Home Blog Page 46

যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিতে চীনের সাথে সম্পর্ক বাড়াতে চায় ভারত?

রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে–পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক নতুন করে ভারতে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গোপনে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। পাশাপাশি বিকল্প কৌশল হিসেবে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগও নিচ্ছে দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ট্রাম্প প্রশাসন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম প্রধান অংশীদার দেশটির বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের কথা বিবেচনা করছে। এমন পরিস্থিতিতে আসিম মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক এবং অন্যান্য উত্তেজনা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক আলোচনাকে চাপের মুখে ফেলেছে।

দেশটির তিন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন–ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

গত দুই দশকে কিছু প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক মজবুত হয়েছে। এর পেছনে অন্তত একটি কারণ হলো, দুই দেশের চীনবিরোধী অবস্থান।

এ বিষয়ে রয়টার্সকে মার্কিন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তান—দুই দেশের সঙ্গেই দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখে। এসব সম্পর্ক নিজের গুরুত্ব ও যোগ্যতায় দাঁড়িয়ে আছে। আমরা এক দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করি না।’

ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, তিনিই বাণিজ্য আলোচনা বন্ধের হুমকি দিয়ে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ আটকেছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। আসিম মুনিরের হোয়াইট হাউস সফর নিয়ে ভারতের বিরক্তি আরও বেড়ে যায়।

এটি ছিল পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের এক বড় অগ্রগতি। কারণ, ট্রাম্পের আগের মেয়াদ এবং বাইডেনের শাসনামলে এই সম্পর্ক অনেকটা নিষ্ক্রিয় ছিল।

ভারতীয় কর্মকর্তারা ও শিল্প-বাণিজ্য সংগঠনের একজন লবিস্ট বলেন, একসময় ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে প্রকাশ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দেখা যাওয়া সত্ত্বেও এখন ভারত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কিছুটা কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য আলোচনার গতি বেশ ধীর হয়ে পড়েছে।

চলতি মাসের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেয় ভারত। এতে বোঝা যায়, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনা আগের মতো মসৃণভাবে এগোচ্ছে না, বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পর থেকে।

ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন নামের চিন্তন প্রতিষ্ঠানের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান হর্ষ পন্ত বলেন, অন্যান্য দেশের মতো ভারতও ট্রাম্পকে সামাল দেওয়ার উপায় খুঁজছে এবং বিকল্প হিসেবে চীনের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক সাজাচ্ছে।

হর্ষ পন্ত বলেন, নিশ্চিতভাবেই চীনের সঙ্গে একটি যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। আমার মনে হয়, এটা দুই পক্ষ থেকেই হচ্ছে…চীনও ভারতের দিকে এগিয়ে আসছে।

সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বেইজিং সফর করেন। ২০২০ সালে দুই দেশের মধ্যে প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর এটি ছিল তাঁর প্রথম চীন সফর। ২০২০ সালের সংঘর্ষের পর ভারত চীনের বিনিয়োগে যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল, সেটা কিছুটা শিথিল করার উদ্যোগও নিচ্ছে।

চীনের সঙ্গে সম্পর্কে কিছুটা বরফ গললেও ভারতের জন্য পরিস্থিতি সহজ নয়। কারণ, চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে সব সময়ই টানাপোড়েন রয়েছে। চীন আবার পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সামরিক সহায়তাকারী।

কিন্তু চীনের সঙ্গে ট্রাম্পের কখনো বন্ধুত্বপূর্ণ, আবার কখনো শত্রুভাবাপন্ন আচরণে ভারতের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সেটাই চীনের প্রতি ভারতের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউইয়র্কের আলবানি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক ক্রিস্টোফার ক্ল্যারি বলেন, হোয়াইট হাউসে এমন একজন অপ্রত্যাশিত ‘চুক্তিবাজ’ প্রেসিডেন্ট থাকার ফলে নয়াদিল্লি কখনোই যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের হঠাৎ ঘনিষ্ঠতা পুরোপুরি উড়িয়ে দিতে পারবে না।

ক্রিস্টোফার আরও বলেন–ভারত চিন্তিত, কারণ চীন শুধু পাকিস্তানকেই সাহায্য করছে না; বরং বাংলাদেশের মতো ভারতের আশপাশের এলাকাগুলোতেও তাদের প্রভাব বাড়ছে। পরিস্থিতির কারণে নয়াদিল্লি এখন এই সিদ্ধান্তেই এসেছে, চীনের প্রভাব বৃদ্ধির জবাব হিসেবে সরাসরি চীনের ওপর চাপ না দিয়ে আশপাশের প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরই বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।

(সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো)

জনবহুল শহরের আকাশে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ ফ্লাইট কেন?

0

দ্য ডেইলি স্টার জানিয়েছে–সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রের বিমান বিশেষজ্ঞ ও পাইলটরা ঢাকা শহরের মত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণ ফ্লাইট পরিচালনার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন–ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ প্রকৃতির কারণে রাজধানীর আকাশে সামরিক প্রশিক্ষণ বিমান উড়ানো দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, যেখানে বিমান বাহিনী সাধারণত তাদের ফাইটার জেট প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে।

নিহত পাইলটের একই ব্যাচের বিমান বাহিনীর একজন পাইলট নাম প্রকাশ না করে বলেন–এ ধরনের জনবহুল এলাকায় প্রশিক্ষণ চালানো সামরিক জেট পাইলটদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।

“যদিও পুরো প্রশিক্ষণ এলাকাটি এক বা দুইতলার বেশি উঁচু ভবনবিহীন থাকার কথা, বাস্তবে ফ্লাইট পথজুড়ে অনেক উচ্চ ভবন রয়েছে। ফলে, আমাদের খুব দ্রুত উচ্চতা নিতে হয় এবং উঁচু উচ্চতায় থাকতে হয়,” বলেন ওই পাইলট।

একই ধরনের প্রশিক্ষণ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এক সাবেক পাইলটও এতে সম্মত হন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, পাইলট হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি ‘গ্লাইড পাথ’-এর চেয়ে বেশি উচ্চতায় আছেন এবং এর ফলে রানওয়ে মিস করে ফেলতে পারেন। এজন্য তিনি উচ্চতা কমাতে ইঞ্জিনের শক্তি কমিয়েছিলেন।

‘গ্লাইড পাথ’ হচ্ছে একটি বিমান যখন অবতরণের প্রস্তুতি নেয়, তখন সেটি যে উল্লম্ব পথে রানওয়ের দিকে এগোয়, সেটি।

“এরপর হয়তো তাকে পুনরায় গতি বাড়াতে ইঞ্জিনে শক্তি দিতে হয়। কিন্তু জেট ইঞ্জিনের একটি সীমাবদ্ধতা আছে—পাওয়ার স্পুল আপ হতে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগে,” বলেন প্রবীণ পাইলট। এই কয়েক সেকেন্ডই গুরুত্বপূর্ণ, যখন অবতরণ পয়েন্ট মাত্র কয়েক সেকেন্ড দূরে।

গতকাল উত্তরার স্কুল চত্বরে বিধ্বস্ত FT-7 BGI ধরনের ফাইটার জেট শব্দের চেয়েও দ্রুতগামী (সুপারসনিক) গতিতে উড়ে—যার গতি পরিমাপ হয় “ম্যাখ” এককে, যা শব্দের গতির (১,২৩৪ কিমি/ঘণ্টা) সমতুল্য। যাত্রীবাহী বিমানের তুলনায় এ ধরনের বিমান অনেক বেশি গতিতে ওড়ে এবং অবতরণ করে। সংশ্লিষ্ট বিমানটি ম্যাখ ২ পর্যন্ত গতি তুলতে পারে, অর্থাৎ ঘণ্টায় ২,৪০০ কিমি-রও বেশি।

বিশেষজ্ঞ এবং পাইলটরা বলেন–সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর দুর্ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৩.৩ কিলোমিটার দূরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অবতরণ করতে পারতেন।

সামরিক ও বেসামরিক বিমান চলাচলের পেশাজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন, বিমান বাহিনীর হাতে যশোর বা চট্টগ্রামের মতো ঘনবসতিহীন ঘাঁটি থাকার পরেও কেন ঢাকার মতো জনবহুল এলাকায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ চালানো হচ্ছে?

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পেশাজীবী বলেন, বিশ্বের খুব কম দেশই আছে যেখানে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান একই রানওয়ে ব্যবহার করে যেটি বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়।

তবে তিনি স্বীকার করেন–যেসব দেশে জমির স্বল্পতা, ঐতিহাসিক সামরিক ঘাঁটি কিংবা কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে, সেখানে সামরিক ও বেসামরিক উভয়েই একই বিমানবন্দর ব্যবহার করতে দেখা যায়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৩২ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এক সিনিয়র পাইলট বলেন, “আমি শত শত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়েছি, কিন্তু কোথাও বিমানবাহিনীর ফ্লাইটের কারণে বিলম্বের সম্মুখীন হইনি। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সম্ভবত একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যেখানে ফাইটার জেট উড়ানো হয়।”

তিনি বিমানবন্দরের চারপাশের অপরিকল্পিত নগরায়ণকেও দোষারোপ করেন।

“অধিকাংশ বিমান দুর্ঘটনা ঘটে উড্ডয়ন ও অবতরণের সময়। তাই কঠোরভাবে নির্ধারণ করা হয় যে, বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোচ পথের কাছাকাছি জনবহুল স্থাপনা যেমন স্কুল, কলেজ, শপিং মল ইত্যাদি নির্মাণ নিষিদ্ধ। কিন্তু এখানে এটাই ঘটছে,” বলেন তিনি, এবং এই ট্র্যাজেডির জন্য অপরিকল্পিত নগরায়ণকে দায়ী করেন।

(দ্য ডেইলি স্টার থেকে সংক্ষেপিত)

মিয়াজাকি – শেক্সপিয়র ও ডিকেন্সের ঐতিহ্যে একজন মাস্টার স্টোরিটেলার : রজার এবার্ট, আমেরিকান চলচ্চিত্র সমালোচক ও পুলিৎজার বিজয়ী লেখক

“আমি তার চলচ্চিত্রগুলো ভালোবাসি। আমি তার চলচ্চিত্রগুলো নিয়ে গবেষণা করি। যখন অনুপ্রেরণা খুঁজি, তার চলচ্চিত্রগুলো দেখি।”

হায়াও মিয়াজাকির প্রসঙ্গে এ কথাগুলো বলেছেন জন ল্যাসেটার, যিনি “টয় স্টোরি” এবং “এ বাগস লাইফ”-এর পরিচালক। অন্যান্য অ্যানিমেটররাও একমত যে, ধূসর চুলের জাপানের এই শান্ত মানুষটি সম্ভবত ইতিহাসের সেরা অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র নির্মাতা। তার চলচ্চিত্রগুলো এতটাই অসাধারণ যে, এগুলো অ্যানিমেশনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

