Home Blog Page 41

জাহাজের কার্বন-ডাই-অক্সাইড কে লবণ বানাবে ‘Ocean Reactor’


জেস অ্যাডকিন্সের রিঅ্যাক্টর জাহাজের দূষণকে লবণে পরিণত করে

ক্যালটেকের সমুদ্র রসায়নবিদ জেস অ্যাডকিন্স এবং ইউএসসি-এর বিজ্ঞানীরা একটি শক্তিশালী অনবোর্ড রিঅ্যাক্টর তৈরি করেছেন। এটি জাহাজের ধোঁয়া থেকে CO₂ ধরে নিয়ে সেটিকে কয়েক মিনিটের মধ্যে নিরাপদ ও সংরক্ষণযোগ্য বাইকার্বোনেট লবণে রূপান্তরিত করে।

এক বিলিয়ন বছর পুরোনো সামুদ্রিক প্রক্রিয়াকে কাজে লাগায়

এই রিঅ্যাক্টর একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে, যেখানে কার্বন ডাই অক্সাইড সামুদ্রিক জলের ক্যালসিয়াম কার্বনেটের সাথে মিশে স্থিতিশীল বাইকার্বনেটে পরিণত হয়। এটি কার্বনকে ১,০০,০০০ বছর পর্যন্ত আটকে রাখতে পারে।

নিরাপদে বর্জ্য পরিষ্কার করে এবং পানি সমুদ্রে ফিরিয়ে দেয়

জাহাজের নির্গত ধোঁয়া একটি পানি ও খনিজ চেম্বারের মধ্য দিয়ে চালিত হয়। এর ফলে তৈরি হওয়া লবণাক্ত পানি সমুদ্রের রাসায়নিক গঠনকে প্রভাবিত না করেই আবার সমুদ্রে ফিরে যায়। এতে এই প্রক্রিয়াটি নিরাপদ, দূষণমুক্ত এবং সামুদ্রিক জীবনের জন্য সহায়ক।

প্রবাল, ঝিনুক ও সমুদ্রের তলদেশকে রক্ষা করে

অ্যাসিডিফিকেশন বা অম্লীকরণ কমিয়ে এই রিঅ্যাক্টর প্রবাল প্রাচীর, ঝিনুক এবং সমুদ্রের তলদেশের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য ক্যালসিয়াম কার্বনেট জমাটকে রক্ষা করে। এর মাধ্যমে এটি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করার পাশাপাশি সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রকেও সংরক্ষণ করে।

শূন্য-নির্গমন শিপিং-এর দিকে এক বিশাল পদক্ষেপ

এই সিস্টেম একটি জাহাজের ৫০% পর্যন্ত CO₂ নির্গমন অপসারণ করতে পারে। হাইড্রোজেন জ্বালানি এবং পালতোলা জাহাজের সাথে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে, এটি ২০৫০ সালের মধ্যে শিপিং খাতের নিট-শূন্য নির্গমনের লক্ষ্য অর্জন অনেক ত্বরান্বিত হতে পারে।

নিউইয়র্ক টাইমস-এর বিশ্লেষণ : পশ্চিমা বিশ্বেও একঘরে হয়ে পড়ছে ইসরায়েল

গাজায় যেভাবে ধ্বংসযজ্ঞ আর অনাহার চলছে, তাতে মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে এবং বিশ্বমঞ্চে ইসরায়েল আরও একা হয়ে পড়ছে। ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পশ্চিমা মিত্রদেশ এখন রাজনৈতিক চাপে পড়েছে। এ চাপ আসছে দেশগুলোর সাধারণ মানুষের কাছ থেকে। কারণ, গাজার বাসিন্দাদের অনাহারে থাকার তথ্য-প্রমাণ তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।

গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা করছে কি না, তা নিয়ে অনেক বুদ্ধিজীবী এখন প্রশ্ন তুলছেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশে করা জরিপে দেখা যাচ্ছে, মানুষ ইসরায়েলকে নিয়ে আরও নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এ যুদ্ধ শেষ করার স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনাও দেখা যাচ্ছে না।

ইসরায়েলের লেবার পার্টির নেতৃত্বাধীন সাবেক সরকারের হয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া ড্যানিয়েল ল্যাভি বলেন, এখন একধরনের সাংস্কৃতিক পরিবর্তন হচ্ছে। অনেক জায়গা, যেমন অপেরা হাউস বা সংগীত উৎসবে ইসরায়েলবিরোধী, ফিলিস্তিনপন্থী—এমনকি কখনো ইহুদিবিদ্বেষী বিক্ষোভ হচ্ছে। পপ তারকা বিলি আইলিশ ও আরিয়ানা গ্র্যান্ডে যুদ্ধবিরতি ও গাজায় সাহায্যের পক্ষে কথা বলেছেন।

জনমত জরিপেও সেই পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এপ্রিলে করা এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্কদের ৫৩ শতাংশ এখন ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। ইসরায়েলে হামাসের হামলার আগে এ হার ছিল ৪২ শতাংশ। তাদের মধ্যে খুবই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা মানুষের হার ১৯ শতাংশ। ২০২২ সালে তা ছিল ১০ শতাংশ।

আরেকটি জরিপে দেখা গেছে, ২৪টি দেশের মধ্যে ২০টিতে অর্ধেক বা তার বেশি মানুষ ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, তুরস্কসহ অনেক দেশে এ হার ৭৫ শতাংশের বেশি। তরুণদের মধ্যে এ মনোভাব আরও বেশি।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে তাঁর দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও একই কথা বলেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শর্ত সাপেক্ষে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির কথা বলেছেন। এসব এটাই তুলে ধরছে যে ইসরায়েল ও যুদ্ধ নিয়ে পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গি খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত মার্কিন অধ্যাপক বার্নার্ড আভিশাই বলেন–এখন গাজায় যা ঘটছে, তা দেখে জমে থাকা ক্ষোভ বেরিয়ে আসছে। এটা অনেকের ইসরায়েলের সঙ্গে কাজ করা বা ভ্রমণের ইচ্ছা কমিয়ে দিচ্ছে। ইসরায়েলের অর্থনীতিতে এটা ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে।

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চাক ফ্রেইলিচ বলেন–মানুষের মনোভাবে এ বদল এবং ইসরায়েলকে এর জন্য যে মূল্য দিতে হবে, সেই বাস্তবতা বুঝতে দেরি করছেন নেতানিয়াহু। এ মনোভাব বদলের পেছনের কারণ যা-ই হোক না কেন, মূল বিষয়টা হলো ইসরায়েল একঘরে হয়ে যাচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামাসবিরোধী সংঘাতে ইসরায়েলের পক্ষে। তিনি আগেও নেতানিয়াহুকে যেভাবে খুশি হামলা করার স্বাধীনতা দিয়েছেন। কিন্তু এবার ট্রাম্পকে গাজার দুর্ভিক্ষের ভিডিও দেখে হতবাক মনে হয়েছে। তাঁর অনেক ঘনিষ্ঠ সমর্থকও এখন বলছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভাবতে হবে।

