ফোল্ডেবল স্ক্রিন প্রযুক্তি আধুনিক স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট ডিজাইনের এক বিপ্লবী উদ্ভাবন। একসময় স্ক্রিন ভাঁজ করে ছোট করা কল্পনার মতো ছিল আজ তা বাস্তব। ২০১৯ সালের দিকে প্রথম বাজারে যাত্রা শুরু করলেও, বর্তমানে এটি একটি পরিণত প্রযুক্তি হিসেবে নিজেদের জায়গা তৈরি করছে।
ফোল্ডেবল স্ক্রিন প্রযুক্তির ভিত্তি হলো ফ্লেক্সিবল ডিসপ্লে প্যানেল। সাধারণত মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত হয় OLED (Organic Light Emitting Diode) স্ক্রিন, যেটি নিজের আলো তৈরি করে এবং খুবই পাতলা। কিন্তু ফোল্ডেবল স্ক্রিনে ব্যবহৃত হয় Plastic OLED (P-OLED) বা Ultra Thin Glass (UTG) এই দুই উপাদান স্ক্রিনকে ভাঁজযোগ্য করে তোলে।
কভার লেয়ার: স্ক্রিনকে সুরক্ষা দেয়। P-OLED স্ক্রিনে প্লাস্টিক ফিল্ম ব্যবহৃত হয়, আর UTG স্ক্রিনে ব্যবহৃত হয় ৩০ মাইক্রনেরও কম পুরুত্বের কাচ।
টাচ সেন্সর লেয়ার: ভাঁজযোগ্য টাচ রেসপন্স বজায় রাখে।
ডিসপ্লে প্যানেল: OLED পিক্সেল সমূহ হালকা ও নমনীয়, তাই স্ক্রিন ভাঁজ করা সম্ভব।
হিঞ্জ মেকানিজম (hinge): ফোন ভাঁজ ও খোলার সময় যান্ত্রিক স্থিতি ও ভারসাম্য বজায় রাখে। এটি সবচেয়ে জটিল যন্ত্রাংশ, যেমন Samsung-এর Hideaway Hinge বা Motorola-এর Zero Gap Hinge।
Samsung Galaxy Z Fold সিরিজ এখন ২ লক্ষ বারের বেশি ফোল্ডিং সহ্য করতে সক্ষম। অ্যাপগুলিকে ভিন্ন ভিন্ন স্ক্রিন মোডে (ফোল্ড/আনফোল্ড) কাজ করার জন্য অ্যান্ড্রয়েড বা অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেমে আলাদা ফিচার যুক্ত করতে হয়।
Samsung, Huawei, Oppo, Xiaomi, এবং Google ইতোমধ্যেই ফোল্ডেবল ডিভাইস বাজারে এনেছে। IDC ও Counterpoint এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বাজার ৫ কোটিরও বেশি ইউনিটে পৌঁছাবে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি শুধু ফোনে নয়, ল্যাপটপ, ট্যাবলেটেও ব্যবহৃত হতে পারে।