ল্যাসেটার হলিউডের অন্যতম সফল অ্যানিমেটর। মিয়াজাকির “স্পিরিটেড অ্যাওয়ে” চলচ্চিত্রটি ওয়াল্ট ডিজনির মাধ্যমে মুক্তি দিতে তিনি যে ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা করেছেন, তা এই প্রবীণ শিল্পীর প্রতি এক বিরাট শ্রদ্ধাঞ্জলি। ছবিটি শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে। ল্যাসেটার ছবিটির ইংরেজি সংস্করণের সাউন্ডট্র্যাক পরিচালনা করেছেন, সম্প্রতি টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে মিয়াজাকির সাথে যোগ দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, “জাপানের বাইরে ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’র প্রথম প্রদর্শনী হয়েছিল পিক্সার অ্যানিমেশন স্টুডিওতে এবং আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম যে ছবিটি কতটা অসাধারণ ছিল। উত্তর আমেরিকা মিয়াজাকির চলচ্চিত্রগুলো আবিষ্কারের সুযোগ পায়নি। অ্যানিমেশন জগতে তিনি একজন নায়ক, যেমনটা তিনি আমার কাছে।”

মিয়াজাকি এবং স্টুডিও ঘিবলিতে তার সহকর্মী ইসাও তাকাহাতা (“গ্রেভ অফ দ্য ফায়ারফ্লাইজ”) অসাধারণ গভীরতা ও শিল্পসম্মত কাজ তৈরি করেছেন; তার “প্রিন্সেস মনোনোকে” ১৯৯৯ সালের সেরা চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে একটি ছিল। “স্পিরিটেড অ্যাওয়ে,” বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব জিতেছিল, জাপানের বক্স অফিসে “টাইটানিক”-কেও ছাড়িয়ে গেছে এবং এটি উত্তর আমেরিকায় মুক্তির আগেই ২০০ মিলিয়ন ডলার আয় করা ইতিহাসের প্রথম চলচ্চিত্র।

এই নতুন চলচ্চিত্রটি সম্ভবত তার সেরা কাজ, একটি ১০ বছর বয়সী মেয়ে এবং তার বাবা-মায়ের গল্প বলে, যারা বনের মধ্যে একটি সুড়ঙ্গে ঘুরে বেড়ায় এবং একটি বিনোদন পার্কের মতো জায়গা খুঁজে পায়। মেয়েটির জন্য এটি একটি “অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড”-এর মতো অ্যাডভেঞ্চারে পরিণত হয়, যেখানে একজন জাদুকরী, ভূত, আত্মা, দুই চোখের ধুলো বল, একজন সহায়তাকারী তরুণ ছেলে, আট অঙ্গবিশিষ্ট একজন বয়লার-রুমের মানুষ এবং একটি ভয়ঙ্কর নদীর প্রাণী রয়েছে যার শরীর কয়েক দশকের দূষণ শোষণ করেছে।

যখন আমি ৬২ বছর বয়সী মিয়াজাকির সাথে কথা বলতে গেলাম, তখন তাকে মনে করিয়ে দিলাম যে ১৯৯৯ সালে তিনি বলেছিলেন তিনি অবসর নিচ্ছেন। অথচ এখন আরেকটি চলচ্চিত্র।

তিনি বললেন, “আমি অবসর নিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু জীবন এত সহজ নয়। আমি বিশেষভাবে আমার বন্ধুদের মেয়েদের জন্য একটি চলচ্চিত্র তৈরি করতে চেয়েছিলাম। আমি আমার মাথার সমস্ত ড্রয়ার খুলে দেখেছিলাম – সেগুলো সব খালি ছিল। তাই আমি বুঝতে পারলাম আমাকে কেবল ১০ বছর বয়সীদের জন্য একটি চলচ্চিত্র তৈরি করতে হবে এবং ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’ আমার সেই উত্তর।”

অনেক পরিচালক তাদের চলচ্চিত্র ১০ বছর বয়সীদের লক্ষ্য করে তৈরি করেন এবং তারপর দাবি করেন যে সেগুলো “পুরো পরিবারের” জন্য। মিয়াজাকি এমন একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন যা বার্লিন, টেলুরাইড এবং টরন্টো উৎসবে প্রাপ্তবয়স্কদেরও মুগ্ধ করেছে এবং তিনি নিজে দাবি করেন এটি ১০ বছর বয়সীদের জন্য।

একজন অনুবাদকের মাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে তিনি বললেন যে ল্যাসেটার আমেরিকান মুক্তির নিশ্চিত করার জন্য “একজন মানব বুলডোজারে” পরিণত হয়েছিলেন: “তাকে ছাড়া আমার মনে হয় না আমরা এখানে বসে থাকতাম।”

মিয়াজাকি কম্পিউটারের প্রতি সন্দিহান, ব্যক্তিগতভাবে হাজার হাজার ফ্রেম হাতে আঁকেন। “আমরা হাতে আঁকা অ্যানিমেশন ব্যবহার করি এবং ভিজ্যুয়াল লুক উন্নত করার জন্য এটিকে ডিজিটাইজ করি, তবে সবকিছুই মানুষের হাতে আঁকা থেকে শুরু হয়। এবং রঙের মান ব্যাকগ্রাউন্ড দ্বারা নির্ধারিত হয়। আমরা কম্পিউটারে কোনো রঙ তৈরি করি না। এই কঠোর মান তৈরি না করলে আমরা কেবল কম্পিউটারাইজেশনের ঘূর্ণিপাকে ধরা পড়ে যাব।”

তিনি হেসে উঠলেন। “এটি কমান্ডারের কাছ থেকে একটি চূড়ান্ত আদেশ ছিল।” তিনিই সেই কমান্ডার।

তিনি হাতে আঁকাকে “২-ডি” এবং কম্পিউটার অ্যানিমেশনকে “৩-ডি” হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন।
“আমরা যাকে ২-ডি বলি তা হল কাগজে আঁকা যা কাগজের উপর নড়াচড়া এবং স্থান তৈরি করে। ৩-ডি হল যখন আপনি কম্পিউটারের ভিতরে সেই স্থান তৈরি করেন। আমার মনে হয় না জাপানি সৃজনশীল মন ৩-ডি এর জন্য খুব উপযুক্ত।”

আমি মিয়াজাকিকে বললাম যে আমি তার চলচ্চিত্রগুলোতে “অপ্রয়োজনীয় গতি” ভালোবাসি; গল্পের দ্বারা প্রতিটি নড়াচড়া নির্ধারিত হওয়ার পরিবর্তে, কখনও কখনও মানুষ কেবল কিছুক্ষণ বসে থাকে, বা তারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে, বা চলমান নদীতে তাকায়, অথবা অতিরিক্ত কিছু করে, গল্পের অগ্রগতি করার জন্য নয় বরং কেবল সময় এবং স্থান এবং তারা কারা সে সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার জন্য।

তিনি বললেন, “জাপানি ভাষায় আমাদের এর জন্য একটি শব্দ আছে। এটি হল মা (Ma), এটি শূন্যতা (Emptiness)। এটি ইচ্ছাকৃতভাবে রাখা হয়।”

এটা কি জাপানি কবিতার সেই “Pillow words”-এর মতো যা বাক্যাংশগুলোকে আলাদা করে?

“আমার মনে হয় না এটা Pillow words-এর মতো।” তিনি তিন-চারবার হাততালি দিলেন। “আমার তালি বাজানোর মধ্যবর্তী সময়টাই হল মা। যদি বিরতিহীনভাবে শুধু অ্যাকশন থাকে কোনো শ্বাস ফেলার জায়গা না থাকে, তাহলে সেটা কেবল ব্যস্ততা। কিন্তু যদি আপনি এক মুহূর্তের জন্য বিরতি নেন, তাহলে ছবির মধ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনা আরও বিস্তৃত মাত্রায় বাড়তে পারে। যদি সব সময় ৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় একটানা উত্তেজনা থাকে, তাহলে আপনি শুধু অসাড় হয়ে যাবেন।”

যা ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে কেন মিয়াজাকির চলচ্চিত্রগুলো আমেরিকান অ্যানিমেশনের অনেক বেশি উন্মত্ত আনন্দপূর্ণ অ্যাকশনের চেয়ে বেশি আকর্ষক ও জড়িত করে তোলে। আমি তাকে এ বিষয়ে আরও একটু ব্যাখ্যা করতে বললাম।

তিনি বললেন, “যারা চলচ্চিত্র তৈরি করেন তারা নীরবতাকে ভয় পান, তাই তারা এটিকে ঢেকে দিতে চান। তারা চিন্তিত থাকেন যে দর্শক বিরক্ত হয়ে যাবে। তারা হয়তো পপকর্ন আনতে চলে যাবে।

কিন্তু সব সময় ৮০ শতাংশ তীব্রতা থাকার মানে এই নয় যে শিশুরা তাদের মনোযোগ দিয়ে আপনাকে আশীর্বাদ করবে। যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ তা হল অন্তর্নিহিত আবেগ, যেগুলোকে আপনি কখনোই ছেড়ে দেবেন না।

আমার বন্ধুরা এবং আমি ১৯৭০-এর দশক থেকে যা করার চেষ্টা করছি তা হল জিনিসগুলোকে একটু শান্ত করা; কেবল কোলাহল এবং বিভ্রান্তি দিয়ে তাদের বোমাবর্ষণ না করা। একটি চলচ্চিত্র তৈরি করার সময় শিশুদের আবেগ এবং অনুভূতিগুলোকে অনুসরণ করা। যদি আপনি আনন্দ, বিস্ময় এবং সহানুভূতির প্রতি বিশ্বস্ত থাকেন, তবে আপনাকে সহিংসতা বা অ্যাকশন রাখতে হবে না। তারা আপনাকে অনুসরণ করবে। এটাই আমাদের নীতি।”

তিনি কৌতুক করে বললেন, “স্পাইডার-ম্যান”-এর মতো লাইভ-অ্যাকশন চলচ্চিত্রগুলোতে অনেক অ্যানিমেশন দেখে তিনি মজা পেয়েছেন।

“একদিক থেকে, এখন লাইভ অ্যাকশন সেই পুরো অ্যানিমেশন নামক স্যুপের অংশ হয়ে যাচ্ছে। অ্যানিমেশন এখন এমন একটি শব্দ যা অনেক কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে, আর আমার অ্যানিমেশন এর এক কোণে একটি ছোট্ট বিন্দু মাত্র। এটাই আমার জন্য যথেষ্ট।”

আমার জন্যও এটা যথেষ্ট।

“শান্তির প্রকৃত অর্থ শুধু সংঘাতের অনুপস্থিতি নয়, বরং এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করা যেখানে সবাই বিকশিত হতে পারে” : নেলসন ম্যান্ডেলা

“নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির প্রতি আমি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, আমাদেরকে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর মর্যাদায় ভূষিত করার জন্য।

এই সুযোগে আমি আমার স্বদেশী এবং সহ-পুরস্কার বিজয়ী, রাষ্ট্রপতি এফ.ডব্লিউ. ডি ক্লার্ককেও তার এই উচ্চ সম্মান প্রাপ্তির জন্য অভিনন্দন জানাতে চাই।

আমরা একসাথে আরও দুজন দক্ষিণ আফ্রিকান, প্রয়াত চীফ আলবার্ট লুথুলি এবং আর্চবিশপ ডেসমন্ড টুটুর সাথে যুক্ত হলাম, যাদের বর্ণবাদের অশুভ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ সংগ্রামে অমূল্য অবদানের জন্য আপনারা নোবেল শান্তি পুরস্কার দিয়ে যথার্থ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

