Home Blog Page 38

চীনে চাহিদা বাড়ায়, টানা তৃতীয় দিনের মতো আকরিক লোহার দাম বৃদ্ধি

বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকরিক লোহা ব্যবহারকারী দেশ চীনে স্বল্পমেয়াদি চাহিদা শক্তিশালী থাকায় টানা তৃতীয় দিনের মতো পণ্যটির দাম বেড়েছে। চীনের ডালিয়ান কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (ডিসিই) সেপ্টেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে আকরিক লোহার দাম বেড়ে প্রতি টনে ৭৯২ ইউয়ানে পৌঁছেছে, যা প্রায় ১১০ ডলার ৩৩ সেন্ট। অপরদিকে একই মেয়াদের সরবরাহ চুক্তিতে সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জে দাম বেড়েছে দশমিক ৩ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ১০১ ডলার ৫০ সেন্টে।

আকরিক লোহা ইস্পাত শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল। শিল্প ও অবকাঠামো খাতে পুনরুদ্ধার এবং নির্মাণ মৌসুম ঘনিয়ে আসায় চীনে এই পণ্যের চাহিদা এখনো বেশ দৃঢ়। দেশটির শেংদা ফিউচারস বলছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে আকরিক লোহার চাহিদা এখনো উচ্চমাত্রায় রয়েছে, যা দাম বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।

এএনজেড ব্যাংকের বিশ্লেষকরা এক গবেষণা নোটে উল্লেখ করেছেন, চীন সরকার অতিরিক্ত ইস্পাত উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে যে নীতিমালা গ্রহণ করেছে, তা ভবিষ্যতে উৎপাদন ও চাহিদা দুটোতেই ভারসাম্য আনবে। ফলে চাহিদা আরও বাড়তে পারে এই প্রত্যাশাও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দামের ঊর্ধ্বগতি কেবল চীনের অভ্যন্তরীণ চাহিদা দ্বারা নয়, বরং বৈশ্বিক বাজারে চীনের ভূমিকা, উৎপাদন নীতিমালা ও মৌসুমি নির্মাণ কার্যক্রমের সম্ভাবনার দিকগুলো মিলিয়ে প্রভাব ফেলছে। সামনের দিনগুলোতে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে।

AI ও LIDAR কীভাবে বদলে দিচ্ছে যাত্রার বিজ্ঞান

স্বায়ত্তশাসিত ড্রাইভিং, বা চালকবিহীন গাড়ি, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত এবং দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তির মধ্যে অন্যতম। একসময় যা ছিল কেবলই কল্পবিজ্ঞানের গল্প, আজ তা বাস্তবতা। এই প্রযুক্তি শুধু যাতায়াতের পদ্ধতিকে আমূল পরিবর্তন করবে না, বরং আমাদের জীবনযাত্রার মান, সমাজের কাঠামো এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতাকে নতুন দিকে চালিত করবে। এ

একটি স্বায়ত্তশাসিত গাড়িকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনার জন্য একাধিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় প্রয়োজন হয়। এর প্রধান উপাদানগুলো হলো:
১. সেন্সর ব্যবস্থা: গাড়ির চারপাশের পরিবেশকে “দেখার” জন্য বিভিন্ন ধরনের সেন্সর ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে: * LIDAR (Light Detection and Ranging): এটি লেজার রশ্মির মাধ্যমে গাড়ির চারপাশের ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করে, যা আশেপাশের বস্তু, পথচারী এবং অন্যান্য গাড়ির দূরত্ব ও অবস্থান সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে সাহায্য করে। রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে এটি বস্তু শনাক্ত করে, বিশেষ করে খারাপ আবহাওয়ার সময়ে (বৃষ্টি, কুয়াশা) এটি খুবই কার্যকর।এটি রাস্তার লেন, ট্র্যাফিক সিগন্যাল, সাইন এবং অন্যান্য বস্তুর ভিজ্যুয়াল ডেটা সংগ্রহ করে। আলট্রাসনিক সেন্সর কম দূরত্বে বস্তু শনাক্ত করতে সাহায্য করে, বিশেষ করে পার্কিং বা সংকীর্ণ স্থান দিয়ে চলার সময়।

২. আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ও মেশিন লার্নিং: সেন্সর থেকে প্রাপ্ত ডেটা AI অ্যালগরিদম দ্বারা বিশ্লেষণ করা হয়। এই অ্যালগরিদমগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যেমন কখন ব্রেক করতে হবে, কখন গতি বাড়াতে হবে, বা কোন দিকে মোড় নিতে হবে। মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে গাড়ি প্রতিনিয়ত নতুন তথ্য থেকে শিখতে থাকে, যার ফলে এর দক্ষতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়।

৩. উচ্চ-সংজ্ঞা (High-definition) মানচিত্র ও GPS: নিখুঁত ন্যাভিগেশনের জন্য স্বায়ত্তশাসিত গাড়ি উচ্চ-সংজ্ঞা মানচিত্র ব্যবহার করে। এই মানচিত্রগুলোতে রাস্তার লেন, ট্র্যাফিক সিগন্যাল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিস্তারিতভাবে দেওয়া থাকে, যা সাধারণ জিপিএস থেকে অনেক বেশি নির্ভুল।

ইঞ্জিনিয়ার্স অফ অটোমোটিভ (SAE) ইন্টারন্যাশনাল স্বায়ত্তশাসিত ড্রাইভিংয়ের ৬টি স্তর (লেভেল ০ থেকে ৫) সংজ্ঞায়িত করেছে। বর্তমানে বেশিরভাগ গাড়ি লেভেল ১ বা লেভেল ২-এ রয়েছে, যেখানে চালকের সক্রিয় অংশগ্রহণ এখনও আবশ্যক। লেভেল ৩ থেকে গাড়ি নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারে, তবে জরুরি পরিস্থিতিতে চালককে হস্তক্ষেপ করতে হয়। লেভেল ৪-এ গাড়ি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমার মধ্যে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিতভাবে চলতে পারে এবং লেভেল ৫ হলো এমন পর্যায়, যেখানে গাড়ি যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো স্থানে মানব চালকের সাহায্য ছাড়াই চলতে সক্ষম।

