Home Blog Page 40

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি, ‘স্বার্থ বিসর্জনের কোনো সুযোগ নেই’ : বাণিজ্য উপদেষ্টা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিতে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।তিনি বলেন, ‘‘এ ধরনের চুক্তিতে দেশের স্বার্থ বিসর্জনের কোনো সুযোগ নেই।’’

ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজার সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন। আলাপটির ভিডিও গোলাম মোর্তোজার ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর তা যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতির ভিত্তিতে প্রকাশ করা হবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, তথ্য অধিকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ‘‘চুক্তির সফল বাস্তবায়নের জন্য দেশের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি এবং আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।’’

চুক্তিতে গোপনীয়তার প্রশ্নে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রীতিতে নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (NDA) স্বাভাবিক একটি বিষয়। এমনকি ব্যক্তি পর্যায়ের লেনদেনেও এটি ব্যবহৃত হয়। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তিকে তাদের নিরাপত্তার অংশ হিসেবে দেখায়, যার ফলে গোপনীয়তা বজায় রাখা জরুরি ছিল।

তিনি স্বীকার করেন আলোচনার সময় কিছু তথ্য ফাঁস হলেও তা দেশের স্বার্থবিরোধী ছিল না। বরং যেগুলো সম্ভাব্যভাবে ক্ষতিকর হতে পারত, তা থেকে বাংলাদেশ সরে এসেছে।

বোয়িং বিমানের ক্রয়সংক্রান্ত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো চাপ দেয়নি বলেও জানান । বরং যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের কৃষিপণ্য আমদানিতে আগ্রহী।প্রতিবছর বাংলাদেশ ১৫–২০ বিলিয়ন ডলারের খাদ্যপণ্য আমদানি করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।এটি কৃষিপণ্য ও জ্বালানি আমদানির মাধ্যমে কমানো সম্ভব বলেও তিনি মত দেন।

৫ আগস্ট প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারেন : সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান সম্ভবত ৫ই আগস্ট জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন এবং সেই ভাষণে তিনি জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারেন।

এই জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা জানান যে তিনি প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সম্ভাবনার কথা “শুনতে” বা “জানতে” পারছেন।

৫ই আগস্ট ঘোষিতব্য জুলাই ঘোষণায় নির্বাচন সম্পর্কে কোনো ইতিবাচক কিছু আশা করছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা নিশ্চিত নই, তবে হয়তো সেই ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা লন্ডনের সভায় নির্ধারিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিল সম্পর্কে জাতিকে জানাবেন।”

তিনি আরও বলেন যে বিএনপি এখনও কোনো আমন্ত্রণ পায়নি। এই বিএনপি নেতা জানান যে তিনি সংবাদপত্রে দেখেছেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় জুলাই ঘোষণা পাঠ করবেন। “আমরা এখনো আমন্ত্রণ পাইনি, তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।”

জুলাই ঘোষণাকে একটি মাইলফলক আখ্যা দিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, “এটি কেবল একটি ঘোষণা যা জাতির সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। কেউ কেউ বলেছেন, এক বছর পর কেন? ঠিক আছে, যদি তারা এক বছর পর এটি উপস্থাপন করতে চায়, আমাদের কোনো আপত্তি নেই। আমরা আমাদের মতামত দিয়েছি।”

তিনি বলেন, “…প্রধান উপদেষ্টা উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং জানুয়ারীর শেষে আমাদের একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন যেন সবার সাথে আলোচনার মাধ্যমে জুলাই ঘোষণা প্রস্তুত করা যায়। এই বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি আমরা আমাদের মতামত ও বক্তব্যসহ খসড়াটি তাদের কাছে পাঠিয়েছিলাম। তারপর থেকে ৭ই জুলাই পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে আর কোনো আলোচনা হয়নি। তারাও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।”

বিএনপি নেতা বলেন যে তার দল ঐকমত্য কমিশন কর্তৃক প্রেরিত জুলাই সনদের খসড়ার সাথে সম্পূর্ণ একমত।

তিনি বলেন, “এখন কেউ কেউ বলছেন যে এটি বাস্তবায়নের জন্য একটি আইনি ভিত্তি প্রয়োজন। যদি কেউ সেই প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে চায়, যদি আলোচনার জন্য কোনো আহ্বান আসে, আমরা তাতেও যোগ দেব।”

তিনি আরও বলেন, “যদি খসড়াটি আগামীকাল আমাদের হাতে দেওয়া হয়, আমরা এখনই তাতে স্বাক্ষর করব। আমরা যেকোনো সময় প্রস্তুত। এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। যেসব বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য হয়েছে – যদিও কিছু ভিন্নমত ছিল – আমরা সেই নথিতে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বাক্ষর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।”

‘One Hundred Years of Solitude’ বিশ্বস্তভাবে রূপ দিল নেটফ্লিক্স, ভালোও আছে, আবার খারাপও : ক্রিশ্চিনা এস্কোবার, লেখিকা ও শিল্প-সাহিত্য সমালোচক

গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের ১৯৬৭ সালের মহাকাব্যিক উপন্যাস Cien Años de Soledad (One Hundred Years of Solitude) লাতিন আমেরিকান সাহিত্যের একটি মাইলফলক। এক প্রকারে আমেরিকান সাহিত্যে Moby Dick যেমন। এই উপন্যাসটির জন্য মার্কেস ১৯৮২ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান এবং এটি বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী সাহিত্যকর্মগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।

