Home Blog Page 57

ভারতে অ্যাপলের কারখানা থেকে চীনা কর্মীদের প্রত্যাহার – নেপথ্যে কি?

টেক জায়ান্ট অ্যাপলের ভারতভিত্তিক উৎপাদন সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা লেগেছে। কারণ, অ্যাপলের আইফোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফক্সকন শত শত চীনা প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীকে ভারতে তাদের কারখানা থেকে ফিরিয়ে নিচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন আইফোন কারখানায় নিযুক্ত অধিকাংশ চীনা কর্মীকে দুই মাস আগে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই মধ্যে ৩০০ জনের বেশি কর্মী ভারত ছেড়ে গেছেন। এখন সেসব কারখানায় তাইওয়ানের সহায়ক কর্মীরা দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত অ্যাপল বা ফক্সকনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, চীনের মৌখিক চাপ ও প্রযুক্তি স্থানান্তর রোধের কৌশল এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। চীনের কর্মকর্তারা চলতি বছরেই দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রযুক্তি স্থানান্তর ও যন্ত্রপাতি রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

চীনা কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপলের উৎপাদন দক্ষতা ও প্রযুক্তির মূল বাহক হিসেবে কাজ করে আসছেন। ফক্সকনের দক্ষিণ ভারতের কারখানাগুলোতে এখন ভারতীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর বিলম্বিত হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যেতে পারে।

একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র ব্লুমবার্গকে বলেছে, চীনা কর্মীরা চলে যাওয়ায় প্রোডাকশনের মানে তেমন প্রভাব না পড়লেও কারখানার উৎপাদন দক্ষতায় বড় প্রভাব পড়বে।

অ্যাপলের লক্ষ্য ছিল, ২০২৬ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া সিংহভাগ আইফোন চীনের বাইরে, তথা ভারতে তৈরি করা। বর্তমানে ভারতে প্রায় চার কোটি আইফোন উৎপাদিত হয়, যা অ্যাপলের বার্ষিক উৎপাদনের প্রায় ১৫ শতাংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-চীন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন এই কর্মী প্রত্যাহারের বড় কারণ হতে পারে। এতে শুধু অ্যাপলের উৎপাদন পরিকল্পনা নয়, ভারতের বৈশ্বিক প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভাবের স্বপ্নেও আঘাত আসতে পারে।

পিংকার বনাম নিৎসে – সঙ্গীত কি প্রয়োজনীয় নাকি বিলাসিতা?

“Without music, life would be a mistake.” – Friedrich Nietzsche”

কেন আমরা সঙ্গীত শুনি? কেন গান আমাদের আবেগকে নাড়া দেয়, আর চলচ্চিত্রে ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক না থাকলে দৃশ্যগুলো ফাঁপা লাগে? মনোবিজ্ঞানী স্টিভেন পিংকার বলবেন, এসব নিছক বিলাসিতা। কিন্তু নিট্শে বলেন “সঙ্গীত ছাড়া জীবন ভুল” এমন ভুল যা আমাদের মানবতাকে বিলীন করে ফেলত। আমরা জানবো, কেন ফ্রিডরিখ নিট্শে মনে করেন সঙ্গীত ভাষার ভিত্তি, আর কেন স্টিভেন পিংকারের মতো আধুনিক বিজ্ঞানীদের সঙ্গে এই ধারণার একটি মৌলিক দ্বন্দ্ব রয়েছে।

স্টিভেন পিংকার সঙ্গীতকে বলেন “auditory cheesecake” একটা উপভোগ্য কিছু, কিন্তু জীবনের জন্য অপরিহার্য নয়। ভাষা, সামাজিক বিবেচনা, বা দৃষ্টির মতো মৌলিক কিছু নয় সঙ্গীত, বরং এটি বিবর্তনের একটি ‘spandrel’, যা মূল বিবর্তনগত সুবিধার পাশে জন্ম নেওয়া এক প্রকার ‘উপ-পণ্য’।পিংকারের মতে, সঙ্গীত হারিয়ে গেলেও মানবজীবনের চালচলনে খুব একটা প্রভাব পড়বে না।

এক্ষেত্রে নিট্শের ধারণা একেবারেই ভিন্ন। তিনি বলেন, ভাষার অস্তিত্বই নির্ভর করে সঙ্গীতের উপর। মানুষের ভাষায় যে সুর, ছন্দ, ভঙ্গি তা ছাড়া শব্দ কেবল নির্জীব প্রতীকমাত্র। ভাষার আবেগগত ও অভিব্যক্তিমূলক দিক এসেছে সেই ‘সঙ্গীতধর্মী উপস্তর’ (tonal subsoil) থেকে।

ভাষার জন্ম কি সঙ্গীতের গর্ভে?

নিট্শে তার অপ্রকাশিত নোটবুকে ভাষার দুটি উপাদানের কথা বলেন,
১. টোন বা ছন্দ (prosody) – বাক্যের সুর, ওঠানামা, আবেগ
২. ইঙ্গিতমূলক অঙ্গভঙ্গি (gesture-symbolism) – ধ্বনির মাধ্যমে তৈরি প্রতীক যা মুখমণ্ডলের অঙ্গের অবস্থান থেকে গঠিত হয়।

এই দুইয়ের মধ্যে নিট্শে মনে করেন, টোন বা সঙ্গীতধর্মী উপাদানই ভাষার ভিত্তি। শব্দ অর্থ বহন করে এই কারণে যে, আমরা আমাদের অভিজ্ঞতার আবেগিক স্তর যেমন আনন্দ, কষ্ট, ভয় সুর ও ছন্দের মাধ্যমে বুঝতে পারি। ভাষার প্রতীক তখনই অর্থবহ হয়, যখন আমাদের অভ্যন্তরীণ জগতে তা কোনো অনুভূতির সঙ্গে মিলে যায়।

সঙ্গীত না থাকলে ভাষা থাকত না?