(দৈনিক প্রথম আলো থেকে সংক্ষেপিত)

চীনা দর্শনে নারীর প্রথম কণ্ঠস্বর বান ঝাও ও তার Lessons for Women – এর নীরব বিপ্লব

দর্শনের ইতিহাসে নারীর স্থান প্রায়শই আড়ালে থেকে গেছে। বিশেষ করে প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সমাজে যেখানে জ্ঞানের অধিকাংশ রচনাই পুরুষদের হাতে গঠিত। তবু ইতিহাসের পাতায় কিছু কিছু নারী দার্শনিক এমন সময় কথা বলেছেন, যখন তাদের কথা বলার অধিকারও ছিল না। চীনা দর্শনের জগতে বান ঝাও (Ban Zhao) সেই বিরল এক নাম যিনি শুধু নারী হিসাবে নয়, বরং চিন্তাশীল দার্শনিক ও ইতিহাসবিদ হিসেবেও প্রাচীন চীনের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর রচিত “Lessons for Women” গ্রন্থটি একাধারে চীনা নারীদের সামাজিক অবস্থান, নৈতিকতা এবং আত্মপরিচয়ের একটি ব্যতিক্রমী দার্শনিক দলিল।

কে ছিলেন বান ঝাও?
বান ঝাও (খ্রিস্টপূর্ব ৩৫ – খ্রিস্টাব্দ ১০০) ছিলেন হান রাজবংশের সময়কার একজন লেখিকা, দার্শনিক ও রাজদরবারের ইতিহাসবিদ। তিনি ছিলেন বিখ্যাত ঐতিহাসিক বান গুও-এর বোন, যিনি Book of Han লেখার কাজ শুরু করেছিলেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর বান ঝাও সেই বিশাল ঐতিহাসিক কাজ সম্পূর্ণ করেন, যা আজও চীনের অন্যতম প্রামাণ্য ইতিহাসগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত। তবে বান ঝাও সবচেয়ে বেশি পরিচিতি পেয়েছেন তাঁর লেখা “Lessons for Women” বা Nü Jie গ্রন্থের মাধ্যমে। এই বইটি তিনি লিখেছিলেন তাঁর কন্যাদের জন্য, যেখানে তিনি নারীদের জন্য একটি আদর্শ জীবনচর্চার পথরেখা নির্ধারণ করেছেন।

প্রথমবার পড়লে মনে হতে পারে, “Lessons for Women” কেবল পুরুষতান্ত্রিক শৃঙ্খলার প্রশংসা করে লেখা একধরনের আচরণবিধি, যেখানে নারীদের বিনয়ী, অনুগত ও ঘরোয়া জীবনযাপনের উপদেশ দেওয়া হয়েছে। সত্যি বলতে বইটিতেও বলা হয়েছে নারীদের উচিত স্বামীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, শ্বশুর-শাশুড়ির কথা মান্য করা, এবং নিজেদের দোষ স্বীকারে প্রস্তুত থাকা।

তবে এই ‘আজ্ঞাবহ’ ভাষার নিচে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা লুকিয়ে আছে, যা সময়োপযোগী দৃষ্টিতে গভীরভাবে অনুধাবন করলে দেখা যায় বান ঝাও আসলে একটি পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতরে দাঁড়িয়ে নারীদের জন্য জ্ঞানের অধিকার দাবি করেছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন “যদি নারীরা শিখতে না পারে, তারা কীভাবে জানবে কী ভালো, কী খারাপ?” এই বক্তব্য শুধু শিক্ষা নয়, নারী-স্বাধীন চিন্তার দাবিও বটে। বান ঝাও বুঝতে পেরেছিলেন সমাজের কাঠামো এমনভাবে তৈরি যে নারীর জন্য স্বাধীনতা দাবি করা বিপদজনক। তাই তিনি সেই কাঠামোর ভেতর থেকেই ধীরে ধীরে নারীদের আত্মচেতনার বীজ রোপণ করেছেন।

বান ঝাও-এর দৃষ্টিভঙ্গি দ্বিমুখী। একদিকে তিনি নারীর সামাজিক কর্তব্যের কথা বলেছেন—যেমন গৃহকর্ম, বিনয়, স্বামীর আনুগত্য ইত্যাদি। অন্যদিকে তিনি নারীদের শিক্ষা, আত্মসংবরণ ও বিচারবোধ গঠনের উপর জোর দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে বান ঝাও নারীর সামাজিক ভূমিকা ও ব্যক্তিসত্তার মাঝে একটি দার্শনিক দ্বৈততা তৈরি করেছেন।
তাঁর মতে, একজন নারী সমাজের কাঠামো মেনে চললেও তার মধ্যে থাকা আত্মচেতনা, বিচারবুদ্ধি ও শিক্ষার প্রয়োজন কমে না। এ কারণেই “Lessons for Women” শুধু একগুচ্ছ আচরণবিধি নয়, বরং এটি নারীত্বের এক অনন্য অন্তর্জগৎ তুলে ধরে।

প্রশ্ন জাগতে পারে বান ঝাও কি নারীবাদী ছিলেন? আধুনিক অর্থে হয়তো নয়, কিন্তু তাঁর চিন্তা এক গভীর নারীবাদী বোধের পূর্বসূরী। তিনি শুধু নারীদের স্বামীর প্রতি কেমন আচরণ করা উচিত এই বিষয়েই প্রশ্ন করতেন না। বরং আরও বড় পরিসরে ভাবতে উৎসাহিত করতেন, কেন একজন নারী তার নিজের মূল্যবান সময় এবং জ্ঞান অর্জনে মনোযোগ দেবে না?
এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রাচীন চীনা সমাজে এক বিপ্লবী কণ্ঠস্বর। একজন নারী হয়ে নারীদের নিজস্ব অবস্থান ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের কথা বলার মধ্য দিয়ে তিনি চীনা দর্শনে নারীর অস্তিত্বকে দার্শনিক ভিত্তি দিয়েছেন।

বান ঝাও-এর লেখা শুধু তাঁর সময়েই নয়, পরবর্তী শতাব্দীতেও শিক্ষিত নারীদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। চীনের মেয়েরা তাঁর লেখা বই পড়ত, আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস অর্জন করত। এই বইটি পরে মিং ও কিং রাজবংশের সময় পর্যন্ত রাজদরবারের নারীশিক্ষার মূলপাঠ্য ছিল।
যদিও এই গ্রন্থ পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর ভেতর দাঁড়িয়ে লেখা হলেও, তার মধ্যে লুকিয়ে ছিল আত্মমুক্তির দর্শন। তাঁর লেখার মধ্যে নারীর অভ্যন্তরীণ শক্তি, আত্ম-সংযম ও জ্ঞান অর্জনের আকাঙ্ক্ষা একটি নীরব বিপ্লব তৈরি করে। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই বান ঝাও-কে চীনা দার্শনিক ইতিহাসে নারী-স্বরে দর্শনের সূচনা বলা যায়।