আমি প্রথম এই উপন্যাস পড়ি বিশ্ববিদ্যালয়ে, তাও আবার স্প্যানিশ ভাষায়। যেভাবে এটি জাদুবাস্তবতাকে সাহিত্যে এনে দিয়েছে, কলম্বিয়ার ইতিহাসকে কাল্পনিক শহর ম্যাকোন্ডোর মাধ্যমে রূপকভাবে তুলে ধরেছে, আর বুয়েন্দিয়া পরিবারের সাত প্রজন্মের মধ্য দিয়ে সময়ের পরিবর্তন দেখিয়েছে,আমি মুগ্ধ হয়ে যাই ।

তাই যখন নেটফ্লিক্স ঘোষণা করলো তারা উপন্যাসটি টেলিভিশনে রূপ দিতে যাচ্ছে, তখন আমার মধ্যে একধরনের সতর্ক আশাবাদ কাজ করছিল। এই উপন্যাসকে পর্দায় রূপ দেওয়া সহজ নয়, বিশেষ করে এর বিশাল সময়সীমা এবং প্রচুর বিশেষ প্রভাব দরকার এমন দৃশ্যের জন্য। সৌভাগ্যবশত নেটফ্লিক্স যে প্ল্যাটফর্ম একসময় Selena সিরিজের গল্প বলায় কৃপণতা করেছিল, তারা One Hundred Years of Solitude-এর জন্য অনেক বড় বাজেটই খরচ করেছে বলে মনে হচ্ছে।

জাদুবাস্তবতা পর্দায় উপস্থাপন করা কঠিন হলেও এখানে তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে করা হয়েছে, অলৌকিক ঘটনাগুলো দৈনন্দিন বাস্তবতার সঙ্গে এমনভাবে মিশে গেছে, যেন ম্যাকোন্ডো এক রহস্যময়, কামনা-বাসনা ও হতাশায় পূর্ণ জীবন্ত শহর।

প্রথম সিজনে আটটি এক ঘণ্টার এপিসোড আছে, যা বইয়ের প্রথম এক-তৃতীয়াংশ কভার করে, একশো বছরের গল্প বলে দিতেই সময় লাগে। অবশ্যই কোথাও কোথাও গল্প টেনে লম্বা করার প্রবণতা আছে, কিছু কিছু দৃশ্য মাঝপথে মন্থর লাগে।

আর কিছু চরিত্র, বিশেষ করে মাতৃপতি উরসুলা ইগুয়ারান (যুবা চরিত্রে সাসানা মোরালেস এবং প্রবীণ চরিত্রে মার্লেইদা সোতো রিওস) এবং পিতৃপতি হোসে আর্কাদিও বুয়েন্দিয়া (মার্কো গনসালেস ও দিয়েগো ভাসকেস), বাস্তব মানুষের চেয়ে বেশি যেন প্রতীক বা ধাঁচ বলে মনে হয়। তবু সামগ্রিকভাবে নেটফ্লিক্সের ম্যাকোন্ডো দৃষ্টিনন্দন এবং গভীর।

পোশাক নিখুঁত, সেট নির্মাণ অতুলনীয়, আর ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট মনোমুগ্ধকর। ভূকম্পন ঘটানো জীব থেকে শুরু করে ভূত কিংবা ঘুমহীনতার মহামারী সবকিছুই চোখ ধাঁধানোভাবে ফুটে উঠেছে। এই প্রযোজনাটি দর্শকদের এমন এক ঘন ও সমৃদ্ধ ম্যাকোন্ডোতে নিয়ে যায়, যা বই পড়ে কল্পনা করাও কঠিন ছিল।

এটা চলচ্চিত্র নির্মাণশৈলীর এক চমৎকার উদাহরণ। তবে এই বিস্ময়কর জগৎ যে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেসের মন থেকে এসেছে, তা ভুলে যাওয়া যায় না। তিনি নিঃসন্দেহে সাহিত্যপ্রতিভা, কিন্তু তার নারী ও যৌনতা বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সমস্যাজনক।

তাঁর লেখায় বারবার দেখা যায় অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ককে রোমান্টিক ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, আর পুরুষতান্ত্রিক সুবিধাকে এমনভাবে দেখানো হয়েছে যেন সেটাই স্বাভাবিক।

নেটফ্লিক্সের সংস্করণেও আমরা দেখি কর্নেল আউরেলিয়ানো বুয়েন্দিয়া (ক্লদিও কাতানো) এক শিশুকন্যা রেমেদিওস মস্কোতের (ক্রিস্তাল আপারিসিও) সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

মেয়েটির বয়স তখনও কৈশোরে পা দেয়নি, কিন্তু উপন্যাস এবং সিরিজ দুটোই তাকে সবচেয়ে “পবিত্র” ও “সুখী” নারী হিসেবে দেখায়। (তাকে “নারী” বলাও ঠিক নয়, কারণ সে এখনো শিশু।) শেষপর্যন্ত রেমেদিওস গর্ভধারণ করে মারা যায়, আর কর্নেল এক শোকাবহ চরিত্র হয়ে ওঠে। এই পুরো ব্যাপারটা যথেষ্ট বিব্রতকর এবং একে “সময়বিশেষের পণ্য” বলার সুযোগ নেই। উপন্যাসে এমনকি শিশুটির বাবা-মাও প্রথমে এই সম্পর্কে আতঙ্কিত হয়েছিল, যা প্রমাণ করে সেটি তখনকার সমাজেও গ্রহণযোগ্য ছিল না। তবুও শেষ পর্যন্ত সবাই একে “ভালোবাসার গল্প” হিসেবে মেনে নেয়।