এটা আমাদের জন্য ধৃষ্টতা হবে না যদি আমরা আমাদের পূর্বসূরিদের মধ্যে আরও একজন অসাধারণ নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী, প্রয়াত রেভারেন্ড মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের নাম যোগ করি। তিনিও একই মহান সমস্যাগুলো সমাধানের প্রচেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন এবং মৃত্যুবরণ করেছেন, যেগুলোর মুখোমুখি আমাদের দক্ষিণ আফ্রিকানদেরও হতে হয়েছে।

আমরা এখানে যুদ্ধ ও শান্তি, সহিংসতা ও অহিংসা, বর্ণবাদ ও মানব মর্যাদা, নিপীড়ন ও দমন-পীড়ন এবং স্বাধীনতা ও মানবাধিকার, দারিদ্র্য ও অভাব থেকে মুক্তির মতো দ্বৈত চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলছি। আমরা আজ এখানে আমাদের লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতিনিধি হিসাবে দাঁড়িয়েছি, যারা একটি সামাজিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস করেছিল, যার মূল ভিত্তি ছিল যুদ্ধ, সহিংসতা, বর্ণবাদ, নিপীড়ন, দমন-পীড়ন এবং একটি সমগ্র জাতিকে দরিদ্র করে তোলা।

আমি আজ এখানে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন, সরকার এবং সংস্থাগুলির প্রতিনিধি হিসাবেও উপস্থিত হয়েছি, যারা আমাদের সাথে যোগ দিয়েছিল, দক্ষিণ আফ্রিকা বা এর কোনো জনগণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নয়, বরং একটি অমানবিক ব্যবস্থার বিরোধিতা করতে এবং মানবতার বিরুদ্ধে বর্ণবাদী অপরাধের দ্রুত অবসানের জন্য আবেদন জানাতে। আমাদের দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা এই অগণিত মানুষরা স্বার্থপর লাভের চিন্তা না করে অত্যাচার ও অন্যায়ের পথে দাঁড়ানোর মতো মহৎ মনোভাব নিয়েছিলেন। তারা উপলব্ধি করেছিলেন যে একজনের প্রতি আঘাত সবার প্রতি আঘাত এবং তাই তারা ন্যায়বিচার ও সাধারণ মানবতাবোধের প্রতিরক্ষায় একসাথে কাজ করেছিলেন। তাদের বহু বছরের সাহস ও অধ্যবসায়ের কারণে, আজ আমরা সেই তারিখগুলিও নির্ধারণ করতে পারি যখন সমগ্র মানবতা একসাথে আমাদের শতাব্দীর অন্যতম অসাধারণ মানব বিজয় উদযাপন করবে।

যখন সেই মুহূর্ত আসবে, আমরা সবাই মিলে বর্ণবাদ, বর্ণবৈষম্য এবং শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু শাসনের উপর একটি সাধারণ বিজয় উদযাপন করব। এই বিজয় পর্তুগিজ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু হওয়া পাঁচশো বছরের আফ্রিকান উপনিবেশের ইতিহাসকে চূড়ান্তভাবে সমাপ্ত করবে।

সুতরাং এটি ইতিহাসে একটি বিরাট পদক্ষেপ চিহ্নিত করবে এবং বিশ্বের জনগণের একটি সাধারণ অঙ্গীকার হিসেবে কাজ করবে যে, যেখানেই বর্ণবাদ ঘটুক না কেন এবং যে রূপই ধারণ করুক না কেন, তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।

আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ প্রান্তে, একটি সমৃদ্ধ পুরস্কার তৈরি হচ্ছে, একটি অমূল্য উপহার প্রস্তুত হচ্ছে তাদের জন্য যারা স্বাধীনতা, শান্তি, মানব মর্যাদা এবং মানব সিদ্ধির জন্য সবকিছু উৎসর্গ করে মানবজাতির নামে কষ্ট সহ্য করেছেন। এই পুরস্কার অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা হবে না।আফ্রিকার মাটিতে আমাদের পূর্বপুরুষদের পদচিহ্ন অনুসরণ করে যে মূল্যবান ধাতু এবং মূল্যবান পাথর রয়েছে, সেগুলোর সম্মিলিত মূল্য দিয়েও এটি অনুমান করা যাবে না। এটি অবশ্যই শিশুদের সুখ এবং কল্যাণ দিয়ে পরিমাপ করা হবে, যারা যেকোনো সমাজে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিক এবং আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ ।

শিশুরা অবশেষে মাঠে খেলা করবে, আর ক্ষুধার যন্ত্রণায় ছলছল করবে না, রোগে ভুগবে না, অজ্ঞতা, নির্যাতন ও অপব্যবহারের ভয় পাবে না, এবং এমন কাজ করতে বাধ্য হবে না যা তাদের কোমল বয়সের চেয়ে অনেক ভারী। এই মহৎ শ্রোতাদের সামনে আমরা নতুন দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিশ্ব শিশু অধিকার ঘোষণা অনুযায়ী শিশুদের সুরক্ষা, বেঁচে থাকা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রমের জন্য অঙ্গীকার করছি। আমাদের কথিত পুরস্কার সেই মায়ের ও বাবার সুখ ও কল্যাণ দিয়ে হিসাব হবে, যাঁরা নির্ভয়ে হাঁটবে, অপহরণ, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক কারণে হত্যা, কিংবা ভিক্ষুক হওয়ায় অবজ্ঞার শিকার হবে না। তারা হবে তৃপ্ত, তাদের হৃদয়ে থাকা দুর্ভাগ্যের বোঝা — ক্ষুধা, গৃহহীনতা ও বেকারত্ব থেকে মুক্তি পাবে।

আমাদের দেশের সমস্ত মানুষের সুখ-শান্তি দিয়ে আমাদের ভাগাভাগি পুরস্কারের মূল্য নির্ধারণ হবে, যাঁরা আর মানব সম্মানের সঙ্গে আপস করবেন না, কারো ওপর ‘মাস্টার’ কিংবা ‘সার্ভেন্ট’ হওয়ার লজ্জাজনক বিভাজন থাকবে না, যারা একে অপরকে ধ্বংস করার ওপর জীবন যাপন করবে না। আমাদের ভাগাভাগি পুরস্কারের মূল্য নির্ধারণ হবে সেই আনন্দময় শান্তির মাধ্যমে, যা জয়ী হবে, কারণ সাধারণ মানবতা — সাদা-কালো সবাইকে এক মানব জাতিতে গাঁথবে এবং বলবে আমরা সবাই স্বর্গের সন্তানদের মতোই বাঁচব।

আমরা এমন একটি সমাজ তৈরি করব যেখানে প্রত্যেকে সমান জন্মগ্রহণ করে, সমান অধিকার পাবে জীবন, স্বাধীনতা, সমৃদ্ধি, মানবাধিকার ও সুশাসনে।

সেই সমাজে কখনোই স্বাধীন মতের বন্দি থাকবে না, কারো মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে না। শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের পথ কখনোই অবৈধ শাসক দ্বারা বন্ধ হবে না, যারা নিজেদের দুর্বল উদ্দেশ্যে ক্ষমতা গ্রহণের চেষ্টা করে। এই প্রসঙ্গে আমরা বার্মার শাসকদের প্রতি অনুরোধ জানাই, আমাদের নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত বন্ধু অং সান সু কিকে মুক্তি দিন এবং তাঁর ও তাঁর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমঝোতায় আসুন, যা বার্মার জনগণের জন্য কল্যাণকর হবে।

আমরা প্রার্থনা করি, ক্ষমতাসীনরা অবিলম্বে তাকে সুযোগ করে দেবেন তাঁর প্রতিভা ও শক্তি দেশের জনগণ ও মানবজাতির কল্যাণে ব্যবহার করার। আমাদের দেশের রাজনীতির সংঘর্ষ থেকে দূরে থেকে, আমি নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই এবং আমার সহ-পুরস্কারপ্রাপক এফ. ডব্লিউ. ডি ক্লার্ককে সম্মান জানাই। তিনি সাহসিকতার সঙ্গে স্বীকার করেছেন যে আমাদের দেশে অত্যাচারের ভয়ানক অবস্থা তৈরি হয়েছিল।

তিনি দূরদর্শিতা দেখিয়েছেন যে সব দক্ষিণ আফ্রিকানকে সমান অংশগ্রহণের মাধ্যমে আলোচনা করে তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে হবে। তবে এখনো কিছু মানুষ ভুলভাবে বিশ্বাস করে, তারা শিবলেথ (বিরাট ভুল ধারণা) ধরে ন্যায়ের পথে অবদান রাখতে পারে, যা একমাত্র ধ্বংসের কারণ। আমাদের আশা, তারাও যুক্তি গ্রহণ করবে, ইতিহাসকে অস্বীকার করা যাবে না এবং নতুন সমাজ অতীতের বিকৃত পুনরাবৃত্তি দিয়ে গড়ে উঠবে না।

আমরা এই সুযোগে আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, যারা দেশকে আজকের এই গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের কাছে নিয়ে এসেছে। আমরা খুশি যে এই আন্দোলনের অনেক প্রতিনিধি আমাদের সঙ্গে অসলোতে এসেছেন। তাঁরা সবাই এই নোবেল শান্তি পুরস্কারের সম্মান ভাগাভাগি করবেন।

আমাদের আশা দক্ষিণ আফ্রিকা নতুন পৃথিবীর মাইক্রোকসম হবে — যেখানে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অজ্ঞতা মুক্তি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা পাবে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও পুরো দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলের পরিবর্তনের প্রক্রিয়া আমাদের সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছে, এই সুযোগে আমরা এমন একটি সমাজ গড়বো যা সবাই চায়।

আমরা বিশ্বাস করি না, এই নোবেল শান্তি পুরস্কার অতীতের কাজের জন্য দেওয়া। আমরা শুনছি সেসব মানুষের আহ্বান, যাঁরা আপার্থেইডের অবসানের জন্য লড়াই করেছেন। আমরা তাদের আহ্বান বুঝি, বাকি জীবন উৎসর্গ করব আমাদের দেশের এই ব্যথাজনিত অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে প্রমাণ করার জন্য যে মানব অস্তিত্বের স্বাভাবিক অবস্থা হলো গণতন্ত্র, ন্যায়, শান্তি, বর্ণবাদের অভাব, লিঙ্গ বৈষম্যের অভাব, সবার জন্য সমৃদ্ধি, সুস্থ পরিবেশ ও মানুষের মধ্যে সমতা ও ঐক্য।

এই আহ্বানে অনুপ্রাণিত হয়ে, আমরা অঙ্গীকার করছি আমাদের জীবন দিয়ে আমাদের বিশ্বকে নবায়ন করতে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ ‘পৃথিবীর দীন’ নামে অভিহিত না হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কখনো বলবে না যে উদাসীনতা বা স্বার্থপরতার জন্য আমরা মানবতার আদর্শে ব্যর্থ হয়েছি।