স্বায়ত্তশাসিত গাড়ির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো নিরাপত্তা। মানুষের ভুলের কারণে ৯০% এর বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। চালকবিহীন গাড়ি দুর্ঘটনার হার কমাতে সক্ষম। এছাড়াও এটি ট্র্যাফিক জ্যাম কমাতে সাহায্য করবে, কারণ এই গাড়িগুলো একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে একটি সুসংহত ট্র্যাফিক প্রবাহ বজায় রাখতে পারবে। এটি জ্বালানি সাশ্রয় করবে এবং যাত্রীদের জন্য যাত্রার সময়কে আরও উৎপাদনশীল করে তুলবে। বয়স্ক ব্যক্তি বা শারীরিকভাবে অক্ষমদের জন্য এটি স্বাধীনভাবে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করবে।

এই প্রযুক্তির পথ এখনও সম্পূর্ণ মসৃণ নয়। প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি বেশ কিছু নৈতিক ও আইনি প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত। চরম আবহাওয়া, হঠাৎ কোনো অপ্রত্যাশিত বাধা বা সেন্সরের ত্রুটির মতো পরিস্থিতিতে গাড়ি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে?

যদি একটি গাড়িকে দুটি খারাপ পরিণতির মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে হয় (যেমন, একজন পথচারীকে বাঁচানোর জন্য নিজেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলা), তখন গাড়িটি কী সিদ্ধান্ত নেবে? এই ধরনের নৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য কোনো নির্দিষ্ট নিয়মাবলী এখনো তৈরি হয়নি।

স্বায়ত্তশাসিত ড্রাইভিং কেবল একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়, এটি এক নতুন অধ্যায়। এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন হয়তো এখনও অনেক দূরে, তবে গবেষণার গতি প্রমাণ করে যে আমরা সেই লক্ষ্যের দিকেই এগিয়ে চলেছি। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, আইনি জটিলতা এবং নৈতিক প্রশ্নগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা গেলে, চালকবিহীন গাড়ির যুগ আমাদের সামনে এক নতুন পৃথিবী উন্মোচন করবে যা হবে নিরাপদ, কার্যকর এবং আরও টেকসই।

এস এম সুলতান কেন জাতিস্মর : হাসনাত আবদুল হাই, কবি ও লেখক

চিত্রশিল্পীর প্রথাসিদ্ধ পথে না গিয়ে এস এম সুলতান নিজের অভিলাষ অনুযায়ী অগ্রসর হয়েছেন স্বতন্ত্র হয়ে। এই যাত্রায় যতি ছিল না অন্তিমের আগে, কিন্তু বিরতি ছিল মাঝেমধ্যেই, কখনো ইচ্ছায় কখনোবা অনিচ্ছায়। জীবনের প্রথম পর্বে ক্রমাগত এ শিল্পীর ঠিকানা বদলেছে, থেকেছেন স্থান থেকে স্থানান্তরে, দেশে ও বিদেশে। শৈশব থেকে উত্তর-যৌবনাবধি তাঁর জীবন ছিল যাযাবরের। থিতু মানুষের আটপৌরে জীবনযাপনের পরিবর্তে পরিব্রাজকের মতো ভ্রমণ ছিল তাঁর নিয়তিনির্ধারিত, কেননা তাঁর ধমনির রক্তে ছিল, ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘আতাভিজম’, বাংলায় ‘পূর্বপুরুষের স্বভাবের প্রতিধ্বনি’। স্বভাবে জীবনাচরণে পুর্বপুরুষের একজন হয়ে, তাঁদের মতো তাঁকে যেতে হয়েছে দেশ থেকে দেশান্তরে নিজের ঠিকানা খুঁজে পেতে।অনেক লোকালয়ে আশ্রয় পেয়েছেন, কিন্তু মনে হয় শান্তি পাননি, পাননি স্বস্তি; যে কারণে আবার বেরিয়ে পড়তে হয়েছে নিজের প্রকৃত ঠিকানার খোঁজে।

শেষ পর্যন্ত সেই ঠিকানা সুলতান পেয়েছিলেন, যেখানে তাঁর শিকড় প্রোথিত। তাঁর নিজের জীবনের বৃত্তের ভেতরই ছিল ঠিকানাটি, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল তাঁর আত্মজীবনের পরিচয় অনুসন্ধানের যাত্রা। নাড়ির সম্পর্ক যে নড়াইল শহরের উপান্তে, চিত্রা নদীতীরে, সেখানেই নিজেকে তিনি আবিষ্কার করেছিলেন পূর্বপুরুষের আদিম জীবনযাপনের সরলতায়; শ্যামল প্রকৃতির স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততায়। কবি শামসুর রাহমান এই জনপদ সম্পর্কে লিখেছেন, ‘সেখানে প্রকৃতি আপন মহিমায় অভিষিক্ত…পুরুষ আর নারীর ধড়-মূর্তি বৈভবে আর প্রাঞ্জলতায় নিবিড় কৃষিনির্ভর সভ্যতার এক ঐকান্তিক রূপ।’ (দৈনিক স্বাধীনতা, ১৯৯৪)।

আশৈশব ছবি এঁকেছেন সুলতান। জন্মসূত্রে পাওয়া শিল্পপ্রতিভার দরুন ছবি আঁকাই ছিল তাঁর নিয়তি, যেমন পূর্বনির্ধারিত ছিল যাযাবর জীবন। তিনি নিজের তাগিদেই এঁকেছেন, খ্যাতি বা অর্থবিত্তের জন্য নয়। এঁকেছেন দেশ-বিদেশের মানুষের অসংখ্য প্রতিকৃতি, বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাকৃতিক দৃশ্যের ছবি। কিন্তু ছবি আঁকায় সিদ্ধহস্ত হলেও সুলতান যেন নিজের পরিচিতি গড়ে তুলতে পারছিলেন না। ষাট দশক পর্যন্ত তাঁর ছবি ভিন্ন পরিচয়ে বিশিষ্ট হয়ে চিহ্নিত হতে পারেনি।