এটাই একমাত্র উদাহরণ নয়ভআরেকটি জায়গায় দেখা যায়, আর্কাদিও (জেনার ভিয়াররিয়াল) তার নিজের মা পিলার তেরনেরা (ভিনিয়া মাচাদো)–কে ধর্ষণের চেষ্টা করে, যদিও সে জানে না যে পিলার তার জন্মদাত্রী। পিলার তারপর সান্তা সোফিয়াকে (জোহানা অ্যাঙ্গুলো) টাকার বিনিময়ে আর্কাদিওর বিছানায় পাঠায়। সান্তা সোফিয়া কেন সেখানে রয়ে যায়, কেন কিছু বলে না তার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয় না। সে যেন শুধুই ভোগের বস্তু।

অন্যদিকে উল্টো দিকেও একই সমস্যা। পিলার নিজে দুই বুয়েন্দিয়া ছেলের সঙ্গেও যৌন সম্পর্ক করে, যারা তখনও অপ্রাপ্তবয়স্ক। কিন্তু বই এবং সিরিজ দুটোতেই এই ঘটনাগুলোকে উত্তেজনাকর ও “রোমান্টিক” হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এইসব ব্যাপার ২০২৪ সালে এসে খুবই হতাশাজনক লাগে, এক সময় যখন “Wicked”-এ ডাইনি চরিত্রের নতুন ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা হয় বা মার্ক টোয়েনের Huckleberry Finn উপন্যাসকে সাবেক দাস Jim-এর দৃষ্টিকোণ থেকে পুনরায় ব্যাখ্যা করা James বইটি জাতীয় পুরস্কার পায়। কিন্তু এখানেই আমরা দাঁড়িয়ে আছি একটি সরল, সম্মানসূচক অথচ সমস্যাবহ উপন্যাসের সরল রূপান্তর দেখতে।

পরিচালক লরা মোরা ও আলেক্স গার্সিয়া লোপেজ স্পষ্টতই মূল গ্রন্থটির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করেন। সম্ভবত এমন এক আক্ষরিক রূপান্তর দরকার ছিল আমাদের। কারণ আমরা ম্যাকোন্ডোকে এমনভাবে আগে কখনও দেখিনি।

তবুও মনে হয় ১৯৬৭ সালের পর এতদিন কেটে গেলেও, লাতিন আমেরিকান বা তার প্রবাসী পরিচয় নিয়ে আলোচনায় তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। বাজেট বড় হয়েছে, চিত্রনির্মাণ উন্নত হয়েছে, কিন্তু বলার মতো নতুন কিছু যেন আর নেই।

১৯৭৭ সালে ঢাকায় জাপানিজ রেড আর্মির বিমান ছিনতাই

১৯৭৭ সালের ২৮শে সেপ্টেম্বর জাপানিজ রেড আর্মির (JRA) পাঁচ সদস্যের একটি দল টোকিও থেকে প্যারিসগামী জাপান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৪৭২ ছিনতাই করে। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

হাইজ্যাকারদের পরিচয়

জাপানিজ রেড আর্মি ছিল একটি সশস্ত্র কমিউনিস্ট গোষ্ঠী, যারা বিশ্বজুড়ে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করত। এই ছিনতাইয়ের মূল উদ্দেশ্য ছিল জেলে থাকা তাদের ৯ জন কমরেডকে মুক্ত করা এবং ৬ মিলিয়ন ডলার মুক্তিপণ আদায় করা।

ছিনতাইয়ের শুরু

বিমানটি প্রথমে জাপানের হানেদা বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। হাইজ্যাক করার পর ছিনতাইকারীরা বিমানটিকে ভারতের বোম্বে বিমানবন্দরে অবতরণ করতে বাধ্য করে। সেখানে কিছু সময় থাকার পর তারা বিমানটি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

ঢাকায় অবতরণ

১লা অক্টোবর হাইজ্যাকাররা বিমানটি ঢাকার তেজগাঁও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করায়। এ সময় বিমানবন্দরের চারপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজর ছিল ঢাকার দিকে।

জিম্মিদের পরিস্থিতি

বিমানটিতে ১৪২ জন যাত্রী এবং ১০ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। হাইজ্যাকাররা তাদের জিম্মি করে রাখে এবং তাদের মুক্তির জন্য জাপানি সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। পরিস্থিতি ছিল খুবই উত্তেজনাপূর্ণ।

সরকারের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশের তৎকালীন সামরিক শাসক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান সরকার এই সংকট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সেসময় এটি ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

মুক্তিপণের দাবি

ছিনতাইকারীরা দুটি প্রধান দাবি উত্থাপন করে: জাপানের কারাগারে বন্দি থাকা ৯ জন কমরেডকে মুক্তি দেওয়া এবং ৬ মিলিয়ন আমেরিকান ডলার মুক্তিপণ হিসেবে প্রদান করা। জাপানি সরকার তাদের দাবির কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়।

বন্দিদের মুক্তি এবং মুক্তিপণ প্রদান

যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে জাপানি সরকার হাইজ্যাকারদের সব দাবি মেনে নেয়। মুক্তিপণ এবং বন্দিদের নিয়ে জাপানের একটি বিমান ঢাকায় আসে এবং তাদের হাইজ্যাকারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

আলজেরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা

সব দাবি পূরণ হওয়ার পর হাইজ্যাকাররা বিমান নিয়ে আলজেরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখানে তারা যাত্রীদের মুক্তি দেয় এবং রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সংকটের অবসান ঘটে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর প্রভাব

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। একইসাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক দক্ষতা এবং তৎকালীন সরকারের সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাকেও তুলে ধরে। এটি জাপানিজ রেড আর্মির সর্বশেষ সফল অপারেশনগুলোর মধ্যে একটি।

সিরিয়ায় অভিযান চালালো ইসরায়েলি স্থলবাহিনী

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গতকাল তাদের স্থলবাহিনী দক্ষিণ সিরিয়ায় অভিযান চালিয়েছে, যেখানে অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে এবং অস্ত্র পাচারের সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বাশার আল-আসাদের পতনের পর এটি ছিল সর্বশেষ সীমান্ত পার হওয়া অভিযানগুলোর একটি।