আমাদের সকলের প্রয়াস প্রমাণ করবে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র সঠিক ছিলেন, যখন তিনি বলেছিলেন মানবতা আর বর্ণবাদ ও যুদ্ধে বন্দি থাকবে না।

আমাদের সকলের প্রয়াস প্রমাণ করবে তিনি স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন না, যখন তিনি বলেছিলেন আসল ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির সৌন্দর্য হীরের বা রুপোর চাইতে অনেক মূল্যবান।

নতুন একটি যুগের সূচনা হোক!
ধন্যবাদ।

“ভাষার মাধ্যমে আমরা বেঁচে থাকি, ভাষাই আমাদের জীবনের মাপকাঠি” : টোনি মরিসন, ১৯৯৩ সালে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী, আফ্রিকান-আমেরিকান সাহিত্যিক এবং নারীবাদী লেখিকা

১৯৯৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া টোনি মরিসন ছিলেন প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান নারী লেখিকা যিনি এই সম্মান অর্জন করেন। তার নোবেল বক্তৃতা সাহিত্যের শক্তি, ভাষার গুরুত্ব এবং বিশেষ করে আফ্রিকান-আমেরিকান সাহিত্যের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকা নিয়ে গভীর দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। এই বক্তৃতায় মরিসন কেবল নিজের সাহিত্যিক পথচলা বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেননি, বরং তিনি আফ্রিকান-আমেরিকান জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও সংগ্রামের আভাস দিয়ে সাহিত্যের মাধ্যমে সমসাময়িক সমাজের সমস্যাগুলো তুলে ধরার অপরিহার্যতা প্রকাশ করেছেন।

মরিসনের বক্তৃতাটি প্রধানত ভাষা ও সাহিত্যের মধ্যকার গভীর সম্পর্কের ওপর কেন্দ্রীভূত। তিনি বলেন, “আমরা ভাষা তৈরি করি। এটি আমাদের জীবনের মাপ হতে পারে।” এখানে ভাষা শুধুমাত্র শব্দের সমষ্টি নয়, বরং জীবনের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের বহিঃপ্রকাশ। ভাষার মাধ্যমে এক সম্প্রদায়ের ইতিহাস, তাদের দুঃখ-সুখ, সংগ্রাম ও স্বপ্ন জীবন্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে আফ্রিকান-আমেরিকান সমাজের জন্য ভাষা ও সাহিত্য ছিল সংগ্রামের অস্ত্র, স্বাধীনতার ভাষা ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের প্রতীক।

১৯৯৩ সালের এই বক্তৃতায় মরিসন ভাষার নান্দনিক ও রাজনৈতিক দুটো দিক তুলে ধরেছেন। তিনি ভাষাকে এক ধরনের জীবন্ত সত্তা হিসেবে দেখেন, যা যতক্ষণ প্রাণবন্ত থাকবে ততক্ষণ সমাজ ও সংস্কৃতিও বিকশিত হবে। “একটি মৃত ভাষা কেবল আর spoken বা written হয় না, এটি এমন একটি ভাষা যা নিজের পক্ষ থেকে কিছু করতে চায় না।” এই কথায় তিনি ভাষার জীবন্ত ও সামাজিক শক্তির কথা বলেছেন।

টোনি মরিসনের সাহিত্যের কেন্দ্রে থাকে আফ্রিকান-আমেরিকান মানুষের ইতিহাস ও জীবনযাত্রার জটিলতা। তার লেখায় দাসপ্রথার ভয়াবহতা, বর্ণবাদের অবিচার, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন উঠে আসে। নোবেল বক্তৃতায় তিনি এই দৃষ্টিভঙ্গি শক্তিশালী করে বলেন, “লেখকের জীবন ও কাজ মানবজাতির জন্য একটি উপহার নয়, এটি তার প্রয়োজনীয়তা।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে মরিসন বুঝাতে চান, সাহিত্য শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা, যা জনগোষ্ঠীর কষ্ট, আশা ও ইতিহাসকে তুলে ধরে। আফ্রিকান-আমেরিকান সাহিত্যের ঐতিহ্যে এই দায়বদ্ধতা বিশেষ গুরুত্ব পায় কারণ এটি একটি ক্ষতবিক্ষত সম্প্রদায়ের স্বর তুলে ধরে, যারা বহু বছর নির্যাতন ও অবমূল্যায়নের শিকার।

মরিসন তাঁর বক্তৃতায় আফ্রিকান-আমেরিকান সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও স্পর্শ করেন, সেটি হলো ভাষার মালিকানা। তিনি জানান, ইতিহাসের বিভিন্ন সময় নানা কারণে আফ্রিকান-আমেরিকানরা তাদের ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হারিয়েছেন, কিন্তু সাহিত্যের মাধ্যমে তারা নিজেদের ভাষা ও অভিজ্ঞতাকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। এটি শুধু সাংস্কৃতিক পুনরুত্থান নয়, বরং রাজনৈতিক মুক্তিরও একটি অংশ।

মরিসন বলেন, ভাষা মানুষের অস্তিত্বের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভাষার মাধ্যমে মানুষ শুধু যোগাযোগ করে না, তারা নিজেদের পরিচয়, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে বাঁচিয়ে রাখে। আফ্রিকান-আমেরিকান সমাজের জন্য ভাষা ছিল এক ধরনের সংগ্রামের হাতিয়ার, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। মরিসনের বক্তৃতায় ভাষার এই দিকটি স্পষ্ট হয়ে উঠে।

এছাড়া, মরিসন সাহিত্যের সামাজিক দায়িত্বের ওপর জোর দেন। তিনি মনে করেন, লেখকদের কাজ সমাজের নিপীড়িত ও বঞ্চিত অংশের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠা। “লেখকের কাজ মানবজাতির জন্য প্রয়োজনীয়,”—এখানে তিনি সাহিত্যের একটি বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা বুঝাতে চান, যা সাধারণ পাঠকের কাছে প্রায়শই অদৃশ্য থেকে যায়।

আফ্রিকান-আমেরিকান সাহিত্যের ইতিহাস শতবর্ষে দাসপ্রথা থেকে শুরু করে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন, নাগরিক অধিকার সংগ্রাম এবং আধুনিক কালচারাল রেনেসাঁ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সাহিত্যে দাসপ্রথার নিষ্ঠুরতা, সামাজিক বৈষম্য, আত্মপরিচয়ের সংকট ও সংগ্রামের কাহিনী উঠে এসেছে। টোনি মরিসনের সাহিত্যে এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্পষ্ট। তিনি তার উপন্যাসে যেমন ‘Beloved’, ‘Song of Solomon’, ‘The Bluest Eye’–এ এই বিষয়গুলোকে গভীরভাবে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর নোবেল বক্তৃতায় এই ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে আফ্রিকান-আমেরিকান সাহিত্যের জটিলতা এবং তাৎপর্য বোঝাতে চেয়েছেন।

মরিসনের ভাষা এবং শৈলী ঐতিহ্যবাহী গল্প বলার ধরন থেকে প্রভাবিত হলেও, তিনি আধুনিক ও সমসাময়িক সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর। তার লেখা কেবল আফ্রিকান-আমেরিকান মানুষের অভিজ্ঞতা নয়, বরং মানব জীবনের সার্বজনীন প্রশ্নকে স্পর্শ করে। নোবেল বক্তৃতায় তার ভাষার ব্যবহার, শব্দচয়ন এবং ভাব প্রকাশের নিপুণতা স্পষ্ট। তিনি ভাষাকে শক্তিশালী একটি অস্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করেন, যা সামাজিক অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ভাষা ও সাহিত্যের এই ক্ষমতাই মরিসনের লেখাকে সাহিত্যের বিশ্বভূমণ্ডলে অমর করে তুলেছে।

টোনি মরিসনের বক্তৃতা আজকের দিনে বিশেষ অর্থ বহন করে। বিশ্বে এখনও বর্ণবাদ, সামাজিক বৈষম্য ও ভাষাগত অবজ্ঞা বিদ্যমান। তার ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি আবেগ ও দায়বদ্ধতা আজও প্রেরণা জোগায় নতুন প্রজন্মের লেখক ও সমাজকর্মীদের। বিশেষ করে বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাহিত্য ও ভাষার সংরক্ষণ এবং তা সামাজিক বর্ণময়তায় পরিণত করার ক্ষেত্রে মরিসনের চিন্তাভাবনা অত্যন্ত মূল্যবান। সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ এবং তার মূল্যায়নের এই বার্তাটি আজকের যুগেও অক্ষুণ্ণ প্রাসঙ্গিক।

টোনি মরিসনের নোবেল বক্তৃতা আফ্রিকান-আমেরিকান সাহিত্যের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দিকগুলো সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। ভাষার গুরুত্ব ও সাহিত্যের দায়িত্ব সম্পর্কে তার গভীর চিন্তাভাবনা আমাদের সাহিত্যের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে। মরিসন শুধুমাত্র একজন সাহিত্যিক নন, তিনি একজন ঐতিহাসিক, সমাজতত্ত্ববিদ এবং ভাষাবিদও বটে, যিনি সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষের মুক্তি ও স্বপ্নের কথা বলেছেন। তার বক্তৃতা এবং সাহিত্যিক কীর্তি আফ্রিকান-আমেরিকান সমাজের ইতিহাস ও সংগ্রামের মর্যাদা তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্ব সাহিত্যের এক অনন্য অধ্যায় রচনা করেছে।

ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন অফিস নিয়ে বিতর্ক কেন?

বাংলাদেশের অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বলা হয়েছে, মানবাধিকারের সুরক্ষা ও বিকাশে সহায়তা করার লক্ষ্যে একটি মিশন খোলার জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের অফিস এবং বাংলাদেশ সরকার তিন বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যে হত্যাকাণ্ড হয়েছিলো, তা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির জন্য ওই বছরের সেপ্টেম্বরে হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসেছিলেন।

সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি মহল আপত্তি জানিয়ে আসছে, বিশেষ করে কয়েকটি ইসলামপন্থি দল ও সংগঠন ‘ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ’ রক্ষায় প্রতিহত করার ডাক দিয়েছে। আবার মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বাংলাদেশে জাতিসংঘের এই দপ্তর চালু হলে এখানকার মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির জন্য তা সহায়ক হবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন (Office of the High Commissioner for Human Rights – OHCHR) এমন একটি সংস্থা যার মূল কাজ হলো বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা, এ সংক্রান্ত প্রচার ও বাস্তবায়নে সহায়তা করা।

এই দপ্তরটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির তথ্য সংগ্রহ করে, পর্যালোচনা করে এবং প্রতিবেদন তৈরির মাধ্যমে সবার সামনে তা তুলে ধরে। সেসব প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।

এর মাধ্যমে সেসব দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ধারণা করতে পারে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অনেক সময় উন্নত দেশগুলোর সম্পর্ক, বিনিয়োগ ও অনুদানের বিষয় নির্ভর করে।

বিশেষ করে, সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোয় ওএইচসিআর-এর এই অফিসগুলো ওইসব দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। এরপর তারা তা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করে।

বিশেষ করে নির্যাতন, বৈষম্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ, নারী ও শিশুদের অধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলোতে তদন্ত ও প্রতিবেদন তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে এই অফিস।