বান ঝাও আমাদের দেখিয়েছেন দার্শনিক চিন্তা কেবল তত্ত্ব নয়, বরং সমাজ ও আত্মপরিচয়ের গভীর সংলাপ। তাঁর লেখা “Lessons for Women” প্রথমে নারী জীবনের শৃঙ্খলার পাঠ মনে হলেও আসলে তা এক ধরনের ‘আত্ম-শিক্ষার ম্যানুয়াল’। তিনি হয়তো প্রকাশ্যে পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি, কিন্তু তার দৃষ্টিভঙ্গি নারীদের মনের ভেতর যে আত্মসম্মান ও শিক্ষা-বোধ জাগিয়ে তুলেছে, তা নিঃসন্দেহে নারীবাদী ঐতিহ্যের এক সূচনা বিন্দু।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে, যখন নারী অধিকার, স্বাধীনতা ও আত্মপরিচয় বারবার আলোচনায় আসে, তখন বান ঝাও-এর মতো এক প্রাচীন নারী দার্শনিকের কাজ আমাদের মনে করিয়ে দেয় বিপ্লব সবসময় উচ্চস্বরে হয় না, কখনো কখনো তা হয় নীরব, কিন্তু গভীর এবং স্থায়ী।

নমনীয় OLED স্ক্রিন থেকে হিঞ্জ ডাইনামিক্স – ফোল্ডেবল স্ক্রিন প্রযুক্তি

ফোল্ডেবল স্ক্রিন প্রযুক্তি আধুনিক স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট ডিজাইনের এক বিপ্লবী উদ্ভাবন। একসময় স্ক্রিন ভাঁজ করে ছোট করা কল্পনার মতো ছিল আজ তা বাস্তব। ২০১৯ সালের দিকে প্রথম বাজারে যাত্রা শুরু করলেও, বর্তমানে এটি একটি পরিণত প্রযুক্তি হিসেবে নিজেদের জায়গা তৈরি করছে।

ফোল্ডেবল স্ক্রিন প্রযুক্তির ভিত্তি হলো ফ্লেক্সিবল ডিসপ্লে প্যানেল। সাধারণত মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত হয় OLED (Organic Light Emitting Diode) স্ক্রিন, যেটি নিজের আলো তৈরি করে এবং খুবই পাতলা। কিন্তু ফোল্ডেবল স্ক্রিনে ব্যবহৃত হয় Plastic OLED (P-OLED) বা Ultra Thin Glass (UTG) এই দুই উপাদান স্ক্রিনকে ভাঁজযোগ্য করে তোলে।

কভার লেয়ার: স্ক্রিনকে সুরক্ষা দেয়। P-OLED স্ক্রিনে প্লাস্টিক ফিল্ম ব্যবহৃত হয়, আর UTG স্ক্রিনে ব্যবহৃত হয় ৩০ মাইক্রনেরও কম পুরুত্বের কাচ।

টাচ সেন্সর লেয়ার: ভাঁজযোগ্য টাচ রেসপন্স বজায় রাখে।

ডিসপ্লে প্যানেল: OLED পিক্সেল সমূহ হালকা ও নমনীয়, তাই স্ক্রিন ভাঁজ করা সম্ভব।

হিঞ্জ মেকানিজম (hinge): ফোন ভাঁজ ও খোলার সময় যান্ত্রিক স্থিতি ও ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি সবচেয়ে জটিল যন্ত্রাংশ, যেমন Samsung-এর Hideaway Hinge বা Motorola-এর Zero Gap Hinge।

Samsung Galaxy Z Fold সিরিজ এখন ২ লক্ষ বারের বেশি ফোল্ডিং সহ্য করতে সক্ষম। অ্যাপগুলিকে ভিন্ন ভিন্ন স্ক্রিন মোডে (ফোল্ড/আনফোল্ড) কাজ করার জন্য অ্যান্ড্রয়েড বা অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমে আলাদা ফিচার যুক্ত করতে হয়।

Samsung, Huawei, Oppo, Xiaomi, এবং Google ইতোমধ্যেই ফোল্ডেবল ডিভাইস বাজারে এনেছে। IDC ও Counterpoint এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজার ৫ কোটিরও বেশি ইউনিটে পৌঁছাবে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি শুধু ফোনে নয়, ল্যাপটপ, ট্যাবলেটেও ব্যবহৃত হতে পারে।

রায়েরবাজারে জুলাই বিদ্রোহে নিহত অজ্ঞাত শহীদের পরিচয় শনাক্তে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়েছেন : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

0

রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত জুলাই মাসের বিদ্রোহে নিহত ১১৪ জন অজ্ঞাতনামা শহীদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ সকালে কবরস্থান পরিদর্শনকালে এমন তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমরা মরদেহ শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছি। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারগুলো চাইলে মরদেহ সেখানে রাখতে বা অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারবে।”

উপদেষ্টা জানান, শুরুতে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অনিচ্ছুক থাকলেও এখন তারা সহযোগিতায় রাজি হয়েছেন। তিনি বলেন, “এই কবরস্থানে ১১৪ জন মানুষের একটি গণকবর রয়েছে যাদের এখনো পরিচয় নিশ্চিত হয়নি।”

শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে উপদেষ্টা দোয়া করেন। তবে এর পাশাপাশি তিনি কবরস্থানের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “আপনারা নিজ চোখেই দেখতে পাচ্ছেন, এখানে ব্যবহার করা ইট, খোয়া ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর মান খুবই নিম্নমানের। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাদের কবরস্থানের নির্মাণেও দুর্নীতি হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না।”

তিনি সাংবাদিকদের আহ্বান জানান এই দুর্নীতির চিত্র গণমাধ্যমে তুলে ধরতে। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এইসব অনিয়মে জড়িতদের বিচার করা হবে। কেউই পার পাবে না।” এর আগে দিনের শুরুতে উপদেষ্টা মোহাম্মদপুর থানাও পরিদর্শন করেন।

এই ঘটনা একদিকে যেমন জাতীয়ভাবে এক শোকাবহ অধ্যায়কে পুনরুজ্জীবিত করেছে, তেমনি প্রশ্ন তুলেছে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে। অজ্ঞাত এই শহীদদের পরিচয় উদঘাটনের মাধ্যমে শুধু তাদের পরিবারের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্য একটি নৈতিক দায়বোধ পূরণ হতে পারে।

অন্যদিকে শহীদদের কবরের ক্ষেত্রেও যদি দুর্নীতির চর্চা চলতে থাকে, তাহলে তা শুধু সরকারের প্রতি নয়, জাতির চেতনার প্রতিও এক ধরনের অবমাননা হিসেবে বিবেচিত হবে।

“আধুনিক নারীবাদের নিজস্ব ভাষাও তৈরি করেছিলেন ভার্জিনিয়া উলফ” : নাসরুল্লাহ মাম্ব্রোল, লেখক, গবেষক ও সাহিত্য সমালোচক