১৯৭৪ সালে শিল্পকলা একাডেমিতে এস এম সুলতানের প্রথম একক প্রদর্শনী দেখে দর্শক-সমালোচক স্তম্ভিত, বিস্মিত এবং সংশয়ে দোদুল্যমান। কিন্তু অচিরেই অনেকের মধ্যে এই উপলব্ধি হলো যে তাঁরা এক অনন্যসাধারণ শিল্পীর শিল্পকর্মের মুখোমুখি, যা দেখার অভিজ্ঞতা শুধু নান্দনিক নয়, ইতিহাস পাঠের চেয়ে রোমাঞ্চকর। পেশিবহুল পুরুষ আর হৃষ্টপুষ্ট লাবণ্যময় মেয়েদের দেখিয়ে সুলতান যেভাবে তাঁর ছবিতে দর্শককে বাংলার গৌরবময় অতীত ঐতিহ্যের কথা বললেন, তার জন্য আলোড়িত, বিমোহিত হতে হলো তাঁদের।

কিন্তু কীভাবে তিনি এলেন এই নতুন আঙ্গিকের ছবি আঁকায়, কোথায় পেলেন এ ধারণা? তাঁর এর আগের কোনো ছবিতে নেই এর সামান্যতম আভাস–ইঙ্গিতও। তা হলে কী রূপে সম্ভব হলো অভূতপূর্ব এই শৈলীর ছবি আঁকা?

বিশালাকার মানুষের এসব ছবি আঁকার একটা ব্যাখ্যা এমন হতে পারে যে সুলতান হয়তো জাতিস্মর হয়ে জন্মেছিলেন। জাতিস্মর হয়ে জন্ম নেওয়ার অর্থই হলো, পূর্বজীবনের সব পরিচিত অনুষঙ্গ দেখে শনাক্ত করা এবং তাদের নিখুঁত বর্ণনা দেওয়া। কিংবদন্তির জাতিস্মর যাঁরা, তাঁদের বর্ণনায় নিজের পূর্বজন্মের স্মৃতি ফিরে আসে বর্তমানে। সেই মাফিক জাতিস্মররূপে সুলতান চলে গিয়েছেন পেছনে, পূর্বপুরুষের জীবনে। সমকালের বাস্তবে তাঁদের জীবনের অনুষঙ্গগুলো না থাকলেও তিনি আস্থার সঙ্গে ছবির ভাষায় বলেছেন, একদা এ–ই ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের বিশুদ্ধ আনন্দময় জীবন, এমন ছিল তাঁদের আদিম বলিষ্ঠ অবয়ব আর তরঙ্গায়িত পেশিবহুল হস্ত-পদযুগল।

সুদূর অতীতে গিয়ে পূর্বপুরুষের জীবনচিত্র অবলোকন করে এর মধ্যে নিজের জীবন খুঁজে পেয়ে নমিত উল্লাসে সুলতান বলতে চেয়েছেন, এমন ছিল আমাদের জীবনযাপনের চিত্র। অকুতোভয়, সাহসী মানুষ ছিলাম আমরা, আমাদের পুর্বপুরুষেরা। আমি নিশ্চিতভাবে এ কথা জানি বলেই সে সময়ের গৌরবের সব দিনকে রেখা আর রঙে দেখিয়েছি ছবিতে। পূর্বপুরুষদের পুনরুজ্জীবিত করেছি কাগজে, ক্যানভাসে। আর এভাবেই খুঁজে পেয়েছি আমার—আমাদের সামষ্টিক পরিচয়।সুলতান তাঁর বিশাল সব ক্যানভাসে সাহসী, বলিষ্ঠ আদিম মানুষের জীবনের চারণকবি হয়ে যেন এ–ও বলতে চেয়েছেন, এই যদি হয় আমাদের অতীত ইতিহাস ও ঐতিহ্য, তাহলে বর্তমানের হীন-দীন অবস্থা আর শীর্ণ শরীরের মানুষ সত্য বা চিরন্তন হতে পারে না। তারা হয় অলীক, মায়া অথবা ক্ষণস্থায়ী, অপস্রিয়মাণ।

কোনো জাতি যখন স্মৃতিভ্রষ্ট হয়, মনে হয় তখন এভাবেই আবির্ভাব ঘটে জাতিস্মরের। আর তাঁদের বলে যেতে হয় কিংবদন্তির ভাষ্য, যে কিংবদন্তি নিকট অথবা সুদূর অতীতের। কেন অতীতের আদিম মানুষের প্রতিকৃতি এঁকেছেন সুলতান, ওপরে তার একটা ব্যাখ্যা দেওয়া হলো। এখন দেখা যাক, কীভাবে এবং কোন উপায়ে এই চিত্রকর কিংবদন্তির কথা বলেছেন ক্যানভাসের রং–রেখায়।

জাতিস্মর হয়ে সুলতান যে কিংবদন্তির কথা বলেছেন, যে পূর্বপুরুষের ছবি এঁকেছেন, তা কি সত্যিই ছিল বাস্তবে, তাকে কি বলা যায় ঐতিহাসিক সত্য?গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছের যে সোনার বাংলা, তেমন দেশ, সেই কৃষিসভ্যতা, হয়তো কখনো বাস্তবে ছিল না, নেহাতই কল্পনা, অতিকথন, মিথ। কিন্তু মিথ হলেও তা একটি জাতির আদর্শ হয়ে বর্তমানের ক্ষুদ্রতাক্লিষ্ট এবং গ্লানিময় জীবনের বিকল্প হয়ে মানুষকে উৎসাহ জোগায়, সামনে অপেক্ষা করছে আনন্দময় জীবন—এমন বরাভয় জানায়।