অনেক সময় কোনো দেশে কার্যালয় না থাকলেও যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে, সেখানে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে এই সংস্থাটি।এছাড়াও, মানবাধিকার সুরক্ষায় তারা সরকার, নাগরিক সমাজ, ভুক্তভোগী ও অন্যান্য অংশীজনের সাথে কাজ করে।

যদিও মানবাধিকার হাইকমিশনের প্রতিবেদন বা সুপারিশ কোনো দেশের জন্য পালন করা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু অনেক সময় এসব প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে জাতিসংঘ ও উন্নত দেশগুলোর নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখে।

ওএইচসিআর-এর সদর দপ্তর হলো সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ওএইচসিআর-এর একটি নৈতিক-নীতিনির্ধারণী অফিস রয়েছে। সংস্থাটির ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় দু’শো দেশের মাঝে তাদের অফিস রয়েছে মাত্র ১৬টি দেশে। এই অফিসগুলো ওই দেশগুলো নিয়েই সংশ্লিষ্ট অফিসে বসে কাজ করে।

এই দেশগুলোর মাঝে রয়েছে– বুরকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, চাড, কলম্বিয়া, গুয়াতেমালা, গিনি, হুন্ডুরাস, লাইবেরিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, নাইজার, ফিলিস্তিন, সিরিয়া (লেবাননের বৈরুত থেকে পরিচালিত), সুদান, টিউনিশিয়া ও ইয়েমেন। এছাড়া, তাদের আরও দু’টো অফিস রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায় ও ইউক্রেনে।

এই অফিসগুলোর বেশিরভাগই আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় যেখানে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বাকিগুলোর প্রায় সবই এশিয়া, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে।

ঢাকায় মানবাধিকার কমিশনের অফিস চালু নিয়ে আপত্তি জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম বিবৃতিতে বলেছে — “এর আগেও বিভিন্ন দেশি-বিদেশি সংস্থা বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন, ইসলামি শরিয়া ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছে। নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও একই চিত্র দেখা গেছে। এছাড়া, সমকামী তথা এলজিবিটি ইস্যুটি জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মানবাধিকার দর্শন ও নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত।”

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বিভিন্ন পক্ষের আপত্তির বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়েছে–“ওএইচসিএইচআর মিশন মানবাধিকারের যেকোনো গুরুতর লঙ্ঘনের প্রতিরোধ ও প্রতিকার, বিগত সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর মনোনিবেশ করবে। এটি দেশের প্রতিষ্ঠিত আইনি, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কাঠামোর বাইরে থাকা কোনো সামাজিক এজেন্ডাকে উৎসাহিত করবে না।”

এ প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত সাংবাদিক নাজমুল আহসান ফেসবুকে লেখেন– “মধ্যপ্রাচ্যে জাতিসংঘ ব্যর্থ, সেই জাতিসংঘ বাংলাদেশে কী-ই বা করবে, এগুলো খোড়া যুক্তি।…জাতিসংঘের প্যালেস্টাইন বিষয়ক র‍্যাপোর্টারকে আমেরিকান নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কারণ তিনি গাজা ইস্যুতে অত্যন্ত সোচ্চার।…ইজরায়েলের ক্ষেত্রে মানবাধিকার হাই কমিশনার ও কাউন্সিল তাদের ক্ষমতার সব কিছু করেছে। ইজরায়েলের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাবও পাশ হয়েছে। এই কারণে মানবাধিকার কাউন্সিল থেকে আমেরিকা ও ইসরায়েল বের হয়ে গেছে।

কিন্তু ক্লিয়ারলি, তেমন পার্থক্য ঘটেনি। ইজরায়েলের উপর এই ধরনের চাপ কোনো কাজই করে না। কিন্তু আর দশটা সাধারণ দেশ সচরাচর এত চাপ নিতে পারে না। ফলে তাদেরকে অনেকটা শেমিং করে একটু নিবৃত্ত রাখার চেষ্টা করার কাজই হলো হাই কমিশনার ও হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের উদ্দেশ্য।

… লোকাল অফিসের আবার স্থানীয় কনটেক্সট থাকে। লোকাল অফিসের এজেন্ডা অনেকাংশেই নির্ধারিত হয় লোকাল সিভিল সোসাইটির অগ্রাধিকারের উপর। আমাদের দেশের সিভিল সোসাইটির প্রায়োরিটি গে-লেসবিয়ান না। আমাদের দেশে হিউম্যান রাইটস সংক্রান্ত প্রধান ইস্যু আরও মৌলিক: মানুষ মেরে রাস্তায় লাশ ফেলে রাখলে, তার পোস্ট-মর্টেম হবে কি হবে না, এই ন্যূনতম বর্বরতম প্রশ্ন যেন না উঠে, সেটা নিশ্চিত করা। অতটুকু ন্যূনতম সভ্য অন্তত হওয়া।”

(সূত্র : বিবিসি বাংলা, ফেসবুক)

3D প্রিন্টেড টিস্যু, চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত

আজকের দ্রুত পরিবর্তিত বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত যুগে, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন নতুন আবিষ্কার মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রাকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে। সেই আবিষ্কারের মধ্যে অন্যতম, ৩ডি বায়োপ্রিন্টিং একটি বিপ্লবী প্রযুক্তি যা কল্পকাহিনী থেকে বাস্তবে পরিণত হচ্ছে এবং চিকিৎসা পদ্ধতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। ভবিষ্যতের চিকিৎসা কি আসলে প্রিন্ট করা যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর এখন অনেকটাই ইতিবাচক।

৩ডি প্রিন্টিং মূলত একটি স্তর ভিত্তিক নির্মাণ প্রক্রিয়া, যেখানে ডিজিটাল মডেল অনুসারে বিভিন্ন স্তর একের পর এক বসিয়ে কাঙ্খিত অবকাঠামো তৈরি করা হয়। বায়োপ্রিন্টিংয়ে একই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়, কিন্তু এখানে প্রিন্টিংয়ের মেটেরিয়াল হিসেবে ব্যবহার হয় জীববৈজ্ঞানিক সেল, বায়োম্যাটেরিয়াল ও বায়োইনক। এই সেলগুলো নির্দিষ্ট প্যাটার্নে সাজিয়ে টিস্যু বা অঙ্গের কাঠামো গঠন করা হয়।

প্রথম ধাপ হিসেবে উন্নত ইমেজিং প্রযুক্তির সাহায্যে রোগীর অঙ্গের ডিজিটাল মডেল তৈরি করা হয়। এরপর বায়োইনক এবং সেল মিশ্রিত বায়োম্যাটেরিয়ালকে নির্দিষ্ট ডিজাইনে স্তরবিন্যাস করে বায়োপ্রিন্টার অঙ্গ বা টিস্যু গঠন করে। এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও জটিল, কারণ মানবদেহের প্রতিটি টিস্যুর নিজস্ব কাঠামো, রক্ত সঞ্চালন এবং কোষীয় পরিবেশ বজায় রাখা আবশ্যক।

বিশ্বজুড়ে অঙ্গদানের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, কিন্তু সঠিক দাতা না পাওয়ার কারণে বহু রোগী অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অভাবে মৃত্যুবরণ করছে। ৩ডি বায়োপ্রিন্টিং এই সংকট মোকাবিলায় এক সম্ভাবনাময় উপায় হতে পারে। রোগীর নিজস্ব কোষ থেকে অঙ্গ তৈরি করলে শরীরের অঙ্গ প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি নেভানো যায়। এছাড়া জটিল রোগ যেমন কার্ডিয়াক ফেইলিওর বা লিভার ডিসঅর্ডারে কৃত্রিম অঙ্গ ব্যবহার করে চিকিৎসা সম্ভব।

এছাড়া এই প্রযুক্তি ওষুধ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বিপ্লব ঘটাচ্ছে। পরীক্ষাগারে প্রিন্ট করা টিস্যুতে ওষুধ প্রয়োগ করে কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিরীক্ষণ করা যায়। এটি ক্লিনিকাল ট্রায়ালের ঝুঁকি কমিয়ে ওষুধ আবিষ্কারে গতি আনে।

আরো একটি উল্লেখযোগ্য ব্যবহার হলো জৈবপ্রিন্টেড টিস্যু ও অঙ্গ দিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের মৌলিক গবেষণা করা। মানুষের শরীরের জটিলতা ও প্রতিক্রিয়া বোঝার জন্য সেল বা অঙ্গের মডেল তৈরি করা হচ্ছে, যা আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এবং মানবিক।

৩ডি বায়োপ্রিন্টিংয়ের সম্ভাবনা অসীম হলেও এর বাস্তবায়নে রয়েছে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বাধা। মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গের নিজস্ব জটিল কাঠামো, যেমন রক্তনালী, স্নায়ু ও কোষের সঠিক বিন্যাস সৃষ্টিতে এখনও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। রক্ত সঞ্চালনের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকলে প্রিন্ট করা অঙ্গ দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

সেল সংগ্রহ ও তাদের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং। কোষগুলোকে প্রিন্ট করার সময় তাদের জীবনশক্তি অটুট রাখতে হয়, যা অত্যন্ত নাজুক কাজ। এছাড়াও অঙ্গের কার্যকারিতা সম্পূর্ণরূপে অর্জন করা সহজ নয়।

তবে গত দশকে বায়োপ্রিন্টিংয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যে গবেষণাগারে ত্বক, কার্টিলেজ, কিডনি ও হার্টের কিছু অংশ প্রিন্ট করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি আরও উন্নত হয়ে সম্পূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরি করতে পারবে বলে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যক্তিগত চিকিৎসার যুগে রোগীর নিজস্ব সেল থেকে কৃত্রিম অঙ্গ তৈরি হবে, যা তার শরীরের সঙ্গে শতভাগ খাপ খাইয়ে নেবে। এর ফলে অঙ্গ প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি দূর হবে, চিকিৎসার খরচ কমবে এবং রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।

এছাড়া উন্নত ৩ডি বায়োপ্রিন্টিং প্রযুক্তি পরিবেশ বান্ধব ও টেকসই চিকিৎসা ব্যবস্থা গঠনে সহায়ক হবে। এটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।

৩ডি বায়োপ্রিন্টিংয়ের সাথে জড়িত নৈতিক ও আইনগত বিষয়ও বিবেচনা করা জরুরি। মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ তৈরি ও ব্যবহার সংক্রান্ত নীতিমালা, রোগীর গোপনীয়তা, সেল সংগ্রহের স্বচ্ছতা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়ন প্রয়োজন।

সুতরাং ৩ডি বায়োপ্রিন্টিং প্রযুক্তি ভবিষ্যতের চিকিৎসা ক্ষেত্রে এক নবদিগন্তের সূচনা করেছে। এটি কেবল চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং মানবজীবনের গুণগতমান উন্নত করার এক শক্তিশালী হাতিয়ার।

আশা করা যায়, খুব শিগগিরই আমরা দেখতে পাবো কল্পকাহিনী থেকে বাস্তবতায় যাওয়া “প্রিন্টেড চিকিৎসা” বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্থায়ী স্থান করে নিচ্ছে। এই প্রযুক্তি শুধু চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জীবনকেও বদলে দেবে। তাই এটি সম্পর্কে সচেতনতা ও গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা অপরিহার্য।

“কবিতা হলো একজন একাকী মানুষের সামাজিক কাজ” : লিওনার্ড কোহেন

রজার্স: একটি গান লেখার পুরস্কার, এর তাৎপর্য আপনার কাছে কী?