নিট্শে মনে করেন, ভাষা কোনো একক ব্যক্তি আবিষ্কার করেনি। বরং এটি ছিল গোষ্ঠীগত অস্তিত্বের জন্য প্রয়োজনীয়। প্রাগৈতিহাসিক মানব সমাজে ভাষা ছিল ঝুঁকির সংকেত দেওয়ার একটি পদ্ধতি—যেমন শিকার আসছে, বা আগুন লেগেছে। এই ভাষা ব্যবহার করার জন্য প্রয়োজন ছিল সচেতনতা, এবং সেই সচেতনতা জন্মায় যখন আমরা বুঝি অন্যরাও আমাদের মতো অনুভব করতে পারে। এই পারস্পরিক অনুভবের তাৎক্ষণিক সংযোগ তৈরি করেছিল নানা সঙ্গীতধর্মী টোন, যা পরে গড়ে তোলে ভাষাকে।

নিট্শে তার প্রথম বই The Birth of Tragedy-এ সঙ্গীতের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন শোপেনহাওয়ারের প্রভাবিত দর্শনে। শোপেনহাওয়ার বলেন, সঙ্গীত আমাদের ইচ্ছাশক্তি বা “will”-এর সরাসরি প্রতিচ্ছবি। আর্ট অন্য যেকোনো মাধ্যম যেখানে ‘বিশ্বজনীন ধরণে’ কিছু প্রকাশ করা হয়, সেখানে সঙ্গীত আমাদের ব্যক্তিত্বের বাইরে গিয়ে একটি মৌলিক অস্তিত্বের ছোঁয়া দেয়। শোপেনহাওয়ারের মতে, সঙ্গীত প্রকাশ করে আবেগের সারাংশ, নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে আবদ্ধ আবেগ নয়। গান বলতে পারে দুঃখ—কিন্তু এমন দুঃখ যা নির্দিষ্ট কোনো স্মৃতির নয়, বরং দুঃখ নিজেই।

গ্রিক ট্র্যাজেডিগুলোতে নাট্যপাত্ররা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি ছিল কোরাসের গাওয়া গান। এই সঙ্গীতই ছিল দর্শকদের আবেগ-সংক্রমণের প্রধান উৎস। তারা শুধু গল্প দেখেনি, তারা সঙ্গীতের মাধ্যমে নিজেকে তার অংশ ভেবেছে। নাটক ছিল আত্মদর্শনের এক সম্মিলিত উৎসব। ব্যক্তিগত উদ্বেগ ছাপিয়ে দর্শক এক বৃহত্তর জীবনের স্রোতে বিলীন হতে পেরেছে, এটি সঙ্গীত ছাড়া সম্ভব হতো না।

বর্তমান সময়ে নিট্শের যুক্তিকে আমরা সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, বা গানের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশের মধ্যে প্রতিফলিত দেখতে পাই। নিট্শে হয়তো অতিরিক্ত রোমান্টিক ছিলেন, কিন্তু তার এই থিসিস আমাদের শেখায় মানুষ শুধু কথায় কথা বোঝে না, বরং কণ্ঠের সুর, ছন্দ, থেমে যাওয়ার ভঙ্গি থেকেও অর্থ গ্রহণ করে।

স্টিভেন পিংকার হয়তো সঙ্গীতকে গার্হস্থ্য ভোজনের চিজকেক বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু নিট্শে বলছেন এটা আমাদের ভাষার প্রাণ এবং তার চেয়েও বড় কথা, মানবতার অনুভব। আমরা কথা বলি কারণ আমরা একে অপরকে অনুভব করি। আর এই অনুভবের প্রথম মাধ্যম হলো সঙ্গীত। সুতরাং নিট্শের সেই বহুলউদ্ধৃত উক্তি কেবল রোমান্টিক নয়, এটি এক গভীর দার্শনিক সত্য।

সদা ব্যস্ত থাকা’র সংস্কৃতি আমাদের অসুস্থ করে তুলছে

ব্যস্ততার মানে কি সফলতা?
কখনো এমন মনে হয়েছে, একটু বিশ্রাম নিলে যেন অপরাধবোধে ভুগছেন? আপনি হয়তো সপ্তাহান্তে একদিন অলস কাটাতে চেয়েছেন, কিন্তু মনে হয়েছে “আমি যে কিছু করছিই না!” এমন অনুভব আজকের Gen Z ও মিলেনিয়াল প্রজন্মদের মধ্যে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এই অনুভবের পেছনে কাজ করছে একটি অদৃশ্য সামাজিক চাপ, যার নাম Toxic Productivity বা বিষাক্ত উৎপাদনশীলতার সংস্কৃতি। এর আরেক নাম Hustle Culture, যেখানে কাজই জীবন, বিশ্রাম মানে অলসতা।

‘হাসল কালচার’ কীভাবে জন্ম নিল?
ইনস্টাগ্রামে “#hustlehard” বা “#grindmode” লিখে খুঁজলে লক্ষ লক্ষ পোস্ট পাবেন। সিলিকন ভ্যালি থেকে ঢাকার স্টার্টআপ তরুণ, সবাই যেন বলছে “চাকরি নয়, নিজের বস হও”, ” পরের জীবনে ঘুমাও”, কিংবা “২৪ ঘণ্টা কাজে দাও”। এই ভাবনার উৎস মূলত ২০০০-এর দশকের আমেরিকান উদ্যোক্তা সংস্কৃতি থেকে, যেখানে স্টিভ জবস বা এলন মাস্কের মত ব্যক্তিত্বরা নিজেদের কাজ-নেশাকে গর্বের প্রতীক বানিয়েছেন। তারপর এই মানসিকতা সোশ্যাল মিডিয়া, ইনফ্লুয়েন্সার কালচার ও ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। বিশেষ করে COVID-১৯ পরবর্তী সময়ে, যখন বাড়িতে বসে কাজের পরিসর অস্পষ্ট হয়ে যায়, তখন মানুষ ২৪/৭ চলমান থাকার অদৃশ্য বাধ্যবাধকতায় পড়ে। হোম অফিস আর অফিসের পার্থক্য মুছে গেলে কাজ না করা মানে হয়ে দাঁড়ায় অপ্রয়োজনীয় হওয়া।