একটি সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেনারা “দক্ষিণ সিরিয়ার হাদার এলাকায় অস্ত্র পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন কয়েকজনকে ঘটনাস্থলে জিজ্ঞাসাবাদ করার একটি মিশন সম্পন্ন করেছে।” হাদার এলাকা ইসরায়েল-অধিকৃত গোলান মালভূমির কাছে অবস্থিত।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “সেনারা একযোগে চারটি স্থানে প্রবেশ করে এবং সন্দেহভাজনদের পাচার করা বিপুল সংখ্যক অস্ত্র উদ্ধার করে।”

এদিকে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের দ্রুজ-অধ্যুষিত সুইদা প্রদেশে ফের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি যুদ্ধ পর্যবেক্ষণ সংস্থা। গত মাসের যুদ্ধবিরতির পর এটি ছিল প্রথম প্রাণঘাতী সংঘর্ষ। সংস্থাটি জানিয়েছে, থা’আলা শহরের আশপাশেও লড়াই ছড়িয়ে পড়েছে।

গাজায় দুর্ভিক্ষের নেপথ্যে হামাসের রাজনৈতিক কৌশল : আহমেদ ফুয়াদ আলখাতিব, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক

গাজা উপত্যকায় চলমান মানবিক সংকটের মাঝে হামাসের ভূমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক আহমেদ ফুয়াদ আলখাতিব।তাঁর মতে, “হামাস গাজায় দুর্ভিক্ষকে একটি কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যাতে যুদ্ধ এমনভাবে শেষ হয় যা তাদের স্বার্থে আসে।”

গত চারদিনে শত শত ট্রাক খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী গাজায় প্রবেশ করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আলখাতিব জানিয়েছেন, “এই বিপুল সরবরাহের অল্পই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে। খাদ্য সামগ্রী গুদামে পৌঁছানোর আগেই কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে বা আটকে যাচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, “সাম্প্রতিক কয়েক দিনে আমি বহু গাজাবাসীর সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের অধিকাংশই প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। কিন্তু এই ক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে হামাস। তারা মনে করে, গাজার মানুষকে এই অবস্থায় ঠেলে দেওয়ার জন্য হামাস দায়ী এবং এই যুদ্ধ শেষ করতে হামাসের অনীহা আরও বিপর্যয় ডেকে আনছে।”

একজন গাজাবাসী আলখাতিবকে বলেন, “হিটলারও শেষ যুদ্ধ পর্যন্ত নিজের বাঙ্কারে লড়েছিল, তারপর আত্মহত্যা করেছিল। হামাসও সেই পথেই হাঁটছে—তারা নিজেদের সুড়ঙ্গে লুকিয়ে থেকে গাজাকে শেষ শিশুটির মৃত্যু পর্যন্ত ধ্বংস হতে দিচ্ছে।”

আলখাতিব তাঁর নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন, “হামাস প্রকৃতপক্ষে চায় গাজায় দুর্ভিক্ষ হোক। এই দুর্ভিক্ষ আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং জনমতের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ফলে ইসরায়েল বিশ্বমঞ্চে নিন্দিত হচ্ছে, এবং চাপের মুখে তার কৌশল পাল্টাতে বাধ্য হচ্ছে। এই অবস্থার সবচেয়ে বড় লাভবান হচ্ছে হামাস।”

তিনি আরও যুক্ত করেন, “ইসরায়েলের উচিত খাদ্যকে অস্ত্র না বানানো। বরং গাজাকে খাদ্যে ভরে দেওয়াই হামাসকে দুর্বল করার সেরা কৌশল। কারণ হামাস যতই দুর্ভিক্ষকে হাতিয়ার বানাতে চায়, ততই যদি মানুষ খাবার পায় এবং দুঃখ কিছুটা লাঘব হয়, তাদের সমর্থন থেকে হামাস বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।”

এই পরিস্থিতি একদিকে যেমন মানবিক বিপর্যয় তুলে ধরে, তেমনি যুদ্ধের নৈতিকতা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। গাজার মানুষ বর্তমানে দুই আগুনে পুড়ছে—একদিকে ইসরায়েলের অবরোধ, অন্যদিকে হামাসের ভিতর থেকে তৈরি করা কৌশল। এই দুঃসহ মানবিক সংকটের ভেতরেও আলখাতিব আশা দেখছেন খাদ্য ও সহানুভূতির মাধ্যমে একটি কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলার।

বাংলাদেশের ৪ কোটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে আক্রান্ত

বাংলাদেশে চার কোটিরও বেশি মানুষ বহুমুখী দারিদ্র্যের ফাঁদে আটকা পড়েছে। এই দারিদ্র্য শুধু আয়ের অভাব নয়, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জীবনযাত্রার মৌলিক সুযোগ-সুবিধার সীমিত প্রবেশাধিকারকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

দেশের প্রথম বহুমুখী দারিদ্র্য সূচক (MPI) থেকে এই তথ্য জানা গেছে। এতে দেখা যায়, বহুমুখী দারিদ্র্যের হার আয়ের ভিত্তিতে গণনা করা দারিদ্র্যের চেয়ে বেশি।
২০১৯ সালের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে-র ডেটা ব্যবহার করে জেনারেল ইকোনমিকস ডিভিশন (GED) এই সূচকটি তৈরি করেছে। সে বছর দেশের মোট জনসংখ্যার ২৪ শতাংশ মানুষ বহুমুখী দারিদ্র্যের শিকার ছিল।