কোহেন: একজন গীতিকার হিসেবে, এটি আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা দারুণ ব্যাপার, আর উইলি নেলসন, কে. ডি. ল্যাং, এবং রুফাস ওয়েনরাইটের মতো শিল্পীরা আমার গান গাইছেন, এটা অসাধারণ। কারণ ধরুন আপনি কখনোই খারাপ গান লেখার চেষ্টা করেন না, কিন্তু বেশিরভাগই বেশ খারাপ হয়।মাঝে মাঝে আপনি সফল হন এবং আমি চাই সবাই এমন কিছু লেখার অভিজ্ঞতা লাভ করুক যা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষকে স্পর্শ করে।

রজার্স: আপনি কি জানেন কখন আপনি সফল হয়েছেন?

কোহেন: না। আপনি একটা ধারণা পান, কিন্তু নিশ্চিতভাবে কখনো জানতে পারেন না। আমি সবসময় বলি, ভালো গান কোথা থেকে আসে তা যদি জানতাম, তাহলে আমি সেখানে আরও বেশি যেতাম।

রজার্স: আপনি কখন জানতে পারলেন যে আপনি একজন গীতিকার হবেন?

কোহেন: আসলে, আমি নিজেকে কখনোই গীতিকার হিসেবে ভাবিনি। আমি সবসময় গান ভালোবাসতাম এবং গিটার বাজাতাম। আমি নিজেকে একজন লেখক, একজন ঔপন্যাসিক হিসেবে ভাবতাম, কিন্তু সেভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারছিলাম না, তাই ভাবলাম অন্তর্বর্তীকালীন কাজ হিসেবে, শুধু টিকে থাকার জন্য, আমি কিছু গান লেখার চেষ্টা করব, কারণ তথাকথিত লোকগান রেনেসাঁ শুরু হয়েছিল এবং জোয়ান বায়েজ, ডিলান, ফিল ওকস, এবং জুডি কলিন্সের মতো শিল্পীরা ইতিমধ্যেই কাজ করছিলেন। আমি অনেক দিন ইউরোপে, গ্রীসে ছিলাম, তাই কী ঘটছে তা আমি সত্যিই জানতাম না। আমি ফিরে এলাম। আমি অনেক কান্ট্রি গান শুনতাম, এবং যখন আমি ছোট ছিলাম তখন আমার একটি কান্ট্রি ব্যান্ড ছিল।

রজার্স: দ্য বাকস্কিন বয়েজ।

কোহেন: হ্যাঁ, দ্য বাকস্কিন বয়েজ। কিন্তু আমি কখনোই ভাবিনি যে আমি একজন গীতিকার হিসেবে শেষ করব। আমি ভেবেছিলাম এটা শুধু একটা অস্থায়ী কার্যকলাপ, কিন্তু আমার মনে হয় উপন্যাস লেখার চেয়ে আমি এতে ভালো ছিলাম। তবে আমি নিশ্চিত নই।

রজার্স: কান্ট্রি মিউজিক আমার কাছে বিস্ময়কর, কারণ এখন এটা জানার পর, আমি “ক্লোজিং টাইম”-এর মতো গানে একটু কান্ট্রি ফিডল শুনতে পাচ্ছি, কিন্তু আপনি কোথায় কান্ট্রি মিউজিক শুনতেন? মন্ট্রিয়ল রেডিওতে কি এটা প্রচুর ছিল নাকি অন্য কিছু?

কোহেন: মন্ট্রিয়লে বেশ কিছু ক্লাব ছিল যেখানে কান্ট্রি মিউজিক বাজত এবং একটি রেডিও স্টেশন ছিল যা আমি ছোটবেলায় চাদরের নিচে শুয়ে শুনতাম। আমার মনে হয় এটি ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার হুইলিং থেকে WWVA ছিল। আমরা মন্ট্রিয়লে সেটা শুনতে পেতাম।

রজার্স: জুনোস অনুসারে আপনি কানাডার সেরা পুরুষ কণ্ঠশিল্পী ছিলেন।

কোহেন: একটি অত্যন্ত উদার পদবী।

রজার্স: আপনি হয়তো জানেন যে সিবিসি রেডিওর আইডিয়াস-এর হোস্ট পল কেনেডি আপনাকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

কোহেন: [হাসি]

রজার্স: তিনি আমাকে “সুজ্যান” এবং সুজ্যান কে ছিলেন তা জিজ্ঞাসা করতে বলেছেন।

কোহেন: জানেন, গান আপনার কাছে বিভিন্ন উপায়ে আসে, কিন্তু সুজ্যান নামে একজন এই গানের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং তার নাম ছিল সুজ্যান ভ্যায়ানকোর্ট। তিনি আমার এক বন্ধু আরমান্ড ভ্যায়ানকোর্টের স্ত্রী ছিলেন। আমি গানটি লেখা শুরু করেছিলাম, এবং আমার কাছে সুর, গিটারের সুর ছিল, এবং বন্দর, মন্ট্রিয়ল বন্দর সম্পর্কে অনেক পদ ছিল, কিন্তু আমি সুজ্যান ভ্যায়ানকোর্টকে ভালোবাসতাম। তিনি খুব সুন্দরী ছিলেন এবং তিনি একজন খুব অস্বাভাবিক আত্মা ছিলেন, তাই আমি যখন ছোট ছিলাম তখন এবং তারও অনেক বেশি সময় ধরে এটা অনুভব করেছি। তবে তিনি আমাকে নদীর কাছে তার বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং আমাকে আপ্যায়ন করেছিলেন।

রজার্স: চা এবং কমলা?

কোহেন: চা এবং কমলা। তিনি আমাকে গানটি একটি নির্দিষ্ট স্থানে এবং একটি নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু নিয়ে লেখার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। গানটি প্রথমে কিছুটা বিমূর্ত ছিল, কিন্তু তিনি এটিকে একটি স্থান এবং একটি রূপ দিয়েছিলেন এবং আমি খুবই কৃতজ্ঞ ছিলাম।

রজার্স: সেও কি আপনাকে ভালোবাসত?

কোহেন: না, আমার মনে হয় না সেখানে কোনো… জানেন, সেই বয়সে মানুষ একে অপরের প্রতি নিদারুণভাবে আকৃষ্ট হয়।

রজার্স: আর পরে নয়?

কোহেন: আমি জানি না, হয়তো পরেও, তবে অ্যালেন গিন্সবার্গ যেমন বলেছিলেন, বিশেষ করে সেই দিনগুলিতে যৌবনের খেলা হলো যৌনতা। তবে সেভাবে আমাদের সাক্ষাতের পথে অনেক বৈধ এবং মূল্যবান বাধা ছিল।

রজার্স: একবার যখন আপনি জানলেন যে আপনি একজন গীতিকার হতে যাচ্ছেন, তখন কি আপনার লেখার পদ্ধতি পরিবর্তন হয়েছিল?

কোহেন: যখন কাউকে কিছু হিসেবে বর্ণনা করা হয় তখন সে সবসময়ই অবাক হয়, কারণ আপনার হৃদয়ের গভীরে আপনি সবসময় নিজের একটি যুক্তিসঙ্গত সংজ্ঞা খুঁজে পেতে সংগ্রাম করেন। সকালে আমার মনে “গীতিকার” কথাটা আসে না। মানে, আমি জানি এটাই আমার কাজ এবং এই কৌতূহলী পেশা চালিয়ে যেতে আমাকে বেশ কিছু গান তৈরি করতে হবে। কিন্তু কিছুদিন পর আপনি বুঝতে পারেন যে আপনি আসলে এটাই। আমার নোটবুক ভরা পদ দিয়ে।

রজার্স: আমি মনে করি আপনার লেখা কিছু গানে কবিতার সাথে এতটাই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, তবে ফর্মের সাথেও। “নাইট ম্যাজিক” এর একটি সাউন্ডট্র্যাক আছে যেখানে আপনি স্পেন্সারিয়ান ওড ফর্মে লিরিক্স লিখেছেন।

কোহেন: হ্যাঁ, এটা সত্যি।

রজার্স: “বার্ড অন আ ওয়্যার।” এটা কোথা থেকে এসেছে?

কোহেন: আমার মনে হয় আমি সুরটা চুরি করেছিলাম। কেউ আমাকে মন্তব্য করেছিল, “এটা কি… থেকে নেওয়া সুর নয়?” অন্য একটি সুর ছিল। গানটি শুরু হয়েছিল কারণ গ্রীসে যে ছোট গ্রামে আমি থাকতাম সেখানকার পৌরসভা টেলিফোন এবং বিদ্যুতের তার টানতে শুরু করেছিল—দ্বীপে বিদ্যুৎ ছিল না—তারা সব জায়গায় তার টানতে শুরু করেছিল। এবং এটা খুব বিরক্তিকর ছিল কারণ হঠাৎ করে আপনি যে দৃশ্যের জন্য হাজার মাইল পাড়ি দিয়েছিলেন তা এখন তার দিয়ে ছেয়ে গেছে এবং আমি এটা গভীরভাবে অপছন্দ করছিলাম যতক্ষণ না একটি পাখি এল, এবং আসলে অনেক পাখি এল, এবং এই তারে বসত। তাই ওটাই গানের উৎস, আমার মনে হয়। আমি হয়তো এই গল্পটি বানিয়েছি।

রজার্স: এটা একটা ভালো গল্প।

কোহেন: আমার মনে হয় এটা সত্যি, তবে যেমনটা বললাম—আপনার জীবনের উপাদান, আপনার জীবনের অংশগুলো গানে জায়গা করে নেবে। আমি গভীর রাতে ঘরে ফেরা লোকদের কথা শুনতাম, গভীর রাতে ট্যাভারনা থেকে পুরুষদের ঘরে ফেরা। যদিও তারা অন্যদের জাগিয়ে তুলত, এটা একটা সহ্য করা প্রথা ছিল যেখানে পুরুষরা (এবং আমি প্রায়শই তাদের একজন ছিলাম) ঘরে ফিরে আসত এবং আপনি তাদের দেখতে পেতেন, বা আপনি আমাদের দেখতে পেতেন, এই ছোট গ্রামের সিঁড়ি বেয়ে উঠছি, এটা পুরোপুরি সিঁড়ি দিয়ে তৈরি ছিল—আমাদের হাত একে অপরের চারপাশে জড়িয়ে এবং খুব কাছাকাছি হারমোনিতে গান গাইছি: তাই সেই বাক্যটি “লাইক আ ড্রাঙ্ক ইন আ মিডনাইট কোয়ার।” এবং কোয়ার ওয়্যার-এর সাথে মিলত, তাই এটা একটা উপহার ছিল, এবং এটা আপনাকে কৃতজ্ঞতায় আপনার হৃদয়কে উত্তোলন করতে দেয় কারণ ওয়্যার এবং কোয়ার মিলে যায়: “লাইক আ বার্ড অন আ ওয়্যার / লাইক আ ড্রাঙ্ক ইন আ মিডনাইট কোয়ার।” আপনি এটা নিয়ে আসতে পেরে কতটা ভাগ্যবান, এবং যদি ছন্দের বাধ্যবাধকতা না থাকত, তাহলে আপনি কখনোই সেই মিলগুলো খুঁজে পেতেন না।

রজার্স: আমাকে “এভরিবডি নোজ” সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে দিন, কারণ এটি আরেকটি অন্তর্ভুক্ত গান: “এভরিবডি নোজ দ্যাট দ্য ডাইস আর লোডেড / এভরিবডি রোলস উইথ দেয়ার ফিঙ্গারস ক্রসড।” এটা কি ধরনের গান?