বিশেষত Gen Z ও মিলেনিয়ালরা এই কালচারের প্রধান শিকার। কারণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় চাকরি হারানোর ভয়, ইনফ্লেশন, হাউজিং ক্রাইসিস ইত্যাদি চাপে তারা মনে করে জীবনের সবসময় কিছু না কিছু করে যেতে হবে। অন্যদের সফলতা দেখে নিজের জীবনের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা বাড়ছে। এই প্রজন্ম আত্মপরিচয় তৈরি করছে কতটা ব্যস্ত সে হিসেব করে। একাধিক গবেষণা যেমন ২০২২ সালে American Psychological Association-এর রিপোর্ট দেখিয়েছে, ১৮-৩৫ বছর বয়সীদের ৭২% বিশ্রাম নিতে গেলেই ব্যর্থ বোধ করেন। ব্যস্ত থাকার জন্যই যেন তাদের সামাজিক মূল্যবোধ তৈরি হচ্ছে।

এই সংস্কৃতির সবচেয়ে ভয়ানক দিক হলো অসুস্থতাকে প্রোডাক্টিভনেসের অন্তরায় হিসেবে দেখা। কেউ যদি বিষণ্নতায় ভোগে, সে নিজেকেই দোষ দেয় আমি দুর্বল, আমি অলস।

বার্নআউট এখন WHO স্বীকৃত মানসিক অবস্থা। বিষণ্নতা, ঘুমের ব্যাঘাত, আত্ম-সন্দেহ (Imposter Syndrome) এবং আতঙ্ক (Anxiety) বাড়ছে। ২০২৩ সালের ইউএস সার্জন জেনারেলের রিপোর্ট অনুযায়ী, Gen Z-র মধ্যে মানসিক অবসাদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ভারতের একটি সমীক্ষা (LinkedIn, 2021) বলছে, ৮৭% কর্মজীবী মানুষ ওয়ার্ক-ফ্রম-হোমে ক্লান্তি বা Burnout অনুভব করেছেন।

অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ও বসে থাকা জীবনধারা থেকে হার্ট ডিজিজ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি।
খাবার ও ঘুমের অনিয়ম দৈহিক দুর্বলতা বাড়ায়।
প্রাপ্তবয়স্কদের বড় অংশ দৈনিক পর্যাপ্ত পানি পান, ব্যায়াম বা সূর্যালোক গ্রহণ থেকে বঞ্চিত থাকেন শুধুমাত্র কাজের চাপে।

সমাজ কি এই বিষক্রিয়া টিকিয়ে রাখছে?
এ প্রশ্নটির উত্তর ‘হ্যাঁ’। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, চাকরি বাজার, এমনকি পরিবারও বলে “ব্যস্ত থাকো, “কাজ না করলে মানে তুমি ব্যর্থ”। চাকরি ও ফ্রিল্যান্স প্ল্যাটফর্মগুলো ২৪/৭ অ্যাক্টিভ থাকা উৎসাহিত করে। সংবাদপত্রে “সফল তরুণদের গল্প” মানে এমন কাউকে পাওয়া যে দিনে ১৬ ঘণ্টা কাজ করে। এইভাবে এক ধরণের “ক্যাপিটালিস্ট হিরোইজম” তৈরি হয়, যেখানে বিশ্রামহীনতা সাফল্যের সাইন। এমনকি ঘুম, বন্ধুত্ব বা ব্যক্তিগত সময় ব্যয় করাও অনুৎসাহিত হয়।

সৌভাগ্যবশত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু সামাজিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে, “Quiet Quitting” মুভমেন্ট স্বাস্থ্য ও ভারসাম্য রক্ষায় মার্কিন তরুণদের একটি অংশ চাকরিতে কেবল ন্যূনতম দায়িত্ব পালন করছে, ওভারটাইম করছে না। “Doing Nothing is Productive” ধরনের বই ও পডকাস্ট জনপ্রিয় হচ্ছে। ইউরোপে “Slow work, mindful living” ট্রেন্ড শুরু হয়েছে, যেখানে কম কাজ করেই বেশি মানসিক শান্তির দিকে নজর। Microsoft Japan, Buffer, Iceland-এর কিছু প্রতিষ্ঠান ৪ দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করে দেখিয়েছে প্রোডাক্টিভিটি বাড়ে, মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়।অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মীরা যখন সপ্তাহে একদিন কম কাজ করে, তখন তাদের উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও ক্লান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

কাজ ও সফলতা’কে একসূত্রে বাঁধা একটা পুরনো সমাজিক গাঁথুনি ভেঙে ফেলার সময় এসেছে। আমাদের প্রজন্মকে বোঝাতে হবে “তুমি মানুষ, মেশিন নও”।বিশ্রাম, অলসতা এবং অনুভব করার জন্য সময় নেওয়াও একটা স্বাস্থ্যের অংশ। ‘কাজ করে যাও’ এই মন্ত্র নয়, বরং ‘কখন থামতে হবে’ এই বোধই ভবিষ্যৎ সমাজের প্রজ্ঞা।

হামাস গাজার ৮০% নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে : শীর্ষ কর্মকর্তা

হামাস ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার প্রায় ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বলে বিবিসি-কে জানিয়েছেন সংগঠনটির এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তিনি জানান, গাজায় হামাসের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে পড়ার কারণে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করছে স্থানীয় সশস্ত্র গোত্রগুলো।

ওই কর্মকর্তা বলেন, কয়েক মাস ধরে চলা ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাসের নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যা সংগঠনটির রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

হামাসের ওই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর প্রথম সপ্তাহে ইসরায়েলি হামলায় আহত হন। এর পর থেকে স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বিবিসিকে বেশ কিছু ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছেন। ভয়েস মেসেজগুলোতে ওই কর্মকর্তা হামাসের অভ্যন্তরে ভাঙনের ও গাজাজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রায় পুরোপুরি পতনের একটি চিত্র তুলে ধরেন।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘নিরাপত্তা কাঠামোর প্রায় কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। নেতৃত্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ এখন মৃত…সক্রিয় ব্যক্তিরা সবাই মারা গেছেন। তাহলে ইসরায়েলকে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া থেকে আটকাবে কিসে?’