এই ডেটা কোভিড-পূর্ববর্তী সময়ের হলেও, GED-এর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন যে বর্তমানে বহুমুখী দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালে অনুমান করা আয়ের ভিত্তিতে দারিদ্র্যের হার (১৮.৭ শতাংশ) থেকে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

দারিদ্র্য মানে কেবল টাকা না থাকা নয়। বরং এটি একটি গোলকধাঁধার মতো, যেখানে অনেকগুলো দরজা বন্ধ থাকে। কারও হাতে সামান্য টাকা থাকলেও, তার হয়তো স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা, পরিষ্কার জল বা বিদ্যুতের মতো জরুরি পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ থাকে না।

এই সূচকটি তিনটি মূল দিক দিয়ে মানুষের বঞ্চনা পরিমাপ করে: শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার মান। যদি কোনো ব্যক্তি সূচকের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নির্দেশকে বঞ্চনার শিকার হন, তবে তাকে বহুমুখী দরিদ্র হিসেবে ধরা হয়।

জীবনযাত্রার মান পরিমাপ করা হয় বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, পানীয় জল, বাসস্থান, রান্নার জ্বালানি, সম্পদ এবং ইন্টারনেটের মতো বিষয়গুলোর মাধ্যমে। শিক্ষার ক্ষেত্রে স্কুল উপস্থিতি ও পড়াশোনার সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর স্বাস্থ্য পরিমাপ করা হয় পুষ্টি এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের মাধ্যমে।
নতুন ডেটা অনুযায়ী, যদিও বহুমুখী দারিদ্র্য এখনও জনসংখ্যার একটি বড় অংশকে প্রভাবিত করছে, তবে অনাহার ও অন্যান্য ধরনের বঞ্চনার শিকার মানুষের সংখ্যা কমেছে। ২০১২-১৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬.৫ কোটি, যা ২০১৯ সালে ৪ কোটিতে নেমে এসেছে।

GED সদস্য মঞ্জুর হোসেন বলেন, ২০১৯ সালের ডেটার ওপর ভিত্তি করে হলেও এই ফলাফলগুলো এখনও নীতিনির্ধারণের জন্য প্রাসঙ্গিক। তিনি বলেন, “এই ডেটা দেখায় যে বহুমুখী দারিদ্র্যের হার আয়ের ভিত্তিতে দারিদ্র্যের চেয়ে বেশি ছিল। তাই এটা ধরে নেওয়া যায় যে ২০২২ সালে আয়ের ভিত্তিতে যে দারিদ্র্য অনুমান করা হয়েছিল, তার চেয়ে বর্তমানে বহুমুখী দারিদ্র্যের হার বেশি হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এর একটি নীতিগত গুরুত্ব আছে। আয়ের ভিত্তিতে এবং বহুমুখী দারিদ্র্যের মধ্যে জেলাভিত্তিক তারতম্য রয়েছে। যে জেলাগুলোতে বহুমুখী দারিদ্র্যের হার বেশি, সেখানে সুনির্দিষ্ট নীতি এবং পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।”

সাবেক গবেষণা পরিচালক মঞ্জুর হোসেন জানান, MPI ডেটা ব্যবহার করে সরকারি বিনিয়োগ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো সাজানো যেতে পারে।পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ একটি লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, “বহুমুখী পদ্ধতি হিসেবে MPI কার্যকর উন্নয়ন কর্মসূচি এবং পরিষেবাগুলো নকশা করতে আরও ভালোভাবে সাহায্য করতে পারে।” তিনি এই সূচকটিকে একটি “উদ্ভাবনী হাতিয়ার” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) পূরণের জন্য সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠী ও অঞ্চলগুলোকে চিহ্নিত করতে পারে।

২০১৯ সালের ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শিশুরা বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ১৮ বছরের কমবয়সী শিশুদের প্রায় ২৯ শতাংশ বহুমুখী দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এই হার ২১ শতাংশ।

তবে শিশুদের অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০১২-১৩ সালে ১৮ বছরের কমবয়সী অর্ধেক শিশু বহুমুখী দরিদ্র ছিল। ২০১৯ সাল নাগাদ এই হার ২৯ শতাংশে নেমে আসে, যার ফলে প্রায় ১.৩ কোটি শিশু দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছে।

প্রতিবেদনে এই অগ্রগতির কারণ হিসেবে বিদ্যুৎ সরবরাহ, বাসস্থান, সম্পদের মালিকানা এবং স্যানিটেশনের উন্নতির কথা বলা হয়েছে। এসব উন্নতিকে সামাজিক পরিষেবা এবং অবকাঠামো খাতে নেওয়া সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের ফল হিসেবে দেখানো হয়েছে। শহরের অবস্থা গ্রামের চেয়ে ভালো। শহুরে জনসংখ্যার মাত্র ১৩ শতাংশ বহুমুখী দরিদ্র, যেখানে গ্রামীণ এলাকায় এই হার ২৭ শতাংশ।

বিভাগ অনুযায়ী দারিদ্র্যের হারেও ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়। খুলনায় জনসংখ্যার ১৫ শতাংশ বহুমুখী দরিদ্র, যেখানে সিলেটে এই হার ৩৮ শতাংশ। জেলা পর্যায়ে এই পার্থক্য আরও প্রকট। ঝিনাইদহে মাত্র ৯ শতাংশ মানুষ এই ধরনের দারিদ্র্যের শিকার, আর বান্দরবানে এই হার ৬৫ শতাংশে পৌঁছায়।

