Home Blog Page 78

চট করে বিপ্লবী একটা বাজেট দিয়ে দেব তা সম্ভব নয় : অর্থ উপদেষ্টা

0

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া পরিস্থিতির মাঝে চট করে বিপ্লবী বাজেট দেওয়া সম্ভব নয়।

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এই বাজেট কিছুটা গতানুগতিকই হয়েছে বলে স্বীকার করে তিনি বলেছেন, “প্রাথমিকভাবে মনে করি বাজেট জনবান্ধব এবং ব্যবসাবান্ধব। অনেকে বলেছেন আমরা আগের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছি। আসলে চট করে বিপ্লবী একটা বাজেট দিয়ে দেব, দারুণ একটা রাজস্ব আয় করে ফেলব, তা সম্ভব নয়।”

কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে বাজেট করেননি জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন — উচ্চ মূল্যস্ফীতি; ব্যাংক ও জ্বালানি খাতের সমস্যা এবং রাজস্ব আদায়ের খারাপ পরিস্থিতি এসব কিছুর মধ্যেই তাকে বাজেট করতে হয়েছে। সম্পদ সীমিত, চাহিদা অনেক বেশি। বাইরে থেকে সম্পদ আনা, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ, পুঁজিবাজারের অবস্থা, ব্যাংকের অবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা ছিল। এর ভেতরেই কাজ করতে হচ্ছে।

তাঁর প্রশ্ন, এত দিন যে প্রবৃদ্ধির বয়ান শোনা গেছে, তার সুবিধা কে পেয়েছে? সেখান থেকে বেরিয়ে এসে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ—এসব বিবেচনায় নিয়ে বাজেট সাজানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে বৈষম্যবিরোধী পদক্ষেপ একেবারেই নেই, এ বক্তব্য মানতে নারাজ অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বাজেটে নারীদের জন্য, স্টার্টআপের (নতুন উদ্যোগ) জন্য এবং যুবকদের জন্য তহবিল আছে। আরও খাতের জন্যও আছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক ক্ষেত্রে শুল্ক উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্য হচ্ছে ঋণের চক্র থেকে বের হওয়া। আগের প্রকল্পগুলোর অব্যবস্থাপনা দূর করাও অন্যতম লক্ষ্য।

গতানুগতিক বাজেট, বড় পরিবর্তন নেই, চমক নেই—এসব বলা হচ্ছে। বৈষম্য কমানোর কী প্রতিফলন আছে, এমন প্রশ্নও উঠেছে। এসব কথা উল্লেখ করে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা হঠাৎ করে এক বছর বা দেড় বছরের জন্য এসেছি। এই সময়ের মধ্যে চেষ্টা করা হয়েছে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার।’

এবারের বাজেটকে অপচয় ও অসংগতি কমানোর বাজেট বলে অভিহিত করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতেই এবার বিদ্যুৎ ও এলপিজির দাম কমানো হয়েছে। কমানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দামও। এতে গাড়ি ভাড়া কমবে।’

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কালোটাকা সাদা করার জন্য আগের মতো কোনো বিশেষ সুযোগ নেই। তবে দুটি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর একটি হলো কেউ নিজের জমিতে অপ্রদর্শিত অর্থ দিয়ে যদি বাড়ি তৈরি করেন, তাহলে দ্বিগুণ কর দিয়ে তা ব্যবহার করতে পারবেন। দ্বিতীয় সুযোগটি হলো ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে। এ ক্ষেত্রে কর ৫ গুণ করে দেওয়া হয়েছে।

আফ্রিকান নির্জন অঞ্চলের প্রাণীভাষী মানুষ ‘ডোজার’

আফ্রিকার নির্জন কিছু অঞ্চলে আজও এক বিস্ময়কর বিশ্বাস বেঁচে আছে, মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে যোগাযোগ সম্ভব, যদি কেউ ‘ডোজার’ হয়ে জন্মায়। এই ধারণা শুনতে যতটা অতিপ্রাকৃত মনে হয় ততটাই তা ঐ অঞ্চলের বাস্তবতা ও সংস্কৃতির অংশ। “ডোজার” শব্দটি পশ্চিম-মধ্য আফ্রিকার কিছু জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যবহৃত হয় এমন কিছু মানুষ বোঝাতে, যারা পশুপাখির ‘মনের ভাষা’ বুঝতে সক্ষম।

প্রথমে শোনার পরেই প্রশ্ন জাগে, এ কি নিছক লোককথা, না কি সত্যিই আছে কোনো নিখুঁত সংবেদনক্ষমতা, যা মানুষকে অন্য প্রাণীর আবেগ বা সংকেত বোঝার বিশেষ ক্ষমতা দেয়? ডোজারদের সম্পর্কে বিশ্বাস জন্মায় একধরনের পর্যবেক্ষণ থেকে। বলা হয় এরা পাখির চিৎকার শুনে আগাম জানিয়ে দিতে পারে জঙ্গলে শিকারি এসেছে কি না। কখনো কোনো সাপ বা হায়েনার উপস্থিতি শনাক্ত করে শুধু আশেপাশের প্রাণীদের গতিবিধি দেখে। অনেকে বলেন, তারা পশুদের দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে পারে, পশুটি নিজে যা ভাবছে, সেই মানসিক প্রতিচ্ছবিই তাদের মধ্যে প্রবেশ করে।

আধুনিক ভাষায় কেউ কেউ এটিকে ‘bio-empathic resonance’ বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। যেমন আমরা কোনো মায়ের চোখ দেখে বুঝি তার সন্তান বিপদে আছে, হয়তো এই ডোজাররা প্রাণীদের মধ্যে সে ধরনের না-দেখা সঙ্কেত শনাক্ত করে নিতে পারে। কিন্তু এখানেই রহস্য ঘনীভূত হয়। কেননা শুধু সংবেদন নয়, এই ডোজাররা একধরনের ‘dialogic’ সংযোগ দাবি করে—যেখানে তারা বোঝে, আবার প্রতিক্রিয়াও জানায়। অর্থাৎ পাখি ডেকে কিছু বললে, ডোজার প্রতিউত্তর দেয় নীরব ভাষায়, দৃষ্টিতে, এমনকি হাঁটু ভাঁজ করে বসে থাকা ভঙ্গিতে।

