২৮% কমে যায়। ধাপে ধাপে লক্ষ্য বাড়ানোই সবচেয়ে কার্যকর।

কতটুকু হাঁটবেন?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি-তীব্রতার ব্যায়াম করা উচিত। এটি দিনে ৩০ মিনিট, সপ্তাহে ৫ দিন হাঁটার সমান। হাঁটার সময় এমন গতিতে হাঁটুন যাতে কথা বলা যায়, কিন্তু গান গাওয়া যায় না।

হাঁটা আরও কার্যকর করার উপায়

*ধাপে ধাপে সময় ও গতি বাড়ান।
*মাঝে মাঝে উঁচু-নিচু পথে হাঁটুন।
*সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
*ইন্টারভ্যাল ওয়াকিং (কিছুক্ষণ দ্রুত, কিছুক্ষণ ধীরে) করুন।
*চাইলে নর্ডিক ওয়াকিং ট্রাই করুন—পোল ব্যবহার করলে শরীরের ৯০% পেশি সক্রিয় হয়।

হাঁটা সহজ, নিরাপদ এবং কার্যকর ব্যায়াম। এটি শরীর ও মন দুটোই ভালো রাখে। নতুনদের জন্য ধীরে ধীরে শুরু করা এবং নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন, সুস্থ থাকুন!