দারিদ্র্যের একটি স্পষ্ট রূপ হলো নিম্নমানের বাসস্থান। প্রায় ২১ শতাংশ মানুষের উন্নত মেঝে, ছাদ বা দেয়াল নেই এবং অপর্যাপ্ত বাসস্থানের কারণে তাদের বহুমুখী দরিদ্র হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ভারযুক্ত নির্দেশকগুলোর মধ্যে, শিশু স্কুল উপস্থিতি জাতীয় MPI-তে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে, এরপর রয়েছে পড়াশোনা, পুষ্টি এবং বাসস্থান।

তিনটি নির্দেশক বাসস্থান, ইন্টারনেট সুবিধা এবং স্যানিটেশন জুড়ে দেশব্যাপী উচ্চ মাত্রার বঞ্চনা দেখা যায়। এই প্রতিটি ক্ষেত্রে ২০ শতাংশের বেশি মানুষ MPI মান অনুযায়ী দরিদ্র। প্রতিবেদনে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, শিক্ষায় বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকার যেন বাসস্থান, স্যানিটেশন এবং সংযোগ সুবিধার উন্নতির দিকেও মনোযোগ দেয়, যাতে কোটি কোটি মানুষকে প্রভাবিত করা বিভিন্ন ধরনের বঞ্চনা কমানো যায়।

প্রতিবেদনটিতে ভৌগোলিক লক্ষ্যমাত্রার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং সর্বোচ্চ MPI হার থাকা জেলাগুলোতে অবিলম্বে সরকারি সহায়তার জন্য জোর দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বান্দরবানে ৬৫ শতাংশ বাসিন্দা MPI দরিদ্র হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। কক্সবাজার এবং সুনামগঞ্জে এই হার ৪৭ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জরুরি মনোযোগের প্রয়োজন এমন খাতগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সারা দেশে বহুমুখী দারিদ্র্য কমাতে শিক্ষাগত বঞ্চনা, বিশেষ করে স্কুল উপস্থিতি এবং পড়াশোনার সময়কাল নিয়ে কাজ করা অপরিহার্য।

MPI প্রকাশনার জন্য GED-এর সঙ্গে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS), ইউনিসেফ বাংলাদেশ এবং অক্সফোর্ড পোভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (OPHI) সহযোগিতা করেছে।

স্মার্টওয়াচ কি শুধু স্টাইল? না কি স্বাস্থ্য, সময় আর সুরক্ষার নতুন নাম?

আজকের বিশ্বে সময়-চেতনার ডিজিটাল প্রতিফলন হলো স্মার্টওয়াচ। ঘড়ির কাজ তো করেই, তার বাইরেও এটি একাধারে আপনার স্বাস্থ্য সহচর, ফোনের সহায়ক, ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ব্যক্তিগত তথ্য-সংগ্রাহক।

স্মার্টওয়াচ কীভাবে কাজ করে?
স্মার্টওয়াচ একটি কম্পিউটারাইজড ঘড়ি যা সাধারণত ব্লুটুথ, ওয়াইফাই, বা মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্মার্টফোনের সাথে যুক্ত থাকে। এর মধ্যে ছোট ডিসপ্লে, সেন্সর (যেমন হার্টরেট মনিটর, অ্যাক্সেলরোমিটার, SpO2 সেন্সর), প্রসেসর ও অপারেটিং সিস্টেম (Wear OS, watchOS, Tizen ইত্যাদি) থাকে। ব্যাটারি, টাচ ইন্টারফেস এবং নোটিফিকেশন সুবিধা এটিকে স্মার্ট করে তোলেছে।

স্মার্টওয়াচ ব্যবহারকারীর সংখ্যা বিশ্বব্যাপী দ্রুত বাড়ছে। IDC এবং Statista-এর তথ্যমতে, ২০২৫ সালের মধ্যেই স্মার্টওয়াচ মার্কেটের আকার ৭০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বেশিরভাগ মানুষ স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করেন ফিটনেস ট্র্যাকিং, কল-এসএমএস দেখা, নোটিফিকেশন ম্যানেজমেন্ট ও ঘুম পর্যবেক্ষণের জন্য।

স্মার্টওয়াচ এখন শুধু সময় নয়, হার্টবিট সম্পর্কিত খবরও জানায়। এর ECG (Electrocardiogram) ফিচার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি আগেভাগে বুঝতে সাহায্য করে।

SpO2 সেন্সর রক্তে অক্সিজেন মাত্রা মাপে, যা কোভিড-পরবর্তী যুগে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ঘুমের মান ও স্ট্রেস লেভেল ট্র্যাক করা যায় সেন্সরের মাধ্যমে। এগুলো অনেক সময় ব্যবহারকারীকে বড় বিপদের পূর্বাভাস দিতে পারে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই তথ্যে কি সত্যিকারের মেডিকেল মান বজায় থাকে? অনেক গবেষণা বলছে—স্মার্টওয়াচের ডেটা তুলনামূলকভাবে নির্ভুল, তবে এটি কখনোই চিকিৎসকের বিকল্প নয়। বরং এটি একটি সহায়ক টুল হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

স্মার্টওয়াচ যত তথ্য সংগ্রহ করে হার্টবিট, ঘুম, হাঁটার গতি, লোকেশন—এসবই ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত পরিচয়ের অংশ। যদি এগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না থাকে, তাহলে হ্যাক বা মিসইউজের সম্ভাবনা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অনেক স্মার্টওয়াচ কোম্পানি ‘data anonymization’ করে না, অর্থাৎ ব্যবহারকারীর তথ্য গোপন না রেখেই বিশ্লেষণ করে। তাই স্মার্টওয়াচ ব্যবহারের আগে ডেটা প্রাইভেসি সেটিংস বোঝা ও সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