এই ধারণা শুধু বিচ্ছিন্ন বিশ্বাস নয়, প্রথাগত এক শিক্ষাব্যবস্থাও আছে কিছু অঞ্চলে। শিশুদের নির্জন বনে বসিয়ে নিরবতা শেখানো হয়, প্রাণীদের শরীরী ভাষা পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়। এ এক ধরণের প্রাকৃতিক দীক্ষা। আর যাদের মধ্যে এই সংযোগ গাঢ় হয়, তাদেরকেই স্বীকৃতি দেয়া হয় ডোজার হিসেবে।

বিশ্বাস আছে এ ক্ষমতা পাওয়া যায় শুধু জন্মসূত্রে, শিক্ষা দিয়ে নয়। একজন ডোজার তার জীবনসঙ্গী নির্বাচন পর্যন্ত করে পশুপাখিদের সংকেত দেখে এমনকি মৃত ব্যক্তির আত্মা কখন কোথায় আশ্রয় নেয়, তাও সে বুঝতে পারে বলে দাবি করা হয়।

কিন্তু এই বিশ্বাসের মধ্যেই আছে একধরনের অস্বস্তিকর দিক। অনেক সময় যারা ডোজার বলে পরিচিত, তারা সামাজিকভাবে একঘরে হয়ে পড়ে। কারণ তাদের মাঝে অলৌকিক কিছু আছে বলে বিশ্বাস করা হয়। কেউ কেউ মনে করে, তারা মানুষের চেয়ে পশুর কাছেই বেশি অনুগত। কেউ কেউ আবার ভাবে এরা নরবলি বা অরণ্যদেবতার দূত, একটি অদৃশ্য ভয় তাদের ঘিরে রাখে।

আফ্রিকার উপনিবেশকালীন সময়েও ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা ডোজারদের খোঁজ পেয়েছিল। কিছু গবেষণাপত্রে উল্লেখ আছে এক ফরাসি নৃবিজ্ঞানী ১৯২০ সালের দিকে একটি উপজাতির মধ্যে এমন এক বালকের কথা শুনেছিলেন, যে হঠাৎ করে বনভূমির গভীরে চলে যেত, আর ফিরে এসে বলত—“জঙ্গলের মানুষ এসেছে”—এবং আশ্চর্যজনকভাবে কিছুক্ষণ পরই হানা দিত দস্যুরা। সেই নৃবিজ্ঞানী লেখেন, “সে ছেলেটি শুধু পাখিদের কলতান শুনেই আগাম বিপদের আভাস দিতে পারত।”

আজকের আধুনিক মন এইসব গল্পে সংশয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কিন্তু যেসব সমাজে ভাষা ও বিজ্ঞানের জোর কম, সেখানে পর্যবেক্ষণ ও অনুভবই প্রকৃত বুদ্ধিমত্তার মাপকাঠি। ডোজারদের প্রতি বিশ্বাস এমন এক প্রাকৃতিক-মানবিক সম্পর্কের প্রতিফলন, যা পশ্চিমা যুক্তিবাদে ব্যাখ্যাতীত।

সাম্প্রতিক কিছু নৃবিজ্ঞানী এবং আচরণবিদরা একে ‘প্যারাল্যাংগুয়েজ’ বা প্রকৃতির সঙ্গে বিকল্প ভাষাগত সংযোগ বলেই ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু তারা এখনো নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি এই ডোজাররা নিছক বুদ্ধিমান, নাকি সত্যিই তাদের মধ্যে এমন কোনো জন্মগত ক্ষমতা আছে, যা আমরা বুঝতে পারি না।

সাম্প্রতিক গবেষণায় কিছু পাখির শব্দধারা থেকে নির্দিষ্ট সংকেত বের করে আনা হয়েছে। যেমন বিপদ আসছে বা খাবার পাওয়া গেছে। ডোজাররা হয়তো শত বছর আগে থেকেই এগুলো বুঝে ফেলেছিল, শুধু বৈজ্ঞানিক ভাষায় বলতে পারেনি। তাহলে কি আমরা আজ বিজ্ঞানের পথে ফিরে পাচ্ছি সেই আদিম জ্ঞান?শেষ প্রশ্নটা থেকে যায় ডোজার কি সত্যিই বিদ্যমান, না কি তারা কেবল প্রকৃতি ও কল্পনার সীমারেখায় দাঁড়িয়ে থাকা রহস্যময় মানুষ?

বৃষ্টির দিনে জামাকাপড়ের দুর্গন্ধ দূর করবেন যেভাবে –

বর্ষাকালে ঘন ঘন বৃষ্টিপাতের ফলে জামাকাপড় ঠিকভাবে শুকানো এক কঠিন কাজ হয়ে ওঠে। এই সময় অনেকেই লক্ষ করেন, কাপড়চোপড় ধোয়ার পরেও স্যাঁতসেঁতে ভাব থেকে যায় এবং তা থেকে একধরনের বোটকা দুর্গন্ধ তৈরি হয়। এই দুর্গন্ধ একদিকে যেমন অস্বস্তিকর, তেমনই তা ফাঙ্গাস বা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতির ইঙ্গিতও হতে পারে।