কোহেন: আমি জানি না, আমার মনে হয় আমি এক ধরণের কঠোর গান লেখার চেষ্টা করছিলাম, এমন একটি গান যা নিজেকে এবং বিশ্বকে বোঝায় যে আমি সত্যিই কোনো কিছু সম্পর্কে জানি। আমাদের সকলের মনে এই আদিম প্রত্নতত্ত্বগুলো ঘুরে বেড়ায় এবং আমরা মুহূর্ত থেকে মুহূর্তে সেগুলোতে পরিণত হই, তাই সেই লোকটি এক ধরণের সর্বজ্ঞ ছিল যে সেখানে গিয়েছিল এবং সবকিছু দেখেছিল। আমার মনে হয় এভাবেই শুরু হয়েছিল, কিন্তু তারপর ছন্দের অত্যাচারের অধীনে অন্যান্য লাইনগুলো আবির্ভূত হয়েছিল যা আমি কখনোই হয়তো আনতে পারতাম না। সেখানে ভালো লাইন আছে: “লং-স্টেম রোজ” এবং “উইদাউট ইউর ক্লোজ।” এরকম জিনিসগুলো কেবল চমৎকার উপহার এবং আমি জানি না কিভাবে সেগুলো আসে, আমি জানি না কিভাবে সেগুলো আসে। এমন নয় যে আমি এর জন্য ঘাম ঝরাই না, কারণ আমি করি—আমি প্রতিটি শব্দের জন্য ঘাম ঝরাই, এবং এই গানগুলো সম্পূর্ণ করতে আমার অনেক সময় লাগে—কিন্তু যখন এই ছোট উপহারগুলো দেখা যায় তখন আপনি এখনও আশ্চর্যজনকভাবে অবাক এবং কৃতজ্ঞ হন। তাই সেই গানটিতে তাদের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা রয়েছে। এবং তারপর এটি আমাকে আমার নিজের অনুভূতিগুলো অন্বেষণ করতে দেয় যে জিনিসগুলো কেমন ছিল, কোনো কারণে সক্রিয় না হয়ে, যা আসলে আমার প্রকৃতি নয়। আমি এমন আবেগগুলোকে সক্রিয় করতে পারতাম যা সংস্কারের জন্য একটি অনুভূতি, বা একটি প্রয়োজন, বা একটি আকাঙ্ক্ষার সাথে মিলে যায়। আমার মনে হয় ইয়েটসের বাবা বলেছিলেন যে কবিতা হলো একজন একাকী মানুষের সামাজিক কাজ।

রজার্স: আপনি যখন গানটা লিখেছিলেন তার চেয়ে এখন কি প্রেম সম্পর্কে বেশি কিছু জানেন?

কোহেন: আমি কখনোই এতে ভালো ছিলাম না। মানে, চলুন স্বীকার করি। এটা আমি সত্যিই নিশ্চিতভাবে বলতে পারি।

রজার্স: আপনার একটি নতুন অ্যালবাম এবং একটি নতুন কবিতার বই আসছে?

কোহেন: হ্যাঁ, আমার একটি কবিতার বই আছে যার নাম ‘বুক অফ লংইং’, এবং এতে কবিতা ও ছবি আছে এবং এর একটি চমৎকার কভার আছে।

রজার্স: ওটার উপর কী আছে?

কোহেন: এটা একটা পাখি। আমার যেটা ভালো লাগে সেটা হলো এটা একটা আঁকা ছিল যেটা আমি বাতিল করে দিয়েছিলাম এবং এর কোনো প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু আমি আমার আঁকাআঁকি আর স্কেচগুলো অবিরাম রিসাইকেল করি এবং যখন কিছু আবার ফিরে আসে তখন সেটা সত্যিই চমৎকার লাগে। আপনার কখনোই কিছু ফেলে দেওয়া উচিত নয়, মানুষ বা ধারণা সহ। এটা সত্যিই সত্যি যে আপনার কাউকে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। সবকিছুই ব্যবহার করা যায়।

রজার্স: আমাকে “হ্যালিলুয়া” সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে হবে।

কোহেন: সেই গানটিও “ক্র্যাক ইন এভরিথিং” এবং “এইন্ট নো কিউর ফর লাভ” এর একই জায়গা থেকে এসেছে। এটি বলে, “এবং যদিও / সবকিছু ভুল হয়ে গেছে / আমি গানের প্রভুর সামনে দাঁড়াবো / আমার জিহ্বায় ‘হ্যালিলুয়া’ ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।” আমি মনে করি এটাই আমার জন্য সারসংক্ষেপ।

Microsoft-এর প্রথম কোয়ান্টাম কম্পিউটিং চিপ – Majorana 1

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে Microsoft তাদের প্রথম কোয়ান্টাম কম্পিউটিং চিপ “Majorana 1” আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে। এটি তাদের ‘Topological Core’ আর্কিটেকচারের উপর নির্মিত প্রথম কোয়ান্টাম প্রসেসর যা প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন ধরণের পরিবর্তনের সূচনা করতে সক্ষম বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান সময়ে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং দ্রুত বিকাশমান একটি ক্ষেত্র। Majorana 1 চিপটি সেই বিবর্তনের একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক, যা মূলত টোপোলজিক্যাল কিউবিট প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের প্রধান চ্যালেঞ্জের মধ্যে একটি হলো কিউবিটের স্থায়িত্ব। প্রচলিত কিউবিট যেমন সুপারকন্ডাক্টর বা আয়ন-ট্র্যাপড কিউবিট সহজেই পরিবেশগত গোলযোগ বা শব্দের কারণে ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। অন্যদিকে Majorana 1 চিপে ব্যবহৃত টোপোলজিক্যাল কিউবিটগুলি তাদের প্রকৃতির কারণে গোলযোগ থেকে অনেক বেশি রক্ষিত থাকে।

টোপোলজিক্যাল সুপারকন্ডাক্টর উপাদান থেকে তৈরি এই কিউবিটগুলো Majorana zero modes (MZMs) ব্যবহার করে, যা তথ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীলতা ও নির্ভরযোগ্যতা দেয়। এই মেজরানা কনসেপ্ট ২০০৪ সালে Ettore Majorana নামক পদার্থবিজ্ঞানীর তত্ত্ব থেকে উদ্ভূত, যা ২০ বছরের বেশি গবেষণার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

Microsoft তাদের Majorana 1 চিপে আটটি টোপোলজিক্যাল কিউবিট সংযুক্ত করেছে। প্রতিটি কিউবিটের মধ্যে রয়েছে চারটি Majorana zero mode এবং H-আকৃতির ন্যানোওয়্যার স্ট্রাকচার, যা অ্যালুমিনিয়াম ও ইনডিয়াম আর্সেনাইডের হাইব্রিড মাধ্যমে গঠিত। এই ডিজাইনকে “H-block” বলা হয় যা একটি ইউনিট হিসেবে কাজ করে এবং একাধিক H-block জুড়ে বড় আকারের চিপ তৈরি করা সম্ভব।

এই টাইলার স্টাইল আর্কিটেকচারের ফলে স্কেলেবিলিটি সহজ হয়। মাইক্রোসফটের লক্ষ্য হল এক সময়ে পাম-সাইজের Majorana 1 চিপে এক মিলিয়ন কিউবিট স্থাপন করা, যা বর্তমান দিনের তুলনায় কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের ক্ষমতাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেবে।

মাইক্রোসফটের Majorana 1 চিপে কিউবিট নিয়ন্ত্রণ ও তথ্য আহরণ সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। এটি আগের অনেক কোয়ান্টাম কম্পিউটার থেকে আলাদা, যেখানে সাধারণত অ্যানালগ সংকেতের মাধ্যমে কিউবিট নিয়ন্ত্রণ ও রিড-আউট করা হত। ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে কম গোলযোগ, উচ্চ নির্ভরযোগ্যতা এবং উন্নত স্কেলেবিলিটি নিশ্চিত হয়।

এই প্রযুক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সহজেই সংযুক্ত করা সম্ভব, যা বৃহৎ পরিসরে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

Microsoft তাদের গবেষণাপত্র “Interferometric Single‑Shot Parity Measurement in InAs–Al Hybrid Devices” প্রকাশ করেছে, যেখানে ইনডিয়াম-আর্সেনাইড অ্যালুমিনিয়াম হাইব্রিড ডিভাইসে উচ্চ-নির্ভুলতা মাইক্রোওয়েভ ভিত্তিক মেজারমেন্ট পদ্ধতির মাধ্যমে কিউবিটের তথ্য নির্ধারণের পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। Majorana zero modes-এর সম্পূর্ণ প্রমাণ এখনো পাওয়া না গেলেও এই গবেষণাপত্র উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নির্দেশ করে।

Majorana 1 চিপে আটটি কিউবিট সংযুক্ত আছে, যা Google এবং IBM-এর চিপের তুলনায় কম, কিন্তু এর কিউবিটের গুণগতমান ও গোলযোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হওয়ায় ভবিষ্যতে বড় স্কেলে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। Microsoft দাবি করেছে, তাদের এই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে আগামী দশকের মধ্যে মিলিয়ন-কিউবিট ক্ষমতার কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি সম্ভব হবে।
তবে বাণিজ্যিক প্রয়োগ এবং পূর্ণাঙ্গ কার্যকারিতার জন্য এখনও বহুবিধ পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে। DARPA-এর US2QC প্রোগ্রামে Microsoft অংশগ্রহণ করছে, যেখানে একটি ব্যবহারোপযোগী ও ভুল-সহিষ্ণু কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিভিন্ন স্বাধীন বিজ্ঞানী এখনও Majorana zero modes-এর সত্যতা এবং তাদের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। এর জন্য আরো গভীর গবেষণা ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন।

Majorana 1-এর ভিত্তিতে উন্নত কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রযুক্তি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাতে পারে:

জীববিজ্ঞান ও ওষুধ উন্নয়ন: জটিল রাসায়নিক বিক্রিয়া ও প্রোটিন স্ট্রাকচার মডেলিংয়ের মাধ্যমে নতুন ঔষধ আবিষ্কারে সহায়ক হতে পারে।

পরিবেশগত সমস্যা সমাধান: কার্বন শোষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত ডাটা বিশ্লেষণে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

উন্নত উপাদান বিজ্ঞান: স্বয়ং-নির্মাণশীল ও শক্তিশালী নতুন উপকরণ ডিজাইনে প্রভাব ফেলতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা: অত্যাধুনিক এনক্রিপশন এবং ডিক্রিপশন প্রযুক্তি উন্নয়নে ব্যবহৃত হতে পারে।

Majorana 1 একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর সফল বাস্তবায়ন প্রযুক্তি বিপ্লব ঘটাতে পারে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানবজীবন ও অর্থনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক প্রয়োগের জন্য এখনও গবেষণা, উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো অতিক্রম করতে হবে।

বিজ্ঞান চাঁদে পৌঁছে গেছে, অথচ আমরা এখনো হোমারের নৈতিকতায় বন্দি : আন্তোনিওনি

স্যামুয়েলস্ : কথা প্রসঙ্গে আপনি উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন ‘কেউ যদি কখনো সিনেমাটোগ্রাফিক ব্যাকরণের দুই-দিনটি বেসিক নিয়ম শিখে যায়, তাহলে তার পক্ষে ইচ্ছেমতো কাজ করা সম্ভব, এমনকি নিয়মভাঙাও।’ আপনি কোন নিয়মগুলোর কথা বোঝাচ্ছিলেন?