কেবল স্বাস্থ্যই নয়, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করছেন সময় ব্যবস্থাপনা, টাস্ক ট্র্যাকিং এবং রিমাইন্ডার ব্যবহারে। ক্লাসে নির্দিষ্ট সময়ের এলার্ম, কিংবা প্রেজেন্টেশনের সময় ম্যাসেজ না দেখা এসব কাজকে সহজ করে দেয় এই ঘড়ি।

গবেষকরা এখন স্মার্টওয়াচে AI যুক্ত করছেন। ভবিষ্যতের ঘড়ি ব্যবহারকারীর মুড, স্ট্রেস, এমনকি খাদ্যাভ্যাসও বিশ্লেষণ করবে। অ্যাপল ও গুগল ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তিতে গবেষণা চালাচ্ছে যেখানে ঘড়ি আগেই বলে দেবে আপনি কখন অসুস্থ হতে চলেছেন!
আমাদের দেশেও থেকেও কিছু স্টার্টআপ এই দিকটি নিয়ে ভাবছে।

স্মার্টওয়াচ আমাদের শরীর ও প্রযুক্তির মধ্যে একটি ব্রিজ তৈরি করেছে। এটি সময় দেখার বাইরেও স্বাস্থ্য সচেতনতা, ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং ডিজিটাল সুরক্ষা–সব কিছুর সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা না হয়ে দাঁড়ায়, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে।

স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে গতি চায় নীতিনির্ধারকেরা, সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বাস্তব পদক্ষেপের আহ্বান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনের এই সময়ে জনস্বাস্থ্য খাতের সংস্কারকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের স্বাস্থ্যনীতি ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। ঢাকার সিরডাপ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক নীতি সংলাপে এই আহ্বান জানানো হয়। সংলাপটি আয়োজন করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), ইউএইচসি ফোরাম ও ইউনিসেফ।

সংলাপের সূচনা বক্তব্যে পিপিআরসি’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশন (এইচএসআরসি) একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করলেও বাস্তবায়নের দিক থেকে দৃশ্যমান অগ্রগতি অনুপস্থিত। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘অতীতের মতো এবারও যেন গুরুত্বপূর্ণ নীতিপরামর্শ হারিয়ে না যায়। যে গতি তৈরি হয়েছে তা অব্যাহত রাখতে হবে এবং বাস্তবভিত্তিক অগ্রাধিকারের দ্রুত চিহ্নিতকরণ ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।’’

আলোচনায় অংশ নেন স্বাস্থ্য, নীতি গবেষণা, প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজ এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিসহ বহু বিশিষ্টজন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ড. আমিনুল হাসান, ড. ফিদা মেহরান, অধ্যাপক এম.এ. ফয়েজ, ড. সৈয়দ লিয়াকত আলী, ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ, সাংবাদিক শিশির মোরল, ড. আবুল কালাম আজাদ, ড. মোশতাক হোসেন, ড. ইমরান আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

তারা বলেন এইচএসআরসি প্রতিবেদন একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলেও গত তিন মাসে সুপারিশ বাস্তবায়নে কোনো বাস্তবধর্মী অগ্রগতি চোখে পড়েনি। বক্তারা অভিযোগ করেন বর্তমানে যেসব কার্যক্রম চলছে,তা মূলত টেকসই উন্নয়নের দিকে মনোযোগী হলেও কাঠামোগত সংস্কার এখনো উপেক্ষিত।

সংলাপে বক্তারা স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে একটি সময়সীমাবদ্ধ ও ক্ষমতাসম্পন্ন স্বাস্থ্য সংস্কার টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেন। এই টাস্কফোর্স আইনি, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে সংস্কারের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবে। এতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে উঠবে।

আলোচনায় বেশ কয়েকটি কাঠামোগত চ্যালেঞ্জও তুলে ধরা হয়, যেমন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দ্বৈত দায়িত্ব, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার ঘাটতি, স্বাস্থ্য অর্থায়ন কৌশলের অভাব এবং সরকারি বাজেট বরাদ্দের ঘাটতি। বক্তারা বলেন, প্রজনন স্বাস্থ্য, চিকিৎসা সেবাদানকারীর নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য-সচেতনতা বাড়ানো সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ দিক।

তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বাস্তব সংস্কার কেবল কারিগরি সক্ষমতা দিয়ে সম্ভব নয় এটি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও বাজেট বরাদ্দের প্রতিশ্রুতির ওপর নির্ভর করে। বাজেট ও রাজনৈতিক মালিকানার অভাবে ভালো পরিকল্পনাগুলোও ব্যর্থ হয়ে পড়ে।

অংশগ্রহণকারীরা একটি নাগরিক সমাজভিত্তিক সংস্কার প্ল্যাটফর্ম গঠনের ওপর জোর দেন, যার মাধ্যমে পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাবে।

সমাপনী বক্তব্যে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান “জুলাই চার্টার”-এর কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি যেন জাতীয় রূপান্তরের একটি কাঠামো হিসেবে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারকে অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি বলেন, এখন দরকার দুটি সমান্তরাল ধারা—একদিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ, অন্যদিকে রাজনৈতিক সমর্থন ও জনসচেতনতা তৈরির জন্য জোরালো প্রচারণা।

সবশেষে সংলাপ থেকে দৃঢ় বার্তা উঠে আসে পর্যালোচনার সময়সীমা দ্রুত শেষ হচ্ছে এবং এখনই সময় একটি গুণগত, সমতাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের।

শুধু সাহিত্য নয়, নজরুল ছিলেন এক সামাজিক সত্তাও, যাঁর কলমে ফুটেছিল মানব মর্যাদার সংগ্রাম : শিহাব সরকার, দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস

১৯২০-এর দশক থেকে ১৯৪০-এর দশকের গোড়ার দিকে সময়কালে, কাজী নজরুল ইসলামের নির্ভীক ও স্পষ্ট অবস্থান তাঁকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি করে তোলে। ১৯২৯ সালে ৩০ বছর বয়সে তিনি কলকাতার অ্যালবার্ট হলে এক গণসংবর্ধনা লাভ করেন। তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৬৮ বছর বয়সে জীবনের শেষ পর্বে পৌঁছেছেন। এর আগেই নজরুলের আইকনিক কবিতা ‘বিদ্রোহী’ পাঠকের মাঝে মানবিকতার এক অভূতপূর্ব জোয়ার সৃষ্টি করেছিল।সেই অনুষ্ঠানে নজরুল তাঁর অনুরাগীদের উদ্দেশে সংকীর্ণতা ও গোঁড়ামির ঊর্ধ্বে উঠে ভাবতে আহ্বান জানান। সেই মুহূর্তে তিনি যেন এক দুর্বার কবিচেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে ওঠেন।

অ্যালবার্ট হলের দর্শকরা নজরুলের মাঝে এক উজ্জ্বল ও সংবেদনশীল আত্মাকে খুঁজে পান, এমন বৈশিষ্ট্য খুব কম কবির মাঝেই পাওয়া যায়। নজরুলের মতো সৃষ্টিশীল উদ্দীপনা আর খুব কমজনেরই ছিল। তখন ঠাকুর গভীর ধ্যানে নিমগ্ন এক বিশ্বশান্তির সন্ধানে। দুজনেই মানুষকে ভালোবাসতেন, তবে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল ভিন্ন। রবীন্দ্রনাথের ভাবনা ছিল আধ্যাত্মিক ও প্রতীকধর্মী; নজরুল ছিলেন সরাসরি মানব মর্যাদা নিয়ে অকপট। সাধারণ মানুষের প্রতি নজরুলের দরদের যে গভীরতা, তা তাঁকে গণমানুষের কবি করে তোলে।

১৯২১ সালের শেষ সপ্তাহে, মাত্র ২৩ বছর বয়সে নজরুল এক রাতেই লিখে ফেলেন ১৩৯ পঙ্‌ক্তির সেই ঐতিহাসিক ‘বিদ্রোহী’ কবিতা। ইংরেজি সাহিত্যে উইলিয়াম ব্লেকের কিছু অনুপ্রাণিত কবিতা থাকলেও, এভাবে দীর্ঘ একটি কবিতা একসাথে রচনার নজির নজরুলই প্রথম স্থাপন করেন। ছন্দ, তাল, রাগ-মিশ্র সুরের সম্মিলনে রচিত এই কবিতা বাংলা কবিতার জগতে এক নতুন যুগের সূচনা করে।

১৯২২ সালের জানুয়ারিতে সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় প্রথম ‘বিদ্রোহী’ প্রকাশিত হয়। এরপর মুসলিম ভারত, প্রবাসী ও ধূমকেতু পত্রিকায় ছাপা হয়।ব্রিটিশ সরকার কবিতাটিকে রাষ্ট্রদ্রোহ মনে করে নজরুলের বই ‘অগ্নিবীণা’ নিষিদ্ধ করে দেয়। তাঁকে কারাবন্দী করা হয়, যেখানে তিনি অনশন শুরু করেন।বাঙালি জনতা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও চুপ থাকেননি; নজরুলকে একটি টেলিগ্রাম পাঠান—“অনশন ভঙ্গ করো, বাঙালি পাঠক তোমায় মুক্ত দেখতে চায়।” নজরুল অনশন ভাঙেন, কিন্তু বইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা কিছুদিন থেকেই যায়।

নজরুলের জীবনে দারিদ্র্য ছিল এক নিরবিচ্ছিন্ন সঙ্গী। তবে হঠাৎ করেই তিনি তাঁর লেখালেখি ও গান থেকে রয়েেলটি পেয়ে একটি গাড়ি কিনে ফেলেন। গাড়ি কেনা ছিল আত্মপ্রতিষ্ঠার প্রতীক। কিন্তু টাকাভাবের কারণে দ্রুতই তাঁকে গাড়িটি বিক্রি করে দিতে হয়। তাঁর ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল সময় ছিল রঙিন, দুঃসাহসিক আর উদারভাবে উদযাপিত। লেখার সময় তিনি এক নির্জন সাধকের মতো নিবিষ্ট হয়ে যেতেন।

নজরুল শুধু কবিতাই লেখেননি, বরং গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, শিশুতোষ পদ্য, সিনেমার চিত্রনাট্য, এমনকি পত্রিকা সম্পাদনাও করেছেন।তাঁর জনপ্রিয় পত্রিকাগুলোর মধ্যে ছিল নবযুগ, ধূমকেতু, লাঙল। অসুস্থ হওয়ার আগের সময় (১৯২০-৪২) পর্যন্ত তিনি ২২টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন।এছাড়া আরবি ও ফারসি থেকে অনুবাদ করেন ‘আমপারা’ এবং হাফিজের রুবাই। তাঁর গান যেমন বিপ্লবী গণসংগীত, তেমনই প্রেমের গান সবেতেই ভারতীয় রাগসঙ্গীতের প্রভাব ছিল প্রকট। তাঁর গানে আরবি ও ফারসি শব্দের ব্যবহার এবং রাগভিত্তিক সুর তাঁকে অনন্য করে তোলে।

নজরুলের অনেক গান রবীন্দ্রনাথের গানের মতোই মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন পেয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর, ১৯৭২ সালে তাঁকে জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। এটি তাঁর প্রতি এক যথার্থ সম্মান। তাঁর সাহিত্যকর্ম ও কণ্ঠস্বর বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম রূপকার হয়ে আজও জীবন্ত।