সমস্যা সমাধানে প্রথমেই জামাকাপড় ধোয়ার সময় ডিটারজেন্টের সঠিক পরিমাণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বা অ্যান্টিফাংগাল লিকুইড যোগ করা গেলে আরও ভালো। কাপড় ধোয়ার পর অবশ্যই ভালোভাবে নিংড়ে নিতে হবে যাতে পানি যতটা সম্ভব বেরিয়ে যায়। স্পিন ড্রায়ার ব্যবহার করা গেলে কার্যকারিতা বাড়ে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব খোলা হাওয়া, আলো বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় কাপড় শুকাতে দিতে হবে। যদি রোদ না থাকে, তাহলে ফ্যানের নিচে ঝুলিয়ে দেওয়া বা ইনডোর ড্রায়ার ব্যবহার করাই উত্তম।

তবে অনেক সময় কাপড় ভালোভাবে শুকালেও গন্ধ থেকে যায়। এ ক্ষেত্রে একটি কার্যকর উপায় হলো কাপড় ভিনেগার বা বেকিং সোডা দিয়ে ধোয়া। এক কাপ সাদা ভিনেগার বা আধা কাপ বেকিং সোডা এক বালতি পানিতে মিশিয়ে কিছুক্ষণ কাপড় ভিজিয়ে রাখলে দুর্গন্ধ দূর হয়ে যায়।

জামাকাপড় সংরক্ষণের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন তা পুরোপুরি শুকনো থাকে। আর্দ্র কাপড় কখনোই ভাঁজ করে রাখা উচিত নয়। সংরক্ষণের জায়গা শুকনো ও হাওয়াবদ্ধ হওয়া জরুরি। চাইলে কাপড়ের মধ্যে ন্যাপথলিন রাখা যেতে পারে যা দুর্গন্ধ প্রতিরোধে সহায়ক। নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক ধোয়া ও সংরক্ষণের অভ্যাস গড়ে তুললে বর্ষার দিনেও জামাকাপড় থাকবে সুগন্ধিযুক্ত ও সতেজ।

চীনের বিরল খনিজ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, ওয়াশিংটন-বার্লিন-টোকিও থেকে কর্পোরেট সদর দপ্তরগুলো সবাই উদ্বিগ্ন

চীন থেকে আসা রেয়ার-আর্থ ম্যাগনেটের আসন্ন ঘাটতি নিয়ে বিশ্বব্যাপী গাড়ি প্রস্তুতকারকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই ঘাটতি কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গাড়ির কারখানাগুলো বন্ধ করে দিতে পারে।

রয়টার্স জানিয়েছে, সর্বশেষ গত মঙ্গলবার জার্মান গাড়ি নির্মাতা কোম্পানিগুলো অভিযোগ করেছে যে — চীন থেকে বিরল খনিজের মিশ্রণ, মিশ্র ধাতু ও চুম্বকের রপ্তানিতে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহার না হলে উৎপাদনে বিলম্ব ও বিঘ্ন সৃষ্টি হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক চীনা পণ্যে উচ্চ শুল্ক আরোপের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চীন এপ্রিল মাসে বিভিন্ন ধরনের বিরল খনিজ এবং সংশ্লিষ্ট চুম্বকের রপ্তানি স্থগিত করে। ফলে বিশ্বব্যাপী গাড়ি নির্মাতা, মহাকাশ প্রযুক্তি সংস্থা, সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি ও সামরিক যন্ত্রপাতি উৎপাদকের জন্য অপরিহার্য কাঁচামালের সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হয়েছে।

এপ্রিল মাসে চীন থেকে বিরল খনিজ চুম্বকের রপ্তানি অর্ধেকে নেমে আসে। এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধে চীনের একটি কৌশলগত চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এপ্রিলে দুই দেশ যখন জেনেভায় এক ধরনের বাণিজ্য সমঝোতায় পৌঁছায়, তখন ধারণা ছিল চীন বিরল খনিজ পদার্থ রফতানি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করবে। কিন্তু মে মাসে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, চীন সমঝোতা ভঙ্গ করে সাতটি বিরল খনিজের রফতানিতে আগের মতোই কড়াকড়ি রাখছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই সপ্তাহে কথা বলবেন বলে আশা করা হচ্ছে এবং এই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাগুলো আলোচ্য বিষয়ের শীর্ষে থাকবে।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গত সপ্তাহে জানায়, ইউরোপীয় সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করার কথা বিবেচনা করছে বেইজিং। এদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।

গাড়ি, ড্রোন, রোবট, ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরিতে অত্যাবশ্যক বিরল খনিজ চুম্বক রপ্তানির ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা টোকিও থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে ও কর্পোরেট সদরদপ্তরে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কর্মকর্তারা একদিকে চীনের সাথে দেন-দরবার শুরু করেছেন, অন্যদিকে বিকল্প সরবরাহের সীমিত উৎস খুঁজে পেতে হন্যে হয়ে উঠেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধে বিরল খনিজ হয়ে উঠেছে নতুন উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য মতে, বিশ্বের ৬১ শতাংশ বিরল খনিজ চীন থেকে খনন হয়, আর প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে চীনের নিয়ন্ত্রণ ৯২ শতাংশ পর্যন্ত।

বিরল খনিজ নামে পরিচিত ১৭টি ধাতব উপাদান, এদের মধ্যে স্ক্যান্ডিয়াম, ইট্রিয়াম ও লান্থানাইড সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। এগুলো মূলত ব্যবহৃত হয় স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি, উইন্ড টারবাইন, এলইডি লাইট, ফ্ল্যাট-স্ক্রিন টিভি, এমনকি চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও ক্যানসার চিকিৎসায়। কিন্তু এ উপাদানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার সম্ভবত সামরিক খাতে। যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, সাবমেরিন, স্যাটেলাইট, লেজার অস্ত্র কিংবা টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র—সবখানেই এই খনিজ অপরিহার্য।