ভার্জিনিয়া উলফের প্রথম উপন্যাস ১৯১৫ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই তার কাজ যথেষ্ট সম্মান লাভ করে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল কারণ তিনি সমালোচনার প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিলেন। তবুও তার প্রথম দিকের কাজগুলো আর্থিকভাবে সফল ছিল না; চল্লিশ বছর বয়স হওয়ার আগে তিনি তার লেখা থেকে জীবিকা অর্জন করতে পারেননি। শুরু থেকেই তার উপন্যাসগুলির বিষয়বস্তু ছিল কিছুটা সংকীর্ণ, কারণ তাতে ছিল পরিশীলিত, যৌনভাবে সংযত, উচ্চ-মধ্যবিত্ত চরিত্র, যারা নিজেদের সংবেদনশীলতার প্রতি অত্যন্ত সচেতন এবং জাগতিক জীবনের চাহিদা থেকে তুলনামূলকভাবে বিচ্ছিন্ন।

১৯৩০-এর দশকে, উলফকে নিয়ে সমালোচনামূলক প্রবন্ধ এবং দুটি বই-এর আকারের গবেষণা প্রকাশিত হয়; তার কিছু কাজ ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়েছিল। একই সময়ে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় ভরা একটি বিশ্বে তার উপন্যাসগুলিকে অপ্রাসঙ্গিক বলে বিচার করা শুরু হয়।১৯৪১ সালে তার মৃত্যুর সময়, তাকে আধুনিকতাবাদের একজন পথিকৃৎ হিসেবে ব্যাপকভাবে গণ্য করা হলেও, অনেকেই তাকে “ব্লুমসবারির দুর্বল, বিষণ্ণ ‘অসুস্থ পুরোহিত’” হিসেবে পর্যালোচনা করেন। তার বন্ধু এবং সহ-ঔপন্যাসিক ই. এম. ফরস্টার তখন এই ধরনের ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল বলে উড়িয়ে দেন; তিনি জোর দিয়ে বলেন, উলফ ছিলেন “কঠোর, সংবেদনশীল হলেও কঠোর।”

তার জীবন ছিল বুদ্ধিবৃত্তিক ও যৌন অপ্রচলিততা, উন্মাদনা এবং আত্মহত্যা দিয়ে চিহ্নিত, যা আজকের পাঠকদের কাছেও সবচেয়ে আকর্ষণীয়। তার স্মৃতিচারণ, স্মৃতিকথা এবং ছবির সংগ্রহের জন্য অবিচ্ছিন্ন চাহিদা একটি “ভার্জিনিয়া উলফ ইন্ডাস্ট্রি” তৈরি করেছে,কখনও কখনও অবজ্ঞার সাথে এমন নামে অভিহিত করা হয়। এর সবচেয়ে খারাপ দিক হলো, এই ধরনের অতৃপ্ত কৌতূহল এক ধরনের অসুস্থ ভয়ারিজম, যা উলফের অর্জনকে হালকা করে এবং সেটিকে তুচ্ছ করে তোলে। আরও দায়িত্বশীল স্তরে, এটি তার কাজের রাজনৈতিক এবং বিশেষ করে নারীবাদী উপাদানগুলির গুরুতর, প্ররোচনামূলক পুনঃমূল্যায়নের দিকে পরিচালিত করেছে, এবং একজন শিল্পী হিসেবে তার ভূমিকার নতুন সংজ্ঞাও দিয়েছে।

ভার্জিনিয়া উলফ জোর দিয়ে বলেন যে “জীবন কিছু সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে সাজানো গ্যাসের আলোর সিরিজ নয়; বরং এটি একটি উজ্জ্বল প্রভা, আমাদের চেতনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘিরে থাকা একটি আধা-স্বচ্ছ খাম।” তিনি যুক্তি দেন একটি সাধারণ দিনে, “হাজার হাজার ধারণা” মানব মস্তিষ্কে প্রবাহিত হয়; “হাজার হাজার আবেগ” মিলিত হয়, সংঘর্ষ করে এবং “বিস্ময়কর বিশৃঙ্খলার মধ্যে” অদৃশ্য হয়ে যায়। এই দ্রুত অভ্যন্তরীণ প্রবাহের মধ্যে, তুচ্ছ এবং গুরুত্বপূর্ণ, অতীত এবং বর্তমান, ক্রমাগত একে অপরের সাথে মিশে যায়; একজনের চেতনার মধ্য দিয়ে ছুটে চলা ধারণা এবং আবেগের ভিড় এবং বাইরের জগৎ থেকে তার উপর আঘাত হানা অসংখ্য অনুভূতির মধ্যে একটি অন্তহীন টানাপোড়েন থাকে।

এইভাবে, এমনকি ব্যক্তিগত পরিচয়ও ক্ষণস্থায়ী হয়ে যায়, কারণ “অভিজ্ঞতার পরমাণু… মনের উপর পতিত হয়।” এর ফলে মানুষের একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে খুব অসুবিধা হয়, কারণ ব্যক্তিগত ব্যক্তিত্বকে সংজ্ঞায়িত করে এমন উপলব্ধির বিশাল ভাণ্ডারের মধ্যে, কেবল একটি ক্ষুদ্র অংশই শব্দ বা অঙ্গভঙ্গিতে প্রকাশ করা যায়। তবুও তাদের ভয়ংকর বিচ্ছিন্নতা সত্ত্বেও এবং প্রকৃতপক্ষে, সেই কারণেই মানুষ একে অপরের সাথে এবং এই বিশৃঙ্খলার পেছনে লুকিয়ে থাকা বৃহত্তর কোনো শৃঙ্খলার সাথে এক হতে চায়, ক্ষণিকের জন্য সময়কে স্থির হতে দেখতে চায়, অন্ধকারে সংক্ষিপ্তভাবে আলো ছড়ানো দেশলাইয়ের ঝলক দেখতে চায়।

উলফের প্রথম দুটি বইয়ে তিনি প্রচলিত পদ্ধতির মধ্যে কাজ করার চেষ্টা করেছিলেন এবং অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারেন যে সেগুলি তার দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করতে পারে না। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কিছু সমালোচক The Voyage Out এবং Night and Day-কে তাদের নিজস্ব অধিকারে শৈল্পিকভাবে সন্তোষজনক বলে সমর্থন করেছেন, তবে উভয় উপন্যাসকেই সাধারণত তার পরবর্তী সময়ের বিষয়বস্তু এবং কৌশলগুলির পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য মূলত আকর্ষণীয় বলে মনে করা হয়।

The Voyage Out হলো র্যাচেল ভিনরেসের গল্প, একজন নিষ্পাপ এবং প্রতিভাবান চব্বিশ বছর বয়সী অপেশাদার পিয়ানো বাদক, যিনি ইংল্যান্ড থেকে দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে একটি ছোট রিসোর্টে তার আত্মীয়দের সাথে ছুটি কাটাতে জাহাজে যাত্রা করেন। সেখানে তিনি একজন উদীয়মান ঔপন্যাসিক, টেরেন্স হিউয়েটের সাথে দেখা করেন; একটি জঙ্গলের নদীর দিকে একটি আনন্দ ভ্রমণে তারা তাদের ভালোবাসার কথা ঘোষণা করে। এর অল্প পরেই, র্যাচেল জ্বরে অসুস্থ হয়ে মারা যায়।