এখানে রলাঁ বার্থস স্মর্তব্য, তিনি বলেছেন, মিথ কোনো বস্তু বা ফর্ম নয়, মিথ একটি ভাষা, যার মাধ্যমে কোনো বক্তব্য ব্যক্ত করা হয়। আর এই বক্তব্য প্রকাশের ভাষা লিখিত হতে পারে অথবা হতে পারে প্রতিকৃতি (মিথোলজিস, ১৯৫৭)। এস এম সুলতান তাঁর ছবিতে যে অসম্ভব বাস্তবের আলেখ্য লিখেছেন, তাকে বলা যায় বর্তমানের দুঃসময়ের পটভূমিতে আশাবাদী আর আলোকিত ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবাহী এক তূর্যবাদকের ঘোষণা। স্মৃতিনির্ভর অতীতের ছবি এঁকে তিনি সন্ত পুরুষের মতো অভয় দিয়ে বলেছেন, এই যদি হয় আমাদের অতীত জীবনের চালচিত্র, তাহলে ভবিষ্যৎ সুখী ও সমৃদ্ধ হবেই। এ শিল্পীর চরদখলের ছবি আমাদের এ–ও বলে যে প্রয়োজনে কাস্তে ফেলে হাতে তুলে নিতে হবে বল্লম, ঢাল-তলোয়ার, রুখে দাঁড়াতে হবে তাঁদের বিরুদ্ধে, যাঁরা কেড়ে নিতে চান অধিকার। এভাবেই শিল্পী এস এম সুলতানের অপ্রচলিত ধারার ছবি হয়ে গেছে জীবনসংগ্রামের মেনিফেস্টো, সুখী-সমৃদ্ধ জীবনের ইশতেহার।

জিন ব্যবহার করে কোলন ক্যানসার কোষকে স্বাভাবিক কোষে রূপান্তর

বিজ্ঞানীরা ক্যানসার কোষকে স্বাভাবিক কোষে রূপান্তর করছেন

দক্ষিণ কোরিয়ার KAIST (Korea Advanced Institute of Science and Technology)-এর গবেষকরা একটি যুগান্তকারী কৌশল আবিষ্কার করেছেন। এই পদ্ধতিতে কোলন ক্যানসারের কোষগুলোকে ধ্বংস না করে আবার স্বাভাবিক কোলন কোষে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

মানুষের কোষের ‘ডিজিটাল টুইন’ ব্যবহার করে এই সাফল্

এই দলটি উন্নত সিঙ্গেল-সেল আরএনএ সিকোয়েন্সিং ব্যবহার করে মানুষের কোষের জিন নেটওয়ার্কের একটি “ডিজিটাল টুইন” তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে তারা অনুকরণ করে দেখেছেন যে স্টেম সেল থেকে কীভাবে স্বাভাবিক কোলন কোষ তৈরি হয়।

‘মাস্টার সুইচ’গুলো শনাক্তকরণ

এই সিমুলেশন বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা তিনটি প্রধান নিয়ন্ত্রক বা ‘মাস্টার সুইচ’ চিহ্নিত করেছেন— MYB, HDAC2, এবং FOXA2। ল্যাব ও প্রাণীর ওপর পরীক্ষার সময় এই মাস্টার সুইচগুলো বন্ধ করে দিলে কোলন ক্যানসারের কোষগুলো আবার স্বাভাবিক কোষে রূপান্তরিত হয়েছে।

কোষকে ধ্বংস না করে ক্যানসারের চিকিৎসা

এই কৌশলটি ক্যানসার কোষকে ধ্বংস না করে বরং তাদের আসল পরিচয় ফিরিয়ে আনে। এর ফলে প্রচলিত চিকিৎসার মতো বিষাক্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় না। এটি ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে আরও সহজ, বুদ্ধিদীপ্ত এবং সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

ক্যানসার চিকিৎসার ভবিষ্যত জন্য আশা

কোলন ক্যানসারের চিকিৎসায় এই পদ্ধতি সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। এই কৌশলটি বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে। এটি নিরাপদ, পরিবর্তনযোগ্য চিকিৎসার পাশাপাশি নির্ভুল ক্যানসার চিকিৎসার নতুন একটি যুগের সূচনা করবে।

ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ – বাণিজ্য ঘাটতি কমানো নাকি প্রতিদ্বন্দ্বী ঠেকানো?

“যুক্তরাষ্ট্র যে ধুয়া তুলে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করছে, তা এককথায় ভিত্তিহীন। বাণিজ্যঘাটতি থাকা মানেই খারাপ কিছু নয়। এ ছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যে বাণিজ্যঘাটতির কথা বলে, তার মধ্যে শুভংকরের ফাঁকি আছে। ঘাটতির যে হিসাব দেওয়া হয়, তা মূলত পণ্য-বাণিজ্যের। এ ক্ষেত্রে ঘাটতি আছে ঠিক, কিন্তু একই সঙ্গে যে যুক্তরাষ্ট্রের সেবা-বাণিজ্যে বড় ধরনের উদ্বৃত্ত আছে, সেটা তারা বলে না, বা সুবিধা নেওয়ার জন্য এড়িয়ে যায়। ফলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, ঠিক কী কারণে যুক্তরাষ্ট্র এ বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছে।

সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে আচরণ করেছেন, সেই ঘটনা থেকে বাণিজ্যযুদ্ধের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আঁচ করা যায়। সেটা হলো, উদীয়মান কোনো দেশকে আটকে দেওয়া। একসময় জাপানের বিরুদ্ধে একই অবস্থান নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। মুদ্রা কারসাজি থেকে শুরু করে নানাভাবে জাপানের উত্থান তারা ঠেকিয়ে দিয়েছে। এরপর বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি হিসেবে চীনের উত্থান ঠেকাতে তারা মরিয়া হয়ে ওঠে।

এত দিন চীনকে ঠেকানোর কৌশলের অংশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে খাতির রাখলেও শুল্ক ও ভূরাজনৈতিক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত কদর্যভাবে ভারতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই ভূ-অর্থনীতির প্রভাব ভূরাজনীতিতেও পড়বে।

… বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দরিদ্র অঙ্গরাজ্য মিসিসিপির মাথাপিছু জিডিপি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জাপানের চেয়ে বেশি। অর্থাৎ বিপুল পরিমাণ ঘাটতি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র খারাপ ছিল না।

… দীর্ঘ আট দশক ধরে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রই ছিল মুক্তবাণিজ্যের ধারক ও বাহক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের যুগে ব্রেটন উডস ব্যবস্থার আওতায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (জিএএটি ও পরবর্তী ডব্লিউটিও), বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে শিখিয়েছে, ‘বাণিজ্য উন্মুক্ত করো, শুল্ক কমাও, প্রতিযোগিতা বাড়াও’। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই ইতিহাসে নাটকীয় মোড় পরিবর্তন ঘটিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি একের পর এক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন, বাতিল করেন, আবার আলোচনায় বসেন বা তাতে কঠোর শর্ত জুড়ে দেন। এর পেছনে আছে তাঁর তথাকথিত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ অর্থনৈতিক জাতীয়তাবাদ। এর মূল দর্শন হলো, ‘যা আমেরিকার জন্য ভালো নয়, তা আমরা মানব না।’ বাণিজ্যচুক্তির শর্ত হিসেবে তিনি চেষ্টা করছেন, কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সর্বোচ্চ রক্ষা করা যায়; দেশগুলোকে বাধ্য করছেন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য কিনতে।

অর্থাৎ এর মধ্য দিয়ে মুক্তবাণিজ্যের মূল শর্তই ক্ষুণ্ন করছেন ট্রাম্প। বিশ্বায়নব্যবস্থা ছুড়ে ফেলছেন। অর্থাৎ যত দিন বিশ্বায়ন যেভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করেছে, তত দিন তারা এর পক্ষে সাফাই গেয়েছে, এর সপক্ষে নানা বয়ান তৈরি করেছে।

মোদ্দাকথা, পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পতনশীল। চীন উঠে আসছে। সেই সঙ্গে আছে ভারতসহ ব্রিকসভুক্ত দেশগুলো।…এখন যখন চীনের মতো দেশ উঠে আসছে, বিশ্বব্যবস্থায় তাদের যথাযথ স্থান দেওয়া হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের এ উদ্যোগ বিশ্বব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি করছে।

… ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বায়নের অসন্তোষ কাজে লাগিয়ে বিশ্বব্যবস্থাকে পেছনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন, যেখানে ফেরত যাওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সম্ভবত তাঁর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে অন্যান্য দেশের উত্থান যতটা সম্ভব ঠেকানো যায়, তা নিশ্চিত করা।”

(দৈনিক প্রথম আলো থেকে সংক্ষেপিত)

নকশা ও নান্দনিকতায় ছাতার ডিজাইন

ছাতা দেখতে যতই সাধারণ হোক না কেন, এটি একদিকে যেমন আবহাওয়ার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার সরঞ্জাম, অন্যদিকে তেমনি এক প্রাচীন সাংস্কৃতিক এবং নকশাগত প্রতীক। মিশরীয় রাজদরবার থেকে শুরু করে জাপানের গেইশা, ব্রিটিশ সভ্যতার সৌজন্য থেকে শুরু করে আধুনিক ফ্যাশন দুনিয়া ছাতা সর্বত্রই ছিল, আছে এবং থাকবে। ডিজাইন দৃষ্টিকোণ থেকে ছাতার বিবর্তন শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং নান্দনিক ও সাংস্কৃতিক অর্থবাহী।

চীনা পেপার আমব্রেলা
প্রাচীন চীনে তৈরী এই ছাতা শুধুই বৃষ্টির জন্য নয়, সূর্য থেকে রক্ষার জন্যও ব্যবহৃত হতো। বাঁশের কাঠামো এবং তেলমিশ্রিত কাগজে আঁকা হতো চিত্রকলা ও কবিতা। এটি চীনা ঐতিহ্যের একটি প্রতীক হয়ে ওঠে, বিশেষ করে বিবাহ এবং নাচের অনুষ্ঠানে। ডিজাইনে দেখা যায় ভারসাম্য, প্রকৃতি ও আবেগের মিশ্রণ একত্রে একধরনের চলন্ত শিল্প।

জাপানি ওয়াগাসা (Wagasa)
চীনা প্রভাব থেকেই উদ্ভূত জাপানি ‘ওয়াগাসা’ ছাতা কেবল রেনপ্রটেকশন নয়, ছিল সামাজিক মর্যাদার চিহ্ন। থিয়েটার, চা-আচার এবং গেইশাদের অনুষঙ্গ হিসেবে এর জনপ্রিয়তা বাড়ে। এর ডিজাইনে ছিল সূক্ষ্ম হাতের কাজ, লাল-কালো রঙের আধিপত্য এবং সেন্টিমেন্টাল ফোল্ডিং প্যাটার্ন। শিল্প, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের এক সূক্ষ্ম সমীকরণ।

ভিক্টোরিয়ান পারাসোল (Victorian Parasol)
ইউরোপের ভিক্টোরিয়ান যুগে ছাতা রূপ নেয় এক অনন্য ফ্যাশন অ্যাক্সেসরিতে। সূর্যের আলো থেকে ত্বক বাঁচানোর চেয়ে বেশি হয়ে ওঠে সমাজে নারীর শালীনতা, শ্রেণি এবং রুচির প্রতীক। সিল্ক, লেইস, হ্যান্ডেল ডিজাইনের কারুকাজ সব মিলিয়ে এটি ছিল এক শিল্পকর্ম। আজকের ‘লাক্সারি অ্যাক্সেসরিজ’ ধারণার পূর্বসূরি বলা যায়।