বিরল নামে পরিচিত হলেও এই উপাদান পৃথিবীর অনেক অংশেই পাওয়া যায়—এমনকি সোনার থেকেও বেশি পরিমাণে। তবে সমস্যা হলো, এগুলো খুঁজে বের করা, আলাদা করা ও পরিবেশবান্ধব উপায়ে প্রক্রিয়াজাত করা অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল।

সিএনএন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মাত্র খনি রয়েছে যা বিরল খনিজ উত্তোলন করে। কিন্তু উত্তোলনের পর ভারী উপাদানগুলো এখনো প্রক্রিয়াজাত করার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই বললেই চলে। তাই প্রক্রিয়াজাত করতে আগে এসব চীনেই পাঠানো হতো।

চীনের এই রফতানি নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধাক্কা। ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরল খনিজের ৭০ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র এখন নতুন উৎসের খোঁজে নজর দিয়েছে ইউক্রেন, গ্রীনল্যান্ড ও সৌদি আরবের দিকে। কিন্তু ইউক্রেনে খনিজ খাত এখনো অপরিণত, এমনকি কোথায় কী পরিমাণ খনিজ পাওয়া যাবে, সে মানচিত্রও এখনো পরিষ্কার নয়।

দ্য ইকোনমিস্টের নিবন্ধ : এরদোয়ানের গদি টলিয়ে দিতে পারে তুরস্কের জেন-জি

তিন মাস ধরে উত্তপ্ত ইউরো-এশীয় দেশ তুরস্ক। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী একরেম ইমামোগলুকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই বিক্ষোভে উত্তাল দেশটি। এই বিক্ষোভকারীদের বেশির ভাগই ‘জেন-জি’।

ব্যাপক ধরপাকড়, গ্রেপ্তারের পরও দমানো যায়নি তাদের। এখনো দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরের রাজপথ, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে এরদোয়ান-বিরোধী বিক্ষোভ-সমাবেশ অব্যাহত। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—তুরস্কে একটি নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা কি তবে জেন-জি তথা তরুণদের হাত ধরেই শুরু হতে যাচ্ছে?

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কে ২০০৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা এরদোয়ানের আগের শাসনামল এই জেন-জি দেখেনি। তবে সাম্প্রতিক আন্দোলনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে তারাই—বিশেষত ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা, যারা এখনকার প্রাপ্তবয়স্ক এবং মোট ভোটারদের এক চতুর্থাংশ। বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, এদের মধ্যে মাত্র ১১ শতাংশ এরদোয়ানের দল একে পার্টিকে ভোট দিতে আগ্রহী।

শুধু ইমামোগলুর গ্রেপ্তারই নয়, এরদোয়ানের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভের পেছনে আরও অনেক কারণের কথা বলছে তারা। তাদের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়াবাড়ি রকমের। যে কারণে ভালো শিক্ষা, চাকরি এমনকি ভোটাধিকারের মতো মৌলিক অধিকারগুলো থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে জেন-জিরা।

চলমান এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত আটক হয়েছেন দুই সহস্রাধিক আন্দোলনকারী। এই আন্দোলন দেশটিতে গত এক দশকে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজপথে তরুণদের এই সরব উপস্থিতি এবং সামাজিক মাধ্যমে তাদের তৎপরতা বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টি (সিএইচপি)-কেও সাহস জোগাচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভের কারণেই সরকার শেষ পর্যন্ত ইমামোগলুর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ আইনে মামলা করা থেকে সরে এসেছে এবং ইস্তাম্বুলে সরকারপন্থী কাউকে বসানোর পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়।

তবে এই প্রতিবাদ সরকারকে দমননীতির পথ থেকে সরাতে পারেনি। সর্বশেষ ২৬ মে দুর্নীতির অভিযোগে সিএইচপির কিছু কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীসহ ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে গত ১৩ মে একজন বিতর্কিত ইসলামপন্থী বক্তার সফরের প্রতিবাদ করায় ৬ শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে, মে দিবসের প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও ৪০০ জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া, সামাজিক মাধ্যম এক্সে ইমামোগলুর প্রায় ১ কোটি অনুসারীর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে এরদোয়ান প্রশাসন।

এরদোয়ান দীর্ঘদিন ধরে একটি ধর্মানুরাগী প্রজন্ম গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছেন। তবে জেন-জি প্রজন্ম তাঁর সেই প্রত্যাশাকে এক প্রকার ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। এই প্রজন্ম রাজনৈতিকভাবে যতটা সচেতন ও সক্রিয়, ধর্মীয় দিক থেকে ততটাই উদাসীন। বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী এই তরুণ প্রজন্ম এখন এরদোয়ানের দীর্ঘ শাসনব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

মানব কোষের ছদ্মবেশে প্রাণঘাতী পরজীবী- এন্টামিবা হিসটোলাইটিকা

বিশ্বের দরিদ্র ও অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধাসম্পন্ন অঞ্চলগুলোতে প্রতি বছর প্রায় ৫০,০০০ মানুষের মৃত্যুর পেছনে অন্যতম কারণ হলো এন্টামিবা হিসটোলাইটিকা নামক এক মারাত্মক পরজীবী। এটি মানুষের অন্ত্রের কোলন আক্রমণ করে অ্যামেবিয়াসিস রোগ সৃষ্টি করে। সাধারণত ডায়রিয়া ও পেটব্যথার মাধ্যমে রোগের উপস্থিতি বোঝা যায়, তবে গুরুতর সংক্রমণে এটি অন্ত্রের টিস্যু ধ্বংস করে লিভার, ফুসফুস এবং মস্তিষ্ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এই পরজীবীটির সংক্রমণ ও প্রতিরোধের প্রক্রিয়া বোঝার জন্য দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজ্ঞানীরা এর অনন্য কৌশল আবিষ্কার করেছেন, যা মানব কোষের অংশ ব্যবহার করে নিজেকে ইমিউন সিস্টেম থেকে লুকিয়ে রাখে।