ওই নিরাপত্তা কর্মকর্তার মতে, চলতি বছরের শুরুতে ইসরায়েলের সঙ্গে ৫৭ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় হামাস তাদের রাজনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা পরিষদ পুনর্গঠনের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মার্চে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে আবার হামাসের অবশিষ্ট নেতৃত্ব কাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এ কারণে সংগঠনটি বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে।

ওই কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তা-শূন্যতার কারণে গাজায় সশস্ত্র গোষ্ঠী বা গোত্র ‘সর্বত্র’ ছড়িয়ে পড়েছে, ‘তারা আপনাকে থামাতে পারে, হত্যা করতে পারে। কেউ বাধা দেবে না। কেউ প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে ইসরায়েল আধঘণ্টার মধ্যে বোমাবর্ষণ করে।’

গত ২৬ জুন ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় গাজার একটি বাজারে অন্তত ১৮ জনের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় সেখানে দাম বাড়ানো ও ত্রাণ লুটের অভিযোগে অভিযান চালাচ্ছিল হামাসের পোশাকবিহীন পুলিশ বাহিনী।

অন্যদিকে গাজার দক্ষিণে ছয়টি সশস্ত্র গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে, যারা স্থানীয় ক্ষমতাসীন গোত্রের সঙ্গে যুক্ত। গাজার কয়েকটি সূত্র বিবিসিকে বলেছে, আবু শাবাব ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী একটি যৌথ পরিষদ গঠন করে হামাসকে উৎখাতের পরিকল্পনা করছে।ইসরায়েল তাকে অস্ত্র সরবরাহ করছে বলে জানা গেছে।

গাজায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করেছে। হামাসের জন্য এখন ইসরায়েলি হামলার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বীরা বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্প প্রশাসন ‘খুব সামান্যই আগ্রহী’ : কুগেলম্যান

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে সাম্প্রতিক টেলিফোন কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে ওয়াশিংটন-ভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন — ইউনূস-রুবিওর ফোনালাপ নিয়ে উভয় সরকারের বিবরণ থেকে বোঝা যায়, ওয়াশিংটন এখন ঢাকার সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে বাণিজ্য এবং বৃহৎ শক্তির প্রতিযোগিতার দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতি বিষয়ক সাময়িকী ফরেন পলিসির উইকলি সাউথ এশিয়া ব্রিফ-এ তিনি এসব কথা বলেন।

কুগেলম্যান উল্লেখ করেছেন, দুই নেতা অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে অংশীদারত্বের বিষয়ে কথা বলেছেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই নিরাপত্তা বৃদ্ধির মূল অর্থ হলো চীনকে মোকাবেলা করা।

কুগেলম্যান বলেন, দুটি উদ্দেশ্যই (বাণিজ্য এবং বৃহৎ শক্তির প্রতিযোগিতা) ঢাকার জন্য চ্যালেঞ্জ। ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না করলে বাংলাদেশ ৩৭ শতাংশ মার্কিন শুল্কের সম্মুখীন হবে।

কুগেলম্যান পর্যবেক্ষণ করেছেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করে আসছে, যার লক্ষ্য বৃহৎ শক্তিগুলোর পক্ষে বা বিপক্ষে না থেকে তাদের সঙ্গে সম্পর্কে ভারসাম্য বজায় রাখা।

৩০ জুন অধ্যাপক ইউনূস মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে ফোনে কথা বলেন, যা দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের সময়কালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বাংলাদেশ-মার্কিন আলোচনার একটি। কুগেলম্যান মনে করেন, এই ফোনালাপটি ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ধরন কেমন হতে পারে, তার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়।

বাইডেন প্রশাসনের শেষ মাসগুলোতে মার্কিন কর্মকর্তারা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সংস্কারের জন্য নতুন উন্নয়ন সহায়তা ও কারিগরি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

ট্রাম্পের বর্তমান প্রশাসনের উদ্দেশ্য ভিন্ন বলে মনে করেন কুগেলম্যান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ব্যাপকভাবে বিদেশি সহায়তা কমিয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা বা জাতি গঠনে অর্থ ব্যয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘খুব সামান্যই আগ্রহী’।

বিএনপির পরে তরুণ ভোটারদের পছন্দের শীর্ষে জামায়াত-এনসিপি : সানেমের জরিপ

তরুণদের রাজনৈতিক ঝোঁক ও আগ্রহ বুঝতে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের যৌথভাবে পরিচালিত ‘ইউথ ইন ট্রানজিশন’ শীর্ষক জরিপের ফলাফল সোমবার ৭ জুলাই প্রকাশিত হয়েছে। এ জরিপে দেশের ৮ বিভাগের গ্রাম ও শহরের ১৫-৩৫ বছর বয়সী প্রায় ২ হাজার তরুণ-তরুণীর মতামত নেওয়া হয়েছে।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ৩৮.৭৬% তরুণ ভোটার বিএনপিকে ভোট দিতে চান। ২১.৪৫% ভোটারের পছন্দের দল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ।সদ্যগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ১৫.৮৪% ভোটার। সানেমের জরিপে আরো উঠে এসেছে, নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি পেলে আওয়ামী লীগ পাবে ১৫.০২% ভোট।

জরিপে অংশ নেওয়া তরুণরা মনে করেন — অন্যান্য ধর্মীয় দলগুলো পাবে ৪.৫৯% ভোট, জাতীয় পার্টি পাবে ৩.৭৭% এবং অন্যান্য দল পাবে ০.৫৭% ভোট। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসির নিচে ৪০%, এসএসসি বা এর ওপরে ৬০%। এর মধ্যে শহরের ছিল ৫০% এবং গ্রামের ৫০%।