ব্রিটিশ ক্লাসিক ব্ল্যাক আমব্রেলা
ব্রিটিশদের কালো ছাতা বিশেষ করে লন্ডনের ভিজে আবহাওয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। ‘James Smith & Sons’ এর মতো ঐতিহ্যবাহী কোম্পানিগুলোর তৈরি ম্যানুয়াল ছাতা ছিল কঠিন কাঠের হ্যান্ডেল ও ক্যানভাস ফ্যাব্রিকযুক্ত। এটি যেমন জেন্টলম্যানদের অভিজাত চেহারা দিত, তেমনি ব্রিটিশ অভিজাত সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করতো।

বাবল আমব্রেলা (Bubble Umbrella)
১৯৬০-এর দশকে আবির্ভূত এই ছাতা প্লাস্টিক ও স্বচ্ছ ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি হতো। এর বেলুন-আকৃতির খোলস ব্যবহারকারীকে আরও বেশি আবৃত রাখত। নারীদের ফ্যাশনের সঙ্গে একীভূত হয়ে এটি জনপ্রিয়তা পায়। আধুনিক মিনিমালিজম এবং প্রযুক্তির ছোঁয়া এতে স্পষ্ট।

Senz Stormproof Umbrella
নেদারল্যান্ডসের ডিজাইন ব্র্যান্ড Senz ২০০৬ সালে এমন একটি ছাতা তৈরি করে যা প্রবল বাতাসেও উল্টে না । এর অমসৃণ, অ্যাসিমেট্রিক ডিজাইন Aerodynamic Engineering-এর অনন্য প্রয়োগ। ডিজাইনের এই উদ্ভাবন কেবল প্রযুক্তিনির্ভরই নয়, এটি কার্যকরী ও দৃষ্টিনন্দন ‘ফর্ম ফলোস ফাংশন’-এর আদর্শ উদাহরণ।

UV-Proof Umbrella (Korean/Japanese Skincare Culture)
কোরিয়া ও জাপানে স্কিনকেয়ার কেন্দ্রিক ছাতার ডিজাইন গত এক দশকে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। এসব ছাতা UV-reflective ফ্যাব্রিক দিয়ে তৈরি এবং তুলনামূলকভাবে হালকা ও ছোট। এগুলোর ডিজাইন মেয়েলি অথচ বৈজ্ঞানিক। প্রযুক্তি ও নারীর রূপচর্চার অদ্ভুত সমন্বয় বলা যায়।

Smart Umbrella (Kisha, Davek, etc.)
সাম্প্রতিক যুগে ডিজিটাল প্রযুক্তি ছাতার ডিজাইনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। Kisha বা Davek-এর মতো ব্র্যান্ড ছাতা তৈরি করেছে যেখানে GPS ট্র্যাকার, ব্লুটুথ কানেকশন এবং রেইন নোটিফায়ার থাকে। অর্থাৎ ছাতা হারিয়ে গেলেও ফোন দিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়।

ছাতার ডিজাইন কেবল বাইরের রূপ নয় এর মধ্যে নিহিত আছে মানুষের আবহাওয়ার সঙ্গে টিকে থাকার কৌশল, শ্রেণিবিভাজন, নারীত্ব, প্রযুক্তি এবং পরিবেশ-সচেতনতার ছাপ। একদিকে যেমন Senz বা Blunt আমাদের ‘ফাংশনাল ডিজাইন’ ভাবতে শেখায়, তেমনি Chinese বা Victorian Parasol আমাদের শিখিয়ে দেয় ইতিহাস ও শিল্প একসঙ্গে কীভাবে হাঁটে।

ট্রাম্পের হুমকি আমলে নিচ্ছেন না পুতিন, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অটল অবস্থান

ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ বন্ধের আল্টিমেটাম এবং নিষেধাজ্ঞার হুমকি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বিচলিত করছে না বলে জানাচ্ছে ক্রেমলিন ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো। পুতিন এখনো ইউক্রেনের চারটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন সম্পূর্ণ দখলের লক্ষ্যে অটল অবস্থানে রয়েছেন।

ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, রাশিয়া যদি যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হয়, তবে তাদের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে এবং যারা রুশ তেল কিনবে, তাদের ওপর শতভাগ শুল্ক আরোপ করা হবে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে রাশিয়ার প্রধান তেলক্রেতা চীন ও ভারত। তবে ক্রেমলিন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রায় সাড়ে তিন বছরের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতায় রাশিয়া এমন হুমকি আগেও মোকাবিলা করেছে এবং ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন কোনো চাপ অনুভব করছে না।

সূত্র জানায় পুতিন ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করতে চান না, তবে ইউক্রেনে রুশ বিজয় এখন তার অগ্রাধিকার। তার দৃষ্টিতে এই চারটি অঞ্চল পুরোপুরি দখল করতে পারলেই যুদ্ধের মূল লক্ষ্য পূরণ হবে এবং রাশিয়া তা জয় হিসেবে উপস্থাপন করতে পারবে। একজন ব্রিটিশ বিশ্লেষক ও লেখক জেমস রজার্স বলেন, “পুতিন যদি এই চার অঞ্চল দখল করতে পারেন, তাহলে যুদ্ধ থামাতে তার একটা রাজনৈতিক যুক্তি থাকবে।”

ক্রেমলিন সূত্রগুলো বলছে, চলমান শান্তি আলোচনা আসলে ট্রাম্পের চাপে রাশিয়াকে আলোচনায় আগ্রহী দেখানোর কৌশল মাত্র। এই আলোচনায় বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি, কেবল মানবিক বিনিময় সম্পর্কিত কিছু আলাপ হয়েছে। রাশিয়ার অবস্থান স্পষ্ট শান্তিতে তারা আগ্রহী, তবে ইউক্রেনকে চারটি অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে এবং নিরপেক্ষ অবস্থানে যেতে হবে। কিয়েভ এই শর্তগুলো সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ রাশিয়া সফরে আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাশিয়া ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তারা আর মধ্যম ও স্বল্প পাল্লার পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন না করার প্রতিশ্রুতি মানবে না। এই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।