এন্টামিবা হিসটোলাইটিকা মূলত দুটি রূপে থাকে, সিস্ট ও ট্রফোজোয়েট। সিস্ট হলো পরজীবীর পরিবেশগতভাবে প্রতিরোধী ও সুপ্ত রূপ, যা দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। একবার দেহে প্রবেশ করলে সিস্ট থেকে ট্রফোজোয়েট রূপে রূপান্তরিত হয়, যা সক্রিয়ভাবে অন্ত্রের টিস্যু আক্রমণ করে রোগ সৃষ্টি করে।

সংক্রমণের প্রধান উৎস হলো অপরিষ্কার পানি, দূষিত খাবার এবং মল-মুখ সংক্রমণ। জনাকীর্ণ এলাকা ও অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি সংক্রমণ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুর্বল ইমিউন সিস্টেমের মানুষ এই সংক্রমণের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

সাম্প্রতিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন এন্টামিবা হিসটোলাইটিকা বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত চতুর কৌশল ব্যবহার করে। এটি মানব কোষের ছোট ছোট অংশ বা ফ্র্যাগমেন্ট কেটে নিয়ে নিজের পৃষ্ঠে লাগিয়ে নেয়, যেন এটি মানুষের কোষের মতোই দেখায়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ট্রোগোসাইটোসিস (Trogocytosis)।

ট্রোগোসাইটোসিসের মাধ্যমে পরজীবী মানব কোষের প্রোটিন বহন করে ইমিউন সিস্টেমকে বিভ্রান্ত করে। ফলে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটিকে শত্রু হিসেবে চিনতে পারে না এবং আক্রমণ থেকে বিরত থাকে। এই ছদ্মবেশ পরজীবীকে শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চোখে অদৃশ্য করে তোলে সংক্রমণ ও বিস্তারকে সহজ করে।

এই আবিষ্কার পরজীবীর সংক্রমণ প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে বিপ্লবী ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ এর আগে এই ধরনের কৌশল সম্পর্কে তেমন তথ্য ছিল না। এন্টামিবা হিসটোলাইটিকার জটিল জিনোম বিশ্লেষণে আধুনিক প্রযুক্তি যেমন RNAi লাইব্রেরি এবং CRISPR-Cas9 ব্যবহৃত হচ্ছে। এই প্রযুক্তিগুলো বিজ্ঞানীদের পরজীবীর প্রোটিনগুলো চিহ্নিত ও ট্র্যাক করতে সাহায্য করছে, যা এর জীববিজ্ঞান ও সংক্রমণ প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

RNAi (RNA interference) প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষকরা নির্দিষ্ট জিনের কার্যক্রম বন্ধ করতে পারেন, এটি পরজীবীর কোন প্রোটিন বা জিন সংক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ তা নির্ধারণে সহায়ক। অন্যদিকে CRISPR-Cas9 প্রযুক্তি ব্যবহার করে জিনোমের নির্দিষ্ট অংশ সম্পাদনা করা যায়, যা পরজীবীর কার্যকারিতা ও রোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়া বিশ্লেষণে অপরিহার্য।

এই আধুনিক গবেষণা পদ্ধতির মাধ্যমে পরজীবীর কোষীয় আচরণ, ইমিউন সিস্টেমের সাথে তার সম্পর্ক এবং তার ছদ্মবেশের কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে নতুন ধরনের ওষুধ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে এই মারাত্মক রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

এন্টামিবা হিসটোলাইটিকা সংক্রমণ সাধারণত অন্ত্রের প্রদাহ, ডায়রিয়া, পেটব্যথা ও রক্তযুক্ত পায়খানা সৃষ্টি করে। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি লিভার অ্যাবসেস, ফুসফুস বা মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটাতে পারে, যা জীবনহানির কারণ হয়।

বর্তমানে এই সংক্রমণের চিকিৎসায় মূলত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধ ব্যবহৃত হয়, যেমন মেট্রোনিডাজল। তবে পরজীবীর জটিল জীবনচক্র ও ইমিউন সিস্টেম এড়ানোর কৌশল চিকিৎসাকে জটিল করে তোলে। অনেক সময় রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ার কারণে রোগীর অবস্থা গুরুতর হয়।

নতুন গবেষণার আলোকে উন্নত ওষুধ ও টিকা আবিষ্কারের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত তীব্র। এর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে স্যানিটেশন ব্যবস্থা উন্নত করা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য।

বিশ্বের উন্নয়নশীল অঞ্চলে এন্টামিবা হিসটোলাইটিকার সংক্রমণ একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন, দূষিত পানি ও স্বাস্থ্যবিধির অভাব এই রোগের বিস্তারকে উৎসাহিত করে। দরিদ্র ও জনাকীর্ণ এলাকায় এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি হওয়ার ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতিও হয়। সংক্রমণের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির কর্মক্ষমতা কমে যায়, যা পরিবারের আয়ের ক্ষতি এবং সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। এন্টামিবা হিসটোলাইটিকার জীববিজ্ঞান ও সংক্রমণ প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক আবিষ্কারগুলো নতুন চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক পদ্ধতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ট্রোগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া নিয়ে আরও গভীর গবেষণা করা দরকার, যাতে এর বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা বা থেরাপি তৈরি করা যায়।

সিংহভাগ সম্পদ আফ্রিকায় দান করবেন- বিল গেটস

নিজের ৯৯ শতাংশ সম্পদ দান করার ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। এবার তাঁর সম্পদের বেশির ভাগই আগামী ২০ বছরে আফ্রিকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে বলে জানান।

৬৯ বছর বয়সী বিল গেটস বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আফ্রিকার প্রতিটি দেশকে একটি সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে হবে।

ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দফতরে এক ভাষণে তিনি এই ঘোষণা দেন। এ মহাদেশে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে কাজে লাগানো যায় সে সম্পর্কে তরুণ উদ্ভাবকদের চিন্তা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিল গেটসের গেটস ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তাদের তিনটি প্রধান লক্ষ্য হলো– মা ও শিশুর অকালমৃত্যু রোধ, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা এবং কোটি কোটি মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা।

গতমাসে সম্পদের ৯৯ শতাংশ দান করার ঘোষণা দেওয়ার সময় বিল গেটস জানিয়েছিলেন, তার আশা ২০৪৫ সালের মধ্যে এই সম্পদ ২০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে এবং ওই সময় ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

ব্লুমবার্গের মতে, বর্তমানে বিশ্বের পঞ্চম ধনী বিল গেটস তার সম্পদের ৯৯ শতাংশ দান করে দিলেও বিলিয়নিয়ারই থেকে যাবেন।

যদিও তার ফাউন্ডেশনের সমালোচনা করেন এমন ব্যক্তিরা বলছেন, মি. গেটস কর এড়াতে তার দাতব্য স্ট্যাটাস ব্যবহার করেন এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর এর অযৌক্তিক প্রভাব রয়েছে।

১৯৭৫ সালে পল অ্যালেনের সাথে মি. গেটস মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠার পর রাতারাতি কোম্পানিটি সফটওয়্যার এবং অন্যান্য প্রযুক্তি শিল্পে প্রভাবশালী শক্তি হয়ে ওঠে।

সাম্প্রতিক দশকগুলোতে মি. গেটস ধীরে ধীরে কোম্পানির বিভিন্ন পদ থেকে সরে আসেন। ২০০০ সালে প্রধান নির্বাহী এবং ২০১৪ সালে তিনি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস- ঢাকায় টিকে আছে ১৩ লাখ গাছ

সরকারের বন বিভাগ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সংস্থা ইউএস ফরেস্ট সার্ভিসের করা এক বৃক্ষ জরিপ থেকে জানা গেছে, ঢাকার ৩০৬ বর্গকিলোমিটারে এখনো টিকে আছে ছোট-বড় প্রায় ১৩ লাখ গাছ। ঢাকায় প্রথমবারের মতো এই বৃক্ষ জরিপ হয়েছে। নাম দেওয়া হয়েছে ‘আরবান ট্রি ইনভেনটরি অব ঢাকা সিটি’।

ঢাকা দক্ষিণে গাছ-আচ্ছাদিত জায়গার পরিমাণ ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। ঢাকা উত্তরে তা সাড়ে ১০ শতাংশ। বৃক্ষ জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডার টরন্টোয় প্রায় ২৭ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় ৩৭ শতাংশ ও নিউইয়র্কে প্রায় ২১ শতাংশ এবং জাপানের শিকাগোয় ১৭ শতাংশের বেশি এলাকা গাছে আচ্ছাদিত।

জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউএনইপির (ইউনাইটেড ন্যাশনস এনভায়রনমেন্টাল প্রোগ্রাম) নির্দেশিকা অনুযায়ী, একটি শহরের মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ সবুজ অঞ্চল থাকা উচিত।

বৃক্ষ জরিপ শুরু হয় ২০২২ সালে নভেম্বরে। উপাত্ত সংগ্রহ শেষ হয় ২০২৩ সালের ৮ এপ্রিল। এরপর উপাত্ত প্রক্রিয়াজাত ও বিশ্লেষণ করা হয় এবং গবেষণা প্রতিবেদন লেখা হয়। সম্প্রতি এটি বই আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণাটিতে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সংস্থা ইউএসএআইডি।

ঢাকায় সব মিলিয়ে ৩৩ গোত্রের ১১০ প্রজাতির গাছ পাওয়া গেছে। বৃক্ষ জরিপে ঢাকায় কোন গাছ বেশি, তা–ও উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, ১৩ লাখ গাছের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে আম, মেহগনি ও নারকেলগাছ। সবচেয়ে বেশি বায়ু পরিষ্কারক গাছ হচ্ছে মেহগনি। এরপর রয়েছে কালো কড়ই, আম ও জামগাছ।

পরিবেশবিদেরা বলছেন, গাছ ও জলাভূমি কমে যাওয়ায় ঢাকায় গরম বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণায় এসেছে যেসব এলাকায় গাছ ও জলাভূমি বেশি, সেখানে গরম কম অনুভূত হয়। যেখানে গাছ ও জলাভূমি কম, সেখানে গরম বেশি লাগে। আবার ঢাকার আশপাশের জেলার চেয়ে ঢাকায় গড় তাপমাত্রা বেশি থাকে।

স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা শহরে যত জনসংখ্যা ধারণ করতে পারে, তার তিন গুণ মানুষ এখানে বসবাস করেন। জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সবুজ এলাকা বাড়ানো উচিত ছিল, অথচ ঘটছে উল্টোটা।

তিনি বলেন, ‘আগে ঢাকার সবুজের তিনটি লেয়ার (স্তর) ছিল। ঘাস, লতাগুল্ম ও গাছ। ঘাস আর লতাগুল্ম হারিয়ে এখন টিকে আছে কিছু গাছ। তা-ও সৌন্দর্যবর্ধনের নামে কাটা পড়ছে। ঘাস আর লতাগুল্ম ভূপৃষ্ঠের তাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঢাকায় সবুজের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা না নিলে তীব্র তাপপ্রবাহে নগরবাসীর সংকট আরও বাড়বে।’