অকাল মৃত্যু এবং বেঁচে থাকাদের তার সাথে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি তার পরবর্তী Jacob’s Room, Mrs. Dalloway, To the Lighthouse এবং The Waves-এর পূর্বাভাস দেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার এমন একটি জগতের চিত্রণ, যেখানে চরিত্ররা একে অপরের থেকে তাদের বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে উঠতে চিরকাল চেষ্টা করে। যে জাহাজে র্যাচেল “ভ্রমণ করে” তাকে উলফ “মানব জীবনের একাকীত্বের প্রতীক” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। টেরেন্স, র্যাচেলের প্রেমিক, সম্ভবত তার স্রষ্টার হতাশার কথাই বলছিলেন যখন তিনি বলেন যে তিনি “নীরবতা নিয়ে একটি উপন্যাস লেখার চেষ্টা করছেন, যে জিনিসগুলি মানুষ বলে না। কিন্তু কাজটি অত্যন্ত কঠিন।”

The Voyage Out-এর দিকে ফিরে তাকিয়ে উলফ বলেছিলেন, তিনি বুঝতে পারেন কেন পাঠকরা সেটিকে তার পরবর্তী এবং সবচেয়ে কম পরিচিত বই Night and Day-এর চেয়ে “একটি আরও সাহসী এবং অনুপ্রেরণাদায়ক দৃশ্য” বলে মনে করেছিল। এই দ্বিতীয় উপন্যাসটিকে সাধারণত তার সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী রূপে এবং বিষয়ে দেখা হয়। এর সামাজিক ব্যঙ্গ, জেন অস্টেন-এর প্রতি তার আনুগত্য। এর নৃত্য-সদৃশ প্লট, যেখানে ভুল জুটিরা অবশেষে তাদের প্রকৃত ভালোবাসা খুঁজে পায়, উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের রোমান্টিক কমেডির জাদুকরী পরিবেশেরও ইঙ্গিত দেয়।

The Voyage Out-এর মতো, Night and Day-ও উলফের চিরন্তন বিষয়বস্তুগুলির দিকে ইঙ্গিত করে। এটিও একটি উপন্যাস যা নিষ্পাপতা থেকে পরিপক্কতা এবং ভালোবাসার মুক্তকারী প্রভাবের মাধ্যমে প্রচলিত পৃথিবী থেকে পালানোর চিত্র তুলে ধরে। রাল্ফ ডেনহাম, একজন লন্ডনের সলিসিটর যিনি হাইগেটের শহরতলিতে বসবাসকারী একটি বড়, সাধারণ, মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছেন, তিনি নরফোকের একটি কুটিরে গিয়ে লেখালেখি করতে পছন্দ করেন। ক্যাথরিন হিলবেরি তার ধনী পরিবারের সুন্দর চেলসি বাড়িতে চা পরিবেশন করে এবং তার অসংগঠিত মাকে তাদের পূর্বপুরুষ, একজন মহান উনিশ শতকের কবির জীবনী লিখতে সাহায্য করে দিন কাটান। তবে তার গোপন আবেগ ছিল গণিত এবং জ্যোতির্বিদ্যা।

উলফের চূড়ান্ত কাজ, Between the Acts, এটি প্রকাশের পদ্ধতি The Years-এর চেয়ে আরও উদ্ভাবনী, জটিল এবং সফল। ১৯৩৯ সালের জুনে একটি মাত্র দিনের ঘটনা নিয়ে লেখা, যখন মহাদেশে বিশ্বযুদ্ধের হুমকি চলছে, Between the Acts ইংল্যান্ডের ইতিহাস নিয়ে একটি গ্রামের নাটকের আশেপাশের ঘটনাগুলি চিত্রিত করে, যা পয়েন্টজ হলের মাঠে পরিবেশিত হচ্ছে। এই বাড়িটি অসুখী বিবাহিত জাইলস এবং ইসা অলিভার দখল করে আছে।অলিভারদের গল্পটি নাটকের উপস্থাপনার চারপাশে আবর্তিত হয়, যার দৃশ্যগুলি সরাসরি উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে এবং নাটকের বিরতির সময় দর্শকদের জীবনের ঝলকের সাথে সেগুলি পর্যায়ক্রমে দেখানো হয়।

The Years-এ উলফ তার চরিত্রগুলির ব্যক্তিগত ইতিহাসের উপর মনোযোগ দিয়েছিলেন; বৃহত্তর অর্থে ইতিহাস ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলে নিজেকে প্রকাশ করত। Between the Acts-এ এই জোর উল্টে দেওয়া হয়েছে। যদিও উপন্যাসে আকর্ষণীয় চরিত্র রয়েছে, উলফ তাদের পটভূমি সম্পর্কে সামান্য তথ্যই দেন, বা তার স্বাভাবিক পদ্ধতিতে ব্যক্তিগত স্মৃতিকে গভীরভাবে খুঁজে দেখেন না। পরিবর্তে চরিত্রগুলির একটি জাতীয়, সাংস্কৃতিক, গোষ্ঠীগত অতীত রয়েছে। অবশেষে যা প্রস্তর যুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত সমগ্র মানব জাতির। যে উলফ তার চরিত্রগুলিকে এই সর্বজনীন অগ্রগতির অংশ হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন তা উপন্যাসের প্রথম দিকের পাতায় ঐতিহাসিক সময়ের অসংখ্য উল্লেখ থেকে স্পষ্ট।

উলফ নিজে লিখেছিলেন “উপন্যাস ও জীবন—এই দুটি জগতে বাস করা এক ধরনের মানসিক চাপ।” Miss La Trobe চরিত্রটি যেন উলফেরই প্রতিচ্ছবি, যিনি বারবার ব্যর্থতা বরণ করেও নতুন কিছু সৃষ্টি করতে চেয়েছেন, কারণ এক ঝলক দর্শনও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেয়। Between the Acts-এর পর উলফ আর কোনো লেখা শুরু করতে পারেননি। সম্ভবত, শেষ উপন্যাসে তোলা প্রশ্নগুলোর উত্তর তিনি পেয়ে গিয়েছিলেন নির্বাণে।

মানুষের কোষের সঙ্গে বৃদ্ধি ও নিরাময়ের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে থ্রিডি প্রিন্টেড অস্থির কাঠামো

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হালা জ্রেইকাত প্রথম ন্যানোস্কেল থ্রিডি প্রিন্টিং পদ্ধতির পথপ্রদর্শক, যা প্রাকৃতিক হাড়ের জটিল কাঠামোকে সূক্ষ্ম দানার আকার এবং ছিদ্রের উপর সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ সহ প্রতিলিপি তৈরি করে। এটি সিন্থেটিক অস্থির প্রতিস্থাপনকে বাস্তবের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে।