আন্তোনিওনি : সবচেয়ে সহজ নিয়মগুলো : ক্রসকাটিং, অভিনেতা যদি আগেরবার ফ্রেম থেকে বামদিক দিয়ে বের হয়ে থাকে, তাহলে তাকে ডানদিক দিয়ে ঢুকানো ইত্যাদি। এ রকম শতশত নিয়ম ফিল্মস্কুলগুলোতে শেখানো হয় এবং আপনার সত্যিকারের ফিল্মমেকিং শুরু করার আগপর্যন্তই শুধু এগুলো কাজে আসে। এগুলো যে মূল্যহীন- নিজেকে তা বুঝানোর জন্য প্রায়ই এ রকম শুট করে থাকি আমি। আপনি একটা নিয়ম ভাঙ্গলেন, অথচ কেউই বুঝতে পারলো না; এর কারণ, দর্শকরা কেবল আপনার ‘ভ্রান্তি’গুলোই খেয়াল করবে। আর এটা যদি কাজে লেগে যায়, তাহলে কে যাবে নিয়মের তোয়াক্কা করতে!

স্যামুয়েলস্ : আপনার প্রথম ফিচার ফিল্ম স্টোরি অব অ্যা লাভ অ্যাফেয়ার-এ দ্বিতীয় ফিল্ম দ্য ল্যাডি উইদাউট ক্যামেলিয়াস-এর চেয়ে উদ্ভাবনী-ক্ষমতা ও ইনোভেটিভ ক্যামেরা-ওয়ার্ক বেশি ছিলো। যেমন ধরুন, দ্য ল্যাডি উইদাউট ক্যামেলিয়াস-এ কোনো চরিত্র যখন ক্যামেরার দিকে মুভ করেছে, তখন আপনি নিয়মিতভাবে তাকে ট্র্যাক করেছেন- যেটি কিনা নিশ্চিভাবেই নিয়মমাফিক ব্যাপার; অথচ স্টোরি অব অ্যা লাভ অ্যাফেয়ার-এ আপনার পরবর্তী ফিল্মগুলোর মতোই আপনি কখনো কখনো ভীষণ অর্থোডক্স বা গোঁড়া হয়ে উঠেছেন। এর কারণ কী?

আন্তোনিওনি : এই প্রশ্নের জবাব আমি দিতে পারবো না। আমি যখন ফিল্মের শুটিং করি, তখন একটা কিছুর শুট কীভাবে করতে চাই- সেই ভাবনা কখনো কাজ করে না আমার মধ্যে; আমি স্রেফ শুট করে ফেলি। এই যে একটি ফিল্ম থেকে আরেকটি ফিল্মে এসে আমার টেকনিকের বদলে যাওয়া- এটি একেবারেই সহজাত প্রবৃত্তির একটি ব্যাপার, এবং এটি কখনোই কোনো উদ্দেশ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ভিত্তিতে করা হয় না। তবে আমার মনে হয়, আপনি ঠিকই বলেছেন, দ্য ল্যাডি উইদাউট ক্যামেলিয়াস-এ স্টোরি অব অ্যা লাভ অ্যাফেয়ার-এর তুলনায় বেশি গোঁড়ামি ছিলো। এর কারণ, প্রথম ফিল্মটির শুটিংয়ের সময় আমি অনেক লং-টেক নিয়েছি; এবং এমনকি দৃশ্যটি শেষ হয়ে যাওয়ার পরও আমার ক্যামেরা অভিনেতাদেরকে ফলো করেছে। কিন্তু জানেন তো, পরবর্তী সময়ে যতোটা ইনোভেটিভ ব্যাপার ঘটেছে, স্টোরি অব অ্যা লাভ অ্যাফেয়ার-এ তা অতোটা ছিলো না। নিয়ম আমি আরো অহরহ ভেঙেছি পরে এসে। দ্য অ্যাডভেঞ্চার দেখুন; এবং বিশেষ করে দেখুন ব্লো-আপ।

স্যামুয়েলস্ : আপনার ফিল্মগুলোর মধ্যে ব্লো-আপ সিনেমাটোগ্রাফিক্যালি সবচেয়ে আন-অর্থোডক্স। তবে একটা ব্যাপার আমাকে অবাক করেছে, তা হলো- ব্লো-আপ-এর যে ক্যামেরা-ওয়ার্ক, সেটির আদর্শ মনে হয়েছে আপনার শর্ট ডকুমেন্টারি লাইজ অব লাভকে; এটি অনেকটা কমিক কিংবা লাইভ অ্যাকশন কমিক স্ট্রিপসের মতো করে বানানো; এবং এটি পরের কাজটিতে দেখা মেলা ট্রিক-শটগুলোর অনেকটাই ধারণ করে আছে। উদাহরণ হিসেবে বলি, আমার ধারণা, যেকোনো কমিক-দৃশ্যের শটটি ক্যামেরায় এর প্রতিফলনে এসে হ্রাস পেয়েছে। ফটোগ্রাফি সম্পর্কিত যে দুটি ফিল্ম আপনি বানিয়েছেন, সেগুলোর শুটিংই সবচেয়ে জটিলতা ধারণ করে আছে- এটিকে কি আপনার কাছে নিছক কাকতালীয় ব্যাপারের চেয়েও বেশি কিছু বলে মনে হয় না?

আন্তোনিওনি : আপনি ঠিকই বলেছেন, ব্লো-আপ আমার সবচেয়ে আন-অর্থোডক্স ফিল্ম; তবে এটি আন-অর্থোডক্স হয়েছে মন্তাজে যেমন, তেমনি হয়েছে ফটোগ্রাফিতেও। এক্সপেরিমেন্টাল সেন্টারে [ফিল্মস্কুল] গেলে তারা আপনাকে শেখাবে, আপনি যেন অ্যাকশন চলাকালে কোনো শটের কাট না করেন। ব্লো-আপ-এও আমি এই জিনিসটি অব্যাহত রেখেছি। হেমিংস একটি ফোনবুথের দিকে হাঁটা দিয়েছে; সেখানে পৌঁছতে পৌঁছতে ফ্ল্যাশ দিয়ে সে কয়েকটি ফ্রেমের স্ন্যাপ নিয়েছে- এ দৃশ্যটি ভাবুন। কিংবা সেই দৃশ্যটির কথাই ধরুন, যেখানে সে ভারুশ্কার ছবি তোলে- এই অ্যাকশনটির সময় আমি কাট করে অনেকগুলো ফ্রেম নিয়েছি; করেছি তা-ই- যেটিকে সেন্টারের শিক্ষকেরা সম্পূর্ণরকম কুৎসিত বলে বিবেচনা করেন।

স্যামুয়েলস্ : দ্য অ্যাডভেঞ্চার প্রসঙ্গে কান ফেস্টিভ্যালের ইশতিহারে আপনি বলেছিলেন, নিজের প্রয়োজনীয়তা সঙ্গে নিজেকেই একেবারে বেমানান বোধ করে মহাশূন্যের চৌকাঠে বোঝা হয়ে উঠেছে মানুষ। এ কথা দিয়ে কী বুঝিয়েছিলেন?
আন্তোনিওনি : যা বলেছিলাম, ঠিক সেটিই বুঝিয়েছিলাম : মানে, আমরা এমন এক সংস্কৃতিতে আটকে আছি, যেটি বিজ্ঞানের মতো অতোটা অগ্রগামী নয়। বৈজ্ঞানিক মানুষ ইতোমধ্যে চাঁদে পৌঁছে গেছে, অথচ আমরা এখনো বাস করছি হোমার-প্রবর্তিত নৈতিক ধারণার মধ্যে। এই অচলাবস্তা, এই ভারসাম্যহীনতা দুর্বলচিত্তের মানুষকে করে তুলছে আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন; এটি আধুনিক জীবনের মেকানিজমের সঙ্গে তাদের মানিয়ে নেওয়া নেওয়াটাকে করে তুলছে ভীষণ দুরূহ।

স্যামুয়েলস্ : ব্লো-আপ বাদে আপনার বাকি ফিল্মগুলো কোনো না কোনো নারীকে ঘিরে বানানো- যে কিনা কোনো পুরুষকে বিশ্বাস করে ঠকেছে। এই প্লটটির পুনরাবৃত্তিকে কেন ধরে রেখেছেন আপনি?

আন্তোনিওনি : আপনার কথা শুনে বিষয়টি নিয়ে কেবলই চিন্তায় পড়লাম। আমি যা করি, তার ব্যাখ্যা আমার পক্ষে দেওয়া বেশ দুরূহ। আপনার উপলব্ধির চেয়েও অনেক বেশি, অনেক অনেক বেশি স্বভাবজাত ব্যাপার এটি। যেমন ধরুন, জোসেফ লসিকে নিয়ে লেখা একটি আর্টিক্যাল পড়ে, তার কাজ করার ধরন জেনে আমি মজা পেয়েছিলাম। তিনি একটি বই পড়ার পর সেটি যদি তার ভালো লাগে, তাহলে সেটি দিয়ে ফিল্ম বানান। কিন্তু কোনো প্রডিউসার যদি বলে, ‘অন্যকোনো ফিল্ম বানান’, তাহলে তিনি তার নিজের পছন্দকে বাদ দিয়ে দেন। আমার ক্ষেত্রে এ বিষয়টি অবশ্যই ভিন্ন; তবে কী করে যে বলি, আমার ক্ষেত্রেও কোনো বিষয়বস্তুর প্রতি নিজের আগ্রহ জন্মানোর পেছনে যে কারণগুলো থাকে, সেগুলোও তো খামখেয়ালিপূর্ণ। অনেকবারই আমি তিনটি গল্পের মধ্য থেকে একটিকে বেছে নিয়েছি একেবারেই আকস্মিক কোনো কারণে- হঠাৎ লাফিয়ে উঠে ভেবেছি, এটি বিস্ময়কর হবে; কেননা, আগের রাতে নির্দিষ্ট একটি স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিংবা এটিকে ভালো মনে করেছি এই বিবেচনায় যে, এই সবিশেষ গল্পটিকে আমার নিজের ভেতর থেকেই সংযুক্তিপূর্ণ বলে মনে হয়েছে।