জরিপে অংশ নেওয়া তরুণ ভোটারদের ৭৬.৭৮% জানিয়েছেন, তারা আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে চান। তবে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে তাদের অংশগ্রহণের বিষয়ে হতাশা ও অনাগ্রহ আছে।

৮২.৭% তরুণ জানিয়েছেন, তারা রাজনীতিতে যুক্ত হতে চান না। কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন রাজনৈতিক সহিংসতা ও রাজনীতিবিদদের নৈতিকতার অভাব। অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন–দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের সুযোগের বিষয়ে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা প্রকট।

দেশের ৮ বিভাগের দুই জেলা ও প্রতিটি জেলার দুই উপজেলার তরুণ-তরুণীরা জরিপে অংশ নিয়েছেন। জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান জানান, ‘জরিপের ফলাফল শুধু তরুণ অংশগ্রহণকারীদের মতামত তুলে ধরেছে। রাজনীতির বিষয়ে এটি পুরো জনসংখ্যার বা অন্যান্য বয়সের নাগরিকদের চিত্র নয়।’

ধান-চালের বাজারে এখনো সিণ্ডিকেট, চালের দাম বাড়ছে কৃষকও লাভ পাচ্ছে না

• দেশের মোট চালের প্রায় ৫৫% বোরো মৌসুমে উৎপাদন হয়। ফলন ভালো হলে সরবরাহ বাড়ে, আর বাজারে দাম কমে।

• এ বছর বোরোতে রেকর্ড ২ কোটি ১৪ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার বোরো উৎপাদন ১৫ লাখ টন বেশি হয়েছে। তবু বাজারে চালের দাম বেড়েছে।

• টিসিবির প্রতিবেদন বলছে–গত এক মাসে সরু চালের দাম বেড়েছে ৫%। এ ছাড়া মাঝারি ও মোটা চালের দর বেড়েছে ৯ শতাংশের বেশি। অথচ খাদ্যের মজুত গত বছরের এই সময়ের চেয়ে এখনও বেশি।

• খুচরা বিক্রেতা ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা চালের দাম বাড়াকে মিলারদের কারসাজি হিসেবে দেখছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, মূলত পরিবহনের ভাড়া ও ধানের দাম বেড়ে যাওয়া এবং চালকলে খরচ বেশি পড়ায় দামে প্রভাব পড়েছে। এর বাইরে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মজুতের কারণেও প্রভাব পড়েছে বাজারে।

• অন্যদিকে, চলতি বোরো মৌসুমে প্রতি কেজি ধান ৩৬ এবং চালের মূল্য ৪৯ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ৪৪০ টাকা, যা বাজারমূল্যের চেয়ে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা বেশি।

• কিন্তু কৃষকরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। বাস্তবে কৃষকের কার্ড ও পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও মিল মালিক সরকারি গুদামে ধান সরবরাহ করে বিল উঠিয়ে নিচ্ছেন। তারা কৃষকের কাছ থেকে প্রতি মণ ১ হাজার ১০০ টাকায় কিনে সরকারি গুদাম থেকে ১ হাজার ৪৪০ টাকা বিল তুলছেন।

• সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে হলে কৃষককে আগে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। তারপর গুদামে ধান দিয়ে কমপক্ষে ৭-১০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় টাকার জন্য। গুদামে যেতে পরিবহন খরচ, অনেক সময় কর্মকর্তারা ধান ফিরিয়ে দেন ভেজা বা আদ্রর্তা বেশি বলে। কিছু ক্ষেত্রে ঘুষ দাবি করা হয়। তাই কৃষকরা স্থানীয় বাজারে ১০০০-১২০০ টাকা মণ দরে ধান বিক্রি করে দেন।
এই সুযোগটাই নিচ্ছেন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতারা।

• ধানের দাম বাড়িয়ে সরকার এটিকে কৃষকের জন্য ‘সুবর্ণ সুযোগ’ ভেবেছিল, বাস্তবে তা পরিণত হয়েছে দুর্নীতির উৎসে। কৃষক নয়, মুনাফা গিলছেন রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী, মিলার ও কিছু সরকারি কর্মকর্তা। এখনই কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না নিলে ন্যায্য দামে ধান বিক্রির স্বপ্ন কৃষকের কাছে রয়ে যাবে অধরাই।

Banality of Evil – সাধারণ মানুষই কি নৃশংসতার নীরব বাহক?

১৯৬০-এর দশকে জেরুজালেমে নাজি যুদ্ধাপরাধী আদলফ আইখম্যানের বিচার অনুষ্ঠানে বিশ্ববাসী চমকে ওঠে । ওই ব্যক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্যাসিবাদী জার্মানির পক্ষ থেকে এক লক্ষের বেশি ইহুদিকে হত্যা ও মৃত্যুবরণে পাঠানোর জন্য দায়ী ছিলেন। তবে আইখম্যানের বিচার শোনার পর আশ্চর্যের বিষয় ছিল, তিনি কোনো জঘন্য, অসাধারণ মনুষ্যত্বহীন খলনায়ক ছিলেন না, বরং স্বাভাবিক একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন। এই অভিজ্ঞতা থেকে তৎকালীন দার্শনিক ও সাংবাদিক হান্না আরেন্ডট তৈরি করেন তার বিখ্যাত ধারণা “Banality of Evil”।

“Banality of Evil” কি?