প্রাকৃতিক অস্থির শক্তি ও কাঠামোর সঠিক অনুকরণ

বায়োকম্প্যাটিবল ক্যালসিয়াম ফসফেট কালি ব্যবহার করে, দলটি ৩০০ ন্যানোমিটার রেজোলিউশনে অস্থির প্রতিস্থাপন তৈরি করেছে, যা পূর্ববর্তী পদ্ধতির চেয়ে এক হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী। এটি সঠিকভাবে হাড়ের খনিজ এবং ন্যানোকাঠামোকে অনুকরণ করে, যা স্থায়িত্ব এবং জৈবিক কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য।

বায়ো-সিরামিক স্ক্যাফোল্ড প্রাকৃতিক নিরাময়কে একীভূত করে এবং উৎসাহিত করে

এই উদ্ভাবনী ধাতব ইমপ্ল্যান্টের মতো নয়,এর বায়ো-সিরামিক স্ক্যাফোল্ডগুলি ধীরে ধীরে শরীরের সাথে মিশে যায়। এটি নতুন অস্থির বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করে, প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি কমায়, জটিলতা হ্রাস করে এবং প্রাকৃতিক অস্থির মতোই ত্রুটিগুলি মেরামত করে।

প্রিনুক্লিয়েশন ক্লাস্টার ব্যবহার করে প্রকৃতি-অনুপ্রাণিত খনিজকরণ

স্বচ্ছ ক্যালসিয়াম ফসফেট রজনে প্রাকৃতিক প্রিনুক্লিয়েশন ক্লাস্টার যুক্ত করে, গবেষকরা খনিজকরণকে এমনভাবে পরিচালিত করেছেন যাতে অস্থির জটিল মাইক্রো- এবং ন্যানোস্কেল বৈশিষ্ট্যগুলি পুনরায় তৈরি করা যায়, যা এর শক্তি, স্থিতিস্থাপকতা এবং জৈবিক কার্যকলাপের জন্য দায়ী।

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর ছদ্ম ক্ষমতা হস্তান্তর, তবে নিয়ন্ত্রণ এখনো জেনারেলের হাতেই

গতকাল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বেসামরিক নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছে, যা আসন্ন ডিসেম্বর নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ বলে জানানো হয়েছে। তবে কার্যত দেশের নিয়ন্ত্রণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। সেনা অভ্যুত্থানের নেতা মিন অং হ্লাইং এখনো রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং একইসাথে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবেও তার ক্ষমতা অটুট রয়েছে। সরকারি সংবাদমাধ্যমের এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর সেনাবাহিনীর হাতে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, সেই আদেশ বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে একটি তত্ত্বাবধায়ক প্রশাসন গঠন করা হয়েছে এবং একটি বিশেষ কমিশন গঠন করা হয়েছে নির্বাচনের তত্ত্বাবধানের জন্য।

তবে এই পদক্ষেপ বাস্তবে কোনো পরিবর্তন এনেছে বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকরা। কারণ মিন অং হ্লাইং এখনো দেশের মূল সমস্ত ক্ষমতার কেন্দ্রে রয়েছেন। সরকারি মুখপাত্র জাও মিন তুন জানান, সেনাশাসনের পর থেকে জারি থাকা জরুরি অবস্থা সাতবার বাড়ানো হয়েছিল, তা এখন তুলে নেওয়া হয়েছে।তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান বলেছেন, আগামী ছয় মাস হবে নির্বাচন প্রস্তুতির সময়।”

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চি’র নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করার পর থেকে মিয়ানমার এক গভীর সংকটে রয়েছে। দেশটি এখন গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত, যেখানে সেনাবাহিনী বিদ্রোহ দমন করতে গিয়ে ব্যাপক নির্যাতনের অভিযোগের মুখে পড়েছে, যদিও তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

পশ্চিমা দেশগুলো এই আসন্ন নির্বাচনকে অবৈধ ও লোক দেখানো বলে আখ্যা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সমর্থিত দলগুলোই প্রাধান্য পাবে এবং প্রকৃত বিরোধী দলগুলোকে অংশ নিতে দেওয়া হবে না অথবা তারা অংশ নিতেও অস্বীকৃতি জানাবে।

মিয়ানমার ভিত্তিক স্বাধীন বিশ্লেষক ডেভিড ম্যাথিসন বলেন, “এই পরিবর্তনটি আসলে কেবল বাহ্যিক। বাস্তবে যারা ক্ষমতায় আছে, তারা আগের মতোই দমন-পীড়ন চালাবে। তারা কেবল পুরোনো খেলোয়াড়দের নতুন সাজে উপস্থাপন করছে।” তিনি আরও বলেন, “নিকট ভবিষ্যতে কিছুই বদলাবে না, এটি শুধুমাত্র একটি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ।”

এই নির্বাচন কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়, কারণ গৃহযুদ্ধ এর উপর বড় প্রভাব ফেলছে। ভোটার তালিকা তৈরি করতে সেনাবাহিনী গত বছর একটি দেশব্যাপী আদমশুমারি করেছিল, কিন্তু ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে কেবল ১৪৫টিতেই তা সম্পন্ন করতে পেরেছিল যা দেখায় যে তারা দেশের বড় একটি অংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

পুরনো জাতিগত বিদ্রোহী বাহিনী এবং নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মিলিতভাবে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে এবং দেশটির সীমান্তবর্তী বহু এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মিয়ানমারে শান্তি ও পুনর্মিলনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। চীনা মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, “চীন মিয়ানমারের জাতীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন পথ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অগ্রগতিকে সমর্থন করে।”

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬,০০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং ২০,০০০-এর বেশি মানুষকে স্বেচ্ছাচারভাবে আটক রাখা হয়েছে। জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে আবার বিচারিক মৃত্যুদণ্ড চালু হয়েছে এবং বর্তমানে ৩৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত।

সামুরাই থেকে জেন, জাপানি দর্শনে ‘সিক্রেট’

জাপানি দর্শন প্রাচীনকালের নানান আধ্যাত্মিক ও নৈতিক চিন্তার সম্মিলিত ফলাফল। এর বিশেষত্ব হলো জীবনের বহুমাত্রিক দিকগুলোকে সহজবোধ্য কিন্তু গভীরভাবে উপলব্ধি করার অনন্য চেষ্টা। এই দর্শনে ‘সিক্রেট’ বা গোপনীয়তা ও রহস্য শুধু তথ্য লুকানো নয়, বরং একটি অন্তর্দৃষ্টির অধ্যয়ন, যা ভাষায় প্রকাশের বাইরেও অবস্থান করে।