ফিনল্যান্ডভিত্তিক ব্ল্যাক বার্ড গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া এখন ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড দখলে রেখেছে। ২০২৪ সালের তুলনায় দখলদারিত্ব বেড়েছে মাত্র ৫ হাজার বর্গকিলোমিটার, যা ইউক্রেনের মোট ভূমির ১ শতাংশেরও কম।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ধীরে ধীরে অগ্রসর হলেও তীব্র ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে তাদের পক্ষে। কিন্তু ক্রেমলিন বলছে, ট্রাম্পের নতুন নিষেধাজ্ঞা ‘বেদনাদায়ক’ হলেও তা ‘বিপর্যয়কর নয়’। আগেও ট্রাম্প হুমকি দিয়ে পরে তা কার্যকর করেননি এই অভিজ্ঞতা থেকেই রাশিয়া এমন সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিচ্ছে না।

জাতিসংঘের তথ্য বলছে, আগের নিষেধাজ্ঞায় বিদেশি বিনিয়োগ ৬৩ শতাংশ কমেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩০০ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে। তবে উত্তর কোরিয়া থেকে গোলাবারুদ ও চীন থেকে যন্ত্রাংশ এনে রাশিয়া অস্ত্র উৎপাদন বহুগুণ বাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিশ্চিত করেছে।

সব মিলিয়ে, রাশিয়া মনে করছে এই পর্যায়ে থেমে যাওয়ার যৌক্তিকতা নেই। যুদ্ধক্ষেত্রে তারা এগিয়ে আছে এবং ট্রাম্পের হুমকি সত্ত্বেও তাদের মূল লক্ষ্য থেকে সরে আসার ইঙ্গিত নেই।

হিরোশিমায় পরমাণু বোমা হামলার ৮০ বছর

১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট শুধু জাপানের নয়, মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দিনগুলোর একটি। সেদিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে মার্কিন বিমান B-29 “Enola Gay” থেকে হিরোশিমা শহরের উপর ফেলা হয় পৃথিবীর প্রথম যুদ্ধক্ষেত্রের পারমাণবিক বোমা “লিটল বয়”। মুহূর্তের মধ্যেই শহরটি রূপ নেয় দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা এক আগ্নেয় নরকে।

সেই ঘটনার ৮০ বছর হয়ে গেছে। সময়ের ব্যবধানে বদলে গেছে প্রযুক্তি, রাজনীতি, সমাজ; কিন্তু হিরোশিমার ভয়াবহতা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয় শক্তির সীমাহীন প্রয়োগ কতটা নির্মম হতে পারে।

হিরোশিমা ছিল একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কিন্তু সঙ্গে তা ছিল একটি বসবাসযোগ্য, শান্তিপূর্ণ শহর। বোমাটি বিস্ফোরণের সময় যে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ মারা যায় তাদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক। তাপ, চাপ ও বিকিরণের সম্মিলিত ধ্বংসযজ্ঞে মানুষ শুধু জ্বলেই যায়নি, বিলীন হয়ে গিয়েছিল অস্তিত্ব।

বোমার শক্তি ছিল প্রায় ১৫ কিলোটন টিএনটির সমান। যারা তাৎক্ষণিকভাবে বেঁচে গিয়েছিলেন, তারা পরে দীর্ঘমেয়াদি বিকিরণ, ক্যান্সার, গর্ভজাত ত্রুটি ও মনস্তাত্ত্বিক ট্রমার শিকার হন। হিরোশিমা হয়ে ওঠে যুদ্ধের নয়, বরং মানবজাতির নিষ্ঠুরতার প্রতিচ্ছবি।

বোমা ফেলার যুক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে এবং আরও বেশি প্রাণহানি ঠেকানো যাবে। কিন্তু সমালোচকেরা বলেন, এটি ছিল মূলত সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি একটি শক্তি প্রদর্শনের কৌশল। হিরোশিমা এবং পরে নাগাসাকিতে বোমা ফেলার ফলে যুদ্ধ শেষ হলেও, এটি একটি পরমাণু যুগের সূচনা করে, যেখানে “শান্তি” ধারণাটি অস্ত্রের ভয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ১৯৪৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পরমাণু পরীক্ষার মাধ্যমে পৃথিবী প্রবেশ করে এক বিপজ্জনক ভারসাম্যের—“Mutually Assured Destruction”—যুগে।

আজ ৮০ বছর পরেও হিরোশিমা একটি জীবন্ত স্মারক। সেখানে গড়ে উঠেছে Peace Memorial Park, যেখানে প্রতিবছর ৬ আগস্ট হাজার হাজার মানুষ মোমবাতি জ্বালিয়ে স্মরণ করে সেই ভয়াল দিনটিকে। বিশ্বনেতারা সেখানে উপস্থিত হয়ে প্রতিজ্ঞা করেন এই ধরণের ট্র্যাজেডি যেন আর কখনো না ঘটে।

জাপানে এখনো প্রায় ১,২০,০০০ ‘হিবাকুশা’ (বোমা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি) জীবিত আছেন, যাদের জীবনজুড়ে রয়েছে ব্যথা, সামাজিক বর্জন ও স্বাস্থ্যগত জটিলতা। কিন্তু তাদের কণ্ঠই আজ পৃথিবীর বিবেক “No More Hiroshima, No More War”।

হিরোশিমা আমাদের শিক্ষা দেয় প্রযুক্তি, যদি মানবিক মূল্যবোধের বাইরে চলে যায়, তবে তা নির্মাণ নয়, ধ্বংসের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। একটি জাতির উপর পুরোপুরি ধ্বংস নেমে আসা কি কখনও ন্যায়সঙ্গত হতে পারে? আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, যুদ্ধনীতি, মানবিক আইন সবকিছুই হিরোশিমার আলোকে নতুন করে ভাবা শুরু করে। জাতিসংঘের গঠনের পেছনেও ছিল এই বিভীষিকার তিক্ত স্মৃতি।