সাধারণ ভাবনায় আমরা ভয়ঙ্কর অপরাধ বা অত্যাচার বোঝার সময় অনেক সময় কালো চশমা পরে খলনায়ক বা অসাধারণ ব্যক্তিকে কল্পনা করি। কিন্তু আরেন্ডট দেখিয়েছিলেন যে, অনেক বড় ও ভয়ানক অপরাধও হতে পারে একদম সাধারণ মানুষের মধ্য দিয়ে, যারা নিজেকে কোনো অতি দুষ্ট চরিত্র মনে করে না। বরং তারা হয়তো এমনকি তাদের কাজের নৈতিকতার ব্যাপারে গভীর চিন্তাও করেন না।

“Banality of Evil” ধারণা মূলত বলে যারা বড় বড় মানবতাবিরোধী অপরাধ করে, তারা অপরাধী বা পাপী নাও হতে পারে, অনেক সময় তারা শুধু কর্তৃপক্ষের আদেশ মেনে চলা সাধারণ মানুষ, যারা নিজ দায়িত্বের বাইরে গিয়ে চিন্তা করে না, আর যা করণীয় বলে বলা হয় তা পালন করে চলে।

হান্না আরেন্ডট ছিলেন একজন ফিলোসফার ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ, তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও হোলোকস্টের সময় জার্মানি থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ১৯৬১ সালে তিনি নাজি অপরাধী আইখম্যানের বিচার শোনার জন্য জেরুজালেমে যান এবং সেখানে বিচারকাহিনী বিশ্লেষণ করে দেখেন যে আইখম্যান জঘন্য অপরাধের মূল কারণ ছিল তার অবিবেচক আনুগত্য আর কর্তৃপক্ষের আদেশের প্রতি অন্ধ আনুগত্য।

আইখম্যান নিজেকে বিশেষ তৎপর বা খলনায়ক হিসেবে দেখাতো না। তিনি তার কাজকে সরকারি কাজ মনে করতেন এবং নিজের কর্মকাণ্ডের নৈতিকতা নিয়ে গভীর ভাবে ভাবতেন না। এই অভিজ্ঞতা থেকে আরেন্ডট ধারণা দেন শয়তান বা অতি পাপী লোকদের বাইরে, এক ধরনের সাধারণ মানুষ থেকে বড় অন্যায় হয়।

কেন এই ধারণাটি গুরুত্বপূর্ণ?

আমাদের সমাজে অনেক সময় মনে হয়, বড় ধরনের অন্যায় বা অত্যাচার হয় বিশেষ কিছু অসাধারণ খলনায়কের কারণে। কিন্তু এই ধারণা বুঝিয়ে দেয় সাধারণ মানুষদের মধ্যেও এ প্রবণতা লুকিয়ে থাকতে পারে, যদি তারা নিজের নৈতিক দায়িত্ব ভুলে যায় এবং অন্ধভাবে কর্তৃপক্ষের আদেশ মেনে চলে।

এই তত্ত্ব আমাদের শেখায়, অত্যাচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধ শুধু একক দুষ্ট চরিত্রের ফল নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার গণ্ডি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ফল। যখন মানুষ ‘তাহা করতে হবে’ বলে শুধুমাত্র আদেশ পালন করে, তখন বৃহৎ অপরাধের পথ প্রশস্ত হয়।

মানুষের মধ্যে চিন্তাশীলতা ও নৈতিক বিচারবোধ থাকলেই বড় ধরনের অন্যায় রোধ করা সম্ভব। অন্যায়কে শুধুমাত্র আইন বা শাস্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কারণ নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধের অভাব থেকেই অপরাধ ঘটে।

১৯৬০-এর দশকে স্ট্যানলি মিল্গ্রাম নামে একজন মনোবিজ্ঞানী “কর্তৃপক্ষের প্রতি আনুগত্য” পরীক্ষা করেন। তার পরীক্ষায় দেখা যায়, সাধারণ মানুষও কর্তৃপক্ষের নির্দেশে বিপজ্জনক মাত্রার বিদ্যুৎ শক দিতে রাজি থাকে, এমনকি যখন তা অন্যের ক্ষতির কারণ হয়। এই পরীক্ষা “Banality of Evil” ধারণার সঙ্গে মিলে যায়, কারণ এটি দেখায় মানুষকে দায়িত্ব ও বিচার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলে তারা অসাধারণ কাজও করতে পারে।

“Banality of Evil” ধারণাকে সমালোচনাও করা হয়েছে। অনেক গবেষক বলেন, আইখম্যানের মত অপরাধীদের পাপী হিসেবেই দেখানো উচিত, কারণ তারা শুধু কর্তৃপক্ষের আদেশ পালনকারী ছিল না, বরং তাদের গভীর পরিকল্পনা ও অভিপ্রায়ও ছিল। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এই ধারণা অপরাধের দায়কে কমিয়ে দেয়, কারণ এটা বলে দেয় অপরাধী শুধু সরল মানুষ ছিল।

আজকের দিনে “Banality of Evil” আমাদের শেখায় নৈতিক দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব অবহেলা করলে সমাজে ছোট থেকে বড় অন্যায় জন্ম নিতে পারে। প্রতিটি ব্যক্তি যদি নিজের নৈতিক বিচার ও চিন্তাশীলতা বজায় রাখে, তাহলে বিশাল সামাজিক দুর্নীতি, অত্যাচার ও মানবতাবিরোধী অপরাধ থেকে বাঁচা সম্ভব। কর্তৃপক্ষের আদেশ শুধু মেনে চলা নয়, তার পেছনে থাকা নৈতিকতা ও মানবতার বিষয়গুলো বিবেচনা করাই সত্যিকারের দায়িত্ব।

“Banality of Evil” ধারণা শুধুমাত্র ইতিহাসবিদ বা দার্শনিকদের জন্য নয়, বরং সকল মানুষের জন্য নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষা বহন করে। এটি আমাদের সতর্ক করে সমাজে যদি সাধারণ মানুষ নিজের নৈতিক বিচার ও চিন্তা শক্তি হারিয়ে ফেলে, তাহলে বড় ধরনের অমানবিকতা ও অন্যায় ঘটতে পারে। আধুনিক রাজনীতি ও সংস্থার কাঠামোর মধ্যে যেখানে আদেশ ও নিয়মাবলী অনেক সময় ব্যক্তি স্বাধীনতা ও নৈতিকতার ওপরে চাপ সৃষ্টি করে, সেখানে “Banality of Evil” ধারণা আমাদের মনে করিয়ে দেয় নিজের বিচার ও দায়িত্ব কখনো ছাড়তে হবে না।

সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধের পিছনে থাকতে পারে সাধারণ মানুষের অবিচার ও চিন্তাশূন্যতা। এটি শুধু অতীতের ইতিহাস নয়, আজকের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের জন্যও প্রাসঙ্গিক। নৈতিকতা, বিচারবুদ্ধি ও ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব আমাদের কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্র যদি শুদ্ধ ও নৈতিক থাকতে চায়, তাহলে এই ধারণা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিটি মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা বাড়াতে হবে।

“পুরুষের কাঁদতে মানা” – পরিবার যেভাবে Toxic Masculinity গড়ে তোলে

“ছেলে মানুষ কাঁদে না।” “মেয়েলি আচরণ করিস না।” “পুরুষদের দুর্বলতা দেখানো চলবে না।” এই সব কথা যেন আমাদের সমাজে ছেলেদের জন্মসঙ্গী। পরিবার, স্কুল, পাড়া সব জায়গাতেই যেন এক অলিখিত নিয়ম প্রচলিত “পুরুষ হওয়া মানেই আবেগহীন হও।” এই মনোভাব সমাজে এক বিশেষ ধরনের বিষাক্ত মানসিকতার জন্ম দেয়, যাকে মনোবিজ্ঞানে আমরা আজ বলি Toxic Masculinity। এটি শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোর মধ্যে প্রোথিত এক মানসিকতা।

একটি শিশুর জন্মের পর থেকেই পরিবার তার উপর নির্দিষ্ট কিছু সামাজিক ভূমিকা আরোপ করে। যদি সে ছেলে হয়, তাকে বলা হয় “সংসারের কর্তা হবে”, “মা-বাবার দায়িত্ব নেবে”, “বোনকে রক্ষা করবে”। কিন্তু সেই দায়িত্বের তালিকায় কখনোই আবেগপ্রকাশ, দুর্বলতা বা সহানুভূতির জায়গা থাকে না। একটি ছেলেশিশু যখন ব্যথায় কাঁদে, তখন তাকে থামিয়ে বলা হয়, “ছেলে হয়ে কাঁদছো?” অথচ একটি মেয়েশিশু কাঁদলে তাকে কোলে নিয়ে আদর করা হয়। এমনকি, বাবা-মা নিজেরাও না বুঝেই এই দ্বৈত মানদণ্ড প্রয়োগ করেন। এটাই হয় “ভদ্র ছেলের” সংজ্ঞা গঠনের প্রথম ধাপ।

ছোটবেলায় একটা ছেলে যদি রান্নাবান্না করতে চায়, পুতুল নিয়ে খেলতে চায় বা বেশি আবেগপ্রবণ হয়, পরিবারে অনেক সময় ঠাট্টার পাত্র হয়ে ওঠে। বলা হয়, “নাকি কাঁদুনে মেয়ে হয়ে গেছিস?” এই ঠাট্টা একরকম Gender Policing, যেখানে পরিবারের ভেতরেই একটি ছেলেকে শেখানো হয় কী করতে পারবে, কী পারবে না। আবার ভাই-বোন একসাথে কান্না করলে, বোনকে সান্ত্বনা দেওয়া হয়, ভাইকে শক্ত হতে বলা হয়। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো থেকেই ছেলেদের মন থেকে মানবিক অনুভূতি চাপা দেওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়।

বাংলাদেশে অধিকাংশ পরিবারই এখনও কমবেশি পিতৃতান্ত্রিক গঠনের মধ্য দিয়ে চলে। এক্ষেত্রে পরিবারের পুরুষ সদস্য বাবা, কাকা বা দাদা একটি নির্দিষ্ট ‘মডেল’ হিসেবে হাজির হন, যিনি শক্ত, কর্তৃত্বশালী, আবেগহীন ও কখনও কাঁদেন না। এই পুরুষ চিত্রই শিশুর কাছে আদর্শ হয়ে ওঠে। সে ভাবে, “পুরুষ মানেই শাসন করা, সহ্য করা, কিন্তু কখনোই নরম হওয়া নয়।” আর এভাবেই ছেলে সন্তান মনে করে ভালবাসা, ভয়, কান্না, দুঃখ এসব তার জন্য নয়।

শুধু পরিবারই নয়, পাঠ্যপুস্তক এবং গণমাধ্যমও এই বিষাক্ত চিন্তা ছড়িয়ে দেয়। বইয়ে দেখা যায় পুরুষ চরিত্র বীর, ত্যাগী, আবেগবর্জিত। আর নারীরা আবেগপ্রবণ, কাঁদে, সান্ত্বনা দেয়। ফলে শিশু শিখে, “আবেগ মানেই নারীত্ব, আর শক্তি মানেই পুরুষত্ব।” একই ছবি সিনেমা বা নাটকেও দেখা যায় যেখানে পুরুষ নায়ক আবেগ দেখালে তাকে দুর্বল দেখানো হয়। খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একজন পুরুষ চরিত্র কান্না করছে, সহানুভূতি দেখাচ্ছে, কিংবা অন্য কাউকে ভালোবাসা প্রকাশ করছে।

এই সমাজিক রীতিনীতি ছেলেদের শিখিয়ে দেয় তাদের অনুভূতি প্রকাশ করা লজ্জার। আর আবেগ জমা হতে হতে একসময় তা বিষণ্নতা, রাগ বা সহিংসতায় রূপ নেয়। বাংলাদেশে পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গবেষণা অনুযায়ী, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলেও তারা কাউকে বলেন না, চিকিৎসা নেন না। কারণ পরিবার তাদের শিখিয়েছে, পুরুষ হলে শক্ত থাকতে হয়, চিকিৎসা নেওয়া মানে দুর্বল হওয়া। এই মানসিকতা থেকেই জন্ম নেয় পারিবারিক সহিংসতা, নারীর প্রতি কর্তৃত্ববাদী মনোভাব এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙন। অধিকাংশ পুরুষ জানে না কীভাবে আবেগ প্রকাশ করতে হয়, সহানুভূতি দেখাতে হয় বা দুঃখ ভাগাভাগি করতে হয়।