পশ্চিমা দর্শনে ‘সিক্রেট’ শব্দটি সাধারণত তথ্য বা জ্ঞানের গোপনীয়তার সঙ্গে যুক্ত থাকে, যা প্রকাশ করা হয় না বা নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধ মানুষের মধ্যেই রাখা হয়। কিন্তু জাপানি দর্শনে ‘সিক্রেট’ বা ‘হিমেতসু’ ধারণাটি অনেক বেশি বিস্তৃত ও গভীর। এখানে ‘গোপনীয়তা’ মানে এক ধরনের অভিজ্ঞতামূলক অন্তর্দৃষ্টি যা শুধুমাত্র প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায় এবং এটি মৌখিক বা লিখিত ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়।অর্থাৎ ‘সিক্রেট’ মানে এখানে ‘অব্যক্ত’, ‘অমোঘ’, এমন এক জ্ঞান যা ভাষার সীমা ছাড়িয়ে যায়।

জাপানের দর্শনে জেন বৌদ্ধধর্মের প্রভাব অত্যন্ত গভীর। জেন শাখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো তার ‘অব্যক্ত জ্ঞান’ বা ‘মৌন বোধ’ (Silent Enlightenment)। এখানে গুরু-শিষ্য সম্পর্কের মধ্যে গোপনীয়তা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব রয়েছে। জেনে সাধারন গ্রন্থ বা ধর্মগ্রন্থের চেয়ে ব্যক্তিগত, সরাসরি ধ্যানের অভিজ্ঞতাকেই মূলধারার জ্ঞান মনে করা হয়।

জেন মাস্টাররা তাদের শিক্ষাকে সাধারণ ভাষায় প্রকাশ করেন না, বরং ধ্যান ও কর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বোধের অভিজ্ঞতা গড়ে তোলেন। এই অভিজ্ঞতাটি অন্য কারো কাছে সরাসরি স্থানান্তরিত হয় না, তাই এটিই আসল ‘সিক্রেট’। এটি কোনো তাত্ত্বিক বা বর্ণিত জ্ঞান নয়, বরং অন্তর্দৃষ্টির একটি গোপন পথ। জেনের বিখ্যাত ‘কোয়ান’ (koan) ধাঁধাগুলো শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রজ্ঞা জাগ্রত করতে গোপনীয় ও বিমূর্ত জ্ঞান উদ্দীপ্ত করে। কোয়ান সমাধান বা উপলব্ধি করার মধ্যেই নিহিত থাকে সেই ‘অব্যক্ত জ্ঞান’ বা ‘সিক্রেট’।

জাপানের সামুরাইদের নৈতিক দর্শন বুশিদোতেও ‘সিক্রেট’ বা গোপনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বুশিদো হলো একটি কঠোর নৈতিক ও আচরণবিধি, যা সামুরাইদের মধ্যে বিশেষ গোপনীয়তা ও শ্রদ্ধায় সম্মিলিত ছিল। বুশিদো কোডের কিছু দিকস্বরূপ জ্ঞাত হয় শুধু নির্দিষ্ট মানুষ এবং সমাজের মধ্যেই, বহিরাগতদের জন্য তা রহস্যময়।

সামুরাইদের জীবনের ঐতিহাসিক বাস্তবতায় মৃত্যুর প্রতি গ্রহণযোগ্যতা, আত্মত্যাগ, শ্রদ্ধা এবং নিষ্ঠার মধ্যে এমন গোপনীয় মূল্যবোধ বিদ্যমান ছিল যা সাধারণ মানুষের বোঝার বাইরে ছিল। এই মূল্যবোধ এবং আচরণবিধি বহিরঙ্গন ভাষায় না বলা হলেও কার্যকলাপে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বুশিদো’তে ‘সিক্রেট’ হলো সেই নৈতিক অভিজ্ঞতা যা শুধু শিখে বোঝার নয়, বরং জীবনযাপনের মাধ্যমে অর্জনীয়। এটি জাপানি দর্শনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক যেখানে ‘গোপনীয়তা’ ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও আধ্যাত্মিক সচেতনতার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

‘ওয়াবি-সাবি’ হলো জাপানি একটি এস্তেটিক দর্শন, যা অস্থায়িত্ব, অসম্পূর্ণতা ও সরলতায় সৌন্দর্যের সন্ধান দেয়। এই দর্শনের মধ্যেও ‘সিক্রেট’ বা গোপনীয়তা নিহিত, কারণ প্রকৃত সৌন্দর্য বা জীবনবোধ কখনো সরাসরি প্রকাশ পায় না; তা অনুভূত হয় আলোর মতো ক্ষণস্থায়ী মুহূর্তে, মননে সঞ্চিত গভীরতা হিসেবে। ওয়াবি-সাবির মূলমন্ত্র হলো দেখতে না পাওয়া সৌন্দর্যের উপলব্ধি, যা ভাষায় বা চাক্ষুষভাবে পুরোপুরি প্রকাশ সম্ভব নয়। এই অনুভূতি তাই ব্যক্তিগত এবং গোপনীয়তার আঙ্গিকে থাকে, এক ধরণের অমোঘ ‘সিক্রেট’।

জাপানের প্রাচীন ধর্ম শিন্তোতেও ‘কামি’ (দেবত্ব) এবং প্রকৃতির মধ্যে সম্পর্ক গোপনীয় ও রহস্যময়। শিন্তোর ভাবনায় ‘কামি’ প্রতিটি জিনিসে লুকিয়ে থাকে, কিন্তু তা সরাসরি উপলব্ধি করা যায় না। এ কারণে, শিন্তো আচার-অনুষ্ঠান এবং সাধনার মাধ্যমে সেই গোপনীয়তা উপলব্ধির চেষ্টা করে। শিন্তোতে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক জ্ঞান একটি গোপনীয় প্রথার মধ্যে সংরক্ষিত, যা শুধুমাত্র বিশুদ্ধ ও নির্দিষ্ট মানুষের মধ্যেই ভাগাভাগি হয়। এই দিক থেকেও ‘সিক্রেট’ ধারণাটি জাপানি দর্শনের প্রাচীন ঐতিহ্যে গভীরভাবে জড়িত।

জাপানি দর্শনের ‘সিক্রেট’ ধারণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দার্শনিক দিক হলো ভাষার সীমাবদ্ধতার স্বীকৃতি। অনেক জ্ঞান, বিশেষত আধ্যাত্মিক ও অভিজ্ঞতাগত জ্ঞান, ভাষার মাধ্যমে পুরোপুরি প্রকাশ করা সম্ভব নয়। এই দার্শনিক বিশ্বাসের ফলে জাপানি দর্শনে ‘অব্যক্ত’ বা ‘মৌন’ জ্ঞানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই বিশ্বাস হিন্দু বৌদ্ধচর্চা থেকেও এসেছে। জেনের মৌলিক ধারনাও ভাষার বাইরের জ্ঞানকে সম্মান করে।