প্রমাণ ছাড়া এসব গ্রেপ্তার থামাতেই হবে : ডেভিড বার্গম্যান, সাংবাদিক

0

“জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী ও বর্তমানে ব্যবসায়ী শমী কায়সার কারাবন্দী আছেন ৬ মাস ধরে। সাংবাদিক দম্পতি ফারজানা রুপা ও শাকিল আহমেদ ৮ মাস, সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর ৭ মাস; লেখক ও নির্মূল কমিটির সাবেক নেতা শাহরিয়ার কবির ৮ মাস আর জ্যেষ্ঠ সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু ও শ্যামল দত্ত ৭ মাস ধরে কারাবন্দী।…সম্প্রতি একই ধরনের মামলায় আটক হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও সাবেক সংসদ সদস্য সংগীতশিল্পী মমতাজ।

… তাঁদের সবাইকে একটি নির্দিষ্ট গোলাগুলির ঘটনায় হত্যা বা হত্যাচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে এই অভিযোগের পক্ষে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে, এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তাঁদের গ্রেপ্তারের ভিত্তি হচ্ছে, ওই সময় আহত বা নিহত ব্যক্তিদের স্বজনের দায়ের করা এফআইআর (প্রথম তথ্য প্রতিবেদন)। এই এফআইআরে অভিযোগ তোলা হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বা ওই গোলাগুলির জন্য অর্থ জোগান দেওয়া কিংবা তা উসকে দেওয়ার কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

পুলিশ গ্রেপ্তারের আগে কোনো ধরনের তদন্তের চেষ্টা পর্যন্ত করেনি। দীর্ঘ কয়েক মাস আটক রাখার পরও এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ আদালতে এমন কোনো নতুন প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি, যা এই নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর সঙ্গে তাঁদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে।

ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা আদালত, এমনকি উচ্চ আদালতেও— প্রতিটি স্তরে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ও আইনজীবীরা জামিনের বিরোধিতা করেছেন।আদালতগুলোও প্রমাণের অভাব উপেক্ষা করে এই আটকাদেশগুলো বারবার বহাল রেখেছেন। যেখানে উচ্চ আদালত সাময়িক জামিন দিয়েছেন, সেখানে অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর সুপ্রিম কোর্ট থেকে স্থগিতাদেশ চেয়েছে ও তা পেয়েছেও।

… বিচারব্যবস্থা যেন এমন সব মানুষকে দীর্ঘদিন কারাগারে পড়ে থাকতে দিতে অস্বস্তি বোধ করছে না। এসব মামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যাঁরা বয়োবৃদ্ধ এবং গুরুতর অসুস্থ, তাঁরাও জামিন পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। … দুর্ভাগ্যজনকভাবে এসব অনিয়ম নিয়ে নাগরিক সমাজ ও মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো অস্বস্তিকর রকম নীরব।

অনেকেই আশা করেছিলেন যে আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিস্তার লাভ করা যথেচ্ছ ও অন্যায় আটক রাখার সংস্কৃতি তাদের পতনের মধ্য দিয়ে এর অবসান ঘটবে। কিন্তু তার বদলে দেখা যাচ্ছে, নতুন সরকার মুখে সংস্কারের যতই বুলি আওড়াক, এই পুরোনো দমনমূলক চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় না কিংবা হয়তো পারছে না।

এ-ও সত্য হতে পারে যে, এই আটকগুলোর অনেকগুলোই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এফআইআরের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। এগুলো হয়তো সরাসরি সরকারের নয়, বরং রাজনৈতিক দল বা অন্য রাজনৈতিক চরিত্রের সহায়তায় দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু এসব অপব্যবহারে হস্তক্ষেপ করে সেগুলো সংশোধন করতে সরকারের ব্যর্থতা অগ্রহণযোগ্য।

… এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, বহু আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ রয়েছে এবং অনেকেই আছেন, যাঁদের গ্রেপ্তার ও আটক হওয়াটাই প্রাপ্য ছিল, যেমনটি অনেকের ক্ষেত্রে ঘটেছেও।

কিন্তু ওপরে উল্লিখিত ব্যক্তিরাসহ বর্তমানে যেসব ব্যক্তি কারাগারে রয়েছেন, তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে হত্যা বা হত্যাপ্রচেষ্টার কোনো বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ নেই। এ মানুষগুলো বন্দী থাকার মূল কারণ হলো, তাঁরা সবাই আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সমর্থক। তাঁরা গত ১৫ বছরের শাসনামলে প্রবলভাবে সরকারের অনুগত ছিলেন।

তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনার যথেষ্ট যুক্তিসংগত কারণ অবশ্যই থাকতে পারে। আওয়ামী লীগ শাসনামলে তাঁরা এমন এক সরকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যে সরকার বিরোধী দল দমন করেছে, নির্বাচনে জালিয়াতি করেছে, গুম করেছে, সংবাদমাধ্যমকে চুপ করিয়ে রেখেছে ও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে অন্যায়ভাবে মানুষকে আটক রেখেছে। রাজনৈতিক আনুগত্য কিংবা কোনো কর্তৃত্ববাদী শাসনের কট্টর সমর্থক বা প্রচারক হওয়াটাই অপরাধ নয়।

… যেসব মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে একমাত্র ‘প্রমাণ’ হলো, তাঁরা গত কয়েক বছরে আওয়ামী লীগের প্রতি বাড়াবাড়ি রকম সমর্থন দেখিয়েছেন, অথবা জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করেছেন, সেসব ক্ষেত্রে সরকারের উচিত নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে উচ্চ আদালত পর্যন্ত সরকারি কৌঁসুলিদের জামিনের বিরোধিতা না করতে নির্দেশ দেওয়া।

… এসব অভিযোগসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারেন, এমন সব বিষয় নিয়ে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে না, এমন তো নয়। আর আদালত চাইলে জামিন দেওয়ার শর্ত হিসেবে বিদেশে যাওয়া নিষিদ্ধ করার মতো ব্যবস্থা নিতে পারেন।

… বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন এমন কিছু শক্তিশালী গোষ্ঠী দৃশ্যমান, যারা আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া ও মানবাধিকারকে উপেক্ষা করছে। বড় পরিহাসের বিষয় হলো, এরাই একসময় ঠিক এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে সরব ছিল। এই গোষ্ঠীগুলোর রয়েছে প্রবল রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রচারের ক্ষমতা। এবং তারা সম্ভবত কোনোভাবেই আটক আওয়ামী লীগপন্থীদের মুক্তির পক্ষে যাবে না, তাঁদের আটক অযৌক্তিক বা ভিত্তিহীন হলেও।

এই চাপের মুখে সরকারকে দৃঢ় থাকতে হবে। কিন্তু এই অবস্থানের ভার যদি শুধু আইনমন্ত্রীর কাঁধে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে তা সহজ হবে না; বরং এটি হতে হবে পুরো ইউনূস মন্ত্রিসভার একটি সম্মিলিত অবস্থান।

এখানে যাঁরা নিজেদের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে দাবি করেন, তাঁদের সবারই স্পষ্ট ও প্রকাশ্যে এই বিষয়ে মুখ খুলতে হবে।তাঁদের বলতে হবে—বিচার প্রতিশোধ নয়, এবং সাংবিধানিক গণতন্ত্রে বিচারবহির্ভূতভাবে আটক রাখার কোনো স্থান নেই। …”

গাজার অবস্থা ‘নরকের চেয়েও খারাপ’ : রেড ক্রস

গাজার পরিস্থিতিকে ‘নরকের চেয়েও খারাপ’ বলে বর্ণনা করেছে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস (আইসিআরসি)। উপত্যকায় ইসরায়েলের অবরোধ, অব্যাহত বিমান হামলা, স্থল অভিযান ও ত্রাণ সরবরাহের নামে ক্ষুধার্ত মানুষকে গুলি করে হত্যার প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার সংস্থাটি এ মন্তব্য করল।

বুধবার জেনেভায় সংস্থাটির সদরদপ্তরে বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সংস্থার প্রধান মিরজানা স্পলজারিক বলেন, মানবতা ব্যর্থ হচ্ছে। যুদ্ধ বন্ধ করে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে জিম্মিদের মুক্ত করতে দেশগুলো যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

মিরজানা বলেন, ফিলিস্তিনিদের মানবিক মূল্যবোধকে চূর্ণ করে দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মান্য করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, গাজায় যা হচ্ছে, তা যে কোনো আইনি গ্রহণযোগ্যতা, নৈতিকতা ও মানবিক মান অতিক্রম করে গেছে।

সংস্থাটির অন্তত ৩০০ কর্মী উপত্যকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। রাফায় তাদের একটি চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে। ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিতর্কিত যে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রটিতে গুলি করে ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা হয়েছে, সেটি তাদের চিকিৎসাকেন্দ্রের অদূরেই।

আইসিআরসি জানায়, সোমবার সকালে রাফায় তাদের অস্ত্রোপচার দল ১৮৪ জন আহত-রক্তাক্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে আসে। তাদের মধ্যে ১৯ জন পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই মারা যান। আরও আটজন মারা যান কিছুক্ষণ পর। এক বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে গাজার এ ফিল্ড হাসপাতালে এটিই একক সর্বোচ্চ হতাহতের ঘটনা।

আইসিআরসি এমন একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন যারা যুদ্ধ এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের জেনেভা কনভেনশনের তত্ত্বাবধায়ক মনে করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য এটি করা হয়েছে।

গাজা থেকে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের মুখপাত্র বলেন, যে পরিমাণ ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে, তা একেবারেই অপর্যাপ্ত। ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার, যিনি বর্তমানে গাজায় অবস্থান করছেন, সেখানে মাত্র একদিনেই যে ভয়াবহতা দেখেছেন তা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি কিশোর ছেলেদের কাঁদতে দেখছি, যারা তাদের হাড়গোড় দেখাচ্ছে। শিশুরা খাবারের জন্য আকুতি জানাচ্ছে।’

ইসরায়েলের গণহত্যার বিরুদ্ধে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও বিক্ষোভ চলছে। তিন দিনব্যাপী একটি কর্মসূচির ডাক দেয় ইসরায়েলের একটি সংগঠন, যেখানে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে তেল আবিব থেকে গাজার সীমান্ত অভিমুখে রওনা করবেন। ইসরায়েলের একটি কট্টরপন্থি গ্রুপ সম্প্রতি গাজার ত্রাণের ট্রাক আটকে দিয়েছিল। এ বিক্ষোভকারীরা তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোরও বার্তা দিচ্ছেন। তারা যুদ্ধ বন্ধ ও জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছেন।

এদিকে, ভূমধ্যসাগরে জাহাজে ত্রাণ নিয়ে গাজার দিকে এগোচ্ছেন জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ও তাঁর ১১ সদস্যের দল। তবে ‘মাদলিন’ নামে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের ওই জাহাজে হামলার ঝুঁকিও রয়েছে। আলজাজিরা জানায়, ইসরায়েলের তৈরি হেলিনিক কোস্টগার্ড ড্রোন এরই মধ্যে ‘মাদলিন’-এর ওপর ঘুরে গেছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) এক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবটিতে গাজায় অবিলম্বে, নিঃশর্ত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়েছিল।

১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের ১৪টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র তাতে বিরোধিতা করে ভেটো দেয়। প্রস্তাবে গাজায় আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির কথাও উল্লেখ ছিল।

ভোটাভুটির আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ডরোথি শিয়া পরিষদে বলেন, এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করবে যুক্তরাষ্ট্র এবং এটা ‘অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়’। তিনি বলেন, ‘এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে যে, ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে–যার মধ্যে হামাসকে পরাজিত করা এবং তারা যেন আর কখনো ইসরায়েলকে হুমকি দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করাও অন্তর্ভুক্ত।’