শহরেও আধুনিক শিক্ষা ও মিডিয়ার উপস্থিতি থাকলেও পরিবারিক কাঠামো এখনো অনেকটাই রক্ষণশীল। একদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগ প্রকাশ করাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, অন্যদিকে বাড়িতে বলা হয়, পুরুষ হয়ে এগুলো করছো? গ্রামে আবার পরিবার অনেক সময় ছেলেদের একপ্রকার যোদ্ধা হিসেবে গড়ে তোলে। ছোট থেকেই মাঠে কাজ, পরিবারের দায়িত্ব এবং নারীর উপর কর্তৃত্ব সব শেখানো হয়। ফলে আবেগপ্রকাশ সেখানে আরও নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

Toxic Masculinity বন্ধ করতে হলে পরিবারকেই প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে। বাবা-মায়েরা যদি ছেলেদের কাঁদতে, ভয় পেতে, ভালোবাসতে ও দুঃখ প্রকাশ করতে দেয়, তাহলে সমাজে নতুন ধরণের পুরুষ গড়ে উঠবে। তারা হবে সাহসী কিন্তু সহানুভূতিশীল, নেতৃত্বশীল কিন্তু শ্রদ্ধাশীল। পরিবারে শোনা উচিত “তুমি ছেলে বলে কাঁদতে পারবে না” এর পরিবর্তে “তুমি মানুষ, তাই কাঁদা, হাসা, ভালোবাসা সবই তোমার অধিকার।”

বাংলাদেশি পরিবারে Toxic Masculinity শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গঠনের প্রতিফলন। কিন্তু পরিবর্তনের বীজও এখানেই লুকিয়ে আছে। যদি পরিবার নিজের রীতিগুলো বদলাতে শুরু করে, তবে একদিন সমাজও নতুন চোখে আবেগবান, সহানুভূতিশীল পুরুষের স্বীকৃতি দিতে শিখবে। শিখবে আবেগ দেখানো দুর্বলতা নয় বরং সেটাই মানবিকতা।

বিএনপি বনাম ছোট দলগুলো আনুপাতিক উচ্চকক্ষ মানাতে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের চাপ

বিএনপির ওপর চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে ভোটের অনুপাতে (পিআর) সংসদ নির্বাচনের দাবি তুলেছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল। আনুপাতিক নির্বাচন না চাইলেও এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টিও এ দাবিতে সমর্থন দিচ্ছে।ভোটের অনুপাতে প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের প্রস্তাবে বিএনপিকে রাজি করাতেই এই চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলে দলগুলোর সূত্রে দৈনিক সমকাল জানিয়েছে।

সংস্কারের চলমান সংলাপে দরকষাকষির কৌশল হিসেবে সংসদের নিম্নকক্ষে প্রচলিত আসনভিত্তিক নির্বাচনের পরিবর্তে পিআর পদ্ধতির দাবি তুলেছে তারা। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষের আসন বণ্টনের প্রস্তাব বিএনপি মেনে নিলে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য দলগুলো নিম্নকক্ষে পিআর পদ্ধতির দাবি থেকে সরে আসবে।

আনুপাতিক উচ্চকক্ষ না হলে নির্বাচনে অংশ নিতে রাজি না হওয়া কিংবা নির্বাচন বর্জনের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে দলগুলোর।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব ছিল — প্রচলিত পদ্ধতিতে নিম্নকক্ষের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো যত শতাংশ ভোট পাবে, উচ্চকক্ষেও ততগুলো আসন পাবে। অর্থাৎ, কোনো দল নির্বাচনে ১০ শতাংশ ভোট পেলে, উচ্চকক্ষে ১০টি আসন পাবে।

জামায়াত, এনসিপিসহ অধিকাংশ দল এই প্রস্তাবে রাজি। কিন্তু বিএনপি রাজি হয়নি। বিএনপি চায়, বর্তমানে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন যেভাবে নির্ধারণ হয়, উচ্চকক্ষের আসনও সেভাবে অর্থাৎ দলগুলোর প্রাপ্ত আসন সংখ্যার অনুপাতে বণ্টন করা হবে।

ঐকমত্য কমিশন এবং অন্যান্য দল মনে করে, বিএনপির প্রস্তাব মানলে সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। সরকারি দল যাতে চাইলেই সংবিধান বদল করতে না পারে, তার জন্য আনুপাতিক উচ্চকক্ষের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমান এফপিটিপি পদ্ধতিতে ছোট দলগুলো কিছু ভোট পেলেও সংসদে আসন পায় না। সংসদে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে অনেক দল আনুপাতিক উচ্চকক্ষের দাবীকে সমর্থন করছে।

জামায়াত গত মার্চে ঐকমত্য কমিশনে যে প্রস্তাব দিয়েছিল তাতে নিম্নকক্ষে আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি ছিল না। এখন তারা এই দাবি করছে।

এনসিপি শুধু আনুপাতিক উচ্চকক্ষ চায়। নিম্নকক্ষে পিআর চায় না। একই অবস্থান এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদের। যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির শরিক জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনও আনুপাতিক পদ্ধতির উচ্চকক্ষ চাইছে।

একাধিক আলোচনা, দরকষাকষির পরও বিএনপি তার অবস্থান বদল না করায় এখন জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি দল পুরো নির্বাচনই পিআর পদ্ধতিতে আয়োজনের দাবি করছে। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে এই দলগুলো মিলে বৃহত্তর নির্বাচনী সমঝোতারও চেষ্টা চালাচ্ছে।