আধুনিক জাপানি দার্শনিকদের মধ্যে কামু, নিসিজিমা শুনরো-এর মতো ব্যক্তিরা ‘সিক্রেট’ বা রহস্যের ধারণাকে অস্তিত্ববাদ ও নিহিলিজমের আলোকে অন্বেষণ করেছেন। তারা দেখিয়েছেন কিভাবে মানুষের অস্তিত্ব নিজেই এক রহস্য, যার সম্পূর্ণ উপলব্ধি কখনোই সম্ভব নয়। এখানে ‘সিক্রেট’ হয়ে দাঁড়ায় মানুষের অভিজ্ঞতা ও অস্তিত্বের এক অন্তর্নিহিত রহস্য, যা সার্বজনীন হলেও ব্যক্তিগত ও গোপনীয়।

জাপানি দর্শনে ‘সিক্রেট’ বা গোপনীয়তা কেবল তথ্য লুকানো নয়; এটি একটি দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক ধারণা, যা অভিজ্ঞতা, ভাষার বাইরে থাকা বোধ এবং জীবনের ক্ষণস্থায়ী ও অন্তর্নিহিত রহস্যের প্রতীক। জেন বৌদ্ধধর্ম, বুশিদো, ওয়াবি-সাবি, শিন্তো, এবং আধুনিক জাপানি দার্শনিক চিন্তায় এই ‘সিক্রেট’ ধারণার বহুমাত্রিক প্রকাশ দেখতে পাওয়া যায়। এই দার্শনিক ধারনাগুলো জাপানের সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক জীবনের এক গভীর মর্মবিন্দু হিসেবে অবস্থান করছে।

Microsoft Recall Feature – স্মৃতির স্বয়ংক্রিয়ীকরণে নৈতিকতা ও সাইবারনিরাপত্তার দ্বন্দ্ব

প্রযুক্তির স্মৃতিশক্তি কি মানুষের স্বাধীনতা গ্রাস করছে?

২০২৫ সালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে আলোচিত আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে Microsoft-এর নতুন ফিচার ‘Recall’। এটি এমন এক প্রযুক্তি যা কম্পিউটারে ব্যবহারকারীর প্রতিটি কার্যকলাপ একটি ডিজিটাল মস্তিষ্কের মতো স্মৃতি আকারে সংরক্ষণ করে রাখে। আপনি হয়তো ভুলে গেছেন গত সপ্তাহে কোন ওয়েবসাইটে কী পড়ছিলেন, কিন্তু Recall ভুলে না। এটি AI-এর শক্তিতে স্ক্রিনশট সংগ্রহ করে, তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং তা সহজে অনুসন্ধানযোগ্য করে তোলে। এই উদ্ভাবন প্রযুক্তির অগ্রগতির নিদর্শন হলেও, এর পেছনে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন, এই প্রযুক্তি কি আমাদের গোপনীয়তার সীমারেখা লঙ্ঘন করছে?

Recall কী এবং কীভাবে কাজ করে?

Recall মূলত Windows 11 Copilot+ PC-এর একটি ফিচার। এটি প্রতি ৫ সেকেন্ডে আপনার স্ক্রিনের ছবি তুলে রাখে এবং সেই ছবিগুলোকে AI মডেল দিয়ে বিশ্লেষণ করে, যাতে আপনি যেকোনো সময় ‘প্রসঙ্গমতো’ তথ্য ফিরে পেতে পারেন।

এর কাজের পদ্ধতি চারটি ধাপে গঠিত:

স্ক্রিন ক্যাপচার: আপনার প্রতিটি কাজের স্ক্রিনশট সংগ্রহ।

AI বিশ্লেষণ: স্ক্রিনশটের তথ্যকে টেক্সট এবং প্রসঙ্গ হিসেবে বিশ্লেষণ।

লোকাল স্টোরেজে সংরক্ষণ: সব তথ্য এনক্রিপ্টেড আকারে আপনার কম্পিউটারেই থাকে।

সার্চ ও রিকল: ইউজার টেক্সট ইনপুট দিয়ে পুরনো কাজ মুহূর্তেই খুঁজে পেতে পারেন।

এটি ChatGPT বা Copilot-এর মত নয়, এটি আপনাকে আপনার নিজের মস্তিষ্কের ডিজিটাল সংস্করণ দিতে চায়।

প্রযুক্তির দিক থেকে কেন গুরুত্বপূর্ণ?

Recall ফিচারটি মাইক্রোসফটের ‘Copilot+’ কম্পিউটিং দর্শনের একটি বড় অংশ। এটি দেখায় কীভাবে AI ভবিষ্যতের মানুষের সহচর হয়ে উঠছে। যেখানে স্মৃতি, অনুসন্ধান ও পুনরুদ্ধার সবই হয়ে উঠছে স্বয়ংক্রিয়। অফিসিয়ালভাবে বলা হয়েছে, Recall প্রোডাক্টিভিটি বাড়াবে, ব্যবহারকারীর সময় বাঁচাবে এবং “Smarter Human-Machine Interaction” ঘটাবে। তবে বাস্তবতা এখানেই থেমে নেই।

Recall নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক হলো নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা। যেহেতু এটি আপনার স্ক্রিনের প্রতিটি কাজের ছবি তোলে, তার মানে আপনার ব্যক্তিগত চ্যাট, ব্যাঙ্ক একাউন্ট, পাসওয়ার্ড পর্যন্ত সবই রেকর্ড হয়। যদি কেউ আপনার কম্পিউটারে প্রবেশ করে, সে এই সব তথ্য দেখতে পারে, হ্যাকার বা ম্যালওয়্যার যদি Recall ডেটায় প্রবেশ করলে সেটি ভয়াবহ ফল আনতে পারে।

Microsoft দাবি করছে যে Recall এর সমস্ত ডেটা লোকাল এনক্রিপ্টেড ডিস্কে থাকে এবং ফিচারটি ইচ্ছামতো বন্ধ করা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো সব ব্যবহারকারী কি জানে কিভাবে এটি বন্ধ করতে হয়? গোপনীয়তা কি শুধুই ‘টগল সুইচ’ দিয়ে রক্ষা করা যায়?

কয়েকজন গবেষক (যেমন Kevin Beaumont) ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছেন Recall ফিচার যে “AI-নির্ভর অতিস্মৃতি” তৈরি করছে তা হ্যাকারদের কাছে একরকম টাইম মেশিন হয়ে উঠতে পারে। Recall ডেটা যদি কোনোভাবে হাতছাড়া হয়, তাহলে ব্যবহারকারীর ডিজিটাল জীবন একদম উলঙ্গ হয়ে যেতে পারে।

Recall নিঃসন্দেহে একটি চমকপ্রদ উদ্ভাবন। কিন্তু এটি আমাদের সামনে নতুন এক বাস্তবতা এনে দিয়েছে, যেখানে আমরা না চাইলেও প্রযুক্তি আমাদের সব স্মৃতি ধরে রাখে। Microsoft-যতই বলুক এটি সুরক্ষিত, বাস্তবে এটি প্রশ্ন তোলে প্রযুক্তির সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন হবে? বিশ্বাসের নাকি নিয়ন্ত্রণের?