বর্তমানে বিশ্বে ৯টি দেশের কাছে রয়েছে প্রায় ১৩,০০০ পরমাণু অস্ত্র। রাজনৈতিক উত্তেজনা, যুদ্ধ, জাতীয়তাবাদী উন্মাদনা সব মিলিয়ে হিরোশিমা যেন এক ভয়ঙ্কর ভবিষ্যতের সতর্কবার্তা। মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে হিরোশিমা কেবল অতীত নয়, ভবিষ্যতেরও পূর্বাভাস হতে পারে। হিরোশিমা শুধু ইতিহাস নয়, একটি দায়।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যপতন

জ্বালানি তেল বিশ্ব অর্থনীতির চালিকাশক্তি হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর বাজার দোলাচলে পড়েছে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা, উৎপাদন হ্রাস-বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক মন্দার প্রভাব সবকিছু মিলিয়ে জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ মূল্যপথ নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস এক পূর্বাভাসে জানায়, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় মূল্য হতে পারে ব্যারেলপ্রতি ৬৪ ডলার। এর পরবর্তী বছর ২০২৬ সালে তা আরও কমে ব্যারেলপ্রতি ৫৬ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে ব্যাংকটি সতর্ক করে বলেছে, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক দুর্বলতা, নিষেধাজ্ঞা বা শুল্কনীতির হঠাৎ পরিবর্তন এই পূর্বাভাসে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্ববাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য পরিবর্তনের কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। রাশিয়া ও ইরানের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে চাপ বাড়াচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ওপেক এবং তার সহযোগী দেশগুলো যাদের সম্মিলিতভাবে ‘ওপেক প্লাস’ বলা হয় তারা সেপ্টেম্বর থেকে দৈনিক উৎপাদন ৫ লাখ ৪৭ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে এই সিদ্ধান্ত বাজারে মূল্য কমার প্রবণতা সৃষ্টি করতে পারে। আন্তর্জাতিক ব্রোকার প্রতিষ্ঠান পিভিএম-এর বিশ্লেষক তামাশ ভার্গা বলেন, অতিরিক্ত ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল দৈনিক উৎপাদন হ্রাস প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় তেলের দাম আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে গতকাল এক সপ্তাহের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সর্বনিম্নে নেমে আসে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে দাঁড়ায় ৬৮.৬৫ ডলারে, যা ব্যারেলপ্রতি ০.১৬% হ্রাস নির্দেশ করে। একইসঙ্গে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম দাঁড়ায় ৬৬.১৭ ডলারে, কমেছে ০.১৮%।

উল্লেখযোগ্যভাবে ২০২৫ সাল জুড়ে জ্বালানি তেলের দাম কমতির দিকেই থাকবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে এই দর এবং চলতি বছরে তেলের দাম প্রায় ২০% পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

সবমিলিয়ে বলা যায় জ্বালানি তেলের বাজার এখন বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে পড়ে অস্থির সময় অতিক্রম করছে। দাম কমার ফলে অনেক দেশে ভোক্তা পর্যায়ে স্বস্তি এলেও, উৎপাদক দেশগুলোর জন্য এটি রাজস্ব সংকটের কারণ হতে পারে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণায় রাজনৈতিক দোদুল্যমানতার অবসান

৫ আগস্ট, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৬ রমজানের আগেই সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই ভাষণকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন অনেকেই, বিশেষত নির্বাচন নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা ও সংশয় দূর হয়েছে বলেই বিশ্লেষকদের অভিমত।

ড. ইউনূস জানান, নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত চিঠি দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানানো হবে। তিনি বলেন, “বহু বছর আমরা কেউ ভোট দিতে পারিনি।এবার সবাই ভোট দেবে, কেউ বাদ যাবে না।” এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি অতীতের ভোটবঞ্চিত সময়ের ক্ষতকে স্মরণ করিয়ে দেন এবং ভবিষ্যতের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি জাতিকে বলেন, “ভোট দেয়ার আগ মুহূর্তে যেন মনে করি, যাদের তাজা রক্তের বিনিময়ে এ অধিকার ফিরে পেয়েছি, তাদের চেহারা চোখে ভেসে উঠুক।” একইসঙ্গে তিনি ভোটারদের নিজেদের নির্বাচনী এলাকা ঘন ঘন পরিদর্শনের পরামর্শ দেন।

প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে সরকারের তিনটি মূল দায়িত্ব সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। জানান এই তিনটির মধ্যে প্রথম দুটি অনেকটাই সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, অর্থনৈতিক গতিশীলতা এবং বিচারব্যবস্থায় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, এটি ভবিষ্যতের রাষ্ট্র কাঠামোকে এমনভাবে গড়ে তুলবে যাতে কোনো সরকার যেন আর ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে। তিনি স্পষ্ট বলেন, “রাষ্ট্রকে এমনভাবে মেরামত করতে হবে যাতে কোথাও ফ্যাসিবাদের লক্ষণ দেখলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা নির্মূল করা যায়।”

নির্বাচনকে উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ এবং সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতির মাধ্যমে একটি ‘ঐতিহাসিক’ পর্ব হিসেবে দেখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন ড. ইউনূস। নারীদের জন্য নিরাপদ ভোটকেন্দ্র, প্রবাসীদের ভোটাধিকারের ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি সর্বজনীন অংশগ্রহণের নিশ্চয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এ ভাষণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রসম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “বঙ্গোপসাগর আমাদের দেশের মূল্যবান অংশ। এই অঞ্চলকে আমরা অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রে পরিণত করব।” চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকীকরণ, ড্রাইডক লিমিটেডের ভূমিকা এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনও তুলে ধরেন তিনি।

ড. ইউনূসের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এ ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হবে। সব মিলিয়ে ড. ইউনূসের ভাষণ শুধু একটি নির্বাচনের সময়সূচিই ঘোষণা করেনি, বরং একটি নতুন বাংলাদেশের অভিমুখে যাত্রার দিকনির্দেশনাও দিয়েছে।